মুক্তা-মালা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 

মুক্তা-মালা

 
সূচনা

প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা মহাদেববাবু মজলিস করিয়া বসেন। সেই মজলিসে যাদব, মাধব, রাঘব, ত্ৰিলোচন, গদাধর, ঘনশ্যাম প্রভৃতি বন্ধুগণ নিয়মিতরূপে উপস্থিত থাকেন। সেই মজলিসে সকলে গাঁজার ধূম পান করেন। মহাদেববাবুর টাকায় সভার সমুদয় ব্যয় নিৰ্ব্বাহিত হয়। সুতরাং মহাদেববাবু আডার আডডাধারী, দলের দলপতি। সভায় সভ্যগণ সৰ্ব্বদা তাঁহার প্রিয়পাত্ৰ হইতে চেষ্টা করেন। ভলরপে আজগুবি গল্প করিতে পারিলেই মহাদেববাবুর সন্তোষভাজন হইতে পারা যায়। গাঁজার ধূম পান করিতে করিতে সভায় প্রতিদিন নানারূপ গল্প হয়। বর্ষাকাল, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া আছে। টিপ্‌-টপ্‌ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে। পূৰ্ব্বদিক হইতে ফুর-ফুর করিয়া বায়ু প্ৰবাহিত হইতেছে। মহাদেববাবু বলিলেন,- “এই দুৰ্য্যোগের সময় মঞ্জর দুই-একটা গল্প না হইলে প্রাণ শিথিল হইয়া যায়। কাহারও তবিলে কি একটিও ఇy" যাদব বলিলেন— “কি গল্প শুনিতে ইচ্ছা! ? একটা ভূতের গল্প করিব?” মহাদেববাবু উত্তর করিলেন, — “নৃত্যুন র ভূতের গল্প হয়তো বল। পচা গল্প শুনিতে ইচ্ছা হয় না।” مج হলধর বলিলেন,- “ভূতের পর গল্প, বাঘের গল্প, চোর-ডাকাতের গল্প, রাজারাণীর গল্প, যুদ্ধের গল্প, এ সব অনেক হইয়া গিয়াছে। নূতন আর কিছু নাই।” মহাদেববাবু বলিলেন,- “সেকালের মতো একালে আশ্চৰ্য্য ঘটনাও ঘটে না। আরব্য উপন্যাসের লোকে কত জিন্ন দেখিতে পাইত। পঞ্চাশের উপর আমার বয়স হইয়া গেল। এ পৰ্যন্ত একটাও জিন কি একটাও পরী আমি দেখি নাই। সেজন্য আরব্য উপন্যাসের মত গল্পও আর একালে হয় না ।” রাঘব বলিলেন,- “একালে তেমন বাদশাও নাই, তেমন রাজাও নাই। বিক্রমাদিত্যর মত রাজা একালে থাকিলে, কত বত্রিশ-সিংহাসন, কত বেতাল-পঞ্চবিংশতি হইত।” ঘনশ্যাম বলিলেন, — “ভাল কথা বলিলে! একটি লোকের কথা আমার মনে পড়িয়া গেল। বৃত্তান্ত অতি অদ্ভুত। প্রতিদিন রাত্রিতে শয়ন করিয়া সেই গল্প তিনি আমাদের নিকট করিয়াছিলেন। তাহার অনেক কথা আমি একখানি খাতায় লিখিয়া লইয়াছিলাম। ঠিক যেন আরব্য উপন্যাস কি বেতাল-পঁচিশের গল্প। এ কলিকালে যে এরূপ ঘটনা হইতে পারে, তাহা বিশ্বাস হয় না।” ନ୍ଯୂ୫-୩rit R sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro আগ্রহসহকারে সকলেই সেই গল্প শুনিতে ইচ্ছা করিলেন। কিন্তু ঘনশ্যামবাবুর মনে মনে গৌরব বাড়িয়া গেল। তিনি বলিলেন,- “না না, সে মিথ্যা গল্প। লোকটা গল্পে। তাহার কথা বিশ্বাস হয় না। সে গল্প শুনিবার উপযুক্ত নহে।” হলধর বলিলেন,- “যদি বেতাল-পঁচিশের মত গল্প হয়, তাহা হইলে এই বাদলা সময় বড়ই মিষ্ট লাগিবে। বল না, ভাই ঘনশ্যাম! সে কি গল্প?” ঘনশ্যাম উত্তর করিলেন, — “সে কাজের গল্প নহে। সে লোকটা হয়তো গাঁজাখোর। তাহার গল্প শুনিবার উপযুক্ত নহে।” রাঘব বলিলেন,- “আমরাই কোন গাঁজাখোঁর নাই! গাঁজাখোরের গল্প গাঁজাখোরকেই ভাল লাগে ।” ঘনশ্যাম বলিলেন,- “গাজাখোর বলিলাম বটে, কিন্তু গাঁজা খাইতে তাহাকে আমি কখন দেখি নাই। গুডুক পৰ্যন্ত সে খায় না। তবে তাহার নিজের মুখেই আমি শুনিয়াছি যে, সে একবার পাগল হইয়া গিয়াছিল। পাগলের গল্প শুনিয়া কি হইবে?” যাদব বলিলেন,- “তা হউক! পাগলের গল্পই আমরা শুনিব।” এইরূপে সকলে অনেক সাধ্যসাধনা করিলেন, কিন্তু ঘনশ্যাম সে গল্প বলিতে কিছুতেই সম্মত হইলেন না। নিরাশ হইয়া সকলে অন্য প্রসঙ্গ আরম্ভ করিলেন। তখন ঘনশ্যামবাবুর ভয় হইল। তিনি মনে করিয়াছিলেন, সকলে যখন আরও অনেক সাধ্যসাধনা করিবে, তখন তিনি গল্প আরম্ভ করিবেন। এখন আর কেহ অনুরোধ করিল নৃ দেখিয়া তাঁহার ভয় হইল যে, পাছে গল্পটি বলা না হয় । তিনি ভাবিলেন, আর একবার করিলেই আমি গল্প করিব। ঘনশ্যামবাবুকে নিজেই সেই কথা র ভাল লাগিবে কি না, সেই ভয়ে আমি আডিডাধারী মহাদেববাবু এতক্ষণ চুপ করিয়াছিলেন । গন্ত্রীর স্বরে এখন তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন,- “গড়গড়ি মহাশয় কে?” ঘনশ্যাম উত্তর করিলেন,- “সেই বাঁকুড়ার লোক, যিনি আমাদের নিকট তাঁহার অদ্ভুত জীবনবিবরণ প্ৰদান করিয়াছিলেন। তাঁহার নিবাস মানভূম জেলা। কিন্তু এখন তিনি বাঁকুড়া জেলায় শ্বশুরালয়ে বাস করিতেছেন। তিনি লেখাপড়া জানেন। ইংরাজীতে দুই-একটা পাশ দিয়াছেন। কিন্তু তাহার কাহিনী শুনিলে চমৎকৃত হইতে হয়। ঠিক আরব্য উপন্যাস কি বেতাল-পঁচিশের গল্প।” মহাদেববাবু বলিলেন, — “গল্পটি যদি এত ভাল, তবে বলই না কেন, ছাই! কিন্তু সকলে যতই তোমায় অনুরোধ করিল, ততই যেন তোমার লেজ মোটা হইয়া উঠিল।” ঘনশ্যাম বলিলেন, — “আপনার যখন শুনিতে ইচ্ছা হইয়াছে, তখন নিশ্চয় আমি বলিব। কিন্তু এ একটি গল্প নয়। আরব্য উপন্যাসের মত অনেকগুলি গল্প। দিনারজাদির মত আজ সূচনা করিয়া রাখি। তাহার পর আমার খাতাখানি আনিয়া প্রতিদিন কিস্তিবন্দি করিয়া কিছু কিছু বলিব।” মহাদেববাবু সে কথায় সম্মত হইলেন। ঘনশ্যামবাবু গল্প আরম্ভ করিলেন। ঘনশ্যামবাবু বলিলেন,- “যাহার নিকট আমি এ গল্প শুনিয়াছি, তাহার নাম সুবল গড়গড়ি। আমার নিজের কথায় আমি এ গল্প করিব না; গড়গড়ি মহাশয় যেভাবে আমাদের বাসায় বলিয়াছিলেন, আমিও সেইভাবে তাঁহার কথায় গল্পটি করিব।” VObr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicom 26 প্ৰথম রজনী গড়গড়ি মহাশয় গড়গড়ি মহাশয় বলিতেছেন আমার নাম সুবলচন্দ্ৰ গড়গড়ি। আমাদের বাড়ী মানভূম জিলার সামান্য একখানি গ্রামে। আমাদের গ্রামের নিকট অনেকগুলি ছোট ছোট পাহাড় আছে। নিকটে বনও আছে। সেই বনে পূৰ্ব্বে অনেক ব্যাঘ্ৰ ও ভলুক বাস করিত। কখন কখন বন্য হন্তীরও উপদ্রব হইত। গ্রামের নিকট আমাদের কিছু সম্পত্তি ছিল। আমাদের নিজের চাষবাসও ছিল। সেজন্য সেই সামান্য স্থানে আমরা সম্পত্তিশালী লোক বলিয়া পরিগণিত ছিলাম। পুরুলিয়ার জিলা স্কুলে প্রথম আমি বিদ্যাশিক্ষা করি। সে স্কুল হইতে পাশ দিয়া, কলিকাতার কলেজে। আমি অধ্যয়ন করি। কলিকাতার কলেজ হইতে আর একটা পাশ দিলাম। ইহার কিছুদিন পরেই আমার পিতার পরলোক হইল। সেজন্য আর আমার লেখাপড়া হইল না। পৈতৃক সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ণের নিমিত্ত আমাকে দেশে প্রত্যাগমন করিত হইল। সে সময় সংসারে আমার মাতা, আমার পরিবার ও এক কনিষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন। আমার কনিষ্ঠ ভ্রাতার নাম অক্রুর ছিল, কিন্তু তাহাকে আমরা “ওকুর” বলিয়া ডাকিতাম। যখন পিতার পরলোক হয়, তখন ভ্রাতার বয়ঃক্রম দ্বাদশ বৎসরের হয় নাই। কনিষ্ঠকে আমি প্ৰাণ অপেক্ষা ভালবাসিতাম। মাতাঠাকুরাণীরও সে পুত্তলিস্বরূপ ছিল। আমার পরিবারও তাহাকে পুত্রের ন্যায় স্নেহ করিতেন। (ဌ)လဲ বাঁকুড়া জিলায় কুতুবপুর নামক গ্রামৃেদ্ভূমীর শ্বশুরালয়। এক্ষণে সেই স্থানে আমি বাস করিতেছি। আমার শ্বশুরের পুত্র অথবৃঙনিৰ্য্য কন্যা ছিল না। আমার পিতার পরলোকের পীচ বৎসর পরে আমার শ্বশুর মহাশয়গুইহধাম পরিত্যাগ করিলেন। তাঁহার সমুদয় সম্পত্তি আমার স্ত্রী পাইলেন। এই সম্পত্তি পাইয়া আমি মনে করিলাম যে, নিজে আমি ভালরূপে বিদ্যাশিক্ষা করিতে পারি নাই, কনিষ্ঠ ওকুরকে ভালরূপে লেখাপড়া শিখাইব। এইরূপ মনন করিয়া আমি তাহাকে কলিকাতায় আনিয়া ভাল একটি স্কুলে ভৰ্ত্তি করিয়া দিলাম। কলিকাতায় যাহাতে সে পরমসুখে দিনযাপন করিতে পারে, সেইরূপ বন্দোবস্ত করিয়া পুনরায় আমি দেশে প্রত্যাগমন করিলাম। আরও পাঁচ বৎসর কাটিয়া গেল। ভ্রাতার লেখাপড়ার বিষয়ে আমি বড়ই নিরাশ হইলাম। তাহার এখন যেরূপ বয়স, তাহাতে তিনটা পাশ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এ পৰ্যন্ত সে একটিও পাশ দিতে পারিল না। পূজা ও গ্ৰীষ্মের অবকাশে যখন সে বাটী থাকিত, তখন তাহার কথাবাৰ্ত্তায় আমি সন্তোষলাভ করিতে পারি নাই। তাহার চরিত্রবিষয়েও ক্ৰমে দুইএকটা কথা আমার কর্ণগোচর হইতে লাগিল! কলিকাতার খরচের নিমিত্ত যাহা প্রয়োজন, তাহা অপেক্ষা অধিক টাকা প্ৰতি মাসে তাহাকে আমি দিতাম। কিন্তু ক্ৰমে আমি শুনিতে পাইলাম যে, তাহা ব্যতীত মাঝে মাঝে সে গোপনভাবে মাতার নিকট হইতে আরও অনেক টাকা লইতে। এই কথা শুনিয়া আমি কলিকাতায় আসিয়া তাহাকে মিষ্ট বাক্যে অনেক বুঝাইলাম। টাকা যে সে অপব্যয় করে নাই, তাহার প্রমাণস্বরূপ সে আমাকে অনেক প্রকার 2छा-siना voors sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro হিসাব দেখাইল। কিন্তু সে যে আমাকে মিথ্যাকথা বলিতেছে, আর তাহার চরিত্র যে নিষ্কলঙ্ক নহে, এখন তাহা আমি নিশ্চয় বুঝিতে পারিলাম। আমি মনে করিলাম যে, ইহার লেখাপড়া আর হইবে না, ইহাকে আর কলিকাতায় রাখা উচিত নহে। দেশে লইয়া গিয়া শীঘ্রই ইহার বিবাহ দিতে হইবে। এইরূপ চিন্তা করিয়া আমি তাহাকে দেশে লইয়া যাইবার নিমিত্ত অনেক চেষ্টা করিলাম। কিন্তু সে কিছুতেই সম্মত হইল না। কলিকাতায় থাকিয়া এখন হইতে যত্ন করিয়া লেখাপড়া শিখিবে, আমার নিকট বারবার সে এইরূপ অঙ্গীকার করিল। অগত্যা একেলাই আমি দেশে প্রত্যাগমন করিলাম। বাটী। গিয়া আমি নিশ্চিন্ত হইতে পারিলাম না । তাহার বিবাহের আয়োজন করিতে লাগিলাম। কিন্তু দুৰ্ভাগ্যবশতঃ এই সময়ে আমাদের মাতাঠাকুরাণীর পরলোক হইল। সুতরাং বিবাহ বিষয়ে অন্ততঃ একবৎসরকাল বিলম্ব হইয়া গেল। মাতার শ্ৰাদ্ধোপলক্ষে কনিষ্ঠকে দেশে আনাইলাম। তাহার চালচলন দেখিয়া আমি বড়ই অসন্তুষ্ট হইলাম। মনে করিলাম যে, আর তাহাকে কলিকাতায় পাঠাইব না। মিষ্ট বাক্যে তাঁহাকে অনেক বুঝাইলাম, কিন্তু সে আমার কথা শুনিল না । আমার অমতেই কলিকাতায় চলিয়া গেল । কলিকাতায় আমার দুই-তিনটি বন্ধু ছিলেন। আমার ভ্রাতার প্রতি একটু লক্ষ্য রাখিতে তাহাদিগকে আমি অনুরোধ করিয়াছিলাম। তাহারা আমাকে মাঝে মাঝে পত্ৰ লিখিতেন। সেই সমুদয় পত্রে ক্রমাগতই মন্দ সংবাদ আসিতে লাগিল। আমার ভ্রাতার চরিত্র দিন দিন মন্দ হইতে মন্দতর হইতে লাগিল । ভ্রাতাও আমার নিকট ক্রমাগত টাকা চাহিতে লাগিল। এতদিন মাতার নিকট হইতে .ে টাকা লইয়া সে আকুলান কুলান কিরিত। এখন মাতা নাই । টাকার নিমিত্ত না লিখিলে আর উপায় নাই। প্রথম প্ৰথম ভয়ে ভয়ে নানারূপ ওজর করিয়া র নিকট টাকা চাহিত। কখন পীড়া হইয়াছে, কখন চুরি গিয়াছে, কখন হারাইয়া গিয়াছে, পুস্তক কিনিতে হইবে, কাপড় কিনিতে হইবে,-অন্যায় র নিমিত্ত টাকা আবশ্যক হইলে প্রথম প্রথম এইরূপ নানাপ্রকার ওজর করিয়া সে আমাকে চিঠি লিখিত। কিন্তু ক্ৰমে তাহার সে ভয় দূর হইল। পৈতৃক বিষয়ের সে একজন অংশীদার, অৰ্দ্ধাংশের উপর তাহার সম্পূর্ণ অধিকার আছে, সেই টাকা লইয়া সে যাহা ইচ্ছা করিবে,- ক্রমে ক্রমে সে আমাকে এইরূপ অসম্মানসূচক পত্র লিখিতে লাগিল। বলা বাহুল্য যে, এইরূপ পত্ৰ পাইয়া প্ৰথম আমি যারপরনাই আশ্চৰ্য্য হইলাম ও তাহার পর ঘোরতর দুঃখিত হইলাম। ভ্রাতাকে বুঝাইবার নিমিত্ত আমি কলিকাতায় আসিলাম। সে স্থানে আসিয়া আমি তাহাকে অনেক বুঝাইলাম। কিন্তু সে আমার মুখের উপর উত্তর করিতে লাগিল। যাহাকে পুত্ৰবৎ স্নেহ করি, যাহাকে প্রাণ অপেক্ষা ভালবাসি, সে আমার সহিত এইরূপ কথাবাৰ্ত্তা করিতে লাগিল, এ দুঃখ কি আর রাখিবার স্থান আছে! ভ্রাতাকে কত বুঝাইলাম, কত মিনতি করিয়া তাহাকে বলিলাম। কিন্তু আমার কথা অপেক্ষা তাহার বন্ধুদিগের কথা তাহার নিকট অধিক হইল। দেশে লইয়া যাইবার নিমিত্ত কাদিতে কাদিতে আমি তাহার হাত ধরিলাম। আমার হাত ছাড়াইয়া সে বাসা হইতে চলিয়া গেল। ঘনশ্যাম বলিলেন- "গড়গড়ি মহাশয় এইরূপে আমাদের নিকট তাহার জীবন-বিবরণ প্ৰদান করিতে লাগিলেন। আজ রাত্রি হইয়াছে, আজ এই পৰ্যন্ত থাকুক। কাল আমার খাতা লইয়া আসিব। যতোদূর হয়, কাল পুনরায় গড়গড়ি মহাশয়ের গল্প করিব।” VOYo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon:5'" দ্বিতীয় রজনী গুরুদেব পরদিন ঘনশ্যাম পুনরায় গল্প আরম্ভ করিলেন। গড়গড়ি মহাশয় বলিতেছেন, — যদিও আমি নিজে এ পৰ্যন্ত দীক্ষা গ্ৰহণ করি নাই, তথাপি শ্ৰীযুক্ত শ্ৰীল গোলোক চক্ৰবৰ্ত্ত মহাশয় আমাদের বংশের গুরুদেব। ঠাকুর মহাশয়ের বাটী আমাদেরই গ্রামে। কিন্তু তিনি বার মাস কলিকাতাতেই থাকিতেন, কেবল প্রতি বৎসর পূজার সময় একমাসের জন্য দেশে গমন করিতেন। আমি মনে করিলাম যে, কনিষ্ঠকে বুঝাইবার নিমিত্ত ঠাকুর মহাশয়কে অনুরোধ করি। ঠাকুর মহাশয় পূৰ্ব্বে একটি হােটেল করিয়াছিলেন। হােটেলের কাজে তাঁহার লাভ হয় নাই। এক্ষণে তিনি পাঠার দোকান করিয়াছেন। সন্ধান করিয়া আমি সেই পাঠার দোকানে গিয়া উপস্থিত হইলাম। রাস্তার ধারেই দোকান। সেই দোকানে দুইটি ছাড়ানো ছাগল বুলিতেছিল। ঠাকুর মহাশয় তখন ব্যস্ত ছিলেন। একজন খরিদদারকে তখন তিনি আধাসের মাংস বিক্রয় করিতেছিলেন। ঠাকুর মহাশয় বলিতেছিলেন যে, সে মাংস টাটুকা। খরিদদার বলিতেছিল যে, সে মাংস বাসি। খরিদদার বলিল যে, সে খাসি; ঠাকুর মহাশয় বলিলেন যে, সে পাঠা। খরিদদার বলিল যে, পিঠের দাঁড়ার মাংস ভাল, সেই মাংস আমি লাইব; ঠাকুর মহাশয় বলিলেন যে, পাজরার মাংস ভাল, তাহাই লইয়া যাও। Š মাংস লইয়া খরিদদার প্রস্থান করিলে, ঠাকুন্তমহাশয়কে আমি ভূমিষ্ঠ হইয়া প্ৰণাম করিলাম। ঠাকুর মহাশয়ের দক্ষিণ পদ কিছু স্কুহুৰ্গছিল, অর্থাৎ সে পায়ে গােদ ছিল। সেই স্থল পাদপদ্মটি তিনি আমার মস্তকে তুলিয়া স্ক্রিন। গােদের গ্যাজ হইতে রস প্রবাহিত হইয়া আমার মস্তক সিক্ত হইল, দুই চারি ফেঁটা আমার চক্ষুর উপর দিয়া বহিয়া গেল। নানারূপ আশিসৃবাচনে সম্ভাষণ করিয়া ঠাকুর অঁহীশয় আমাকে বাড়ীর ভিতর লইয়া যাইলেন। একখানি খোলার বাটীতে ঠাকুর মহাশয়ের দোকান ছিল। পথের ধারেই দোকান। তাহার পশ্চাতেই ভিতর দিকে খোয়াড়। সেই খোয়াড়ের ভিতর অনেকগুলি ছাগল ছিল। খোয়াড়টি দিন দুইপ্রহরেও অন্ধকারে পরিপূর্ণ থাকে। সে নিমিত্ত কিরূপ ছাগল ও কতগুলি ছাগল তাহার ভিতর ছিল, প্রথম তাহা আমি দেখিতে পাই নাই। খোয়াড়ের পশ্চাতে বাটীর সর্বশেষে, আর একখানি ঘর। সেই ঘরে ঠাকুর মহাশয় রন্ধন ও শয়ন করেন। এই ঘরখানির সম্মুখে একটি বারেণ্ডা ও তাহার পর একটু উঠান ছিল। সেজন্য খোয়াড়ের ন্যায়। এ স্থানে অন্ধকার ছিল না। ঠাকুর মহাশয় সেই বারেণ্ডায় আমাকে বসাইলেন। কলিকাতায় ও দেশের নানারূপ কথার পর, আমার ভ্রাতার কথা শুরুদেবকে আমি বলিলাম। কিন্তু শুরুদেব আমার সে কথায় বড় কান দিলেন না। এই সম্বন্ধে তিনি যাহা কিছু বলিলেন, আমার ভ্রাতার পক্ষেই তাহা তিনি বলিলেন। “সে বিশেষ কোন মন্দ কাজ করে নাই, বয়সকালে এইরূপ সকলেই করিয়া থাকে, বড় হইলে তাহার চরিত্র সংশোধিত হইয়া যাইবে,” এইরূপ ভ্রাতার পক্ষ হইয়াই তিনি আমাকে বুঝাইলেন। লোকপরম্পরায় আমি ইতিপূৰ্ব্বে শুনিয়াছিলাম যে, ঠাকুর মহাশয়ের সহিত আমার ভ্রাতার বিশেষ ঘনিষ্ঠতা জনিয়াছিল। ঠাকুর মহাশয়ের বয়ঃক্রম পঞ্চাশের অধিক; আমার ভ্রাতার ইয়ার তিনি নহেন। কিন্তু অনেকগুলি খোলার-বাটী-নিবাসিনীদিগের সহিত ঠাকুর মহাশয়ের আলাপ-পরিচয় ছিল; কারণ, তাহাদের বাটী ফলাহার করিয়া তিনি VOSS ମୁଁ ଓମ-୩ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro যাসা-খরচ বঁাচাইতেন ও দক্ষিণা গ্রহণে যৎকিঞ্চিৎ উপাৰ্জন করিতেন। আমি শুনিয়াছিলাম যে, ঠাকুর মহাশয়ের উদ্যোগে দুই-একজন খোলার-বাটী-নিবাসিনীর সহিত আমার ভ্রাতার আলাপ-পরিচয় হইয়াছিল। কিন্তু এ সকল কথা আমি বিশ্বাস করি নাই। এক্ষণে আমার মনে সন্দেহ হইল যে, ওকুর যেভাবে চলিতেছে, সেইভাবে চলিলে গুরুদেবের লাভ আছে, নিতান্ত অলাভ নাই। কথোপকথন করিতে করিতে খোয়াড়ের ভিতর হইতে ছাগলীদিগের কাতরতাসূচক চীৎকার আমি বারবার শুনিতে পাইলাম। অনেকক্ষণ সেইস্থানে বসিয়া এখন আর আমার ততটা অন্ধকার বোধ হইল না। আমি দেখিলাম যে, ছাগলগুলি অস্থিচৰ্ম্মসার হইয়া গিয়াছে, ক্ষুধায় ও পিপাসায় তাহারা ছট্‌ফটু করিতেছে। খোয়াড়ে স্থান অতি সঙ্কীর্ণ ছিল। তাহার ভিতর দশটি ছাগল ধরে কি না সন্দেহ। কিন্তু ঠেশাঠেশি করিয়া ঠাকুর মহাশয় পঁচিশটির অধিক ছাগলে তাহা পূর্ণ করিয়াছিলেন। অতিকষ্টে গায়ে গায়ে ঠেশা-ঠেশি করিয়া তাহারা দাড়াইয়াছিল, শয়ন করিবার স্থান একেবারেই ছিল না। আমি বলিলাম,- “ঠাকুর মহাশয়! আপনার ছাগলগুলির বোধহয় বড় জল-পিপাসা পাইয়াছে।” গুরুদেব উত্তর করিলেন,- “দুই-একদিনে সমুদয় শেষ হইয়া যাইবে। জল দিবার আর আবশ্যক নাই।” আমি বলিলাম,- “উহাদের ক্ষুধাও বোধ হয় পাইয়াছে।” গুরুদেব বলিলেন, — “ক্ষুধা নিশ্চয় পাইয়াছে। ভূৰু ভিন্ন দিন উহাদিগকে ক্ৰয় করিয়া আমি বলিলাম,- “এরূপ কয় অনাহারে থাকে?” গুরুদেব বলিলেন,- “সাত-আট দিনের অধিক ইহাদিগকে অনাহারে থাকিতে হয় না। সাত-আট দিনের মধ্যেই এক এক খোপ শেষ হইয়া যায় ।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “একটু একটু জলপান করিতে দেন না কেন?” গুরুদেব উত্তর করিলেন,- “উহারা গায়ে গায়ে দাড়াইয়া আছে। পিপাসায় উহাদের জ্ঞান নাই। জল দিলে বড়ই গোলমাল করে।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “তবে এ সাত-আট দিন একটু জল পৰ্যন্ত উহারা পায় না?” গুরুদেব বলিলেন,- “পূৰ্ব্বে দুই-একদিন অন্তর এক-আধা কলসী জল দিতাম। কিন্তু জল দেখিলে তাহা পান করিবার নিমিত্ত বড়ই হুড়াহুড়ি করে । সেজন্য আর দিই না।” খোয়াড়ের দিকে একটু নিরীক্ষণ করিয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “এগুলি কি খাসি?” গুরুদেব উত্তর করিলেন,- “খাসি! খাসি কোথায় পাইব! খাসির দাম দিবে কে? দুই পয়সা উপাৰ্জ্জন হইবে বলিয়া ব্যবসা করিতেছি। খাসির মাংস দিলে কি আর চলে!” আমি বলিলাম,- “পাঠাও তো নয়!” গুরুদেব বলিলেন,- “পাঠা?” তুমি পাগল! পাঠার দাম কত! লোককে দেখাইবার নিমিত্ত কেবল তিন-চারিটিা পাঠা। রাখিয়াছি। বাকিগুলি পাঠী ।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “ পাঠী! স্ত্রী পশু না খাইতে নাই?” \} ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাসঃ SSR uskla »ižo 333) a www.amarboi.como §න්දී গুরুদেব উত্তর করিলেন, — “আমি নিজে খাই না, আমি বিক্রয় করি। আমার শিষ্যযজমান আছে। মাছ-মাংস একেবারেই আমি খাই না। সকলেই জানে যে, গোলোক চক্ৰবৰ্ত্তী নিষ্ঠাবান সদব্ৰাহ্মণ। লেখাপড়া জানি না, নিজের নামটিও সই করিতে পারি না, ঢেরা দিয়া সারি। তবুও দেখ, এই নিষ্ঠার জন্য তোমার বাপ-মায়ের কল্যাণে সকলেই আমাকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে ।” আমাদের এইরূপ কথাপকথন হইতেছে, এমন সময় বাহিরে একজন খরিদদার আসিয়া উপস্থিত হইল। ঠাকুর মহাশয় তাড়াতাড়ি বাহিরে গমন করিলেন। খরিদদারের সহিত তাঁহার কথাবাৰ্ত্তায় আমি বুঝিতে পারিলাম যে, সে পাঠার মাংস ভিন্ন অন্য মাংসা লইবে না; পাঠা তাহাকে দেখাইয়া তৎক্ষণাৎ কাটিয়া দিতে হইবে। তাহার জন্য সে অধিক মূল্য দিতে প্ৰস্তুত আছে। খোয়াড়ের ভিতর যে তিন-চারিটি পাঠা ছিল, তাহার একটিকে ঠাকুর মহাশয় অনেক কষ্টে বাহির করিয়া খরিদদারকে দেখাইলেন। ক্রেতার তাহা মনোনীত হইল। তাহার পর ঠাকুর মহাশয় সেই পাঠাকে বাটীর ভিতর আনিলেন। যে স্থানে আমি বসিয়াছিলাম, তাহার নিকটে দুইটি খোটা ভূমিতে প্রোথিত ছিল। পাঠাকে ফেলিয়া ঠাকুর মহাশয় তাহাকে সেই খোঁটায় বঁধিলেন। তাহার পর তাহার মুখদেশ নিজের পা দিয়া মাড়াইয়া জীয়ন্ত অবস্থাতেই মুণ্ডদিক হইতে ছাল ছাড়াইতে আরম্ভ করিলেন। পাঠার মুখ গুরুদেব মাড়াইয়া আছেন, সুতরাং সে চীৎকার করিয়া ডাকিতে পারিল না। কিন্তু তথাপি তাহার কণ্ঠ হইতে মাঝে মাঝে এরূপ বেদনাসূচক কাতরধ্বনি নিৰ্গত হইতে লাগিল যে, আমার বুক যেন ফাটিয়া যাইতে লাগিল। তাহার পর তাহার চক্ষু দুইটি ! আহা! * সে চক্ষু দুইটির দুঃখ আক্ষেপ ও ভৎসনাসূচক ভাব দেখিয়া আমি যেন জ্ঞান- হইয়া পড়িলাম। সে চক্ষু দুইটির ভাব এখনও মনে হইলে আমার শরীর রোমাঞ্চ আমি আর থাকিতে পারিলাম না। আমি বলিয়া উঠিলাম,- “ঠাকুর মহাশয়! য়! করেন কি? উহার গলাটা প্ৰথমে ফাটিয়া ফেলুন। প্রথম উহাকে বধ করিয়া ত র উহার চৰ্ম্ম উত্তোলন করুন।” ঠাকুর মহাশয় উত্তর করিলেন, ... “চুপ! চুপ! বাহিরের লোক শুনিতে পাইবে । জীয়ন্ত অবস্থায় ছাল ছাড়াইলে ঘোর যাতনায় ইহার শরীর ভিতরে ভিতরে অল্প অল্প কঁাপিতে থাকে। ঘন ঘন কম্পনে ইহার চৰ্ম্মে একপ্রকার সরু সরু সুন্দর রেখা অঙ্কিত হইয়া যায়। এরূপ চৰ্ম্ম দুই আনা অধিক মূল্যে বিক্রীত হয়। প্রথম বধ করিয়া তাহার পর ছল ছাড়াইলে সে চামড়া দুই আনা কম মূল্যে বিক্ৰীত হয়। জীয়ন্ত অবস্থায় পাঠার ছাল ছাড়াইলে আমার দুই আনা পয়সা লাভ হয়। ব্যবসা করিতে আসিয়াছি, বাবা! দয়ামায়া করিতে গেলে আর ব্যবসা চলে না।” ঠাকুর মহাশয় এইরূপ বলিতে লাগিলেন, আর ওদিকে তাহার হাত চলিতে লাগিল। সিদ্ধহস্ত! শীঘ্রই অনেক চৰ্ম্ম তিনি তুলিয়া ফেলিলেন। আর একবার আমি পাঠার চক্ষু দুইটির দিকে চাহিয়া দেখিলাম। সেই চক্ষু দুইটি যেন আমাকেও ভৎসনা করিয়া বলিল,- “আমি দুৰ্ব্বল, আমি নিঃসহায়, এ ঘোর যাতনা তোমরা আমাকে দিলে, মাথার উপর ভগবানু কি নাই!” আমি এ নিষ্ঠুর দৃশ্য আর দেখিতে পারিলাম না। তৎক্ষণাৎ সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিলাম। বাসায় প্রত্যাগমন করিয়া ভ্রাতাকে পুনৰ্ব্বার আমি অনেক বুঝাইলাম ও তাঁহাকে দেশে লইয়া যাইতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু কিছুতেই সে আমার সহিত দেশে গমন করিল না। নিরাশ হইয়া পরদিন আমি একেলাই কলিকাতা পরিত্যাগ করিয়া যাত্ৰা করিলাম। দেশে প্ৰত্যাগমন করিয়া কিছুদিন পরে শুনিলাম যে, যেদিন ঠাকুর মহাশয়ের সহিত আমার কথাবাৰ্ত্ত হইয়াছিল, ঠিক মুক্তা-মালা 9SVE sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro তাহার পরদিন পুনরায় যখন তিনি ঐ রূপ চৰ্ম্মেত্তোলন-কাৰ্য্যে প্ৰবৃত্ত ছিলেন, সেই সময় পুলিসের লোকে তাঁহাকে ধরিয়া ফেলিয়াছিল। ইতিপূৰ্ব্বে এই কাজের নিমিত্ত তাঁহার আরও তিনবার জরিমানা হইয়াছিল। সেজন্য এবার তাহার কিছু অধিক অর্থদণ্ড হইল। ক্ষতিগ্ৰস্ত হইয়া ব্যবসায় পরিত্যাগ করিয়া কিছুদিন পরে গুরুদেব দেশে প্রত্যাগমন করিলেন। দেশে আসিয়া তিনি সকলের নিকট বলিয়া বেড়াইতে লাগিলেন যে, জীবন্ত ছাগলের চৰ্ম্ম উত্তোলন বিষয়ে আমিই কলিকাতার পুলিসের নিকট সংবাদ দিয়াছিলাম, আমা হইতেই তাহার। সৰ্ব্বনাশ হইয়াছে। লোকের নিকট এইরূপ বলিয়া তিনি আমাকে অভিশাপ প্ৰদান করিতে লাগিলেন। বলা বহুল্য যে, এ সম্বন্ধে আমি সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলাম। কিন্তু কেহই আমার কথা বিশ্বাস করিল না। সকলেই আমাকে ছিছি করিতে লাগিল। সকলেই বলিল যে, যে লোক গুরুর সর্বনাশ করিতে পারে, তাহার মত পাষণ্ড আর জগতে নাই। এই পৰ্যন্ত বলিয়া ঘনশ্যাম সে রাত্রি গল্প বন্ধ করিলেন। পরদিন পুনরায় তিনি সেই গল্প আরম্ভ করিলেন । তৃতীয় রজনী পায়ে SNర్ (C) গড়গড়ি মহাশয় বলিতেছেন- 3) টাকার জন্য ভ্রাতা আমাকে বার লিখিতে লাগিল। আমি দেখিলাম যে, ভ্রাতাকে কলিকাতায় থাকিতে দিলে তাহারাষ্ট্রইকাল-পরকাল নষ্ট হইবে। সে নিমিত্ত আমি তাহার খরচের টাকা বন্ধ করিয়া দিলাম। ভ্ৰাতা প্ৰথম প্ৰথম আমাকে মান-সন্ত্রমের সহিত পত্ৰ লিখিত; তাহার পর ক্রমে ক্রমে তাহার পত্র তীব্ৰ ভাব ধারণ করিল। “এক্ষণে সে বয়ঃপ্ৰাপ্ত হইয়াছে, পৈতৃক টাকা লইয়া সে যাহা ইচ্ছা তাহা করিবে, পৈতৃক টাকার হিসােব না দিলে সে আমার নামে নালিশ করিবে”-অবশেষে সে আমাকে এইভাবে পত্র লিখিতে লাগিল । এরূপ পত্রের আমি কোন উত্তর দিলাম না, তাহার নিকট টাকাও পাঠাইলাম না। মনে করিলাম যে, অর্থাভাবে নিশ্চয় তাহাকে দেশে আসিতে হইবে। তখন তাহার বিবাহ দিয়া তাহাকে আমি সংসাৱী করিব। এইরূপ ভাবিয়া আমি একটি সুপাত্রী স্থির করিয়া রাখিলাম। কিছুদিন পরে কনিষ্ঠ দেশে প্রত্যাগমন করিল। বিবাহ করিবার নিমিত্ত আমি তাহাকে বারবার অনুরোধ করিলাম। কিন্তু আমার কথা সে কিছুতেই শুনিল না। টাকাকড়ি সম্বন্ধে ক্ৰমাগত সে আমার সহিত কলহ করিতে লাগিল। সে বালক থাকিতে পৈতৃক সম্পত্তির কিরূপ আয় ছিল, সে টাকা কিরূপে ব্যয় হইয়াছিল, সেই হিসাবের নিমিত্ত সে আমাকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিল! এই সময় পৈতৃক সম্পত্তির আয় হইতে তাহার অংশের কিছু নগদ টাকা আমার নিকট জমা ছিল। আমি দেখিলাম যে, সে টাকা তাহার হাতে পড়িলে আর রক্ষা থাকিবে না। বিশেষতঃ দেশে আসিয়াই যত দুষ্ট লোকের সহিত তাহার সৌহৃদ্য হইয়াছিল। বলা বাহুল্য যে, আমাদের গুরুদেবের প্রতি তাহার প্রগাঢ় ভক্তি ছিল। একদিন ভ্রাতাকে আমি বলিলাম,- wტა8 află cios (gs se - www.amarboi conf** “ওন্ধুর! দেখ, ভাই! আমার পুত্রকন্যা কিছুই নাই। পৃথিবীতে তোমা ভিন্ন স্নেহের বস্তু আমার আর কেহ নাই। পৈতৃক যাহা কিছু আছে, সে সমুদয় তোমার। তাহার পর, আমার শ্বশুরের যে সম্পত্তি আমার স্ত্রী পাইয়াছে, তাহাও পরে তোমার হইবে। পৈতৃক সম্পত্তির হিসােব এই মুহূৰ্ত্তে আমি তোমাকে কড়ায়-গণ্ডায় দিতে পারি। কিন্তু ভাই! পাছে তুমি টাকা অপব্যয় কর ও পৈতৃক সম্পত্তি নষ্ট কর, সেজন্য এক্ষণে হিসাব দিতে আমি আপত্তি করিতেছি। তুমি বিবাহ করা। তোমার দুই-একটি পুত্ৰ-কন্যা হউক। তখন সমুদয় হিসােব তোমাকে আমি বুঝাইয়া দিব।” বলা বাহুল্য যে, আমার সেরূপ কথায় ওকুর সন্তুষ্ট হইল না। আমার নামে সে নালিশ করিবে, এইরূপ ভয় দেখাইয়া তখন সে বাটী হইতে চলিয়া গেল। দুই-চারি দিন সে আর বাটী আসিল না। একদিন দুইপ্রহরের সময় তাহার কতকগুলি বন্ধুর সহিত সে বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার বন্ধুগণকে সঙ্গে লইয়া সে বাটীর ভিতর প্রবেশ করিল ও আমার প্রতি নানারূপ কটু বাক্য প্রয়োগ করিয়া সে বলিল,- “অন্য সম্পত্তি বিভাগের নিমিত্ত পরে আমি আদালতে নালিশ করিব। কিন্তু আমার অংশের যে নগদ টাকা তোমার নিকট আছে, তাহা এই মুহূৰ্ত্তে তোমাকে দিতে হইবে। তাহা না দিলে তোমাকে আমি অপমান করিব।” সেই মুহূৰ্ত্তে আমি তাহার টাকা ফেলিয়া দিলাম। পিতার মৃত্যুর দিন হইতে হিসাবপত্রও তাহাকে আমি দেখাইতে চাহিলাম। কিন্তু হিসাবের প্রতি সে কটাক্ষও করিল না। অনেকগুলি নগদ টাকা হাতে পাইয়া বন্ধুদিগের সহিত তৎক্ষণাৎ সে প্রস্থান করিল। সেইদিন আমি আমার গৃহিণীকে বাঁকুড়া জিলায় তাহার পিত্ৰালয়ে আমার শাশুড়ী ণীর নিকট পাঠাইয়া দিলাম। ইহার পর তিন-চারি মাস কনিষ্ঠের আর দেখা লোকপরম্পরায় শুনিলাম যে, টাকা পাইয়া দুই-চারি জন বন্ধুকে সঙ্গে লইয়া সে গমন করিয়াছে। একদিন আমি নিকটস্থ একখানি গ্রামে খাজনা আদায় করিতে গিয়াছিলাম। বাটী মানুষের অতি মৃদু কাতর স্বর আমার র প্রবেশ করিল। সেই কাতর স্বর অনুসরণ করিয়া নিকটে গিয়া আমি দেখিলাম যে, মাঠের মাঝখানে এক গাছতলায় একটি লোক পড়িয়া আছে। আমি নিকটে গিয়া উপস্থিত হইলে সে আমার নিকট একটু জল প্রার্থনা করিল। কিছুদূরে একটি পুষ্করিণী ছিল। পুষ্করিণীতে আমার চাদর ভিজাইয়া সেই জল আনিয়া আমি তাহাকে পান করাইলাম। লোকটির কথায় বুঝিতে পারিলাম যে, সে পশ্চিমদেশীয় খোট্টা । কিঞ্চিৎ সুস্থ হইলে সে আমাকে বলিল যে,- “তাহার নিবাস জৌনপুর জিলা। পত্নীর সহিত পদব্ৰজে সে জগন্নাথ গিয়াছিল। সে স্থান হইতে সে দেশে প্রত্যাগমন করিতেছিল। পথে বিসূচিকা রোগ দ্বারা আক্রান্ত হইয়া তাহার পত্নীর পরলোক হয়। জগন্নাথেই তাঁহাদের টাকা ফুরাইয়া গিয়াছিল। ভিক্ষা করিয়া অতিকষ্টে তাহারা পথ পৰ্যটন করিতেছিল। সে পথে সচরাচর যাত্রী গমনাগমন করে, সে পথে লোকে বড় ভিক্ষা প্ৰদান করে না। সেজন্য সে এই গ্ৰাম্য-পথ অবলম্বন করিয়াছিল। সেইদিন প্রাতঃকালে এই মাঠ দিয়া যাইতে যাইতে সে-ও সহসা বিসূচিকা রোগগ্ৰস্ত হইয়াছে। চলিবার শক্তি তাহার নাই। পিপাসায় তাহার ছাতি ফাটিয়া যাইতেছে।” বিদেশী লোকটির জন্য আমার মনে অতিশয় দুঃখ হইল। আমি দেখিলাম যে, রোগে তাহার মৃত্যু না হউক, মাঠের মাঝখানে জীয়ন্ত অবস্থাতেই সেই রাত্রিতে তাহাকে শৃগালকুকুরে ছিড়িয়া খাইবে। তাহার পর সেই অনাথা নিঃসহায় ব্যক্তি পিপাসায় একটু জলের জন্য কতই না যন্ত্রণা ভোগ করিবে! সে অবস্থায় আমি তাহাকে ফেলিয়া যাইতে পারিলাম না। মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro goS6ሉ তাহাকে আমি বুকে তুলিয়া লইলাম। অতিকষ্টে আস্তে আস্তে আমার বাটীর দিকে অগ্রসর হইলাম। অনেক রাত্রিতে আমি বাটি আসিয়া উপস্থিত হইলাম। বাহিরের একটি চালায় লোকটিকে রাখিয়া তাহার সেবা-শুশ্রুষা করিতে লাগিলাম। আমাদের গ্রাম হইতে প্ৰায় দুই ক্রোশ দূরে এক হাতুড়ে ডাক্তার ছিলেন। তাঁহাকে আনিতে পাঠাইলাম। কিন্তু তিনি আমার ভ্রাতার ইয়ার। তিনি আসিলেন না। অন্য যাহা কিছু ঔষধ পাইলাম, লোকটিকে তাহাই সেবন করাইলাম। কিন্তু কোন ফল হইল না। দুই দিন পরে সেই অনাথা হিন্দুস্থানী আমার বাটীতে মৃত্যুমুখে পতিত হইল। তাহার সৎকারের নিমিত্ত আমি প্রতিবাসীদিগের সাহায্য প্রার্থনা করিলাম। কিন্তু কেহই আসিলেন না। বরং গ্রামের সকল লোকেই আমার উপর খাগড়হস্ত হইলেন। সকলে বলিলেন,- “সুবল উন্মাদ পাগল হইয়াছে। তাহা না হইলে বিসূচিকা রোগগ্ৰস্ত, অজ্ঞাতকুলশীল, একটা খোট্টাকে বাটী আনিবে কেন? সে নিজে পাগল হউক, তাহাতে ক্ষতি নাই, কিন্তু গ্রামের ভিতর বিসূচিকা আনিয়া সে আমাদিগকে বিপদগ্ৰস্ত করে কেন?” গ্রামের লোক যে নিতান্ত অন্যায় কথা বলিল, তাহা নহে। বরং আমি নিজেই যে অন্যায় কাজ করিয়াছি, তাহা আমি বুঝিতে পারিলাম। কিন্তু কি করিব! সেই অনাথ লোকটিকে সে অবস্থায় মাঠের মাঝখানে ফেলিয়া আসিতে আমি পারি নাই। আমার একজন প্রজার একখানি গরুর গাড়ী ছিল। সেই গরুর গাড়ীতে মৃতদেহ শ্মশানে লইয়া গিয়া আমি একলাই তাহাতে দাহ করিলাম। পরদিন আমি একজন প্রতিবাসীর গৃহে গমন কািন্তছিলাম। তিনি তামাক খাইয়া আমাকে ইহার অর্থ আমি বুঝিতে পারিলাম না। অষ্টি — “তামাক ছাড়িয়া দিব কেন?” নিসী, নিজেই ধূমপান করিয়া হঁকটি রাখিয়া দিলেন। ক তুমি বাটী আনিয়াছিলে, যাহার শব তুমি দাহ y ਨ নাই। একথা লইয়া গ্রামে ঘোরতর গোলযোগ উপস্থিত হইয়াছে। অন্য লোক দূরে থাকুক, তোমাদের ঠাকুর মহাশয়ও তোমার বাটীতে আর জলগ্ৰহণ করিবেন না।” ফলকথা, সেইদিন হইতে গ্রামে আমি একঘরে হইলাম। ক্ৰমে শুনিলাম যে, আমাদের ঠাকুর মহাশয়ের উদ্যোগেই সকলে আমাকে একঘরে করিয়াছেন। যাহা হউক, আমি চুপ করিয়া রহিলাম। গ্রামবাসীদিগের বাটীতে গমনাগমন বন্ধ করিয়া দিলাম। আমার বাটীতেও কেহ। আসিতেন না। সেইদিন হইতে আমি তামাক ছাড়িয়া দিলাম। কিছুদিন পরে শুনিলাম যে, আমার ভ্রাতা দেশে আসিয়াছে। গ্রামে এক বন্ধুর বাটীতে সে অবস্থিতি করিতেছে। আরও শুনিলাম যে, পৈতৃক সম্পত্তি বিভাগের নিমিত্ত সে আদালতে নালিশ করিবে। আমার নিকট হইতে যে টাকা পাইয়াছিল, তাহা খরচ হইয়া গিয়াছে। মকদ্দমা খরচের নিমিত্ত সে তাহার অংশ বন্ধক দিবে। এইরূপ কথা শুনিয়া আমি ভ্ৰাতার নিকট বলিয়া পাঠাইলাম যে,- “সম্পত্তি বিভাগের নিমিত্ত মকদ্দমা করিবার প্রয়োজন কি? গ্রামের দুই-একজন ভদ্রলোককে সে মধ্যস্থ মনোনীত করুক। তাহারা যেরূপ বিভাগ করিয়া দিবেন, আমি তাহাতেই সম্মত হইব। অথবা সে না হয়, নিজেই বিভাগ করুক। তাহার যেরূপ ইচ্ছা, সেইরূপ অংশ সে আমাকে প্ৰদান করুক। তাহাতে আমি কিছুমাত্র আপত্তি করিব না।”

    • află cios (gs se - www.amarboi conf اSy( ভ্ৰাতার নিকট হইতে আমার এ প্রস্তাবের কোনরূপ উত্তর পাইলাম না ।

