মজার গল্প

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

 

মজার গল্প

 
সোনা-করা জাদুগরের গল্প

আদি কথা মন্ত্র পড়িয়া যাহারা কোন আশ্চৰ্য্য কাজ করিতে পারে, তাহাদিগকে জাদুগর বা গুণী লোক বলে। জাদুগর সত্য সত্য আছে কি না, সে কথায় এখন প্রয়োজন নাই। তবে যাহারা জাদুগর সাজিয়া উপাৰ্জ্জন করে। “সোনা করিয়া দিব।” এই কথা বলিয়া অনেক সন্ন্যাসী ও ফকীর লোককে প্রতারণা করে। কোন লোকেরা বাটী গিয়া তাহারা বলে, “তোমার ঘরে যত রূপার গহনা ও টাকা আছে, সে সমুদয় আমার নিকট আনয়ন কর, মন্ত্রবলে ও দ্রব্যগুণে সেই রূপাকে আমি সোনা করিয়া দিব। একদিনে বড়মানুষ হইব, এই লোভে গৃহস্বামী ঘরের সমস্ত রূপার দ্রব্য ও নগদটাকা তাহাকে প্ৰদান করেন। অবশেষে সন্ন্যাসী সেই সমস্ত দ্রব্য লইয়া পলায়ন করে। কিন্তু লোককে যাহারা প্রতারণা করে, কখন তাহাদের ভাল হয় না। অসৎ লোকদিগের নিদারুণ কষ্টভোগ করিতে হয়। কখন একটিও মিথ্যা। S. বলিব না, যে কাজ মিথ্যা আমার বিশ্বাস, সে কাজ কখনই করিব না, কখন অসৎব ক্টেরিব না, – বালককাল হইতে এইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিতে হয়। মিথ্যা কথা, মিথ্যা ব ব্ৰহাৰ্দষ্ট ইতরের কাজ। মিথ্যাবাদী লোককে ভাগবান নিদারুণ দণ্ডে দুণ্ডিত করিয়া থাকেন্য৪% মিথ্যাবাদী লোক কিরূপ ভগবানেরওঁকীপে পতিত হয়, তাহার দৃষ্টান্তস্বরূপ তােমাদের নিকট আজ আমি একটি গল্প করিব গুল্পটি সম্পূর্ণ সত্য। যে লোকটির গল্প আমি করিব, অতি প্রখর বুদ্ধি ও নানা বিদ্যায় তাহার মন বিভূষিত ছিল; কিন্তু জীবনের প্রারম্ভে তিনি গুটিকত মিথ্যা কথা বলিয়াছিলেন। সে জন্য এত বুদ্ধি— এত বিদ্যা থাকিতেও তাঁহার জীবনটি মাটি হইয়া গিয়াছিল। সমস্ত জীবন তাঁহাকে কষ্টভোগ করিতে হইয়াছিল। যেদিন তাঁহার মৃত্যু হইল, কেবল সেই দিন তাহার দুঃখের শেষ হইল। পাছে মিথ্যা কথা মুখ দিয়া বাহির হয়, পাছে কোনো কুকাজ করিয়া ফেলি, পাছে কোনো নীচ চিন্তা মনে উদয় হয়, তাহার জন্য সৰ্ব্বদা সাবধান হইতে হয়। কিসে টাকা হয়, সে জন্য সকলেই চেষ্টা করিয়া থাকে। সীসা ও পারাকে রূপা এবং লীেহ ও তামাকে সোনা করিতে পারা যায়, অনেককাল হইতে লোকের মনে এইরূপ একটা বিশ্বাস আছে। এক পয়সার তামাকে সোনা করিতে পারিলে, অনায়াসে দশ টাকা লাভ হয়। অৰ্থেপাৰ্জনের ইহা অপেক্ষা সহজ উপায় আর কি হইতে পারে? সে জন্য তামাকে সোনা করিবার নিমিত্ত অতি প্ৰাচীনকাল হইতে লোকে চেষ্টা করিতেছে। সেকালে কত দেশে। কত লোকে এই কাজে জীবন উৎসর্গ করিয়াছিল। যে বিদ্যা-বলে লোকে এই চেষ্টা করিত, সেকালে WSsig 7 G?WO6?* sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro লোকে তাহাকে “আলকেমি” বলিত। “আলকেমি” বিদ্যা লইয়া লোকে কোথায় কি করিয়াছিল, সে কথা বলিতে গেলে একটি গল্প হয়; কিন্তু আজ সে গল্পটি করিব না। আজ তোমাদিগের নিকট আমি বটগার সাহেবের গল্প করিব। জীবনের প্রথম অবস্থায় ইনিও “আলকেমি” বিদ্যার চৰ্চা করিয়াছিলেন। অর্থাৎ তামাকে সোনা করিবার নিমিত্ত চেষ্টা করিয়াছিলেন। ১৬৮৫ খৃষ্টাব্দে অর্থাৎ ২১৭ বৎসর পূৰ্ব্বে বটগার জন্মণী দেশের অন্তর্গত প্রশ্নশিয়া রাজ্যে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। ১২ বৎসর বয়সে কাজ শিখিবার নিমিত্ত তিনি এক ডাক্তারখানায় নিযুক্ত হন। বাল্যকাল হইতেই রসায়নশাস্ত্রের প্রতি তাহার বিশেষ অনুরাগ ছিল। এই সময়ে রসায়নশাস্ত্র ও “আলকেমি” একই বিদ্যা ছিল। অবসর পাইলেই বটগার “আলকেমি” বিদ্যার চৰ্চা করিতেন। অর্থাৎ নানা বস্তুর সংযোগে তামা, লৌহ প্রভৃতি নিকৃষ্ট ধাতুকে স্বর্ণে পরিণত করিতে চেষ্টা করিতেন। কয়েক বৎসর ধরিয়া ক্রমাগত তিনি পরীক্ষা করিতে লাগিলেন এবং দিবারাত্রি নানা বস্তু আগুনে গলাইতে লাগিলেন। বটগারের প্রখর বুদ্ধি ও অসাধারণ বিদ্যা দেখিয়া ডাক্তারখানার স্বামীও তাঁহাকে এ কাজে সহায়তা করিতে লাগিলেন। কয়েক বৎসর পরে বটগার সকলকে বলিলেন যে,- “আমি তামাকে সোনা করিবার উপায় করিয়াছি।” বটগার সত্য বলিতেছেন, কি মিথ্যা বলিতেছেন, তাহা স্থির করিবার নিমিত্ত একদিন তাহার প্রভুর অর্থাৎ ডাক্তারখানার স্বামীর সম্মুখে পরীক্ষা হইল। কি উপায়ে, তাহা বলিতে পারা যায় না; কিন্তু বটগার প্রভুর সম্মুখে সোনা প্ৰস্তুত করিলেন। লোককে ফাঁকি দিবার নিমিত্ত সচরাচর সন্ন্যাসিগণ এইরূপ একটি উপায় অবলম্বন করে। একটু ফাঁপা লীেহনিৰ্ম্মিত নল লইতে হয়; নলের ভিতর কিছু সােনা রাখিয়া তাহার মুখ মােমেরুঞ্জেরী বন্ধ করিয়া দিতে হয়। নলটি এখন ছড়ির ন্যায় দেখায়। ঘূত, গন্ধক প্রভৃতি নানাকুণ্ডাির্কাজে দ্রব্য মুচিতে রাখিয়া মুচিটি আগুনে বসাইতে হয়। আগুনের তাপে মুচির দ্রব্য যুগুৰ্নি’গালিয়া যায়, তখন মন্ত্রপাঠ করিতে করিতে সেই লৌহনল দ্বারা মুচি দ্রব্য বারবার ত হয়। যে মোমের দ্বারা নলের মুখ বন্ধ করা হইয়াছিল, আগুনের তাপে তাহা এ যায়; সুতরাং নলের ভিতর যে সোনা ছিল, তাহা এখন বাহির হইয়া মুচির ভিতর গিয়া পড়ে। আগুনের আরও প্রখর তাপে ঘূত্য গন্ধক প্রভৃতি জুলিয়া যায়। ক্রমে মুচিতে সেই স্বর্ণ ব্যতীত আর কিছুই থাকে না। তখন সকলের নিশ্চয় বিশ্বাস হয় যে,- “হাঁ! এই সাধু স্বর্ণ প্রস্তুত করিতে জানে বটে।” বটগার এই উপায়ে নিজের প্রভুকে ফাঁকি দিয়াছেন কি না, তা বলিতে পারি না। তবে এইমাত্র বলিতে পারি যে তাহার ও উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তির সকলের মনে বিশ্বাস হইল যে, বটগার সত্য সত্যই সোনা প্ৰস্তুত করিবার উপায় উদ্ভাবন করিতে সমর্থ হইয়াছেন। চারিদিকে জনরব হইল যে, অমুক ডাক্তারখানার একজন লোক সোনা করিতে পারে। “সোনা-করা” লোককে দেখিবার নিমিত্ত ডাক্তারখানার সম্মুখে ভিড় হইল। ক্রমে এই কথা প্রশ্নশিয়া দেশের রাজার কানে উঠিল। তিনি বটগারকে ডাকিতে পাঠাইলেন। বটগার রাজার সম্মুখে উপস্থিত হইয়া একখণ্ড সোনা নজর দিয়া বলিলেন,- “তামা হইতে এই স্বর্ণখণ্ড আমি প্ৰস্তুত করিয়াছি।” এই সময় নানা যুদ্ধে রাজার অনেক টাকা খরচ হইয়াছিল। তাঁহার ভাণ্ডার শূন্য হইয়া পড়িয়াছিল। টাকার বড় খাকাতি! রাজার মনে আনন্দের সীমা রহিল না। তিনি ভাবিলেন যে, এই লোকের দ্বারা যত ইচ্ছা তত সোনা প্ৰস্তুত করিতে পারিব। কোন এক দুৰ্গম দুর্গের ভিতর আবদ্ধ থাকিয়া রাশি রাশি স্বর্ণ প্রস্তুত করিবার নিমিত্ত তিনি বটগারকে আদেশ করিলেন। বটগার এখন অন্ধকার দেখিলেন। কেবল যে কেল্লার ভিতর কয়েদ থাকিতে হইবে, ○。 frig -ibs gas se - www.amarboicomf: তাহা নহে। সোনা প্ৰস্তুত যে সব ফাঁকি, সে কথা জানিতে পারিলে রাজা ফাঁসি দিবেন, কি কি করিবেন, তাহা বলিতে পারা যায় না। সাক্ষণি (সাক্ষণি) দেশ অভিমুখে বটগার পলায়ন করিলেন। ক্ৰোধে অধীর হইয়া রাজা তাহাকে ধরিবার নিমিত্ত অশ্বারোহী সৈন্য প্রেরণ করিলেন। সাক্ষণি দেশের সীমায় উপস্থিত হইয়া বটগার সে দেশের অধিপতির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন। সাক্ষণি দেশের অধিপতি তাহাকে রাজধানী ড্রেসডেন নগরে পাঠাইবার নিমিত্ত আদেশ করিলেন। ড্রেসডেন নগরে যাইবার নিমিত্ত বটগার যেই যাত্ৰা করিলেন, আর সেই সময় প্রশ্নশিয়া দেশের সৈন্য আসিয়া উপস্থিত হইল। যাহা হউক, তাহারা তাঁহাকে ধরিতে পারিল না। বিলাতে এখন কাৰ্ণেজি নামক একজন সাহেব আছেন। ইনি বাল্যকালে মজুরী করিয়া দিনপাত করিতেন। তাহার পর বড় হইয়া আমেরিকা মহাদেশে লীেহ হইতে ইস্পাত প্ৰস্তৃত করিয়া ইনি বিপুল সম্পত্তির অধীশ্বর হইয়াছেন। সেই সম্পত্তি হইতে পঁচাত্তর কোটি টাকা, অঙ্কে লিখিলে এইরূপ হয়,- ৭৫,০০,০০,০০০—দীন-দরিদ্রদিগের চিকিৎসার নিমিত্ত কোন হাসপাতালে তিনি দুই কোটি টাকা, দুঃখী ছাত্রদিগের বিদ্যাশিক্ষার নিমিত্ত কোন বিদ্যালয়ে এককোটি টাকা, বৃদ্ধ পঙ্গুদিগের ভরণপোষণের নিমিত্ত কোন অনাথাশ্রমে এককোটি টাকা, সাধারণের জ্ঞানলাভের নিমিত্ত কোন পুস্তকাগারে এককোটি টাকা, এইরূপ নানা স্থানে নানাপ্রকার সৎকার্য্যের তিনি অনুষ্ঠান করিতেছেন। কাৰ্ণেজির মত লোকের অর্থলাভের বাসনা পরিতৃপ্ত হইয়া থাকিবে। তা না হইলে অর্থ-লালসা-শূন্য লোক পৃথিবীতে অতি বিরল। অর্থলাভের লালসা চিরকাল হইতে চলিয়া আসিতেছে। আর এ লালসা সহজে কেহ মন হইতে দূর করিতে পারে না। দুই শত বৎসর পূৰ্ব্বে দেশের অধিপতি ছিলেন, তিনিই আবার পোলাও দেশের রাজা ছিলেন। রাজা হাইক্টেকি হয়, তাহারও ঘোরতর টাকার খাকতি ছিল। বিশেষতঃ এই সময়ে পোল্যাণ্ড শ্ৰুেষ্টবি ল। প্রবলবেগে প্ৰজ্বলিত ছিল। সেই বিদ্রোহানল নিৰ্ব্বাণ করিবার নিমিত্ত কৃষ্ণৰ প্রয়োজন হইয়াছিল। সুতরাং সাক্ষণাধিপতি যখন শুনিলেন যে, “সােনা-করা” ব্লেটগরি গ্রুশিয়া হইতে পলায়ন করিয়া, তাঁহার রাজ্যে আসিয়া আশ্রয় লইয়াছে, তখন আনন্দে তাঁহার মন প্ৰফুল্লিত হইল। তিনি মনে করিলেন যে, “আর ভাবনা নাই, এখন যত ইচ্ছা তত স্বর্ণ প্ৰস্তুত করাইব।” এইরূপ ভাবিয়া বটগারকে তিনি অতি সমাদরে রাজবাটীর নিকট বৃহৎ এক অট্টালিকায় স্থান প্রদান করিলেন, আর পঞ্চোপচারে তাহার সেবা করিবার নিমিত্ত রাজকৰ্ম্মচারী ও রাজভৃত্যদিগকে আদেশ করিলেন। নানারূপ সুখাদ্য ভোজনে ও বহুমূল্য পরিচ্ছদ পরিধানে বটগারের সেবা হইতে লাগিল বটে, কিন্তু সেই সঙ্গে চারিদিকে পাহারাও নিযুক্ত হইল। বাটীর বাহিরে পাহারা, বাটীর ভিতরে পাহারা, শয়নঘরে পাহারা, রাত্রিদিন রক্ষকগণ বটগারকে চক্ষুর আড় করে না। বটগার ভাবিলেন যে, যে বিপদের ভয়ে স্বদেশ হইতে পলায়ন করিলাম, এখানেও সেই বিপদ!! ইতিমধ্যে বিদ্রোহ দমনের নিমিত্ত সাক্ষণ-অধিপতিকে সহসা পোল্যাণ্ড দেশে গমন করিতে হইল। যাইবার পূৰ্ব্বে বটগারের সহিত কথাবাৰ্ত্ত কহিতে তাঁহার অবকাশ হয় নাই। সে জন্য পোল্যাণ্ড দেশে উপস্থিত হইয়াই তিনি বটগারকে এক পত্র লিখিলেন,- “আমার টাকার নিতান্ত প্রয়োজন হইয়াছে। সোনা না করিলে আর চলে না। অতএব কি করিয়া সোনা করিতে হয়, তাহা তুমি আমাকে বলিয়া দাও।” সেই সঙ্গে রাজকৰ্ম্মচারীদিগকেও রাজা আজ্ঞা করিলেন যে, “যতক্ষণ না বটগার আমার আদেশ প্রতিপালন করে, ততক্ষণ তাহাকে বিধিমতে উৎপীড়িত করিবে।” রাজকৰ্ম্মচারিগণ তাহাকে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা দিতে আরম্ভ করিল। systs ୩ୟ୍ଯ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro শেষ কথা ঘোরতর উৎপীড়িত হইয়া অবশেষে বটগার রাঙ্গা রঙের আরকে পরিপূর্ণ একটি শিশি রাজকৰ্ম্মচারীদিগের হস্তে প্ৰদান করিয়া বলিলেন, —“রাজাকে তোমরা এই শিশিটি দিবে। তাহাকে বলিবে যে, তিনি যেন শুদ্ধ দেহ ও পবিত্ৰ মনে নিৰ্জ্জন একটি গৃহে গমন করেন। তাহার ভিতর অগ্নি প্ৰজ্বলিত করিয়া সেই অগ্নির উত্তাপে লৌহ তাম্র অথবা অন্য নিকৃষ্ট ধাতু গলাইয়া তাহার উপর দুই-তিন ফোটা এই লাল আরক ফেলিয়া দিলেই, সে দ্রবীভূত ধাতু তৎক্ষণাৎ সুবৰ্ণে পরিণত হইবে।” এমন বহুমূল্য আরক যে-সে লোকের হাতে রাজার নিকট প্রেরণ করিতে পারা যায় না। সে জন্য রাজকুমার নিজে তাহা লইয়া চলিলেন। অশ্বমেধের ঘোড়ার সঙ্গে যেরূপ বহুসংখ্যক সৈন্য থাকিত, সেইরূপ এই শিশির সঙ্গেও অশ্বারোহী, পদাতি, তীরন্দাজ, গোলন্দাজ প্রভৃতি নানাবিধ সৈন্য প্রেরিত হইল। যথাসময়ে শিশি গিয়া রাজার নিকট উপস্থিত হইল। স্নান করিয়া, বিশুদ্ধ পরিচ্ছদ পরিধান করিয়া, নিজে স্বয়ং রাজা ও রাজকুমার নির্জন একটি গৃহে প্রবেশ করিলেন। ঘরের দ্বার বন্ধ করিয়া, প্ৰচণ্ড অগ্নির উত্তাপে পৰ্ব্বত-প্রমাণ তাম্ররাশি তাঁহারা দ্রবীভূত করিলেন। তাহার পর অতি সন্তৰ্পণে সেই দ্রবীভূত ধাতুরাশির উপর দুই-চারি লাল আরক ঢালিয়া দিলেন । তামা-তেমনি তামা রহিল। তােমা ক্টণ্ঠ পারিলেন না। ভাবিতে ভাবিতে তাহার হস্তেও অনেক টাকাকড়ি প্রদান করিলেন। পূজা-পাঠ ও শান্তি-স্বস্ত্যয়ন করিয়া যখন সব পাপ কাটিয়া গেল, তখন পুনরায় সেই “সোনা-করা” কার্ঘ্যে প্রবৃত্ত হইলেন। পুনরায় আগুন জ্বালাইলেন, পুনরায় তাম্র গলাইলেন, পুনরায় তাহার উপর সেই আরক ঢালিয়া দিলেন। কিন্তু হায়! এবারও সমুদয় পরিশ্রম বিফল হইল! তামা কিছুতেই সোনা হইল না। তােমা তামাই রহিল। ক্ৰোধে রাজা অধীর হইলেন। তিনি ভাবিলেন যে,- “বেটা সোনা করিতে জানে, কেবল দুষ্টামি করিয়া সে গুপ্তবিদ্যা আমার নিকট প্ৰকাশ করিতেছে না। ইহাকে যন্ত্রণা দিয়া সে গুপ্তবিদ্যা বাহির করিতে হইবে।” কথা বাহির করিবার নিমিত্ত সেকালে লোককে নিদারুণ যন্ত্রণা প্ৰদান করা হইত। নখের ভিতর তীক্ষ সূচি প্রবিষ্ট করা হইত, সাড়াশী দ্বারা এক একটি করিয়া মুখ হইতে দন্ত উৎপাটিত করা হইত, সৰ্ব্বশরীরে আগুনের ছেকা দেওয়া হইত, কিলে ফেলিয়া মড়মড় শব্দে শরীরের হাড় ভাঙ্গা হইত। অসহ্য যন্ত্রণায় হতজ্ঞান হইয়া নিৰ্দোষ লোকও স্বীকার করিত যে, আমি চাের বটে; নিরপরাধ বৃদ্ধা স্ত্রীলোকও বলিয়া ফেলিত যে, আমি ডাইনী বটে। এদিকে রাজা রুষ্ট হইলেন, ওদিকে (\Obr ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বটগারও বুঝিতে পারিলেন যে, আর তাহার এ-রাজ্যে বাস করা উচিত নহে। কোনমনে। প্রহরীদিগকে ফাঁকি দিয়া তিনি পলায়ন করিলেন। তিন দিন তিন রাত্রি ক্রমাগত দ্রুতবেগে ভ্ৰমণ করিয়া তিনি অষ্ট্ৰীয়া-রাজ্যে গিয়া উপস্থিত হইলেন। কিন্তু সাক্ষণ দেশীয় সৈন্যও তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবিত হইয়াছিল। অষ্ট্ৰীয়ারাজ্যের ভিতর উপস্থিত হইয়া নিশ্চিত।মনে একস্থানে রাত্রিকালে বটগার নিদ্ৰা যাইতেছিলেন। সেই স্থানে সাক্ষণ-সৈন্য উপস্থিত হইয়া তাহাকে ধরিয়া ফেলিল। অষ্ট্ৰীয়া-সম্রাটের দোহাই দিয়া বটগার প্রাণপণে চীৎকার করিতে লাগিলেন, কিন্তু কোন ফল হইল না। সাক্ষণ-সৈন্য তাঁহাকে ধৃত করিয়া পুনরায় ড্রেসডেন নগরে লইয়া আসিল। রাজার আজ্ঞায় এবার তাঁহাকে এক সুদৃঢ় কেল্লার ভিতর কয়েদীর ন্যায় আবদ্ধ করিয়া রাখা হইল। এই স্থানে রাজা তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। নিতান্ত কোপাবিষ্ট হইয়া, কর্কশ বচনে রাজা তাঁহাকে বলিলেন, —“আমার ধনাগার শূন্য হইয়া আছে। দশ পল্টন সৈন্য অনেকদিন বেতন পায় নাই। সোনা তোমাকে নিশ্চয় প্রস্তুত করিতে হইবে। সোনা প্ৰস্তৃত না করিলে আমি তোমাকে ফাঁসি দিব।” প্রকৃত কথা এই যে, বটগার সোনা করিতে জানিতেন না। লোককে প্রতারণা করিবার উদ্দেশ্যে হউক, অথবা মান-সন্ত্রমের জন্য হউক, তিনি মিথ্যা করিয়া বলিয়াছিলেন যে, আমি সোনা করিতে জানি, সুতরাং রাজার জন্য তিনি সোনা প্রস্তুত করিতে পারিলেন না। যাহা হউক, রাজা তাঁহাকে ফাঁসি দিলেন না, চোরের ন্যায় তাহাকে কয়েদ করিয়া রাখিলেন। এইরূপে কয়েক বৎসর কাটিয়া গেল। ইহার কিছুদিন পূৰ্ব্বে পোৰ্ত্তাগাল দেশের লোক জাহাজে চড়িয়া ভারতবর্ষ, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশে আসিয়াইিছল। তাহার পর ওলন্দাজ, ফরাসী ও ইংরাজ আসিয়াছিল। পূৰ্ব্ব অঞ্চল হইতে নানা দ্রুৱাই লইয়া এই সকল দেশের বণিকৃগণ ব্যবসা করিতেছিল। চীন হইতে চীনের বাসন কেহ কহ স্বদেশে লইয়া গিয়াছিল। উৎকৃষ্ট চীনের বাসন দেখিতে অতি সুন্দর। একপ্রকার রঙের মাটি লইয়া চীনের লোকে রেকবি, বাটি প্রভৃতি বাসন প্রস্তুত করে। সেই লাল নীল প্রভৃতি নানা বর্ণের মসলা দ্বারা তাহারা অলকৃত করে। তাহার পর সেই আগুনে পোড়াইলে মৃত্তিকা গলিয়া একপ্রকার অসচ্ছ কাচে পরিণত হয়। লাল নীল প্রভৃতি নানা বর্ণের অলঙ্কারে পরিশোভিত উজ্জ্বল মসৃণ শুভ্রবর্ণের বাসনগুলি দেখিতে সুন্দর হয়। জৰ্ম্মণী, হল্যাণ্ড, ইংলণ্ড প্রভৃতি দেশে এই বাসন সোনা অপেক্ষা অধিক মূল্যে বিক্রীত হইতে লাগিল। তাহা দেখিয়া বটগারের একজন বন্ধু তাঁহাকে বলিলেন, — “বটগার! তুমি যে সোনা করিতে জান না, এখন সে কথা বলিলে কেহ বিশ্বাস করিবে না। রাজা মনে করিতেছেন যে, তুমি সোনা করিতে জান, কেবল দুষ্টামি করিয়া তুমি সে বিদ্যা তাহার নিকট প্রকাশ করিতেছি না। তুমি রাজার কোপে পতিত হইয়াছ। চিরকাল তোমাকে বন্দী হইয়া থাকিতে হইবে। তুমি পণ্ডিত লোক। রসায়নশাস্ত্ৰ তুমি ভালরূপ অবগত আছ। তুমি এক কাজ কর। চীন হইতে এখন যে মৃন্ময় বাসন আমদানী হইতেছে, তাহার মূল্য সোনা অপেক্ষা অধিক। তুমি সেই বাসন প্রস্তুত কর। তাহা বেচিয়া রাজা অনেক টাকা পাইলে সন্তুষ্ট হইয়া কারাবাস হইতে তিনি মুক্ত করিয়া দিবেন।” বটগার পরামর্শমত কাজ করিলেন। নানারূপ মৃত্তিকা লইয়া তিনি পরীক্ষা করিতে আরম্ভ করিলেন। রাজাও তাঁহাকে এ কাৰ্য্যে সহায়তা করিতে লাগিলেন। তাঁহার আদেশে নানাস্থান হইতে নানা বর্ণের নানা প্রকারের মৃত্তিকা আসিতে লাগিল। সেই মৃত্তিকা দিয়া পাত্ৰ নিৰ্ম্মাণ করিয়া তাহাদিগকে আগুনে পােড়াইয়া, তিনি পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। কিন্তু কোন মৃত্তিকায় চীনের মত বাসন প্ৰস্তুত ayError ୩ୟ୍ଯ లిసి sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro হইল না। মুচি প্রস্তুত করিবার নিমিত্ত কোন স্থান হইতে একপ্রকার লোহিত বর্ণের মৃত্তিকা আসিয়াছিল। বটগার সেই মৃত্তিকা দ্বারা পাত্ৰ নিৰ্ম্মাণ করিয়া পোড়াইয়া দেখিলেন যে, তাহা হইতে লোহিত বর্ণের একপ্রকার চীনের বাসন প্ৰস্তুত হইতে পারে। বটগার সেইরূপ অনেক বাসন প্ৰস্তুত করিয়া রাজাকে প্ৰদান করিলেন। তাহা বিক্রয় করিয়া রাজা অনেক টাকা পাইলেন। কিন্তু প্ৰকৃত চীনের বাসন শুভ্রবর্ণের হইয়া থাকে। সাদা রঙের বাসন যত মূল্যে বিক্রীত হয়, এ লাল রঙের বাসন তত মূল্যে বিক্রীত হয় না। সে জন্য বটগার সাদা রঙের বাসন প্ৰস্তুত করিতে ক্ৰমাগত চেষ্টা করিতে লাগিলেন। রাজার যাহাতে টাকা হয়, সেজন্য বটগার দিবারাত্রি ঘোরতর পরিশ্রম করিতে লাগিলেন বটে, কিন্তু রাজা তাঁহাকে কারাবাস হইতে মুক্ত করিলেন না। কত বিনয় করিয়া, কত খেদ করিয়া বটগার রাজাকে পত্র লিখিতে লাগিলেন। একখানি চিঠিতে তিনি এইরূপ লিখিয়াছিলেন,-“মহারাজ। আপনার কাৰ্যে আমি প্ৰাণ সমৰ্পণ করিয়াছি। দিবারাত্রি আপনার জন্য পরিশ্রম করিতেছি। কোন পারিতোষিক আমি চাই না; আমি কেবল এই ভিক্ষা চাই যে, আর আমাকে পিঞ্জরে আবদ্ধ করিয়া রাখিবেন না। আমাকে মুক্ত করিয়া দিন। আমাকে স্বাধীনতা প্ৰদান করুন। আমি আর পলায়ন করিব না। যতদিন দেহে আমার প্রাণ থাকিবে, ততদিন প্ৰাণপণে আমি আপনার জন্য পরিশ্রম করিব।” কিন্তু রাজা সে কথায় কর্ণপাত করিলেন না। দিবসে বটগার প্রহরিগণ দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া থাকিতেন। রাত্রিকালে ঘরে তাঁহাকে চাবি দিয়া রাখা হইত! যাহা হউক, বটগার শুভ্ৰবর্ণের চীনের বাসন করিতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন । নানারূপ মৃত্তিকা ও নানারূপ মশলা দ্বারা পরীক্ষা লাগিল। দিবারাত্রি পরীক্ষা চলিতে লাগিল। পরীক্ষার বিরাম নাই। ক্রমাগত পরীক্ষা না করিলে নূতন বিষয় আবিষ্কার করিতে পারা যায় না। শত শত পরীক্ষা বিফল হইয়াও যদি একটি সফল হয়, তাহা হইলেও সৌভাগ্য বলিয়া মানিতে হয় । জাৰ্ম্মণি দেশের হইতে যে সমুদয় মৃত্তিকা ও প্রস্তর প্রেরিত হইত, তাহাদিগকে পোড়াইয়া শুভ্ৰবর্ণের চীনের বাসন প্রস্তুত করিতে পারিলেন না। বিলাত প্রভৃতি দেশের লোক এই সময় কোঁকড়া-কোঁকড়া সুদীর্ঘ পরচুল পরিধান করিত। ইংরেজী ভাষায় ইহাকে Wig বলে। একপ্রকার শুভ্রবর্ণের মৃত্তিকাচুর্ণ মাখাইয়া এই পরচুলের শোভা আরও বৃদ্ধি করা হইত। প্রচলিত প্ৰথা অনুসারে বটগারও মাথায় পরচুল পরিধান করিতেন। একদিন তাঁহার পর চুল মাথায় কিছু ভারি বোধ হইল! তিনি লোকদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন,-“আজ আমার পর চুল এত ভারি কেন?” একজন উত্তর করিল,-“আজি ইহার উপর একপ্রকার নূতন মৃত্তিকাচুর্ণ লেপন করা হইয়াছে।” বটগার বলিলেন, —“কৈ, সে মাটি দেখি! সেই মৃত্তিকা দেখি!” সেই মৃত্তিকা দেখিয়া তিনি বিস্মিত হইলেন। তিনি ভাবিলেন,— “হয়তো এই মৃত্তিকা দ্বারা পাত্ৰ নিৰ্ম্মাণ করিলে, শুভ্রবর্ণের চীনের বাসন প্রস্তুত হইবে । বস্তৃতঃ তাহাই হইল। এই শুভ্ৰ মৃত্তিকাকে কাওলিন (Kaolin) বলে। আমাদের দেশে ইহা সীওতাল পরগণা, ভাগলপুর, মুঙ্গের প্রভৃতি জেলায় পাওয়া যায়। জাৰ্ম্মণি দেশের যে অংশ হইতে ইহা আসিয়াছিল, রাজা সেই স্থান হইতে এই মৃত্তিকা প্রচুর পরিমাণে আনাইলেন। চীনের বাসন প্রস্তুত করিবার নিমিত্ত তিনি প্ৰকাণ্ড এক কারখানা স্থাপিত করিলেন। অন্যান্য দেশের রাজাদিগের নিকট তিনি সংবাদ পাঠাইলেন যে,—“আমার নগরে উৎকৃষ্ট চীনের বাসন প্ৰস্তুত হইতেছে। এখন হইতে চীন হইতে আর সে বাসন আমদানী করিতে হইবে না।” ফলকথা, এই বাসন বেচিয়া রাজা সোনা করা অপেক্ষা অধিক লাভ মনে করিলেন। কি মৃত্তিকা দিয়া পাত্র (ሮ8O ifGNʼRIig{ °iiğq5 q<q5 zR8! ~y www.amarboi.com?%*7i°f*t7°*°"P7R** প্ৰস্তুত করিতে হয়, কেবল তাহা জানিলে হয় না। পাত্রগুলি নানাবর্ণের অলঙ্কারে বিভূষিত করিবার নিমিত্ত নানা উপাদানের আবশ্যক। বটগার রাসায়নবিদ্যাবলে, সেই সমুদয় মশলা আবিষ্কার করিলেন। বটগার আগাগোড়া সমুদয় কাজ করিতে লাগিলেন বটে, তাঁহার পরিশ্রমের ফলে রাজা বিপুল অর্থের অধীশ্বর হইলেন বটে, তথাপি তিনি তাঁহাকে কারখানায় কোনরূপ উচ্চপদ প্ৰদান করিলেন না। বটগারকে রাজা ঠিক ক্রীতদাস করিয়া রাখিলেন। স্বাধীনতার জন্য বটগার বিনয়-বচনে কতবার প্রার্থনা করিলেন; কিন্তু রাজা কিছুতেই তাঁহাকে স্বাধীনতা প্ৰদান করিলেন না। অবশেষে মনোদুঃখে বটগার মদ খাইতে আরম্ভ করিলেন। কিছুদিন দিবারাত্রি সুরাপান করিয়া তাঁহার শরীর ভাঙ্গিয়া গেল। কেবলমাত্র পয়ত্রিশ বৎসর বয়সে তাঁহার পরলোক হইল। জীবনের প্রথম অবস্থায় বটগার যদি মিথ্যাকথা না বলিতেন, তাহা হইলে বোধ হয়, তাহার এরূপ দুৰ্গতি হইত না। sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ভানুমতী ও রুস্তম প্ৰথম অধ্যায় কুজো ।বর সেকালে ইরাণ দেশে এক রাজা ছিলেন। সেই রাজার ভানুমতী নামক এক কন্যা ব্যতীত অন্য সন্তান-সন্ততি ছিল না। রাজা ও রাণী ভানুমতীকে আপনাদিগের প্রাণ অপেক্ষা ভালবাসিতেন। কেবল পিতামাতা নহে, ভানুমতীর রূপে-গুণে সকলেই মুগ্ধ হইয়াছিল। দেশের সকল লোকেই ভানুমতীকে প্ৰাণ অপেক্ষা ভালবাসিত। ভানুমতী দিন দিন বাড়িতে লাগিল। পদ্মের মুকুল প্ৰস্ফুটিত হইলে তাহার শোভায় সমুদয় সরোবর যেমন আলোকিত হয় ও তাহার সীেরাভে যেমন চারিদিক আমোদিত হয়, ভানুমতীর রূপে সেইরূপ সমুদয় ইরাণ রাজ্য যেন আলোকিত হইল এবং গুণের যশ সেইরূপ দেশ-বিদেশে বিস্তৃত হইল। কিন্তু তাহার বিবাহ দিতে রাজা বিলম্ব, লাগিলেন। একদিন রাজা, রাণীকে নূয়ন্সের পুতলি। প্রাণ অপেক্ষ তুহাকে আমরা লুণ্ঠন্তরাল করিতে পারি না। বিবাহ দিলেই তাহাকে শ্বশুরালয়ে পাঠাইতে হইবে। তাহাকে দেখিয়া কি করিয়া আমরা বঁচিব? ভানুমতী এখনও তেমন বড় হয় নাই। আরও কিছুদিন য়উর্ক তখন তাহার বিবাহের চেষ্টা করিব।” কিন্তু দেশ-বিদেশের রাজা ও রাজপুত্ৰগণ সে কথা জানিত না। ভানুমতীর রূপ-গুণের কথা তাহারা সকলেই শুনিয়াছিল। ভানুমতীকে বিবাহ করিবার নিমিত্ত সকলেই লালায়িত হইল। সেইরূপ প্রার্থনা করিয়া অনেক রাজা ও অনেক রাজপুত্র ভানুমতীর পিতার নিকট দূত পাঠাইল। কিন্তু ভানুমতীর পিতা কাহারও প্রস্তাবে সম্মত হইলেন না। দূতাদিগকে তিনি বলিলেন যে,- “আমার মেয়ের এখনও বয়স হয় নাই। আরও বড় না হইলে আমি কন্যার বিবাহ দিব না।” এই কথা বলিয়া তিনি দূতাদিগকে বিদায় করিলেন। এই সময়ে নিশাপুর নামক দেশে একজন প্ৰবলপরাক্রান্ত রাজা ছিলেন; কিন্তু তিনি দেখিতে সুপুরুষ ছিলেন না। বয়সে তিনি বৃদ্ধ ছিলেন, তাহার মুখে সাত হাত লম্বা পাকা দাড়ি ছিল। আর তাঁহার পিঠে বৃহৎ একটি কুঁজ ছিল। রূপ ছিল না বটে; কিন্তু তাঁহার গুণ অনেক ছিল। যাহাকে গুণী অর্থাৎ জাদুগর বলে, তিনি তাই ছিলেন। তিনি নানারূপ মন্ত্র-তন্ত্র জানিতেন। সেই মন্ত্রবলে তিনি দিনকে রাত ও রাতকে দিন করিতে পারিতেন। মনুষ্যকে জন্তু করিতে পারিতেন ও জন্তুকে মানুষ করিতে পারিতেন। ভূত, প্ৰেত, দানা, দৈত্য, জিন, পরি সকলকে তিনি বশীভূত করিয়াছিলেন। তাঁহার ভয়ে ভূত প্ৰেত জিন পরিা সৰ্ব্বদাই সশঙ্কিত থাকিত । G8S ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ভানুমতীকে বিবাহ করিতে তাঁহার সাধ হইল। তিনি ভাবিলেন যে,- “আমার গায়ের রঙ কিছু ময়লা, ফুটফুটে গীেরবর্ণ নয় বটে, দাড়িটি সাত হাত লম্বা,-আর শণের ন্যায় পাকাও বটে। আর পিঠের মাঝখানে বড় একটি বিলাতী কুমড়ার ন্যায়৷ কুঁজও আছে বটে,-কিন্তু তা হইলে কি হয়, ভানুমতীকে আমি অনেক গহনা দিব। গহনা পাইলে ভানুমতীর পিতামাতা ভুলিয়া যাইবে, ভানুমতীও আমাকে ভালবাসিবে। সংসারের নিয়ম এই।” এইরূপ মনে করিয়া ভানুমতীর পিতার নিকট তিনি দূত পঠাইলেন। যেমন ভানুমতীর রূপগুণের সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে প্রচারিত হইয়াছিল, সেইরূপ নিশাপুরের কুজো রাজার সুখ্যাতিও দেশ-বিদেশে প্রচার হইয়াছিল। ইরাণ রাজ-সভায় যখন তাহার দূত আসিয়া উপস্থিত হইল, তখন ভানুমতীর পিতার প্রথম অতিশয় রাগ হইল। তিনি ভাবিলেন, — “বেটার একবার আস্পৰ্দ্ধা দেখ! বামন হইয়া চাঁদে হাত! বেটার রূপ দেখিলে আমাদের ভয় হয়। কোন সাহসে সে ভানুমতীকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিল?” প্ৰথমে রাজা এইরূপ ভাবিলেন বটে; কিন্তু পরীক্ষণেই তাঁহার বড় ভয় হইল। কুঁজে রাজা কিরূপ তন্ত্ৰ-মন্ত্র জানিত, ভানুমতীর পিতা তাহা জানিতেন। পাছে রাগিয়া সে ভানুমতীর কোন মন্দ করে, তাহার সেই ভয় হইল। কিন্তু এরূপ কুৎসিত-কদাকার দুষ্টলোকের সহিত ভানুমতী হেন কন্যার তিনি কি করিয়া বিবাহ দিবেন? সে প্রস্তাবে তিনি কিছুতেই সম্মত হইতে পারিলেন না। অন্যান্য রাজদূতকে তিনি, যে কথা বলিয়াছিলেন, নিশাপুরের দূতকেও তিনি সেই কথা বললেন। তাহা ছাড়া তাহাকে অনেক বহুস্থ উপঢৌকন দিয়া মধুৰ বচনে বিদায় করিলেন। (O) ಙ್ಕ್ತ್ಯ: তখন ক্রোধে তিনি জুলিয়া উঠিলেন। তিনি বলিলেন, “আমি এমন সুপাত্র, তথাপি আমার সহিত ভানুমতীর বিবাহ দিবে না? আচ্ছা, খুব জব্দ করিব।” এইরূপ ভাবিয়া কুঁজে রাজা আঞ্চস্ট্রির গুরুর নিকট গমন করিলেন। নিবিড় বনের ভিতর মন্ত্রবলে বৃহৎ একটি কেল্লা নিৰ্ম্মাণ গুরু, তাহার ভিতর বাস করেন। গুরুর নিকট উপস্থিত হইয়া কুঁজে রাজা বলিলেন, — “মহাশয়! ইরাণের রাজা আমার বড় অপমান করিয়াছে। ভানুমতী নামে তাহার এক কন্যা আছে। তাহাকে আমি বিবাহ করিতে চাহিয়াছিলাম। কিন্তু আমার পিঠে কুঁজ ও মুখে সাত হাত পাকা দাড়ি আছে বলিয়া সে আমার কথায় সম্মত হয় নাই। ইরাণের রাজাকে দণ্ড দিতে হইবে। কিন্তু ভানুমতীকে আমি বধ করিতে ইচ্ছা করি না, যেমন করিয়া পারি, তাহাকে আমি বিবাহ করিব। এক্ষণে কি উপায়ে তাহাদিগকে আমি জব্দ করিতে পারি, তাহা আমাকে বলিয়া দিন।” গুরু হাসিয়া বলিলেন,- “তাহার ভাবনা কি! এই তুমি অঙ্গুরীটি লইয়া যাও। কোনরূপে ভানুমতীকে এই আঙটিটি দিবে। ভানুমতী নিজের অঙ্গুলিতে এই অঙ্গুরী পরিধান করিলে প্ৰাণে মরিবে না; কিন্তু বিলক্ষণ তামাসা হইবে! তাহাতে রাজা-রাণী সকলেই দুঃখে অভিভূত হইয়া পড়িবে। তখন ভানুমতীকে ভাল করিবার নিমিত্ত তাহার বাপ-মা পায়ে ধরিয়া তোমার সহিত বিবাহ দিবে।” আঙটি লইয়া কুঁজে রাজা নগরে প্রত্যাগমন করিলেন। সে স্থানে আসিয়া তিনি সহরের প্রধান জহুরীকে ডাকিতে পাঠাইলেন। জহুৱী আসিয়া উপস্থিত হইলে তিনি তাহাকে বলিলেন,- “রাজ্যভাণ্ডার হইতে তোমাকে আমি অনেক মণিমুক্তা ও বহুমূল্য আভরণ প্রদান মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro (?8○ করিতেছি। সে সকল লইয়া তুমি ইরাণ দেশে গমন কর। ইরাণ রাজার বাড়ীতে গিয়া সেই সকল দ্রব্য তুমি অতি অল্প মূল্যে বিক্রয় করিবে। কিন্তু আর যাহা বিক্রয় কর আর নাই কর, রাজকন্যা যাহাতে এই আঙটিটি নিজের হাতে পরিধান করে, তুমি সেই উপায় করিবে । রাজকন্যাকে যদি তুমি আঙটি পরাইতে না পাের, তাহা হইলে আমি তোমার পরিবারবর্গের মাথা কাটিয়া ফেলিব।” এই কথা বলিয়া কুজো রাজা তাহাকে সেই অঙ্গুরী ও রাজ ভাণ্ডার হইতে অনেক মুণি-মুক্তা ও নানারূপ অলঙ্কার প্রদান করিলেন। সেই সমুদয় লইয়া ভয়ে ভয়ে জহুরী ইরাণ দেশে গিয়া উপস্থিত হইল। ইরাণ নগরে উপস্থিত হইয়া প্ৰথম সে সাধারণ লোককে সেই সমুদয় বহুমূল্য প্রস্তর ও গহনা অতি অল্প মূল্যে বিক্রয় করিতে লাগিল। তাঁহাতে ক্ৰমে চারিদিকে জনরব হইল। যে, কোন দেশ হইতে এক জহুরী আসিয়া অতি অল্প মূল্যে বহুমূল্য দ্রব্যাদি বিক্রয় করিতেছে। সেই কথা ক্রমে রাজমন্ত্রিগণের কানে উঠিল। য়াজমন্ত্রিগণ তাহার নিকট হইতে অনেক দ্রব্য ক্রিয় করিল। রাজাও ক্রমে তাহার কথা শুনিলেন। জহুরীকে রাজা ডাকিতে পাঠাইলেন। এইবার জহুরী সৰ্ব্বাপেক্ষা উত্তম উত্তম হীরা মাণিক মুক্তা বাহির করিয়া রাজাকে দেখাইল । রাজা তাহা দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইলেন। এরূপ উৎকৃষ্ট প্রস্তরাদি রাজভাণ্ডারে ছিল না। তিনি নিজে অনেক দ্রব্য ক্রয় করিয়া জহুরীকে অন্তঃপুরে রাণী ও ভানুমতীর নিকটে পাঠাইয়া দিলেন। রাণী ও ভানুমতী তাহার নিকট হইতে অনেক অলঙ্কার ক্রয় করিলেন। সকলের শেষে জহুরী সেই আঙটি বাহির করিল। বহুমূল্য হীরক-সম্বলিত সেই র গঠন ও চাকচিক্য দর্শন করিয়া FA প্ৰশংসা করিয়া তাহার মূল্য 钴 মূল্য নাই। জহুরী উত্তর করিল,— এ পরদিন প্ৰাতঃকালে রাজবাড়ীতে কোলাহল পড়িয়া গেল। রাজা ও রাণী ঘোর শোকে অভিভূত হইয়া পড়িলেন। নগরে চারিদিকে হাহাকার পড়িয়া গেল। তাহার কারণ এই যে, সকালবেলা উঠিয়া সকলে দেখিল যে, রাজকন্যা ভানুমতীর কেবল মুখখানি ব্যতীত সৰ্ব্বশরীর খড়ের হইয়া গিয়াছে। ঠাকুর গড়িবার সময় লোকে যেরূপ প্রথম খড় দিয়া ঠাকুরের কাঠামো করিয়া লয়, ভানুমতীর হাত-পা বক্ষঃস্থল প্রভৃতি সমুদয় শরীর সেইরূপ খড়ের হইয়া গিয়াছে। ভানুমতীর মুখখানি কেবল রক্তমাংসের ছিল। সেই মুখ দিয়া ভানুমতী কথা কহিত ও খাইতে পারিত। খড়ের-হাত-পা দিয়াও সে বিছানার উপর উঠিতে-বসিতে পারিত; কিন্তু চলিতে-ফিরিতে পারিত না। 688 frig -ibs gas se - www.amarboicon:" রাজা ও রাণী কাঁদিতে লাগিলেন; কিন্তু কাঁদিলে আর কি হইবে! ডাক্তার-বৈদ্য আনিয়া ভানুমতীর যথাবিধি চিকিৎসা করিতে লাগিলেন। ডাক্তারেরা কালেমেল ও বৈদ্যাগণ মহাদেব-চুর্ণ পৰ্যন্ত ব্যবস্থা করিলেন, তথাপি কোনরূপ উপকার হইল না। ভানমতীর শরীর যে খড়ের, সেই খড়ের রহিয়া গেল। বৈদ্যগণ অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত নাড়ী টিপিয়া দেখিলেন; কিন্তু কি জন্য ভানুমতীর শরীর খড়ের হইয়া গিয়াছে, তাহার কারণ নির্দেশ করিতে পারিলেন না। অবশেষে রাজা গুণিগণকে আনিয়া ভানুমতীর চিকিৎসা করাইলেন। গুণিগণ অনেক ঝাড়ান-কাঁড়ান করিল, ভানুমতীর শরীরে শত শত ফুৎকার দিল; তথাপি কিছুমাত্র উপকার হইল না। তাহার পর যাহারা ভূত নামাইতে জানে, রাজা তাহাদিগকে আনিয়া ভূত নামাইলেন। অন্ধকার ঘরে ভূতগণ দুপদাপ করিতে লাগিল, দুই সের দুধ ও তিন সের সন্দেশ খাইয়া ফেলিল, নাকে কথা বলিয়া অনেক জটিবুড়ীর নাম করিল। কিন্তু তাহাতেও কোন উপকার হইল না, ভানুমতীর শরীর যে খড়ের, সেই খড়ের রহিয়া গেল। নিতান্ত নিরুপায় হইয়া রাজা শেষে আপনার রাজ্যের ভিতর সোনার চেঙাড়া ফিরাইয়া দিলেন। সোনার চোঙড়া লইয়া রাজার লোকগণ নানা নগরে ও নানা গ্রামে ফিরিতে লাগিল, আর তাহার সহিত যে চুলি ছিল, সে এই বলিয়া ঢোঁটুরা দিতে লাগিল,- “রাজকন্যা ভানুমতীর মুখ ব্যতীত সৰ্ব্বশরীর খড়ের হইয়া গিয়াছে। যে রাজকন্যাকে ভাল করিতে পরিবে, রাজা তাহাকে অৰ্দ্ধেক রাজ্য দিবেন ও রাজকন্যার সহিত তাহার বিবাহ দিবেন, চ্যাং, চ্যাং চ্যাং।” সোনার চেঙড়ার সহিত রাজার ঢোঁটুরা গ্রামে গ্রামে লাগিল। কিন্তু সে সোনার চেঙড়া কেহই ধরতে সাহস করল না। মানুষের শরীর যদি ঃ খড় হইয়া যায়, তাহা হইলে তাহাকে সুস্থ করা বড় সহজ কথা নহে। অৰ্দ্ধেক রাজ্য ও রূঞ্জকন্যা পাইবার লোভ অনেকের হইল বটে; কিন্তু এ রোগের কথা পুথিতে লেখা নাই, స్టో ধর নামও কেতবে লেখা নাই । ধ্ৰুপম হইয়াছে। কিন্তু সেকালে এ-স্থানের লোকে সকাস্ট্রে৯ষ্ট্রদেশে অনেক ব্ৰাহ্মণেরও বাস ছিল। ইরাণ দেশের কোন গ্রামে এই সময় এক ব্ৰাহ্মণী ঘাস করিতেন। এক শিশুপুত্র রাখিয়া তাঁহার পতির মৃত্যু হইয়াছিল। বিধবা অতিকষ্টে সেই পুত্রটিকে প্রতিপালন করিতে লাগিলেন। সে শিশুটির নাম ছিল রুস্তম। এক্ষণে সেই পুত্র যৌবনকালে পদার্পণ করিয়াছে, তাহার বয়ঃক্রম আঠার বৎসর হইয়াছে। কিন্তু এখনও সে অর্থে পাৰ্জ্জন করিতে পারে নাই। সুতরাং মাতা ও পুত্রের অতিকষ্টে দিনাতিপাত হইতেছিল। মাঝে মাঝে সৰ্ব্বদাই তাহাদিগকে উপবাস করিয়া দিনযাপন করিতে হইত। এইরূপ একদিন তাঁহাদের ঘরে অন্ন ছিল না। মাতা-পুত্র সেদিন উপবাস করিয়া রহিলেন। নিজের যত কষ্ট হউক আর না হউক, বৃদ্ধ মাতার কষ্ট দেখিয়া রুস্তম অতিশয় কাতর হইলেন। পরদিন প্ৰাতঃকালে তিনি আপনার মাতাকে বলিলেন,- “মা! বিদেশ গিয়া অর্থে পাৰ্জন করিবার নিমিত্ত আমি বারবার তোমার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছি। কিন্তু তুমি আমাকে সে অনুমতি প্ৰদান কর নাই। কিন্তু মা! তোমার কষ্ট আমি আর দেখিতে পারি না। বৃদ্ধ মাতাকে প্রতিপালন করা পুত্রের কৰ্ত্তব্য। তাহা যদি আমি না করি, তাহা হইলে ধৰ্ম্মে পতিত হইব, সকলে আমাকে কাপুরুষ নরাধম বলিয়া জানিবে। এক্ষণে বিদেশে গিয়া অর্থে পাৰ্জ্জন করিতে মা, তুমি আমাকে অনুমতি প্ৰদান কর। অনেক টাকা লইয়া শীঘ্রই আমি ঘরে ফিরিয়া আসিব। তখন দুই জনে সুখে-স্বচ্ছন্দে চিরকাল যাপন করিব।” মজার গল্প 8 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro মা প্রথম সেকথা শুনিয়া প্ৰাণসম পুত্ৰকে বিদেশে পাঠাইয়া কি করিয়া তিনি প্ৰাণ ধরিবেন, তাহাই ভাবিয়া তিনি আকুল হইলেন। কিন্তু পুত্রের বিনয়বাক্যে অবশেষে তাঁহাকে সম্মত হইতে হইল। কাঁদিতে কাঁদিতে রুস্তমকে তিনি বিদায় করিলেন। এক বৃদ্ধ ব্ৰাহ্মণের নিকট রুস্তম বিদ্যাশিক্ষা করিয়াছিলেন। প্রাচীন জেও ও সংস্কৃত ভাষায় লিখিত নানা শাস্ত্র তিনি অধ্যয়ন করিয়াছিলেন। শরীরেও তাহার অপরিমিত বল ছিল। সেইজন্য প্রতিবাসিগণের অনুরোধে মাতা তাহার নাম রুস্তম রাখিয়াছিলেন। বাঞ্জ নামক এক প্রকার বৃক্ষের শাখা কাটিয়া তিনি মোটা এক ছড়ি প্রস্তুত করিলেন। সেই ছড়িগাছটি হাতে করিয়া তিনি পথ চলিতে লাগিলেন। রাজধানীতে নানারূপ অর্থে পাৰ্জনের উপায় আছে। সে নিমিত্ত তিনি রাজধানী-অভিমুখে গমন করিতে লাগিলেন। পথ চলিতে চলিতে একদিন তিনি গ্রামের নিকট এক মাঠের মাঝখানে গিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি দেখিলেন যে, সে স্থানে এক কৃষক একটি গাভীকে নিদারুণভাবে প্রহার করিতেছে। গাভী তাহার ক্ষেত্রে গিয়া কিছু শস্য খাইয়াছিল। এই অপরাধে দুৰ্ব্বত্ত সেই গাভীকে বাধিয়া অতি নিষ্ঠুরভাবে প্রহার করিতেছিল। নিগড়িবন্ধনে আবদ্ধ থাকিয়া গাভী পলাইতে পারিতেছিল না। প্ৰহারের যাতনায় তাহার দুই চক্ষু দিয়া দরদীর ধারায় অশ্রুধারা বিগলিত হইতেছিল। সেই সময় একটি কাক সেই কৃষকের একবার এদিকে একবার ওদিকে উড়িয়া তাহাকে ঠোকরাইতে চেষ্টা করিতেছিল। গাভীর ক্লেশ দেখিয়া কাক হেন পক্ষীর হৃদয় ব্যথিতু হইয়াছিল; কিন্তু দুৰ্ব্বত্ত কৃষকের হৃদয় ব্যক্তি যুক্ত নিষেধ করিলেন। কৃষক রুস্তমকে গুলি দিয়া গুরুক্লে আরও অধিক নিষ্ঠুরভাবে প্রহার করিতে লাগিল। রুস্তম আর ক্ৰোধ সংবরণ করিতে পৃছিলেন না। সম্মুখে মুটির উপর গােলাকার প্রস্তরখণ্ডের ন্যায় কি পড়িয়াছিল। রুস্তম সেই বস্তু তুলিষ্টলইলেন ও তাহা দিয়া কৃষককে ছুড়িয়া মারিলেন। কৃষকের গায়ে তাহা লাগিল না, তথাপ্লিসিহঁসা সে ঘোরতর ভীত হইল। ভয়ে তাহার। সৰ্ব্বশরীর কঁপিতে লাগিল, চক্ষুকোিটর হইতে তাঁহার চক্ষু দুইটি যেন বাহির হইবার উপক্রম হইল। বিকট চীৎকার করিয়া সে রুদ্ধশ্বাসে সে স্থান হইতে পলায়ন করিল। রুস্তম আশ্চৰ্য হইলেন। কি জন্য কৃষক এত ভীত হইল, তাহার কারণ তিনি বুঝিতে পারলেন না। যেস্থানে গোলাকার প্রস্তরখণ্ডটি পড়িয়াছিল, সেইস্থানে গিয়া তিনি দেখিলেন যে, তাহা প্রকৃত প্রস্তরখণ্ড নহে। তাহা নরমুণ্ড। রুস্তমকে দেখিয়া সেই নরমুণ্ড দুই পাটি ভীষণ দন্ত বাহির করিয়া খলখল শব্দে হাসিয়া উঠিল। তৃতীয় অধ্যায় সাদি ও তারা যাহাকে ঢ়িল মনে করিয়াছিলেন, তাহা মানুষের মাথা হইল দেখিয়া রুস্তম বিস্মিত হইলেন। মুণ্ডের হাসি দেখিয়া রুস্তম আরও বিস্মিত হইলেন। অবশেষে তাহার কথা শুনিয়া রুস্তম আরও আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন। 8. দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্যািক্যনাথ রচনাসংখ্যাই মুণ্ড বলিল,- “বেটা কৃষক যেমন গরুর উপর অত্যাচার করিতেছিল, আমি তেমনি তাহাকে দণ্ড দিয়াছি। আমার বিকট মূৰ্ত্তি দেখিয়া বেটা হতজ্ঞান হইয়া গিয়াছে। আর সে এমন কাজ কখন করিবে না। কিন্তু আমি এস্থানে না থাকিলে তােমার দশা কি হইত? দুষ্ট কৃষক তোমাকে হয়তো মারিয়া ফেলিত ।” হাতের লাঠিগাছটি ঘুরাইয়া রুস্তম উত্তর করিল,- “আমাকে সে মারিয়া ফেলিত! এক লাঠির ঘায়ে আমি তাহার মাথা ভাঙ্গিয়া ফেলিতাম। কিন্তু সে যাহা হউক, তুমি কে? রক্তমাংসহীন কাটা-মুণ্ড যে কথা কয়, তাহা আমি জানিতাম না।” মুণ্ড উত্তর করিল,— “আমি এক রাজার পুত্র, আর যে কাক কৃষককে ঠোকরাইতেছিল, সে আমার ছোটভগিনী। আমাদের কাকা তাহার জ্যেষ্ঠভ্রাতাকে বধ করিয়া মন্ত্রবলে আমাকে ও আমার ছোটভগিনীকে কাক করিয়া রাখিয়াছেন। সমস্ত দিন আমরা এইরূপ হইয়া থাকি, কিন্তু রাত্রি হইলেই আমরা দুইজনেই পুনরায় মানুষ হই।” রুস্তম জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তুমি কোন দেশের রাজপুত্র, আর তোমাদের কাকার নাম Ry মুণ্ড উত্তর করিল,— “আমার পিতা নিশাপুরের রাজা ছিলেন। তাঁহাকে মারিয়া আমাদের কাকা সিংহাসন অধিকার করিয়াছেন, আর আমাদিগকে এইরূপ করিয়া রাখিয়াছেন। নিশাপুরের কুজো রাজার কথা তুমি বোধ হয় শুনিয়া থাকিবে। তিনিই আমাদের খুল্লতাত।” রুস্তম জিজ্ঞাসা করিলেন- “তোমাদিগকে উদ্ধার কোন উপায় নাই?” মুণ্ড উত্তর করিল,- “কৃষক যখন নিষ্ঠুরভাবে প্ৰহার করিতেছিল, তখন ঢ়িল মনে করিয়া আমাকে লইয়া তুমি তাহার প্রতি নিক্ষে । তাহার জন্য তোমার, আমার ও আমার ভগিনীর অনেক পুণ্য হইয়াছে। সে তোমার মঙ্গল হইবে ও আমাদেরও উদ্ধার হইবে।” রুস্তম জিজ্ঞাসা করিলেন,- দরিদ্র ও কাপুরুষ। একমাত্র মাতাকেও আমি প্ৰতিপালন করিতে পারি না । কি উদ্ধার হইবে।” মুণ্ড উত্তর করিল,- “এই দেশের রাজকন্যার নাম ভানুমতী। ভানুমতীর দেহকে আমাদের কাক যাদুবলে খড়ের করিয়াছেন। ইরাণ দেশের রাজা সোনার চেঙাড়া বাহির করিয়া প্ৰতিজ্ঞা করিয়াছেন যে, যে ভানুমতীকে ভাল করিতে পরিবে, তাহাকে তিনি অৰ্দ্ধেক রাজত্ব প্ৰদান করিবেন ও তাহার সহিত ভানুমতীর বিবাহ দিবেন। তুমি গিয়া সোনার চেভূড়া ধর, তাহার পর সন্ধ্যাবেল পুনরায় আমার নিকট আসিবে। ভানুমতী কি উপায়ে সুস্থ হইবে, তখন তোমাকে আমরা বলিয়া দিব ।” মুণ্ডের নিকট হইতে বিদায় লইয়া রুস্তম পুনরায় পথ চলিতে লাগিলেন। কিছুদূর গিয়া তিনি হইয়াছিল। ঢুলি উচ্চৈঃস্বরে বলিতেছিল,— “রাজকন্যা ভানুমতীর শরীর খড়ের হইয়া গিয়াছে। যে তাহাকে ভাল করিতে পরিবে, রাজা তাহাকে অৰ্দ্ধেক রাজ্য দিবেন ও রাজকন্যার সহিত বিবাহ দিবেন।” রাস্তায় লোকে লোকারণ্য হইয়াছিল। ছেলেবুড়ো সকলেই সেই ঢোঁটুরার কথা হী করিয়া শুনিতেছিল; কিন্তু কেহই সোনার চেঙড়া ধরিতে সাহস করিতেছিল না। ভিড় ঠেলিয়া রুস্তম আমার মঙ্গল হইবে? আর কি উপায়ে বা তোমাদের Wig sity 6ኑ8ዓ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro অগ্রসর হইয়া সেই সোনার চেঙাড়া ধরিলেন। সকল লোক আশ্চৰ্য্য হইল। অল্পবয়স্ক ব্ৰাহ্মণকুমার রাজকন্যাকে কিরূপে ভাল করিবে, এই কথা ভাবিয়া সকলে বিস্মিত হইল। রাজার সেনাগণ রুস্তমকে তৎক্ষণাৎ দ্রুতগামী অশ্বের পৃষ্ঠে বসাইয়া তাঁহাকে রাজসভায় লইয়া গেল। রুস্তমের রূপ দেখিয়া রাজা মনে করিলেন যে,- “যুবক আমার জামাতা হইবার উপযুক্ত পাত্র বটে; কিন্তু কি করিয়া এ আমার কন্যাকে ভাল করিবে!” তাহার পর রাজা প্ৰকাশ্যভাবে রুস্তমকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তুমি আমার কন্যাকে ভাল করিতে পরিবে? তুমি জান যে, বড় বড় হাকিম বৈদ্য রোজা প্রভৃতি কেহই তাঁহাকে সুস্থ করিতে পারে নাই?” রুস্তম উত্তর করিলেন,- “আজ্ঞা হাঁ, আমি রাজকন্যাকে নিশ্চয় ভাল করিতে পারিব।” রাজা বলিলেন,- “যদি তুমি তাহাকে ভাল করিতে পাের, তাহা হইলে তাহার সহিত তোমার বিবাহ দিব, আর আমি এই রাজ্যের অৰ্দ্ধেক তোমাকে প্ৰদান করিব। কিন্তু যদি ভাল করিতে না পাের, তাহা হইলে নিশ্চয় জানিও যে, তোমার মাথা আমি কাটিয়া ফেলিব।” রুস্তম বলিলেন,- “যে আজ্ঞা! রাজকন্যাকে যদি ভাল করিতে না পারি, তাহা হইলে আপনার যাহা ইচ্ছা হয়, তাহাই করিবেন। এক্ষণে অনুমতি করুন যে, রাজকন্যার নিমিত্ত আমি ঔষধ আনিতে গমন করি ।” রাজা অনুমতি প্ৰদান করিলেন। রাজসভা হইতে প্ৰস্থান করিয়া রুস্তম পুনরায় পথ চলিতে লাগিলেন। যেস্থানে কৃষক গরুকে প্রহার করিতেছিল ও যেস্থানে নরমুণ্ড ও কাকের সহিত সাক্ষাৎ হুইয়াছিল, সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে রুস্তম সেই প্ৰস্তুর) য়া উপস্থিত হইলেন। সেইস্থানে আসিয়া তিনি দেখিলেন যে, মুণ্ডটি এক গৰ্ত্তেরপ্তািড়র্তর পড়িয়া আছে ও কাক নিকটস্থ এক বৃক্ষশাখায় বসিয়া আছে। সন্ধ্যা হইলে রাঙ্গুঞ্জ প্রতীক্ষায় রুস্তম সেইস্থানে বসিয়া ব্ল క్టర్ ক্ৰমে সন্ধ্যা হইল। যেই অন্ধকার ঔষ্ট্ৰ, আৰু সেই সময়ে ষোড়শবর্ষীয় এক বালক ও দশম বিষীয়া এক বালিকা সহসা তাহার সম্মুখে আসিয়া দাড়াইল। অন্ধকারে রুস্তম তাহাদিগকে ভালরূপ দেখিতে পাইলেন না; কিন্তু যাহা দেখিতে পাইলেন, তাহাতেই রুস্তমের মন মোহিত হইয়া গেল। তিনি ভাবিলেন যে,-ইহারা প্রকৃতই রাজপুত্র ও রাজকন্যা বটে, সাধারণের ঘরে এমন লাবণ্য হয় না। আহা! কোন প্ৰাণে কাকা ইহাদের প্রতি এরূপ অত্যাচার করিয়াছে? ভাই ভগিনী দুইজনে রুস্তমের পাৰ্থে বসিল। রাজপুত্ৰ বলিল,— “এই দেখ, পুনরায় আমরা মানুষ হইয়াছি। ঈশ্বরের কৃপায় তোমার সহিত আমাদের মিলন হইয়াছে। তোমার সহায়তায় আমাদের উদ্ধার হইবে। আমার নাম সাদি। আর আমার ভগিনীর নাম সিতারা অর্থাৎ তারা। রাজকন্যার শরীর কি জন্য খড়ের হইয়াছে, আর কি উপায়ে সে আরোগ্যলাভ করিবে, আমি তাহা বলিতে পারি না। দাইয়ের নিকট হইতে তারা কিছু জাদুবিদ্যা শিখিয়াছিল। তারা তোমাকে বলিয়া দিতে পারিবে । 8r află zi»3 goi se - www.amarboi conf** চতুর্থ অধ্যায় দ্বিতীয় অঙ্গুরী রুস্তম, বালিকা তারার মুখপানে চাহিলেন। তারা বলিল,- “তুমি চলিয়া গেলে আমি নিশাপুরে উড়িয়া গিয়াছিলাম। সেস্থানে গিয়া আমি সকল কথা অবগত হইয়াছি। কাকা ভানুমতীকে বিবাহ করিতে চাহিয়াছিলেন, ভানুমতীর পিতা সে কথায় সম্মত হয় নাই। সেই রোগে গুরুর সহায়তায় কাকা তাহার শরীর খাড়ের করিয়াছেন। একমাত্ৰ কাকার গুরু, তাহাকে ভাল করিতে পরিবেন।” রুস্তম জিজ্ঞাসা করিলেন, — “গুরুর দেখা আমি কোথায় পাইব? তাহার পর গুরু আমার কথা শুনিবে কেন?” তারা বলিল,- “তুমি প্রথম নিশাপুরে গমন কর। সেই নগরের আটটি দ্বার আছে। উত্তর দিকের দ্বারের নাম সমরখণ্ড-দ্বার। সেই দ্বারের বাহিরে বৃহৎ এক কেলুগাছ আছে। সেই কোলুগাছের মূলের নিকট তুমি অল্প খনন করিলে সুতীক্ষ্ণ এক খড়গ পাইবে। সেই খড়গ আমাদের পিতার, তাহার নাম শমশের। নিশাপুর হইতে কিছুদূরে এক নিবিড় বন আছে। বনের ভিতর দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিয়া গুরু, তাহার ভিতর বাস করিতেছে। দুর্গের দ্বারে উপস্থিত হইয়া শমশের দ্বারা তুমি আঘাত করিবে। তখন দ্বারা আপনা। আপনি খুলিয়া যাইবে। তাহার পর তুমি সেই দুৰ্ব্বাত্ত ওস্তাদ অর্থাৎ গুরুর নিকট উপস্থিত হইবে খুশিমশের খড়গ তোমার হাতে থাকিলে, সে তোমার অনিষ্ট করিতে পরিবে না । শমশের য়ারকে তোমার হাতে দেখিলেই সে ভয়ে জড়সড় হইবে। ভানুমতীকে ভাল করিবার উপ্ত্যয় তখন তাহাকে তুমি জিজ্ঞাসা করিবে; না বলিলে শমশের দ্বারা তুমি তাহার গলা কাটিৰ্ভেস্থ " এইরূপে নানাপ্রকার উপদেশ প্রদান কুরিয়া রাজপুত্র সাদি ও রাজকন্যা তারা রুস্তমকে বিদায় করলেন; অনেকদিন পথ পর্যটন করিয়ী রুস্তম প্রথম নিশাপুরে গিয়া উপস্থিত হইলেন। নগরের উত্তর দ্বারের বাহিরে তিনি সেই বৃহৎ কেলুগাছ দেখিতে পাইলেন। সেই কেলুগাছের মূলদেশ খনন করিতেই বহুমূল্য হীরা-মাণিক-জড়িত কোফতগিরি কারুকাৰ্য্যে শোভিত সুতীক্ষ এক খড়গ বাহির হইয়া পড়িল। অতি সাবধানে সেই খড়গটি লইয়া রুস্তম পুনরায় পথ পর্যটনে প্ৰবৃত্ত হইলেন। উত্তরমুখে ক্রমাগত পথ চলিয়া দুইদিন পরে তিনি এক গভীর কানন দেখিতে পাইলেন। নিৰ্ভয়ে বনের ভিতর প্রবেশ করিয়া তিনি ক্রমাগত অগ্রসর হইতে লাগিলেন। অনেকদূরে গিয়া বনের ভিতর এক সুদৃঢ় দুর্গ তাঁহার নয়নগোচর হইল। দুর্গের প্রাচীর আকাশে গিয়া ঠেকিয়াছিল। এই সময়ে বনের চারিদিকে অতি ভয়াবহ শব্দ হইতে লাগিল। বনের বৃক্ষগণ সকলেই যেন উচ্চৈঃস্বরে বলিতে লাগিল,— “ধর ধর, মাত্র মারু, কাট কাটা।” কিন্তু রুস্তম তাঁহাতে ভয় পাইলেন না। আরও অগ্রসর হইয়া তিনি দুর্গের লৌহনিৰ্ম্মিত দ্বার দেখিতে পাইলেন। নিকটে গিয়া রুস্তম শমশের তলোয়ার দ্বারা দ্বারে আঘাত করিতে লাগিলেন। লৌহনিৰ্ম্মিত সেই দ্বার হইতে বজ-নিনাদের ন্যায় শব্দ বাহির হইতে লাগিল। কিন্তু সাতবার আঘাত করিতেই দুর্গের দ্বার খুলিয়া গেল। নিৰ্ভয়ে রুস্তম দুর্গের ভিতর প্রবেশ করিলেন। কিন্তু তাঁহাকে অধিক দূর যাইতে হইল না। দ্বারে আঘাত শুনিয়া শুরু তাড়াতাড়ি সেইদিকে আসিতেছিল। গুরুর উগ্ৰমূৰ্ত্তি দেখিয়া রুস্তমের এইবার ভয় হইল। ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, সৰ্ব্বশরীর শুষ্ক, চক্ষু দুইটি রক্তবর্ণ, গুরুর মূৰ্ত্তি অতি বিকট— অতি ভয়াবহ। তাহাকে দেখিয়া রুস্তম স্তম্ভিত হইয়া দাঁড়াইলেন! 3छल 2द्र sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8s শুরু বলিল,- “দুষ্ট, কে রে তুই’? কাহার এমন সাহস যে, আমার দ্বারে আঘাত করে। রও, এখনি তোকে বােদর করিয়া বনে আমি ছাড়িয়া দিব।” এই কথা বলিয়া গুরু একমুষ্টি ধুলি লইল। ধূলার উপর মন্ত্র পড়িয়া রুস্তমের শরীরে তাহা নিক্ষেপ করিয়া বলিল,— “দুষ্ট! এই মুহুৰ্ত্তে তুই বীদের হইয়া যা!” কিন্তু শমশের খড়েগর গুণে রুস্তমের কিছুই হইল না, তাহার যেমন শরীর— সেইরূপ শরীর রহিয়া গেল। তখন সেই খড়গ উত্তোলন করিয়া তিনি গুরুর মস্তক ছেদন করিতে ধাবিত হইলেন। শমশের খড়েগর প্রতি গুরুর যেমন দৃষ্টি পড়িল, আর ভয়ে তাহার। সৰ্ব্বশরীর শিহরিয়া উঠিল, ভয়ে তাহার পদদ্বয় কঁাপিতে লাগিল। রুস্তমের পায়ে পড়িয়া তখন সে বিনয় করিয়া বলিতে লাগিল,- “তুমি আমাকে বধ করিও না, তুমি যাহা বলিবে, তাহা আমিই করিব।” রুস্তম বলিলেন,- “আচ্ছা! তোমাকে আমি বধ করিব না। কিন্তু রাজকন্যা ভানুমতীর শরীর কি উপায়ে পুনরায় পূৰ্ব্বের মত হইবে, তাহা তোমাকে বলিয়া দিতে হইবে, না বলিলে নিমিষের মধ্যে আমি তোমার গলা কাটিয়া ফেলিব।” এই কথা শুনিয়া শুরু বলিল,— “নিশাপুরের কুজো রাজা আমার চেলা, আমি তাহার ওস্তাদ। আমার নিকট হইতে অঙ্গুরী লইয়া ভানুমতীকে সে পরিতে দিয়াছিল; সেই আঙটির গুণে ভানুমতীর শরীর খড়ের হইয়া গিয়াছে। এখন তোমাকে আমি আর একটি আঙটি দিতেছি। সেই অঙ্গুরীটি ভানুমতীর দক্ষিণ হাতের অঙ্গুল্লিতে পরাইলেই তাহার শরীর পূর্বের ন্যায় রক্তমাংসের হইয়া যাইবে।” O) রুস্তম ইরাণ নগরের দিকে প্রত্যাগমন করি যথাকলে ইরাণ নগরে উপস্থিত হইয়া তিনি রাজসভায় গমন করিলেন । ভানুমতীকে অদ্যই আমি ভাল করিব র নিকট আমাকে লইয়া চলুন।” রুস্তমকে লইয়া সানন্দচিত্তে রাজা অন্তঃপুরে গমন করিলেন। যে ঘরে ভানুমতী শয়ন করিয়াছিলেন, সেই ঘরে সকলে গমন করিলেন। অগ্রসর হইয়া রুস্তম ভানুমতীর শয্যার নিকট গিয়া দাঁড়াইলেন। তাহার পর ভানুমতীর খড়ের দক্ষিণ হাতটি ধরিয়া তাহার খড়ের অঙ্গুলিতে তিনি সেই দ্বিতীয় আঙটি পরাইয়া দিলেন। আঙটি পরাইবামাত্র ভানুমতীর সেই খড়ের দেহ দাউদাউ করিয়া জ্বলিয়া উঠিল। ভানুমতীর খড়ের দেহে আগুন লাগিয়া গেল। চারিদিকে হাহাকার পড়িয়া গেল। জল আনিয়া সকলে সেই অগ্নি নিৰ্ব্বাণ করিবার নিমিত্ত ব্যস্ত হইল। কেন এরূপ দুর্ঘটনা ঘটিল, রুস্তম তাহা বুঝিতে পারিলেন না। ভয়ে তাহার। সৰ্ব্বশরীর কঁাপিতে লাগিল। হতভম্বর ন্যায়, কিছুক্ষণের নিমিত্ত তিনি সেইস্থানে দাড়াইয়া রহিলেন। কিন্তু পরীক্ষণেই তাঁহার জ্ঞান হইল। তিনি ভাবিলেন যে, এস্থানে আর থাকা উচিত নহে। রাজা নিশ্চয় তাহাকে কাটিয়া ফেলিবেন। অগ্নি নিৰ্ব্বাণ করিতে সকলে যখন ব্যস্ত ছিল, সেই অবসরে রুস্তম রাজবাটী হইতে পলায়ন করিলেন। GGro দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনা সংগ্ৰহ পঞ্চম অধ্যায়। শিশির ঔষধ ভানুমতীর খড়ের শরীর দপ্‌ করিয়া জুলিয়া উঠিল। সেই আগুন নিবাইতে সকলে ব্যস্ত হইল। সেই অবসরে রুস্তম সেস্থান হইতে পলায়ন করিলেন। তাড়াতাড়ি সকলে জল আনিয়া আগুন নিবাইল। ভানমতীর প্রাণ বঁচিল। কিন্তু তাহার নাক, কান ও জিহবা পুড়িয়া গেল। আশ্চৰ্য্য কথা এই যে, তাহার খড়ের হাত-পা একেবারে পুড়িয়া গেল না; কিন্তু রুক্ত-মাংসের নাক, কান ও জিহ্বা পুড়িয়া গেল। রাজা অতিশয় ক্রুদ্ধ হইলেন। তিনি বলিলেন যে, “রাজ্য ও রাজকন্যার লোভে কোথা হইতে একটা জুয়াচোর আসিয়াছিল। শীঘ তাহাকে ধরিয়া আন। এক্ষণেই আমি তাহাকে শূলে প্ৰদান করিব, অথবা তাহার মাথা কাটিয়া ফেলিব।” কিন্তু রুস্তমকে কেহ খুঁজিয়া পাইল না। রাজবাটী হইতে বাহির হইয়া রুস্তম রুদ্ধশ্বাসে দৌড়িতে লাগিলেন। সহর হইতে বাহির হইয়াও তিনি অতি দ্রুতবেগে পথ চলিতে লাগিলেন। অবশেষে সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে তিনি সেই প্ৰান্তরে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সন্ধ্যা হইলে সেই নরমুণ্ড ও কাক অৰ্থাৎ সাদি ও তারা পুনরায় নরদেহ প্ৰাপ্ত হইল। রুস্তম তাহাদিগের নিকট গিয়া রাজবাটীর দুর্ঘটনার কথা সমুদয় বর্ণনা করিলেন। তাহা শুনিয়া তারা বলিল,- “তোমাকে গুরু ফাঁকি দিয়াছে। ভাল করিবার নিমিত্ত প্ৰকৃত উপায় তোমাকে বলিয়া দেয় নাই। যে আঙটি দিলে গায়ে/অণ্ডন লাগিয়া যায়, সেই আঙটি তোমাকে দিয়াছিল। সে মনে করিয়াছিল যে, ভ আগুন লাগিয়া গেলে, রাজা, রাগে তোমাকে কাটিয়া ফেলিবেন । তখন র তলোয়ার দেখাইয়া তাহাকে জ্বালাতন করিতে পরিবে না। যাহা হউক, র তোমার কাছে আছে তো?” শমশের রুস্তমের কোমরে বাধা ছিল। তাহার উপর হাত দিয়া রুস্তম উত্তর করিলেন, — “হাঁ শমশের আমার কাছেই আছে।” তারা বলিলেন,- “বেশ! তুমি পুনরায় সেই জাদুগর গুরুর নিকট গমন কর। তাহাকে এখন বধ করা হইবে না। ভানুমতী ভাল না হইলে তাহাকে বধ করিও না। আপাততঃ ভয় দেখাইয়া তাহার নিকট হইতে ভানুমতীর ঔষধ গ্ৰহণ কর।” পরদিন প্ৰাতঃকাল হইবার পূৰ্ব্বে, সাদি ও তারার নিকট হইতে বিদায় হইয়া রুস্তম চলিতে আরম্ভ করিলেন। যথা সময়ে তিনি গুরুর বনে গিয়া উপস্থিত হইলেন; বনের ভিতর পূৰ্ব্বের ন্যায় ভয়ানক শব্দ হইতে লাগিল। কিন্তু রুস্তম সে শব্দে ভয় পাইলেন না। দুর্গের দ্বারের নিকট উপস্থিত হইয়া পূর্বের ন্যায় ভয়ানক শমশের তলোয়ার দ্বারা তিনি তাঁহাতে ঘা মারিলেন। দ্বার খুলিয়া গেল। দুর্গের ভিতর প্রবেশ করিয়া রুস্তম গুরুর অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন। কিন্তু কোন স্থানে তাহাকে দেখিতে পাইলেন না। অনেক খুঁজিতে খুঁজিতে অবশেষে তিনি এক অন্ধকারময় ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলেন। ঘরটি নানারূপ শিশি, নানারূপ শুষ্ক জীবজন্তুর দেহ, নানারূপ গাছের ছাল ও মূলে পরিপূর্ণ ছিল। তাহার মাঝখানে বসিয়া হাপরে আগুন জ্বালাইয়া গুরু মন্ত্রবলে ঔষধ প্ৰস্তুত করিতেছিল। রুস্তম গিয়া একেবারে গুরুর কুঁটি ধরিলেন। কুঁটি টানিয়া তাহার মুণ্ড কাটিবার নিমিত্ত শমশের তলোয়ার উত্তোলন করিলেন। ভয়ে বিহবল হইয়া গুরু রুস্তমের পায়ে পড়িল । মজার গল্প y sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro জোড়হাত করিয়া সে বলিতে লাগিল,- “আমার প্রাণবধ করিও না। জীবনের কাজ এখনও আমার শেষ হয় নাই। মানুষ কি উপায়ে অমর হইতে পারে, তাহার ঔষধ আমি বাহির করিতেছি। আবিষ্কার হইলে সে ঔষধ তোমাকে আমি দিব। দোহাই তোমার! আমাকে এখন বধ করিও না ।” রুস্তম বলিলেন,— “তোমাকে আর বিশ্বাস নাই। মিথ্যা আঙটি দিয়া তুমি আমার প্ৰাণবধের উপায় করিয়াছিলো। নিশ্চয় আমি তোমার মাথা কাটিয়া ফেলিব।” গুরু অনেক কাকুতি-মিনতি করিয়া বলিল,— “আমি সত্য বলিতেছি যে, আমি তোমাকে ফাঁকি দিই নাই। আমি তোমাকে ঠিক ঔষধ দিয়াছিলাম। তবে কেন উপকার হয় নাই, তাহা বলিতে পারি না। আচ্ছা, কি হইয়াছে তাহা তুমি আমাকে বল। বিনা অপরাধে আমাকে বধ করিও না ।” রুস্তম বলিলেন,- “তুমি আমাকে যে আঙটি দিয়াছিলে, ভানুমতীর দক্ষিণ হাতের অঙ্গুলিতে তাহা আমি পরাইয়া দিলাম। আঙটি পরাইবামাত্র ভানুমতীর খড়ের দেহ দপ্‌ করিয়া জুলিয়া উঠিল। তাহার পর কি হইল, তাহা আমি বলিতে পারি না। কারণ, তৎক্ষণাৎ আমি সেস্থানে হইতে পলায়ন করিলাম। ভানুমতী বঁচিয়া আছে কি মরিয়া গিয়াছে, তাহাও আমি জানি না ।” গুরু বলিলেন, — “ভানুমতী বঁচিয়া আছে, মরে নাই। কি জন্য ভানুমতীর দেহে আগুন লাগিয়াছিল, তাহা আমি বুঝিয়াছি। তাহার দক্ষিণ হাতে আঙটি পরাইবার পূৰ্ব্বে, তুমি তাহার বামহাতের আঙটি খুলিয়া লইয়াছিলে? যে আ] নিশাপুরের কুজো রাজাকে দিয়াছিলাম?” ○ রুস্তম উত্তর করলেন,—“না, আমি সে ভূপ্লেট খুলিয়া লই নাই।" গুরু বলিলেন,- “তবে সে OX । পূৰ্ব্বের আঙটি না খুলিয়া তুমি তাহার হাতে নূতন আঙটি পরাইলে কেন? যাহা দুর্ভুক্ল, আমি তোমাকে এখন আর একটি ঔষধ দিতেছি। প্রথম ভানুমতীর বামহাত হইতে তুমি সেই পূৰ্ব্বের আঙটি খুলিয়া লইবে । দক্ষিণ হাতে যে নূতন আঙটি আছে, তাহা খুলিয়া লইবে না। তাহার পর ভানুমতীর দেহে এই ঔষধ সিঞ্চন করিবে। তাহা করিলে ভানুমতী ভাল হইয়া যাইবে, তাহার খড়ের হাত-পা রক্তমাংসের হইবে।” এই বলিয়া গুরু রুস্তমের হাতে ছোট একটি শিশি প্ৰদান করিলেন। “এবার যদি ভানুমতী ভাল না হয়, তাহা হইলে পুনরায় আসিয়া তোমাকে কাটিয়া ফেলিব।” এইরূপ ভয় দেখাইয়া রুস্তম সেস্থান হইতে প্ৰস্থান করিলেন। দুর্গ হইতে বাহির হইয়া রুস্তম পুনরায় পথ চলিতে লাগিলেন। যথা সময়ে তিনি ইরাণের রাজধানীতে উপস্থিত হইলেন। রাজধানীতে উপস্থিত হইবামাত্র রাজার সেনাগণ তাঁহাকে ধরিয়া রাজার নিকট লইয়া গেল। রুস্তমকে দেখিয়া রাজা ক্ৰোধে অধীর হইয়া পড়িলেন ও তৎক্ষণাৎ তাঁহাকে শূলে দিবার নিমিত্ত আজ্ঞা করিলেন। রুস্তম জোড়হাত করিয়া বলিলেন,- “মহারাজ ! আমাকে বধ করিলে আপনার কোন লাভ হইবে না; বরং আমি বঁচিয়া থাকিলে আপনার কন্যা আরোগ্যলাভ করিবে। গতবারে আমি একটি ভুল করিয়াছিলাম, সেজন্য সে বিড়ম্বনা ঘটিয়াছিল; কিন্তু এবার আমি ঠিক ঔষধ আনিয়াছি। সেই ঔষধ্যে আপনার কন্যা যদি ভাল না হয়, তাহা হইলে যাহা ইচ্ছা হয় করবেন।” GħħSR află zi»3 goi se - www.amarboi conf** রুস্তমের আশ্বাসবাক্যে রাজা কিয়ৎ পরিমাণে শান্ত হইলেন, তাহাকে লইয়া পাত্ৰমিত্ৰগণের সহিত পুনরায় তিনি অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলেন। পূৰ্ব্বের ন্যায় রুস্তম ভানুমতীর শয্যার নিকট গিয়া দাঁড়াইলেন। ভানুমতীর নাক, কান ও জিহ্বা যে পুড়িয়া গিয়াছে, পূৰ্ব্বে তিনি তাহা জানিতেন না। চন্দ্ৰসম ভানুমতীর মুখমণ্ডল ঘোরতর বিশ্ৰী হইয়া গিয়াছে, তাহা দেখিয়া তিনি সাতিশয় দুঃখিত ও ভীত হইলেন। যাহা হউক, ভানুমতীর বামহাত হইতে তিনি কুঁজে রাজার আঙটি খুলিয়া লইলেন। দক্ষিণ হাত হইতে নূতন আঙটি তিনি খুলিলেন না। তাহার পর, ভানুমতীর অঙ্গে শিশির ঔষধ সিঞ্চন করিলেন। শিশির ঔষধ পড়িবামাত্র ভানুমতীর খড়ের দেহ রক্তমাংসের দেহ হইয়া গেল। ভানুমতী পুনরায় মানুষের আকার পাইলেন বটে, কিন্তু তাঁহার নাক, কান ও জিহ্বা সুস্থ হইল না। নাসিক-কৰ্ণবিহীন মুখ অতি কদাকার অবস্থাতেই রহিয়া গেল। ভানুমতীর খড়ের দেহ রক্তমাংসের দেং হইল। গুঞ্জ বাজার আবদ্ধ হইল। কিন্তু ঊহার নাসিকা, কর্ণ ও জিহবার অবস্থা দেখিয়া রাজার হািরখে

