ময়না কোথায়

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 

ময়না কোথায়!

 
প্ৰথম অধ্যায় দুইজন বালক !

ধরণীধর মণ্ডল ধনবান লোক। তিনি কলিকাতায় বাস করেন। বাহিরে তাঁহার জমিদারী আছে। মণ্ডল মহাশয় পাঁচ-ছয়টীি ছেলেকে অন্ন দেন। তাঁহার বাড়ীতে থাকিয়া তাহারা স্কুলে বিদ্যা অধ্যয়ন করে। তাহাদের মধ্যে দুইটী বালকের সহিত এই গল্পের সম্বন্ধ-একজনের নাম যাদব মুস্তাফি, বয়স বারো বৎসর। আর একজনের নাম নরোত্তম মাশ্চটক, বয়স দশ বৎসর। দুইজনেই এক জাতি,-ব্ৰাহ্মণ; কিন্তু অন্য কোনও সম্পর্ক নাই। দুইজনেরই পিতা মণ্ডল সামান্য। অন্য দিক হইতে কিছু কিছু পাওনা আছে; তাই সে বেতনে ইহারা সংসার চালাইতে পারেন। বাসা খরচ দিয়া পুত্রকে কলিকাতায় রাখেন, সে ক্ষমতা তাঁহাদের নাই। সে জন্য মনিব মণ্ডল মহাশয়কে বলিয়া দুই জন পিতা আপন আপন পুত্রকে তাহার বাড়ীতে রাখিয়াছেন। যাদব মুস্তফি ও নরোত্তম মাশ্চন্টক এক ঘরে বাস করে, এক ইস্কুলে পড়ে, এক সঙ্গে খেলা করে। দুইজনে বড় ভােব। যাদব বড়, মাশ্চাটককে সে ভাইয়ের মত স্নেহ করে। অন্য বালকের সঙ্গে ঝগড়া হইলে, যাদব তাহাকে প্ৰাণপণে রক্ষা করে। কিন্তু দুই জনের স্বভাব সম্পূর্ণ বিপরীত। যুদর্ঘ্য পর্বলি Z 12S T ਜਨਮ র না, তাহার অনিষ্ট সাধনের নিমিত্ত সৰ্ব্বদাই ছিদ্র নরোত্তমের মনের কথা কেহ পায় না। নিজের ভাল হবে কি মন্দ হবে, যাদব সে চিন্তা কখনও করে না। নরোত্তম সৰ্ব্বদাই নিজের মঙ্গলের চেষ্টা করে। যাদব কখনও হাতে একটি পয়সা রাখে। না, হয়। গরীব দুঃখীকে দিয়া ফেলে, না হয় খাবার কিনিয়া বন্ধুবান্ধবদের সহিত ভাগ করিয়া খায়। নরোত্তম কখনও একটি পয়সা খরচ করে না। ফল কথা, নরোত্তমের সুবুদ্ধি ও নম্র প্রকৃতির জন্য সকলেই তাহাকে প্রশংসা করে; যাদবের কেহ প্ৰশংসা করে না। পিতা মাতারা আপনাদের পুত্ৰদিগকে বলেন—“আহা! নৱোত্তম কি সোনার ছেলে, দেখিলে চক্ষু জুড়ায়। তোমরা তাহার মত হইও । যাদবের মত যেন হইও না ।” একদিন বৈকাল বেলা যাদব একলা বেড়াইতে গিয়াছিল। সন্ধ্যাবেলা বাড়ী আসিয়া সে দেখিল যে, নরোত্তম বিছানায় পড়িয়া আছে। যাদব জিজ্ঞাসা করিল,- “নরোত্তম, শুইয়া আছ কেন ভাই? তোমার কি অসুখ ফরিয়াছে?” নৱোত্তম কোনও উত্তর করিল না, উঠিয়া বসিল না, কেবল ফোঁশ, ফোশ করিয়া কাঁদিতে লাগিল। যাদব আলো জ্বলিল। তাহার পর পুনরায়— “কি হইয়াছে, ভাই?”— এই কথা Wget (38ff7! 8bró sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro জিজ্ঞাসা করিয়া নরোত্তমকে সে চিৎ করিতে চেষ্টা করিল। নরোত্তম জোরে বালিশ ধরিয়া इश्लि। যাদবের দৃষ্টি দেয়ালের দিকে পড়িল। অনেক কষ্টে বহুদিন হইতে এক আধা পয়সা রাখিয়া নরোত্তম সাড়ে তিন টাকা সঞ্চয় করিয়াছিল। দুই দিন পূৰ্ব্বে সেই টাকা দিয়া নরোত্তম একটি ঘড়ি ও একটি গিলটির চেন কিনিয়াছিল। স্কুলে ঘড়িটি বড় বাহির করিত না; কিন্তু বাড়ীতে ও পথে ঘড়ি বাহির করিয়া পাঁচ মিনিট অন্তর সে সময় দেখিত। দুই বন্ধুতে আজ দুই দিন ঘড়ির আমোদে উন্মত্তপ্রায় হইয়াছিল। সম্মুখ দিকে সময় দেখা, পশ্চাৎ দিক খুলিয়া কল দেখা, ঘড়ির গল্প করা, ইহা ভিন্ন আজ দুই দিন দুই বন্ধুর অন্য কাজ ছিল না। নিজের বিছানার নিকট দেয়ালের গায়ে নরোত্তম ছোট একটি পেরেক পুতিয়াছিল। রাত্রিকালে ঘড়িটি সেই পেরেকে সে বুলাইয়া রাখিত। যাদব জিজ্ঞাসা করিল,- “তোমার ঘড়ি কোথায়? তোমার কাছে আছে? ঘড়ি কাছে রাখিয়া শুইও না, চাপ পাইলে ভাঙ্গিয়া যাইবে। দাও পেরেকে রাখিয়া দিই।” নরোত্তমের শোক এইবার উথলিয়া পড়িল। অতি দুঃখের সহিত সে কাঁদিতে লাগিল। যেন তাহার বুক ফাটিয়া যাইতেছিল। একটু সুস্থ হইয়া কাঁদিতে কাঁদিতে নরোত্তম বলিল,—“বৈকাল বেলা আমি বেড়াইতে গিয়াছিলাম। ঘড়ি বাহির করিয়া মাঝে মাঝে সময় দেখিতেছিলাম। একবার যেই বাহির করিয়াছি, আর কোথা হইতে অকস্মাৎ একটা লোক আধিয়া আমার হাত হইতে ঘড়ি কড়িয়া লাইল ও দ্রুতবেগে পলায়ন করিল। আমি তাহার পশ্চাৎ দীেড়িলাম; কিন্তু কিছুতেই তাহাকে ধরিতে পারিলাম না।” C এই কথা শুনিয়া যাদব কিছুক্ষণ চুপ রহিল। তাহার পর সেই ঘড়ি-চোর দেখিতে কিরূপ, তাহা জিজ্ঞাসা করিল। যতদূর ঘড়ি-চোরের রূপ বর্ণনা করিল। যাদব বলিল,— “তুমি কাদিও প্ৰাতঃকালে আমি সেই লোকটার সন্ধানে বাহির হইব। যেখানে পাই, তাহাকে ধরিয়া তোমার ঘড়ি আনিয়া দিব।” যাদবের একটি শালিক পাখী ছিল। একবার দেশে গিয়া যাদব পাখীর ছানাটি আনিয়াছিল। অতি শৈশব অবস্থায় পক্ষি-শাবককে বাসা হইতে আনিয়া যাদব তাহাকে পুষিয়াছিল। পাখীটি এখন বড় হইয়াছে, আর চমৎকার কথা কহিতে শিখিয়াছে। অনেকে তাহার গুণে মুগ্ধ হইয়া পাখীটি কিনিতে চাহিয়াছিল। কেহ কেহ দশ টাকা পৰ্যন্ত মূল্য দিতে স্বীকৃত হইয়াছিল। কিন্তু পাখীটিকে যাদব প্ৰাণের চেয়ে ভাল বাসিত। অনেক প্রলোভনে পড়িয়াও সে তাহাকে বিক্রয় করে নাই। যাদব বলিত,- “প্ৰাণ থাকিতে আমি আমার পাখী ছাড়িতে পারিব না।” পরদিন প্রত্যুষে যাদব খাচাটি হাতে করিয়া বাহির হইল। নয়টার পর সে বাড়ী ফিরিয়া আসিল। বাড়ী আসিয়া নরোত্তমের হাতে চেন-সম্বলিত ঘড়ি দিয়া বলিল,- “এই লও; এই তোমার ঘড়ি লও।” ঘড়ি দেখিয়া নরোত্তম ঘোরতর আশ্চৰ্য্যান্বিত হইল। সে জিজ্ঞাসা করিল,— “কি করিয়া সে চোরের দেখা পাইলে, ভাই?” যাদব উত্তর করিল,- “পুলীশে চোরকে ধরিয়াছিল। পুলীশের লোক আমাকে ঘড়ি দিয়াছে!” ঘড়ি পাইয়া নরোত্তমের আনন্দের আর সীমা রহিল না। যাদবকে সে আর অধিক কথা জিজ্ঞাসা করিল না। 8ヶ8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্ড”,"প্ত ******* সেই দিন বৈকাল বেলা নরোত্তম জিজ্ঞাসা করিল,- “ময়না কোথা গেল? বারেণ্ডায় ময়নার খাচা নাই কেন?” যাদবের শালিক পাখীর নাম ময়না ছিল। ময়নার নাম শুনিয়া যাদবের চক্ষু ছল ছল করিয়া আসিল। অনেক কষ্ট চক্ষুর জল নিবারণ করিয়া সে বলিল,— “ময়না? তাই তো ময়না কোথা গেল!! তবে বোধ হয়, কেহ চুরি করিয়াছে। আমি অনুসন্ধান করিতে চলিলাম।” এই কথা বলিয়া যাদব দ্রুতবেগে বাহিরে চলিয়া গেল। ঘড়ি কোথা হইতে কিরূপে পুনরায় আসিয়াছে, নরোত্তম তাহা বুঝিতে পারিল। ময়নার নাম আর সে মুখে আনিল না। দ্বিতীয় অধ্যায়। ও কে? কয়েক বৎসর কাটিয়া গেল। একবার নরোত্তম নিদারুণ বসন্ত রোগ দ্বারা আক্রান্ত হইল । বঁচিবার কিছু মাত্র আশা ছিল না। মণ্ডল মহাশয় তাহাকে হাসপাতালে পাঠাইতে চাহিলেন। কিন্তু যাদব অতি বিনয় করিয়া তাঁহাকে নিবারণ করি বলিল,- “এক পার্শ্বে, দূরে একটি ঘর ছাড়িয়া দিন। রোগীকে সেইস্থানে রাখিঃ সেবা করিব। ব্ৰাহ্মণের ছেলেকে হাসপাতালে পাঠাইবেন না। ○ ಟ್ವಥ್ । রোগীকে সেই ঘরে রাখিয়া যাদব তাহার ক্লবিকার, ঘোর প্ৰিলাপ, ভয়ঙ্কর চীৎকার! এই ভয়ানক রোগে সেরূপ চীৎকার শুনিলে বড় রও আতঙ্ক হয় । রাত্রি দুইটার সময় নরোত্তম উঠিয়া বাসিত, আর চীৎকার করিয়া বলিত,- “ময়না কোথা গেল! ময়না কোথা গেল! ওঃ আমি বুঝিয়েছি! ময়না দিয়া সেই টুক-টুক কিনিয়াছ!” আবার কিছুক্ষণ পরে সে বলিত,- “রাঙা কাপড় পরিয়া কে ও মেয়ে মানুষটি শিয়রে বসিয়াছে? ওর হাতে একটি ধামা আছে। বাপরে! সে ধামায় এক ধামা বসন্ত! আর ওর মুখে ও সব কি? ও মা ও মা ! বসন্ত!” “ময়না কোথা গেল! ময়না কোথা গেল!” নরোত্তম। এইরূপ প্ৰলাপ বকিতেছিল। নিৰ্ভয়ে যাদব একলা দিনের পর দিন, রাত্রির পর রাত্রি রোগীর নিকট বসিয়া রহিল। রোগীর শরীর ফুলিয়া ভয়ঙ্কর মূৰ্ত্তি ধারণ করল। দেখিলে ত্ৰাস হয়। যাদব একলা নিৰ্ভয়ে তাহার সেবা করিতে লাগিল। তাহার পর রোগীর শরীর পচিতে আরম্ভ হইল, যেন শরীরের সমুদয় মাংস পচিয়া গেল। কোনও স্থানে গৰ্ত্ত হইল, কোনও স্থানে হাড় বাহির হইয়া পড়িল, কোনও স্থান রোগী নিজ হাতে ছিড়িয়া রক্তে প্লাবিত করিল। দুর্গন্ধে বাড়ীতে লোক তিষ্ঠিতে পারে না। নিজে এই বিষম রোগ দ্বারা আক্রান্ত হইতে পারে, যাদবের মনে সে ভয় একবারও উদয় হইল না। নিজে এই বিষম রোগ দ্বারা আক্রান্ত হইতে পারে, যাদবের মনে সে ভয় একবারও উদয় হইল। না। পূন্য রক্ত মল মুত্র কিছুতেই যাদবের ঘূণা নাই। যাদবের দিনে আহার নাই, রাত্রিতে নিদ্রা নাই, শ্ৰম নাই, ভয় নাই, ঘূণা নাই। প্রাণপণে যাদব রোগীর সেবা করিতে লাগিল। অবশেষে

  • if:lls -24 g4 &el a www.amarboicom m 8ty অনেক দিন পরে রোগী আরোগ্য লাভ করিল। ডাক্তার, বৈদ্য ও প্রতিবেশিগণ সকলেই বলিলেন,- “যাদব! কেবল তোমার সেবার বলেই রোগী এ যাত্রা পরিত্রাণ পাইল । নরোত্তমের তুমি প্ৰাণ দান করিলে।”

