মানসাঙ্ক (প্রথম ভাগ, ১৮৭৩)/দ্বিতীয় প্রশ্নোত্তর
দ্বিতীয় প্রশ্নোত্তর।
শিক্ষক। (অগ্রে সাতটী সাতটী গোলা গণনকের এক এক তারে স্বতন্ত্র রাখিয়া) প্রশ্ন করিলেন। হরি! তুমি এই সাতটী গোলাকে দুই ভাগ কর।
হরি এক ভাগে একটী ও অপর ভাগে ছয়টী রাখিয়া দুই ভাগ করিলেন।
শি। রাম! তুমি এই সাতটীকে দুই ভাগ কর? রাম এক ভাগে দুইটী আর এক ভাগে পাঁচটী রাখিলেন।
শিক্ষক সকল বালককে জিজ্ঞাসা করিলেন, কেমন রামের ভাগ করা ঠিক হইয়াছে? সকলে বলিল, ঠিক হইয়াছে।
শি। কালি! তুমি এই সাতটীকে দুই ভাগ কর তোমার কৃত ভাগগুলি যেন হরি ও রামের কৃত ভাগের মত না হয়।
কালী এক ভাগে তিনটী আর এক ভাগে চারিটী রাখিলেন।
শি। মাধব! তুমি এই সাতটীকে দুই ভাগ কর। কিন্তু তোমার কৃত ভাগগুলি যেন হরি, রাম ও কালীর কত ভাগের মত না হয়।
মাধব একভাগে চারিটী আর এক ভাগে তিনটী রাখিলেন।
শিক্ষক বলিলেন, তুমি ভালরূপে দেখ, তোমার কৃত ভাগগুলি অন্যের কৃত ভাগগুলির ন্যায় হইয়াছে কি না। মাধব দেখিয়া বলিলেন, না, অন্যের কৃত ভাগের মত হয় নাই। শিক্ষক অপর বালকদিগকে জিজ্ঞাসা করিলে, কেদার বলিল, মহাশয়! মাধবকৃত দুই ভাগ আর কালীর কৃত দুই ভাগ সমান হইয়াছে?
শি। কেমন করিয়া সমান হইয়াছে?
কেদার। কালীর এক ভাগে তিনটী মাধবেরও এক ভাগে তিনটী, এবং কালীর আর এক ভাগে চারিটী মাধবেরও আর এক ভাগে চারিটী।
শি। কেদার উত্তম উত্তর করিয়াছেন। তোমাদিগের মধ্যে কেহ কি হরি, রাম ও কালী দ্বারা কৃত ভাগ ভিন্ন আর কোন দুই ভাগে এই সাতটী গোলাকে বিভাগ করিতে পার?
বালকেরা। (কিছু বিবেচনা করিয়া) না, মহাশয়।
শি। তবে দেখ, সাতটী গোলাকে ভিন্ন ভিন্ন দুইটী দুইটী ভাগে বিভাগ করিতে হইলে, একটী ও ছয়টী, দুইটী ও পাঁচটী, এবং তিনটী ও চারিটী, এই তিন প্রকার ভিন্ন অন্য কোন প্রকার হয় না।
শিক্ষক স্বয়ং বালকদিগকে পূর্ব্বোক্ত প্রকারে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন করিবেন এবং মধ্যে মধ্যে যে যে বালককে সমর্থ জ্ঞান করিবেন তাহাদিগকে পর্য্যায়ক্রমে অপরাপর ছাত্রকে প্রশ্ন করিতে আদেশ করিবেন। এইরূপে শিক্ষা দিলে বালকদিগের পাঠে আমোদ জন্মিতে পারে। অপর, যে ভিন্ন ভিন্ন দুইটী দুইটী সংখ্যার যোগে, ২ অবধি ১০ পর্য্যন্ত সংখ্যা উৎপন্ন হইতে পারে তাহা তৃতীয় পাঠেই লিখিত হইয়াছে। সেই গুলি বিশেষরূপে বুঝাইবার নিমিত্ত যে পথ অবলম্বন করা আবশ্যক তাহাই কথঞ্চিৎ প্রদর্শিত হইল। সেই গুলি অঙ্কের দ্বারা পশ্চাল্লিখিতরূপে প্রকাশিত হইতে পারে।