క్ష్యా “মহারাজ! ভয় করিবেন না। ভানুমতীর মুখ ধোঁয়করিবার নিমিত্ত আমি পুনরায় যাইতেছি। শীঘ্রই

ଦ୍ବିତ এই কথা বলিয়া রুস্তম রাজার নিকট হইতে বিদায় হইয়া পুনরায় সেই প্ৰান্তর অভিমুখে গমন করিতে লাগিলেন। প্রান্তরে উপস্থিত হইয়া রাত্রির জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। রাত্রি হইলে পুনরায় সাদি ও তারার সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ হইল। ভানুমতীরর সমুদয় বৃত্তান্ত তিনি তাহাদিগের নিকট বর্ণনা করিলেন। সেই সমুদয় কথা শ্রবণ করিয়া তারা বলিল,-"ভানুমতীর নাক, কান ও জিহবা ভাল করিবার কেবল একমাত্র উপায় আছে। জাদুগর গুরুর নাক কাটিয়া তাহার রক্ত যদি ভানুমতীর নাক, কান ও জিহ্বায় লাগাইতে পারা যায়, তাহা হইলে সেই সমুদয় স্থান সুস্থ হইয়া পূৰ্ব্বের बJांश श् ।" রুস্তম বলিলেন, — “প্ৰাণের ভয়েও জাদুগর-গুরু স্ব-ইচ্ছায় আমার সহিত আসিবে না। কারণ, আপনার নাক কাটাইতে কে আর ইচ্ছা করে? তাহাকে বলপূৰ্ব্বক ধরিয়া আনিতে হইবে। তাহার দেহ শুষ্ক ও হালকা, কিছুদূর তাহাকে আমি ধরিয়া আনিতে পারি। কিন্তু এতদূর তারা বলিল,— “সেদিন নিশাপুরে যখন আমি দাই-মায়ের সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলাম, তখন তিনি আমাকে শমশের তলোয়ারের কথা, ভানুমতীর কথা, আর আমাদের উদ্ধারের কথা বলিয়া দিয়াছিলেন। আর সাদি! তোমার সেই পক্ষিীরাজ ঘোড়ার কথাও তিনি বলিয়াছিলেন। মজার গল্প G sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro যখন আমাদের পিতাকে কাটিয়া কাকা জাদুবলে আমাদিগকে মুণ্ড ও কাক করিয়া ফেলেন, তখন আমরা অতি শিশু ছিলাম, সেইজন্য তখন দাই-মা আমাদের উদ্ধারের কোন উপায় করিতে পারেন নাই। দাই-মা বলিলেন যে, সাদির এখন বয়স হইয়াছে; এখন উদ্ধারের সময় আসিয়াছে। যাহা হউক সাদি! তোমার পক্ষিরাজ ঘোড়াটি তুমি রুস্তমকে প্ৰদান কর।” রুস্তমের দিকে চাহিয়া সাদি বলল,- “কাল প্ৰাতঃকালে তুমি এই বলিয়া আমার পক্ষিরাজ ঘোড়াকে ডাকিবে,- স্বর্ণখুর পক্ষিরাজ অশ্ব মনোহর। উডডাম ঈশ্বর আজ্ঞা আইস সত্ত্বর৷ এই মন্ত্রটি পাঠ করিলেই তোমার নিকট আমার সেই পক্ষীরাজ ঘোড়া আসিয়া যাইবে। পিতা আমাকে আদর করিয়া এই ঘোড়া দিয়াছিলেন। ঘোড়াকে তুমি চাবুক মারিবে না। যেস্থানে যাইতে ইচ্ছা করিবে, ঘোড়া আপনি তোমাকে সেইস্থানে লইয়া যাইবে । ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহণ করিয়া তুমি জাদুগরের কেল্লায় গমন করিবে, তাহার পর তাহাকে ধরিয়া আপনার কোলের নিকট বসাইয়া তুমি ইরাণের রাজধানীতে উড়িয়া আসিবে।” রুস্তম জিজ্ঞাসা করিলেন, — “এতদিন ধরিয়া তোমরা কেবল আমার কাজ করিতেছ। কিন্তু তোমাদের উদ্ধারের উপায় কি?” তারা উত্তর করিল,- “সেজন্য তোমার কোন চিন্তা নাই। আমাদের উদ্ধার তোমার এই কাজ হইতেই হইবে।” পরদিন প্ৰাতঃকালে যখন সাদি নরমুণ্ড ও ত হইয়া গেল, তখন রুস্তম সেই পক্ষিরাজ ঘোড়াকে স্মরণ করিলেন,- SNర్ স্বর্ণখুর পক্ষিীরাজ আঁৰ মনােহর ৮৫%। উডডাম ঈশ্বর আজ্ঞা আইস সূত্র মন্ত্রটি উচ্চারণ করিবামাত্র অতি সুন্দর এক অশ্ব আসিয়া উপস্থিত হইল। সে ঘোড়ার বর্ণ সবুজ ছিল, ইহার খুর সোনার ছিল। পাখা দুইটিও সোনার ছিল ও নানারূপ বহুমূল্য প্রস্তরখচিত ছিল। রুস্তম ঘোড়ার পৃষ্ঠে উঠিয়া জাদুগরের দুর্গে যাইবার নিমিত্ত মনন করিল। তৎক্ষণাৎ ঘোড়া আকাশপথে বায়ুবেগে উড়িতে লাগিলেন। নিমিষের মধ্যে জাদুগরের দুর্গের দ্বারে আসিতো লাগিল। দ্বারের নিকট ঘোড়াকে রাখিয়া রুস্তম পূৰ্ব্বের ন্যায় দুর্গের ভিতর প্ৰবেশ করিলেন। কিছুদূর গিয়া সম্মুখে জাদুগর-গুরুকে দেখিতে পাইলেন। রুস্তম তাহার সহিত এবার আর কোনরূপ বাক্যালাপ করিলেন না। দুই হাতে একেবারে তাহাকে ধরিয়া বাহিরে লইয়া চলিলেন। জাদুগরের দেহ শুষ্ক ও লঘু ছিল। রুস্তম অনায়াসেই তাঁহাকে বাহিরে আনিয়া ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহণ করিতে পারিলেন। জাদুগর বিষম ব্যাপার দেখিয়া হতবুদ্ধি হইয়া পড়িয়াছিল। রুস্তমের হাত ছাড়াইবার নিমিত্ত কোনরূপ চেষ্টা করিতে পারে নাই। ঘোড়ার পৃষ্ঠে উঠিয়া রুস্তম ইরাণ-রাজধানীতে গমন করিবান বাসনা করিলেন। ঘোড়া বায়ুবেগে উড়িয়া তৎক্ষণাৎ ইরাণিরাজের রাজসভায় আসিয়া উপস্থিত হইল। রাজা ও সভাস্থ সমস্ত ব্যক্তি পক্ষিরাজ ঘোড়া, রুস্তম ও জাদুগর-গুরুকে তৎক্ষণাৎ শৃঙ্খলাবদ্ধ করিবার নিমিত্ত রুস্তম রাজাকে অনুরোধ করিলেন। রাজাজ্ঞায় গুরুকে তৎক্ষণাৎ নিবিড়বন্ধনে আবদ্ধ করা হইল। কি জন্য জাদুগর-গুরুকে তিনি ধরিয়া আনিয়াছেন, রুস্তম তখন সে সমুদয় বৃত্তান্ত রাজার নিকট খুলিয়া বলিলেন। সেই সমুদয় বৃত্তান্ত শুনিয়া রাজা আশ্চৰ্য্য হইলেন; তাহার পর -8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ... www.amarboi.com"ির্থ্য","র্ণ মঠ"P** শৃঙ্খলাবদ্ধ গুরুকে লইয়া সকলে ভানুমতীর ঘরে গমন করিলেন। সেইস্থানে উপস্থিত হইয়া রুস্তম তীক্ষু ছুরি দ্বারা গুরুর নাকটি কাটিয়া ফেলিলেন। সেই কাৰ্ত্তিত নাসিকা হইতে নীলবর্ণের শোণিত বাহির হইতে লাগিল। সেই রক্ত লইয়া রুস্তম ভানুমতীর নাসিকায়, কর্ণদ্বয়ে ও জিহবাতে লেপন করিয়া দিলেন। ভানুমতীর নাক, কান ও জিহ্বা তৎক্ষণাৎ পূর্বের আকার ধারণ করিল। ভানুমতী এইবার সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হইলেন। পূৰ্ব্বের ন্যায়। ভানুমতীর রূপে চারিদিক আলোকিত হইল। রাজা, রাণী, মন্ত্রিগণ ও ইরাণ দেশের সমুদয় লোক আনন্দসাগরে ভাসিতে লাগিল। রাজা বলিলেন যে,- “আজ রাত্রিতেই আমি রুস্তমের সহিত ভানুমতীর বিবাহ দিব।” নিজের মাতা, সাদি ও তারার অবস্থা স্মরণ করিয়া রুস্তম বিবাহকাৰ্য্যে বিলম্ব করিবার নিমিত্ত রাজাকে অনেক অনুরোধ করিলেন। কিন্তু রাজা রুস্তমের সে কথায় কৰ্ণপাত করিলেন না। রাজা বলিলেন, — “তুমি আমার বড় উপকার করিয়াছ। এ শুভকাৰ্য্যে বিলম্ব করা উচিত নহে। আজ রাত্ৰিতেই ভানুমতীর সহিত তোমার বিবাহ দিব।” নাসিকাহীন শৃঙ্খলাবদ্ধ জাদুগর-গুরুকে রাজা কারাগারে প্রেরণ করিলেন। তাহার পর অতি সমারোহের সহিত তিনি বিবাহের আয়োজন করিতে লাগিলেন। রাজার আজ্ঞা, অবিলম্বেই সমুদয় আয়ােজন হইয়া গেল। নগরের রাজপথে সমুদয় পরিষ্কৃত ও নবপল্লবে পরিশোভিত। হইল। নগরবাসিগণ আপনি-আপন গৃহ যথাসাধ্য অলকৃত করিল। চারিদিকে নৃত্য-গীত আরম্ভ হইল। ক্রমে সন্ধ্যা উপস্থিত হইল, সমুদয় ইরাণ নগর, দীপমালায় আলোকিত হইল। ক্রমে করিলেন। বিবাহকাৰ্য আরম্ভ হয়। আর কি, এমফার্স সময় সেই বিবাহ-সভায় সহসা বিষম ঝঞাবাত উপস্থিত হইল। সেই ঝড়ে সমুদায়ুষ্ঠালোব সেস্থানে নাই। চারিদিকে সকলে খুঁ লাগিল। সমস্ত রাত্রি খুঁজিয়াও ভানুমতীর সন্ধান কেহ পাইল না। ভানুমতীকে কে যে কোথায় লইয়া গেল, তাহা কেহই বলিতে পারিল না। সপ্তম অধ্যায় ভানুমতীর কোন সন্ধান হইল না বটে; কিন্তু তাঁহার পিতা, মাতা ও অন্যান্য লোক সকলেই বুঝিলেন যে, এ কুজো রাজার চাতুরি, সেই জাদুবলে ভানুমতীকে সভা হইতে লইয়া গিয়াছে। রাজাকে আশ্বাস দিয়া রুস্তম বলিলেন, — “মহারাজ। আপনি চিন্তা করবেন না। কুঁজে রাজার আমি ভানুমতীকে উদ্ধার করিতে পারিব। ভানুমতীর সন্ধানে আমি এখনি চলিলাম। ভানুমতীকে লইয়া আমি শীঘ্রই ফিরিয়া আসিব।” এই কথা বলিয়া রুস্তম সেস্থান হইতে প্ৰস্থান করিলেন। ভানুমতীকে সত্য সত্যই কুজো রাজা লইয়া গিয়াছিল। আকাশপথে বায়ুবেগে উড়িয়া ভানুমতীকে লইয়া মুহুৰ্ত্তমধ্যে কুজো রাজা নিশাপুরে গিয়া উপস্থিত হইল। তাহার পর

