ভারতবর্ষের ইতিহাস (হেমলতা দেবী)/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
গঙ্গাতীরে আর্য্যজাতির অধিকার স্থাপন—আর্য্যদের ভারতবর্ষে আসিবার পরে বহু শতাব্দী পাঞ্জাবেই কাটিয়া গেল। তার পর ক্রমশঃ তাঁহারা আরও নূতন নূতন দেশ অধিকার করিতে লাগিলেন। শতদ্রুনদী পার হইয়া, আর্য্যেরা ক্রমে গঙ্গা, যমুনার উপকূলে নূতন রাজ্য সকল প্রতিষ্ঠা করিতে লাগিলেন। তখন যে সকল রাজ্য স্থাপিত হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে কুরু ও পঞ্চাল রাজ্যের নাম আমরা আজ পর্য্যন্ত শুনিতে পাই। এই দুই রাজ্যের রাজাদের অত্যন্ত প্রতাপ ছিল। তাঁহাদের সম্বন্ধে অনেক গল্প আছে; তাহা হইতে আমরা সেই সময়ের বৃত্তান্ত অনেকটা জানিতে পারি।
মহাভারতের গল্প—এখনকার যে দিল্লী শহর, তারই কাছে তখনকার কুরু রাজ্য ছিল; এখনকার কান্যকুব্জের কাছে তখনকার পঞ্চাল রাজ্য ছিল। এই দুই রাজ্যের রাজারা অনেক দিন পর্য্যন্ত বেশ বন্ধুভাবে ছিলেন; পরস্পরের সঙ্গে কোন বিবাদ বিসম্বাদ ছিল না। পরে তাঁহাদের ভিতর ভয়ানক শত্রুতা জন্মে। দুই দলে ঘোর যুদ্ধ বাধিয়া যায়। মহাভারতের যে গল্প—তাহা প্রধানতঃ এই যুদ্ধের কথা লইয়াই রচিত হইয়াছিল। মহাভারতের গল্প সংক্ষেপে বলিতেছি।
কুরুবংশে ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু নামে দুই ভাই জন্মগ্রহণ করেন। ধৃতরাষ্ট্র বড় ও পাণ্ডু ছোট। কিন্তু বড় ভাই জন্মান্ধ বলিয়া ছোট ভাই পাণ্ডু রাজা হন। ধৃতরাষ্ট্রের একশত ও পাণ্ডুর পাঁচটী পুত্র ছিল। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের নাম দুর্য্যোধন, দুঃশাসন ইত্যাদি এবং পাণ্ডুর পুত্রদের নাম যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জ্জুন, নকুল ও সহদেব। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ত্রেরা কৌরব ও পাণ্ডুর পুত্ত্রেরা পাণ্ডব নামে খ্যাত। পাণ্ডুর দুই স্ত্রী ছিলেন, কুন্তী ও মাদ্রী; যুধিষ্ঠির, ভীম ও অর্জ্জুন কুন্তীর পুত্ত্র এবং নকুল ও সহদেব মাদ্রীর পুত্ত্র। কৌরবদের মাতার নাম গান্ধারী ছিল। পাণ্ডু যদিও রাজা হইয়াছিলেন, কিন্তু অধিক দিন রাজত্ব করিতে পান নাই। অচিরে তাঁহার মৃত্যু হইল। তখন পাণ্ডবেরা সকলে ধৃতরাষ্ট্রের আশ্রয় গ্রহণ করিলেন। ধৃতরাষ্ট্র আপনার শত পুত্র ও ভ্রাতুষ্পুত্ত্রদের শিক্ষার ভার দ্রোণাচার্য্যের হস্তে দিলেন। বীর