অল্প দিন পরে যাদবের পিতা মাতার পরলোক হইল। স্কুল ছাড়িয়া যাদব কলিকাতায় কাজ কৰ্ম্মের অনুসন্ধান করিতে লাগিল। তাহার অল্পদিন পরে নিরোত্তমও স্কুল ছাড়িয়া দেশে চলিয়া গেল। দুই বন্ধুতে এইরূপে অবশেষে ছাড়াছাড়ি হইল। সওদাগর আফিসে যাদবের একটি কৰ্ম্ম হইল। কিছুদিন পরে আফিসের আর এক জন বাবু তাহার সহিত কন্যার বিবাহ দিয়া, কন্যা-দায় হইতে মুক্ত হইলেন। যাদবের দেশে ভাই ভগিনী কেহই ছিল না। ম্যালেরিয়া জুরের জ্বালায় দেশে বাস করা ভার। দেশে তাঁহার মেটে ঘর, সামান্য একটি বাগান ও কয়েক বিঘা। ভূমি ছিল। যাদব সেই সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া ফেলিলেন। বড় হইয়া তাঁহার প্রকৃতি কিছুমাত্র পরিবৰ্ত্তিত হয় নাই। টাকাগুলির অৰ্দ্ধেক দেশে তিনি গরীর দুঃখীকে দিয়া আসিলেন। বাকি অৰ্দ্ধেক বন্ধু বান্ধবে তাঁহার নিকট হইতে ধার লইল; কিন্তু কেহ আর উপুড় হস্ত করিল না। যাদব এখন বড় হইয়াছে, যাদবের কৰ্ম্মকাজ হইয়াছে, সে জন্য এখন আর তাঁহাকে যাদব বলিয়া আমাদের ডাকা উচিত নহে। এখন হইতে তাঁহাকে আমরা মুস্তফি মহাশয় বলিব। মুস্তফি মহাশয়ের ক্রমে ক্ৰমে বেতন বৃদ্ধি হইতে লাগিল। যখন তাঁহার স্ত্রী বড় হইল, তখন একখানি বাড়ী ভাড়া করিয়া সপরিবারে তিনি কলিকৃত্যু বাস করিতে লাগিলেন। মুস্তুফি মহাশয়ের বেতুন বৃদ্ধি হইতে লাগিল বটে; কিন্তু সূৰ্গীয় সচ্ছল। কখনই হইল না। মুহিনা পাইলে পথে গরিব দুঃখীকে তিনি অৰ্দ্ধেকের অধিকৃত্যুদয় আসিতেন। হাতে পয়সা না থাকিলে, কৃদ্রিখানা পৰ্যন্ত দিয়ু আসিতেন। তাঁহার দ্বারে অনেক সময়ে তিনি নিজের ও স্ত্রীর বাড়ী-ভাত কানুনুমুপথাৰ ঢ় উঠছিল। উপবাসী থাকিতেন, তথাপি কখনও তিনি টাকা ধার করিতেন না, অথবা ধারে কোনও দ্রব্য ক্রয় করিতেন না। তিনি বলিতেন—“আমার সাধ্যমতে আমি লোকের দুঃখ মোচন করিতে চেষ্টা করিব। চুরি ডাকাতি প্ৰবঞ্চনা করিয়া আমি দান খয়রাত করিব না। গোবিন্দ মামা ধুমধামের সহিত কালীপূজা করিতেন, পঞ্চ উপচারে অনেক লোককে ভোজন করাইতেন। তাহার পর যখন তাঁহার পরলোক হইল, তখন রাড়ীভৃড়ি মহলে কান্নাকাটি পড়িয়া গেল। সকলের নিকট হইতে টাকা ধার করিয়া তিনি কালীপূজা করিতেন; সমস্ত জীবন কাটুনা কাটিয়া অতি দুঃখে, অতি কষ্টে তাহারা যৎসামান্য পাঁচ সাত টাকা যাহা সঞ্চয় করিয়াছিল, তাহাই ধার লইয়া গোবিন্দ মামার কালীপূজা হইত। তাঁহাকে টাকা ধার দিয়া একজন বিধবা আত্মহত্যা করিয়াছিল। অসময়ে আমার কি হইবে, এইরূপ ভাবিয়া একজন সহায়-সম্পত্তিহীনা বিধবা ক্ষিপ্ত হইয়া গলায় দড়ি দিয়া মরিয়াছিল। পরের সৰ্ব্বনাশ করিয়া পুণ্য করা উচিত নহে, আমার এই মত; তাহাতে তোমরা আমাকে নাস্তিকই বল, আর খ্ৰীষ্টানই বল।” মুস্তফি মহাশয়ের এইরূপ কথা শুনিয়া সকলেই তাঁহার নিন্দা করিত। তিনি অর্থহীন ছিলেন। বলিয়া, সকলেই তাঁহাকে ঘৃণা করিত। তাঁহার নিকট টাকা ধার না পাইয়া অনেকে তাঁহার উপর ঘোরতর বিরক্ত হইত। সকলে বলিত,- “ ওটা মানুষের মধ্যেই নয়। অতি হতভাগা-লক্ষ্মীছাড়া।” 8brや firls six gas sel - www.amarboicomf$" is মুস্তফি মহাশয়ের ক্রমে ক্ৰমে দুইটি পুত্র ও একটি কন্যা হইল। সংসারের খরচ বাড়িল । আরও বেতন বৃদ্ধি হইল; কিন্তু সংসারের কষ্ট ঘুচিল না। নরোত্তম মাশ্চন্টক কলিকাতা ছাড়িয়া যে দিন দেশে চলিয়া গেলেন, সেই দিন হইতে মুস্তাফি মহাশয় তাহার। আর কোনও সংবাদ পান নাই। এই সময়ে সহসা একদিন তিনি কলিকাতায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। অনেক দিন পরে দুই বন্ধুতে পুনরায় সাক্ষাৎ হইল। মাশ্চন্টক মহাশয় মুস্তাফির বাটীতে রহিলেন। রাত্রিতে আহারাদির পর দুই বন্ধুতে অনেক কথা হইল। তৃতীয় অধ্যায় মাশ্চটকের অভু্যুদয় মাশ্চন্টক মহাশয় বলিলেন,- “স্কুল ছাড়িয়া আমি দেশে যাইলাম। বহুদিন পূৰ্ব্বে আমার মাতার কাল হইয়াছিল। পিতা আমার বিবাহ দিলেন। চারি বৎসর পরে আমার পিতার পরলোক হইল। সংসারের ভার আমার গলায় পড়িল। আমাদের কিছু জমি আছে। চাষ করিয়া আমি সংসার প্রতিপালন করিতে লাগিলাম। আমার ধ্ৰু১বিধবা পিসী ছিলেন। তাঁহার কিছু টাকা ছিল। তাহার পরলোক হইলে সেই টাকাণ্ড পাইলাম। সেই টাকা লইয়া এক্ষণে আমি পাটের ব্যবসা আরম্ভ করিয়াছি। কৃষকদিগ্রেপ্পনিকট হইতে পাট ক্রয় করিয়া, পূৰ্ব্বে সেই স্থানেই বিক্রয় করিতাম। কলিকাতায় ধ্রুবিক্রয় করিলে অধিক লাভ হইবে, সেই জন্য আমি কলিকাতায় আসিয়াছি।” মুস্তফি মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন- “পাটের ব্যবসায় শুনিয়াছি বেশ লাভ আছে।” মাশ্চন্টক মহাশয় উত্তর করিলেন,- “লাভ আছে সত্য, কিন্তু পুঁজি অধিক না থাকিলে, ভালরূপে কাজকৰ্ম্ম করিতে পারা যায় না। তাহা ব্যতীত কৃষকদিগকে টাকা দাদন করিতে হয়। টাকা অনেক সময়ে মারা যাইবার সম্ভাবনা ।” মুস্তাফি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “সন্তানাদি কি?” মাশ্চন্টক মহাশয় উত্তর করিলেন,- “একটি পুত্র ব্যতীত অন্য সন্তানাদি হয় নাই। পুত্রটির বয়স এক্ষণে দশ বৎসর।” আরও পাঁচ বৎসর কাটিয়া গেল। মাশ্চন্টক মহাশয় পাট লইয়া মাঝে মাঝে কলিকাতায় আগমন করেন, পাট বেচিয়া পুনরায় দেশে চলিয়া যান। কলিকাতায় আসিয়া তিনি মুস্তফির বাসায় অবস্থিতি করেন। এইবার আসিয়া তিনি সহসা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমার কন্যার নাম কি?” মুস্তফি উত্তর করিলেন,- “প্ৰভাবতী।” মাশ্চন্টক জিজ্ঞাসা করিলেন,- “বয়স কত?” “মুস্তাফি উত্তর করিলেন,- “নয় বৎসর।” মাশ্চন্টক বলিলেন,- “দেখ যাদব! তুমি আমার চিরকালের বন্ধু। আমার ইচ্ছা, তোমার সহিত সম্বন্ধটা একটু পাকাপাকি করি । তোমার কন্যার সহিত অধরের বিবাহ দিলে হয় না?” 73777 6o787871 fillig ož35 g5 RG a www.amarboi.com MV 8byዒ কিন্তু পৃথিবীতে কাহারও মনে যে কু-অভিসন্ধি থাকিতে পারে, মুস্তফি তাহা জানিতেন না। যে যাহা বলে, তাহাই তিনি সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিতেন। “তোমার সহিত কুটুম্বিতা করিয়া আরও পাকাপাকি বন্ধুতা করিব।” এখন সেই কথার প্রতি মুস্তাফির মনে একবার একটু সন্দেহ হইল। কিন্তু সে সন্দেহ তিনি তৎক্ষণাৎ মন হইতে ঝাড়িয়া ফেলিলেন। মুস্তাফি বলিলেন,- “চাকরির বাজার বড় মন্দ। বি, এ, —এম, এ পাস করিয়া কত লোক ফ্যা ফ্যা করিয়া বেড়াইতেছে। তাঁহাতে তোমার বয়স হইয়াছে। পূৰ্ব্বে চাকরি কখনও কর নাই। চাকরি পাওয়া বড়ই কঠিন হইবে।” আফিসের সাহেব মুস্তাফিকে খুব ভাল বাসিতেন। অনেক বলিয়া কহিয়া তিনি নিজের আফিসে৷ বৈবাহিক মহাশয়কে একটি চাকরি করিয়া দিলেন। অল্প খরচে সংসার চলিবে, সে জন্য মাশ্চন্টক মহাশয় কলিকাতার অপর পারে গিয়া বাসা করিলেন। অতি মনোযোগের সহিত মাশ্চন্টক মহাশয় আফিসের কাজ কৰ্ম্ম করিতে লাগিলেন। আফিস দশটা হইতে পাঁচটা কিন্তু তিনি নয়টার সময় আসিফে যাইতেন ও সন্ধ্যা সাতটার সময় আফিস হইতে আসিতেন। তাহার বুদ্ধির প্রখরতা ও কাৰ্য্যদক্ষতার গুণে সাহেব দিন দিন তাহার বশ হইতে লাগিলেন। সাহেবের জামায় ধূলা না থাকিলেও তিনি আগ্রহ সহকারে তাহা ঝাড়িয়া দিতেন। পরিশ্রম, কাৰ্য্যদক্ষতা ও খোসামোদ, এই তিন গুণে দেবতারা বিশ হইয়া পড়েন, মানুষ কোন ছাঁর! মাশ্চন্টক মহাশয়ের ক্রমেই উন্নতি হইতে লাগিল। কিছুদিন পরে মুস্তফি ঘোরতর পীড়িত হইয়া পড়িল্লেন। তাঁহাকে ছুটি লাইতে হইল। দুই :::::::* গেলেন। তাহার পুরাতন সাহেব কিছুদিন পূৰ্ব্বে বিলাত চলিয়া গিয়াছিলেন। সেই ঔদে নূতন যে সাহেব নিযুক্ত হইয়াছিলেন, যাদবকে তিনি বলিলেন,- “এ আফিসে ত্যুেমার আর কাজ করিতে হইবে না। অন্য স্থানে তুমি চাকরির অনুসন্ধান কর।” এই কথা বলিয়া, এক মাসের আফিসে সাহেবেরা যাহা ইচ্ছা! दनिले श्ल! বিরস বদনে মুস্তাফি বাড়ী ফিরিয়া আসিলেন। কিন্তু কি দোষে তাহার যে চাকরি গেল, তাহা তিনি বুঝিতে পারিলেন না। আফিসের অন্যান্য লোক কিন্তু বুঝিতে পারিয়াছিল। মুস্তাফির অনুপস্থিতিকালে মাশ্চন্টক মহাশয় তাহার কাজের নানারূপ দোষ বাহির করিয়া সাহেবের মনে বিষ ঢালিয়া দিয়াছিলেন। কোনও কোনও লোকের নিকট মাশ্চন্টক এ কথা স্বীকারও করিয়াছিলেন। তিনি বলিয়াছিলেন যে, “মনিবের যাহাতে মঙ্গল হয়, তাহা আমার করা উচিত। তাহা না করিলে বিশ্বাসঘাতকতা অপরাধ হইলে কি হয়, বেহাই নরকে যাইতে হইব। বন্ধু হইলে কি হয়, বাবার কাজেও আমি যদি দোষ দেখিতাম, তাহা হইলেও আমি সাহেবকে জানাইতাম।” ক্রমে ক্রমে এ কথা মুস্তাফির কাণে উঠিল। সকলে বলিল,- “তোমার বেহাই তোমার অন্ন মারিয়াছেন।” মুস্তাফি কিন্তু সে কথা বিশ্বাস করিলেন না। তিনি বলিলেন,- “নরোত্তম! না না, নরোত্তম কখনও এরূপ কাজ করিবে না। এতটুকু বেলা হইতে তাহাকে আমি জানি।” মুস্তফি সওদাগরি আফিসের হিসাব রাখিতে ভাল জানিতেন। সে জন্য তাঁহাকে অধিক দিন বসিয়া থাকিতে হইল না। তত বেতনে না হউক, আর একটী আফিসে তাহার চাকরি হইল। দুই আফিসে দুই বন্ধুর এইরূপে কাল কাটিতে লাগিল। {ଷ୍ কুঞ্জ’ দিয়া, সাহেব তাঁহাকে বিদায় করলেন। সওদাগর করিতে পারেন। “তোমাকে আর চাই না,”— এই কথা Wgii (ącjęły 8byእ» sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro চতুৰ্থ অধ্যায় মাশচটকের বিপদ মুস্তফি মহাশয়ের কাল যেমন পূৰ্ব্বে কাটিতেছিল, এখনও সেইরূপ কাটিতে লাগিল। যাহা উপাৰ্জন করিতেন, তাহা হইতে কাহাকেও আট আনা, কাহাকেও এক টাকা, কাহাকেও দুই টাকা, এইরূপ দিয়া গরিব দুঃখী লোকের তিনি সহায়তা করিতেন। ব্ৰাহ্মণ পণ্ডিতদিগের উপরও তাঁহার ভক্তি কম ছিল না। আজ কাল, চারিদিকে স্বজাতির অবনতি দেখিয়া তাঁহার বুক ফাটিয়া যাইত। ব্ৰাহ্মণগণ পুনরায় যাহাতে দেশের শীর্ষস্থান অধিকার করিতে পারেন, নানা বিদ্যায় পারদর্শী হইয়া যাহাতে তাহারা সাধারণের শিক্ষাদাতা ও জ্ঞানদাতা হইতে পারেন, নিজে দীনভাবে সংসারযাত্ৰা নিৰ্ব্বাহ করিয়া, নিঃস্বাৰ্থভাবে পরিশ্রম করিয়া, যাহাতে তাঁহারা জগতের দুঃখ দূর ও স্বচ্ছন্দতা বৃদ্ধি করিতে পারেন, সেই উদ্দেশে নানা দিকে নানাভাবে তিনি যত্ন করিতেন। সচ্চরিত্র, নির্লোভ, বিদ্বান ব্ৰাহ্মণগণকে তিনি যথাসাধ্য অর্থ সাহায্য করতেন। দুই তিনটী ব্ৰাহ্মণ-বালকের বিদ্যা অধ্যয়নের ব্যয় তিনি প্ৰদান করিতেন। স্বজাতির ও স্বদেশের মঙ্গলের নিমিত্ত তিনি সৰ্ব্বদাই যত্ন করিতেন। নানা দিকে এইভাবে ব্যয় করিয়া তাঁহার বেতনের যাহা কিছু অবশিষ্ট থাকিত, তাহাতেই অতি কষ্টে তিনি দিনপাত করিতেন। কখনও কখনও তাঁহার মনে হইত যে, স্ত্রীপুত্ৰকে বঞ্চনা করিয়া আমি পরের উপকার করিতেছি। কিন্তু তৎক্ষণাৎ আবার তিনি মনে করিতেন যে, যৎসামান্য যাহা কিছ অনাথ অনাথাদিগকে আমি প্ৰদান করি, প্ৰাণ থাকিতে বন্ধ করিতে পারিব না। আহা! সেই সামান্য সাহায্য পাইয়া তাহদের কত র হয়! শুনিয়াছি যে, শীতকালে বৈবাহিক মাশ্চন্টক মহাশয়ের অবস্থার দিন দিনি উন্নতি হইতে লাগিল। তিনি যে আফিসে কাজ করিতেন, তাহার সাহেবেরা জাহাজে জিনিস পত্ৰ প্ৰদান করিতেন। ইহাকে বুঝি কাপ্তোনি কাজ বলে। ময়দা, চাউল, ঘূত, তৈল, মাংস প্রভৃতি যাহা কিছু আবশ্যক হয়, জাহাজে তাহা যোগাইতে হয়। দুই একটী দ্রব্যের ঠিকা লইয়া মাশ্চন্টক মহাশয় বিলক্ষণ লাভ করিতে লাগিলেন। তাহা ব্যতীত অতি অল্প মূল্যে তিনি দুই খানি গাধাবোট কিনিয়াছিলেন। ঘাট হইতে গাধবােটে পাট প্রভৃতি দ্রব্য লইয়া জাহাজে তিনি বােঝাই দিতেন। তাহাতেও বিলক্ষণ দু’পয়সা লাভ হইত। ইহা ব্যতীত, দৈনিক সুদে কিছু টাকা তিনি চোটায় খাটাইতেন, তাহাতেও লাভ বড় অল্প ছিল না। এইরূপ নানা উপায়ে চারি দিক হইতে তাঁহার উপাৰ্জন হইতে লাগিল। ওপারে যে বাড়ী তিনি ভাড়া লইয়াছিলেন, তাহা তিনি ক্রয় করিলেন, ও নিকটস্থ আরও ভূমি ক্রিয় করিয়া, তাহার উপর বৃহৎ এক অট্টালিকা নিৰ্ম্মাণ করাইলেন। ইতিমধ্যে মুস্তফি মহাশয়ের কন্যা প্ৰভাবতী বড় হইয়া উঠিল। সে শ্বশুরালয়ে গমন করিল। তাহার শ্বশুরালয় হইতে ক্ৰমাগত দুঃসংবাদ আসিতে লাগিল। শ্বাশুড়ীর শুচিবাই অত্যন্ত বাড়িয়াছে। “শগড়ি, শগড়ি” করিয়া তিনি পাগল হইয়াছেন। “ঐ ওখানে শগড়ি পড়িয়া রহিল, ঐ কুলা খানা শগড়ি হইয়া গেল, ঐ বিছানা শগড়ি হইয়া গেল, ঐ মুড়িতে জল লাগিয়া শগড়ি 8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comন্তির্জািকস্তানাথ রচনা সংগ্ৰহ হইয়া গেল”—রাত্রি দিন এইরূপ কথা ভিন্ন তাঁহার মুখে আর অন্য কথা ছিল না। আর সেই কথা লইয়া পুত্রবধুর উপর ঝঙ্কার ও তিরস্কার! শগড়ির হাত হইতে পরিত্রাণ পাইবার নিমিত্ত রাত্রি দিন গোবর জল দিয়া সকল বস্তু ধুইতেন, ঘর দ্বার বিছানা—সকল স্থানে গোবরজল ছড়াইতেন। জলে গোবর গুলিয়া দিনের মধ্যে পাঁচ ছয়বার তিনি নিজের ও পুত্রবধুর মাথায় ঢালিতেন। জল বহিতে বহিতে পুত্রবধুর প্ৰাণান্ত পরিচ্ছেদ হইতে লাগিল। তাহার উপর গালাগালি। “হারামজাদি! ঝাটা গাছটা শগড়ি হইয়া গিয়াছে। তোরে বলিলাম যে, ঝাটা গাছটা খুলিয়া এক একটী কাঠি গোবর দিয়া উত্তমরূপে মাজিয়া পরিষ্কার করু। তাঁহা না করিয়া তুই সমস্ত বঁটা গাছটা ধুইয়া লইলি । তাহাতে শুদ্ধ হইল কি করিয়া? জাতি জনম আর রহিল না।” এইরূপ নানা কথা মুস্তাফি ও তাঁহার গৃহিণীর কাণে উঠিতে লাগিল। কিন্তু মুস্তাফির সে সমুদয় কথায় বিশ্বাস হইল না। তিনি ভাবিলেন যে, নরোত্তমকে আমি বাল্যকাল হইতে জানি। সত্যই কি সে আমার কন্যাকে এত কষ্ট দিবে! কিছু দিন পরে মুস্তফি মহাশয়ের গৃহিণী আবার শুনিলেন যে, শ্বাশুড়ী পুত্রবধূর উপর ঘোরতর হিংসা করিতেছেন। পুত্ৰ পাছে আপনার স্ত্রীকে ভাল বাসে, পাছে সে মাতার পর হইয়া যায়, সেজন্য মাতা তাহাকে স্ত্রী মুখ দেখিতে দেন না। এমন কি, সন্ধ্যার পর বাহিরে রাত্রিযাপন করিবার নিমিত্ত পুত্রকে নিজে টাকা দিয়া তিনি বিদায় করেন, তথাপি পুত্রবধূর মুখ দেখিতে দেন না। আবার কিছু দিন পরে শুনিলেন যে, প্ৰভাবতীর উপর শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও জামাতা— তিন জনেরই বিষদৃষ্টি হইয়াছে, তিন জনেই তাহাকে প্ৰহার করিতে আরম্ভ করিয়াছেন। কিছুই বলে নাই। সেজন্য মুস্তাফি সকল কথা বিশ্বাস করিলেন না। তিনি ভাবিলেন, — মানুষ এত নিৰ্দয় কখনই হইতে পারে না। প্রভাবতীর মুখে কখনও কথা নাই, সে অতি শান্ত সুশীলা। মানুষ হইয়া তাহার প্রতি কেহ নিষ্ঠুর আচরণ করিতে পারে না। সহসা তাহার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি অতি ব্যস্ত ভাবে বলিলেন,- “ভাই! আমি এক বড় বিপদে পড়িয়াছি। এখন তুমি যদি আমাকে সেই বিপদৃ হইতে রক্ষা কর, তবেই হয়।” পঞ্চম অধ্যায় কেবল ঘণ্টা কয়েকের জন্য মুস্তাফি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কি বিপদে পড়িয়াছ ভাই?” মাশ্চন্টক উত্তর করিলেন,- “আমি, ভাই, নূতন একটা ঠিকা লইয়াছি। তাঁহাতে বেশ লাভ আছে। তাহার জন্য দ্রব্যাদি ক্রয় করিয়াছি। হঠাৎ আমার পাঁচশত টাকা অকুলান পড়িল। এই মুহুৰ্ত্তে যদি সেই পাঁচশত টাকার যোগাড় না করিতে পারি, তাহা হইলে আমার অনেক টাকা

  • " sÀ 315 až 35 QKF RIG! My www.amarboi.com My BS ক্ষতি হইবে। তুমি যদি ভাই, এখনি পাঁচশত টাকা দাও, তাহা হইলে আমার বড় উপকার হয়। আজ সন্ধ্যা বেলা নিশ্চয় এ টাকা তোমাকে আমি ফিরিয়া দিব। কেবল ঘণ্টা কয়েকের জন্য আমি এ টাকা চাই।”

আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া মুস্তাফি বলিলেন,- “পাচশত টাকা! জনমে। কখনও আমার একত্র পাঁচশত টাকা হয় নাই। জমি বেচিয়া একবার তিন শত টাকা পাইয়াছিলাম, তা পাঁচ ছয় দিনে সে সব ফুরাইয়া গিয়াছিল। পাঁচ শত টাকা আমি কোথায় পাইব?” মাশ্চন্টক বলিলেন,- “কেবল ঘণ্টা কয়েকের জন্য। সন্ধ্যা বেলা নিশ্চয় তোমাকে আমি এ টাকা ফিরিয়া দিব ।” মুস্তাফি বলিলেন,- “তা বটে। কিন্তু এক মিনিটের জন্য হইলেও এ টাকা আমি কোথায় পাইব? পাঁচ টাকা চাহিলে আমি দিতে পারি না, পাঁচশত টাকা আমি কোথায় পাইব?” মাশ্চন্টক বলিলেন,- “কেবল ঘণ্টা কয়েকের জন্য। এখন বারোটা বাজিয়াছে, ঠিক সন্ধ্যা সাতটার সময় তোমার বাড়ীতে আমি এ টাকা দিয়া আসিব । দাও, ভাই! আমার এই উপকারটীি করিতে হইবে। বড় বিপদে পড়িয়াই আমি তোমার নিকট আসিয়াছি। তুমি আমার চিরকালের বন্ধু। বালককাল হইতে তুমি আমার কত উপকার করিয়াছ। আজ এই উপকারটীি করিয়া, চিরকালের নিমিত্ত আমাকে কিনিয়া লও। কেবল পাঁচ ছয় ঘন্টার জন্য।” মুস্তাফি বলিলেন,- “টাকা আমি পাব কোথা!” মাশ্চন্টক এইবার খুলিয়া বলিলেন, — “আফিসের তোমার নিকট থাকে। কেবল ঘণ্টা কয়েকের জন্য ।” (G) জিব কাটিয়া মুস্তািফ বললেন,—“আফিসের টুর্ণ বাপরে! ও কথা মুখে আনিও না।” দিব। কাল প্ৰাতঃকালে পুনরায় তুমি র টাকা পূর্ণ করিয়া রাখিবে, তাহাতে আর দোষ

  • y*

মুস্তাফি বলিলেন,- “ভাই! প্ৰাণ আমি আফিসের টাকায় হাত দিতে পারিব না। এ কথা তুমি মুখে আনিলে কি করিয়া, তাই আমি ভাবিতেছি।” এইরূপে দুই জনে প্ৰায় এক ঘণ্টা ধরিয়া কচলা-কচালি হইতে লাগিল। মাশ্চটকের মোহিনী শক্তির প্রভাবে মুস্তাফির মন ক্রমে শিথিল হইয়া আসিল । অবশেষে তিনি বলিলেন,- “সাহেব যদি আজ হিসাব দেখেন, তাহা হইলে যে আমাকে জেলে যাইতে হইবে!” মাশ্চন্টক বলিলেন, — “অসুখ হইয়াছে বলিয়া তুমি আজ বাড়ী চলিয়া যাও। সন্ধ্যা বেলা তোমাকে আমি টাকা দিয়া আসিব। কা’ল দশটার সময় আস্তে আস্তে আফিসের টাকা পূর্ণ করিয়া রাখিবে । তাহা হইলে সকল ভয় যাইবে।” মুস্তফি মনে মনে ভাবিলেন,- “সেই সহায়হীনা তের বৎসরের বালিকার জন্য আজ দেখিতেছি, আমাকে কুকৰ্ম্ম করিতে হইল। হে জগদীশ্বর! তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা কর। হে জগদীশ্বর! তুমি আমাকে রক্ষা কর।” মনে মনে এইরূপ ভাবিয়া কাপিতে কঁাপিতে মুস্তফি মহাশয় আফিসের টাকা হইতে বৈবাহিককে পাঁচ শত টাকা প্ৰদান করিলেন। বৈবাহিক টাকা লইয়া প্ৰস্থান করিলেন। অসুখ হইয়াছে বলিয়া মুস্তাফি বাড়ী যাইলেন না। প্ৰাণ হাতে করিয়া বিষগ্ন বদনে তিনি কাজ করিতে व्ञाब्लिन्म । 8వ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্যািক্যনাথ রচনাসংখ্যাই সন্ধ্যা বেলা তিনি বাটী প্রত্যাগমন করিলেন। বৈবাহিক কখন টাকা আনিবেন, সেই প্ৰতীক্ষায় অতি উদ্বিগ্ন চিত্তে তিনি বসিয়া রহিলেন। সাতটা বাজিয়া গেল, আটটা বাজিয়া গেল, নয়টা বাজিয়া গেল, টাকা লইয়া বৈবাহিক আসিলেন না। ভয়ে মুস্তাফির প্রাণ উড়িয়া গেল। আহার প্রস্তৃত; তিনি আহার করিলেন না। চাদরখানি লইয়া তিনি বাটী হইতে বাহির হইলেন। গঙ্গা পার হইয়া সোজা বৈবাহিকের বাটী। গিয়া উপস্থিত হইলেন। বৈবাহিকের সহিত তাহার সাক্ষাৎ হইল । মাশ্চন্টক মহাশয় বলিলেন,- “কি করিব, ভাই! অনেক চেষ্টা করিয়াও আজ, টাকার যোগাড় করিতে পারি নাই। তা, তুমি ভাবিও না। কাল প্ৰাতঃকালে, যেখান হইতে পাই, তোমার টাকার যোগাড় করিব। নয়টার ভিতর তোমাকে টাকা দিয়া আসিব ।” মুস্তাফি বলিলেন,- “দেখিও, ভাই, যেন এ কথার অন্যথা হয় না। তাহা হইলে, আমি মারা যাইব ।” মাশ্চন্টক বলিলেন,- “আমি পাগল হই নাই; কা’ল প্ৰাতঃকালে নয়টার ভিতর নিশ্চয় তুমি তোমার টাকা পাইবে। বাড়ীতে থাকিও।” মুস্তাফির আহার হইয়াছে কি না, বৈবাহিক তাহা জিজ্ঞাসা করিলেন না। সে রাত্রি সেখানে থাকিতেও বলিলেন না। কন্যার সহিত দেখা না করিয়া বিষগ্ন বদনে মুস্তাফি বাটী প্ৰত্যাগমন করিলেন । পরদিন প্ৰাতঃকালে বৈবাহিকের প্রতীক্ষায় মুস্তাফি বাটীতে বসিয়া রহিলেন। নয়টা বাজিয়া গেল, দশটা বাজিয়া গেল, বৈবাহিক আসিলেন না । “আমার অসুখ হইয়াছে, আজ আমি আফিসে যাইতে পারিব না।”— এই কথা বলিয়া মুস্তফি আফিসে চিঠি লিখিলেন। তাহার পর তাড়াতাড়ি দুইটা ভাত নাকে মুখে গুজিয়া, তিনি বৈবাহিকের আফিসে গমন করিলেন। আফিসে তাঁহাকে দেখিতে পাইলেন না। সকলে বলিল যে, তিনি কসাই-খানায় গিয়াছেন। বিস্মিত হইয়া মুস্তাফি জিজ্ঞাসা করিলেন, — “কসাই-খান!” আফিসের লোক বলিল,- “হা, জাহাজে যোগান দিবার নিমিত্ত তিনি মাংসের ঠিকা লইয়াছেন।” জাহাজে যোগাইবার নিমিত্ত কি মাংসের তিনি ঠিকা লইয়াছেন, আফিসের লোক তাঁহাকে অতি পরিষ্কার করিয়াই বলিল। কিন্তু সে মাংসের নাম শুনিলে হিন্দুর প্রাণ ব্যথিত হয়; সে জন্য তাহার নাম এস্থানে লিখিত হইল না। দ্রব্যটী কি, আর বোধ হয়, তাহা স্পষ্ট করিয়া বলিতে হইবে না । আফিস হইতে প্রতিদিন জাহাজে যে সে মাংস যোগাইতে হয়, মুস্তাফি তাহা জানিতেন। যখন যেরূপ জাহাজ থাকে, মাংসের প্রয়োজন তখন সেইরূপ হয় ।

  • if:lls itb{ qx & Glm www.amarboicom a 8Sw মুস্তফি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “আমি যখন এই আফিসে ছিলাম, তখন আবদুল এই দ্রব্য যোগাইত। সে আবদুল কোথায় গেল?”