  • Itsწig omiნუ Gł6262

sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro ভানুমতীকে সে একটা ঘরে বন্ধ করিয়া রাখিল। তাহার পর আপনার ঘরে আসিয়া কুঁজে রাজা প্রথম সাবান দিয়া স্নান করিল। তাহার পর সুন্দর হইবার নিমিত্ত মুখে সে পাউডার মাখিল। পোড়া হাঁড়ির উপর ঈষৎ চূণের দাগ লাগিলে যেরূপ দেখায়, তখন তাহার মুখ সেইরূপ দেখাইল । তাহার পর সে ভাল ভাল সাচ্চার পোষাক পরিধান করিল। পাকা তাল হইতে স্থানে স্থানে খোসা ছাড়াইয়া লইলে যেরূপ দেখায়, জরির পোষাক পরিয়া তাহাকে সেইরূপ দেখাইতে লাগিল। তাহার পর সে গায়ে নানারূপ সুগন্ধ লেপন করিল। তাহার পর সে বাক্স হইতে সামান্য একটি টুপি বাহির করিল। মাথা হইতে সাচ্চার টুপিট খুলিয়া সেই সামান্য টুপিট একবার সে পরিধান করিল। সেই টুপিট পরিয়া আরসীর দিকে চাহিয়া ঈষৎ একটু হাসিল। তাহার পর সেই সামান্য টুপিট মাথা হইতে খুলিয়া সে আপনার পকেটে রাখিল ও মাথায় পুনরায় সেই সাচ্চার টুপি পরিধান করিল। যে ঘরে ভানুমতী আবদ্ধ ছিলেন, সাজগোজ করিয়া কুঁজে রাজা সেই ঘরে প্রবেশ করিল। ঘরে একখানি খাট ছিল। ভানুমতী সেই খাটের একপার্শ্বে বসিয়া কাঁদিতেছিলেন, অবিরল ধারায় চক্ষুর জলে তাঁহার বুক ভাসিয়া যাইতেছিল। কিন্তু কুজো রাজাকে দেখিয়া তিনি তৎক্ষণাৎ চক্ষুর জল মুছিয়া ফেলিলেন ও তাহার পর তিনি আরক্ত-নয়নে তাহাকে বলিলেন, — “দুষ্ট! আমাকে তুই এখানে কেন আনিয়াছি সৃ? আমার বাবা এখন সসৈন্যে আসিয়া তোকে নিপাত করিবেন। যদি প্ৰাণের ভয় থাকে, তাহা হইলে শীঘ আমাকে বাড়ী রাখিয়া আয় ।” কুজো রাজা বলিল,— “ছি ভাই। অত রাগ আনিয়াছি। আমার মত বর পৃথিবা খুঁজিয়া তুমি ভানুমতী বলিলেন,- “তোরে আমি বিবাহ না? নিজের মুখ একবার আরাসীতে গিয়া দেখুধু মাখা হইয়াছে; দূর! দূর!” কুঁজে রাজা উত্তর করিল,- “ তেল মাখি নাই, আতর মাখিয়াছি। যদি স্ব-ইচ্ছায় আমাকে তুমি বিবাহ না কর, তাহা জোর করিয়া তোমাকে আমি বিবাহ করিব। দেখি, কে তোমাকে রক্ষা করিতে পারে। তোমার ব্যাপকে আমি ভয় করি না। একফুয়ে তোমার ব্যাপকে আমি উড়াইয়া দিব।” ভানুমতী বলিলেন, — “আমার বাপ যদি না পারেন, তাহা হইলে যে তোর গুরুর নাক কাটিয়াছে, সে আমাকে উদ্ধার করিবে, সে আসিয়া তোর দণ্ড করিবে।” গুরু যে বন্দী হইয়াছে, কুঁজে রাজা তাহা শুনিয়াছিল। সে মনে করিয়াছিল যে, ভানুমতীকে প্ৰথম বিবাহ করিয়া তাহার পর সে গুরুকে উদ্ধার করিতে চেষ্টা করিবে । গুরুর নাক কাটা গিয়াছে; এখন সেই কথা শুনিয়া সে অতিশয় ক্রুদ্ধ হইল। ভানুমতীর সে বামহাতটি ধরিল। বামহাত ধরিয়া দ্বারের দিকে টানিতে লাগিল, আর বলিতে লাগিল,—“চল, বাহিরে চল, দালানে গিয়া সভা করিয়া পুরোহিত ডাকিয়া এখনি তোকে আমি বিবাহ করিব। তাহার পর দেখা যাইবে, কে কি করে।” ভানুমতী আপনার হাত ছাড়াইয়া লইতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন, আর দক্ষিণ হাত দিয়া তাহার মুখ আঁচড়াইয়া ও সেই সাত হাত দাড়ি ছিড়িয়া দিতে লাগিলেন। দাড়ি ছিন্ন ভিন্ন হইয়া শোণের ন্যায় চারিদিকে পড়িতে লাগিল, দাড়িটি কুজো রাজার সখের ছিল। দাড়ি ছিন্নভিন্ন হইয়া চারিদিকে পড়িতে লাগিল, তাহা দেখিয়া কুজো রাজার বড় ভয় হইল! সে ণ আর কি! সাত হাত দাড়িতে আবার তেল o দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিসকীনাথ রচনাসংগ্ৰহ ভাবিল যে ভানুমতীর সহিত আর কিছুক্ষণ হুটুপুটি করিলে তাহার এমন যে তরিবৎ করা দাড়ি, তাহা সব ছিড়িয়া যাইবে। এইরূপ ভাবিয়া সে ভানুমতীর হাত ছাড়িয়া দিল, আর বলিল,- “রও! তোমাকে ধরিবার নিমিত্ত যাহাদের দাড়ি নাই, এমন সব লোক এখনি ডাকিয়া আনিতেছি। এই কথা বলিয়া কুজো রাজা ঘোরতর রাগান্বিত হইয়া সে ঘর হইতে প্ৰস্থান করিল। আসিয়া বসিলেন। তাহার পর তিনি দেখিলেন যে, ভূমির উপর সামান্য একটি টুপি পড়িয়া রহিয়াছে। হুটুপুটি করিবার সময় কুঁজে রাজার পকেট হইতে টুপিটি পড়িয়া গিয়াছে। খাটের একধারে বসিয়া ভানুমতী টুপিটি নাড়িয়া নাড়িয়া ঘুরাইয়া-ফিরাইয়া দেখিতে লাগিলেন। অবশেষে তিনি টুপিট আপনার মাথায় পরিলেন। স্ত্রীলোক! এত বিপদে পড়িয়াও স্ত্রীলোকের স্বভাবটুকু কোথায় যাইবে? ঘরে বড় একখানি আবৃশী ছিল। টুপি পরিয়া তাঁহাকে কেমন দেখাইতেছে তাহা দেখিবার নিমিত্ত ভানুমতী আবৃগীর নিকট গিয়া দাঁড়াইলেন। কিন্তু আশ্চৰ্য কথা। ভানুমতীর প্রতিবিম্ব আবুলীর উপর পড়িল না। বিস্মিত হইয়া ভানুমতী ভাবিতে লাগিলেন,- “এ বড় অদ্ভুত কথা! কিছু পূৰ্ব্বে আমার ছায়া আবৃগীর উপর পড়িয়াছিল। এখন আৱাসীর উপর আমার ছায়া পড়ে নাই কেন?” ভানুমতী মাতা হইতে টুপিটি খুলিয়া লইলেন, আর সেই মুহূৰ্ত্তে আবৃগীতে তিনি আপনাকে দেখিতে পাইলেন। পুনরায় তিনি টুপি পরিলেন, আর সেই মুহূৰ্ত্তে আবৃগী হইতে তাঁহার ছায়া অন্তৰ্হিতু হইল। এইরূপ দুই-চারি বার তিনি করিলেন। তখন তিনি মনে মনে ভাবিতে লাগিল্পেনা ৯৯... “হা, বুঝিয়েছি! মাথায় এই টুপি পরিলে লোকে অদৃশ্য হইয়া যায়। টুপিটর গুণ ཆུ་ অতি সাবধানে টুপিট লইয়া ভানুমৃত্যু পুনরায় খাটের উপর আসিয়া বসিলেন। কিছুক্ষণ পরে লোকজন লইয়া কুজো বাহিরে দ্বার ঠেলিতে লাগিল। ভানুমতী দ্বারে খিল দিয়াছিলেন। দ্বার সে পারিল না। কিন্তু জাদুবলের কাছে সামান্য একটা দ্বার কতক্ষণ বন্ধ থাকিতে ”পারে? মন্ত্রবলে কুজো রাজা তৎক্ষণাৎ দ্বার খুলিয়া ফেলিল। সেই সময় ভানুমতী মাথায় সেই টুপিটি পরিধান করিলেন। ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া কুজো রাজা ও তাহার দাড়িহীন লোকগণ ভানুমতীকে দেখিতে পাইল না। সকলেই স্তব্ধ হইয়া দাড়াইল। আশ্চৰ্য্য হইয়া কুজো রাজা আপনার পকেটে হাত দিয়া দেখিল, পকেটে সে টুপি নাই। ভানুমতীকে কেন দেখিতে পায় নাই, কুজো রাজা তাহা বুঝিতে পারিল। সকলকে সে বলিল,- “শীঘ্ৰ দ্বার বন্ধ করা। ভানুমতি এই ঘৱেই আছে। চারিদিকে হাত দিয়া সকলে অনুসন্ধান কর। চক্ষুতে দেখিতে না পাইলেও আমাদের হাতে সে ঠেকিয়া যাইবে।” মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro 2 a. var vegg কিন্তু একথা বলিবার পূৰ্ব্বে ও দ্বার বন্ধ করিবার পূৰ্ব্বে, ভানুমতী লোকের পাশ দিয়া আন্তে আস্তে ঘর হইতে বাহির হইয়া পড়িয়াছিলেন। কুঁজে রাজার লোকজন প্ৰথম ঘর আতিপাতি করিয়া হাতড়াইতে লাগিল। ভানুমতীকে ঘরের ভিতর তাহারা পাইল না। তাহার পর সমস্ত বাড়ী তাহারা অনুসন্ধান করিল। কোন স্থানে তাহারা ভানুমতীকে পাইল না। কুঁজে রাজার বাটীর চারিদিকে ফুল ও ফলের বাগান ছিল। ঘর হইতে বাহির হইয়া ভানুমতী বাগানের ভিতর গিয়া একটি ঝোপের ভিতর লুক্কায়িত হইয়া রহিলেন। সেজন্য কেহই তাঁহাকে খুঁজিয়া পাইল না। কুঁজে রাজা ক্ৰোধে অন্ধ হইয়া চারিদিকে লোক পাঠাইল। ভানুমতীকে ধরিবার নিমিত্ত অশ্বারোহী পদাতিক প্রভৃতি চতুরঙ্গ সৈন্য চারিদিকে ধাবিত হইল। এদিকে রুস্তম রাজবাড়ী হইতে বাহির হইয়া দ্রুতবেগে সেই প্ৰান্তর অভিমুখে চলিতে লাগিল। রাত্রি শেষ হইয়াছে, এমন সময় তিনি সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ভাগ্যক্রমে সাদি ও তারা তখনও মনুষ্যদেহে ছিল; তাহাদের নিকট গিয়া রুস্তম আদ্যোপােন্ত সকল কথা বলিলেন । সাদি বলিল,— “এ যে আমাদের কাকার কৰ্ম্ম, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। যাহা হউক, শমশের তলোয়ারের গুণে তুমি তাহাকে পরাভব করিতে পারিবে। প্ৰাতঃকাল হইতে তুমি আমার পক্ষিীরাজ ঘোড়াকে পুনরায় স্মরণ করবে। করা উচিত নহে। তুমি তাহার পিঠে বসিয়া নিশাপুরে গমন করিবে। কি উপায়ে তুষ্টিভ উদ্ধার করিতে পরিবে, তাহা আমি বলিতে পারি না। সেস্থানে গিয়া , সেইরূপ করিবে।” তারা সেই কথায় সায় দিয়া বলিল,- “ আমাদের কাকাকে বধ করিও না । তিনি আমাদের পিতাকে বধ করিয়াছেন। 2ইজার হউক। তিনি আমাদের কাকা। ভানুমতীকে উদ্ধার করিয়া তুমি আমাদের দাইমুষ্টিয়ার নিকট গমন করিবে! আমাদেরও উদ্ধারের সময় আসিয়াছে। কি উপায়ে আমরা কাকার জাদুবল হইতে নিকৃতি পাইব, দাই-মা তাহা তোমাকে বলিয়া দিবেন। অবিলম্বে প্ৰাতঃকাল হইল। রুস্তম পক্ষিীরাজ ঘোড়াকে স্মরণ করিলেন,- স্বর্ণখুর পক্ষিীরাজ অশ্ব মনোহর। উডডাম ঈশ্বর আজ্ঞায় আইস সত্ত্বর৷ এই মন্ত্র বলিবামাত্র তৎক্ষণাৎ আকাশপথে উড়ন্তীয়মান হইয়া পক্ষিীরাজ ঘোড়া সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার পৃষ্ঠে বসিয়া রুস্তম ক্ষণকালের মধ্যে নিশাপুরে উপস্থিত হইলেন। সেই ঝোপের ভিতর বসিয়া ভানুমতী সমস্ত রাত্রি কাটাইলেন। প্ৰাতঃকাল হইল। মাথার চুল তাহার আলুথালু হইয়া গিয়াছিল। চুলগুলি কিছু পরিষ্কার করিবার নিমিত্ত মস্তক হইতে তিনি একবার সেই টুপিটি খুলিলেন। সেই সময় দোতলার উপর জানালার নিকট কুজো রাজা দাঁড়াইয়া ছিল। কুঁজে রাজা ভানুমতীকে দেখিতে পাইল। কিন্তু পরীক্ষণেই ভানুমতী আবার টুপিট মাথায় পরিলেন, আর সেই মুহূৰ্ত্তে তিনি অদৃশ্য হইয়া পড়িলেন। কুঁজো রাজা উপর হইতে নামিয়া ধীরে ধীরে সেই ঝোপ অভিমুখে গমন করিল। ঝোপের নিকট উপস্থিত হইয়া যেস্থানে ভানুমতী বসিয়া ছিলেন, সেইস্থানে সে হাতড়াইতে লাগিল । r দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি"******** অন্যমনস্ক হইয়া ভানুমতী বসিয়াছিলেন। ভানুমতী তাহাকে দেখিতে পাইলেন না। সহসা কুঁজে রাজার হাত ভানুমতীর গায়ে ঠেকিয়া গেল। শশব্যস্ত হইয়া ভানুমতী পলায়ন করিতে চেষ্টা করিলেন; কিন্তু দুৰ্ভাগ্যক্রমে ভানুমতীর টুপি গাছের ডালে লাগিয়া সেইস্থানে বুলিতে লাগিল। কুঁজে রাজা তখন ভানুমতীকে দেখিতে পাইয়া তাঁহাকে ধরিয়া ফেলিল ও চুল ধরিয়া তাঁহাকে বাড়ীর দিকে লইয়া যাইতে চেষ্টা করিল। প্ৰাণপণে আঁচড়াইয়া-কামড়াইয়া ভানুমতী তাহার হাত হইতে মুক্ত হইতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। তাঁহাতে কুঁজো রাজা অতিশয় কুপিত হইল। রাগে তাহার চক্ষু দুইটি রক্তবর্ণ হইল। রাগে সে আপনার দন্ত কড়-মড় করিতে লাগিল। রাগে ভানুমতীকে কাটিবার চেষ্টা করিল। বামহাতে ভানুমতীর চুল ধরিয়া, দক্ষিণ হাতে কোমর হইতে আসি বাহির করিয়া সে ভানুমতীর গলা কাটিয়া ফেলিতে উদ্যত হইল। গলা কাটিবার নিমিত্ত সে খড়গ উত্তোলন করিল। কোপ মারে আর কি! এমন সময় পক্ষিীরাজ ঘোড়ার উপর রুস্তম সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। শমশের তলোয়ারের পশ্চাৎদিক দ্বারা রুস্তম কুঁজোর দক্ষিণ হাতে সবলে আঘাত করিলেন। কুঁজোর হাত হইতে আসি ঋলিত হইয়া দূরে গিয়া ভূমির উপর পতিত হইল। তৎক্ষণাৎ রুস্তম অশ্ব হইতে অবতরণ করিয়া কুজোর সেই সাত হাত লম্বা দাড়ি ধরিয়া ফেলিলেন। তাহার পর শমশের তলোয়ার উত্তোলন করিয়া তিনি বলিলেন, — “দুৰ্ব্বত্ত! এখন যদি তোমাকে কাটিয়া ফেলি, তাহা হইলে কে তোমাকে রক্ষা করিতে পারে।” রুস্তমের হাতে শমশের খড়গ দেখিয়া কুঁজে রাজা ঘোরতর বিস্ময়াপন্ন হইল। ভয়ে তাহার শুশ্ৰষা করিবার নিমিত্ত আদেশ করিলেন। তাহার পর রুস্তম তারার দাই-মায়ের নিকট গমন করিয়া ভাই-ভগ্ৰী কিরূপে কুঁজের জাদু হইতে নিভৃতি পাইবে, সেই কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। দাই-মা বলিল যে,- “কুজোর সাত হাত দাড়ি কাটিয়া সেই দাড়ি পোড়াইয়া সাদি ও তারার শরীরে লেপন করিলেই দুইজন উদ্ধার পাইবে।” রুস্তম কুজো রাজার বাটীতে প্ৰত্যাগমন করিয়া ভানুমতীকে পক্ষিরাজ ঘোড়ার উপর আপনার পশ্চাৎদিকে বসাইয়া তৎক্ষণাৎ ইরাণ নগরে গমন করিলেন। ভানুমতীকে পাইয়া ইরাণের রাজা, রাণী ও সমুদয় প্ৰজাবৰ্গ ঘোরতর। আনন্দিত হইল। তাহার পর তিনি সেই প্রান্তরে আসিয়া নরমুণ্ড রূপধারী সাদি ও কাকরূপী তারাকে লইয়া নিশাপুরে প্রত্যাগমন করিলেন। সাদি ও তারাকে দাইয়ের বাটীতে রাখিয়া তিনি পুনরায় ইরাণ নগরে গিয়া কুঁজো রাজার গুরুকে লইয়া নিশাপুরে প্রত্যাগমন করিলেন। যে ঘরে কুজো রাজাকে কারাবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিলেন, সেই ঘরে গুরুকে লইয়া তিনি প্ৰবেশ করিলেন। স্বভাবতই গুরু দেখিতে অতি কদাকার ছিল। নাসিকা ও কর্ণবিহীন হইয়া এখন আরও বিশ্ৰী হইয়াছিল। গুরুর দুরবস্থা দেখিয়া কুজো রাজা অনেক খেদ করিয়া কাঁদিতে লাগিল। কিন্তু রুস্তম তাহাকে প্ৰবোধ দিয়া বলিলেন, — “দুঃখ করিতে হইবে না । তোমার দশাও ঐরূপ হইবে। মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro 20 পিঠে তোমার বৃহৎ কুঁজ আছে। তোমার কেবল এক দাড়ির গৌরব ছিল! সেই সাত হাত পাকা দাড়ি আজ কাটা যাইবে।” কুজো রাজা রুস্তমের পায়ে পড়িয়া বলিল,- “তুমি আমাকে বধ করা, তুমি আমার গলা কাটিয়া ফেল, কিন্তু তুমি আমার দাড়ি কাটিও না। আহা! কত তরিবৎ করিয়া আমি আমার দাড়ি প্রস্তুত করিয়াছিলাম। আর এই দাড়ির গুণেই আমার যত জাদুবিদ্যা। হায়! হায়! সে সাধের দাড়ি আজ আমার কাটা গেল।” এই বলিয়া কুজো রাজা কাঁদিতে লাগিল; কিন্তু তাহার ক্ৰন্দনে রুস্তম কৰ্ণপাত করিলেন না। নাপিত ডাকাইয়া তিনি তাহার দাড়ি কাটিয়া । তাহার পর সেই দাড়ি পোড়াইয়া তাহারা ভস্ম সাদি ও তারার গায়ে লেপন করিয়া । সাদি ও তারা তৎক্ষণাৎ মানুষের আকৃতি প্রাপ্ত হইল। রুস্তম সাদিকে নিশাপুরেরঞ্জংহাসনে বসাইলেন। সাদি পুত্র-নির্বিশেষে সেই দেশের প্রজাদিগকে পালন করিতে । গ্নিৰ্দ্ধেনী সাদি আপনার পিতৃব্যকে বধ করিলেন না। গুরু ও তাহাকে তিনি কারাবদ্ধ করিয়া রুঞ্জিলে । কিছুদিন পরে রুস্তম ইরাণ নগরে প্রত্যাগমন করিলেন। রাজার সহিত সাক্ষাৎ কল্পিী। তিনি বলিলেন,— “মহারাজ! ভানুমতীকে আমি প্ৰাণদান করিয়াছি। ভানুমতীকে আমি বিবাহ করিতে ইচ্ছা করি না। নিশাপুরের রাজা—আমার বন্ধু সাদির সহিত যদি তাহার বিবাহ দেন, তাহা হইলে আমি পরম অনুগৃহীত হইব।” রাজা সে কথায় সম্মত হইলেন। অতি সমারোহে ভানুমতীর সহিত সাদির বিবাহ হইল। তারার রূপে রুস্তম মোহিত হইয়াছিলেন। ভানুমতী অপেক্ষা তারাকে তিনি অধিক ভালবাসিতেন। সেইজন্য তিনি ভানুমতীকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করেন নাই। কিছুদিন পরে তারার সহিত রুস্তমের বিবাহ হইল। ইরাণের অৰ্দ্ধেক ও নিশাপুরের কিয়দংশ লইয়া সমরখণ্ড নামক নূতন একটি রাজ্য সংস্থাপিত হইল। রুস্তম তাহার রাজা হইলেন। বৃদ্ধা মাতা ও তারাকে লইয়া রুস্তম, আর ভানুমতীকে লইয়া সাদি সুখে-স্বচ্ছন্দে কালাতিপাত করিতে লাগিলেন। sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro জাপানের উপকথা সূচনা ইউরোপ, আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ার অধিবাসিগণ ব্যতীত পৃথিবীর অন্যান্য যাবতীয় জাতির এক্ষণে পতন অবস্থা। অনেকদিন পূৰ্ব্বে কুভেয়ার নামক একজন ফরাসি পণ্ডিত যাহা লিখিয়াছেন, তাহার মৰ্ম্ম এই— “যেমন একখানি ইটের উপর আর একখানি ইট রাখিয়া লোক বৃহৎ অট্টালিকা নিৰ্ম্মাণ করে, সেইরূপ একটি আবিষ্কৃত জ্ঞানের উপর আর একটি নূতন আবিষ্কৃত জ্ঞানের স্থাপন করিয়া বৰ্ত্তমানকালের অদ্ভুত বিজ্ঞানশাস্ত্র রচিত হইয়াছে! যে জাতিগণ পৃথিবীর অবীশ্বর হইয়াছে। যাহারা এই নূতন বিজ্ঞান শাস্ত্রকে তুচ্ছ করিয়াছে, তাহারা দাস জাতিতে পরিণত হইয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছে।” আরব, তুর্ক, তাতার প্রভৃতি যে সমুদয় মুসলমান জাতির বাহুবলে পৃথিবী একদিন কম্পিত হইয়াছিল, বিদ্যাবলে যে হিন্দুজাতি পৃথিবীর একদিন অলঙ্কারস্বরূপ ছিল, শিল্প-কৌশলে যে চীন জাতি একদিন অজেয় ছিল, নূতন বিজ্ঞানকে অবহেলা করিয়া সেই সমুদয় জাতির রতর অবনতি হইয়াছে। পূৰ্ব্ব অঞ্চলে বৃন্দ্রািব্লউআশ্রয় লইয়াছে। সেই বিদ্যাবলে জাপানের য়া মহাখণ্ডের যাবতীয় জাতির মুখ উজ্জ্বল করিয়াছে। বিশেষতঃ আমরা জাপানের 'গৌরবে গৌরবান্বিত হইয়াছি। জাপান যে কেবল আমাদের রাজার বন্ধু, তাহা নহে, জীপািন আমাদের শিষ্য। কেবল তাহাও নহে, আমার বােধ হয় যে, জাপানের লোক বাঙ্গালী জাতি হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। সকলেই জানেন যে, সিংহলবাসীদের পূর্বপুরুষগণ বঙ্গদেশ হইতে গমন করিয়া সেস্থানে বাস করিয়াছিল। পূৰ্ব্বকালে বঙ্গ ও কলিঙ্গ দেশ হইতে হিন্দু বণিকগণ সমুদ্রপথে গমন করিয়া যব, বালি, কাম্বোজ প্রভৃতি দ্বীপে ও নানা দেশে বাস করিয়াছিল। সেই সমুদয় দেশে এখনও হিন্দুদিগের কীৰ্ত্তি বৰ্ত্তমান রহিয়াছে। জাপানেও যে হিন্দুগণ গিয়া বাস করিয়াছিল, নানা কারণে আমি এইরূপ সিদ্ধান্ত করিতে বাধ্য হইয়াছি; সুতরাং জাপানের সহিত আমাদের যতই সীেহাদর্ঘ্য হয়, ততই ভাল। জাপান কোথায়, জাপানের লোক কিরূপ, তাহাদের আচার-ব্যবহার কিরূপ, এই সমুদয় বিষয়ে আমাদের জ্ঞানলাভ করা আবশ্যক। চীন ও জাপান সম্বন্ধে পূৰ্ব্বে আমি কয়টি প্ৰবন্ধ লিখিয়াছিলাম। আজ অন্যপ্রকার বিবরণ প্ৰদান করিব। উপকথা সকল দেশেই প্ৰচলিত আছে। সকল দেশেই মাতা, পিতা, পিতামহ-পিতামহীগণ,- বালকবালিকাদিগের নিকট উপকথা বলিয়া থাকেন। জাপানের পিতামহ-পিতামহীগণ,- পৌত্রপৌত্রীগণের নিকট কিরূপ উপকথা বলিয়া থাকেন, দৃষ্টান্তস্বরূপ আজ সেইরূপ একটি গল্প এস্থানে প্ৰদান করিব। ଅysis is! CVe:S sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro 9.2ise শিউতেন-দোজি রাক্ষস জাপানের সম্রাটকে মিকাড়ো বলে। এক-সহস্ৰ বৎসর পূৰ্ব্বে মুরাকোমি নামক সম্রাট মিকাড়ো পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। জাপান দ্বীপপুঞ্জের ভিতর সুমিযোশি নামক এক প্রদেশ আছে। মুরাকোমি সম্রাটের শাসনকালে এই প্রদেশে ভয়ানক রাক্ষসের উপদ্রব হইয়াছিল। শিউতেনদােজি নামক এক অতি নিষ্ঠুর রাক্ষসরাজ এই প্রদেশের বন্য অঞ্চলে বৃহৎ এক দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিয়া তাহার ভিতর বাস করিতে লাগিল। আপনার সহচর অন্যান্য ভীষণাকৃতি রাক্ষসগণের সহিত বাহির হইয়া সে গ্রামবাসীদিগের গো, মহিষ, মেষ, ছাগ, অশ্ব, গৰ্দভ প্রভৃতি গৃহপালিত জীবগণকে ভক্ষণ করিতে লাগিল। অবশেষে মনুষ্যমাংসের আস্বাদ পাইয়া, সে নরনারী, বালক-বালিকা, শিশু-বৃদ্ধ—সকলকেই খাইতে লাগিল। মনুষ্যগণকে ধৃত করিয়া কিছুদিনের নিমিত্ত সে আপনার দুর্গে কারাবদ্ধ করিয়া রাখিত। কারাবদ্ধ থাকিয়া সেই নরনারীগণকে কিছুদিনের নিমিত্ত তাহার সেবক-সেবিকার কাজ করিতে হইত। অবশেষে হৃষ্টপুষ্ট হইলে, তাহাদিগকে সে রন্ধন করিয়া ভক্ষণ করিত। জাপানের লোক সাকে নামক একপ্রকার উগ্র সুরা ব্যবহার করিয়া থাকে। এই সুরাপান করিয়া রাক্ষসরাজ শিউতেন-দোজি সৰ্ব্বদাই উন্মত্ত অবস্থায় থাকিত। সেই অবস্থায় নরমাংসের ঝোল, ঝালুং ভুন্ডাজা, অম্বল, কারি, কাটলেট আহার করিয়া, সে পরম গ্ৰীতিলাভ করিত। কিন্তু প্ৰতিদিীৰ্ঘস্থরাশি রাশি নরমাংস ভোজন করিয়াও তাহার ক্ষুধা কিছুতেই নিবৃত্ত হইত না। নজন্তরীক্ষসর সসৈন্যে প্রতিদিন মনুষ্যশিকারে খৃষ্টম পড়িয়া, সে-স্থানের অধিবাসিগণকে বন্ধক করিয়া সে আপনার দুর্গে লইয়া যাইতুঙুক্ত বাহুল্য যে, রাক্ষসের উপদ্রবে। চারিদিকে হাহাকার পড়িয়া গেল। সে-স্থানের লোকগণ দূরীক্ষসের জ্বালায় উৎপীড়িত হইয়া আপন-আপনি বাসস্থান পরিত্যাগ করিয়া দূরদেশে পলায়ন করিতে লাগিল। কিন্তু নিকটে যতই মনুষ্যের অভাব হইতে লাগিল, দুষ্ট রাক্ষসগণ ততই অগ্রসর হইয়া দূরস্থিত গ্ৰাম-নগরসমূহ আক্রমণ করিতে লাগিল। এইরূপে ক্রমে কেবল যে সুমিযোশি প্রদেশ জনহীন হইয়া বিজন অরণ্যে পরিণত হইল, তাহা নহে, রাক্ষসের উপদ্রবে। অন্যান্য প্রদেশও সেইরূপ দুৰ্দশাপন্ন হইবার উপক্রম হইল। সাম্রাজ্য ছারখার হইতে বসিয়াছে দেখিয়া মিকাড়ো ঘোরতর চিন্তিত হইলেন। সম্রাট বৃদ্ধ ছিলেন; রাক্ষসের সহিত যুদ্ধ করিবার শক্তি তাঁহার ছিল না। আর শক্তি থাকিলেই-বা কি হইবে? নানাপ্রকার মায়া অবলম্বন করিয়া শিউতেন-দােজি মনুষ্যদিগকে ধূত ও সংহার করিত; মায়াযুদ্ধে অন্যান্য রাক্ষসগণও তাহার সমকক্ষ ছিল না। সুতরাং সম্রাট একেবারে হতাশ হইয়া পড়িলেন। আমার সাম্রাজ্য বিনষ্ট হইল, জাপানে মানবকুল নিৰ্ম্মল হইয়া গেল, গহন কাননে পরিণত হইয়া জাপান রাক্ষসের বাসস্থান হইল,—এইরূপ চিন্তা করিয়া, সম্রাট সৰ্ব্বদাই অশ্রুবারি বিসর্জন করিতে লাগিলেন। GreeSR, ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro মিনামোটাে কুলপতি রাইকো পাত্ৰমিত্ৰ-সেনাপতিগণের দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া, একদিন সম্রাট সভায় বসিয়া আছেন। এমন সময় দূত আসিয়া সংবাদ দিল যে, পূৰ্ব্বদিন দুৰ্ব্বত্ত নিশাচরগণ প্রায় একশত গ্রাম অগ্নি দ্বারা দগ্ধ করিয়া, তাহদের অধিবাসিগণকে বন্দী করিয়া ৱাক্ষস-দুর্গে লইয়া গিয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ শ্রবণ করিয়া রাজা কাঁদিতে লাগিলেন; খেদ করিয়া আপনাকে ভৎসনা করিতে লাগিলেন ও কাতর বচনে মনের বেদনা ব্যক্ত করিতে লাগিলেন। গণ্ডদেশে বামহস্ত রাখিয়া চক্ষের জল ফেলিতে ফেলিতে রাজা বলিতে লাগিলেন,- “ধিক আমাকে! পুত্ৰসম প্ৰজাপুঞ্জকে রক্ষা করিবার সামৰ্থ্য আমার নাই। হায় হায়! এই বিপুল জাপান সাম্রাজ্যের ভিতর এমন কি কোন বীর নাই যে, রাক্ষসকে বধ করিয়া স্বদেশ ও স্বজাতিকে রক্ষা করে।” রাজার খেদোক্তি সভাসদগণ সকলেই শ্রবণ করিল। বড় বড় বীরগণ,-বড় বড় সেনাপতিগণ, সকলেই মস্তক অবনত করিয়া নীরব হইল। মায়াবিদ্যাবিশারদ রাক্ষসের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্ৰা করিতে কাহারও সাহসী হইল না। মিনামোটাে নামক ক্ষত্রিয়কুলের কুলপতি যোরিমিৎসু নামক যুবক আজ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সম্রাটু-পদে প্ৰণিপাত করিবার নিমিত্ত কোন দূর-প্রদেশ হইতে তিনি আগমন করিয়াছিলেন। ইহার প্রকৃত নাম যোরিমিৎসু ছিল বটে; কিন্তু কালক্রমে ইনি রাইকো অর্থাৎ মহাবীর নামে সাধারণের নিকট পরিচিত হইয়াছিলেন। সুতরাং এখন হইতে এই বিবরণে রাইকো নামেই ইন্ত্রিতম হইবেন। রাইকো এখন যুবক ছিলেন; তাহার বয়ঃক্রম সপ্তদশ কি অষ্ট ধুমুহূর্ত হয় নাই। দেখিতে তিনি অতি সুপুরুষ কেশ ঘোর কৃষ্ণবর্ণের ছিল। জনক রেঞ্জাঁর গৃহে ধনুৰ্ভঙ্গের পূৰ্ব্বে শ্ৰীরামচন্দ্রের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যেরূপ কোমলতা সকলে নিরীক্ষণ কঁরিয়াছিল, রাইকোর শরীরেও সেইরূপ কোমলতা ছিল। পুষ্পদলাচ্ছাদিত বজের যেরূপ কোমলতা, রাইকোর দেহে সেইরূপ কোমলতা ছিল। সম্রাজের খেদোক্তি শুনিয়া, রাইকো দণ্ডায়মান হইয়া, যোড়হস্তে নিবেদন করিতে লাগিলেন, — “মহারাজ ! আমাকে অনুমতি প্ৰদান করুন। রক্ষঃকুলের সহিত সংগ্ৰাম করিয়া, আমি তাহাদিগকে নিহত করিব।” উত্তর করিলেন,— “পুত্র! তুমি ধন্য! এরূপ দুঃসাধ্য কাৰ্য্যে প্রবৃত্ত হইতে তুমি যে সাহস করিতেছ, সেজন্য তোমাকে ধন্যবাদ করি। কিন্তু তুমি বালক। যে কাৰ্যে মহামহাবীরগণ প্ৰবৃত্ত হইতে সাহস করিতেছে না, সে কাৰ্য্যে তোমাকে আমি পাঠাইতে পারি না।” অতি বিনীতভাবে রাইকো পুনরায় নিবেদন করিলেন,- “মহারাজ। মিনামোটাে কুলোদ্ভূত ক্ষত্ৰিয়গণ স্বদেশের হিতসাধনে জীবনবিসৰ্জ্জনে কখন পরাজমুখ হয় না। রাক্ষসের সহিত সংগ্রামে। যদি বিজয়ী হইতে পারি, তাহা হইলে স্বদেশকে বিষম বিপদ হইতে উদ্ধার করিতে পারিব; আর যদি রণস্থলে একান্তই আমি পতিত হই, তাহা হইলে মানবের প্রার্থনীয় স্বৰ্গ আমার তৎক্ষণাৎ লাভ হইবে।” ଅyଔପ୍ୟ ମୁଖ లి sNAls viði (SS BS! ro www.amarboicom ro অনুমতি প্রার্থনা করিতে লাগিলেন। অবশেষে সম্রাট বলিলেন,- “যদি তুমি একান্তই রাক্ষসের সহিত যুদ্ধ করিতে গমন করিবে, তাহা হইলে আমিও সসৈন্যে তোমার সহিত গমন করিব। তোমাকে একেলা আমি দুরন্ত রক্ষসের বিরুদ্ধে পাঠাইতে পারিব না। আমি বৃদ্ধ হইয়াছি; কিন্তু জীবনের যাহা কিছু অবশিষ্ট আছে, স্বদেশের ও স্বজাতির হিতের নিমিত্ত তাহা আমি বিসর্জন করিব।” রাইকো উত্তর করিলেন,- “না মহারাজ! তাহা হইবে না। আমার সহিত আপনি যাইলে, অথবা সৈন্য প্রেরণ করিলে, কোন উপকার হইবে না। রাক্ষসগণ মায়াবলে যুদ্ধ করে, বাহুবলে তাহারা পরাজিত হইবে না। কৌশলে তাহাদিগকে বধ করিতে হইবে। সেজন্য মিনামোটো ক্ষত্রিয়-কুলোদ্ভব তিন জন বীরকে কেবল সঙ্গে লইয়া, আমি রাক্ষসের বিরুদ্ধে গমন করিব।” সম্রাটকে অগত্যা সেই প্ৰস্তাবে সম্মত হইতে হইল। সম্রাটের নিকট বিদায় লইয়া, রাইকো প্রথম দেব-মন্দিরে গমন করিয়া, যথাবিধি পূজা দ্বারা দেবতাদিগকে পরিতুষ্ট করিলেন। তাহার পর তাহার তিন জন সঙ্গী ও তিনি নিজে সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করিলেন। জাপানে সন্ন্যাসীদিগকে যম বুশি বলে। যমবুশিগণ কিছুমাত্র সম্বল সঙ্গে না লইয়া পাহাড়-পৰ্ব্বত পৰ্যটন করে। সাধু বলিয়া তাহাদিগের কেহ অনিষ্ট করে না; বরং গৃহস্থ্যগণ আহারাদি প্ৰদান করিয়া, তাহাদের সন্তোষভাজন হইতে চেষ্টা করে। রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ স্কন্ধে একটি করিয়া বুলি লাইলেন। ঝুলির ভিতর লীেহনিম্মিত বৰ্ম্ম ও দুই হস্তে ধারণোপযোগী খড়গ লুক্কায়িত রাখিলেন। এইরূপে সজ্জিত হইয়া রাইকো, রাক্ষসের দুর্গ /মীক্লা করিলেন । যতই তাহারা অগ্রসর হইতে লাগিলেন, রাষ্কষ্টর্সর তাহারা শুনিতে লাগিলেন। তাঁহারা রক্ষঙ্গুেরুদুর্গে যাইতেছেন শুনিয়া, সকলেই তাঁহাদিগকে নিষেধ করিতে লাগিল। সকলেই ব: S করে না। একবার তাহাদের হাতে পড়িল আর রক্ষা নাই, নিশ্চয় তাহারা খাইয়া ফেলবে।" রাইকো উত্তর করিলেন,- “আমাদের প্রাণ যায়,-তাহাও স্বীকার। হয় রাক্ষসগণকে আমরা নিহত করিব আর না হয়, রাক্ষসগণের হস্তে আমরা নিহত হইব। বৃদ্ধাবস্থায় জীৰ্ণ-শীর্ণ হইয়া, রোগে নানারূপ কষ্টভোগ করিয়া মৃত্যু অপেক্ষা পরাহিতে জীবন বিসর্জন করাই শ্ৰেয়ঃ।” লোককে এইরূপ উত্তর দিয়া, রাইকো ও তাঁহার বন্ধুগণ পথপৰ্যটন করিতে লাগিলেন। বহুদিন পথ চলিয়া ও নানাস্থান অতিক্ৰম করিয়া, ক্রমে তাঁহারা সুনিযোশি প্রদেশের ভিতর প্ৰবেশ করিলেন। রাক্ষস দ্বারা উপদ্রবের চিহ্নসকল সেই স্থান হইতে আরম্ভ হইল। ভয়বিহবল পলায়নপর সহস্ৰ সহস্ৰ লোকের সহিত তাঁহাদের সাক্ষাৎ হইল। তাহারা বলিল,- “যে রাক্ষসের ভয়ে জন্মভূমি পরিত্যাগ করিয়া, প্ৰাণ লইয়া আমরা পলায়ন করিতেছি, তোমরা সেই রাক্ষসের মুখে যাইতেছ! ছিঃ ছিঃ! এমন কাজ কখন করিও না। মিছামিছি কেন প্ৰাণ হারাইবে? शुद्ध शिड़िशा शाv3 ।" বলা বাহুল্য যে, রাইকো তাঁহাদের নিষেধবাক্য শুনিলেন না। তিনি আরও অগ্রসর হইতে লাগিলেন। ক্রমে জনশূন্য ভস্মীভূত নগর ও গ্রাম তাঁহাদের নয়নপথে পতিত হইতে লাগিল। অবশেষে একখানি গ্রামে গিয়া তাঁহারা উপস্থিত হইলেন। সে গ্রামে একটিও মানুষ কি গ্ৰাম্য পশু ছিল না; আর সে-স্থানের সমুদয় গৃহ রাক্ষসেরা দগ্ধ করিয়া ফেলিয়াছিল। গ্রামের পথঘাট ও ভক্ষ্মীভূত গৃহের প্রাঙ্গণ-সমুদয় নর-শোণিত প্লাবিত হইয়াছিল। এই স্থানে কোনরূপে 6ኮዪኃ8 fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** রাত্রিযাপন করিয়া তাহারা আরও অগ্রসর হইতে লাগিলেন। এখন হইতে আর তাহদের জনমানবের সহিত সাক্ষাৎ হইল না। তাহারা দেখিলেন যে, রাক্ষসের উপদ্রবে। এই জনাকীর্ণ প্রদেশ এখন একবারে জনশূন্য মরুভূমিতে পরিণত হইয়াছে। বন, উপবন, পৰ্ব্বত, প্ৰান্তর, হ্রদ, নদী অতিক্রম করিয়া, তাহারা পথ চলিতে লাগিলেন। সেই জনশূন্য দেশে আহার-অভাবে তাঁহাদের বড়ই কষ্ট হইতে লাগিল। ক্রমে তাহারা প্রস্তরপূর্ণ কণ্টকাবৃত এক পৰ্ব্বতশ্রেণীর নিম্নে গিয়া উপস্থিত হইলেন। সে-স্থান হইতে দূরে এক অত্যুচ্চ গিরিশিখরে রাক্ষসরাজার দুর্গ তাঁহাদের নয়নগোচর হইল, কিন্তু পথ ক্রমে এতই দুৰ্গম হইয়া উঠিল যে, আর তাহারা অগ্রসর হইতে পারিলেন না। পথ-শ্ৰান্তিতে ক্লান্ত ও ক্ষুৎপিপাসায় ব্যথিত হইয়া, তাহদের শরীর অবসন্ন হইয়া পড়িল । আগে যাইতে আর তাঁহাদের পা উঠিল না। তাহারা সেই স্থানে বসিয়া পড়িলেন। এমন সময় নিকটস্থ সামান্য একটি পৰ্ব্বতের চূড়ায় তাহারা এক বৃদ্ধকে দেখিতে পাইলেন। তপ্তকাঞ্চনের ন্যায় তাহার শরীর ছিল, শুভ্ৰবর্ণের জটাজুটে তাহার মস্তক পরিশোভিত ছিল ও শুভ্ৰবর্ণের শ্মশ্রু দ্বারা তাঁহার মুখমণ্ডল আবৃত ছিল। পৰ্ব্বত হইতে অবতরণ করিয়া রাইকোর সম্মুখে তিনি দণ্ডায়মান হইলেন। তাঁহার উজ্জ্বল দেহ ও প্ৰসন্নমূৰ্ত্তি দেখিয়া রাইকো বিবেচনা করিলেন যে, ইনি সামান্য ব্যক্তি নহেন। এইরূপ মনে করিয়া তিনি ও তাঁহার সঙ্গিগণ। ভক্তিভাবে তাহার চরণে প্ৰণিপাত করিলেন। অর্কুসুমধুর স্বরে বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করলেন- "বস্তৃঃ তােমরা কে? এই রাক্ষস ভয়স্কুল প্রদেশ দিয়া তোমরা কোথায় যাইতেছ?” যোড়হন্তে রাইকো উত্তর করিলেন,- “প্ৰ

  • ভুধু এই দাসের নাম যোরিমিৎসু, কিন্তু রাইকো

বলিয়া সকলে আমাকে সম্বোধন করে । མོའི་ ক্ষত্ৰিয়কুলের কুলপতি, আর ইহারা তাহার জ্ঞাতি ও বন্ধু। শিউতেন-দোঁজি দুৰ্গুসর দুৰ্গে দাস গমন করিতেছে।” বৃদ্ধ বললেন– “পুত্র রাইকাে স্ট্রেই ক দেখিয়া আজ আমি পরম সন্তোষলাভ করিলাম । আমি মনুষ্য নহি, এই সুমিযোশি প্রদেশের আমি প্রদেশ-দেবতা। রাক্ষসের জ্বালায় যেরূপ এ প্রদেশের অধিবাসিগণ উৎপীড়িত হইয়াছে, আমি ও আমার অধীনস্থ যাবতীয় গ্ৰাম্য-দেবতাগণও সেইরূপ উৎপীড়িত হইয়াছেন। দেশ পরিত্যাগ করিয়া সমুদয় লোক পলায়ন করিয়াছে। দিনান্তে আমাদিগকে একটি ফুল প্ৰদান করে, এমন লোক এদেশে নাই। পূজা-অভাবে আমাদের দেবদেহ জীর্ণ ও শীর্ণ হইয়াছে, অস্থিচৰ্ম্মসার হইয়া আমরা পথে পথে ভ্ৰমণ করিতেছি। অসামান্য সাহস সম্পন্ন নিৰ্ম্মলচিত্ত মনুষ্যের সহায়তা ব্যতীত রাক্ষসের মায়াজাল আমরা ছিন্ন করিতে পারি না। বৎস রাইকো! তুমি সেই প্রকৃতির লোক। বহুদিন হইতে তোমার প্রতীক্ষায় আমি কালক্ষেপ করিতেছি।” রাইকো বলিলে,— “বাবা। তবে এক্ষণে আশীৰ্ব্বাদ করুন, রাক্ষসেরা দুর্গে প্রবেশ করিয়া যেন দুৰ্ব্বত্তাদিগকে বধ করিতে সমর্থ হই।” প্রদেশ-দেবতা বলিলেন,- “পুত্র রাইকো বাহুবলে তুমি রাক্ষসগণকে বধ করিতে পরিবে: না। কৌশলে তুমি তাহাদিগকে বধ করিবে। যখন তুমি রাক্ষসেরা দুর্গে প্ৰবেশ করিবে, অদৃশ্যভাবে তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকিয়া আমি ও যাবতীয় গ্ৰাম্য দেবতাগণ তোমাদের সহায়তা করিব । যাহা হউক, আজ তোমরা আমার অতিথি হইয়া এই স্থানে রাত্রিযাপন কর। পানভোজনে পরিতৃপ্ত হইয়া, বিশ্রামে পথ-ক্লান্তি দূর করিয়া, কল্য প্রাতঃকালে পুনরায় 巫函冢 Öዩኃ(አ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পথপৰ্যটনে প্ৰবৃত্ত হইবে।” এই কথা বলিবামাত্র সেই স্থানে চমৎকার এক অট্টালিকার আবির্ভাব হইল। অট্টালিকার ভিতর প্রবেশ করিয়া রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ নানাপ্রকার সুখাদ্য ভোজন করিয়া পরিতৃপ্ত হইলেন ও মণিমুক্তাখচিত পৰ্যাঙ্কের উপর দুগ্ধফেননিভা শয্যায় শয়ন করিয়া তাহারা পরমসুখে রাক্রিযাপন করিলেন। প্ৰভাত হইলে প্রদেশ-দেবতা পুনরায় দর্শন দিয়া বলিলেন– “রাইকো! তোমাদিগকে রক্ষা করিবার নিমিত্ত আমি ও গ্ৰাম্য-দেবতা অদৃশ্যভাবে তোমাদের নিকট থাকিব। তাহা ব্যতীত আমি তোমাকে দুইটি অদ্ভুত সামগ্ৰী প্ৰদান করিতেছি। তাঁহাদের দ্বারা তোমার বিশেষ উপকার হইবে। প্রথম-স্বর্ণনিৰ্ম্মিত এই টুপিটি তোমাকে আমি প্ৰদান করিলাম। উষ্ণীষের নিম্নে ঠিক মস্তকের উপর তুমি ইহা পরিধান করিবে। যতক্ষণ ইহা তোমার আঘাতিত হইবে না। মায়া-অস্ত্ৰপ্ৰহারেও রাক্ষস তোমাকে কিছুমাত্র ক্ষতি করিতে পরিবে না। তাহার পর তোমাকে এই ঔষধটি প্ৰদান করিলাম। রাক্ষসরাজ সাকে নামক সুৱা সৰ্ব্বদাই পান করে। তাহার সুরার সহিত কোনরূপে এই ঔষধটি তুমি মিশাইয়া দিবে। ঔষধমিশ্ৰিত সুরাপান করিলে রাক্ষস হীনবল হইবে ও নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িবে। তখন তুমি তাহাকে অনায়াসেই বধ করিতে পারিবে ।” প্ৰদেশ-দেবতা রাইকোকে রাক্ষসেরা আচার-ব্যবহার সম্বন্ধে আরও নানারূপ উপদেশ প্রদান করিলেন। তাহার পর সেই কণ্টকময় দুৰ্গম পৰ্ব্বতের স্ট্রপ্তর পথ দেখাইয়া বহুদূর পর্যন্ত তিনি তাহদের সঙ্গে গমন করিলেন। অবশেষে অপর র কুলে গিয়া উপস্থিত হইলেন। র অগ্রসর হইয়া রাইকো দেখিলেন যে, সেই নদীতীরে এক যুবতী ভদ্রমহিলা বসিয়া রোদন' করি । তাহার পরিধেয় বস্ত্র রক্তে রঞ্জিত হইয়াছিল। নিকটে গিয়া রাইকো তাহার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারিলেন যে, তাহার পিতামাতা, ভাই-ভগিনীকে রাক্ষসেরা ভক্ষণ করিয়াছে। আপাততঃ তাহাকে দাসী করিয়া রাখিয়াছে; কিন্তু কিছুদিন পরে তাহাকেও রাক্ষসেরা ভক্ষণ করিবে। সেদিন যে সমুদয় মানুষকে বধ করিয়া রাক্ষসগণ রন্ধন করিয়াছিল, তাহাদের রক্তেই তাহার বস্ত্র রঞ্জিত হইয়া গিয়াছে। কাপড় ধৌত করিতে সে নদীকূলে আসিয়াছে। এইরূপে আপনার পরিচয় প্ৰদান করিয়া যুবতী রাইকোকে রাক্ষস-দুর্গে প্রবেশ করিতে বারবার নিষেধ করিল। কিন্তু রাইকো তাহার নিষেধ শুনিলেন না। অবশেষে যুবতী রাক্ষস-দুর্গে প্রবেশের পথ রাইকোকে দেখাইয়া দিল। যথাসময়ে রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ দুৰ্গদ্বারে গিয়া উপস্থিত হইলেন। প্ৰকাণ্ড লীেহনিৰ্ম্মিত দ্বার। পৰ্ব্বতশিখরে অতি উচ্চ প্রাচীর দ্বারা দুর্গটি বেষ্টিত ছিল। সেই প্রাচীরের নিম্নে জলপূৰ্ণ গভীর খাদ খনিত ছিল। কাহার সাধ্য যে, বিনা অনুমতিতে দুর্গের ভিতর প্রবেশ করে। দুৰ্গদ্বারে বিকটাকার বহুসংখ্যক দানব প্রহরীস্বরূপ নিযুক্ত ছিল। মুখমণ্ডল কাহারও জালার মত, কাহারও দন্ত হস্তিদন্তের ন্যায়, কাহারও কর্ণ সূর্পের ন্যায়, কাহারও চক্ষু জ্বলন্ত মালসার ন্যায়। ফলকথা, তাহাদের ভীষণ আকৃতি দেখিলে মানুষের হৃৎকম্প হয়। সহসা চারিজন মনুষ্যকে দ্বারে দেখিয়া প্ৰহারিগণ বিস্মিত হইল! তাহার পর যখন রাইকো বলিলেন,- “আমরা সন্ন্যাসী, আজ রাত্রিতে

      • fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboicom ܕf) তোমাদের প্রভুর নিকট আমরা আতিথ্য প্রার্থনা করি।” তখন তাহারা হাসি আর রাখিতে পারিল না। বিকট শব্দে হাস্য করিয়া তাহারা নানারূপ পরিহাস করিতে লাগিল। কেহ বা রাইকোর শরীর টিপিয়া আপনার মুখের ভিতর আপনার অঙ্গুলি প্রবিষ্ট করিয়া ইঙ্গিত করিল যে— “আজ রাত্ৰিতে তোমাদের কোমলমাংস ভক্ষণ করিয়া আমরা পরম পরিতোষলাভ করিব।”