করিতেছিলাম। সহসা সাত-আট জন লোকের সহিত আমার ভ্রাতা সেই ঘরে প্রবেশ করিল। ঘরে প্রবেশ করিয়াই তাহারা আমার হাত-পা বঁধিয়া ফেলিল। আমি চীৎকার করিতে চেষ্টা করিলাম, কিন্তু কাপড় দিয়া তাহারা আমার মুখ বন্ধ করিয়া দিল। তাহার পর, আমাকে শয়ন করাইয়া তাহারা আমার মস্তক মুণ্ডন করিয়া দিল ও সেই মুণ্ডিত মস্তকে ও ঘাড়ে কাগজের মত কি বসাইয়া দিল। অবশেষে আমার পদদ্বয় তাহারা শৃঙ্খলে আবদ্ধ করিল। কিছুক্ষণ পরে আমার মস্তক ও ঘাড় অতিশয় জুলিতে লাগিল। সে স্থানে হাত দিতে পারিলে আমার যাতনার অনেক শান্তি হইত। কিন্তু তাহারা আমার হাত বন্ধন করিয়া রাখিয়াছিল। শরীরের কোন স্থান চুলকাইতে অথবা কোন স্থানে বেদনা হইলে সে স্থানে হাত দিতে না পারিলে যে কি বিষম কষ্ট হয়, তাহা যে ভুগিয়াছে, সেই জানে। কিছুক্ষণ পরে আমার বোধ হইল যে, তাহারা আমার মস্তক ও ঘাড়ে বেলেস্তারা দিয়াছে, কারণ সেই দুই স্থানে বড় বড় দুইটি ফোস্কা হইয়াছে বলিয়া আমার অনুভব হইল। রাত্রি দুইপ্রহর পর তাহারা আমার মুখ খুলিয়া দিল। তখন আমি আমার ভ্ৰাতাকে ডাকিলাম। ভ্ৰাতা ঘরের বাহিরে ছিল, কিন্তু আমার নিকট আসিল না। আমার প্রতি এরূপ নিষ্ঠুর ব্যবহারের কারণ কি, তখন আমি আর সকলকে জিজ্ঞাসা করিলাম। নিকটস্থ গ্রামের সেই যে হাতুড়ে ডাক্তারের কথা ইতিপূৰ্ব্বে উল্লেখ করিয়াছিলাম, তিনি এই গুণ্ডাদের মধ্যে ছিলেন, আর তিনিই আমার মস্তক করিয়া ঘাড়ে ও মাথায় বেলেস্তারা দিয়াছিলেন। তিনি বলিলেন,- “মহাশয়ের মস্তিষ্ক কিছু বিকৃত হইয়াছে। চিকিৎসার নিমিত্ত আপনার ভ্ৰাতা আমাকে আনিয়াছেন। ভয় নাই, আরোগ্যলাভ করিতে পরিবেন। তবে আপনার এই উন্মত্ততা কিছু গুরুতর। অ্যান্থাগার্লাভ করিতে কিছু বিলম্ব হইবে। এইরূপ উন্মত্ততার গুণ এই যে, উন্মাদের মনে খুন করিতে প্ৰবৃত্তি জন্মে। সেজন্য মহাশয়কে বন্ধন করিয়া রাখিতে আমরা বাধ্য শ্ৰীইয়াছি । আমাদের অপরাধ ক্ষমা করিবেন। আপনার মঙ্গলের নিমিত্ত আপনাকে আপাততঃ কিছু কষ্ট দিতে বাধ্য হইতেছি।” আমি উত্তর করিলাম,- “আমি উন্মত্ত! আমি পাগল! আমার উপর এ অত্যাচার কেন? মা'র পেটের ভাই হইয়া জ্যেষ্ঠ সহােদরের উপর কেহ যে এরূপ নিষ্ঠুর ব্যবহার করিতে পারে, তাহা আমি স্বপ্নেও কখন ভাবি নাই। আর এ গ্রামের লোকই বা কিরূপ নিষ্ঠুর যে, তাহাদের সম্মুখে এরূপ ঘোরতর অত্যাচার হইতেছে, অথচ কেহ কিছু বলিতেছে না!” ডাক্তার উত্তর করিলেন, — “যে পাগল হয়, সে নিজে বুঝিতে পারে না। অন্য লোককে সে পাগল মনে করে। আপনিও সেইরূপ মনে করিতেছেন। গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই জানে যে, আপনি পাগল। তা না হইলে গুরুর নামে কেহ পুলিসে নালিস করে না, পাগল না। হইলে ওলাউঠা রোগগ্ৰস্ত একটা সাঁওতালকে মাঠ হইতে ঘরে কেহ আনে না।” আমি দেখিলাম যে, বাক্য দ্বারা এ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করা বৃথা। তথাপি আমি বুলিলাম,- “আমার ভ্রাতাকে একবার ডাকিয়া দাও। আমাকে ছাড়িয়া দিতে বল। পৈতৃক সমুদয় সম্পত্তি কল্যই তাঁহাকে আমি লিখিয়া দিব। পৈতৃক সম্পত্তির এক কপৰ্দাকেও আমার প্রয়ােজন নাই। তাহার পর কল্যই আমি এ স্থান পরিত্যাগ করিয়া আমার শ্বশুরালয়ে গমন করিব।” এইরূপ অনেক বিনয় করিয়া আমি বলিলাম, কিন্তু আমার ভ্রাতা আমার নিকটে আসিল না; কেহই আমাকে ছাড়িয়া দিল না। চীৎকার করিতে করিতে বন্ধন হইতে মুক্ত হইবার নিমিত্ত ଧ୍ରୁ ଓft-୩ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro VDS আমি অনেক চেষ্টা করিলাম। কিন্তু তাহারা পুনরায় আমার মুখ বন্ধ করিয়া দিল, আর বলপূৰ্ব্বক আমাকে ধরিয়া রহিল। সুতরাং আমাকে চুপ করিতে হইল। ডাক্তার আমাকে বলিলেন,- “বৃথা। আপনি চেষ্টা করিতেছেন, বৃথা গোলমাল করিতেছেন। গ্রামের সকলেই জানে যে, আপনি পাগল হইয়াছেন। কেহই আপনার সাহায্য করিতে এ স্থানে আসিবে না। আপনি যদি স্থিরভাবে থাকিতে অঙ্গীকার করেন, তাহা হইলে আপনার মুখের কাপড় ও হাতের বন্ধন খুলিয়া দিতে পারি। কিন্তু এই উন্মত্ত অবস্থায় পাছে আপনি অন্য লোককে খুন করেন, সেজন্য পায়ে আপনার বেড়ি ও শৃঙ্খল থাকিবে।” নিরুপায় হইয়া আমি সেইরূপ অঙ্গীকার করিলাম। তাহারা আমার মুখের কাপড় ও হাতের বন্ধন খুলিয়া দিল। ইহাতেও আমি অনেকটা সুস্থ বোধ করিলাম। কিন্তু আমার মস্তক ও ঘাড় অতিশয় জুলিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে, ঘরে আমাকে চাবি দিয়া সকলে চলিয়া গেল। শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় ঘরের ভিতর একলা বসিয়া আমি কত কি যে চিন্তা করিতে লাগিলাম, মনে কত যে দুঃখ হইল, তাহা আর আপনাদিগকে কি বলিব, আপনারাই তাহা ভাবিয়া দেখুন!! পরদিন প্ৰাতঃকালে প্ৰথমেই গুরুদেব আসিয়া আমার সহিত সাক্ষাৎ করিলেন । আমার এইরূপ অবস্থা দেখিয়া তিনি অতিশয় শোক প্ৰকাশ করিতে লাগিলেন। আমার মাথায় তাহার পদধূলি দিয়া তিনি বলিলেন,- “আশীৰ্ব্বাদ করি, বাবা, তুমি শীঘ্রই আরোগ্যলাভ কর।” গ্রামের আরও কয়েকজন লোক আমার সহিত ৎ করিতে আসিলেন। আমি উন্মত্ত হইয়াছি, সেজন্য অনেকেই দুঃখপ্রকাশ করিতে লাগিল্পেনা। শীঘ আমি আরোগ্যলাভ করিতে পারিব, সে আশ্বাসও অনেকে আমায় প্ৰদান কুব্রিািলন। ইহাদিগের মধ্যে যাহাদিগকে আমি সুহৃদ বলিয়া জানিতাম, তাঁহাদিগের নিকট ভূমি অনেক মিনতি করিয়া বলিলাম যে, আমি পাগল হই নাই, আমি সজ্ঞানেই আছি। আমার কথা বিশ্বাস করিলেন না । সকলেই বলিলেন যে, পাগল না হইলে সৰ্ব্বনাশ করে না, ওলাউঠা রোগগ্ৰস্ত সাঁওতালকে কেহ ঘরে আনে না । আমার অনেক ত-মিনতি-বাক্যে একজন কেবল আমার শ্বশুরালয়ে আমার গৃহিণীর নিকট এই সংবাদ প্রেরণ করিতে স্বীকৃত হইলেন। দিনের বেলা আমার ভ্রাতার এক বন্ধু আমার নিমিত্ত আহারীয় দ্রব্য লইয়া আসিলেন। কিন্তু সেদিন আমি জল পৰ্যন্ত গ্ৰহণ করিলাম না। পাড়ার অনেক ছেলেও সেদিন আমাকে দেখিতে আসিল! কেহ বলিল,— “সুবল দাদা,” কেহ বলিল,- “সুবল ককা, পাগল হইয়াছে, আয় ভাই দেখি।” ঘরের তখন দ্বার বন্ধ ছিল । জানালা দিয়া উকি মারিয়া তাহারা আমাকে দেখিতে লাগিল । আমি তখন মুখ বুজিয়াছিলাম। তথাপি একটি ছেলে বলিয়া উঠিল,— “ঈশ!! একবার দাঁত দেখা ঠাকুর-মা বলিয়াছেন যে, একবার ছাড়া পাইলে আর রক্ষা রাখিবে না, পাড়ার যত ছেলেকে ঐ লম্বা লম্বা দাঁত দিয়া ছিড়িয়া একেবারে খণ্ড খণ্ড করিয়া খাইয়া ফেলিবো।” এই বলিয়া তাহারা জানােলা দিয়া ছোট ছোট ঢ়িল ছুড়িয়া আমাকে মারিতে লাগিল। তাহার পর আমার উঠানের পেয়ারাগাছে উঠিয়া পেয়ারা খাইল । পেয়ারাগাছা হইতে আমার বাটীর এক কোণে দুই ঝাড় আখ দেখিয়া তাহা ভাঙ্গিয়া খাইতে খাইতে চলিয়া গেল। সন্ধ্যার পর সেই ডাক্তার ও আর তিন জন লোক পুনরায় আসিলেন। কিন্তু আমার ভ্রাতা আমার নিকট আসিল না। একটি গেলাসে কিছু ঔষধ লইয়া ডাক্তারবাবু আমাকে তাহা খাইতে . øxfff <syntଥ୍ ଘଁbript Volby uskla »ižo 333) a www.amarboi.comio §න්දී বলিলেন। আমি কিছুতেই খাইলাম না। ডাক্তারবাবু বলিলেন,- “এ ডাক্তারি ঔষধ নহে, দেশী গাছগাছড়া। অনেক কষ্টে আমি ইহা যোগাড় করিয়াছি। এ ঔষধ সেবন করিলে সত্বর আপনি আরোগ্যলাভ করিতে পরিবেন।” ঔষধ খাইতে আমি কিছুতেই সম্মত হইলাম না। আমাকে তিনি অনেক বুঝাইলেন, অনেক ভয় দেখাইলেন, কিন্তু ঔষধ খাইতে কিছুতেই আমি স্বীকৃত হইলাম না। তখন ডাক্তারবাবু, তাহার সঙ্গিগণের সহায়তায় বলপূৰ্ব্বক আমাকে শয়ন করাইয়া, আমার বুকে হাঁটু দিয়া সেই ঔষধ আমাকে সেবন করাইলেন। ইহার পর কি হইল, আর আমি ঠিক বলিতে পারি না। ঔষধ সেবন করিবামাত্র আমি অজ্ঞান হইয়া পড়িলাম। চতুর্থ রজনী যিনি ভূমিকম্প করেন কতদিন এরূপ অজ্ঞান হইয়া পড়িয়ছিলাম, তাহা আমি বলিতে পারি না। ক্রমে আমার অল্প অল্প জ্ঞানের উদয় হইল। জ্ঞান হইবার পর একদিন আমি আমার ভ্রাতার ব্যবহার ও নিজের অবস্থা ভাবিতেছিলাম। আমার স্ত্রী ও শাশুড়ীঠাকুরাণী আমার শোচনীয় অবস্থায় সং পাইলুন কি না ও ভ্রাতার হাত হইতে তাঁহার্যমুঢ়াৱৈ উদ্ধার করিতে পরিবেন কি না, এইরূপ es নানা চিন্তায় মন আমার নিতান্ত কাতর। তেঁছিল। এমন সময় এক কোণ হইতে কে আমাকে AY is খ্রিস্টানিকট রাত্রিকালে আমি একটি আলোকের প্রার্থনা করিয়াছিলাম। ডাক্তার তাহাতে হইয়াছিলেন। আমার ঘরের এক পার্শ্বে মিট-মিটু করিয়া একটি প্ৰদীপ জ্বলিতেছিল। “সুবল! সুবলা!” বলিয়া কে যখন আমাকে ডাকিল, তখন আমি চমকিয়া উঠিলাম। সে শব্দ শুনিয়া আমি বুঝিতে পারিলাম যে, আমাকে যে ডাকিতেছে, সে ঘরের ভিতরেই আছে। ঘরের এদিকে-ওদিকে চারিদিকে আমি চাহিয়া দেখিলাম, কিন্তু ঘরের ভিতর কাহাকেও দেখিতে পাইলাম না। অবশেষে আমি মনে করিলাম যে, ভ্রমবশতঃ এইরূপ শব্দ শুনিয়াছি, প্রকৃত কেহ আমাকে ডাকে নাই। এইরূপ মনে করিয়া পুনরায় আমি আমার অবস্থার বিষয় চিন্তা করিতে লাগিলাম। এমন সময় পুনরায় সেই শব্দ আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করিল। পুনরায় কে যেন আমাকে ডাকিল,- “সুবল! সুবল!” পুনরায় আমি চমকিয়া উঠিলাম। চমকিত হইবার আরও কারণ এই যে, এবার আমি সে কণ্ঠস্বর বুঝিতে পারিলাম। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, যাহার এ কণ্ঠস্বর, বহুকাল পূৰ্ব্বে তিনি ইহধাম পরিত্যাগ করিয়াছেন। পুনরায় সেই শব্দ হইল,— “সুবল! সুবল!” আমি বলিলাম,- “কে আমাকে ডাকিতেছেন? আমি কাহাকেও দেখিতে পাইতেছি না।” সেই স্বর বলিল,- “আমাকে দেখিতে পাইতেছ না কেন, এই যে আমি বসিয়া আছি!” আমি বলিলাম,- “কোথায়?” vHM VOSd ଧ୍ରୁ ଓft-aliଣୀ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro স্বর উত্তর করিল,- “এই ঘরের কোণে ।” যেদিক হইতে শব্দ আসিতেছিল, সেই কোণের দিকে চাহিয়া আমি বলিলাম,- “ও কোণে তো কিছুই নাই, কেবল জলের কলসীটি রহিয়াছে!” স্বর উত্তর করিল,— “আমি এই জলের কলস। এ-জন্মে আমি জলের কলস হইয়াছি।” আমি বলিলাম,- “আপনি জলের কলস হইয়াছেন!! আপনি কে?” স্বর উত্তর করিল,— “আমি সনাতন নস্কর। আর জন্মে। আমি তোমার প্রতিবেশী ছিলাম। আমাকে মনে নাই?” সত্য বটে, সনাতন নস্কর নামে আমাদের এক বৃদ্ধ প্রতিবেশী ছিলেন। তিনি অতি সজ্জন ছিলেন। তাঁহাকে আমরা বিশেষরূপে মান্য করিতাম। আশ্চৰ্য্য হইয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম“আপনি নস্কর মহাশয়? এ-জন্মে। আপনি মেটে কলসী হইয়াছেন? মানুষ মরিয়া কলসী হয়?” কলসী উত্তর করিলেন, — “মানুষ মরিয়া নানা রূপ হয়। সে রূপের সংখ্যা চৌরাশি হাজার ।” - আমি বলিলাম,— “জীবিত অবস্থায় আপনি একজন সাধুপুরুষ ছিলেন, তবে কেন আপনাকে সামান্য একটি মেটে কলস হইতে হইয়াছে?” নস্কর মহাশয় অর্থাৎ কলসী উত্তর করিলেন,— “আমি তো তবু অনেক ভাল দ্রব্য হইয়াছি। জগবন্ধুকে জােন? জগবন্ধুর মা মরিয়া সামান্য একখানি খুরি হইয়াছে।” আমি বলিলাম, মুঠি দেিয়ছি যে, জীবাত্মার ভূমি ক্ৰমে উন্নতি হয়। কুম্ভকারের দ্রব্যে পরিণত হইলে জীবাত্মার উন্নতি কিরূপে হয়?” @ নস্কর মহাশয় উত্তর করিলেন, — “জগবন্ধুর স্থা এখন খুরি হইয়া আছেন। আর-জন্মে তিনি হয়তাে একখানি সরা হইবেন। আর তার গুর্ভূজন্মে হয়তো তিনি মালশী হইবেন। তারপর হয়তো তিনি একখানি তিজেল হইবেন।তেঁপরপর তোলো হাঁড়ি—এইরূপ ক্রমে ক্রমে তিনি উন্নতিলাভ করিবেন। আমি এখন আছি। আর-জন্মে। আমি হয়তো পূজার ঘট হইব। তাহার পর হয়তো পিতলের ঘাড়া হইব। কিন্তু আমি আর অধিক বকিতে পারি না। আমার কণ্ঠ শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। পিপাসায় বড় কাতর হইয়াছি। তোমার উপর যে সমুদয় অত্যাচার হইয়াছে, কয়দিন তাহা এই কোণে বসিয়া সমস্ত আমি দেখিয়াছি। তোমার পিতার পুত্র যে এমন কুলাঙ্গার হইবে, স্বপ্নেও তােহা কখন আমি ভাবি নাই। কয়দিন একছটাক জলও কেহ। আমাকে প্ৰদান করে নাই। শুষ্ক হইয়া আমি ঢন-চন করিতেছি।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “এক্ষণে কি করিতে আপনি আমাকে আজ্ঞা করেন?” নস্কর মহাশয় বলিলেন,- “প্ৰথমে আমাকে লইয়া বাহিরে চল । তাহার পর পুষ্করিণী হইতে আমাকে জলে পূর্ণ করিয়া আমার পিপাসা নিবারণ কর। তাহার পর, আমি এ পাপ পৃথিবীতে আর থাকিতে ইচ্ছা করি না। কলিকাতায় লইয়া আমাকে গঙ্গাজলে নিক্ষেপ কর।” আমি বলিলাম,- “ওকুর ও তাহার বন্ধুগণ পায়ে বেড়ি দিয়া আমাকে লীেহ-শৃঙ্খলে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। কি করিয়া আমি আপনাকে বাহিরে লইয়া যাইব?” নস্কর মহাশয় উত্তর করিলেন,- “তোমার পায়ের দিকে চাহিয়া দেখ।” আমি আমার পায়ের দিকে চাহিয়া দেখিলাম। আশ্চৰ্য্য! এতোক্ষণ আমি কিছুই জানিতে পারি নাই; আমার পায়ে বেড়ি নাই, আমার পায়ে শৃঙ্খল নাই। অদ্ভুত মানিয়া সেই কলসীকে লক্ষ্য করিয়া নস্কর মহাশয়কে আমি নমস্কার করিলাম। లిరి দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicomo কিন্তু পুনরায় আমার মনে আর একটি সন্দেহ উপস্থিত হইল। আমি বলিলাম,- “সত্য বটে, আমার পদদ্বয় মুক্ত হইয়াছে, কিন্তু ঘরের দ্বারে বাহিরে তাহারা কুলুপ দিয়া গিয়াছে। ঘর হইতে কি করিয়া আমি বাহির হইব?” নস্কর মহাশয় বলিলেন,- “দ্বার খুলিয়া দেখা।” . শয্যা হইতে আস্তে আস্তে উঠিয়া আমি কপাট টানিয়া দেখিলাম। ঘরের দ্বার স্বচ্ছন্দে খুলিয়া গেল। আরও আশ্চৰ্য্য হইয়া নস্কর মহাশয়কে আমি বারবার নমস্কার করিলাম । কলসী পুনরায় আমাকে বলিলেন,- “সুবল আর তোমার এ-স্থানে থাকা উচিত নহে। তোমার ভ্রাতা কুলাঙ্গার, না করিতে পারে এমন কাজ নাই। তোমার প্রতি সে যেরূপ ব্যবহার করিয়াছে, তাহার দণ্ড সে শীঘ্রই পাইবে। এক্ষণে আমি তৃষ্ণায় বড় কাতর হইয়াছি। পুষ্করিণীতে লইয়া শীঘ্ৰ আমাকে জলে পূর্ণ কর। তাহার পর কলিকাতায় লইয়া গিয়া শীঘ্ৰ আমাকে মা গঙ্গার নিৰ্ম্মল পবিত্র সলিলে নিক্ষেপ কর। পৃথিবীতে আর আমি থাকিতে ইচ্ছা করি না। আহা! জগবন্ধুর মা, যিনি খুরি হইয়া কালযাপন করিতেছেন, তাঁহাকেও সঙ্গে লইতে পারিলে ভাল হইত। কিন্তু তাঁহার কপালে নাই। কপালে থাকিলে এই উদ্যোগে পরজন্মে। তিনি সরারূপ লাভ করিতে পারিতেন। তাহার পর অনায়াসে তিনি মালিশী হইতে পারিতেন।” পুনরায় বিছানার নিকট আসিয়া, ঘরের যে স্থানে আমার বাক্সটি থাকিত, সেইদিকে আমি চাহিয়া দেখিলাম। সে স্থানে আমার বাক্স নাই। বুঝিতে। আর বাকি রহিল না। বাক্সটি ভ্রাতা - লইয়া গিয়াছেন। পথ-খরচের জন্য আমি কি করিব, এখন সেই ভাবনা আমার মনে উদয় হইল। কিন্তু নস্কর মহাশয়ের কি আশ্চৰ্য্য মহিমা! ঘরের এক কোণে একপ্রকার খড়খড় শব্দ হইতে লাগিল। সেইদিকে দৃষ্টি &আমি দেখিতে পাইলাম যে, কি একটি ਅੰ ಙ್ಞ್ಞ' আমি দেখিলাম যে, সে দ্রব্যটি র লক্ষ্মী, বেত-নিৰ্ম্মিত পোয়া, শালগ্রামের সহিত যাঁহাকে পূজা না করিয়া কখনও জলগ্ৰহণ করিতাম না। আজ তাঁহার এই দুৰ্দশা দেখিয়া হৃদয় আমার বিদীর্ণ হইয়া যাইতে লাগিল। আমি মনে মনে ভাবিলাম,- “মা! তবে সত্য সত্যই তুমি এ পাপ সংসার পরিত্যাগ করিয়াছ!” মনে মনে আমি এইরূপ খেদ করিতেছি, এমন সময় ঘরের অন্য কোণ হইতে নস্কর মহাশয় বলিয়া উঠিলেন,- “সুবল! লক্ষ্মীর ভিতর যে মোহরটি আছে, তাহা বাহির করিয়া লও। এ বিপদের সময় তাহা লইতে দোষ নাই। ইহাতে তোমার পথ-খরচ হইবে।” এইরূপে আদিষ্ট হইয়া পোয়ার ভিতর হইতে আমি মোহরটি বাহির করিয়া লইলাম। তাহার পর অন্য কোণ হইতে মৃন্ময় কলাসরূপধারী নস্কর মহাশয়কে অতি ভক্তিভাবে তুলিয়া লইলাম। ধীরে ধীরে বাটী হইতে বাহির হইলাম। প্রথমেই বৃহৎ একটি সরোবরে গিয়া সুশীতল বারি দ্বারা কলসটি পূর্ণ করিলাম। নস্কর মহাশয়কে এইরূপে পরিতৃপ্ত করিয়া পূর্ণ কলসটি স্কন্ধে লইয়া আমি কলিকাতা অভিমুখে যাত্ৰা করিলাম। যথাসময়ে কলিকাতায় উপস্থিত হইয়া অতি ভক্তিভাবে কলসটি আমি গঙ্গাজলে সমৰ্পণ করিলাম। তাহার পর যথাশক্তি নস্কর মহাশয়ের শ্ৰাদ্ধ করিলাম । শ্ৰাদ্ধ-ক্রিয়া সমাপ্ত করিয়া, আমি কোথায় যাই, কি করি, তাহাই ভাবিতে লাগিলাম। অবশেষে বঁকুড়ায় শ্বশুরালয়ে গমন করাই স্থির করিলাম। VOSS) शृङ्गा-शiना sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro SR এইরূপ চিন্তা করিতে করিতে আমি ক্ৰমে গড়ের মাঠে গিয়া উপস্থিত হইলাম। সে স্থানে নিৰ্জ্জন একটি বৃক্ষতলে বসিয়া নিজের অবস্থার কথা ভাবিতে লাগিলাম। ক্রমে সন্ধ্যা হইয়া গেল। পথে এক একটি গ্যাসের লণ্ঠন জুলিয়া উঠিল। আকাশে এক একটি করিয়া নক্ষত্র উদিত হইল। সাহেব ও মেমদিগের গাড়ীর আলোক আকাশভ্ৰষ্ট নক্ষত্রের ন্যায় দ্রুতবেগে ছুটিতে লাগিল। এই সময় সহসা এক বৃদ্ধ আমার নয়নগোচর হইলেন। আমার নিকট হইতে প্ৰায় দশ হাত দূরে তিনি বসিয়াছিলেন। এতদূরে তিনি বসিয়াছিলেন, তথাপি তাঁহার শ্বাস-প্ৰশ্বাসের শব্দ আমি শুনিতে পাইতেছিলাম। দ্রুতবেগে অতিকষ্টে শ্বাস-প্ৰশ্বাস কাৰ্য সাধিত হইলে যেরূপ শব্দ হয়, তাহার নাসারন্ধ হইতে সেইরূপ শব্দ নির্গত হইতেছিল। বৃদ্ধের যাতনা দেখিয়া আমার মনে দুঃখ হইল। আমি তাঁহার নিকটে গিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম,- “মহাশয়ের কি হাঁপানি রোগ আছে? নিশ্বাস ফেলিতে কি আপনার বড় কষ্ট হইতেছে?” কিছু রুক্ষভাবে তিনি উত্তর করিলেন,- “হাঁপানি রোগ থাকিবে কেন? আমি অতিশয় শ্ৰান্ত হইয়াছি, সেইজন্য এত দ্রুতবেগে নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস প্রবাহিত হইতেছে।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “দ্রুতবেগে দীেড়িয়া আসিয়াছেন? এ বয়সে ছুটিাছুটি করা উচিত নয়।” বৃক্ষ উক্ত কহিনুৰ "তােমুদুর মৃতদীেড়িম্ভূক্ষ্মকে পথ চলিতে হয় না। আকাশপথে আমি ভ্ৰমণ করি! এইমাত্র জাপান হইতে আসিতেছি৫) তাহার কথায় আমার প্রত্যয় হইল না। মানুষ ৰাষ্ট্ৰয়ী শূন্যপথে কেহ কি ভ্ৰমণ করিতে পারে! বুণ্ঠে আসিয়া উপস্থিত হইতে পারে। আমি মনে কল্পিী- “জাপানে, মহাশয় কি জন্য গিয়াছিলেন?” বৃদ্ধ উত্তর করিলেন,- “সে স্থানে আমি ভূমিকম্প করিতে গিয়াছিলাম। পৃথিবীতে যত ভূমিকম্প হয় সে সমুদয় ভূমিকম্প আমিই করিয়া থাকি। ভূমিকম্প করিয়া আমি জীবিকা নিৰ্ব্বাহ করি।” আমি ঘোরতর আশ্চৰ্য হইলাম। মানুষ যে আবার ভূমিকম্প করে, ভূমিকম্প করা যে আবার মানুষের একটা ব্যবসায়, একথা আমি পূৰ্ব্বে কখন শুনি নাই। এখন আমার নিশ্চয় বিশ্বাস হইল যে, লোকটা বদ্ধ পাগল। তথাপি পুনরায় আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “পিতামাতার নিকট আমি শুনিয়াছি যে, সহস্রফণা বাসুকি পৃথিবী বহন করিয়া আছেন। একটি মস্তক শ্ৰান্ত হইলে, যখন তাহা পরিবৰ্ত্তিত করিয়া অন্য মস্তকে তিনি পৃথিবী গ্ৰহণ করেন, তখনই পৃথিবী কম্পিত হয়, আর তাহাকেই লোকে ভূমিকম্প বলে। একথা যদি সত্য হয়, তাহা হইলে আপনার কথা কিরূপে আমি বিশ্বাস করিতে পারি?” বৃদ্ধ উত্তর করিলেন,- “সেসব গালগল্প। বাসুকিকে আর ভূমিকম্প করিতে হয় না! বাসুকির মস্তক-পরিবর্তনে যদি ভূমিকম্প হইলে এককালে সমস্ত পৃথিবী কম্পিত হইত। এইমাত্র আমি জাপানে বৃহৎ একটি ভূমিকম্প হইত, তাহা করিয়া আসিতেছি। কিন্তু দেখ, সে ভূমিকম্প কলিকাতায় হয় নাই ।” ORR দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboiconi লোক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ আমি উত্তর করিলাম,- “সত্য বটে, বাসুকি দ্বারা ভূমিকম্প হইলে এককালে সমস্ত পৃথিবীতে হইত। কিন্তু তথাপি, মহাশয় যে ভূমিকম্প করেন, তাহাও আমার বিশ্বাস হয় না।” বৃদ্ধ উত্তর করিলেন,- “প্ৰত্যক্ষ যদি দেখিতে পাও, তাহা হইলে তো বিশ্বাস করিবে? যদি তোমার প্রয়োজন থাকে, তাহা হইলে এই মুহূৰ্ত্তে সামান্য একটু ভূমিকম্প করিয়া তোমাকে আমি দেখাইতে পারি। কিন্তু দেখ, ইহাই আমার উপজীবিকা। সে ভূমিকম্পের মূল্য তোমাকে দিতে হইবে।” আমি বলিলাম,- “আচ্ছা, একটাকার ভূমিকম্প আমি ক্রয় করিতে পারি।” এই কথা বলিয়া, – “পকেট হইতে একটি টাকা বাহির করিয়া আমি তাঁহার হাতে দিলাম।” টাকাটি পাইয়া বৃদ্ধ ভূমির উপর ফুৎকার করিলেন। তৎক্ষণাৎ বহুদূর পর্যন্ত নিকটের ভূমি কঁপিয়া উঠিল, আর নিকটস্থ বৃক্ষসমূহ হেলিতে-দুলিতে লাগিল। তাহার উপর যে সমুদয় কাক বসিয়াছিল, বৃক্ষ পরিত্যাগ করিয়া তাহারা উড়িতে লাগিল। সভয়ে কা-কা রবে তাহারা চারিদিক পূর্ণ করিল। আমিও ঘোরতর শঙ্কিত হইলাম। কিন্তু চিন্তা করিবার কি ভয় করিবার আমি আর সময় পাইলাম না। নিম্নদিক হইতে মুখ তুলিয়া বৃদ্ধ আমার শরীরে একটি ফু দিল। তৎক্ষণাৎ আকাশপথে নক্ষত্র-বেগে আমার শরীর ধাবিত হইল। প্ৰাণের আশা আমি একেবারে পরিত্যাগ করিলাম। ভয়ে আমি জ্ঞান-গোচর শূন্য হইয়া পড়িলাম। সামান্য একটু যা জ্ঞান ছিল, তাহার সহায়তায় আমি ভাবিলাম যে, পৃথিবীর উপর পড়লেই আমার দেহ চুৰ্ণ-বিচূর্ণ হইয়া যাইবে, আর তৎক্ষণাৎ আমার প্রাণবায়ু বাহির হইয়া হু-হু শব্দে আমি নিম্নে পতিত হইতে লাগিলাম। পড়িতে আর অধিক বিলম্ব নাই। ঝড়ের ন্যায় শো-শো শব্দে বায়ু আমার কানের কুঠুর্দিয়া উপর দিকে প্রবাহিত হইতে লাগিল। চৌরঙ্গির উচ্চ উচ্চ অট্টালিকা ক্রমেই নিকুটুম্ভুঞ্জ’হইতে লাগিল, গাছপালা ক্রমেই স্পষ্টরূপে আমার নয়নগোচর হইতে লাগিল। আর নাই। এইবার সবলে ভূমির উপর পতিত হইব, ইহলীলা এইবার শেষ হইবে। এমন ফ্লািস্ট্রয় সহসা আমার হাতে কি ঠেকিয়া গেল। প্রাণপণ যত্নে তাহা আমি ধরিয়া ফেলিলাম। চক্ষু দেখিলাম যে, তাহা এক গির্জার চূড়া। কলিকাতার দক্ষিণে যে কাথিড্রাল নামক গির্জা আছে, নৈবেদ্যের উৰ্দ্ধ-দেশের ন্যায় যাহার শিখরদেশ সূক্ষ্ম হইয়া আকাশ অভিমুখে উখিত হইয়াছে, ইহা সেই গির্জার চূড়া। পঞ্চম রজনী সাগর-বক্ষে প্রাণপণ যত্নে সেই গির্জার চুড়া আমি ধরিয়া রহিলাম। আপাততঃ অল্পক্ষণের নিমিত্ত আমার প্ৰাণ বঁচিয়া গেল বটে, কিন্তু আমি সুস্থির থাকিতে পারিলাম না। সেই সময় বায়ু সবলে প্রবাহিত হইতেছিল। বায়ুবলে গির্জার চূড়াকে প্ৰদক্ষিণ করিয়া আমার দেহ দ্রুতবেগে ঘুরিতে লাগিল। বায়ুর গতি নির্দেশ করিবার নিমিত্ত কেহ কেহ ছাদের উপর উচ্চ স্থানে যে যন্ত্র স্থাপিত করেন, সেই যন্ত্রের ন্যায় গির্জার চূড়াকে বেষ্টন করিয়া আমি ক্রমাগত ঘুরিতে লাগিলাম। AA VOSXG) মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro R সে রাত্রি এইভাবে কাটিয়া গেল। পরদিন প্ৰাতঃকালে গির্জার নিম্নে দুই-একটি লোককে আমি দেখিতে পাইলাম। উচ্চৈঃস্বরে চীৎকার করিয়া আমি তাহাদিগকে ডাকিতে লাগিলাম। কিন্তু আমার চীৎকার কেহই শুনিতে পাইল না, কেহই আমাকে দেখিতে পাইল না। সমস্ত দিন আমি বায়ুবলে সেইরূপ চক্ৰবৎ ঘুরিতে লাগিলাম। মাঝে মাঝে সমস্ত দিন আমি চীৎকার করিলাম। কিন্তু প্ৰাণ বঁাচাইবার নিমিত্ত আমার সমুদয় চেষ্টা বিফল হইল। গির্জার সেই চূড়া অনুসরণ করিয়া কতবার নিম্নে অবতরণ করিবার চেষ্টা করিলাম, কিন্তু তাহাতেও আমি কৃতকাৰ্য হইতে পারিলাম না। এইরূপে চারিদিন ও পীচ রাত্রি কাটিয়া গেল। ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় আমার শরীর অবসন্ন হইয়া পড়িল। কখন আমাকে সেই আশ্রয়স্থান ছাড়িয়া দিতে হয়, জ্ঞানশূন্য হইয়া কখন আমি ভূতলে পতিত হই, এখন কেবল সেই চিন্তা মনে উদিত হইতে লাগিল। কিন্তু বলিতে আমার লজ্জা হয়, জীবনধারণের নিমিত্ত এই সময় আমি একটি উপায় আবিষ্কার করিলাম। সে উপায়টি অতি ঘূণিত! কিন্তু কি করিব! এরূপ অবস্থায় পড়লে মানুষের ভাল-মন্দ বিচার থাকে না । মহাদেববাবুকে লক্ষ্য করিয়া ঘনশ্যাম বলিলেন, — “আডিডাধারী মহাশয়! আমরা দেখিলাম যে, গড়গড়ি মহাশয় সেই জীবনধারণের উপায় গোপন করিতেছেন। সে নিমিত্ত আঁহাকে আমরা নানারূপ প্ৰবোধবচনে উৎসাহিত করিলাম। আমাদের প্রবোধবাক্যে আশ্বাসিত হইয়া গড়গড়ি মহাশয় পুনরায় তাহার গল্প আরম্ভ করিলেন।” এই কলিকাতা সহরে অসংখ্য কাক আছে। সকল তাহা উপবিষ্ট হয়। গির্জার মাথায় কয়দিন আমাকে ঘূর্ণিত হইতে দেখিয়া কাকেরা মনুেdকরিল যে, এ বস্তুটা মানুষ নহে, বায়ুর গতিনিৰ্দেশ করিবার নিমিত্ত কোনরূপ একটা যন্ত্র“। সাহেবরা এই যন্ত্র এরূপ উচ্চ স্থানে সংস্থাপিত করিয়াছেন। এইরূপ মনে করিয়াঙ্কসকেরা নিৰ্ভয়ে আমার মস্তকে বসিতে আরম্ভ করিল। সেই কাক ধরিয়া আমি ভক্ষণ লাগিলাম, তাহার মাংসভক্ষণে ক্ষুধা ও শোণিত পানে তৃষ্ণা নিবারণ করিতে মণ্ডস্টংএরূপ স্থানে রন্ধন করিবার সুযোগ ছিল না; সুতরাং কাকগুলিকে কাচা অবস্থাতেই ভক্ষণ করিতে হইল। গির্জার মাথায় এইরূপে আমি দিনাতিপাত করিতে লাগিলাম! কিন্তু এরূপ ঘূর্ণায়মান অবস্থায় গির্জার শিখরদেশে মানুষ চিরজীবন অতিবাহিত করিতে পারে না। কিরূপে এই ঘোর বিপদ হইতে মুক্ত হইব, সৰ্ব্বদাই সেই চিন্তা করিতে লাগিলাম। চিন্তা করিতে করিতে বেলুনের কথা আমার স্মরণ হইল। বেলুনের সহায়তায় মানুষ আকাশে উডতীয়মান হয়। তাহার পর পারাচুট, অর্থাৎ বৃহৎ একটি ছাতার সহায়তায় মানুষ অনেক উচ্চ স্থান হইতে পৃথিবীতে অবতরণ করে। আমি মনে করিলাম যে, সেই উপায়ে আমি ও আপনাকে এই বিপদ হইতে উদ্ধার করিব । নিকট দিয়া যাইতে দেখিয়াছিলাম। প্রতিদিন অনেকগুলি কাটা ঘুড়ির সূতাও আমার গায়ে ও গির্জার মাথায় লাগিয়া যাইতেছিল। এখন হইতে আমি সেই ঘুড়িগুলি ধরিতে লাগিলাম। এইরূপে প্ৰায় দুইশত ঘুড়ি সংগ্ৰহ করিলাম। তাঁহাদের সূতা একত্রিত করিয়া মোটা রজ্জ্বর ন্যায় করিলাম। তাহার সহিত আমার চাদরখানিও যোগ করিলাম। সেই দুইশত ঘুড়ি পৃথক পৃথক রাখিলাম বটে, কিন্তু সকলেই সেই রজ্জ্ব ও চাদরে সংযুক্ত করিলাম। এইরূপ আয়োজন করিয়া যেদিন বায়ু প্রবলবেগে প্রবাহিত হইতেছিল, সেইদিন আমি ঘুড়িগুলি ছাড়িয়া দিলাম। সেই রজ্জ্ব voS8 $75zii>iඳිනු දී sÀ 315 až 35 GK RG! MV www.amarboi.comï** ও চাদর আমার শরীরে দৃঢ়রপে বন্ধন করিয়াছিলাম। বায়ুভরে ঘুড়িগুলি যাই উড়িল, আর সেই সময় আমিও গির্জার চূড়া ছাড়িয়া দিলাম। ঘুড়িগুলি বায়ুভরে আকাশপথে চলিতে লাগিল, দড়ি ধরিয়া আমি তাহার নীচে বুলিতে লাগিলাম। কিন্তু দুৰ্ভাগ্যবশতঃ ঘুড়ি অনেকগুলি মাটির দিকে নামিল না, আকাশের উপর উঠিতে লাগিল। ইহার কারণ এই যে, ঘুড়ি অনেকগুলি ছিল, বায় অধিক প্ৰবল ছিল, আর মনোদুঃখে ও ভালরূপে আহার অভাবে আমার শরীর শীর্ণ শুষ্ক ও লঘ হইয়া গিয়াছিল। হু-হু শব্দে আমি আকাশে উঠিতে লাগিলাম। মেঘরাশি পার হইয়া অসীম আকাশের নিবিড় নীল প্ৰান্তরে গিয়া উপস্থিত হইলাম। তখন সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছিল, আকাশে তখন সূৰ্য ছিল। না। ভাগ্যে সেদিন কৃষ্ণপক্ষের রাত্রি ছিল, আকাশে চন্দ্র ছিল না। সূৰ্য, কি চন্দ্র আমার মাথায় লাগিয়া গেলে বড়ই বিপদ ঘটিত। কিন্তু আকাশের উপর নক্ষত্র বিজুবিজ করিতেছিল। পাছে নক্ষত্র আমার চক্ষুতে লাগিয়া যায়, সেজন্য আমাকে বড়ই সতর্ক হইতে হইল।। যতদূর সাধ্য অতি সাবধানে নক্ষত্রের নিকট দিয়া ঘুড়িগুলি চালাইতে লাগিলাম। তথাপি হঠাৎ একটি নক্ষত্রের গায়ে আমার ঘুড়িগুলি লাগিয়া গেল। আকাশপটে নক্ষত্রগণ চুমকির ন্যায় আটা দিয়া জোড়া থাকে। কেবল যেগুলি মজবুত, সেইগুলি পিত্তলনিৰ্ম্মিত পেরেকের ন্যায় পোতা থাকে। নীচে হইতে তাহাদের স্কুল গোড়াগুলি আমরা দেখিতে পাই। কোন কোন পুরাতন পেরেকের ন্যায় নক্ষত্রের গোড়া আলগা হইয়া গিয়াছে। খোচার ন্যায় তাহারা উঠিয়া আছে। এইরূপ একটা নক্ষত্রের গায়ে আমার ঘুড়ি লাগিয়া গেল। নক্ষত্রটি তৎক্ষণাৎ আকাশপট হইতে খসিয়া পড়ল। সেই সূর্তেসীমার পক্ষাশখানি ঘুড়ি ছিড়িয়া গেল। প্রথম আমার বড় ভয় হইয়াছিল, কিন্তু ইহা আম ংস্কৃৈির্প বর হইল। এখন আমি পৃথিবীর দিকে অল্প অল্প নামিতে লাগিলাম! এখন আমি কুঁজেত পারিলাম যে, ঘুড়ির সংখ্যা কিছু অধিক হইয়াছিল, সেইজন্য তাহারা নীচে নামে নাই আমাকে লইয়া উপরে উঠিয়াছিল। একে একে ঘুড়িগুলিকে আমি কাটিয়া দিতে । ঘুড়ির সংখ্যা যতই অল্প হইতে লাগিল, ততই আমি নীচে নামিতে লাগিলাম । কিছুক্ষণ পরে একপ্রকার কোলাহল শব্দ আমার কর্ণগোচর হইল। তখন ঘোর রাত্রি, নিবিড় অন্ধকার! নিম্নদিকে চাহিয়া দেখিলাম। কিছুতেই দেখিতে পাইলাম না, কিসের কোলাহল কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। আরও নীচে নামিলাম। সৰ্ব্বনাশ! সুন্দরবন পার হইয়া আমি সমুদ্রের মাঝখানে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছি। কিসের কোলাহল, এখন তাহা বিলক্ষণ বুঝিতে পারিলাম। কিন্তু আর উপায় নাই। সমুদয় ঘুড়ি প্রায় কাটিয়া দিয়াছি, পুনরায় উপরে উঠিবার আর উপায় নাই। ফলকথা, অবিলম্বে ঝাপ করিয়া আমি সমুদ্রের জলে পড়িলাম। পৰ্ব্বতসমান তরঙ্গ আমাকে একবার আকাশে তুলিতে লাগিল, একবার পাতালে নামাইতে লাগিল। নাকেমুখে আমার জল প্ৰবেশ করিতে লাগিল। ভয়ানক লোনা জল! ভাগ্যে আমি সীতার জানিতাম, তাই জলের উপর ভাসিয়া থাকিতে পারিলাম। কিন্তু সমুদ্রের পর্বতমান ভীষণ তরঙ্গের ভিতর পড়িয়া মানুষ কতক্ষণ বঁচিয়া থাকিতে পারে! প্ৰাণের আশা আমি একেবারে ছাড়িয়া দিলাম। মনে মনে আমি ঠাকুরদের নাম করিতে লাগিলাম। হাত-পা শিথিল হইয়া কখন জলমগ্ন হই, সেই প্রতীক্ষা করিতেছি, এমন সময় নিকটে বৃহৎ একটি ঝিনুক দেখিতে পাইলাম। আপনারা পুষ্করিণীতে যে ঝিনুক দেখিয়াছেন, এ সেরূপ নহে, এ সমুদ্রের ঝিনুক, বৃহৎ একখানি মানােয়ারি জাহাজের মত। ঝিনুকটি হাঁ করিয়া সমুদ্র-জল 2\3-1-3UF7 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro \DRGł পান করিতেছিল। আমি মনে করিলাম, ঝিনুকটির ভিতর গিয়া কিছুকাল বিশ্রাম করি। এইরূপ মনে করিয়া আমি তাহার মুখের ভিতর প্রবেশ করিলাম। কিন্তু যেই তাহার ভিতর গিয়াছি, আর ঝিনুক তৎক্ষণাৎ তাহার খোলা দুইখানি বন্ধ করিয়া দিল। যাহা হউক, পূর্বেই বলিয়াছি যে, ঝিনুকটি বৃহৎ একখানি মানােয়ারি জাহাজের মত বড়। সেজন্য তাহার ভিতর বায়ুর অভাব ছিল না, নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস কাৰ্যে আমার কোন ক্লেশ হয় নাই। ঝিনুকের পেটের ভিতর তাহার নাড়ীর এক অংশ বালিশ করিয়া আমি শয়ন করিলাম। গির্জার চূড়ায় ঘূর্ণায়মান অবস্থায় অনেকদিন আমি নিদ্রা যাইতে পারি নাই। ঝিনুকের ভিতর আজ যেমন শয়ন করিলাম, তেমনি নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলাম। বলিতে পারি না। বোধহয়, তিন-চারি দিন একাদিক্ৰমে নিদ্রা গিয়া থাকিব। নিদ্রা হইতে উঠিয়া ক্ষুধায় আমি কাতর হইলাম। ঝিনুকের উন্দরটি নিতান্ত তমসাচ্ছন্ন ছিল না; কারণ, ইহার পেটের ভিতর জালার ন্যায় বৃহৎ একটি মুক্তা ছিল। সেই মুক্তার আলোকে ঝিনুকের উদারদেশ আলোকিত ছিল। ইতিপূৰ্ব্বে ঝিনুকমাংসের আমিষ গন্ধ আমার নাসারান্ধে প্রবেশ করিয়াছিল। এক্ষণে হাত দিয়া দেখিলাম যে, ঝিনুকটি বৃহৎ বটে, কিন্তু তাহার মাংস নিতান্ত কঠিন নহে। কাকের মাংস ভক্ষণে কাঁচা মাংসের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা দূর হইয়াছিল; সুতরাং জঠরের জ্বালায় আমি এইবার ঝিনুকের কাচা মাংস খাইতে আরম্ভ করিলাম। কথায় আছে যে, এমন কাজ নাই, যাহা ক্ষুধাৰ্ত্ত ব্যক্তি না করিতে পারে। ঝিনুকের উদরে থাকিয়া তিনমাসকাল তাহারাষ্ট্রগুইন্স ভক্ষণ করিয়া আমি জীবনধারণ করিলাম। তিনমাস পরে সে মাংস নিঃশেষ হইয়াৰ্ছগৈল। এখন হইতে কি খাইয়া প্রাণধারণ করিব, তাহাই ভাবিতে লাগিলাম। ধ্ৰুঠংসভক্ষণে ঝিনুকটি কিছুদিন পূৰ্ব্বে মরিয়া গিয়াছিল। সেজন্য শেষকালের মাংসে দুৰ্গন্ধও হইয়াছিল। দুইদিন উপবাসী থাকিয়া বাহির হইবার চেষ্টায় ভিতর কের খোলা ধরিয়া আমি টানাটানি করিতে লাগিলাম । আমার টানাটানিতে বজ্ৰপাতের ন্যায় শব্দ হইয়া ঝিনুকটি দুই খণ্ড হইয়া গেল। এক এক খণ্ড একখানি জাহাজের ন্যায় সমুদ্রের উপর ভাসিতে লাগিল। যে খণ্ডের উপর আমি ছিলাম, তাহাতে সে জালাসদৃশ মুক্তাটি ছিল না। অপর খণ্ড, যাহাতে মুক্তাটি ছিল, তাহা কিছুদূরে ভাসিতেছিল। আমি ভাবিলাম যে, যেমন করিয়া হউক, মুক্তাটি আমায় দেশে লইয়া যাইতে হইবে। এতবড় মুক্তা কেহ কখন দেখে নাই, ইহার মূল্য সাত রাজার ধন, ইহা বিক্রয় করিয়া পুরুষ-পুরুষানুক্রমে আমি ধন্যবান হইতে পারিব। এইরূপ মনে করিয়া আমি জলে ঝাঁপ দিয়া ঝিনুকের অপর খণ্ড, যাহার উপর মুক্তা ছিল, সঁাতার দিয়া তাহাতে গিয়া উঠিলাম। আমাকে লইয়া ঝিনুকের খোলা সেই অকূল সমুদ্রে ভাসিতে ভাসিতে চলিল। দুই দিন পরে দূরে একখানি জাহাজ দেখিতে পাইলাম। দাঁড়াইয়া, আমি আমার চাদর নড়িয়া, জাহাজের লোককে সঙ্কেত করিতে লাগিলাম। কিন্তু তাহারা আমাকে দেখিতে পাইল না। অবিলম্বে জাহাজখানি অদৃশ্য হইয়া পড়িল । এইরূপে আরও পাঁচ দিন কাটিয়া গেল। সাত দিন আমি অনাহারে ছিলাম, জল পৰ্যন্ত আমার উদরে যায় নাই। আমার শরীর ক্ষীণ ও অবসন্ন হইয়া পড়িল, দুৰ্ব্বলতায় আমার নিদ্রা আসিয়া গেল। অজ্ঞান-অভিভূত হইয়া আমি শুইয়া পড়িলাম। , Č čit<synt!!! !!!>ri>{ VORM sÀ 315 až 35 GK RG! MV www.amarboi.comí**ő §න්ද් কতক্ষণ নিদ্রা গিয়াছিলাম, তাহা বলিতে পারি না । সমুদ্র-তরঙ্গে ঝিনুকের খোলাখানি উঠিতে-নামিতেছিল, সৰ্ব্বদাই খোলাখানি সমুদ্র-বক্ষে দুলিতেছিল। সহসা “খ্যাস” করিয়া একটি শব্দ হইল ও সেই মুহুৰ্ত্তে ঝিনুকের খোলাখানি স্থির হইয়া দাঁড়াইল। তাহাতেই আমার নিদ্রাভঙ্গ হইল। আমি দেখিলাম যে, ঝিনুকের খোলাখানি সমুদ্রতীরে লাগিয়াছে। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। হইয়াছে। এত দুঃখের পর আমি যে পুনরায় তীরে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছি, তাহা দেখিয়া আমার আহাদের আর পরিসীমা রহিল না। মনে করিলাম যে, উপরে নিশ্চয় গ্ৰাম আছে। গ্রামে গিয়া প্রথম ক্ষুধা ও তৃষ্ণ নিবারণ করিব, তাহার পর একখানি গরুর গাড়ী আনিয়া মুক্তাটিকে লইয়া যাইব । এইরূপ মনে করিয়া ঝিনুকের খোলা হইতে আমি নামিলাম, কিন্তু যেই আমি নামিয়াছি, আর পাৰ্ব্বতপ্রমাণ একটি তরঙ্গ আসিয়া উপস্থিত হইল। তরঙ্গটি আমার মাথার উপর দিয়া চলিয়া গেল। তরঙ্গ দ্বারা তাড়িত হইয়া আমি অনেক দূর বালুকাময় শুষ্ক চড়ার উপর গিয়া পড়িলাম। তাড়াতাড়ি পুনরায় উঠিয়া দাঁড়াইলাম। যে স্থানে ঝিনুকের খোলা ছিল, সেই দিকে দৃষ্টি করিলাম। দেখিলাম যে, নিম্নগামী তরঙ্গ-জলের সহিত ঝিনুকের খোলাখানি দূর সমুদ্র অভিমুখে চলিয়া যাইতেছে। হায়! হায়! আমার বহুমূল্য মুক্তাটি ভাসিয়া গেল!! অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত একদৃষ্টি সেই দিকে চাহিয়া রহিলাম। ঝিনুকের খোলাখনি সমুদ্রের মাঝখানে চলিয়া গেল,-অবিলম্বে সমুদ্র-তরঙ্গে লীন হইয়া অদৃশ্য হইয়া গুড়িল । এই সময় পশ্চিমদিকে সূৰ্য্যদেব অস্তমিত হইলেনুঠে, য় সমুদ্রকুল পরিত্যাগ করিয়া আমি উপরে উঠিতে লাগিলাম। উপরে উঠিয়া য় দেখিতে পাইলাম না। প্ৰথমে নিবিড় হেঁতাল বন দেখিতে পাইলাম। তাহার পর সুর্য্যন্য গাছও দেখিতে পাইলাম। নিবিড় অরণ্য, যেদিকে দৃষ্টি করি, সেই দিকেই বন। করিলাম যে, এ স্থানটি হয় সাগরদ্বীপ অথবা সুন্দরবনের অপর কোন অংশ। ৩১ আরও অগ্রসর হইতে লাগিলামY বন নিবিড় হইতে নিবিড়তার হইতে লাগিল। তখনও অল্প অল্প আলোক ছিল। সেই আলোকে দেখিতে পাইলাম যে, আমার দক্ষিণদিকে বনের ভিতর দিয়া কি একটা বৃহৎ জন্তু অতি নিঃশব্দে আমার সঙ্গে সঙ্গে যাইতেছে। তখন আমার বড় ভয় হইল। আমি নিশ্চয় বুঝিলাম যে, এ অন্য জন্তু নহে, এ ব্যাঘ, দূর হইতে আমায় অনুসরণ করিতেছে, সুবিধা পাইলেই লাফ প্ৰদানপূৰ্ব্বক আমার ঘাড়ে আসিয়া পড়িবে। আমি তাড়াতাড়ি একটি গাছে উঠিয়া পড়িলাম। গাছে কিছুদূর উঠিয়াছি, আর বাঘ ভয়াবহ গৰ্জ্জন করিয়া একলম্ফে সেই বৃক্ষতলে আসিয়া পড়িল। তাড়াতাড়ি আমি গাছের আরও উপরে উঠিতে লাগিলাম, বাঘ উচ্চ এক লম্ফ প্ৰদান করিয়া গাছ হইতে আমাকে পাড়িতে চেষ্টা করিল। কিন্তু আমি তখন যে স্থানে উঠিয়াছিলাম, লম্ফ প্ৰদান করিয়া বাঘ ততদূর পৌছিতে পারিল না। বাঘ পুনরায় ভূতলে পতিত হইল। ভীষণ গৰ্জ্জন করিতে করিতে পুনরায় সে উঠিয়া দাঁড়াইল, আর আমার প্রতি একদৃষ্টি চাহিয়া রহিল। তাহার চক্ষু দুইটি গোলাকার অগ্নি-শিখার ন্যায় জুলিতে লাগিল । বৃক্ষের উপর যতদূর উঠতে পারা যায়, ততদূর আমি উঠিলাম। তাহার পর সরু শাখা, তাহার উপর আর উঠতে পারিলাম না। বৃক্ষটি একটু হেলা, অর্থাৎ বক্রভাবে ভূমি হইতে উঠিয়াছিল। সৰ্ব্বনাশ! ব্যাঘ বৃক্ষের উপর উঠতে আরম্ভ করিল। আমি ভাবিলাম, আর রক্ষা V9QR 2 Փi-ՀՍՀ7 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro R নাই। এইবার আমার আসন্নকাল উপস্থিত হইয়াছে। প্রাণপণ যত্নে আমি গাছটি নাড়া দিতে লাগিলাম, কিন্তু তাঁহাতে ব্যাঘের কিছুমাত্র ক্ষতি হইল না। ব্যাঘ্ৰ ক্ৰমাগত বৃক্ষের উপর আরোহণ করিতে লাগিল । আমার নিকট হইতে ব্যাঘ আর পাঁচ হাত আছে, আমার নিকট হইতে আর চারি হাত আছে, আমার নিকট হইতে আর তিন হাত আছে, আমার নিকট হইতে আর দুই হাত আছে। ব্যাঘ আমার একহাত নিম্নে আসিয়া উপস্থিত হইল। আমাকে ধরিবার নিমিত্ত সে হাত বাড়াইল। যদিও ইহার পর শাখা-প্ৰশাখা অতিশয় সরু ও ভঙ্গপ্রবণ ছিল, তথাপি প্ৰাণের দায়ে আমি আরও একটু উচ্চে গিয়া উঠিলাম। আশ্চৰ্য্য! সেই সময় আমার মাথার উপর খিলখিল শব্দে কি হাসিয়া উঠিল! চকিত হইয়া আমি উপরে দৃষ্টি করিলাম। দেখিলাম যে, ঠিক আমার মস্তকের উপর সরু এক শাখাতে এক নরমুণ্ড বুলিতেছে। দেহ হইতে মুণ্ডটি নূতন কৰ্ত্তিত হইয়াছে; কারণ, তাহার গলদেশ হইতে তখনও ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত পড়িতেছিল। মস্তকটি মুণ্ডিত, কেবল মধ্যস্থলে একগুচ্ছ কেশ ছিল। টিকিটি গাছের ডালে বাধা ছিল। টিকি দ্বারা লম্বিত হইয়া মুগুটি নারিকেলের ন্যায় বৃক্ষ-শাখায় বুলিতেছিল। মুগুটি খিলখিল করিয়া হাসিতেছিল, আর আমাকে ভক্ষণ করিবার নিমিত্ত মুখব্যাদান করিয়াছিল। কি ভয়ানক তাহার দন্ত দুই পতি! উপরে অদ্ভুত ভয়াবহ মুণ্ড, নিম্নে দুরন্ত ব্যাঘ, আমি বড়ই বিপদে পড়িলাম। কিন্তু তখন অন্য সমুদয় চিন্তা আমার মন হইতে দূর হইল। মনে যে,- “মুণ্ড! তুমি ভূত হও, আর রক্ষুস হও! তােমার দ্বারা আমি ব্যায়ুর মুখ হৰ্ভুত রক্ষা পাইব ।" এইরূপ ভাবিয়া আমি মুণ্ডটিকে ধরিয়া টান মারিলাম। তাহার শিখারুকেশগুচ্ছ চড়াচড় করিয়া ছিড়িয়া গেল। একটানে মুগুটিকে বৃক্ষশাখা হইতে ছিড়িয়া লন্বিত করিয়া আমি ব্যাঘের মুখের নিকট ধরিলাম। সম্মুখে টাটুকা নরমুণ্ড র মুখে একটু হাসি দেখা দিল। যথালাভ মনে করিয়া সে হাত দিয়া মুগুটি ধরিল Y পরীক্ষণেই এক লম্ফ প্রদান করিয়া বৃক্ষের নীচে গিয়া পড়িল। তাহার পর নরমুণ্ডটিকে মুখে লইয়া ব্যাঘ-দ্রুতবেগে বনের ভিতর প্রবেশ করিল। ষষ্ঠ রাজনী ডাকিনীর বাড়ী নয়নগোচর হইল। জন্তু নহে, মনুষ্য নহে, কিরূপ নূতন একপ্রকার জীব এই সময় বৃক্ষতলে আসিয়া উপস্থিত হইল। মানুষের ন্যায় তাহার আকৃতি, কিন্তু প্ৰায় ছয় হাত লম্বা। মূৰ্ত্তিািট ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। দীর্ঘ কৃষ্ণবর্ণের নর-দেহ, অনেকদিন রৌদ্রে শুষ্ক করিলে যেরূপ হয়, মূৰ্ত্তিটি সেইরূপ শীর্ণ ও শুষ্ক ছিল। তাহার শরীরে মাংস একেবারেই ছিল না, শুষ্ক চৰ্ম্ম দ্বারা কেবল হাড়গুলি আবৃত ছিল। তাহার মুখ কৃষ্ণবর্ণের বৃহৎ একটি ঝুনা নারিকেলের মত ছিল। মস্তকের চুল ঠিক VJSbr fizis -25 g5 Fe! „www.amarboicom“ ছোবড়ার মত, স্কন্ধাদেশ পৰ্যন্ত লন্বিত ছিল। তাহার স্তন নাভিদেশ পৰ্যন্ত পড়িয়াছিল। অলঙ্কারস্বরূপ তাহার দুই কৰ্ণে দুইটি শুভ্ৰবর্ণের কৃমি বুলিতেছিল। নােলোকস্বরূপ নাসিকাতেও একটি কৃমি ছিল। সেই কৃমির অগ্রভাগে মুক্তার স্থানে বৃহৎ একটি কোলা ভেক ঝুলিতেছিল। মূৰ্ত্তিািটর কোমর রক্তবর্ণের ঘাগরা দ্বারা আবৃত ছিল, কিন্তু সে ঘাগরা কেবল জানু পৰ্যন্ত পড়িয়াছিল। তাহার নিম্নে শুষ্ক বঁশের ন্যায় পা দুইখানি অনাবৃত ছিল। মুখমণ্ডলে মানুষের যে স্থানে চক্ষু থাকে, ইহার সেই স্থানে দুইটি কোটির ছিল, আর সেই কোটরের মধ্যে দুইটি রক্তবর্ণের বর্তুল ঘূর্ণিত হইতেছিল। এখন অন্ধকার হইয়া গিয়াছিল। কিন্তু এই ভয়াবহ মূৰ্ত্তি মাঝে মাঝে মুখব্যাদান করিতেছিল, আর সেই সময় তাহার মুখের ভিতর হইতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বাহির হইতেছিল। সেই অগ্নির আলোকে আমি ইহার শরীরের ভাবভঙ্গী দেখিতে পাইলাম। সেই আলোকে আমি ইহার দন্ত দুই পাতিও দেখিতে পাইলাম। কি দীর্ঘ, কি উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণের দন্ত! যেন নরমাংস চিবাইবার নিমিত্তই সেই দন্ত গঠিত হইয়াছে। এরূপ ভয়ানক দৃশ্য পূৰ্ব্বে আমি কখন দেখি নাই। ভয়ে আমার প্রাণ আকুল হইয়া উঠিল। নীরবে গাছের উপর আমি চুপ করিয়া বসিয়া রহিলাম। আমি যে বৃক্ষে বসিয়াছিলাম, এই ভয়াবহ মূৰ্ত্তি আসিয়া সেই বৃক্ষে আরোহণ করিল। কিছুদূর উঠিয়া একটি স্কুল মাথার উপর অশ্বারোহণের ন্যায় সে উপবিষ্ট হইল। তাহার পর বিড়বিড় করিয়া সে কি রূপ শব্দ করিল। আর সেই মুহুৰ্ত্তেবৃক্ষটি আকাশের উপর উঠিয়া হু-হু শব্দে বায়ুর ন্যায় চলিতে লাগিল। এখন আমি সকল কথা বুঝিতে পারিলাম। গাছটি ডাকিনীর গাছ। সেই অদ্ভুত জীব ডাকিনী ব্যান্তীতু আর কিছুই নহে। পূৰ্ব্বে আমার ধারণা ছিল যে, ডাকিনীদিগের আকৃতি ঠিক শ্ৰেষ্ঠ হয়। কিন্তু আজ আমার সে ভ্রম দূর হইল। এখন আমি বুঝিতে পারিলাম যে, গর আকৃতি কতকাংশে মানুষের মত হইলেও ইহারা অতি ভয়াবহ জীব। গাছ, দেশ প্রদেশ নদ নদী অতিক্রম কষ্ট্ৰীয়া চলিতে লাগিল। রাত্রি প্রায় দুই প্ৰহরের সময় এক পাৰ্ব্বত্য প্রদেশে গিয়া উপস্থিত হুইট্র’ চারিদিকে গিরিশ্রেণী, সেই সমুদয় গিরিশ্ৰেণী নিবিড় অরণ্যে আবৃত। ইহাই কি হিমালয় প্রদেশ? এই স্থানে উপস্থিত হইয়া বৃক্ষ পৃথিবীতে অবতরণ করিল। পৃথিবী স্পর্শ করিবামাত্র ইহার মূল এরূপভাবে ভূমিতে লাগিয়া গেল, যেন বীজ হইতে উৎপন্ন হইয়া বৃক্ষটি সেই স্থানেই চিরকাল বৰ্দ্ধিত হইয়াছে। ডাকিনী লম্ফ প্রদান করিয়া বৃক্ষ হইতে নামিল। সেই মুহুৰ্ত্তে নিকটস্থ এক গিরিগহবর হইতে আর একটি ডাকিনী বাহির হইল। তাহারও আকৃতি ঠিক প্রথম ডাকিনীর মত ছিল। কিন্তু ইহার মুখ কৃষ্ণবর্ণের ঝুনা নারিকেলের মত নহে, শুষ্ক অলাবুর মত। দ্বিতীয় ডাকিনী নিকটে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল,— “নারিকেলমুখী! মুণ্ড আনিয়াছ?” তাহার প্রশ্ন শ্রবণ করিয়া আমি বুঝিতে পারিলাম যে, প্রথম ডাকিনীর মুখ নারিকেলের মত, সেই জন্য তাহার নাম নারিকেলমুখী! নারিকেলমুখী উত্তর করিল,— “হাঁ লাউমুখী! মুণ্ড আনিয়াছি! ভাল মুণ্ড! আজি চমৎকার ভাটা খেলা হইবে।” নারিকেলমুখীর এই উত্তরে আমি বুঝিতে পারিলাম যে, গহবর হইতে যে ডাকিনী হইল, তাহার নাম “লাউমুখী।” লাউমুখী বলিল,— “তবে আমি আমার মুণ্ড লইয়া আসি, আর জয়-পরাজয় বিচার করিবার নিমিত্ত ভূমিকম্প-দাদাকে ডাকিয়া আনি।” এই কথা বলিয়া পুনরায় সে গিরিগহবরে প্রবেশ করিল। অল্পীক্ষণ পরে সে টাটকা একটি