লইয়াছেন। তিনি নিজে হাতে এ কাজ করেন না। একজন কসাই চাকর রাখিয়াছেন, সে এই কাজ করে। মাশ্চন্টক মহাশয় কেবল জীয়ন্ত জীব কিনিয়া দেন। যে দিন যেরূপ প্রয়োজন হয়— কোন দিন তিনটী, কোন দিন চারিটী জীব তাঁহাকে যোগাইতে হয়।” আরও আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া মুস্তাফি বলিলেন,- “ব্ৰাহ্মণের সন্তান হইয়া তিনি এই কাজ করেন?” আফিসের লোক বলিল,— “এ কাজে বেশ লাভ আছে। বিষয়কৰ্ম্ম করিতে দোষ কি?” মুস্তাফি অবাক হইলেন। তাঁহার বাল্যকালের বন্ধু, তাহার বৈবাহিক যে কিরূপ লোক, তাহা তিনি এখন বুঝিতে পারিলেন। এই দুৰ্ব্বত্ত কসাই যে পুনরায় তাহাকে টাকা ফিরাইয়া দিবে, সে আশা তাঁহার মন হইতে তিরোহিত হইল। তিনি আরও শুনিলেন যে, গত কল্য তাঁহার বৈবাহিক অনেকগুলি দুগ্ধহীন জীব স্বল্প মূল্যে পাইয়াছিলেন। সেজন্য তাঁহার টাকার প্রয়োজন হইয়াছিল। কাল যদি টাকা না দিতেন, তাহা হইলে এই জীবগুলি তাঁহার হাত-ছাড়া হইয়া যাইত। মুস্তাফি নিশ্বাস ফেলিয়া ভাবিলেন,- “আফিসের টাকা লইয়া কেবল বিশ্বাসঘাতকতা-পাপে আমি কলুষিত হই নাই। সেই টাকা দিয়া বধ করিবার নিমিত্ত নরোত্তম অনেকগুলি যাহা ক্রয় করিয়াছে, তাহার জন্য গোহিত্যা-পাপেও আমি কলুষিত হইলাম । আমার স্থান হইবে না।” বৈবাহিকের অনুসন্ধানে তিনি কসাইখানা গমনুষ্টঙ্করিলেন না । গঙ্গা পার হইয়া তিনি বৈবাহিকের বাটীতে গমন করিলেন। কিন্তু তাঁহারািটতে তিনি প্রবেশ করিলেন না। নিকটে একখানি মুদির দোকান ছিল। দোকানের তু তিনি পড়িয়া রহিলেন, আর মাশ্চটক মহাশয় বাড়ী আসিয়াছেন কি না, সংবাদ লইতে লাগিলেন। সন্ধ্যা হইয়া গেল, তবুও তিনি বাটী আসিলেন না। রাক্রি সময় তিনি বাটী প্ৰত্যাগমন করিলেন। মুস্তফি তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ । তাঁহাকে দেখিবা মাত্র মাশ্চন্টক বলিলেন, — “তুমি এখানে! সন্ধ্যার সময় তোমার বাটী। গিয়াছিলাম, তাই জন্য তোমার দেখা পাই নাই। বেনের নিকট টাকা রাখিয়া আসিয়াছি। যাও, আর কোন ভাবনা নাই, এখন বাটী যাও।” এই সুসমাচার শ্রবণ করিয়া মুস্তাফির মন আহাদে পরিপূর্ণ হইল। গদগদ স্বরে তিনি বলিলেন,- “ভাই, অধিক আর কি বলিব, তুমি আমার প্রাণ দান করিলে।” এই কথা বলিয়া রুদ্ধশ্বাসে তিনি বাড়ী ফিরিয়া আসিয়া, গৃহিণীকে জিজ্ঞাসা করিলেন,— “বেই যে টাকা রাখিয়া গিয়াছেন, সে টাকা কোথায়?” গৃহিণী উত্তর করিলেন,- “টাকা! বেই! কৈ, বেই তো এখানে আসেন নাই! আমার কাছে কেহ তো টাকা রাখিয়া যায় নাই। বরং তোমার আফিস হইতে চাবির জন্য একজন বাবু আসিয়াছিল। সে বলিল যে, লোহার সিন্দুকের চাবি তুমি পাঠাও নাই। সাহেব টাকা রাখিতে কিম্বা টাকা বাহির করিতে পারিতেছেন না। কাজ কৰ্ম্মের গোলমাল হইতেছে। সাহেব তোমার উপর বড় রাগ করিয়াছেন।” মুস্তাফির প্রাণ উড়িয়া গেল। বৈবাহিক যে একান্তই তাহার। সৰ্ব্বনাশ করবেন, এখন তাহা তিনি নিশ্চয় বুঝিলেন। মুস্তফি মহাশয় সে রাত্রে আর কিছুমাত্র আহারাদি করিলেন না । নিঃশব্দে বিছানায় পড়িয়া রহিলেন। ভয়ে ও ভাবনায় তাহার বুক ফটিয়া যাইতে লাগিল। সমস্ত 88 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicomf76". রাত্রি একবারও চক্ষু বুজিলেন না। রাত্রি তিনটার সময় উঠিয়া পুনরায় তিনি বৈবাহিকের গৃহে গমন করিলেন। প্ৰাতঃকালে বেই তাঁহার দ্বার উদৃঘাটিত হইল, আর তিনি বাটীর ভিতর প্রবেশ করিয়া বন্ধুর পায়ে গিয়া পড়িলেন। কিছুক্ষণ তিনি একটীও কথা বলিতে পারিলেন না, কেবল কাঁদিতে লাগিলেন, দুই চক্ষুর জলে তাঁহার বক্ষঃস্থল ভাসিয়া যাইতে লাগিল। অবশেষে অতি মৃদুস্বরে তিনি বলিলেন,— “ভাই, আমায় রক্ষা কর! আমাকে মারিও না। ব্ৰহ্মহত্যা করিও না। তোমার বাটীতে আজ আমি প্ৰাণত্যাগ করিব।” এই কয়টী কথা বলিয়া, আর তিনি কিছু বলিতে পারিলেন না; নীরবে চক্ষুর জল ফেলিতে ब्लश्रेिोहुब्लका ! সপ্তম অধ্যায় মুস্তফি সঙ্কল্প কিছুক্ষণ নীরবে চক্ষুর জল ফেলিয়া মুস্তফি মহাশয় ধীরে ধীরে পুনরায় বলিতে লাগিলেন, — “ভাই নরোত্তম! আমি ছা-পোষা লোক। নিজের ব্যতীত, অনেকগুলি অনাথ শিশু, অনাথা বিধবা আমার যৎসামান্য বেতন হইতে হয়। আমি জেলে গেলে অন্ন বিনা তাহারা সকলেই মরিয়া যাইবে। ভাই! তুমি আমার প্রতি দয়া কর।” রাষ্ট্ৰে— “আমার পা ছাড়িয়া দাও। আমার চেয়ে টাকার যোগাড় করিতে পারি নাই, তা আমি কি ত্ৰৈকেটী পয়সা দাও নাই! হাজার টাকা কম আজ কাল আর একটী মেয়ে পার হয় না। আমাকে না হয় এ পাচশত টাকা দিলে! আজি যদি তোমার কন্যা মরিয়া যায়, তাহা হইলে পুত্রের বিবাহ দিয়া অনায়াসে আমি দুই তিন হাজার টাকা পাই।” অতি বিনীতভাবে মুস্তফি মহাশয় বলিলেন,- “ভাই! এ পাঁচশত টাকা। যদি আমার নিজের হইত, তাহা হইলে আমি একটী কথাও বলিতাম না, একবারও তোমার নিকট চাহিতাম না। কিন্তু আফিসে এই পাঁচশত টাকা শীঘ্ৰ পূৰ্ণ না করিলে, আমাকে জেলে যাইতে হইবে। আমি তাহা হইলে মরিয়া যাইব । ব্ৰহ্মহত্যা করিও না। তাই!” আরও ক্রোধাবিষ্ট হইয়া মাশ্চন্টক বলিলেন,- “টাকা গাছের ফল নয় যে, তোমাকে পাড়িয়া দিব। আমার নিকট না থাকিলে, আমি কোথা হইতে দিব?” মুস্তফি মহাশয় বলিলেন, — “ভাই, তুমি সঙ্গতিপন্ন লোক। তোমার হাত ঝাড়িলে পৰ্ব্বত হয়। তোমার স্ত্রীর অনেক গহনা আছে, তোমার বোট আছে, তোমার বাড়ী আছে। মনে করিলে এই মুহুর্তে তুমি পাঁচশত টাকা যোগাড় করিতে পাের।” অতিশয় ক্রোধাবিষ্ট হইয়া মাশ্চন্টক বলিলেন, — “বাড়ী বঁধা দিয়া টাকা দিতে বল নাকি! কোন লজ্জায় ও কথা মুখে আনিলে? তোমাকে আমি ভাল মানুষ বলিয়া জানিতাম। এখন বুঝিলাম, তুমি অতি জঘন্য লোক। যাও, আমার যখন সুবিধা হইবে, তখন আমি দিব। আর

  • "Foo" oooooo sig ooinž35 g35 KG a, www.amarboi.com My 86 না হয়, তুমি নালিশ করিয়া লও।”

এই কথা বলিয়া মাশ্চটক সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিলেন। বাটী হইতে বাহির হইয়া তিনি কোথায় চলিয়া গেলেন। কাঁদিতে কঁদিতে মুস্তফি মহাশয় কলিকাতায় ফিরিয়া আসিলেন। “কি করি, কোথায় যাই, কি করিয়া টাকার যোগাড় করি, কিরূপে এ ঘোর বিপদ হইতে উদ্ধার পাই”— পথে আসিতে আসিতে ক্ৰমাগত তিনি এইরূপ ভাবিতে লাগিলেন, আর ক্রমাগত একান্ত মনে তিনি ভগবানকে ডাকিতে লাগিলেন। কলিকাতায় আসিয়া প্ৰথমে তিনি তাঁহার পিতার মনিব ধরণীধর মণ্ডলের বাড়ী গমন করিলেন। ধরণীধর মণ্ডল তখন জীবিত ছিলেন না। তাহার পুত্ৰগণ পরস্পরে মোকদ্দমা করিয়া সৰ্ব্বস্বােন্ত হইয়াছে, এ কথা তিনি পূৰ্ব্বে শুনিয়াছিলেন। এ স্থানে যে টাকা পাইবেন, সে আশা তাহার কিছুমাত্র ছিল না। তথাপি জলমগ্নপ্রায় লোক যেরূপ তৃণগাছটীও ধরিয়া আপনার প্রাণরক্ষা করিতে চেষ্টা করে, আশা না থাকিলেও ইনি সেইরূপ তাহদের বাড়ীতে গমন করিলেন। কিন্তু সেস্থানে তাহার মনস্কামনা সিদ্ধ হইল না। মণ্ডল-পুত্ৰগণ হাসিয়া তাঁহাকে বলিল যে,- “আমরা যদি পাঁচশত টাকা পাই, তাহা হইলে লই; তোমাকে কোথা হইতে দিব?” তাহার পর যতগুলি বন্ধুর নাম তিনি মনে করিতে পারিলেন, যে যে লোকের তিনি কখন কোন উপকার করিয়াছিলেন, একে একে সকলের বাটীতে তিনি গমন করিলেন। কিন্তু কোন স্থানে তিনি টাকা পাইলেন না। কেবল এক জন লোক বলিলেন, — “মুস্তফি মহাশয়! অসময়ে আপনি আমার উপকার করিয়াছিলেন । আমার নিকট থাকিলে নিশ্চয় আমি আপনাকে দিতাম। আমার নিকট টাকা নাই। কিন্তু আমার চারি খানি গহনা আছে। বাধা দিলে দুই শত কি আড়াই শত টাকা হইতে পারে। যদি আপনার কাৰ্য সমাধা হয়, তাহা হইলে বলুন, গহনা বাধা দিয়া আপনাকে नि३।” মুস্তফি উত্তর করিলেন, — “না, বা টাকার কোন ফল হইবে না, সে টাকায় আমি বিপদ হইতে উদ্ধার পাইতে পারিব নষ্টা আমার বাড়ীতে এমন কোন বস্তু নাই, যাহা বেচিয়া অবশিষ্ট টাকার যোগাড় করিতে পারি; সুতরাং তোমার টাকায় আমার প্রয়োজন নাই। যাহা হউক, ভগবান তোমাকে সুখে রাখুন,- অধিক আর কি বলিব ।” এইরূপ সমস্ত দিন তিনি ঘুরিয়া বেড়াইলেন। কোন স্থানে টাকার যোগাড় করিতে পারিলেন না । সমস্ত দিন তিনি জলস্পর্শ করিলেন না। প্ৰাণের ভিতর তাঁহার ধু ধু করিয়া আগুন জুলিতেছে! ক্ষুৎ-পিপাসা আজ তাঁহার ছিল না। সন্ধ্যা হইয়া গেল। মুস্তফি মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন, — “আফিসের চাবি লইতে আজ নিশ্চয় লোক আসিয়া থাকিবে। সে লোক নিশ্চয় গিয়া সাহেবকে বলিবে যে, আমি বাড়ীতে নাই। সাহেবের মনে সন্দেহ হইবে। কাল তিনি লোহার সিন্দুক মিস্ত্রী দিয়া খুলাইবেন। তখন আমার দোষ ধরা পড়িবে। তাহার পর আমার নামে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা বাহির হইবে, আমাকে জেলে যাইতে হইবে। সে অপমান আমি সহ্য করিতে পারিব না। আত্মহত্যা বিনা আমার আর উপায় নাই! কিন্তু বাড়ী গিয়া মরিতে পারিব না, স্ত্রী পুত্র বড় বিপদে পড়িবে। তাহার পর, কি উপায়ে আত্মহত্যা করি! আফিম খাইয়া মরিতে অনেক বিলম্ব হইবে। পথে অজ্ঞান হইয়া পড়িলে পুলীশের লোক হয় তো হাসপাতালে পাঠাইবে। সে বড় বিড়ম্বন হইবে। চিকিৎসা করিয়া ডাক্তারগণ হয় তো আমাকে বঁাচাইবে। আমি সীতার জানি। গঙ্গায় ঝাঁপ দিলে আমার মৃত্যু হইবে না। এক কাজ করি, কলিকাতার বাহিরে যাই; মাঠের মাঝখানে, নিৰ্জ্জুন স্থানে, কোনও গাছে গিয়া গলায় দড়ি দিয়া মরি।” 8 află cios (gs se - www.amarboi conf** एच्छष प्धीJाग्न রেলপথে যমদূত “নিশ্চয় প্ৰাণত্যাগ করিব।”— মনে মনে তিনি এইরূপ সঙ্কল্প করিলেন । দোকান হইতে একগাছি বৃহৎ দড়ি ক্রয় করিলেন। কি করা। কৰ্ত্তব্য, সে বিষয় যখন তিনি স্থির করিলেন, তখন তাঁহার মন অনেকটা সুস্থ হইল। তামাক খাইতে এইবার তাঁহার ইচ্ছা হইল। গুটিকত সিগারেট ও একটি দিয়া সলাই তিনি ক্রয় করিলেন। সিগারেটের ধূম পান করিতে করিতে তিনি দ্রুতবেগে পথ চলিতে লাগিলেন। অন্ধকার হইল। প্ৰায় একপ্রহর রাত্রি হইল। তিনি নগরের বাহিরে মাঠে গিয়া উপস্থিত হইলেন। খুবই নিৰ্জ্জন। সুবিধামত একটী গাছ খুজিতে খুঁজিতে সম্মুখে রেল পড়িল। তারের বেড়া পার হইয়া, রেল-পথের উপর গিয়া তিনি উপস্থিত হইলেন। রেল-পথের উপর দাড়াইয়া তিনি মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন,- “গলায় দড়ি দিয়া মারি কেন? এই রেলের উপর দিয়া সৰ্ব্বদাই কলের গাড়ি যাতায়াত করিতেছে। রেলের উপর গলা রাখিয়া শুইয়া থাকি না কেন? শত শত গাড়ীর চাকা আমার গলার উপর দিয়া চলিয়া যাইবে। নিমেষের মধ্যে আমি দুই খণ্ড হইয়া যাইব । কখন মরিলাম, তাহা আমি টেরও পাইব না।” এইরূপ ভাবিয়া চাদর দ্বারা মুখ ঢাকিয়া রেলের উপর গলাটী রাখিয়া নিঃশব্দে গাড়ীর প্ৰতীক্ষায় তিনি শুইয়া রহিলেন। আত্ম-হত্যা-জনিত পাপ ক্ষমা করিবার নিমিত্ত একান্ত মনে তিনি ভগবানকে ডাকিতে লাগিলেন। অল্পক্ষিণ পরে স্থানে কোথা হইতে একটা লোক আসিয়া উপস্থিত হইল। মুখ হইতে ঈষৎ চাদর য়া তিনি সেই দিকে চাহিয়া দেখিলেন; পুতেঁয়হীর বোধ হইল যে, লোকটার মূৰ্ত্তি অতি এক দিকের দুইটি ও অপর দিকের দুইটী রেল সে তুলিয়া দূরে নিক্ষেপ করিল। তাহার পর বৃহৎ এক কাষ্ঠখণ্ড উত্তোলন করিয়া আড়াআড়ি রেলপথের উপর রাখিয়া দিল। রেলের দুই পার্শ্বে নিম্নভূমি ছিল, ঠিক খালের ন্যায়। তাহার উপর একটী পুল ছিল। পুলের অপর পার্শ্বের রেলও সে এইরূপে তুলিয়া ফেলিল ও কাঠ দিয়া পথ বন্ধ করিয়া দিল । মুস্তফি মহাশয় এতক্ষণ চুপ করিয়াছিলেন। কিন্তু লোকটার দুরভিসন্ধি বুঝিতে পারিয়া, আর তিনি চুপ করিয়া থাকিতে পারিলেন না। শশব্যস্ত তিনি উঠিয়া বসিলেন। তাহার পর তিনি তাহাকে বলিলেন, — “ওরে করিস কি? এখনি হয় তো মানুষের গাড়ি আসিবে। যে স্থান হইতে রেল তুলিয়াছিস ও যে স্থানে কাঠ দিয়াছিস, সেই স্থানে গাড়ি আসিয়া উলটিয়া পড়িবে। সমুদয় গাড়ি একেবারে খালে গিয়া পড়িবে। তাহা হইলে শত শত লোকের প্রাণ বিনষ্ট হইবে। রেল যেমন ছিল, শীঘ সেইরূপ করিয়া রােখ। লোকটা খোট্টা ছিল। হিন্দি কথায় সে উত্তর করিল,- “তুই বেটা আবার কে? রেল কোম্পানি বিনা দোষে আমাকে ডিসূমিস করিয়াছে। তাই রেল কোম্পানিকে আমি জব্দ করিব। তাহাদের কল ও অনেক গাড়ি ভাঙ্গিয়া যাইবে, তাহাদের অনেক টাকা ক্ষতি হইবে। তুই এখান হইতে চলিয়া যা; তোর কথায় কাজ কি?” মুস্তফি বলিলেন, —“শীঘ্য পুনরায় রেল জুড়িয়া দে। তাহা না করিলে চীৎকার করিয়া আমি লোক জড় করিব। আর তোরে আমি চিনিয়া রাখিলাম ! তোরে আমি ধরাইয়া দিব।” Welf (Seff 8 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro লোকটি বলিল,- “বটে!” এই কথা বলিয়া, সে সেই লীেহ সাবলের দ্বারা সবলে মুস্তাফির মস্তকে আঘাত করিল। প্রাণভয়ে মুস্তফি বাম হাত উত্তোলন করিলেন। সাবলের আঘাত কতক তাঁহার হাতে পড়িল, কতক মাথায় পড়িল। সবলে সমুদয় আঘাতটী যদি তাহার মস্তকে পড়িত, তাহা হইলে তৎক্ষণাৎ তাঁহার মন্তক চূর্ণ হইয়া যাইত, তৎক্ষণাৎ তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হইতেন। কিন্তু মাথায় যে আঘাতটুকু লাগিয়াছিল, তাহাই তাঁহার পক্ষে যথেষ্ট হইয়াছিল। সমস্ত দিন অনাহারে ও ঘোর দুর্ভাবনায় শরীর দুৰ্ব্বল হইয়াছিল। সাবলের আঘাতে মুস্তফি মহাশয় তৎক্ষণাৎ মূৰ্হিত হইয়া ভূমিতে পতিত হইলেন। কতক্ষণ অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন, তাহা তিনি বলিতে পারেন না। চেতন হইয়া তিনি চিন্তা করিতে লাগিলেন। ক্রমে ক্রমে সকল কথা তাহার স্মরণ হইল । তিনি চীৎকার করিতে চেষ্টা করিলেন। চীৎকার করিতে পারিলেন না। মুখ তাঁহার বন্ধ। মাথা তাঁহার ব্যথা করিতেছিল। মাথায় হাত দিতে চেষ্টা করিলেন। হাত নাড়িতে পারিলেন না । দুই হাত তাঁহার বাধা ছিল। পা নাড়িতে চেষ্টা করিলেন, পা নাড়িতে পারিলেন না। দুই পা তাঁহার বাধা দিল। মস্তক, হাত ও পা অল্প এদিক ওদিক নাড়িয়া তিনি বুঝিতে পারিলেন যে, তাহার গলদেশ ঠিক রেলের উপর রহিয়াছে। তাঁহার হাত দুইটী ও পা দুইটী রেলের সহিত বাধা রহিয়াছে। মনে মনে তিনি ভাবিতে লাগিলেন, — “আমি নিজে তো মরিতে প্ৰস্তুত হইয়াছিলাম। লোকটা আমাকে যে রেলের সহিত বঁধিয়াছে, সে জন্য কোনও দুঃখ নাই। কিন্তু আমার নিকট হইতে অতি অল্পদুরে সে চারিখানি রেল ফেলিয়াছে, রেলের উপর কাঠ রাখিয়াছে। আমি অজ্ঞান হইলে আরও কত রে ফুর্লিয়াছে, আরও কত কি করিয়াছে, তাহা বলিতে পারি না। এখনি যদি গাড়ি আসিয়া গুড়, তাহা হইলে কত লোক মারা পড়িবে! এই নবম অধ্যায় কি হয়, কি হয়! এইরূপ ভাবিয়া প্রথম তিনি চীৎকার করিতে চেষ্টা করিলেন । কিন্তু লোকটা তাঁহার মুখের ভিতর চাদরের কিয়দংশ প্রবিষ্ট করিয়া দিয়াছিল, তাহার পর চাদরের বাকি অংশ জড়াইয়া উত্তমরূপে তাহার মুখ বাধিয়া দিয়াছিল। সেজন্য তিনি চীৎকার করিতে পারিলেন না। তাহার পর তিনি হাতের বন্ধন মোচন করিতে চেষ্টা করিলেন। যত বল করিতে লাগিলেন, রজু হাতে ও পায়ে ততই বসিয়া যাইতে লাগিল। তাহাতে তাঁহার ঘোরতর কষ্ট হইতে লাগিল। তিনি বুঝিলেন যে, গলায় দিয়া মরিবার নিমিত্ত সে দিন তিনি যে দড়ি কিনিয়াছিলেন, সেই নূতন দড়ি দিয়া তাঁহার হাত পা বাধা ছিল। তিনি অনেক চেষ্টা করিলেন, কিন্তু হাত পায়ের বন্ধন মোচন করিতে কিছুতেই কৃতকাৰ্য হইলেন না। অল্পক্ষিণ পরে দূরে গুম্‌ গুম্‌ শব্দ হইতে আরম্ভ হইল। মুস্তফি ভাবিলেন,- “সৰ্ব্বনাশ হইল! 87 afraig -iibg gis so! - www.amarboi.comf737********** ঐ গাড়ি আসিতেছে।” পুনরায় প্রাণপণে তিনি হাত পা নাড়িতে চাড়িতে লাগিলেন। একবার উপর দিকে, একবার নিম্নদিকে, একবার এ পাশে, একবার ওপাশে, তিনি হাত পা ঘুরাইতে ফিরাইতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। দড়ি আরও বসিয়া তাঁহার হাত পা যেন কাটিয়া যাইতে লাগিল, যাতনায় যেন তাহার প্রাণ বাহির হইবার উপক্রম হইল। গুড় গুড় দুড় দুড় হুড় হুড় শব্দ ক্রমেই স্পষ্ট হইতে স্পষ্টতর হইতে লাগিল। গাড়ী নিকটবৰ্ত্তী হইতে লাগিল । সাবলের আঘাতে বাম হাতে বল ছিল না। দক্ষিণ হাত মোচন করিবার নিমিত্ত তিনি প্ৰাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। অনেক চেষ্টা করিয়া দক্ষিণ হাতটী তিনি দড়ির ভিতর হইতে গলাইয়া বাহির করিতে সমর্থ হইলেন। কিন্তু আর বিলম্ব নাই। অল্প দূরে ইঞ্জিনের উজ্জ্বল আলো তিনি দেখিতে পাইলেন। যাহার উপর তাঁহার গলদেশ আবদ্ধ ছিল, সেই রেল অল্প কাপিতে লাগিল। অন্য হাত ও পদদ্বয় খুলিবার সময় নাই । এক হাতেই তাড়াতাড়ি তিনি মুখ হইতে চাদর খুলিয়া ফেলিলেন। কিন্তু এখন আর চীৎকার করা বৃথা। রেলপরিচালক সাহেব তাহা শুনিতে পাইবেন না। অন্য লোক জন আসিতে আসিতে গাড়ী সেই ভগ্ন স্থানে আসিয়া পড়িবে। তখন নিমেষের মধ্যে ঘোরতর বিভীষিকা৷ ঘটিয়া যাইবে। মুস্তফি মহাশয়ের প্রাণ ছটফট করিতে লাগিল। তাহার দক্ষিণ হস্ত রেলের খোয়ার উপর পড়িল । তাঁহার হাতে কি ঠেকিল। দণ্ড-স্বরূ ত সেই সাবল! তাহার স্মরণ হইল। যাহা দিয়া লোকটা রেল তুলিয়াছিল, সাবলী! যাহা দ্বারা সে তাহার মস্তকে নিদারুণ আঘাত করিয়াছিল, এ সেই ፭¬ বাধিবার সময় লোকটা হাত হইতে সাবল ভূমিতে রাখিয়াছিল। করিবার সময় সাবলটা নিতে সে ভুলিয়া গিয়াছিল। গাড়ী আরও নিকটবৰ্ত্ত হইল। ইঞ্জিনের আলোক আরও উজ্জ্বল হইল। রেল আরও কাপিতে লাগিল । আর বিলম্ব নাই, এখনি বিপদ ঘটিবে; শত শত লোকের প্রাণ যাইবে, শত শত লোকের হাত পা ভাঙ্গিয়া যাইবে । সহসা মুস্তাফির মনে এক চিন্তার উদয় হইল। কে যেন তাঁহার কাণে কাণে সেই কথা বলিয়া দিল। এক হাতেই চাদরের এক দিক লইয়া তিনি সেই লীেহ সাবলে আটকাইয়া দিলেন। তাহার পর এক হাতেই আস্তে আস্তে পকেট হইতে তিনি দিয়া সলাইটী বাহির করিলেন । দিয়া সলাইটী বাহির করিবার সময় সেই আসন্ন বিপদকালেও ঈষৎ একটু হাসিলেন। “আমি জনমে কখনও সিগারেটের ধূম পান করি নাই। আত্মহত্যা করিবার নিমিত্ত মনে মনে যখন স্থির করিলাম, তখন আজ আমার তামাক খাইতে ইচ্ছা হইল। তাই সিগারেট কিনিলাম, তাই দিয়া সলাই কিনিলাম, তাই আজ আমার পকেটে এই দিয়া সলাই ।” দাড়ির নিম্নে দিয়া সলাইয়ের বাক্সটী চাপিয়া অতি কষ্টে এক হাতেই তিনি একটীি দিয়া সলাইয়ের কাঠি জুলিলেন, প্রথমবার সেটী নিবিয়া গেল। দ্বিতীয় তৃতীয় কাঠি জ্বলিলেন, নিবিয়া গেল। “দেরি, তুমি যাও কোথা? না, তাড়াতাড়ি যেখা!” এই প্রাচীন প্রশ্নোত্তরটা স্মরণ করিয়া তিনি আর একটী কাঠি অতি সাবধানে ও অতি ধীরে ধীরে জ্বলিলেন। সেটী জুলিয়া উঠিল। সমুদয় ঘটনা বর্ণন করিতে অনেক সময় লাগিতেছে, কিন্তু সে ঘটনাগুলি ঘটিতে

      • t" 6*°7°f*! fGNRJig oii%<q5 q<5 38! ~v www.amarboi.com ~ 8ss বাস্তবিক তত সময় লাগে নাই। অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই সমুদয় ঘটনা ঘটিয়াছিল।