সে সমুদয় বিদ্রুপের উপর ভ্ৰক্ষেপ না করিয়া, রাইকো তাহার প্রভুকে সংবাদ দিবার নিমিত্ত বারবার অনুরোধ করিতে লাগিলেন। অবশেষে একজন দানব দুর্গের ভিতর প্রবেশ করিয়া তাহাদের রাজার নিকট সংবাদ দিল যে,- “মহারাজ! চারিজন কোমলমাংসবিশিষ্ট অতি উপাদেয় খাদ্য অকস্মাৎ কোথা হইতে আসিয়া সিংহদ্বারে উপস্থিত হইয়াছে।” সন্ন্যাসীদিগকে তৎক্ষণাৎ ভিতরে আনিবার নিমিত্ত রাক্ষসরাজ আদেশ করিল। ভিতরে গিয়া রাইকো দেখিলেন যে, শিউতেন-দোজি সিংহাসনে বসিয়া আছে। বহুসংখ্যক রাক্ষস নানারূপ অস্ত্ৰধারণ করিয়া সিংহাসনের নিম্নে দণ্ডায়মান রহিয়াছে। অন্যান্য রাক্ষসের মূৰ্ত্তি অতি ভয়ানক বটে; কিন্তু শিউতেন-দােজির আকৃতি-মূৰ্ত্তি যেরূপ ভীষণ, তাহা বৰ্ণনা করিতে পারা যায় না। তাহার মুখপানে চাহিয়া দেখিলে মানুষ মূৰ্ছিত হইয়া ভূতলে পতিত হয়। কিন্তু রাইকো ও তাহার সঙ্গিগণ মিনামোটাে-কূলে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। ভয় কাহাকে বলে, তাহা তাহারা জানিতেন না। শিউতেন-দীেজি রাক্ষসের বিকট মূৰ্ত্তি দেখিয়া তাহারা কিছুমাত্ৰ শঙ্কিত হইলেন না; কিন্তু রাজাকে যেরূপ সম্মান করা উচিত, তাহা তাহারা করিলেন, সাষ্টাঙ্গে ভূমিষ্ঠ হইয়া তাহারা নয়বার কীে-চীে করিলেন, অর্থাৎ ভূমির উপর নয়ুৱার মাথা ঠুকিলেন। তখন রাক্ষসরাজ তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিল,— “তোমরা কে, কোথুহেইতে কি জন্য এ-স্থানে আসিয়াছ?” s সহিত সাক্ষাৎ হয় নাই। অদ্য দূর হইতে দ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছি। আজ রাত্রির করে। ভরসা করি, মহারাজ আমাদিগকে যৎকিঞ্চিৎ অন্ন ও একটু আশ্ৰয়স্থান দিতে কাতর। হইবেন না।” শিউতেন-দোজি ঈষৎ হাসিয়া উত্তর করিলেন, — “স্ব-ইচ্ছায় হউক, অনিচ্ছায় হউক, আমার ভবনে অনেক লোক আগমন করে। সে সমুদয় লোককে আমি যেভাবে অভ্যর্থনা করিয়াছি, তোমাদিগকেও আমি সেইভাবে অভ্যর্থনা করিব।” এই কথা শুনিয়া উপস্থিত রাক্ষসগণ হাে-হো করিয়া হাসিয়া উঠিল। সন্ন্যাসীদিগের কিরূপ অভ্যর্থনা হইবে, তাহা সকলেই বুঝিল। কল্য ইহাদিগকে ভক্ষণ করিতে পাইবে, তাহা ভাবিয়া অনেকের মুখে লালা আসিয়া গেল। শিউতেন-দোজি তখন অনুচরদিগকে অনুমতি করিলেন,- “আমার গৃহে আজ যাহা কিছু সুখাদ্য প্ৰস্তুত হইয়াছে, সে সমুদয় আনয়ন কর। আজ আমি যথাবিধি অতিথিসৎকার করিব। অতিথির সহিত একত্রে আজ আমরা সকলে ভোজন করিব।” ভোজনের আয়োজন হইল। ভিতর ও বাহির হইতে রাক্ষসগণ আসিয়া সারি সারি উপবিষ্ট হইল। অতি সমাদর করিয়া রাক্ষসরাজ রাইকো ও তাহার সঙ্গিগণকে আপনার দক্ষিণ ও বামদিকে বসাইলেন। পরিবেশকগণ সকলের সম্মুখে অনেকগুলি আচ্ছাদিত পাত্র রাখিয়া দিল। aysis କ୍ଷୁg Øh\5ፃ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro আচ্ছাদন খুলিয়া সকলে আহার করিতে আরম্ভ করিল। আপনার পাত্রের আচ্ছাদন খুলিয়া রাইকো দেখিলেন যে, তাহার ভিতর একটি নরমুণ্ড ও নিরাপদ রহিয়াছে। সেই নরমুণ্ড হইতে তখনও রক্তধারা বিগলিত হইতেছিল। রাইকোর সঙ্গিগণকেও সেই প্রকার আহার প্রদত্ত হইয়াছিল। রাক্ষসগণও কেবল নরমাংস ভোজন করিতেছিল। সেই কদৰ্য আহাৱীয় সামগ্ৰী দৰ্শন করিয়া রাইকো কিছুমাত্র ভয় কি বিস্ময় প্রকাশ করিলেন না। প্রতিদিন যেন তাঁহারা নরমুণ্ডই ভক্ষণ করিয়া থাকেন, এইরূপ মুখভঙ্গি প্ৰদৰ্শন করিয়া তাহারা আহারে প্রবৃত্ত হইলেন। কিন্তু বস্তুতঃ তাহারা নরমাংস আহার করিলেন না। মুণ্ড ও পদ হইতে মাংস ছিড়িয়া, মুখের কাছে লইয়া কৌশলে বুলির ভিতর তাহারা নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন। রাক্ষসরাজ মনে করিয়াছিল যে, ইহারা যখন ভয়ে কঁাপিতে থাকিবে, তখন ইহাদিগকে লইয়া আমি নানারূপ কৌতুক করিব। সে আশায় সে বঞ্চিত হইল। মনুষ্য হইয়া পাতে নরমুণ্ড দেখিয়া ভয় পাইল না, আর তাঁহা অক্ষুন্নচিত্তে আহার করিল, সেজন্য রাক্ষসরাজ ঘোরতর বিস্মিত হইল। কিছুক্ষণ পরে রাইকো বলিলেন,- “মহারাজ! আপনার অনুগ্রহে আজ পরম তৃপ্তিলাভ করিলাম। আমরা উদাসীন ভিখারী; এমন সুখাদ্য জনমে। কখন ভক্ষণ করি নাই। ইহার বিনিময়ে কোনরূপ যে প্রত্যুপকার করি, সে শক্তি আমাদের নাই। তবে নানা দেশ ভ্রমণ করিয়া নানা বিষয় আমরা অবগত হইয়াছি। শুনিয়াছি, মহারাজ স্যাকে-সুরা পান করিয়া থাকেন। যাহা সাকের সহিত মিশ্ৰিত করিলে পরম উপ గ్గా ইহা পরিণত হয়। এমন কি, শিউতেন-দোঁজি ও তাহার অনুচরগণ রান্ত্রিদিন অবিরত সাকে পান করিয়া উন্মত্ত অবস্থায় থাকিত; কিন্তু সাকের আস্বাদ ভাল নহোষ্ট্রোেষ্ট ইহা পান করিতে হয়। যখন সে শুনিল যে, ন্ধযুক্ত সাকে-সুরাকে সুগন্ধযুক্ত সুমিষ্ট সুধায় পরিণত করিবার নিমিত্ত তৎক্ষণাৎ সে আদেশ করিল। জাপান শীতপ্রধান দেশ। উত্তাপের নিমিত্ত সেই ভোজনাগারেই অগ্নি প্ৰজ্বলিত ছিল। রাইকোর আদেশে সাকে-পূর্ণ লৌহকটাহ আগুনের উপর বসান হইল। অগ্নির উত্তাপে সুরা ফুটিতে লাগিল। তখন রাইকো প্ৰদেশ-দেবতা প্রদত্ত সেই ঔষধ ফুটন্ত সুরার উপর নিক্ষেপ করিলেন। সুরার সহিত ঔষধ উত্তমরূপে মিশ্রিত হইলে, অগ্নি হইতে কড়া নামাইয়া সেই সুরা রাইকো রাক্ষসগণকে পান করিতে দিলেন। য়াক্ষসরাজ তাহা পান করিয়া দেখিলেন যে, অতি সুমধুর সুরা— অমৃত বলিলেও চলে। সে যতই ইহা পান করিতে লাগিল, বারবার পানের পিপাসা ততই বাড়িতে লাগিল। অন্যান্য রাক্ষসগণও অমৃততুল্য এই সুধা প্ৰাণ ভরিয়া পান করিতে লাগিল। বলা বাহুল্য যে, রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ সুরাপান করিলেন না। তাহারা ছদ্মবেশী r দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.com/f46লাকনাথ রচনাসংখ্যাই সন্ন্যাসী, সেজন্য কেহ তাহাদিগকে পান করিবার নিমিত্ত অনুরোধও করিল না। ঔষধ-মিশ্ৰিত সুরাপান করিয়া প্ৰথম অবস্থায় সকলের মনে এক অনিৰ্ব্বচনীয় আনন্দের আবির্ভাব হইল। আনন্দে বিমোহিত হইয়া শিউতেন-দোজি নৰ্ত্তকীগণকে আনিবার নিমিত্ত আদেশ করিল। বড় বড় মনুষ্যের যুবতী দুহিতাগণকে বলপূৰ্ব্বক আনিয়া সে নৰ্ত্তকীরূপে নিয়ােজিত করিয়াছিল। তাহাদিগের নৃত্য-গীতে কিছুদিনের নিমিত্ত পরিতোষলাভ করিয়া অবশেষে সে তাহাদিগকে ভক্ষণ করিত ও পুনরায় নূতন যুবতীগণকে আনিয়া তাঁহাদের পদে নিযুক্ত করিত। সেবা করিবার নিমিত্ত যে সমুদয় ভদ্রমহিলা নিয়োজিত ছিল, তাহাদের সহিতও সে এইরূপ ব্যবহার করিত। নৰ্ত্তকীগণ নাচিতে লাগিল, হাততালি দিয়া রাক্ষসরাজ তাল রাখিতে লাগিল। ক্রমে আনন্দে বিভোর হইয়া, সে নিজে উঠিয়া নৃত্য করতে লাগিল। ক্রমে অন্যান্য রাক্ষসগণও সেই নৃত্যে যোগ প্ৰদান করিল। প্রথম মানবী নৰ্ত্তকীদিগের রাণু-ঝণু শব্দ জগৎ স্তব্ধ হইয়া শুনিতে লাগিল। তাহার পর রাক্ষস নৰ্ত্তকদিগের গুপ-গাপ শব্দে জগৎ কম্পিত হইল। সাদামিটি নামক রাইকোর একজন সঙ্গী চমৎকার নাচিতে জানিতেন। রাক্ষসদিগের মন হরণ করিবার নিমিত্ত রাইকোর আদেশে তিনিও নৃত্য আরম্ভ করিলেন। তাঁহার নৃত্য দেখিয়া রাক্ষসগণ ভুয়োভূয়ঃ প্ৰশংসা করিতে লাগিল। নৃত্যের সহিত অবিরত সুরাপানও চলিতেছিল। সুরা ও ঔষধের গুণে রাক্ষসগণ ক্রমেই নিস্তেজ, হীনবল ও হতজ্ঞান হইতে লাগিল। শিউতেন-দোজি রাক্ষসরাজ সকলের অপেক্ষা অধিক সুরাপান করিয়াছিল। প্রথম সে অজ্ঞান হইয়া ভূতলশায়ী হইল। অনুচরগণ তাহাকে ধরাধরি করিয়া শয়নাগারে লইয়া গেল। তাহার পর ণ পুনরায় সুরাপান ও নৃত্য আরম্ভ করিল। অবশেষে একে একে সমুদয় দানবগণ উন্মুক্তও জ্ঞানহত হইয়া ভূতলে পতিত হইল। তখন রাইকো সঙ্গিগণের সহিত ধ্ৰুঞ্জাজির শয়নাগারে প্রবেশ করিলেন। সে-স্থানে গিয়া দেখিলেন যে, স্বর্ণময় পৰ্যাঙ্কে অজ্ঞান অবস্থায় পড়িয়া আছে, আর অনেকগুলি ভদ্রঘরের মানবী তাহার পরিচর্য্যায় আছে। কেহ বা তাহার পদসেবা করিতেছে, কেহ বা পাখা ব্যর্জন করিতেছে, কেহ বা তাহাঁর মস্তক কাণ্ডুয়ন করিতেছে। কারাবদ্ধ মানব ও মানবীগণ রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণকে রাক্ষসদিগের সহিত একসঙ্গে বসিয়া আহার করিতে দেখিয়াছিল। তাহারা মনে করিয়াছিল যে, ইহারা প্রকৃত সন্ন্যাসী নহেন, ছদ্মবেশধারী রাক্ষস। সুতরাং রাইকো ও তাহার সঙ্গিগণকে ঘরে প্রবেশ করিতে দেখিয়া তাহারা ঘোরতর ভীত হইল। কিন্তু রাইকো তাহাদিগকে আশ্বাস প্রদান করিয়া বলিলেন,-“ভয় নাই, তোমাদের মত আমরাও মানুষ। সম্রাট কর্তৃক আদিষ্ট হইয়া তোমাদিগকে উদ্ধার করিতে আমরা আসিয়াছি।” রাক্ষসের মুণ্ড এই কথা বলিয়া রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ আপনি-আপনি বুলি হইতে বৰ্ম্ম ও খড়গ বাহির করিলেন। আপনি-আপিন বৰ্ম্ম সকলে পরিধান করিলেন। তাহার পর তাহারা দুই হস্তে ধারণের উপযোগী গুরু ও ক্ষুরের ন্যায় তীক্ষ্ম খড়গ লইয়া রাক্ষসের মস্তক ছেদন করিতে উদ্যত মজার গল্প (res sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro হইলেন। কিন্তু এমন সময় ঘরের ভিতর সেই প্ৰদেশ-দেবতার আবির্ভাব হইল। হাত তুলিয়া তিনি রাইকোকে নিষেধ করিলেন। তিনি বলিলেন, — “বৎস রাইকো! কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। রাক্ষসের বিষয় মায়াঃ ইহার মস্তক ছেদন করিলেও তৎক্ষণাৎ ইহার মৃত্যু হইবে না। ইহার ছিন্ন মস্তক, ছিন্ন হস্ত ও ছিন্ন পদ তোমাদের সহিত যুদ্ধ করবে। ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সহিত যুদ্ধে তোমরা জয়লাভ করিতে পারিবে না। অতএব এই রজু দ্বারা প্রথম ইহার সাৰ্ব্বশরীর উত্তমরূপে খাটের সহিত বন্ধন কর। তাহার পর ইহার অঙ্গ-প্ৰত্যঙ্গ তিল তিল করিয়া কৰ্ত্তন করিবে।” এই কথা বলিয়া প্ৰদেশ-দেবতা রাইকোকে একগাছা মায়ারজু প্ৰদান করিলেন। সেই রজজু দ্বারা রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ নিদ্রিত হতজ্ঞান রাক্ষসকে উত্তমরূপে খাটের সহিত বন্ধন করিলেন। তাহার পর খড়গ উত্তোলন করিয়া এককোপে তাহার মস্তক শরীর হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া ফেলিলেন। রাক্ষসের মস্তক কাটিবামাত্ৰ বজনিনাদের ন্যায় ভীষণ শব্দে ঘর পরিপূর্ণ হইল। দুঃখের বিষয় যে, দেবদত্ত মায়া-রজজু দ্বারা রাইকে রাক্ষসের মস্তককে ভালরূপে খাটের সহিত বন্ধন করেন নাই। সেজন্য যেই তিনি রাক্ষসের মস্তক কাটিয়া ফেলিলেন, আর সেই ছিন্ন মস্তক উদ্ধে ঘরের ছাদ পৰ্যন্ত উখিত হইল। অবশেষে সেই ছিন্ন মস্তক হস্তি-দন্তের ন্যায় দন্ত বাহির করিয়া কড়-মড় শব্দ করিতে করিতে রাইকোর মস্তকের উপর পতিত হইল। রাইকোর মস্তকে লীেহ-নিৰ্ম্মিত সুদৃঢ় শিরোরক্ষক মুকুট ছিল। এক কামড়ে রাক্ষসের মুণ্ড তাহাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করিয়া ফেলিল। ছিন্ন মুণ্ডের কামড়ে রাইকোর মস্তকও সেইরূপ চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যাইত, কিন্তু ভাগ্যে তিনি ঠিক মাথার উপর প্রদেশ-দেবতা-প্রদত্ত প্লেই স্বর্ণ টুপি পরিধান করিয়াছিলেন। রাক্ষসের দন্ত সে দেবদত্ত টুপিকে ভেদ করিতে পরিষ্টমা। তাহাতেই রাইকাের প্রাণ বাঁচিয়া গেল। এই সময় রাইকাের সঙ্গী অপর তিন বীর চৈন্তি ছিলেন না। ইহাদের মধ্যে সুনা নামক রাইকোর এক পরম সুহৃদ ছিলেন। ইতঃপূৰ্ব্বেঠানা যুদ্ধে সুনা রাইকোর সহায়তা করিয়াছেন। কোন স্থানে মাকড়শাসুর নামক এক দৈত্যু র নিমিত্ত অতিশয় প্রবল হইয়াছিল। সুনার আর একজন অসুরের উৎপাতে চরকার ন্যায় ছিল। আকাশের উপর দ্রুতবেগে ঘূর্ণায়মান হইয়া চরকাসুর অকস্মাৎ আজ এদেশে, কাল সে-দেশে পতিত হইত ও বিদ্যুৎসম অগ্নিশিখার ন্যায় ভ্রমণ করিয়া নিমেষের মধ্যে সমুদয় দেশকে ছারখার করিত। তাহাকে বধ করিবার সময়ও সুনা রাইকোর বিশেষরূপ সহায়তা করিয়াছিলেন। রাইকোর বিপদ রাইকোর মস্তকের উপর ছিন্ন মুণ্ডের দংশন যখন ব্যৰ্থ হইল, তখন মুণ্ড কিঞ্চিৎ নামিয়া রাইকোর বক্ষঃস্থল কামড়াইতে চেষ্টা করিল। রাইকোর বক্ষঃস্থল। বৰ্ম্ম দ্বারা রক্ষিত ছিল বটে, কিন্তু সে দেবদত্ত বৰ্ম্ম নহে; সুতরাং রাক্ষসের তীক্ষ দন্ত অনায়াসে তাহা ভেদ করিতে পারিত। ছিন্ন মুণ্ডের বিপুল বলে রাইকো ভূমির উপর বসিয়া পড়িলেন। তাঁহার হাত হইতে খড়গ জ্বলিত Ro fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboicom** হইয়া ভূতলে পতিত হইল। দুই হাতে ছিন্ন মুণ্ডের কেশ ধরিয়া রাইকো তাহাকে বক্ষঃস্থল হইতে দূরে রাখিতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। কিন্তু তাঁহার সকল চেষ্টা বৃথা হইল! মুহূৰ্ত্তকাল আর বিলম্ব হইলে, মুণ্ডের দন্ত রাইকোর বক্ষঃস্থল বিদীর্ণ করিয়া তাঁহার প্রাণ বিনষ্ট করিত। এমন সময় প্রদেশ-দেবতা পুনৰ্ব্বার আবির্ভূত হইয়া উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন,- “সুনা! সুনা! দেখ কি! রাইকোর প্রাণরক্ষা কর।” চকিতের মধ্যে সুন্না রাইকোর দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন। চকিতের মধ্যে রাইকোর বিপদ তাহার হৃদয়ঙ্গম হইল। চকিতের মধ্যে সবলে খড়গ প্ৰহারে ছিন্ন মুণ্ডকে তিনি দ্বিখণ্ডিত করিয়া ফেলিলেন; তাহার পর বারবার খড়গ প্ৰহারে তিনি মুণ্ডকে তিল তিল করিয়া কাটিয়া ফেলিলেন। তখন মুণ্ডের আর কোন শক্তি রহিল না। রাইকোর প্রাণ বাঁচিয়া গেল। এদিকে রাইকো ও সুনা যখন ছিন্ন মস্তকের সহিত যুদ্ধ করিতেছিলেন, সেই সময়ে ওদিকে রাক্ষসের হস্ত-পদ সহসা মত্ত হস্তিবলে রজ্জ্ব হইতে মুক্ত হইবার নিমিত্ত চেষ্টা করিল; কিন্তু সে দেবদত্ত মায়া-রাজ্জ্ব। রাক্ষসের হস্ত-পদ সে রাজুকে ছিন্ন করিতে পারিল না। খাটসহ রাজু বারবার ছাদের নিকট উঠিয়া পুনরায় নিম্নে পতিত হইয়া সকলকে বধ করিতে চেষ্টা করিতে লাগিল; কিন্তু রাক্ষসের সে চেষ্টা বৃথা হইল। তাহার শরীর হইতে মস্তক ছিন্ন হইয়া গিয়াছিল। মস্তকবিহীন রাক্ষস শরীরে দৃষ্টিশক্তি ছিল না। খাট যেই নিম্নে পতিত হয়, আর রাইকো ও তাহার সঙ্গিগণ কিঞ্চিৎ দূরে গিয়া দণ্ডায়মান হন। সেজন্য একবারও ঠিক তাঁহাদের মস্তকের উপর খাট পতিত হইল না। খাট যেই নিম্নে উপস্থিত হয়, আর রাইকোর দুইজন সঙ্গী খড়গ দ্বারা রাক্ষস-শরীরের উপর কোপ মারিতে থাকেন। মুষ্টির্ক তিল তিল করিয়া, রাইকো ও সুনা এই কাৰ্য্যে যোগ প্ৰদান করিলেন। চারিজনের য় প্ৰহারে রাক্ষসের শরীর খণ্ড খণ্ড হইয়া গেল। তখন আর তাহার কোন শক্তি রহিল মূর্ণি/রাক্ষসরাজ দুরাত্মা শিউতেন-দোজি এইরূপে མཁས་བཙལ་ན་བཞི་པ་ལ་ཞ་ཡིག་ལག་ཏུ་ཚོ་ জয়লাভ শয়নাগারের ভীষণ কোলাহলে অন্যান্য রাক্ষসও ক্রমে জাগরিত হইল। অন্ত্রশাস্ত্রে সুসজ্জিত হইয়া প্রবলবেগে তাহারা সেইস্থানে উপস্থিত হইল। রাইকোর ও তাঁহার সঙ্গিগণের সহিত তাহাদের তুমুল সংগ্রাম বাধিয়া গেল। তাগ্যে শয়নাগারের ন্যায় সঙ্কীর্ণ স্থানে এই যুদ্ধ হইল। সেজন্য দ্বারে দাঁড়াইয়া সেই অল্পসংখ্যক মনুষ্য বহুসংখ্যক রাক্ষসের সহিত যুদ্ধ করিতে সমর্থ হইলেন। রাক্ষসগণ চারিদিক হইতে তাহাদিগকে ঘিরিয়া ফেলিতে পারিল না। তাহা ব্যতীত দেবদত্ত ঔষধ মিশ্ৰিত সুরা সেবনে রাক্ষসগণ নিস্তেজ ও হীনবল হইয়া পড়িয়াছিল ও সুরার উন্মত্ততায় তাহাদের বুদ্ধি লোপ পাইয়াছিল। যাহা হউক, তথাপি রাইকো ও তাঁহার বন্ধুগণকে সমস্ত রাত্রি সেই রাক্ষসদিগের সহিত যুদ্ধ করিতে হইয়াছিল। ঠিক প্ৰভাতের সময় শেষ চারিজন রাক্ষস রাইকো ও তাঁহার বন্ধুগণের নিদারুণ খড়গ প্ৰহারে হত হইয়া ভূমিতে পতিত হইল। যে যুবতীগণ রাক্ষসরাজের পরিচর্য্যায় নিযুক্ত ছিল, এই ভয়ানক যুদ্ধের সময় তাহাদের কেহ ଅysis କ୍ଷୁg (S sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro কেহ রাইকোর সহায়তা করিয়াছিল, কেহ বা ঘরের এক কোণে বসিয়া কাঁদিতেছিল। কেহ বা মূৰ্ছিত হইয়া পড়িয়াছিল। যুদ্ধে জয়লাভ করিয়া রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণ তাঁহাদের সাত্মনা করিলেন। তাহার পর রাক্ষসের কারাগার কোথায়, তাহা দেখাইয়া দিতে বলিলেন। দুর্গের নিম্নে কিছুদূরে রাক্ষসরাজের কারাগার ছিল। যুবতীগণ সুড়ঙ্গপথে রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণকে সেই স্থানে লইয়া গেল। সে-স্থানে উপস্থিত হইয়া তাহারা দেখিলেন যে, দ্বারে প্রহরিস্বরূপ আর দুইজন রাক্ষস রহিয়াছে। তাহাদের সহিত পুনরায় ঘোরতর সংগ্ৰাম বাধিয়া গেল। কিন্তু রাইকো ও তাঁহার বীরগণ অবিলম্বে তাহাদিগকে পরাভূত করিয়া বাধিয়া ফেলিলেন। রাইকো মনে করিলেন যে, জীয়ন্ত অবস্থায় এই দুই রাক্ষসকে আমি সম্রাটের নিকট লইয়া যাইব । রাক্ষস দুইজনকে বন্ধন করিয়া তাঁহারা কারাগারের ভিতর প্রবেশ করিলেন। সে স্থানে বহুসংখ্যক নরনারী কারাবদ্ধ ছিল। রাইকো তাহাদিগকে উদ্ধার করিলেন। তাহাদের আনন্দধ্বনিতে জগৎ পরিপূর্ণ হইল। দুই হাত তুলিয়া তাহারা রাইকোর প্রশংসা করিতে লাগিল। সেস্থান হইতে যুবতীগণ রাইকোকে আর একটি পৰ্ব্বতগহবরে লইয়া গেল। সে-স্থানে রাক্ষসেরা মনুষ্যগণকে আহার করিবার পূৰ্ব্বে বধ করিত। সে-স্থানের মৃত্তিকা নরশোণিতে সিক্ত হইয়াছিল, আর চারিদিকে স্তুপাকার হইয়া নরমুণ্ড, নর-অস্থি ও নরকঙ্কাল পড়িয়াছিল। তাহা দেখিয়া রাইকো ঘোরতর ক্রুদ্ধ হইলেন। বন্দী রাক্ষস দুইজনকে তৎক্ষণাৎ বধ করিবার নিমিত্ত তিনি আজ্ঞা করিলেন। রাইকোর সঙ্গিগণ তৎক্ষণাৎ তাহাদিগের মাথা কাটিয়া ফেলিল । রাইকোর মনস্কামনা এক্ষণে সিদ্ধ হইল। রাক্ষসেরা দুর্গে যত ধনরত্ব ছিল, তাহা লইয়া ও রাক্ষস কর্তৃক ধৃত সহস্ৰ সহস্ৰ নর-নারীদিগকে সম্রাটের রাজধানী অভিমুখে ভূবে কখনও অসাক্ষাৎভাবে প্রদেশ-দেবতা তাহাদের উপর সামান্যভাবে কেবল একটু কুঙ্কুরলেন। মনোহর গন্ধপূর্ণ বায়ু ধীরে ধীরে প্রবাহিত জুন্টুর্গকে সুমিষ্ট ফল প্ৰদান করিলা নিৰ্বসকল সুশীতল বারি প্রদান করিয়া তাঁহাদের তৃষ্ণ নিবারণ করিল। অন্তরীক্ষে থাকিয়া গ্ৰাম্য-দেবতাগণ তাঁহাদের উপর পুষ্প বর্ষণ করিতে লাগিলেন। তাহার পর বিজন সুমিযোশি প্রদেশ অতিক্রম করিয়া যখন তাহারা অন্যান্য জনাকীর্ণ প্রদেশে প্রবেশ করিলেন, তখন সে-স্থানের অধিবাসিগণ কিরূপ সমারোহের সহিত তাঁহাদের অভ্যর্থনা করিল, সেকথা আর প্রকাশ করিয়া বলিতে হইবে না। তাহার পর সম্রাটের সভায় উপস্থিত হইলে তিনি রাইকোর কিরূপ সম্মান ও সমাদর করিলেন, সেকথাও প্রকাশ করিয়া আর বলিতে হইবে না। দীপমালায় কয়েকদিন নগরের লোক আপনি-আপন গৃহ আলোকিত করিল। মহােৎসবে কিছুদিন নগর পূর্ণ হইল। অবশেষে সম্রাট, রাজকবিকে ডাকিয়া রাইকো ও তাঁহার সঙ্গিগণের কীৰ্ত্তি সুমধুর ভাষায় স্বর্ণীক্ষরে লিপিবদ্ধ করিতে আদেশ করিলেন। সেই বিবরণ হইতে এই গল্পটি সংগৃহীত হইল। Ø ዓቁ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon 23 পূজার ভূত প্ৰথম অধ্যায় আমার নাম তারক। কলিকাতায় আমি বাের্ডিংয়ে থাকি। পূজার সময় আমি বাড়ী আসিয়াছি। আমার নিজের বাড়ী নয়, মামার বাড়ী । মামার বাড়ীতেই আমরা মানুষ হইয়াছি। আমি ও আমার ভগিনী প্রভা। শামীমাসী আমাদিগকে মানুষ করিয়াছে। আমার মাকেও সে মানুষ করিয়াছিল। শামীমাসী সদৃগোপের মেয়ে। ভাই ও ভগিনীগণ। আমি বলিলাম,- “শামীমাসী! আজি তোমাকে একটি গল্প বলিতে হইবে। কেমন মেঘ করিয়াছে। দেখ! কেমন অন্ধকার হইয়াছে। কেমন টিপা-টিপ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে। আর বাতাসের একবার জোর দেখ। পাতার ভিতর দিয়া শো-শো করিয়া চলিতেছে। যেন রাগিয়া কি বুলিতেছে। এই অৰ্দ্ধারে এমন দুৰ্য্যোগের সময় ভূত-প্ৰেত সব বাহির হয়! বাপুরে! গা যেন শিহরিয়া উঠে86% শামীমাসী বলিল,- “এই পূজার প দুৰ্যোগের সময়, তোমার মাকে লইয়া আমি বড় বিপদে পড়িয়াছিলাম। সে কথা মনে করিলে ভয়ে আমার বুক ধড়ফড় করে ।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কি হইয়াছিল। শামীমাসী?” শামী উত্তর করিল,— “না, সে কথা এখন তোমাদিগকে আমি বলিব না । তোমরা ছেলেমানুষ! সে কথা শুনিলে তোমাদের ভয় করিবে।” Vz আমরা সকলেই বলিলাম,- “সে কথা শুনিলে আমাদের ভয় করিবে না।” যাহা হউক, অনেক জেন্দা-জেদের পর শামীমাসী সে গল্প বলিতে সম্মত হইল। শামীমাসী বলিল,— “তারক ও প্রভার মায়ের নাম সীতা ছিল। সীতার মা, অর্থাৎ তোমাদের মাতামহীর নাম তারামণি ছিল। মৃত্যুশয্যায় তিনি আমাকে বলিয়া যান, — "শামী! আমার কাছে তুই সত্য করা যে, সীতাকে তুই কখন ছাড়িয়া যাবি না। সীতা পাঁচ বৎসরের শিশু, পৃথিবীতে তাহার আর কেহ নাই।” সীতাকে আমি দিদিমণি বলিয়া ডাকিতাম। আমি বলিলাম,- “মােঠাকরুণ! দাদাবাবু (অর্থাৎ তোমাদের মারা ভাই) ও দিদিমণি কোথায় কাহার কাছে থাকিবে, তাহা আমি জানি না। দিদিমণি যাহাদের কাছে থাকিবে, তাহারা যদি আমাকে ছাড়াইয়া দেয়, তাহা হইলে আমি কি করিতে পারি? কিন্তু তাহারা যদি আমাকে রাখে, তাহা হইলে তোমার গায়ে হাত দিয়া আমি দিব্য করিয়া বলিতেছি যে, দিদিমণিকে আমি কখন ছাড়িব না?” WSF57 sig QԳՎ) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro তোমাদের মাতামহীর মৃত্যু হইল, তোমাদের মামা, যাহার এই বাড়ী, তিনি তখন বালক। লেখাপড়া শিখাইবার নিমিত্ত একজন আত্মীয় তাহাকে কলিকাতায় লইয়া গেলেন। সীতা তাহার মামার বাড়ীতে গেল। সীতার মামা আমাকে ছাড়াইলেন না। আমি দিদিমণিকে মানুষ করিতে লাগিলাম । দিদিমণির মামারা এক সময়ে খুব বড়মানুষ ছিলেন। শুনিলাম যে, তাহার মাতামহ জগমোহন রায়চৌধুরী একজন দুৰ্দান্ত লোক ছিলেন। দিদিমণিকে লইয়া আমি যখন তাহার বাড়ীতে যাইলাম, তখন তিনি জীবিত ছিলেন না। দিদিমণির মামাও দেশে থাকিতেন না, পশ্চিমে কোথায় কৰ্ম্ম করিতেন। দিদিমণিকে বাড়ীতে রাখিয়া তিনি সে-স্থানে চলিয়া গেলেন। সে বাড়ী কি ভয়ঙ্করা! তিন মহল বাড়ী, বাহির বাড়ীতে, মাঝের বাড়ীতে, ভিতর বাড়ীতে, একতলায় দোতলায় কত যে ঘর, তাহা গণিতে পারা যায় না। কিন্তু সব ভৌ-ভৌ, দেখিলেই যেন ভূতের বাড়ী বলিয়া মনে হয়; বাহিরের বাড়ীতে কি মাঝের বাড়ীতে জনপ্রাণী বাস করে না। এতবড় বাড়ীতে আমরা কেবল ছয় জন রহিলাম; (১) তোমার মায়ের পিসী অলক ঠাকরুণ, তাহার বয়স প্রায় আশী হইয়াছিল, আর তিনি সম্পূর্ণ কালা ছিলেন। (২) আর একজন ব্ৰাহ্মণী, তাহার সহচরী, তাহারও বয়স বড় কম হয় নাই। তিনি রন্ধন করিতেন। (৩) একজন চাকর, তাহার নাম পিতেম। (৪) পিতে।মের স্ত্রী, তাহার নাম বিলাসী। (৫) তাহার পর আমি ও (৬) তোমাদের মা, আমার দিদিমণি, সীতা । বাড়ীর ভিতর দােতলায় তিনটি ঘরে আমরা ছয় জুনে ব্যস কৃষ্ণু লাগিলাম! প্ৰথম অলক ঠাকরুণ ও সহচরীর ঘর; তাহার পার্শ্বে আমার ও রাষ্ট্রের; তাহার পার্শ্বে পিতেম ও বিলাসীর ঘর। পশ্চিমদিকে এই তিনটি ঘর ছিল! উত্তর ও<খুব্ধৰ্বদিকে অনেক ঘর পড়িয়াছিল। বিলাসীর ঘরের পার্শ্বে আর একটি ঘর লইয়া আমি বুঢ়ীদিমিণির খেলাঘর বাধিয়া দিয়াছিলাম। বাটীর চারিদিকে অনেক দূর পর্যন্ত আব, কীট্রষ্ট নারিকেল, সুপারী প্রভৃতি নানা গাছের বাগান ছিল। বাগানের ভিতর চারি-পাঁচটি ছিল। কিন্তু সে মিথ্যা গ্রাম, ম্যালেরিয়া জুরের উপদ্রবে অনেক লোক মরিয়া গিয়াছে; অনেক ততদূর মােঠ ধূ-ধূ করিতেছে। শ্মশানের ন্যায়। সেই বাড়ীতে গিয়া আমি মনে করিলাম,- “ওমা! এ বাড়ীতে আমি কি করিয়া থাকিব? ভয়েই মরিয়া যাইব ।” “যাহা হউক, যেখানে আমার দিদিমণি, সেখানে সব ভাল— সেইখানেই আলো— সেইখানেই সুখ। দিদিমণির দৌড়াদৌড়ি, দিদিমণির খেলা, দিদিমণির কথা, দিদিমণির হাসিতে সেই শ্মশানভূমি,- যেন স্বৰ্গতুল্য হইল। এমন যে অলক-ঠাকুরুণ, যাহার গোমড়ামুখ দেখিলে ভয় হয়, দিদিমণিকে দেখিলে তাহারও মুখ যেন একটু উজ্জ্বল হইত, তাহারও মুখে যেন একটু হাসি দেখা দিত। দিদিমণির যেমন রূপ, তেমনি গুণ। তেমন ফুটফুটে, দুধে আলতার রং আমি আর কোন মেয়ের দেখি নাই। কেমন পুরন্ত গাল দুইটি, কেমন ছোট্টো হাঁ টুকু। কেমন টুকটুকে ঠোঁট, কেমন পটল-চেরা ঢুলু ঢুলু উজ্জ্বল চক্ষু, কেমন কাল লাল চক্ষুর পাতা, কেমন সরু সরু চকচুকে রেশমের মত নরম চুল! হা কপাল! সে দিদিমণিকে ছাড়িয়া এখনও আমি প্ৰাণ ধরিয়া বাঁচিয়া আছি। তারপর দিদিমণি যখন কথা কহিত, তখন প্ৰাণ যেন শীতল হইত, প্ৰাণের ভিতর দিদি আমার যেন সুধা ঢালিয়া দিত। (a8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~) www.amarboi.com"ির্ড”******** দিদিমণিকে লইয়া আমি সেই স্থানে বাস করিতে লাগিলাম। একবার এই সময় ঘোরতর দুৰ্যোগ করিয়াছিল। বাহিরে বাতাস হুহু করিয়া বহিতেছিল। দিদিমণিকে লইয়া আমি শুইয়া আছি। সহসা বাহির বাড়ীতে বেহালার শব্দ হইল। রাত্রি তখন প্রায় দুই প্রহর হইয়াছিল। আমি মনে করিলাম যে, এত রাত্ৰিতে আমাদের বাহির বাড়ীতে বেহালা বাজায় কে? বাহির বাড়ীতে তো কেহ বাস করে না। পরদিন আমি বাহিরবাড়ীতে গিয়া চারিদিক দেখিলাম। জনপ্ৰাণীকেও সে-স্থানে দেখিতে পাইলাম না। পোড়ো ভাঙ্গা বাড়ীর যেরূপ অবস্থা হয়, বাহির বাড়ীর সেইরূপ অবস্থা হইয়াছিল। সেদিন বিলাসীকে একবার একেলা পাইয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “বিলাসি! কাল রাত্রিতে বাহির-বাটীতে বেহালা কে বাজাইতেছিল?” আমার কথা শুনিয়া বিলাসীর মুখ শুষ্ক হইয়া গেল। আমৃতা আমৃতা করিয়া সে উত্তর করিল,- “বেহালা! বেহালা আবার কে বাজাইবে? ও বাতাসের শব্দ।” বিলাসীর কথায় আমার প্রত্যয় হইল না। আমি নিশ্চয় বুঝিলাম যে, সে আমার নিকট কোন বিষয় গোপন করিতেছে। বিলাসী পুনরায় বলিল,— “যাহা হউক, দিদিমণিকে তুমি সদর-বাড়ীতে যাইতে দিও না। সাপ-খোপ কি আছে না আছে, কাজ কি ওদিকে গিয়া।” আরও কিছুদিন গত হইয়া গেল। একবার নয়, আরও অনেকবার আমি সেই বেহালার শব্দ শুনিতে পাইলাম । যখনই রাত্রিকালে বাদলা ও Y 9 প্ৰাণপণে বেহালা বাজায় । কেবল বেহালা নহে সর পূজার সময় মহা-অষ্টমীর রাত্রিতে বাহির বাড়ীতে আমি শাকঘণ্টার শব্দও ভূমি , ধূপ-ধূনার গন্ধও পাইয়াছিলাম। বলিদানের সময় যেমন একজন ভক্ত স্বরে মা মা বলিয়া চীৎকার করে, সে শব্দ শুনিয়াছিলাম। এ সমুদয় ব্যা র্থ কি, তাহা জানিবার নিমিত্ত বৃদ্ধা সহচরীকে, পিতোমকে, বিলাসীকে আমি বারবার করিয়াছিলাম। কিন্তু কেহই আমাকে বলে নাই। “ও কিছু নয়,” এই কথা বলিয়া সকলে প্রকৃত তত্ত্ব আমার নিকট গোপন করিতে চেষ্টা করিয়াছিল । এইরূপে সে স্থানে আমাদের দিন কাটিতে লাগিল। কত শতবার আমি সেই বেহালার শব্দ শুনিতে পাইলাম। পুনরায় পূজার সময় আসিল। মহাষ্টমীর দিন দুই প্ৰহরের সময় দিদিমণি, পিতেম ও বিলাসীর সহিত গ্রামের ভিতর পূজা দেখিতে গিয়াছিল। আমি বিদেশী লোক, আমাকে কেহ নিমন্ত্রণ করে নাই, সেজন্য আমি তাঁহাদের সঙ্গে যাই নাই। পূজা দেখিয়া বেলা পাচটার সময় দিদিমণি ফিরিয়া আসিল। বিলাসী আমাকে বলিল,— “যদু ভড়ের বাড়ী পূজার এবার খুব ধুম। আহা! কি চমৎকার প্রতিমা করিয়াছে। আর শামীদিদি, ভড়গিনী তোমাকে অনেক করিয়া যাইতে বলিয়াছে।” আমি বলিলাম,- “আচ্ছা, বিলাসী! তবে আমি একবার মাকে দেখিয়া আসি। ‘তুই ভাই দেখিস, যেন দিদিমণি কোথাও না যায়।” এই কথা বলিয়া আমি ভড়েদের বাড়ী ঠাকুর দেখিতে যাইলাম। ভড়গিনী আমাকে অনেক আদর করিলেন। অনেকগুলি খই-মুড়কি, নারিকেল-সন্দেশ, রসিকরা—আরও কত কি আমার কাপড়ে বাধিয়া দিলেন। ফিরিয়া আসিতে আমার সন্ধ্যা হইয়া গেল। মজার গল্প ርእ ግርr sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro দ্বিতীয় অধ্যায়। আয় না ভাই বাড়ী আসিয়া তাড়াতাড়ি আমি বিলাসীর ঘরে যাইলাম। দিদিমণিকে সে-স্থানে দেখিতে পাইলাম না। বিলাসী বলিল,- “বোধ হয় অলক ঠাকুরুণের ঘরে আছে।” রুদ্ধশ্বাসে সে ঘরে আমি দৌড়িয়া যাইলাম। অলক ঠাকুরুণ ও সহচরী দুইজনেই তখন সে ঘরে ছিল। দিদিমণিকে দেখিতে না পাইয়া সহচরীকে আমি জিজ্ঞাসা করিলাম। সহচরী উত্তর করিলেন, — “কৈ! সীতা ত’ এ-ঘরে আসে নাই!” এই কথা শুনিয়া প্ৰাণ আমার উড়িয়া গেল। পুনরায় আমি বিলাসীর ঘরে যাইলাম। কাঁদিতে কাঁদিতে আমি বিলাসীকে তিরস্কার করিতে লাগিলাম। বিলাসী কাঁদিতে লাগিল। সে বলিল,- “এইমাত্র আমার ঘরের বারাণ্ডায় সে খেলা করিতেছিল। ঘরের ভিতর আমি কাজ করিতেছিলাম। বোধ হয়, অন্য কোন ঘরে সে খেলা করিতেছে।” এমন সময় পিতেম আসিয়া উপস্থিত হইল। আমার কান্না ও বিলাসীকে ভৎসনার শব্দ শুনিয়া সহচরীও সেই স্থানে উপস্থিত হইলেন। প্ৰদীপ হাতে লইয়া সকলে মিলিয়া আমরা বাড়ী আতিপাতি করিয়া খুঁজতে লাগিলাম। ভিতরবাড়ী খুঁজিম্মুণ্ডমাঝের বাড়ী, তাহার পর সদরবাড়ীর সকল ঘর তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজলাম; কিন্তু কোন স্থার্জেদিদিমণিকে দেখিতে পাইলাম না। মাথা খুঁড়িয়া বুক চাপড়াইয়া আমি উচ্চৈঃস্বরে কঁ । আমি ভাবিলাম যে, হয় গহনার জন্য দিদিমণিকে কেহ মারিয়া ফেলিয়াছে, কিংবা পুষ্করিণীতে পড়িয়া সে ডুবিয়া গিয়াছে। সমস্ত বাড়ী ওলট-পালট করিয়া বাগান ও পুকুরের ধারগুলি মনোযোগের সহিত দেখিলাম। কিন্তু কোন স্থানে দেখিতে পাইলাম না। শেষে পিতেম আমাকে বলিল,- “তোমাকে দেখিতে না পাইয়া তাহার মন কেমন করিয়াছিল, তোমাক খুঁজিবার নিমিত্ত নিশ্চয় সে পূজা-বাড়ীর দিকে গিয়াছে। আমি এখনই তাঁহাকে আনিতেছি।” এই কথা বলিয়া পিন্তেম গ্রামের দিকে চলিয়া গেল । কিন্তু তা বলিয়া আমরা নিশ্চিন্ত থাকিতে পারিলাম না। পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, আমাদের বাড়ী ও বাগানের উত্তরদিকে দূর পর্যন্ত মাঠ ছিল। দিদিমণিকে খুঁজিবার নিমিত্ত বিলাসী ও আমি সেই মাঠের দিকে যাইলাম। মেঘ করিয়াছিল, খুব অন্ধকার হইয়াছিল। তাহার উপর এখন আবার বৃষ্টি পড়িতে আরম্ভ হইল। কিছুক্ষণ পরে সম্মুখে আমরা একপ্রকার সাদা কি দেখিতে পাইলাম। বিলাসীর বড় ভয় হইল। সে বলিল,— “দিদি, ঐ দেখ এক শাকচুণী আসিতেছে। এখনি আমাদের খাইয়া ফেলিবে। আর গিয়া কাজ নাই। এস, বাড়ী ফিরিয়া যাই। এতক্ষণে দিদিমণি বাড়ী আসিয়া থাকিবে।” কোন উত্তর না দিয়া বিলাসীর আমি হাত ধরিলাম, আর সেই সাদা জিনিসের দিকে তাহাকে টানিয়া লইয়া যাইতে লাগিলাম। সেও অন্যদিক হইতে আমাদের দিকে আসিতে লাগিল। অল্পবৃক্ষণ পরে তাহার সহিত আমাদের সাক্ষাৎ হইল। বিলাসী তাহাকে চিনতে পারিল । সে আমাদের প্রতিবাসী একজন কৃষক! কাপড় ঢাকা তাহার বুকের উপর কি ছিল। আমরা কোন কথা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতে না করিতে সে বলিল,- “তোমাদের মেয়েটি মাঠের মাঝখানে A figlig airž3. g3 ze! A www.amarboi.comf:37*"*"********** গাছতলায় অজ্ঞান হইয়া পড়িয়াছিল। কি করিয়া সে মাঠের মাঝখানে আসিয়াছিল, তাহা আমি বলিতে পারি না। আমি দেখিতে পাইয়া এখন তোমাদের বাড়ী লইয়া যাইতেছি।” তাড়াতাড়ি দিদিমণিকে আমি তাহার কোল হইতে আপনার কোলে লইলাম। কিন্তু দিদিমণির সর্বশরীরই ঠাণ্ডা দেখিয়া আমার প্রাণ উড়িয়া গেল। আমি ভাবিলাম, সে মরিয়া গিয়াছে। কাঁদিতে কাঁদিতে আমি তাহার নাকে ও বুকে হাত দিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, নাক দিয়া অল্প অল্প নিশ্বাস পড়িতেছে। আর বুক অল্প অল্প ধুক্‌-ধুক করিতেছে। তাহা দেখিয়া প্ৰাণে আমার কতকটা আশা হইল। তাড়াতাড়ি মাঠ পার হইয়া আমরা বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। অনেক তাপ-সেক করিতে করিতে দিদিমণির চেতনা হইল। সেই চন্দ্ৰমুখে মধুর হাসি দেখা দিল, সুধামাখা দুই-একটি কথা দিদিমণির মুখ হইতে বাহির হইল। অল্প গরম দুধ আনিয়া সহচরী তাঁহাকে খাইতে দিলেন। তাহার সেই পদ্মচক্ষু দুইটি ঘুমে বুজিয়া গেল। সে রাত্রিতে দিদিমণিকে আমরা কোন কথা জিজ্ঞাসা করিলাম না। দূরে মাঠের মাঝখানে একেলা সে কি করিয়া গিয়াছিল, পরদিন সেই কথা দিদিমণিকে আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম। দিদিমণি বলিলেন,- “বারেণ্ডায় আমি খেলা করিতেছিলাম। তাহার পর যে ঘরে আমার খেলা-ঘর আছে, আমি তাহার ভিতর যাইলাম। সেই ঘরের জানালার ধারে যেই দাঁড়াইয়াছি, আর দেখি না ঠিক তাহার নীচেতে বাগানে একটি মেয়ে রহিয়াছে। মেয়েটি আমার মত বড়, কিন্তু খুব সুন্দর। উপরদিকে আমার পানে চাহিয়া সে বলিল,— “সীতা! নেমে আয় না ভাই, আমরা দুইজনে করি।” আমি বলিলাম,- “না ਜਰ মীর্জাির্সয়া আমাকে বকিবে। কাল সকালবেলা শ্ৰেষ্টাির্করিব।” মেয়েটি বলিল,- “এখনও তেমন সন্ধ্যা হয় নাই, এখনও অনেক আলো বৃষ্ট্রিছে। এই দেখ আমার মাথা দিয়া রক্ত পড়িতেছে, তবুও দেখ আমি খেলা করিতেছি। ভূণ্ঠী ভাই।” তবুও আমি নামিলাম না। নীচে নামিতে মেয়েটি আমাকে বারবার বলিতে লাগিল। শেষে সে মাটির উপর বসিয়া পড়িল, বসিয়া হাপুসা নয়নে কাঁদিতে লাগিল। আমি আর থাকিতে পারিলাম না। নীচে নামিয়া বাটীর বাহির হইয়া আমি তাহার কাছে যাইলাম। কিছুক্ষণ বাগানের ভিতর আমরা দুইজনে খেলা করিলাম। এক স্থানে অনেকগুলি রজনীগন্ধা ফুল ফুটিয়া ছিল, তাহা আমরা তুলিলাম। সাদা টগরফুল ফুটিয়া আর একটি গাছ আলো করিয়াছিল। নীচে হইতে যত পারিলাম, সেই টগরফুলও আমরা তুলিলাম। কেমন করিয়া জানি না, তাহার পর বাগান পার হইয়া আমরা মাঠে গিয়া উপস্থিত হইলাম। কেমন করিয়া জানি না, সেই মেয়েটির সঙ্গে অনেক পথ চলিয়া ক্ৰমে মাঠের মাঝখানে গিয়া উপস্থিত হইলাম। সে-স্থানে একটি গাছ ছিল। সেই গাছতলায় একটি মেয়েমানুষ বসিয়া কাঁদিতেছিল। আমার মাকে স্বপ্নের ন্যায় আমার মনে পড়ে। সে মেয়েমানুষটি ঠিক আমার মায়ের মত। সেই রকম রং, সেই রকম মুখ, সেই রকম চুল, সেই রকম কথা। আদর করিয়া তিনি আমাকে কোলে লইলেন, আমার মুখে তিনি কত চুমা খাইলেন। কোলে বসাইয়া আমার মাথায় তিনি হাত বুলাইতে লাগিলেন। তাহার পর কি হইল, আর আমার মনে নাই।” -2lysis is! sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 62 qq তৃতীয় অধ্যায় বালিকা ভূত দিদিমণির এই কথা শুনিয়া সহচরী। পিতোমকে চক্ষু টিপিলেন। তাহার পর তিনি বিলাসীর গা টিপিলেন। ইহার মানে আমি কিছু বুঝিতে পারিলাম না। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “সে মেয়েটি কে? সে তো বড় দুষ্ট মেয়ে দেখিতেছি। তাহাকে আর বাগানে আসিতে দেওয়া যাইবে না ।” আমার কথার কোন উত্তর না দিয়া সহচরী বলিলেন,- “এ বিষয় অলক ঠাকুরুণকে জানাইতে হইবে। তিনি যেরূপ বলেন, সেইরূপ করিতে হইবে।” এই কথা বলিয়া সহচরী সে ঘর হইতে চলিয়া গেলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি আমাকে, পিতোমকে ও বিলাসীকে অলক ঠাকরুণের ঘরে ডাকিয়া পাঠাইলেন। দিদিমণিকে কোলে লইয়া আমি পিতেম ও বিলাসীর সঙ্গে সেই ঘরে যাইলাম। অলক ঠাকরুণ খুড়-থুড়ে বুড়ী হইয়াছিলেন। তিনি অধিক কথা বলিতে পারিতেন না। তাঁহার হইয়া সহচরী আমার দিকে চাহিয়া বলিলেন,- “অলীক ঠাকুরুণ তোমাকে বলিতে বলিলেন যে, সে মেয়েটি মানুষ নহে। তাহার মা, যাঁহাকে সীতা গাছতলায় দেখিয়াছিল, তিনি অলক ঠাকুরুণের ভাইঝি, সীতার মাসী । অনেকদিন হইল, তিনি ও তাঁহার কন্যা অপঘাত-মৃত্যুতে মরিয়া গিয়াছেন। তাঁহাদের গতি হয় নাই, এখন তাঁহারা এরূপ হইয়া আছেন। তাঁহা সৰ্ব্বদা, বিশেষতঃ ঝড় বাতাস , আর এই পূজার সময়, বাড়ীর চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়ান। পিতেম, বিলাসী শামী, তোমাদের সকলকে অলক ঠাকুরুণ বলিতেছেন যে, সীতাকে তােমরা খুকণ্ঠবিধানে রাখিবে, নিমিষের নিমিত্ত তােমরা তাহাকে চক্ষের আড় করিবে না। সে মেয়েৰ্ছ এবার যদি সীতাকে ভুলইয়া লইয়া যায়, তাহা হইলে আর তোমরা সীতাকে পাইবে নৃষ্ঠেত এই কথা শুনিয়া আমার আত্মাপুৰুষ উড়িয়া গেল। কি করিয়া মেয়েকে ভূতের হাত হইতে বঁাচাইব, সেই ভাবনায় আমি আকুল হইয়া পড়িলাম। তোমার মামার তখনও কৰ্ম্ম-কাজ হয়। নাই, একদিন গিয়া দাঁড়াই, একবেলা একমুঠা কেহ যে ভাত দেয়, এমন স্থান ছিল না। কাদায় গুণ ফেলিয়া দিদিমণিকে লইয়া কাজেই আমাকে সেই ভয়ানক বাড়ীতে থাকিতে হইল। কিন্ত সেই দিন হইতে দিদিমণিকে আমরা নিমিষের জন্যও চক্ষুর আড় করিতাম না। হয় আমি, না হয় বিলাসী, না হয়। পিতেম, কেহ না কেহ সৰ্ব্বদা তাহার কাছে থাকিত। কিন্তু মাঝে মাঝে জানালার দ্বারে দাঁড়াইয়া দিদিমণি আমাদিগকে বলিত,- “ঐ সেই মেয়েটি আসিয়াছে, ঐ আমাকে হাতছানি দিয়া ডাকিতেছে। শামী, তুই আমাকে সুন্দর বলিস্, কিন্তু ওর পানে একবার চাহিয়া দেখ। আহা! কি চমৎকার রূপ। কেবল ওর পানে চাহিয়া থাকিতে ইচ্ছা করে, অন্যদিকে চক্ষু ফিরাইতে ইচ্ছা করে না। ঐ দেখ, আবার আমাকে ডাকিতেছে। আমি যাইতেছি। না বলিয়া, আহা! মেয়েটি ঐ দেখ, কতই না কাদিতেছে। তাহার কাপড় সে আমাকে দেখাইতেছে, তাহার কাপড় ভিজিয়া গিয়াছে, টসূ-টস্ করিয়া তাহার কাপড় হইতে জল পড়িতেছে। এ আবার কি? হাত দিয়া সে আপনার মাথা আমাকে দেখাইতেছে। আহা! মেয়েটির মাথায় কে মারিয়াছে, মাথা হইতে গাল বহিয়া রক্ত পড়িতেছে। শামী! একবার আমাকে ছাড়িয়া দে। আমি উহার কাছে যাই, উহাকে বাড়ীর ভিতর ডাকিয়া আনি । তুই উহার মাথায় ঔষধ দিয়া দিবি। আমার ঐ কাপড়খানি আমি উহাকে পরিতে দিব । যাই ভাই, যাই!” ርእ ግbr fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** এইরূপ বলিলে তাড়াতাড়ি আমি তোমার মাকে গিয়া কোলে লইতাম। উপর হইতে বাগানের দিকে আমি চাহিয়া দেখিতাম, কিন্তু আমি কিছু দেখিতে পাইতাম না। কি করিব! ঘরের দ্বারজানালা বন্ধ করিয়া, মেয়েকে কোলে লইয়া, ভয়ে জড়সড় হইয়া আমি বসিয়া থাকিতাম । এইরূপে অতিকষ্টে আমরা সেই বাড়ীতে দিনপাত করিতে লাগিলাম। পুনরায় পূজার সময় আসিল । এই সময় দিদিমণি সেই মেয়েটাকে ঘন ঘন দেখিতে লাগিল। বাগানের দিকে জানালা এখন আমি সৰ্ব্বদাই বন্ধ করিয়া রাখিতাম। তথাপি দিদিমণি বলিত,- “শ্যামী! জানালা খুলিয়া দে। মেয়েটি নীচে আসিয়াছে, সে আমাকে ডাকিতেছে। শামী! তোর পায়ে পড়ি, একবার জানােলা খুলিয়া দে, একবার তাহাকে আমি দেখি।” মহাষ্টমীর দিন মেয়েকে লইয়া আমি বড়ই বিব্রত হইলাম। সেদিন ভয়ানক দুৰ্য্যোগ হইয়াছিল। সীতাকে কোলে লইয়া আমি ঘরে বসিয়াছিলাম। এখন আর বাহিরে নয়, সেদিন দিদিমণি সেই মেয়েটিকে বাড়ীর ভিতরেই দেখিতে লাগিল! আমি দ্বার বন্ধ করিয়াছিলাম। তথাপি দিদিমণি বলিতে লাগিল,- “ও শামী! মেয়েটি আজ বাড়ীর ভিতর আসিয়াছে, ঘরের বাহিরে আমাদের ঘরের নিকট দাঁড়াইয়া আছে। ছাড়িয়া দে শামী । আমি একবার তাহার কাছে যাই। একবার তাহাকে না দেখিলে মরিয়া যাইব ।” এই বলিয়া দিদিমণি হাপুসা নয়নে কাঁদিতে লাগিল! কি যে করি, তাহা আমি বুঝিতে পারিলাম না। মেয়ে লইয়া আমি অলক ঠাকুরুণের ঘরে যাইলাম। সে-স্থানে সহচরী উপস্থিত ছিলেন। আমি বলিলাম,- “আজ বাছা, আমাদের দৃশ্লাওয়া-দাওয়াতে কাজ নাই। সকলে মিলিয়া এস, আজ আমরা মেয়েকে ঘিরিয়া বসিয়া । তা না করিলে, দিদিমণিকে আজ আমরা বাঁচাতে পারিব না, সেই দুষ্ট মেয়েটা আসিয়াদিদিমণিকে নিশ্চয় আজ লইয়া যাইবে।” সহচরী অলক ঠাকুরুণকে সকল কথ্য বুন্সিলেন। অলক ঠাকুরুণ আমার কথায় সম্মত হইলেন। পিতৃম ও বিলাসীকে ডাকিয়ুৰ্ৱৰ্জনালা বন্ধ করিয়া দিদিমণিকে ঘিরিয়া, সকলে NNیکبر বলা বাহুল্য যে, ইতিপূৰ্ব্বে এই বিড়ম্বনা নিবারণের জন্য অনেক প্রতিকার করা হইয়াছিল। গয়াতে পিণ্ড দেওয়া হইয়াছিল, শান্তি-স্বস্ত্যয়ন করা হইয়াছিল, রোজা আনিয়া ঝাড়ান ও ভূত নামানো হইয়াছিল, দিদিমণির অষ্টাঙ্গে কবচ, মাদুলি ও নেকড়ার পুঁটুলি বাধা হইয়াছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় নাই। চতুৰ্থ অধ্যায়। বিষম মহাষ্টমী করিয়াছিল। “ঐ সেই মেয়েটি আসিতেছে, সে আমাকে ডাকিতেছে, তাহার কাপড় ভিজিয়া গিয়াছে, তাহার মাথা দিয়া রক্ত পড়িতেছে; দাও, আমাকে ছাড়িয়া দাও, আমি তাহার কাছে যাই।” এই বলিয়া দিদিমণি বারবার কাঁদিতেছিল, আর আমার কোল হইতে উঠিয়া আমার হাত মজার গল্প (?ąy sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ছাড়াইয়া বারবার বাহিরে পলাইতে চেষ্টা করিতেছিল। অতিকষ্টে আমি তাহাকে ধরিয়া রাখিতেছিলাম । সন্ধ্যার পর দিদিমণি ঘুমাইয়া পড়িল। আমি ভাবিলাম যে, এইবার বুঝি আমাদের বিপদ কাটিয়া গেল, আর বুঝি কোন উপদ্রব হইবে না। কিন্তু আমরা কেহ নিদ্রা যাইলাম না, ঘরে দুইটা আলো জ্বালাইয়া সকলে জাগিয়া বসিয়া রহিলাম। রাত্রি প্রায় দুই প্রহর হইয়াছে। এমন সময় সহসা বাহির বাটীতে সেই বেহালা বাজিয়া উঠিল। কেবল বেহালা নহে, তাহার সঙ্গে ঢাক-ঢোল, শাক-ঘণ্টা কাসর-ঘড়িও বাজিয়া উঠিল। সেই সকল বাজনা ছাপাইয়া বলিদানের সেই ভয়ানক মা মা চীৎকারে আমাদের যেন কানে তালা লাগিতে লাগিল, আতঙ্কে আমাদের প্রাণ শিহরিয়া উঠিল, ভয়ে আমাদের শরীর রোমাঞ্চ বসিল। আমরা কিছু বলিতে না বলিতে চোৎ করিয়া সে দ্বারের নিকট গিয়া খিল খুলিয়া ফেলিল। তাহার পর আমরা তাহাকে ধরিতে না ধরিতে রুদ্ধশ্বাসে বাহির বাড়ীর পূজার দালানের দিকে সে দীেড়িল। “ও মা, কি হইল, সৰ্ব্বনাশ হইল।” এই কথা বলিতে বলিতে অলক ঠাকরুণ ছাড়া আর সকলেই আমরা তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ দীেড়িলাম। কিন্তু তাহাকে ধরিতে পারিলাম না। দিদিমণি আমাদের আগে আগে গিয়া বাহির বাড়ীর পূজার দালানে গিয়া উপস্থিত হইল। সে-স্থানের অদ্ভুত ব্যাপার দেখিয়া আমরা জ্ঞানহারা হইলাম। এখন আর সে ভাঙ্গা জনশূন্য বাড়ী নাই। খুব ধুম-ধামের দুর্গোৎসবুহেইলে যেরূপ হয়, সে-স্থানে এখন সেইরূপ হইয়াছে। দালানের মাঝখানে প্ৰতিমা সুসজ্জিত। প্রতিমার চারিদিকে নৈবেদ্য প্রভৃতি পূজার আয়ােজন রহিয়াছে। পুরোহিতগণ বসিয়া আছেন। একপার্শ্বে একজন চণ্ডীপাঠ করিতেছেন। সম্মুখের প্রাঙ্গুষ্ঠু লৈাকে লোকারণ্য হইয়াছে, ধূপ-ধূনার গন্ধে চারিদিক আমোদিত হইয়া আছে। উঠানে, সকল স্থানে ঝাড়-লষ্ঠান জুলিতেছে। ফলকথা, এমন ধুমধামের পূজা দেখি নাই । দিদিমণি কাহারও প্রতি ভ্ৰক্ষেপ মা করিয়া দালান পার হইয়া দালানের পূর্বদিকে চলিয়া গেল। ভয়ে কঁাপিতে কঁাপিতে আমরাও তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলাম। দালানের পূর্বদিকে একটি ঘর ছিল। সেই ঘরের ভিতর তক্তপোষের উপর একজন বৃদ্ধ বসিয়াছিলেন। তাহার বামহাতে বেহালা, আর দক্ষিণ হাতে যা দিয়া বাজায় তাই ছিল। একটি পরমা সুন্দরী স্ত্রীলোক মাটিতে বসিয়া বৃদ্ধের পা দুইখানি ধরিয়া কি বলিতেছিলেন। সেই স্ত্রীলোকের পার্শ্বে সাত-আট বৎসরের ঐক বালিকা দাড়াইয়াছিল। দিদিমণি বরাবর গিয়া সেই ঘরের দ্বারের একপার্শ্বে দাড়াইল। খপ করিয়া আমি গিয়া দিদিমণির হাত ধরিয়া ফেলিলাম। তাহার পর আমরা সকলেই সেই দ্বারের নিকট দাড়াইয়া রহিলাম। যে স্ত্রীলোক বৃদ্ধের পা ধরিয়া ছিলেন, তিনি এখন কীদ-কঁদ মৃদু মধুর-স্বরে বলিলেন,- “বাবা, অপরাধ করিয়াছি সত্য! কিন্তু আমি তোমার কন্যা। শত অপরাধ করিলে, কন্যাকে ক্ষমা করিতে হয়। এই মেয়েটিকে লইয়া আমি এখন কোথায় যাই।” বৃদ্ধ অতি নিষ্ঠুর ভাষায় বলিলেন, — “আমি প্রতিজ্ঞা করিয়াছি যে, তাের আমি মুখ দেখিব না। কালামুখ লইয়া এ বাড়ী হইতে এখনই দূর হইয়া যা।” স্ত্রীলোক উত্তর করিলেন, — “বাবা! আমি কোনরূপ দুষ্কৰ্ম্ম করি নাই, স্বামীর ঘরে গিয়াছি, Qbrひ frig -ibs gas sell - www.amarboicon: "* এইমাত্র।” বৃদ্ধ বলিলেন,- “তুই দূর হ, আমার সম্মুখ হতে দূর হী।” স্ত্রীলোকটি অবশেষে বলিলেন, “আচ্ছা বাবা, আমি দূর হইতেছি, কিন্তু আমার কন্যাটি তো কোন অপরাধ করে নাই। ইহাকে আমি তোমার নিকট রাখিয়া যাইতেছি। পাতের হাতের দুইটি ভাত দিয়া ইহাকে &ङि°ब्लन् दि७ ।।' সেই কথা শুনিয়া বৃদ্ধ আরও জুলিয়া উঠিলেন,— “তোর ঝাড় আমার এ বাড়ীতে থাকিতে পরিবে না। দূর দূর, এখনি দূর হ।” স্ত্রীলোক ও তাহার কন্যা সত্ত্বর দূর হইতেছে না, তাহা দেখিয়া বৃদ্ধ রাগে অন্ধ হইয়া পড়িলেন। ধৈৰ্য ধরিতে না পারিয়া তিনি সেই বেহালার বাড়ী কন্যার মাথায় মারিয়া বসিলেন। কন্যার মাথা হইতে দীর দীর ধারায় রক্ত পড়িতে লাগিল। গাল বাহিয়া সেই রক্ত মাটিতে পড়িল । এই নিষ্ঠুর ব্যবহার দেখিয়া সেই স্ত্রীলোক তখন উঠিয়া দাঁড়াইলেন। চক্ষু দিয়া তাঁহার যেন আগুনের ফিন্‌কি বাহির হইতে লাগিল। তিনি বলিলেন,- “বাবা! তুমি এ কাজ করিলে। যাহা হউক, আমি তোমাকে কিছু বলিব না। কিন্তু আজ হইতে তোমার লক্ষ্মী ছাড়িল।” এই কথা বলিয়া মেয়েটির হাত ধরিয়া স্ত্রীলোকটি সেই ঘর হইতে বাহির হইলেন। তাহার পর দালানের ভিতর দিয়া উঠানে গিয়া নামিলেন। তাহার পর উঠান পার হইয়া বাড়ীর বাহিরে চলিয়া গেলেন। যেই তিনি বাড়ীর বাহির হইলেন, আর বৃদ্ধ ভয়ানক চীৎকার করিয়া সেই তক্তপোষের উপর শুইয়া পড়িলেন। সেই সময় ঝাড় লণ্ঠন সব নিবিয়া গেল্প সকলে পুনরায় অলক ঠাকুরুণের ঘরে যাইলাম। সীতা তৎক্ষণাৎ ঘুমাইয়া পড়িল। সে রাত্রিতে আর কোন উপদ্রব হইল না। কিন্তু সে রাত্ৰিতে আমাদের নিদ্রা হইল না। আমরা সকলে বসিয়া রহিলাম। পিতেম। তখন আমাকে সকল কথা বলিল। পিতেম বলিল,- “ঐ যে বৃদ্ধ দেখিলে, উনি বাড়ীর কৰ্ত্ত ছিলেন। উহার নাম জগমােহন চৌধুরী। উনি বড় দুৰ্দান্ত লোক ছিলেন। একবার যাহা বলিতেন, তাহাই করিতেন, তা সে ভালই হউক আর মন্দ হউক। পৃথিবীতে তাঁহার কেবল একটি সখ ছিল। বেহালা বাজাইতে তিনি বড় ভালবাসিতেন। সময় নাই, অসময় নাই, সৰ্ব্বদাই তিনি বেহালা বাজাইতেন। বিশেষতঃ ঝড় বাতাস বাদলার মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro (rbrm রাত্ৰিতে তাহার সখটি কিছু প্ৰবল হইত। অলক ঠাকরুণ র্তাহার ভগিনী। জগমোহন রায়ের এক পুত্র ও দুই কন্যা ছিল। পুত্ৰ সীতার মামা, যিনি এখন পশ্চিমে কাজ করেন। বড় কন্যার নাম ছিল রামমণি, যাহার ভূতকে সীতা মাঠের মাঝখানে গাছতলায় দেখিয়াছিল। ছোট মেয়ের নাম ছিল তারামণি, তিনি সীতার মা। রায়চৌধুরী বড় মানুষ লোক, কোন পুরুষ কন্যা শ্বশুরবাড়ী পাঠাইতেন না। কিন্তু রামমণির এক তেজস্বী পুরুষের সহিত বিবাহ হইয়াছিল। তিনি বলিলেন যে,- “ঘর-জামাই হইয়া আমি কিছুতেই থাকিব না।” আপনার স্ত্রীকে তিনি নিজের বাড়ী লইয়া যাইতে চাহিলেন। কিন্তু কৰ্ত্তা কিছুতেই সম্মত হইলেন না। শ্বশুর-জামাতায় ঘোর বাদবিসম্বাদ বাধিয়া গেল। অবশেষে কৰ্ত্তা একদিন রামমণিকে ডাকিয়া জামাতার সমক্ষে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তুমি ইহাকে চাও—না আমাকে চাও।” রামমণি উত্তর করিলেন,- “বাবা! উঠিলেন। তিনি বলিলেন,- “বাঁট! তবে এখনি আমার বাড়ী হইতে দূর হও। আমি প্ৰতিজ্ঞা করিতেছি যে, আজ হইতে আমি তোমার মুখ দেখিব না।” রামমণি শ্বশুরালয়ে গমন করিলেন। নয়-দশ বৎসর স্বামীর ঘর করিলেন। তাঁহার একটি কন্যা হইল। সে কন্যাটির ভূত সীতাকে মাঠে লইয়া গিয়াছিল। নয়-দশ বৎসর পরে রামমণির স্বামীর মৃত্যু হইল। পরিবার প্ৰতিপালনের নিমিত্ত তিনি একটি পয়সাও রাখিয়া যান নাই। রামমণি ঘোর বিপদে পড়িলেন। পিতাকে কয়েকখানি পত্র লিখিলেন। পিতা কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে ভাবিলেন,- “পূজার সময় লোকের মন নরম হয়। এই পূজার সময়ত্ত্বাবার পায়ে গিয়া পড়ি, তাহা হইলে তিনি বােধহয় ক্ষমা করবেন।” পূজার সময় কন্যাকৃেষ্ট্ৰেয়ী রামমণি পিতার বাটীতে আসিলেন। গাছতলায় মরিয়া পড়িয়া আছেন। কৰ্ত্ত আরও কয়েক মাস জীবিত রহিলেন। কিন্তু হইতেই আর তিনি কথা কহিতে পারেন নাই, কি উঠিয়া বসিতে পারেন নাই। সেই তাঁহার লক্ষ্মী ছাড়িয়া গেল। জমিদারী, টাকা-কড়ি কিরূপে কোথায় যে উড়িয়া গেল, তাহ কেহ বলিতে পারে না। ঘর-জামাই রাখার অহঙ্কারও সেই সঙ্গে দূর হইল। সেজন্য সীতার মাকে শ্বশুরবাড়ী পাঠাইতে আর কোন আপত্তি রহিল না। কৰ্ত্তা, রামমণি ও তাঁহার কন্যা—তিন জনেই এখন ভূত হইয়া আছেন। কতবার গয়াতে পিণ্ড দেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু কোন ফল হয় নাই।” পরদিন প্ৰাতঃকালে আমি ভাবিলাম যে, ভিক্ষা করিয়া খাইতে হয়, সেও স্বীকার; তবু সীতাকে লইয়া সে বাড়ীতে আর আমি থাকিব না। সীতার ভাই, তোমার মামাকে আমি পত্র লিখিলাম। ভাগ্যক্রমে এই সময় তাহার কৰ্ম্ম হইয়াছিল। তিনি আসিয়া আমাকে ও সীতাকে তাহার নিজের বাড়ীতে লইয়া গেলেন। কিছুদিন পরে সীতার বিবাহ হইল। তাহার পর তুমি ও প্ৰভা হইলে । কিছুদিন পরে তোমার পিতার কাল হইল। অল্পদিন পরে দিদিমণিও তাঁহার সঙ্গে স্বর্গে গেলেন। দিদিমণিকে হারাইয়া কি করিয়া আমি যে প্ৰাণ ধরিয়া আছি, তাহাঁই আশ্চৰ্য । যাহা হউক, তোমাদের দুইজনকে পাইয়া আমি শোক অনেকটা নিবারণ করিতে পারিয়াছি। মা দুৰ্গা তোমাদিগকে আর যত ছেলে-পিলেকে বাচাইয়া রাখুন। Qbrミ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.comন্মিলাক্যনাথ রচনা সংগ্ৰহ পিঠে-পাৰ্ব্বণে চীনে ভূত প্ৰথম অধ্যায় ইঙ্গলা-পিঙ্গলা নাড়ী রাধামাধব গুপ্ত তাঁহার মাতুলের সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছেন। মাতুল ব্ৰহ্মদেশে কোন স্থানের ডাক্তার ছিলেন। অন্ত্রচিকিৎসায় তাহার বিশেষ নৈপুণ্য ছিল। লোকের হাত-পা কাটিয়া তিনি অনেক টাকা উপাৰ্জ্জন করিয়াছেন। সে টাকা তিনি খরচ করেন নাই, সঞ্চয় করিয়াছেন। সেজন্য তাঁহাকে একজন ধনবানু লোক বলিলেও বলিতে পারা যায়। বৃদ্ধবয়সে কৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া তিনি দেশে আসিয়াছেন। দেশে আসিয়া প্রথম তীর্থদর্শন করিয়া কিছুকাল অতিবাহিত করিয়াছিলেন। এখন তিনি কলিকাতায় আসিয়া বাসা করিয়াছেন। রাধামাধব সেই স্থানে তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছেন। রাধামাধব নিজেও পাশকরা ডাক্তার । , অন্য কোন স্থানে তিনি ডাক্তারী করেন। প্রথম প্রথম সেই স্থানে তাঁহার কাজী ভূস্ত্ররূপ চলিয়াছিল, কিন্তু এখন আর তাঁহার বনাই ছ। তাহার চারিটি কন্যা। বড় কন্যাটি ত্রয়োদশ X , আর রাখা যায়” না। তাহার বিবাহ দিতে অন্ততঃ দুই হাজার টাকা খরচ হইবে। সে টাকা কোথা হইতে আসিবে? বহুকাল পরে মাতুল দেশে আসিয়াছেন। তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করা। কৰ্ত্তব্য কাজ বটে। তাহা ব্যতীত রাধামাধব ভাবিলেন,- “মাতুল-মাতুলানীর পুত্ৰ-কন্যা নাই, আমি তাঁহাদের একমাত্র উত্তরাধিকারী। তাঁহাকে আমি আমার বিপদের কথা জানাইব। এখন কিছু যদি তিনি আমাকে সাহায্য করেন, তাহা হইলে বড় উপকার হয়।” মাতুল-মাতুলানীকে তিনি প্ৰণাম করিলেন। রাধামাধবকে তাহারা অনেক আদর করিলেন। নানারূপ সুখাদ্যের আয়োজন করিয়া মাতুলানী তাঁহাকে ভোজন করাইলেন। এইরূপে একদিন, দুই দিন, তিন দিন কাটিয়া গেল। কিন্তু এখনও তিনি টাকার কথা তুলিতে পারিলেন না। সে কথা মুখে আনিতে তাঁহার লজ্জা বোধ হইল। অনেকবার সেই কথা ঠোঁটের আগায় আনিয়াও তিনি বলিতে পারিলেন না। লজ্জা ব্যতীত একথা না বলিবার আর একটি কারণ ছিল। তিনি দেখিলেন যে, তাহার মাতুল-মাতুলানী দুইজনেরই শরীর সুস্থ নহে। দুইজনেরই শরীর শীর্ণ হইয়া গিয়াছে, মুখে যেন কালি মাড়িয়া দিয়াছে। দুইজনেই সৰ্ব্বদা অতি বিমৰ্ষভাবে থাকেন। মনে যেন সৰ্ব্বদাই কিরূপ একটা ভয়—কিরূপ 巫函穷政 trO sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro একটা দুশ্চিন্তা। রাধামাধব আরও দেখিলেন যে, তাহার মাতুলের মস্তকটি মুণ্ডিত, তাহার মাথায় চুল নাই। একদিন তিনি মাতুলকে জিজ্ঞাসা করিলেন, — “বরমায় আপনি যেস্থানে ছিলেন, সেস্থানের জলবায়ু কি ভাল ছিল না? আপনারা দুইজনেই অতিশয় শীর্ণ হইয়া গিয়াছেন। দেখিলে বোধহয়, যেন আপনাদের শরীরে কোন একটা রোগ আছে।” মাতুল উত্তর করিলেন,- “না, আমাদের শরীরে কোন রোগ নাই।” এইরূপ উত্তর দিয়া তিনি সেকথা চাপা দিতে চেষ্টা করিলেন । রাধামাধব সে সম্বন্ধে আর কোন কথা জিজ্ঞাসা না করেন, ইহাই যেন তাহার ইচ্ছা । সেজন্য রাধামাধব, আর কোন কথা জিজ্ঞাসা করিলেন না। কিন্তু তিনি বুঝিলেন যে, তাহার মামা-মামীর শরীরে রোগ না থাকুক, মনে কোনরূপ রোগ হইয়াছে। কোনরূপ একটা ভয় অথবা দুর্ভাবনায় তাহাদের শরীর এরূপ শীর্ণ ও মলিন হইয়া গিয়াছে। পরদিন টাকাকড়ির কথা মামা নিজেই তুলিলেন। মামা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কেমন রাধামাধব! তুমি যেস্থানে ডাক্তারী কর, সেস্থানে দু’পয়সা হয় তো?” রাধামাধব উত্তর করিলেন,- “প্ৰথম প্রথম বেশ দু’পয়সা হইত। তাহার পর কোথা হইতে সেস্থানে এক অবতার আসিয়া উপস্থিত হইল। সেই অবধি আমার আর বড় কিছু হয় না।” মাতুল জিজ্ঞাসা করিলেন,- “অবতার কিরূপ?” রাধামাধব উত্তর করিলেন,- “গেরুয়া কাপড়পরা লোক । সেও চিকিৎসা করিয়া জীবিকা নিৰ্ব্বাহ করে। রোগীকে কখন ডাক্তারি, কখনওঁহাৈমিওপ্যাথি, কখন কবিরাজি, কখন হাকিম, কখন স্বপ্নলুব্ধ ভৌতিক ঔষধ প্ৰদান করুণািভাবে পা রাখিয়া নানা ভঙ্গ করিয়া সে বসিতে জানে। রোগীর নিকট বসিয়া ইঙ্গল্য-প্তির্ভুল নাড়ী, কুণ্ডলিনী প্রভৃতি নানা গল্প করে। সে বলে যে,- “আমি ভূত নামাইতে পারি দুৰ্ভাৰ্যক্তির আত্মকে ডাকিতে পারি। যে পৰ্যন্ত এই X মই ঔষধি আমার পসার প্রতিপত্তি একেবারে গিয়াছে। বড় চলে না। কোথা যে টাকা পাইব, সেজন্য বড় দুর্ভাবনা হইয়াছে।” মাতুল জিজ্ঞাসা করিলেন,- “সে লোকটি ভূত-প্ৰেত সম্বন্ধে যে সমুদয় গল্প করে, তাহা কি মিথ্যা?” রাধামাধব উত্তর করিলেন, — “সমুদয় মিথ্যা। ভূত আবার কোথায়? ভূত বলিয়া জগতে কোনরূপ বস্তু নাই।” মাতুল বলিলেন, — “বটে! যদি দেখিতে পাও?” রাধামাধব উত্তর করিলেন,— “এ বিষয়ে আমি নিতান্ত অনভিজ্ঞ নাহি। মৃত ব্যক্তির আত্মকে আহবান করা সম্বন্ধে ইংরেজীতে যত পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছে, সে সমুদয় আমি পাঠ করিয়াছি। যে প্রণালী অবলম্বন করিয়া আত্মাকে আহবান করিতে হয়, বন্ধুবান্ধবের সহিত তাহা করিয়া আমি অনেক দেখিয়াছি। যেখানে ভূত আছে বলিয়া শুনিয়াছি, একেলা নিৰ্ভয়ে সেস্থানে রাত্রিযাপন করিয়াছি। ভূত দেখিবার নিমিত্ত রাত্রিকালে একেলা শশানে-মশানে অনেক ঘুরিয়াছি। একদিন দুই দিন নয়, তিন বৎসরকাল এরূপ চেষ্টা করিয়াছি। কিন্তু ভূতের চিহ্নমাত্রও আমি দেখিতে পাই নাই। ভূতের গল্প সব অলীক। ভূত বলিয়া জগতে কিছুই নাই। মাতুল বলিলেন, — “যদি প্রত্যক্ষ তোমাকে দেখাইতে পারি?” ርmbr£ află cios (gs se - www.amarboi conf** রাধামাধব উত্তর করিলেন, — “তাহা হইলে আপনার নিকট আমি চিরধাণী হইয়া থাকিব। পরকালের প্রতি আমার বিশ্বাস নাই। যদি ভূত দেখিতে পাই, তাহা হইলে পরকাল সম্বন্ধে আমার মনের সন্দেহ দূর হয়।” মাতুল বলিলেন,- “না, তুমি ছেলেমানুষ, তাই ওরূপ কথা বলিতেছ। কাজ নাই, শেষে একটা বিপদ ঘটিবে ।” রাধামাধব মাতুলকে জোর করিয়া ধরিলেন। তিনি বলিলেন যে,- “যদি যথার্থই আপনি আমাকে ভূত দেখাইতে পারেন, তাহা হইলে দেখাইতেই হইবে। আমি আপনাকে কিছুতেই ছাড়িব না। আপনার কোন ভয় নাই। আমার মন রীতিমাত্রও বিচলিত হইবে না।” মামা-ভাগিনেয়তে যখন এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইতেছিল, তখন রাত্রি দশটা বাজিয়া গিয়াছিল। মাতুল যখন দেখিলেন যে, রাধামাধব তাঁহাকে কিছুতেই ছাড়িলেন না, তখন তিনি বলিলেন,- “তবে আমার সঙ্গে এস।” দ্বিতীয় অধ্যায়। হাতকাটা চীনূেড়ান