দ্রোণ অতি যত্নের সহিত রাজপুত্ত্রদিগকে অস্ত্র শিক্ষা দিতে লাগিলেন; এবং কিছু দিনের মধ্যে দেখিতে পাইলেন যে অস্ত্র-শিক্ষায় অৰ্জ্জুনের সমকক্ষ আর কেহই নাই। কাজেই অৰ্জ্জুন দ্রোণের অতি প্রিয় হইয়া উঠিলেন। ভীমের শরীরে অত্যন্ত বল ছিল; তাঁহার সহিত বলে কেহই পারিত না; এক ভীমের জ্বালায় শত কৌরব অস্থির হইয়া উঠিত; কাজেই ভীমকে সকলেই ভয় করিত। কৌরবদের শরীরে বল থাক্ আর নাই থাক্, দুষ্টবুদ্ধিতে কেহই তাহাদের সমান ছিল না। তাহারা সর্ব্বদাই পাণ্ডবদিগের অনিষ্ট চেষ্টা করিত। একদিন সকলে মিলিয়া জলক্রীড়া করিতে গিয়া বিষ খাওয়াইয়া, ভীমকে ডুবাইয়া দিয়াছিল; ভীম কিন্তু তাহাতে মরেন নাই। শেষে পাঁচটী ভাইকে মারিয়া ফেলিবার জন্য দুর্য্যোধন এক কৌশল করিল। জতুগৃহ করিয়া তাহার মধ্যে পঞ্চ পাণ্ডবকে লইয়া ঘরে আগুন লাগাইয়া, তাঁহাদিগকে মারিয়া ফেলিবে স্থির করিল। কিন্তু পাণ্ডবেরা অগ্রেই তাহা জানিতে পারিয়া লুকাইয়া পলাইয়া গিয়াছিলেন। দুর্য্যোধন ভাবিল, পঞ্চপাণ্ডব নিপাত হইয়াছে; ওদিকে পঞ্চপাণ্ডব ব্রাহ্মণের বেশে লুকাইয়া রহিলেন। ইতিমধ্যে দ্রুপদ রাজার কন্যা দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর উপস্থিত। আকাশে মাছ থাকিবে, নীচে জলের ভিতর ছায়া দেখিয়া, যে সেই মাছের চোখে বাণ মারিতে পারিবে, সেই দ্রৌপদীকে বিবাহ করিবে, এই পণ ছিল। দেশ দেশান্তরের অনেক রাজা ও রাজপুত্ত্র উপস্থিত হইলেন। একে একে সকলেই চেষ্টা করিলেন, কিন্তু কেহই মাছের চোখে বাণ বিদ্ধ করিতে পারিলেন না; তখন ব্রাহ্মণ-বেশধারী অর্জ্জুন লক্ষ্য বিদ্ধ করিলেন। সভার মধ্যে চারিদিকে ধন্য ধন্য রব পড়িয়া গেল। প্রথমে অৰ্জ্জুনকে কেহই চিনিতে পারেন নাই, শেষে পাণ্ডবেরা পরিচিত হইয়া পড়িলেন। মহাভারতে এরূপ লেখা আছে যে তাঁহারা পাঁচ ভাই মিলিয়া দ্রৌপদীকে বিবাহ করিয়াছিলেন। ধৃতরাষ্ট্র তখন পাণ্ডবদিগকে ডাকিয়া অৰ্দ্ধেক রাজ্য ভাগ করিয়া দিলেন; ইন্দ্রপ্রস্থে তাঁহাদের রাজধানী হইল। যুধিষ্ঠির রাজা হইয়া রাজসূয় যজ্ঞ করেন। পাণ্ডবদের যশঃ চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল। দুর্য্যোধনের হৃদয় হিংসায় ফাটিয়া যাইতে লাগিল; আবার পাণ্ডবদিগের সর্ব্বনাশ করিবার উপায় দেখিতে লাগিলেন। দুর্য্যোধনের এক মামা ছিল, তাহার নাম শকুনি। সেই শকুনির পরামর্শে যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলায় নিমন্ত্রণ করা হইল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুধিষ্ঠিরকে খেলিতে হইল। তিনি বাজি রাখিয়া ক্রমাগতই হারিতে লাগিলেন; ধন, সম্পদ, রাজ্য একে একে সবই হারিলেন; নিজ ভ্রাতাদিগকে পণ রাখিলেন, তাহাও গেল; আপনাকে পণ রাখিলেন তাহাও গেল; অবশেষে দ্রৌপদীকে পণ রাখিলেন, তাহাও গেল। পণে হারাতে দ্রৌপদী কৌরবদিগের ক্রীতদাসী হইলেন। দুর্য্যোধন ভাবিল বড় সুযোগ উপস্থিত, দ্রৌপদীকে সভা মধ্যে অপমান করিতে হইবে। এই ভাবিয়া চুলে ধরিয়া সভা মধ্যে আনিয়া অপমান করা হইল। স্বামীরা লজ্জায় অধোবদন হইয়া রহিলেন। পাশ। খেলার পরিণাম এই হইল যে, পাণ্ডবেরা ত্রয়োদশ বৎসরের জন্য রাজ্য হইতে তাড়িত হইলেন এবং স্ত্রীকে লইয়া বনে গেলেন। বার বৎসর বনবাস ও এক বৎসর অজ্ঞাত-বাসের পর পাণ্ডবেরা ফিরিয়া আসিয়া রাজ্য চাহিলেন। কিন্তু দুর্য্যোধন বিনা যুদ্ধে সূচ্যগ্র ভূমি দিবেন না, এইরূপ বলিলেন। অগত্যা যুদ্ধ বাধিল। পাণিপথের নিকট কুরুক্ষেত্রে আঠার দিন যুদ্ধ হয়, স্বয়ং কৃষ্ণরূপী ভগবান্ পাণ্ডবদের সহার ছিলেন। যুদ্ধে কর্ণ, ভীষ্ম, দ্রোণ প্রভৃতি কৌরবপক্ষের মহাবীর সকল প্রাণ হারাইলেন, শত কৌরবেরও প্রাণ গেল; ইহা ভিন্ন রণক্ষেত্রে কত বীরের প্রাণ যে গেল, তাহার গণনা হয় না। চারিদিক্ শ্মশান হইল; বিধবাদের হাহাকারে আকাশ ফাটিয়া গেল। এই সকল দেখিয়া ধর্ম্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের প্রাণ শোকে আকুল হইল এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ছত্রিশ বৎসর পরে, কৃষ্ণের মৃত্যুতে অত্যন্ত থিন্ন ও রাজ্য করিতে অনিচ্ছুক হইয়া, তিনি স্ত্রী ও ভ্রাতাদিগকে লইয়া হিমালয়ের পরপারে প্রস্থান করিলেন।
রামায়ণের গল্প—কুরু ও পঞ্চাল রাজ্য ছাড়া আমরা কোশল, বিদেহ ও কাশী প্রভৃতি আরও অনেক রাজ্যের কথা শুনিতে পাই। এখনকার অযোধ্যার কাছে তখনকার কোশল রাজ্য ছিল; ত্রিহুতের কাছে বিদেহ, এবং কাশীর কাছে কাশী রাজ্য ছিল। এই অযোধ্যার রাজাদের বিবরণ রামায়ণে আছে। দশরথ নামে অযোধ্যার একজন রাজা ছিলেন। তাঁহার তিন প্রধানা রাণী ছিলেন; কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। রাম বড় রাণী কৌশল্যার পুত্ত্র; ভরত কৈকেয়ীর পুত্ত্র, এবং সুমিত্রার দুইটী পুত্ত্র ছিল, তাঁহাদের নাম লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন। লক্ষ্মণ রামকে বড় ভালবাসিতেন, সর্ব্বদাই তাঁহার কাছে কাছে থাকিতেন এবং শত্রুঘ্ন ভরতের অনুগত ছিলেন। তাহা ছাড়া চারিটী ভায়ে খুব ভাব ছিল; আর রামকে সকলেই খুব ভক্তি করিতেন ও ভালবাসিতেন। রাজা দশরথ ক্রমে বৃদ্ধ হইয়া পড়িলেন। তখন তিনি স্থির করিলেন যে, রামকে রাজ্য দিয়া অবসর লইবেন। রামকে রাজা করিবার জন্য সকল আয়োজন হইতে লাগিল; প্রজাদের মহা আনন্দ; রাজ্যে খুব ধূমধাম পড়িয়া গেল। এমন সময়ে দশরথের মেজ রাণী কৈকেয়ী হর্ষে বিষাদ ঘটাইলেন। তিনি একবার অত্যন্ত সেবা শুশ্রূষা করিয়া দশরথকে কঠিন রোগ হইতে বাঁচাইয়াছিলেন, তখন রাজা তাঁহার প্রতি অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়া দুইটী বর দিতে চাহিয়াছিলেন; কিন্তু কৈকেয়ী এত দিন সেই দুই বর চান নাই; এখন রাম রাজা হইবেন এই কথা শুনিয়া, হঠাৎ সেই দুইটী বর চাহিয়া বসিলেন। এক বর এই যে, ভরত যেন রাজা হন এবং অপর বর এই যে, রাম যেন চতুর্দ্দশ বৎসরের জন্য বনে যান। কৈকেয়ী কিন্তু রামকে বরাবর খুব ভালবাসিতেন। কৈকেয়ীর কুব্জা নামে একজন দাসী ছিল, সে ভয়ানক দুষ্টা; সেই কুব্জা নানা প্রকারে কৈকেয়ীকে বুঝাইয়া এই দুইটী নিষ্ঠুর বর লইবার জন্য তাঁহাকে প্রস্তুত করে। সে কালের লোকেরা অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন; প্রাণ গেলেও মিথ্যা কথা বলিতেন না, বা সত্যভঙ্গ করিতেন না। রাজা দশরথ একবার যাহা বলিয়াছেন, তাহার অন্যথা করিতে পারিলেন না; কাজেই রামকে বনে যাইতে হইল। রামের প্রকৃতি এমন চমৎকার ছিল যে, রাজ্য শুদ্ধ লোক এই সংবাদে হাহাকার করিতে লাগিল, ঘরে ঘরে কান্নার রোল পড়িয়া গেল। ওদিকে রাজা দশরথ রামকে বনে যাইতে হইবে ভাবিয়া, শোকে অচেতন হইলেন এবং রাম বনে গমন করিলেই তাঁহার মৃত্যু হইল। কিন্তু রাম আনন্দচিত্তে পিতৃসত্য পালন করিতে গেলেন। তিনি বিদেহরাজ জনকের কন্যা সীতাকে বিবাহ করিয়াছিলেন। রাম বনে যাইবেন শুনিয়া, সীতা এবং লক্ষ্মণ তাঁহার সঙ্গে যাইতে চাহিলেন। রাম অনেক নিষেধ করিলেন, তাঁহারা কিছুতেই শুনিলেন না। তখন নাকি লঙ্কা দ্বীপে রাক্ষসেরা বাস করিত; লঙ্কার রাজা রাবণ যেমন দুর্বৃত্ত, তেমনই বলবান্ ছিল। সে পঞ্চবটী নামক বন হইতে রামের অনুপস্থিতকালে সীতাকে চুরি করিয়া লইয়া গেল। রাম সাগরে সেতু বাঁধিয়া, অনেক যুদ্ধ করিয়া, রাবণকে মারিয়া, সীতাকে