জ্বলন্ত দিয়া সলাই দ্বারা মুস্তাফি চাদরের অন্য ধার ধরাইলেন, চাদর জুলিয়া উঠিল। লীেহ সাবলীটী হাতে ধরিয়া মুস্তফি মহাশয় সেই জ্বলন্ত চাদর এক পার্শ্বে উচ্চ করিয়া নাড়িতে লাগিলেন । =ीय पक्षJाश সৌভাগ্যের উদয় গাড়ী অতি নিকটে আসিয়া পড়িল। গাড়ীর পরিচালক কি দেখিতে পাইবেন? তিনি এ সঙ্কেত কি বুঝিতে পরিবেন? তিনি কি গাড়ী থামাইবেন? গাড়ী যতই নিকটবৰ্ত্তী হইতে লাগিল, মুস্তাফি মহাশয়ের বুক ততই টিপু টিপু করিতে লাগিল। মুস্তফি মহাশয় ভাবিলেন,- “যা! আমার সকল চেষ্টা বিফল হইল।” কারণ, গাড়ী থামিবার কোন লক্ষণ তিনি দেখিতে পাইলেন না। আর বিলম্ব নাই। লোকটা যে স্থান হইতে রেল তুলিয়াছিল, গাড়ী তাহার অতি নিকট আসিয়া পড়িল। কখন শত বজাঘাতের ন্যায় শব্দ হৰ্থ১ কখন লোকের কাতরধ্বনি তাহার কর্ণকুহরে প্রবেশ করে, তাহা শুনিবার নিমিত্ত তিনি কোঃ পাতিয়া রহিলেন। তথাপি প্ৰাণপণে মুস্তফি মহাশয় সেই জলুল্লুক চাদর নাড়িতে লাগিলেন। গাড়ী। তবুও থামে না! হায়! সব চেষ্টা বুঝি বৃথা হইল! “হেঙ্গশ্বর! চীৎকার করিয়া উঠিলেন। কারণ, ঠিক ষ্ট্রে বিপদের স্থানে আসিয়া গাড়ি থামিয়া গেল। “হে ঈশ্বর ! তোমাকে ধন্যবাদ!"\ঞই কথা বলিয়াই মুস্তফি মহাশয় পুনরায় অজ্ঞান হইয়া পড়িলেন। পুনরায় যখন তিনি চক্ষু চাহিলেন, তখন তিনি দেখিলেন যে, দিন হইয়াছে। ফ্যাল ফ্যাল নয়নে এদিকে ওদিকে তিনি নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। একটী বড় ঘরের ভিতর, একখানি খাটের উপর, দুগ্ধফেন-নিভা শয্যায় আপনাকে শায়িত দেখিয়া, তিনি ঘোরতর আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন। এ কি স্বপ্ন!! তাহার পর ক্রমে ক্ৰমে গত রাত্রির কথা তাঁহার স্মরণ হইল। গত রাত্রির সে সমস্ত ঘটনা কি স্বপ্ন! তিনি দেখিলেন যে, তাহার মস্তকের অৰ্দ্ধভাগ কাপড়ের ফালি দ্বারা বাধা রহিয়াছে, আর সেই বন্ধনে একটী চক্ষুও আচ্ছাদিত হইয়া আছে। তাহা দেখিয়া বুজিতে পারিলেন যে, গত রাত্রির ঘটনা স্বপ্ন নহে। ক্ৰমে ক্ৰমে গত দিবসের কথাও তাঁহার স্মরণ হইল। আফিসের টাকা সম্বন্ধে কি ভয়ানক বিপদে তিনি পড়িয়াছেন, তাহাও তাঁহার মনে হইল। আমি প্ৰাণ বিসৰ্জন করিতে পারি নাই, এইবার নিশ্চয় আমাকে জেলে যাইতে হইল, এইরূপ ভাবিয়া তিনি হতাশ হইয়া পড়িলেন। তিনি উঠিয়া বসিতে চেষ্টা করিলেন, কিন্তু যেই তিনি মাথা তুলিলেন, আর তাঁহার মাথা ঘুরিয়া উঠিল। সেজন্য পুনরায় তিনি শয়ন করিলেন। ঘরের এদিকে ওদিকে পুনরায় চাহিয়া দেখিলেন যে, সে সাহেবদের ঘর, বাঙ্গালীর ঘর নহে। এই সময়ে ঘরের ভিতর এক জন উৎকল বোহারা প্ৰবেশ করিল। তাহাকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, — “আমি এ কোথায় আসিয়াছি?” (*00 frr:Ruig aniž3. g3 ze! A www.amarboi.com%3"*"*"***"****** বেহারা উত্তর করিল,- “এ রেলের বড় সাহেবের ঘর। একটু অপেক্ষা করুন, সাহেবকে আমি ডাকিয়া আনি। আপনার জ্ঞান হইলেই খবর দিবার নিমিত্ত সাহেব আমাকে আদেশ করিয়াছেন।” এই কথা বলিয়া বেহারী চলিয়া গেল। কিছুক্ষণ পরে সাহেব আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সাহেব জিজ্ঞাসা করিলেন, — “বাবু! তুমি এখন কেমন আছ?” মুস্তফি মহাশয় উত্তর করিলেন,- “আমি এখন ভাল আছি; এখানে আমি কি করিয়া আসিলাম?” সে কথার তখন কোন উত্তর না দিয়া, সাহেব তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “গুটিকতক কথা তোমাকে জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা করি, তাহার উত্তর দিতে তোমার কি কষ্ট হইবে?” মুস্তফি মহাশয় উত্তর করিলেন, — “না, আমার কষ্ট হইবে না। আপনার যাহা ইচ্ছা, তাহা আমাকে জিজ্ঞাসা করুন।” গত রাত্রির ঘটনার কথা সাহেব তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন । “আমি রেল পার হইতেছিলাম। এমন সময় দেখিলাম যে, একটা লোক রেল তুলিয়া ফেলিতেছে।” এইরূপে আরম্ভ করিয়া আদ্যোপােন্ত সমস্ত বৃত্তান্ত তিনি সাহেবকে প্ৰদান করিলেন। সাহেব বলিলেন,- “কেবল রেল সে তুলিয়া ফেলে নাই। রেলপথের উপর আড়াআড়ি বৃহৎ একখানি কাঠ সে রাখিয়াছিল। কাল রাত্ৰিতে ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটিত। সে গাড়ীতে অনেকগুলি বড় বড় সাহেব ও মেম ছিলেন। তাহা শত শত দেশী লোকও ছিল। কত লোকের যে প্ৰাণ বিনষ্ঠ হইত, তাহা বলিতে পারা s VO2 বড় দুষ্ট লোক, সেজন্য তাহাকে আমরা বরখাস্ত লাইবার নিমিত্ত, গত রাত্রিতে সে এই কাজ করিয়াছিল। যাহা হউক, সে ধরা পড়িয়াছে। যে সাবল সে ফেলিয়া গিয়াছিল, যাহার সহায়তায় জ্বলন্ত চাদর উচ্চ করিয়া তুমি নাড়িতে সমর্থ হইয়াছিলে, সেই সাবল হইতেই সে ধরা পড়িয়াছে। শত শত লোকের প্রাণ বিনষ্ট করিতে সে চেষ্টা করিয়াছিল, সেজন্য নিশ্চয় তাহার দ্বীপান্তর হইবে। কিন্তু বাবু, তুমি কে? মাঠের মাঝখানে এরূপ অপথ দিয়া তুমি কোথায় যাইতেছিলে?” মুস্তফি কাদিয়া ফেলিলেন। কাঁদিতে কাঁদিতে তিনি নিজের সমস্ত পরিচয় প্ৰদান করিলেন। সেই সমস্ত কথা শুনিয়া সাহেব কিছুক্ষণ গভীরভাবে চুপ করিয়া রহিলেন। তাহার পর তিনি বলিলেন,- “বাবু! তুমি বড় মন্দ কাজ করিয়াছ। আফিসের টাকা গ্ৰহণ করা যে কিরূপ গুরুতর অপরাধ, তাহা জানিয়া শুনিয়া কেমন করিয়া তুমি এ কাজ করিলে? টাকার জন্য আমি এ কথা বলিতেছি না। তুমি আমাদের যে উপকার করিয়াছ, তাহার জন্য আমরা তোমার নিকট বিলক্ষণ ঋণী হইয়াছি। টাকায় সে ঋণ পরিশোধ হয় না। টাকা তোমাকে দিব । তাহা ব্যতীত তোমার অনেকগুলি টাকা আমার কাছে আছে। আমি তোমার অপরাধের কথা বলিতেছি। সাহেবেরা গত কল্য যদি সিন্দুক খুলিয়া থাকেন, তাহা হইলে কি করিয়া তোমাকে রক্ষা করিব, এখন সেই কথা ভাবিতেছি।” মুস্তাফি উত্তর করিলেন, — “হাঁ সাহেব, আমি ঘোরতর অপরাধ করিয়াছি। সেই অপরাধের YRyali (çifçiliğif (*OS sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro প্ৰায়শ্চিত্তস্বরূপ আমি নিজের প্রাণ বিসৰ্জন করিতে উদ্যত হইয়াছিলাম; কিন্তু এখন আমার বিশ্বাস এই যে, যিনি নানারূপ অঘটন ঘটাইয়া আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছেন, যিনি আপনার ন্যায় মহানুভবের সহিত আমার মিলন করিয়াছেন, তিনিই আমাকে এ বিপদ হইতে রক্ষা করিবেন।” একাদশ অধ্যায়। মাশচটকের শুদ্ধাচার সাহেব বলিলেন, — “কাল রাত্রির গাড়ীতে যে সাহেব ও মোমগণ ছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে তিন জন তোমাকে তিন হাজার টাকার চেক দিয়া গিয়াছেন। আর কয়েক জন মিলিয়া দুই হাজার টাকা দিয়াছেন। তোমার জন্য এই পাঁচ হাজার টাকা আমার নিকট জমা আছে। তাহা ব্যতীত রেল কোম্পানির তরফ হইতে আমিও তোমাকে এক হাজার টাকা দিব। সুতরাং এক্ষণে টাকার আর অভাব নাই। আমার কেবল এই ভয় যে, পাছে তোমার সাহেবেরা সিন্দুক খুলিয়া তোমার অপরাধ জানিতে পারিয়া থাকেন। অল্পক্ষণের নিমিত্ত তুমি একবার আপনার আফিসে যাইতে মুস্তফি উত্তর করিলেন,- “বােধ হয়, পারিব।”৫%। লিলেন,- “উত্তম কথা! আমি তুেমিষ্টক পাঁচ শত টাকা দিতেছি। পালকি করিয়া রক্ত বাহির হইয়া গিয়াছে। সেজন্য লের্মার মুখ বিবৰ্ণ হইয়া গিয়াছে। তাহা ব্যতীত তোমাকে একখানি চিঠি দিতেছি। সত্য সত্য তোমার শরীর সুস্থ নাই, এখন তাহাতে কেবল সেই কথা লিখিব। আফিসে গিয়া আফিসের টাকা পূর্ণ কর। কিন্তু সাহেবেরা যদি সিন্দুক খুলিয়া থাকেন, তোমার অপরাধ যদি তাঁহারা অবগত হইয়া থাকেন, তাহা হইলে সত্বর আমার নিকট সংবাদ দিবে। আমি নিজে গিয়া তোমাকে এ বিপদ হইতে উদ্ধার করিব। তার পর চাকরির জন্য তুমি ভাবিও না । সে আফিসে তোমাকে আর চাকরি করিতে হইবে না। অধিক বেতনে তোমাকে ভাল চাকরি দিব ।” বেহাৱাকে সাহেব পালনি আনিতে বলিলেন। সাহেব মুস্তাফিকে আপাততঃ পাঁচ শত টাকা দিলেন। তাহা লইয়া প্ৰফুল্ল মনে তিনি বাটী আসিলেন। বাড়ীতে গৃহিণী ও পুত্ৰগণ ঘোর উদ্বিগ্ন ছিলেন ও নানা স্থানে তাঁহার অনুসন্ধান করিতেছিলেন। তাঁহাকে দেখিয়া সকলেই আহাদিত হইলেন। মুস্তফি গৃহিণীকে বলিলেন,- “দুঃখ হইতে সুখ হয়; বিপদ হইতে সম্পদ হয়, কি হইতে যে কি হয়, তাহা বলিতে পারা যায় না। ঈশ্বরের লীলা কেহ বুঝিতে পারে না। এত দিন পরে বোধ হয়, আমাদের অদৃষ্ট ফিরিল। কা’ল এই সময়ে আমি অকুল পাথারে ডাসিতেছিলাম। আজ আমি ছয় হাজার টাকার মালিক। তাহার পর আরও কত কি হইবে, তাহা এখন জানি না।” বাড়ীর লোক সকলেই আনন্দিত হইলেন। তাহার পর সেই পালকি করিয়া মুস্তফি মহাশয়

  • CR află cios (gs se - www.amarboi conf** আফিসে গমন করিলেন। আফিসের সাহেবেরা তাঁহার শরীরের অবস্থা দেখিয়া অতিশয় দুঃখিত হইলেন। তাহারা বলিলেন যে,- “তোমার নিজে আসিবার কিছুমাত্র আবশ্যকতা ছিল না, চাবি পঠাইয়া দিলেই হইত।”

যাহা হউক, সাহেবেরা সিন্দুক খুলেন নাই। আস্তে আস্তে তিনি আফিসের টাকা পূর্ণ করিয়া দিলেন। তাহার পর সাত দিনের ছুটি লইয়া পুনরায় বাটী আসিলেন। . চারি দিন তিনি শয্যা হইতে আর উঠিতে পারিলেন না। রেলের বড় সাহেব ডাক্তার পাঠাইয়া দিলেন। ক্রমে তিনি সুস্থ হইলেন। ভাল হইয়া পুনরায় তিনি রেলের সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। রেলের সাহেব তাঁহাকে পাঁচ হাজার পাঁচ শত টাকা প্ৰদান করিলেন, আর তাহার আফিসে একটী ভাল চাকরি দিতে প্ৰতিশ্রুত হইলেন। তাহার পর নিজের আফিসে গিয়া সাহেবদিগের নিকট হইতে তিনি বিদায় প্রার্থনা করিলেন। সাহেবেরা প্রথম তাঁহাকে ছাড়িতে অনিচ্ছা প্ৰকাশ করিলেন। অবশেষে যখন তাঁহারা শুনিলেন যে, অন্য স্থানে তাঁহার উচ্চপদ ও অধিক বেতন হইতেছে, তখন তাহারা তাঁহাকে ছাড়িয়া দিলেন। রেলের আফিসে মুস্তফি মহাশয় মানসন্ত্রমের সহিত কাজ কৰ্ম্ম করিতে লাগিলেন। অল্পদিনের ভিতরেই সাহেবদের তিনি প্রিয় হইলেন। আফিসের অন্যান্য বাবুরাও তাঁহাকে যথেষ্ট ভক্তি ও শ্রদ্ধা করিতে লাগিল। সংসারে তাঁহার সচ্ছল হইল। স্ত্রীর গহনা হইল, বালকদ্বয়ের ভালরূপ কাপড় চােপড় হইল। কিন্তু ইহার পূৰ্ব্বে যদি তিনি কখন অর্থের কামনা করিতেন, তাহা হইলে সে কামনা কখন নিজের কিম্বা স্ত্রী পুত্রের সুখের জন্যন্তহে; সে কামনা পরের জন্য তিনি করিতেন। তিনি ভাবিতেন যে, “যদি কখন আমার , তাহা হইলে অমুককে আমি এই করিব, অমুকের ঋণ পরিশোধ করিয়া তাহার বাটী বন্ধক হইতে মোচন করিব। এক্ষণে সেই সমুদয় সাধ তাঁহার পূর্ণ হইল। ধন্যবান হইয়া পড়িলেন। ধন মান-সন্ত্রমের সীমা পরিসীমা থাকে না । কাহাকেও একটি পয়সা দিতে হয় না। অমুকের টাকা আছে, এই কয়টী কথা প্রচারিত হইলেই যথেষ্ট। তাহা হইলেই সকলে তাঁহার পায়ে তৈল মর্দন করিতে থাকে। মাশ্চন্টক মহাশয়ের সুখ্যাতি পৃথিবীতে আর ধরে না । কেবল তাহা নহে, যে দিন হইতে মাশ্চন্টক মহাশয় ভগবতীর ব্যবসা আরম্ভ করিলেন, সেই দিন হইতে তিনি ঘোর হিন্দু হইয়া পড়িলেন। তাহার স্ত্রী পূৰ্ব্ব হইতেই যার-পর-নাই শুদ্ধাচারিণী ছিলেন, এখন হইতে কৰ্ত্তাটীও শুদ্ধাচারী হইলেন। মাথায় তিনি বৃহৎ একটা টিকি রাখিলেন। দক্ষিণ হস্তের চতুর্থ অঙ্গুলিতে তিনি সোনার সামান্য একটী আংটী পরিধান করিলেন, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করিলেন, বাহুতে একটীমাত্র রুদ্রাক্ষের বীজ পরিলেন। সন্ধ্যা আহ্নিক ব্ৰাহ্মণের যাহা কৰ্ত্তব্য, তাহা তিনি রীতিমত করিতে লাগিলেন। প্রতিদিন গঙ্গাস্নান করিতে লাগিলেন। গঙ্গা-জলে দৈনিক সন্ধ্যা তৰ্পণাদি সমাপ্ত করিয়া, ললাটে দীর্ঘ ফোঁটা কাটিয়া, শরীরের নিম্নভাগে গরদের কাপড় ও উৰ্দ্ধদেশে নামাবলি পরিধান করিয়া, কোশা হাতে করিয়া যখন তিনি বাড়ী প্রত্যাগমন করিতেন, তখন তাঁহাকে দর্শন করিলেও মানুষের চক্ষু সার্থক হইত। পথের লোক ভক্তিভাবে তাঁহাকে প্ৰণাম করিত ও গদগদ স্বরে তাঁহার সুতিবাদ কিরিত। ক্রমে বাড়ীতে তিনি গেরুয়া বস্ত্ৰ পরিধান করিতে লাগিলেন। সকলে স্তম্ভিত হইল,

      • "ʻ°7°7** MfGNRJig{ °itb<q5 q<q5 3R8! mv www.amarboi.com ~v (?o○ সকলে তাঁহার গুণে মােহিত হইল। কি পুণ্যাত্মাই না পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন! ইনি মানুষ নহেন; শাপ-ভ্ৰষ্ট কোন দেবতা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়াছেন।

দ্বাদশ অধ্যায়। দুষ্টা পুত্রবধু কিন্তু দূরের লোক যত তাঁহাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করিত, অতি নিকটের প্রতিবেশীরা তাঁহাকে ততদূর শ্রদ্ধা ভক্তি করিত না । প্রতিবেশিগণ রাত্রিদিন তাহার ক্রিয়াকলাপ দৰ্শন করিত। বালিকা পুত্রবধূকে তাঁহারা কিরূপ স্নেহ মমতা করিতেন, তাহা তাহারা জানিত। সাত্ত্বিক-ভাবাপন্ন মাশ্চন্টক মহাশয়কে তাহারা কি বুঝিবে! সেজন্য হিংসায় তাহারা তাঁহার নিন্দা করিত। অন্য স্থানেরও এক আধজন দুষ্ট লোক যে, মাশ্চন্টক মহাশয়ের কুৎসা না করিত, তাহা নহে। মন্দ লোকের স্বভাব যে, পরনিন্দা না করিয়া তাহারা থাকিতে পারে না। স্বয়ং শ্ৰীকৃষ্ণ যখন শিশু-পাল কর্তৃক নিন্দিত হইয়াছিলেন, তখন অন্যের কথায় আর প্রয়োজন কি! এক দিন মাশ্চন্টক মহাশয়ের অবৰ্ত্তমানে নীেকায় তাহার কথা পড়িল। সকলে একবাক্য হইয়ুপ্তহার গুণ কীৰ্ত্তন করিতে লাগিলেন। করেন না। রাত্রিকালে একটু দুধ খাইয়া থাকেন। কি নিষ্ঠাবানু ব্ৰাহ্মণ! এ কলিকালে এমন লোক হয় না। এরূপ মহাত্মার নাম ব: বৃক্টেণ্ড পুণ্য হয়।” যেরূপ দুষ্ট লোকের কথা এইমাত্র উল্লেখ “মাশ্চন্টক মহাশয়ের ব্যবসাটা কি, তাহা কি একবার ভাবিয়া দেখিয়াছেন?” এই কথা শুনিয়া নীেকা শুদ্ধ বাবুরা ছিছি করিয়া উঠিলেন। এক প্ৰবীণ ধৰ্ম্মভীরু লোক উত্তর করিলেন, — “তোমার বয়স অল্প, সংসারের জ্ঞান তোমার কিছুমাত্র নাই। বিষয় কৰ্ম্মের সহিত ধৰ্ম্মের কি সম্বন্ধ আছে, বাপু? শুদ্ধাচার, খাদ্যাখাদ্যের বিচার, সন্ধ্যা, আহ্নিক, জপ, পূজা, এই সকল হইল। ধৰ্ম্ম । তাহার মধ্যে খাদ্যাখাদ্যের বিচার হইল প্ৰধান ধৰ্ম্ম। তাহার সাক্ষ্য দেখ— ব্ৰহ্মহত্যা, গোহিত্যা, শ্ৰীহত্যা করিলে লোক জাতিভ্ৰষ্ট হয় না, কিন্তু অখাদ্য ভক্ষণ করিলে লোক জাতিভ্ৰষ্ট হয়। অর্থে পার্জনের সহিত ধৰ্ম্মের কোনও সম্বন্ধ নাই। বুঝিলে, বাপু! কিন্তু তোমরা কলিকালের ছোকরা। তোমরা হয় তো বলিয়া বসিবে যে, বিষয় রক্ষা করিতে জাল করা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য প্ৰদান করা উচিত নহে! তোমরা সব করিতে পাের, সব বলিতে পাের। টাকার জন্য দ্রোণ গুরু ক্ষত্রিয়ের ব্যবসা অবলম্বন করিয়া প্রিয়শিৰ্ষ্য অৰ্জ্জুনকে ব্ৰহ্মহত্যা, গুরুহত্যামহাপাতকে কলঙ্কিত করিয়াছিলেন। আমরা সামান্য মানুষ। ধৰ্ম্মের সূক্ষ্ম মৰ্ম্ম আমরা জানি না। মহাজনেরা যে পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, সেই পথ আমরা অনুসরণ করি। ধৰ্ম্মস্য তত্ত্বং নিহিতং। গুহায়াং মহাজনো যেন গতঃ সা পন্থাঃ । আর দেখ, মানুষ সন্ধ্যা আহ্নিক করে কেন? বিষয় কৰ্ম্মে যদি কিছু পাপ হয়, তাহা হইলে সন্ধ্যা আহিকের বলে দিনের পাপ দিনে কাটিয়া যায়। পাপ ক্ষয় হয়; শরীর সর্বদা নিষ্পাপ থাকে। দেশে অনেক লোক বিপুল অর্থ উপাৰ্জ্জন করিয়া, Qの8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comঙ্গিাকনাথ রচনাসংখৰ অগাধ সম্পত্তি রাখিয়া গিয়াছেন। তাঁহাদের পুত্র পৌত্ৰগণ পায়ের উপর পা দিয়া সুখে কালব্যাপন করিতেছেন। বল তো বাবু, তাঁহাদের মধ্যে কয়জন যুধিষ্ঠির ছিলেন? যাহা হউক, এ স্থানে আর বসিতে নাই।” এই কথা বলিয়া তিনি নীেকার ভিতর হইতে বাহিরে আসিয়া বসিলেন; রৌদ্রে তাঁহার সৰ্ব্বশরীর ভজা-ভজা হইতে লাগিল। সাধু লোকের নিন্দা ভাল লোকের প্রাণে সহ্য হয় না। সে স্থান পরিত্যাগ করাই কৰ্ত্তব্য। মাশ্চন্টক মহাশয়ের সব সুখ হইয়াছিল। তাঁহার টাকা হইয়াছিল। লোকের নিকট মান সন্ত্রম হইয়াছিল। গৃহিণী মনের মত শুদ্ধাচারিণী ছিলেন। পুত্ৰটীরও বিষয় কৰ্ম্মে মন ছিল, আর পিতার ন্যায় তিনিও ধৰ্ম্মপরায়ণ ছিলেন। কিন্তু পৃথিবীতে পূর্ণ সুখ কাহারও হয় না, একটি আধটী বিষয়ে খুঁত থাকে। পুত্রবধূটীর জন্য মাশ্চন্টক মহাশয় অসুখী ছিলেন। প্রভাবতী ততদূর শুদ্ধাচারিণী ছিল না। শ্বাশুড়ী বলিয়াছিলেন যে,- “বাসনগুলি প্রথম তিনবার ছাই দিয়া মজিবে, তাহার পর তিনবার গোবর দিয়া মাজিবে, তাহার পর সাতবার পুকুর-জল দিয়া ধুইবে, তাহার পর সাতবার গঙ্গাজল দিয়া ধুইবে । ছাড়া কাপড়গুলি তিনবার পুকুরে কাচিবে, তাহার পর তিনবার গঙ্গাজলে ধুইবে । বঁটা গাছটী প্ৰতিদিন খুলিয়া এক একটী কাটি গোবর দিয়া মাজিবে, তাহার পর পুকুর-জলে ধুইবে, তাহার পর গঙ্গাজলে ধুইবে। ঘরের দ্বারে ও বাড়ীর প্রাঙ্গণে দিনের মধ্যে সাতবার গোবর-জলের ছড়া দিবে। সকালে, মধ্যাহ্নে, অপরাহে ও সন্ধ্যার পর, দিনের মধ্যে চারিবার জলে গোবর গুদিয়া স্লেই জল আপনার মাথায় ঢালিবো।” সংসারের কাজ কৰ্ম্ম বিষয়ে শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী উপদেশ দিয়াছিলেন। কিন্তু সকল সময়ে প্ৰভাবতী তাঁহার আদেশ মত কাজ করিতে না। বাসন সাতবার গঙ্গাজলে না ধুইয়া ভ্রমক্রমে হয় তাে ছয়বার ধুইত। একবার,কুঁধীর, তিনবার, চারিবার, পাঁচবার, ছয়বার,” কয়বার ধোয়া হইল, আড়ালে বসিয়া ঠাকুরাণী তাহা গণিয়া দেখিতেন। শীতকালে সন্ধ্যার পর কোন কোন দিন হয় মাথায় ভাল করিয়া গোবর-জিল ঢালিত না । কদাচার যাদব মুস্তাফির কন্যা আর কত ভাল হইবে! সেজন্য শ্বশুর শ্বাশুড়ী তাঁহাকে একেবারেই দেখিতে পারিতেন না; স্বামী অধর, তাহার মুখ দৰ্শন করিতেন না। প্রভাবতীকে সৰ্ব্বদাই শাসন করিতে হইত, সৰ্ব্বদাই তাহাকে নিদারুণভাবে প্রহার করিতে হইত। কখন শ্বশুর এক দিক ও অধর অন্য দিক, দুই জনে তাহার দুই দিক ধরিতেন, শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী যথাশক্তি ঝাঁটার বাড়ী তাঁহাকে মারিতেন। কখন বা পিতা মাতা দুই জনে তাহাকে ধরিতেন, অধর তাহাকে যথাশক্তি কিল চাপড় অথবা বেত মারিতেন। ঝাটা দ্বারা প্রহার করিতে করিতে শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী শ্ৰান্ত হইয়া গেলে, কখন বা মাতাপুত্রে তাঁহাকে ধরিতেন, শ্বশুর মহাশয় নিজে জুতার প্রহারে তাহার সৰ্ব্বশরীর ক্ষত বিক্ষত করিয়া দিতেন। কিন্তু মাজিলে, ঘষিলে, শতবার ধুইলে কয়লা কি কখন কৃষ্ণবর্ণ পরিত্যাগ করিয়া শুভ্রবর্ণ ধারণ করে? এমন দিন যায় না— যে দিন প্রভাবতীর একটী না একটী দোষ বাহির হইয়া পড়ে। তাহার জ্বালায় ধৰ্ম্মপরায়ণ মাশ্চন্টক মহাশয়ের হৃদয় জর্জরীভূত হইল। তাহার জ্বালায় স্বামী অধর বাহিরে রাত্রি যাপন করিতেন। মা টাকা দিতেন।