ಜ್ಜೈ য়া তালা খুলিলেন। ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া রাধামাধব দেখিলেন যে, গাঁয়ে দুইদিকে কাঠের আলমারী আছে। সেই আলমারীতে দুই স্তর কাঠের সেলফ। অষ্ট্ৰছ, আর তাহার উপর অনেকগুলি ছােট-বড় শিশি রহিয়াছে। কোন শিশিতে মানুষের র্দষ্ট কোনটিতে চক্ষু, কোনটিতে পাথুরী, কোনটিতে অস্থি, মনুষ্যদেহের নানারূপ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রহিয়াছে।

মাতুল বলিলেন,- “এ আমার বাই। আমি নিজ হাতে যত কিছু কাটিয়াছি-কুটিয়াছি, তাহা আমি স্পিরিটে রাখিয়া দিয়াছি। ইহা অপেক্ষা আরও অনেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিল। আমার বাড়ীতে একবার আগুন লাগিয়া তাহার অধিকাংশ নষ্ট হইয়া গিয়াছে।” ঘরের পার্শ্বে একখানি কোচ ছিল। মাতুল বলিলেন,- “এই কোচের উপর তোমায় আমি বিছানা করিয়া দিতেছি। এই ঘরে একেলা শুইতে পারিবে? আমি একটি ল্যাম্প আনিয়া দিতেছি। ল্যাম্প জুলিতে থাকুক, অন্ধকারে থাকিয়া কাজ নাই।” রাধামাধব উত্তর করিলেন, — “স্বচ্ছন্দে আমি এই ঘরে একেলা শুইয়া থাকিব। অন্ধকার করিলেও আমার ভয় হইবে না।” মাতুল বলিলেন,- “বেশ কথা! তুমি কিছু দেখিবে কি না দেখিবে, সেকথা এখন তোমাকে বলিব না। এখন বলিলে পূৰ্ব্ব হইতে তোমার মনে একটা সংস্কার জন্মিয়া যাইবে।” মাতুল নিজ হাতে কোচের উপর বিছানা করিয়া দিলেন। ঘরের পার্শ্বে ছোট একটি টেবুল ছিল। সেই টেবলের উপর ল্যাম্প রাখিয়া তিনি বলিলেন, — “রাধামাধব! এখন আমি চলিলাম। পাশের ঘরেই আমি শয়ন করি। রাত্রিতে আমার নিদ্রা হয় না। আবশ্যক হইলে তুমি আমাকে ডাকিবে, আমি তৎক্ষণাৎ আসিয়া উপস্থিত হইব।” ay $ig ?!! sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 6አbrÓ মাতুল প্ৰস্থান করিলে, রাধামাধব ঘরের দ্বার উত্তমরূপে বন্ধ করিয়া দিলেন। তাহার পর ঘরের অন্যান্য দ্বার-জানালা ভালরূপ বন্ধ আছে কি না, তাহাও পরীক্ষা করিয়া দেখিলেন। অবশেষে ল্যাম্পের আলোক কমাইয়া দিলেন। ল্যাম্প মিটমিট করিয়া জুলিতে লাগিল। কিন্তু ঘরের সকল বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাইতে লাগিল। আজ সমস্ত রাত্রি জাগিয়া কাটাইবি, এইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিয়া কোচের উপর রাধামাধব শয়ন করিলেন। কিন্তু একঘণ্টা পরেই তিনি ঘোেরনিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলেন। কতক্ষণ নিদ্রা গিয়াছিলেন, তাহা তিনি বলিতে পারেন না। সহসা তাঁহার নিদ্রাভঙ্গ হইল। ঘরের ভিতর ঠিকঠক শব্দ হইতেছিল। সেইদিকে তিনি চাহিয়া দেখিলেন। দেখিলেন যে, আলমারীর ধারে ধারে একজন পুরুষমানুষ বেড়াইতেছে। নিজ হাতে রাধামাধব ঘরের দ্বার-জানালা বন্ধ করিয়াছিলেন। বাহির হইতে ঘরের ভিতর লোক আসিবার সম্ভাবনা ছিল না। “এ মানুষ নহে— এ ভূত”— রাধামাধবের মনে নিশ্চয় এইরূপ বিশ্বাস হইল, ভয়ে প্রাণের ভিতর তাহার গুরু গুরু করিয়া উঠিল। সৰ্ব্বশরীরে লোমাঞ্চ হইল। চীৎকার করিয়া ফেলেন আর কি। — “ এমন সময় মনকে দৃঢ় করিয়া তিনি ভাবিতে লাগিলেন, — পৃথিবীতে ভূত নাই, থাকিলেও তাঁহাকে আমি ভয় করি না। চিরকাল লোকের নিকট আমি এইরূপ মুখশাপট করিয়াছি। আজ যদি ভয়বিহবল হইয়া চীৎকার করিয়া ফেলি, তাহা হইলে সকলের নিকট আমি হাস্যাম্পদ হইব। অতএব, প্ৰাণ থাকে আর যায়, কিছুতেই আমি চীৎকার করিব না।” রাধামাধব এইরূপ মনকে আশ্বাস দিয়া, ভূত কি করে চুপ করিয়া তাহা দেখিতে লাগিলেন। আলমারীর উপর যে সমুদয় শিশি সাজান ছিল একে একে সেই সমুদয় শিশি অতি মনোযোগের সহিত নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লখ্রিষ্টার্স কোন শিশিটি বা হাতে করিয়া নাড়িয়াচাড়িয়াও দেখিতে লাগিল। ঘরের অপর পার্শ্ব শিশি দেখিতে দেখিতে ভূত রাধামাধবের দিকে ক্রমে অগ্রসর হইতে লাগিল । বুলিতেছে। বিনুনী দেখিয়া রাধামাধব ভাবিলেন যে,- “এঃ! এটা দেশী ভূত নহে, চীনে ভূত।” অর্থাৎ কি না কলিকাতায় যাহারা জুতা গড়ে ও সূত্রধরের কাজ করে, সেই চীন দেশের লোকের ভূত। আরও একটু নিকটে আসিলে তাহার পাণ্ডুবৰ্ণ মুখ দেখিয়া, রাধামাধবের মনে নিশ্চয় প্রতীতি হইল যে, সে চীনে ভূত বটে। তাহার পোষাকও সেইরূপ ছিল। নিম্নদেহ, নীল বর্ণের ঢ়িলা-ঢ়িলা ইজের দ্বারা ও উদ্ধাদেশে সেই বর্ণের ঢ়িলা-ঢ়িলা ঘুণ্টিওয়ালা জামার দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। করিয়া দেখিল। যখন সমুদয় শিশি দেখা হইয়া গেল, তখন সে ঘোর দুঃখসূচক এক দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করিল, তাহার মুখ বিষগ্র হইল, তাহার চক্ষু দিয়া ফোঁটায় ফোঁটায় জল পড়িতে লাগিল। তাহার পর কোচের নিকট আসিয়া রাধামাধবের সম্মুখে দাঁড়াইল ও অতিশয় ক্ষুন্নমনে আপনার হাত দুইটি তুলিয়া যেন কি দেখাইল । হাত দুইটি নহে, দেড়টি হাত। রাধামাধব দেখিলেন যে, তাহার দক্ষিণ হাতের আধখানি আছে। জামার আস্তিন কেবল কোণুই পৰ্যন্ত উঠিল। অবশিষ্ট ভাগ বুলিয়া পড়িল; কারণ, তাহার ভিতর হাত ছিল না। ভয়ে রাধামাধব অচেতন্যপ্ৰায় হইলেন। তাহার। সৰ্ব্বশরীর ঘৰ্ম্মে সিক্ত হইয়া গেল। চীৎকার করিয়া ফেলেন। আর কি!--এমন সময় ভূত অদৃশ্য হইয়া গেল। むbrや2 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com4িঙ্গাকনাথ রচনাসংগ্ৰহ মৃতদেহের ন্যায় রাধামাধব কিছুক্ষণের নিমিত্ত পড়িয়া রহিলেন। তাহার পর ক্রমে ক্রমে তাহার মনে সাহসের সঞ্চার হইল। প্ৰথমে তিনি ঘর হইতে পলায়ন করিবার মনস্থ করিয়াছিলেন। কিন্তু সে ইচ্ছা এখন তিনি পরিত্যাগ করিলেন। আরও কি হয়, তাহা দেখিবার নিমিত্ত চুপ করিয়া তিনি শুইয়া রহিলেন। কিন্তু সে রাত্ৰিতে আর কোন উপদ্রব হইল না। তৃতীয় অধ্যায় পরলোক ঠুটাে চীন প্রভাত হইলে রাধামাধব উঠিয়া, পুনরায় ঘরের দ্বার-জানালাগুলি পরীক্ষা করিয়া দেখিলেন। দেখিলেন যে, দ্বার-জানােলা যেভাবে তিনি বন্ধ করিয়াছিলেন, সেইভাবেই আছে। তাঁহাকে ভয় দেখাইবার নিমিত্ত বাহির হইতে যে কেহ আসিবে, সে উপায় ছিল না। ক্ৰমে মাতুলের সহিত তাহার সাক্ষাৎ হইল। মাতুল বলিলেন,- “রাত্রিতে তুমি যে কিছু দেখিয়াছ, তোমার মুখ দেখিয়া তাহা আমি বুঝিতে পারিতেছি। তোমার মাতুলানীর ও আমার ইহাই রোগ, ইহার জন্যই আমাদের শরীর শীর্ণ হইয়া যাইতেছে ও দিন দি আয়ুক্ষয় হইতেছে। ইহার ཕག་གི་ཡུལ་ཁག་ལྔ་ལ་མ་ འཛི་ལ། ། གཡུ་ , ইহার সবিশেষ বিবরণ আজ দিনের অধীনে ছিল। নিম্নপদস্থ ডাক্তারগণ ধূহৎ বৃহৎ অস্ত্ৰচিকিৎসা করিতে বড় সুবিধা পান না, কিন্তু এই হাসপাতালে আমার সে সুবিধা ছিল। অঙ্গছেদিনাদি অনেক বড় বড় অস্ত্ৰচিকিৎসা আমি করিয়াছি। কোন লোকের অঙ্গছেদন করিয়া, সেই কাৰ্ত্তিত অঙ্গটি স্পিরিটপূর্ণ শিশির ভিতর রাখা আমার বাই ছিল। যে ঘরে গত রাত্ৰিতে তুমি শয়ন করিয়াছিলে, সেই ঘরে সেইরূপ অনেকগুলি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে। বৰ্ম্ম চীনের নিকট, চীন দেশের অনেক লোক এদেশে বাস করিয়াছে। একদিন একজন চীনেম্যান আমার হাসপাতালে আসিয়া উপস্থিত হইল। আমি দেখিলাম যে, তাহার দক্ষিণ হাতটির কোণুই পৰ্যন্ত পচিয়া গিয়াছে। আমি তাহাকে বলিলাম যে,- “হাতটি কাটিয়া না ফেলিলে কিছুতেই তোমার প্রাণরক্ষা হইবে না।” প্রথম সে কথায় সে সম্মত হইল। না। তাহার পর যখন দেখিল যে, হাত না কাটিলে তাহার প্রাণ কিছুতেই বঁচিবে না, তখন সে অগত্যা সম্মত হইল। অজ্ঞান করিয়া কোণুই পৰ্যন্ত আমি তাহার হাত কাটিয়া ফেলিলাম। তাহার পর সেই হাত আমি যথারীতি সুরাপূর্ণ শিশিতে রাখিলাম। পুনরায় জ্ঞান হইবামাত্র চীনে রোগী আপনার কাটা হাত দেখিতে চাহিল। পাছে ভয় পায়, সেজন্য প্রথম আমি তাহাকে দেখাইতে চাহিলাম না। কিন্তু কাটা হাত দেখিবার জন্য সে এত কাতর হইল যে, তাহাকে না। দেখাইয়া আমি থাকিতে পারিলাম না। হাসপাতালের যে খাটের উপর সে শুইয়াছিল, শিশিটি আপনার পার্শ্বে তাহার উপর রাখিয়া, বামহাত দিয়া সে অনেকক্ষণ নাড়িয়া-চাড়িয়া দেখিল। তাহার পর একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া শিশিটি সে চারপাইয়ের নীচে রাখিয়া দিল । সেইদিন মজার গল্প Gbrዓ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro হইতে মুহূৰ্ত্তের নিমিত্ত শিশিটি সে চক্ষুর আড় করিতে দিত না। আর দিনের মধ্যে অনেকবার তাহাকে খাটের উপর তুলিয়া অতি স্নেহের সহিত নাড়িয়া-চাড়িয়া দেখিত। কিছুদিন পরে, সে আরোগ্য লাভ করিল। হাসপাতাল হইতে যাইবার পূৰ্ব্বে আমি তামাসাচ্ছলে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “ডাক্তারকে বিদায় করিবে না?” চীনে উত্তর করিল,— “আমি দুঃখী লোক। আমি আপনাকে কি দিতে পারি?” আমি বলিলাম,- “তোমার হাতটি আমাকে প্ৰদান কর।” তাহার মুখ বিষন্ন হইল। সে বলিল,— ‘মহাশয়! আমাকে ক্ষমা করুন। হাতটি আমি আপনাকে দিতে পারিব না। আমার যখন মৃত্যু হইবে, তখন দেহের সহিত এই হাতটিরও কবর দিতে হইবে। তা না করিলে পরলোকে আমাকে ঠুটো হইয়া বেড়াইতে হইবে। আমরা চীনের লোক, সেইজন্য হস্তপদ অথবা মুণ্ডচ্ছেদনকে বড় ভয় করি। আমাদের বড় লোকদের প্রাণদণ্ড হইলে, সেইজন্য তাঁহারা হারিকুরি অর্থাৎ স্বহস্তে পেট ফাঁড়িয়া প্ৰাণত্যাগ করেন। মুণ্ডচ্ছেদ করিতে তাহারা দেন না। আমি এই হাতটিকে নুণ দিয়া রাখিব। তাহা করিলে পচিয়া যাইবে না। আমার মৃত্যু হইলে আমার আত্মীয়স্বজন ইহাকেও দেহের সহিত গোর দিবেন।” পুনরায় তামাসাচ্ছলে আমি বলিলাম,- “লবণ অপেক্ষা আরকে ইহা ভালরূপ থাকিবে। তাহার পর তোমার নিকট অপেক্ষা আমার নিকট হাতটি আরও ভাল অবস্থায় থাকিবে। কারণ, এরূপ বস্তু ভালরূপে রাখিবার নিমিত্ত আমার নিকট আছে। আর কিরূপে রাখিতে হয়, তাহাও আমি জানি । তোমার নিকট থাকিলে পচিয়া যাইবে। পচা হাত লইয়া শেষে কি পরলোকে যাইবে?” SNర్ আমার কথাগুলি লোকটির মনে লাগ্লিড্‌ষ্ট উৎফুল্পনয়নে আমার দিকে চাহিয়া সে বলিল,— ‘আমার মৃত্যুর পর আমার অস্ট্রিীয়স্বজনেরা আসিয়া হাতটি প্রার্থনা করিলে যদি ইহা ফিরিয়া দিতে আপনি ক্লারেন, তাহা হইলে আপনার নিকট রাখিয়া যাইতে পারি।” আমার কুবুদ্ধি! আমি সেইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিলাম। একবার নহে, লোকটি বারবার আমাকে তিন সত্য করাইল। তাহার পর শিশিটি আমার হাতে দিয়া সে প্ৰস্থান করিল। অন্যান্য শিশির সঙ্গে আমি সে শিশিটিও রাখিয়া দিলাম। আমি যে বাড়ীতে বাস করিতাম, তাহা কাষ্ঠনিৰ্ম্মিত ছিল। কিছুদিন পরে আমার বাড়ীতে আগুন লাগিল। অন্যান্য দ্রব্যের মধ্যে, অনেকগুলি শিশিও আমার নষ্ট হইয়া গেল। তাহার মধ্যে চীনেম্যানের হত্যসম্বলিত শিশিটিও ধ্বংস হইয়া গেল। যাহা হউক, চীনের কথা আমি একেবারে ভুলিয়া গিয়াছিলাম! তাহার হাতের কথা, অথবা আমার প্রতিজ্ঞার কথা,- একবারও আমার মনে উদয় হয় নাই । Gebrbr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.comন্মিলাক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ চতুৰ্থ অধ্যায়। ফিং ফোং ফা পাঁচ বৎসর কাটিয়া গেল। একদিন প্ৰাতঃকালে দুইজন চীনেম্যান আসিয়া আমাকে বলিল,— ‘মোঙ্গ নামক যে চীনের হাত আপনি কাটিয়াছিলেন, গত রাত্রিতে তাহার মৃত্যু হইয়াছে। আপনার নিকট হইতে সেই হাতটি লইয়া কবরে দিতে সে বারবার অনুরোধ করিয়াছে। সেই হাতের নিমিত্ত আমরা আপনার নিকট আসিয়াছি।” আমার মাথায় যেন বাজ পড়িল! হাতটি ফিরিয়া দিতে আমি বারবার তিন সত্য করিয়াছিলাম। সেই সত্য হইতে আজ আমি ভ্ৰষ্ট হইলাম। কি আর করিব? দৈবক্রমে হাতটি নষ্ট হইয়া গিয়াছে, আমি সেই কথা তাহাদিগকে বলিলাম। বিরসবদনে তাহারা চলিয়া গেল। সেইদিন রাত্রিতে ঘরে শয়ন করিয়া আমি নিদ্রা যাইতেছি। রাত্রি দুই প্রহর অতীত হইয়া গিয়াছে। ঘরে অল্প অল্প আলো জুলিতেছে। সহসা কে আসিয়া চুল ধরিয়া শয্যা হইতে আমাকে তুলিয়া বসাইল। চকিত হইয়া আমি চাহিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, একজন চীনে আমার বিছানার পার্শ্বে তোমার মামী শয়ন করিয়াছিলেন। সেই শব্দে তাহারও নিদ্রাভঙ্গ হইল। তিনিও চীনাকে দেখিতে পাইলেন। কিছুক্ষণ আমার খাটের পার্শ্বে দাড়াইয়া চীনে কুপিত কটাক্ষে আমার দিকে চাহিয়া ঘোরতর ভৎসনাসূচক ভঙ্গী করিয়াণ্ডাহার দক্ষিণ হাতের আধখানি অর্থাৎ কেবল বাহুটি আমাকে তুলিয়া দেখাইল। তাহার। পূৰ্ব্ব সৈ ঘর হইতে সে অদৃশ্য হইয়া গেল। পরে যে-ঘরে শিশি থাকে, সেই ঘরে খুঁটিখাট শ্লষ্ট হইতে লাগিল। পরে অবগত হইয়াছি যে, প্ৰত্যেক শিশি নিরীক্ষণ করিয়া সে আপনার ইবতের অনুসন্ধান করে। শিশিতে আপনার হাত দেখিতে না পাইয়া, তাহার পর বাড়ীরূড়ান্যান্য ঘর সে পাতি-পাতি করিয়া অনুসন্ধান করে। আজ কয় বৎসর ধরিয়া প্রতি রাত্ৰিত্নেস্ট এইরূপ করিতেছে। প্ৰথমে শয্যা হইতে সে আমাকে উত্তোলন করে, তাহার পর কুপিত ও ভৎসনার ভাবে সে আমাকে তাহার হাতের আধখানি দেখায়, তাহার পর শিশিগুলিকে দেখিয়া বেড়ায়, তাহার পর অন্যান্য ঘর অনুসন্ধান করে। রাত্রিকালে সহসা মাথার চুল ধরিয়া তুলিলে আমার বড় কষ্ট হয়। সেইজন্য মাথাটি আমি নেড়া করিয়াছি। এখন সে হাত ধরিয়া আমাকে উত্তোলন করে। যাহা হউক, তোমার মামী ও আমি এই রোগে আজ কয় বৎসর ভূগিতেছি। চাকর-চাকরাণী আমার বাড়ীতে তিষ্ঠিতে পারে না। এখন যাহারা আছে, রাত্রিতে তাহাদের কেহ আমার বাড়ীতে থাকে না। এই রোগের জন্য কৰ্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া আমি দেশে আসিয়াছি! কিন্তু চীনে ভূত আমার সঙ্গে সঙ্গে আসিয়াছে। বলা বাহুল্য যে, “এই বিপদ হইতে নিকৃতি পাইবার নিমিত্ত আমি না করিয়াছি—এমন কাজ নাই। অন্ত্র, মন্ত্র, জড়ি, বড়ি, কবচ, মাদুলী, ঝাড়ান, কাঁড়ান, ভূত নামানো, চণ্ডু নামানো, যাহা কিছু আছে, সব করিয়াছি। তাহার পর দেশে আসিয়া চীনের নামে শ্ৰাদ্ধ করিয়াছি, গয়াতে পিণ্ড দিয়াছি, গরীবদুঃখীকে দান করিয়াছি, এক তীৰ্থস্থান হইতে অন্য তীৰ্থস্থানে পলায়ন করিয়া বাস করিয়াছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় নাই। যেখানে যাই না কেন, চীনে ভূত সেইখানেই আমার সঙ্গে সঙ্গে যায়। আর একটি আশ্চৰ্য্য কথা এই যে, শিশিগুলি যদি আমি সঙ্গে না লইয়া যাই, তাহা হইলে উপদ্রবের আর পরিসীমা থাকে না। রাত্ৰিতে আমাকে শয্যা হইতে তুলিবার পর যখন সে শিশি ysig og 6አbrእ$ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro দেখিতে না পায়, তখন ঘোরতর কুপিত হইয়া সে আমার ঘরের দ্রব্যাদি ভাঙ্গিতে থাকে, পরিপূর্ণ করিয়া দেয়। সেজন্য যেখানে যাই না কেন, শিশিগুলি আমাকে সঙ্গে রাখিতে হয়। আর কোন উপায় নাই। এ যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না। এখন মৃত্যু হইলেই আমি যেন বীচি।” রাধামাধব মাতুলের কথাগুলি শুনিলেন। মাতুলকে নানারূপ আশ্বাস প্ৰদান করা ব্যতীত তখন তিনি আর কিছু বলিলেন না। তাহার পর রাত্রিকালে শয়ন করিয়া তিনি ভাবিতে লাগিলেন, — “আমি যদি মামাকে এ দায় হইতে উদ্ধার করিতে পারি, তাহা হইলে, তাহার প্ৰাণদান করা হইবে। কন্যার বিবাহের জন্য তখন আর আমাকে ভাবিতে হইবে না। কিন্তু এ রোগের ঔষধ কি?” ভূত-প্ৰেত সম্বন্ধে রাধামাধব যে সমুদয় পুস্তক পাঠ করিয়াছিলেন, সে সমুদয় পুস্তকের বিষয়সকল তিনি চিন্তা করিতে লাগিলেন। তাঁহার স্মরণ হইল যে,- “একস্থানে আমি পাঠ করিয়াছি যে, মৃত্যুকালে লোকের মনে যদি কোনরূপ একটা একান্ত বাসনা থাকে, তাহা হইলে সে লোকের আত্মার মুক্তি হয় না। সেই বাসনা পরিতৃপ্ত করিবার নিমিত্ত অনেক দিন পৰ্যন্ত সে পৃথিবীতে ঘুরিয়া বেড়ায়। শ্ৰাদ্ধ, গয়াতে পিণ্ডদান অথবা দুঃখী দিগকে দান, এরূপ লোকের নামে করিলে সেই আবদ্ধ আত্মার উপকার হয়। কিন্তু এ সমুদয় কাজ মাতুল করিয়াছেন। তাঁহাতে কোন ফল হয় নাই।” রাধামাধবের পুনরায় স্মরণ হইল,- “আর একখানি পাঠ করিয়াছি যে, ভূতাদিগের দৃষ্টিপূক্ত প্রখর নহে, তাহাদের বুদ্ধিও তীক্ষ্ম নহে? অনায়াসে প্রতারণা করিতে পারা যায় ।” S్సర్ রাধামাধব স্থির করিলেন,- “এই ভূ ঠিকাইতে চেষ্টা করিব। পরদিন রাধামাধব মাতুলকে “এ ঘোর বিপদ হইতে আপনাকে উদ্ধার করিবার নিমিত্ত আমি একটা উপায় ভাবিয় অনুমতি করেন, তাহা হইলে কিছুদিন এই স্থানে থাকিয়া চেষ্টা করিয়া দেখি ।” মাতুল সে প্রস্তাবে সম্মত হইলেন। যাহারা কলিকাতার হাসপাতালে কাজ করেন, সেইরূপ ডাক্তারের সহিত রাধামাধব একসঙ্গে পড়িয়াছিলেন। তাহদের নিকট হইতে তিনি একটি মাড়ার হাত চাহিয়া লইলেন। হাতটি শিশিতে করিয়া মাতুলের অন্যান্য শিশির সহিত রাখিয়া দিলেন। কি হয়, তাহা দেখিবার নিমিত্ত সে রাত্রি পুনরায় সেই কোচের উপর তিনি শয়ন করিলেন। রাত্রি দুই প্রহর অতীত হইয়া গেল। কিছুক্ষণ পরে মাতুলের ঘরে তিনি ভূতের শব্দ পাইলেন। তাহার পর, চীনে ভূত যথারীতি সেই শিশির ঘরে আসিয়া উপস্থিত হইল। যথারীতি একে একে সমুদয় শিশিগুলি সে নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিল। যে শিশির ভিতর রাধামাধব সেই হাতটি রাখিয়াছিলেন, ভূত আসিয়া তাহার সম্মুখে দাঁড়াইল। শিশির ভিতর হাত দেখিয়া আনন্দে তাহার মুখ প্ৰফুল্প হইল। শিশিটি সে বামহাতে তুলিয়া মনোযোগপূৰ্ব্বক দেখিতে লাগিল। কিছুক্ষণ দেখিয়া রাগে তাহার মুখ রক্তবর্ণ হইল। রাগে সে শিশি দূরে ভূমির উপর নিক্ষেপ করিল। শিশিটি ভাঙ্গিয়া গেল। ভূত অদৃশ্য হইল। রাধামাধবের চেষ্টা বিফল হইল। ভূত প্রতারিত হইল না। কেন এরূপ হইল, রাধামাধব তাহা ভাবিতে লাগিলেন। ভাবিয়া-চিন্তিয়া অবশেষে তিনি স্থির করিলেন যে, বাঙ্গালী অথবা হিন্দুস্থানীর হস্ত দ্বারা ভূতকে ভুলাইতে পারা যাইবে না। আসল চীনেম্যানের হাত চাই। কিন্তু Goo fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** হাসপাতালে চীনেম্যানের হাত সহজে পাওয়া যায় না। তথাপি রাধামাধব নিরাশ হইলেন না। এইরূপ একটি হাতের জন্য বন্ধু দিগকে তিনি বলিয়া রাখিলেন। দৈবক্রমে একসময় একজন চীনে সূত্রধর তেতালার ভারা হইতে পড়িয়া গিয়াছিল। সে একেবারে মরে নাই। তাহার একটি হাত চূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। সেই হাতটি ছেদন করা হইল। রাধামাধব সেই হাতটি পাইলেন। পূৰ্ব্বের মত হাতটি শিশিতে রাখিয়া পুনরায় তিনি কোচের উপর শয়ন করিয়া রহিলেন। রাত্রি দুইপ্রহরের পর ভূত যথারীতি উপস্থিত হইয়া শিশিগুলি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে লাগিল। হস্তসম্বলিত শিশি দেখিয়া আজও প্রথম তাহার মনে আনন্দ হইল। কিন্তু আজও সে পূৰ্ব্বের ন্যায় কুপিত হইয়া শিশিটি আছড়াইয়া ফেলিয়া দিল। শিশিটি ভাঙ্গিয়া গেল। রাধামাধবের চেষ্টা এবারও বিফল হইল। কেন এমন হইল, তাহা তিনি বুঝিতে পারিলেন না। পরদিন প্ৰাতঃকালে মাতুল ও তিনি হাতটি ভূমি হইতে তুলিয়া নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ দেখিয়া মাতুল বলিলেন, — “ওঃ, বুঝিয়াছি! এটা বামহাত। চীনে ভূতের দক্ষিণ হাত গিয়াছে। বামহাত দেখিতে সে জানিতে পারিয়াছে যে, এটা জাল হাত, তাহার নিজের হাত নহে। সেইজন্য সে রাগ করিয়া ফেলিয়া গিয়াছে।” রাধামাধব বুঝিলেন যে, ইহাই প্রকৃত কারণ বটে। সেইদিন হইতে চীনেম্যানের দক্ষিণ হাতের জন্য তিনি সন্ধান করিতে লাগিলেন। কিন্তু একমাস। গত হইয়া গেল। তথাপি এরূপ হাতের যোগাড় করিতে পারিলেন না। রোগে মৃত ব্যক্তির হাত হইলে চলিবে কি না, সেরূপ একটা সন্দেহ মাতুল ও ভাগিনেয়ের মনে উপস্থি । এমন সময় চীনের লড়াই আরম্ভ হইল। কলিকাতা হইতে যে সমুদয় জাহাজ গমন করে, সেইরূপ জাহাজের একজন খালাসির সহিত রাধামাধব আলাপ বলিলেন,— “আরকপূর্ণ একটি শিশি তোমাকে দিতেছি। অন্ত্রাঘাতে হত। এরূপ চীনে পুরুষমানুষের দক্ষিণ হাত যদি তুমি এই শিশির ভিতর আনিয়া র, তাহা হইলে তোমাকে আমি একশত টাকা পুরস্কার দিব।” খালাসি সম্মত হইল। অস্ত্রাঘাতে সে সময় অনেক চীনে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল। সুতরাং এরূপ একটি হাতের যোগাড় করিতে খালাসিকে অধিক কষ্ট পাইতে হয় নাই। দুই মাস পরে সেই আরকপূর্ণ শিশি করিয়া একজন চীনেম্যানের দক্ষিণ হস্ত সে রাধামাধবকে আনিয়া দিল। শিশিটি রাধামাধব অন্যান্য শিশির সহিত রাখিয়া পূৰ্ব্বের ন্যায়। সেই ঘরে শয়ন করিয়া রহিলেন। পূৰ্ব্বের ন্যায় যথাসময়ে ভূত আসিয়া একে একে শিশিগুলি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে লাগিল। পূৰ্ব্বে ন্যায় আজও সে হস্তসম্বলিত শিশিটি হাতে লইয়া নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিল; কিন্তু আজ তাহার মুখে ক্রোধের লক্ষণ উদয় হইল না; আজি সে ক্ৰোধে শিশিটি আছড়াইয়া ফেলিল না। আনন্দের উপর আনন্দে আজ তাহার মুখশ্ৰী প্ৰফুল্ল হইতে প্ৰফুল্লতর হইতে লাগিল। অবশেষে শিশিটি হাতে লইয়া আনন্দে সে ঘরের ভিতর দুপদীপ, ধুপ ধাপ নৃত্য করিতে লাগিল। নাচিতে নাচিতে সে “ফিং ফাং ফো, পিং পাং পো”, বলিয়া গান করিতে লাগিল। নাচিতে নাচিতে গান গাহিতে গাহিতে শিশিটি হাতে করিয়া ঘর হইতে সে অদৃশ্য হইয়া পড়িল। রাধামাধব তাড়াতাড়ি মাতুলকে ডাকিয়া এই সুসমাচার প্রদান করিলেন। কিন্তু চীনে ভূত তখনও বাটী হইতে যায় নাই। মাঝের একটি ঘরে তখন সে একপ্রকার চাপর চাপর শব্দ করিতেছিল। মাতুল, মাতুলানী ও রাধামাধব সেই ঘরের দ্বারের নিকট গিয়া দাঁড়াইলেন। সে ঘরে আলো জুলিতেছিল। দ্বারের ফাঁক দিয়া সকলে দেখিলেন যে, ঘরের মাঝখানে বসিয়া WSig Fig sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro CIS চীনে ভূত— থালা ও অনেকগুলি যাটি হইতে কি সব আহার করিতেছে। মাতুলানী তখন হাসিয়া বলিলেন, — “আজ পৌষ মাসের সংক্রান্তি আজ আমি নানারূপ পিষ্টক প্রস্তুত করিয়াছিলাম। তাই মনে করিলাম যে,- “আহা! এই চীনে ভূতটি প্রতিদিন আমাদের বাটীতে আসে; তাহাকে কিছু দিব না! তাই থালা ও বাটিতে নানারূপ পিঠে ও পরমান্ন তাহার জন্য সাজাইয়া রাখিয়াছিলাম। মনের আনন্দে বসিয়া বসিয়া সে তাই খাইতেছে।” পিষ্টকাদি আহার করিয়া চীনে ভূত পরম পরিতোষ লাভ করিল। তাহার পর সে চলিয়া গেল । সেইদিন হইতে মাতুলের বাটীতে আর সে চীনে ভূতের উপদ্রব হয় নাই। মাতুল ও মাতুলানীর শরীর ও মন সুস্থ হইল। সেইদিন হইতে পরম সুখে তাহারা দিনযাপন করিতে লাগিলেন। মাতুল এখন মাথায় চুল রাখিয়াছেন। ব্লাৰ্ধক্স “তোমার বুদ্ধিবলে আমরা এই নিদারুণ যন্ত্রণা হইতে নিকৃতিষ্ঠাভ করিয়াছি। তুমি আমাদের প্রাণরক্ষা করিয়াছ। আর তােমার ডাক্তারি করিতে হইবুেন্তীর্ণ সপরিবারে তুমি আমার বাটীতে আসিয়া বাস করা। আমি যথেষ্ট অর্থসঞ্চয় করি ছুক্কুৰ র জন্য তোমাকে আর ভাবিতে হইবে না।” রাধামাধব এখন মাতুলের গৃহেঙুল্লার্স করিতেছেন। মাতুল ও তিনি বিজ্ঞানশাস্ত্র আলোচনাজনিত স্বৰ্গসুখ উপভোগ কঁরিয়া, পরমসুখে দিনযাপন করিতেছেন। যাহাতে স্বজাতি ও স্বদেশের হিত সাধিত হয়, সেইরূপ নানাপ্রকার পরীক্ষায় দুইজনে ব্যস্ত আছেন। সেদিন অতি ধুমধামের সহিত রাধামাধব সুপাত্র-হস্তে জ্যেষ্ঠা কন্যাকে সম্প্রদান করিয়াছেন। তাহার পর এই পোষড়া পাৰ্ব্বণের সময় নানারূপ পিষ্টক প্রস্তুত করিয়া বন্ধুবান্ধবকে ভোজন করাইবেন, সেজন্য মাতুল, মাতুলানী ও তিনি আয়োজন করিতেছেন। এই পোষড়ার সময় রাধামাধবের মাতুল যেরূপ ঘোর বিপদ হইতে মুক্ত হইয়াছিলেন, আর পুনরায় এই পোষড়ার সময় যেমন তাহারা মনের আনন্দে পিষ্টক প্ৰস্তুত করিতেছেন, সেইরূপ শত্ৰু-মিত্ৰ সকলেই বিপদ হইতে উদ্ধার হউক, সকলেই সেইরূপ আনন্দমনে বন্ধুবান্ধবকে পিষ্টক পরমান্ন প্রভৃতি সুখাদ্য প্রদান করিয়া পরিতোষ করুন, ইহাই প্রার্থনা। আর তাহদের এই পিষ্টকাব্যাপারে গল্প-লেখককে তাহারা বঞ্চিত না করেন, ইহাও একান্ত প্রার্থনা। sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বিদ্যাধরীর অরুচি প্ৰথম অধ্যায় গোলাপীর হিংসা গোলাপী ঝি বলিল,- “দেখ বিদ্যাধরী! বাবুর মুখে তুমি আর চুণকালি দিও না। আমাদের বাবু একজন বড় উকীল। নীলাম্বর ঘোষের নাম কে না জানে? তাঁর বাড়ীর ঝি হইয়া তুমি মুদ্দীর দোকানে একটু গুড়, উড়ের দোকানো একটি ফুলুরী, ময়রার দোকানে একটু চিনির রস, রায়বামনীর কাছে একটু মোচার ঘণ্ট, যার-তার কাছে যা-তা জিনিস মাগিয়া বেড়াইলে বাবুর অপমান হয়। বাবুর কথা দূরে থােক, আমাদের পর্য্যন্ত ঘাড় হেঁট হয়। তোমার মাগার জ্বালায় লোকের কাছে আমরা মুখ তুলিয়া কথা কহিতে পারি না।” বিদ্যাধরী ফোস করিয়া বলিল,— “তোমরা সকল আমার ছিল ধর । মা আমাকে একটু ভালবাসেন, তাই সকলে তোমরা ফাটিয়া মর র অরুচি, মুখে কিছু ভাল লাগে না। চড়াই পাখীর আহার। না খাইয়া যেন দড়ি ৷৷ গতির না থাকিলে পরের বাড়ী কাজ করিব কি করিয়া? তাই তেঁতুল দিয়া গুড় দিয়া, যা দিয়া পারি একমুঠ ভাত খাইতে চেষ্টা করি। আমি গরীব মানুষ। পাইব যে, সন্দেশ, রসগোল্লা কিনিব? মুদী আমাকে ভালবাসে, তাই সেদিন সেয়ে একটু গুড় দিয়াছিল। ময়রা আমাকে ভালবাসে, তাই সেদিন আমাকে শালপাতের ঠোঙা করিয়া রসগোল্লার খানিক রস দিয়াছিল। তাতে তোমরা হিংসায় ফাটিয়া মর কেন বল দেখি?” পিতেম বলিল,— “তোমার অরুচি। পাথরটি টাইটুম্বর করিয়া বামুনঠাকুর তোমাকে ভাত দেয়, তারপর দুইবার-তিনবার তুমি ভাত চাহিয়া লও। এই ত’ তোমার অরুচি; এর উপর যদি রুচি থাকিত, তাহা হইলে ঘোড়ােশালের ঘোড়া, হাতীশালের হাতী খাইতে। অনেক বাবুর বাড়ী চাকুরী করিয়াছি, অনেক ঝি দেখিয়াছি, কিন্তু তোমার মতো মাগন্তড়ে বেহায়া ঝি কখনও দেখি নাই। বামুনঠাকুর! তুমি বল দেখি, এ মাগী তিনজনের খোরাক একেলা খায় কি না।” ছিদেম বলিল,- “দেখ বিদ্যাধরি! লোকের কাছে গিয়া যা-তা মাগা ভাল নয়, তাতে মনিবের অপমান হয়। আমি রসুই করি, নিজে আমি তোমাকে ভাত দিই। সকলের চেয়ে তোমাকে আমি বেশি তরকারী দিই। তোমার বাছা, আবার অরুচি কোথায়?” গোলাপী বলিল,- “নোলা যদি সামলাইতে না পার, সন্দেশ-রসগোল্লা যদি খাইতে সাধ হয়, তাহা হইলে পয়সা দিয়া কিনিয়া খাও না কেন? তুমি গরীব, তোমার পয়সা নাই? তোমার গলায় আমন মোটা সোনার দানা, হাতে আমন মোটা তাজা! আর কতবার তুমি আমাকে বলিয়াছ যে, তোমার খোলার ঘরে তত্তোপোষের খুরোর নীচে তুমি ছয়শ টাকা হাঁড়ি করিয়া ○ WSig Fig sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পুতিয়া রাখিয়াছ। সৰ্ব্বশুদ্ধ তোমার সেই যায় নাম-হাজার টাকা আছে। বিধবা হইয়া পৰ্যন্ত আমি চাকরাণীগিরি করিতেছি। আমার হাজারটা কড়াকড়ি নাই। এই পিতেম। ছেলেবেলা হইতে খানসামগিরি করিতেছে। কত টাকা সে করিয়াছে? ছিদেম বামুনঠাকুর দেশে জমি বঁধা দিয়া বে করিয়াছে। এখনও সে, সে দেনা শোধ করিতে পারে নাই। তবে তার মেয়েটি বড় হইয়া উঠিয়াছে, সেই মেয়েটিকে বেচিয়া যদি সে কিছু সমস্থান করিতে পারে।” বিদ্যাধরী বলিল,- “আমার পৃথিবীতে কে আছে? একদিন একমুঠ ভাত দেয়, এমন আর কেহ নাই। কাজেই মাহিনীটি যাহা পাই, সেটি আমাকে রাখিতে হয়; ধারধোর দিয়া সেটিকে আমাকে বাড়াইতে হয়। তোমার ভাবনা কি বাছা! তোমার ভাই আছে, ভাইপো আছে। অসময়ে তারা তোমার খোঁজখবর লইবে।” ছিদেম বলিল,— “সকলের কাছে তুমি বল যে, তুমি না খাইয়া খাইয়া রোগা হইয়া যাইতেছ। কিন্তু রোজ রোজ তুমি মোটা হইতেছ। তোমার গায়ে মাছি বসিলে, মাছি পিছলাইয়া পড়ে।” বিদ্যাধরী বলিল,— “তুমি আমায় খুঁড়িলে। তোমার মা’গ মরুক, তোমার মেয়ে মরুক। মেয়ে বেচিয়া টাকা করিবার অহঙ্কার তোমার ঘুচুক।” ছিদেম ব্ৰাহ্মণ বলিল,- “দেখলে পিতেম! দেখলে গোলাপী! আমি এমন কি বলিয়াছি যে, মাগী আমাকে এমন শক্ত গালি দিল। গিনী-মায়ের মাগিশো বি, ভাই জন্য এত অহঙ্কার! গিনীমা বলেন যে, আমার মাথা ঘোরে, আমার বুক ধড় ধড় করে, আমার তিনশ ষাটখানা ব্যায়রাম। বিদ্যাধরী সেই কথায় বাতাস দেয়। —ম ইহাকে এত ভালবাসেন। কিন্তু সকল কথা যদি বলিয়া দিই, তাহা হইলে দুই খানে থাকিতে পারে না। হা রে মাগী ! সেদিন গিনী-মায়ের জন্য চা করিবার সময় চিনি কে মুখে দিয়াছিল? কড়ার একপাশে সরের উপর একটু ছেদ করিয়া দুধ জন্য সকলে আমরা এক একটি নল করিয়াছি। সেই নল দিয়া সকলে আমরা এক-দুঃটোক দুধ খাই-ই। কিন্তু সেদিন সমুদয় কড়া হইতে দুধের সরটুকু কে তুলিয়া খাইয়াছিল? সেদিন মাছ কুটিতে কুটিতে কে কইমাছের পেট থেকে গোলাপী বলিল,- “পূৰ্ব্বে চাইল, ডাল, তেল যাহা কিছু আমরা বঁাচাইতাম, সকলে ভাগ করিয়া লইতাম। এখন তুমি সেগুলি সব নিজে লও। এ কি ভাল? আমরা কি চাকরী করিতে আসি নাই? সেদিন মোচার ঘন্টের জন্য উপর হইতে ভিজে ছোলা আর নারিকেল-কোেরা আসিয়াছিল। তাহার অৰ্দ্ধেকগুলি তুমি নিজে খাইলে। তারপর, একদিন সকালবেলা গিনীর জন্য টাটকা গরম গরম জিলাপি আসিয়াছিল। তাহার পাশ হইতে পাপড়ি ভাঙ্গিয়া তুমি এতগুলি জমা করিলে। সবগুলি তুমি নিজে খাইলে। কোনু বলিলে যে, গোলাপী! তুইও দুইএকটা পাপড়ি খা। কেন বাছা, আমাদের কি মুখ নাই? না-ভাল-মন্দ জিনিষ খাইতে আমাদের সাধ হয় না?” নীলাম্বর ঘোষের রান্নাঘরে চারিজনে এইরূপ তুমুল বাকযুদ্ধ বাধিয়া গেল। একদিকে ছিদেম ব্ৰাহ্মণ, পিতেম। চাকর ও গোলাপী ঝি। একদিকে তিনজন, অন্যদিকে বিদ্যাধরী ঝি একা! সপ্তরথিবেষ্টিত অভিমনু্য কতক্ষণ বিপক্ষের সহিত সংগ্ৰাম করিতে পারে? বিদ্যাধরীকে শীঘ্রই পরাভব মানিয়া, সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিতে হইল। Ghእs8 fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** দ্বিতীয় অধ্যায় পুরুষোত্তমের সৌভাগ্য কাঁদিতে কাঁদিতে গিনী-মায়ের নিকট গিয়া বিদ্যাধরী বলিল,- “মা! বামুনঠাকুর বলে যে, তোমার কোন ব্যায়রাম নাই-সব ঠাট । তোমার মাথা ঘোরে না, তোমার বুক ধড়-ধড় করে না! সোহাগ করিয়া তুমি বাবুর টাকার শ্ৰাদ্ধ করিতেছি। তোমার অরুচি নাই, তোমার গায়ে মাছি বসিলে, মাছি পিছলাইয়া পড়ে।” গিনী বলিলেন, — “বটো! বামনের তো আম্পৰ্দ্ধা কম নয়, ছোট মুখে বড় কথা।” বিদ্যাধরী বলিল,— “আমিও মা, সেই কথা বলি। আমি বলিলাম, দেখ বামুনঠাকুর, মনিবকে অমন কথা বলিতে নাই, মাকে আমি অষ্টপ্রহর দেখিতেছি। তাঁর যে কত অসুখ, সেকথা। আর বলিব কি! কেবল আমার সেবার জোরে তিনি বাঁচিয়া আছেন। এই কথা মা,- আমি যেই বলিয়াছি, আর পোড়ারমুখো বামুন আমাকে কেবল ধরিয়া মারে নাই। কত গালি দিল, কত কুকথা সে যে আমাকে বলিল,— সেকথা মা, তোমাকে আমি আর কি বলিব! সে একা নয়। বাবুর সখের চাকয়, পোড়মুখো পিতেম, আর আটকুড়ি গোলাপীও তার সঙ্গে যোগ দিল! তুমি আমায় মা, একটু ভালবাসো, সেইজন্য সকলের হিংসা। তা আমি মা! আর তোমার কাছে থাকিতে চাই না। তুমি মা, অন্য ঝি দেখিয়া লও।” পরদিন নীলাম্বরবাবু ছিদেম ব্ৰাহ্মণকে ডিসূমিস্ব যুক্তও পিতেম এবং গােলাপীকে অনেক বিদ্যাধরী নিজে মনােনীত করিয়া আর একজুৰ্নিষ্ঠভ্রাহ্মণকে লইয়া আসিল। এব্ৰাহ্মণের যেরূপ মুখশ্ৰী হয় না। মুখমণ্ডলটি প্রকাণ্ড, কিন্তু যতােটা দীৰ্ঘে, প্রন্থে ততটা নহে। বৰ্ণ শ্যামবর্ণ। কিন্তু বসন্তের দাগে সমুদয় মুখখানি নানা আকারের গৰ্ত্তে এত পূর্ণ হইয়াছে যে, ব্রাহ্মণের প্রকৃত বর্ণ কি, তাহা সহজে বুঝিতে পারা যায় না। গণ্ডদেশের উপর হাড় দুইটি এত উচ্চ হইয়া আছে যে, দুই পার্শ্বে চক্ষু দুইটি যেন দুইটি কূপের মতো বােধ হয়। দুই চক্ষুর মাঝখানে নাসিকা অতি দীর্ঘ ও উচ্চ। মুখের হাঁ বৃহৎ পুষ্করিণীর ন্যায় প্রশস্ত। সে মুখের হাসি দেখিলে মানুষের আত্মা-প্ৰাণ শুকাইয়া যায়। চক্ষু ও চুলের বর্ণ তামের ন্যায়; হাজার তেল মাখিলেও চুলের রুক্ষতা যায় না। ব্ৰাহ্মণের নাম পুরুষোত্তম, বাস উৎকল দেশে। ঝগড়ার পর বিদ্যাধরী, কিছুদিন ধরিয়া মুদী ও ময়রা কাহার নিকট আর কিছু চায় নাই। দুই দিন পর সে পুরুষোত্তমকে বলিল,- “বামুনঠাকুর! আমাকে তুমি যেমন-তেমন ঝি মনে করিও না। এই দেখ, গলায় আমার কেমন সোনার দানা; এই দেখ, হাতে আমার মোটা তাগা। আর আমার ঘরে হাঁড়ি করিয়া ছয়শ টাকা আমি পুতিয়া রাখিয়াছি। কোন কুলে আমার কেহ নাই। আমি অধিক দিন বঁচিব না। আমার বড় অরুচি। বৈকালবেলা রোজ চক্ষু জ্বালা করিয়া জুর হয়। বাঁচতে আমার সাধ নাই। মরণ হইলেই বাঁচি! কিন্তু পোড়া যম আমাকে ভুলিয়া আছে। আত্মহত্যা করিলে অগতি হইবে, তা না হইলে আমি কোন কালে আফিম খাইয়া, কি গলায় দড়ি দিয়া, কি জলে ডুবিয়া মরিতাম। যাহা হউক, অধিক দিন আমি আর বঁচিব না। আমার গহনা ও টাকাগুলি আমার মরণের পর তোমার মত কোন একটি ব্ৰাহ্মণের ছেলে পায়, তাহাই আমার ইচ্ছা।” 巫互究g sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro (** পুরুষোত্তমের মুখ প্ৰফুল্প হইল। সে বলিল,— “না, না;-তুমি এখন অনেকদিন বঁচিবে। তোমার ব্যায়রাম তত কঠিন নয়। টাকা পাই না পাই,-মায়ের মত আমি তোমার সেবা করিব । সময়-অসময়ে আমি তোমাকে দেখিব।” বিদ্যাধরী বলিল,- “সে আর অধিক দিন দেখিতে হইবে না। নিজের শরীর আমি বেশ বুঝিতে পারিতেছি। তাছাড়া বঁচিতে আর আমার কিছুমাত্র ইচ্ছা নাই। টাকাগুলি তোমাকে আমি দিয়া যাব। বাবু উকীল; উইল কাহাকে বলে, তা আমি জানি। গিনীর নামে বাবু উইল করিয়াছেন। একখানা কাগজে লিখিলেই হইবে যে, অমুককে আমার টাকা-গহনা দিয়া যাইলাম! তা করিলেই তুমি সব পাইবে। কিন্তু একথা প্ৰকাশ করিও না।” সেইদিন হইতে পুরুষোত্তম যত মাছ, যত তরকারী বিদ্যাধরীর পাতে চাপাইতে লাগিল । পিতেম ও গোলাপী কিছু পায় না। সেজন্য তাহার ক্রমাগত গজগজ করিতে লাগিল, কিন্তু বাবুর তিরস্কারের ভয়ে প্রকাশ্য ঝগড়া করিতে পারিল না। চারি-পাচ দিন পরে বিদ্যাধরী একখানা কাগজ আনিয়া পুরুষোত্তমের হাতে দিল । পুরুষোত্তম সেই কাগজ কোন লোককে দিয়া পড়াইয়া দেখিল। বিদ্যাধরীর মৃত্যুর পর সমুদয় সম্পত্তি সে পাইবে, কাগজে এইরূপ লেখা ছিল । পুরুষোত্তম আরও জানিয়া দেখিল যে, এরূপ কাগজকে উইল বলে, এইরূপ উইল করিয়া লোক আপনার সম্পত্তি অন্য লোককে প্ৰদান করে। পুরুষোত্তমের মন আনন্দে পরিপূর্ণ হইল। সেইদিন হইতে গোয়ালিনীকে বলিয়া বিদ্যাধরীর জন্য সে একপোয়া করিয়া দুধের রোজ করিয়া দিল। সে একদিন বিদ্যাধরী বলিল,- “আমার আর বিজ্ঞাষ্ট্র ‘বিদ্যাধরী। দিন দিন তুই যেন পাখী হইয়া যাইতেছিস্ ァ・ s বড় জোর আর তিন মাস।' আমি ব: $ “কবিরাজ মহাশয়! বাচিতে আর আমার ইচ্ছা! নাই। রোগের যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না। ১মজ হাতে বিষ খাইয়া মরিলে অগতি হইবে। ঔষধের সঙ্গে যদি একটু বিষ দিয়া আপনি আঁমাকে মারিতে পারেন, তাহা হইল আপনার বড় পুণ্য হয়।” কবিরাজ মহাশয় বলিলেন, — ‘‘না রে না! তা আর করিতে হইবে না। তার নাড়ীর গতিক যেরূপ, তাহাতে বড় জোর আর তিন মাস'।” পুরুষোত্তম বিদ্যাধরীর দিকে চাহিয়া দেখিল। পূৰ্ব্বে যদি সে একপাথর ভাত খাইত, এখন সে দুই পাথর ভাত খায়। রোগী হওয়া দূরে থাকুক, পুরুষোত্তমের নিকট হইতে ভাল ভাল আহাৱীয় দ্রব্য পাইয়া দিন দিন সে যেন ফুলিয়া উঠিতেছিল। আজ তিন মাস পুরুষোত্তম তাহার সেবা করিতেছিল। আজ তিন মাস সে আপনার মাহিনা দেশে পাঠায় নাই। সমুদয় টাকা বিদ্যাধরীর জন্য খরচ করিয়াছিল। আরও তিন মাস কাটিয়া গেল। বিদ্যাধরী মরে না! ভাল ভাল জিনিস খাইয়া তাহার শরীরে বরং কান্তি ফাটিয়া পড়িতে লাগিল। এ পৰ্যন্ত বিদ্যাধরীর জন্য পুরুষোত্তমের পঁচিশ টাকা খরচ হইয়াছিল। পুরুষোত্তমের মনে খটকা জনিল ।