  • /37-ՀՈcii VORd

sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro নরমুণ্ড হাতে লইয়া বাহির হইল। তাহার সঙ্গে এক বৃদ্ধও গহবর হইতে বাহির হইলেন। ডাকিনীদ্বয়ের মুখ-নির্গত অগ্নিস্ফুলিঙ্গের আলােকে আমি দেখিলাম যে, ইনি সেই বৃদ্ধ, পৃথিবীতে ভূমিকম্প করা যাহার উপজীবিকা। তাঁহাকে দেখিয়া আমার বড় ভয় হইল। কিন্তু নারিকেলমুখী বৃক্ষতলে দাঁড়াইয়া আছে, পলায়ন করিবার কোন উপায় ছিল না। সেজন্য গাছের উপর আমি চুপ করিয়া বসিয়া রহিলাম। বৃদ্ধের সহিত, মুণ্ড হাতে লইয়া লাউমুখী গিরিগহবর হইতে বাহির হইয়া বলিল,— “কৈ নারিকেলমুখী! তোমার মুণ্ডকৈ? রাত্রি অধিক হইয়াছে। শীঘ এস, ভঁাটা খেলা আরম্ভ করি। কে হারে, কে জিতে, ভূমিকম্প ঠাকুরদাদা তাহার বিচার করিবেন।” “আমার মুণ্ড লইয়া আসি।” এই কথা বলিয়া নারিকেলমুখী বৃক্ষে আরোহণ করিতে লাগিল। আমার বড় ভয় হইল। যে স্থানে মুণ্ড লন্বিত ছিল, সে স্থান হইতে সরিয়া বৃক্ষের আর এক শাখায় গিয়া আমি লুক্কায়িত থাকিতে চেষ্টা করিলাম। নারিকেলমুখী গাছে উঠিয়া মুণ্ড অন্বেষণ করিতে লাগিল। কিন্তু যে স্থানে মুণ্ড বুলিতেছিল, সে স্থানে মুণ্ড নাই। “এ কি হইল! মুণ্ড কোথায় গেল!” এইরূপ বলিতে বলিতে ঘোরতর বিস্মিতা হইয়া সে গাছের এ-শাখা সে-শাখা হাতড়াইতে লাগিল। সামান্য সেই গাছে কতক্ষণ আর আমি লুক্কায়িত থাকিতে পারি? সহসা তাহার ব্যাখ্যারিনিন্দিত হস্ত আমার গায়ে ঠেকিয়া গেল। “এ কি!” এই কথা বলিয়া সে তৎক্ষণাৎ আমাকে ধরিয়া ফেলিল। তাহার পর বলপূৰ্ব্বক বৃক্ষ হইতে নামাইয়া সে আমাকে ভূমিকম্পের নিকট ল বৃদ্ধকে সম্বোধন করিয়া নারিকেলমুখী বলিল, দু পরিবৰ্ত্তে গাছে এই আস্ত মানুষটি ছিল। এই মানুষ স্বৈরধি ভূমিকম্প বৃদ্ধ আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি উত্তর করিলাম,- “আমি আ পরিচিত নাহি। কলিকাতা গড়ের মাঠে যাহাকে আপনি একটাকার ভূমিকম্প বিক্রয় , আমি সেই ব্যক্তি ।” বৃদ্ধ বলিলেন,- “বটে! তুমি সেই ব্যক্তি! ইহার মুণ্ড লইয়া তুমি কি করিয়াছ?” মুণ্ড লইয়া যাহা করিয়াছিলাম, সত্য সত্য বৃদ্ধকে সেই বিবরণ আমি প্ৰদান করিলাম। বৃদ্ধ তাহা শুনিয়া বলিলেন,- “এ বড় বিষম কথা! নাতিনী দুইটি মুণ্ডে মুণ্ডে ঠোকাঠুকি করিয়া ভঁটা ক্রীড়া করে। তোমাদের মত ইহাদের পা নাই যে, ইহারা ফুটবল খেলিবে। কিন্তু এ বড় অন্যায় কথা যে, তোমরা তাহাদিগকে এ সামান্য ক্রীড়া হইতেও বঞ্চিত করবে। অন্য লোক হইলে, তাহার মুণ্ডটি ছিড়িয়া আমি নাতিনীকে ভঁটাি খেলিতে দিতাম। কিন্তু তুমি আমার খরিদ-দার। সেজন্য তোমার মুণ্ড আমি ছিড়িয়া লইতে পারি না। কিন্তু নারিকেলামুখীর মনোদুঃখ তোমায় নিবারণ করিতে হইবে। তাহাকে তোমায় বিবাহ করিতে হইবে। আজ রাত্রিতেই তাহার সহিত তোমার আমি বিবাহ দিব। লাউমুখী! বিবাহের আয়োজন কর। শঙ্খ আনয়ন কর, আমি নিজে শঙ্খ বাজাইব । লাউমুখী, তুমি উলু দাও।” লাউমুখী তৎক্ষণাৎ উলুধ্বনি করিল। উলু! উলু! উলু! তাহার উলুধ্বনিতে জগৎ ফাটিয়া যাইতে লাগিল । নারিকেলমুখীর দিকে আমি একবার চাহিয়া দেখিলাম। তাহার রূপ দেখিয়া আমার সৰ্ব্বশরীর শিহরিয়া উঠিল। এ কিস্তৃতকদাকার ডাকিনীকে কিরূপে আমি পত্নীরূপে বরণ করব! অতি মিনতিসহকারে আমি ভূমিকম্প মহােদয়কে বলিলাম,- “মহাশয়! আপনি যেরূপ VDVDo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি"******* আজ্ঞা করিলেন, তাহা আমার শিরোধাৰ্য। কিন্তু মহাশয়! আমি হইলাম মানুষ, ইনি হইলেন ডাকিনী । ইহার সহিত কিরূপে আমার পরিণয় হইতে পারে? তাহা ব্যতীত ঘরে আমার আর একটি পত্নী আছেন। সপত্নীর নিকট গিয়া আপনার নাতিনীর সুখ হইবে না।” ভূমিকম্প ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন,- “সেজন্য তোমার কোন চিন্তা নাই। তোমাকে আমরা ছাড়িয়া দিব না। নারিকেলমুখী তোমাকে ভেড়া করিয়া চিরকাল এই স্থানে রাখিয়া দিবে।” আমি বলিলাম,- “সে সুখের কথা বটে। কিন্তু মহাশয়! এরূপ সুপাত্রীর উপযুক্ত পাত্ৰ আমি নই।” ভূমিকম্প উত্তর করিলেন,- সে চিন্তা তোমাকে করিতে হইবে না। নারিকেলমুখীর ভাব দেখিয়া আমি বুঝিতে পারিয়াছি যে, তোমার প্রতি তাহার মন হইয়াছে।” এই কথা শুনিয়া নারিকেলামুখী ঈষৎ হাসিয়া আমার প্রতি কটাক্ষবাণ নিক্ষেপ করিল। পুনরায় ঈষৎ হাসিয়া ভেকসংযুক্ত নোলোকটি একবার নাড়িল। তাহার অপূৰ্ব্ব রূপ ও হাবভাব দেখিয়া আমার মন একেবারে মোহিত হইয়া গেল। আমি ভাবিলাম যে, মৃত্যু হউক, তাহাও আমার পক্ষে শ্ৰেয়ঃ তথাপি এ কদাকার ডাকিনীকে আমি বিবাহ করিতে পারিব না। বৃদ্ধের নিকট আমি বারবার অনেক ওজার-আপত্তি করিলাম, বিনয় বচনে আমি অনেক সাধ্যসাধনা করিলাম। কিন্তু বৃদ্ধ কিছুতেই আমাকে নিস্কৃতি প্ৰদান করিতে স্বীকৃত হইলেন না। অবশেষে নিরুপায় হইয়া আমি বলিলাম,- “মহাশয়। ইনি ডাকিনী, আমি মানুষ। কিছুতেই আমি ইহাকে বিবাহ করব না। আপনি আমার মস্তক কঢ়িয়া ইহাকে প্ৰদান করুন। আমার মুণ্ড লইয়া ইনি ভাটা ক্রীড়া করুন। বিবাহ আমি ইহাকে করিব না ।” বৃদ্ধ বলিলেন, — “তুমি আমার খরিদ-দার ১২ মুণ্ড আমি কিছুতেই কাটিয়া ভাঁটা ব্লকেলুমুখীকে বিবাহ করিতে হইবে। লাউমুখী! শঙ্খ আনয়ন কর! উলু দাও।” পুনরায় উলুধ্বনিতে আকাশ গাঢ়্যু আমার নিকটবৰ্ত্ত হইয়া মৃদুস্বরে মুণ্ডমালা হইতে একটি মুণ্ড আনিয়া দিতেছি।” আমি চাহিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, কিছু দূরে বনের ভিতর একটি ভগ্ন মন্দির রহিয়াছে। লাউমুখীর সঙ্কেত আমি বুঝিতে পারিলাম। ভূমিকম্প বৃদ্ধিকে আমি বলিলাম,— “এ বিবাহকাৰ্য অল্পক্ষণের নিমিত্ত আপনি স্থগিত রাখুন। আমি আপনাদের মুণ্ড লইয়াছি, তাহার পরিবৰ্ত্তে আর একটি মুণ্ড আনিয়া দিতেছি।” আশ্চৰ্য্য হইয়া ভূমিকম্প আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “আর একটি মুণ্ড তুমি আনিয়া দিবে! সে মুণ্ড তুমি কোথায় পাইবে?” আমি উত্তর করিলাম,- “ঐ মন্দিরে মা আছেন। মায়ের গলদেশে যে মুণ্ডমালা আছে, তাহা হইতে একটি মুণ্ড আমি আনিয়া দিব।” বৃদ্ধ জিজ্ঞাসা করিলেন,— “এ সন্ধান তোমাকে কে বলিয়া দিল?” আমি কোন উত্তর করিলাম না । ভূমিকম্প বৃদ্ধ পুনরায় বলিলেন, — “এ কথার উপর, কথা বলিবার আমাদের শক্তি নাই। যখন তুমি মা জগদম্বার নাম করিয়াছ, তখন আর আমরা কোন আপত্তি করিতে পারি না। যদি তুমি মায়ের মুণ্ডমালা হইতে একটি ভাল মুন্ড আনিয়া দিতে পাের, তাহা হইলে তোমাকে আমরা লাগিল। এইবার উলু দিতে দিতে লাউমুখী লিল,— “বল যে, ঐ মন্দিরে গিয়া কালীর গলদেশস্থিত \ЈАЈУ 2 Փ|-*//cil sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ছাড়িযা দিব। কিন্তু মায়ের গলদেশ হইতে মুণ্ড আনয়ন করা নিতান্ত সহজ কাজ নাহে।” আমি বলিলাম,- “সহজ হউক আর কঠিন হউক, আমি এ কাজ করিতে চেষ্টা করিব।” বৃদ্ধ বলিলেন,— “বেশ! তবে চল, সকলে মন্দিরে যাই। আমরা মন্দিরের বাহিরে থাকিব। নারিকেলমুখী ও লাউমুখীর সহিত আমি সম্মুখদিকে পাহারা দিব। শাকমুখীকে ডাকিয়া আন, সে আপনার দলবলের সহিত পশ্চাৎদিকে পাহারা দিবে। তুমি পলাইতে পরিবে না।” শাকমুখী আপনার দলবলের সহিত আসিয়া উপস্থিত হইল। সকলে আমরা মন্দিরের নিকট গমন করিলাম। আমি মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করিলাম। ঠিক দ্বারে শ্ৰীমতী নারিকেলমুখী পাহারা রহিলেন। তাঁহার বামদিকে ভূমিকম্প মহাশয় ও দক্ষিণদিকে শ্ৰীমতি লাউমুখী বসিয়া রহিলেন। মন্দিরের পশ্চাৎদিকে শাকমুখী আপনার দলবলের সহিত পাহারা দিতে লাগিল। সপ্তম রজনী মুণ্ডমালা ভিতরে প্রবেশ করিয়া আমি দেখিলাম যে, মন্দিরটি , কিন্তু নিতান্ত ভগ্ন হয় নাই। ভিতরে একটি কালীমূৰ্ত্তি আছে। মূৰ্ত্তিটি বােধ হয় রা গঠিত। মন্দিরের একপার্শ্বে একটি কুলঙ্গি আছে, সেই কুলঙ্গিতে লীেহ-নিৰ্ম্মিত প। মিটমিটু করিয়া জুলিতেছিল। মায়ের পাদপদ্মে ফুল ও কুলঙ্গিতে প্ৰদীপ দেখিয়া পারিলাম যে, মায়ের নিত্য-পূজা হইয়া থাকে। বোধ হয়, ডাক ও ডাকিনীগণুতে পূজা করে। কিন্তু আর একটি আশ্চৰ্য্য কথা! মায়ের হাতে ও গলদেশে যে নরমুণ্ড রহিয়াছে, সে মুণ্ডগুলি প্রস্তুর-নিৰ্ম্মিত কৃত্রিম মুণ্ড নহে। প্রকৃত টাটুকা নরমুণ্ড। কিন্তু সকল মুণ্ডগুলিই মুণ্ডিত, কেবল উপরিভাগে এক একটি শিখা আছে। সেই টিকি দ্বারা আবদ্ধ হইয়া মুণ্ডগুলি মালার সূত্রে লম্বিত আছে। ডাকিনীর বৃক্ষে আমি যেরূপ মুণ্ড দেখিয়াছিলাম, আর সেই মুণ্ডটি বৃক্ষ-শাখায় যেভাবে টিকি দ্বারা লম্বিত ছিল, মায়ের গলদেশেও সেইরূপ মুণ্ড ছিল ও সেইভাবে লম্বিত ছিল। মন্দিরে প্রবেশ করিয়া অতি ভক্তিভাবে সাষ্টাঙ্গে মাতাকে আমি প্ৰণাম করিলাম। তাহার পর মায়ের সম্মুখে দাড়াইয়া হাত যোড় করিয়া স্তবস্তুতি করিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম,- “মা জগদম্বে! তুমি জগতের মাতা। মা! তুমি দক্ষিণ হস্তদ্বয় উত্তোলন করিয়া জগৎকে অভয় ও বর প্রদান করিতেছ, আমাকে মা তুমি অভয় প্ৰদান কর। আমি মা, বড় বিপদে পড়িয়াছি। তোমার নিকট মা, কোন বিষয় অবিদিত নাই। কত বিপদ হইতে উত্তীর্ণ হইয়া অবশেষে আমি ডাকিনীর হাতে পড়িয়াছি। মা! নারিকেলমুখীকে আমি কিছুতেই বিবাহ করিতে পারিব না। কিন্তু মা, সে আমাকে বলপূৰ্ব্বক বিবাহ করিবে। তোমার মুণ্ডমালা হইতে যদি একটি মুণ্ড আমাকে প্ৰদান কর, তাহা হইলে, মা, এ বিপদ হইতে আমি পরিত্রাণ পাই। কিন্তু মা, তোমার অনুমতি বিনা আমি মুণ্ড লইতে পারি না। সেই অনুমতি, মা, তুমি আমাকে প্ৰদান কর।” মা বোধ হয়। আমার স্তবে সন্তুষ্টা হইলেন। কারণ, আমি দেখিলাম যে, তাহার অভয় ও বর v\ află cios os se - www.amarboi conf** হস্তযুগল নিম্নগামী হইল, আর তাহার মুখমণ্ডল প্ৰসন্নভােব ধারণ করিল। মায়ের এইরূপ প্ৰসন্নভােব দর্শন করিয়া মুণ্ডমালা স্পর্শ করিতে আমার সাহসী হইল। পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, মুণ্ডগুলি টিকি দ্বারা লম্বিত ছিল। আমি মনে করিলাম যে, অনায়াসেই একটি মুণ্ড খুলিয়া লইতে পারিব। এইরূপ মনে করিয়া প্রথম আমি বন্ধন খুলিতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু সে বন্ধন কিছুতেই খুলিতে পারিলাম না। তাহার পর আমি মনে করিলাম যে, মুণ্ডটি অনায়াসে ছিড়িয়া লইতে পারিব। মুণ্ডটি ধরিয়া টানিতে লাগিলাম। আমার দেহে যত বল ছিল, সমুদয় বল প্রয়োগ করিয়া দুই হাতে টানাটানি করিতে লাগিলাম। কিন্তু কিছুতেই ছিড়িতে পারিলাম না। তাহার পর মায়ের হাতের খড়গখানি লইয়া শিখাটি কাটিতে চেষ্টা করিলাম। খড়গ অতি সুতীক্ষ ছিল, তথাপি শিখার একগাছি কেশও কাটিতে পারিলাম না। তাহার পর কুলঙ্গি হইতে সেই লৌহ-প্ৰদীপটি আনিয়া দীপশিখা দ্বারা টিকিকেশগুচ্ছ দগ্ধ করিতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু তাহার একগাছি কেশও দগ্ধ হইল না। নিরুপায় হইয়া সে মুণ্ডটি ছাড়িয়া অন্য মুণ্ডগুলি একে একে টানিয়া দেখিলাম; কিন্তু একটি মুণ্ডও মালা হইতে বিচ্ছিন্ন করিতে পারিলাম না। অবশেষে মায়ের বামহস্তের মুণ্ডটি দুই হাতে ধরিয়া টানিতে লাগিলাম। বাহির হইতে ডাকিনীগণ খলখল করিয়া হাসিয়া উঠিল। আমার টানাটানি দেখিয়া মুণ্ডটির মনে বোধ হয়। দয়া হইল। ঈষৎ হাসিয়া সে আমাকে বলিল,— “বৃথা টানাটানি ভগদত্তর হাতী আনিয়া যদি তুমি টানা-হেঁচড়া কর, তাহা হইলেও কিছু করিতে পরিবে না।” আমি বললাম, "তবে, মহাশয়, কৃপা করিদ্যুঞ্জপিন নিজে গমন করুন। আপনি না গমন করিলে নারিকেলমুখী আমাকে বিবাহ করিৱের্দিষ্ট মুণ্ড বলিল,- “বেশ তো! আমন চমৎকার লাভ করিবে । সে তো আনন্দের বিষয় ।” আমি বলিলাম,- “মহাশয়! এ ত য় নহে। আমি বড় বিপদে পড়িয়াছি। আমার প্রতি আপনি কৃপা করুন।” মুণ্ড বলিল,— “মন্দ কথা নহে? আমি নারিকেলামুখীর নিকট স্ব-ইচ্ছায় গমন করিব। আমাকে লইয়া লাউমুখীর সহিত সে ভাটা খেলিবে । লাউমুখীর যে আর একটি মুণ্ড আছে, তাহার সহিত আমাকে ঠোকাঠুকি করিবে। যদি আমি ভাঙ্গিয়া যাই, তাহা হইলে লাউমুখী জিতিবে; আর যদি লাউমুখীর মুণ্ড ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে নারিকেলমুখী জিতিবে। ভাবিয়া দেখ, এরূপ কাজে কোন মুণ্ড স্ব-ইচ্ছায় গমন করে?” আমি বলিলাম,- “মহাশয় দেবতা! মায়ের বামহস্তে আপনি বিরাজ করিতেছেন। আমি আপনার নিকট কৃপাভিক্ষা করিতেছি। কৃপা করিয়া যদি আপনি আমাকে রক্ষা করেন, তবেই श्य ।" মুণ্ড বলিল,- “দেখ! আমরা বেতাল। আমরা সমস্যা, হেঁয়ালি, গল্প ভালবাসি। সমস্যা দিলে বিক্ৰমাদিত্যের ন্যায় পূরণ করিতে পরিবে?" আমি বলিলাম,- “না মহাশয়! আমার সে শক্তি নাই। আমি পাড়া-গেয়ে অজ্ঞ লোক।” মুণ্ড বলিল,- “তবে তুমি একটি গল্প কর, আমি শুনি। তাহার পর, ডাকিনীর হাত হইতে তোমাকে উদ্ধার করিতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করিব।” আমি বলিলাম,- “মহাশয়! পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, আমি একজন পাড়া-গেয়ে অজ্ঞ লোক। গল্প আমি জানি না।” মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বেতাল অর্থাৎ মুণ্ড বলিল,— “তুমি সমস্যা-পূরণ করিতে পরিবে না, তুমি গল্প বলিতে পরিবে না, কোন কাজ করিতে পরিবে না। অথচ, তোমার ইচ্ছা যে, আমি গিয়া আর একটি মুণ্ডের সহিত ঠোকাঠুকি করি। এ কি কাজের কথা! যাও। নারিকেলমুখীকে বিবাহ করিয়া সুখেস্বচ্ছন্দে ঘর-কন্ন কর।” আমি বড় বিপদে পড়িলাম। গল্প আমি জানি না। অথচ, গল্প না বলিলে মুণ্ডলাভ হয় না। অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া আমি বলিলাম,- “মহাশয়! ভাল গল্প আমি জানি না। তবে দুইএকখানি পুস্তকে ও সংবাদপত্রে গুটিকত গল্প আমি পাঠ করিয়াছিলাম। কিন্তু সে গল্প কি আপনার ভাল লাগিবে?” বেতাল বলিল,— “সেই গল্প আমি ভালবাসি। বিলম্ব করিও না, শীঘ্ৰ আরম্ভ কর।” আমি বলিলাম,- “আচ্ছা, মহাশয়! একটি গল্প আমি বলিতেছি, শ্রবণ করুন। কিন্তু এ গল্পটি সামান্য এক গোপ-কন্যার কথা। সেই গোপকন্যার নাম ছিল আব্দুরী।” বেতাল বলিল,— “আব্দুরী! গোয়ালার মেয়ে! তাহার গল্প শুনিতে আমার বড় ইচ্ছা! হইয়াছে। সে আব্দুরীর কি হইয়াছিল, তাহা বল।” আমি বলিলাম,- “এ গল্পটি আমি কোন সংবাদপত্রে পাঠ করিয়াছিলাম। গল্পটি যেরূপ পাঠ করিয়াছি, সেইরূপ আপনাকে বলিতেছি। শ্ৰবণ করুন।” এই বলিয়া আমি আব্দুরী ও আরাসীর গল্প বলিতে আরম্ভ করিলাম। মায়ের বামহস্তে মুণ্ড ও মালার মূলগণ মনােযোগপূর্বক আমার গল্প শুনিতে লাঞ্ছা! (G)

  • (বেতালগণের নিকট গড়গড়ি মহাশয় অনেকুণ্ঠলি গল্প করিয়াছিলেন। তাহার গুটিকত কেবল এই পুস্তকে প্রকাশিত হইল। এখন হতে রঙ আর আবশ্যক নাই।)

○○8 află cios as se - www.amarboi conf** আদুরী ও আরাসী প্ৰথম পরিচ্ছেদ পাচ কম পাচ কুড়ি “আব্দুৱী! আদুৱী! প্রাচীরের গায়ে গোবরলেদি দিতে দিতে আব্দুরীর মা চীৎকার করিয়া কন্যাকে ডাকিতে লাগিলেন । “ও আব্দুৱী! আব্দুরী! ও আভাগি!”— আদুরীর মা পুনরায় চীৎকার করিয়া ডাকিলেন। ঘরের ভিতর হইতে আব্দুরী সাড়া দিল। সামান্য একখানি মেটে ঘর; তাহার পাশে একটু রান্নার চালা; অপরদিকে গরু থাকিবার নিমিত্ত আর একটি ছোট চালা;— এই হইল আব্দুরী ও ཁ་རྒྱུན་མང་མཐཅ༠་ ཨའི་ལཙམ་༢ ཀ་ཁ་ག་ལྟ་སྐུ་མམིག་གིས་འཐག་ཅ་བང་ལ་ সম্পত্তি । ܠܢ "বেলা হইয়া গেল যে কখন হাটে যাইবিগুড়পুরবেলা হাটে গেলে কি আর দই বিক্ৰী হবে?”—আদুরীর মা পুনরায়ু চীৎকার করিয়ুমেয়েকে বকিতে লাগিলেন। গাভী দুইটির দুগ্ধ ও দধি বিক্রয় রীর মা দিনপাত করেন। যখন দুগ্ধ না থাকে, তখন ধান কিনিয়া চাউল প্রস্তুত করি করেন। সেই পরিশ্রমে যাহা লাভ হয়, তাহাতে একপ্রকার চলিয়া যায়;—তবে কষ্টে একবার আব্দুরীর মায়ের সৌভাগ্য-সূর্য্যের উদয় হইয়াছিল। সে আজ প্রায় দশ বৎসরের কথা। তখন আদবীর মাতামহী অর্থাৎ আদুরীর আয়ী বা দিদিমা জীবিতা ছিলেন। একদিন গরু হারাইয়া গিয়াছিল। বনে-বাদাড়ে আব্দুরীর দিদিমা খুঁজিয়া বেড়াইতেছিলেন। সেদিন নিকটস্থ একখানি গ্রামে এক শৃগাল ক্ষেপিয়াছিল। সে গ্রামে অনেকগুলি লোককে দংশন করিয়াছিল। ঠেঙা হাতে করিয়া গরু খুঁজিতেছিলেন। যাইতে যাইতে দেখিলেন যে, সামান্য একটি মাঠান পথের ধারে একজন সাহেব বসিয়া আছেন। সাহেব পাখী মারিতে আসিয়াছিলেন। শ্ৰান্ত হইয়া, বন্দুকটি পাশে রাখিয়া, গাছতলায় একপাশ দিয়া চলিয়া গেলেন। দুই-চারি হাত গিয়া, সাহেব কি করিতেছেন, তাহা দেখিবার নিমিত্ত একবার মুখ ফিরাইলেন। সৰ্ব্বনাশ! দেখিলেন যে, সাহেবের পিঠের জামার উপর আগের দুই পা রাখিয়া তাঁহার ঘাড়ের উপর একটা শৃগাল উঠিতেছে! অন্য স্ত্রীলোক হইলে ভয়ে পলায়ন করিত। কিন্তু আদুরীর আয়ী ডাকা-বুকো সাহসী স্ত্রীলোক ছিলেন। মুক্তা-মালা లి? sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro “ও সাহেব, পাগলা শেয়াল! ও সাহেব, শেয়াল!” —এইরূপ চীৎকার করিতে করিতে তিনি সাহেবের পশ্চাৎদিকে আসিয়া হাতের ঠেঙ্গার বাড়ি শৃগালকে দুই ঘা মারিলেন। শৃগাল সাহেবকে ছাড়িয়া আব্দুরীর দিদিমাকে আক্রমণ করিল ও দুই-তিন স্থানে বিলক্ষণ দংশন করিল! মুহুৰ্ত্তমধ্যে সাহেবও উঠিয়া বন্দুকের কুঁদের আঘাতে শৃগালকে বধ করিলেন। আদুরীর মাতামহীকে শৃগাল দংশন করিয়াছে, রক্ত পড়িতেছে, তাহা দেখিয়া সাহেব সাতিশয় দুঃখিত হইলেন। সাহেব বলিলেন, — “তুমি আমার সঙ্গে চলো, ভাল ডাক্তার দেখাইয়া তোমার চিকিৎসা করাইব। তুমি আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছ, তোমার ঋণ আমি কিছুতেই শুধিতে পারিব না।” আব্দুরীর দিদিমা কিছুতেই সম্মত হইলেন না। তিনি বলিলেন,- “তোমার সহিত সহরে যাইলে, ডাক্তারের ঔষধ খাইলে, আমার জাতি যাইবে । আমি ঘরে লোহা পোড়াইয়া দিব, কলার ভিতর করিয়া সুলতানি বনাত খাইব; তাহা করিলেই ভাল হইয়া যাইব । আমি বৃদ্ধা বিধবা; আমাদের সহজে মৃত্যু হয় না।” সাহেব তাহার পর তাহাকে ছোট একটি চামড়ার থলি অর্থাৎ মণিব্যাগ দিলেন ও বলিলেন,- “তুমি আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছ। সে ঋণ ইহাতে শোধ হয় না। তবে আমার নিকট যাহা ছিল, সমস্ত আমি তোমাকে দিলাম। ইহার ভিতর যাহা আছে, তাহা খরচ করিয়া আপনার চিকিৎসা করাইবে।” এই বলিয়া সাহেব প্ৰস্থান করিলেন। বাটী আসিয়া আব্দুরীর আয়ী মণিব্যাগ খুলিয়া ছোট একখানি ছাপার কাগজ রহিয়াছে। টাকা উদ্যত হইলেন। কিন্তু আদুরীর মা যে, তাহার ভিতর পাঁচটি টাকা ও লইয়া তিনি কাগজখানি ফেলিয়া দিতে “মা! কাজগখানি ফেলিও না, এ হয়তো সামান্য কাগজ নয়; সেই যারে বলে । শ্ৰী হয়তো তাই। হটবারদিন হাটে গিয়া গদাধর কাপড়ওয়ালাকে দেখাইবে । এ নোট সে তোমায় বলিয়া দিবে।” হাটবারদিন সমুদায় বৃত্তান্ত আদুরীর দিদিমা গদাধরকে কাগজখানি দেখাইলেন। গদাধর সৎ লোক! গদাধর বলিল,- “এ নোট বটে! একশত টাকার নোট। কিন্তু নোট ভাঙ্গাইতে হইলে বাটা লাগে। এই কাগজখানি লইয়া আমি তোমাকে পাচ কম পাঁচ কুড়ি টাকা দিতে পারি।” কিন্তু তাহাকে তৎক্ষণাৎ কাগজখানি না দিয়া আব্দুরীর দিদিমা আরও পাঁচ জনকে দেখাইলেন। অন্যান্য লোক কেহ চারিটিাকা কম, কেহ তিন টাকা কম, কেহ দুই টাকা কম পাচ কুড়ি টাকা দিতে চাহিল। কিন্তু আব্দুরীর দিদিমা তবুও কাগজখানি কাহাকেও দিলেন না। বাটী ফিরিয়া আসিয়া মেয়েকে বলিলেন, — “এত নগদ টাকা এখন এই আমার ঘা সারিয়া গেলে, আমি ভাল হইলে, চুপি চুপি টাকাগুলি আনিয়া ঘটি করিয়া এক স্থানে পুতিয়া রাখিব। এখন খরচ করিয়া ফেলা হইবে না। সময় আছে, অসময় আছে। অসময়ে কাজে লাগিবে ।” ኳ তাহাই স্থির হইল। আব্দুরীর মাতামহী নোটখানি লুকাইয়া রাখিলেন। কিন্তু কোথায় রাখিলেন, সে কথা কাহাকেও বলিলেন না, মেয়েকেও বলিলেন না। আব্দুরীর দিদিমার জলাতঙ্করোগ ঘটিল না বটে; কিন্তু অল্পদিন পরে জুরবিকার-রোগে সহসা তাঁহার মৃত্যু 9 află cios as se - www.amarboi conf** হইল । পীড়ার প্রারম্ভেই তিনি অজ্ঞান হইয়া পড়িলেন। সুতরাং নোটখানি কোথায় যে লুকাইয়া রাখিয়াছিলেন, তাহা বলিতে পারিলেন না। তাহার মৃত্যু হইলে, আব্দুরীর মা ঘর আতিপাতি করিয়া সৰ্ব্বত্র খুঁজিলেন; কিন্তু নােট কিছুতেই পাইলেন না। নোটখানির জন্য অনেক কাঁদিলেন, অনেক দুঃখ করিলেন, অবশেষে নিরাশ হইয়া চুপ করিয়া রহিলেন। সুতরাং আব্দুরীর মাতার সৌভাগ্যসূৰ্য যেমনি উদয় হইল, তেমনি অমাবস্যা-নিশির নিবিড় তম-রাশিতে মিশিয়া গেল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ চন্দ্রহার “আব্দুরী। আব্দুৱী! পোড়ারমুখি! বেলা উল্টে গেল যে! তোর জন্যে কি হাট বসিয়া থাকিবে? পোড়ারমুখি! দইটুকু না বেচিলে লুণ, লিঙ্কা, হলুদ কোথা হইতে আসিবে? আর কি সে নোট আছে, যে মটু করিয়া ভাঙ্গাইব আর এক মালসা টাকা লইয়া আসিব? তা যে, কপালগুণে কাঠের ময়ুরে হার গিলিল। তোর কি! তুই দুই দিন পূৰ্বেশ্বশুরব নাই যে, একবেলা একমুঠ ভাত দেয়া!” (9 এইরূপ বলিয়া আদুৱীকে বকিতে লাগিলেনু ৫)* ঘরের ভিতর হইতে আব্দুরী বলিল,— “যই মী! যাই!! এই যাই!! এখনও তত বেলা হয় নাই।” আদুরী কিছু বিলম্ব করিতেছিল, মৃত্যুম্ভাবি করিবার বিশেষ কারণ ছিল। আব্দুরী নিতান্ত বালিকা নহে; অষ্টাদশবৰ্ষীয়া পূর্ণ যুৱতী । দুইবার শ্বশুরবাড়ী ঘর করিয়াছে। সংসারে কাজ লইয়া ছোট ননদ অর্থাৎ স্বামীর ছোট ভগিনীর সহিত কলহ হইয়াছিল। বিনা দোষে ছোট ননন্দ তাহাকে মারিয়াছিল। ভগিনীকে কিছু বলিতে না পারিয়া, স্বামী আব্দুরীকে মায়ের নিকট পঠাইয়া দিলেন। আজ কয়মাস আব্দুরী মাতার গৃহে বাস করিতেছে, কিন্তু তাহার। সৰ্ব্বদা ভয় পাছে শ্বশুরবাড়ীর লোক, লাগাইয়া-ভাঙ্গাইয়া স্বামীকে পর করিয়া দেয়। তাহার শ্বশুরবাড়ীর গ্রাম অধিক দূরে নয়। সেই গ্রামে সীেরভী বলিয়া এক চঞ্চলা, অল্পবয়স্কা, বিধবা নাপিতনী আছে। কেহ কেহ তাহার স্বামীকে সেই সৌরভীর সহিত কথাবাৰ্ত্ত কহিতে দেখিয়াছিল। আদুরীর কানে সে কথা উঠিয়াছিল। তাহাতে আব্দুরীর মন সাতিশয় ক্ষুন্ন হইয়াছিল। তাহার পর, স্বামী পূৰ্ব্বে যেরূপ ঘন ঘন তাহার নিকট আসিতেন, এক্ষণে সেরূপ ঘন ঘন আর আসেন না। গতকল্য আসিবার কথা ছিল; কিন্তু আসেন নাই। তাহাও আব্দুরীর এক দুঃখের কারণ হইয়াছিল। স্বামী হয়তো হাটে আসিবেন, স্বামীর সহিত হয়তো হাটে সাক্ষাৎ হইবে, এই ভাবিয়া আব্দুরী আজ একটু ভাল করিয়া সাজগোজ করিতেছিল। সেইজন্যই আব্দুরীর ঘর হইতে বাহির হইতে বিলম্ব হইতেছিল। মা, আব্দুরীর মনের কথা জানেন না; বিলম্ব দেখিয়া মা চীৎকার করিয়া ডাকিতেছিলেন। আদুরীর একখানি ভাল কালাপেড়ে কাপড় ছিল। সেই ধবধবে কাপড়খানি আজ সে পরিধান করিল। একটু তেল মাখিয়া মাথার চুলগুলি আঁচড়াইল। গৰ্ব্বগরে চুণ-খয়ের দিয়া একটি পান মুক্তা-মালা 9 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro খাইল। ঘরের ভিতর মেটে দেয়ালের গায়ে পেরেকে বহুদিনের ছোট একখানি আরাসী থাকিত। পান খাইয়া ঠোঁট লাল হইল কি না, তাহা দেখিবার নিমিত্ত পেরেক হইতে আব্দুরী আরসীখানি পাড়িয়া লইল। আরসীখানি হাতে লইয়া, ঠোঁট একটু ফুলাইয়া, মুখ দেখিতে লাগিল। যে দুইএক কোসা চুল এলোথোলোভাবে আশেপাশে পড়িয়াছিল, তাহা সোজা করিয়া দিল । একমনে এইরূপ ভাবন করিতে ব্যস্ত আছে, এমন সময়ে বাহির হইতে মা পুনরায় চীৎকার করিয়া উঠিলেন, — পোড়ারমুখি! আজি তোর কি আর বার হবে না?” “যাই মা! যাই।” —এই কথা বলিয়া আব্দুরী আরসীখানি দেয়ালের গায়ে পেরেকে ঝুলাইতে গেল। দৈবক্রমে আরাসীর সূতা পেরেকে না লাগিয়া, পাশ দিয়া গেল। আরসীখানি তাহার হাত হইতে পড়িয়া চুরমার হইয়া ভাঙ্গিয়া গেল। দুঃখে ও ভয়ে আব্দুরীর মন নিতান্ত কাতর হইয়া পড়িল। বহুদিনের আরসী। এই আরাসীতে তাহার দিদিমা যৌবনকালে মুখ দেখিয়াছিলেন, চুল বঁাধিয়াছিলেন; তাহার মাও তাঁহাই করিয়াছিলেন; আব্দুরী নিজেও বাল্যকাল হইতে এই আরসীতে মুখ দেখিতেছিল। আজ সেই আরসীখানি তাহার অসাবধানতাবশতঃ ভাঙ্গিয়া গেল । মা সহজেই উগ্ৰস্বভাববিশিষ্টা স্ত্রীলোক; কথায় কথায় সৰ্ব্বদা বকিয়া-ঝকিয়া থাকেন। আজ মা যে কত তিরস্কার করিবেন, তাহার ঠিক নাই। খণ্ড খণ্ড হইয়া আরসী ঘরের মেজেতে পড়িয়া রহিল। সেসব কাচের খণ্ড আব্দুরী আর তুলিল না। ভয়বিহবল চিত্তে, শশব্যস্ত হইয়া দধির ভাণ্ড মাথায় লইয়া, সে তাড়াতাড়ি ঘর হইতে বাহির হইল । মা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ঘরের ভিতর ঝণাৎ শব্দ হইল?” আদুরী তাহার উত্তর না দিয়া কেবল বলিল,-দুইশ’ অনেক বেলা হইয়া গিয়াছে।” এই বলিয়া হন-হন করিয়া সে চলিয়া গেল। **** A. খিতে পাইল, তাহাকে সে চিনিতে পারিল না। “এ আর কেহ নয়, এ সেই সীেরভী নাপতিনী,”—এই ভাবিয়া আব্দুরী ঘোর শোকোকুলা হইয়া, সোজা পথ ছাড়িয়া, অপথ ধরিল। কাটা খোঁচা পায়ে ফুটিতে লাগিল; কিন্তু আদুরীর তাহা গ্ৰাহ্য নাই। মনের আবেগে দ্রুতবেগে সে চলিতে লাগিল। সহসা একটা কাটায় বাধিয়া তাহার সেই কালাপেড়ে কাপড়খানি ফালা ফালা হইয়া ছিড়িয়া গেল। বহুকালের সঞ্চিত আরসীখানি ভাঙ্গিল, স্বামী পর হইয়া গেল, বড় সাধের কালাপেড়ে কাপড় ছিড়িয়া নষ্ট হইল!—আব্দুরীর আর দুঃখের সীমা রহিল না। নিকটে একটি ছোট পুষ্করিণী ছিল। সেই পুষ্করিণীর ধারে, এক নিৰ্জ্জন গাছতলায়, দধির ভাণ্ডটি মাথা হইতে নামাইয়া সে ভূমিতে রাখিল। তাহার পর বামহাতের উপর গণ্ডদেশ রাখিয়া বসিয়া বসিয়া নীরবে সে কাদিতে লাগিল। দরিদর ধারায় চক্ষের জল তাহার হাত বাহিয়া পড়িতে লাগিল। বিপদের উপর বিপদ!! এমন সময় কোথা হইতে একটা কুকুর আসিয়া সেই দধিভাণ্ডের ভিতর মুখ প্রবিষ্ট করিয়া দধি খাইতে চেষ্টা করিল। দধিভাণ্ড গড়াইয়া পুষ্করিণীর ভিতর পড়িল! আর কিছু বাকি রহিল না! দুৰ্ভাগ্য একেবারে চরম সীমায় উঠিল! “হে ঠাকুর! আমার উপর আজ কেন এত লাগিয়াছ?”-এই বলিয়া আব্দুরী আরও অনেকক্ষণ ধরিয়া সেই স্থানে বসিয়া w°)\5ዕbr află cios as se - www.amarboi conf** কাঁদিল! নিজের দুঃখ চাপা দিয়া, “মাকে আজ কি বলিয়া মুখ দেখাইব,”—কেবল তাঁহাই সে ভাবিতে লাগিল। যাহা হউক, আর কি করিবে? অনেকক্ষণ পরে চক্ষু মুছিয়া সে ধীরে ধীরে উঠিল; তাহার পর হাটে প্রবেশ করিল। সে স্থানে স্বামীকে দেখিতে পাইল না। একজন অপরিচিত লোকের নিকট হইতে দুই আনা পয়সা ধার করিয়া লঙ্কা, হলুদ, লবণ প্রভৃতি যাহা আবশ্যক ছিল, তাহা ক্রয় করিল। তাহার পর দুই প্রহর অতীত হইয়া গেলে, বিষগ্ৰবদনে বাটী ফিরিয়া আসিল । বাটী আসিয়া, আদুৱী পিড়া অর্থাৎ দাওয়ার উপর থপ্‌ করিয়া বসিয়া পড়িল ও দুই হাতে চক্ষু দুইটি ঢাকিয়া অবিরত কঁদিতে লাগিল। মা যত বলিলেন, — “আব্দুরী, কাঁদিস্য কেন?” “আব্দুরী, কাঁদিস কেন?”— আব্দুরী তাহার কোনও উত্তর না দিয়া, কেবল ততই কাঁদিতে লাগিল। মা সান্তুনা করিতে লাগিলেন। অনেক সান্তুনার পর অবশেষে কাঁদিতে কাঁদিতে আব্দুরী বলিল,— “মা! আজ যে কাহার মুখ দেখিয়া উঠিয়ছিলাম, তাহা বলিতে পারি না।” মা বলিলেন,- “আজ যাহার মুখ দেখিয়া উঠিয়াছিস, প্রতিদিন যেন তাহার মুখ দেখা আমাদের ভাগ্যে ঘটে ।” এ আবার কি কথা! আরাসীর জন্য তো গালাগালি তিরস্কারই হইবে,- তাহা না হইয়া, মায়ের মুখে মিষ্টকথা! চক্ষু হইতে হাত দুইখানি সরাইয়া বিস্মিতভাবে আব্দুরী মাতার মুখপানে bांश्लि। আদুরীর মা বললেন,–“হাটের নিকট আমবাগৃঞ্জামাইকে দেখিয়া তুই অপথে চলিয়া গিয়াছিলি কেন? তোর বড় ননন্দ, যে তোকে বড় তাহার শ্বশুরবাড়ী হইতে সে আজ হাটে আসিয়াছিল। তোর ছোট ননদ বিনা ধ। তোরে মারিয়াছে— ভাই-ভগিনীতে সেই কথ্য হইতেছিল । হাটের মাঝখানে ঘৱে না বলিয়া আমবাগানে একটু আড়ালে গিয়া ভাই-ভগিনীতে কথাবাৰ্ত্তা s দেখিয়া তুই অপথ দিয়া পলাইয়া গেলি 6?" আদুরীর তখন চক্ষু ফুটিল। আব্দুরী তখন বুঝিতে পারিল যে, তাহার স্বামী সীেরভী নাপতিনীর সহিত কথাবাৰ্ত্ত কহিতেছিলেন না, আপনার বড় ভগিনীর সহিত কথাবাৰ্ত্তা কহিতেছিলেন। আদুরীর মা পুনরায় বলিলেন,- “তোর বড় ননদ তোকে দেখিতে আসিয়াছে। তোর জন্য চমৎকার একখানি নীলাম্বরী কাপড় আনিয়াছে; গুলবসানো ভালো নীলাম্বরী কাপড়— দেখিলে চক্ষু জুড়ায়। জামাইও আসিয়াছেন। তাঁহারা স্নান করিতে গিয়াছেন। আর আদুরি! এখনও তোকে আমি সকল কথা বলি নাই। বড় আহিলাদের কথা, আব্দুরী—” স্বামী আসিয়াছেন শুনিয়া, আব্দুরীর মন প্ৰফুল্প হইল। সহাস্যবিদনে আব্দুরী জিজ্ঞাসা করিল,- “কি মা? কি আহাদের কথা?” আদুরীর মা বলিলেন, — “বল দেখি, কি? সেই যারে বলে চন্দ্রহারা” ব্যগ্ৰ হইয়া আদুর জিজ্ঞাসা করিল,— “কি মা? কি? কি বল না!” আদুরীর মা বলিলেন,- “এত দেশ থাকিতে তোর আয়ী আর স্থান পায় নাই। আরসীর পিছনের কাঠ খুলিয়া, নোট যে তাহার ভিতর গুজিয়া রাখিবে, আবার কাঠটি যেরূপ ছিল, সেইরূপ করিয়া জুড়িয়া দিবে, এত কারখানা যে তোর আয়ী করিবো, – একথা আমি কি s মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8 বোধ হয়, তোর আয়ী আরাসীর ভিতর রাখিয়াছিল। যাহা হউক, ভাগ্য আজ তুই আরসীখানি ভাঙ্গিয়া ফেলিলি, তাই তো নোটখনি বাহির হইয়া পড়িল! আমি ঘরের ভিতর গিয়া দেখিলাম, আরসী চুরমার হইয়া পড়িয়া রহিয়াছে। তাহা দেখিয়া রাগে আমার সৰ্ব্বশরীর জুলিয়া গেল। তোরে গালি দিতে দিতে কাচগুলি কুড়াইতেছি, এমন সময় দেখি না পাশে একখানি কাগজ পড়িয়া রহিয়াছে। কাগজখানি তুলিয়া দেখিলাম যে, সেই নোট! তখন তোরে যে কত আশীৰ্ব্বাদ করিলাম, তা বলিতে পারি না।” সেদিন বড় আনন্দের দিন বটে। স্বামী আসিয়াছেন, বড় ননদ আসিয়াছেন, নীলাম্বৱী কাপড় হইয়াছে, তাহার পর সেই একঘটি টাকার কাগজ পুনরায় লাভ হইয়াছে। স্বামীর সহিত কথাবাৰ্ত্ত হইলে আব্দুরী বুঝিল যে, সীেরভী বিষয়ে কথাটা সম্পূর্ণ অলীক ও অমূলক। সেদিন আদুরীর মুখে আর হাসি ধরে না! আদুরীর মা পঞ্চাশ টাকা দিয়া মেয়েকে রূপার চন্দ্রহার গড়াইয়া দিলেন। সময়-অসময়ের জন্য বাকি টাকা ঘটি করিয়া ঘরের এক কোণে পুতিয়া রাখিলেন। ၉ာ်`` W ঘনশ্যাম বলিলেন,- “সুবল গড়গড়ি মঞ্জুর্শিয় আমাদিগকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন,- “গল্পটি সমাপ্ত করিয়া মুণ্ডকে আমি বলিলাম;&ভ “তবে, মহাশয়। এখন চলুন!” আমি কোন উত্তর পাইলাম না। কোন উত্তর না পাইয়া মুণ্ডের দিকে আমি চাহিয়া দেখিলাম। আশ্চৰ্য্য! মায়ের বামহস্তে মুণ্ড নাই। মুণ্ডের স্থানে চমৎকার একটি রক্তবর্ণের বৃহৎ মুক্তা রহিয়াছে। মুণ্ড এক্ষণে সেই মুক্তার আকার ধারণ করিয়াছে। কিন্তু এমন মুক্ত কখন দেখি নাই। সমুদ্রের মাঝখানে জালার মত মুক্তা দেখিয়াছিলাম, কিন্তু তাহার এরূপ জ্যোতি ছিল না। মায়ের বামহস্তে এ রক্ত-মুক্তার প্রভায় চারিদিক আলোকিত হইয়াছিল। কিছুক্ষণ আমি স্তম্ভিত হইয়া রহিলাম। এক্ষণে কি করা কীৰ্ত্তব্য, তাহাই ভাবিতে লাগিলাম। চিন্তা করিয়া অবশেষে এই স্থির করিলাম যে, ডাকিনীর নিকট যাইতে একে একে সমস্ত মুণ্ডদিগকে অনুরোধ করিব। একান্ত কাহাকেও যদি না লইয়া যাইতে পারি, সকল মুণ্ডই যদি ইহার মত রক্ত-মুক্তার রূপ ধারণ করে, তাহা হইলে শেষকালে মায়ের এই খগেড় আমি আপনার মুণ্ড কৰ্ত্তন করিয়া মায়ের পাদপদ্মে সমর্পণ করিব। এইরূপ স্থির করিয়া মুণ্ড-মালার নিম্নদেশে যে মুগুটি ছিল, তাহাকে আমি বলিলাম,-“মহাশয় আপনাদিগকে খুলিয়া কি কাটিয়া কি ছিড়িয়া লইয়া যাই, এরূপ শক্তি আমার নাই, তবে অনুগ্রহ করিয়া যদি আমার সহিত স্ব-ইচ্ছায় ডাকিনীর নিকট গমন করেন, তবেই আমার পরিত্রাণ হয়।” মুণ্ড-মালার মুণ্ড বলিল,- “একটি গল্প বল!” V8o দুনিয়ার পাঠক এক হও! ৩ www.amarboi.comন্মিলোকনাথ রচনাসংগ্ৰহ আমি বলিলাম,- “এইমাত্র একটি গল্প করিলাম, কিন্তু তাহাতে কোন ফল হইল না। গল্পটি শুনিয়া আমাকে ফাঁকি দিয়া মায়ের হাতে উনি রক্ত-মুক্তার আকার ধারণ করিলেন।” মালার মুণ্ড বলিল,- “তবে ডাকিনীকে গিয়া বিবাহ কর।” ইহার শেষ পৰ্যন্ত দেখিতে হইবে, মনে মনে আমি এইরূপ স্থির করিয়াছিলাম। সেজন্য অধিক বাক্যব্যয় না করিয়া আমি আর একটি গল্প বলিতে আরম্ভ করিলাম । আমি বলিলাম,- “মুণ্ড মহাশয়! এবার আমি আপনার নিকট এক ভূতের গল্প করিব। এ বিলাতী ভূত, দেশী ভূত নহে, এ ঘটনাটি বিলাতে ঘটিয়াছিল।” মুণ্ড বলিল,- “তবে শীঘ্ৰ আরম্ভ কর, ভূতের গল্প শুনিতে আমি বড় ভালবাসি।” আমি বলিলাম,- “এ গল্পটি টমৃ সাহেবের কথা, আমার নিজের কথা নহে। মনে করুন, যেন টমৃ সাহেব এ গল্পটি করিতেছেন।” আমাকে বলিলেন, — “দেখ টম, এ লণ্ডন আমি উত্তর করিলাম,- “বটে! সত্যু ভূতে তোমার বিশ্বাস নাই।” আমার বন্ধু বলিলেন,- “না, ভাই, না, তামাসা নয়। সেই বাটী আমি ভাড়া লইয়াছিলাম। তিন দিনের অধিক তাহাতে বাস করিতে পারি নাই। বিশেষ কিছু যে ভয়ানক দেখিয়াছি, তাহা নহে! তবে কিরূপ শব্দ হয়, মনের ভিতর সর্বদাই কেমন একটা আতঙ্ক হয়। কিন্তু সেই বাটীতে একজন বৃদ্ধ বাস করে। কি করিয়া সে থাকে, তা জানি না। বৃদ্ধা বলিল,— “কোন ভাড়াটিয়াই সে বাড়ীতে দুই দিনের অধিক বাস করিতে পারে না।” বন্ধুর কথা শুনিয়া আমি ভাবিতে লাগিলাম। ভূতের বাড়ী! এতদিনের পর বুঝি আমার সাধ মিটিল। ভূত কিরূপ, দেখিতে চিরকাল আমার মনে একান্ত বাসনা। সেই সাধ মিটাইবার জন্য আমি শ্মশানে বনে-জঙ্গলে ঘোর নিশীথে কত যে ঘুরিয়াছি, তাহা বলিতে পারি না। কিন্তু ভূত দেখা আমার কপালে কখন ঘটে নাই। আজাকি ভগবান আমরা মনোবাঞ্ছা পূর্ণকরবেন? দেখা যাউক, কি হয়। বন্ধুর নিকট হইতে সে বাটীর ঠিকানা জানিয়া লইলাম। বাটীর নিকট গিয়া দেখিলাম— তালা বন্ধ! প্রতিবাসিগণের নিকট শুনিলাম যে, সে বাটীতে যে বৃদ্ধ বাস করিত, সম্প্রতি তাহার মৃত্যু হইয়াছে। রাত্রিকালে ভুতে ঘাড় ভাঙ্গিয়া তাহাকে মারিয়া ফেলিয়াছে। সেই পৰ্যন্ত সে বাড়ীর ভিতর মনুষ্য দূরে থাকুক, কাকপক্ষী কেহ প্রবেশ করে না। সে বাড়ীতে নেঙটি ইন্দুর কি বড় ইন্দুর, কোন ইন্দুর বাস করে না। আমার আরও কৌতুহল জন্মিল। প্রতিবাসীদিগের নিকট হইতে গৃহস্বামীর ঠিকানা জানিয়া তাঁহার নিকট উপস্থিত হইলাম। তিনি ধনবান লোক। মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro V8S ভূতের বাড়ী আমি ভাড়া লইব শুনিয়া তিনি আমাকে বলিলেন,- “বাড়ীর যে দুর্নােম আছে, তাহা বোধ হয়, শুনিয়া থাকিবেন। আমি এতদিন নানা দেশ ভ্ৰমণ করিতেছিলাম। সম্প্রতি দেশে আসিয়াছি। আমার খুড়া মহাশয় ঐ বাড়ী ক্রয় করিয়াছিলেন। কবে হইতে ঐ বাড়ীতে ভূতের উপদ্রব আরম্ভ হয়, তাহা আমি বলিতে পারি না। সপরিবারে নিজে আমি ঐ বাড়ীতে দুইদিন বাস করিয়াছিলাম। দুইদিনের পর প্রাণভয়ে পলাইয়া আসিলাম। আপনি যদি সে বাটীতে কিছুদিন বাস করিতে পারেন, তাহা হইলে ভাড়ার টাকা লওয়া দূরে থাকুক, বরং ঘর হইতে আপনাকে কিছু দিতে প্ৰস্তৃত আছি।” যাহা হউক, আমি চাবি লইয়া আসিলাম। আমার একজন ডানপিটে বীরপুরুষ চাকর ছিল। ভূত প্রেতি দানা দৈত্য কিছুই সে মানিত না। মনে তাহার অপরিমিত সাহস, দেহে তাহার অসীম বল। তাহাকে আমি সকল কথা বুলিয়া বলিলাম, আর জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কেমন হে, তুমি আমার সহিত সে বাড়ীতে রাত্রিযাপন করিবে?” চাকর উত্তর করিল,— “ভূত! ভূত আমার কাছে আসিবে? আমি ভূতের বাবা! দেখি, কেমন আমার সম্মুখে ভূত বাহির হয়! ভূতের চড়চড়ি করিয়া খাইব?” তাহার কথা শুনিয়া আমার মনে আহাদ হইল। ভূত মানি আর নাই মানি, তবু যেন স্থানবিশেষে প্ৰাণটা কেমন ছেক-ছেক করে, গায়ে কাঁটা দিয়া উঠে। একজন সঙ্গী থাকিলে মনে অনেকটা সাহস হয়। চাকরের হাতে চাবি দিয়া আমি বলিলাম,- “তুমি তবে সেই বাড়ীতে যাও, ঘর-দ্বার পরিষ্কার করিয়া রাখ, বিছানা ঠিক করিয়া ব্রাখি। আমার পিস্তল ও ছোরা লইয়া যাও, তোমার নিজেরও পিস্তল ও ছোরা ছাড়িও না। আমি সে স্থানে যাইব ।” সন্ধ্যার সময় আমি সে বাড়ীতে গিয়া উ ধ্ৰুইলাম। আমার চাকর দ্বার খুলিয়া দিল। চাকরের মুখে ঈষৎ হাসির রেখা দেখিয়া আমিও করিলাম,- “কি হে, সব ভাল তো?” ভৃত্য বলিল,- “আজ্ঞে হাঁ, সব ভ কথা বলিয়া, চাকর আর একটু ঈষৎ হাসিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- না, কি? সে উত্তর করিল,— “আজ্ঞা না? কিছু দেখি নাই, তবে আমার কানের কাছে কে যেন ফুশৃফুশ করিয়া কথা কহিতেছিল। এরূপ শব্দ বারবার শুনিয়াছি।” আমি বলিলাম,- “তোমার ভয় হইয়াছে না কি?” চাকর হাসিয়া বলিল,— “ভয়! আমার শরীরে ভয় নাই, আমি ভূতের বিধাতা পুরুষ। যদি ভূত দেখিতে পাই, আনন্দ হইবে, ভয়ের লেশমাত্ৰ মনে উদয় হইবে না।” দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ভূতের খেলা চাকরের সহিত এইরূপ কথা কহিতে কহিতে আমি গৃহের ভিতর প্রবেশ করিলাম। সঙ্গে আমার একটি কুকুর ছিল। কুকুরটি অতি বিক্রমশালী, ভীরুতা কাহাকে বলে, সে জানিত না। আপনা। অপেক্ষা দ্বিগুণ দেহবিশিষ্ট বড় বড় ডালকুত্তাকে তাড়া করিয়া তাহার ঘাড় ধরিত। কোনও V8S filia zi, o ga se - www.amarboi conf** একটি নূতন বাড়ীতে যাইলে প্রথমেই সে কোথায় ইদুর আছে, কোথায় আরসালা আছে, তাহার জন্য গলি-যুঁজি এ-কোণ সে-কোেণ আঁকিয়া ফোঁশ-ফোশ করিয়া বেড়াইত। কিন্তু আজ সেই কুকুরের ব্যবহার দেখিয়া আমি বড়ই আশ্চৰ্য হইলাম। প্রথমতঃ সে সেই বাড়ীর ভিতর কিছুতেই প্ৰবেশ করিবে না। অনেক আদর করিয়া ভুলাইয়া যদিও প্রবেশ করাইলাম, কিন্তু ভয়ে একবারে জড়সড় হইয়া গেল। পদদ্বয়ের ভিতর লাঙ্গুল রাখিয়া কুণ্ডলী হইয়া সে কঁাপিতে কাপিতে আমার পায়ে পায়ে জড়াইতে লাগিল। লম্প-ঝম্বফ নাই, শব্দ নাই, ইন্দুর অনুসন্ধান নাই। আজ সে নীরব, আজ তাহার কিছুই নাই। গৃহমধ্যে প্রবেশ করিয়া আমরা এ-ঘর সে-ঘর বেড়াইয়া দেখিতে লাগিলাম। প্ৰকাণ্ড অট্টালিকা, একতলা দোতলা, তেতলায় কত যে কামরা তাহা বলিতে পারি না। দেখিতে দেখিতে আমরা বৃহৎ একখানি ঘরে গিয়া উপস্থিত হইলাম। এই ঘরের ভিতর ভূতের দৌরাত্ম্য যাহাকে বলে, তাহার প্রথম সূচনা হইল। ঘরটি আমার চাকর পরিষ্কার করে নাই। মেজেতে নিবিড় ধূলা পড়িয়াছিল। কোথায় কিছু নাই, হঠাৎ দেখিলাম, আমার ঠিক সম্মুখে একটি পায়ের দাগ পড়িল । শিশুর পদচিহ্ন। তাহার আগে, কি আশেপাশে আর দাগ নাই, কেবল সেই একটি দাগ মাত্র। অগ্রসর হইয়া সেই পদচিহ্নের উপর আমার নিজের পা রাখিলাম। আমনি, ঠিক সেই সময়ে আমার সম্মুখে আর একটি পায়ের দাগ পড়িল। আমি চাকরের গা টিপিলাম, চাকরও আমার গা টিপিল। এইরূপে যতই যাই, আগে আগে ধূলার উপর ততই এক একটি শিশুপদচিহ্ন অঙ্কিত হইতে থাকে। কিন্তু কেবল এক পায়ের চিহ্ন, দুই পায়ের দাগু পড়ে না। যখন ঘরের অপর প্রান্তে প্রাচীরের নিকট গিয়া উপস্থিত হইলাম, তখন আর | | সে ঘর হইতে বাহির হইয়া আমরা অন্যান্য করিতে লাগিলাম। ক্রমে একখানি বড় ঘরে গিয়া বসিলাম। তখন রাত্রি য়াছেঃ র বাতি জ্বালাইয়া আমার সম্মুখে টেবিলের উপর রাখিল । সহসা ঘরের অন্যদিক ইউক্ত একখানি চৌকি আকাশপথে উড়িয়া ঠিক আমার সম্মুখে পড়িল। আমি বলিলাম,- స్టోya কথা নয়! ক্ৰমে দেখিলাম, সেই চৌকির উপর যেন কি বসিয়া রহিয়াছে। মানবের আকৃতি বটে, কিন্তু তাহার দেহ যেন অতি তরল ধুম দ্বারা গঠিত। কুকুরটি ভয়বিহ্বল হইয়া ঘোরতর আৰ্ত্তনাদ করিতে লাগিল। চাকর তাহাকে সান্তুনা করিতে গেল। ঘাড় হেঁট করিয়া কুকুরকে সান্তুনা করিতেছে, এমন সময় হঠাৎ আমার দিকে ফিরিয়া সে জিজ্ঞাসা করিল,- “মহাশয় কি আমি উত্তর করিলাম,- “না, কি হইয়াছে?” চাকর বলিল,- “আমার পিঠে কে ভয়ানক একটা কিল মারিল।” আমি বলিলাম,- “এসব কারখানা বোধ হয় বদমায়েশ লোকের। কি করিয়া করিতেছে, ধরিতে পারিতেছি না। যাহা হউক, ইহার নিগুঢ় তত্ত্ব বাহির না করিয়া আমি ক্ষান্ত হইব না।” এক্ষণে এ-ঘর পরিত্যাগ করিয়া আমরা দ্বিতলে গিয়া উঠিলাম। আমার শয়নঘর। এই তলায় নির্দিষ্ট হইয়াছিল। কিন্তু এখনও নিদ্রা যাইবার সময় হয় নাই। সুতরাং এই তলায় অন্যান্য ঘর পরিদর্শন করিতে লাগিলাম। একটি ক্ষুদ্ৰ কামরার নিকট উপস্থিত হইয়া চাকর বলিল,— “এ কি হইল! এ ঘরের দরজা বন্ধ কেন? আমি এইমাত্র ইহার চাবি খুলিয়া কপাট উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছি।” আমি দ্বার টানিয়া দেখিলাম, ভিতর হইতে কে খিল বন্ধ করিয়া দিয়াছে। বিস্ময়ে দ্বারের দিকে চাহিয়া আছি, এমন সময়ে, আশ্চৰ্য্য! দ্বার আস্তে আস্তে আপনি খুলিয়া গেল। _Ajaii w8wo gऊों sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro আমরা দুইজনে ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলাম। একপ্রকার অমানুষিক গন্ধে ঘর ক্রমে পরিপূরিত হইতে লাগিল। একপ্রকার ভৌতিক ত্ৰাসে আমাদের হৃদয় অবসন্ন হইতে লাগিল। সে আশঙ্কা যে কি, তাহা বৰ্ণনা করিতে পারি না। নৱজীবনে প্রতিকূল কোন একটা ভীষণ পদার্থ যেন সেই ঘরে আছে, এইরূপ আমাদের মনে হইল। সৰ্ব্বনাশ৷ সহসা ঘরের দ্বার বন্ধ হইয়া গেল। সে ঘরে আর অপর দ্বার কি জানােলা ছিল না। প্রথম দুইজনে দ্বার টানাটানি করিয়া দেখিলাম। কিছুতেই খুলিতে পারিলাম না। আমার চাকর বলিল,— “অতি পাতলা তক্তা দিয়া কপাট৷ যোড়াটি গঠিত। দুই লাথিতে ভাঙ্গিয়া ফেলিব। দেখি, ভূতে কি করিয়া রক্ষা করে!! দুই লাথি নয়, হাজার লাথিতেও সে কপাট ভাঙ্গিল না। আমি অনেক চেষ্টা করিলাম। কিন্তু কিছুতেই সে ভঙ্গপ্রবণ কপাট ভাঙ্গিতে পারিলাম না। শ্ৰান্ত হইয়া আমরা নিবৃত্ত হইলাম। তখন খলখল করিয়া বিকট হাসির শব্দ হইল। দ্বারটি আস্তে আস্তে আপনি খুলিয়া গেল। সে ভয়াবহ ঘর হইতে তাড়াতাড়ি আমরা বাহির হইয়া পড়িলাম। সে-ঘর হইতে বাহির হইয়া আমরা বারেণ্ডায় দাঁড়াইলাম। একপার্শ্বে মিটমিটু করিয়া কেমন একটা নীলবর্ণের অলৌকিক আলো জুলিতেছিল। কি আলো, কোথায় যাইতেছে, দেখিবার নিমিত্ত আমরা তাহার পশ্চাদগামী হইলাম। সিঁড়ি দিয়া আমাদের আগে আগে আলোটি তোতলায় উঠিতে লাগিল। তেতলার উপর উঠিয়া সামান্য একটি শয়নাগারে প্রবেশ করিল। যে বৃদ্ধা এই বাড়ীতে একাকী বাস করিত, এই ঘরটি তাহার ছিল, আমরা এইরূপ অনুমান করিলাম। ঘরের ভিতর একটি দেরাজ ছিল । খুলিয়াম দেখিলাম, তাহার ভিতর একখানি রেশমের রুমাল রহিয়াছে। রুমালের একাধারে দুই লইয়া সে-ঘর হইতে বাহির লইলাম। দ্বিতলে আফ্ৰিাঁর মনে হইল, আমার পাশে পাশে যেন আরূকুণ্ঠক নামিতেছে। কিন্তু তাহাকে আমি দেখিতে পাইতেছিলাম না। সহসা খপ্‌ করিয়া কৃেষ্ট্রৈ ब्रैंक दिन शव त्रिशलाजिश न তৃতীয় পরিচ্ছেদ ঘোর বিভীষিকা৷ আমার নিজের শয়নাগারে উপস্থিত হইয়া প্ৰথম ঘড়ি, পিস্তল ও ছোরা মেজের উপর রাখিলাম। নিকটস্থ ছোট একটি ঘরে চাকরকে শুইতে বলিলাম। মাঝের দ্বার খোলা রহিল। কুকুর ঘোরতর ভয়ে ভীত হইয়া ঘরের কোণে গিয়া আশ্রয় লইল । মাঝে মাঝে ত্রাসজনিত বিকট রোদনের ন্যায় শব্দ করিতে লাগিল। যে পত্র দুইখানি উপর হইতে আনিয়াছিলাম, এক্ষণে তাহা পড়িতে লাগিলাম। পঞ্চাশ বৎসর পূৰ্ব্বে চিঠি দুইখানি কোন একটি পুরুষ তাহার প্রিয়তমাকে লিখিয়াছিল; কিন্তু নাম-ধাম কাহারও ছিল না। ভালবাসার কথা ছাড়া, তাহাতে কোন একটা বিভীষিকার আভাসও ছিল। যেন কে কাহাকে খুন করিয়াছে, এইভাবের কথা। পত্র দুইখানি vos 8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্ড" "******** পাঠ করিয়া আমি চৌকির উপর রাখিলাম। ঘরে দুইটি বড় বড় বাতি জ্বলিতেছিল। শীতপ্রধান দেশ। অগ্নিস্থানে দাউ দাউ করিয়া অগ্নি জুলিতেছিল। ফলকথা, ঘরটি উজ্জ্বল আলোকে আলোকিত ছিল। সহসা টেবিলের উপর হইতে আমার ঘড়িটি শূন্যপথে চলিয়া যাইতে লাগিল। একহাতে ছোরা, অপর হাতে পিস্তল লইয়া তাড়াতাড়ি আমি ঘড়ি ধরিতে দীেড়িলাম। কিন্তু “সোৎ” করিয়া ঘড়ি যে কোথায় অদৃশ্য হইয়া গেল, আর আমি দেখিতে পাইলাম না। পুনরায় আমি চৌকিতে বসিয়া একখানি পুস্তক খুলিয়া পড়িতে লাগিলাম। ঘরের ভিতর এক্ষণে বিকট শব্দ হইতে লাগিল। কুকুরটি ভয়ানক কাতর রবে ঘর পরিপূরিত করিল। আমি তাহাকে থামাইতে যাইলাম। যে কুকুর আমাকে প্ৰাণাপেক্ষা ভালবাসিত, আজ সেই কুকুর আমাকে কামড়াইতে আসিল! দংশনভয়ে আমি তাহার গায়ে হাত দিতে সাহস করিলাম না। চাকর এই সময় সহসা তাহার ঘর হইতে দীেড়িয়া আসিল । চক্ষু রক্তবর্ণ, যেন কোটির হইতে বাহির হইয়া পড়িতেছে। তাহার। সৰ্ব্বশরীর রোমাঞ্চ হইয়াছে, মাথার চুলগুলি সব খাড়া হইয়া উঠিয়াছে। মুখে নীল মাড়িয়া দিয়াছে। “মহাশয় পলায়ন করুন, মহাশয় পলায়ন করুন! এস্থানে আর তিলাদ্ধকাল থাকিলে মারা পড়িবেন । বাপ রে, ধরিল রে, মা রে!” এইরূপ চীৎকার করিতে করিতে সে আমার ঘর হইতে বাহির হইয়া তড়িতড় করিয়া লাফে লাফে সিঁড়ি দিয়া নামিতে লাগিল। তাহাকে ফিরাইবার নিমিত্ত আমি পশ্চাৎ পশ্চাৎ দীেড়িলাম। কিন্তু ধরিতে না ধরিতে সে সদর দরজা খুলিয়া উৰ্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করিল। সেই ভয়াবহ শ্মশানসদৃশ অট্টালিকার ভিতর আমি এখন এক পড়িলাম। এখন প্ৰাণে আমার অতিশয় ত্ৰাস হইল । ভাবিলাম, আমিও পলায়ন করি। কিন্তু বন্ধুবান্ধব সকলে হাসিবে ও বিদ্রুপ করিবুে৫৩ষািঠ থাকে কপালে, এই মনে করিয়া পুনরায় আমি উপরে উঠিলাম, পুনরায় আমি নিজের প্ৰবেশ করিলাম। পুনরায় আমি পড়িতে বসিলাম। আমার হাতে পুস্তক,- ত। পুস্তক ও বাতির মধ্যবৰ্ত্তী স্থানে, আমার কোলে, তালগাছ প্রমাণ কৃষ্ণবর্ণ মানুষের আকৃতি দাঁড়াইল। তাহার মস্তক ছাদে ঠেকিল। সেই মস্তকে চক্ষু দুইটি লাগিল । সৰ্ব্বশরীর আমার শিহরিয়া উঠিল। পিস্তল। লাইবার নিমিত্ত আমি হাত বাড়াইলাম। হাত অসাড় ও অবশ! হাত উঠিল না। আমি দাঁড়াইবার চেষ্টা করিলাম। পা অসাড় ও অবশ। পা উঠিল না। চীৎকার করিতে চেষ্টা করিলাম, মুখ দিয়া কথা বাহির হইল না। জ্ঞান হত হইবার উপক্রম হইল। কিন্তু তখনও একটা চিন্তাশক্তি আমার মনে ছিল। ভাবিলাম, যদি এখন ভয় করি, তাহা হইলে নিশ্চয় আমি প্ৰাণ হরাইব । এইরূপ মনে করিয়া অনেক চেষ্টা করিয়া ধৈৰ্য্য ধরিয়া রহিলাম, বাতি নিবিল না, অগ্নিস্থানে অগ্নি নিৰ্ব্বাণ হইল না, তথাপি ঘর অন্ধকারে আবৃত হইয়া গেল। আমি ভাবিলাম, যেমন করিয়া হউক, ঘরে আলো রাখিতে হইবে। অন্ধকারে থাকিলে মারা পড়িব । পুনরায় উঠিতে চেষ্টা করিলাম। এবার উঠিতে পারিলাম। আস্তে আস্তে গিয়া একটি জানালা খুলিয়া দিলাম। জ্যোৎস্না রাত্রি ছিল। অল্প অল্প চাদের আলো ঘরে প্রবেশ করিল। সেই আলোকে দেখিলাম যে, তালবৃক্ষ প্রমাণ কৃষ্ণবর্ণের বিকট মূৰ্ত্তি তখন সম্পূর্ণভাবে ঘরে নাই, কেবল তাহার ছায়াটি একপার্শ্বে দণ্ডায়মান রহিয়াছে। পুনরায় গিয়া চৌকিতে বসিলাম। পীত, হরিত, লোহিত—নানা বর্ণের গোলাকার আলোক এক্ষণে ঘরের চারিদিকে ঘুরিয়া ও গড়াইয়া বেড়াইতে লাগিল। তাহার পর ভূমিকম্প হইলে যেরূপ হয়, ঘর সেইরূপ দুলিতে লাগিল। যে vos মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro চৌকির উপর চিঠি দুইখানি রাখিয়াছিলাম, তাহার নীচে হইতে ঠিক জীয়ন্ত মানুষের রক্তমাংসের হাতের ন্যায় একখানি স্ত্রীলোকের হাত বাহির হইল। তাড়াতাড়ি আমি সেই হাতখানি ধরিতে যাইলাম। খপ করিয়া চিঠি দুইখানি লইয়া নিমেষের মধ্যে হাতখনি অদৃশ্য হইয়া গেল । ইহার পর, একখানি চৌকির উপর একটি যুবতী বসিয়া রহিয়াছে, এইরূপ দেখিলাম । তাহার পর একজন পুরুষ ঘরের ভিতর উপস্থিত হইল। বালকের মূৰ্ত্তি, বৃদ্ধর মূৰ্ত্তি, নানাপ্রকার আকার ঘরের ভিতর আবির্ভাব হইতে লাগিল ও একে একে বিলীন হইতে লাগিল। তাহা ব্যতীত আরও যে কত ভয়াবহ ঘটনা সংঘটিত হইল, সে সকল বর্ণনা করিবার আর স্থান নাই। মাঝে মাঝে গলা টিপিয়া আমাকে মারিয়া ফেলিবার জন্য কে যেন চেষ্টা করিতে লাগিল । আমার ঘাড় ভাঙ্গিয়া দিবার জন্য মাঝে মাঝে ঘাড়ে হাতও আসিতে লাগিল। সাহসে ভর করিয়া আমি বারবার সেই ভৌতিক হােত ঝাড়িয়া ফেলিতে লাগিলাম। সে রাত্ৰিতে আমি যে কি করিয়া প্ৰাণে বঁচিলাম, আশ্চৰ্য্য কথা। উপরে যাহা লিখিত হইল, তাহা টমৃ স খ্ৰীষ্টাৰ্ব’ হইয়া পড়িয়াছিলেন। যাহা হউক, সে বাটী থামিল। টমৃ সাহেব তখন একপ্রকার নৃিঙ্খী হইতে কি করিয়া পলাইবেন, এক্ষণে শ্ৰেষ্ঠ চষ্টা করিতে লাগিলেন। কোনরূপে উঠিয়া কুকুরকে ডাকিলেন। কুকুর তাঁহার নিকটে আঁসিল না। কাছে গিয়া দেখিলেন যে, কুকুরটির গলদেশ ভগ্ন হইয়া গিয়াছে। কুকুর মরিয়া গিয়াছে। টম সাহেবের চাকর সেইদিন অবধি বায়ুগ্ৰস্ত হইল। ইংলণ্ড পরিত্যাগ করিয়া সে অষ্ট্রেলিয়া দ্বীপে পলায়ন করিল। দেখিতে আর আমার ইচ্ছা নাই। যথেষ্ট হইয়াছে, সাধ বিলক্ষণ মিটিয়াছে।” বাড়ীওয়ালা সকল কথা শুনিয়া বলিলেন,- “মহাশয়! আপনার মত সাহসী পুরুষ পৃথিবীতে অতি বিরল। আপনার যে প্রাণরক্ষা হইয়াছে, তাহাই পরম লাভ।” তাহার পর চিঠি দুইখানির কথা শুনিয়া তিনি আরও বলিলেন, — “এতদিন ঐ বাড়ীতে যে বৃদ্ধা বাস করিতেছিল, পত্র দুইখানি বােধ হয় তাহার স্বামীর। আমার খুড়া মহাশয়ের জীবনকালে সে ব্যক্তি একবার ঐ বাটী ভাড়া লইয়াছিল। বৃদ্ধার স্বামী অতিশয় পাষণ্ড ছিল। বৃদ্ধর ভ্রাতা ও ভ্রাতুষ্পপুত্রকে টাকার লোভে সে বধ করিয়াছে, দিনকত এইরূপ জনরব শুনিয়াছিলাম। যাহা হউক, ঐ বৃদ্ধ ব্যতীত সে বাটীতে এ পৰ্যন্ত আর কেহ বাস করিতে পারে নাই। বৃদ্ধার মৃত্যুও সেদিন অকস্মাৎ ঘটিয়াছে। সে সম্বন্ধে নানা লোক নানা কথা বলিয়া থাকে। সেই অবাধ এমন একটি লোক পাই না যে, সাহস করিয়া বাটীর ভিতর প্রবেশ করে। বাড়ীটি দেখিতেছি, আগাগোড়া ভাঙ্গিয়া ফেলিতে হইবে।” vo8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসংখ্যাই ζΕs টম সাহেব উত্তর করিলেন,- “বাড়ীটি আগাগোড়া না ভাঙ্গিয়া একটি কৰ্ম্ম করিলে হয়। যে ঘরে আমরা বদ্ধ হইয়া গিয়াছিলাম, যে ঘরে বিকট গন্ধ বাহির হইয়াছিল, কেবল সেই ঘরটি প্ৰথম ভাঙ্গিয়া দেখিলে হয় ।” বাড়ীওয়ালা তাহাই করিলেন। সেই ঘরের মাটির নিম্ন হইতে নানারূপ অদ্ভুত দ্রব্য বাহির হইল। তাহা কি, সেকথা বলিবার আর স্থান নাই, আবশ্যকও নাই। বাড়ীওয়ালা সেই সমুদয় দ্রব্য পোড়াইয়া ফেলিলেন। সেইদিন হইতে ভূতের উপদ্ৰব থামিয়া গেল! গড়গড়ি মহাশয় বলিলেন,- গল্পটি সমাপ্ত হইবার পূৰ্ব্বে আমি মুণ্ডের দিকে দৃষ্টি করিয়াছিলাম। কেমন ধীরে ধীরে ইহার নাসিকা, কৰ্ণ, মুখ প্রভৃতি বিলীন হইয়া গোলাকার ধারণ করিল! কেমন ধীরে ধীরে ইহা রক্তবর্ণেরঞ্জিত হইল! ফলকথা, এদিকে আমার গল্পটি সমাপ্ত হইল, আর ওদিকে মুণ্ডটিও রক্তমুক্ত হইয়া গেল। এবার আর আমি পূর্বের ন্যায় আশ্চৰ্য্য হইলাম না। আর অধিক তর্ক-বিতর্ক না করিয়া, আমার সহিত গমন করিবেন, না আপনার নিকটও একটি গুল্প করিতে হইবে?” তৃতীয় মুণ্ড বলিল,— “ডাকিনীর হাত হইতে যদি ইচ্ছা থাকে, তাহা হইলে আর একটি গল্প কর। নতুবা বাহিরে গিয়া নারি বিবাহ কর ।” কাজেই আমাকে আর একটি গল্প করিতে হইল। গড়গড়ি মহাশয় একে একে মুশুদিগের নিকট গল্প করিতে লাগিলেন। এক একটি গল্প সমাপ্ত হয়, আর এক একটি মুণ্ড রক্ত-মুক্ত হইয়া যায়, বারবার সে বিষয়ের উল্লেখ অনাবশ্যক। g&|-աթ17 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro wo8ና পুরাতন কৃপ প্ৰথম অধ্যায় নীলকুঠি কানপুরের নিকট নবাবগঞ্জ নামক একটি স্থান আছে। সেই স্থানে একটি পুরাতন কূপ আছে। সেই কূপে এক বাঙ্গালী বালক একবার পড়িয়া গিয়াছিল। বাঙ্গালী বালক সেই সময়ে পড়েনী নামক এক ব্ৰাহ্মণীর নিকট বাস করিতেছিল। পাড়েনীর স্বামী বালকের পিতার পাচক-ব্ৰাহ্মণ ছিল। এই ঘটনার কুড়ি বৎসর পরে জনকয়েক বাঙ্গালীবাবু পাড়েনীকে একবার জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন। তাঁহাদের নিকট পাড়েনী সেই ঘটনা এইরূপে বর্ণনা করিলঃ পাড়েনী বলিল,— কানপুর হইতে ফরাক্কাবাদের রাস্তায় জোন সাহেবের নীলকুঠি ছিল। গোবিন্দবাবু সেই নীলকুঠিতে কাজ করিতেন। বড়বাবু ছিলেন। সাহেব, বাবুকে অতিশয় ভালবাসিতেন। নিকটে একটি গৃহ নিৰ্ম্মীরিয়া দিয়াছিলেন। পরিবার লইয়া, গােবিন্দবাবু তাহাতে বাস করিতেন। পরিবারের মপ্লে গােবিন্দবাবুর বৃদ্ধ মাতা ও স্ত্রী। আমার স্বামী সেই সংসারে পাচক ব্রাহ্মণের কাজ কুঠুরী । কালক্রমে গোবিন্দবাবুর। ভাৰ্য্যা যুগল পুত্রসন্তান প্রসব করিয়া, সূতিকাঘরে সংবরণ করেন । এ অঞ্চলে তখন বাঙ্গালীদিগের যথেষ্ট সম্মান ছিল। হাহাকার পড়িয়া গেল। গোবিন্দবাবুর বিপদে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই কাঁদিতেvলাগিল। তিনি নিজে শোকে অধীর হইয়া পড়িলেন। সদাশয় জোন সাহেবও তাঁহার দুঃখে দুঃখিত হইলেন। গোবিন্দবাবুর বৃদ্ধ মাতা নবপ্রসূত শিশু দুইটিকে লালন-পালন করিতে লাগিলেন। একসঙ্গে দুই জনে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, সে নিমিত্ত পিতামহী তাঁহাদের নাম লব-কুশি রাখিলেন। কিছুদিন পরে বাবু দেশে গিয়া পুনরায় বিবাহ করিয়া নববধূ লইয়া কৰ্ম্মস্থানে প্রত্যাগমন করিলেন। নূতন বন্ধুটির ক্রমে চক্ষু-মুখ ফুটিল, সেই সঙ্গে সপত্নীপুত্রদ্বয়ের উপর তাহার বিদ্বেষ দিন দিন প্রস্ফুটিত হইতে লাগিল। বাবু নিজেও ক্ৰমে ছেলেদের প্রতি অনাস্থ্যপ্রকাশ করিতে লাগিলেন। নিতান্ত দুরন্ত, এই বলিয়া সৰ্ব্বদাই তিনি তাহাদিগকে তাড়না করিতেন। কিন্তু যতদিন তাঁহার বৃদ্ধ মাতা জীবিতা ছিলেন, ততদিন শিশু দুইটির বিশেষ কোন অযত্ন হইতে পায় নাই। ছেলে দুইটির বয়স যখন পাঁচ বৎসর, দুর্ভাগ্যক্রমে সেই সময়ে পিতামহীর পরলোক হইল। পিতামহীকে হারাইয়া বালক দুইটি একেবারে নিঃসহায় হইয়া পড়িল। বাপ স্নেহহীন, বিমাতা শত্ৰু । উঠিতে-বসিতে প্ৰহার, তিরস্কার ও কুবাক্যে তাঁহাদের সুকোমল হৃদয় জর্জরিত হইল। বালক দুইটি দেখিতে কিন্তু রাজপুত্রের ন্যায়। সাধ করিয়া পিতামহী তাহদের মস্তকে কেশ বাড়িতে দিয়াছিলেন। ঝোঁকড়া-কেঁকড়া w8 gafigfrite gibeliiga sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro চুল স্কন্ধের উপর আসিয়া পড়িয়াছিল। দীর্ঘকেশ-সম্বলিত মস্তক নাড়িয়া যখন দুই ভ্রাতার কথাবাৰ্ত্ত হইত, তখন কাহার পাষাণ মন সে রমণীয় দৃশ্যে ও সে সুধামাখা স্বরে দ্রবীভূত না হইত? হইত না কেবল বিমাতার, আর হইত না স্ত্রীচরণপরায়ণ পিতাঠাকুরের। মাতৃহীন বালক দুইটির সকল গুণই ছিল। দোষের মধ্যে ছিল কেবল বয়সগুণে অস্থিরতা, দৌড়াদৌড়ি ও দুরন্তাপনা। ফলকথা, শিশু দুইটির রূপ-গুণ দিন দিন যতই বিকসিত হইতে লাগিল, বিমাতার মনে হিংসা-দ্বেষও ততই প্রবল হইতে লাগিল। কিন্তু জোন সাহেব তাহাদিগকে বড়ই স্নেহ করিতেন, তাহদের দুরন্তপন্যা তিনি ভালবাসিতেন, তাহাদের সহিত তিনি নিজে ছুটাছুটি করিতেন। নীলের হাউজ হইতে শিশু দুইটি যখন তাঁহার দুগ্ধফেননিভ। ধবল বসন কৃষ্ণবর্ণে রঞ্জিত করিয়া দিত, তখন রাগ করা দূরে থাকুক, আদরে তিনি তাহাদিগকে বুকে করিয়া লাইতেন। জুতা, মোজা ও ভাল পরিচ্ছদ জোন সাহেব তাহাদিগকে সৰ্ব্বদাই কিনিয়া দিতেন। শিশু দুইটির আর একজন সহায় ছিলেন। আমার পতি পাড়ে তাহাদিগকে প্রাণ অপেক্ষা ভালবাসিতেন। ভাল মাছ, দুধের সর, ঘরে যাহা কিছু উপাদেয় বস্তু প্ৰস্তুত হইত, লুকাইয়া তিনি তাহাদিগকে তাহা আহার করিতে দিতেন! আরও দুই বৎসর কাটিয়া গেল। লব-কুশির বয়স সাত বৎসর হইল। এই সময়ে গদর পড়িল, অর্থাৎ সিপাহী-বিদ্রোহ উপস্থিত হইল। দেশে অরাজকতার আর সীমা-পরিসীমা রহিল। না। গৃহদাহ, লুটপাট, মারপিট, চুরি-ডাকাতি, খুন-খারাবি চারিদিকেই চলিতে লাগিল । বিদ্রোহিগণ ঘোর নিষ্ঠুরতাসহকারে সাহেবদিগকে বধ কুরিতে লাগিল। বাঙ্গালীরা ইংরেজের গুরু, এই বলিয়া বাবুদের প্রতিও অত্যাচার কম হইলন্তী” নানাসাহেবের প্রধানমন্ত্রী আজিমুল্লা বাবুদের ডাকিয়া বলিল,- “তোমরা আমাদের অধীনে চাকুরী করা।” বাবুরা তাহাতে সম্মত டிகி দিবার হুকুম হইল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে বঁলিলেন, — “বাবু। এ-স্থানে আর আমার থাকা উচিত। ফিলিবে। আপাততঃ কানপুরে গিয়া আশ্ৰয় লইব । আমার অনুপস্থিতিতে তুমি যথারীতি কুঠির কৰ্ম্ম চালাইবে। যদি জীবিত থাকি, তাহা হইলে পুনরায় সাক্ষাৎ হইবে।” এই বলিয়া গোবিন্দবাবুর হস্তে সমস্ত কাৰ্য্যের ভার দিয়া সাহেব প্ৰস্থান করিলেন। নিকটস্থ গ্রামবাসীদিগের জোন সাহেব বাপ-মা ছিলেন। দয়া-মায়া, পরোপকারে তিনি দেবত্বভাববিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। জোন সাহেব তাহাদিগকে ছাড়িয়া যাইবেন, এই অশুভ সংবাদে চারিদিকে হাহাকার পড়িয়া গেল। শত শত লোক আসিয়া যোড়হন্তে জোন সাহেবকে বলিল,- “মহাশয়! আপনি আমাদিগকে ছাড়িয়া যাইবেন না, আপনার নিমিত্ত আমরা সকলে প্ৰাণ দিব।” কিন্তু সে ঘোরতর বিপ্লবের সময় জোন সাহেব সে স্থানে থাকা উচিত বোধ করিলেন না। বাবুর হাতে সকল কৰ্ম্মের ভার দিয়া তিনি প্ৰস্থান করিলেন। জোন সাহেব একবার বিলাতে গিয়া বিবাহ করিয়াছিলেন; কিন্তু অল্পদিন পরেই তাঁহার গৃহ শূন্য হইয়াছিল। আর তিনি বিবাহ করেন নাই । জোন সাহেব চলিয়া গেলে, দুই দিবস পরেই বদমায়েসেরা সাহেবের বাঙ্গলা জ্বালাইয়া দিল। গোবিন্দবাবুর ঘর লুটপাট করিল। তাঁহাকে খুঁটিতে বঁধিয়া বিলক্ষণ প্রহার করিল। তাহার স্ত্রীর গায়ে যাহা কিছু গহনা-পত্র ছিল, সে সমস্তই কড়িয়া লইল । পুনরায় আসিয়া

