বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতের সংবিধান (১৯৮৭)/ভাগ ১৫

উইকিসংকলন থেকে
বিধি ও ন্যায় মন্ত্রক অনূদিত
(পৃ. ১৫৭-১৫৯)

ভাগ ১৫

নির্বাচনসমূহ

 নির্বাচনসমূহের অধীক্ষণ, নির্দেশন ও নিয়ন্ত্রণ একটি নির্বাচন কমিশনে বর্তিত হইবে। ৩২৪। (১)[]*** এই সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত, সংসদের ও প্রত্যেক রাজ্যের বিধানমণ্ডলের সকল নির্বাচনের জন্য নির্বাচক-তালিকাসমূহের প্রস্তুতি সম্পর্কে অধীক্ষণ, নির্দেশন ও নিয়ন্ত্রণ ও ঐ নির্বাচনসমূহের, এবং রাষ্ট্রপতিপদের ও উপ-রাষ্ট্রপতিপদের নির্বাচনের, চালনা একটি কমিশনে (এই সংবিধানে নির্বাচন কমিশন বলিয়া উল্লিখিত) বতিত হইবে।

 (২) নির্বাচন কমিশন একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও, যদি রাষ্ট্রপতি সময় সময় অন্য নির্বাচন কমিশনারগণের কোন সংখ্যা স্থির করেন, তাহা হইলে, সেই সংখ্যক অন্য নির্বাচন কমিশনারগণকে লইয়া গঠিত হইবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ও অন্য নির্বাচন কমিশনারগণের নিয়োগ, তৎপক্ষে সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন বিধির বিধানাবলীর অধীনে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্পন্ন হইবে।

 (৩) যেক্ষেত্রে অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার ঐরূপে নিযুক্ত হন, সেক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশনের সভাপতিরূপে কার্য করিবেন।

 (৪) লোকসভার ও প্রত্যেক রাজ্যের বিধানসভার প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে, এবং যে রাজ্যের বিধান পরিষদ আছে সেরূপ প্রত্যেক রাজ্যের ঐরূপ পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে, ও তৎপরে প্রত্যেক দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের পূর্বে, রাষ্ট্রপতি, নির্বাচন কমিশনের সহিত পরামর্শের পর, (১) প্রকরণ দ্বারা নির্বাচন কমিশনকে অর্পিত কৃত্যসমূহ সম্পাদনে সাহায্য করিতে যেরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করেন সেরপ আঞ্চলিক কমিশনারসমূহও নিযুক্ত করিতে পারেন।

 (৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন বিধির বিধানাবলীর অধীনে, নির্বাচন কমিশনারগণের ও আঞ্চলিক কমিশনারগণের চাকরির শর্তাবলী ও পদধারণকাল রাষ্ট্রপতি নিয়ম দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিতে পারেন সেরাপ হইবে:

 তবে, সুপ্রীম কোর্টের কোন বিচারপতি যে প্রণালীতে ও যে সকল হেতুতে পদ হইতে অপসারিত হইতে পারেন, তদনুরূপ প্রণালীতে ও হেতুতে ভিন্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হইবেন না এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের পরে তাঁহার চাকরির শর্তাবলী তাঁহার পক্ষে অসুবিধাজনকভাবে পরিবর্তিত হইবে না:

 পরন্তু, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশক্রমে ব্যতীত অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার বা কোন আঞ্চলিক কমিশনার পদ হইতে অপসারিত হইবেন না।

 (৬) নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এরূপে অনুরুদ্ধ হইলে, রাষ্ট্রপতি, অথবা কোন রাজ্যের রাজ্যপাল[]*** (১) প্রকরণ দ্বারা নির্বাচন কমিশনকে অর্পিত কৃত্যসমূহ নির্বাহ করিবার জন্য যেরূপ কর্মিবর্গ প্রয়োজন হইতে পারে তাহা নির্বাচন কমিশনের বা কোন আঞ্চলিক কমিশনারের প্রাপ্তিসাধ্য করিতে পারেন।

 ধর্ম, প্রজাতি, জাতি বা লিঙ্গের হেতুতে কোন ব্যক্তি নির্বাচকতালিকার অন্তর্ভুক্ত হইবার জন্য অপাত্র হইবেন না বা কোন বিশেষ নির্বাচকতালিকার অন্তর্ভুক্ত হইবার দাবি করিতে পারিবেন না। ৩২৫। সংসদের যেকোন সদনে বা কোন রাজ্যের বিধানমণ্ডলের সদনে বা যেকোন সদনে নির্বচিনার্থে প্রত্যেক স্থানিক নির্বাচনক্ষেত্রের জন্য একটি সাধারণ নির্বাচক-তালিকা থাকিবে এবং কোন ব্যক্তি কেবল ধর্ম, প্রজাতি, জাতি, লিঙ্গ বা উহাদের মধ্যে যেকোন হেতুতে ঐরূপ কোন তালিকার অন্তর্ভুক্ত হইবার জন্য অপাত্র হইবেন না বা ঐরূপ কোন নির্বাচনক্ষেত্রের জন্য কোন বিশেষ নির্বাচকতালিকার অন্তর্ভুক্ত হইবার দাবি করিতে পারিবেন না।