                  • ”...দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.conf ولا68y फूटीन अक्षांश প্ৰাণমুগরো গাছের শিকড়

একদিকে পিতেম চাকর ও গোলাপী ঝি, অপরদিকে পুরুষোত্তম ব্ৰাহ্মণ ও বিদ্যাধরী ঝি, ইহাদের মধ্যে সৰ্ব্বদা ঝগড়া হইতে লাগিল। একদিন বিদ্যাধরীকে গোলাপী বলিল,— “তোমার কি বিবেচনা! আজ সকালবেলা বাবুর জন্য তুমি সন্দেশ কিনিয়া আনিলে। বাবুকে দিবার পূৰ্ব্বে, বামুনঠাকুরকে তুমি দুইবার চাটিতে দিলে, তাহার পর সন্দেশটি তুমি নিজে দশবার চাটিলে। কোন বলিলে যে, গোলাপী! তুই দুইবার চাট । কোন জিনিস পাইলে সকলকে ভাগ দিয়া খাইতে হয়। আমিও ঝি, তুমিও ঝি। আমাকে ভাগ দিয়া না খাইলে তোমার অধৰ্ম্ম হয়, তা জােন? মাথার উপর ভগবান আছেন, তিনি বিচার করিবেন। আর এই চাবড়ামুখো বামুনের কি আক্কেল? আহা, মুখখানি তো নয়—যেন ডায়মনকাটা আড়াই হাত শীতলা । পোড়ারমুখোরা আর ঠাকুর খুঁজিয়া পায় নাই, জগন্নাথকে ঠাকুর করা হইয়াছে; না আছে নাক, না আছে কান। যে হাতে বিদ্যাধরীকে সব জিনিস দিস্, জগন্নাথের মত তোর সেই হাত ঠুটাে হউক। মরণ আর কি?” বাড়িতে লাগিল। বিদ্যাধরী বলে,- “বামুনঠাকুর, বড় অরুচি। যদি ক্ষীরমোহন পাই, তাহা হইলে বোধ হয় কষ্টশ্রোষ্টে একটা খাইতে পারি।” কোন কোনদিন সে বলে,- সরভাজা বেঁচিতে আসিয়াছে। বড় অরুচি। একটু রভাজা পাই, তাহা হইলে চেষ্টা করিয়া দেখি, খাইতে পারি কি না। আবার কোনদিনলৈ,— “বামুনঠাকুর শুনিয়াছি বাগবাজারে একরকম সন্দেশ আছে, তাহার নাম খ্রীব, যদি আনিয়া দিতে পাের, তাহা হইলে বোধ হয় একটু রুচি হয়।” এইরূপ নিত্য নিৰ্ম ধরীর আবদার। পুরুষোত্তম কি করিবে? যখন এত টাকা খরচ করিয়াছে, তখন বিদ্যাধরীর সঙ্গে সহসা চটচটি করিতে পারে না। কাজেই সেই সমুদয় দ্রব্য তাঁহাকে আনিয়া দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যাধরীর মরণ হওয়া দূরে থাকুক, দিন দিন সে তেলের কুপোর মত মোটা হইতে লাগিল। পুরুষোত্তম তাহার শরীরের দিকে চাহিয়া দেখে আর দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করে। একদিন পুরুষোত্তম মুদীর দোকানে বসিয়া আছে। মুদী জিজ্ঞাসা করিল,— “ব্ৰাহ্মণঠাকুর! তোমাদের বিদ্যাধরী বিয়ের অরুচি সারিয়াছে?” পুরুষোত্তম উত্তর করিল,- “বিদ্যাধরীর অরুচি! আগে যদি সে একপাথর ভাত খাইত, এখন সে দুই পাথর ভাত খায়।” “বটে!” এই কথা বলিয়া মুদী একটি নিশ্বাস ফেলিল। কিছুক্ষণ চুপ করিয়া মুদী বলিল,— “বিদ্যাধরীর ব্যায়রাম বাড়িতেছে? কবিরাজ মহাশয় তাহার নাড়ী ধরিয়া বলিয়াছেন যে, সে আর অধিক দিন বঁাচিবে না । সেইজন্য আমার নিকট হইতে প্ৰতিদিন সে একছটাক ঘি লইয়া যায়, আর পানা করিয়া খাইবার জন্য রোজ সে আধ পোয়া বাতাসা লইয়া যায়।” পুরুষোত্তম জিজ্ঞাসা করিল,- “দাম দিয়া?” মুদী উত্তর করিল— “না; আমার ছেলেকে সে বড় ভালবাসে। বিদ্যাধরীর যাহা কিছু আছে, সে আমার ছেলেকে দিয়া যাবে। আমার ছেলের নামে সে উইল করিয়াছে।” পুরুষোত্তমের মাথায় বজাঘাত হইল। মুদী তাহার সছিদ্র বাক্স হইতে উইল বাহির করিয়া তাহাকে দেখাইল । পুরুষোত্তম ও আপনার উইল আনিয়া মুদীকে দেখাইল। তখন ইহারা মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 6a বুঝিল যে, সমুদয় বিদ্যাধরীর চালাকি, দানা, অনন্ত ও টাকার লোভ দেখাইয়া তাহদের নিকট হইতে সে ফাঁকি দিয়া খাইতেছে। অনুসন্ধান করিতে করিতে আরও প্রকাশ পাইল যে, ময়রাকে একখানি সেইরূপ উইল দিয়া বিদ্যাধরী অনেক টাকার সন্দেশ খাইয়াছে। গোয়ালাকে সেইরূপ একখানি উইল দিয়া সে দুধ, রাবিড়ী ও মাখন খাইয়াছে। উড়ে দোকানদারকে উইল দিয়া, সে মুড়ির চাক্তি আর তেলেভাজা বেগুনি খাইয়াছে। এইরূপ সকলকে এক একখানি উইল দিয়া, অনেক লোকের নিকট হইতে সে অনেক দ্রব্য খাইয়াছে। একটা সামান্য স্ত্রীলোক তাহাকে ফাঁকি দিয়াছে—সেই লজ্জায় পুরুষোত্তম কাহাকেও কোন কথা বলিল না। বিশেষতঃ সে ভাবিল যে,-“ম্যাগীর কােছ হইতে এ টাকা যেমন করিয়া হউক, আমায় আদায় করিতে হইবে। একথা লইয়া যদি আমি গোল করি, তাহা হইল সকলে কেবল হাসিবে, আমার টাকা আদায় হইবে না।” কিন্তু কিরূপে সে টাকা আদায় করিবে? ঝগড়া করিলে কোনো ফল হইবে না; ফাঁসি দিয়া আদায় করিতে হইবে। পুরুষোত্তম ভাবিতে লাগিল। দুই-তিন দিন চিন্তা করিয়া একদিন সন্ধ্যাবেল বিদ্যাধরীকে নিভৃতে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিল— “তোমার জন্য কাল আমি যে মাছের ঝোল রান্ধিয়াছিলাম, তাহা খাইয়া তুমি কেমন আছ? পেট-জ্বালা বুক-জ্বালা করিতেছে?” বিদ্যাধরী বলিল,- “কেন, পেট-জ্বালা, বুক জ্বালা করিবে কেন? সে মাছের ঝোলে কি छिन?” পুরুষোত্তম উত্তর করিল,- “এমন কিছুই নয়! বাঁচি । তোমাকে যদি কেহ বিষ দিয়া মারে, তাহ শুইলৈ তাহার অনেক পুণ্য হয়। মনে নাই? তুমি কবিরাজ মহাশয়ের কােছ হইতে সেইজুৰ্ভঙ্গুষধ চাহিয়াছিলে? আমি ভাবিলাম যে,-- আহা! বিদ্যাধরী রোগের যন্ত্রণায় বড় কণ্ঠস্ট ছ, বাঁচিতে ইচ্ছা নাই, তা আমি উহাকে একটু বিষ দিই, যাহাতে শীঘ্ৰ ঈগলাভ হয়! তাই আমাদের দেশের প্রাণমুগরো গাছের শিকড় বাটিয়া মাছের ঝোলের সহিত য়া দিয়াছিলাম।” বিদ্যাধরী যেন আকাশ হইতে পড়িল। শশব্যস্ত হইয়া সে বলিল,-“বলিস কি রে আটকুড়ির বেটা। আমাকে বিষ দিয়েছিস! বলিস্ কি রে—উনুনমুখো ডেকরা বামুন!” পুরুষোত্তম বলিল,- “তা তুমি তো নিজে আমাকে বারবার বলিয়াছ যে, একতিল আমার বঁচিতে ইচ্ছা নাই। এখন অমন কথা বলিলে চলিবে কেন?” বিদ্যাধরী বলিল,- “ওরে সর্বনেশো ওরে আটকুড়ো উড়ে বামুন ! তোর মনে কি এই ছিল? ওঃ! আমার পেট জুলিয়া গেল, আমার বুক জুলিয়া গেল। প্ৰাণ যায়, ও মা! আমার প্রাণ যায়া” এইরূপ বলিতে বলিতে বিদ্যাধরী সেইখানে ধড়াশ করিয়া শুইয়া পড়িল, আর কাঁদিতে কাঁদিতে ক্ৰমাগত বলিতে লাগিল,- “আমার পেট গেল, আমার বুক গেল, আমার প্রাণ যায়। ও গিনী-মা! তোমার বিদ্যাধরী ঝি যায়। শীঘ ডাক্তার লইয়া এস। ও পিতেম! ও গোলাপী! শীঘ আয় রে! সকলে মিলিয়া আমার প্রাণ বাঁচা রে। ওমা কালি আমাকে বাঁচাও মা! তোমাকে জোড়া পাঠা দিব, মা! হে বাবা তারকনাথ! আমাকে বাঁচাও বাবা, গণ্ডি দিয়া আমি তোমার মন্দিরে গিয়া পূজা দিব বাবা!” পাছে অধিক চীৎকার করে, সেজন্য হাত দিয়া পুরুষোত্তম তাহার মুখ চাপিয়া ধরিল। পুরুষোত্তম বলিল,— “চুপ চুপ।” (y află cios (gs se - www.amarboi conf** বিদ্যাধরী পুনরায় ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিল,—আর বলিল,— “হাঁ রে আটকুড়ির বেটা! কি গাছের শিকড় দিয়াছিস? চুপ করিব? এখনি আমি থানায় যাইব । তোর হাতে হাতকড়ি দিয়া তোকে ফাঁসিকাটে বুলাইব । ও পিতেম! ওরে শীঘ্ৰ পাহারাওলাকে ডাকা এই আটকুড়ির বেটা আমাকে বিষ দিয়াছে। আমার টাকা পাইবে, সেজন্য বেটা আমাকে খুন করিয়াছে। ওঃ পেট আমার জুলিয়া গেল! হায় হায়! আমার কি হইল!” পুরুষোত্তম বলিল,— “চুপ চুপ! যদি তুমি একান্তই মরিতে না ইচ্ছা কর, তাহা হইলে বিষের কাটান করিতে আমি জানি। সে ঔষধ ডাক্তারবৈদ্য কেহই জানে না। পুলিশের লোকে যদি আমাকে ধরিয়া লইয়া যায়, তাহা হইলে সে ঔষধ তোমাকে কে দিবে? তাহা হইলে বেখোরে তুমি মারা যাইবে।” বিদ্যাধরী বলিল,-“ওরে আটকুড়ির বেটা! তবে সে ঔষধ শীঘ্ৰ আনিয়া দে।” পুরুষোত্তম বলিল,- “সে ঔষধ আনিতে পাঁচ টাকা খরচ হইবে। আমার কাছে এখন একটি পয়সাও নাই! টাকা কোথায় পাইব যে, সে ঔষধ আনিব? আজ একশিশি খাইলে আপাততঃ তোমার প্রাণটা বঁচিবে। কিন্তু তাহার পর আরও পাঁচ-ছয় শিশি খাইলে বিষটা নিৰ্দোষ হইয়া তোমার শরীর হইতে যাইবে। আমি গরীব মানুষ! ত্রিশ-পঁয়ত্ৰিশ টাকা আমি কোথায় পাইব! আগে যদি বলিতে যে, আমার মরিতে ইচ্ছা নাই, তাহা হইলে মাছের ঝোলের সহিত আমি বিষ দিতাম না।” বিদ্যাধরী বলিল,—“ওরে আঁটকুড়ির বেটা! আমি স্রোকে টাকা দিতেছি। তুই আমার প্রাণ বুঢ়া! তুই আমার বাবা! তুই আমার প্রাণরক্ষা কৃষ্টেমী, আমার পেট জুলিয়া খাক হইয়া গেল।” ○ পেটে হাত দিয়া কাদিতে কাদিতে স্ত্রী ছোট এক অন্ধকার ঘরের ভিতর প্রবেশ করিল। সেই ঘর হইতে পাঁচটি টাকা পুরুষোত্তমের হাতে দিয়া বলিল,-“যা বাবা, যা শীঘ্ৰ যা। যা করিয়াছিস্ তা করি খন আমার প্রাণ বাচা!” পুরুষোত্তম বলিল,- “কোন ভয় নাই! ঔষধ খাইলেই তুমি ভাল হইয়া যাইবে। কাহাকেও কোন কথা বলিও না। আমি শীঘ্ৰ ফিরিয়া আসিতেছি। যতক্ষণ না ফিরিয়া আসি, ততক্ষণ খিড়কীর দিকে কলের নীচে বসিয়া মাথায় ও পেটে একটু একটু জল দিতে থাকো।” bठूर्थ एवश्वाग्न গজকচ্ছপের যুদ্ধ এই কথা বলিয়া পুরুষোত্তম বাটী হইতে বাহির হইল। বলা বাহুল্য যে, বিদ্যাধরীকে প্ৰকৃত সে বিষ দেয় নাই। আপনার টাকা আদায় করিবার নিমিত্ত সে এইরূপ ফন্দি করিয়াছিল । বাটী হইতে বাহির হইয়া সে চারি পয়সা দিয়া একটা শিশি কিনিল। রাস্তার কাল হইতে শিশিটি জলে পরিপূর্ণ করিল। তাহারপর এক পয়সার সোডা কিনিয়া সেই জলের সহিত ay's list ୩ୟ୍ଯ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Gob মিশ্ৰিত করিল। এইরূপে মিছামিছি একটা ঔষধ প্ৰস্তুত করিয়া সে বাটী প্রত্যাগমন করিল। মনে করিল যে, এবার পাঁচ টাকা আদায় হইল। আর পাঁচ-ছয় শিশি এইরূপ ঔষধ দিতে পারিলেই তাহার সমুদয় টাকা আদায় হইবে। পুরুষোত্তম যখন বাড়ী ফিরিয়া আসিল, তখন অল্প অল্প অন্ধকার হইয়াছিল। সে দেখিল যে, রান্নাঘরের নিকট পিতেম ও গোলাপী বসিয়া সুড়বুড় করিয়া কথা কহিতেছে। কয়মাস ধরিয়া পুরুষোত্তম অন্য চাকর-চাকরাণীদিগকে বঞ্চিত করিয়া বিদ্যাধরীকে অধিক মাছ ও তরকারী দিয়াছিল, সেজন্য তাহার উপর সকলের রাগ। বিষ প্রদানের কথা পাছে পিতেম। কি গোলাপী শুনিয়া থাকে, সেই ভয়ে পুরুষোত্তমের প্রাণ উড়িয়া গেল। তাহাকে অধিকক্ষণ চিন্তা করিতে হইল না । পিতেম। তাহাকে ডাকিয়া বলিল,— “বামুনঠাকুর! সৰ্ব্বনাশ করিয়ােছ। বিদ্যাধরীকে বিষ দিয়াছ। পুলিশের লোক টের পাইলে এখনি তোমাকে বাধিয়া লইয়া যাইবে । তাহার পর তোমার ফাঁসি হইবে।” পুরুষোত্তমের মুখ শুকাইয়া গেল। সে বলিল,— “আমি সত্য সত্য তাহাকে বিষ দিই নাই। মিছামিছি করিয়া বলিয়াছি।” পিতেম বলিল,- “সে কথা কে বিশ্বাস করিবে? যদি বিষ দাও নাই, ঔষধ আনিবার জন্য তাহার নিকট হইতে পাঁচ টাকা লইয়াছ কেন? তবে বিদ্যাধরী, উন্মাদ, পাগল হইয়াছে কেন?” আশ্চৰ্য হইয়া পুরুষোত্তম বলিল,- “উন্মাদ পাগল হইয়াছে? আমি সত্য বলিতেছি, তাহাকে আমি পাগল হইবার ঔষধ দিই নাই।” लिटऊभ दलिल,- ‘cन ऊशानक छेन्ग़ान আমরা দুইজনে তাহাকে ধরিয়া রাখিতে পারি না। অনেক কষ্টে তাহাকে সুস্থ করিয়াছি। কিন্তু সুস্থ হইয়া সে আর এক সৰ্ব্বনাশ করিয়াছে। বরাবর উ য়া গিামী-মায়ের খাটে গিয়া শুইয়াছে। মা বাগানের কলতলায় কাপড় কাচিতে । উপরে আসিয়া দেখেন যে, বিদ্যাধরী। তাহার বিছানায় শুইয়া আছে, আর রক্ষা রাখিবেন না। বাবুও এখনি বাড়ী আসিবেন । সকল কথা তখন প্ৰকাশ হইবে। তখন নিশ্চয় পুলিশ ডাকিয়া তোমাকে ধরাইয়া দিবেন।” পুরুষোত্তম ভয়ে কঁাপিতে লাগিল। সে বলিল,- “দোহাই ভাই! আমি তোমার পায়ে পড়ি। আমাকে এ বিপদ হইতে রক্ষা কর। এখন কি করিলে আমি রক্ষা পাই, তা বল। তাই।” পিতেম। উত্তর করিল,- “আমরা অনেক কষ্টে চেষ্টা করিয়াছিলাম, কিছুতেই তাহাকে গিনীর খােট হইতে উঠাইতে পারি নাই। তুমি যদি পাজা করিয়া কোনরূপে তাহাকে নীচে আনিতে পাের, তাহা হইলে উপায় হইতে পারে। কিন্তু আর বিলম্ব করিলে চলিবে না। গিনী এখনি উপরে আসিবেন । নিজের বিছানায় বিদ্যাধরীকে দেখিলে তিনি আর রক্ষা রাখিবেন না ।” পুরুষোত্তম বলিল,-“তবে আমি এখনি যাই।” গোলাপী বলিল,- “না, অমনি গেলে হইবে না। তাহাকে পাজা করিয়া ধরিলেই চীৎকার করিয়া সে ফাটাইয়া দিবে। তাহার চীৎকারে গিনী দৌড়িয়া আসিবেন, তাহা হইলে সকল কথা প্ৰকাশ পাইবে।” পুরুষোত্তম জিজ্ঞাসা করিল,- “তবে কি করি?” গোলাপী ঘরের ভিতর হইতে একটি বড় থলি আনিয়া পুরুষোত্তমের হাতে দিয়া Redd দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%"oooooo বলিল,- “উপরে গিনীর ঘরে গিয়া টপ করিয়া বিদ্যাধরীর মুখে এই থলিটি পরাইয়া দিবে। তাহার পর দুই হাতে পাঁজা করিয়া তাহাকে ধরিবে। কিন্তু সাবধান! মুখ হইতে থালি যেন সে খুলিতে না পারে। তাহার পর জোর করিয়া তাহাকে নীচে নামাইয়া আনিবে। তাহাকে যদি আমাদের কাছে আনিতে পার, তখন আমরা তাহাকে বুঝাইয়া ঠাণ্ডা করিব।” থলিটি হাতে লইয়া আর কোন কথা না বলিয়া পুরুষোত্তম তড়িতড় করিয়া সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিল। তাহার পর দ্রুতবেগে গিনীর ঘরে গিয়া প্ৰবেশ করিল। তখন অন্ধকার হইয়াছে, তখনও সে আলো জ্বালা হয় নাই। গিনীর খাটের উপর যে শুইয়াছিল, পুরুষোত্তম নিকটে গিয়া সহসা তাহার মুখে থলিটি পরাইয়া দিল। মস্তকে, বক্ষঃস্থলে, পৃষ্ঠদেশে, দুই হাতে, কোমর পর্য্যন্ত তাড়াতাড়ি থলিটি টানিয়া দিল। তাহার পর তাহাকে পাজা করিয়া ধরিয়া হিচড়াইতে হিচড়াইতে ঘরের ভিতর হইতে বাহির করিল। সে চীৎকার করিতে চেষ্টা করিল। কিন্তু থলির ভিতর হইতে কোন শব্দ বাহির হইল না, থলির ভিতর হইতে ঘড়ঘড় আর গো-গো শব্দ হইতে লাগিল। তাহার হাত দুইটি আবদ্ধ ছিল। যথাসাধ্য পা দিয়া সে পুরুষোত্তমকে লাথি মারিতে লাগিল, আর ছটফট করিয়া যথাসাধ্য আপনাকে ছাড়াইতে চেষ্টা করিতে লাগিল। কিন্তু উড়ে বামুন নাছোড়বান্দা। কতক টানিয়া কতক হিচড়াইয়া পুরুষোত্তম তাহাকে সিঁড়ির নিকট পৰ্যন্ত আনিল। এমন সময় সে থলির ভিতর হইতে আপনার দুই হাতের কতকটা বাহির করিয়া ফেলিল । সেই দুই হাতে পুরুষোত্তমকে প্ৰাণপণে খি র থলি ভেদ করিয়া ভিতর হইতে পুরুষোত্তমকে কামড়াইতে লাগিল, আর দুই লাথি মারিতে লাগিল। সিঁড়ির উপরে যেন গজকচ্ছপের যুদ্ধ বাধিয়া গেল। পুরুষাত্তম বড়ই বিব্রত ষ্টসিঁড়িতে নামাইতে পারিল না। দুই পা আগে যায়, আর এক পা পশ্চাতে গিয়া ফ্রাষ্ট্র। সিঁড়ির ঠিক উপরে তাহাকে লইয়া পুরুষোত্তম এইরূপ টানাটানি করিতেছে, এমন সময় সিঁড়ির একটু নিম্নে বাড়ীর কৰ্ত্তবাবু আসিয়া উপস্থিত হইলেন। একে উড়ে ব্ৰাহ্মণের সেই অদ্ভুত মূৰ্ত্তি। সেই মূৰ্ত্তি গুণমোড়া আর একটা মূৰ্ত্তিকে লইয়া টানাহেঁচড়া করিতেছে। এই অদ্ভুত ব্যাপার দেখিয়া বাবু ভাবিলেন, এ ভূত, না প্ৰেত, না পাগল, এ কি? ঘোরতর বিস্মিত হইয়া বলিলেন,- “ এ কি! এ কি?” চমকিত হইয়া পুরুষোত্তম বাবুর দিকে চাহিয়া দেখিল, সে দেখিল যে, দুইটা পৈঠার নীচে সিঁড়িতে স্বয়ং বাবু দাঁড়াইয়া আছেন, আর তাহার ঠিক পশ্চাতে আলো হাতে করিয়া স্বয়ং বিদ্যাধরী ঝি দাড়াইয়া আছে। বাবুর পশ্চাতে সিঁড়ির উপর বিদ্যাধরীকে দেখিয়া পুরুষোত্তমের প্রাণ উড়িয়া গেল । তৎক্ষণাৎ সে চটমোড়া সেই স্ত্রীলোককে সেই স্থানে ফেলিয়া দ্রুতবেগে বাবুর পাশ দিয়া সিঁড়ি হইতে নামিল। নীচে নামিয়া তৎক্ষণাৎ সে বাটী হইতে পলায়ন করিল। আপনার মাহিনা কি কাপড়-চোপড় লইতে। আর সে ফিরিয়া আসিল না। সে পৰ্যন্ত পুরুষোত্তম ব্ৰাহ্মণের আর কোন সন্ধান কেহ পায় নাই। পুরুষোত্তম যখন চলিয়া গেল, তখন বিদ্যাধরী। ঝি, গোলাপী ঝি ও পিতেম চাকর সকলেই হাবা সাজিল। তাহারা বলিল,— “ব্ৰাহ্মণ কেন এরূপ কাজ করিয়াছ, তাহার বিন্দুবিসর্গ কিছুই আমরা জানি না।” সেজন্য এ ব্যাপার কেন সুজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Voy যে ঘটিয়াছিল, নীলাম্বরবাবু এখনও তাহার সবিশেষ কারণ জানিতে পারেন নাই। তাঁহার ধারণা এই যে, উড়ে ব্ৰাহ্মণ হয় পাগল হইয়াছিল, আর না হয় তাহাকে ভুতে পাইয়াছিল। যাহা হউক, নীলাম্বরবাবু তাড়াতাড়ি স্ত্রীলোকের মাথা হইতে থলিটি খুলিয়া লইলেন। বলা বাহুল্য যে, থলির ভিতর হইতে তাঁহার স্ত্রীর মুখ বাহির হইয়া পড়িল। গিনী তখন জ্ঞানশূন্য, মূৰ্হিত। অনেক কষ্টে পুনরায় তাহার চেতন হইল। তাহার পর, হিষ্টিরিয়া রোগ দ্বারা তিনি আক্রান্ত হইলেন। ছয়মাসকাল পৰ্যন্ত নানা রোগে তিনি কষ্ট পাইলেন। ডাক্তার-বৈদ্য দেখাইয়া অনেক টাকা খরচ করিয়া, নীলাম্বরবাবু এখন তাঁহাকে ভাল করিয়াছেন। সকলে এখন সুখেস্বচ্ছন্দে কালব্যাপন করিতেছেন । sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro মেঘের কোলে বিকিমিকি । সতী হাসে ফিকিফিকি প্ৰথম অধ্যায় আশ্চৰ্য্য ছবি হৃষীকেশ রায় কলিকাতার আর্ট স্কুলে অধ্যয়ন করেন। এই বিদ্যালয়ে বালকেরা ছবি আঁকিতে শিক্ষা করে। ছবি আঁকা ভিন্ন হৃষীকেশ। ফটোগ্রাফ লাইতে অর্থাৎ আলোক-যন্ত্রের সহায়তায় মানুষের চেহারা তুলিতে শিক্ষা করিয়াছিলেন। গ্ৰীষ্মের ছুটি পাইয়া হৃষীকেশ বাটী আসিয়াছিলেন। তাঁহার নিবাস রামদেবপুর। পূৰ্ব্বে এই গ্রামে অনেক লোকের বাস ছিল। ম্যালেরিয়ার উপদ্রবে গ্রামখানি এক্ষণে জনশূন্যপ্ৰায় হইয়াছে। হৃষীকেশের পিতা দর্পনারায়ণ রায় মহাশয় এক্ষণে গ্রামের মধ্যে প্ৰধান ব্যক্তি। তিনি নিজে অনেক অর্থ উপাৰ্জ্জন করিয়া ধনবান হইয়াছেন। নিকটস্থ কােন গ্রামের একজন লােক তীহার শৃিঙ্গুলীর ছবি তুলিবার নিমিত্ত হৃষীকুেশকে গুগ্লম চেহারা তুলিবার যন্ত্র ও ছবি আঁকিবার চাকায় চড়িয়া সেই গ্রামে গমন করিলেন ইষ্ট’কাচে উপর হৃষীকেশ বালকের ছায়া গ্ৰহণ করিলেন! নিমিত্ত যন্ত্র হইতে কাচখানি তিনি অতি সাবধানে বাহির করিলেন!! আশ্চৰ্য্য! কাচের উপর বালকের মুখশ্ৰী অঙ্কিত হয় নাই। কাচের উপর এক পরমা সুন্দরী বালিকার প্রতিবিম্ব পড়িয়াছে। নিকটে কোন বালিকা ছিল না। কাচের উপর বালিকার মুখশ্ৰী কি করিয়া উঠিল? এরূপ অদ্ভুত ঘটনা কেহ কখন দেখে নাই, কেহ কখন শুনে নাই। বিস্ময়ে হৃষীকেশ স্তম্ভিত হইলেন। তাহার পর এরূপ রূপও কেহ কখনও দর্শন করে নাই । ছবিতে সেই মুখশ্ৰী দেখিয়া হৃষীকেশের মন মোহিত হইল। এরূপ দেবকন্যাসমা বালিকা কি পৃথিবীতে আছে? মানুষের এরূপ অসামান্য রূপ কি হইতে পারে? যাই হউক, এই ছবির উপর আমি আমার প্রাণ সঁপিলাম। যদি পৃথিবীতে থাকে, যদি সে আমার স্বজাতি হয়, যদি আমি তাহাকে পাই, তাহা হইলে আমি সংসার-ধৰ্ম্ম করিব। নতুনবা সন্ন্যাসী হইয়া দেশে দেশে ভ্ৰমণ করিব। গ্ৰীষ্ম বর্ষায় নানা ক্লেশে শরীরকে ক্লিষ্ট করিয়া অবশেষে সাদরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিব । “হৃষীকেশ!! ছবি কি ভাল উঠে নাই?” বালকের পিতা এই কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। চমকিত হইয়া হৃষীকেশ উত্তর করিলেন, — “না। আমার যন্ত্র বেকল হইয়া গিয়াছে। আজ আর ছবি হইবে না। আজ আমি বাড়ী যাই।” WESFifig gy Szove, sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro এই কথা বলিয়া তাড়াতাড়ি বালিকার প্রতিবিম্বে অঙ্কিত সেই কাচখানি তিনি বাক্সের মধ্যে লুক্কায়িত করিলেন। তাহার পর আপনার চাকার উপর চড়িলেন। যে চাকর তাঁহার যন্ত্রাদি লইয়া আসিতেছিল, তাহাকে তিনি পশ্চাৎ পশ্চাৎ আসিতে বলিলেন। গ্রামের বাহিরে এক নিভৃত স্থানে গাছতলায় চাকরের প্রতীক্ষায় তিনি বসিয়া রহিলেন। চাকর সেই স্থানে আসিয়া পৌছিলে তাহার নিকট হইতে ছবি আঁকিবার দ্রব্যাদি।পূর্ণ বাক্সটি গ্রহণ করিয়া তাহার ভিতর হইতে তুলি, নানাবিধ রং ও একখণ্ড গোলাকার ক্ষুদ্ৰ হাতীর দাঁতের উপর তিনি সেই বালিকার ছবি আঁকিতে লাগিলেন। উপরে কাচ ও চারিধারে পিত্তলের গড়ন দ্বারা আবদ্ধ ছোট একখানি ছবি তাহা বাক্সর ভিতর ছিল! সেই ছবিখানি বাহির করিয়া তাহার পরিবৰ্ত্তে হস্তিদন্তে চিত্রিত বালিকার ছবিখানি তিনি সেই গড়নের ভিতর আবদ্ধ করিলেন। অবশেষে সূতা বাধিয়া বালিকার ছবিখনি তিনি আপনার গলায় পরিলেন। যন্ত্র ও দ্রব্যাদি সহিত চাকরকে আগে পঠাইয়া সেই গাছতলায় তিনি পড়িয়া রহিলেন। হৃষীকেশের বয়স অধিক হয় নাই, ষোল কি সতের বৎসর। তথাপি সেই বালিকার জন্য তিনি পাগলের ন্যায় হইয়াছিলেন। গাছতলায় পড়িয়া কেবল তিনি তাঁহাকে ভাবিতে লাগিলেন। আর যতক্ষণ পৰ্যন্ত দিন ছিল, ততক্ষণ পৰ্যন্ত বক্ষঃস্থল হইতে তিনি সেই বালিকার ছবি বাহির করিয়া বারবার দেখিতে লাগিলেন । বালকের ছায়া গ্ৰহণের সময় কোথা হইতে বালিকার ছবি আসিল, তাহা তিনি কিছুই বুঝিতে পারিলেন না। নিশ্চয়। এ দৈব ঘটনা। যদি দৈব ঘটনা হয়, তাহা হইলে নিশ্চয় বালিকা কোন না কোন স্থানে আছে, আর নিশ্চয় বিধাতা তাহার জীবনের সহিত আমার জীবন জড়িত রাখিয়াছেন ৷ ঘাসের উপর মাটিতে ་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་་ ক্ৰমে সন্ধ্যা হইল। তথাপি হাবীকেশ । ক্রমাগত তিনি সেই বালিকার অপূৰ্ব্ব মুখশ্ৰী ধ্যান করিতে লাগিলেন। রাত্রি প্রায় র অতীত হইল। ঘোর অন্ধকার । সমস্ত পৃথিবী আমি এই বালিকাকে অন্বেষণ এই প্ৰতিজ্ঞ, যদি তাঁহাকে না পাই, তাহা হইলে এ ছার প্রাণ আমি বিসর্জন মনে হৃষীকেশ এইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিয়া সে-স্থান হইতে উঠিলেন। উঠিয়া দেখিলেন যে, আকাশের পশ্চিম-উত্তর কোণে ঘোরতর মেঘ করিয়াছে, আর সেই কালো মেঘের কোলে চক্‌মক্‌ করিয়া বিজলী খেলিতেছে, তাড়াতাড়ি তিনি আপনার চাকার উপর চড়িয়া গৃহ অভিমুখে যাত্ৰা করিলেন। যে গ্রামে তিনি গিয়াছিলেন, সে-স্থান হইতে বাটী যাইতে মাঝে একটা জলা আছে। তাহার মাঝখান দিয়া একটি পাকা রাস্তা গিয়াছে। এক ক্রোশ জলা পার হইয়া নিজের গ্রামে যাইতে হয়। রাত্রি নয়টার অধিক হইয়াছে। মাঠের পথে জনমানব নাই। হৃষীকেশ দ্রুতবেগে জলা পার হইতে লাগিলেন। প্ৰায় অৰ্দ্ধেক পথ পার হইয়াছেন, এমন সময় সহসা তাহার চারিদিকে প্রবলবেগে ঘূর্ণিবাতাস উথিত হইল। বায়ুর সীে-সীে, বৃক্ষপত্র ও শুষ্ক ঘাসের খড়খড় শব্দ হইতে লাগিল। তাহার চক্ষু ও মুখ ধূলায় পূর্ণ হইয়া গেল। বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি পড়িতে লাগিল। সেই মুহূৰ্ত্তে কে একজন যে শূন্য হইতে তীহার চাকার উপর পড়িল। তাঁহার পশ্চাতে চাকার উপর বসিয়া দুই হাতে তাঁহার গলা জড়াইয়া ধরিল। গলা ধরিয়া তাহার কানে চুপি-চুপি বলিল,— “মেঘের কোলে ঝিকিমিকি । সতী হাসে ফিকিফিকি।” অকস্মাৎ এই অদ্ভুত ঘটনা দেখিয়া ভয়ে হৃষীকেশের প্রাণ উড়িয়া গেল। মূৰ্ছিত হইয়া চাকা হইতে তিনি পতিতপ্রায় হইলেন। কিন্তু যে তাঁহার পশ্চাতে বসিয়াছিল, সে দুই হাতে তাঁহার - o8 fi:Ilă zi, 3 goi se - www.amarboicoif"** গলা জড়াইয়াছিল। সেজন্য মাটিতে তিনি পড়িয়া গেলেন না। অজ্ঞান অবস্থায় হাত-পা অবশ হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু তবুও তাঁহার চাকা মাটিতে পড়িয়া যায় নাই। পূৰ্ব্বের ন্যায় চাকা বনবনু করিয়া অগ্রসর হইতেছিল। হৃষীকেশের ক্রমে একটু সংজ্ঞা হইল। বিদ্যুতের আলোকে তিনি দেখিলেন যে, যে তাঁহার গলা ধরিয়াছিল, তাহার দুই হাতে শাখা রহিয়াছে। তাহাতে তিনি বুঝিলেন যে, সে স্ত্রীলোক। এ যে মানুষ নহে, তাহা তিনি পূৰ্ব্বেই ঠিক করিয়াছিলেন। তিনি ভাবিলেন যে, প্রেতিনী অথবা শঙ্খচূণীর হাতে আজ আমি পড়িয়ছি। আমাকে নিশ্চয় এ মারিয়া ফেলিবে। প্রথম তিনি আপনার গলা হইতে ভূতিনীর হাত দুইটি ছাড়াইতে চেষ্টা করিলেন। কিন্তু তাঁহার সে চেষ্টা বিফল হইল। ভূতিনী হাত দুইটির দ্বারা তাঁহার গলা এত দৃঢ়ৰূপে চাপিয়া ধরিল যে, তাঁহার শ্বাসরোধ হইবার উপক্রম হইল। আরব্য উপন্যাসের বৃদ্ধ পদ দ্বারা যেরূপ সিন্ধুবাদের গলা চাপিয়া ধরিয়াছিল, ভূতিনী তাহার দুই হাত দিয়া হৃষীকেশের গলা সেইরূপে চাপিয়া ধরিল। হস্তদ্বয় হইতে নিস্কৃতি না পাইয়া হৃষীকেশের চাকা হইতে লম্ফ প্রদানের চেষ্টা করিলেন। কিন্তু ভূতিনী তাঁহাকে বলপূৰ্ব্বক ধরিয়াছিল; সুতরাং সে চেষ্টাও বিফল হইল। আজ ভূতের হাতে নিশ্চয় প্রাণ হাৱাইলাম, এইরূপ ভাবিয়া হৃষীকেশ মুখে ধূলি মাড়িয়া দিল, তাহার হাত-পা কঁাপিতে লাগিল, তাঁহার হৃৎপিণ্ড ধড়ফড় করিতে লাগিল। পুনরায় মূৰ্ছা! হইবার উপক্রম হইল। কিন্তু যাহাতে জ্ঞানশূন্য না হইয়া পড়েন, সেজন্য মনকে দৃঢ় করিতে চেষ্টা করিলেন। অবশেষে সাহসে ভর করিয়া ভূতিনীকে বলিলেন,- “কে তুমি? আমি তোমার কাছে কি অপরাধ করিয়াছি যে, তুমি আমাকে কষ্ট দিতেছ? আমাকে ছাড়িয়া দাও।” মেঘের কোলে বিকিমিকি । & বঁধুকে আমি নিয়েছি কোলে৷ চাকা বন-বন করিয়া অগ্রসর হইতে লাগিল। ভূতিনী সেই চাকার উপর বসিয়া নাচিতে লাগিল। নাচিতে নাচিতে সুর করিয়া সে পুনরায় উচ্চেঃস্বরে বলিতে লাগিল,— টিপি টিপি বৃষ্টি পড়ে মেঘে ঝিকিমিকি । ডুলির ভিতর বসে ক'নে হাসে ফিকিফিকি৷ বিয়ের সম্বন্ধ মামা করে, খুড়ো নয়কো রাজি। হিন্দুর ঘরে বিয়ের মামলা বিচার করেন কাজি৷ লাল কাপড়ে ময়ুর আঁকা হাতে রাঙ্গা কড। বিয়ের সময় ছানিলা তলায় উঠলো বড় বড়৷ বিয়ের পরে বাসর-ঘরে কীনে বেটী যান। পাড়ার মেয়ে এসে করে শিবঠাকুরের গান৷ ডাকাত সাজে বুড়ো কাজি দেড়ে থানাদার। চকচকনি টাকা পেয়ে খুলে দিলাম দ্বারা। 2ሃIEjg ፵፭ff sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro \ეo(* জলার ভিতর আছি ভাই নাইকো আমার গতি । যতদিন না বঁধুর সঙ্গে মিলবে পুন সতী৷ যাও বঁধু সেই ক'নের কাছে গলায় ছবি যার। উলু উলু উলু উলু উলু পাঁচবার৷ উলু দিতে দিতে ভূতনী চাকার উপর হইতে লাফাইয়া পড়িল ও অন্ধকারের ভিতর অদৃশ্য হইয়া গেল। হৃষীকেশের চাকা আপনার বেগে বেগে কিছুদূর অগ্রসর হইয়া একপাশ হইয়া পড়িয়া গেল। সেই সঙ্গে চীৎকার করিয়া হৃষীকেশ অজ্ঞান হইয়া ভূমিতে পতিত হইলেন। নিকটে কয়েকঘর মুসলমানের বাস ছিল। হৃষীকেশের চীৎকার শুনিয়া তাহাদের চারিপাঁচজন লোক বাহিরে আসিল। মূচ্ছিত হৃষীকেশকে দেখিয়া তাহারা চিনিতে পারিল। মুখহাতে জল দিয়া বাতাস করিয়া তাহারা তাঁহাকে চেতন করিল। তাহার জ্ঞান হইল বটে, কিন্তু তিনি কোন কথা বলিতে পারিলেন না। কি হইয়াছিল, কেন তিনি চীৎকার করিয়াছিলেন, কেন তিনি পড়িয়া গিয়াছিলেন, সেসব প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল বিজ-বিজ করিয়া বকিতে লাগিলেন। একজন মুসলমান বলিল,- “ঝিকি মিকি, ফিকি ফিকি কি বলিতেছেন, বুঝিতে পারা যায় না ।” সকলে বলিল,- “নিশ্চয় জলার পেতনী ইহাকে ধরিয়াছিল। চল, ইহাকে বাড়িতে রাখিয়া আসি ।” এই বলিয়া তাহারা হয়ীকেশকে বাড়ী লইয়া গেল। মাতা ছিলেন না । সংসারে ছিলেন কেবল পিতা, বড় ভ্রাতৃবধূ ও তাঁহার পুত্র। তাঁহার মাতার কিছুদিন পরে তাহার জ্যেষ্ঠ সহােদরও অল্পবয়সে পরলোক মূৰ করেন। যাহার মাতা নাই, সংসারে তাহার কেহ নাই । ஜூ হৃষীকেশের কেহ খোঁজখবর বড় । পিতা কেবল একবার জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তোমার কি হইয়াছে?” క్లో হৃষীকেশ বিজ-বিজ করিয়া কি । তাহা শুনিয়া পিতা বলিলেন,- “ঝিকমিক ফিক ফিক আবার কি?” এই বলিয়া পিতা সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিলেন। রাত্রির শেষভাগে হৃষীকেশ শয্যা হইতে উঠিলেন। ছবিখানি বুকের উপর রাখিয়া যৎকিঞ্চিৎ অর্থ লইয়া তিনি গৃহ হইতে প্ৰস্থান করিলেন। পিতা লোক দ্বারা তাঁহার অনুসন্ধান করিলেন। কিন্তু হৃষীকেশের কোন সন্ধান হইল না। দ্বিতীয় অধ্যায়। হৃষীকেশের পিতা, – দর্পনারায়ণ রায় মহাশয় উগ্ৰস্বভাববিশিষ্ট লোক, সৰ্ব্বদাই তিনি রাগিয়া থাকেন। নিজে তিনি অনেক অর্থ উপাৰ্জন করিয়াছেন, সেই অহঙ্কারে তাঁহার মেজাজ। সৰ্ব্বদাই KoV. দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ গরম হইয়া থাকে। তাহার কটুবাক্যে সকলেই বিরক্ত। পাড়াপ্রতিবাসী আত্মীয়স্বজন কাহারও সহিত তাঁহার সদ্ভাব নাই, এমন কি, তাহার পুত্রদিগের সহিতও তাঁহার সম্প্ৰীতি ছিল না। জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ তাহার তাড়নায় সৰ্ব্বদাই জৰ্জ্জৱীভূত। অল্পবয়সে তিনি বিধবা হইয়াছেন। কিন্তু শিশুপুত্রটির লালন-পালনে ব্যস্ত থাকিয়া তিনি সকল দুঃখ বিস্মৃত হইয়াছেন। পুত্রটির বয়স এক্ষণে পাঁচ বৎসর। তাহার নাম বিনয়। বিনয় অতি সুবোধ ও শান্ত বালক । পিতামহ সংসারে কখন কাহাকেও ভালোবাসেন নাই। একমাত্র বিনয়ের প্রতি কেবল তাঁহার যৎকিঞ্চিৎ স্নেহ জনিয়াছিল। এক বিনয় ভিন্ন আর কেহ তাঁহার নিকট যাইতে অথবা তাঁহার সহিত কথা কহিতে সাহস করিত না । কিন্তু আজ বিনয়ের উপরও তাঁহার রাগ হইয়াছে। বিনয় কোন দোষ করে নাই, বিনয়ের মাতাও কোনও দােষ করে নাই। দােষ করিয়াছিলেন, বিনয়ের মাতামহ মৃত্যুঞ্জয় নস্কর। বিনয়ের মাতার এক অবিবাহিতা ভগিনী আছে, তাহার রূপ ও গুণের সুখ্যাতি রায় মহাশয় অনেক লোকের মুখে শুনিয়াছিলেন। হৃষীকেশের সহিত তাহার বিবাহ দিবার জন্য রায় মহাশয় ইচ্ছা করিয়াছিলেন। কিন্তু কন্যার পিতা সে প্রস্তাবে সম্মত হন নাই। বৈবাহিককে তিনি স্পষ্ট বলিলেন যে,- “তোমার ধন থাকিলে কি হইবে? আমার জ্যেষ্ঠা কন্যাকে তুমি একদিনও সুখী করা নাই। আমার জামাতা,- তোমার পুত্ৰ-তােহর সহিত তোমার সদ্ভাব ছিল না। তোমার তর্জন-গৰ্জ্জনে সে অল্পবয়সে মরিয়া গেল, আমার কন্যা বিধবা হইল। তাহাকেও তুমি একদিনের জন্যও সুখে রাখ নাই। আমার যদি অবস্থা ভাল হইত, তাহা হইলে তোমার বাড়ীতে একদিনের জন্য বিধবা কন্যাকে আমি থাকিতে । বিনয় ও তাহাকে আনিয়া আমার ঘরে রাখিতাম। আমার কনিষ্ঠা কন্যা অন্নপূর্ণ — লক্ষ্মীস্বরূপ কন্যা। চির দুঃখিনী হইবার জন্য তোমার বাড়িতে তাহাকে আমি পারি না।” নস্কর মহাশয়ের এই উত্তর শুনিয়া রায় য়র মন রাগে পরিপূর্ণ হইল। সেই কথা লইয়া পুত্রবধূকে তিনি সৰ্ব্বদাই ভৎসনা লাগিলেন। যখন হৃষীকেশ বাড়ী হইতে পলায়ন করিলেন, তখন তাঁহার রাগের আর 'পরিসীমা রহিল না। তিনি ভাবিলেন যে, সুরূপা সুলক্ষণা অন্নপূর্ণার সহিত বিবাহ দিলে পুত্ৰ দেশত্যাগী হইত না। এইরূপ ভাবিয়া পুত্রবধূকে তিনি দিবারাত্র তিরস্কার করিতে লাগিলেন। পুত্ৰ হৃষীকেশের প্রতি তাহার যে প্ৰগাঢ় স্নেহ-মমতা ছিল, তাহা নহে। ক্ৰোধে অভিভূত হইবার, লোককে গালি দিবার একটি কারণ পাইয়াছেন, তাহাই তাহার পক্ষে যথেষ্ট। অহােরাত্রি তিরস্কারের জ্বালায় পুত্রবধূর জীবন অসহনীয় হইয়া উঠিল। সমস্ত দিন আহার না করিয়া অবিরল ধারায় চক্ষের জল ফেলিতে লাগিলেন। রায় মহাশয়ের রাগ তাঁহাতে আরও বৃদ্ধি হইল। পুত্রবধূর প্রতি নানারূপ নিদারুণ বাক্য প্রয়ােগ করিয়া অবশেষে তিনি বলিলেন, — “তোমার পিতার দোষে আমার পুত্ৰ বিবাণী হইয়া গেল। তোমার পিতা বলে যে, তোমাকে এখানে থাকিতে দিতে তাহার ইচ্ছা নাই। পুত্ৰ লইয়া তুমি আমার বাটী হইতে দূর হও!” বিধবা পুত্রবধূ, কৰ্ত্তার নিষ্ঠুর বাক্য আর সহ্য করিতে পারিলেন না। শিশুপুত্রটির হাত ধরিয়া তিনি বাটী হইতে বাহির হইলেন, তাহার পর অতিকষ্টে পিতার ভবনে গিয়া উপস্থিত হইলেন। পিতা বলিলেন যে,- “মা ! যদি আমাদের একমুঠা জোটে, তাহা হইলে তাহার আধমুঠা তোমাকে ও তোমার পুত্রকে আমরা দিবো। সে নরাধমের বাড়ীতে আর তোমার গিয়া কাজ नाई।" ଅysist ମୃତ୍ୟୁ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বড় পুত্র জীবিত নাই, কনিষ্ঠ পুত্ৰ দেশত্যাগী হইয়াছে। বিধবা পুত্রবধূ ও পৌত্রকে তিনি তাড়াইয়া দিলেন। রায় মহাশয়ের সংসার শূন্য বােধ হইল। কতক রাগে, কতক মনের খেদে, তিনি পুনরায় বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিলেন। তাহার বয়স এক্ষণে ষাটি বৎসরেরও অধিক। কিন্তু টাকায় কি না হয়? নিকটস্থ একখানি গ্রামে চতুৰ্ভুজ হােড় নামক এক ব্যক্তি বাস করিতেন। কন্যা বিক্রয় করিয়া অনেক অর্থলাভ করিবেন, এইরপ আশা করিয়া, কন্যাকে তিনি বড় করিতেছিলেন। অনেক টাকা দিয়া রায় মহাশয় তাহার পনের বৎসর বয়স্ক কন্যাকে বিবাহ করিলেন। হাড় মহাশয়কে কেবল যে তিনি নগদ টাকা দিলেন তাহা নহে, তাহার কন্যাকে প্রচুর অলঙ্কার প্রদান করিলেন!! কন্যার যদি পুত্ৰ হয়, তাহা হইলে তাঁহাকেই সমুদয় সম্পত্তি দিয়া যাইবেন, সেইরূপ অঙ্গীকার করিলেন!! আর সপরিবার হাড় মহাশয়কে চিরকাল প্ৰতিপালন করিতেও স্বীকৃত হইলেন। সেজন্য বিবাহের পর কন্যার পিতা হাড় মহাশয়, কন্যার মাতা, কন্যার ভ্রাতা বৃন্দাবন ও ভ্রাতার স্ত্রী সকলে আসিয়া রায় মহাশয়ের বাটিতে বাস করিতে লাগিলেন। রায় মহাশয়ের সংসার পুনরায় জাজ্বল্যমান হইল। কিন্তু বিধাতা কপালে সুখ না লিখিলে সুখ হয় না। একবৎসর পরে, ঠিক পূজার পূৰ্ব্বে, রায় মহাশয়ের নববিবাহিতা পত্নী সহসা রোগগ্ৰস্ত হইয়া ইহলীলা সম্বরণ করিলেন। রায় মহাশয়ের পুনরায় গৃহশূন্য হইল। পত্নীর পরলোক হইল বটে, কিন্তু হড়বংশ রায় মহাশয়ের বাটীতে বাস করিতে লাগিলেন। মনের দুঃখে রায় মহাশয় বলিলেন যে,- “আমার পুত্ৰ, পুত্রবধূ, কেহই আমার অসময়ে মুখপানে চাহিয়া দেখিল না । পুত্ৰ, অথবা পৌত্রকে আমি আমার আমার সমুদয় সম্পত্তি দিয়া যাইব ।” SNర్ এই কথা শুনিয়া হড়বংশের মন পুলবি সকলে একান্ত মনে রায় মহাশয়ের সেবা-শুশ্ৰুষা করিতে লাগিলেন। রায় মহাশয় বললেন বটে, কিন্তু কীিয়াব কখন কাহাকেও তিনি ভালবাসিয়া থাকে বিনয়ও পিতামহকে অন্তরের সহিত ভালবাসিত। হাড়গণ যে নিতান্ত স্বার্থপর, রায় মহাশয় তাহা বিলক্ষণ বুঝিয়াছিলেন। তাঁহার টাকা পাইবার লোভে তাহারা যে তাঁহার আজ্ঞাকারী হইয়া আছে, তাহাদের মনে যে অনুমাত্র স্নেহ-মমতা নাই, তাহাও তিনি জানিতেন। সেজন্য সৰ্ব্বদাই তাঁহার মন উদাস থাকিত। শিশু বিনয় ভিন্ন পৃথিবীতে আর কোন প্রাণী যে তাঁহাকে ভালবাসে না, এই বৃদ্ধবয়সে সৰ্ব্বদাই তাঁহার মনে সেই চিন্তা উদয় হইত। সংসার সর্বদাই তিনি শূন্য দেখিতেন। বৃদ্ধবয়সে মানুষ যখন পৃথিবীর সমুদয় সুখ হইতে বঞ্চিত হয়, তখন আত্মীয়স্বজনের স্নেহ-মমতায় মানুষ অনেক পরিমাণে শান্তিলাভ করে। রায় মহাশয় দােল-দুর্গোৎসব করেন বটে, কিন্তু প্ৰকৃত ঈশ্বরে ভক্তি তাঁহার ছিল না। ঈশ্বরে একান্ত বিশ্বাসজনিত যে শান্তি, সে শান্তির আস্বাদ তিনি একেবারেই জানেন না। তাহার পর এত টাকা থাকিতেও সাংসারিক সুখ তাঁহার একেবারেই নাই। দ্বিতীয় পত্নী বিয়োগের পর একবৎসরকােল তিনি অতি দুঃখে কাটাইলেন। তাহার পর বিনয়কে কাছে আনিতে তাঁহার নিতান্ত ইচ্ছা হইল। হাড়গণ এ প্রস্তাবে যতদূর সাধ্য আপত্তি করিলেন। কিন্তু রায় মহাশয় তাহাদের কথা শুনিলেন না। তিনি বিনয়কে আনিতে পাঠাইলেন। কিন্তু পুত্রবধূকে পুত্র গৃহত্যাগী হইয়াছে, সে পুত্রবধূর মুখ আমি দেখিব না। ኢኃobr fing <nž3. g3 ze! A www.amarboi.comfo%3"*"***"**** বিনয়ের মাতা ভাবিলেন যে,- “আমার পিতার অবস্থা ভাল নহে। এস্থলে বিনয় থাকিলে, তাহার লেখাপড়া হইবে না। পিতামহের নিকট থাকিলে, বিনয়ের প্রতি তাঁহার স্নেহ হইবে। তাহা হইলে হাড়দিগকে তিনি সমুদয় বিষয় দিয়া যাইবেন না, বিনয়কে হয়তো কিছু দিবেন।” এইরূপ ভাবিয়া পুত্রের হিতার্থে তিনি বিনয়কে পিতামহের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। বিনয়কে পাইয়া রায় মহাশয়ের মন অনেকটা শান্তিলাভ করিল। বিনয়ের সহিত গল্প করিয়া, বিনয়কে অঙ্ক প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা প্ৰদান করিয়া তিনি যেরূপ আনন্দ পাইলেন, এরূপ আনন্দ জীবনে তিনি কখন উপভোগ করেন নাই। হােড়বংশের হৃদয় হিংসায় ফাটিয়া যাইতে লাগিল । বিনয়কে বাড়ীতে আনিবার অতি অল্প দিন পরে রায় মহাশয় ঘোরতর পীড়িত হইলেন। প্রথম অবস্থায় তাহার পীড়া কঠিন হয় নাই। কিন্তু বড় হড় ছােট হাড় প্রভৃতির কৃত্রিম আদরে তিনি অতিশয় বিরক্ত হইয়া উঠিলেন। তঁহাকে আশ্বাস প্ৰদান করিয়া হাড়গণ সৰ্ব্বদা, বলিত— “কোন ভয় নাই। সেবা করিয়া আমরা তোমাকে ভাল করিব।” রায়মহাশয় এই সকল আশ্বাসবােক্য একবার, দুইবার, তিনবার চুপ করিয়া শুনিলেন। তাহার পর তিনি বলিয়া উঠিলেন। তিনি বলিলেন,- “ভয় নাই! ভয় কে করিয়াছে? মৃত্যুভয়ে কবে তোমাদিগের নিকট আমি কাদিয়াছি?” হাড় মহাশয় উত্তর করিলেন, — “না না, আমরা এমন কোন কথা বলি নাই। তবে কথা এই যে, পীড়া কঠিন নহে, শীঘই তুমি আরোগ্যলাভ করিবে।” সকলে যাহা বলে, রায় মহাশয় কখন তাহা করেন স্নায়। সকলে যেরূপ ইচ্ছা করে, তাহার ঠিক বিপরীত কাজ করা তাহার স্বভাব। হাড় মহাশয়ম্বষ্টনী বলিলেন যে, তুমি শীঘ্ৰ ভাল হইবে, তখন রায় মহাশয় মনে মনে প্ৰতিজ্ঞা করিলেন তেবে আমি শীঘ্ৰ ভাল হইব না। শীঘ্ৰ ভাল হইব! বটে। দেখি কে আমাকে শীর্ঘ ভাল পারে । এইরূপ করিয়া তিনি নানারূপ কুপথ্য করিতে লাগিলেন। দুই-চারিদিনের মধ্যে তাহার পীড়া কঠিন হইয়া উঠিল। তাহার জীবনের আশা ছাড়িয়া দিলেন। অজ্ঞান অভিভূত হইয়া তিনি পড়িয়া । তিন দিন পরে সামান্যভাবে তাঁহার একটু চৈতন্য হইল। চক্ষু চাহিয়া কিছুক্ষণের নিমিত্ত তিনি এদিক-ওদিক ফ্যাল-ফ্যাল দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিলেন। তাহার পর মৃদুস্বরে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “বিনয়! বিনয় কোথা?” হড়নী তখন তাহার নিকট বসিয়াছিলেন। তিনি উত্তর করিলেন,- “বিনয় বালক! পাছে গোলমাল করে, সেইজন্য তোমার নিকট তাহাকে আমরা আসিতে দিই না।” রায় মহাশয় পুনরায় মৃদুস্বরে বলিলেন,— “তুমি এ-ঘর হইতে এখন যাও; বিনয়কে अॉर्टादशा प्रो७ ।" অনেক বুঝাইলেন। “ভগবানের কৃপায় আজ যদি তুমি একটু ভাল আছ, তাহা হইলে আর অত্যাচার করা উচিত নহে। বিনয় আসিলে তাহার সহিত তুমি কথা কহিবে। এই দুৰ্ব্বল অবস্থায় কথা কহিলে পীড়া পুনরায় বৃদ্ধি