  • "*" (*7****" sig ož35 g5 3KG a, www.amarboi.com My Gł06 vo VSKU

আমি হেন শ্বাশুড়ী! পোড়ার-মুখী প্ৰভাবতীর আরও দোষ এই যে, এত মারা খাইয়াও কখন সে মুখ ফুটিয়া একটী কথা বলিত না। নীরবে প্রহার সহ্য করিত। তাহার রূপও সামান্য ছিল না। যেমন ধবধবে রং, তেমনি চক্ষু, তেমনি মুখের ও শরীরের গঠন। শরীর যেন মাখন দিয়া গঠিত ছিল। সেইজন্য দারুণ প্ৰহারে তাহার কষ্ট হইত না? সেইজন্য কি সে কাদিত না? চক্ষু দুইটী ছলছল করিয়া চুপ করিয়া থাকিত? তাহার পর পোড়ার-মুখীর চুল। দীর্ঘ নিবিড় উজ্জল কেশরাশি তাহার হাঁট পৰ্যন্ত পড়িয়াছিল। এক দিন রাত্রিতে শুইয়া শুইয়া অকস্মাৎ শ্বাশুড়ীর মনে উদয় হইল,- “সৰ্ব্বনাশ!! ঐ চুলের ভিতর শপৃড়ি তো লাগিয়া থাকিতে পারে! তবে তো আমার জাতি জনম আর কিছুই নাই। তবে তো এত দিন আমাদের ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম সব পণ্ড হইয়া গিয়াছে! কাল ইহার প্ৰতিকার করিতে হইবে।” পর দিন শ্বশুর মহাশয় ও অধর বাবু প্ৰভাবতীকে উত্তমরূপে ধরিলেন। প্ৰভাবতীকে ধরিবার কোন আবশ্যক ছিল না। চুপ করিয়া নীরবে সে প্রহার সহ্য করিত। তবে ধরিয়া মারিলে সাজােটা ভালরূপ হয়, দেখিতে শুনিতেও ভাল হয়, সেইজন্য তাহাকে ধরিয়া প্ৰহার করা হইত। শ্বশুর ও স্বামী দুই জনে দুই দিকে ধরিলেন। শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী নিজে বঁটি দিয়া পোচাইয়া পোচাইয়া তাহার চুলগুলি কাটিতে লাগিলেন। বঁটি দিয়া ভুল ভালরূপ কাটা যায় না। সেজন্য কতক তিনি কাটিলেন, কতক তিনি ছিড়িয়া প্রভাবতীর চোখে কান্না আসিল। ক্লেশে ও দুঃখে আজ তাহার দুই চক্ষু দিয়া *ধারায় বাষ্পবারি বিগলিত হইতে লাগিল । “চুপ কর, হারামজাদী!” এই কথা বলিয়ার্থক্টড়ী তাহার মুখে দুই-চারিটী ঠোেনা মারিলেন। সেই আঘাতে প্ৰভাবতীর ঠোঁট কাটিয়া দাঁত দিয়া রক্ত পড়িতে লাগিল। এই সমুদয় কথা কলিকাতায় য়র বাটীতে আসিতে লাগিল ৷ প্ৰভাবতী লিখিতে পড়িতে জানিত। কিন্তু সে নিজে পিতা মাতাকে কখন একটী কথাও লেখে নাই; কিম্বা লোক দ্বারা একটী কথাও কখন বলিয়া পাঠায় না! পাড়া প্রতিবেশীরা এই সকল কথা মুস্তাফি মহাশয়কে বলিয়া পাঠাইল। মুস্তফি মহাশয়ের গৃহিণীর মন ব্যাবুল হইয়া পড়িল। কন্যাকে দেখিতে যাইবার নিমিত্ত স্বামীকে তিনি বার বার অনুরোধ করিলেন। কিন্তু মুস্তফি মহাশয় বলিলেন যে- “সে নরাধমের বাড়ী আমি আর যাইব না।” কন্যাকে তিনি তিন চারি বার আনিতে পাঠাইলেন। কিন্তু মাশ্চন্টক মহাশয় তাহাকে পিত্ৰালয়ে পাঠাইলেন না। তিনি বলিলেন,- “যাদব বড় কদাচারী। তাহার পুত্রেরা সন্ধ্যা আহ্নিক করে না, বিস্কুট খায়, বাজারের মাংস খায়। সে বাড়ীতে আমি আমার পুত্রবধূকে পাঠাইতে পারি না। তাহার হাতে আমাকে ভাত জল খাইতে হইবে।” প্রভাবতীর মাতা দুই তিন বার তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্ৰ সুরেশকে পাঠাইলেন। কিন্তু প্ৰভাবতী তাহাকে কোন কথাই বলিল না। প্রথম বারে সুরেশ জিজ্ঞাসা করিল,- “প্ৰভা! তোর চুল কি ? প্রভাবতী কোন উত্তর করিল না। শ্বাশুড়ী নিকটে ছিলেন। তিনি বলিলেন, — “প্রতিদিন ওর মাথা ব্যথা করিত; সে জন্য ডাক্তারে চুল কাটিয়া দিতে বলিয়াছিল।” প্রভাবতীর মাতা একবার এক জন ঝি পাঠাইয়া দিলেন। তাহাকেও প্ৰভাবতী কিছু বলিল (*OW friis ožogo &8! Mwww.amarbo.como SK না। এক বার নির্জনে পাইয়া, ঝি তাহার গায়ের কাপড় খুলিয়া ফেলিল। দেখিল যে, তাহার সৰ্ব্বাঙ্গে কালশিরা দাগ, অষ্টে পৃষ্টে সমস্ত গায়ে প্ৰহারের দাগ। কতক নূতন দাগ, কতক পুরাতন দাগ! তাহার গায়ে এরূপ সব দাগ কেন, ঝি তাহা জিজ্ঞাসা করিল। প্ৰভাবতীর চক্ষু দুইটি কেবল ছল ছল করিতে লাগিল। সে কোন উত্তর করিল না। পাড়ার একজন প্রতিবেশিনী,-বিকে সকল কথা বলিলেন। প্রতিবেশিনী বলিলেন, — “প্ৰতিদিন দুই একবার মিনাসে, মাগী আর ছোড়া দুধের বাছাকে প্রহার করে। কি বলিব গো! নিদারুণ ভাবে প্ৰহার করে। চোরকেও লোক এমন নিষ্ঠুরভাবে প্রহার করে না; আর বিনা দোষে প্রহার করে। এই কালকার কথা বলি শুন, তাহা হইলেই বুঝিতে পরিবে। কাল গিনী মুড়ি ভাজিয়া বীেকে তুলিয়া রাখিতে বলিলেন। বীে প্ৰথমে হাতটী উত্তমরূপে ধুইল, তাহার পর শুকনা কাপড়ে হাতটী মুছিয়া মুড়ির ধামাটী ছুইল। আমি সেখানে দাঁড়াইয়া; আমি স্বচক্ষে সব দেখিলাম। তবুও মাগী বলিল যে,- “তুই ভিজা হাতে মুড়ির ধামা ছুইয়াছিল, মুড়ি সব শগড়ি হইয়া গিয়াছে।” এই কথা বলিয়া, যা নয়। তাই বেঁটাকে গালি দিল। সন্ধ্যার পর কৰ্ত্তা ও ছেলে বাড়ী আসিলে তাহাদিগকে বলিয়া দিল। তিন জনে পড়িয়া লাথি, চড়, কিল—যত পারিল— মারিল; কেহ বা বেত মারিল, কেহ বা জুতা দিয়া মারিল, কেহ বা ঝাঁটার বাড়ী মারিল। সে মারের কথা তোমাকে আর কি বলিব? মনে করিতে গেলে বুক ফাটিয়া যায়। কিন্তু আমন গুণের বীে আর হবে না। বাছার মুখে কথা নাই। মাগীর বি চাকর কেহ তিষ্টিতে পারে না । বেটীকেই সকল কাজ করিতে হয়। সমস্ত দিন কাজুয়েকরিতেছে ঈৰ্থার পর জল-তোলা। দিনের মধ্যে পুকুর য়া তাহা ঠিক করিতে পারা যায় না। এত ঈ মুখাটী বুজিয়া চুপ করিয়া সৰ্ব্বদাই কেবল কাজ করিতে থাকে। মাগীর যেমন শুচিবাই শুইতমনি মাগীর হিংসা। বীেয়ের সঙ্গে পাছে বেটার ভাব হয়, সেই হিংসায় মাগী দাম ফাটিয়া মরে। বল কি গো! বেটাকে মাগী একবার বীেয়ের কাছে যাইতে দেয় না। এমন মা কে কবে দেখিয়াছে বা শুনিয়াছে! আমরা হইলে এ যন্ত্রণা সহ্য করিতে পারিতাম না! হয় গলায় দড়ি দিয়া, না হয় বিষ খাইয়া মরিতাম।” এই গেল এক পক্ষের কথা। অপর পক্ষের কথা অন্যরূপ। প্রভাবতীর শ্বাশুড়ীর মুখে পাড়ার লোকে সৰ্ব্বদা তাহা শুনিত। প্ৰভাবতীর শ্বাশুড়ী বলিতেন,- “আমার বীেয়ের গুণের কথা তোমাদিগকে আর কি বলিব! হাড় আমার ঝালা-পালা হইয়া গেল। একটা কথা বলি, শুন । আমি বলিয়া দিয়াছি যে,- “বীে মা! স্নান করিয়া, ঘাটের উপর উঠিয়া, অল্প ক্ষণের জন্য উলঙ্গ হইয়া, পরণের বাসি ভিজা কাপড়খানি দূরে ফেলিয়া দিবে। তাহার পর শুষ্ক কাচা কাপড়খানি পরিবে। তা না করিলে ছোয়া-ছুয়িতে কাচা কাপড়খানিও বাসি হইয়া যাইবে। তাহার পর সেই বাসি ভিজা কাপড়খানি ভাল করিয়া একবার পুকুর-জলে কাচিয়া, বাড়ীর ভিতর আনিয়া গঙ্গাজলে ধুইয়া লাইবে।” আমার কথা বেঁীমায়ের গ্রাহ্য হয় না। ভিজা বাসি কাপড়ের উপরেই শুষ্ক কাচা কাপড় পরা হয়। ইহাতে ধৰ্ম্মকৰ্ম্ম কি করিয়া থাকে, তা বল দেখি? তোমরা কি বল! উলঙ্গ হইতে লজ্জা করে? পুকুরের অন্য ঘাটে সব পুরুষ মানুষ থাকে? তা তাদের কি আর কাজ কৰ্ম্ম নাই? তারা কি এই দিক পানেই চাহিয়া থাকে? তাহার পর, তারা কি করে, না করে, সে খোজে তোমার কাজ কি! তুমি সে দিক পানে চাহিয়া না দেখিলেই তো হইল। অল্প ক্ষণের জন্য উলঙ্গ হইয়া, টুপ। যন্ত্রণাভোগ করিয়াও বাছার মুখে কথা Xyğfaff (qofqlif37! (łotą sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro করিয়া আপনার কােজ সারিয়া লইতে হয়। তোমরা কি বল! আমি নিজে কি করি? রাজা থাকুন, প্ৰজা থাকুন, আমি কাহাকেও গ্ৰাহ্য করি না। ঘাটের উপর উঠিয়া স্বচ্ছন্দে আমি কোমর হইতে ভিজা কাপড় খানি ফেলিয়া দিই। তবু আমার কাপড় কত শুদ্ধ। রাত্ৰিতে কাপড় পরিয়া শুই না। দিনের বেলাও প্ৰায় সমস্ত দিন ন্যাঙটো হইয়া থাকি। কোথাও শগুড়ি লাগিয়া যায়, কি-কি লাগিয়া যায়, তার চেয়ে কাপড় না পরিয়া থাকাই ভাল। তোমরা কি বলা একটু খানির জন্য উলঙ্গ হইতে লজ্জা! আমন বীে থাকিতে আমার অধীরের সুখ হইবে না। তোমরা কি বলা। তার পর আমি হেন শ্বাশুড়ী ! আমার কাছে যদি প্ৰশংসা না পাইল, তবে আর কাহার কাছে প্ৰশংসা পাইবে? তোমরা কি বল! পড়িত আমার শ্বাশুড়ীর পাল্লায়, তাহা হইলে বুঝিতাম। গুরুজনের নিন্দা করিতে নাই, কিন্তু আমার শ্বাশুড়ীর কথা যদি সব বলি, তাহা হইলে আর জ্ঞান থাকে না। কেবল একটা কথা বলি শুন । দেশে থাকিতে জল খাবারের জন্য প্রতিদিন বৈকাল বেলা আমি বারো খানি করিয়া পরোটা করিতাম। চারি খানি কৰ্ত্তার জন্য, চারি খানি আমার নিজের জন্য, আর চারি খানি অধরের জন্য। সন্ধ্যা বেলা আমাদের খাবার সময় বুড়ী করিত কি তা জান, বুড়ী সেই পরেটার পানে জুলুর জুলুর চাহিয়া থাকিত। ইচ্ছা যে, তাহাকেও দুই এক খানা আমরা দিই। কিন্তু তখন মাশ্চন্টক মহাশয়ের অবস্থা ভাল ছিল না। এত কোথা হইতে আসিবে, বুড়ীর সে বিবেচনা ছিল না। তোমরা কি বলা। তাঁর কি আর দুইটী মুড়ি খাইলে চলিত না!! দাঁত ছিল না। সত্য। তা, কত লোক মাড়ি দিয়া যে পাহাড় পৰ্ব্বত চিবায়, মাড়ি দিয়া লোহার কড়াই খাইয়া যে হজম করে! তােমরা কি বল! বুড়ির দৃষ্টিতে সেই পরোটা আমাদের প্লেটে গিয়া গজগজু করিত। এক দিন অধরের পেট কামড়াইতে লাগিল। পেটের ব্যথায় কাটা ছাগলের মত ছটুফটু করিতে লাগিল। আমার সহ্য হইল না। আমি কৰ্ত্তাকে । আমি বলিলাম,- “দেখ মাশ্চন্টক মহাশয়। তোমার মায়ের জ্বালায় আমাদের নড়িবার যো নাই। মুখটী নাড়িলেই আমনি ডাইনীর মত মিটির মিটির চাহিয়া দৃষ্টিতে আমাদের পেটের ভাত চাল হইয়া যায়। গ্ৰাহিণী রোগে সকলকে হইবে!” তোমরা কি বল! মাশ্চন্টক মহাশয় মাকে ঘা কতক উত্তম মধ্যম দিয়া দিলেন Y বুড়ী কাঁদিতে লাগিল। তা দেখিয়া আমার হাড় জুলিয়া গেল। আমি বলিলাম,- “তোমার বেটা! দশ মােস দশ দিন পেটে ধরিয়াছ। না হয় ঘা কতক মারিয়াছে। আদিখ্যাতা করিয়া তাতে আবার কান্না কেন, বাছা?” তোমরা কি বল। কৰ্ত্তাকে আমি বলিলাম,- “দেখ মাশ্চন্টক মহাশয়! এক দিন একটু শাসন করিলে চলিবে না। তোমার মাকে মাঝে মাঝে ঐ রূপ শাসন করিতে হইবে। তবে অভ্যাস হইয়া যাইবে। তা না হইলে এক আধ বার মারিলে ধরিলে ভ্যান ভ্যান করিয়া কাঁদিবে। কান্নার জ্বালায় বাড়ীতে আমি তিষ্টিতে পারিব না। তোমরা কি বল! মাশ্চন্টক মহাশয় তাহাই করিতে লাগিলেন। তবে বুড়ীর ডাইনীর মত সে মিটির মিটির চাউনি গেল। ভগবান মাথার উপর আছেন। আমি না হয় সহিলাম; কিন্তু তিনি সহিবেন কেন? তোমরা কি বলা আমি কাঁদিতে মানা করিয়াছিলাম। আমার কথা তিনি শুনিলেন না। কাঁদিয়া কঁদিয়া শেষে তাঁহার চক্ষু দুইটী অন্ধ হইয়া গেল। তার পর এক দিন সকাল বেলা দেখি না যে, বিছানায় কাঠ হইয়া পড়িয়া আছেন। তখন আমার হাড় জুড়াইল। তোমরা কি বল! যাহা হউক, তিনি এখন স্বর্গে গিয়াছেন। অধিক কথা আর বলিবার আবশ্যক নাই। তাই বলি যে, পড়িত আমার শ্বাশুড়ীর পাল্লায়, তাহা হইলে বুঝিতাম। তোমরা কি বল!” অন্য পক্ষের কথা এইরূপ। এমন শ্বশুর শাশুড়ী পাইয়াও প্রভাবতী যে সুখে ঘর কন্না করিতে পারিল না, তাহাই আশ্চর্য্যের কথা। কলিকালের বীে! কত ভাল হইবে! frr:Ruig aniž3. g3 ze! A www.amarboi.com%37*****"***"****** ঝি আসিয়া সমস্ত কথা প্ৰভাবতীর পিতা মাতাকে বলিল। মুস্তফি মহাশয় একবার মনে করিলেন যে, আদালতে নালিশ করি। কিন্তু কন্যাকে কাছারিতে তিনি কি করিয়া হাজির করিবেন। তাহা ব্যতীত কন্যা নিজে হয় তো শ্বশুর শ্বাশুড়ী স্বামীর বিরুদ্ধে একটী কথাও বলিবে। না। তাহা হইলে আর নালিশ করিয়া কি হইবে। “আমার কন্যা মরিয়া যাউক,” এক্ষণে তাহাকে এইরূপ কামনা করিতে হইল। এইরূপে কিছু দিন কাটিয়া গেল। সহসা এক দিন মুস্তফি মহাশয় একখানি পোষ্টকার্ড পাইলেন। বৈবাহিকের একজন প্ৰতিবেশী তাহাকে এই পত্র লিখিয়াছিলেন। তিনি লিখিয়াছিলেন,- “আপনার কন্যা ঘোরতর পীড়িত। তাহার কিছু মাত্র চিকিৎসা হইতেছে না। কন্যাকে যদি দেখিতে ইচ্ছা করেন, তাহা হইলে যাহা কৰ্ত্তব্য, তাহা করিবেন।” পোষ্টকার্ড পাইয়া মুস্তফি মহাশয় আর থাকিতে পারিলেন না। গৃহিণীকে সঙ্গে লইয়া বৈবাহিকের বাড়ী গিয়া উপস্থিত হইলেন। দেখিলেন যে, প্ৰভাবতী একটী ছেড়া মাদুরের উপর মেজেতে পড়িয়া আছে। খুব জ্বর। খুব কাসি। নিশ্বাস ফেলিতে খুব কষ্ট হইতেছে। প্ৰাণ তাহার আইচাই করিতেছে। কেবল এপােশ ওপাশ করিতেছে। মুস্তফি মহাশয় তৎক্ষণাৎ ডাক্তার আনিতে দৌড়িলেন। কাপড় খুলিয়া দেখিলেন। দেখিলেন যে, সৰ্ব্বাঙ্গে কাল কাল দাগ! কোন স্থানে গোল, কোন স্থানে লম্বা দাগ। অনেক স্থানের ছাল উঠিয়া গিয়াছে। ঘায়ের মত সাদা হইয়া দশৃদঙ্গ করিতেছে। শরীরের যে সমুদয় স্থান সৰ্ব্বদা বস্ত্র দ্বারা আবৃত থাকে, সে সকল স্থানেও সেইরূপ দাগ। মাতার বুক ফাটিয়া যাইতে লাগিল। মাতা হাপুশনয়নে কাদিতে লাগিলেন । স্নেহের সহিত কন্যার মস্তকটী আপনার বক্ষঃস্থলে রাখিলেন। মাতার বুকে আপনার মাথা রাখিয়া কন্যার প্রাণ কথঞ্চিৎ শীতল হইল। মাতা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “প্ৰভা! তোর গায়ে এ সব কি? এ সব দাগ কিসের? গোল দাগ, লম্বা দাগ। অনেক স্থানে ঘা হইয়াছে। এ সব কি?” এত দিন প্ৰভা চুপ করিয়াছিল। মায়ের কোলে মাথা রাখিয়া আজ আর চুপ করিয়া থাকিতে পারিল না। প্ৰভা কাঁদিতে লাগিল, মা কাঁদিতে লাগিলেন। দুই জনের চক্ষের জলে দুই জনের বক্ষঃস্থল ভাসিয়া যাইতে লাগিল; দুই জনের কাপড় ভিজিয়া গেল। কাঁদিতে কাঁদিতে প্ৰভা বলিল,— “মা! এত দিন আমি কোন কথা বলি নাই। আমি মনে করিতাম যে, শ্বশুর শ্বাশুড়ী গুরুজন, তাঁহাদের নিন্দা করিতে নাই। আমি মেয়ে-মানুষ, কষ্ট সহ্য করিতে মেয়ে-মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তাহার পর, এই ঘর আমাকে চিরকাল করিতে হইবে, সুখ হইলেও আমাকে এই ঘরে থাকিতে হইবে, দুঃখ হইলেও আমাকে এই ঘরে

  • "Foo" (oiono sig aniż 35 gigs RSG! My www.amarboi.com My Gło8 থাকিতে হইবে। বাপ ভাই রাজা হইলেও মেয়ে-মানুষের পক্ষে সে ঘর কিছু নহে। এইরূপ ভাবিয়া আমি চুপ করিয়াছিলাম। মনে করিতাম যে, দুঃখ আমার চিরকাল থাকিবে না। সেবা করিয়া, ভক্তি করিয়া শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে আমি বশ করিব। তখন আমার প্রতি তাঁহাদের দয়া হইবে।”