 লোকসভার এবং রাজ্যসমূহের বিধানসভার নির্বাচন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে হইবে। ৩২৬। লোকসভার এবং প্রত্যেক রাজ্যের বিধানসভার জন্য নির্বাচন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে হইবে; অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তি যিনি ভারতের নাগরিক এবং যে তারিখ যথাযোগ্য বিধানমণ্ডল কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি দ্বারা বা অনুযায়ী তৎপক্ষে স্থিরীকৃত হইতে পারে সেই তারিখে যাঁহার বয়স একুশ বৎসরের কম নহে এবং যিনি অ-নিবাস, মানসিক বিকৃতি, অপরাধ বা ভ্রষ্ট বা অবৈধ আচরণ হেতু এই সংবিধান বা যথাযোগ্য বিধানমণ্ডল কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি অনুযায়ী অন্যথা অযোগ্য নহেন, তিনি ঐরূপ কোন নির্বাচনে ভোটদাতারূপে রেজিস্ট্রিভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন।

 বিধানমণ্ডলের নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা। ৩২৭। এই সংবিধানের বিধানাবলীর অধীনে, সংসদ সময় সময় বিধি দ্বারা সংসদের যেকোন সদনে অথবা কোন রাজ্যের বিধানমণ্ডলের সদনে বা যেকোন সদনে নির্বাচন সম্বন্ধে বা সম্পর্কে, নির্বাচক-তালিকার প্রস্তুতি, নির্বাচনক্ষেত্রসমূহের পরিসীমন এবং অন্য সকল বিষয় যাহা ঐ সদন বা সদনসমূহের যথোচিত গঠন নিশ্চিত করিবার জন্য প্রয়োজন তৎসমেত, সকল বিষয়ে বিধান করিতে পারেন।

 কোন রাজ্যের বিধানমণ্ডলের নির্বাচন সম্পর্কের ঐ বিধানমণ্ডলের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা। ৩২৮। এই সংবিধানের বিধানাবলীর অধীনে, এবং যতদূর পর্যন্ত তৎপক্ষে সংসদ কর্তৃক বিধান প্রণীত না হয় ততদূর পর্যন্ত, কোন রাজ্যের বিধানমণ্ডল সময় সময়, বিধি দ্বারা ঐ রাজ্যের বিধানমণ্ডলের সদনে বা যেকোন সদনে নির্বাচন সম্বন্ধে বা সম্পর্কে, নির্বাচক-তালিকার প্রস্তুতি এবং অন্য সকল বিষয় যাহা ঐ সদন বা সদনসমূহের যথোচিত গঠন সুনিশ্চিত করিবার জন্য প্রয়োজন তৎসমেত, সকল বিষয়ে বিধান করিতে পারেন।

 নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারালয়ের হস্তক্ষেপে প্রতিবন্ধক। ৩২৯।[][এই সংবিধানে যাহা কিছু আছে তৎসত্ত্বেও,[]***—]

(ক) নির্বাচনক্ষেত্রসমমূহের পরিসীমন সম্পর্কিত অথবা ঐরূপ নির্বাচনক্ষেত্রসমূহে আসনসমূহের আবণ্টন সম্পর্কিত কোন বিধি যাহা ৩২৭ অনুচ্ছেদ বা ৩২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত বা প্রণয়ন করিতে অভিপ্রেত তাহার সিদ্ধতা সম্বন্ধে কোন আদালতে কোন আপত্তি করা যাইবে না;
(খ) যথাযোগ্য বিধানমণ্ডল কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি দ্বারা বা অনুযায়ী যেরূপ বিহিত হইতে পারে সেরূপ প্রাধিকারীর নিকট ও সেরূপ প্রণালীতে উপস্থাপিত একটি নির্বাচন-আবেদনপত্রের দ্বারা ব্যতীত, সংসদের কোন সদনে নির্বাচন বা কোন রাজ্যের বিধানমণ্ডলের সদন বা যেকোন সদনে নির্বাচন সম্বন্ধে কোন আপত্তি করা যাইবে না।

 []৩২৯ক। [প্রধানমন্ত্রী ও অধ্যক্ষের ক্ষেত্রে সংসদে নির্বাচন সম্পর্কিত বিশেষ বিধান।] সংবিধান (চতুশ্চত্বারিংশ সংশোধন) আইন, ১৯৭৮, ৩৬ ধারা দ্বারা (২০.৬.১৯৭৯ হইতে) নিরসিত।

  1. সংবিধান (ঊনবিংশ সংশোধন) আইন, ১৯৬৬, ২, ধারা দ্বারা, “সংসদের ও রাজ্য বিধানমণ্ডলসমূহের নির্বাচন সম্পর্কিত বা তাহা হইতে উদ্ভুত সন্দেহ ও বিবাদের মীমাংসার জন্য নির্বাচন ট্রাইবিউন্যালসমূহের নিমোগ সমেত”—এই শব্দসমূহ বাদ দেওয়া হইয়াছে।
  2. সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৫৬, ২৯ ধারা ও তফসিল দ্বারা, “বা রাজপ্রমুখ”—এই শব্দসমূহ বাদ দেওয়া হইয়াছে।
  3. সংবিধান (ঊনচত্বারিংশ সংশোধন) আইন, ১৯৭৫, ৩ ধারা দ্বারা কতিপয় শব্দের স্থলে প্রতিস্থাপিত।
  4. সংবিধান (চতুশ্চত্বারিংশ সংশোধন) আইন, ১৯৭৮, ৩৫ ধার দ্বারা, “কিন্তু ৩২৯ক অনুচ্ছেদের বিধানাবলীর অধীনে”—এই সকল শব্দ, সংখ্যা ও অক্ষর (২০.৬.১৯৭৯ হইতে) বাদ দেওয়া হইয়াছে।
  5. সংবিধান (ঊনচত্বারিংশ সংশোধন) আইন, ১৯৭৫, ৪ ধারা দ্বারা সন্নিবেশিত।