হইবে।” রায় মহাশয় কিছুতেই শুনিলেন না। অগত্যা হাড় মহাশয় বিনয়কে তাঁহার নিকট পাঠাইয়া দিলেন। ঘরে প্রবেশ করিয়া বিনয় পিতামহের শয্যার নিকট বসিল । তাহার পর কাদা-কাদ মুখে সে বলিল,— “ঠাকুরদাদা! তোমার কাছে ইহারা আমাকে আসিতে দেয় না। একবার ysig 7 Vod sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro নিকট আসিয়াছিলাম। আমাকে গালি দিয়া ইহারা তাড়াইয়া দিয়াছিল! বুড়ো হাড় মহাশয়ের ছেলে বৃন্দাবন দাদা বলে, টাকার ভাগ লইবি, তাই ঠাকুরদাদা ঠাকুরদাদা! কবে আমি তোমার কাছে টাকা চাহিয়াছি ঠাকুরদাদা! তুমি একটি করিয়া পয়সা দিতে, তাহাই আমি লাইতাম । টাকা তো তুমি আমাকে দাও নাই।” তৃতীয় অধ্যায় বিনয় রায় মহাশয় বিনয়ের হাতটি ধরিয়া কিছুক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন। তাহার পর তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ইহারা আর কি বলে?” বালক উত্তর করিল,— “ডাক্তার বলিয়াছে, তুমি বঁচিবে না; সেজন্য ইহাদের বড় আমোদ হইয়াছে, ঠাকুরদাদা! উইল কাহাকে বলে?” রায় মহাশয় বলিলেন,- “কেন, সে কথায় তোমার কাজ কি?” বিনয় উত্তর করিল,- “সেদিন হাড় মহাশয় ও হড়ংক্সিমাতে কথা হইতেছিল। তােমার যত টাকাকড়ি আছে, তুমি নাকি উইল করিয়া সূৰ্ব্বঙ্গেইদিগকে দিয়াছ? তাই হাড় মহাশয় বলিতেছিলেন যে, তুমি মরিয়া গেলে এই টাকুর্দিয়া তিনি জমি কিনিবেন। হাড়-ঝিমা বলিলেন, বৃন্দাবুৰ্দ্ধন্দাবলিলেন, তিনি একটা ঘোড়া কিিনবেন।” কৃষ্টিলেন,- “হড়-বীে কি বলিল?” বালক উত্তর করিল,- “হডু দিদি কিছুই বলেন নাই। তিনি চুপ করিয়াছিলেন। রায় মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ডাক্তারে কি বলিয়াছে?” বিনয় উত্তর করিল,- “দুই বেলা ডাক্তার যখন তোমাকে দেখিয়া যান, তখন হাড় মহাশয় জিজ্ঞাসা করেন, মহাশয়! এবেলা কেমন দেখিলেন? কি রকম বোধ হয়? ডাক্তার বলেন, — আর বড় জোর দুই দিন। তখন ইহারা খুব আহাদিত হন। দুই দিন পরে তোমার কিছু হয় নাই বলিয়া সকলে বড় দুঃখিত হইয়াছিলেন। বৃন্দাবন দাদা বলিলেন, বুড়ো কি কাঠপরাণী! মরিতে চায় না। কিন্তু ঠাকুরদাদা! তোমার যদি কিছু হয়, তাহা হইলে আমি কোথায় যাইব? মা বলিয়াছেন যে, মামার বাড়ীতে থাকিলে আমার লেখাপড়া হইবে না।” রায় মহাশয় চুপ করিয়া ভাবিতে লাগিলেন,— “বটে, ইহারা আমার মৃত্যু কামনা করিতেছে? ভাল। কিন্তু আমিও প্রতিজ্ঞা করিলাম, এ যাত্ৰা আমি কিছুতেই মরিব না।” এইরূপে চিন্তা করিয়া বিনয়কে তিনি বলিলেন,- “বিনয়! আমি মরিব না। তোমার ভয় নাই। আজ রাত্রিতে তুমি একটি কাজ করিতে পরিবে? যদি তোমার ভয় না করে, তাহা হইলে আমি বলি।” বিনয় জিজ্ঞাসা করিল,- “কি কাজ, ঠাকুরদাদা? তোমাকে সকলে রাগী বলে, ভয়ে তোমার কাছে কেহ আসে না। কিন্তু আমি,- ঠাকুরদাদা, তোমাকে খুব ভালবাসি। তুমি যে কাজ বলিবে, সেই কাজ আমি করিব।” So দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.comন্মিলাক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ এই বলিয়া বিনয় স্নেহের সহিত পিতামহের মাথার নিকট আপন মাখাটি রাখিল । পিতামহ জিজ্ঞাসা করিলেন,- “দালানে ঠাকুর গড়া কতদূর হইয়াছে?” বিনয় উত্তর করিল,— “কুমার আসিয়া খড়ের দুর্গা, গণেশ, কাৰ্ত্তিক, এইসব করিয়া গিয়াছে। তাহার পর তোমার ব্যায়রাম হইল, সেইজন্য আর কিছু হয় নাই।” পিতামহ জিজ্ঞাসা করিলেন— “ঠাকুর দেওয়ালে বাধা আছে?” বিনয় উত্তর করিল,— “ঠাকুরের পিছনে দালানের দেওয়ালের গায়ে মোটা গজাল পোতা আছে। ঠাকুরের পিছনে বঁাশ মোটা দড়ি বাধা আছে। সেই দড়ি দেওয়ালের গজালের সহিত বাধা আছে।” রায় মহাশয় বলিলেন,- “বেশ! রাত্রিতে চুপি-চুপি দালানে গিয়া সেই দড়ি কাটিয়া, ঠাকুর ফেলিয়া দিতে পাৱ?” বিনয় বলিল,— “দালনে ভূত নাই তো?” পিতামহ উত্তর করিলেন, — “না, দালানে ভূত নাই। যদি তোমার ভয় হয়, তবে কাজ নাই। কিন্তু দড়ি কাটিয়া ঠাকুর যদি ফেলিয়া দিতে পাের, তাহা হইলে আমি ভাল হইব। তা না করিলে হয়তো আমি মরিয়া যাইব ।” বিনয় বলিল,— “তবে আমি নিশ্চয় তা করিব, দালানে ভূত থাকুক আর নাই থাকুক, আমি নিশ্চয় তা করিব। আমি বিয়ের কাছে শুই! কাজকৰ্ম্ম সারিয়া ঝি অনেক রাত্রিতে ঘরে আসে। কিন্তু যেমন করিয়া পারি, আজ রাত্ৰিতে আমি জাগিয়া । তাহার পর ঝি ঘুমাইলে আমি বাহির বাটীতে দালানে গিয়া দড়ি কাটিয়া ঠাকুর ফুেলিয়া দিব। কিন্তু ঠাকুরদাদা! আমি ছুরি কোথায় পাইব?” খাটের নিম্নে একটি বাক্স ছিল। পিতামহন্তে সেই বাক্সটি আনিতে বলিলেন। শয়ন করিয়াই অতিকষ্টে তিনি বাক্সটি খুললেন, ৬ষ্ঠ হাঁর ভিতরে বৃহৎ একখানি চাকু ছুরি ছিল। বিনয়কে সবার খুঁটিলয়া তাহার পর মুড়িয়া রাখিল। রায় মহাশয় তাহার পর বাক্স হইতে একখানি কাগজ বাহির কঁরিয়া বিনয়ের হাতে দিলেন ও দিয়াসলাই জ্বালাইয়া তাহা পোড়াইয়া ফেলিতে বলিলেন। পিতামহের আদেশে বিনয় তাহার পর সে ছাইগুলি জানালা দিয়া বাহিরে ফেলিয়া দিল। যে উইলে রায় মহাশয় হড়াদিগকে আপনার সম্পত্তি দিয়াছিলেন, সেই উইল। এইরূপে তিনি ধ্বংস করিয়া ফেলিলেন। উইল রেজেষ্টারি করা হয় নাই। তাহার পর রায় মহাশয় বলিলেন, — “ছুরি লুকাইয়া রাখা। ঠাকুর ফেলার কথা কাহাকেও বলিও না। আজ তবে যাও, কাল সকালবেল পুনরায় আমার সঙ্গে দেখা করিও।” রাত্রি দশটা বাজিয়া গেল। ঝি তবুও ঘরে আসিল না। নিদ্রায় চক্ষু বুজিয়া আসিতে লাগিল! অনেক কষ্টে কিছুক্ষণের নিমিত্ত বিনয় জাগরিত রহিল। কিন্তু আর পারিল না, কে যেন তাহার চক্ষু দুইটি বলপূৰ্ব্বক চাপিয়া দিল। কতক্ষণ বিনয় নিদ্রা গিয়াছিল, তাহা সে ঠিক বলিতে পারে না। কিন্তু সহসা তাহার চক্ষু নিদ্রাভঙ্গ হইল। কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থাকিয়া সে ভাবিতে লাগিল । পিতামহের আদেশ ক্রমে ক্রমে তাহার স্মরণ হইল। তখন তাহার ভয় হইল। সে তাবিল,- “ঐ যা! সকাল বুঝি হইয়া গিয়াছে।” বিনয় কান পাতিয়া কিছুক্ষণ শুনিল,— চারিদিক নিস্তব্ধ, মানুষের সাড়াশব্দ নাই। জানালার দিকে চাহিয়া দেখিল,—সব অন্ধকার। হাত বাড়াইয়া দেখিল,—ঝি কাছে শুইয়া আছে, অঘোরে নিদ্ৰা যাইতেছে। তখনও রাত্রি আছে, সকাল হয় নাই। মজার গল্প SSS sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বিনয় আস্তে আস্তে বিছানা হইতে উঠিল। বালিশের নীচে হইতে ছুরিখানি লইল। ধীরে ধীরে ঘরের দ্বার খুলিল। অন্ধকার রাত্রি। ভয়ে বালকের সর্বশরীর কঁাপিতে লাগিল। বাহির বাটীতে দালানে যাইতে বারবার চমকিত হইল। ঐ বুঝি কে দাঁড়াইয়া আছে। ঐ বুঝি কে হাত বাড়াইতেছে, এ-বস্তু সে-বস্তু দূর হইতে দেখিয়া, বারবার তাহার এইরূপ ভয় মনে উদয় হইল। একবার তাহার মুখ দিয়া চীৎকার বাহির হইবার উপক্রম হইল। পুনরায় ঘরে গিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া দিবার নিমিত্ত একবার তাহার ইচ্ছা হইল। কিন্তু সে ভাবিল যে,--ঠাকুরের দড়ি না। কাটিলে ঠাকুরদাদা বঁচিবেন না। —এইরূপ ভাবিয়া সে মনকে স্থির করিল। পাছে মুখ দিয়া চীৎকার বাহির হয়, সেজন্য দন্ত দ্বারা নিম-ওষ্ঠ সে কামড়াইয়া রহিল। ভয়ে তাহার বুক টিপটিপ করিতেছিল। বুকের শব্দ সে নিজে শুনিতে পাইতেছিল। এ শব্দ পাছে আর কেহ শুনিতে পায়, সেজন্য বামহাতে সে বুক চাপিয়া রহিল। ঠাকুরদাদাকে আমি বঁাচাইব-এই কথা বারবার সে মনে মনে বলিয়া ভয় ও ভাবনা ভুলিতে চেষ্টা করিল। আস্তে আস্তে বিনয় দালানে গিয়া উঠিল। অৰ্দ্ধনিৰ্ম্মিত প্ৰতিমার পশ্চাতে গিয়া দাঁড়াইল । একদিকে প্রতিমার পশ্চাৎদিকের বঁাশের সহিত ও অপরদিকে দালানের প্রাচীরে গজালের সহিত যে রজ্জ্ব বাধা ছিল, চাকু খুলিয়া বিনয় তাহা কাটিতে চেষ্টা করিল। কিন্তু বিনয় সাত বৎসরের শিশু। রজ্জ্ব উচ্চে বাঁধা ছিল। রজ্জ্ব সে নাগাল পাইল না। এত কষ্ট সব আমার বৃথা হইল। ঠাকুরদাদাকে আমি বঁাচাইতে পারিলাম না! ভয় ভুলিয়া বিনয়ের মন এক্ষণে দুঃখে৷ পরিপূর্ণ হইল। কি করি! সেই অন্ধকারে প্রতিমার একাকী দাঁড়াইয়া বিনয় ভাবিতে লাগিল। সহসা তাহার মনে হইল যে, দালানের পার্শ্বে একটি পুরাতন কাঠের বাক্স পড়িয়া আছে। বৃন্দাবন তাহার উপর কখন কখনওঁসিয়া তামাকের ধূমপান করেন। অতিকষ্টে সেই বাক্সটি বিনয় দালানে আনিল। তাহাঙ্গুড়পর দাঁড়াইয়া তবুও সে দড়ির নাগাল পাইল না। বিনয় পুনরায় ভাবিতে লাগিল । ভাবিয়া পুনরায় প্রাঙ্গণে গিয়া দুইখানি ইট লইয়া আসিল । বাক্সের উপর ইট রাখিয়া পর সেই ইটের উপর দাঁড়াইয়া বিনয় দড়ি কাটিতে সমর্থ হইল। কিন্তু দড়ি অতিশয় স্থূল ছিল। পাছে ইন্দুরে কাটে, সেইজন্য তাহার উপর আলকাতরার লেপ ছিল। সেই আলকাতরা শুষ্ক হইয়া দড়ি অতিশয় কঠিন হইয়াছিল। দড়ির উপর ছুরিটি সবলে রাখিয়া একবার উপরে একবার নীচে তুলিতে লাগিল। তাহার শিশুহাত—দড়ি দুই খণ্ড হইতে কিছু বিলম্ব হইল। কিন্তু যেই রজ্জ্ব ছিন্ন হইল, আর হুড়মুড় করিয়া প্রতিমা উপুড় হইয়া পড়িল। সেই সময় ইট দুইখানিও বিনয়ের পা হইতে সরিয়া গেল। বিনয় মাটিতে চিৎপাত হইয়া পড়িয়া গেল। পড়িয়া সে একেবারে জ্ঞানশূন্য হইল। কতক্ষণ অজ্ঞান হইয়া পড়িয়াছিল, তাহা সে বলিতে পারে না। কিন্তু যখন তাহার চেতনা হইল, তখনও রাত্রি অবসান হয় নাই। ধড়ফড় করিয়া সে উঠিয়া বসিল। আমি এখানে কি করিয়া আসিলাম, প্রথম তাহার সেই চিন্তা হইল। তাহার পরে যখন তাহার সকল কথা স্মরণ হইল, তখন পাছে কেহ দেখিতে পায়, তাহার সেই ভয় হইল। পিতামহ তাহাকে এ কথা গোপন রাখিতে বলিয়াছিলেন। ছুরিখানি একটু দূরে পড়িয়াছিল, মাটিতে হাত বুলাইয়া বিনয় তাহা খুঁজিতে লাগিল। অল্প অনুসন্ধানের পর সে তাহা পাইল। বিনয় তখন উৰ্দ্ধশ্বাসে আপনার ঘরে গিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া শয়ন করিল। SSSR află cios (gs se - www.amarboi conf** চতুর্থ অধ্যায় পরদিন প্ৰাতঃকালে বিনয়ের উঠিতে বিলম্ব হইয়াছিল। শয্যা হইতে উঠিয়া মুখ-হাত ধুইয়া সে পিতামহের নিকট যাইবার নিমিত্ত প্ৰস্তুত হইল। তাঁহার মুখ দেখিয়া বিনয় বিস্মিত হইল। আনন্দে তাহার মুখখানি প্ৰফুল্ল হইয়াছে। তাহার পর, হাড় মহাশয়ের মুখে সেইরূপ আহাদের লক্ষণ দেখিতে পাইল। বৃন্দাবনের মুখেও সেইরূপ আনন্দের চিহ্ন। হাড়-বীেয়ের মুখেও সেইরূপ গ্ৰীতি-প্ৰফুল্লতার লক্ষণ। তাহার পর, বড় হড় বড় হড়নীর সঙ্গে, ছোট হাড় ছোট হড়নীর সঙ্গে ফুসফুস করিয়া কথা ও হাসি হইতে লাগিল। কিসের এত আনন্দ? বিনয় তাহা স্থির করিতে পারিল না। একবার হাড় মহাশয় হড়নীকে ইঙ্গিত করিয়া বলিলেন, — “বলা হরি! হরিবোল! এবার আর সন্দেহ নাই।” ইহার অর্থ কি? বিনয় কিছু বুঝিতে পারিল না। অল্পক্ষণ পরে ঝিকে নিভৃতে পাইয়া বিনয় জিজ্ঞাসা করিল,— “হড় মহাশয় এত আমোদ করিতেছেন কেন?” ঝি উত্তর করিল,- “কৰ্ত্তা আর রক্ষা পাইবেন না, আজ কি কাল। একধামা টাকা পাইলে কার না আনন্দ হয়? যার যেমন কপাল! বাপ-মায়ের আমি একপয়সা পাই নাই, আর ইহারা পরের ধনে রাজা হইল। আহাদে তাই সব ফুটিফাটা হইতেছে।” কান্দ-কাদ মুখে বিনয় জিজ্ঞাসা করিল,— :: বাড়িয়াছে?” ঝি উত্তর করিল,- “তা জানি না। তবে কাল ঠাকুর পড়িয়া গিয়াছে।” ঝি উত্তর করিল,- “তুমি তুমি সে সব কথা কিছু বুঝিবে না।” বিনয় তবুঝিকে ছাড়িল না। বারাষ্ট্রর সে সেই কথা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। অবশেষে ঝি বিরক্ত হইয়া বলিল,- “জান না, এ বাটীতে আধগড়া ঠাকুর পড়িয়া গেলে মানুষ মরিয়া যায়? প্ৰথমবার যখন পড়িয়া গিয়াছিল, তখন কৰ্ত্তার পিসী মরিয়াছিলেন। তাহার পর আর একবার ঠাকুর পড়িয়াছিল, তাহাতে তোমার ঠাকুরমা গিয়াছিলেন। তাহার পর আর একবার পড়িয়াছিল, তাহাতে তোমার বাবা মরিয়াছিলেন। তাহার পর আর একবার পড়িয়াছিল, তাহাতে কৰ্ত্তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী, হাড় মহাশয়ের মেয়ে মরিয়াছিলেন। সেইজন্য খুব মোটা দড়ি দিয়া ঠাকুর বাধা থাকে, আর পাছে ইন্দুর কাটে, সেইজন্য দড়ির উপর আলকাতরা মাখানো থাকে। এত সাবধানেও যখন ঠাকুর পড়িয়াছে, তখন আর রক্ষা নাই। মা এবারে কৰ্ত্তাকে না লইয়া ছাড়িবেন না।” বিনয় ভাবিতে লাগিল—তবে ঠাকুরদাদা আমাকে দড়ি কাটিতে বলিলেন কেন? কিছুক্ষণ পর রায় মহাশয় বিনয়কে ডাকিতে পাঠাইলেন। ঘর হইতে আর সকলকে বাহির করিয়া দিয়া তিনি বিনয়কে ডাকিতে পাঠাইয়াছিলেন। পিতামহের নিকট গিয়া ছল-ছল চক্ষে বিনয় বলিল,- “ঠাকুরদাদা! তবে তুমি আমাকে ঠাকুর ফেলিয়া দিতে কেন বলিয়াছিলে? সকলে বলিতেছে যে, ঠাকুর যখন পড়িয়া গিয়াছে, তখন আর কৰ্ত্তা কিছুতেই বাঁচবেন না।” রায় মহাশয় বলিলেন,- “সে যাহা হউক, হাড়েরা এখন কি করিতেছে, তাহা বল?” বিনয় উত্তর করিল,— “ঠাকুর পড়িয়া গিয়াছে, তুমি আর নিশ্চয় বঁচিবে না, সেজন্য ଅys୍ ୩ୟ୍ଯ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro V9XV9 তাহারা চুপি-চুপি কথা কহিতেছেন, আর খুব আমোদ করিতেছেন।” রায় মহাশয় বলিলেন, — “বটে।” রায় মহাশয় পুনরায় হাসিয়া বলিলেন,- “বিনয়! তোমার কোন ভয় নাই, ঠাকুর যদি আপনি পড়িয়া যাইত, তাহা হইলে হয়তো বাচিতাম না। কিন্তু ঠাকুর আপনি পড়ে নাই, তুমি ফেলিয়াছ। আমি খুব ভালো আছি। এবার আমি মরিব না। এই দেখ, আজ আমি উঠিয়া বসিতে পারিয়াছি।” ঠাকুরদাদার আশ্বাস।বাক্য শ্রবণে বিনয়ের মন আহিলাদে পূর্ণ হইল। চক্ষু মুছিয়া পিতামহের সহিত সে গল্প করিতে লাগিল । কিছুক্ষণ পরে পিতামহ বলিলেন, — “আমি মরিয়া গেলে টাকা পাইবে, সেইজন্য হাড়েরা আহাদে আটখানা হইয়াছিল। সৰ্ব্বদাই আমার মৃত্যুকামনা করিতেছিল। আমি এবার মরিব না। তাহারা টাকা পাইবে না। খুব জব্দ হইবে। বিনয়! তুমি খুব সাহসের সহিত কাজ করিয়াছ। এবার পূজার সময় তুমি যাহা চাইবে, তাহা আমি তোমাকে দিব। পূজার সময় তুমি কি লাইবে, এখন হইতে তাহা ভাবিয়া রাখা।” রায় মহাশয়কে দেখিবার নিমিত্ত সেদিন যখন ডাক্তার আসিলেন, তখন তাঁহার প্রতীক্ষায় হড়বংশ উৎফুল্লমুখে নীচে দাড়াইয়া রহিলেন। রোগীকে দেখিয়া ডাক্তার যখন নীচে আসিলেন, তখন হাড় মহাশয় ঘোরতর আগ্রহসহকারে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কেমন মহাশয়! আজি কেমন দেখিলেন? আর অধিক বিলম্ব নাই, না? আজ রাত্রি কি কাটিবে বলিয়া বোধ হয়? এতবড় একটা লোকের কাল হইলে, তাহার সব যোগাডু করা আবশ্যক, সেইজন্য জিজ্ঞাসা করিতেছি।” 9)م ঈষৎ হাসিয়া ডাক্তার উত্তর করিলেন,- 'আৰ্জি রোগীর কোনরূপ পীড়া আছে বলিয়া বৃদ্ধ হেয় না। এ যাত্রা ইনি রক্ষা পাইলেন।” হাড় মহাশয় একেবারে বসিয়া প্ৰ দুৰ্ত্তেম। বৃন্দাবনের মুখ শুষ্ক হইয়া গেল। রায় মহাশয় দুৰ্ব্বল রহিলেন বটে, কিন্তু দুইচারিদিনের মধ্যে তিনি সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যলাভ করিলেন। তাঁহার পীড়ার জন্য পূজার আয়োজন সমুদয় বন্ধ হইয়াছিল। এতবড় রোগ হইতে নিকৃতিলাভ করিয়া রায় মহাশয় মনের আনন্দে এবার ধূমধামের সহিত দুর্গোৎসব করিতে মানস করিলেন। চারিদিকে সেইরূপ আয়োজন হইতে লাগিল । পূজার পঞ্চমীর দিন রায় মহাশয় বিনয়কে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “বিনয়, আমি বলিয়াছিলাম যে, পূজার সময় তুমি যাহা চাহিবে, তাহাই আমি তোমাকে দিব। তোমার কি চাই, তাহা এখন বল দেখি?” বিনয় উত্তর করিল,- “আগে তুমি বল যে, আমি যাহা চাহিব, তাঁহাই তুমি দিবে? তবে আমি বলিব ।” পিতামহ বলিলেন,- “হাঁ, তুমি যাহা চাহিবে, তাহাই আমি তোমাকে দিব।” বিনয় বলিল,- “আমি আমার মাকে চাই। আমার মায়ের উপর আর কখন তুমি রাগ করিবে না। মাকে বকিবে না, আমি তাই চাই। এই পূজার সময় আমার মাকে আনিবে, মায়ের বাবাকে আনিবে, মায়ের মাকে আনিবে, অন্নপূর্ণ মাসীকে আনিবে, আমি এইসব চাই।” এবার রোগ হইতে উঠিয়া আসন্ন মৃত্যুমুখ হইতে অব্যাহতি পাইয়া, রায় মহাশয়ের স্বভাব সম্পূর্ণরূপে পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছিল। সংসারে সুখ নাই, জীবন ক্ষণভঙ্গুর, ধন, ঐশ্বৰ্য নিতান্ত তুচ্ছ S8 află cios (gs se - www.amarboi conf** বস্তু, এইরূপ তাহার জ্ঞান হইয়াছিল। ধনের অহঙ্কার তিনি মন হইতে একেবারে দূর করিয়াছিলেন। তাঁহার সেই উগ্ৰমূৰ্ত্তির পরিবৰ্ত্তে প্ৰসন্নমূৰ্ত্তি দেখিয়া সকলে বিস্মিত হইয়াছিলেন। আর কখন কটুবাক্য বলিব না, কাহারও মনে দুঃখ দিব না, মনে মনে তিনি এইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিয়াছিলেন। হাড়েরা তাঁহার মৃত্যুকামনা করিয়াছিল। সেইজন্য তাহাদের প্রতি তাঁহার মনে ঘূণা জনিয়াছিল; কিন্তু সে বিদ্বেষও মন হইতে দূর করিতে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিতেছিলেন। হাড়দিগের সহিতও তিনি মিষ্টভাবে কথোপকথন করিতেন। রায় মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমার আন্নামাসীর বিবাহ হইয়াছে?” বিনয় উত্তর করিল,- “না, এখনও তাঁর বিয়ে হয় নাই। আমার মায়ের বাবার টাকা নাই, তাই এখনও তার বিয়ে হয় নাই।” রায় মহাশয় নিরুদেশ পুত্রকে স্মরণ করিয়া একটি দীর্ঘশ্বাস পরিত্যাগ করিলেন। তাহার পর তিনি বলিলেন,- “আচ্ছা, আমি আজই তোমার মা, তোমার সেখানকার ঠাকুরদাদা, দিদিমা ও তোমার আন্নামাসীকে আনিতে পাঠাইব ।” "আমি মরিয়া বীচিয়াছি। আমার অপরাধসমুদয় ক্ষমা করবেন, ইত্যাদি।” বিনয়ের মাতামহ, মাতামহী, সৌর্তা ও মাসী গাড়ী করিয়া রায় মহাশয়ের বাটীতে আসিতেছিলেন। মাতামহের নাম মৃত্যুঞ্জয় নষ্কর। যে জলায় হৃষীকেশ ভূত দেখিয়াছিলেন, সেই জলা পার হইয়া আসিতে হয়। সন্ধ্যার সময় গাড়ী জলার অপর পারে আসিয়া উপস্থিত হইল। জলার মধ্যে কিছুদূর অগ্রসর হইলে ঘোড়া অকস্মাৎ ক্ষেপিয়া উঠিল। গাড়ীর সহিত ঘোড়া দুইটি রাস্তার পার্শ্বে এক গৰ্ত্তে গিয়া পড়িল। আরোহীদিগের শরীরে বিশেষ কোনরূপ আঘাত লাগিল না বটে, কিন্তু গাড়ীর একখানি চাকা ভাঙ্গিয়া গেল। বিনয়ের মাতামহ বলিলেন,- “এ গাড়ী আর চলিবে না। রামদেবপুর আর অধিক দূর নহে। জলাটা পার হইলেই আমরা সেখানে গিয়া পীে ছিব। এই রাস্তাটুকু চল আমরা হাঁটিয়া যাই।” জলার মাঝখানে তাহারা গিয়া উপস্থিত হইলেন। পথে জনপ্ৰাণী ছিল না। এই সময় তাঁহাদের বামদিকে জলার উপর মেঘ নামিয়া যেন ভূমি স্পর্শ করিল। ভূমি হইতে অল্প উচ্চে মেঘের কোলে বিদ্যুৎ খেলিতে লাগিল। আকাশ হইতে অল্প অল্প বৃষ্টি পড়িতে লাগিল। বামদিকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণের মেঘ ঘনীভূত হইয়া মানুষের আকার ধারণ করিল। মেঘনিৰ্ম্মিত সেই মানুষ হাত দুইটি দুইদিকে প্রসারিত করিয়া দিল। উজ্জ্বল শুভ্ৰবর্ণের শাখায় তাহার হাত দুইটি অলকৃত ছিল। বিদ্যুতের আলোকে এই সমস্ত অদ্ভুত ব্যাপার দেখিয়া সকলের প্রাণ উড়িয়া গেল। তাহার পর সেই মেঘের মানুষ দুলিতে দুলিতে সুর করিয়া সেই সমুদয় পূৰ্ব্বকথা বলিতে লাগিল:- মজার গল্প Wedł sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro “টিপি টিপি বৃষ্টি পড়ে মেঘে ঝিকিমিকি । ডুলির ভিতর বসে ক’নে হাসে ফিকিফিাঁকি। বিয়ের সম্বন্ধ মামা করে খুড়ো নয়কে রাজি । হিন্দুর ঘরের বিয়ের মামলা বিচার করেন। কাজি৷ লাল-কাপড়ে ময়ুর আঁকা হাতে রাঙ্গা কড়। বিয়ের সময় ছানুলাতলায় উঠলো বড় ঝড়৷ বিয়ের পরে বাসরঘরে কনে বীেটি যান। পাড়ার মেয়ে এসে করে শিবঠাকুরের গান৷ চকচকানি টাকা পেয়ে খুলে দিলাম দ্বার। জলার ভিতর আছি তাই নাইকো আমার গতি । যতদিন না বঁধুর সঙ্গে মিলবে পুন সতী৷ যাও কনে সেই বঁধুর কাছে গলায় ছবি দিয়ে। বেলগাছোতে বসে আছে। পথটি পানে চেয়ে৷” জলার মধ্যে ক্রমে ক্ৰমে সেই মেঘ-মূৰ্ত্তি মেঘের সহিত ও সেই সুরটি বাতাসের সহিত মিশাইয়া গেল । সকলের শরীর ভয়ে কাঁটা দিয়া উঠিল। অন্নপূর্ণ জিজ্ঞাসা করিল,- “বাবা, ও কি? ঐ শব্দ শুনিয়া আমার বুক টিপ টিপ করিতেছে।” নস্কর মহাশয় বলিলেন,- “ও কিছু নহে, সকলে দ্রুতবেগে জলা পার হইতে শুনিলেন, তাহা মানুষের স্বর নহে। X তাহারা বলিল, যে,- “জলার ভিত উচ্চভূমিতে একটা শেওড়াগাছ আছে। সেই গাছে একটা পেতিনী বাস করে। কখন সে গীত গায়, কখন সে ক্ৰন্দন করে। তাহার ভয়ে জেলার পথ দিয়া রাত্রিকালে লোক একেলা যাতায়াত করে না ।” নস্কর মহাশয় সপরিবারে রায় মহাশয়ের বাটীতে উপস্থিত হইলেন। রায় মহাশয় তাহার বিশেষরূপ সমাদর করিলেন। হাড়গণও তাঁহাদের মৌখিক অভ্যর্থনা করিলেন। বিনয়ের মাতা পুত্রকে পাইয়া আনন্দসাগরে মগ্ন হইলেন। রায় মহাশয়ের স্বভাব সম্পূর্ণ পরিবৰ্ত্তিত হইয়াছে, তাহা দেখিয়া ও তাঁহার সুমিষ্ট কথা শুনিয়া সকলেই বিস্মিত ও আনন্দিত হইলেন। আহারাদির পর বিনয়ের মাতা, বিনয় ও অন্নপূর্ণ একঘরে শয়ন করিলেন। ঘোর রাত্রিতে বিনয়ের মাতার সহসা নিদ্রাভঙ্গ হইল। নিকটে কে ফোঁশ-ফোঁশ করিয়া কাঁদিতেছে, সেইরূপ একটা শব্দ শুনিতে পাইলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “আন্না। কাঁদিতেছিস? কেন, কি হইয়াছে?” অন্নপূর্ণা কোন উত্তর করিল না। বিনয়ের মাতা উঠিয়া প্ৰদীপ জ্বলিলেন। তিনি দেখিলেন, যে, অন্নপূর্ণ ঘােড় হেঁট করিয়া বসিয়া আছে। মেঘের ন্যায় তাহার দীর্ঘ কেশপুঞ্জ মুখে ও পৃষ্ঠে পড়িয়াছে। সেই কেশের ভিতর দিয়া, তাহার রূপরাশি যেন ফুটিয়া বাহির হইতেছে। বিনয়ের মাতা একদৃষ্টি অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত সেই সুন্দর দৃশ্য দেখিতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া তিনি বলিলেন,- “আন্না! বিধাতা কি তোর রূপে রতিমাত্রও খুঁত রাখেন নাই? কি হইয়াছে? कँCिऊछिम ¢कन्?" woS află zi»3 goi se - www.amarboi conf** অন্নপূর্ণ কোন উত্তর করিল না। বারবার তাহার ভগিনী জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন। অবশেষে সে বলিল,- “আমি স্বপ্ন দেখিয়াছি।” “কি স্বপ্ন দেখিয়াছিস?”-ভগিনী জিজ্ঞাসা করিলেন। অন্নপূর্ণ কোন উত্তর করিল না। অবশষে প্ৰদীপ নিবাইয়া সকলে শয়ন করিলেন। পুনরায় কিছুক্ষণ পরে বিনয়ের মাতার নিদ্রাভঙ্গ হইল। পুনরায় তিনি দেখিলেন যে, অন্নপূর্ণ বসিয়া কাঁদিতেছে! বারবার জিজ্ঞাসা করাতে সে বলিল যে,- “আমি আবার স্বপ্ন দেখিয়াছি,” কিন্তু কি স্বপ্ন দেখিয়াছিল, সেকথা সে বলিল না। পুনরায় সকলে শয়ন করিলেন। কিছুক্ষণ পরে অন্নপূর্ণ উঠিয়া কাঁদিতে লাগিল। রাত্রিতে তিনবার ঐরাপে অন্নপূর্ণ স্বপ্ন দেখিল ও উঠিয়া কাঁদিল। কিন্তু কি স্বপ্ন সে দেখিল, ভগিনীকে তাহা বলিল না । পরদিন প্ৰাতঃকালে বিনয়ের মাতা রাত্রির বিবরণ সকলকে প্ৰদান করিলেন। বেলা প্ৰায় নয়টার সময় হড়-বীে ও অন্নপূর্ণ একঘরে বসিয়াছিল। অন্নপূর্ণার বয়স প্রায় চৌদ্দ বৎসর। হড়-বীে অর্থাৎ বৃন্দাবনের স্ত্রী তাহা অপেক্ষা দুই-তিন বৎসরের বড়। সমবয়স্কা বলিলেও বলা যাইতে পারে। হাড়-বীে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ভাই, আহা, কাল রাত্ৰিতে তুই কি স্বপ্ন দেখিয়াছিলি, তাহা আমাকে বলবিনি ভাই?” অন্নপূর্ণ কিছুতেই প্রথমে সম্মত হইল না। অবশেষে হাড়-বীে যখন বলিলেন,- “স্বপ্ন কাহারও সাক্ষাতে না বলিলে কি হয়, তা জানিসৃ? কুস্বপ্ন দেখিয়া লোকের সাক্ষাতে না বলিলে কুস্বপ্ন সত্য হইয়া যায়।” অন্নপূর্ণর ভয় হইল। সে বলল,—“তােমাকে গ্ৰী বলিতে পারি। কিন্তু তুমি কাহারও সাক্ষাতে বলিবে না বল!” (es হড়-বীে সেইরূপ অঙ্গীকার করিল। লাগিল । “আমি স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম যে, আর্দিষ্টৰ্যৈন মামার বাড়ী থাকি। আমার সত্যকার মামার বাড়ী নহে, স্বপ্নের মামার বাড়ী। মামা আঁমার বিবাহের সম্বন্ধ করিলেন। সত্যকার মামা নহেন, স্বপ্নের মামা। আমার কােকা আসিয়া কিন্তু কোথা হইতে স্বপ্নের মামাকে বলিলেন- ‘অন্নপূর্ণার বিবাহ তুমি অমুক স্থানে দিতে পরিবে না। তাহা করিলে আমাদের জাতি-কুল সব নষ্ট হইবে। আমি আর একস্থানে সম্বন্ধ করিয়াছি। সেইস্থানে আমি তাহার বিবাহ দিব।” এই কথা লইয়া মামা-কাকার ঝগড়া হইল। কাজি কাহাকে বলে, তা জানি না। বোধ হয়, সাহেব। কাকা গিয়া কাজির কাছে নালিশ করিলেন। কাজি বিচার করিয়া বলিলেন যে, এ বরের সহিতও বিবাহ হইবে না ও বরের সহিতও বিবাহ হইবে না । কন্যাকে আমি নিজে নিকে করিব -সাহেব আমাকে নিকা করিবে, এই কথা শুনিয়া আমার বড় ভয় হইল; আমার বুক টিপ টিপ করিতে লাগিল, আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল; ঘুম ভাঙ্গিয়াও অনেকক্ষণ সব কথা সত্য বলিয়া বোধ হইল। আমি বসিয়া বসিয়া কাদিতে লাগিলাম!” স্বপ্ন-কথা শুনিয়া হড়-বীে হাসিয়া বলিলেন,- “বেশ তো! সাহেবের বিবি হাইবি, তাহার জন্য আবার কান্না কি? শুনিয়াছি, তুই তিনবার উঠিয়া কীদিছিলি। দ্বিতীয়বার কি স্বপ্ন দেখিয়াছিলি?” অন্নপূর্ণ বলিল,— “ আশ্চৰ্য্য কথা, ভাই, আমি পুনরায় সেই স্বপ্নের আরও খানিকটা দেখিলাম। কাজি যখন বলিল যে, কন্যাকে আমি নিজে বিবাহ করিব। তখন মামা ও খুড়ো দুইজনেরই ভয় হইল। খুড়ো যেস্থানে বিবাহের সম্বন্ধ করিয়াছিলেন, দুইজনে পরামর্শ করিয়া SNర్ মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Wy আমাকে সেই বরের বাড়ীতে চুপি-চুপি পঠাইয়া দিলেন। আজকার মতো রাত্ৰিতে টিপি টিপি বৃষ্টি পড়িতেছে, মেঘের কোলে চিক-চিক করিয়া বিদ্যুৎ খেলিতেছে, সেই সময় তাহারা আমাকে ডুলি করিয়া পঠাইয়া দিলেন। ডুলিতে বসিয়া যখন নিৰ্ভয় হইলাম, তখন মুখপোড়া কাজির বিচার শুনিয়া আমি অল্প অল্প হাসিতে লাগিলাম। ক্রমে আমি সেই বরের বাড়ীতে আসিয়া পৌছিলাম। কে জানে কেন, ভাই, কাল রাত্রিতে যখন এই বাড়ীতে আমরা আসিলাম, তখন আমার বোধ হইল, সে যেন এই বাড়ী। কিন্তু সে বাড়ীর ইট সব ছোট ছোট ছিল, আর ঘরে জানােলা ছিল না বলিলেও হয়। তাহার পর আমার বিবাহ হইল। অতিশয় ঝড় উঠিল। পুনরায় ভয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। আমি বসিয়া কাঁদিতে লাগিলাম।” হড়-বীে জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তাহার পর কি হইল?” “দিদি পুনরায় উঠিলেন। প্ৰদীপ জ্বলিলেন। কেন আমি কাঁদিতেছি, বারবার জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি তাঁহাকে কিছু বলিলাম না। তাহার পর পুনরায় আমরা সকলে শুইলাম। সেই স্বপ্ন পুনরায় আমি দেখিলাম। আমি একখানি লাল চেলী কাপড় পরিয়াছিলাম। তাহার উপর সাদা পাখী ছিল। বাসরঘর হইল। যে ঘরে কাল রাত্রিক্তে আমরা শুইয়াছিলাম, আমার যেন বােধ হয় যে, সেই ঘরে বাসর হইয়াছিল। কিন্তু এখুন্তঃর্সংঘরে বড় বড় জানালা আছে, তখন দুইটি কেবল ছোট জানােলা ছিল। সিঁড়ির দুই ছিল। সেই তক্তা ফেলিয়া দিলেই সিঁড়ি বন্ধ হইয়া যায়। বাসরঘরে পাড়ার ৱিা আসিয়া গান করিতে লাগিল । শিবের কি করিয়া বিবাহ হইয়াছিল, শিবের শাশুড়ী কিরূপে বরণ করিয়াছিল, শিবের পাঁচ মাথায় একেবারে মালা দিবার নিমিত্ত দুৰ্গা দশ হাত বাহির করিলেন, একজন মেয়ে সেই গীত গাহিয়াছিল। তাহার পর বাড়ীতে ডাকাত পড়িল। মশালের আলোতে চারিদিক পূর্ণ হইয়া গেল। ডাকাতদিগের হৈ-হৈ শব্দে কানে তালা লাগিতে লাগিল । ভয়ে আমি কাপিতে লাগিলাম । পুনরায় আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল।” হড়-বীে জিজ্ঞাসা করিল,— “তাহার পর কি হইল?” অন্নপূর্ণ উত্তর করিল,— “দিদি পুনরায় উঠিলেন। আমাকে অনেক বকিতে লাগিলেন। পুনরায় আমরা সকলে শয়ন করিলাম। তাহার পর সকাল হইয়া গেল। কিন্তু আশ্চর্য্যের কথা ভাই! কাল পথে যখন আমাদের গাড়ী ভাঙ্গিয়া গেল, হাঁটিয়া মাঠ পার হইতেছিলাম, তখন সেই মাঠের মাঝখানে আমরা ভয় পাইয়াছিলাম; কা’ল ভূতে আমার এই স্বপ্নের কথা বলিয়াছিল। তাহার পর শেষ রাত্রিতে স্বপ্নেও যেন আমি সেই ছড়াটি শুনিতেছিলাম। সে ছড়াটি আমার মনে গাঁথিয়া গিয়াছে।” এই কথা বলিয়া অন্নপূর্ণ জলার সেই ছড়া হড়-বীেকে শুনাইল। বলা বাহুল্য যে, হাড়-বীে তৎক্ষণাৎ সেই স্বপ্নের কথা সকলকে গিয়া বলিল। স্বপ্নের কথা শুনিয়া সকলে হাসিতে লাগিল। অন্নপূর্ণ লজ্জায় ঘরে লুকাইয়া রহিল। sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro खर्छ एबश्वाश বেলগাছে পাগল সন্ধ্যা হইয়াছে। দোতলার একটি ঘরে অন্নপূর্ণ একাকী বসিয়া আছে। ঘরে আলো জুলিতেছে। বিনয় সেই ঘরে আসিয়া বলিল,— “কাল জলায় তোমরা কি দেখিয়াছিলে? ভূতে না কি গান করিতেছিল? গানটি হাড়-দিদিকে তুমি বলিয়াছ। আমাকে একবার বল না মাসী!” অন্নপূর্ণ প্রথম কিছুতেই সম্মত হইল না। কিন্তু বিনয় তাহাকে কিছুতেই ছাড়িল না। অন্নপূর্ণ বলিতে আরম্ভ করিল— “টিপি টিপি বৃষ্টি পড়ে মেঘে ঝিকিমিকি । ডুলির ভিতর বসে ক’নে হাসে ফিকিফিকি৷” অন্নপূর্ণ যেই এই কথা বলিয়াছে, আর বাহির হইতে কে বলিয়া উঠিল— “কালো মেঘে বিকিমিকি । সতী হাসে ফিকিফিকি৷” অন্নপূর্ণা চমকিয়া উঠিল। ভয়ে তাহার শরীর রোমাঞ্চিত হইল। বিনয় বলিল,— “বাহিরে কে কি বলিতেছে।” কিছুক্ষণ চুপ করিয়া দুইজনে কান পাতিয়া রহিল। আর কোন সাড়াশব্দ পাইল না। তখন অন্নপুর্ণা পুনরায় বলিল,— নিকটে এক ঘরে রায় মহাশয় ছিলেন। জানালার ধারে দাড়াইয়া উচ্চৈঃস্বরে তিনি বলিলেন,- “কে ও? বেলগাছে কে ও?” অন্নপূর্ণ ও বিনয় যে ঘরে ছিলেন, সেই ঘরের ঠিক পার্শ্বে অতি নিকটে একটি বেলগাছ ছিল। সেই বেলগাছের উপর হইতে কে বলিল,— “কালো মেঘে বিকিমিকি । সতী হাসে ফিকিফিকি৷” রায় মহাশয় বলিল,— “কি?” বেলগাছ হইত পুনরায় বলিল,— “কালো মেঘে বিকিমিকি । সতী হাসে ফিকিফিকি৷” রায় মহাশয় তাড়াতাড়ি বারেন্ডায় আসিয়া সকলকে ডাকিতে লাগিলেন,- “বৃন্দাবন!! হাড় মহাশয়! নষ্কর মহাশয়! শীঘ আপনারা বাহিরে যান। বেলগাছে কে উঠিয়াছে। উহাকে কিছু বলিবেন না, আস্তে আস্তে আমার কাছে লইয়া আসুন।” পূজাবাড়ী। চারিদিকে অনেক লোক ছিল। বাটীর বাহিরে বেলগাছের দিকে সকলে দীেড়িল। রায় মহাশয় দোতলার জানালার ধারে দাঁড়ায়াছিলেন। বৃন্দাবন তাঁহাকে বলিল,— 'rvsts sis sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Voys “কে। একজন বেলগাছে উঠিয়াছে; বোধ হয় পাগল! ঝিকি মিকি ফিকি ফিকি—কি সব আব্বলতাবল বিকিতেছে।” রায় মহাশয় বলিলেন,- “আস্তে আস্তে উহাকে নামাইয়া আমার কাছে লইয়া আইস ।” নীচে মানুষের গোলমাল শুনিয়া অন্নপূর্ণার সাহস হইল। কি হইতেছে, তাহা দেখিবার নিমিত্ত সেও আপনার ঘরের জানালা খুলিয়া জানালার ধারে দাঁড়াইল। ঘরের আলো দ্বারা অন্নপূর্ণার মুখ আলোকিত হইল। বেলগাছে যে মানুষ উঠিয়াছিল, অন্নপূর্ণাকে দেখিয়া সে চীৎকার করিয়া বলিল,- “ঐ সে! ঐ সে! ঐ সে! ঐ সে!” এই কথা বলিয়া বেলগাছ হইতে সে নীচে পড়িয়া গেল। গাছ হইতে পড়িয়া একেবারে সে অজ্ঞান হইয়া গেল। তাহাকে ধরাধরি করিয়া সকলে বাড়ীর ভিতর আনিল। রায় মহাশয় ততক্ষণ নীচে আসিয়া সকলকে বলিলেন,- “তোমরা গোল করিও না; এ আমার কনিষ্ঠ পুত্ৰ হৃষীকেশ । ইহাকে উপরে আমার ঘরে লইয়া চল ।” হৃষীকেশকে সকলে উপরে লইয়া গেল। মুখে-হাতে জল দিয়া বাতাস করিয়া সকলে তাহার চৈতন্য উৎপাদনের নিমিও চেষ্টা করিতে লাগিল। পৈতার সহিত সংলগ্ন ক্ষুদ্র একখানি গোল আরসির ন্যায় তাহার বুকে কি বুলিতেছিল। পৈতা হইতে সেই বস্তু খুলিয়া বৃন্দাবন রায় মহাশয়ের হাত দিল। রায় মহাশয় আলোতে তাহা ভালরূপ নিরীক্ষণ করিয়া নস্কর মহাশয়ের তাহা দেখিলেন। অবশেষে তিনি বলিলেন,— “আশ্চৰ্য্য কুত্থা! এ যে আমার অন্নপূর্ণর ছবি।” সকলে একে একে সেই ছবি দেখিলেন। রতর বিস্ময়াপন্ন হইলেন। হৃষীকেশ অন্নপূর্ণাকে কখন দেখে নাই; অন্নপূর্ণার ছবি তুলে নাই; তবে এ ছবি কোথা হইতে আসিল! কৃষ্ণ কিছুক্ষণের জন্য রায় মহাশয় ও'নিস্কর মহাশয় ঘর হইতে চলিয়া গেলেন। অল্পক্ষিণ পরে তিনি অন্নপূর্ণাকে লইয়া আসিলেন। লজ্জায় অধোবদন হইয়া অন্নপূর্ণা হৃষীকেশের সম্মুখে দাঁড়াইল । হৃষীকেশ বলিলেন,- “সেইমুখ, সেই ফুল, সেই রূপ, ময়ুর আঁকা সেই লাল কাপড়, হাতে সেই রাঙ্গা কড়া!” কাপড়খানি সেকেলে ধরনের চেলি। রায় মহাশয় সেইদিন অন্নপূর্ণাকে দিয়াছিলেন। হৃষীকেশ ক্রমে সুস্থ হইলেন। পুরুষগণ ঘর হইতে চলিয়া গেলে, বাড়ীর স্ত্রীলোকেরা আসিয়া তাঁহার কাছে বসিলেন। ছবি তুলিতে গিয়া কিরূপে অন্নপূর্ণার ছবি উঠিয়াছিল, পথের চাকার উপর কিরূপে পেতনী উঠিয়াছিল, কিরূপে বাটী হইতে পলায়ন করিয়া দেশে দেশে তিনি অন্নপূর্ণাকে অন্বেষণ করিয়াছিলেন, কিরূপে তাঁহার মুখে,— “কালো মেঘে ঝিকিমিকি,— সতী হাসে ফিকিফিকি", এই কথা ভিন্ন অন্য কথা ছিল না, সেই সমুদয় পরিচয় তিনি বিনয়ের মাতা ও আর সকলকে দিলেন। অবশেষে তিনি বলিলেন, — “আমি ঠিক পাগল হই নাই, আমার জ্ঞান সম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু অন্য কথা আমি বলিতে পারিতাম না; অন্য কথা বলিতে গেলেই ঐ কথাটি আপনা-আপনি আমার মুখ দিয়া বাহির হইয়া পড়িত। কিছুতেই আমি তাহা নিবারণ করিতে পারিতাম না। অন্নপূর্ণর ছবি সৰ্ব্বদাই আমার বুকের উপর রাখিতাম। পাছে WeSqo frig -ibs gas sell - www.amarboicomf: সেই ছবিটি আমি হারাই বা কেহ কড়িয়া লয়, সেই ভয়ে আমি সৰ্ব্বদাই শঙ্কিত থাকিতাম। বীে-দিদি। আমি যদি জনিতাম যে, অন্নপূর্ণা তোমার ভগিনী, তাহা হইলে আমাকে দেশে দেশে বেড়াইতে হইত না। তাহার জন্য কত যে আমি কষ্ট পাইয়াছি, সেকথা তোমাদিগকে আর কি সপ্তম অধ্যায়। পূৰ্ব্বকথা রায় মহাশয়, হাড় মহাশয় ও নস্কর মহাশয় অন্য ঘরে গিয়া বসিলেন। রায় মহাশয় বলিলেন, — “বড়ই আশ্চৰ্য ঘটনা। বাবার মুখে আমি আমার এক পূৰ্ব্বপুরুষের বিবরণ শুনিয়াছিলাম। সেই সমুদায় কথা আজ আমার মনে পড়িয়া গেল। এইরূপ অদ্ভুদ ঘটনা কখন দেখি নাই—শুনি নাই; গল্পের পুস্তকেও পাঠ করি নাই! আমার প্রপিতামহের এক ভ্রাতার নাম হৃষীকেশ ছিল। যখন আমি পুত্রের সেই নাম রাখি, তখন সেকথা আমি একেবারেই বিম্বিত হইয়াছিলাম। কেন যে পুত্রের নাম আমি হৃষীকেশ রাখিয়ছিলাম, সেকথা আমি বলিতে পারি না। আর তুমি নঙ্কর, কন্যার নাম কেন অন্নপূর্ণ রাখিয়াছিলে, তাহাও বোম্বুষ্ঠায় বলিতে পার না।” নস্কর মহাশয় স্বীকার করিলেন যে, তিনি তুষ্ট্রর কোন কারণ নির্দেশ করিতে পারেন না। রায় মহাশয় পুনরায় বলিলেন, — “আমার প্রপিত মহের ভ্রাতা যে হৃষীকেশ ছিলেন, তাহার সহিত অন্নপূর্ণা নামে এক কন্যার ; বিবাহ অদ্ভুতভাবে হইয়াছিল; তাহার পর সেই বিবাহের রাত্রিতে বিষম য়াছিল। সে ঘটনার কথা বাবার মুখে আমি এইরূপ শুনিয়াছিলাম। হুগলীতে এক ব্ৰাহ্মণের বাস ছিল। তাহার ঘরে পিতামাতাহীন অবিবাহিতা অন্নপূর্ণ-নায়ী এক ভাগিনেয়ী থাকিত। কন্যা উচ্চকুলোদ্ভবা। মাতুল কন্যাক বিক্রয় করিতে ইচ্ছা করেন। কন্যার খুড়া সেই সমাচার পাইয়া মাতুলের নিকট আসিয়া আপত্তি করেন। আমার প্রপিতামহের ভ্রাতা, হৃষীকেশের সহিত তিনি সেই কন্যার সম্বন্ধ করিয়াছিলেন। খুড়া ও মাতুল দুইজনের এই কন্যা লইয়া ঘোরতর বিবাদ হয়। হুগলী তখন মুসলমানদিগের একটি প্রধান আডিডা ছিল। খুড়া গিয়া কাজির নিকট অভিযোগ উপস্থিত করিলেন। কন্যা অতি রূপবতী ছিল। কাজি কন্যাকে দেখিলেন, উভয় পক্ষের বাদানুবাদও শুনিলেন। অবশেষে তিনি এই মীমাংসা, করিলেন,- “খুড়ার বরের সহিত এ কন্যার বিবাহ হইবে না, মাতুলের বরের সহিতও হইবে না। এ কন্যাকে আমি নিজে বিবাহ করিব।” মাতুল ও খুড়া দুইজনেই বিপদে পড়িলেন; দুইজনেরই জাতি যাইতে বসিল। তখন পরম্পরে বিবাদ ভুলিয়া কিসে। এ দায় হইতে নিস্তৃতি পাইবেন, সেই চিন্তা করিতে লাগিলেন। আমার প্রপিতামহ ক্ষমতাবানু লোক ছিলেন। অবশেষে কন্যা তাহার নিকট পাঠাইবার নিমিত্ত দুইজনে স্থির করিলেন, অন্ধকার রাত্রি, যখন করিতেছিল, যখন টিপি-টিপি বৃষ্টি পড়িতেছিল, সেই সময় তাহারা চুপি-চুপি ডুলি করিয়া কন্যা লইয়া পলায়ন করিলেন ও যথাসময়ে আমাদের বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সন্ধান মজার গল্প sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro করিয়া কাজি তাহা জানিতে পারিল; প্রকাশ্যভাবে বলপূৰ্ব্বক আমাদের বাটী হইতে কন্যা লইয়া যাইতে কিন্তু সে সাহস করিল না। হুগলীতে সেই সময় হাঁসাই নামে একজন থানাদার ছিল। আমাদের বাড়ী লুণ্ঠন ও কন্যা হরণ কিরিবার নিমিত্ত কাজি থানাদারের সহিত পরামর্শ করিল। কিছুদিন পরে কন্যার সহিত হৃষীকেশের বিবাহ হইল। কন্যার কপাল বড় মন্দ। শুনিয়াছি যে, ছানিলাতলায় যখন স্ত্রী-আচার হইতেছিল, সেই সময় ভয়ানক ঝড় হইয়াছিল। তাহার পর যখন ডাকাত পড়িল। যশোদা নামে এক গোয়ালিনী এই পাড়ায় থাকিত। ডাকাতদিগকে সে দ্বার খুলিয়া দিয়াছিল। আমাদের দোতলা কোটা-বাড়ী ছিল। সেকালের সেই ছোট ছোট ইটের গাঁথুনি ছিল। উপরে উঠবার জন্য চাপা সিঁড়ি ছিল। আমার বৃদ্ধ প্রপিতামহ সেই চাপা সিঁড়ি বন্ধ করিয়া মেয়েদের ছাদের উপর ইট ছুড়িতে বলিলেন। তাহার পর আমার বৃদ্ধ প্রপিতামহ, আমার প্রপিতামহ ও তাহার ভ্রাতা হিষীকেশ ও বিবাহে নিমন্ত্রিত কয়েক ব্যক্তি ডাকাতদিগের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিলেন। কিন্তু প্ৰথম অবস্থায় তাহারা দসু্যদিগকে নিবারণ করিতে পারিলেন না। দসু্যাগণ কোনরূপ উপায় অবলম্বন করিয়া উপরে উঠিয়া পড়িল ও বাড়ীর লোকদিগকে নিদারুণ প্ৰহার করিতে লাগিল। বলা বাহুল্য যে, ডাকাতের দল কাজি ও থানাদার কর্তৃক আনীত হইয়াছিল। বর হৃষীকেশের উপর কাজির রাগ ছিল। ডাকাতগণ হৃষীকেশকে একেবারে মারিয়া ফেলিল; ইতোমধ্যে গ্রামের লোক আসিয়া বাহিরে ডাকাতদিগের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিল। বহুসংখ্যক গ্রামবাসী একত্ৰ হইয়াছে ডাকাতগণ ভয়ে পলায়ন করিল। কাজির মনস্কামনা পূর্ণ হইল না। কন্যা অন্নপূর্ণাকে রবার অবসর তাহারা পাইল না। কিন্তু বিবাহের রাত্রেই সুন্নপূর্ণ বিধবা হইলেন্যসূত্র র তখন বয়স কেবল চর্তুদশ বৎসর। বৃক্কুইচ্ছা প্রকাশ করলেন, আমার বৃদ্ধ প্রপিতামহ స్ట్రోలి শুনিলেন না। ময়ুর-অঙ্কিত লাল চেলী,- jর্কৈ দিয়াছি,-সেইরূপ চেলী পরিধান করিয়া, স্বামীর মস্তক আপনার কোলে লইয়া সতী চিতার উপর বসিলেন। চিতায় বসিয়া আমার বৃদ্ধ প্রপিতামহকে তিনি বলিলেন, — “বাবা! কাদিও না। যিনি আমার স্বামী হইয়াছেন, ইনি পুনরায় তোমার ঘরে জন্মগ্রহণ করিবেন, আর আমি পুনরায় তাহার পত্নী হইব। সেবার এরূপ বিড়ম্বনা ঘটিবে না। সেবার সুখস্বচ্ছন্দে আমরা সংসাৱযাত্ৰা নিৰ্ব্বাহ করিব।” এই বলিয়া সতী স্বৰ্গে গমন করিলেন। যশোদা গোয়ালিনী মনের খেদে কিছুদিন পরে জলার মাঝখানে এক গাছে গিয়া গলায় দড়ি দিয়া মরিল। প্ৰবাদ আছে যে, সেই অবধি ভূত হইয়া আছে; হৃষীকেশ তাহাকে দেখিয়া ভয় পাইয়াছিল। আড়াই বৎসর পূৰ্ব্বে মুসলমানেরা যখন তাহাকে বাটী লইয়া আসিল, তখন সে বিজ বিজ করিয়া কেবল বলিতেছিল,— ‘কালো মেঘে বিকিমিকি, সতী হাসে ফিাকিফিকি।” আজি সন্ধ্যেবেলা বেলগাছে উঠিয়া সে সেই কথা বলিতেছিল। তাহাতেই আমি তাহাকে চিনিতে পারিলাম। ফলকথা, আমার প্রপিতামহের ভ্রাতা এ সেই হৃষীকেশ আর নস্কর!