মা বলিলেন,-“ বাছা আমার!” চুপ করিয়া দুই জনে কাঁদিতে লাগিলেন। কিছু ক্ষণ কাদিয়া মা পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তোর গায়ে এ সব দাগ কি করিয়া হইল? এ তো বেতের দাগ নয়, জুতারও দাগ নয়, ঝাটারও দাগ নয়, এ সব কিসের দােগ?” প্রভা বলিল,- “চারিদিন পূৰ্ব্বে এ সব দাগ হইয়াছে। মা! আমার কোন দোষ ছিল না। বলিলেন,- “দেখ, মা! আমার ভাতের ভিতর এই শিকড়টা ছিল।” প্রভাবতীর মাতা জিজ্ঞাসা করিলেন, — “কে এ কথা বলিল? ভাতের ভিতর হইতে কে শিকড় বাহির করিল? সে কে?” প্রভা কিছুক্ষণ চুপ করিয়া রহিল। কিন্তু যখন সে দেখিল যে, তবুও তাঁহার মা বুঝিতে পারিলেন না, তখন সে চুপি চুপি বলিল,— “তোমার জামাই।” মা জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তাহার পর কি হইল?” প্রভা বলিল,— “গুণ জ্ঞান তুক তাকের, মা, আমি ক্লি জানি? শ্বাশুড়ী বলিলেন যে, আমার ছেলেকে গুণ করিবার নিমিত্ত তুই এ শিকড় ভ র রাখিয়াছিলি ।” তোমার জামাই হাসিতে লাগিলেন। বোধ হয়, তামাসা &| || 32 তিনি নিজেই ভাতের ভিতর একটা শিকড় রাখিয়াছিলেন; তাহার পর নিজেই বাহির করিয়াছিলেন। যাহা হউক, এই কথা লইয়া হুলস্থূল পড়িয়া গেল। শ্বাশুড়ী ভূআমাষ্টর্ক অনেক তিরস্কার করিলেন। সন্ধ্যার পর শ্বশুর। বাড়ী আসিলে তাঁহাকে তিনি সেই কুঁই য়া দিলেন। তাহার পর তামাক খাইবার কলুকে ও চিমটা আগুনে পোড়াইয়া তিন জনে মিলিয়া আমার সর্বশরীরে ছাঁকা দিলেন। ভাই আমার গায়ে এরূপ দাগ হইয়াছে। এ বেতের দাগ নহে! সেইদিন রাত্ৰিতে আমার জ্বর হইল। মা, নিশ্বাস ফেলিতে আমার কষ্ট হইতেছে। ইহাদের ইচ্ছা যে, আমি মরিয়া যাই। আমি মরিয়া গেলে পুনরায় বিবাহ দিয়া ইহারা অনেক টাকা পাইবেন। যাহাতে আমি শীঘ্ৰ মরিয়া যাই, সকলের সেই ইচ্ছ। তার জন্য ইহারা আমাকে এত মারেন ধরেন। এই কথা ইহারা সৰ্ব্বদাই বলিয়া থাকেন। এইবার ইহাদের মনস্কামনা পূর্ণ হইবে।” মা বলিলেন, — “বালাই।" প্ৰভা বলিল,— “মা এখানে আসিয়া পৰ্যন্ত প্ৰথম প্রথম যা পাইয়াছিলাম; কিন্তু তাহার পর একদিনও আর পেট ভরিয়া ভাত খাইতে পাই নাই। আমাকে রাধিতে হয়, সকলকে দিইয়া থুইয়া খাইতে হয়। শ্বাশুড়ী জানিয়া শুনিয়া রাধিবার নিমিত্ত কম করিয়া চাউল দেন। শেষকালে আমার আর কুলায় না। জল খাবার কাহাকে বলে, তা তো ভুলিয়া গিয়াছি। দুই বেলা দুইটী ভাত। তাও যদি পেট ভরিয়া না পাই, তাহা হইলে কাজ কৰ্ম্ম কি করিয়া করি! বৈকাল বেলা ক্ষুধায় মাথা ঘুরিতে থাকে, দাঁড়াইতে পারি না, বসিয়া পড়ি। কিন্তু বসিলেই আবার শ্বাশুড়ী গালি দিতে থাকেন। এ বাড়ীর পিছনে ছোট একটী তেঁতুল গাছ আছে দেখিয়াছ? পেটের জুলায় সেই গাছ হইতে রাশি রাশি কাচা তেঁতুল পাড়িয়া খাই। তাও খুব চুপি চুপি ৷ শ্বাশুড়ী (*xo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.com/f46লাকনাথ রচনাসংখব দেখিতে পাইলে আর রক্ষা থাকে না। যখন কাঁচা তেঁতুল না থাকে, তখন মুঠা মুঠা তেঁতুল পাতা চিবাই। আমি মরিয়া গেলে ছেলের পুনরায় বিবাহ দিয়া ইহারা অনেক টাকা পাইবেন। সেই জন্য ইহারা আমাকে এত যন্ত্রণা দেন। আর সেই জন্য পেট ভরিয়া আমাকে খাইতে দেন। না। ইচ্ছা যে, না খাইয়া আমি মরিয়া যাই। তা এইবার ইহাদের মনস্কামনা সিদ্ধ হইবে।” মা বলিলেন, — “বালাই!” start way: মহাত্মা-দর্শন মা বলিলেন, — “বালাই! তোমাকে আমরা আর এখানে রাখিব না। আর কখন তোমাকে এখানে পাঠাইব না। একটু পূৰ্ব্বে যদি বলিতে, তাহা হইলে কোন কালে তোমাকে আমরা এখােন হইতে লইয়া যাইতাম।” প্ৰভা বলিল,— “তা করিলে কি ভাল হইত? সকলে তাহা হইলে আমার নিন্দা করিত।” মা ও কন্যা বসিয়া বসিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ পরে মুস্তফি মহাশয় ফিরিয়া আসিলেন। তিনি বলিলেন যে,--“ডাক্তার এখনি মাসিবেন।” ডাক্তার আসিলেন। প্রভার বক্ষঃস্থল তিনি বলিলেন যে,- “মেয়েটীর দুই দিকেই নিমােনিয়া হইয়াছে। দুই দিকের শ্বফ্ট প্রশ্বাস-যন্ত্র বন্ধ হইয়া যাইতেছে। পীড়া অতিশয় কঠিন। পুনরায় দুই ঘণ্টা পরে আমি স্মৃত্ত্বির ঔষধাদির ব্যবস্থা করিয়া ডাক্তারািঠচলিয়া গেলেন। সন্ধ্যা বেলা অধর ও মাশ্চন্টক মহাশয় বাড়ী আসিলেন। কলুকে ও ছিছক পােড়ার কথা মুস্তফি মহাশয় গৃহিণীর নিকট শুনিয়াছিলেন। রাগে অধীর হইয়া মাশ্চাটককে তিনি বলিলেন,- “তোমাদের মত নিষ্ঠুর লোক পৃথিবীতে নাই! নরকেও তোমাদের স্থান হইবে না। কাল প্ৰাতঃকালে আমি আমার কন্যাকে এখান হইতে লইয়া যাইব । স-মানে ছাড়িয়া দাও, ভালই; না ছাড়িলে, আদালতে আমি নালিশ করিব। নালিশ করিলে, তোমাদের জেল হইবে, তা জান?” মাশ্চন্টক মহাশয় উত্তর করিলেন,- “স্বচ্ছন্দে তুমি লইয়া যাইতে পার। ও বীেয়ে আর আমাদের কাজ নাই। গুণ করিবার জন্য সে দিন সে আমার ছেলের ভাতের ভিতর শিকড় দিয়াছিল! কোন দিন আমার ছেলেকে মারিয়া ফেলিবে। অমন রাক্ষসী বীেয়ের আমার কাজ নাই; পুত্রের আমি পুনরায় বিবাহ দিব। কত লোকে আমার সাধ্য সাধনা করিতেছে।” মুস্তাফি বলিলেন,- “হী, ঐ চৌদ্দ বৎসরের মেয়ে গুণ জ্ঞান জানে। বলিতে একটু লজ্জা হয় না? তোমাদের সহিত তর্ক করা বৃথা। যাহাদের ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম জ্ঞান নাই, ভগবানে যাহাদের ভয় নাই, তাহাদের আর আমি কি বলিব!” সন্ধ্যা বেলা ডাক্তার পুনরায় আসিলেন। প্রভাকে কলিকাতা লইয়া যাইবার কথা মুস্তাফি মহাশয় তাহাকে বলিলেন। বাহিরে গিয়া ডাক্তার বলিলেন,- “কাহাকে লইয়া যাইবেন? আর সে সময় নাই। সময় থাকিতে সে আয়োজন করিলে হইত। মেয়েটাকে একেবারে কালে Ο Χ o sig ofiżg5 Qg5 3KG! My www.amarboi.com mu Ο ΣΣ ধরিয়াছে। ইহার শরীরে আর কিছু নাই। রাজা প্ৰজা সকলকে যে লইয়া যায়, যাহার হাত হইতে কাহারও নিস্তার নাই, সেই বোধ হয়, আজ রাত্ৰিতে আপনার কন্যাকে লইয়া যাইবে, আপনাকে লইয়া যাইতে হইবে না।” ডাক্তার রাত্রিতে, আরও দুই তিন বার আসিলেন। প্ৰভাবতীকে বাঁচাইবার জন্য অনেক যত্ন করিলেন। কিন্তু প্ৰভাবতীর অবস্থা ক্রমেই মন্দ হইতে লাগিল। সন্ধ্যার পর প্রভাবতী বলিল,— “বাবা! বড় দাদা মেজ দাদাকে দেখিতে পাইব না?” মুস্তফি মহাশয় তৎক্ষণাৎ কলিকাতায় একজন লোক পাঠাইয়া দিলেন। ভাই দুইজন যথাসময়ে আসিয়া উপস্থিত হইল। দুই ভ্রাতার দুই হাত ধরিয়া প্ৰভাবতী বলিল,- “আমি ভাই, চলিলাম। বাবা মাকে তোমরা দেখিও । বাবা মায়ের মনে কখন কষ্ট দিও না।” রাত্রি দুই প্রহরের পর প্রভাবতীর সর্বশরীর শীতল হইয়া গেল। শ্বাস প্রশ্বাস যেন ক্ৰমে কমিয়া আসিতে লাগিল। পিতা মাতা ও দুই ভ্ৰাতা তাহাকে ঘিরিয়া বসিয়া রহিলেন। প্রভাবতী বলিল, — “আর আমার এখন কোন কষ্ট নাই। কেমন শান্তি! কেমন সুখ! সুখ ও স্বচ্ছন্দতায় সৰ্ব্বশরীর যেন পূর্ণ হইয়া আসিতেছে। মরণে যে এমন সুখ, পূৰ্ব্বে তাহা জানিতাম না। মনে করিতাম, মৃত্যুকালে লোকের কত না যাতনা হয়। কিছুমাত্র কষ্ট হয় না, মা! বড় সুখ। এ যে কি সুখ, তাহা তোমাদিগকে আমি বলিতে পারি না!” পিতা মাতা ভ্রাতা সকলেই কাঁদিতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ নিঃশব্দে থাকিয়া প্ৰভাবতী পুনরায় বলিল, “আমি একটু নিদ্রা গিয়াছিলাম। চমৎকার একটী স্বপ্ন দেখিলাম! না, সে স্বপ্ন নহে, কথা। বাবা! তোমাকে সেই সব কথা তিনি আমাকে বলিতে আজ্ঞা করিয়াছেন।” মুন্তফি মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ ? কে তোমাকে আজ্ঞা করিয়াছেন?” প্রভাবতী অতি মৃদুস্বরে উত্তর কব্লিট:১২ত “ এইমাত্র একজন বৃদ্ধ লোক আমার নিকট আসিয়াছিলেন। ঠিক মুনি ঋষিদের মতপার্তাহার শরীর তপ্তকাঞ্চনের ন্যায় উজ্জ্বল। কি প্ৰসন্ন মূৰ্ত্তিা! স্নেহ, দয়া ও ভালবাসা দিয়া বিধাতা যেন তাঁহার মুখখানি গড়িয়াছেন। হাসি হাসি মুখে তিনি আমাকে বলিলেন,- “প্রভাবতি! মরিতে কি তোমার ভয় হইতেছে?” আমি তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “আপনি কে?” তিনি উত্তর করিলেন,- “তোমার মত আমিও একদিন পৃথিবীতে মানুষ হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলাম। পৃথিবীতে থাকিতে যথাসাধ্য আমি ভাল কাজ করিতে চেষ্টা করিয়াছিলাম। ভগবানকে আমি ভক্তি করিতাম ও ভাল বাসিতাম। তাহার জীবীগণকেও আমি ভাল বাসিতাম। পরের দুঃখ মোচন করিতে ও সকলকে সুখে রাখিতে আমি চেষ্টা করিতাম। সাধ্য মতে কখন কাহারও মনে আমি দুঃখ দিতাম না। সত্য পথে থাকিয়া জীবনযাত্রা নিৰ্ব্বাহ করিতে সৰ্ব্বদা চেষ্টা করিতাম। সেই জন্য আমি এখন দেব-শরীর প্রাপ্ত হইয়াছি। অতি পবিত্ৰ মনোরম স্থানে পরম সুখে বাস করিতেছি। তোমাকে এখন সেই স্থানে লইয়া যাইব। কিছুদিন পরে তোমার পিতা মাতাও সেই স্থান যাইবেন। তোমার দ্বারা তোমার বােপকে এই সব কথা বলিতে আমি আদিষ্ট হইয়াছি।” প্রভাবতীর পিতা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তাহার পর?” 6:SR fitRig sniž3. g3 ze! A www.amarboi.comf33"*"***"*"* যোড়শ অধ্যায়। প্ৰভাবতীর কথা প্রভাবতী বলিল,— “সেই মহাত্মা পুনরায় আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তোমার মরিতে কি ভয় হইতেছে?” আমি উত্তর করিলাম,- “মরিতে আমার ভয় হয় নাই। তবে পিতা মাতাকে ছাড়িয়া যাইব, তাহারা আমার জন্য কাঁদিবেন, সেই জন্য আমার দুঃখ হইতেছিল। কিন্তু আপনার কথা শুনিয়া সে দুঃখ এখন আমার দূর হইল।” মহাত্মা বলিলেন,- “একবার আমার সঙ্গে এস, কেমন স্থানে আমরা বাস করি, কেমন স্থানে তুমি এখনি যাইবে, চল একবার দেখিয়া আসিবে।” এই কথা বলিয়া, তিনি আমার হাত ধরিলেন। ঘরের ছাদ ভেদ করিয়া আমরা উপরে উঠিলাম। অতি দ্রুতবেগে আমরা আকাশে গিয়া উঠিলাম। রাত্রিকাল, তথাপি উপরে উঠিয়া সূৰ্য চন্দ্র সব আমি দেখিতে পাইলাম। সূৰ্য চন্দ্র পার হইয়া আরও উপরে উঠিলাম। তাহার পর ক্ৰমে এক দেশে গিয়া আমরা উপস্থিত হইলাম। সে যে কি সুন্দর দেশ!-- তাহা বাবা, – তোমাকে আর কি বলিব! সেখানে নানাজাতীয় গাছ আছে, নানাজাতীয় ফুল আছে। কিন্তু সে গাছের, সে ফুলের যে কি শোভা, তাহা মুখে বলিতে পারা যায় না। পৃথিবীতে তাহার কোন উপমা নাই। সে স্থানের বায়ু কি সুমিষ্ট! চারিদিক ১সৌরভে পরিপূর্ণ বায়ুতে, বৃক্ষপত্রে, নদীর ঝরঝর শব্দে, চারিদিকে কেমন সুমধুর 9 পর সে স্থানের সব লোক! তাঁহাদের কি সুন্দর রূপ! সকলের উজ্জ্বল মুখে পবিত্ৰতা, শান্তি, ভালবাসা ও আনন্দ যেন মাখানো রহিয়াছে। সে স্থানে বালিকা আছে। কিন্তু একজনও বৃদ্ধ নাই।” প্ৰভাবতী বলিল,- “মহাত্মাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,-- এখানে কেহ বৃদ্ধ নাই। আপনার চুল তবে পাকিয়া গিয়াছে ফেঁটন?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “এইরূপ বেশ ধরিয়া তোমার নিকট যাইতে আমি আদেশ পাইয়াছিলাম। ইচ্ছামত আমরা নানারূপ বেশ ধরিভে পারি। যে সমুদয় স্থানে যাইতে আমাদের অধিকার আছে, নিমিষের মধ্যে সে সকল স্থানে আমরা যাইতে পারি।” আমি বলিলাম,- “এ স্থানটী কি সুন্দর! শান্তি ও আনন্দে স্থানটী যেন প্লাবিত হইয়া আছে!’ মহাত্মা বলিলেন, — ‘শীঘ্রই আমি তােমাকে এই স্থানে আনিব। মৃত্যুর পর ভাল লোকেরা দেবশরীর ধারণ করিয়া এই স্থানে আগমন করে। আত্মীয় স্বজনের সহিত সুখে এই স্থানে বাস করে। এ স্থানে হিংসা নাই, দ্বেষ নাই, রোগ নাই, শোক নাই; কিন্তু ইহা অপেক্ষা আরও অনেক সুখের স্থান আছে। আত্মীয় স্বজনের সহিত মানুষ ক্ৰমে ক্ৰমে সেই সকল স্থানে গমন করে। তাহাই মানুষের প্রকৃত ঘর; দুঃখময় পৃথিবী মানুষের প্রকৃত ঘর নহে।” মহাত্মার কথায় আমার যেন মনে শান্তি ঢলিয়া দিল, আমার বুদ্ধি পরিকৃত হইল। নানারূপ প্রশ্ন আমার মনে উদয় হইতে লাগিল। আমি তাহাকে যাহা জিজ্ঞাসা করিলাম, আর তিনি যাহা বলিলেন,- তাহার আদেশে, বাবা!— সে সকল কথা তোমাকে আমি বলিতেছি। মহাত্মাকে আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “যে বাড়ীতে আমি এক্ষণে বাস করি, তাহার একজন লোক বলেন যে, মানুষ মরিয়া গেলে আর কিছু থাকে না। সে কথা। তবে সত্য নয়?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “ঈশ্বর দয়াময়; তিনি প্ৰতারক নহেন। সেই করুণা-সাগরের এক Welf (Soff 6:S\E) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro কণা মাত্ৰ পাইয়া সজন লোক দয়াদ্রাচিত্ত হয়। পরমেশ্বর সকলের মনে বঁাচিবার ইচ্ছা! দিয়াছেন। আমার আমিত্ব অক্ষুন্ন থাকে, সেজন্য সকলেই লালায়িত। জীবনে ছলনা করিবার নিমিত্ত ঈশ্বর এ ইচ্ছা জীবের মনে প্ৰদান করেন নাই। জীবকে তিনি অনন্ত জীবন প্ৰদান করিয়াছেন।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “মানুষ হইবার পূৰ্ব্বে জীবের অবস্থা কি ছিল?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “যাহাকে লোকে জড়পদাৰ্থ বলে, অব্যক্ত ভাবে জীবের বীজ প্রথমে তাঁহাতে নিহিত ছিল। মহাশক্তি দ্বারা প্ৰতিপালিত হইয়া, জীব প্ৰথমে উদ্ভিদূ ও তাহার পর প্রাণিজগতে জন্মগ্রহণ করে। অবশেষে মানুষ হয় ও তখন তাহার মনে ন্যায় অন্যায়জ্ঞান ভালরূপে বিকসিত হয়।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “যাহারা ভাল কাজ করেন, তাহারা এইরূপ সুখের স্থানে আগমন করেন। যাহারা ভাল কাজ করেন না, মৃত্যুর পর তাঁহাদের কি হয়?” মহাত্মা উত্তর করিলেন, — ‘পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া যাহারা অর্থ উপাৰ্জ্জন করিয়া কেবল নিজের উদর পূর্ণ করে ও আপনার পরিবারবর্গকে প্রতিপালন করে, জগতের হিতের নিমিত্ত যাহারা কোন কাজ করে না, এরূপ লোক ঠিক পশুর ন্যায়, অর্থাৎ পশুরা যাহা করে, ইহারাও তাহাই করে। মৃত্যুর পর এরূপ লোক একপ্রকার সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করিয়া পৃথিবীতে হউক অথবা পৃথিবীর ন্যায় অন্য কোন স্থানে হউক, কিছুকাল বিচরণ করে। সেই সময় আমরা তাহাকে শিক্ষা প্ৰদান করি। আমাদের শিক্ষায় যদি তাহার চিত্ত ও পরিশুদ্ধ হয়, তাহা হইলে সে এ স্থানে আগমন করিতে সমর্থ হয়। আমাদের শিক্ষায় চিত্ত একান্তই উন্নত না হয়, তাহা བའི་ཨ་ལ་ལ་མི་སྦཁ་ཚན་ཁ་ལ་ཁ་ཅ་ཐ་ཐཁས་གྲྭ་ཀུན་ জন্মগ্রহণ করিতে হয়।” 3) ܣܛܘܢ সপ্তদশ অধ্যায় মন্দ কাজ ও ভাল কাজ প্রভাবতী বলিতেছে — “আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- যাহারা পরের অনিষ্ট করে ও নানারূপ পাপ করে, তাহদের কি হয়?” মহাত্মা উত্তর করিলেন, — মৃত্যুর পর কদাকার সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করিয়া তাহারা অন্ধকারময় জগতে গমন করে ও সে স্থানে নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করে। বহুকাল যন্ত্রণা ভোগের পর, আমরা তাহাকে শিক্ষা দিতে আরম্ভ করি। শিক্ষা-লাভে যদি তাহার চিত্ত পরিশুদ্ধ হয়, তাহা হইলে সে এই স্থানে আগমন করিতে সমর্থ হয়। যদি তাহার চিত্ত পরিশুদ্ধ না হয়, তাহা হইলে সে নিকৃষ্ট জীব অথবা মানুষ হইয়া পুনরায় জন্মগ্রহণ করে।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,— ‘মৃত্যুর পর স্ত্রী পুত্র কন্যা প্রভৃতি আত্মীয় স্বজনের সহিত সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হয় না?” মহাত্মা উত্তর করিলেন, — ‘ঈশ্বর দয়াময়। মানুষকে দিন কত কষ্ট দিবার নিমিত্ত মানুষের মনে তিনি স্নেহ মমতা ভালবাসা প্ৰদান করেন নাই। মানুষের সহিত তিনি ছিলনা করেন নাশ Σ8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comf","র্ডলাক্যনাথ ******** মৃত্যুর পর এই স্নেহ মমতা ভালবাসা বরং আরও প্রসারিত হয়। পুণ্যাত্মগণ স্ত্রী পুত্র পরিবারের সহিত অনন্ত কাল অনন্ত সুখ উপভোগ করেন।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “পুত্ৰ যদি ঘোর পাপী হয়, তাহা হইলে কি হয়?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “সে যখন পৃথিবীতে থাকে, তখন তাহাকে আমরা সৎপথে আনিতে চেষ্টা করি। মৃত্যুর পরও তাঁহাকে আমরা সেইরূপ শিক্ষা প্ৰদান করি। আমাদের চেষ্টা প্রায় বিফল হয় না। তাহার চিত্ত প্রসারিত ও পরিষ্কৃত করিয়া তাহাকে আমরা এ স্থানে আনিতে সমর্থ হই। যদি একান্ত আমাদের চেষ্টা বিফল হয়, যদি পুনরায় তাহাকে মনুষ্য অথবা নিকৃষ্ট জীব হইয়া জন্মগ্রহণ করিতে হয়, তাহা হইলে তাহার সহিত আমাদের সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়। ঈশ্বরের কৃপায় তাহার উপর আমাদের স্নেহ মমতা থাকে না। ঈশ্বরের কৃপায় তাহাকে আমরা বিস্মৃত হইয়া যাই।” ” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “শিক্ষা-দান ব্যতীত জীবিত মানুষদের অন্য বিষয়ে আপনারা উপকার করিতে পারেন?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “আমাদের শক্তি অসীম নহে। তাহা ব্যতীত জগদীশ্বর মানুষকে কতক পরিমাণে স্বাধীন করিয়াছেন। নিজের কৰ্ম্ম-ফলে মানুষ দেবত্ব লাভ করুক, ইহাই তাহার অভিপ্ৰায়। সেজন্য জ্ঞান-লাভের নিমিত্ত অনেক সময়ে কষ্টভোগ আবশ্যক। এরূপ স্থলে শক্তি থাকিলেও আমরা মানুষকে বিপদ ও দুঃখ হইতে রক্ষা করি না। চলিতে শিখিবার সময় অনেকে আছাড় খায়। তা বলিয়া মাতা তাহাকে কোলে বন্ধ করিয়া রাখেন না। যাহা হউক, এই স্থান হইতে আমাদের রশ্মি সৰ্ব্বদাই আত্মীয় স্বজনের ৱণ করি ও তাহাদিগকে নানা বিপদ হইতে রক্ষা করি। রেলের ঘটনা তুমি লোক রেল তুলিয়া ফেলিবে, তাহা জানিয়া তোমার পিতাকে আমিই সে স্থানে যাই। জ্বলন্ত চাদর নাড়িতে আমিই তোমার পিতাকে উপদেশ প্ৰদান করি ।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, - “ আপনি কে ছিলেন?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “পৃথিবীতে আমিই তোমার পিতার পিতা অর্থাৎ পিতামহ ছিলাম। তোমার পিতামহীও এই স্থানে আছেন। আরও পবিত্ৰ স্থানে যাইবার জন্য আমরা অনুমতি পাইয়াছি। কিন্তু তোমার পিতা মাতার জন্য অপেক্ষা করিতেছি।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কিরূপ ভাল কাজ করিলে মানুষ এস্থানে আসিতে পারে?” মহাত্মা উত্তর করিলেন, — ‘ঈশ্বরে ভক্তি, সত্যপথে বিচরণ ও পরাহিতে আত্ম-বিসর্জন— ইহাই ধৰ্ম্মের সার।’ আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “আত্ম-বিসৰ্জন কাহাকে বলে?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “নিজে কষ্ট পাইয়া পরের দুঃখ মোচন করা, নিজের ক্ষতি করিয়া পরের উপকার করা, ইহাকেই আত্ম-বিসর্জন বলে।’ আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “গরিব দুঃখীকে দান?” মহাত্মা উত্তর করিলেন,- “দান আত্ম-বিসর্জনের ভিতর। নিজে কষ্ট পাইয়া যে দান, তাহাঁই প্রধান দান। লোককে দিতে পারি, সেই শক্তির জন্য মানুষ যেন প্রার্থনা করে। লোকের নিকট হইতে লইব, সে কামনা মানুষ যেন কখন না করে। তাহা অপেক্ষা নীচ প্রবৃত্তি আর নাই। কিন্তু ভগবানু তাহার কামনা পূর্ণ করেন। নানা বিপদে পড়িয়া সে লোকের অবস্থার দিন দিন অবনতি হইয়া থাকে। অবশেষে চিরকাল তাহাকে পর-প্রত্যাশী হইয়া থাকিতে হয়।

      • " ooi*" sig ooinž35 g35 KG a, www.amarboi.com My ርPSርሱ কিরূপে অন্যের নিকট হইতে কিছু লইব, সৰ্ব্বদা যে এরূপ চেষ্টা করে, তাহার অবস্থা কখন ভাল হয় না। অন্যের নিকট হইতে লইয়া চিরকাল তাহাকে দিনপাত করিতে হয়।”

অষ্টাদশ অধ্যায়। প্ৰভাবতীর বিদায় প্রভাবতী বলিল,— ‘মহাত্মা এইরূপ আমাকে অনেক বলিলেন। এই সকল কথা, বাবা, তোমাকে বলিবার নিমিত্ত তিনি আমাকে আজ্ঞা করিয়াছেন। তোমরা আমার জন্য কাদিও না। দুঃখময় পৃথিবী ত্যাগ করিয়া আমি পরম সুখের স্থানে যাইতেছি। অল্প দিন পরে পুনরায় তোমাদের সহিত আমার সাক্ষাৎ হইবে। তখন আর আমাদের ছাড়াছাড়ি হইবে না। আর বাবা! তিনি বলিয়াছেন, তোমার সহিত শীঘ্রই আমার সাক্ষাৎ হইবে।” প্ৰভাবতীর কথা শুনিয়া সকলেই ঘোরতর বিস্মিত হইলেন । পিতা একবার জিজ্ঞাসা করিলেন, — “তোমার পিতামহ দেখিতে কিরূপ, তাহা বল দেখি?” যে প্রকার বৃদ্ধ বেশ তিনি ধারণ করিয়া প্ৰভাবতী তাহা বৰ্ণনা করিল। তাহা শুনিয়া মুস্তফি মহাশয়ের বিশ্বাস হইল যে, প্ৰভ প বকিতেছে না। যে সমুদয় কথা সে বলিল, সে সমস্ত সত্য। প্রভাবতী আপনার পি র ছবিও কখন দেখে নাই । কিছুক্ষণ পরে প্রভাবতী বলিল,- “চুক্লি”দিক অন্ধকার দেখিতেছি। তোমরা দুইজনে তুমি অন্যদিকে থাক।” প্রভাবতীর শরীর ক্রমে অবশ হইয়া আসিতে লাগিল। শ্বাস প্ৰশ্বাস ক্রমেই ক্ষীণ হইতে লাগিল। রাত্রি অবসানপ্রায় হইল। সেই সময় প্রভাবতী অতি মৃদুস্বরে বলিল,— “বাবা! মা! বড় দাদা! মেজ দাদা! এইবার আমি চলিলাম!! আমাকে বিদায় দাও। সকলের পায়ের ধূলা -भांद्ध धीश निों९3 ।" সকলের পায়ের ধূলা প্ৰভাবতী মাথায় লইল। তাহার পর অতি মৃদুস্বরে সে বলিল,— “যিনি আমাকে পৃথিবীতে প্রেরণ করিয়াছিলেন, যিনি আমাকে এত বড় করিয়াছিলেন, যিনি আমাকে এমন পিতা মাতা দিয়াছিলেন, তাহার শ্ৰীচরণে এখন আমি আপনাকে সমর্পণ করিলাম।” অল্পক্ষিণ পরে মা কাদিয়া উঠিলেন। প্রভাবতী ঠিক কখন যে ইহলোক হইতে বিদায় হইয়াছিল, তাহা কেহ জানিতে পারেন নাই। সহাস্য বদনে ঠিক যেন সে নিদ্ৰা যাইতেছিল। বারোটার পূৰ্ব্বে ডাক্তার কয়বার আসিয়াছিলেন। কিন্তু তাহার পর আর তিনি আসেন নাই। সেই সময় তিনি বলিয়া গিয়াছিলেন যে,- “আর বৃথা চেষ্টা ঔষধ সেবন করাইয়া রোগীকে বৃথা আর কষ্ট দিয়া কাজ নাই।” প্রভাবতীর শ্বশুর শ্বাশুড়ী ও স্বামী কোথায় ছিলেন? “আমার গঙ্গাস্নান পূজা পাঠ আছে, তাহার পর, সকাল সকাল কলিকাতায় যাইতে হইবে।” রাত্রি দশটার সময় মাশ্চন্টক মহাশয় OS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comf"র্ভ"ৰ ৰাষ্ট”সখিৰ এই কথা বলিয়া আপনার ঘরে গিয়া শয়ন করিলেন । “ডাক্তারি ঔষধে মন্দ দ্রব্য আছে। ও-সব বস্তু আমি ছুইতে পারিব না।” এই কথা বলিয়া শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী রোগীর নিকট একবারও আসেন নাই, রোগীর ঘরে। পৰ্যন্ত একবারও প্রবেশ করেন নাই । স্বামী অধর বাড়ী ছিলেন না। পাড়ার লোক অনেকে প্ৰভাবতীকে দেখিতে আসিয়াছিলেন। তাহার মধ্যে এক বিধবা ব্ৰাহ্মণী প্ৰভাবতীকে বড় ভালবাসিতেন। তাঁহার পুত্রের নাম গোপাল, সেজন্য সকলে তাঁহাকে “গোপালের মা” বলিয়া ডাকিত। বার বার আসিয়া, প্ৰভাবতীর মায়ের নিকট বসিয়া, তিনি অনেক কাদিয়াছিলেন ও অনেক দুঃখ করিয়াছিলেন। প্রতিবেশিগণের অনেকে মুস্তফি মহাশয়কে জানিতেন, মুস্তফি মহাশয়কে অনেকে ভক্তি করিতেন, ও তাঁহার দুঃখে তাহারা ঘোরতর ব্যথিত হইয়াছিলেন। প্ৰাতঃকালে আসিয়া তাহারা বলিলেন, — “মুস্তফি মহাশয়! আপনি কলিকাতায় প্রত্যাগমন করুন। এ সময় যাহা কিছু কৰ্ত্তব্য, সে সমুদয় আমরা করিব। সেজন্য আপনার কোন চিন্তা নাই।” প্রভাবতীর মুখে মহাত্মার বিবরণ ও তাঁহার প্রদত্ত উপদেশ শ্রবণ করিয়া, মুস্তফি মহাশয়ের ও তাহার গৃহিণীর মন অনেকটা শান্ত হইয়াছিল। তাঁহারা ভাবিলেন যে,- “অনন্ত-জীবনের তুলনায় মনুষ্য-জীবন কয়টা দিন! দুই দিন পরে প্রভাবতীর সহিত পুনরায় আমাদের সাক্ষাৎ হইবে।” এই বলিয়া তাহারা মনকে প্ৰবোধ দিতে দূর্গকিন্তু তথাপি মানুষের প্রাণ অনুজল তাহারা সংবরণ করিতে পারিলেন না; চক্ষু ফুট্ৰিক্ষ্ম” আপনা-আপনি জল আসিতে লাগিল। কাদিতে কাদিতে তাহারা কলিকাতায় প্ৰ |400p উনবিংশ অধ্যায়। দৈবের ঘটনা দুই মাস কাটিয়া গেল। পূজার পূৰ্ব্বে একদিন মুস্তফি মহাশয় মনে করিলেন,- “প্ৰভাবতীর পীড়ার সময় ওপারের ডাক্তার অনেক বার আসিয়াছিলেন, রাত্রি জাগিয়া অনেক পরিশ্রম করিয়াছিলেন। প্ৰভাবতীর আয়ু ছিল না, সে বঁাচিল না, ডাক্তারের তাহাতে দোষ কি? ডাক্তারকে আমি গিয়া ধন্যবাদ করি ও আরও কিছু টাকা দিয়া আসি।” এইরূপ ভাবিয়া, এক দিন আফিসের পর ঠিক সন্ধ্যার সময়, ওপারে যাইবার নিমিত্ত তিনি একখানি নীেকায় গিয়া বসিলেন। কিছুক্ষণ পরে সেই নীেকায় তাহার বৈবাহিক মাশ্চন্টক মহাশয় ও তাঁহার পুত্র অধর আসিয়া উপস্থিত হইলেন। মুস্তফি মহাশয় একবার মনে করিলেন যে, এ নীেকা পরিত্যাগ করিয়া অন্য নীেকায় যাই। পুনরায় ভাবিলেন যে,- “আমার লজ্জা কি! আমি তো আর কোন দোষ করি নাই। তবে এই পাষণ্ড দুইটার মুখ দেখিলেও পাপ হয়, এই যা৷ ”

  • "***" ooi*" sig oriż35 g35 RFG a www.amarboi.com My GANA এইরূপ ভাবিয়া, নীেকার এক পার্শ্বে তিনি চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। বৈবাহিক অথবা জামাতার সহিত কোনরূপ বাক্যালাপ করিলেন না। তাহাদের দিকে চাহিয়াও দেখিলেন না।

নীেকার অপর লোকেরা মাশ্চন্টক মহাশয়কে শশব্যস্তভাবে অভ্যর্থনা করিল। “আসুন, মাশ্চন্টক মহাশয় আসুন! আজ আমাদের সুপ্ৰভাত যে, আপনার সহিত সাক্ষাৎ হইল।” এইরূপ বলিয়া তাহারা সকলে সরিয়া বসিল এবং মাশ্চন্টক মহাশয় ও তাঁহার পুত্রকে বসিবার নিমিত্ত উত্তম স্থান দিল। নির্দিষ্ট লোক-সংখ্যা যখন পূর্ণ হইল, মাঝিরা তখন নীেকা ছাড়িয়া দিল। ভয়ানক একটানা, ছিড়িয়া যেন পলাইবার উপক্রম করিতেছে। বিয়ার পাশ দিয়া ও জাহাজ সকলের সম্মুখ দিয়া কলকল শব্দে জল প্রবাহিত হইতেছে। কোন স্থানে জল ঘূর্ণিত হইয়া গৰ্ত্ত হইয়া পড়িতেছে, কোন স্থানে জল প্রবলবেগে নিম্ন দিকে শোষিত হইতেছে, কোন স্থানে ফুটিয়া পুনরায় উপরে উঠিতেছে। দুই একজন বাবু বলিলেন, — “মাঝি সাবধান!! আজি বড় টান।” কিছু দূর গিয়া মাঝি একটা বয়ার সম্মুখ দিয়া যাইতে চেষ্টা করিল। অল্প অল্প অন্ধকার হইয়াছে। মাঝি ঠিক বুঝিতে পারিল না। নীেকা, বিয়া পার হইতে পারিল না। দুরন্ত স্রোতের বলে নীেকা গিয়া বয়ার উপরে পড়িল। নীেকাখানি জলপূৰ্ণ হইয়া তৎক্ষণাৎ ডুবিয়া t2ख्न । মুস্তফি মহাশয় একটু বাহিরের দিকে বসিয়াছিলেন, আর তিনি উত্তম সীতার জানিতেন। একবার ডুবিয়া পুনরায় তিনি ভাসিয়া উঠিলেন। বিয়া আবদ্ধ থাকে, সম্মুখে তিনি সেই মোটা শৃঙ্খল দেখিতে পাইলেন। সেই তিনি ধরিয়া ফেলিলেন। স্রোতের বলে শৃঙ্খল হইতে তাহার হস্ত জ্বলিত হইবার উপক্রম হইল। অনেক কষ্টে তিনি বিয়ার উপর পড়িলেন। বিয়া হেলিয়া দুলিয়া তাঁহাকে ফেলিয়া দিবার উপক্ৰম করিল। বয়ার আঙুটা ধরিয়া অতি কষ্টে তিনি বসিয়া সেই সময় আর একটী লোক ভাসিয়া সেই বয়ার সেই শৃঙ্খল ধরিয়া ফেলিল। একবার উপর দিকে চাহিয়া লোকটা চীৎকার করিয়া বলিল,— “যাদব, যাদব! আমাকে বাঁচা ভাই! আমাকে ধৰ্ব ভাই! আমাকে তুলিয়া নে ভাই। এ সময় সে সব কথা ভুলিয়া যা! তুই আমার চিরকালের বন্ধু।” কোন কথা না বলিয়া, মুস্তফি মহাশয় বৈবাহিক মাশ্চন্টক মহাশয়কে অতি কষ্টে বয়ার উপর তুলিয়া লইলেন। বিয়ার উপর উঠিয়া মাশ্চন্টক মহাশয় কাতরস্বরে বলিয়া উঠিলেন,- “অধর কোথায় গেল? অধর বুঝি ডুবিয়া মরিল! হায়, হায়, আমার সর্বনাশ হইল!” নীেকার আর কে কোথায় গেল, তাহা তাহারা বলিতে পারেন না, কিন্তু দৈবের ঘটনা! অধর সেই সময় ভাসিয়া উঠিল, আর সেই বয়ার সেই শৃঙ্খল সেও আসিয়া ধরিল। উপর দিকে চাহিয়া, বিয়ার উপর পিতাকে দেখিয়া, অধর বলিল,- “বাবা! আমি শিকল ধরিয়া রাখিতে পারিতেছি না, নীচের দিকে আমাকে টানিয়া লইতেছে। শীঘ আমাকে ধর, আমাকে বাঁচাও, তা না হইলে আমি যাই।” মাশ্চন্টক মহাশয় অতি বিনীতভাবে বলিলেন,- “যাদব! যাদব! আমাকে রক্ষা করুত্ব ভাই! অধরকে ধরিয়া তুলি, আমার সে শক্তি নাই, ভাই! আমার অধরকে বাঁচা, ভাই!’ 6ቅ&br figlig anż3. g35 ze - www.amarboi.com%E77*"*"***"*"****** মুস্তফি মহাশয় কোন উত্তর করিলেন না, চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। অধর পুনরায় চীৎকার করিয়া বলিল,— “বাবা! শিকল আর ধরিয়া রাখিতে পারি না। আমাকে বাঁচাও, বাবা! তা না হইলে তোমার অধর জনমের মত যায়, বাবা!” মাশ্চন্টক মহাশয় বিয়ার উপর আপনার মাথা ঠুকিতে লাগিলেন। অতি কাতর স্বরে তিনি বলিলেন,- “হায়! হায়! আমার সাৰ্ব্বনাশ হইল। যাদব! আমাকে রক্ষা কর। এ বিপদের সময়ে সব তুলিয়া যা ভাই! আমার সর্বস্ব গিয়াছে, তা না হইলে তোর পাঁচ শত টাকা আমি ফিরিয়া দিতাম। আরও অনেক টাকা তোকে আমি দিতাম। কিন্তু আমার আর কিছু নাই, ভাই! আমার ছেলেকে তুই বঁচা। ঐ ছেলেটী ভিন্ন পৃথিবীতে আমার আর কিছু নাই। উহার বিবাহের সম্বন্ধ হইয়াছে। অগ্রহায়ণ মাসে উহার বিবাহ হইবে। অনেক টাকা পাইব । আমার ছেলেকে বঁচা ভাই! সেই টাকা হইতে তোকে আমি অনেক টাকা দিব। তোর কাছে চিরকাল আমি কেনা হইয়া থাকিব ।” মুস্তফি মহাশয়ের মন যদি বা একটু নরম হইয়াছিল, কিন্তু অধরের বিবাহের কথা শুনিয়া পুনরায় তাহার হৃদয়ে সেই পুরাতন অগ্নি জুলিয়া উঠিল। কন্যার মুখ স্মরণ করিয়া তিনি রাগে অধীর হইয়া পড়িলেন। মানুষের শরীর! তিনি ক্ৰোধ সংবরণ করিতে পারিলেন না। দুই চারিটীি কথা এইবার তিনি বলিয়া ফেলিলেন। তিনি বলিলেন,- “দুরাত্মন! কন্যার শোকে তুই আমাদের জরজর করিয়াছিস্ । পুত্রের শোক তোরাও পা!” নীচে হইতে অধর পুনরায় বলিয়া উঠিল—“ব্যরূৰ্গীত আমার অবশ হইয়া গেল। মাথায় ও হাতে আমার চোট লাগিয়াছিল। আর ধরিয়া থাকিতে পারি না। যদি আমাকে বঁাচাইতে হয়, তাহা হইলে আর বিলম্ব করিওলুং” শীঘ্ৰ আমাকে ধর।” মাশ্চন্টক মহাশয় বিয়ার উপর মাথা লাগিলেন, আর অতি কাতর স্বরে মিনতি করিতে লাগিলেন,- “যাদব! যাদব! চিন্তু দয়ার শরীর। আমাকে রক্ষা কর! আমাকে রক্ষা কর! আমার ছেলেটীকে বাঁচা ভাই!” মুস্তফি মহাশয় মনে মনে চিন্তা করিতেছিলেন, — “নরাধমকে বঁাচাইতে চেষ্টা করিতে হইবে। কিন্তু আমারও হাত পা অবশ হইয়া গিয়াছে। উহাকে ধরিয়া বয়ার উপর তুলি, এখন আমার সে শক্তি নাই। উহাকে ধরিতে গেলে ঐ নিৰ্ব্বোধ হয় তো আমাকেই টানিয়া জলে ফেলিবে । কি করি!” এমন সময় নীচে হইতে অধর বলিয়া উঠিল,— “বাবা! এই চলিলাম।” এই কথা বলিয়া সে শিকল ছাড়িয়া দিল। তৎক্ষণাৎ সে ডুবিয়া গেল। অল্প দূরে ভাসিয়া গিয়া একবার তাহার মাথা জলের উপর উঠিল। জলের উপর মাথা তুলিয়া সে কেবল এই কথাটী বলিল,- “বাবা!”

  • "***" o7roiTo" sig ooinž35 g35 KG a, www.amarboi.com My GSS বিংশ অধ্যায় বিদ্যুৎবরণী দেবকন্যা