  • I3.j-wթ7 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro w8s সকলকে মারিয়া ফেলিবে, এরূপ ভয়ও দেখাইল । সৰ্ব্বত্রই তখন বিদ্রোহানল প্ৰজ্বলিত! বিচার নাই, বিবেচনা নাই, ঘোরতর অরাজকতা! কোন স্থানে সপরিবারে পলাইয়া যে, আপনার, স্ত্রীর ও শিশু দুইটির প্রাণরক্ষা করিবেন, এরূপ উপায় গোবিন্দবাবুর ছিল না।

বাবুরাম নামক একজন সে-দেশী কায়স্থ তাহার অধীনে কৰ্ম্ম করিতেন। বাবুরামের নিবাস অযোধ্যার এলাকায় হরডুই জিলার একখানি গ্রামে। এই বিপ্লবের সময় পরিবারবর্গকে বিদেশে নিজের কাছে রাখা উচিত নয়, এই ভাবিয়া বাবুরাম তাহাদিগকে হরডুই পাঠাইবার নিমিত্ত আয়োজন করিলেন । গোবিন্দবাবু তাঁহাকে বলিলেন,- “ভাই! তোমার পরিবারবর্গের সহিত যদি আমার স্ত্রী ও পুত্র দুইটিকে তোমার গ্রামে পঠাইয়া দাও, ও তােমার গৃহে তাহাদিগকে কিছুদিনের নিমিত্ত আশ্রয় দাও, তাহা হইলে আমার বড় উপকার হয়; এমন কি, তাহাদিগের প্রাণদান করা হয়। তা না হইলে এবার আসিয়া বদমায়েসেরা সকলকে মারিয়া ফেলিবে। পরিবারবর্গ কোন নিরাপদ স্থানে আশ্রয়প্রাপ্ত হইলে, আমি একপ্রকার নিশ্চিন্ত হই। তাহার পর আমার নিজের কপালে যাহা থাকে, তাহাই হইবে।” বাবুরাম উত্তর করিলেন,- “আমার পরিবারের সহিত আপনার স্ত্রীকে আমি পাঠাইতে পারি। কিন্তু বালক দুইটির ভর আমি লইতে পারিব না। তাহারা এখানে—সেখানে দৌড়াদৌড়ি করিবে। এ হুলস্কুলের সময় কে তাহাদিগকে রক্ষণাবেক্ষণ করিবে? সঙ্গে আমি নিজে যাইতে পরিতাম, ভুহ্য হইলেও এক কুণ্ডু থুকিড়, কিন্তু সাঙ্গুরুর অবর্তমানে তাঁহার কার্য পরিত্যাগ করিয়া আপনিও যাইবেন না, আমিও যাইব না।” @ অগত্যা গোবিন্দবাবু কেবল স্ত্রীকে বাবুরামের র সহিত পাঠাইতে বাধ্য হইলেন। ছেলে দুইটি লইয়া এখন ঘোর ভাবনা হইল। কবে কে আসিয়া তাহাদিগকে কাটিয়া যাইবে, সৰ্ব্বদাই এই ভয় হইতুে । অবশেষে পাড়ে বলিলেন, — “মহাশয় যদি অনুমতি করেন, তাহা হইলে ছেলে আমি কানপুরে রাখিয়া আসি। কানপুরের নিকট নবাবগঞ্জে মাঠের মাঝখানে একটি বাগানে বনের ভিতর আমার স্ত্রী বাস করেন। সে স্থানে কোন ভয় নাই। আমার স্ত্রীর দুইটা মেটে কলসী চুরি করিতে কেহ আর যাইবে না। যদি বলেন তো লব-কুশিকে আমার স্ত্রীর কাছে রাখিয়া আসি।” গোবিন্দবাবু আমার স্বামীর কথায় সম্মত হইলেন। স্বামী রাত্রিকালে ছেলে দুইটিকে একখানি গরুর গাড়ীতে বসাইয়া প্ৰাতঃকালে আমার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন। দ্বিতীয় অধ্যায়। লব ও কুশি তাড়াতাড়ি আমি একখানি চারপাই পাতিয়া দিলাম। জোন সাহেব যে ভাল মখমলের জামা দিয়াছিলেন, ছেলে দুইটি সেই জামা পরিয়াছিল। তাঁহাদের কোঁকড়া-কোঁকড়া চুল এলোথোলো হইয়া বুকে-পিঠে পড়িয়াছিল। দেবকুমারীতুল্য তাঁহাদের রূপ! বনের ভিতর আমার সেই ভাঙ্গা \5ርአO দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%27ook খোলার ঘর সেই অপূৰ্ব্ব রূপরাশিতে আলোকিত হইল। বাজার হইতে পেড়া, জিলেপি প্রভৃতি খাবার কিনিয়া দিয়া, আমার স্বামী পুনরায় বাবুর নিকট প্রত্যাগমন করিলেন। অজ্ঞাত স্থানে, অপরিচিত লোকের কাছে আসিয়া ছেলে দুইটি প্রথমে একটু ভীত হইয়াছিল। কিছুক্ষণ তাহারা বিষন্ন বদনে বসিয়া রহিল। কিন্তু আমার আদর ও স্নেহে ক্রমে তাহাদের সাহসী হইল! ক্ৰমে তাহারা দুই-একটি কথা কহিতে লাগিল। তাহার পর যখন কে লব কে কুশি এই লইয়া আমি ক্রমাগত ভুল করিতে লাগিলাম, তখন আর তাহারা হাসি রাখিতে পারিল না; হা-হা করিয়া দুই ভাই একসঙ্গে হাসিয়া উঠিল। সেই সময় হইতে তাহারা ভয় ও লজ্জা-ভাঙ্গা হইয়া গেল। বস্তুতঃ কে লব আর কে কুশি, তাহা চিনিবার যো ছিল না। একরূপ মুখ, একরূপ চক্ষু, সব ঠিক একরূপ । তাহার উপর আবার একরূপ চুল ও একরূপ পোষাক। কে লব কে কুশি, চারি-পাচ দিন আমার চিনিতে গেল। একদিন লব আমাকে জিজ্ঞাসা করিল,— “পাড়েনি। তোমরা হিন্দুস্থানী; বাবাকে বঁধিয়া তোমরা মারিয়াছিলে। তোমরা কি আমাদিগকে কাটিয়া ফেলিবে?” আমি বলিলাম,- “না। বাবা! তোমাদিগকে কেহ কিছু বলিবে না। কাহার এমন পাষাণ হৃদয় আছে যে, তোমাদের গায়ে হাত তুলিবে?” কুশি জিজ্ঞাসা করিল,- “তোমার কঁসিখানি আমাকে বাজাইতে দিবে, পাড়েনি? কাঁসি বাজাইতে আমি বড় ভালবাসি।” আমি বলিলাম,- “কুশি! কাসিখানি একবার বাজাইতে দিব। অধিক বাজাইলে কাসি ভাঙ্গিয়া যাইবে। আমরা গরীব মানুষ; পুনর কোথায় পাইব?— তোমরাই বা কিসে রুটি খাইবে?” শুনিয়াছিলাম, ছেলে দুইটি বড় দুরন্ত । নাই। ছেলে মাত্রই মিষ্ট কথার বশ । র কাছে তাহারা কিছুমাত্র দুষ্টপনা করে তাহাঁই ছিল। তবে দোষের মধ্যে এই যে, আমি তাহাদিগকে ঘরে আটক ত পারিতাম না। তাহারা মাঠে মাঠে, এ-বাগানে সে-বাগানে বেড়াইতে যাইত। ছোট গাছে উঠিত। মাঝে মাঝে নবাবগঞ্জের বাজারেও যাইত, কিন্তু নবাবগঞ্জের সকল লোকেই তাহাদিগকে ভালবাসিত। রামদীন নামক নবাবগঞ্জে একটি যুবক ছিল। সে ভাল লোক ছিল না। এই দুদিনে মন্দ লোকের বড়ই প্ৰভুত্ব বাড়িয়াছিল। দ্রব্যাদি লুণ্ঠন করা তো সামান্য কথা, এখন কেহ কাহার গলা কাটিয়া ফেলিলেও তাহার দাদ-ফরিয়াদ ছিল না। একদিন লব-কুশিকে রামদীনের সঙ্গে বেড়াইতে দেখিয়া আমার প্রাণে বড় আতঙ্ক হইল। বাঙ্গালীর ছেলে বলিয়া যদি সে তাহাদিগকে কাটিয়া ফেলে, আমার সেই আশঙ্কা হইল। কিন্তু ভয়ে আমি কিছুই বলিতে পারিলাম না । আর একদিন দুই ভাই একটি পায়রার ছানা লইয়া বাটী আসিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “পায়রার ছানা তোমরা কোথায় পাইলে?” কুশি বলিয়া ফেলিলে,— “রামদীন আমাদিগকে পাতকোর ভিতর হইতে ধরিয়া দিয়াছে।” লব আমনি বলিয়া উঠিল,- “কুশি! কুশি! করিলে কি? বলিয়া দিলে! ‘রামদীন যে মানা করিয়াছিল। রামদীন যে তোমাকে কাটিয়া ফেলিবে ।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কৃপ! কোন কূপ হইতে রামদীন তোমাদিগকে পায়রা ধরিয়া निशाgछ?” \ মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Σ কুশি উত্তর করিল,— “না পাড়েনী, আমি আর বলিব না। সে কূপের ভিতর গৰ্ত্ত আছে। সে গৰ্ত্তের ভিতর রামদীন কখন কখন শুইয়া থাকে। তাহার ভিতর রামদীনের টাকা আছে। বলিতে সে মানা করিয়াছিল। যদি বলি, সে আমাকে কাটিয়া ফেলিবে ।” যাহা হউক, ছেলে দুইটিকে ভুলাইয়া আমি সকল কথা বাহির করিলাম। বুঝিলাম যে, আমাদের বাড়ী হইতে অল্পদূরে যে একটি বাগান আছে, আর সেই বাগানের ভিতর যে এক পুরাতন অন্ধকূপ আছে, রামদীন সেই কৃপা হইতে কপোতশাবক ধরিয়া দিয়াছিল। আরও বুঝিলাম যে, সিপাহীরা বিদ্রোহী হইয়া যখন সরকারী খাজনাখানা লুঠ করে ও পথে মাঠে টাকা সংগ্ৰহ করে, আর সেই টাকা কূপের ভিতর সে লুকাইয়া রাখিয়াছে। পরদিন আমি রামদীনকে মিনতি করিয়া বলিলাম,- “বাবা! অনাথ শিশু দুইটি আমাদের আশ্রয়ে আসিয়াছে। তাহাদিগকে প্রাচীন অন্ধকূপের নিকট লইয়া যাওয়া কি ভাল? কোনদিন পড়িয়া গিয়া শেষে কি তাহারা প্ৰাণ হারাইবে।” “তোমাকে বলিয়া দিয়াছে, বটে!” এই কথা বলিতে বলিতে রামদীন গজগজ করিতে করিতে চলিয়া গেল । চারি-পাচ দিন গত হইয়া গেল। একদিন অপরাহ তিনটার সময়, যে বাগানে সেই অন্ধকৃপ আছে, ছেলে দুইটি সেই বাগানে খেলা করিতেছিল। কুশি সেদিন আমার নিকট হইতে আর একবার কাঁসি চাহিয়া লইয়াছিল। নিকটে সেই বাগানের বাহিরে, আমি গরু দুইটি ছাড়িয়া দিয়া, পাছে কাহারও ক্ষেতে পড়ে, এ মিনিত্ত চৌকি দিয়া বসিয়াছিলাম। ওদিকে কুশি কাঁসি বাজাইতেছিল । সেই শব্দ শুনিয়া ছেলেদের জন্য ছিলাম। কিছুক্ষণ পরে সহসা কাঁশির শব্দ বন্ধ হইয়া গেল। “লব তুমি পাব্লিবের্না, আমি নামি,” এই কয়টি কথা সহসা আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করিল। এই কয়টি ব্যু”শুনিয়া আমি তাড়াতাড়ি উঠিয়া দাঁড়াইলাম। দাঁড়াইয়া সেই প্রাচীন কৃপের দিকে দেখিলাম। দেখিলাম যে, লব উপরে দাড়াইয়া আছে, আর সর্বনাশ! একটি টুর্গমাথা কৃপের ভিতর নামিতেছে। সেই মুহূৰ্ত্তে ঝাঁকড়ামাথাটি কূপের ভিতর অদৃশ্য হইয়া গেল। “ও মা! এ কি সৰ্ব্বনাশ হইল,” “কে কোথায় আছ, শীঘ এস,”- এইরূপ চীৎকার করিতে করিতে আমি কূপের দিকে উৰ্দ্ধশ্বাসে দীেড়িলাম। কুপের নিকট আসিয়া লবকে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “লব! লব! কুশি কই?” লব উত্তর করিল,— “তোমার কঁসিখানি কৃপের ভিতর পড়িয়া গিয়াছে, কুশি তাহা তুলিয়া আনিতে কূপের ভিতর নামিয়াছে। পাতকোর ভিতর আমি উকি মারিয়া দেখিলাম, কিন্তু কুশিকে দেখিতে পাইলাম না। আমি তাড়াতাড়ি কূপের ভিতর নামিতে চেষ্টা করিলাম; কিছুতেই নামিতে পারিলাম না। পুনরায় উপরে আসিয়া কূপের ভিতর মুখ করিয়া,- “কুশি! কুশি!” করিয়া বার বার চীৎকার করিতে লাগিলাম। আমি কত ডাকিলাম, লব কত ডাকিল; কিন্তু কোন উত্তর নাই; কোন সাড়াশব্দ নাই। ঘোরতর বিপদ যে ঘটিয়াছে, তখন তাহা নিশ্চয় বুঝিতে পারিলাম। উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিতে কাঁদিতে লোক ডাকিতে লাগিলাম। কিন্তু সে মাঠের মাঝখানে কাহারও সাড়া পাইলাম না, জনপ্ৰাণী কেহ আসিল না। তখন আমি লবকে বলিলাম,- “তুমি শীঘ্ৰ নবাবগঞ্জে গিয়া খবর দাও। দুই-চারি জন পুরুষমানুষ, যাহাকে দেখিতে পাও, তাহাকে ডাকিয়া আন । আমি কূপের ধারে দাঁড়াইয়া থাকি।” voርኵS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািন্টন/********* লব নবাবগঞ্জের দিকে দৌড়িল । মাঝে মাঝে আমি কূপের ভিতর মুখ করিয়া, কুশি কুশি’ করিয়া-ডাকিতে লাগিলাম। মাঝে মাঝে চীৎকার করিয়া লোক ডাকিতে লাগিলাম। মাঝে মাঝে শিরে করাঘাত করিয়া কাদিতে লাগিলাম। মনে করিলাম যে, আর এখন লোক আসিলেই বা কি হইবে! যা হইবার, তা হইয়া গিয়াছে, ঘোর সর্বনাশ ঘটিয়াছে! কূপে তখন প্রায় চারি-পাঁচ হাত জল ছিল। হয় কুশি। তাহাতে ডুবিয়া মরিয়াছে, আর না হয় কূপের দূষিত বায়ুতে শ্বাসরোধ হইয়া তাহার মৃত্যু ঘটিয়াছে। এখন লোক আসিলে আর কোন ফল হইবে না, কেবল তাহার মৃতদেহটি তুলিবে। আশা-ভরসা একেবারে গেল বটে, তথাপি মন বুঝিল না। প্ৰায় আধঘণ্টা হইয়া গেল, তখনও লব ফিরিল না। আমি আর থাকিতে পারিলাম না। নিজে নবাবগঞ্জের দিকে দৌড়িলাম। পথে দেখিলাম, লব দুইজন পুরুষমানুষ সঙ্গে লইয়া আসিতেছে। তাঁহাদের একজনের হাতে কৃপ হইতে লোটা তুলিবার কাটা ছিল। সকলে পুনরায় কূপের নিকট আসিলাম। রজ্জ্ব-সংযুক্ত কাঁটা প্রথম তাহারা কূপের ভিতর নামাইয়া দিল। জল ভেদ করিয়া কাঁটা গিয়া ভূমি স্পর্শ করিল! চারিদিকে ঘুরাইয়া-ফিরাইয়া কাটা দিয়া তাহারা কূপের নিম্নদেশে তন্ন তন্ন করিয়া অনুসন্ধান করিল। কাটাতে কোন বস্তুই বাধিয়া গেল না। কূপের ভিতর কুশির চিহ্নমাত্রও তাহারা দেখিতে পাইল না। অবশেষে একজন লোক কৃপের ভিতর গিয়া নামিল। জলে ডুব দিয়া অনেক অনুসন্ধান করিল। কুশির মৃতদেহ তাহারা পাইল না। কুশি যে কূপের ভিতর , তাহাতে কিছুমাত্ৰ সন্দেহ ছিল না। যখন সে কূপের ভিতর প্রবেশ করে, লব তখন উত্থয়ৈ সে আগাগোড়া সমুদয় দেখিয়াছে। দূর হইতে আমিও কুশির মাথা দেখিতে । সুতরাং সে যে কূপে পড়িয়া মারিয়াছে, সে বিষয়ে সন্দেহ হইতে পারে না। কিন্তু মৃত্যুদ্রোিঠগৈল কোথা? যে লোকটি কূপের ভিতর বলিল,- “কূপের পার্শ্বে অনেকগুলি গহবর আছে, এমন কি জলের ভিতরও একটি প্ৰকাণ্ড গৰ্ত্ত। সেই গৰ্ত্ত বোধ হয়, পাতাল পৰ্যন্ত গিয়াছে। রাক্ষসে হয়তো তাহীর মৃতদেহ টানিয়া লইয়া খাইয়া ফেলিয়াছে।” ক্ৰমে সে স্থানে আরও অনেক লোক আসিল । আরও দুই-চারি জন কৃপের ভিতর নামিল। কিন্তু কুশির কিছুমাত্ৰ সন্ধান হইল না। রাত্রি দশটা বাজিয়া গেল। আর কি করিব! লবকে লইয়া আমি আমার কুটীরে যাইলাম। তৃতীয় অধ্যায় শুভসং “কুশি কোথায় গেল, কুশির কি হইল,” এই কথা বলিয়া লব কীদিয়া আকুল হইল। দুইজনে এক প্ৰাণ এক শরীর বলিলেও হয়। আজ কুশিকে হারাইয়া চারিদিক সে অন্ধকার দেখিতে লাগিল। আমি মনে মনে ভাবিলাম যে, লবও বঁচিবে না! তাহার পর আমার নিজের কথা । আমার ছেলেপিলে হয় নাই। কুশি৷ যদি আমার নিজের ছেলে হইত, তাহা হইলে, সেদিন আমি AA Ôዕቅ\5 মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 6 যেরূপ হইয়াছিলাম, তাহা অপেক্ষা বােধ হয়, অধিক শোকাকুলা বা অধিক অধীরা হইতাম না। লবের ভয়ে অধিক কাঁদিতে পারিলাম না। মনের ভিতর শোকানল গুমে গুমে জুলিতে লাগিল । হায়! কি করিয়া আমি পুনরায় পাড়ের নিকট এ পোড়া মুখ বাহির করিব? আমি কুশির বাবাকে কি বলিব! কোনরূপে সে কাল-রাত্রি কাটিয়া গেল। তাহার পরদিন লব ও আমি পুনরায় কূপের ধারে গিয়া বসিলাম। সাস্তুনা করিতে করিতে আমি লবকে একবার বলিয়াছিলাম যে, “কুশি স্বর্গে গিয়াছে।” লব সেই কথাটি ক্রমাগত তোলা-পাড়া করিতে লাগিল । লব বলিল, “স্বৰ্গ উপরে, যে স্থানে সূৰ্য উঠে, চন্দ্ৰ উঠে, নক্ষত্র উঠে। কুশি সেখানে যায় নাই, কুশি কৃপের ভিতর গিয়াছে। সেখানে অন্ধকার, সেখানে পাতাল; সেখানে স্বৰ্গ নয়। কুশি যদি স্বর্গে যায়, তাহা হইলে প্রথম সে কৃপ হইতে উঠিবে, তাহার পর স্বর্গে যাইবে । সেই সময় আমি তাহাকে ধরিয়া ফেলিব, তাহাকে স্বর্গে যাইতে দিব না। চল, পাড়েনি, তাহাকে ধরিবার নিমিত্ত কূপের ধারে গিয়া আমরা বসিয়া থাকি।” কি করি! ছেলেকে তা না হইলে কিছুতেই সুস্থির রাখিতে পারি না। কাজেই দুইজনে কৃপের ধারে গিয়া বসিয়া রহিলাম। বাজার হইতে খাবার আনাইয়া লবকে দিলাম, কিন্তু সে কিছুই খাইল না। বিরস বদনে, একান্তমনে, সমস্তদিন কেবল কূপের দিকে সে চাহিয়া রহিল। সন্ধ্যা হইলে অনেক বুঝাইয়া লবকে লইয়া বাড়ী যাইলাম। কিন্তু লব বলিল,- “পাড়েনি! আজ আমি ঘরের ভিমুহুর শুইব না। ঘরের বাহিরে এই স্থান হইতে পাতকো দেখা যায়, কূপের দিকে চাহিয়া স্থানে বসিয়া থাকিব। কৃপ হইতে কুশি যখন উঠিবে, তখন তাহাকে ধরিয়া আনিব ॥২১ কি করি! চারপাই আনিয়া সেই স্থানে বসিয়া রহিলাম। জ্যোৎস্না রাত্রি ছিল। লব একদৃষ্টি কূপের দিকে চাহিয়া রহিল। অষ্টমীর চক্ষু দিয়া অবিরল ধারায় অশ্রুবারি বিগলিত হইতে লাগিল । রাত্রি প্রায় দুইপ্রহর। শোকে তাপে অনাহারে, আমি অতিশয় শ্ৰান্ত হইয়াছিলাম। বসিয়া বসিয়াই একটু অবসন্ন হইয়া পড়িলাম; আমার চক্ষু দুইটি একটু বুজিয়া আসিল। এমন সময় সহসা লব চীৎকার করিয়া উঠিল,— “ঐ কুশি, ঐ কুশি, ঐ কুশি আসিয়াছে।” এই কথা বলিয়া সে পাগলের ন্যায় উৰ্দ্ধশ্বাসে কূপের দিকে দৌড়িল। আমিও তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ দীেড়িলাম। কিছুদূরে দেখি যে, সত্য সত্যই কুশি! টলিতে টলিতে কুশি আসিতেছে! লব তাহার গলা জড়াইয়া ধরিল, বলিল,- “কুশি, এতক্ষণ কোথায় ছিলে, ভাই! পাড়েনী বলে, তুমি স্বর্গে গিয়াছ। আমি বলিলাম, না পড়েনী, কুশি স্বর্গে যায় নাই। সে একলা কোথায় কোথাও যায় না। যেখানে যাই, আমার দুই জনে একসঙ্গে যাই। এখন চল, ভাই, বাড়ী চল। আমি তোমাক স্বৰ্গে যাইতে দিব না ।” অন্য সময় হইলে, বােধ হয়। ভূত বলিয়া আমার মনে ভয় হইত। কিন্তু তখন আমার জ্ঞান ছিল না। তাড়াতাড়ি গিয়া আমি কুশিকে কোলে লইলাম। কোলে লইয়া তাহাকে বাড়ী আনিলাম। কিন্তু ছেলে কথা কহে না। তাহার শরীর কৃশ, মুখ মলিন, মুখে যেন কালি মাড়িয়া দিয়াছে। মুখেহাতে তাহার জল দিলাম। ঘরে দুধ ছিল, তাহাকে খাইতে দিলাম, কিঞ্চিৎ সুস্থ হইলে কুশির মুখ দিয়া দুই-একটি কথা বাহির হইল। কি ঘটিয়াছিল, কুশির মুখ হইতে তখন ক্রমে ক্রমে সকল কথা জানিতে পারিলাম । w96*8 frig -ibs gas sell - www.amarboicons% কুশি বলিল,- “পাতকোর ধারে আমরা দুই জনে খেলা করিতেছিলাম। মাঝে মাঝে একবার লব, একবার আমি, আমরা দুই জনে কাঁসি বাজাইতেছিলাম। এমন সময়ে কূপের ভিতর হইতে একটি পায়রা উড়িয়া গেল। কৃপের ভিতর কোন স্থানে পায়রার বাসা আছে, তাহা দেখিবার নিমিত্ত আমি উকি মারিলাম। দৈবক্রমে আমার হাত হইতে কাসিখানি কূপের ভিতর পড়িয়া গেল। কূপের গা অনেক স্থানে ভাঙ্গা ছিল, ইটের খাটাল বাহির হইয়াছিল। কূপে যে জল আছে, তাহা আমি জানিতাম না। এ কূপ হইতে কেহ জল লয় না। সে জন্য মনে করিলাম যে, কূপে জল নাই, কৃপ শুল্ক। ইটের খাটাল দিয়া কূপের ভিতর অনায়াসে নামিতে পারা যায়। কঁাসির জন্য, পাড়েনী, তুমি দুঃখ করিবে, তাই লব কূপের ভিতর নামিতে চাহিল। কিন্তু আমি তাহাকে নামিতে দিলাম না। কাঁসি আনিবার নিমিত্ত আমি নিজেই নামিলাম।” কিছুক্ষণ বিশ্রাম করিয়া কুশি পুনরায় বলিল,— “ভাঙ্গা স্থানের গৰ্ত্তে ও ইটের খাটালে পা দিয়া কূপের ভিতর আমি আস্তে আস্তে নামিতেছিলাম! এমন সময় একবার যেখানে আমি পা রাখিয়াছিলাম, হঠাৎ সেই স্থানের ইট একটু ভাঙ্গিয়া গেল। আমি ঝুপ করিয়া অনেক নীচে গিয়া পড়িলাম; কিন্তু একেবারে জলে গিয়া পড়ি নাই। সে স্থানে ইটের ভিতর হইতে ছোট একটি গাছ বাহির হইয়াছিল। আমি সেই গাছটি ধরিয়া বুলিতে লাগিলাম। তৎক্ষণাৎ কে আসিয়া আমার কোমর জড়াইয়া ধরিল। আমাকে টানিয়া কূপের গায়ে একটি গৰ্ত্তে লইয়া গেল। সে স্থানে নিবিড় অন্ধকার। কে আমাকে ধরিয়া লইয়া গেল, তাহা আমি জানিতে পারিলাম না। যদি কথা কও, কি উত্তর দাও, তাহা হইলে NY শুনিয়া বুঝিতে পারিলাম যে, সে রামদীন। ভুয়ং আমি চুপ করিয়া রহিলাম; উত্তর দিতে পারিলাম না। অনেকক্ষণ গৰ্ত্তের ভিতর নিঃশ্বাের্ডস্ জনে বসিয়া রহিলাম। তাহার পর উপরে তোমাদের আর কোন সাড়াশব্দ ফ্রাঁ তখন রামদীন বলিল,— “তুমি এই স্থানে চুপ৷ করিয়া বসিয়া থাক, আমি দেখিয়া সুফ্রি” এই বলিয়া রামদীন উপরে উঠিল। কিন্তু তৎক্ষণাৎ নামিয়া আসিল। আসিয়া বলিল,- “এখন উপরে কেহ নাই। বড় যে পায়রার কথা পাড়েনীকে বলিয়া দিয়াছিলি? এখন কি হয়? এখন যদি তোকে মারিয়া ফেলি, তাহা হইলে তোর কোন বাপ রাখে? কিন্তু তোকে প্ৰাণে মারিব না। বিলক্ষণ সাজা দিয়া তাহার পর ছাড়িয়া দিব।” রামদীন এখন আমাকে উপরে উঠিতে বলিল । ইটে পা দিয়া ছোট ছোট গাছ ধরিয়া আমি উপরে উঠিতে চেষ্টা করিতে লাগিলাম। কিন্তু আমি একলা কিছুতেই উপরে উঠিতে পারিতাম না। উপর হইতে রামদীন হাত বাড়াইয়া দিতে লাগিল। সেই হাত ধরিয়া ক্ৰমে ক্ৰমে অতি কষ্টে উপরে উঠিলাম। উঠিয়া দেখিলাম, তুমিও নাই, লবও নাই, কেহ কোথাও নাই। তখন তোমরা নবাবগঞ্জে লোক ডাকিতে গিয়াছিলে । হাত ধরিয়া রামদীন আমাকে টানিয়া লইয়া চলিল। বাগানের বাইরে সাহেবদের যে খোলার ঘরে সহিস ও চাকরেরা থাকিত, রামদীন আমাকে সেই স্থানে লইয়া গেল। আমাকে সে দুটি ছোলাভাজ খাইতে দিল। সেই ছোলাভাজা ও একটু জল খাইয়া আমি মাটির উপর শুইয়া পড়িলাম। কিছুক্ষণ পরে রাত্রি হইল। আমি ঘুমাইয়া পড়িলাম। সে রাত্ৰিতে আর কি হইল, তাহা আমি জানি না। আজ দিন হইলে রামদীন তলওয়ার বাহির করিয়া কখন আমাকে কাটিতে যাইতেছিল, কখন আমাকে মারিতে যাইতেছিল। সে বলিল,- “তোরে এক-একবার মারিয়া ফেলিতে মন হয়, কিন্তু আবার মন হয় না। তাহা না হইলে কৃপের ভিতর গলা টিপিয়া তোরে আমি মারিয়া ফেলিতাম। কেমন! V) মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro (ł6ł পাড়েনীকে আর কিছু বলিবি? পায়রার কথা বলিয়াছিলি, তাহাতে কোন ক্ষতি ছিল না। কিন্তু আমার টাকার কথা প্ৰকাশ করিয়া দিলি কেন?” আমি বলিলাম,- “পাড়েনীকে আর কখন কিছু বলিয়া দিব না। তুমি আমাকে ছাড়িয়া দাও, আমি বাড়ী যাই। আমার জন্য লব হয়তো কত কাঁদিতেছে।” সে বলিল,- “এখনও নয়, আরও জব্দ করিয়া তাহার পর ছাড়িয়া দিব।” রামদীনের কাছে অনেক টাকা আছে, সাহেবদের কাপড় আছে। সে সকল আমাকে দেখাইল । তাহার পর সে টাকা গুণিতে বসিল । তাহার পর ঘরের ভিতর আমাকে বন্ধ করিয়া দ্বারে শিকল দিয়া, আজ রামদীন একবার বাহিরে গিয়াছিল। যদি আমি চীৎকার করি, তাহা হইলে আমাকে কাটিয়া ফেলিবে, এইরূপ ভয় দেখাইয়া সে একবারমাত্র অল্পক্ষণের নিমিত্ত বাজারে গিয়াছিল। বাজার হইতে পুরি আনিয়া সেও খাইল, আমাকেও খাইতে দিল। তাহার পর পুনরায় রাত্রি হইল। রামদীন নিদ্রা গেল। আজ আমি কোনরূপে পলাইব, এইরূপ মনে করিয়া জাগিয়া রহিলাম। অনেক রাত্রিতে রামদীনের ঘন ঘন নিশ্বাস পড়িতে লাগিল। যখন আমার নিশ্চয় বোধ হইল যে, সে নিদ্রা গিয়াছে, তখন আমি আস্তে আস্তে দ্বার খুলিয়া পলাইয়া আসিলাম ।” এই গেল। কুশির বিবরণ। পরদিন আমি রামদীনের নিকট গিয়া তাহার পায়ে-হাতে অনেক পড়িলাম। ঘরে আমার দুধ হইত, তাহাকে একলোটা দুধ দিলাম। ঘি করিয়া রাখিয়ছিলাম, সে ঘি তাহাকে দিলাম। বাজার হইতে পেড়া কিনিয়া দিলাম। এইরূপ বিধিমতে সান্তুনা করিয়া তাহাকে বলিলাম,- “বাবা! শিশু দুইটির মা নাই! র আশ্রয়ে আসিয়াছে। আমার নিকট কুশি কিছুমাত্র তোমার নিন্দা করে নাই। তোমার কি আছে, সে কথাও কিছু বলে নাই। আর যদি তুমি দু’পয়সা রোজগার করিয়া থাকস্লোিপতো ভাল কথা। সে কথা আমি গোপন রাখিব, কাহাকেও কিছু বলিব না। তুমি পাযরা ধরিয়া দিয়াছিলে, সে জন্য লবকুশি তোমার কত সুখ্যাতি করিয়াছিল। তুমি পাতকোর ভিতর না থাকিলে কুশি নিশ্চয় জলে পড়িয়া মারা পড়িত। ভাগ্যে সে সময় পাতকোর ভিতর ছিলে, তাই তাহার প্রাণ বঁচিয়াছিল। যদি বাছা, ছেলেটির তুমি প্রাণরক্ষা করিলে, তবে আর তাহাকে কিছু বলিও না।” কিছুদিন পরে ইংরেজের পুনরায় রাজত্ব হইল। দেশে পুনরায় বিচার-আচার আরম্ভ হইল, অরাজকতা ঘুচিল, লুটপাট, খুনখারাবি সব বন্ধ হইয়া গেল। দেশে পুনরায় শান্তি সংস্থাপিত হইলে, গোবিন্দবাবু হরডুই হইতে স্ত্রীকে আনাইয়া ও আমার নিকট হইতে ছেলে দুইটিকে লইয়া স্বদেশে চলিয়া গেলেন। আমাদিগকে পারিতোষিক স্বরূপ তিনি যে টাকা দিলেন, পাড়ে সেই টাকা দিয়া জমি লইয়া চাষ করিতে লাগিলেন । আজ দশ বৎসর হইল, পাড়ে পরলোকগমন করিয়াছেন। এক্ষণে আমি লোকের গম পিষিয়া ও নানাপ্রকার দুঃখ ধান্ধা করিয়া জীবিকানিকাৰ্বাহ করি। কিন্তু বাবু! ছেলে দুইটির জন্য এখনও আমার প্রাণ কাদে। সেই পৰ্যন্ত লব কুশির আমি কোন সংবাদ পাই নাই। তাহারা কোথায় আছে, কেমন আছে, বলিতে পারেন? ኳ যাহাদের নিকট পাড়েনী লব ও কুশির গল্প করিতেছিল, সেই বাঙ্গালীবাবুগণ উত্তর করিলেন,- “না, পাড়েনি!! আমরা তাহাদিগকে জানি না; যদি তুমি তাঁহাদের ঠিকানা বলিতে পারিতে, তাহা হইলে চিঠি লিখিয়া সংবাদ লইতে পারিতাম। তাঁহাদের বাড়ী কোন গ্রামে, কোন জেলায়, যখন তাহার কিছুই তুমি জান না, তখন কি করিয়া আমরা তাঁহাদের সন্ধান লইব?” এই কথা শুনিয়া, আপনার পারিতোষিক লইয়া বিরস বদনে পাড়েনী চলিয়া গেল।