—তোমার এই কন্যাও সেই অন্নপূর্ণ!” রায় মহাশয়ের কথা শুনিয়া হাড় ও নস্কর মহাশয় ঘোরতর বিস্মিত হইলেন। বলা বাহুল্য যে, কিছুক্ষণ পূৰ্ব্বে অন্নপূর্ণর সহিত হৃষীকেশের বিবাহ দিতে নস্কর মহাশয় সম্মত হইয়াছিলেন। এক্ষণে পূৰ্ব্ব-ইতিহাস শ্রবণ করিয়া তাহার মন আনন্দে পূর্ণ হইল। বহুকাল হইতে অন্নপূর্ণাকে যে হৃষীকেশের পত্নীরূপে বিধাতা নিয়ােজিত করিয়াছেন, নঙ্কর মহাশয় এক্ষণে SSRSR află cios (gs se - www.amarboi conf** তাহা বুঝিতে পারিলেন। তাহার পর রায় মহাশয় পুনরায় বলিলেন, — “বিনয়কে আমি ঘরে আনিয়াছি। বিনয়ের মাতাকেও আনিয়াছি। হৃষীকেশকে পুনরায় আমি পাইলাম। অন্নপূর্ণার সহিত তাহার বিবাহ হইবে। এ সমুদয় কারণে হাড় মহাশয় আপনি দুঃখ করিবেন না। আপনার জন্য আমি স্বতন্ত্র একখানি বাড়ী করিয়া দিব । যত বিঘা নিষ্কর ব্ৰহ্মোত্তর ভূমি দিলে আপনার সুখে-স্বচ্ছন্দে দিনপাত হয়, তত বিঘা। ভূমি আমি কিনিয়া দিব। আপনার গৃহিণী ও পুত্রবধূর সাধ মিটাইয়া আমি অলঙ্কার দিব। আর কৃষিকাৰ্য্যের তত্ত্বাবধানের নিমিত্ত বৃন্দাবনকে আমি একটি সুন্দর ঘোড়া কিনিয়া দিব। কেমন, ইহাতে সন্তুষ্ট হইবেন ত’?” রায় মহাশয় তাহার জামাতা ছিলেন। সে নিমিত্ত হাড় মহাশয় তাহাকে দুই হাত তুলিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিতে লাগিলেন । রায় মহাশয় পুনরায় বলিলেন,— “নস্কার! তোমার পুত্ৰ নাই, কেবল এই দুইটি কন্যা। দুইটি কন্যাকে আমি লইলাম। তুমি ও তোমার গৃহিণী চিরকাল আমার ঘরে থাকিবে। আর কোন ভয় নাই। আমি প্ৰতিজ্ঞা করিয়াছি যে, জিব কাটিয়া ফেলিব, সেও স্বীকার, তথাপি আর কাহারও মন অণুমাত্র দুঃখ দিব না।” নস্কর মহাশয় বৈবাহিকের সহিত আনন্দে “সেকহ্যাণ্ড” করিলেন । সেবার রায় মহাশয়ের বাড়ীতে অতি ধূমধামের সহিত দুর্গোৎসব হইল। অনেক লোককে তিনি কাপড় দিলেন ও অনেক ব্ৰাহ্মণ ও দীন-দুঃখীকে তিনি ভোজন করাইলেন । নানারূপ নৃত্য-গীত দর্শন ও শ্রবণে সহস্ৰ সহস্ৰ লোক ব্লল । পূজার পর যখন বিবাহের কাল পুনরায়ু উপ্ত হইল, তখন শুভদিনে ও শুভক্ষণে ও শুভলগ্রে অতি সমারোহে অন্নপূর্ণার সহিত হৃষীকেশের বিবাহকাৰ্য সম্পন্ন হইল। নস্কর মহাশয়, হাড় মহাশয় ও তাঁহার পরিবারবর্গ আনন্দু-গ্ৰীষ্টারে বিবাহের কিছুদিন পরে একদিন স্ট্র কশ বলিলেন, — “অন্নপূর্ণা! আজি সন্ধ্যাবেলা চল, তোমাদের বাড়ীতে আসিয়া বিবাহের স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম, সেদিন স্বপ্নে তোমাকে দেখিয়াছিলাম। তাহার পূৰ্ব্বে বাপের বাড়ী থাকিতে তোমাকে আমি অনেকবার স্বপ্নে দেখিয়ছিলাম। বেলগাছে তুমি পাতার ভিতর ছিলে, আর তখন অন্ধকার হইয়াছিল, তা না হইলে তোমাকেও আমি চিনিতে পারিতাম। তোমার সঙ্গে বাঘের মুখে যাইতেও আমার ভয় হয় না।” সন্ধ্যার পর দুইজনে চুপি-চুপি জলায় গমন করিলেন; জেলার মাঝখানে গিয়া পথের উপর দাঁড়াইলেন। জ্যোৎস্না রাত্রি ছিল; দুইদিকেই অনেক দূর পর্য্যন্ত দেখিতে পাইলেন। সহসা আকাশ কালো মেঘে আচ্ছাদিত হইল। মেঘের কোলে চিকিমিকি বিদ্যুৎ খেলিতে লাগিল। আকাশ হইতে টিপি-টিপি বৃষ্টি পড়িতে লাগিল। সেই সময় অল্পদূরে তাঁহাদের সম্মুখে জলার ভিতর হইতে অগ্নিশিখার ন্যায় উজ্জ্বল বাষ্প উখিত হইতে লাগিল। সেই বাষ্প ক্রমে ঘনীভূত হইয়া অগ্নিশিখাসদৃশ উজ্জ্বল স্ত্রী আকারে পরিণত হইল। সেই স্ত্রীমূৰ্ত্তি একবার দক্ষিণদিকে একবার বামদিকে দুলিতে লাগিল। দুলিতে দুলিতে সুর করিয়া সে বলিতে লাগিল,— systs ୭୫ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro VSV) “পতি সঙ্গে আকাশেতে সতী থাকে সুখে । যশোদা পেতিনী হেথা থাকে মনোদুখে৷ যশোদার দুঃখ দেখি সতী দুখ পায়। পতি সঙ্গে সতী পুন আইল ধরায়া৷ যশোদা আকিল ছবি কলের ভিতর। কন্যা অন্বেষিতে বর গেল দেশান্তর৷ গাছে বর ঘরে কন্যা করে শুভদৃষ্টি। কালো মেঘ থেকে পড়ে টিপি টিপি বৃষ্টি৷ মেঘের কোলে চকচকাতি করে ঝিকিমিকি । বরের হাত ধ’রে কনে হাসে ফিকিফিকি৷ যশোদার পাপমুখে সতীর কৃপায়। ড্যাং-ড্যােঙাতে ড্যাং-ড্যােঙাতে স্বৰ্গে চলে যায়। এই কথা বলিতে বলিতে সেই উজ্জ্বল স্ত্রীমূৰ্ত্তি ক্ৰমে আকাশে উঠিতে লাগিল। এদিকে যেমন তাহার কথাও শেষ হইল, আর ওদিকে সেই উজ্জ্বল মূৰ্ত্তি মেঘের সহিত মিলিয়া গেল। আশ্চৰ্য্য হইয়া হৃষীকেশ ও আন্না আকাশের দিকে চাহিয়া রহিলেন। তাহারা কিছু দেখিতে পাইলেন না। অবশেষে হৃষীকেশ বলিলেন,- “কি অদ্ভুত ব্যাপার!” অন্নপূর্ণা বলিলেন,— “বড়ই অদ্ভুত! কি অন্ধকার! क्षुषमा शलै गई, এখানে দাড়াইয়া আর ভিজিবার আবশ্যক নাই।” (O) পথে যাইতে যাইতে হৃষীকেশ বলিলেন, -ং আমি দেশে দেশে ভ্ৰমণ করি, তখন হইয়াছিল। নানা বিষয়ে তিনি আমাকে র ছবি লইয়া তোমার অন্বেষণে যখন এক মহাত্মার সহিত আমার সাক্ষাৎ প্ৰদান করেন। ভগবান অতি নিৰ্দয়; মায়াতে ভুলইয়া অগণিত জীবকে নানারূপ করিতেছেন;—এই বিষয় সম্বন্ধে তাহার সহিত আমার তর্কবিতর্ক উপস্থিত হয়। আমার সন্দেহভঞ্জনের নিমিত্ত কিছুক্ষণের জন্য তিনি আমাকে দিব্যচক্ষু প্ৰদান করিয়াছিলেন। আমি দেখিলাম যে, ভগবান প্রকৃতই কৃপাসিন্ধু। তাঁহার সেই দয়ার অণুমাত্র লাভ করিয়া দাতা দীনের দুঃখ দূর করেন। পিতামাতা পুত্ৰ-কন্যাকে স্নেহ-মমতা করেন, পতি পত্নীকে ও পত্নী পতিকে ভালবাসেন। আমাদিগের বঞ্চনা করিবার নিমিত্ত তিনি আমাদের মনে ভালবাসা প্ৰদান করেন নাই। এই জগৎ অনন্ত সমুদ্রকুলে বালুকারাশির তুলনায় সামান্য একটি বালুকা-কণা যেরূপ, সমগ্র জগতের তুলনায় আমাদের এই পৃথিবী সেইরূপ। আমি দেখিলাম যে, আমাদের প্রকৃত বাসস্থান। এখানে নহে। আমাদের প্রকৃত বাসভূমি অন্যস্থানে। সে স্থানে শোক নাই, তাপ নাই। যাহাদিগকে আমরা এখানে ভালবাসি, সে স্থানে পুনরায় তাহাদের সহিত আমাদের সাক্ষাৎ হইবে। শিক্ষার নিমিত্ত জীব মাঝে মাঝে জড়শারীর ধারণ করিয়া, পৃথিবীর ন্যায়স্থানে জন্মগ্রহণ করে। আত্মীয়স্বজনের মঙ্গলের নিমিত্ত, পরের উপকারের নিমিত্ত, অথবা জগতের হিতের নিমিত্তও মাঝে মাঝে লোক জড়জগতে পুনরাগমন করে। যশোদা গোয়ালিনী পেতনী হইয়াছিল। এইমাত্র সে নিজে বলিল যে, আমাদের পুনরাগমনে সে নরক-যন্ত্রণা হইতে নিকৃতি পাইল। অন্নপূর্ণ! সত্য এবং পরোপকার- ইহা অপেক্ষা ধৰ্ম্ম নাই।” WS8 frig -ibs gas sell - www.amarboicomf:5'" একঠোঙো ছকু প্ৰথম অধ্যায় ধন ফেলে ব্যাঙ পালালো । ছকু ভয়ার ঠ্যাঙটি গেল৷ কিনুবাবু ছোট একটি চালা-ঘর করিয়াছেন। তাহার নাম যোগ-মন্দির। বন্ধুবান্ধব লইয়া সেই ঘরে তিনি গাঁজার ধূম পান করেন। পাল-পাৰ্ব্বণে আমোদটা কিছু অধিক মাত্রায় হয়। আজ মহাষ্টমী, দুই বোতল মদ আসিয়াছে। আমোদ করিবার নিমিত্ত বদন ও নবদ্বীপ কিন্নুর বাড়ীতে গিয়াছেন। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে ঠক্‌ ঠক্‌ করিয়া ছকুও সেই স্থানে চলিয়াছেন। ছকুকে দেখিয়া পাড়ার ছেলেদের আনন্দ হইল। হাততালি দিয়া দূর হইতে তাহারা বলিতে লাগিল:- ধন ফেলে ব্যাঙ পালালো । ছকু ভায়ার ঠ্যাঙটি গেল৷ ছকু ক্ষেপিয়া উঠিলেন। প্ৰথমে তিনি অনেক গালি দিলেন। তাহার পর ঢ়িল ছুড়িয়া বালকদিগকে মারিতে লাগিলেন । বালকেরা আরও র গিয়া বলিতে লাগিল— ছকু উত্তর করিলেন,- “ঐ ছোড়ারা! বদন বলিলেন, — “এক গেলাস মাল টানিলে এখনি রাগ ভাল হইয়া যাইবে।” সন্ধ্যা হইল। তিন ছিলিম গাজায় ভিত্তি স্থাপন করিয়া তাহার পর আসল জিনিসটি আরম্ভ হইল। মন একটু সুস্থ হইলে ছকু বলিলেন,- “এই মহাষ্টমীর দিন একটু মদ না খাইলে হিন্দুয়ানী বজায় থাকে না।” কিনু বলিলেন,— “সুরা অতি পবিত্র সামগ্ৰী, দ্রবীভূত তারা।” নবদ্বীপ বলিলেন, — “মা এই তিন দিন মৰ্ত্তে আসিয়াছেন। বাড়ী বাড়ী ফিরিয়া লোকের পূজা গ্ৰহণ করিতেছেন। আমাদের আরাধনাই ঠিক। গাঁজা উৎসর্গ করিয়া শিবকে ও সুরা দিয়া মাকে সন্তুষ্ট করিলাম। আমরা প্ৰসাদ পাইলাম।” বদন বলিলেন,- ভালরূপে প্রাণপ্ৰতিষ্ঠা করিতে পারিলে সাক্ষাৎ হইয়া মা পূজা গ্ৰহণ করেন । মন্ত্রের গুণ ।” ছকু বলিলেন,- “মন্ত্রের গুণ! ওকথা আর বলিও না ভাই! কেবল দেবীর প্রতিমা নহে, মন্ত্রবলে দেবীর বাহন সিংহ ও মহিষাসুর পর্যন্ত সজীব হইয়াছিল। কলিকাতায় আমার শ্বশুর চক্ৰধর রায়ের বাটীতে এই ঘটনা ঘটিয়াছিল। আমি স্বচক্ষে দেখিয়াছি। সেই হিড়িকেই আমার পা কাটা গিয়াছে।” ଅysis'] ମୃତ୍ୟୁ Wor(* sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বদন বলিলেন,- “তুমি না যাকের টাকা পাইয়াছিলে? সেইজন্য তোমার না পা কাটা গিয়াছে? মহিষাসুর কি করিয়াছিল?” ছকু উত্তর করিলেন,- “সে ভাই অনেক কথা। বলিলে বিশ্বাস করিবে না!” নবদ্বীপ বলিলেন,- “মহাষ্টমীর রাত্রি। মা পৃথিবীতে আগমন করিয়াছেন। অগণিত ভূত, প্ৰেত, দানা, দৈত্য তাঁহার সঙ্গে আসিয়াছে। অদ্ভুত গল্প শুনিবার সময় এই।” দ্বিতীয় অধ্যায় মাধবের অপমান গল্পটি বলিতে কিনুও অনুরোধ করিলেন। কিছুক্ষণ সাধ্য-সাধনার পর ছকু বলিতে আরম্ভ করিলেন। ছকু বলিলেন,- “চক্ৰধর রায় মহাশয়ের কন্যাকে আমি বিবাহ করিয়াছিলাম। রায় মহাশয় টাকা ধার দিয়া কখনও একপয়সা সুন্দ না ছাড়িয়া, লোকের বাড়ী বঁধা রাখিয়া, তাহার পর তাঁহাদের ভদ্রাসন বেচিয়া ধনবান হইয়াছিলেন। রাঘব হালদার নামে একজন বড়মানুষের ছেলে বদখেয়ালীতে সমুদয় বিষয় নষ্ট করিয়া রায় নিকট আপনার বাড়ী বঁধা রাখিয়াছিল। তাহার পর সে জাল-জুয়াচুরী আরম্ভ । কাবুলী চাকর রাখিয়া তাহাদের দ্বারা সে ডাকাইতি করাইত। অবশেষে জাল করার (অষ্টািরাধে তাহার দ্বীপান্তর হইল। আমার শ্বশুর। মহাশয় তাহার বাড়ী অতি অল্প মূল্যে কৃিদ্ধৃিষ্টিলইলেন। কলিকাতা শহরের উত্তর ধারে বৃহৎ বাড়ী, অনেক জমী, চারিদিকে বাগান, প্রাক্টর দিয়া ঘেরা। আমি সেই শ্বশুরবাড়ীতে থাকিতাম। কিনু জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তাের্ঘ্যর পত্নী-বিয়ােগ হইলেও?” ছকু উত্তর করিলেন,- “হাঁ ভাই, পত্নী-বিয়োগ হইলেও কিছুদিন আমি সে স্থানে ছিলাম। কিন্তু আমার পক্ষে সে একপ্রকার নরকভোগ হইয়াছিল। শ্বশুরের রাগে আর শাশুড়ী ঠাকুরাণীর গঞ্জনায় প্ৰাণ আমার অস্থির হইয়াছিল। শাশুড়ী ঠাকুরাণী পরম রূপবতী ছিলেন।” নবদ্বীপ জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমার স্ত্রী, তার কি প্রকার রূপ ছিল?” ছকু উত্তর করিলেন,- “সে কথা কি আর জিজ্ঞাসা করিতে হয়? কেমন গর্ভে জন্ম। রং কিন্তু একটু কালো ছিল। চকচকে কালো,বার্ণিস জুতার মত, সম্মুখ দিয়া চলিয়া গেলে মনে হইত যেন কালো বিজলী খেলিয়া গেল।” বদন জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তাহার পর?” ছকু বলিলেন,- “আমার শ্বশুরদেব পাড়ায় মাধব নামে একজন ভদ্রলোক ছিলেন। তিনি নানা দেশে ভ্ৰমণ করিয়াছিলেন। নানা বিদ্যা শিখিয়াছিলেন। বিলাতী ধরণে তিনি ভূত নামাইতে পারিতেন, গায় হাত বুলাইয়া রোগ ভাল করিতেন। আর সেই বিলাতী ভেলকী— যাহাকে হিপনাটিশ্যাম বলে, তাহাও তিনি জানিতেন!” নবদ্বীগ একটু ইংরাজী জানিতেন। তিনি বলিলেন, হিপনাটসম (hypnotism) বলে। তাহার পর?” ছকু বলিলেন,- “আমার শ্বশুর মহাশয় তাহাকে একঘরে করিলেন। কিন্তু কলিকাতায় কে SSRS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon: কাহাকে একঘরে করিতে পারে? অনেকে তাহার পক্ষ হইল। আমার শ্বশুরের আরও রাগ হইল। কিসে তাঁহাকে জব্দ করিবেন, সৰ্ব্বদা সেই চেষ্টা করিতে লাগিলেন। শ্বশুরের প্রিয়পাত্র হইবার নিমিত্ত আমি এক উপায় স্থির করিলাম। শ্বশুর প্রতি বৎসর দুর্গোৎসব করেন। অনেককে নিমন্ত্রণ করেন। সকলের কান মলিয়া প্ৰণামী আদায় করেন। পূজা করিয়া বিলক্ষণ দুপিয়সা তিনি উপাৰ্জন করিতেন। যে যেমন প্ৰণামী দিত, তাহার সেইরূপ আব্দর হইত। একটাকার কম প্ৰণামী দিলে, নিমন্ত্রিত ব্যক্তিকে তিনি একটি নারিকেল-নাড়ুও দিতেন না। শ্বশুরের সহিত পরামর্শ করিয়া পূজার সময় মাধবকে আমি নিমন্ত্রণ করিলাম। মাধব দুই টাকা প্ৰণামী দিলেন। পাড়ার অন্যান্য ব্ৰাহ্মণদের সহিত তাঁহাকে ভোজনে বসাইলাম। এমন সময় সেইস্থানে শ্বশুর। মহাশয় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ব্ৰাহ্মণের সম্মুখে একটু দূরে খপ করিয়া তিনি বসিয়া পড়িলেন। তাহার পর মাধবের দিকে লক্ষ্য করিয়া তিনি বলিলেন,- “ও কে? ও যে বড় ব্ৰাহ্মণের সহিত বসিয়াছে! ওর জাত গিয়াছে। তুমি এখনি উঠিয়া যাও।” মাধব বলিলেন,- “তবে আমায় নিমন্ত্রণ করিয়াছেন কেন?” কান খুঁটিতে খুঁটিতে শ্বশুর বলিলেন,- “কি বলিলে?” মাধব পুনরায় বলিলেন,- “তবে আমায় নিমন্ত্রণ করিয়াছেন কেন?” শ্বশুর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমাকে কে নিমন্ত্রণ করিয়াছে?” মাধব উত্তর করিলেন,- “আপনার জামাতা।” শ্বশুর বলিলেন, — “মাথা নাই তার আবার মাথা-ব্যথা। আমার কন্যা কোথায় যে আমার জামাতা! এখনি উঠিয়া যাও, নতুবা গলা ধাক্কা দিয়া " তৃতীয় অধ্যায় মাধবকে অপমান করিয়া শ্বশুর মহাশয়ের ঘোরতর আনন্দ হইল। বাড়ীর ভিতর গিয়া বিছানায় বসিয়া তিনি ডুকুরে ডুকুরে হাসিতে লাগিলেন। নীচের একটি ঘরে আমি বাস করিতাম। আমিও আমার ঘরে গিয়া ক্রমাগত হাসিতে লাগিলাম। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে একবার হাসিতে হাসিতে আমার ঘাড়টি খুঁট করিয়া উঠিল। আর সেই সঙ্গে আমার মাথা হালকি হইয়া গেল, যেন ঠিক শোলার মত বোধ হইতে লাগিল। হাসিবার নিমিত্ত মুখ যে হাঁ করিয়াছিলাম, সেইরূপ হাঁ রহিয়া গেল। মুখ বুজিতে পারিলাম না। কথা কহিতে পারিলাম না। শুনিয়াছিলাম যে, হাই তুলিতে গিয়া অনেকের চলের হাড় নড়িযা এইরূপ হয়। আমি মনে করিলাম যে আমারও তাহাই হইল । “ছকু! ছকু কোথায়? এখনও তুমি ঘরের ভিতর। সখের যাত্রা হইবে, তাহার সব alysis is! SSRA sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro যোগাড় কর।” এই কথা বলিতে বলিতে শ্বশুর মহাশয় আমার ঘরের দ্বারে আসিয়া দাঁড়াইলেন। আমার মুখের দিকে একবারমাত্র দৃষ্টি করিয়াই তিনি ঘোরতর ভীত হইলেন। ভয়ে সে স্থান হইতে পলায়ন করিবার উপক্ৰম করিলেন। কিন্তু তিনি সাহসী পুরুষ ছিলেন। পালাইলেন না। পুনৰ্ব্বার আমার মুখের দিকে চাহিয়া বিস্মিত হইয়া বলিলেন, “সৰ্ব্বনাশ! এ কি হইয়াছে! তোমার নিজের মুখ কোথায় গেল। সৰ্ব্বাঙ্গসুন্দরীর মাথা তোমার ঘাড়ের উপর কি করিয়া আসিল?” সৰ্ব্বাঙ্গসুন্দরী আমার পরলোকগতা স্ত্রীর নাম ছিল। আমার নিজের মুণ্ড আমার স্কন্ধে নাই। সে স্থানে তাহার মুণ্ড বসিয়াছে। হাসিতে হাসিতে ঘাড় কেন যে খুঁটু করিয়াছিল, এখন তাহার কারণ বুঝিলাম। মুখ আমার হাঁ হইয়াছিল। আমি কোন কথা বলিতে পারিলাম না। উত্তর না। পাইয়া, শ্বশুর মহাশয় সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিলেন। বাড়ীর ভিতর গিয়া তিনি শাশুড়ী ঠাকুরাণীকে ডাকিয়া আনিলেন। শাশুড়ী ঠাকুরাণীও আমার ঘাড়ের উপর তাঁহার কন্যার মুখ দেখিয়া প্ৰথমে ভয়ে ব্যাকুলিত হইলেন ও সে স্থান হইতে পলাইবার উপক্ৰম করিলেন। কিন্তু রায় মহাশয় তাহার হাত ধরিয়া রাখিলেন, যাইতে দিলেন না। শাশুড়ী ঠাকুরাণী তাহার পর আমার দ্বারের নিকট মাটিতে বসিয়া পড়িলেন। কন্যার শোক এখন ক্ষুদ্ৰ উথলিয়া পড়ল। তিনি উচ্চঃস্বরে কঁদিতে আরম্ভ করিলেন। তিনি বলিলেন,- “ওগৃেষ্ঠা ! যদি ভূত হইয়া দেখা দিলি, তো সৰ্ব্বশরীরে দেখা দিলি না কেন? পরের ধড়ের খৰ্ব জর মুণ্ড বসাইলি কেন! ওগো মা গো! তুই আমার যে বড় সাধের মেয়ে ছিল। তেৱা,যেমন রূপ তেমনি গুণ ছিল। সেইজন্য আমরা শাশুড়ী ঠাকুরাণী একটু চুপ কৱিষ্ট্ৰে’শ্বশুর মহাশয় অবস্থায় দেখিলে ভয়ে লোক সব পলাইয়া যাইবে । সন্ধ্যার পর অনেকে নিমন্ত্রণে আসিবে। তাহাদের প্রণামী তাহা হইলে আমি পাইব না। যাত্ৰাও তাহা হইলে হইবে না। অতএব তুমি আজ রাত্ৰিতে এই ঘরে চুপ করিয়া বসিয়া থাক। কাল প্ৰাতঃকালে রোজা আনাইয়া তোমার ঝাড়ান-কাঁড়ান করাইব । যাহাতে এ মুখ গিয়া পুনরায় তোমার নিজের মুখ হয়, সে চেষ্টা করিব।” আমি হাঁ বুজিতে পারিলাম না। কোন উত্তর করিতে পারিলাম না। শাশুড়ীর হাত ধরিয়া শ্বশুর মহাশয় চলিয়া গেলেন। তাহারা চলিয়া গেলে, আরসিখানি লইয়া আমি মুখ দেখিলাম। আশ্চৰ্য্য কথা। আমার কীথের উপর আমার নিজের মস্তক নাই। আমার মৃত স্ত্রীর মস্তক রহিয়াছে। আহা! সেই রং, সেই দাঁত, সেই মধুর হাসি, সেই মুখশ্ৰী, আমার মুণ্ডর পরিবৰ্ত্তে, তাহার মুণ্ড আমার স্কন্ধে বসিয়াছিল বটে, কিন্তু বুদ্ধি আমার নিজের ছিল। বলা বাহুল্য যে, “আমার ঘোরতর ভাবনা হইল। এই মুণ্ড যদি আমার কাঁধে থাকিয়া যায়, তাহা হইলে আমার দশা যে কি হইবে, তাহাই ভাবিতে লাগিলাম।” কিনু বলিলেন,- “ঘোর বিপদের কথা বটে। তাহার পর?” sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro চতুর্থ অধ্যায় দুরন্ত মহিষাসুর ছকু বললেন, — “ছােট ঘরটিতে মনের দুঃখে চুপ করিয়া আমি বসিয়া রহিলাম। সন্ধ্যার পর আরতি হইল। নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদিগের প্রণামীর টাকা ঝমাৎ বীমাৎ শব্দে পড়িতে লাগিল। আরও অধিক রাত্ৰি হইল। সখের যাত্রা আরম্ভ হইল। বাড়ী লোকে লোকারণ্য হইল। যাত্ৰাদলের বালকেরা কেহ ছোড়া, কেহ ছুড়ি সাজিয়া কাতার দিয়া দাড়াইয়া চিল—চেচাইতে লাগিল। এমন সময় সহসী। দালানে প্রতিমাখনি দুলিতে লাগিল। গান বন্ধ হইয়া গেল। যত লোক শঙ্কিত ও স্তম্ভিত হইয়া একদৃষ্টি প্রতিমার দিকে চাহিয়া রহিল। কাৰ্ত্তিকের ময়ুর ভয়ঙ্কর কঁ্যা-কঁ্যা রবে বাড়ী যেন ফাটাইয়া দিল। সহসা দেবীর সিংহ বজনিনাদের ন্যায়। গৰ্জ্জন করিয়া অসুরকে ছাড়িয়া দূরে গিয়া বসিলা। যে বল্লম দ্বারা অসুরকে মা বিদ্ধ করিয়াছিলেন, এখন তিনি সেই বল্পমটি তুলিয়া লইলেন। অসুর উঠিয়া দাঁড়াইল। আসল মহিষাসুর হস্তীর ন্যায় প্ৰকাণ্ড দেহবিশিষ্ট ভয়াবহ অরণ্যবাসী অর্ণা। দুই চক্ষু রক্তবর্ণ করিয়া বিপরীত বক্রাকার শৃঙ্গ পাতিয়া মহিষ গা-ঝাড়া দিল। তাহার পর শিং পাতিয়া ভীষণ গৰ্জ্জন করিতে করিতে লোকদিগকে তাড়া করিল। শিঙে তুলিয়া আমার শ্বশুরকে দূরে একটি তাকিয়ার উপর ফেলিয়া দিল। অজ্ঞান হইয়া শ্বশুর মহাশয় সেই তাকিয়ার উপর পাড়িয়া রহিলেন। তাহার পর লাফ দিয়া উঠানে যাত্ৰাদলের মাঝখানে গিয়া পড়িল । সম্মুখের খুর দিয়া সপ-বিছানা দূরে নিক্ষেপ করিল, য়া প্রাঙ্গণের মাটি খুঁড়িতে লাগিল, তাহার পর শিং পাতিয়া মাথা নীচে করিয়া একবার এদিকে একবার ওদিকে লোকসকলকে তাড়া করিতে লাগিল। বাপ *রে চীৎকার করিয়া লোক সব পরস্পরের ঘাড়ে গিয়া পড়িতে লাগিল। কাহারও মুখটি কান্নায় বাড়ী পরিপূরিত হইল। ব্লাউপর বারাণ্ডায় বসিয়া স্ত্রীলোকেরা যাত্রা শুনিতেছিল। ‘মা গো, কি হইল গো' বলিয়া তাহাষ্ট্রস্টকাদিয়া উঠিল। কচি ছেলেরা সব চ্যা-ভঁ্যা করিয়া বাড়ী ফাটাইয়া দিল । দেবীর পাদপদ্মের নিকট সিংহ বসিয়া ভীষণ মেঘগৰ্জ্জনের ন্যায় গৰ্জ্জন করিতে লাগিল। কাৰ্ত্তিককে পৃষ্ঠে করিয়া মাথা তুলিয়া ময়ুর পুনরায় ক্যা-কঁ্যা করিতে লাগিল। মহিষ গা-গাঁ শব্দ করিয়া একটা ঢাকের ভিতর শিং প্রবিষ্ট করিয়া দিল। তাহার পর মাথা তুলিয়া ঢাকটি দশ হাত দূরে ফেলিয়া দিল। পুনরায় শিং পাতিয়া মাথা নীচে করিয়া একবার। এদিক একবার ওদিকে প্রবলবেগে দীেড়িতে লাগিল। তখন তাহার খুঁড়ের দুড়-দুড় শব্দে মেদিনী কঁাপিতে লাগিল। দক্ষযজ্ঞের কথা শুনিয়াছিলাম, আজ আমার শ্বশুরবাড়ীতে সেই দক্ষযজ্ঞ হইতে লাগিল। শৃঙ্গে তুলিয়া মহিষ শত শত লোককে দূরে নিক্ষেপ করিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কাহারও সে প্ৰাণবধ করিল না। লোক সব রুদ্ধশ্বাসে পলায়ন করিতে লাগিল। বাদ্যকরদিগের ঢাক-ঢোল, যাত্রাওয়ালাদিগের বিলাতী যন্ত্র ভাঙ্গিয়া-চুরিয়া একাকার করিয়া দিল। দোল-মঞ্চে ঝাড়লন্ঠন বুলিতেছিল, সেসব ভাঙ্গিয়া চুরমার করিয়া ফেলিল। বাহিরে ভয়ানক কোলাহল হইতেছে। ঘরের ভিতর একাকী আমি চুপ করিয়া বসিয়া থাকিতে পারিলাম না। ব্যাপারখানা কি জানিবার নিমিত্ত বাহিরে আসিলাম । মহিষের ভয়ে কতক লোক আশেপাশে লুকাইয়াছিল। আমাকে দেখিয়া “বাপ রে! আবার রাক্ষস আসিয়াছে।” এইরূপ চীৎকার করিতে করিতে সকলে পলায়ন করিল। মহিষ আমাকে তাড়া করিল। ভয়ে আমি ঘরে গিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া দিলাম । alysis is! sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro SSRd কিছুক্ষণ পরে বাটী নীরব হইল। আস্তে আস্তে আমি দ্বার খুলিয়া উকি মারিলাম। মহিষ নাই, বাটীতে জনপ্রাণী নাই। আরও আগে গিয়া দেখিলাম, প্রাঙ্গণের ঝাড়লণ্ঠন চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া পড়িয়া আছে। ভগ্ন ঢাক-ঢোল ও নানাবিধ বাদ্যযন্ত্র পড়িয়া আছে। দালানের প্রতিমার নিকট লণ্ঠন জুলিতেছিল। মায়ের প্রতিমা পূৰ্ব্বে যেরূপ ছিল—এখনও ঠিক সেইরূপ ছিল। শ্বশুর। মহাশয় তখনও তাকিয়ার উপর পড়িয়ছিলেন। আমি তাহার মাথাটি তুলিলাম। দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়া তিনি উঠিয়া বসিলেন। তাহার পর “বাপা! মহিষাসুর!” এই কথা বলিয়া তিনি বাটীর ভিতরে চলিয়া গেলেন । আমি নিজের ঘরে ফিরিয়া আসিলাম। তক্তপোষের উপর আমি শুইয়া পড়িলাম। কিন্তু নিদ্রা হইল না। কি করিয়া পুনরায় নিজের মুণ্ড ফিরিয়া পাইব, কেবল সেই কথা ভাবিতে লাগিলাম। টং টং টং করিয়া রাত্রি তিনটা বাজিয়া গেল। ঘরে আমার প্রদীপ জ্বলিতেছিল। সহসা প্ৰদীপ নিবিয়া গেল। নিবিড় অন্ধকারে ঘর পরিপূর্ণ হইল। সেই অন্ধকার ভেদ করিয়া দুইটি সাদা চক্ষু আর দুই পাটী দাঁত জ্বলজ্বল করিতে লাগিল। আমি মনে করিলাম, এ আবার কি? কি কুক্ষণেই আজ প্ৰভাত হইয়াছিল। সপ্তমী পূজার দিন, কোথায় আমোদ-প্ৰমোদ করিব, তাহা না হইয়া বিপদের উপর বিপদ।। ভয়ের উপর ভয় । ঘোর আতঙ্কে আমার সর্বশরীর রোমাঞ্চিত হইল। আবার ভাবিলাম,-ভয় করি—কেন? আমার নিজের মুণ্ড নাই, পরের মুণ্ড আমার ঘাড়ে। এরূপ অবস্থায় কালব্যাপন করা অপেক্ষা মৃত্যুই ভাল।” কিন্তু বললেন,—“তা বটে। তােমার কিন্তু খুব সাঙ্গুতাহার পর কি হইল।” (G) ക് ༦ཤིང་ལ་ཡན་པར་ যাকের ধন গালে দুইটি চড় মাড়িল। তখন আমার চলের হাড় নড়িয়া গেল। ঠিক আমার নহে, আমার ঘাড়ে যে মুণ্ড ছিল, তাহার মুখ বুজিয়া গেল। সেই মুখ দিয়া এখন কথা কহিতে পারিলাম। দাঁতওয়ালা বলিল,-“আমি ভূত!” আমার মনে এখন ভয়ের লেশমাত্র ছিল না। আমি বলিলাম,- “বটে! মহাশয়, ভূত?” ভূত বলিল,— “এস, তোমার ঘাড়টি ভাঙ্গিয়া দিই।” আমি বলিলাম,- “এ আমার মস্তক নহে, অন্য লোকের।” ভূত পুনরায় বলিল,- “সংপ্ৰতি আমি ভূত হইয়াছি। ভূতগিরি করিতে এখনও ভাল করিয়া শিক্ষা করিতে পারি নাই। আজ ভোর হইলে কি যে কি করিব, তাহাই ভাবিতেছি।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কেন?” ভূত উত্তর করিল,—“আমরা হাওয়া। রাত্রি হইলে আমরা মানুষের আকার ধারণ করিয়া ভূতগিরি করি। ভোর হইলে আবার পুনরায় হাওয়া হইয়া যাই। কি করিয়া পুনরায় হাওয়া হইতে হয়, তাহা আমি ভুলিয়া গিয়াছি। দিন হইলেও আমাকে এইরূপ মানুষের আকার ধরিয়া থাকিতে হইবে।” wo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicom 26 আমি বলিলাম,- “তা কি হয়! তাহা হইলে লোক সব ভয় পাইবে, কাজকৰ্ম্ম সব বন্ধ হইয়া যাইবে।” ভূত বলিল,— “তবে এক কৰ্ম্ম কর। তোমার ঘাড়ে যে মুণ্ডটি রহিয়াছে, ঐটি আমাকে দাও, ও পুরাতন ভূত, কি করিয়া পুনরায় হাওয়া হইতে হয়, ও আমাকে বলিয়া দিবে।” আমি বলিলাম,- “আমার নিজের মুণ্ড ফিরিয়া না পাইলে এ মুণ্ড কি করিয়া দিব?” ভূত বলিল,- “কেন, কন্ধকাটা হইয়া থাকিবে। সাধু ভাষায় যাহাকে কবন্ধ বলে।” আমি বলিলাম,- “জীয়ন্ত শরীরে তাহা হয় না।” ভূত বলিল,- “তোমার মুণ্ড খিড়কীর বাগানে চালতে তলায় পোতা আছে। সাবল লইয়া আমার সঙ্গে চল; আমি দেখাইয়া দিব।” সাবল লইয়া আমি ভূতের সঙ্গে চলিলাম। পূৰ্ব্বেই বলিয়াছিলাম যে, আমার শ্বশুরবাড়ীর চারিদিকে বাগান ছিল, আর সেই উচ্চ বাগান প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত ছিল। পূৰ্ব্বদিকে প্রাচীরের ধারে একটি চালাতেগাছ ছিল। সেই গাছের অনেকগুলি ডাল প্রাচীরের উপর পড়িয়াছিল। চালতে তলার এক স্থান ভূত আমাকে দেখাইয়া দিল। সাবল দিয়া সেই স্থান আমি খুঁড়িতে লাগিলাম। অল্প খুঁড়িতে সারা ঢাকা এক হাঁড়ি বাহির হইয়া পড়িল। সারা খুলিয়া দেখি যে, তাহার ভিতর আমার মুণ্ড!! আমার স্কন্ধ হইতে ভূত তখন সৰ্ব্বাঙ্গ সুন্দরীর মুণ্ড তুলিয়া লইয়া আবার আমার নিজের মুণ্ড সেই স্থানে বসাইয়া দিল। নিজের মুণ্ড যদি না পাইতাম, তাহা হইলে কি করিয়া যে গাজা খাইতাম, তাহাই ভাবি; সে হাঁ-করা দাঁত বাহির করা মুখ দিয়া গাঁজায় দম দিতে পারিতাম না।” কিনু বলিলেন,- “আশ্চৰ্য্য! তাহার পর।” ছকু বলিলেন,- “ভূত তখন হাওয়া হইয়া কিন্তু হাওয়া হইবার পূৰ্ব্বে সে আমাকে আর একটু খুঁড়িতে বলিয়া গেল। আর খুঁড়িয়া প্ৰায় একঝুড়ি মাটি আমি তুলিয়া ফেলিলাম। তাহার পর দেখি যে, নিম্নেরুইহঁত্রিকটি কাঠের বাক্স রহিয়াছে, আর সেই বাক্সের উপর। প্ৰকাণ্ড এক ব্যাঙ বসিয়া N গা হইতে একপ্রকার লালা নিৰ্গত হইতেছে। আর সেই লালা আগুনের মত লাফ দিয়া ব্যাঙ গৰ্ত্তের উপর গিয়া বসিল। আমি ভাবিলাম যে, ভূতের কল্যাণে আমি আমার নিজের মুণ্ড ফিরিয়া পাইলাম। ভূত আমাকে বােধ হয় যাকের ধন দিয়া গেল। যাকের টাকায় শুনিয়াছি সাপ থাকে, ভূত মহাশয় সাপ লইয়া গিয়াছেন। আহারের নিমিত্ত সাপ ব্যাঙটি যোগাড় করিয়াছিলেন। এইরূপ ভাবিতে ভাবিতে সাবলের চাড়া দিয়া বাক্সর ডালা আমি খুলিলাম। তখন আমার যে কি আনন্দ হইল, তাহা তোমাদিগকে আর কি বলিব। বাক্সটি টাকায় পরিপূর্ণ ছিল। চকচকে নূতন টাকা। কেবল একধারে একতাড়া কাগজ ছিল। ব্যাঙের আলোতে আমি দুই-চারিটি টাকা নাড়িয়া-চাড়িয়া দেখিতেছি, এমন সময় আমার শ্বশুর মহাশয় দোতলায় তাহার শয়নঘরের জানালা হইতে বলিয়া উঠিলেন, — “কে ও! চালাতে-তলায় কে ও!” আমি তাড়াতাড়ি বাক্সর উপর মাটি চাপা দিতে লাগিলাম। ব্যাঙ দুই-চারি লাফে সে স্থান হইতে পলাইয়া গেল। ব্যাঙ অভাবে চলাতেতলা অন্ধকারময় হইয়া গেল । সেইজন্য ভাই, ছোড়ারা আমায় ক্ষেপায়; বলে,-ধন ফেলে ব্যাঙ পালালো। ছকু ভায়ার ঠ্যাঙটি গেল৷ ay sti'] ମୃତ୍ୟୁ W\9) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro কিনু বলিলেন, — “ছোঁড়াদের বড় অন্যায়। তোমার ঠ্যাঙটি কি করিয়া গেল?” ছকু বলিলেন,— “আমার শাশুড়ী ঠাকুরাণীও সেই সময় জানালার ধারে আসিয়া দাঁড়াইলেন। তিনি বলিলেন, — “কোথায় কে?” শ্বশুর উত্তর করিলেন,- “চালতে তলায় একটা আলোর মত কি দেখিলাম। এখন নিবিয়া গিয়াছে।” শাশুড়ী বলিলেন,- “হয়তো আলেয়া!” শ্বশুর বলিলেন, — “আলেয়া নয়, হয়তো চোর। ভোজালে দাও, দেখিয়া আসি।” তাড়াতাড়ি গৰ্ত্তটি পরিপূর্ণ করিয়া আমি সে স্থান হইতে পলায়ন করিলাম। নিজের ঘরে আসিয়া শয়ন করিলাম। ঘোর নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলাম। প্ৰাতঃকালে আমার নিদ্ৰাভঙ্গ হইল। আমি বাহিরে আসিলাম। শ্বশুর ভাঙ্গা ঝাড়লণ্ঠন ও বাদ্যযন্ত্র প্রভৃতি দেখিতেছিলেন। আমার প্রতি দৃষ্টি করিয়া, তিনি বলিলেন,- “এই যে, তুমি তোমার নিজের মাথা পাইয়ােছ।” তাহার পর পুনরায় তিনি বলিলেন,- “এই সকল বাদ্যযন্ত্রের দাম আমাকে দিতে হইবে। মোদো মহিষাসুর সাজিয়া আমার জিনিসপত্র ভাঙ্গিয়াছে, তাহার নামে আমি নালিশ করিব। তাহাকে জেলে পচাইব ।” আমি কোন উত্তর করিলাম না । নিজের ঘরে আসিয়া যাকের টাকার কথা ভাবিতে লাগিলাম। সত্য সত্য কি আমার কপাল ফিরিয়াছে? (င့်) সমস্ত দিন কেবল ভাবিতে লাগিলাম, ভগবান যদি যাকের ধন আমাকে দিলেন, তাহা হইলে কি করিয়া ইহা লইয়া। এ-স্থান হইতে পলায়ন করি। কত উপায় ভাবিলাম। কিন্তু কোনটি মনের মত হইল না। একবার ভাবিলাম যে, শ্বশুর যদি এই ধনের অৰ্দ্ধেক ভাগ আমাকে প্ৰদান করেন, তাহা হইলে তাঁহাকে গিয়া বলি। কিন্তু রায় মহাশয়ের প্রকৃতি আমি ভালরূপ জানিতাম। তিনি নিশ্চয় বলবেন যে,- “এ সমস্ত দিন ভাবিয়া কোন উপায় স্থির করিতে পারিলাম না। সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে বাজার হইতে একটি আধারে লণ্ঠন কিনিয়া আনিলাম। সেদিন মহাষ্টমী, সে রাত্ৰিতে বাড়ীতে কোন নাচগাওনা ছিল না। যাকের ধন ঠিক আছে কি না, তাহা দেখিবার নিমিত্ত রাত্রি দুইটার সময় লণ্ঠনটি হাতে লইয়া পুনরায় সেই চালাতে তলায় উপস্থিত হইলাম। হাত দিয়া মাটি সরাইতে সবেমাত্র আরম্ভ করিয়াছি, এমন সময়ে দোতলার উপর জানালার ধারে দাঁড়াইয়া শ্বশুর মহাশয় বলিয়া উঠিলেন, “সেই চোর বেটা আজ আবার বুঝি আসিয়াছে। ভোজলে দাও।” আর আমি বিলম্ব করিলাম না। মাটি যেমন ছিল তাড়াতাড়ি সেইরূপ করিয়া সে স্থান হইতে পলায়ন করিলাম। নিজের ঘরে আসিয়া পুনরায় ভাবিতে লাগিলাম। অনেকক্ষণ চিন্তা করিয়া এক উপায় স্থির করিলাম। তাহার পর সেইদিন ভোরে কাহাকেও কোন কথা না বলিয়া শ্বশুরের বাড়ী হইতে পলায়ন করিলাম। NSDSR দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্ডস””ৰ নিকটে একখানি খোলার বাড়ী ছিল। সেই বাড়ীর লোকদিগের সহিত আমার আলাপপরিচয় ছিল। এ স্থানে লোকের অধিক বাস ছিল না। রাত্রিকালে এ গলিতে লোকের বড় যাতায়াত ছিল না। দিনের বেলা দুই-তিন বার সেই গলিতে গিয়া বাহির হইতে বাগানের প্রাচীর ও সেই চালাতেগাছ দেখিয়া আসিলাম। চালতা-বৃক্ষের নিম্নদেশে ডাল ছিল। দুই তিনটি শাখা প্রাচীরের উপর পড়িয়াছিল। সেই ডাল ধরিয়া প্রাচীরের উপর হইতে বাগানের ভিতর সহজে নামিতে পারিব। কিন্তু বাহির হইতে প্রাচীরে কি করিয়া উঠিব, তাহাই ভাবিতে লাগিলাম। ঘুরিতে ঘুরিতে একস্থানে দুইটি বঁাশ পড়িয়া আছে দেখিলাম, মনে করিলাম, এই বঁশের সহায়তায় আমি প্রাচীরের উপর উঠিব। নবমী পূজার দিন সন্ধ্যার পর ঘোর বাদলা উপস্থিত হইল। আকাশ নিবিড় মেঘে ঢাকিয়া গেল। সমস্ত রাত্রি বৃষ্টি পড়িতে লাগিল। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের আলোকে পৃথিবী আলোকিত হইতে লাগিল! আমি মনে ভাবিলাম যে, ভালই হইয়াছে। এ দুৰ্যোগে কেহ ঘর হইতে বাহির হইতে পরিবে না। অনায়াসে আমি বাক্সটি আনিতে পারিব। রাত্রি তিনটার সময় খোলার ঘর হইতে বাহির হইলাম। প্রাচীরের গায়ে বঁাশ দিয়া উপরে উঠিলাম। চালাতেগাছের ডাল ধরিয়া নীচে নামিলাম। হাত দিয়া মাটি খুঁড়িয়া বাক্স বাহির করিলাম। বাক্স গৰ্ত্তর উপর তুলিলাম। কিন্তু সৰ্ব্বনাশ! বাক্স অতিশয় ভারি। কি করিয়া ইহা লইয়া গাছে উঠিব, কি করিয়া প্রাচীর পার হইয়া গলিতে গিয়া নামিব! এ বুদ্ধি পূৰ্ব্বে আমার যোগায় নাই। যাহা হউক, অতিকষ্টে বাক্স আমি মাথায় তুলিলাম। এক হাতে বাক্স ধরিয়া অপর হাত দিয়া চালাতেগাছের উপর উঠিতে লাগিলাম। ভাগ্যক্রমে গাছের ডালগুলি সুবিধামত ছিল। তাই উঠিতে পারিলাম। একটি ডালের উপর উঠিলাম। দুইটুিড়িালের উপর উঠিলাম। প্রাচীরের মাথা আর অল্প দূরে আছে, আর দুই-তিনটা ডাল পার হুইসেই, তাহার উপর গিয়া উঠিতে পারি, এমন সময় বিদ্যুতের আলােকে দিনের ন্যায় চারিদিকুন্ঠলৈাকিত হইল। সেই সময় হঠাৎ করিয়া শ্বশুরবাটীর খিড়কীদ্বার কে খুলিয়া ফেলিল। পুনরায়ুঞ্জীর একবার বিদ্যুৎ হইল। ঘোর বিপদ। আমি দেখিলাম যে, দক্ষিণ হাতে ভোজালে, আর বামহাতে লণ্ঠন লইয়া মশ-মশা করিয়া শ্বশুর মহাশয় সেই চালতে তলার দিকে আসিতেছেন। তাঁহার পশ্চাতে শাশুড়ী ঠাকুরাণী আসিতেছেন। ভয়ে আমার সাৰ্ব্বশরীর কাপিয়া উঠিল। আমার হাত-পা অবশ হইয়া গেল। গাছ হইতে আমি পড়িয়া যাই আর কি। যাহা হউক, আমি নিজে পড়িলাম না। কিন্তু বাক্সটি ঝনাৎ করিয়া নীচে পড়িয়া গেল। ডালটি ভাঙ্গিয়া দূরে নিক্ষিপ্ত হইল। চকচকে টাকা সব চারিদিকে ছত্রাকার হইয়া ছড়াইয়া পড়িল । শ্বশুর-শাশুড়ী চালাতে তলায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সম্মুখে একটি কাগজের তাড়া দেখিয়া শ্বশুর মহাশয় প্রথম তাঁহাই কুড়াইয়া লইলেন। লন্ঠনের আলোতে কাগজগুলি নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিলেন । শাশুড়ী জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ও কি কাগজ?” শ্বশুর উত্তর করিলেন,- “নোট; এক একখানি হাজার টাকার নোট, অনেকগুলি আছে।” শাশুড়ী জিজ্ঞাসা করিলেন,- “এ বাক্স, এ নোট, এসব টাকা কোথা হইতে আসিল?” শ্বশুর উত্তর করিলেন,- “এ বাড়ী পূৰ্ব্বে একজন বড়মানুষের ছেলের ছিল। নিজের বিষয় উড়াইয়া সে কাবুলী চাকর দ্বারা ডাকাতি করাইত। চোরাই মাল সে বোধ হয়, এই স্থানে পুতিয়া রাখিয়াছিল। আমরা এইবার বড়মানুষ হইব।” ysis is! sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro শাশুড়ী জিজ্ঞাসা করিলেন, — “বাক্স খুঁড়িয়া তুলিতে চোর আসিয়াছিল?” শ্বশুর উত্তর করিলেন,- “চোর নয়, জামাই বেটার কাণ্ড। যদি এখন পাই, তাহা হইলে এই কথা বলিয়া তিনি গাছের দিকে লণ্ঠনটি তুলিয়া দেখিতে লাগিলেন। পাতার ভিতর এতক্ষণ চুপ করিয়া আমি লুক্কায়িত ছিলাম। আর থাকিতে পারিলাম না। ডাল ধরিয়া প্রাচীরের উপর গিয়া উঠিলাম। তাহার পর বঁাশ ধরিয়া তাড়াতাড়ি নামিবার চেষ্টা করিলাম। বঁাশ পড়িয়া গেল। আমি সবলে নীচে গলিতে গিয়া পড়িলাম। আমার দক্ষিণ পায়ের হাড় ভাঙ্গিয়া চৰ্ম্মভেদ করিয়া বাহির হইয়া পড়িল। তথাপি বুকে হাঁটিয়া আমি সে স্থান হইতে পলায়ন করিতে লাগিলাম। বুকে হাঁটিয়া ক্রমে সদর-রাস্তায় আসিয়া উপস্থিত হইলাম। আর আগে যাইতে পারিলাম না। অল্পক্ষণ পরে একজন পাহারাওয়ালা আমাকে দেখিতে পাইল । তাহার পর কি হইল, তাহা আমি জানি না। আমি অজ্ঞান হইয়া পড়িলাম। তিন দিন পরে একবার আমার জ্ঞান হইল। দেখিলাম যে, আমি হাসপাতালে পড়িয়া আছি। আর জানিতে পারিলাম যে, করাত দিয়া ডাক্তারে আমার দক্ষিণ পা কাটিয়া ফেলিয়াছে। আমার জ্ঞান অধিকক্ষণ রহিল না, প্ৰবল জ্বর দ্বারা আমি আক্রান্ত হইলাম। জুরের উপর বিকার হইল। জ্ঞান-গোচরন্য শূহইয়া পঁচিশ দিন আমি এখন যাই, তখন যাই হইয়া পড়িয়া রহিলাম। পঁচিশ দিন পরে পুনরায় আমার জ্ঞান হইল। কিন্তু আরও দুই মাস আমাকে হাসপাতালে বিছানায় পড়িয়া থাকিতে হইল। হাসপাতাল হইতে বাহির হইবার পূৰ্ব্বে, একজন ডাক্তার আমাকে একখানি খবরের ধ্ৰুঞ্জয়ের সাত বৎসর কারাবাস হইয়াছে। ছকু উত্তর করিলেন,- “হু! মেকি টাকায় পরিপূর্ণ ছিল। নোটগুলিও সব জাল । পূৰ্ব্বে যাহার ঐ বাড়ী ছিল, সে এই কাজ করিত।” নবদ্বীপ বলিলেন, — “উদ্দোর বোঝা বুদের ঘাড়ে।” কিনু জিজ্ঞাসা করিলেন, — “ভূত, মহিষাসুর—এসব কি করিয়া হইয়াছিল?” ছকু উত্তর করিলেন,- “মাধব হিপনাটিশ্যাম করিয়াছিল।” বদন বলিলেন,- “গোলাসে ঢালো।” কিনু বলিলেন,- “তামাক সাজো ।” ছকু বলিলেন,- “তামাক সাজিতেছি, কিন্তু তোমাদিগকে একটা কথা বলি, আমার পা কাটা গিয়াছে সত্য, কিন্তু আমি সুপুরুষ। তথাপি কেহ আমাকে কন্যা দিতে চায় না। তোমরা প্রাণের বন্ধু! তোমরাও কিছু করিলে না। এখন পাঠকগণ আমার একমাত্র ভরসা। পাঠকগণ! যদি কাহারও অবিবাহিতা কন্যা থাকে, যদি আমাহেন সু-পাত্রকে ঘরজামাই রাখিতে সাধ থাকে, তাহা হইলে এই আমি মজুদ আছি।” V8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comস্থিািকস্তানাথ রচনাসংখ্যাই

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৯ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।