এই কথা বলিয়াই পুনরায় সে জলমগ্ন হইল। মুস্তফি মহাশয় মনে মনে ভাবিলেন যে,- “আজি আমারও মৃত্যু নিশ্চয়, কিন্তু একটী প্রাণী আমার সম্মুখে মরিবে, আর আমি তাহাকে বীচাইতে চেষ্টা করিব না, তাহা তো হইতে পারে না। তাহার পর, পরম শত্রুও কখন যেন পুত্ৰশোক না। পায়, সৰ্ব্বদা ইহাই আমার একান্ত কামনা। উহার পিতা আর ও-নিজে যতই কেন নরাধাম হউক না, উহাকে আমি বঁাচাইতে চেষ্টা করিব। এখন যা থাকে কপালে।” এইরূপ ভাবিয়া মুস্তফি মহাশয় তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দিলেন। অধর আরও কিছু দূরে আর একবার মাথা তুলিল। অতি দ্রুতবেগে মুস্তফি মহাশয় সেই স্থানে গিয়া, তাহার চুল ধরিয়া ফেলিলেন। অধর দুই হাতে তাঁহাকে জড়াইয়া ধরিল। মুস্তফি মহাশয় বলিলেন,- “পাষণ্ড!! আমার হাত ছাড়িয়া দেব। আমার দুই হাত ও বক্ষঃস্থল যদি তুই এইরূপ জড়াইয়া ধরিবি, তাহা হইলে তোকে বীচাইব কি করিয়া? তুইও মরিবি, আমিও মরিব।” ভয়ে হতজ্ঞান হইয়া অধর তাঁহাকে আরও জোরে জড়াইয়া ধরিল। দুই জনেই ডুবিয়া গেলেন। অধরকে লইয়া মুস্তফি মহাশয় পুনরায় ভাসিয়া উঠিলেন। তিনি বলিলেন,- “ওরে নরাধম! ঐ দেখু আমাদিগকে জাহাজের সম্মুখে টানিয়ার্ল্ড ইয়া যাইতেছে। একটু না হয়। আলগা দে, আমার একটা হাত, না হয় ছাড়িয়া দে যে, পাশ দিয়া ভাসিয়া যাইতে চেষ্টা করি। তা না হইলে, দুইজনেই এখনি রূপানীচে গিয়া পড়িব ।” দুই হাত দিয়া অধর আরও জোরে তঁ জড়াইয়া ধরিল। মুস্তফি মহাশয় আপনার বক্ষঃস্থল হইতে তাহার হাত ছাড়াইতে অনৈর্কি চেষ্টা করিলেন। কিন্তু কিছুতেই কৃতকাৰ্য হইতে পারিলেন না। তখন তিনি দীর্ঘ নিশ্বাস্ট্রপরিত্যাগ করিয়া, বলিলেন,- “হে জগদীশ্বর! তোমার যাহা ইচ্ছা, তাহাই হউক।” বয়ার উপর বসিয়া মাশ্চন্টক মহাশয় সমুদয় ঘটনা দেখিতেছিলেন, আর চীৎকার করিতেছিলেন– “হায়! হায়! সৰ্ব্বনাশ হইল! হায় হায়! আমার সর্বনাশ হইল! বাপ সকল! কে কোথায় আছিস, আয় । আমার অধরকে তোরা বঁচা।” বয়ার উপর বসিয়া তিনি দেখিলেন যে,-মুস্তাফি অধরের চুল ধরিল। তিনি দেখিলেন যে,-অধর মুস্তাফিকে দুই হাতে জড়াইয়া ধরিল । তিনি দেখিলেন যে, দুই জনে একবার ডুবিয়া গেল, তাহার পর পুনরায় ভাসিয়া উঠিল। অবশেষে তিনি দেখিলেন যে, প্রবল স্রোতবেগে তাহারা জাহাজের মুখে গিয়া পড়িল। তাহার পর তিনি দেখিলেন যে,- সেই ঘূর্ণিত জল দুইজনকে নিম্নে যেন চুষিয়া লইল। জড়ােজড়ি হইয়া দুই জনে জাহাজের নীচে গিয়া পড়িল; আর উঠিল না। মাশ্চন্টক মহাশয় আপনার বুক চাপড়াইয়া কেবল বলিতে লাগিলেন যে,- “আমার সৰ্ব্বনাশ হইল! সব আশা ভরসা আমার এইবার ফুরাইল!” একবার আকাশের দিকে চাহিয়া তিনি বলিলেন,- “হে ভগবান! তোমার মনে কি এই छिल?" সেই সময় তিনি দেখিলেন যে—অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশের একধার আলোকিত হইল। GSR o frig ož3. g3 ze - www.amarboi.comfo%7*"*"***"**** আকাশের সেই স্থান যেন একটু ফাটিয়া ফাক হইল। তাহার ভিতর হইতে এক জ্যোতিৰ্ম্ময়ী বিদ্যুৎ-বরণী দেবকন্যা বাহির হইল। তাহার শরীর হইতে যেন কিরণবৃষ্টি হইতে লাগিল। সেই কিরণে সমস্ত আকাশ আলোকিত হইল। সেই বিদ্যুৎ-বরণী হু হু শব্দে পৃথিবীতে নামিতে লাগিল। সেই বিদ্যুৎ-বরণী জাহাজের সম্মুখে উপস্থিত হইয়া, গঙ্গা-জলের ভিতরে প্রবেশ করিল। অল্পক্ষণ পরে সেই বিদ্যুৎ-বরণী পুনরায় জল হইতে উঠিল। কিন্তু এবার সে একেলা ছিল না। এক জন উজ্জ্বল দেব-শরীর-বিশিষ্ট মহাপুরুষের হাত ধরিয়া সে জলের ভিতর হইতে উঠিল। তাঁহার হাত ধরিয়া পুনরায় সেই বিদ্যুৎ-বরণী আকাশে উঠিতে লাগিল। রহিলেন। অবশেষে তিনি বলিয়া উঠিলেন,- “ঐ আমার পুত্রবধু প্ৰভাবতী। আর ঐ তাহার পিতা যাদব মুস্তাফি। জ্যোতিৰ্ম্ময় দেবশরীর ধারণ করিয়া উহারা দুই জনে আকাশে চলিয়া গেল। কিন্তু আমার পুত্ৰ অধর জলের ভিতর পড়িয়া রহিল। সে আর উঠিল না! অধর কোথায় গেল! ময়না কোথায় গেল! টুকটুক!” উপরে উঠিয়া সেই দুই দেব-মূৰ্ত্তি আকাশে বিলীন হইয়া গেল। সেই সময় নিম্নের বায়ু ঈষৎ কম্পিত হইল। সেই কম্পিত বায়ু মাশ্চন্টক মহাশয়ের গায়ে আসিয়া লাগিল। পুত্রের মৃত্যু স্বচক্ষে দর্শন করিয়া পূৰ্ব্বেই তিনি জ্ঞানহীন হইয়াছিলেন। অবশিষ্ট যাহা কিছু জ্ঞান ছিল, সেই কম্পিত বায়ু লাগিয়া তাহাও এক্ষণে বিনষ্ট হইয়া গেল। তিনি ক্ষিপ্ত হইলেন। সেই বায়ু লাগিয়া তাহার অৰ্দ্ধ অঙ্গ পড়িয়া গেল। পক্ষাঘাত রোগ দ্বারা আক্রান্ত তাহার অৰ্দ্ধ অঙ্গ অবশ অসাড় হইয়া গেল। খলখল শব্দে তিনি হাসিয়া উঠিলেন। বয়ার উ ত গড়াইয়া তিনি জলে পড়িলেন। সেই সময় সেই স্থানে একখানি নীেকা আসিয়া উপিস্থত হইল। মাঝিরা তাঁহাকে জল হইতে নীেকার উপর তুলিল। নীেকায় বসিয়া এদিক ওদিকে চাহিয়া তিনি বলিলেন, —— “অধর কোথা গেল! ময়না কোথা গেল! s" নীেকার মাঝিরা দেখিল যে, ত নাই, তাহার অৰ্দ্ধেক শরীর পড়িয়া গিয়াছে। কলিকাতার কিনারায় গিয়া, অন্যান্য আরোহীদিগকে চড়াইল। যে নৌকা ডুবিয়া গিয়াছিল, তাহার আরও কয়েক জন লোক বাঁচিয়াছিল। কেহ অন্য বয়ার উপর বসিয়া, কেহ। কিনারায় দাঁড়াইয়া, সমুদায় ঘটনা দেখিয়াছিল। তাঁহাদের অনেকেও আকাশের সেই বিদ্যুৎবরণী দেবকন্যাকে দেখিয়াছিল। তাহারা সেই সব গল্প করিতে লাগিল। মাশ্চন্টক মহাশয় ওপার হইতে প্ৰতিদিন নীেকা করিয়া কলিকাতায় আসিতেন। সকলেই তাঁহাকে জানিত। তাহার দুঃখে সকলে দুঃখিত হইল। কলিকাতা হইতে নীেকা ছাড়িয়া দিল। যথাসময়ে ও-পারের ঘাটে গিয়া পৌঁছিল! প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধব কয়েক জনে মিলিয়া কোন মতে মাশ্চন্টক মহাশয়কে বাড়ী লইয়া গেল। একটী ঘরে তাঁহাকে একখানি তক্তপোষের উপর শয়ন করাইল। মাশ্চন্টক মহাশয় উঠিয়া বসিতে পারেন না; অৰ্দ্ধাঙ্গ নাড়িতে চাড়িতে পারেন না। তাঁহার জ্ঞান নাই। তিনি লোক চিনিতে পারেন না। অন্য কোন কথা তিনি বলিতে পারেন না। তাহার মুখে কেবল এই কয়টী কথা— “অধর কোথা গেল! ময়না কোথা গেল! টুকটুকু!” এই কয়টী কথা কখন তিনি উচ্চৈঃস্বরে বলিতেন, কখন বা বিজবিজ করিয়া আপনি বকিতেন, কখন বা উহা বলিয়া কাঁদিতেন। সকলে যখন তাঁহাকে বাড়ী লইয়া আসিল, তখন তাঁহার গৃহিণী অতি কাতরস্বরে জিজ্ঞাসা ଅଙ୍ଗୂ (~rity! S sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro করিলেন,- “অধর কৈ!" যাহা ঘটিয়াছে, তাহা শুনিয়া তিনি বুক চাপড়াইতে লাগিলেন। মাথায় একখানি থান ইট মারিলেন। প্ৰবল ধারায় সেই আঘাত হইতে রক্ত পড়িতে লাগিল। কিন্তু কাঁদিলে আর কি হইবে! এ রোগের ঔষধ নাই। সহ্য করিতেই হইবে। দারুণ শোকে তাহার চিত্তও কতক পরিমাণে বিকৃত হইয়া গেল। বিকৃত চিত্তের আপাততঃ অন্য কোন লক্ষণ ছিল না। কেবল তিনি লোকের সহিত ভাল করিয়া কথা কহিতেন না। আপনার মনে সৰ্ব্বদাই কি চুপি চুপি বকিতেন। তা না হইলে সংসারের সমস্ত কাজ কৰ্ম্ম তিনি একেলা করিতেন। শুচিবাইয়ের জ্বালায় তাহার বাড়ীতে দাসদাসী থাকিত না। সেজন্য সকল কাজ তাঁহাকে একেলা করিতে হইত। স্বামী শয্যা-ধরা, উত্থানশক্তি-রহিত, জ্ঞানহীন শিশুর ন্যায়; তক্তপোষের এক পার্শ্বে কোন মতে সরিয়া তিনি মলমূত্র পরিত্যাগ করতেন। গৃহিণীকে সে সমুদয় পরিষ্কার করিতে হইত। নীেকা-ডুবির দুই দিন পরে পরস্পরে জড়িত দুইটী মৃতদেহ গঙ্গার নিম্ন দিকে কিছুদূরে কিনারায় গিয়া পড়িল। মুস্তফি মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ পুত্ৰ সুরেশ সেই সংবাদ পাইয়া, বন্ধুবান্ধবের সহিত সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইলেন। মৃতদেহ দুইটী তাঁহারা শ্মশানে লইয়া আসিলেন। সকলে অনেক চেষ্টা করিলেন; কিন্তু অধরের হাত মুস্তফি মহাশয়ের শরীর হইতে কিছুতেই ছাড়াইতে পারিলেন না। নিরুপায় হইয়া দুইটী মৃতদেহ এক সঙ্গে এক চিতায় দাহ করিবার নিমিত্ত সকলে মানস করিলেন। কিন্তু সুরেশ বলিল, “তা হইবে না; ও নরাধমের সহিত ব্যার সহকার আমি করতে দিব না। নরাধমের স্থা ছাড়াইতে হয়, তাহাও আমি করিব।” ○ প্ৰহারের সময় যে হাত দিয়া সে প্ৰভাবতীর্কীয়া থাকত, যে হাত দিয়া প্ৰভাবতীকে চড় চাপড় বেত জুতা মারিত, সকলে আজ মড় মডু করিয়া ভাঙ্গিলেন; তবে সকলে ভাবে দাহ করিয়া সকলে বাড়ী শ্ৰাদ্ধাদি ক্রিয়া সমাপ্ত করিয়া সুরেশ পিতার সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিল। আদ্যোপান্ত সকল বৃত্তান্ত শ্রবণ করিয়া সাহেব। আর কোন কথা না বলিয়া, মুস্তফি মহাশয়ের কৰ্ম্মটী তাঁহার পুত্রকে প্ৰদান করিলেন। স্বামি-শোকে সুরেশের মাতা অতি কাতর মনে অনেক দিন অতিবাহিত করিলেন। সময়ে মানুষ শান্তি লাভ করে। কিছু দিন পরে তিনি পুত্র দুইটীর বিবাহ দিলেন; অনেকগুলি পুত্ৰ, পৌত্র, পৌত্রী লইয়া সুরেশের মাতা সুখে কালব্যাপন করিতে লাগিলেন। এ দিকে মাশ্চটক-গৃহিণীর মন দিন দিন অধিক বিকৃত হইতে লাগিল। তাঁহার শুচিবাই আরও বৃদ্ধি হইল। কিন্তু সে শুদ্ধাচার এখন আর বৃথা! যে শগুড়িকে তিনি এত ভয় করিতেন, সেই শগুড়িতে মাশ্চন্টক মহাশয় এখন মাখা-মাখি হইয়া থাকিতেন। তক্তপোষে ভাত, বিছানায় ভাত, মেজেতে ভাত, মাথায় ভাত, সৰ্ব্বত্ৰে ভাত। গৃহিণী যত পারিতেন, গোবর-জিল দিয়া ধুইতেন ও গোবর-জল আপনার মাথায় ঢালিতেন। কিন্তু প্ৰতিদিন যখন এই কাণ্ড, তখন কত আর তিনি পরিষ্কার রাখিবেন! No frig ož3. g3 ze - www.amarboi.comf:37*"*"***"***** একবিংশ অধ্যায়। বামা কাওরাণী অল্প দিন পরে পাড়ার লোক আর একটী বিষয় অবগত হইয়া, ঘোরতর বিস্মিত হইল। সকলে জানিতে পারিল যে, মাশ্চন্টক মহাশয়ের বাড়ী নিলাম হইয়া গিয়াছে। যাহা কিছু ভূমিসম্পত্তি তিনি ক্রয় করিয়াছিলেন, তাহাও সেই সঙ্গে গিয়াছে। মাশ্চন্টক মহাশয়কে সকলে ধনবান লোক বলিয়া জানিত। এরূপ দুর্ঘটনা। তবে কিরূপে হইল? ইহার কারণ ক্ৰমে ক্রমে সকলে অবগত হইল। শীঘ্ৰ আরও বড় মানুষ হইবার মানসে মাশ্চন্টক মহাশয় ও তাঁহার পুত্র কোম্পানির কাগজের ব্যবসা করিয়াছিলেন। প্রথম প্রথম বিলক্ষণ লাভ হইয়াছিল। এমন কি, প্ৰথম দুই মাসে তাঁহারা চল্লিশ হাজার টাকা লাভ করিয়াছিলেন। এমনি সুপড়তা পড়িয়ছিল যে, ধূলা-মুঠিা ধরিলে সোণা-মুঠা হইতেছিল। সেই সময় বোটের কাজ তিনি ছাড়িয়া দিয়াছিলেন ও বোট বেচিয়া ফেলিয়াছিলেন। কিন্তু ভগবতীর ব্যবসা পরিত্যাগ করেন নাই; কারণ, তাহাত লাভ অধিক ছিল। প্রভাবতীর মৃত্যুর পর ইহাদের লক্ষ্মী যেন ছাড়িয়া গেলেন। তখন হইতে কোম্পানির কাগজের ব্যবসাতে লোকসান হইতে লাগিল। সুপড়তার সময় একাজে যেমন লাভ, কুপড়তার সময় তেমনি ক্ষতি। এক এক বারে দশ হাজার—বারো হাজার টাকা লোকসান হইতে লাগিল। এখন সোণা-মুঠা ধরিলে ধূলা-মুঠা হইতে লাগিল। পূৰ্ব্বে যাহা কিছু লাভ করিয়াছিলেন, প্ৰথম সে সমুদয় গেল। তাহার পর ঘূর্বাঞ্ছ১ নগদ টাকা ও নিজের কোম্পানির কাগজ প্রভৃতি যাহা কিছু ছিল, সে সমুদয় নষ্ট র পর তিনি ঋণ করিয়া কিছু দিন ব্যবসা চালাইলেন; অবশেষে বাড়ী ঘর ভূমি সম্পত্তি বাধা দিয়া কাজ করিতে লাগিলেন । ক্ৰমাগতই লোকসান হইতে লাগিল; ঋণ বৃদ্ধি হইতে লাগিল। এইরূপে অল্প দিনের মধ্যে মাশ্চন্টক মহাশয়ের সর্বস্বান্ত ঋণের দায়ে এক্ষণে তাঁহার বাড়ী ঘর ও সমুদয় ভূমিসম্পত্তি বিক্রীত হইয়া গেল। তাঁর্হক্টর যে এত ঋণ হইয়াছিল, বাড়ী বঁধা পড়িয়াছিল, পাড়ার লোক তাহার কিছুই জানিত না। মাশ্চন্টক মহাশয়ের জ্ঞান-গোচর ছিল না। “ময়না কোথা গেল! টুকটুক!” এই কয়টী কথা ব্যতীত অন্য কথা তাহার এখন মুখ দিয়া বাহির হইত না। কোন রূপ কষ্ট হইলে কেবল ঐ কয়টীি কথা বলিয়া, তিনি উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিতেন। তাঁহার স্ত্রীর হাতে যাহা কিছু টাকা ছিল, পিতা পুত্রে তাহা পূৰ্ব্বেই লইয়াছিল। সামান্য যাহা ছিল, তাহা দিয়া কিছু দিন তিনি সংসার চালাইলেন। কিন্তু সে টাকা অল্প দিনের মধ্যেই শেষ হইয়া গেল। তখন একজন প্রতিবেশীকে একখানি গহনা তিনি বিক্রয় করিতে দিলেন। কিন্তু এক্ষণে প্ৰকাশ হইল যে, মাশ্চন্টক মহাশয় আপনার স্ত্রীর সহিতও প্রবঞ্চনা করিয়াছিলেন। কোম্পানির কাগজের ব্যবসার শেষ অবস্থায় যখন তাহার টাকার নিতান্ত প্রয়োজন হইয়াছিল, তখন পিতা পুত্রে পরামর্শ করিয়া—“নূতন রং করিতে হইবে”—এই কথা বলিয়া তাঁহার সমুদয় গহনাগুলি লইয়াছিলেন। গহনাগুলি বিক্রয় করিয়া টাকা আপনাদের ব্যবসাতে ফেলিয়াছিলেন। সেই সমুদয় সোণার গহনার পরিবৰ্ত্তে কেমিক্যাল সোণার অর্থাৎ গিলটি করা পিত্তলের গহনা তাঁহাকে আনিয়া দিয়াছিলেন। পিতা পুত্রে, এক জন স্ত্রীর সহিত ও অন্য জন মাতার সহিত,- যে চাতুরী করিয়াছিলেন, এক্ষণে তাহা ধরা পড়িল। গহনা বেচিয়া যে কিছু কাল সংসার চালাইবেন, মাশ্চটক-গৃহিণীর সে ভরসাও তিরোহিত হইল। কি করিবেন! বাসন-কোসন বিক্রয় করিতে লাগিলেন । অল্প দিনের মধ্যে সে Wget spojęfj! sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro (*R9 সমুদয় শেষ হইয়া গেল। ঘরে পিত্তল কঁসার দ্রব্য রহিল না। তাহার পর খাট পালঙ্গ প্রভৃতি কাষ্ঠ-নিৰ্ম্মিত দ্রব্য বিক্রয় করিতে লাগিলেন। অল্প দিনে তাহাও শেষ হইয়া গেল। মাশ্চটক মহাশয় যে তক্তপোষ খানির উপর শুইয়া—বসিয়া থাকিতেন, তাহা ব্যতীত ঘরে আর কোন কাঠের জিনিষ রহিল না। অবশেষে শাল দোশালা ও বিক্রয়-উপযোগী যাহা কিছু কাপড় চােপড় ঘরে ছিল, তাহাও বিক্রয় করিয়া ফেলিলেন। পূৰ্ব্বে সাধ করিয়া উলঙ্গ থাকিতেন, এক্ষণে বাধ্য হইয়া কতক পরিমাণে তাঁহাকে উলঙ্গ থাকিতে হইল। শোকে দুঃখে মাশ্চটক-গৃহিণীর চিত্ত দিন দিন অধিক হইতে অধিকতর বিকৃত হইতে লাগিল। শুচিবাই ব্যতীত এক্ষণে আর একটী নৃতন বাই তাঁহার মনে উপস্থিত হইল। দ্রব্যাদি বিক্রয় করিয়া হাতে পয়সা হইলেই তাহার অধিকাংশ তিনি কাঠ, কয়লা ও গুল কিনিয়া খরচ করিয়া ফেলিতেন। তাহা দিয়া সন্ধ্যার পর ঘরের ভিতর তিনি আগুন করিতেন। শুচিবাই ব্যতীত এক্ষণে তােহর আগুন করা বাই হইল । এই সময় তাহাদের আর একটী বিপদ উপস্থিত হইল। যে লোক নিলামে ইহাদের বাড়ী কিনিয়াছিলেন, তিনি ইহাদিগকে উঠাইয়া, বাড়ী অধিকার করিতে চেষ্টা করিলেন। কিন্তু মাশ্চটক-গৃহিণী তাঁহার কথা-বিন্দু-বিসর্গও বুঝিতে পারিলেন না। “ম্যাগী পাগল না কি! উঠিয়া যাইতে বলিলে, বিড় বিড় করিয়া কি বকে! আর এক দিন আসিয়া ইহাদিগকে গলা-ধাক্কা দিয়া বাড়ী হইতে বাহির করিয়া দিব।” এই কথা বলিয়া আপাততঃ তিনি চলিয়া গেলেন। বেচিয়া পয়সা হয়, এরূপ কোন বস্তু অবশেষে ঘরে আর রহিল না। মাশ্চন্টক মহাশয় ও তাহার স্ত্রীর উপবাস হইতে লাগিল। মাশ্চটক- র দ্বার প্রায় সৰ্ব্বদাই বন্ধ করিয়া রাখিতেন। সেজন্য ইহাদের বাড়ীর ভিতর কি না হইতেছে, পাড়ার লোক বড় তাহা জানিতে পারিত না। ক্ষুধার জ্বালায় মাশ্চটক রাত্রিকালে,- “ময়না কোথা গেল! ময়না কোথা গেল! এই কথা বলিয়া অতি চীৎকার করিতেন। আর কোন কথা তিনি বলিতে পারিতেন না। ইহার চীৎকারুগুত বৃদ্ধি হইল কেন, পাড়ার লোক তাহা বুঝিতে পারিল ଲୀ । মাশ্চন্টক মহাশয়ের বাড়ীর পশ্চাৎ অর্থাৎ পূৰ্ব্ব দিকে এক পুষ্করিণী ছিল। পুষ্করিণীতে যাইবার নিমিত্ত ইহাদের খিড়কি দ্বার ছিল। সেই খিড়কি দ্বারের নিকট ছোট একটী তেঁতুল গাছ ছিল। পুষ্করিণীর পশ্চিম ধারে মাশ্চন্টক মহাশয়দিগের ঘাট ছিল। তাহা ব্যতীত উত্তর দিকে একটী ও পূৰ্ব্ব দিকে দুইটী ঘাট ছিল। উত্তর দিকের ঘাট গোপাল, গোপালের-মা প্রভৃতি পাড়ার ব্ৰাহ্মণ ব্ৰাহ্মণীগণ ব্যবহার করিতেন। পূৰ্ব্ব দিকের একটী ঘাট কাওরা ও মুচিব্দের ছিল। পুষ্করিণীর দক্ষিণ দিকে ছােট ছােট বন-গাছ দ্বারা আবৃত পতিত ভূমিখণ্ড ছিল। তাহাতে কাওরা, মুচি প্রভৃতি নীচ জাতিরা মল ত্যাগ করিত। এক দিন দুই প্ৰহরের সময় গোপালের-মা ঘাটে আসিয়া দেখিলেন যে, মাশ্চটক-গৃহিণী তেঁতুল তলায় দাঁড়াইয়া গাছ হইতে কি পাড়িতেছেন। গোপালের-মা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ওখানে কি করিতেছি দিদি?” কোন উত্তর না দিয়া মাশ্চটক-গৃহিণী ধীরে ধীরে বাটীর ভিতর গমন করিলেন । পর দিন অপরাহে দুইটার সময় বামা কাওরাণী শশব্যস্ত হইয়া গোপালের-মায়ের মাটীতে উপস্থি হইল। রাগ ও দুঃখের সহিত গোপালের-মাকে সে বলিতে লাগিল,- “আজ তিন দিন ধরিয়া আমি এই কাজ দেখিতেছি। কাহাকেও কোন কথা বলি নাই। কিন্তু আর আমি থাকিতে (S8 fi:Ilă zi, o go sel - www.amarboicom** পারি না। আমরা নীচ জাতি। আমার ছেলেপিলে মুখে রক্ত উঠিয়া মরিবে, আমার হাতে কুড়িকিষ্টি হইবে। উনি যেন পাগল হইয়াছেন; কিন্তু আমাদের অধৰ্ম্ম কোথায় যাইবে? আমাদিগকে ইহার শান্তি ভোগ করিতে হইবে।” আশ্চৰ্যন্বিত হইয়া গোপালের-মা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কি হইয়াছে? কে পাগল বামা কাওরাণী উত্তর করিল,— “চল, দেখিবে চল । আজ আবার ঘাটে আসিয়াছেন। তিন দিন যা করিতেছেন, আজও তাই করিবেন! চল, দেখিবে চল ।” গোপালের-মা পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কোথায় যাইব? কি দেখিব?” বামা কাওরাণী উত্তর করিল,— “একবার ঘাটে চল । দোহাই তোমার, একবার ঘাটে গিয়া দেখিবে চল। বড় শুচিবাই! বড় পিটুপিটে! তাই দেখিবে চল । ডিঙাইয়া পথ চলিতেন। আমরা নীচ জাতি। পাছে আমাদের বাতাস গায়ে লাগে, তাই আমাদিগকে দেখিলে দশ হাত দূরে গিয়া দাঁড়াইতেন। এখন কি করিতেছেন, তাহা একবার দেখিবে চল!” গোপালের-মা দেখিলেন যে, কাওরাণীর মন এত উত্তেজিত হইয়াছে যে, তাহাকে আর অধিক কথা জিজ্ঞাসা করা বৃথা। আস্তে আস্তে তিনি ঘাটের দিকে চলিলেন। কাওরাণী তাঁহাকে আপনাদের ঘাটের দিকে লইয়া গেল ও একটী গাছের অন্তরালে দাড়াইয়া চুপি চুপি ঘাটের দিকে চাহিয়া দেখিতে বলিল । গাছের অন্তরালে দাড়াইয়া গোপালের-মা দেখিলেন প্ৰাণী ছিল না, কেবল কাওরাদের ঘাটে ঠিক জলেক্ট করিতেছিলেন। সভয়ে এদিক ওদিক চাহিয়া ফ্ৰাঞ্জন্টিক কুড়াইয়া লইলেন। তখন বামা কাওরানী চুপ্রিশ্নটুিপি বলিল,- “ঐ দেখ! আজি তিন দিন আমি এই কারখানা দেখিতেছি।” গোপালের-মা দেখিলেন যে, কোনলৈ পাশে ফেলিয়া দিয়াছিল। মাশ্চটক-গৃহিণী অতি যত্নে সেই উচ্ছিষ্ট চৰ্ব্বিত ডাঁটাগুলি কুড়াইয়া বাম হাতে রাখিলেন। তাহাতে যে দুই একটী ভাতের কণা লাগিয়াছিল, দক্ষিণ হাত দিয়া অতি সাবধানে তাহা খুঁটিয়া খুঁটিয়া খাইতে লাগিলেন। তাহার পর সেই চৰ্ব্বিত ডাঁটাগুলি একে একে পুনরায় তিনি চিবাইতে ও চুষিতে লাগিলেন। বামা কাওরাণী চুপি চুপি বলিল,- “আমি কাওরা, নীচ জাতি। ঐ ডাটা আমি খাইয়াছিলাম। ব্ৰাহ্মণের মেয়ে হইয়া আমার ঐটাে উনি খাইলেন। উনি পাগল হইয়াছেন। কিন্তু আমার দশা কি হইবে? আমার ছেলেপিলে মুখে রক্ত উঠিয়া মরিবে।” গোপালের-মা মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন,— “হায়! হায়! কাহার অদৃষ্ট কি আছে, তাহা বলিতে পারা যায় না। ইনি সেই অধরের মা—অহঙ্কারে পৃথিবীতে যাহার পা পড়িত না! ঘোর দৰ্পে সকলকে যিনি ঘৃণা করিতেন! অশুদ্ধ ও অপরিষ্কার বলিয়া সকলকে যিনি ঘৃণা করিতেন! শগড়ির নামে যিনি অজ্ঞান হইতেন, হায়! হায়! সেই লোক আজ বামী কাওরাণীর উচ্ছিষ্ট ভোজন করিতাছেন! পাগল হইয়া ইনি এ কাজ করেন নাই; বোধ হয়, কিছু দিন ইহাদের আহার হয় নাই। পেটের জ্বালায় ইনি এই কাজ করিতেছেন। ক্ষুধার জ্বালায় লোকে কি না করে? শুনিয়াছি যে, দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ,- মানুষের মাংস ভক্ষণ করে, ছেলের নিকট হইতে ভাত কাড়িয়া খায়। আরও শুনিয়াছি যে, কেহ শ্লেষ্মা পরিত্যাগ করিলে, ক্ষুধাৰ্ত্ত লোকগণ দৌড়া

  • ABls våd (SS BGl www.amarboi.com ro ዕኢSር

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৯ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।