উদ্ধার করেন এবং চতুর্দ্দশ বৎসরের পর লক্ষ্মণ ও সীতাকে লইয়া দেশে ফিরিয়া গেলেন। কিন্তু অভাগিনী সীতার ভাগ্যে সুখ ছিল না। এত দিনের পর যদি বা স্বামীকে পাইলেন, আবার লোকের নিন্দা শুনিয়া রাম তাঁহাকে বনে পাঠাইলেন। সেখানে সীতার লব ও কুশ নামে দুইটী যমজ পুত্র হয়। এই গেল রামায়ণের কথা। যে গ্রন্থে এই কাহিনী আছে তাহার নাম রামায়ণ। ইহা বাল্মীকি নামে এক ঋষির প্রণীত। এই রামারণ হিন্দুজাতির বড় প্রিয়। ইহাতে আমরা অনেক উপদেশ পাই। রামের পিতৃভক্তি, লক্ষ্মণের ভ্রাতৃপ্রেম, দশরথের সত্যপ্রিয়তা এবং সীতার সতীত্বের দৃষ্টান্ত বড়ই উজ্জ্বল। রামায়ণের উল্লিখিত ঘটনাগুলি মহাভারতের উল্লিখিত ঘটনার অনেক পূর্ব্বকালবর্ত্তী। এই তিন হাজার বৎসর, এই সকল অপূর্ব্ব কাহিনী ভারতবাসী সকলে কণ্ঠস্থ করিয়া আসিতেছে। আজ পর্য্যন্ত এমন লোক প্রায় ভারতবর্ষে নাই, যে রামায়ণের গল্প জানে না; কোটী কোটী ভারতসন্তান আজও সীতার পতিপরায়ণতা ও দুঃখের কথা স্মরণ করিয়া চক্ষের জল ফেলে। সীতা আর্য্য-নারীর সতীত্বের আদর্শ।
আগেই বলিয়াছি, সীতা বিদেহ-রাজ জনকের দুহিতা। তাই সীতার অপর নাম বৈদেহী। রাজা জনক অতি ধার্ম্মিক এবং মহাজ্ঞানী ছিলেন; তাই তাঁহাকে রাজর্ষি জনক বলে। যখন জনক বিদেহ রাজ্যে রাজত্ব করিতেন, তখন কাশী রাজ্যে অজাতশত্রু নামে একজন পণ্ডিত রাজা রাজত্ব করিতেছিলেন। দুই জনেই শাস্ত্রালোচনা করিতে অতিশয় ভালবাসিতেন। দেশের যত পণ্ডিত ও জ্ঞানী লোক ইহাদের সভা উজ্জ্বল করিয়া থাকিতেন। রাজা জনক সর্ব্বদাই অতি গভীর ধর্ম্মের কথা আলোচনা করিতেন। তিনি মহর্ষি যাজ্ঞবল্কের নিকট ব্রহ্মবিদ্যা লাভ করেন। বৃহদারণ্যকোপনিষদে এ বিষয়ের বিবরণ আছে।
তখনকার পণ্ডিতেরা যে সকল গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন, তাহা পড়িয়া আমরা সেই সময়ের লোকদের কথা অনেকটা জানিতে পারি গঙ্গাতীরবাসী আর্য্যদিগের ভিতর ভিন্ন ভিন্ন জাতির সৃষ্টি হইয়াছিল। সম্ভবতঃ যাঁহারা পূর্ব্বে পুরোহিতের কাজ করিতেন, এখন তাঁহারা ব্রাহ্মণ নামে ভিন্ন এক জাতি হইলেন; যাঁহারা যুদ্ধ করিতেন, তাঁহারা ক্ষত্রিয় হইলেন; যাঁহারা কৃষি বাণিজ্য করিতেন, তাঁহারা বৈশ্য বলিয়া পরিচিত হইলেন; আর পরাজিত অসভ্য জাতিরা শূদ্র হইল। শূদ্রেরা উপরিতন তিন বর্ণের দাসত্ব করিত। তখন উচ্চজাতির পুরুষ নিম্নজাতির কন্যাকে বিবাহ করিত পারিত।