gfrila is gas sel - www.amarboicon ولا\2008 শঙ্কু ঘোষের কন্যা

প্ৰথম পরিচ্ছেদ হরিদাসী “হঁ্যা! মহাশয়! ইহার নাম হরিদাসী, আমার একমাত্র কন্যা। হরিদাসী আমাদের প্রাণ, গৃহিণীর ও আমার। হরিদাসীকে একদণ্ড না দেখিলে পৃথিবী আমরা আঁধার দেখি। হরিদাসীকে একবার ভাল করিয়া দেখুন, মহাশয়! আমাদের ঘরে এমন মেয়ে হয় না, রাজার ঘরে হইলে তবে শোভা পায় ।” সত্য সত্যই হরিদাসীর রূপলাবণ্য দেখিলে মুগ্ধ হইতে হয়। কন্যাটির বয়স দশ বৎসরের অধিক নয়। তথাপি তাহাকে একবার দেখিলে, বার বার দেখিতে ইচ্ছা হয়। রংটি ফুটফুটে; চক্ষু দুইটি টানা টানা; চক্ষুর তারা দুইটি উজ্জ্বল, ঢুলঢুলেও ঘোর কৃষ্ণবর্ণ চক্ষুর পাতাগুলি ঘন দীর্ঘ; নিবিড় মেঘরাশির ন্যায় মাথার চুল,— ক্ষেকের ঘরে এরূপ কন্যা অতি বিরল। হরিদাসী শঙ্কু ঘোষের কন্যা। শঙ্কু ঘোষের দ্ৰিষ্ঠ ভূম জেলা। ইহার ঘরে আজ কুটুম্ব আসিয়াছেন। আহাৱাদি করিয়া কুটুম্ব বাহিৰ্ন্তে একখানি চালায় বসিয়া আছেন। বৈশাখ মাস, বেলা দুইপ্রহর, রৌদ্র বা-বা করিতেছে ঘোষ কুটুম্বের নিকট বসিয়া গল্প করিতেছেন। এমন সময় নাচিতে নাচিতে হরিদাসী আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইল। চালাখানি সহসা যেন আলোকিত । কুটুম্ব হরিদাসীর দিকে একদৃষ্টি চাহিয়া রহিলেন। তাহা দেখিয়া হরিদাসীর পিতা উপরের কথাগুলি বলিলেন । শঙ্কু ঘোষ পুনরায় বলিলেন,- “হা মহাশয়! ধৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম করিলে, জীবের প্রতি দয়া করিলে, ভগবান যে প্ৰসন্ন হন, তাহা আমি প্রত্যক্ষ দেখিয়াছি।” কুটুম্ব জিজ্ঞাসা করিলেন,- “আপনি প্ৰত্যক্ষ দেখিয়াছেন? কি হইয়াছিল? শন্তু বলিলেন, — “আপনি একটু শয়ন করুন, কাছে বসিয়া আমি সেই গল্প করি। বড় গল্প করিয়া আপনাকে আমি বিরক্ত করিব না, গল্পটি ছোট । হরিদাসী, মা! তুমি ঘরের ভিতরে ՀյN3 լ՞ শষ্ণু বলিলেন,- “আজ পাঁচ বৎসরের কথা বলিতেছি। একবার ধান বেচিতে আমি শিউরি গিয়াছিলাম। আমার নিজের সামান্য একখানি গরুর গাড়ী আছে। ধানের থলিগুলি সেই গাড়ীতে লইয়া গিয়াছিলাম। যাইবার চারি-পাঁচ দিন পূৰ্ব্ব হইতে পাড়াপ্রতিবাসী সকলে আসিয়া বলিতেছিলেন,- “ঘোষের পো! আমার জন্য এ জিনিস আনিও, কেহ বলিতেছিলেন, আমার জন্য সে জিনিস আনিও। কাহারও কাপড়, কাহারও বাসন, কাহারও শিল, এইরূপ নানাবিধ জিনিস আনিতে মুক্তা-মালা JbÓዓ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro সকলে আমাকে অনুরোধ করিতেছিলেন। তাহার পর আমার নিজের গৃহিণীর ফর্দ । সেও একরাশি জিনিষের ফৰ্দ আমি লেখা-পড়া জানি না; মন আমার কাগজ-কলম; যাহার যে বস্তু আবশ্যক, সে সব আমি মনে করিয়া লইলাম। অবশেষে হরিদাসীকে আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “তোমার কি চাই, মা?” হরিদাসী উত্তর করিল,— “আমার জন্য ভাল একটি কাঠের পুতুল আনিও, বাবা।” যাইবার দিন প্ৰাতঃকালে হরিদাসী গাড়ীর কাছে আসিয়া দাঁড়াইল। আদর করিয়া আমি তাহাকে কোলে লইলাম। আমার বক্ষঃস্থলে মাথা রাখিয়া হরিদাসী পুনরায় বলিল,- “আমার জন্য ভাল দেখিয়া কাঠের পুতুল আনিও, বাবা।” আমি উত্তর করিলাম,- “হঁ্যা, মা! নিশ্চয় আনিব। শিউড়ির বাজারে সকলের চেয়ে ভাল যে কাঠের পুতুল পাই, তোমার জন্য তাঁহাই আনিব।” আমাদের গ্ৰাম হইতে শিউড়ি দশ ক্রোশ পথ। সন্ধ্যাবেলা সে স্থানে উপস্থিত হইলাম। তাহার পর ধান বেচিলাম। কতক কতক জিনিষও ক্রয় করিলাম। তৃতীয় দিন যাহা বাকী ছিল, সেই সমস্ত জিনিষ-পত্র কিনিলাম। বলা বাহুল্য যে, হরিদাসীর জন্য একটি কাঠের পুতুল কিনিলাম। এই সব কাজ সারিতে অনেকটা বেলা হইয়া গেল। আজ আমার বাটী ফিরিবার কথা। সকলকে নিশ্চয় করিয়া বলিয়া আসিয়াছিলাম যে, তৃতীয় দিন যেমন করিয়া পারি বাড়ী আসিয়া পীে ছিব। কিন্তু এত বেলায় শিউড়ি হইতে বাহির হওয়া উচিত নয়; কারণ, বাড়ী পীে ছিতে রাত্রি হইয়া যাইবে। সময়টাও ভাল ছিল না দেশে একপ্রকার আকাল উপস্থিত। ਦੇ ছিল। এই সকল কারণে একবার মনে করি অঁজি আর বাটী ফিরিব না। কিন্তু না গেলে বাড়ীর লোকে অতিশয় চিন্তিত হইবে। তাহাৰ্ব্বং পর হরিদাসীর চাঁদ-মুখখানি দেখিবার নিমিত্ত প্ৰাণ বড়ই কাতর হইয়া উঠিল। যা যাই! অবশেষে এই মনে করিয়া দুৰ্গা বলিয়া যাত্রা করিলাম । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ বাবা গো ! শীতকাল! দারুণ শীত। তাহার উপর সমস্ত দিন বাদলার মত করিয়াছিল। টিপ্‌-টিপু করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছিল। হু-হু শব্দে বাতাস বহিতেছিল। সন্ধ্যাবেল বিলক্ষণ একপসলা বৃষ্টি হইয়া গেল। আমার কাপড়-চোপড় সব ভিজিয়া গেল। শীতে আমি কাপিতে লাগিলাম। সৰ্ব্বশরীর আমার অবশ হইয়া গেল। তখনও আমার গ্রাম হইতে আমি পাঁচ ক্রোশ দূরে। দ্রুতবেগে গাড়ী হাঁকাইয়া দিলাম। আমাদের গ্রাম হইতে দুই ক্রোশ দূরে বড় মাঠের মাঝখানে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। পুনরায় ঘোর মেঘ করিয়া আসিল। মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতে লাগিল, তাহার উপর প্রবল ঝড় উপস্থিত হইল। নিবিড় অন্ধকার। কোলের মানুষ দেখা যায় না। আমাদের গ্রাম হইতে এক ক্রোশ দূরে ছোট একটি নদী আছে। সেই নদীর vobr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্য","র্প ******** ধারে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। নদীটি পার হইয়াছি, এমন সময় হঠাৎ একবার শিশু-কণ্ঠস্বর শুনিতে পাইলাম। কোন শিশু যেন কঁদিতেছে, এইরূপ বোধ হইল! কিন্তু একবারের অধিক আর সে শব্দ শুনিতে পাইলাম না। কারণ, তাহার পরীক্ষণেই বাতাসের ঝাঁটুকা প্রবল হইয়া উঠিল। সেই বাতাসের শব্দে অন্য শব্দ সব ডুবিয়া গেল। মনে করিলাম, এ কিছু নয়, ভ্ৰান্তিবশতঃ ওরূপ শব্দ আমার কানে লাগিয়াছিল। এরূপ ভাবিতেছি, এমন সময় আবার “বাবা গো!” এইরূপ একটি শিশুকণ্ঠ-শব্দ আমার কানে প্ৰবেশ। করিল। তখন আমার মনে অতিশয় ভয় হইল। একবার মনে করিলাম, এ আর কিছু নয়, এ ভূত কি পেতিনী। আবার মনে হইল, না, তা নয়, এ ঠেঙাড়ে, আমাকে মারিয়া ফেলিবার জন্য এরূপ কৌশল করিতেছে। একবার মনে করিলাম যে, গাড়ী ছাড়িয়া আমি দৌড়িয়া পলায়ন করি। কিন্তু গরু যোড়াটি নূতন কিনিয়াছিলাম। তাহার মায়া ছাড়িতে পারিলাম না। গাড়ী দ্রুতবেগে হাঁকাইয়া দিলাম। দুই-চারি পা গিয়াছি, এমন সময় আবার মা গো!’ বলিয়া শব্দ হইল। তখন মনে আমার চিন্তা হইল—সত্য সত্যই যদি কোন ছেলে এই মাঠের মধ্যে, এই রাত্রিকালে, এই দুৰ্যোগে, এই শীতে, একা পড়িয়া থাকে! তাহা হইলে শঙ্কু ঘোষ, তুমি কি বলিয়া ভয়ে পলায়ন করিতেছ? তোমার মনে কি দয়ামায়া নাই? তুমি না যাদব ঘোষের বেটা? ছিঃ! শম্বু ঘোষা! তোমার এরূপ করা উচিত নয় । এইরূপে মনকে প্ৰবোধ দিয়া আমি গাড়ী হইতে । যেদিক হইতে শব্দ আসিতেছিল, সেই দিকে আস্তে আস্তে যাইতে লাগিলাম। কিন্তু গিয়া হাত দিয়া দেখিলাম যে, এবং ਜਜਜ কাপিতেছে, কিন্তু কথা কহিতে পারেনা। যাহার শিশু হউক, হাড়ীর হউক, আর মুচির হউক, বালক হউক, কি বালিকা হউক ভগবানের জীবা! আমি যে তাহার প্রাণরক্ষা করিতে পারিলাম, সেজন্য আমার মনে ঘোর আনন্দের উদয় হইল । তাড়াতাড়ি আমি তাহাকে বুকে তুলিয়া লইলাম। শিশুটিকে গাড়ীর উপর শয়ন করাইলাম। আমার পাছুড়িখানির যে দিকটি একটু শুষ্ক ছিল, সেই দিকটি তা গায়ে চাপা দিলাম। এইরূপ করিয়া গাড়ী হাঁকাইয়া দিলাম। যখন আমার বাড়ীর নিকটে আসিয়া উপস্থিত হইলাম, তখন রাত্রি প্রায় দেড় প্রহর হইয়াছিল। মনে করিয়াছিলাম, সকলে নিদ্রা গিয়াছে; কিন্তু তাহা নহে। দূর হইতে দেখি যে, আমার বাড়ীতে অনেকগুলি আলো জুলিতেছে, অনেকগুলি মেয়ে পুরুষ আমার বাটীতে আসিয়াছে। আমার ভয় হইল। মনে করিলাম, কি বিপদ ঘটিয়াছে। রাস্তায় গাড়ী রহিল, আমি লাফাইয়া পড়িলাম। দৌড়িয়া গিয়া গৃহে উপস্থিত হইলাম। আমার স্ত্রী কঁদিয়া উঠিল। পাড়ার মেয়ের হাউ কাউ করিয়া উঠিল। শশব্যস্ত হইয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কি হইয়াছে? হরিদাসী ভাল আছে তো? হরিদাসী কই?” গোলমালের ভিতর হইতে অনেক কষ্টে একজনের মুখ হইতে শুনিলাম যে, হরিদাসী হারাইয়া গিয়াছে। সন্ধ্যা হইতে তাহাকে খুজিয়া পাওয়া যায় নাই। গ্রামের ঘরে ঘরে, মাঠে VS -ΣΗάτη ଧ୍ରୁ ଓf; sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ঘাটে সৰ্ব্বত্র অনুসন্ধান হইয়াছে; কিন্তু কোথাও হরিদাসীকে পাওয়া যায় নাই। তাহার গায়ে গহনা ছিল, নিশ্চয় তাহাকে চোরে মারিয়া ফেলিয়াছে। এতদূর বলিয়া কুটুম্বের দিকে লক্ষ্য করিয়া শঙ্কু ঘোষ জিজ্ঞাসা করিলেন,- “মহাশয়! নিদ্রা cब्जन्म दिक'?' কুটুম্ব উত্তর করিলেন,- “না, নিদ্রা যাই নাই। সকল কথা শুনিতেছি। তাহার পর কি ?" শষ্ণু পুনরায় বলিলেন,- নয়নের পুতলী আমার হরিদাসী নাই, প্রতিবাসিনীয় মুখে এই নিদারুণ শুনিয়া আমি জ্ঞান-হারা পাগলের ন্যায় হইয়া পড়িলাম। কাহাকেও কোন কথা না। বলিয়া পুনরায় ঘর হইতে বাহির হইলাম। রাস্তায় যে স্থানে আমার গাড়ী দাঁড়াইয়াছিল, নক্ষত্রবেগে সেই স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। গাড়ী হইতে তুলিয়া শিশুটিকে বুকে লইলাম। দৌড়িয়া পুনরায় ঘরের ভিতর গিয়া প্ৰদীপের আলোকে শিশুর মুখখানি নিরীক্ষণ করিয়া দেখিলাম। সেই চাঁদ-মুখখানি দেখিয়া শূন্য দেহে আমি প্ৰাণ পাইলাম। তাহার পর অনেক তাপ দিয়া, অনেক শুশ্ৰষা করিয়া মেয়েকে আমরা ভাল করিলাম। কুটুম্ব জিজ্ঞাসা করিলেন, — “বাটী হইতে মাঠের মাঝে সে কি করিয়া গিয়াছিল?” শঙ্কু বলিলেন,- “আমি যে সেদিন বাটী পীে ছিব, হরিদাসী তাহা শুনিয়াছিল। বাবা কখন আসিবেন, কখন আমার জন্য পুতুল আনিবেন, সমস্তদিন সে বার বার সবলকে এই কথা জিজ্ঞাসা করিতেছিল। বৈকালবেলা আর থাকিতে পারিলুনা। চুপি চুপি একাকী আগে হইতে আমাকে আনিবার নিমিত্ত সে বাটী হইতে বাহির হইল)’পাঁচ বৎসরের শিশু! পথ-ঘাট জানে। VE হইল, অন্ধকার হইল। জনশূন্য সেইككدNV মাঠের মাঝখানে কত কঁদিল, কাহারও স ভৃগুড় পাইল না। ভয়ে ও শীতে মৃতপ্রায় হইয়া সেই নদীর ধারে ঝোপের ভিতর গিয়া শুইয়ুগুড়িল । ভাগ্যে আমার মনে একটু দয়ার উদয় হইল, કૃષ્ણુનર বলি যে, জীবে দয়া করা ভাল। যে জীবে দয়া ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাস। EO uskla »ižo 33 m vi.amarboi.comio §ණුiඳී ললিত ও লাবণ্য প্ৰথম পরিচ্ছেদ প্ৰাইজের পুস্তক হাসিতে হাসিতে ললিত আজ বাটী আসিল। কুলে ললিত আজ প্রাইজ পাইয়াছে। ললিত সাত বৎসরের ছেলে। কিন্তু এরূপ সুবােধ শিশু। পৃথিবীতে অতি বিরল। প্ৰাইজের পুস্তকগুলি ললিত মাতাকে দেখাইতে লাগিল। পাঁচ বৎসরের ভগিনী লাবণ্য আহাদে কাছে দাড়াইয়া রহিল। ললিত বলিল,— “মা ! আমি ভাল পড়া বলিতে পারি, সেজন্য এই বইখানি পাইয়াছি; কাহারও সহিত ঝগড়া করি না, একটিও মিথ্যাকথা বলি না, সেজন্য এই বইখানি ললিতের মা বললেন,-“বাঁচিয়া থাক, বাবা! ঢুক্তজীবী হও” লাবণ্য জিজ্ঞাসা করিল,- “ইহাতে ছবি আছে $?” ললিত উত্তর করিল,—“কেবল একটি গুরুর্ভুক্ত একটি ঘোড়ার ছবি আছে; ভাল ছবি নাই।” ধূমরায় বলিল,— “মা! বইগুলি বাবাকে দেখাইব? থাকে কপালে, কেবল আজ। আমি তাঁহাকে ছেলের কথা শুনিয়া ললিতের মা ঘাড় হেঁট করিয়া রহিলেন, তাহার চক্ষু দিয়া টিস্ টস করিয়া জল পড়িতে লাগিল। মাতার কান্না দেখিয়া লাবণ্য তাঁহার গলা জড়াইয়া ধরিল। লাবণ্য কাঁদিতে লাগিল। হয়তো মন্দ কথা বলিয়াছি, এই মনে করিয়া ললিত অপ্ৰতিভ হইল। সন্ধ্যা হইলে পিতা বাটী আসিলেন। রাগতমনে আরাক্তনয়নে তিনি স্বতন্ত্র ঘরে গিয়া বসিলেন। কিছু পরে কপিতে কঁাপিতে ললিত দ্বারের নিকট গিয়া বলিল,— “বাবা! আজি আমি প্ৰাইজ পাইয়াছি, এই বইগুলি পাইয়াছি।” ঘরের ভিতর হইতে কর্কশবচনে পিতা উত্তর করিলেন,- “যা যা, ছোড়া আমাকে বিরক্ত করিসনে ৷” বিষন্নবদনে ললিত ফিরিয়া যাইতেছে, এমন সময় পিতা কি ভাবিয়া পুনরায় বলিলেন, — “কই! কি বই পাইয়াছিস, দেখি?” ললিত পুস্তক দুইখানি লইয়া পিতার নিকট গেল। পিতা বলিলেন, — “বই এখন এইখানে রাখিয়া যা, পরে দেখিব।” ଧ୍ରୁ ୫-୩୫୩ WSV) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পুস্তকগুলি পিতার নিকট রাখিয়া ললিত চলিয়া গেল। কিছুক্ষণ পরে পিতা পুস্তক দুইখানি বাজারে লইয়া বিক্রয় করিলেন!! নয় আনা পয়সা হইল। সেই নয় আনা পয়সায় মদ খাইয়া প্রতিদিন যে স্থানে তিনি রাত্রিযাপন করেন, সেই স্থানে গিয়া রাত্রিযাপন করিলেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ মেয়ের হাতের বালা ললিতের পিতার কিছু সম্পত্তি ছিল। সে সমুদয় তিনি নষ্ট করিয়াছেন। যে দুই বিষয়ে মানুষ অধঃপাতে যায়, সে দুই বিষয় এখনও পরিত্যাগ করিতে পারেন নাই। সংসার চলিবার আর উপায় নাই; কিন্তু তাঁহার কনিষ্ঠভ্রাতা আসামে ভাল কৰ্ম্ম করেন। বড় ভ্ৰাতৃবধূকে তিনি মাতার ন্যায় ভক্তি করেন, আর ললিত ও লাবণ্যের প্রতি তাহার প্রগাঢ় স্নেহ। পাছে ইহাদের কোনওরূপ কষ্ট হয়, সে নিমিত্ত তিনি প্ৰতি মাসে টাকা পাঠাইয়া দেন। যে টাকা পঠাইয়া দেন, তাহাতে সংসার সুখে-স্বচ্ছন্দে চলিতে পারে। কিন্তু কৰ্ত্তাটির দোষে সংসারে নিয়তই কষ্ট । চারি মাস পূৰ্ব্বে ভাই কলিকাতায় ংসারের কথা লইয়া দুই ভ্ৰাতায় বাদানুবাদ ও অবশেষে বিবাদ উপস্থিত হইয়াছিল! দুৰ্জ্জরিপ বকবকির পর, কনিষ্ট বললেন,— “তুমি যাহা জান, তাহা কর। এখন হইতে তোমুক্ত আর একটি পয়সাও দিব না।” ললিতের মাতা সেই কথা শুনিতে । সুতরাং স্বামী যখন তাঁহাকে বলিলেন যে,- “ভাই আর আমাকে টাকা পাঠ্যয়ন্তী” তখন কাজেই তাঁহাকে সে কথায় বিশ্বাস করিতে হইল । ভাই রাগবশতঃ টাকা বন্ধ করিবার কথা বলিয়াছিলেন, কিন্তু প্রকৃত তাহা করেন নাই। তিনি মাসে মাসে টাকা পাঠাইতেছিলেন। স্ত্রীকে লুকাইয়া কৰ্ত্তাটি সে টাকা লইয়া অপব্যয় করিতেছিলেন। সে নিমিত্ত সেই দিন হইতে সংসারে আরও ঘোরতর কষ্ট হইল। খিদিরপুরে এক বিধবা স্ত্রীলোকের বাটীতে দুইটি ঘর ভাড়া করিয়া হঁহারা বাস। করিতেছিলেন। বিধবার এই ভাড়াটিই ছিল দিনযাপনের একমাত্র সম্বল। তিন মাস তিনি ভাড়া পান নাই। সেজন্য অনেক তাগাদা ও অনেক ভৎসনা করিয়া অবশেষে বিধবা ইহাদিগকে বাটী হইতে উঠিয়া যাইবার নিমিত্ত বার বার বলিতেছিলেন। এই একখানি যা গহনা ছিল, ললিতের মাতা তাহা বিক্রয় করিয়া ফেলিলেন। কিন্তু সে লইয়া ললিতের মাতা বড় বিপদে পড়িলেন। তাহাদের আহারের নিমিত্ত ঘটি-বাটি পৰ্য্যন্ত বিক্রয় করিতে আরম্ভ করিলেন। দুই-তিনখানি থালা, দুই-একটি লোটা ও লাবণ্যের হাতের দুইগাছি ছোট ছোট সোনার বালা, ইহা ভিন্ন ঘরে আর কিছুই রহিল না। কিন্তু সে দুইগাছি বালাও একদিন গেল। কৰ্ত্তাটি একদিন মেয়ের হাত হইতে সেই বালা দুইগাছি বলপূৰ্ব্বক খুলিয়া লইলেন। পাঁচ বৎসরের শিশুকন্যা! মাটীতে গড়াগড়ি দিয়া সে কাঁদিতে লাগিল । পিতার মনে দয়ার লেশমাত্র হইল না । S află cios (gs se - www.amarboi conf** বালা দুইগাছি লইয়া স্বামী চলিয়া গেলে, ললিতের মাতা, ললিত ও লাবণ্য তিন জনে বসিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। অবশেষে ললিত বলিল,— “লাবণ্য, তুমি কাঁদিও না। আমি যখন টাকা আনিতে শিখিব, তখন তোমাকে বড় বড় বালা কিনিয়া দিব।” তৃতীয় পরিচ্ছেদ এখন হইতে ভাল হইব। কৰ্ত্তাটি এরূপ নিষ্ঠুর আচরণ করিয়া বালা লইয়া গেলেন সত্য; কিন্তু তাহার সুখ হইল না। প্রতিদিন যে স্থানে তিনি রাত্রিযাপন করেন, যাহার জন্য তিনি স্ত্রী-পুত্ৰ-কন্যাকে এরূপ নিদারুণ ক্লেশ দেন, বালা বিক্রয়ের টাকা। যাহার শ্ৰীপাদপদ্মে অৰ্পণ করিয়াছিলেন, দুই-চারি দিন পরে সে তাহাকে অনেক অপমান করিয়া বাটী হইতে বাহির করিয়া দিল। ললিতের পিতা শোকে অধীর হইয়া পড়িলেন। ক্ষুন্নমনে ললিতের পিতা সন্ধ্যার পর বাটী আসিলেন। নিঃশব্দে আপনার ঘরে গিয়া শয়ন করিলেন । পাশের ঘরে শিশু দুইটিকে লইয়া ললিতের মাত যাইতেছিলেন। ঘোর রাত্ৰিতে স্বামীর ঘরে একরূপ শব্দ শুনিয়া সহসা তাহার দ্রাভঙ্গুইষ্টি । তাড়াতাড়ি প্ৰদীপ জ্বলিয়া স্বামীর ঘরে গিয়া দেখিলেন যে, স্বামী "গীে গীে” শব্দ কৃষ্ঠুতেছেন, তাঁহার মুখ দিয়া ফেনা বাহির হইতেছে, চক্ষু দুইটি রক্তবর্ণ হইয়াছে। কি যুষ্ট বাবু বার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলেন। বাবু কােন উত্তর দিলেন না। ললিতের মাতা আঁঠখন আর কি করিবেন? সহায় নাই, সম্পত্তি নাই, টাকা নাই— যে, তৎক্ষণাৎ ডাক্তার আনিবেন। বাড়ীওয়ালী বিধবাকে ডাকিয়া মাথায় জল দিয়া তাহার যথাশক্তি শুশ্রুষা করিতে লাগিলেন। প্ৰাতঃকাল হইল। নিকটস্থ একটি ডাক্তারের নিকট গিয়া ললিত অনেক কাদিয়া ও মিনতি করিয়া তাঁহাকে লইয়া আসিল। ডাক্তার আসিয়াই বলিলেন যে, “ইনি আফিম খাইয়াছেন; আমি পুলিশে খবর দিই। ইহাকে হাসপাতালে পাঠাইতে হইবে।” ললিতের পিতার তখন জ্ঞান ছিল। হাসপাতালে যাইতে তিনি কিছুতেই সম্মত হইলেন না। ডাক্তারের নিকট অনেক মিনতি করিয়া পুলিশে সংবাদ-প্রেরণবিষয়েও তাঁহাকে নিবৃত্ত করিলেন। ডাক্তার যথাসাধ্য বাটীতে তাহার চিকিৎসা করিতে লাগিলেন। সমস্ত দিন গেল। সন্ধ্যার পর তাঁহার শরীর একটু সুস্থ বলিয়া বোধ হইল। রাত্রি নয়টার সময়ে তিনি স্ত্রী ও পুত্ৰ-কন্যাকে আপনার নিকট বসাইয়া স্নেহের সহিত বলিতে লাগিলেন,- “দেখ, আমি এতদিন অন্ধ ও পাগল হইয়াছিলাম; তোমরা আমাকে ক্ষমা কর।” ললিতের মাতা বলিলেন,- “নিশ্বাস ফেলিতে তোমার কষ্ট হইতেছে, এখন আর অধিক কথা কহিয়া কাজ নাই। সম্পূর্ণরূপে ভাল হইয়া তাহার পর যাহা কিছু বলিবার, তখন বলিবে।” হাঁপাইতে হাঁপাইতে ললিতের পিতা উত্তর করিলেন,- “না না! আমি বেশ আছি। আমার শরীরে এখন আর কোন অসুখ নাই। ললিত বাবা! লাবণ্য মা! এস বাবা, এস মা, আমার কাছে

  • 3.1-ՀԱՊ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Vyg) এস! ঘরে প্রদীপ জুলিতেছে, তবু কোন চারিদিক অন্ধকার হইয়া আসিতেছে? আমি তোমাদিগকে ভালরূপ দেখিতে পাইতেছি না। আমি বড় নিষ্ঠুর, তোমাদিগকে আমি বড় কষ্ট দিয়াছি। কিন্তু এখন হইতে আমি খুব ভাল হইব। এখন হইতে তোমাদিগকে খুব আদর করিব। আমি খুব ভাল হইব; এখন হইতে আমি খুব—”

