মানুষের ধর্ম্ম

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
 

মানুষের ধর্ম্ম

 

কমলা দেবী

The Kamala Lectures

মানুষের ধর্ম্ম

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

Logo of Calcutta University - a diagram in The History of the Bengali Language.png

 

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৩৩

 

 

PRINTED AND PUBLISHED BY BHUPENDRALAL BANERJEE

AT THE CALCUTTA UNIVERSITY PRESS, SENATE HOUSE, CALCUTTA.

 

Reg. No. 704B—May, 1933- Ae

 

Ashutosh Mukherjee.jpg

FOUNDER'S LETTER

77, RUSSA ROAD NORTH,
BHOWANIPORE,
CALCUTTA
9th February, 1924

TO

THE REGISTRAR,
CALCUTTA UNIVERSITY

Sir,

 I desire to place at the disposal of my University Government Securities for Rupees Forty Thousand only of the 3 per cent. Loan with a view to establish a lectureship, to be called the Kamala Lectureship, in memory of my beloved daughter Kamala (b. 18th April, 1895—d. 4th January, 1923). The Lecturer, who will be annually appointed by the Senate, will deliver a course of not less than three lectures, either in Bengali or in English, on some aspect of Indian Life and Thought, the subject to be treated from a comparative standpoint.

The following scheme shall be adopted for the lectureship:

(1) Not later than the 31st March every year, a Special Committee of five members shall be constituted as follows:

One member of the Faculty of Arts to be nominated by the Faculty.
One member of the Faculty of Science to be nominated by the Faculty.
One member to be nominated by the Council of the Asiatic Society of Bengal.
One member to be nominated by the Bangiya Sahitya Parisad.
One member to be nominated by the Founder or his representatives.

(2) The Special Committee, after such enquiry as they may deem necessary, shall not later than the 30th June, draw up a report recommending to the Senate the name of the distinguished scholar. The report shall specify the subject of the proposed lectures and shall include a brief statement of their scope.

(3) The report of the Special Committee shall be forwarded to the Syndicate in order that it may be laid before the Senate for confirmation not later than the 31st July.

(4) The Senate may for specified reasons request the Special Committee to reconsider their decision but shall not be competent to substitute another name for the one recommended by the Committee.

(5) The Lecturer appointed by the Senate shall deliver the lectures at the Senate House not later than the month of January next following.

(6) The Syndicate shall, after the lectures are delivered in Calcutta, arrange to have them delivered in the original or in a modified form in at least one place out of Calcutta, and shall for this purpose pay such travelling allowance as may be necessary.

(7) The honorarium of the Lecturer shall consist of a sum of Rupees One Thousand in cash and a Gold Medal of the value of Rupees Two Hundred only. The honorarium shall be paid only after the lectures have been delivered and the Lecturer has made over to the Registrar a complete copy of the lectures in a form ready for publication.

(8) The lectures shall be published by the University within six months of their delivery and after defraying the cost of publication the surplus sale proceeds shall be paid to the Lecturer, in whom the copyright of the lectures shall vest.

(9) No person, who has once been appointed a Lecturer shall be eligible for re-appointment before the lapse of five years.

Yours faithfully,

Asutosh Mookerjee.


ভূমিকা

মানুষের একটা দিক আছে যেখানে বিষয়বুদ্ধি নিয়ে সে আপন সিদ্ধি খোঁজে। সেইখানে আপন ব্যক্তিগত জীবযাত্রা-নির্ব্বাহে তার জ্ঞান তার কৰ্ম্ম তার রচনাশক্তি একান্ত ব্যাপৃত। সেখানে সে জীবরূপে বাঁচতে চায়।

কিন্তু মানুষের আর একটা দিক আছে যা এই ব্যক্তিগত বৈষয়িকতার বাইরে। সেখানে জীবনযাত্রার আদর্শে যাকে বলি ক্ষতি, তাই লাভ, যাকে বলি মৃত্যু সেই অমরতা। সেখানে বৰ্ত্তমান কালের জন্যে বস্তু সংগ্ৰহ করার চেয়ে অনিশ্চিত কালের উদ্দেশে আত্মত্যাগ করার মূল্য বেশি। সেখানে জ্ঞান উপস্থিত-প্রয়োজনের সীমা পেরিয়ে যায়, কৰ্ম্ম স্বার্থের প্রবর্ত্তনাকে অস্বীকার করে। সেখানে, আপন স্বতন্ত্র জীবনের চেয়ে যে-বড়ো জীবন সেই জীবনে মানুষ বাঁচতে চায়।

স্বার্থ আমাদের যে-সব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে; যা আমাদের ত্যাগের দিকে তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধৰ্ম্ম।

কোন মানুষের ধৰ্ম্ম? এতে কণর পাই পরিচয়? এ তো সাধারণ মানুষের ধৰ্ম্ম নয়, তাহলে এর জন্যে সাধনা করতে হোত না।

আমাদের অন্তরে এমন কে আচেন যিনি মানব অথচ যিনি ব্যক্তিগত মানবকে অতিক্রম ক’রে "সদা জনানাং হৃদয়ে সন্নিবিষ্টঃ।" তিনি সর্ব্বজনীন সর্ব্বকালীন মানব। তাঁরই আকর্ষণে মানুষের চিন্তায় ভাবে কৰ্ম্মে সৰ্ব্বজনীনতার আবির্ভাব। মহাত্মারা সহজে তাঁকে অনুভব করেন সকল মানুষের মধ্যে, তাঁর প্রেমে সহজে জীবন উৎসর্গ করেন। সেই মানুষের উপলব্ধিতেই মানুষ আপন জীবসীমা অতিক্রম ক’রে মানবসীমায় উত্তীর্ণ হয়। সেই মানুষের উপলব্ধি সর্ব্বত্র সমান নয় ও অনেক স্থলে বিকৃত ব’লেই সব মানুষ আজও মানুষ হয়নি। কিন্তু তাঁর আকর্ষণ নিয়ত মানুষের অন্তর থেকে কাজ করচে ব’লেই আত্মপ্রকাশের প্রত্যাশায় ও প্রয়াসে মানুষ কোথাও সীমাকে স্বীকার করচে না । সেই মানবকেই মানুষ নানা নামে পূজা করেচে, তাঁকেই বলেচে "এষ দেবো বিশ্বকৰ্ম্মা মহাত্মা।" সকল মানবের ঐক্যের মধ্যে নিজের বিচ্ছিন্নতাকে পেরিয়ে তাঁকে পাবে আশা ক’রে তাঁর উদ্দেশে প্রার্থনা জানিয়েচে

স দেবঃ

স নো বুদ্ধ্যা শুভয়া সংযুনক্তু।

সেই মানব, সেই দেবতা, য একঃ, যিনি এক, তাঁর কথাই আমার এই বক্তৃতাগুলিতে আলোচনা করেচি।

শান্তিনিকেতন

১৮ই মাঘ, ১৩৩৯

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 

পরিচ্ছেদসমূহ (মূল গ্রন্থে নেই)

সূচীপত্র

 
 

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৮ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।