বাকি কথা আর মুখ দিয়া বাহির হইল না! চক্ষু দুইটি কপালে উঠিল। আর তাঁহার ভাল হইতে হইল না, জনমের মত ললিতের পিতার সব ফুৱাইল! ললিতের মাতা কাদিয়া উঠিলেন। মাটিতে পড়িয়া ললিত কাঁদিতে লাগিল। লাবণ্য কাঁদিতে লাগিল । সে রাত্রিতে আর কিছুই হইল না। পরদিন ঘটি-বাটি যাহা কিছু বাকি ছিল, তাহা বিক্রয় করিয়া কৰ্ত্তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিৰ্ব্বাহিত হইল। সহায়সম্পত্তিহীনা স্ত্রী, শিশুসন্তান দুইটিকে লইয়া যে কি করিবেন, কি খাওয়াইবেন, তাহার কোন উপায় ছিল না। চতুৰ্থ পরিচ্ছেদ মা, তুমি না খাইলে ভূমিখাইব না (ČS মা কথাগুলি বলিয়া দিলেন, ললিত শিশুহাতে পত্র লিখিল,— “খুড়ি মহাশয়! পিতার হঠাৎ পরলোক হইয়াছে। আপনি কয় মািৰ্মঙ্খরচ দেন নাই। তাহাতে ঘরের গহনা-গাটি, বাসন-কোষণ যাহা ছিল, সমুদয় য়া গিয়াছে। মাতার হাতে আর কিছুই নাই। আপনি শীঘ্ৰ আসিয়া আমাদের যাহা হয় বিলি করিবেন। তা না করিলে, অনাহারে আমরা মরিয়া যাইব ।” বাড়ীওয়ালী বলিলেন, — “ললিতের মা! আমি অনাথা বিধবা। ঘর দুইটি ভাড়া দিয়া আমার চলে। তিন মাস ভাড়া পাই নাই। আমি কি করিয়া খাই, তা বল। তুমি বাছা, অন্য স্থানে যাও।” ললিতের মাতা উত্তর করিলেন,- “দিদি! লিলিতের কাকাকে চিঠি লেখা হইয়াছে। চিঠি পাইলেই তিনি আসিবেন। তখন তোমার ভাড়া দিয়া আমরা চলিয়া যাইব । আর দুই দিন অপেক্ষা কর। তা না করিলে, শিশু দুইটিকে লইয়া কোথায় যাই, তা বল? আমার বাপের বাড়ীতে কেহ নাই যে, একদিন গিয়া দাঁড়াই।” দুই দিন গেল, তিন দিন গেল। বাড়ীওয়ালী পুনরায় উঠিয়া যাইবার নিমিত্ত উত্তেজনা করিলেন। চারিদিন গেল, পাচ দিন গেল, তবুও কাকার কোন সংবাদ নাই। বাড়ীওয়ালী পুনরায় বলিলেন,- “দুই ভাইয়ের তুমুল ঝগড়া হইয়াছিল। তোমার স্বামী তাঁহাকে বাড়ী হইতে তাড়াইয়া দিয়াছিলেন। তোমার দেবর, বাছা, আসিবেন না; আর তিনি তোমাদের মুখ দেখিবেন না। সে আশা ছাড়িয়া দাও। আমার বাটী হইতে আজই তোমরা উঠিয়া যাও।” যাহা হউক, আরও দুই দিন কাটিয়া গেল। তবুও কাকার কোনও সংবাদ নাই। সাত দিনের দিন, “আমি তারকেশ্বরে যাই”—এই কথা বলিয়া, ললিতের মাতা ও শিশু দুইটিকে ঘর হইতে বাহির করিয়া দিয়া, দ্বারে চাবি দিয়া, বাড়ীওয়ালী কোথা চলিয়া গেলেন। w8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসংখ্যাই শিশু দুইটির হাত ধরিয়া ললিতের মাতা কাঁদিতে কাঁদিতে রাস্তা দিয়া যাইতে লাগিলেন। কোথায় যে যাইবেন, তাহা কিছু ঠিক করিতে পারিলেন না। ক্রমে গড়ের মাঠে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। নিভৃত একটি পুষ্করিণীর ধারে বসিয়া অনেকক্ষণ কাঁদিলেন। কাঁদিতে কাঁদিতে মনে হইল যে, তাহার পিতার একজন জ্ঞাতি কলিকাতায় বাস করেন। তাঁহার বাটীতে ললিতের মাতা একবার গিয়াছিলেন। কুলের কুলবধূ; পথ-ঘাট জানেন না। অনেক সন্ধান করিয়া, অতি কষ্ট অপরাহে, তাহার বাটী আসিয়া ললিতের মাতা দিন কয়েকের নিমিত্ত আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন । পিতার জ্ঞাতি অতি নিষ্ঠাবানু ব্ৰাহ্মণ ছিলেন। তিনি বলিলেন,- “তোমাদের এখন অশৌচ অবস্থা। আমার ঘর-দ্বার অধিক নাই। আমাকে ত্রিসন্ধ্যা করিতে হয়, পূজা-অৰ্চনা করিতে হয়, শুদ্ধাচারে থাকিতে হয়, তাহার উপর আমার স্ত্রীর শুচি-যাই। তোমার ছেলে-পিলে আমার পূজার দ্রব্যাদি সব ছুইয়া ফেলিবে। আমার এখানে বাছা, স্থান হইবে না।” তখন পৰ্যন্ত কেহ কিছু আহার করে নাই। লাবণ্য ক্ষুধা ক্ষুধা করিয়া কাঁদিতেছিল। ললিত নীরবে ছলছল নয়নে চুপ করিয়াছিল। ললিতের মাতার কেবল চারটি পয়সা ও একটি সিকি ছিল। ললিত গিয়া যেই চার পয়সার মটর ডাল ও কদলী কিনিয়া আনিল। মটর ডাল ভিজাইয়া মাতা পুত্ৰ-কন্যাকে ভাগ করিয়া দিলেন, নিজের জন্য কিছুই রাখিলেন না। ললিত বলিল,— “না, মা! তুমি যদি না খাও, তাহা হইলে আমি খাইব না।” পুত্রের অনুরোধে কাজেই তাঁহাকে খাইতে হইল। বাকি আচলে বাধিয়া রাখিলেন। লইয়া সে রাত্রি মাতা সেই গঙ্গার ঘাটেই রহিলেন। (> తో পঞ্চম পরিচ্ছেদ একবার ওঠ বাবা! পরদিন প্ৰাতঃকালে উঠিয়া পুনরায় তিন জনে আস্তে আস্তে খিদিরপুরে গমন করিলেন। সে স্থানে গিয়া তিনি জানিতে পারিলেন যে, ললিতের কাকা আসেন নাই, তাহার নিকট হইতে কোন চিঠিও আসে নাই। নিরাশ হইয়া পুনরায় কলিকাতা অভিমুখে যাত্ৰা করিলেন। পথে লাবণ্য ক্ষুধা ক্ষুধা করিয়া বড়ই কাঁদিতে লাগিল। ললিত অতিশয় শ্ৰান্ত হইয়া পড়িল। গড়ের মাঠে সেই নিভৃত পুষ্করিণীর ধারে পুনরায় তিন জনে গিয়া বসিলেন। পূৰ্ব্বদিনের মটর ডালের কিয়দংশ মায়ের আঁচলে বাধা ছিল। শিশু দুইটিকে তাহাই খাইতে দিলেন। তাহার পর পুনরায় সেই ঘাটে আসিয়া বসিলেন। লাবণ্য পুনরায় ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদিতে লাগিল। মাতার নিকট তখনও একটি সিকি ছিল। সিকিটি ভাঙ্গাইয়া চারি পয়সার কদলী আনিবার নিমিত্ত ললিতকে তিনি দোকানে পাঠাইলেন। ললিত দোকানে যাইতেছে, এমন সময় দৈবক্রমে তাহার হােত হইতে সিকিটি পড়িয়া গেল। সিকিটি গড়াইয়া একখানি ইটের ধারে গিয়া লাগিল। নিমিষের মধ্যে ইতর লোকের একটি VG মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 6 বালক সিকিট কুড়াইয়া লইল। ললিত তাহার হাত হইতে কাড়িয়া লইতে চেষ্টা করিল, বালক সিকিটি আপনার মুখের ভিতর পুরিল । ললিত তাহার গলা টিপিয়া ধরিল, বালক সিকিটি গিলিয়া ফেলিল । কাঁদিতে কাঁদিতে ললিত মাতার নিকট আসিয়া সকল কথা বলিল। শেষ সম্বল যাহা ছিল, তাহা গেল। মাতা ভাবিলেন,- “আর উপায় নাই। দেবীর আসিবেন না। ভগবান আর আমাদের প্রতি মুখ তুলিয়া চাহিবেন না। এখন আমি শিশু দুইটিকে লইয়া করি কি? যাই কোথা?” ক্ষুধার জ্বালায় লাবণ্য অতিশয় কাঁদিতে লাগিল। সন্ধ্যা হইয়া গেল। মাতা, শিশু দুইটিকে লইয়া পুনরায় খিদিরপুর অভিমুখে চলিলেন। আর চলিতে পারেন না। গড়ের মাঠের সেই পুষ্করিণীর ধারে পুনরায় গিয়া বসিলেন। দুঃখের আর কুল-কিনারা নাই, অকুল পাথর। ভাবিতে লাগিলেন, — “হায় হায়! আমি কি করি, আমি কোথায় যাই!” পুষ্করিণীর ধারে বসিয়া কাদিয়া কাদিয়া মাতা একেবারে পাগলিনী হইয়া পড়িলেন। সেই উন্মত্ত অবস্থায় সহসা তিনি বাম হন্তে লাবণ্য ও দক্ষিণ হস্তে ললিতকে ধরিয়া পুষ্করিণীতে বীপ দিলেন। “ঝপ” করিয়া একটি শব্দ হইল, জলে অল্প তরঙ্গ উঠিল, তাহার পর সেই গভীর জল পুনরায় পূৰ্ব্বরূপ স্থির প্রশান্ত আকার ধারণ করিল। যাইতেছিল। গাড়ীর ভিতর একটি বাবু বসিয়াছিলেন। “প্লাড়োয়ান শীঘ্য চল, তোমাকে বিকশিস দিব”, এই কথা বাবু বার বার বলিতেছিলেন। যে, একটি পুষ্করিণীর ধারে অনেকগুলি লোক একত্র দিয়া যাইবার সময় বাবু দেখিলেন হইয়াছে। কি হইয়াছে তাহা দেখিবার রলেন। গিয়া দেখিলেন যে, জল হইতে কটি সাত-আট বৎসরের বালক ও একটি পাচিছয় বৎসরের বালিকার মৃতদেহ উৎ লিয়াছে। মৃতদেহ বটে, কিন্তু তিনটির রূপে পুষ্করিণীর পাড় আলো করিয়াছিল। যে দে ছল, সেই হায় হায় করিতেছিল। অজ্ঞান পাগলের ন্যায় হইয়া বাবু গিয়া সেই মৃতদেহের উপর পড়লেন। “ললিতা লাবণ্য! একবার উঠ । একটা কথা কও! আমি তোমাদের কাকা আসিয়াছি। আর তোমাদের ভাবনা নাই, আমি তোমাদের জন্য টাকা আনিয়াছি। উঠ বাবা! উঠ মা! একটা কথা কও।” ললিত, লাবণ্য ও তাঁহাদের মাতা আর উঠিলেন না, আর কথা কহিলেন না। - Zdzeiljoefeipzigszij7 Vy uskla »ižo 33 m vamarboi.comio ংগ্ৰহ মূল্যবান তামাক ও জ্ঞানবান সর্প প্ৰথম অধ্যায় সূচনা ফরসূডাঙ্গায় পূৰ্ব্বে অনেক গুলির আডড ছিল। তাহার সঙ্গে দুই-একটি গাঁজার আডডাও ছিল। তাহাদিগের মধ্যে জয়গোবিন্দ ভড়ের আডাটি সৰ্ব্বপ্রধান ছিল। সেই আডিডায় মাণিকবাবু, নবীনবাবু, হরেনবাবু, গণেশীবাবু, প্রভৃতি অনেকবাবু সভ্য ছিলেন। ভড় মহাশয় ইহার আডিডাধারী ছিলেন। একদিন তিন ছিলিম মূল্যবান বড় তামাক সেবনের পর হরেনবাবু যুদ্ধের কথা আরম্ভ করিলেন। মাণিকবাবু জ্ঞানগম্ভীরস্বরে তাহার আলোচনা করিলেন। গণেশীবাবু তাহার উপর টীকা করিলেন। নবীনবাবু কিছু বলিবার জন্য হী করি , এমন সময় আডডাধারী মহাশয় তাহাকে নিষেধ করিলেন । (C) আডডাধী বললেন,— “হরেন! তােমাদের মুখ কি আর অন্য কথা নাই? যুদ্ধের কথা শুনিয়া শুনিয়া কান ঝালাপালা ধরিয়া গেল। য়ুর্দিষ্টঅ গল্প থাকে ভো বল, যে শুনি।” আডিডাধারীর বিরক্তিভাব দেখিয়া হয়ে অপ্ৰতিভ হইলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, — “কিসের গল্প করিব?” আডিডাধারী ভাবিতে লাগিলেন। সেই অবসরে নবীনবাবু বলিলেন,- “শাস্ত্ৰ-প্ৰসঙ্গ, ভূতপ্রসঙ্গ, ব্যাঘ্র-প্রসঙ্গ এ সভায় অনেক হইয়া গিয়াছে। তাহাতে নূতনত্ব আর কিছু নাই। আদ্যকার সংবাদ-পত্রে দেখিলাম যে, আফ্রিকা মহাদেশে একপ্রকার সর্প আছে। তাহদের শরীর কনিষ্ঠ অঙ্গুলির মত স্থূল। তথাপি তাহারা আস্ত হংসডিম্ব গলাধঃকরণ করিতে পারে। সামান্য বঁাশের ন্যায় স্থূল অজগর সর্প ও মহিষ প্রভৃতি পশুকে গ্ৰাস করে। আজ সাহের গল্প হউক না কেন?” আডিডাধারী বলিলেন,- “ঠিক বলিয়াছ, নবীন। আমি একখানি নভেল লিখিব মনে করিয়াছি। ভূতের গল্প সংগ্ৰহ করিয়াছি; বাঘের গল্প সংগ্ৰহ করিয়াছি! এখন সাপের গল্প পাইলেই আমার পুস্তকখানি পূর্ণ হয়। কেহ যদি ভাল ভাল, অথচ সম্পূর্ণ সত্য, সাপের গল্প জান তো বল দেখি, শুনি, ভাই!” সকলে চুপ করিয়া রহিলেন। সকলকে চুপ করিয়া থাকিতে দেখিয়া মাণিক বলিলেন,- “তোমরা সকলেই দেখিতেছি, সর্পবিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। সঙ্গে করিয়া আজ আমি এই যে বাবুটিকে আনিয়াছি, ইহার নাম তিনু, সম্প্রতি ইনি দেশ হইতে আসিয়াছেন। ইহাদের দেশে অনেক প্রকার সাপ আছে। ইনি বোধ হয় সাপের গল্প করিতে পারেন।” ଧ୍ରୁs-aff] C) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro এই কথা শুনিয়া তিনুবাবুকে সম্বোধন করিয়া আডিডাধারী বলিলেন,- “মহাশয়! আপনার সহিত আমার আলাপ-পরিচয় নাই। কিন্তু আপনি যখন মাণিকের বন্ধু, তখন আমারও বন্ধু। অনুগ্ৰহ করিয়া যদি দুই-একটি সাপের গল্প করেন, তাহা হইলে, বড়ই বাধিত হই। যে পুস্তকখানি ছাপাইতে আমি মানস করিতেছি, তাহাতে আপনার নাম দিয়া গল্পগুলি ছাপাইব । আপনার দেশ কোথায়?” তিনুবাবু উত্তর করিলেন,- “অতি নিকটে । একদিন রেলে যাইতে হয়; তাহার পর, দুই দিন জাহাজে যাইতে হয়; তাহার পর, তিন দিন হাঁটিয়া যাইতে হয়। আমাদের দেশে রঙবেরঙের সাপ আছে। সেই সব সাপের গল্প আমি করিতে পারি।” আডিডাধারী জিজ্ঞাসা করিলেন,- “নৃতন গল্প, না পুরাতন?” তিনুবাবু উত্তর করিলেন,- “আনকোরা টনটিনে টাটুকা গল্প।” আড়াধারী জিজ্ঞাসা করিলেন,- “সত্য গল্প? না মিথ্যা কল্পিত বানানো গল্প?” তিনুবাবু উত্তর করিলেন,- “সম্পূর্ণ সত্য গল্প। তামা-তুলসী, গঙ্গাজল হাতে লইয়া বলিতে পারি। যাহা আমার নিজের বাড়ীতে ঘটিয়াছে, যাহা নিজে আমি স্বচক্ষে দেখিয়াছি, সেইরূপ গল্প আমি করিব। এই যে সৰ্প, ইহারা নাগ জাতি। মানুষ অপেক্ষা ইহাদের বুদ্ধি শতগুণ অধিক। ইহাদের বুদ্ধি বিষয়ে আজ আমি দুই-তিনটি দৃষ্টান্ত দিব। তবে বলিতে ভয় হয়। একে তো পাষণ্ডগণ। আমাকে গ্যাজাখোর বলে। তাহার উপর গল্পগুলি কিছু অদ্ভুত। পাছে আপনারা বিশ্বাস না করেন, সেই ভয় ।” আড়াধারী, নবীন, মাণিক প্রভৃতি সকলে একবার্তা তিনু বলিতেছেন— “আমার বাড়ীর নিকট এক পুষ্করিণী আছে। তিন বৎসর বয়স্কা আমার একটি কন্যা আছে। একদিন প্ৰাতঃকালে বালিকাটি পুষ্করিণীতে পড়িয়া গিয়া হাবুডুবু খাইতেছিল। কেহই দেখিতে পায় নাই, আর একটু হইলেই জলমগ্ন হইয়া সে মরিয়া যাইত। এমন সময় কোথা হইতে একটি কৃষ্ণসৰ্প আসিয়া উপস্থিত হইল। বালিকার বিপদ দেখিয়া সাপটি তৎক্ষণাৎ জলে বাপ দিল ও তাহাকে ধরিয়া অবিলম্বে কিনারায় আনিয়া ফেলিল । সাপটি বালিকার প্রাণরক্ষা করিল; কিন্তু যেরূপ বুদ্ধিসহকারে সে এ কাৰ্যসাধন করিল, তাহাই আশ্চর্য্যের বিষয় ।” আডিডাধারী জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কিরূপ বুদ্ধি?” (°)Aኃbr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ wwamarboiconoo তিনুবাবু উত্তর করিলেন, — “সাপটি প্রায় দশ হাত লম্বা হইবে। পুষ্করিণীর মাঝখানে যে স্থানে মেয়ে আমার হাবুডুবু খাইতেছিল, সাপটি তাড়াতাড়ি প্রথম সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইল। তাহার পর আপনার শরীরের মধ্যভাগ দিয়া বালিকার গলায় সে দৃঢ় রূপে একটি পাক দিল। সেই পাকে গলা বন্ধ হইয়া বালিকা আর জল গিলিতে পারিল না। সাপটি তখন তাহার মস্তক ও লাঙ্গুল দ্বারা সীতার দিতে লাগিল। এইরূপে সন্তরণ করিয়া সে বালিকাকে ক্ৰমে সে কিনারায় আনিয়া ফেলিল। এমনি দৃঢ়রপে সাপ তাহার গলায় পাক দিয়াছিল যে, একফোঁটা জলও বালিকার উদারস্থ হইতে পায় নাই। অতি সুবুদ্ধি সাপ। কেমন, গল্পটি ভাল নহে?” আডিডাধারী উত্তর করিলেন,- “অতি চমৎকার গল্প। তাহার পর?” তিনু বলিলেন, — “মেয়েকে কিনারায় রাখিয়া সাপটি আস্তে আস্তে তাহার গলার পাক খুলিয়া দিল। তখন মেয়ে নিশ্বাস ফেলিতে পারিল। নিশ্বাস ফেলিয়া মেয়ে ভূমি হইতে উঠিল। তখন সাপটি কুলোপােনা চক্ৰ ধরিয়া তাহার সম্মুখে দাড়াইল। আমার মেয়ে সেই ফণার উপর স্নেহের সহিত ধীরে ধীরে চাপড়াইয়া তাহাকে অনেক আদর করিল। আহাদে আটখানা হইয়া সাপটি হাসিতে লাগিল। এইরূপে আমোদ-আহাদ করিয়া সে দিন বনে চলিয়া গেল। তাহার পরদিন সকালবেলা দেখি যে, সেই সাপটি আবার আমার বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত। আমার মেয়ে তখন ধামি করিয়া মুড়ি খাইতেছিল। সুড়-সুড়-সুড় করিয়া সাপটি তাহার নিকট গিয়া বসিল। চিনিতে পারিয়া ধামি হইতে আমার মেয়ে তাহাকে দুই গাল মুড়ি দিল। কুড়-কুড় কুড়কুড় করিয়া সাপ বসিয়া বসিয়া সেই মুড়িগুলি খাইল । লি খাইয়া সে পুনরায় বনে চলিয়া গেল । এইরূপে প্রতিদিন সকালবেলা আমার মেয়ের সে মুড়ি খাইতে আসে। বিশ্বাস না আডিডাধারী বলিলেন- “না না! আ বাড়ী অতি নিকটে বটে; কিন্তু সে স্থানে আমাদের যাইতে হইবে না। আপনার । আর আছে?” তৃতীয় অধ্যায় শিশু ও বেঁড়ে তিনু বলিলেন, — “আছে বৈকি। আর একটি বলি শুনুন। আট মাসের আমার এক শিশু ছেলে আছে। গৃহিণী কাজকৰ্ম্মে ব্যস্ত থাকেন; ছেলেটিকে বাড়ীর উঠানে ছাড়িয়া দেন। বাড়ীর প্রাঙ্গণে। সে হামাগুড়ি দিয়া বেড়ায়, আর মাঝে মাঝে র্যাড়ের মত চীৎকার করে। তাহার কান্নার শব্দ শুনিলে গর্ভিণীর গর্ভপাত হয়। কিন্তু এখন আর সে কাদে না । দু-একদিন চুপ করিয়া থাকিবার পর, আমরা একদিন ভাবিলাম যে, ছেলে পূর্বের মত আর কাদে না কেন? মন-মানুসারে একদিন আমরা আড়ি পাতিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, ছেলে যেই কান্নার সুর তুলিল, আর নিকটে এক গৰ্ত্তের ভিতর হইতে একটি সাপ উকি মারিয়া দেখিল। তাহার পর সাপটি ক্রমে ক্ৰমে সেই গৰ্ত্তের ভিতর হইতে বাহির হইল। চন্দ্রবোড়া কাহাকে বলে তা জানেন তো? এ সেই চন্দ্রবোড়া সাপ। কিন্তু এ সাপটির একটু বাহার আছে। সাপটির লেজ কিরূপে খাসিয়া ଝୁଏମ-୩ କୀ లి sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro গিয়াছে। সেজন্য এটি বেড়ে বোড়া সাপ। গৰ্ত্তের ভিতর হইতে বাহির হইয়া ক্রমে শিশুর নিকটে আসিয়া সাপটি বসিল। তাহার পর শিশুর মুখপানে চাহিয়া চক্ষু টিপিয়া কি ইশারা করিল। অবশেষে সাপ পিছন ফিরিয়া, আপনার সেই বেড়ে লেজটি শিশুর হাতে পুরিয়া দিল। আডিডাধারী বলিলেন– “বটো! তাহার পর?” তিনু উত্তর করিলেন- “বেঁড়ে লেজটি হাতে পাইয়া মায়ের স্তন মনে করিয়া, শিশু সন্তোষের সহিত তাহা চুষিতে লাগিল। আমরা ভাবিলাম— ওঃ, এই জন্যে ছেলে আর কাদে না বটে। এইরূপ প্ৰতিদিন আসিয়া সাপ আপনার বেড়ে লেজটি শিশুর হাতে প্ৰদান করে। শিশু তাহা চুষিয়া চুপ করিয়া থাকে, কখন বা লেজটি মুখে করিয়া নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়ে। এইরূপে কিছুদিন যায়, এমন সময় একদিন দেখি না যে,- ছেলে পুনরায় কাঁদিতে আরম্ভ করিল। সাপের দেখা নাই। আমরা ভাবিলাম যে, বড়ই বিপদ হইল, সাপ আসিল না, এখন ছেলে ভুলাই কি করিয়া? ঘোর চিন্তায় আমরা নিমগ্ন আছি, এমন সময় কোথা হইতে আর একটি কিছু বড় বেঁড়ে বোড়া সাপ হুড়তে-পুড়তে ছেলের নিকট আসিয়া উপস্থিত হইল। সেও সেইরূপ চক্ষু টিপিয়া ছেলেকে প্রথমে ইশারা করিল, তাহার পর আপনার বেঁড়ে লেজটি তাহার হাতে গুজিয়া দিল। লেজটি মুখে দিয়া ছেলে চুপ করিল। এই নূতন সাপটি এইরূপে সাতদিন ছেলের নিকট আনাগোনা করিল। তাহার পর সেই পুরাতন সাপটি পুনরায় আসিয়া উপস্থিত হইল। আমরা দেখিলাম, পুরাতন সাপটি কিছু রোগ হইয়া গিয়াছে। তাহা দেখিয়া ভাবিলাম, ওঃ, আর কিছু নয়, পুরাতন সাপটির জ্বর হইয়াছিল, তাই নূতন সৃপ্তিকে এই কয়দিনের নিমিত্ত আপনার একটনী করিতে সে পাঠাইয়া দিয়াছিল। চট করিয়ু মত আর একটি বেড়ে সাপ সে খুঁজিয়া পায় নাই। পাঠাইতে তাই একটু বিলম্ব হইয়াছিল। কেমন মহাশয়, এ গল্পটি কেমন?” আডিডাধারী বলিলেন- “অতি চমৎকার!% তিনু বলিলেন— “ছেলেটির নাম আত্মমরী সুরেন্দ্র রাখিয়াছি। তাহার নামটি ছাপাইবেন। তাহা হইলে তাহার গর্ভধারিণীর আনন্দ হইবে। আর শিশুদের সরল হৃদয়,- কালসর্পকেও তাঁহাদের বিশ্বাস; এইরূপ নানাপ্রকার অলঙ্কার দিবেন। আর ‘সাপিনী তাপিনীতাপে বিবরে লুকায়”— এইরূপ ছাড়াও তাহার ভিতর দুই-একটি দিবেন।” আড়াধারী বলিলেন,- ছড়ায় আবশ্যক নাই, গল্পটি অতি চমৎকার। তাহাই যথেষ্ট। আর আছে?” চতুর্থ অধ্যায় গরুর দড়ি তিনু উত্তর করিলেন— “আছে বই কি! আর একটি গল্প বলি, তবে শুনুন। দাঁড়াশ সাপ করে বলে তা জানেন? আমাদের বাড়ীর কাছে প্ৰকাণ্ড এক দাঁড়াশ সাপ ছিল। বিশ হাতের কম নয়। জাহাজি দড়া বলিলেও চলে। প্রতিদিন রাত্ৰিতে গোয়ালে আমার গরু বাঁধা থাকে; তাহার একটু দূরে বাছুরটি বাঁধা থাকে। একদিন রাত্রিতে কি করিয়া গরুর দড়িটি ছিড়িয়া গিয়াছিল। আর 9 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি"********* একটু হইলেই সমস্ত দুধ টুকু বাছুরে খাইয়া ফেলিত। ভাগ্যে, সেই সময় নিকটে সেই পাড়ার দাঁড়াশ সাপটি ছিল। দাঁড়াশ সাপ যেই দেখিল যে, গরুর দড়ি ছিড়িয়া গিয়াছে, গরু ছুটিয়া বাছুরের নিকটে যাইতেছে, আর দুধ খাইবার জন্য বাছুর লাফালাফি করিতেছে, তখন সাপটি আপনার মাথার দিক দিয়া গরুর গলায় একটি বেড় দিল, আর লেজটি খোটায় জড়াইয়া গরুকে আটক করিয়া রাখিল। এইরূপে সমস্ত রাত্রি কাটিয়া গেল। গরু কত টানাটানি করিল, কিন্তু সাপ কিছুতেই তাহাকে ছাড়িয়া দিল না। প্ৰাতঃকালে উঠিয়া আমরা গরু ও সাপকে এই অবস্থায় দেখিলাম। সাপের সঙ্গে ঘরকন্না করিয়া আমাদের ভরসা হইয়াছিল। সেজন্য গোয়ালের ভিতর গরুর গলায় সাপ দেখিয়া আমাদের কিছুমাত্র ভয় হইল না। ছেড়া দড়িতে গিরা দিয়া আমরা গরুকে বন্ধন করিলাম। সাপ তখন ছাড়িয়া বনে চলিয়া গেল। গাভী দোহন হইলে, আমি মনে করিতেছি যে, এইবার যাই, গরুর জন্য একগাছি নূতন দড়ি কিনিয়া আনি। এমন সময়ে দেখি না যে, সেই সাপটি পুনরায় আসিয়া উপস্থিত হইল। এবার সে একেলা আসে নাই, আপনার স্ত্রী, দাঁড়াশনীকেও সঙ্গে আনিয়াছিল। আমার মনের ভাব বুঝিয়া দুই জনেই ঘাড় নাড়িতে লাগিল। সাপে কথা কহিতে পারে না, তাই ঘাড় নাড়িয়া বলিল, দড়ি কিনিবার জন্য তোমাকে আর পয়সা খরচ করিতে হইবে না। এখন হইতে আমরা দুই জনে দড়ির কাজ করিব।” এই বলিয়া একটি সাপ পূৰ্ব্ববৎ মস্তকের দিক দিয়া গরুর গলায় ও লেজের দিক দিয়া খোটাতে ফের দিয়া রহিল। তখন আমি ছেড়া দড়িগাছটি গরুর গল হইতে খুলিয়া লইলাম। পালা করিয়া পাখীতে যেরূপ ডিমে তা দেয়, সেইরূপ দাঁড়াশ ও দ এখন পালা করিয়া আমার গরু বাধিয়া রাখে। আমাকে আর দড়ি কিনিতে হয় না! সাপ দুইটিকে খাইবার নিমিত্ত একটু একটু দুগ্ধ প্ৰদান করিতে হয়। হয় না হয়, টুী গিয়া দেখিয়া আসুন।” আডিডাধারী বলিলেন, — “না না, বাড়ী আমাকে যাইতে হইবে না। আপনি কি আর মিথ্যা বলিতেছেন। আর আছে? পঞ্চম অধ্যায় চুল বাধা ফিতা তিনু উত্তর করিলেন,- “আজ আর অধিক বলিব না। আর একটি বলি, শ্রবণ করুন। আমার বড় মেয়েটি যখন দশ বৎসরের, তখন একদিন তাহাকে সঙ্গে লইয়া আমি রথ দেখিতে যাইতেছিলাম। মেয়েটির চুল বড় দীর্ঘ ছিল না, কেবল কঁধের উপর পািড়ত। গৃহিণী তাহার সাজগোজ করিয়া চুলগুলি একটি সবুজ ফিতা দিয়া বঁধিয়া দিয়াছেন। যাইতে যাইতে একটি বাতাসে কোথায় উড়িয়া গেল। আর খুঁজিয়া পাইলাম না। মেয়ের চুল এলোথোলো হইয়া পড়িল। দুই হাত মাথায় দিয়া মেয়ে আমার কাঁদিতে লাগিল। এই স্থানে একটি অ্যাব-ডাল বুলিয়াছিল। লাউ-ডগা সাপ জানেন? সেই সুন্দর উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের সরু সাপ? যাহারা মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ERS গাছের পাতার সঙ্গে মিশিয়া থাকে? সেই স্থানে সেই আীব-ডালে পাতার ভিতর লাউ-ডগা সাপের একটি ছানা ছিল! মেয়ের কান্না শুনিয়া সাপের ছানাটি ডাল হইতে তাড়াক করিয়া মেয়ের কাধের উপর পড়িল। তাহার পর মস্তকের উপর উঠিয়া প্রথম মুখ ও লেজ দিয়া চুলগুলি পরিষ্কার ও সমান করিল। অবশেষে চারিদিকে ফের দিয়া চুলগুলি বাঁধিতে চেষ্টা করিল। কিন্তু হায়! ছানা সাপ! বেড় দিতে কুলান হইল না। সে নিমিত্ত বিরাসবদনে সে পুনরায় গাছের ডালে গিয়া উঠিল। ডালে উঠিয়া ঘাড় নাড়িল । ঘাড় নাড়িয়া যেন সে বলিল,— “আমি ছানা-সাপ, আমি ছোট, সেজন্য আমার দ্বারা এ কাজ হইল না,ইহাতে আমার দোষ নাই।” আডিডাধারী বলিলেন,- “তাহার পর?” তিনু বলিলেন,- “তখন আমরা আর কি করি! মেয়ের চুল বাধা হইল না। সেই আলুথালু চুলে মেয়েকে সঙ্গে লইয়া চলিলাম। প্রায় দুই শত হাত আগে গিয়াছি, তখনও সে আব-বাগান পার হই নাই, এমন সময়ে দেখি না, আর একটি আবগাছের ডাল হইতে একটি বড় লাউ-ডগা সাপ সহসা লাফ দিয়া টপ করিয়া মেয়ের মাথার উপর পড়িল । গাছপানে চাহিয়া দেখি যে, সে ছানা সাপটিও ডালে বসিয়া আছে। দুইটি সাপে অতি দ্রুতবেগে দৌড়িয়া আসিয়া থাকিবে। কারণ, দুই জনেরই ঘন ঘন শ্বাস-প্ৰশ্বাস বহিতেছিল, দুই জনেই গলদঘৰ্ম্ম হইয়া গিয়াছিল। তখন আমি বুঝিতে পারিলাম যে, ছানা সাপটি নিজে চুল বঁাধিতে না পারিয়া তাহার মাকে তাড়াতাড়ি ডাকিয়া আনিয়াছে। ডালে ছানা ও আমার মেয়ের মাথায় তাহার মা। দুই জনে চক্ষুঠারে প্রথম যেন কি বলাবলি করিল। তাহার পর বড় ২াপটি মেয়ের চুলগুলির গোড়ায়, যে স্থানে ফিতা ছিল, সেই স্থানে আপনার শরীরটি জড় অবশেষে মাথার ঠিক মাঝখানে, যে স্থানে ফিতার ফাঁস থাকে, সেই স্থানে আ রাখিল । তাহার পর মুখের ভিতর আপনার লেজ প্রবিষ্ট করিয়া সাপটি নিদ্রা থেষ্ট্ৰী' তাহার মুখ ও লেজ সংলগ্ন হইয়া চমৎকার ফুল-কাটা ফাঁসের মত হইল ও সাপটি সুন্দর রেশমী সবুজ ফিতার ন্যায় দেখাইতে লাগিল। রথ দেখা হইলে, বাটী করিয়া সাপটিকে আমরা উঠানে লাউমাচায় ছাড়িয়া দিলাম। প্রতিদিন বৈকালবেলা মেয়ের চুল বঁধিবার সময়, সে আসিয়া উপস্থিত হয়, তাহাকে ডাকিতে হয় না। আমার গৃহিণী সাপটিকে লইয়া মেয়ের চুল বঁধিয়া দেন। হয় না হয়, চলুন, এখনি আমার দেশে চলুন, স্বচক্ষে সাপটিকে দেখিয়া আসিবেন।” আডিডাধারী বলিলেন,- “আর আছে?” ষষ্ঠ অধ্যায়। পাকা মুহুরী তিনু উত্তর করিলেন,- “আরও? আমার গৃহিণী অনেক জানেন। তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া আপনাকে আরও অনেক সাপের কথা বলিব । আপাততঃ কেবল আর একটি বলিয়া শেষ করি । আমার আট বৎসরের একটি বালক আছে। স্কুলে সে পড়িতে যায়। বাড়ী আসিয়া যোগ করিবার নিমিত্ত মাষ্টার তাহাকে এক তেরিজ দিয়াছিলেন। শ্লেটে লিখিয়া অঙ্কটি ছেলে ঘরে ԾԳՀ দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্য"ফি"র্থ রচনাসভাই আনিয়াছিল। বালক অনেক চেষ্টা করিল; কিন্তু অঙ্কটি বড় ছিল, কিছুতেই সে ঠিক দিতে পারিল না। হতাশ হইয়া বিরাসবদনে শ্লেটের পানে চাহিয়া ভাবিতেছে, এমন সময় তাহার কাধের উপর বসিয়া একটি সাপ মুখ বাড়াইল। তাহার পর সাপটি আরও অগ্রসর হইয়া পেন্সিল সহিত তাহার দক্ষিণ হন্তে অনেকগুলি পাক দিয়া জড়াইয়া ধরিল। এইরূপে বালকের হাত ধরিয়া শ্লেটের উপর তাহাকে লিখাইতে লাগিল। মুহুৰ্ত্তমধ্যে বিনা ভুলে যোগটি সমাপ্ত করাইল। তাহার পরদিন আমরা সকলে মিলিয়া বালককে ত্রৈরাশিক প্রভৃতি আরও নানারূপ কঠিন কঠিন অঙ্ক দিলাম। বালক যোগও ভাল করিয়া শিক্ষা করে নাই। কিন্তু সেই সৰ্পের সহায়তায় মুহুর্তের মধ্যে সমুদয় অঙ্কগুলি সে কষিয়া ফেলিল। সেই অবধি মুহুরিগিরি করিবার নিমিত্ত সাপটিকে আমরা পুষিয়া রাখিয়াছি। সংসার খরচের হিসাব, গয়লার সহিত দুধের হিসাব, ধোপার সহিত কাপড়ের হিসাব, আমাদের সামান্য একটু পৈতৃক সম্পত্তির হিসাব,—কড়ায়-গণ্ডায় সমুদয় হিসাব সেই সাপটি রাখে। জমিদারী সেরেস্তায় হিসাবের গোলমাল হইলে, সাপটিকে ভাড়া দিয়া আমরা মাঝে মাঝে বিলক্ষণ দু’পয়সা উপাৰ্জন করি। তাহাকে আমার মাহিনী দিতে হয় না, খাইতে দিতেও হয় না। সাপটি বনে চলিয়া আসে। তবে ভাল ব্যাঙ পাইলে, সমাদর করিয়া কখন কখন তাহাকে আমরা নিমন্ত্ৰণ করি ।” আডিডাধারী জিজ্ঞাসা করিলেন, — “আপনার বাড়ীতে যে মুহুরিগিরি করে, এ কোন জাতীয় সাপ? এ সাপের নাম কি?” তিনু উত্তর করিলেন,- "ইহার নাম শঙ্খচূড় হিসাবপত্র এ জাতীয় সাপ সাক্ষাৎ kove " (O) ডিনুবাবুর গল্পে সকলেই ঘোরতর বিক্ষিত ষ্টুর্ন। সকলেই তাঁহাকে ধন্য ধন্য করতে W2ʻRW2 * Gl-Nfrii sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro G সেকালের মোহর প্ৰথম অধ্যায় বালিকা কলিকাতা সহৱ । গলির পথ। সন্ধ্যার সময়। ঘোর অন্ধকার। বর্ষাকাল। টিপা-টিপ করিয়া জল পড়িতেছে। গিরিশচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায় হন-হন করিয়া যাইতেছেন। গিরিশচন্দ্র একজন নব্য যুবক। শান্ত সুশীল সভ্যভব্য নব্য যুবক। গিরিশচন্দ্রের বয়ঃক্রম প্রায় কুড়ি বৎসর হইবে। শ্যামবর্ণ মুখে দুই-চারিটা ব্ৰণের দাগ আছে। গোপ-দাড়ির রেখা দিয়াছে। গিরিশচন্দ্র মাঝারি গোচের মানুষ; দীর্ঘ ও নহেন, খৰ্ব্বও নহেন, স্কুলও নহেন, কৃশও নহেন। তাঁহাকে দেখিলে বলবান ব্যক্তি বলিয়া বোধ হয় না, বিশেষতঃ বক্ষঃস্থলের সঙ্কুচিত গঠনটি দেখিলে ভবিষ্যতের লক্ষণ ভাল বলিয়া বোধ হয় না। ༦༽ গিরিশচন্দ্রের গায়ে কামিজ আছে। কুঞ্চিত পাকানো চাদর লম্ববান রহিয়াছে। সেই অন্ধকারে ছাতি মাথায় 给f守ü একজন শুভ্ৰবস্ত্ৰ-পরিধায়ী মানুষ বিপৰ্ব ਜਜ একপার্শ্বে কতকগুলি খোয়া জমা কৰু সহসা সেই খোয়ার উপর সেই মানুষ পতিত হইল। গিরিশ তাড়াতাড়ি গিয়া তাহাকে হাত ধরিয়া তুলিলেন। কিছুদূরে অবস্থিত রাস্তার লন্ঠনের ঈষৎ আলোকে দেখিলেন যে, লোকটি এক বালিকা। বালিকার বয়স দ্বাদশ কি ত্রয়োদশ বৎসর হইবে। মুখশ্ৰী ও ভাবভঙ্গী দেখিয়া তাহাকে ভদ্রলোকের কন্যা বলিয়া বোধ হইল। গিরিশ তাহার হাত ধরিয়া তুলিলেন ও জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তোমাকে কি বড় আঘাত বালিকা অধোমুখে উত্তর করিল,— “আজ্ঞা না, আমাকে অধিক লাগে নাই।” গিরিশ পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,- “দেখিতেছি, তুমি ভদ্রলোকের কন্যা। এ অন্ধকার বালিকা ছল-ছল চক্ষে মৃদুস্বরে উত্তর করিল,—“আমার পিতা সহসা অতিশয় পীড়িত হইয়াছেন। আমাদের কেহ নাই। সে নিমিত্ত আমি ডাক্তার ডাকিতে দৌড়িয়া যাইতেছি। আমার পিতা ডাক্তারখানায় কৰ্ম্ম করেন। সেই ডাক্তারখানায় যাইতেছি। সে ডাক্তারখানা। এ স্থান হইতে কিছুদূরে।” বালিকার মৃদু-মধুর স্বর গিরিশের মন হরণ করিল। এরূপ ভাব,---কখন কাহাকেও দেখিয়া কি কাহারও কথা শুনিয়া তাঁহার মনে উদয় হয় নাই। গিরিশ মনে মনে ভাবিলেন যে, এই বালিকার জন্য আমি প্ৰাণ পৰ্যন্ত বিসর্জন করিতে পারি। vՉԳ3 ?idteriidბJaffულ ჯშpიfi>i&gg sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro গিরিশ বলিলেন,- “আমি ডাক্তারী শিক্ষা করিতেছি। অল্পদিনের মধ্যেই বোধ হয় ডাক্তার হইব । চল, তোমার পিতাকে গিয়া দেখি। আমি যদি কোন প্ৰতিকার করিতে পারি, তো ভালই; তাহা না হইলে, আমাকে ঠিকানা বলিয়া দিও, আমি ডাক্তার আনিয়া দিব। এ রাত্ৰিতে, এ অন্ধকারে, এ বৃষ্টিতে তোমায় যাইতে হইবে না।” বালিকা সে কথায় সম্মত হইল। বালিকা আগে আগে যাইতে লাগিল। গিরিশ তাহার পশ্চাতে যাইতে লাগিলেন। দ্বিতীয় অধ্যায় মাধব চক্ৰবৰ্ত্ত বালিকা আগে আগে চলিল; গিরিশ তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতে লাগিলেন। কিছুদূর গিয়া তাহারা আরও একটি সঙ্কীর্ণ অন্ধকারময় অপরিষ্কার গলিতে প্ৰবেশ করিলেন। সেই গলির ভিতর একটি একতালা বাটীর সম্মুখে উপস্থিত হইয়া, বালিকা দ্বারে ঘা মারিল। ভিতর হইতে একজন বয়স্ক স্ত্রীলােক আসিয়া দ্বার খুলিয়া দিলেন}র্বািলকা তীহাকে মৃদুস্বরে বললেন,— “সে ডাক্তার হয় নাই, অন্য ডাক্তার আনিয়াছি।” 9 Μ গুৱেণ্ঠ করিলেন। বাটীর ভিতর প্রবেশ করিয়াই ন্তের্ভু*সে ঘরে কেহ নাই; সব অন্ধকার। বৈঠকখানার s র-বাটী। ভিতর-বাটীতে দুইটি ছোট একতলা , স্ত্রীলোক দুইটির অলঙ্কারশূন্য দেহ, মলিন বস্ত্ৰ, এই সমুদয় দেখিয়া গিরিশ মনে করিলেন যে, ইহারা নিতান্ত দরিদ্র। যে ঘরে মিট-মিটু করিয়া একটি প্ৰদীপ জুলিতেছিল, সকলে সেই ঘরে প্রবেশ করিলেন। ঘরের একপার্শ্বে একখানি তক্তপোষ ছিল। সেই তক্তপোষে একজন কৃষ্ণকায় পুরুষমানুষ শয়ন করিয়াছিলেন। তাঁহার শরীর কৃশ ও রুগ্ন বলিয়া বােধ হইল। বয়ঃক্রম পঞ্চাশের অধিক হইবে। গলায় যজ্ঞোপবীত, তাহাতে গিরিশ বুঝিলেন যে, ইহারা জাতিতে ব্ৰাহ্মণ। গিরিশ আরও বুঝিলেন যে, বয়স্কা স্ত্রীলোক তাঁহার গৃহিণী ও বালিকা তাঁহার কন্যা। কিন্তু তাহাকে সেই কৃষ্ণকায় ব্যক্তির কন্যা বলিয়া বোধ হয় না। চমৎকার আহা-মারি রূপ না হউক, বালিকা সুন্দরী বটে;— মাজা-মাজা রং, বড় বড় চক্ষু, বক্র ভ্ৰীযুগল, পূর্ণ গণ্ডদেশ, গোল গোল গড়ন, মেঘরাশির ন্যায় কেশ, তাহার উপর একটু মৃদু-মধুর ভাব। সেই মৃদু-মধুর ভাবে মন আকর্ষণ করে। সেই মৃদু-মধুর ভাবে মস্তক অবনত করিয়া, বালিকা যখন দুই-একটি কথা বলে, তখন সতৃষ্ণ নযনে সকলকেই তাহার মুখপানে চাহিয়া থাকিতে হয়, তাহার সেই কমলমুখনিৰ্গত পীযুষময় কথা আরও দুইএকটি শুনিতে ইচ্ছা হয়। সামান্য সেই প্ৰদীপের আলোকে বালিকার মুখশ্ৰী দেখিয়া গিরিশের মন মোহিত হইল। বালিকার বয়স বুঝি দ্বাদশ উত্তীর্ণ হইয়াছে। ব্ৰাহ্মণী আধ ঘোমটা দিয়া স্বামীর পদতলে তক্তপোষের এক কোণে বসিলেন। মাঝে মাঝে তাহার চক্ষু দিয়া ফোঁটায় ফোঁটায় জল পড়িতেছিল। মাঝে মাঝে আঁচল দিয়া তিনি সেই জল মুক্তা-মালা w°»ዓ6ድ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro মুছিতেছিলেন। বালিকা পিতার নিকট অগ্রসর হইয়া বলিল,— “বাবা! পথে বড় অন্ধকার; বৃষ্টি পড়িতেছে। একস্থানে আমি পড়িয়া গিয়াছিলাম। ইনি আমাকে ধরিয়া তুলিয়াছিলেন। ইনি ডাক্তার। সেজন্য, তোমার ডাক্তারখানা পৰ্যন্ত আর যাই নাই। ইহাকে আনিয়াছি।” ইহারা ব্ৰাহ্মণ, তাহা দেখিয়া গিরিশের মনে প্রথম কতকটা আনন্দ-সঞ্চার হইয়াছিল। তাহার পর, কন্যার এখনও বিবাহ হয় নাই, এই কথা শুনিয়া গিরিশের মন আরও প্ৰফুল্প হইল। গিরিশ মনে মনে ভাবিলেন যে, আজ রাত্রির এই ঘটনাতে বিধাতার কোনরূপ ফন্দি আছে। তা না হইলে, পথে প্রথম এই অপরিচিতা বালিকার কণ্ঠস্বর শুনিয়া আমার হৃদয়-তন্ত্রী বাজিয়া উঠিবে কেন? তাহার পর, আলোকে ইহার মুখশ্ৰী দেখিয়া আমার মন এত চঞ্চল হইবে কেন? বালিকা যেন কতদিনের পরিচিতা, এ যেন আমার, এইরূপ ভাব আমার মনে উদয় হইবে কেন? দেখা যাউক,-বিধাতা কিরূপ ভাবিতব্যের অনুষ্ঠান করিয়াছেন। গিরিশ মনে মনে এইরূপ ভাবিতেছেন, এমন সময় ব্ৰাহ্মণী পুনরায় বলিলেন,- “কেন বাবা! চুপ করিয়া রহিলে যে? তবে কি কোন বিপদের সম্ভাবনা আছে? তবে কি ইনি এ যাত্ৰা রক্ষা পাইবেন না?” গিরিশ চমকিত হইয়া তাড়াতাড়ি উত্তর করিলেন,- “না মা! কোন বিপদের সম্ভাবনা নাই। আপনি যখন আমাকে ছেলে বলিলেন, তখন আমিও আপনাকে মা বলিয়া ডাকি। কোন বিপদের সম্ভাবনা নাই। কিন্তু একটু ঔষধ সেবন করিতে হইবে। আমি ঔষধ লিখিয়া দিতেছি, সেই ঔষধ সেবন করিলে রাত্রিতে ভালরূপ নিদ্রা হইবে, আর কাল ইনি ভাল হইয়া যাইবেন। ইহাকে প্রকৃত রক্তবমন বলে না। ইহাতে কোন ভয় ব্ৰাহ্মণী বলিলেন,- “এত রাত্রিতে ঔষধ আৰ্হি চুপ করিলেন। 3) ব্ৰাহ্মণ বলিলেন, “তাহার পর ঔষ্ণু কোথা হইতে আসিবো? আমি যে ডাক্তারখানায় কাজ করি, সে ডাক্তারখানা হইতে ঔষুধ, পারিলে দাম লাগে না। কিন্তু এত রাত্ৰিতে সে স্থানে যায় কে? তখন প্ৰাণের দায়ে মেয়েকে পাঠাইয়াছিলাম। এত রাত্রিতে পুনরায় আর কন্যাকে পাঠাইতে পারি না।” গিরিশ উত্তর করিলেন,- “সেজন্য কোন ভাবনা নাই। কোন ডাক্তারখানা আমাকে বলিয়া দিন, আমি এইক্ষণে গিয়া ঔষধ আনিয়া দিতেছি।” ব্ৰাহ্মণ বলিলেন, — “গোপীমোহন রায়ের ডাক্তারখানা। তোমাদের মুহুরি মাধব চক্ৰবৰ্ত্তীর পীড়া হইয়াছে, এই কথা বলিয়া ঔষধ চাহিলেই, তাহারা তৎক্ষণাৎ দিবে।” গিরিশ একটু কাগজ লইয়া যথাপ্রয়োজন ঔষধ লিখিলেন। তাহার পর নিজেই ঔষধ আনিতে যাইলেন । গোপীমোহন রায়ের ডাক্তারখানা কিছু দূর। যথাসময়ে গিরিশ সেই বাটীতে গিয়া উপস্থিত হইলেন। বাটীতে প্ৰবেশ করিয়া গিরিশ দেখিলেন যে, বাম দিকে একটি বড় ঘর; দক্ষিণ দিকেও সেইরূপ একটি বড় ঘর। সম্মুখে প্রাঙ্গণ, প্রাঙ্গণের পরে পূজার দালান। পূজার দালানের পশ্চাতে অন্তঃপুর । সদর দরজায় গ্যাস জুলিতেছিল। বাম দিকের বড় ঘরখানিতে ডাক্তারখানা,-নােনারূপ ঔষধের বোতলে ও নানারূপ যন্ত্রে সুসজ্জিত। বাম দিকের সেই বড় ঘরের পার্শ্বে একটি ছোট ঘর। সেই ঘরে কম্পাউণ্ডার ঔষধ প্ৰস্তুত করে। দক্ষিণ দিকের বড় ঘরখানিতে ঔষধাদি কোনরূপ দ্রব্য ছিল না। ঘরের মধ্যস্থলে একটি টেবিল ছিল, তাহার W0ʻRV দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি"**”** পার্শ্বে তিনখানি চৌকি ছিল। ঘরের তিনদিকে দেয়ালের নিকট এক একখানি বেঞ্চি ছিল। সেই ঘরে বসিয়া গোপীমোহন ডাক্তার প্রাতঃকালে আগত রোগীদিগের নিমিত্ত ব্যবস্থা করেন। যেমন বাম দিকের বড় ঘরের পার্শ্বে এক ছোট ঘর, দক্ষিণ দিকেও সেইরূপ একটি ছোট ঘর। এই ছোট ঘরের দ্বার তখন বন্ধ ছিল। এ ঘরে কি আছে না আছে, গিরিশ তাহা দেখিতে পাইলেন। না। গিরিশ দেখিলেন যে, পূজার দালানে অনেকগুলি বড় বড় কাঠের বাক্স আছে। বিলাত হইতে যাহাতে ঔষধ আমদানি হয়, সেই বাক্স। বাম দিকে ডাক্তারখানায় প্রবেশ করিয়া, গিরিশ কম্পাউণ্ডারের নিকট হইতে ঔষধ প্রার্থনা করিলেন। গিরিশ বলিলেন, — “আপনাদের মুহুরি মাধব চক্ৰবৰ্ত্ত মহাশয়ের অসুখ হইয়াছে; তিনি আমাকে এই ঔষধ লইতে পাঠাইয়াছেন।” কম্পাউণ্ডার গিরিশকে দক্ষিণ দিকের ঘরে বসিতে বলিল;- “যে ঘরে টেবিল, চেয়ার ও বেঞ্চি ছিল, গিরিশ সেই ঘরে বসিলেন। তাহার পার্শ্বে যে ছোট কুঠরি ছিল, তাহা তখন তালা छांद्धां दक्ष छिल । কম্পাউণ্ডার ঔষধ প্ৰস্তুত করিয়া গিরিশকে দিল। গিরিশ প্রত্যাগমন করিয়া, ঔষধ মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয়কে প্ৰদান করিলেন; আর বলিলেন,- “প্ৰাতঃকালে আমায় কলেজে যাইতে হইবে। এগারটার সময় ছুটি পাইব । সেই সময় আসিয়া আপনি কেমন থাকেন, তাহা দেখিয়া যাইব ।” গিরিশ আপনার বাসায় প্রত্যাগমন করিলেন । সে রাত্রিতে তাহার নিদ্রা হইল না । সেই বালিকার মুখখানি কেবল তাহার মনে জাগিতে লাগিল। বালিকা অবিবাহিতা, নাম সরলা, মাধব চক্ৰবৰ্ত্তীর কন্যা। গিরিশ কুপাত্ৰ নহেন। তবে কেনই বা বিবাহ হইবে না? এইরূপ কত চিন্তা গিরিশের মনে উদয় হইতে লাগিল। তাহার পর, গিরিশ নিজের অবস্থা ভাবিয়া দেখিলেন। বালিকার পিতা-মাতা বিবাহ দিতে সম্মত হইলেও এ অবস্থায় কি করিয়া তিনি পরিবার প্রতিপালন করিবেন? গিরিশের নিবাস কৃষ্ণনগর জেলায় সামান্য একখানি গ্রামে। তাহার মাতার অনেকদিন পরলোক হইয়াছে। অভিভাবকের মধ্যে একমাত্র পিতা ছিলেন। পল্লীগ্রামে ডাক্তারি করিয়া তিনি গিরিশের খরচ যোগাইতেন। একবৎসর গত হইল, পিতার কাল হইয়াছে। গিরিশ তখন চারিদিক অন্ধকার দেখিলেন। গ্রামে গিয়া যাহা কিছু সম্পত্তি ছিল, সমুদয় বিক্রয় করিয়া তিন শত টাকা হইল। ডাক্তারি পাশের তখনও দুই বৎসর বাকি ছিল। গিরিশ মনে করিলেন, এই তিন শত টাকা সম্বল করিয়া কোনরূপে আমি ডাক্তারি পাশ দিব। কলিকাতা আসিয়া সেই তিন শত টাকা একস্থানে জমা রাখিলেন। মনে করিলেন, নিতান্ত প্রয়োজন না হইলে এ তিন শত টাকায় হাত দিব না। সন্ধ্যার সময় এক ধন্যবান ব্যক্তির দুইটি পুত্রকে পড়াইয়া যাহা পাইতেন, তাহাতেই বাসা ও কলেজের খরচ নিৰ্ব্বাহ করিতেন। গিরিশ মুক্তা-মালা waa sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ভাবিলেন,- “এ অবস্থায় আমার বিবাহ করা কিছুতেই উচিত নহে। আমার ডাক্তারি পাশ হইবার একবৎসর বাকি আছে। যদি চক্ৰবৰ্ত্ত মহাশয় অপেক্ষো করেন, আর যদি পাশ হইতে পারি, তাহা হইলে দেখা যাইবে।” এইরূপ নানা প্ৰকার চিন্তায় গিরিশ রাত্রিযাপন করিলেন । কলেজের ছুটি হইলে, পরদিন এগারটার সময় গিরিশ,- মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁকে দেখিতে যাইলেন। দেখিলেন যে, তিনি ভাল আছেন; কিন্তু অতিশয় দুৰ্ব্বল। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী বলিলেন,- “এই অবস্থায় আমাকে ডাক্তারখানায় যাইতে হইয়াছিল। আমার মনিব গোপীবাবু আমাকে ডাকিতে পাঠাইয়াছিলেন। ডাক্তারখানায় এক আশ্চৰ্য ঘটনা ঘটিয়াছে। গোপীবাবুর বাড়ীতে প্ৰবেশ করিয়াই দক্ষিণ দিকে যে বড় ঘরখানি আছে, যে ঘরে বসিয়া প্ৰাতঃকালে তিনি বাহিরের রোগীদিগের নিমিত্ত ব্যবস্থা করেন, সেই ঘরের পাশে একটি ছোট কুঠরি আছে। সেই কুঠরিতে একটি দেরাজ আছে। দেরাজে অনেকগুলি ছোট ছোট টানা আছে। সেকালের মোহর ক্রয় করা গোপীবাবুর বাই। মাঝে মাঝে এক একটি মোহর কিনিয়া কাগজ নিৰ্ম্মিত একটি সাবানের বাক্সর ভিতর ফেলিয়া তিনি দেরাজের টানার ভিতর রাখিয়া দেন। ক্রমে ক্রমে পঞ্চাশটি মোহর হইয়াছিল। একথা কিন্তু জনপ্ৰাণী কেহই জানিত না। দেরাজের টানার চাবি, সে কুঠরির চাবি, গোপীবাবু আপনার কাছে রাখিতেন, কাহারও হাতে কখনও দিতেন না। করিয়াছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি মোহরগুলি গণিয়া তন। জিনিষপত্ৰ স্থানান্তরিত হইলে আজও যথারীতি মোহরগুলি গণিয়া দেখিতে IŲ আশ্চৰ্য্য কথা এই যে, মোহর দেখিতে পাইলেন না। দেরাজের টানার ভিতর যে২ র বাক্সও নাই, সে মোহরাও নাই। চারিদিকে হুলস্থূল পড়িয়া গেল। গো যে, দুই দিন পূৰ্ব্বে তিনি মোহর গণিয়া দেখিয়াছিলেন। এই দুই দিনের ভিতর চুরি করিয়াছে। এই দুই দিনের ভিতর কে সে কুঠরির ভিতর প্রবেশ করিয়া দিল অ রর নিকট প্রবেশ করিয়াছিল, অথবা কুঠরির নিকট বড় ঘরে একাকী কে ছিল, সেই বিষয়ের অনুসন্ধান হইতেছে।” গিরিশ বলিলেন,- “আমি কাল রাত্রিতে অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত সেই বড় ঘরে একাকী বসিয়াছিলাম। পাশের কুঠরিও দেখিয়াছিলাম। তখন তাঁহাতে তালা বন্ধ ছিল।” মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী বলিলেন, — “হাঁ, তোমারও কথা উঠিয়াছিল। গোপীবাবু তোমার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। কিন্তু আশ্চৰ্য্য কথা এই যে, আজ প্ৰাতঃকালে কুঠরির তালা যেমন বন্ধ সেইরূপ বন্ধ ছিল। দেরাজের চাবিও বন্ধ ছিল। সে নিমিত্ত গোপীবাবু বলেন যে, বাহিরের চোর আসিয়া তাঁহার মোহর চুরি করে নাই; ঘরের চোরেই করিয়াছে।” দুই মাস। গত হইল। চোর ধরা পড়িল না। মোহর পুনঃপ্রাপ্তির আশা গোপীবাবু ছাড়িয়া দিলেন। গিরিশ, মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁর বাটীতে আনাগোনা করিতে লাগিলেন। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁর স্ত্রীকে তিনি মা বলিতেন। গিরিশ তাঁহাদের বাটী যাইলে সরলার মুখ প্ৰফুল্প হইত। গিরিশের কথা সরলা এক মনে এক ধ্যানে শুনিত। দুই-একদিন গিরিশ যদি তাঁহাদের বাটীতে যাইতেন, তাহা হইলে সরলা ভালরূপ কাজকৰ্ম্ম করিত না, সৰ্ব্বদাই বিরস মনে থাকিত। একদিন সরলার মাতা স্বামীকে বলিলেন,- “মেয়ে বড় হইয়াছে। তাহার জ্ঞান হইয়াছে। বিবাহের জন্য আমরা কতই না ভাবিতেছিলাম। বিধাতা। আপনি বুঝি সরলার বির আনিয়া দিলেন ।” w°»ዓbr fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboicorf** মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী বলিলেন, — “আমি চুপ রহি নাই। গিরিশের পরিচয় আমি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। সকল বিষয়ে সুপাত্ৰ বটে, কিন্তু অবস্থা ভাল নহে, তাহা ব্যতীত, গিরিশের কোন কুলে কেহ নাই। তাহার সহিত এ বিষয়ে আমার কথা হইয়াছিল। সরলাকে বিবাহ করিতে গিরিশের বিশেষরূপ আগ্রহ আছে। কিন্তু সে বলে যে, পাশ না দিয়া কিরূপে বিবাহ করি? যদি পাশ না হই, তাহা হইলে কি করিয়া পরিবার প্রতিপালন করিব? ভাল, যখন এতদিন গিয়াছে, তখন আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা যাউক । গিরিশ আমার নিকট সত্য করিয়াছে যে, পাশ হইলে সে অন্য কোন স্থানে বিবাহ করিবে না।” মাধব চক্ৰবৰ্ত্তীর মনিব, গোপীমোহন ডাক্তারের সহিতও গিরিশের আলাপ-পরিচয় হইল। গিরিশের তীক্ষ বুদ্ধি ও শান্ত স্বভাব দেখিয়া গোপীবাবু সৰ্ব্বদাই তাহার প্রশংসা করিতেন। একদিন গোপীবাবু গিরিশকে বলিলেন, — “আমি দিন দিন দুৰ্ব্বল হইয়া পড়িতেছি। হাঁপানি কাশিতে বড়ই কষ্ট পাইতেছি। প্রতিদিন যত বাড়ী হইতে ডাক আসে, সে সকল স্থানে যাইতে পারি না। তুমি যদি আমার ডাক্তারখানায় আসিয়া নিযুক্ত হও, তাহা হইলে আমার বড় উপকার হয়। প্ৰাতঃকালে আমার বাটীতে যে সমুদয় রোগী আসে, অবসর পাইলে তাহাদিগকে তোমায় দেখিতে হইবে, আর ডাক্তারখানার কাজকৰ্ম্মের ভারও লাইতে হইবে। আপাততঃ তোমার সমুদয় খরচ আমি দিব, তাহার পর তুমি পাশ হইলে তোমাকে ডাক্তারখানার একটা অংশ দিব। আর যাহাতে তোমার ভালরূপ পসার হয়, তাহাও আমি করিব।” গিরিশ এই প্ৰস্তাবে সম্মত হইলেন। যে বালক তিনি পড়াইতেন, তাহাদের করিতে লাগিলেন। যেদিন প্ৰাতঃকালে কন্তের্ভুজ যাইতে হইত না, সেদিন বাহিরের রোগীদিগকে দেখিয়া, তাহদের নিমি ধের ব্যবস্থা করিতেন। সন্ধ্যার সময় ডাক্তারখানার কাজ দেখিতেন । গিরিশের বাসা কিছুদূরে ছিল। একদিন মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী তাঁহাকে বলিলেন, — ঘরটি পড়িয়া আছে। যদি তুমি ইচ্ছা কর, তাহা হইলে সেই ঘরে আসিয়া থাকিতে পাের। আর আমাদেরও যদি একমুঠা হয়, তোমারও একমুঠা হইবে।” আনন্দ হইল। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তীর সেই ছোট বৈঠকখানায় গিরিশ বাস করিতে সম্মত হইলেন। গিরিশ বলিলেন,- “আপনার বাহিরের ঘরে আমি থাকিব, আপনার ঘরেও আমি খাইব । কিন্তু আপনার অবস্থা ভাল নহে। আপনাকে খরচ লাইতে হইবে। আমার যত ব্যয় যখন গোপীবাবু নিৰ্ব্বাহ করিতে প্রতিশ্রুত হইয়াছেন, তখন আপনি খরচ লাইবেন না কেন? খরচ না লাইলে আপনার বাটীতে থাকিব না।” অগত্যা মাধব চক্ৰবৰ্ত্তকে একথায় সম্মত হইতে হইল। গিরিশ মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁর বাটীতে বাস করিতে লাগিলেন। তাহার ঘরে আহার করিতে লাগিলেন। সরলাকে সৰ্ব্বদাই দেখিতে পাইতেন। সরলার লজ্জাশীলতা, সরলার মধুর কথা, সরলার নানা গুণ দেখিয়া তিনি নিতান্ত মুগ্ধ হইলেন। V)Að মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro a. চতুৰ্থ অধ্যায় বাক্সমোড়া চট গোপীবাবুর ডাক্তারখানায় একদিন বিলাত হইতে অনেক ঔষধ আসিয়াছিল। গিরিশ সেই বাক্সগুলি পূজার দালানে রাখাইলেন। কিন্তু মূল্যবান ঔষধের বাক্স কয়টি গোপীবাবু সেই মোহর-চুরি কুঠরিতে রাখিতে আদেশ করিলেন। গোপীবাবু বলিলেন,- “ছোট কুঠরিতে ঐ দেরাজটা মিছামিছি স্থান যোড়া করিয়া আছে। ঐ দেরাজ হইতে আমার মোহর চুরি গিয়াছে। ওটাকে দেখিলে আমার রাগ হয়। দেরাজটা বিক্রয় করিয়া ফেল। তাহার পর ঐ ঘরে ভাল ভাল ঔষধের বাক্সগুলি রাখিয়া দাও।” যাহারা কাঠকািঠরার ব্যবসা করে, সেইরূপ এক ব্যক্তিকে ডাকিয়া, মাধব চক্ৰবৰ্ত্ত দেরাজটা বিক্রয় করিয়া ফেলিলেন। কুলি ডাকিয়া সেই ব্যক্তি দেরাজ বাহিরে আনিল। গোপীবাবু দেরাজের টানার চাবিগুলি ফেলিয়া দিলেন। চাবি কয়টি হাতে করিয়া গিরিশ মনে করিলেন- “দেখি, দেরাজের ভিতর কিছু আছে কি না!” একে একে টানাগুলি খুলিয়া, তাহার ভিতর হাত প্রবিষ্ট করিয়া গিরিশ উত্তমরূপে দেখিতে লাগিলেন। এ টানা সে টানা দেখিবার পর, অবশেষে একটির ভিতর যেই তিনি হাত দিয়াছেন, আমনি তাহার হাতে কি ঠেকিয়া গেল। তিনি সেই জিনিসটি টানিয়া বাহিরে আনিলেন। দেখিলেন যে, সাবানের বাক্স খুলিয়া দেখিলেন যে, তুৰ্থস্থার ভিতর মোহর! সকলের আনন্দের আর পরিসীমা রহিল না। মোহরগুলি গোপীবাবু গণিয়া দেখিলেন যে, ঠিক তাঁহার সেই পঞ্চাশটি মােহর রহিয়াছে (ক্টেীহঁর দেখিতে ডাক্তারখানার সকলে দৌড়িয়া আসিল। সকলেই এক একবার এক একুৰ্ছিষ্টমােহর তুলিয়া হাতে করিয়া দেখিল। গিরিশও একবার একটি মােহর তুলিয়া নাড়িয়া ঘুড়িয়া দেখিলেন। গোপীবাবু এক একটি টানার ভিতর হাত দিয়া তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিয়াছিলেন। বিলাতী। দেরাজ। টানা একেবারে বাহির করিয়া ফেলিবার যো ছিল না। কিন্তু খুঁজতে তিনি বাকি করেন। নাই। তিনি একেলা নহেন, ডাক্তারখানার প্রায় সকল লোকেই টানার ভিতর হাত দিয়া দেখিয়াছিল। কাহারও হাতে তখন সাবানের বাক্স ঠেকে নাই। আজ পুনরায় ইহার ভিতর সে মোহরপূর্ণ বাক্স কোথা হইতে আসিল? যে লোক দেরাজ কিনিয়াছিল, সে অনেকক্ষণ চিন্তা করিয়া ও অনেক বার দেরাজের টানাগুলি টানিয়া ও নাড়িয়া-চাড়িয়া দেখিল । তাহার পর গোপীবাবুর নিকট হইতে সাবানের বাক্সটি লইয়া কাত অৰ্থাৎ আড় করিয়া টানার ভিতর প্রবিষ্ট করিয়া দিল । সাবানের বাক্স গিয়া দেরাজের পশ্চাৎ দিকের কাঠের গায়ে লাগিল। তখন সকলকে সে হাত দিয়া দেখিতে বলিল। সাবানের বাক্স আড়ি হইয়া কাঠের গায়ে ঠিক সমানভাবে লাগিয়াছিল। হাত দিলেই কাঠের মত বোধ হইতে লাগিল। যেদিন মোহর অন্তহিত হয়, সেদিন গোপীবাবু দেরাজ নাড়িয়াছিলেন। সেই নাড়া-চাঁড়ায় টানার ভিতর সাবানের বাক্স আড় হইয়া পড়িয়াছিল। তাহার পর, টানার ভিতর যে হাত দিয়া দেখিয়াছিল, তাহার হাতেই সাবানের বাক্সর পৃষ্ঠদেশ ঠিক কাঠের মত বােধ হইয়াছিল। সকলেই বুঝিল যে, মোহর অন্তহিত হইবার কারণ ইহা ভিন্ন আর কিছুই নহে। VàbrC fitRig sniž3. g3 ze! A www.amarboi.com%3"*"*"***"**** গোপীবাবু তাঁহার বৃদ্ধা মাতা ও স্ত্রীকে দেখাইবার নিমিত্ত মােহরপূর্ণ সাবানের বাক্সটি লইয়া সত্বর বাটীর ভিতর প্রবেশ করিলেন। যেদিন এ ঘটনা ঘটিল, সেদিন মঙ্গলবার। গিরিশ বাসায় আসিলেন। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী তখন বাটী আসেন নাই। মোহর পুনঃপ্রাপ্তির বিষয়ে গিরিশ সরলা ও সরলার মাতার নিকট গল্প করিলেন । সরলা বলিল,— “মোহর কিরূপ, আমি কখনও দেখি নাই!” গিরিশ বলিলেন, — “মোহর কখন দেখ নাই? রও! আমি তোমাকে দেখাইতেছি। আমার যেদিন জন্ম হয়, সেইদিন পিতামহ আমাকে একটি মোহর দিয়া দেখিয়াছিলেন। আমি বড় হইলে পিতা সেই মোহরটি আমার হাতে দিয়া বলিলেন, — ‘গিরিশ! ইহা আকবরী মোহর, ইহা লক্ষ্মী; যাহার কাছে থাকে, তাহার ভাল হয়। সেজন্য তোমাকে আমি ইহা দিতেছি। অতি যত্নে ইহা রাখিবে, কিছুতেই ইহা নষ্ট করিবে না।” সেই অবধি মোহরটি আমি অতি সাবধানে রাখিয়াছি।” এই কথা বলিয়া গিরিশ আপনার ঘরে গমন করিলেন। বাক্স হইতে মোহরটি আনিয়া দিল। গিরিশ তখন তাহা আপনার পকেটে রাখিলেন। মনে করিলেন যে, পরে ইহা বাক্সতে তুলিয়া রাখিব। কিছুক্ষণ পরে গোপীবাবুর দরওয়ান আসিল। হােলির সময় গিরিশের নিকট সে বকশিশ চাহিয়াছিল। আট আনা দিতে গিরিশ প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন। গিরিশ বললেন,- “তােমার আমি আট আনা পয়সা ধারি; দিই, লইয়া যাও।” @ এই বলিয়া গিরিশ পকেট হইতে একটি ক্রি ঙ্কতকগুলি পয়সা বাহির করিলেন। সেই পয়সার সহিত মােহরটিও বাহির হইয়া পূৰ্ভুঈদরওয়ান তাহা দেখিল। মােহরটি পুনরায় পকেটে রাখিয়া, গিরিশ তাহাকে একটি ও চারি আনা পয়সা গণিয়া দিলেন । দারওয়ান তাহা লইয়া চলিয়া গেল। 零 পরদিন বুধবার প্রাতঃকালে গিরিশ ডাক্তারখানায় গমন করিলেন। বিলাত হইতে যে সমুদয় বাক্স আসিয়া পূজার দালানে ছিল, গিরিশ তাহার গুটিকত বাক্স খুলাইয়া, একেল ফৰ্দের সহিত ঔষধ মিলাইতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ পরে সেই মোহরপূর্ণ সাবানের বাক্স হাতে করিয়া গোপীবাবু সেই স্থানে আসিলেন। গিরিশ যেস্থানে মাটিতে বসিয়া ফৰ্দের সহিত ঔষধ মিলাইতেছিলেন, তাহার পার্শ্বে একখানি তক্তপোষ ছিল। মোহরপূর্ণ সেই সাবানের বাক্স তক্তপোষের উপর রাখিয়া গোপীবাবু বন্ধুবান্ধবদিগকে ডাকিয়া আহাদসহকারে সেই মোহর দেখাইতে লাগিলেন। সকলকে তিনি বলিতে লাগিলেন, — “দুই বৎসর পরিশ্রম করিয়া আমি এই মোহরগুলি জমা করিয়াছিলাম। আমি মনে করিয়াছিলাম, আর ইহাদের মুখ দেখিতে পাইব না। কিন্তু কাল হঠাৎ পুনরায় বাহির হইয়া পড়িল। আর একটু হইলেই যে দেরাজ কিনিয়াছিল, সে লইয়া চলিয়া যাইত। ভাগ্যে গিরিশ টানার ভিতর হাত দিয়া দেখিল, তাই আমি পুনরায় মোহরগুলি পাইলাম। সে এই গিরিশ, যে মাটিতে বসিয়া কাজ করিতেছে। এই গিরিশ হইতেই আমি আমার মোহরগুলি পাইয়াছি।” গোপীবাবু গিরিশের প্রতি চাহিয়া একটু হাসিলেন। গিরিশও তাঁহার মুখপানে চাহিয়া একটি হাসিলেন। বন্ধুবান্ধবকে ডাকিয়া গোপীবাবু এইরূপ পরিচয় দিয়া মোহর দেখাইতে লাগিলেন। very মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro গোপীবাবুর মন তৃপ্ত হইল না। তিনি সদর দরজায় গিয়া দাড়াইলেন। রাস্তা দিয়া পরিচিত লোক যে যায়, তাহাকে মোহর দেখিবার নিমিত্ত ডাকিয়া আনেন। গিরিশ আপনার মনে কাজ করিতেছেন। কিছুক্ষণ পরে গোপীবাবুর বৃদ্ধ মাতা এক দাসী সঙ্গে করিয়া দালানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি গিরিশকে বিশেষরূপে স্নেহ করিতেন। গিরিশকে তিনি বলিলেন, — “গিরিশ! বাক্সমোড়া এই চটগুলি ফেলিয়া দিও না, অনেক কাজে লাগিবে। যারে রােখ, সেই রাখে! চটগুলি আমাকে দাও, আমি বাটীর ভিতর व्नश्शा शाड्ने ।” যে চট-দ্বারা আবৃত হইয়া বিলাত হইতে কতকগুলি বাক্স আসিয়াছিল, গোপীবাবুর মাতা সেই চটগুলি বাছিয়া ও ঝাড়িয়া-বুড়িয়া তক্তপোষের উপর রাখিতে লাগিলেন। এ কাৰ্য্যে চাকরাণীও তাঁহার সহায়তা করিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে বাটীর ভিতর একটি ছেলে চীৎকার করিয়া কীদিয়া উঠিল। গোপীবাবুর মাতা বলিলেন, — ঐ যাঃ! খোকা বুঝি পড়িয়া গেল! আহাদি! মাটিতে যে চট পড়িয়া আছে, তুই সেইগুলি লইয়া আয়!” এই বলিয়া গোপীবাবুর মাতা তক্তপোষের উপর যে চটগুলি রাখিয়াছিলেন, তাড়াতাড়ি দুই হাতে সেইগুলিকে জড় করিয়া বাটীর ভিতর লইয়া গেলেন। নীচে অর্থাৎ মাটির উপর যে চটগুলি পড়িয়াছিল, আহাদি চাকরাণী তাহা লইয়া তাঁহার সঙ্গে বাটীর ভিতর চলিয়া গেল। গিরিশ একমনে আপনার কাজ করিতে লাগিলেন । বন্ধুবান্ধবের প্রতীক্ষায় গোপীবাবু সদর দরজায় দাড়াইয়াছিলেন। আর একজন পরিচিত লোককে পাইয়া মোহর দেখাইতে আনিলেন। দালানে উপস্থিত হইয়া তক্তপোষের উপর চাহিয়া তিনি বলিলেন, — “মোহরের বাক্স কি হইল? গিরিশ! মোহরের বাক্স কই?” গিরিশ উত্তর করিলেন,- “মোহরের বাক্স আমি কি জানি!” গোপীবাবু বলিলেন,- “সে কি, তক্তপোষের উপর আমি এই স্থানে বাক্স রাখিয়াছিলাম। সে বাক্স কোথায় গেল?” গিরিশ বলিলেন,- “আহাদী ঝিকে সঙ্গে লইয়া আপনার মাতা চট লাইতে দালানে আসিয়াছিলেন। তবে বোধ হয় তিনিই বাক্স বাটীর ভিতর লইয়া গিয়াছেন।” গোপীবাবু বাটীর ভিতর দৌড়িয়া গেলেন ও মোহরের কথা মাতাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহার মাতা বলিলেন,- “সে কি! আমি কেন মোহরের বাক্স আনিব? বাক্স তক্তপোষের উপর রহিয়াছে, আমি এইমাত্ৰ দেখিয়া আসিলাম।” আহাদী ঝিও ঠিক সেই কথা বলিল । গোপীবাবু পুনরায় দালানে আসিয়া গিরিশকে বলিলেন,- “গিরিশ! মা বাক্স লইয়া যান নাই। বাক্স তক্তপোষের উপর রহিয়াছে, তিনি দেখিয়া গিয়াছেন। আহাদী বিও তাহা দেখিয়া Cassifiksest befrygg W2 ԵՀ uskla »ižo 33 m vi.amarboi.comio গিয়াছে। তুমি বোধ হয়, তামাসা করিয়া বাক্স লুকাইয়া রাখিয়াছ। আর কেন, দাও। বাক্স বাহির করিয়া দাও।” গিরিশ উত্তর করিলেন,- “সে কি মহাশয়! আপনার সহিত আমি তামাসা করিব, এ কি সম্ভব! বাক্স তক্তপোষের উপর ছিল, তাহা আমিও দেখিয়াছি। বন্ধুবান্ধবকে আনিয়া। আপনি দেখাইতেছেন, তাহাও শুনিতেছি। কিন্তু আমি আপনার মনে কাজ করিতেছি। আপনার বাক্সতে আমি হাত দিই নাই। বাক্স কে লইল, কোথায় গেল, তাহার বিন্দু বিসর্গ আমি জানি না!” গোপীবাবু ক্রুদ্ধ হইয়া বলিলেন, “বাক্সর পা নাই যে চলিয়া যাইবে, পাখা নাই যে উড়িয়া যাইবে। আমার মা কিছু আর বাক্স চুরি করেন নাই। বাক্স তক্তপোষের উপর রহিয়াছে, তিনি দেখিয়া গিয়াছেন। আহাদী বিও তাহা দেখিয়া গিয়াছে। তাহার পর এ দালানে অপর কোন ব্যক্তি আসে নাই। তুমি একেলা এই দালানে আছ। দাও, বাক্স কোথায় রাখিয়াছ, বাহির করিয়া দাও।” গিরিশও রাগত হইয়া উত্তর করিলেন, “তবে কি মহাশয় আমাকে চোর বলেন নাকি?” গোপীবাবু আরও কুপিত হইয়া বলিলেন,- “বাক্স না পাওয়া গেলে আর কি বলিব?” গিরিশ বলিলেন, — “তবে এই আপনার ঔষধ রহিল, এই কাগজ রহিল, এই দোয়াতকলম রহিল, আমি চলিলাম। এই দেখুন, আমার হাতে কিছুই নাই, কাপড়ে কিছু নাই, চাদরে কিছু নাই, জামার ভিতর কিছু নাই। আপনার মোহর আমি খাইয়া ফেলি নাই।” এই কথা বলিয়া গিরিশ চলিয়া যাইতে উদ্যত হইলেন । ক্ৰোধে কম্পিত হইয়া গোপীবাবু বলিলেন,- “তুমি যাবে কোথা? বাক্স বাহির করিয়া দিয়া তবে যেখানে ইচ্ছা! চলিয়া যাও । তা না হইলে তোমাকে আমি ডুব না। ওরে, এরে ধর তো। ঐ ছোট কুঠরিতে বন্ধ করিয়া রাখা।” পূৰ্ব্বে গােপীবাবুর ডাক্তারখানা হইতে অনুপ্ত ঔষধ চুরি যাইত। কম্পাউণ্ডার, দ্বারবান প্রভৃতি চুরির ছোট কুঠরিতে লইয়া গেল। সেই স্থানে লইয়া, কাপড় দ্বারা মুখ বন্ধ করিয়া, গিরিশকে তাহারা নিদারুণ প্রহার করিতে লাগিল। প্ৰহারের চোটে গুরুতর আঘাত লাগিয়া গিরিশের মুখ দিয়া ভলকে ভলকে রক্ত বাহির হইতে লাগিল। সে রক্ত মুখ হইতে বাহির হয় নাই; সে রক্ত কৃষ্ণবর্ণের নহে। গিরিশের শ্বাস-প্ৰশ্বাস-যন্ত্র বাল্যকাল হইতেই দুৰ্ব্বল ছিল। সে রক্ত লোহিত্যুবৰ্ণ: বক্ষঃস্থলের ভিতর হইতে বাহির হইয়াছিল। গিরিশকে যাহারা মারিতেছিল, শোণিত দেখিয়া তাহাদের ভয় হইল। হাতেমুখে জল দিয়া গিরিশকে তাহারা একটু সুস্থ করিল, রক্তের চিহ্ন ধুইয়া ফেলিল। তাহার পর গিরিশকে সেই ঘরে বন্ধ করিয়া, দালানে ও সকল স্থানে পাতি পাতি করিয়া তাহারা মোহরের বাক্স খুঁজতে লাগিল। কিন্তু সকল অনুসন্ধান বৃথা হইল, মোহরের বাক্স বাহির হইল না। যখন এই সমুদয় ব্যাপার ঘটিয়াছিল, তখন মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী ডাক্তারখানায় ছিলেন না। তিনি তাগাদায় গিয়াছিলেন । , এই গোলযোগের সময় গোপীবাবুর দরওয়ান তাঁহাকে বলিল যে,- “মহাশয়! গতকল্য গিরিশবাবুর নিকট আমি একটা মোহর দেখিয়াছি। কাল আমার সাক্ষাতে গিরিশবাবু পকেটে হাত দিয়া কতকগুলি পয়সা বাহির করিলেন। সেই পয়সার সহিত একটা মোহর দেখিয়াছিলাম।” দরওয়ান বলিল, কাল সে গিরিশের নিকট মোহর দেখিয়াছে। গোপীবাবুর মোহর চুরি গেল, আজ প্ৰাতঃকালে। সে কথা গোপীবাবুর বড় হৃদয়ঙ্গম হইল না। ক্ৰোধে ও দুঃখে তিনি vobro أعلاهثة sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro জ্ঞানহারা হইয়াছিলেন। দারওয়ান, গিরিশের নিকট মোহর দেখিয়াছে, এই কথা শুনিয়াই তাহার নিশ্চয় প্রতীতি হইল যে, মোহর গিরিশ চুরি করিয়াছে। পূৰ্ব্ব দিনে যখন দেরাজ হইতে বাহির হয়, তখন দুই-একটা মোহর হাতে করিয়া সকলেই নাড়িয়া-চাড়িয়া দেখিয়াছিল। গিরিশও তাহা হাতে করিয়াছিলেন। সে নিমিত্ত গোপীবাবু ভাবিলেন যে, গিরিশ কাল একটা মোহর কোনরূপে পকেটে ফেলিয়াছিল। তাহার পর আজ সমুদয়গুলি লইয়াছে। মোহর আবার কে কবে পয়সার সঙ্গে পকেটে রাখিয়া থাকে? ষষ্ঠ অধ্যায় হাতে হাতকড়ি মাতা অনেক নিষেধ করিলেন, কিন্তু তাহা না শুনিয়া গোপীবাবু পুলিশে নালিশ করিলেন। পুলিশের লোক আসিয়া তদন্ত আরম্ভ করিল। গোপীবাবু বলিলেন যে,- “আর একবার আমার এই মোহর চুরি গিয়াছিল। যে রাত্রিতে চুরি যায়, সে রাত্রিতে গিরিশ আসিয়া পাশের ঘরে অর্ষেরুক্ষণ বসিয়াছিল। কিন্তু তখন আমি তাহাকে কোনরূপ সন্দেহ করি নাই। তাহার পর সৌষ্ঠসীমার ডাক্তারখানায় কৰ্ম্ম করে; গতকল্য তাহা আমি বুঝিতে পারি না। সে বোধ র ভিতর প্রথম নিজেই রাখিয়া তাহার পর আপনি সেই মোহর বাহির করিয়াছিল। প্ৰাতঃকালে মোহরের বাক্স দালানে তক্তপোষের X Y a ras । এই অবসরে মোহর সে কোন স্থানে সরাইয়া রাখিয়া থাকিবে । ইহার একটি মোহর আমার দরওয়ান তাহার পকেটে দেখিয়াছে। দালানে আজ প্ৰাতঃকালে এক গিরিশ ব্যতীত অপর কেহ আসে নাই। একবার কেবল আমার মাতা, ঝিকে সঙ্গে লইয়া আসিয়াছিলেন। মাতা যখন বাটীর ভিতর ফিরিয়া যান, তখন মোহরের বাক্স তক্তপোষের উপর ছিল । বিও তাহা দেখিয়াছে।” গোপীবাবুর মাতা, আহাদী ঝি, দ্বারবান প্রভৃতি সকল লোকের সাক্ষ্য পুলিশের লোকে গ্ৰহণ করিল। গিরিশের পকেট অনুসন্ধান করিয়া তাহার একটি মোহর পাইল। গিরিশের ঘর-তল্লাস করিয়া কিন্তু আর কিছু পাইল না। যাহা হউক, অবশেষে হাতে হাতকড়ি দিয়া পুলিশের লোক গিরিশকে চালান দিল। মাধব চক্ৰবৰ্ত্ত, তাহার স্ত্রী ও সরলা শোকে অভিভূত হইলেন। চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয় গোপীবাবুর অনেক হাতে-পায়ে ধরিলেন, কিন্তু তিনি কোন কথাই শুনিলেন না । দুই দিন পরে গিরিশের মকদ্দমা আদালতে উঠিল। গিরিশ যে মোহর চুরি করিয়াছে, সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তাহার কোন প্রমাণ ছিল না। কিন্তু গোপীবাবু মকদ্দমার বিশেষরূপ তদবির করিতে লাগিলেন। যে হাকিমের নিকট গিরিশের বিচার হইতেছিল, তাহার শ্ৰীমুখ হইতে যে দুই-একটি কথা নিৰ্গত হইল, তাহাতে সকলের বোধ হইল যে, গিরিশের তিনি দণ্ড না করিয়া ছাড়িবেন। না। ফরিয়াদির পক্ষের সাক্ষীদিগের সাক্ষ্য গৃহীত হইলে, হাকিম গিরিশকে চুরির অপরাধে br8 ), 2. Oxfff <୬ ଜୀୱ sibirtନ୍ତୁ firls six g3 & 8! m www.amarboicom, গ্ৰহ অভিযুক্ত করিলেন ও তাঁহার কোনরূপ সাফাই সাক্ষী আছে কি না, তাহা জিজ্ঞাসা করিলেন। গিরিশ বলিলেন যে, তাহার কোন সাফাই সাক্ষী নই। গিরিশকে কারাবাস-প্রেরণের উদেশে হাকিম রায় লিখিতে আরম্ভ করিলেন। এমন সময় আদালতে একটা গোল পড়িল। সকলে দেখিল, একজন কৃষ্ণকায় ব্যক্তি এক বালিকার হাত ধরিয়া ভিড় ঠেলিয়া অগ্রসর হইতেছে। কন্যাটি ঠিক বালিকা নহে, যৌবন প্ৰস্ফুটিতপ্ৰায়। বালিকার মধু-মাখা লাবণ্য দেখিয়া সকলেই তাহার দিকে চাহিয়া রহিল। বলা বাহুল্য যে, সে বালিকা আর কেহ নহে— সরলা । গিরিশের বিপদে সরলা ও সরলার মাতা নিতান্ত কাতর হইয়াছিলেন। কয়দিন আহারনিদ্ৰা পরিত্যাগ করিয়া, দুই জনেই একমনে ভগবানকে ডাকিতেছিলেন। লোকপরম্পরায় সরলা শুনিল যে, গিরিশের বিরুদ্ধে বিশেষ কোন প্ৰমাণ নাই, কেবল তাহার নিকট হইতে সেই যে মোহরটি বাহির হইয়াছিল, তাহার জন্য গিরিশের কয়েদ হইবার সম্ভাবনা । পিতাকে সরলা বলিল,— “বাবা! গোপীবাবুর মোহর বুধবার দিন চুরি গিয়াছে, কিন্তু মঙ্গলবার দিন গিরিশবাবুর নিকট আমি মোহর দেখিয়াছি। তাহা হইলে গিরিশবাবু কি করিয়া মোহর চুরি করিলেন? আমি নিশ্চয় বলিতে পারি যে, গিরিশবাবুর পিতামহ এই মোহর দিয়া আঁতুড়ে তাঁহাকে দেখিয়াছিলেন। গিরিশবাবু কাহারও কোন বস্তু চুরি করিবার লোক নহেন। চুরি হইবার পূৰ্ব্ব দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দিন দ্বারবান যে গিরিশবাবুর পকেটে মোহর দেখিয়াছিল, সে কথা সকলে গোপন কুরিয়াছে। আমি গিয়া হাকিমকে একথা বলব। কােঙ্কু বিচার হইতেছে, সে স্থানে আমাকে লইয়া চল ।” (ာ် মাধব চক্ৰবৰ্ত্ত উত্তর করিলেন, — “বাপ বুেও কঁথা মুখে আনিও না। আমি নিশ্চয় জানি বটে যে, গিরিশ মােহর চুরি করে নাই। কিন্তুর্কি করিব বল, গোপীবাবুর কত হাতে-পায়ে ধরিলাম, তিনি আমার কথা শুনিলেন না। যা কপালে লিখিয়াছেন, তাহাই হইবে। তুমি এখন বালিকা নও, তোমাকে কি লইয়া যাইতে পারি? লোকের কাছে তাহা হইলে মুখ দেখাইতে পারিব না। তাহার পর গোপীবাবু আমাকে ছাড়াইয়া দিবেন। এ বৃদ্ধবয়সে সরলা ও সরলার মাতা বারবার তাঁহাকে অনুরোধ করিলেন। দুই জনে কাঁদিতে লাগিলেন। ব্ৰাহ্মণী বলিলেন যে,- “সরলা যদি একটা কথা বলিলে গিরিশ বিপদ হইতে উদ্ধার পায়, তাহা হইলে সে কাজ নিশ্চয় করিতে হইবে। ব্ৰাহ্মণের ছেলেকে অন্যায় করিয়া গোপীবাবু কয়েদ দিতেছেন। তাহাকে রক্ষা করিলে লোকে যদি আমাদের নিন্দা করে তো করুক। গোপীবাবু যদি তোমাকে ছাড়াইয়া দেন, এতই যদি তিনি নরাধম হন তো হউন, আমরা ভিক্ষা মাগিয়া খাইব ।” মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী অগত্যা সরলাকে আদালতে লইয়া যাইতে সম্মত হইলেন।

  • G.j-Հյթ]] &)br6ሱ

sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro সপ্তম অধ্যায় ফণ্ডে টাকা কন্যাকে লইয়া মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী আদালতে উপস্থিত হইলেন। হাকিম তৎক্ষণাৎ সরলার সাক্ষ্য গ্ৰহণ করিলেন। সরলাকে বড় অধিক কিছু বলিতে হইল না। গিরিশের পক্ষ হইয়া সরলার আগমন, তাহাই যথেষ্ট হইল। এরূপ সুশীলা সুরূপা ভদ্রকন্যা যাহার সপক্ষ সাক্ষী, সে যে গিরিশের নিকট তিনি মোহর দেখিয়াছিলেন, সরলাকে কেবল এই কথা বলিতে হইল। সরলার আন্তরিক ভাব হাকিম বুঝিতে পারিলেন। গিরিশকে ছাড়িয়া দিবার সময় ঈষৎ হাসিয়া তিনি সরলাকে বলিলেন, — “ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করি, যেন তোমরা দুই জনে সুখী হও!” লজ্জায় সরল ঘাড় হেঁট করিয়া রহিল। বিপদ হইতে মুক্ত হইয়া গিরিশ, মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী ও সরলা তিন জনে বাটী ফিরিয়া আসিলেন । চক্ৰবৰ্ত্ত মহাশয়ের বাটীতে সেদিন আর আনন্দের সীমা রহিল না। সরলার মাতা সন্ধ্যার সময়ে হরি-লুট দিলেন। তাহার পর দিন গোপীবাবু মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁকে কৰ্ম্ম হইতে জবাব দিলেন। বিরাসবদনে চক্ৰবৰ্ত্তাঁ বাটী প্ৰত্যাগমন করিলেন। গিরিশ বলিলেন, — “মহাশয়! এজন্য কিছুমাত্র ভয় করিবেন না। আর একমাস পরে আমি পাশ হইব, পাশ হইব। তখন আমি ডাক্তার হইব। যে কোন প্রকারে হউক, নিশ্চয় আ পালন করিতে পারিব। আপাততঃ আমার তিন শত টাকা জমা আছে, সেই তিন খরচ করিব। তবে আর ভাবনা কি? আপনার যদি অমত না থাকে, তাহা একটা ভাল দিন দেখাইয়া সরলাকে আমার হন্তে প্ৰদান করুন।” এই ঘটনার আট দিন পরেই সরলীর সহিত গিরিশের শুভ বিবাহকাৰ্য সম্পন্ন হইল। গিরিশ শ্বশুরের সংসারেই রহিলেন। একমাস পরে গিরিশ সুখ্যাতির সহিত ডাক্তারি পাশ দিলেন। তিন শত টাকার যাহা অবশিষ্ট ছিল, তাহা দিয়া নিকটে ভাল একটি বাটী ভাড়া লইয়া নিজের ডাক্তারখানা খুলিলেন। কিন্তু গোপীবাবু তাঁহার পরম শক্ৰ হইয়া উঠিলেন। গিরিশ চোর, গিরিশের চরিত্র ভাল নহে, ভদ্রলোকের বাড়ীতে ইহাকে প্রবেশ করিতে দেওয়া উচিত নহে, চারিদিকে এইরূপ কুৎসা রাটাইতে লাগিলেন। সেজন্য গিরিশের পসার ভাল হইল না, ভালরূপ অর্থে পাৰ্জন হইল না। যাহা হউক, তিনি শ্বশুর-শাশুড়ীকে পিতা-মাতার ন্যায় ভক্তিসহকারে প্রতিপালন করিতে লাগিলেন। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয় দুই-এক স্থানে কৰ্ম্মের যোগাড় করিয়াছিলেন। কিন্তু তাঁহার শরীর দুৰ্ব্বল ও রুগ্ন, সেজন্য গিরিশ তীহাকে আর চাকরি করিতে দিলেন না। চাকরি আর তিনি করিতেও পারিতেন না। কারণ, অল্পদিন পরে বাতিরোগ দ্বারা আক্রান্ত হইয়া তিনি শয্যাশায়ী হইয়া পড়িলেন। ধন না হউক, গহনা না হউক, মনের মত পতি পাইয়া, বাপমায়ের কাছে থাকিয়া, সরলা সুখে কালব্যাপন করিতে লাগিল। কিছুদিন পরে সরলার এক কন্যা হইল। মাতামহ আদর করিয়া কন্যার নাম রাখিলেন, লীলা । গোপীবাবুর ধন-ঐশ্বৰ্য অনেক ছিল বটে; কিন্তু মনে তাহার সুখ ছিল না। যত বয়স হইতে লাগিল, তাহার হাঁপানি-কাশি ততই প্ৰবল হইতে লাগিল। জীবন তাহার কষ্টময় হইল, শরীর ত্ৰৈলোক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ re af :Iist ~itë 3 q<; &&! a www.amarboi.comi“ ক্লেশের আগার হইল, প্ৰত্যেক নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস তাঁহার যন্ত্রণাদায়ক হইল। ইহার উপর তাহার দুইটি পুত্ৰই বিসূচিকা রোগ দ্বারা আক্রান্ত হইয়া একদিনেই মৃত্যুমুখে পতিত হইল। একটি বয়ঃক্রম দ্বাদশ ও অপরটির বয়স দশ বৎসর। ইহার কিছুদিন পরে গোপীবাবুর আর একটি বিপদ ঘটিল। তাঁহার একমাত্র কন্যা ছিল। সেই কন্যার একটি শিশুপুত্র ছিল। যেদিন মোহর চুরি যায়, সেদিন তাহারই কান্না শুনিয়া গোপীবাবুর মাতা তাড়াতাড়ি বাটীর ভিতর গমন করেন। কয়েক বৎসর পরে গোপীবাবুর কন্যার শ্বশুরবাড়ীতে একদিন তাঁহার পুত্ৰ পুষ্করিণীর জলে পড়িয়া যায়। তখন ঘাটে আর কেহ ছিল না। পুত্রকে বঁাচাইবার জন্য গোপীবাবুর কন্যা জলে ঝাঁপ দিলেন। কিন্তু তিনি সাতার জানিতেন না। মাতা-পুত্র দুই জনেই জলমগ্ন হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হইলেন। গোপীবাবু এইরূপে নিঃসন্তান হইলেন। সকলেই বলিল, এমন কি, তাহার নিজের মাতাও বলিলেন যে, বিনা দোষে গিরিশের প্রতি অন্যায় হইয়াছিল, তাহারই প্রতিফলস্বরূপ তাঁহার এই সমুদয় বিপদ ঘটিল। কিন্তু এ পৰ্যন্ত সে মোহরের কোন সন্ধান হয় নাই। সে নিমিত্ত এখনও তাঁহার মনে নিশ্চিন্ত বিশ্বাস ছিল যে, গিরিশই তাঁহার মোহর চুরি করিয়াছে। গিরিশের সহিত পুনরায় সদ্ভাব করিতে মাতা তাঁহাকে বারবার অনুরোধ করিলেন। কিন্তু এই বিশ্বাসের বশবৰ্ত্তী হইয়া তিনি মাতার অনুরোধ রক্ষা করিলেন না। বাল্যকাল হইতেই গিরিমের বক্ষঃস্থলে বড় ভাল ছিল না। বিশেষ কোন রোগ ছিল না বটে, কিন্তু বক্ষঃস্থলের সঙ্কুচিত গঠন দেখিয়া, তিনি নিজেই সৰ্ব্বদা ভয় পাইতেন। তাঁহার শ্বাসপ্রশ্বাসযন্ত্র ভালরূপ সবল নহে, গিরিশের মনে এই ধাকৃষ্ণু ছিল। তুহার পর গােপীবাবুর লােক দ্বারা প্ৰহারের পর তাঁহার বক্ষঃস্থলে যে বেদনা সুঞ্জ বেদনা কিছুতেই দূর হয় নাই। সেই সময় হইতে মাঝে মাঝে কাসি হইয়া তিনি বড়ই কষ্ট পাইতেন। এই সকল কারণে, অর্থে পাৰ্জ্জন করিতে আরম্ভ করিয়াই, গিরিশুল্লাইফ ইনশিয়োর অর্থাৎ ফণ্ডে টাকা জমা দিতে যে, গিরিশের মৃত্যু হইলে সে ফাণ্ড ਜਜ থাকিবেন, ততদিন মাসে মাসে দশ টাকা করিয়া পাইবেন। প্রথম স্থানে গিরিশকে ছয় মাসে অন্তর পঞ্চাশ টাকা দিতে হইত; দ্বিতীয় স্থানে তিনি প্রতি মাসে তিন টাকা করিয়া দিতেন। অষ্টম অধ্যায় সঙ্কট পীড়া এইরূপে প্ৰায় সাত বৎসর কাটিয়া গেল। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয়ের শরীর আর সুস্থ ও সবল হইল। না। গ্ৰীষ্মকালে তাঁহার বাত-বেদনার প্রকোপ যখন কিছু হাস হইত, তখন তিনি একটু উঠিয়া হাঁটিয়া বেড়াইতে পারিতেন। কিন্তু সে কেবল অল্পদিনের জন্য। বলিতে গেলে প্ৰায় বারো মাস তাহাকে বিছানায় পড়িয়া থাকিতে হইত। সরলার আর সন্তানাদি হয় নাই, কেবল সেই একমাত্র কন্যা, – লীলা। লীলা পিতার বড় আদরের সামগ্ৰী । পিতার সহিত তাহার যত মনের কথা Հsj-Հtթ1] ՖԵԳ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro হইত। বাবা, বাবা, বলিয়া লীলা অজ্ঞান! বলা বাহুল্য যে, মেয়েটিকে গিরিশ প্ৰাণের অধিক ভালবাসিতেন। গিরিশের ধন-এশ্বৰ্য ছিল না বটে; কিন্তু লীলার কথা, লীলার হাসি, লীলার ভালবাসা, তাঁহার লক্ষ টাকার অধিক ছিল। ফলকথা, গিরিশের সংসারে শান্তি ছিল, সুখ ছিল। কিন্তু, হায়! লীলার যখন বয়স পাঁচ বৎসর হইল, তখন এই সুখের সংসারে এক ঘোর দুর্ঘটনা ঘটিল। এই সময় গিরিশের ভয়ানক কাসি হইল, রাত্রিদিন কাসি, এক মুহুর্তের জন্য বিরাম নাই, বক্ষঃস্থল যেন খানখান হইয়া ভাঙ্গিয়া যাইতে লাগিল। শ্লেষ্মার সহিত ক্রমে ঈষৎ রক্ত দেখা দিল। প্রত্যহ বৈকালবেলা অল্প অল্প জুর হইতে লাগিল। গিরিশ নিজে ডাক্তার ছিলেন। কি হইতেছে, তাহা তিনি সহজেই বুঝিতে পারিলেন। যক্ষ্মী-কাস রোগ দ্বারাই তিনি আক্রান্ত হইলেন। গিরিশ ভাবিলেন যে, আর আমার নিস্তার নাই। ক্রমে তিনি শুষ্ক ও দুৰ্ব্বল হইয়া পড়িতে লাগিলেন। শ্বশুর, শাশুড়ী, স্ত্রী ও কন্যার মুখপানে চাহিয়া তিনি যতদিন পারিলেন, সংসারনিক্যর্বাহের নিমিত্ত অৰ্থেপাৰ্জ্জন করিতে লাগিলেন। নিতান্ত অশক্ত হইয়াও তিনি যথাশক্তি পরিশ্রম করিতে লাগিলেন। পীড়া ক্রমেই বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। এরূপ সঙ্কট সাংঘাতিক পীড়াগ্রস্ত হইয়া লোকে আর কতদিন পরিশ্রম করিতে পারে। ছয় মাস পরেই তিনি শয্যাগত হইয়া পড়িলেন। গিরিশের সঞ্চিত অর্থ ছিল না। মাসে মাসে যাহা উপাৰ্জ্জন করিতেন, তাহাই খরচ হইয়া যাইত। স্ত্রী ও কন্যাকে যে কয়খানি গহনা দিয়াছিলেন, সম্বলের মধ্যে কেবল তাহাঁই ছিল। শয্যাশায়ী হইয়া, নিরুপায় হইয়া, গিরিশ এখন সেই লি বেচিয়া অতিকষ্টে দিনপাত করিতে লাগিলেন । (C) রোগ আরও প্রবল হইয়া উঠিল। দিন দিন তিনিবিছানার সহিত মিশিয়া যাইতে লাগিলেন। গিরিশ বুঝিলেন যে, তাঁহার আসন্নকােল উপস্থিতঁ। আর অধিক বিলম্ব নাই। অবশিষ্ট যে অলঙ্কার ছিল, তাহা বিক্রয় করিয়া পঞ্চাশ টাকা গিরিশের এই শেষ সম্বল। কিন্তু এ পঞ্চাশ টাকা কয়দিন? এ পঞ্চাশ টাকা ফুরাইলে পর কি হইবে? বৃদ্ধ ও রুগ্ন শ্বশুর ও বৃদ্ধা শাশুড়ীর দশা কি হইবে? সহায়সম্পত্তিহীনা স্কুলের কুলবধু সরলার দশা কি হইবে? প্ৰাণাধিক শিশু লীলার কি হইবে? আহা! সংসারের সে কিছুই জানে না। সদাই মনের আনন্দে সে হাসিয়াখেলিয়া বেড়ায়। হায়! দুই দিন পরে সে লীলার কি দশা ঘটিবে? ক্ষুধায় কাতর হইয়া দুইটি মুড়ির জন্য কি একমুষ্টি ভাতের জন্য লীলা যখন কাঁদিবে, তখন কে দুইটি মুড়ি কি একমুষ্টি ভাত দিয়া তাহাকে শান্ত করিবে? গিরিশ ভাবিয়া আকুল হইলেন, চারিদিক তিনি অন্ধকার দেখিতে লাগিলেন। হে ভগবান! তোমার মনে কি এই ছিল! গিরিশ অনেকদিন ধরিয়া ফণ্ডে টাকা দিয়া আসিতেছেন। ফণ্ডের সহিত তিনি এই নিয়ম করিয়াছিলেন যে, তাঁহার মৃত্যু হইলেই, তাহার স্ত্রী নগদ তিন হাজার ও মাসে দশ টাকা পাইবেন। তবে আর ভাবনা কি? সত্য বটে। কিন্তু এক ফণ্ডে মাসে তাঁহাকে তিন টাকা করিয়া দিতে হয়। শয্যাগত হইয়াও অতিকষ্টে তিনি তাহা দিয়া আসিতেছেন। এখন আর তিনি কি করিয়া দিবেন? তাহার পর অপর ফণ্ডে ছয় মাস অন্তর যে পঞ্চাশ টাকা করিয়া দিতে হয়, পাচ দিন পরে সেই পঞ্চাশ টাকা দিতে হইবে। এখন কোথা হইতে সে পঞ্চাশ টাকা তিনি দিবেন? নিয়মিত দিনে টাকা দিতে না পারিলে, নিরূপিত প্ৰাপ্য হইতে তাঁহার পরিবার বঞ্চিত হইবেন। এতদিন তিনি যে ফণ্ডে টাকা দিয়া আসিতেছেন, সে বৃথা হইবে, তাঁহার পরলোকপ্ৰাপ্তি হইলে, স্ত্রী একটি পয়সাও পাইবে না। যে পঞ্চাশটি টাকা হাতে আছে, তাহার সেই শেষ সম্বল। তাহা &)brቲr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি"************* যদি তিনি ফণ্ডে প্ৰদান করেন, তাহা হইলে জীবনের অবশিষ্ট কয়টা দিন কি খাইয়া তিনি জীবিত থাকিবেন? অপরদিকে, ফণ্ডে সেই পঞ্চাশ টাকা না দিলে, দুই দিন পরে তাহার অনাথা স্ত্রী ও কন্যা একেবারে পথে দাঁড়াইবে। “হে জগদীশ্বর! এই পাঁচ দিনের ভিতর আমার মৃত্যু হয়, তবেই রক্ষা! তাহা না হইলে, হে ঈশ্বর! আমার অবৰ্ত্তমানে এ অনাথাদিগের কি দশা এইরূপ ভাবিয়া-চিন্তিয়া গিরিশ নিতান্ত আকুল হইয়া পড়িলেন। নবম অধ্যায় এ কে? গিরিশের যিনি চিকিৎসা করিতেছিলেন, তিনি তাহার পরম বন্ধু । দুই জনে একসঙ্গে পড়িয়াছিলেন। গিরিশ তাঁহাকে ডাকিয়া বলিলেন, — “ভাই। আমার শ্বাস-প্ৰশ্বাস-যন্ত্রটি তুমি ভালরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখ। আমার নিকট কোন কথা গোপন করিবে না। ঠিক করিয়া বল দেখি, আর কতদিন আমার বঁচিবার সম্ভাবনা আছে?” গিরিশের বন্ধু তাঁহার বক্ষঃস্থল অতি সাবধানে (প্রীক্ষা করিয়া বলিলেন, — “ভাই! যখন তুমি আমাকে ঠিক সত্যকথা বলিতে অনুরোধ করর্তৈছ, তখন আমাকে তাহা বলিতে হইবে। আমার উপর অসন্তুষ্ট হইও না। এ যাত্রা তই রক্ষা পাইবে না। তবে তিন মাসের ভিতর তোমার মৃত্যু হইবে না, ছয় ধক তুমি কিছুতেই বাঁচিবে না। চারি-পাঁচ মাস পরেই নিশ্চয় তোমাকে এ সংসার বিদায় গ্ৰহণ করিতে হইবে। তোমার বক্ষঃস্থলের বৰ্ত্তমান অবস্থা দেখিয়া আমার এইরূপ অনুমান হইতেছে। কিন্তু একেলা আমার কথায় তোমার বিশ্বাস করা উচিত নয়। আমি আরও দুই জন ভাল ডাক্তার আনিয়া দেখাইব। তাহারা কি বলেন, শুনিতে হইবে।” গিরিশের বন্ধু, আরও দুই জন ভাল ডাক্তার আনিয়া দেখাইলেন। সকলেই একমত হইয়া বলিলেন যে, ছয় মাসের অধিক গিরিশ কিছুতেই জীবিত থাকিবেন না। গিরিশ বলিলেন, — “আমি ডাক্তার। আমার শরীরের ভিতর যাহা হইতেছে, তাহা আমি উত্তমরূপ জানি। এ রোগে বাঁচিবার আশা বড়ই প্রবল হয়। কিন্তু আমি শিশু নই। শীঘ্রই যে আমাকে যাইতে হইবে, তাহা আমি নিশ্চয় বুঝিতেছি। এক্ষণে আপনাদিগকে জিজ্ঞাসা করি,- পাঁচ দিনের ভিতর মৃত্যু হইবার কোন সম্ভাবনা আছে কি?” সকলেই একবাক্যে বলিলেন,- “কিছুতেই নয়। পাচ দিন কেন, তিন মাসের ভিতর কোন বিপদ ঘটিবার সম্ভাবনা নাই।” ኳ অন্য ডাক্তার দুই জন চলিয়া যাইলে, গিরিশ আপনার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “ভাই! তুমি আজ আমার নিমিত্ত যে ঔষধের ব্যবস্থা করিয়াছ, তাহাতে কি কি আছে?” যে ঔষধ যে পরিমাণে দিয়াছিলেন, গিরিশের বন্ধু তাহার নাম করিলেন। গিরিশ বলিলেন, — “বারো দাগ ঔষধ দিয়াছ। আচ্ছা, কেহ যদি ভুলিয়া একেবারে বারো মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro (ሟbrእs দাগ খাইয়া ফেলে, তাহা হইলে কি হয়।” বন্ধু উত্তর করিলেন,- “কি হয়, তাহা কি তুমি জান না? দুৰ্ব্বল লোকের কথা দূরে থাকুক, সুস্থ সবল ব্যক্তিও মরিয়া যায়।” ঈষৎ হাসিয়া গিরিশ বলিলেন, — “তাই জিজ্ঞাসা করিতেছি।” সেদিন এইরূপে গত হইল। তাহার পরদিন সন্ধ্যাকালে গিরিশ বলিলেন, — ‘সরলা! লীলা মা! তোমরা দুই জনে আমার নিকট এস। সরলা, তুমি একপাশে থাক, লীলা তুমি একপাশে থাক। তোমরা দুই জনে আমার নিকটে থাকিলে আমি ভাল থাকি।” গিরিশ খাটে শুইয়া আছেন। সরলা বাম পাশে বসিল, লীলা তাঁহার দক্ষিণ পাশে বসিল। বাম হাতে গিরিশ সরলার একটি হাত ধরিলেন। সন্ধ্যাকাল, অন্ধকার হইয়াছে। ঘরে প্রদীপ জ্বলিতে গিরিশ বারণ করিলেন। সরলা ও লীলার হাত ধরিয়া সেই অন্ধকার ঘরে নিঃশব্দে চক্ষু বুজিয়া গিরিশ শয়ন করিয়া রহিলেন । এইভাবে আধা ঘণ্টা শয়ন করিয়া আছেন, এমন সময় সহসা সেই ঘরে একজন পুরুষমানুষ আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সরলা চমকিত হইয়া দাঁড়াইলেন। সে পুরুষমানুষ কে? গিরিশ যে সময়ে সরলা ও লীলাকে কাছে বসাইলেন, সেই সময়ে গোপীবাবুর বাটীতে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটিয়াছিল। র বৃদ্ধা মাতা যে ঘরে শয়ন করিতেন, সেই ঘরের দ্বার-জানালায় কিছু ফাক হইয়া গিয়াছিল। অগ্রহায়ণ মাস, নৃতন শীত পড়িয়াছে। আহাদী ঝিকে ডাকিয়া গোপীবাবুর মাতা বলিলেন, — “আহােদি! দ্বার-জানালার ফাঁক দিয়া রাত্রিতে ঘরে বড় হিম আসে। বুড়ো হাড়। সমস্ত রাত্ৰি যেন কুকুরে চিবায়। গায়ের ব্যথায় সকালে উঠিতে পারি না। তুই এক কৰ্ম্ম কর। এই ছেড়া কাপড়খানা ছিড়িয়া নেকড়া করু, আর সেই নেকড়া জানালার ফাঁকে ফাঁকে গুজিয়া দে। তাহা করিলে রাত্রিতে ঘরে হিম আসিবে না।” আহাদী বলিল,— “ঠাকুরমা ! সেদিন চোরকুঠরি ঝাড়িতে ঝাড়িতে একটা ভাঙ্গা বােক্সর ভিতর কতকগুলো চট দেখিয়াছি। সেই চাঁট দিয়া পৰ্দা করিলে হয় না?” গোপীবাবুর মাতা বলিলেন, — “চাের-কুঠরিতে চট কোথা হইতে আসিল?” আহাদী বলিল,— “তা জানি না। একটা ভাঙ্গা বাক্স, ডালা নাই, তাহার ভিতর রহিয়াছে দেখিলাম।” গোপীবাবুর মাতা বলিলেন, — “চল দেখি, দেখি! কি চট, কোথা হইতে আসিল, আর তাহাতে পৰ্দা হইবে কি না?” ঝিকে সঙ্গে লইয়া গোপীবাবুর মাতা চােরকুঠরিতে গিয়া উপস্থিত হইলেন। চাের-কুঠরির ভিতর সহজেই অন্ধকার, তাহাতে সন্ধ্যা হইয়াছে। আহাদী গিয়া প্ৰদীপ আনিল। একটা কাঠের বাক্সে কতকগুলো ছেড়া চট রহিয়াছে, গোপীবাবুর মাতা তাহা দেখিতে পাইলেন। Vesd দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon-3 গোপীবাবুর মাতা বলিলেন,- “ওরে! ও আহাদি! এ সেই চট! তোর মনে পড়ে? যেদিন মোহর চুরি যায়, সেইদিন গিরিশের কােছ হইতে বাক্স-মোড়া চট আমি আনিয়াছিলাম। সেই চটগুলি আনিয়া আমি এই বাক্সটার ভিতর ফেলিয়াছিলাম। তাহার পর সেই মোহর লইয়া হাঙ্গামহুজ্জৎ, মকদ্দমা-মামলা! এ চটের কথা আমি একেবারেই ভুলিয়া গিয়াছিলাম। সে আজ সাত-আট বৎসরের কথা। এ চটগুলা দেখিয়া আমার প্রাণে যেন কেমন একটা আতঙ্ক হইতেছে।” আহাদী ঝি বলিল,— “হী! ঠাকুরমা ! এ চটের কথা এখন আমার সব মনে পড়িতেছে। তাড়াতাড়ি আমরা দুই জনে আসিয়া এই বাক্সর ভিতর চটগুলা ফেলিয়া রাখিলাম। তাহার পর সেই হাঙ্গাম, সেই পুলিশের লোক। এখনও সে সব কথা মনে হইলে ভয় হয়। আহা! গিরিশবাবু না কি মরমর হইয়াছেন।” গোপীবাবুর মাতা উত্তর করিলেন,- “হী! আমি শুনিয়াছি, ডাক্তারে জবাব দিয়াছে। টুড়ির দশা যে কি হইবে! এতদিন পরে এ চটে আর কি কোনও কাজ হইবে? পচিয়া হয়তো গোবর উঠিয়া গিয়াছে!” চটের ভিতরু হইতে তৎক্ষণাৎ একটি কুঞ্জ বস্তু ভূতলে পতিত হইল, আর সেই উজ্জ্বল নূতন পয়সা মত কি সব ঘরের চারিদিকে গঁড়াইয়া গেল। আহাদী ভয়ে চীৎকার করিয়া উঠিল। গোপীবাবুর মাতা থৰ্প করিয়া মাটিতে বসিয়া পড়িলেন, আর বলিলেন,- “আহাদি! আমাকে বাতাস কর, আমার গা ঝিম্ ঝিম্ করিতেছে!” একটু সুস্থ হইলে তিনি পুনরায় বলিলেন,- “শীঘ্ৰ গোপীকে ডাকিয়া আন।” আহাদী তাড়াতাড়ি গোপীবাবুকে ডাকিয়া আনিল। মাতা বলিলেন,- “গোপী! এই দেখা কি বাহির হইয়াছে!” গোপীবাবু আশ্চৰ্য্য হইয়া দেখিলেন যে, চটের সঙ্গে সেই সাবানের বাক্স দুই ভাগ হইয়া গিয়াছে। গোপীবাবু সাবানের বাক্সটি তুলিয়া লইলেন ও মোহর কুড়াইতে লাগিলেন। আহাদী কুড়াইতে বলিলেন। s আহাদী বলিল,— “না, ও মোহরে আমি হাত দিব না, ও বড় অপয়া মোহর, যে ইহাতে হাত দিবে, তাহার। সৰ্ব্বনাশ হইবে।” গোপীবাবু নিজেই সমস্ত মোহর কুড়াইয়া গণিয়া দেখিলেন যে,-ঠিক পঞ্চাশটি মোহর রহিয়াছে। মাতা তখন বলিলেন,- “গোপী! আমি হতভাগীই তবে চোর! গিরিশের মত হাতে হাতকড়ি দিয়া আমাকে এখনি পুলিশের লোক ধরিয়া লইয়া যাইবে! আমাকে জেলখানায় lief Vidè एक sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পাঠাইয়া দিবে। পায়ে বেড়ি দিয়া আমাকে সেই জেলখানায় রাখিয়া দিবে। তারকেশ্বরের মোহান্তকে যেরূপ করিতে হইয়াছিল, আমাকেও সেইরূপ করিতে হইবে। হাঁটু পৰ্যন্ত ইজের পরিয়া আমাকে ফুলগাছে জল দিতে হইবে, পাথর ভাঙ্গিতে হইবে, ঘানিগাছে সরিষা হইতে তেল বাহির করিতে হইবে। কালীঘাটে মোহান্তর পট কিনিয়াছিলাম, তাহাতে এইসব দেখিয়াছি। কি লজ্জার কথা— কি ঘূণার কথা! এ বৃদ্ধবয়সে আমি কি করিয়া ইজের পরিব, সে সব কাজ কি করিয়া করিব?” গোপীবাবু বলিলেন, “না, মা! তোমার সে সব ভয় নাই।” মাতা বলিলেন, — “পুলিশে যদি একথা জানিতে না পারে, তাহা হইলে আমি নিজে গিয়া ধরা দিব। আহা! আমার পাপের জন্য সে ব্ৰাহ্মণের ছেলের কত না লাঞ্ছনা হইয়াছে! শুনিতেছি, সে মর-মর হইয়াছে। আজ সাত বৎসরের কথা হইল বটে, কিন্তু সেইদিন হইতে সে কখন সুখী হয় নাই। সেই অপমান সে কখনও ভুলিতে পারে নাই। সেই মনস্তাপে অবশেষে তাহার এই উৎকট রোগ হইয়াছে। আমার এই পাপের জন্য পুলিশে আমি নিজে গিয়া ধরা দিব। তারপর, না হয় গলায় দড়ি দিয়া, কি আফিম খাইয়া মরিব । কিন্তু ধৰ্ম্ম জানেন, আমি জানিয়া শুনিয়া একাজ করি নাই! তাড়াতাড়ি যখন চট সব গুটািইয়া লইলাম, সেই সঙ্গে বোধ হয়, এই কাল বাক্সটাও গুটাইয়া লইয়াছিলাম। যতক্ষণ দালানে ছিলাম, ততক্ষণ তক্তপোষের উপর বাক্স দেখিয়াছিলাম। বাক্স যে সেইখানেই ছিল, সে সময় নিশ্চয় তাহাই আমার মনে হইয়াছিল। তাই বুলিয়াছিলাম যে, যখন আমি বাড়ীর ভিতর আসি, তখনও তক্তপোষের উপর বাক্স দেখ্রিয়ান্ট)ত নরকেও আমার স্থান হইবে না। কিন্তু ভগবান ਝ এ মিথ্যা কথা বলি নাই।” আহাদী বলিল,— “আমিও তো সেই কুণ্ডবিলিয়াছিলাম। অত শত কে জানে বাপু! দালানে গিয়া তক্তপোষের উপর মোহরের বাক্স-স্ট্রেখিলাম!! আমরা তাড়াতাড়ি বাড়ীর ভিতর আসিলাম । তুমি বাছা যে চটের সঙ্গে বাক্স গুটািইয়া আনিবে, আমি কি করিয়া জানিব? আমি ভাবিয়ছিলাম যে, বাক্স সেইখানেই রহিল, এই মনে করিয়া আমিও সেই কথা বলিয়াছিলাম। আমারও কত পাপ হইয়াছে!” এই কথা বলিয়া আহন্দী কাঁদিতে লাগিল । মাতা বলিলেন, “গোপী! সেই সময়ে গিরিশের নামে নালিশ করিতে আমি তোমাকে নিষেধ করিয়াছিলাম। তুমি আমার কথা শুনা নাই। মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁকে ছাড়াইয়া দিতে মানা করিয়াছিলাম। তুমি আমার কথা রাখ নাই। তাহার পর গিরিশের প্রতি শক্রিতা করিতেও নিষেধ করিয়াছিলাম। সে কথাও তুমি আমার রক্ষা কর নাই। বিনাদোষে সেই ব্ৰাহ্মণের ছেলের প্রতি তুমি ঘোরতর অত্যাচার করিয়াছ। সেই পাপে একদিনে তোমার চাঁদের মত দুইটি ছেলে গিয়াছে। সেই পাপে আমার শ্বশুরের বংশ নিৰ্ব্বংশ হইয়া গেল, একগণ্ডুষ জল দিতে আর কেহ। द्रशिक्ल न!' গোপীবাবু বলিলেন,- “আমি নিশ্চয় বুঝিয়াছিলাম যে, গিরিশ আমার মোহর চুরি করিয়াছে, তাই একাজ করিয়াছিলাম। আর মা, আমাকে ভৎসনা করিও না। সেই সব কথা মনে করিয়া আমার বুক ফাটিয়া যাইতেছে।” মাতা বলিলেন, — “এখন তোমাকে একটি কথা বলি, শুন । নিশ্চয় ইহা মাতৃ-আজ্ঞা বলিয়া জানিও। যদি এবার আমার কথা না রক্ষা কর, তাহা হইলে ভগবানকে সাক্ষী করিয়া বলিতেছি। S দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon-3যে, নিশ্চয় আমি গলায় দড়ি দিয়া, না হয় বিষ খাইয়া মরিব।” গোপীবাবু বলিলেন, — “কি আজ্ঞা করিবে, মা, তা বল। আমি সত্য করিয়া বলিতেছি, নিশ্চয় আমি তাহা করিব।” মাতা বলিলেন, — “তুমি এই মুহূৰ্ত্তে গিরিশের নিকট যাও। তাহার হাতে-পায়ে ধরিয়া ক্ষমা প্রার্থনা কর । আর এই মোহরগুলি তাহকে দিয়া এস ৷৷ ও পাপ মোহরে আমাদের কাজ নাই।” গোপীবাবু উত্তর করিলেন, — “তার আটক কি, মা! আমি এখনি তাঁহাই করিব। এ পঞ্চাশটা মোহরের আর কতই মূল্য হইবে? ১২০০ টাকার অধিক নয়। এ ১২০০ টাকা দিলে আমরা দুঃখী হইয়া যাইব না।” মাতা বলিলেন, — “তবে এখনি তাহাকে এ মোহরগুলি দিয়া এস, আর বিলম্ব করিও না।” দ্বাদশ অধ্যায়। গোপীবাবুর দান! মােহরের বাক্সটি হাতে লইয়া গােপীবাবু বাটী হইতে ৱািছর হইলেন। গিরিশের বাটী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সরলার মাতা তাঁহাকে দেখিয়া ৱিঞ্জিত হইলেন। সরলার পিতা ঘরের ভিতর ছিলেন, তিনি তাঁহাকে দেখেন নাই। গোপীবাবু’র্কহাকেও কিছু না বলিয়া, গিরিশ যে ঘরে V SV II Y • । সামান্য বাড়ী, গিরিশের ঘর কোনটি অনায়াসেই তাহা বুঝিতে পারিলেন! ভিতর সহসা একজন পুরুষমানুষ দেখিয়া সরলা চমকিত হইয়া দাড়াইলেন। সরলার ঘরে প্রদীপ লইয়া আসিলেন। ঘরের মাঝখানে দাঁড়াইয়া, স্তব্ধ হইয়া, গোপীবাবু গিরিশের মুখপানে চাহিয়া রহিলেন। মুদিত চক্ষে গিরিশ শুইয়া আছেন। কিন্তু আর সে গিরিশ নাই, সৰ্ব্বশরীর শুষ্ক হইয়া গিয়াছে, হাত-পা কাঠির ন্যায় হইয়া গিয়াছে।বিছানার সহিত তিনি যেন মিশিয়া রহিয়াছেন। কেবল পূৰ্ব্বের ভাব— মুখশ্ৰীর বিশেষ ব্যতিক্রম ঘটে নাই। গোপীবাবুর চক্ষু দিয়া টস টস্ করিয়া জল পড়িতে লাগিল। তিনি ভাবিলেন যে,- “এই শোচনীয় দৃশ্যের একমাত্র কারণ, আমি পাপিষ্ঠ নরাধম।” গিরিশ চক্ষু মুদিত করিয়া পড়িয়া আছেন। পার্শ্বে পাঁচ বৎসরের সেই মেয়েটি নিঃশব্দে বসিয়া রহিয়াছে। শীঘই কি বিষম সৰ্ব্বনাশ ঘটিবে, সেই পাঁচ বৎসরের বালিকা যেন তাহা বুঝিয়াছে। এ বয়সের অস্থিরতা ও চপলতা সেইজন্য যেন সে ভুলিয়া চুপ করিয়া এক স্থানে বসিয়া আছে। গোপীবাবু মনে মনে ভাবিলেন,- “আমার নিষ্ঠুর ব্যবহারের ফলে এই শিশুটি শীঘ্রই অনাথা হইবে। আমা অপেক্ষা নরাধম পৃথিবীতে আর নাই।” বালিকাকালে সরলা পিতার সহিত গোপীবাবুর বাটীতে যাইত। সুতরাং গোপীবাবুকে সে বিলক্ষণ জানিত। এত শক্রতার পর গোপীবাবুকে সহসা আজ তাঁহাদের গৃহে দেখিয়া সরলা বিস্মিত হইল। খাট হইতে নামিয়া সে ভূমিতে দাঁড়াইল। লীলা সািভয়ে গোপীবাবুর মুখের দিকে একদৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। Vyx) মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro গোপীবাবু খাটের নিম্নে ভূমিতে হাঁটু গাড়িয়া বসিলেন; বসিয়া আস্তে আস্তে গিরিশের একটি হাত ধরিলেন। গিরিশ চক্ষু চাহিলেন। গোপীবাবু কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন,- “গিরিশ। গিরিশ! আমাকে ক্ষমা কর।” ধীরে ধীরে গিরিশ উত্তর করিলেন,- “এ সময় কাহারও উপর আমার রাগ-দ্বেষ নাই। সকলকেই আমি ক্ষমা করিয়াছি।” গোপীবাবু পুনরায় বলিলেন,- “গিরিশ, আমি অতি পাপিষ্ঠী; আমি অতি নরাধম। বিনাদোষে আমি তোমার প্রতি ঘোরতর অত্যাচার করিয়াছি। তোমার এ রোগের কারণ আমি । ক্ষমার পাত্র আমি নই বটে, কিন্তু তোমার হাতে ধরিয়া বলিতেছি, তুমি আমাকে ক্ষমা কর!” গিরিশ বলিলেন, — “আপনাকে আমি ক্ষমা করিয়াছি। আপনি নিশ্চিন্ত মনে বাটী প্রত্যাগমন করুন। আমার কথা কহিবার শক্তি নাই। আমি নিদ্রা যাইব ।” গোপীবাবু পুনরায় বলিলেন,- “তুমি যে সম্পূর্ণ নিৰ্দোষ, আজ এইমাত্র তাহা আমরা জানিতে পারিলাম। জানিতে পারিয়াই তোমার নিকট দৌড়িয়া আসিয়াছি। সেই মোহর আজ পুনরায় বাহির হইয়া পড়িয়াছে। আমার মা না দেখিয়া চটের সহিত গুটিাইয়া মোহরের বাক্স বাটীর ভিতর লইয়া গিয়াছিলেন। বাটীর ভিতর চোর-কুঠরিতে একটা ভাঙ্গা বাক্সে সেই চটের সহিত মোহরগুলি এতদিন পড়িয়াছিল। আজ তাহা পুনরায় বাহির হইয়া পড়িয়াছে। এই দেখ, সেই সাবানের বাক্স, আর ইহার ভিতর সেই পঞ্চাশটি মোহর।” গিরিশ ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন, ৮ “আপনি নিজে ডাক্তার। আপনি সব জানেন। এক্ষণে আপনি বাটী গমন করুন, আমি আর কথা কহিতে পারি না।” গোপীবাবু বলিলেন, — “আর কেবল একটি কথা বলি। তোমাকে আর অধিক কষ্ট দিব না। সেই কথাটি বলিয়াই আজ আমি বিদায় হই । পুনরায় কাল আসিয়া তোমার ভালরূপ চিকিৎসার আয়োজন করিব।” গিরিশ জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কি কথা?” গোপীবাবু বলিলেন,- “এই মোহরগুলি তোমাকে দিয়া যাইতে মাতা আজ্ঞা করিয়াছেন। এ মোহরগুলি আমি রাখিয়া যাই। এ মোহর এখন তোমার, এ আমার নয়।” গিরিশের মুখ ঈষৎ রক্তিমন্বর্ণে রঞ্জিত হইল। অপেক্ষাকৃত একটু উচ্চৈঃস্বরে তিনি বলিলেন, — “কি ঐ মোহরগুলি আমি লাইব। কখনই না!” ኳ মোহর লইবার নিমিত্ত গোপীবাবু গিরিশকে বারবার অনুরোধ করিতে লাগিলেন। কথা কহিতে গিরিশে অতিশয় কষ্ট হইতেছিল। এমন কি, এক্ষণে শ্বাসপ্ৰশ্বাস-ক্রিয়া-সম্পাদনেও তাহার ক্লেশ হইতেছিল। হাঁপাইতে হাঁপাইতে গিরিশ বলিলেন, — “মহাশয়! কথা কহিবার আর আমার শক্তি নাই। মিনতি করি, এ শেষ অবস্থায় আর আমাকে কষ্ট দিবেন না। আপনার মোহর আমি কিছুতে লাইব w8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%ি" "********* না। আপনার ইচ্ছা হয়, গরীব-দুঃখীকে ইহা দান করিবেন। আমার স্ত্রী কি আমার কন্যা, কি আমার শ্বশুর-শাশুড়ী কেহ যেন এ মোহর স্পর্শ না করে, অনাহারে মৃত্যু হইলেও কেহ যেন আপনার নিকট হইতে একটি পয়সাও গ্ৰহণ না করে। সরলা! লীলা! যদি অনাহারে তোমাদের মৃত্যু উপস্থিত হয়, তাহা হইলেও এ মোহর কি ইহার একটি পয়সা কখন স্পর্শ করিও না। সরলা! আমার এই অন্তিম দশায় তোমাকে আমি এই আজ্ঞা করিলাম। কখনও ভুলিও না।” একটু নিঃশব্দে থাকিয়া, গোপীবাবুর মুখপানে চাহিয়া গিরিশ পুনরায় বলিলেন,- “মহাশয়। বিনা অপরাধে আমার প্রতি যাহা কিছু অত্যাচার হইয়াছে, সেসব আমি ক্ষমা করিলাম। কিন্তু মোহর লইতে। আর আমাকে অনুরোধ করিবেন না। আমার শ্বশুর-শাশুড়ী, অথবা আমার স্ত্রী, অথবা আমার কন্যা, আমার অবৰ্ত্তমানে কেহ আপনার মোহর স্পর্শ করিবে না। এক্ষণে বাটী প্ৰত্যাগমন করুন। এই আমার শেষ কথা। আর আমি কথা কহিতে পারি না।” এই কথা বলিবার পর গিরিশের মূৰ্ছিা হইবার উপক্রম হইল। সরলা তাড়াতাড়ি আসিয়া বাতাস করিতে লাগিল। তাহার পর হাতযোড় করিয়া সে গোপীবাবুকে বলিল,- “মোহরের কথা, মহাশয় আর কখন মুখে আনিবেন না। প্ৰাণ গেলেও আপনার মোহর কখনই লইব না। আপনি বাটী প্রত্যাগমন করুন। আপনাকে দেখিলে ইহার মনে কষ্ট হয়। এ স্থানে আপনার আগমন না করাই ভাল ছিল ।” গোপীবাবুকে সরলা একপ্রকার বাটী হইতে দূর করিয়া দিল। নিতান্ত অপ্ৰতিভ হইয়া মোহরের বাক্স হাতে করিয়া, বিরস বদনে তিনি স্বগৃহে করিলেন । 9 کیم (N অধ্যায়। উআর কেন ভাই সরলা লীলা পুনরায় গিরিশের দুই পার্শ্বে বসিল। গিরিশ পূৰ্ব্ববৎ তাহাদের হাত ধরিয়া রহিলেন। মোহর প্রদানের কথা শুনিয়া উত্তেজিত হইয়াছিলেন, সেই কারণেই হউক, অথবা অন্য কারণেই হউক, গিরিশের চক্ষু রক্তবর্ণ হইয়া উঠিল, ঘন ঘন সবলে নিশ্বাস পড়িতে লাগিল । সেই নিশ্বাসে কিরূপ একপ্রকার শব্দ হইতে লাগিল । সরলাও অতিশয় ভয় পাইল। তাড়াতাড়ি পিতাকে সে সেই ঘরে ডাকিয়া আনিল। লাঠি ধরিয়া মাধব চক্ৰবৰ্ত্তী অতিকষ্টে সেই ঘরে আসিলেন। ঘরে আসিয়া গিরিশের অবস্থা দেখিয়া তিনি স্ত্রীকে বলিলেন,- “শীঘ্ৰ যাও। গোপালকে শীঘ্ৰ ডাক্তার আনিতে বল।” গিরিশ চক্ষু চাহিয়া হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিলেন, “না মহাশয়! ডাক্তাৱ আনিতে হইবে না। শীঘই আমি সুস্থ হইব।” সরুলার মাতা সে কথা শুনিলেন না । ডাক্তার আনিবার নিমিত্ত তিনি গোপালকে বলিতে গেলেন। গোপাল একজন প্রতিবাসী। কিছুক্ষণ পরে গিরিশের বন্ধু সেই ডাক্তার আসিয়া উপস্থিত হইলেন। গিরিশের পার্শ্বে যাই তিনি খাটের উপর বসিয়াছেন আর তাঁহার পা লাগিয়া খাটের নীচে কি ঠন করিয়া পড়িয়া Wy6ł Հrsi-wթ]] sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro গেল। মস্তক অবনত করিয়া খাটের নীচ হইতে তিনি সেই বস্তুটি বাহির করিলেন। দেখিলেন। যে, একটি শিশি, যে শিশিতে কল্য তিনি বারো দাগ ঔষধ দিয়াছিলেন। আজ দেখিলেন যে, শিশিটি সম্পূর্ণ খালি! গিরিশ চক্ষু মুদিত করিয়াছিলেন। ডাক্তার চক্ষু চাহিতে বলিলেন। গিরিশ চক্ষু চাহিলেন না। চক্ষুর পাতা টানিয়া ডাক্তার দেখিলেন যে, চক্ষু দুইটি ঘোর রক্তবর্ণ হইয়াছে, তারা দুইটি সঙ্কুচিত হইয়াছে। সরল, লীলা, মাধব চক্ৰবৰ্ত্তাঁ ও তাঁহার স্ত্রীকে ডাক্তার সে ঘর হইতে যাইতে বলিলেন। তাহার পর একাকী পাইয়া, খালি শিশিটি দেখাইয়া, তিনি গিরিশকে বলিলেন,- “গিরিশ, ছি ভাই ! এমন কাজও করিতে হয়?” গিরিশ অতি মৃদুস্বরে উত্তর করিলেন,—“কি করি ভাই! না করিলে নয়। দুই দিন আগে কি দুই দিন পরে—এই বই তো নয়! আর গোটা কতদিন অধিক বঁচিয়া স্ত্রী ও কন্যাকে পথের ভিখারিণী করিতে পারি না। করুণাময় জগদীশ্বর আমার প্রতি কৃপা করিবেন, তিনি আমার বিচার করিবেন। কাহাকেও একথা বলিও না, ভাই!” ডাক্তার বলিলেন, — “কাহাকেও বলি না বলি আমি চুপ করিয়া থাকিতে পারি না। যথারীতি তোমার চিকিৎসা আমি করিব। এখনি তোমাকে বমন করাইব, তাহার পর তাড়িতযন্ত্র প্রয়োগ করিব।” গিরিশ বলিলেন,- “আর কেন ভাই! এ মৃত্যু সময়ে কেন আর আমাকে যন্ত্রণা দাও?” ডাক্তার বলিলেন,- “না ভাই! আমি কিছুতেই চুপ্ত করিয়া থাকিতে পারিব না। সে অনুরোধ করিও না, সে অনুরোধ আমি কিছুতেই রক্ষা করিতে পারিব না।” গিরিশ বলিলেন,— “তবে যা জান তাই কুর্তৃপ আমার নিকট সত্য কর যে, একথা জনপ্ৰথীংক 曲 কিছুই নাই। যে ফণ্ডে টাকা দিয়াছি, তেঁই একথা কাহাকেও বলিও না । ঔর্মর বালককালের বন্ধু, মরণকালে তােমার নিকট এই ভিক্ষা চাই ।” ডাক্তারের চক্ষু দিয়া জল পড়িতে লাগিল। গিরিশের নিকট তিনি সেইরূপ সত্যে আবদ্ধ হইলেন। তাহার পর সরলার মাতাকে একটু জল গরম করিতে বলিয়া তিনি ঔষধ ও যন্ত্রাদি আনিতে সত্বর গমন করিলেন। সরলা ও লীলা পূৰ্ব্ববৎ গিরিশের নিকট আসিয়া বসিল। শ্বশুর-শাশুড়ীকে সে ঘরে আসিতে হাত নাড়িয়া গিরিশ নিষেধ করিলেন। সরলা ও লীলার হাত ধরিয়া গিরিশ পূৰ্ব্ববৎ শুইয়া রহিলেন ।

              • " ,"দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comঠি واجه চতুর্দশ অধ্যায় সমাপ্ত

গিরিশের নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস এতক্ষণ অতি সবলে পড়িতেছিল, অতি ব্যস্ত হইয়া তিনি যেন বায় আকর্ষণ করিতেছিলেন। ক্রমে নিশ্বাসের সে ভাব কমিয়া আসিল । সরলা মনে করিল যে, গিরিশ বুঝি কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়াছেন ও তাঁহার বুঝি নিদ্ৰা আসিতেছে। কিছুক্ষণ পরে গিরিশ মৃদুস্বরে বলিলেন,— “কি সুন্দর!” সরলা মস্তক অবনত করিয়া শুনিতে চেষ্টা করিল। গিরিশ পুনরায় বলিলেন, — “রম্য দেশ! অতি সুন্দর! সৰ্ব্বত্র শান্তি বিরাজ করিতেছে। ঘোর হরিদৃবর্ণে আচ্ছাদিত প্ৰান্তর, অদূরে নানা বৃক্ষে সুশোভিত পৰ্ব্বতশ্রেণী। মাঝে নদী কুল-কুল শব্দে বহিয়া যাইতেছে। নদীতীরে প্রস্ফুটিত ফুলগুলির কি সুন্দর বর্ণ! কি অপূৰ্ব্ব সৌরভে চারিদিক আমােদিত হইয়াছে। ঐ শুন মধুর বাদ্য! না, ও বাদ্য নয়, মন্দ মন্দ বায়ুহিল্লোলে আলোড়িত বৃক্ষপত্রের মৰ্ম্মর শব্দ। কিন্তু কি মধুর শব্দ! ঐ যে, আমার মা, নদীর অপর পারে দাঁড়াইয়া আমাকে ডাকিতেছেন। ঐ যে, আমার পিতাও তাহার পার্শ্বে দাড়াইয়া আছেন। আরও কত লোক রহিয়াছে। যাই মা যাই!! এখনি যাইব । কিন্তু নদী পার হই কি করিয়া? কতকগুলা কাদায় যে আমাকে জড়িত করিয়া রাখিয়াছে! না, এ কাদা নয়, আমার শরীর। যাই হউক, এ শরীরে আর আমার কাজ নাই। এ ক্লেদ রাশি আমাকে বড় ভারি কুরিয়া রাখিয়াছে। এ ক্লেদ রাশি হইতে একবার নিকৃতি পাইলেই আমি বীচি।। ছিছি! পুরাতৃষ্ঠপুষ্করিণীর পীকের মত কি কদৰ্য্য বস্তু! আমাকে যেন জড়ীভূত করিয়া রাখিয়াছে। একুকুন্তীঃঐগুলা দূর করিয়া পরিকৃত হইতে পারলেই আমি ও-পারে উড়িয়া যাই। তখন সব সুখ,হািৰ্বট ! যাই, মা যাই!! আর বিলম্ব নাই।” সরলা মনে করিল,— গিরিশ প্রল্যাণ্ডাওঁবুর্কিতেছেন। গিরিশের নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস ক্রমেই কমিয়া আসিতে লাগিল । ଦ୍ବିତ ঈষৎ চক্ষু চাহিয়া ধীরে ধীরে গিরিশ পুনরায় বলিলেন,- “সরলা! তবে ভাই, যাই! লীলা, মা! তবে আমি যাই!! ঐ দেখ, নদীতীরে আমার বাবা ও আমার মা দাড়াইয়া আছেন। অতি সুন্দর অতি রম্য দেশ, সরলা! আমার পিতা-মাতার কি জ্যোতিৰ্ম্ময় শরীর হইয়াছে। ঐস্থানে যত লোক দেখিতেছি, সকলেরই ঐ রূপ দেবশরীর। ঠিক যেন নিৰ্ম্মল, সুশীতল, সূৰ্যকিরণ দ্বারা গঠিত। বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডের অধীশ্বর সেই সচ্চিদানন্দ পুরুষের জ্যোতি দ্বারা ঐ প্রদেশ আলোকিত হইয়াছে। তাহার বিমল জ্যোতি দ্বারা ঐ পরলোকবাসীদের, ঐ দেবতনুসম্পন্ন লোকদিগের— দেহ ওতপ্ৰোতভাবে সিক্ত হইয়া রহিয়াছে। সামান্য জলকণা যেরূপ মহাসাগরবক্ষে ক্রীড়া করে, সেইরূপ পূর্ণজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়া, রোগ জরা শোক তাপ হইতে বিমুক্ত হইয়া, প্রিয়জনকে সঙ্গে লইয়া, সেই সচ্চিদানন্দ পুরুষকে প্রত্যক্ষ দর্শন করিয়া, ঐ দেবতনুবিশিষ্ট জীবগণ পরমানন্দে ক্ৰীড়া করিতেছে। আমার মা আমাকে ঐস্থানে ডাকিতেছেন। সরলা! আর আমি অপেক্ষা করিতে পারি না। লীলা মা! তোমরা যখন আসিবে, তখন তোমাদের জন্যও আমি ঐ নদীতীরে দাঁড়াইয়া থাকিব। ঐস্থানে রোগ নাই, শোক নাই, কোন দুঃখ নাই। তোমরা দুই জনে আসিলে, তখন সকলে একসঙ্গে থাকিব। আর কখন ছাড়াছড়ি হইবে না। সরলা! লীলা! তবে এখন আমি বিদায় হই ।” কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া গিরিশ পুনরায় ধীরে ধীরে বলিলেন,- “কিন্তু সরলা! কিন্তু লীলা! তোমাদের আমি গুটিকত কথা বলিয়া যাই । আমার ঐ শেষ কথা । আমার কথাগুলি কখন মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro V) ভুলিবে না। লীলা এখন আমার এ সকল কথা বুঝিতে পারিবে না। লীলা বড় হইলে, সরলা তুমি তাহাকে আমার এই শেষ কথাগুলি বুঝাইয়া দিবে। সকল লোক এ পবিত্র স্থানে যাইতে পারে না। এই পৃথিবীতে আসিয়া যাহারা সত্য-পথ হইতে বিচলিত হয় না, যাহারা কাহারও অনিষ্ট করে না; যাহারা হিংসা, দ্বেষ ও ঘূণার চক্ষে কাহাকেও দর্শন করে না; যাহারা সেই সচ্চিদানন্দ পরমপুরুষকে কখন বিস্মৃত হয় না; যাহারা সৰ্ব্বদা তাঁহাকে হৃদয়-সিংহাসনে অধিষ্ঠিত রাখিয়া জগতের হিতসাধনে জীবন অতিবাহিত করে,- কেবল তাহারাই ঐ সুখের স্থানে গমন করিতে পারে, কেবল তাহারাই প্রিয়জনকে লইয়া ঐ স্থানে অনন্তকাল থাকিতে পায়। সেই সচ্চিদানন্দ পুরুষকে বিস্মৃত হইয়া যাহারা অন্যরূপে জীবন অতিবাহিত করে, তাহাদের পরলোক অন্যরূপ। সেই স্থানে অশেষ যন্ত্রণা ভোগ করিয়া অবশেষে তাহারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। দেখিও সরলা! দেখিও লীলা! তোমরা যেন ঐ সুখের স্থান হইতে বঞ্চিত হইও না। দেখিও, যেন পুনরায় তোমাদের সহিত আমার হয়। আজ আমার পিতা-মাতা যেমন আমাকে আদর করিয়া ঐ পবিত্র জ্যোতির্মুস্থোনে লইয়া যাইতেছেন, যেন যথাকালে তোমাদিগকেও আমি সেইরূপ আদর করিয়া লইয়ণী যাইতে পারি। তবে সরলা! তবে লীলা! এখন বিদায় হই ।” Kè) গিরিশ নীরব হইলেন। একান্ত মনে তিঁনি ভগবানের ধ্যানে নিমগ্ন হইলেন। সরলা এখন বুঝিতে পারিল যোগরিশের অধিক বিলম্ব নাই। নিঃশব্দে সরলা কাঁদিতে লাগিল। চক্ষের জলে তাহার বুক ভাসিয়া যাইতে লাগিল। পিতার অবস্থা ও মাতার কান্না দেখিয়া লীলা বিস্মিত মনে, মলিন বদনে, সজল নয়নে, একবার মায়ের মুখপানে, একবার বাপের মুখপানে চাহিয়া দেখিতে লাগিল। গিরিশের নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস ক্রমেই হ্রাস হইতেছিল। কাঁদিতে কাঁদিতে সরলা তাঁহাকে বাতাস করিতেছিল। একবার সে পাখা বন্ধ করিল। চকিত হইয়া সে দেখিল যে, গিরিশের গায়ে যে চাদরখানি ছিল, বক্ষঃস্থলে এতক্ষণ যাহা উঠিতেছিল ও নামিতেছিল, তাহা আর নড়িতেছে না, চাদরখানি স্থির হইয়া গিয়াছে। শশব্যস্ত হইয়া সরলা গিরিশের নাকে হাত দিয়া দেখিল। সেই মুহূৰ্ত্তে সরলা মূৰ্ছিত হইয়া খাটের উপর হইতে ভূমিতে পতিত হইল। লীলা উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিয়া উঠিল। সরলার পিতা-মাতা সেই ঘরে দৌড়িয়া আসিলেন। সেই মুহুর্তে ডাক্তারও পুনরায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ডাক্তার দেখিলেন যে, গিরিশ চিরদিনের নিমিত্ত ইহসংসার পরিত্যাগ করিয়াছেন। sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ভয়ানক আংটি প্ৰথম পরিচ্ছেদ হারাধনের নাম কলিকাতার নিকট হাবড়া। হাবড়ার নিকট রাজীবপুর। রাজীবপুরে পরাণ বীডুয্যের বাড়ী। পরাণ বীডুয্যের একমাত্র পুত্র,-তাহার নাম হারাধন। হারাধন কলেজে পড়েন, ছােকরা বয়স, নিতান্ত ছোকরা নয়, উনিশ-কুড়ি বৎসরের যুবা । রাত্রি হইয়াছে। শয্যায় শয়ন করিয়া হারাধন আরব্য উপন্যাস পাঠ করিতেছেন!! কমর-উলজমানের গল্প, যে গল্পে পরীতে এক দেশের রাজকন্যা আনিয়া অন্য দেশের রাজপুত্রের সহিত বিবাহ দিয়াছিল। হারাধন একমনে এক ধ্যানে সেই গল্প পড়িতেছিলেন। নিদ্রায় হারাধনের চক্ষু জুড়িয়া যাইতে লাগিল। একটি নিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া হারাধন পুস্তকখানি বন্ধ করিলেন। পাশ ফিরিয়া হার্য মনে বলিলেন,- “আমার ঐরাপ হয়! পৃথিবীর মধ্যে সৰ্ব্বাপেক্ষা যে পরমাসুন্দরী কুর্মুষ্টি জিন কি পরীতে আনিয়া তাহার সহিত আমার বিবাহ দেয়া!” ஜூ কন্যাটির কি প্রকার রূপ হইবে, , চক্ষু, কি প্রকার হইবে, হারাধন সেই বিষয় মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন। একখানি চিত্র তাহার হৃদয়ে অঙ্কিত হইয়া গেল। চিত্রই বা কি করিয়া বলি? সৌদামিনীসদৃশ অপূৰ্ব্ব প্রভােরাশিসম্পন্ন, অলৌকিক রূপলাবণ্যে গঠিত, সহাস্য-বদন দ্বাদশবৰ্ষীয়া এক কন্যাকে তিনি যেন প্রত্যক্ষ দেখিতে লাগিলেন। সেই স্বগীয় রূপরাশি দর্শনে বিমোহিত হইয়া হারাধন নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলেন। নিদ্রায়ও হারাধন অৰ্দ্ধ-প্ৰস্ফুটিত-মনােহর-পুষ্প-মুকুলসদৃশ সৌন্দৰ্য্যময়ীকে দর্শন করিলেন। হারাধন স্বপ্ন দেখিলেন যে,-সেই কন্যার বিবাহ দিবার নিমিত্ত তাহার পিতা স্বয়ম্বর সভা করিয়াছেন। নানা দেশ হইতে রাজগণ আগমন করিয়া সভায় ঘটের মত সারি সারি বসিয়া আছেন। মাল্য-চন্দনপূর্ণ পাত্র হস্তে কন্যা বাহির হইল। অৰ্জ্জুনের সম্মোহন বাণে প্ৰপীড়িত কীেরবরথিগণের ন্যায় রাজগণ কন্যার রূপে মুগ্ধ হইয়া পড়িলেন। ঘোর চীৎকারে মালা প্রার্থনা করিয়া, তাহারা আপন আপন গলা বাড়াইয়া দিতে লাগিলেন। হাৱাধীন সভার '‘একপার্শ্বে বসিয়াছিলেন। কন্যা অন্য কাহারও প্রতি কটাক্ষপাত না করিয়া, হারাধনের নিকটে আসিয়া, তাহারই গলায় মাল্য প্ৰদান করিল। চারিদিকে হৈ হৈ পড়িয়া গেল। দ্ৰৌপদীর স্বয়ম্বরের ন্যায় রাজগণ ক্ষেপিয়া উঠিলেন। কামান, বন্দুক, গোলাগুলি লইয়া তাহারা হারাধনের সহিত যুদ্ধ করিবার নিমিত্ত অগ্রসর হইলেন। হারাধন যুদ্ধ করিলেন না, তিনি বক্তৃতা করিতে আরম্ভ মুক্তা-মালা VEse sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro করিলেন। কিন্তু তাঁহার বক্তৃতায় কেহ কৰ্ণপাত করিলেন না। মুষলমুখবিশিষ্ট কদাকার এক রাজা আসিয়া সবলে তাহার কান মলিয়া দিল। সেই কান-মলার চোটে হারাধনের নিদ্রা-ভঙ্গ হইল । সমুদয় অলীক স্বপ্ন-কথা! সমুদয় মিথ্যা। তা বটে! কিন্তু হারাধনের মন কিছুতেই প্ৰবোধ মানিল না। পূৰ্ণচন্দ্রসদৃশ কন্যার মুখখানি তাঁহার মনে আরও গভীরভাবে অঙ্কিত হইয়া গেল। হারাধন পাগলের ন্যায় হইয়া পড়িলেন। এরূপ কন্যা নিশ্চয় কোন স্থানে আছে, ও তাহার সহিত নিশ্চয় আমার পরিণয় হইবে, হারাধনের মনে এই বিশ্বাস বদ্ধমূল হইয়া পড়িল। “সেই বালিকা ভিন্ন অন্য কাহাকেও আমি বিবাহ করিব না”—হারাধন মনে মনে এইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিলেন । এই প্ৰতিজ্ঞায় হারাধন দিনযাপন করিতে লাগিলেন। ক্রমে তিনি এম-এ পাশ করিলেন। তাহার পিতা সঙ্গতিপন্ন লোক। চারিদিক হইতে তাঁহার বিবাহের সম্বন্ধ আসিতে লাগিল । কিন্তু বিবাহ করিতে হারাধন কিছুতেই সম্মত হইলেন না। যে বালিকার কমলনয়ন দুইটি রাত্রিদিন তাঁহার হৃদয়ে জাগিতেছিল, একান্ত মনে তাহার ধ্যানেই তিনি নিমগ্ন রহিলেন। এক বৎসর গত হইয়া গেল, দুই বৎসর গেল, তিন বৎসর গেল, তথাপি সে সোনার প্ৰতিমার সহিত হারাধনের সাক্ষাৎ হইল না। পথে-ঘাটে সকল স্থানেই, সকল সময়েই তিনি সেই বালিকার অনুসন্ধান করেন। এক স্থানে কতকগুলি লোক দেখিলেই সতৃষ্ণ-নয়নে তিনি তাহাদের মুখপানে চাহিয়া থাকেন। মনে করেন—এইবার বুঝি আমি তাহার দর্শন পাইব । কিন্তু বৃথা আশা! স্বপ্নদৃষ্ট বালিকার সহিত এখনও তীক্ষ্ণৱ সাক্ষাৎ হইল না। হারাধন। কিন্তু নিরাশ হইলেন না। একদিন নিশ্চয় তাহাকে আমি 2—বরং এই আশা তাহার মনে দিন দিন বলবতী হইতে লাগিল । ༦༦) সে বৎসর প্লেগের ভয়ে যখন কলিকাতা হইতে লোক পলায়ন করিতেছিল, তখন একদিন জন কয়েক আত্মীয়কে গাড়ীতে তুলিয়া দিতে হারাধন হাওড়া ষ্টেশনে গিয়াছিলেন। ষ্টেশন জনাকীর্ণ, বড় ভিড়। এক এক গাড়ীতে দ্বিগুণ তিনগুণ আরোহী। অতিকষ্টে আত্মীয়াদিগকে গাড়ীতে উঠাইয়া হারাধন দ্বারের নিকট দাঁড়াইয়া রহিলেন। গাড়ী ছাড়িয়া দিল। প্ৰথমে গাড়ী ধীরে ধীরে চলিতে লাগিল, তাহার পর বেগ ক্রমেই বাড়িতে লাগিল। গাড়ী চলিতে চলিতে পশ্চাৎদিকের একখানি তৃতীয় শ্রেণী হারাধনের সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত হইল। হারাধন দেখিলেন যে, এই গাড়ীখানির দ্বার ধরিয়া এক চতুৰ্দশ কি পঞ্চদশ বর্ষের বালিকা বাহিরে ঝুলিতেছে। তাহার অভিভাবকগণ সকলেই গাড়ীতে উঠিয়াছেন, বালিকা একেলা কেবল উঠিতে পারিতেছে না। গাড়ীর ভিতর হইতে একজন লোক, বোধ হয়। পিতা, প্ৰাণপণে বালিকার হাত ধরিয়া টানিতেছেন। কিন্তু গাড়ীতে তিলু রাখিবার স্থান নাই, কিছুতেই তিনি তাহাকে গাড়ীর ভিতর লাইতে পারিতেছেন না। 8ෆර ፵bመሸ>ቹSቋj& uskla »ižo 33 m vi.amarboi.comio ভয়ে মৃতপ্ৰায় হইয়া বালিকা গাড়ীর দ্বারে বুলিতে লাগিল। আর একটু এই অবস্থায় থাকিলেই সে রেলের নিম্নে পড়িয়া কাটা যাইবে। ঈশ্বরের কৃপায় এই মুহূৰ্ত্তে সেই গাড়ীখানি হারাধনের নিকটে আসিয়া উপস্থিত হইল। বাহির হইতে বালিকাকে ধরিয়া হারাধন গাড়ীর সঙ্গে সঙ্গে দীেড়িতে লাগিলেন। দ্বার খোলা ছিল। একবার সুযোগ পাইয়া বলপূৰ্ব্বক গাড়ীর ভিতর তিনি বালিকাকে ঠেলিয়া দিলেন। বালিকার প্রাণ বাচিয়া গেল । এতক্ষণ বালিকার পশ্চাৎ দিক হারাধনের দিকে ছিল, তিনি তাহার মুখ দেখিতে পান নাই। সে আসন্ন বিপৎকালে কিছু দেখিবার কি ভাবিবার অবকাশও ছিল না। বালিকা যখন গাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিল, তখন নিমিষের নিমিত্ত হারাধন তাহার মুখখানি দেখিতে পাইলেন। সেই বিকসিত পঞ্চজ মুখ, সেই মৃগ-নয়ন, সেই বিম্বাধর, সেই কৃষ্ণধনুসম ভ্ৰীযুগল, ফলকথা স্বপ্নদৃষ্ট সেই বালিকাকে আজ চকিতের ন্যায় দেখিয়া হারাধন স্তম্ভিত হইলেন। শরীর তাঁহার রোমাঞ্চিত ও অবশ হইয়া আসিল, কিংকৰ্ত্তব্যবিমূঢ় হইয়া চিত্ৰপুত্তলিকার ন্যায় তিনি সেই স্থানে দাঁড়াইয়া রহিলেন। গাড়ী চলিয়া গেল। বালিকা কে, কাহার কন্যা, বাড়ী কোথায়? তাহার তিনি কিছুই জানিতে পারিলেন না। জানিবার আর উপায়ও নাই। তিন বৎসর প্রতীক্ষা করিয়া একবার যদি সেই হৃদয়নিধি তিনি হাতে পাইলেন, আর সেই মুহূৰ্ত্তেই বিধি তাহা কাড়িয়া লইলেন!! এরূপ বাদ-সাধা বিধাতার কি উচিত? মনের খেদে হারাধনের চক্ষু দিয়া জল পড়িতে লাগিল। তবে সেই নিমেষকালের মধ্যে হারাধন একটি বিষয় লক্ষ্য করিয়াছিলেন যে, বালিকার সিন্দুর ছিল না, সুতরাং ত্যাহার বিবাহ হয় নাই। আর সেই ভিড়েও— সেই “গেল রে, বামুনের মেয়েটা গেল এতক্ষণ হারাধন একপ্রকার চেতনাশূন্য হইয়াছিলেন। যখন পুনরায় তাহার মনে আশার সঞ্চার হইল, তখন সুপ্তোথিত ব্যক্তির ন্যায় তিনি চমকিয়া উঠিলেন। হাতের দিকে তাঁহার দৃষ্টি পড়িল। দক্ষিণ হস্তের চতুর্থ অঙ্গুলিতে এক অঙ্গুরী দেখিয়া তিনি বিস্মিত হইলেন। বালিকা যখন এই অঙ্গরী ক্ষণকালের নিমিত্ত দেখিয়াছিলেন । “তাহার হাত হইতে আমার হাতে আংটি কি করিয়া আসিল? গোলেমালে তাহার বামহাতের চতুর্থ অঙ্গুলি হইতে আসিয়া ঠিক আমার দক্ষিণ হস্তের চতুর্থ অঙ্গুলিতে আসিয়া পড়া সম্ভব নহে! তাহার পর, বালিকার অঙ্গুলি অপেক্ষা আমার অঙ্গুলি অনেক স্কুল। তাহার অঙ্গুরী ঠিক আমার হাতে কি করিয়া হইল? প্রথম তো অভাবনীয়, ଧ୍ରୁst- anto]] Boy sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro এক বালিকাকে নিদ্রাবস্তায় দর্শন করা,-সে এক আশ্চৰ্য্য কথা। তাহার পর সেই স্বপ্নের বালিকাকে শরীরী-অবস্থায় দর্শন করা,-সে এক আশ্চৰ্য্য কথা। অবশেষে তাহার হাতের আংটি আমার হাতে উড়িয়া আসা, ইহা অপেক্ষা আশ্চর্য্যের বিষয় আর কি হইতে পারে? সত্য-সত্য কি এই ব্যাপারে কোন দেব, দানব, ভূত, প্ৰেত, অথবা জিন, পরী দ্বারা সংঘটিত হারাধন এইরূপ ভাবিতে লাগিলেন। তাহার বুকের ভিতর “গুর-গুর” করিতে লাগিল। তাহার মনে আতঙ্ক হইল। আংটির প্রতি তিনি সাবধানে দৃষ্টিপাত করিলেন,-দেখিলেন, তাহা সোনার নহে, রূপা নহে, তামার নহে, পারদের নহে, অষ্টধাতুর নহে, কোন প্রকার জ্ঞাতপরিচিত দ্রব্য দ্বারা সে আংটি গঠিত নহে। সে অপূৰ্ব্ব অলৌকিক আংটি। হারাধন আংটির প্রতি আরও সাবধানে নিরীক্ষণ করিয়া দেখিলেন। আশ্চৰ্য্য! শুভ্ৰবর্ণের সামান্য সেই রেখা-প্ৰায় আংটির ভিতর একজন ভীষণ কৃষ্ণকায় বীর অবিরত তলোয়ার ঘুরাইতেছে, এইরূপ তিনি দেখিতে পাইলেন। ভয়-বিহবল হইয়া হাত হইতে আংটি খুলিয়া ফেলিতে চেষ্টা করিলেন। অনেক টানাটানি করিয়া কিছুতেই খুলিতে পারিলেন না। হারাধনের মন নিতান্ত উতলা হইয়া উঠিল। যত মনে করেন, এখন আর আমি আংটির দিকে চাহিয়া দেখিব না, ততই মন সেইদিকে ধাবিত হয়, ঘুরিয়া-ফিরিয়া চক্ষু সেই আংটির দিকে গিয়া পড়ে। আংটির দিকে চক্ষু পড়িলেই তাঁহার হৃৎকম্প উপস্থিত হয়। হারাধন পাগলের ন্যায় হইলেন। “হাত হইতে আংটি না খুলিলে, হয় পাগল হইয়া যাইব, না হয় মরিয়া যাইব,ং তাঁহার মনে এইরূপ ধারণা হইল। গাড়ী করিয়া দ্রুতবেগে হারাধন গৃহে প্ৰত্যাগমন । বাটী আসিয়া প্ৰথমে অঙ্গুলিতে তৈল মর্দন করিয়া অঙ্গুরীয় খুলিতে চেষ্টা করলেনঃ “অঙ্গুরী কিছুতেই বাহির হইল না। তাহার পর সাবানের জল দিয়া চেষ্টা করিলেন । একটুও সরিল না, বরং টানাটানিতে অঙ্গুলি ফুলিয়া আংটি আরও গভীরভাবে । সুতরাং মানসিক ভয় ব্যতীত এখন শারীরিক যন্ত্রণাও উপস্থিত হইল। “সহসা এ পদে পড়িলাম! এমন বিপদে কেহ তো কখন পড়ে না।” হারাধন এইরূপ ভাবিতে রাত্রি হইল। বালিকার মধুর মুখখানি সৰ্ব্বদাই তিনি মানস-চক্ষে দর্শন করিতে লাগিলেন। অন্য চিন্তা তাঁহার মনে স্থান পাইল না, সৰ্ব্বদাই কেবল সেই বালিকার চিন্তা। এ চিন্তায় আনন্দ ছিল বটে, কিন্তু অন্যদিকে আংটির চিন্তায় তিনি আকুল হইয়া পড়িলেন। আংটির প্রতি যখনই চাহিয়া দেখেন, তখনই সেই খড়গধারী বীরকে তাহার ভিতর দর্শন করেন। “হায়, আমার এ কি হইল! যাহাকে তিন বৎসর একমনে ধ্যান করিতেছিলাম, আজ তাহার দর্শন পাইয়া কোথায় আনন্দসাগরে ভাসমান হইব, না। আমি ভৌতিক অঙ্গুরীয়ের জ্বালায় অস্থির হইলাম!” ভয়ে ও চিন্তায় সে রাত্রিতে হারাধনের কিছুমাত্র নিদ্রা হইল না। বিছানায় পড়িয়া তিনি ছটুফটু করিতে লাগিলেন। পরদিন প্ৰাতঃকালে উঠিয়া তিনি প্ৰথমে স্বর্ণকারের বাটীতে গমন করিলেন। স্বর্ণকার চিমটাি, হাতুড়ী ও নানাবিধ যন্ত্ৰ দিয়া অঙ্গুরীয় খুলিতে চেষ্টা করিল; কিন্তু কিছুতেই কৃতকাৰ্য হইতে পারিল না। অবশেষে উকা দিয়া কাটিয়া ফেলিতে চেষ্টা করিল। কিন্তু উকা ঘর্ষণে আংটির গায়ে বিন্দুমাত্র দাগও পড়িল না। এ আংটির তুলনায় হীরক বরং কোমল, স্বর্ণকারের এইরূপ বোধ হইল। আংটি খুলিয়া কি কাটিয়া ফেলিতে কৰ্ম্মকারগণও বিধিমত চেষ্টা করিল, কিন্তু কিছুতেই কিছু হইল না। অবশেষে হারাধন রাসায়নিক পণ্ডিতদিগের নিকট গমন করিলেন। নানাপ্রকার 8OS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ w.amarboi.com%"o অন্ন প্রয়োগ করিয়া তাহারাও সে আংটি গলাইতে পারিলেন না। আংটি যে কি ধাতু দিয়া গঠিত, তাহাও কোন বিজ্ঞানবিৎ পণ্ডিত বলিতে পারিলেন না। তাহারা বলিলেন যে,- “আমরা আলিউমিনীম্, প্লাটিনম প্রভৃতি যত প্রকার নূতন ধাতু বাহির হইয়াছে, সে সব দেখিয়াছি, কিন্তু এরূপ অদ্ভুত ধাতু আর কখন দেখি নাই। সামান্য আংটির ভিতরে কৃষ্ণবর্ণের তলোয়ারধারী বীরও কখন দেখি নাই।” ফলকথা, হারাধনের হাত হইতে কিছুতেই আংটি বাহির হইল না; আংটির জ্বালায় হারাধন ঘোর বিপদে পড়িলেন। চতুৰ্থ পরিচ্ছেদ নূতন বীর কিছুদিন পরে আংটির ভিতর হইতে খড়গধারী পুরুষের অন্তৰ্দ্ধান হইল। মাঝে নানা মূৰ্ত্তি আংটির ভিতর উদয় হইয়াছিল। এক একটি মূৰ্ত্তির ভাব দেখিলে গায়ে কাঁটা দিয়া উঠে; সৰ্ব্বশরীর শিহরিয়া যায়। অবশেষে ইহার ভিতর আর একটি মূৰ্ত্তির আবির্ভাব হইল; এই মূৰ্ত্তির কতকগুলা মুখ, কতকগুলা হাত, আর ছাগলের ং। ইহার নাম আংটিাবীর বিকটাকার আংটি-বীর মনের আনন্দে আংটির ভিতর নৃত্যু তৈরিতেছিল। তাহার নৃত্য দেখিয়া হারাধনের মূৰ্ছা হইল। সেই সময় হইতে মৃগীরোগাক্ৰান্ত ন্যায় দিনের মধ্যে চার-পাচ বার তিনি মূৰ্ছিত হইতে লাগিলেন। ফলকথা, মত পত্নীলাভের আশা এখন দূরে গেল, হারাধন সঙ্কটাপন্ন পীড়াগ্ৰস্ত হইলেন। হারাধনের পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজন ঘোর উদ্বিগ্ন হইলেন। ডাক্তার-বৈদ্য দ্বারা চিকিৎসা করাইলেন; কিন্তু কিছুতেই কিছু হইল না। রোজা আনিয়া ঝাড়ান-কাঁড়ান করাইলেন, ভূত নামাইলেন, দেবতাস্থানে হত্যা দিলেন, হাতে গলায় কোমরে কবচ ও মাদুলি পরাইলেন, গণৎকারের বাড়ী গিয়া জানিলেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হইল না; হাত হইতে আংটি খসিল না। বহুমণ্ডধারী ছাগ-পদযুক্ত আংটিাবীরও আংটির ভিতর হইতে অস্তৰ্হিত হইল না। হারাধনের মূৰ্ছি দিন দিন ঘনীভূত হইতে লাগিল। হারাধন কৃশ ও দুৰ্ব্বল হইয়া পড়িলেন। তাহার প্রাণসংশয় হইল। তাহার প্রাণের আশা সকলে ছাড়িয়া দিল । অঙ্গুলিটির মূলাচ্ছেদ ব্যতীত আংটি কিছুতেই বাহির হইবে না। আংটি বাহির না হইলে হারাধন বঁচিবেন না। সুতরাং ইংরেজ ডাক্তার আনিয়া আঙুল কাটানই স্থির হইল। অজ্ঞান করিয়া আঙুল কাটা হইবে, সেই ভয়ে হারাধন ঘোর ভীত হইলেন। সন্ধ্যায় পর হারাধন শয়ন করিলেন। কিন্তু হয়! আঙুল আর কাটিতে হইল না। সেই রাত্রিতে হারাধনের যে মূৰ্ছা হইল, সে মূৰ্ছ আর কিছুতেই ভাঙ্গিল না। দেখিতে দেখিতে তাহার শ্বাসরোধ হইয়া গেল; হৃৎপিণ্ডের কাৰ্য বন্ধ হইয়া গেল। তাড়াতাড়ি ডাক্তার আনা হইল। ডাক্তার আসিয়া বলিলেন যে, হারাধন ইহলোক পরিত্যাগ করিয়াছেন। ଧ୍ରୁ ୫-visit sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 809 হারাধনের পিতা-মাতার আজ ঘোর সৰ্ব্বনাশ হইল। সংসার তীহাদের আজ শ্মশানভূমি হইল। পিতা ঘন ঘন নিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া অশ্রুবিসৰ্জ্জন করিতে লাগিলেন; মাতা বক্ষে করাঘাত করিয়া, মাটিতে পড়িয়া কাঁদিতে লাগিলেন। ডাক্তার বলিলেন বটে যে, হারাধনের মৃত্যু হইয়াছে, কিন্তু জীবিত শরীরের ন্যায় তাহার দেহে এখনও উত্তাগ ছিল। ডাক্তার বলিলেন,- “কোন কোন মৃতদেহে এরূপ উত্তাপ থাকে।” এই কথা বলিয়া ভিজিট লইয়া তিনি প্ৰস্থান করিলেন। পঞ্চম পরিচ্ছেদ শ্মশানভূমি সেই রাত্রিতেই হারাধনের দেহ শ্মশানভূমিতে নীত হইল। চিতা সজ্জিত হইল, চিতায় অগ্নি প্রদত্ত হইল। কিন্তু আগুন কিছুতেই ধরিল না। তিনবার সকলে চেষ্টা করিলেন, তিনবার আগুন নিবিয়া গেল। হারাধনের দেহ শীতলও হইল না। তাঁহাকে লইয়া যাহারা শ্মশানে গিয়াছিলেন, তাহদের মধ্যে কোন কোন লোকের মনে ঘোর আতঙ্ক झंट्रेल । একজন বলিলেন, —দেখ “ভাই! ছোকরা রে রল না, কোথা হইতে এক আংটি আসিয়া ইহার প্রাণবধ করিল। তাহার পর চিতুষ্কৰ্মগুন ধরিল না; মৃতদেহ যেরূপ শীতল হয়, সেরূপ শীতল হইল না! আর একটি আশ্চৰ্যবিষয় দেখ, ছোকরার মুখশ্ৰী কিছুমাত্র পরিবৰ্ত্তিত হয় নাই, ঠিক যেন নিদ্রা যাইতেছে! এধঃ ক ব্যাপার। চল ভাই! আপনার আপনার প্রাণ লইয়া পলায়ন করি।” ଦ୍ବିତ এই বলিয়া কেহ কেহ পলাইবার উপক্ৰম করিলেন। কিন্তু সেই দলে দুই-তিন জন সাহসী পুরুষ ছিলেন। কাহাকেও তাঁহারা পলায়ন করিতে দিলেন না। ভালরূপ উদ্যোগ করিয়া পুনরায় তাহারা চিতায় অগ্নিপ্ৰদান করিলেন। এইবার চিতা দাউ দাউ করিয়া জ্বলিয়া উঠিল। চিতার অধোদেশে হু-হু শব্দে অগ্নিশিখা উত্থিত হইল। সকলেই বুঝিল যে, এইবার সেই সুকুমার যুবার কোমল দেহ অল্পক্ষণের মধ্যেই ভস্মীভূত হইয়া যাইবে। কিন্তু এ সময় আর একটি বিচিত্র ঘটনা ঘটিল। এই সময়, সেই রাত্রিকালে, সেই শ্মশানে, কোথা হইতে এক কামিনী আসিয়া সহসা উপস্থিত হইল। যৌবন প্ৰস্ফুটিতপ্ৰায়; পঞ্চদশবষীয়া পরম রূপবতী কামিনী সহসা সেই শ্মশানভূমিতে আসিয়া আবির্ভূত হইল। তাহার রূপের ছটায় সেই অন্ধকার নিশি যেন আলোকিত করিল। ব্যগ্রভাবে কামিনী পাগলিনীর ন্যায় হাত তুলিয়া কি যেন বলিল। ΚΧ উপস্থিত ব্যক্তিগণ কেহ বা ঘোর ভয়ে ভীত হইলেন, কেহ বা স্তম্ভিত হইলেন, কেহ বা সাষ্টাঙ্গে প্ৰণাম করিলেন। হাত যোড় করিয়া একজন বলিলেন,- “মা! তুমি কে তা বল? কি জন্য এ ঘোর নিশিতে এ শ্মশানভূমিতে তোমার আগমন হইয়াছে?” 8の8 fitRig sniž3. g3 ze! A www.amarboi.com%”"***"***** ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ বিমলা যে কন্যাকে হারাধন স্বপ্নে দেখিয়াছিলেন, যাহার সহিত তাহার হাওড়া ষ্টেশনে সাক্ষাৎ হইয়াছিল, যাহার হাত হইতে আংটি আসিয়া হারাধনের অঙ্গুলিতে লাগিয়া গিয়াছিল,— সেই কন্যার নাম বিমলা। তাঁহার পিতার নাম রমানাথ চট্টোপাধ্যায়, নিবাস শ্ৰীরামপুরের নিকট একখানি গ্রামে। কন্যার বিবাহে ইহাদের অনেক টাকা খরচ হয়। কিন্তু রমানাথ দরিদ্র। কন্যাদায়ে রমানাথ বিপন্ন হইলেন। কেবল বিমলা নয়, তাহার আর একটি ছোট কন্যা ছিল, তাহার নাম কমলা। অনেক কষ্টে রমানাথ এক স্থানে বিমলার বিবাহের সম্বন্ধ করিলেন, কিন্তু কি কারণে সে সম্বন্ধ ভাঙ্গিয়া গেল। দেখিতে দেখিতে বিমলা দ্বাদশ বৎসর পদার্পণ করিল; যৌবন অঙ্কুরিত হইল। পিতার ঘোর দুর্ভাবনা উপস্থিত হইল। কিছুদিন পরে আর এক স্থানে সম্বন্ধ স্থির হইল; কিন্তু দৈবক্রমে তাহাও ভাঙ্গিয়া গেল। পুনরায় তৃতীয় স্থানে স্থির হইল; সব ঠিকঠাক, বিবাহের দিন পৰ্যন্ত নির্দিষ্ট হইল, কিন্তু বিবাহের পূর্বদিন ভাবী জামাতা বিসূচিকা রোগে হঠাৎ কালগ্ৰাসে পতিত হইলেন। বিমলা-বিষয়ে একটি দুর্নােম রটল। “ঐ যে অপূৰ্ব্ব অলৌকিক রূপ, উহা ভাল লক্ষণ নহে, বিধবা হইবার লক্ষণ । ঘরে এত রূপ কেন?” ফলকথা, বিমলা বড় অপয়া মেয়ে—চারিদিকে এইরূপ জনরব। । সেই দিন হইতে পিতা আর কোন স্থানে তাহার বিবাহ স্থির করিতে পারিলেনুপ্তর্ষিস সেই অপয়া কন্যার সহিত কেহই আপনার পুত্রের বিবাহ দিতে সম্মত হইল না। এই সময়ে বিমলাদের বাড়ী কোথা হইতে সন্ন্যাসী আসিয়া অতিথি হইয়াছিলেন। বিমলার পিতা দুঃখী হইলেও সাধুসঙ্গ ভূঙ্গিলবাসিতেন; যথাসাধ্য সাধুসন্ন্যাসীর পরিচর্য্যা করিতেন। সপরিবার শ্রদ্ধাযুক্ত হইয়া, তিটি সেই সন্ন্যাসীর সেবা করিলেন। অপরাহে, বিমলার মাতা কন্যার হাত ধরিয়া সন্ন্যাসীর র্সম্মুখে উপস্থিত হইলেন ও বলিলেন, — “বাবা, আমার এ কন্যাটির কি কখন বিবাহ হইবে না?” সন্ন্যাসী, বিমলার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিয়া উত্তর করিলেন, — “তোমার এ কন্যাটির ভাল ঘরেই বিবাহ হইবে, তবে ফুল ফুটিতে এখনও বিলম্ব আছে। যে ঘরে বিবাহ হইবে, সে ঘরে তোমাদের কন্যা সহজে পড়ে না। সৰ্ব্বস্ব বেচিয়া দিলেও সে সুপােত্র কিছুতেই তোমরা লাভ করিতে পরিবে না। কিন্তু আমি এই অঙ্গুরীটি তোমার কন্যাকে দিলাম। বামহস্তে সে ইহা ধারণ করবে। ইহার ভিতর আংটিাবীর আছেন। সেই আংটিাবীরের প্রসাদে ও তাঁহার তাড়নায় তোমার কন্যা সেই সুপাত্র লাভ করিবেন!" আংটি প্রদান করিয়া সন্ন্যাসী প্ৰস্থান করিলেন। যেদিন বিমলা আংটি ধারণ করিল, সেইদিন হারাধনের মুখশ্ৰী চিন্তাপথে উদিত হইয়া, তাহার মানসপটে অঙ্কিত হইল। সেই রাত্ৰিতে সে হারাধনকে পুনরায় স্বপ্লজগতে দর্শন করিল। বিমলা স্বপ্নে দেখিল যে, তাহার বিবাহের নিমিত্ত পিতা স্বয়ম্বরসভা আহবান করিয়াছেন। রাজগণ ঘটের মত সারি সারি বসিয়া আছেন। মাল্যচন্দন লইয়া যখন সে বাহির হইল, তখন “আমাকে দাও, আমাকে দাও"। বলিয়া একটা চীৎকার পড়িয়া গেল। একপার্শ্বে মলিনবদনে মানসকল্পিত সেই ব্ৰাহ্মণযুবক বসিয়াছিলেন। বিমলা তাঁহার গলায় মাল্য প্ৰদান করিল। ঘোর কোলাহল উপস্থিত হইল। সেই কোলাহলে বিমলার নিদ্রাভঙ্গ হইল। বলা বাহুল্য যে, ঠিক সেই রাত্রিতে হারাধনও মানস-ক্ষেত্রে বিমলাকে প্ৰথম দৰ্শন করিয়াছিলেন ও

  • |-ձյթ]] 8o0

sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ঠিক সেই রাত্ৰিতে তিনিও ঐরাগ স্বয়ম্বরের স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন। আংটিাবীর এইরূপে ঘটকালী করিলেন । বিমলা সেই বরের প্রতীক্ষায় দিনযাপন করিতে লাগিল। বাটীতে কোন অপরিচিত লোক আসিলেই সে একমনে তাঁহার কথাবাৰ্ত্তা শ্রবণ করিত। মনে করিত, যাঁহাকে আমি স্বপ্নে দর্শন করিয়াছি, এইবার বুঝি তিনি আসিয়াছেন। কিন্তু মুখ ফুটিয়া কাহাকেও কোন কথা বলিত না। সে নিমিত্ত পিতা-মাতা উদ্বিগ্ন হইলেন না। কুলীনের ঘরে এরূপ হয়, এই বলিয়া মনকে প্ৰবোধ দিলেন। সন্ন্যাসীর আশীৰ্ব্বাদে তাঁহাদের প্রগাঢ় ভক্তি ছিল। কন্যার বর যে আপনি আসিয়া জুটিবে, সে বিষয়ে তাঁহাদের কিছুমাত্র সন্দেহ ছিল না। কনিষ্ঠা কন্যা কমলার বিবাহের নিমিত্ত তাহারা চেষ্টা করিতে লাগিলেন। মনে করিলেন যে, বিমলার বর আসিলেই একসঙ্গে দুই কন্যার বিবাহ দিব। গত বৎসর প্লেগের হিড়িক হইবার পূৰ্ব্বে, বিমলার পিতা সপরিবারে কোন ক্রিয়া উপলক্ষে কলিকাতায় এক আত্মীয়ের বাড়ী আসিয়াছিলেন। বাড়ী ফিরিবার সময় ষ্টেশনে যাহা ঘটিয়াছিল, তাহা পূৰ্ব্বে কথিত হইয়াছে। হারাধন বিমলাকে গাড়ীর ভিতর ঠেলিয়া দিলেন। গাড়ীর ভিতর প্ৰবেশ করিয়া বিমলা একটি দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করিল। “কে আমার প্রাণরক্ষা করিল,” তাহা দেখিবার নিমিত্ত সেই মুহূৰ্ত্তে একবার সে ষ্টেশনের দিকে দৃষ্টিপাত করিল। নিমেষকালের নিমিত্ত দুই জনের চারি চক্ষু এক হইল। কিন্তু গাড়ী তখন বেগে চলিতেছিল। নিমেষের মধ্যে গাড়ী দূরে গিয়া পড়িল। বিমলা আর হারাধনকে দেখিতে না। বাটী ফিরিয়া গিয়া সেই দিয়াছিলেন, সেই রাত্রিতে আমি এক কতবার তাঁহাকে স্বপ্নে দেখিয়াছি। সন্ন্যাসী আমি হাওড়া ষ্টেশনে দেখিয়াছিলাম। করিয়াছেন। আর দেখিতেছি, হইয়া গিয়াছিল যে, আপনা। আপনি কোন একটা ঘটনা ঘটিবোঁ । কমলা সেই কথা মাতাকে বলিল। সন্ন্যাসীর বাক্য মিথ্যা হইবার নহে, এই মনে করিয়া পিতামাতা সাতিশয় আনন্দিত হইলেন। সে আংটি নাই। আংটি আমার আঙ্গুলো এত কসা য়া পড়া সম্ভব নহে। সন্ন্যাসীর বরে শীঘ্রই বোধ হয়, সপ্তম পরিচ্ছেদ আরসী এদিকে হারাধন আংটির জ্বালায় অস্থির হইলেন, ওদিকে বিমলা ঘন ঘন তাঁহাকে স্বপ্নে দেখিতে লাগিল। বিমলার চিত্ত সাতিশয় চঞ্চল হইল। শীঘ্রই কিছু একটা ঘটিবে, এই চিন্তা রাত্ৰি-দিন তাহার মনে জাগিতে লাগিল। এইরূপে কিছুদিন গত হইল। একদিন সন্ধ্যার পূৰ্ব্বে আরসীখানি সম্মুখে রাখিয়া বিমলা চুল বঁাধিতেছিল। সহসা আরসীর ভিতর সে নিজের মুখ না দেখিয়া Bob দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~) www.amarboi.com"ডািকনীৰ "ট"**** হারাধনের মুখ দেখিতে পাইল। চমকিত হইয়া পশ্চাৎদিকে ও আশে-পাশে চাহিয়া দেখিল। কেহ কোথাও নাই। বিস্মিতা হইয়া পুনরায় আবৃলীির দিকে সে চাহিয়া দেখিলা; তাহার ভিতর পুনরায় হারাধনের মুখ দেখিতে পাইল। পূৰ্ব্বে যেরূপ স্বপ্নে দেখিয়াছিল, ষ্টেশনে শরীরী অবস্থায় তাহাকে যেরূপ দেখিয়াছিল, এখন সেরূপ নয়। তাঁহার শরীর কৃশ হইয়া গিয়াছে, মুখ মলিন হইয়া গিয়াছে, ভয়ে ও চিন্তায় তাহার মুখখানি যেন আচ্ছন্ন হইয়া পড়িয়াছে। বিমলা আবার চারিদিকে চাহিয়া দেখিল, কিন্তু সে ঘরে অন্য কাহাকেও দেখিতে পাইল না। পুনরায় সে আবৃদীির দিকে চাহিয়া দেখিল। এবার দেখিল যে ঘোর সর্বনাশ ঘটিয়াছে। হারাধনের দেহ তাহাদিগকে বুঝাইতেছেন। ভয়ে বিহ্বল হইয়া বিমলা আবৃগী হইতে মুখ ফিরাইয়া লইল । কিন্তু অধিকক্ষণ থাকিতে পারিল না, পুনরায় তাহার দৃষ্টি আবৃগীর উপর আপনা। আপনি পড়িল। এবার আরও ভীষণ দৃশ্য তাহার নয়নগোচর হইল। এবার সে দেখিল যে, ঘোর অন্ধকার রজনী, নিকটে গঙ্গা কুল-কুল শব্দে প্রবাহিতা হইতেছেন, চারিদিকে ছিন্ন বস্ত্ৰ, শূন্য কলস, কৃষ্ণবর্ণের কয়লা, শুভ্ৰবর্ণের নরমুণ্ড পড়িয়া রহিয়াছে। ভীষণ শ্মশানভূমি। হারাধনের দেহ শুভ্ৰবর্ণের বস্ত্র দ্বারা আবৃত হইয়া পড়িয়া আছে। চিতা সজ্জিত হইতেছে। ভয়ে বিমলা চক্ষু মুদ্রিত করিল, মন তাহার কাতর হইল, বুক টিপা-টিপ করিতে লাগিল। চক্ষু দিয়া ফোঁটায় ফোঁটায় জল পড়িতে লাগিল। “হে সন্ন্যাসী! হে বাবা! অবশেষে তুমি এ কি করিলে?” এই বলিয়া চক্ষু বুজিয়া বিমলা কাঁদিতে লাগিল। কিন্তু চক্ষু বুজিয়া অধিকক্ষণ সে থাকিতে পারিল না। কাঁদিতে কাঁদিতে পুনৰ্ব্বার আরসীর দিকে । অশ্রুজলে নয়ন দুইটি ভাসিয়া যাইতেছিল। প্রথম সে কিছুই দেখিতে পাইল গ্ৰন্থ চক্ষু মুছিয়া পুনরায় সে আবৃদীির দিকে দৃষ্টিপাত করিল। এবার তাহার ভিতুৰ্ব্ব বহু মুণ্ডধারী, বহু হস্তসম্পন্ন, ছাগপদবিশিষ্ট, দানবাকৃতি এক মূৰ্ত্তি সে দর্শন করিল। অষ্টম পরিচ্ছেদ পুনর্জীবন বাহিরে যে বস্তু থাকে, আবৃনীতে তাহার প্রতিবিম্ব পড়ে। সম্মুখে বসিয়া বিমলা চুল বঁাধিতেছিল, আবৃগীতে তাঁহারই ছায়া পড়বার কথা। তা না হইয়া আবৃগীর ভিতর নূতন নূতন দৃশ্য আপনা আপনি আবির্ভূত হইতে লাগিল। প্রথম হারাধন, তাহার পর শ্মশান, তাহার পর আংটিাবীর; বিমলা যতবার আবৃলীির দিকে দৃষ্টিপাত করিল, ততবার নূতন নূতন বিষয় সে দেখিতে পাইল । বিমলা আৱাসীর ভিতর আংটি বীরকে দেখিল। আংটিাবীর হাত তুলিয়া তাহাকে যেন বলিল,— “যাও, যাও! শীঘ্ৰ যাও।” এইরূপ আদেশ প্ৰাপ্ত হইয়া বিমলার আর কিছুমাত্র জ্ঞান-চৈতন্য রহিল না। এখন হইতে সে আর আত্মবশে রহিল না। এখন হইতে সে কি করিল, সে কথা কিছুই সে জানে না। পরে অনেকে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখিয়াছিল। সে বলে যে,- “আবৃনীর ভিতর আমি

  • 3-i-vitii 8のR

sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro আংটিাবীরকে দেখিলাম। দেখিয়া, আমি বড় ভয় পাইলাম। কিন্তু আংটিাবীর অতি ব্যস্তভাবে হাত তুলিয়া— যাও, যাও, শীঘ্ৰ যাও!” আমাকে এইরূপ আদেশ করিলেন। তাঁহার কথার শব্দ আমি শুনি নাই, তবে তাঁহার মুখের ভাবে আমি বুঝিলাম যে, তিনি আমাকে এইরূপ আদেশ করিতেছেন। তাহার পর কি হইল, আমি কোথায় যাইলাম, কি করিলাম, সে বিষয় আমি কিছুমাত্ৰ জানি না, আমার কিছুমাত্ৰ মনে নাই।” আংটিাবীরের আদেশ পাইয়া বিমলা এলোথোলো বেশে পাগলিনীর প্রায় হইয়া দাঁড়াইল । চুল বঁধিবার সাজসজ্জা ও আবুলী সেই স্থানে পড়িয়া রহিল। তখন সন্ধ্যা হইয়া আসিয়াছে। রুদ্ধশ্বাসে দ্রুতবেগে সে বাড়ী হইতে বাহির হইল । ঘটনাচক্ৰে কাহারও সহিত তাহার সাক্ষাৎ হইল না, কেহ তাহাকে নিবারণ করিল না। নিশি-ভূতে মানুষকে রাত্রিকালে ঘর হইতে বাহির করিয়া অজ্ঞান অবস্থায় যেরূপ নানাস্থানে লইয়া যায়, বিমলাকে লইয়া আংটিাবীরও সেইরূপ করিল। অজ্ঞাত অপরিচিত পথে বিমলা দ্রুতবেগে চলিতে লাগিল। অজ্ঞান অবস্থায় পাঁচ-ছয় ক্রোশ পথ চলিয়া অবশেষে ঘোর রাত্রে সেই অপরিচিত শ্মশানভূমিতে আসিয়া সে উপস্থিত। হইল। চিতায় যখন সবেমাত্র আগুন ধরিয়াছে, চিতার অধোদেশ হইতে যখন অগ্নিশিখা উঠিতেছে, ঠিক সেই মুহুৰ্ত্তে বিমলা আসিয়া শ্মশানে উপস্থিত হইল। নিতান্ত উতলা হইয়া, হাত তুলিয়া, বিমলা বলিল,— “রও! অগ্নি শীঘ্ৰ নিৰ্ব্বাণ কর।” সেই ঘোর নিশীথে, সেই শ্মশানভূমিতে, সহসা চিতায় পার্শ্বে এক রূপবতী যুবতীকে দেখিয়া, সকলেই ভয়ে ভীত হইলেন। কিন্তু কাহারও সাহসী হইল না । একজন হাতযোড় করিয়া সতয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন, — “মা, তুমিষ্টকে, তা বল।” নিতান্ত উতলা হইয়া বিমলা বলিল,- নিৰ্ব্বাণ করা। চিতা হইতে শীঘ্ৰ ইহাকে বাহির করা। ইনি মরেন নাই, ইনি জীবিত |” এই কথা বলিয়া বিমলা নিজে চিতা হইতে জুলন্ত কাষ্ঠ লইয়া দূরে নিক্ষেপ্তষ্করিতে লাগিল। তখন আর সকলেও তাড়াতাড়ি অগ্নি নিৰ্ব্বাণ করিয়া ফেলিলেন ও হাঃ দেহ ভিতর হইতে বাহির করিয়া মাটিতে শায়িত করিলেন। ভাগ্যে অগ্নি তখনও চিতার উপর দিকে যায় নাই। নতুবা হারাধনের দেহ নিশ্চিত কিছু না কিছু পুড়িয়া যাইত। যাহা হউক, হারাধনের দেহে অগ্নি স্পর্শ পৰ্যন্ত করে নাই। বিমলা ধীরে ধীরে হারাধনের নিকট গিয়া বসিল, ধীরে ধীরে তাঁহার অঙ্গুলি হইতে আংটি খুলিয়া লাইল। যে অঙ্গুরীয় স্বর্ণকার, কৰ্ম্মকার প্রভৃতি কত লোক কত টানাটানি করিয়াও খুলিতে পারে নাই, আজ বিমলা একটু ছুইবামাত্র সেই আংটি খুস করিয়া খুলিয়া আসিল। কিন্তু সেই সময় হইতে আংটি যে কোথায় গেল, তাহার কিছু ঠিক নাই। তখন হইতে সে আংটি আর কেহ দেখে নাই। বিমলা যেই আংটি খুলিয়া লইল, আর সেই মুহুৰ্ত্তে হারাধন একটি নিশ্বাস পরিত্যাগ করিলেন। তাঁহার শ্বাস-প্ৰশ্বাস প্রবাহিত হইতে লাগিল, তাঁহার হৃৎপিণ্ডের কার্য্য পুনরায় আরম্ভ হইল। একবার তিনি চক্ষু চাহিয়া দেখিলেন, কিন্তু পুনরায় তৎক্ষণাৎ চক্ষু মুদিত করিলেন। তাহার জ্ঞান কিন্তু এখনও হইল না। “হারাধন!! হারাধন!! করিয়া সকলে উচ্চৈঃস্বরে ডাকিতে লাগিলেন, কিন্তু তিনি উত্তর করিলেন না। যাহা হউক, সকলে এখন বুঝিতে পারিলেন যে, হারাধন পুনরায় জীবনলাভ করিয়াছেন। কিন্তু আশ্চর্য্যের কথা এই যে, যে মুহূৰ্ত্তে বিমলা হারাধনের অঙ্গুলি হইতে অঙ্গরীয় খুলিয়া লইল, সেই মুহূৰ্ত্তে আংটি তাহার হাত হইতে অন্তৰ্হিত হইয়া গেল, আর সেই মুহূৰ্ত্তে বিমলাও মূৰ্ছিত হইয়া ভূতলে পতিত হইল। মুখে-হাতে জল দিয়া সকলে তাহার চেতনা করিতে চেষ্টা "3cr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicom.5° করিলেন, কিন্তু বিমলার কিছুতেই জ্ঞান হইল না। হারাধন ও বিমলা দুই জনেই অচেতন হইয়া পাশাপাশি সেই শ্মশানভূমিতে পড়িয়া রহিলেন । এরূপ অদ্ভুত ঘটনা কেহ কখনও গল্পেও শ্রবণ করে নাই, চক্ষে দেখে তো দূরের কথা! সকলেই ঘোরতর বিস্মিত হইলেন। কোথা হইতে সে রাত্ৰিতে সে পরমাসুন্দরী কামিনী আসিয়া এরূপ কাণ্ড করিল, কেহই তাহা জানিতে পারিলেন। না। এক্ষণে কি কৰ্ত্তব্য, তাহাও কেহ বুঝিতে পারিলেন না! অবশেষে দুই জনকেই তাহারা খাটিয়া করিয়া হারাধনের বাটী লইয়া গেলেন। তখন প্ৰাতঃকাল হইয়াছে। বলা বাহুল্য যে, এই ঘটনা লইয়া ঘোর কোলাহল পড়িয়া গেল। পুত্ৰকে পুনঃপ্রাপ্ত হইয়া, হারাধনের পিতা-মাতা যারপরনাই আনন্দিত হইলেন বটে, কিন্তু তখনও হারাধনের জ্ঞান হয় নাই, তখনও ভয়ের কারণ বিলক্ষণ ছিল। পূর্ণমাত্রায় তাঁহাদের আহাদ अङ्ग्रेव्ज ना । তৎক্ষণাৎ বড় বড় ডাক্তার আনাইয়া হারাধনের পিতা দুই জনের বিধিমত চিকিৎসা করাইতে লাগিলেন। তিনি সঙ্গতিপন্ন লোক ছিলেন, হারাধন ও বিমলার প্রাণরক্ষার নিমিত্ত অকাতরে অর্থব্যয় করিতে লাগিলেন। দুই জনেই নিদারুণ জ্বর-বিকার দ্বারা আক্রান্ত হইলেন। অজ্ঞান অবস্থায় দুই জনেই প্ৰলাপ বকিতে লাগিলেন। সেই প্ৰলাপের দুই-একটা কথা শুনিয়া, হারাধন ও বিমলার স্বপ্ন-দর্শন প্রভৃতি অদ্ভুত কাহিনীর কতকটা আভাস সকলে পাইলেন। তবে প্রকৃত ঘটনা যে, কি ঘটিয়াছিল, তাহা কেহ বুঝিতে পারিলেন না! বিমলা যে কে, তাহাও কেহ জানিতে পারিলেন না । তখন সে সকল ভাবনা ভাবিবাঙু সময় ছিল না। দুই জনেরই পীড়া অতি ভয়ানক হইয়া উঠিয়াছিল; অনেক সময় তাঁহাৰ্ন্তেজীবনের আশা একেবারেই পরিত্যাগ করিতে হইয়াছিল। কিন্তু বয়সের বলে হউক, স্বৰ্গ চিকিৎসার গুণেই হউক, দুই জনেই সে যাত্রা রক্ষা পাইলেন। তবে একবিংশতি দিনপ্রার্থী রহিলেন। বাইশ দিনের দিন দুই জনেরই জ্ঞান হইল । নবম পরিচ্ছেদ ফলশ্রুতি বিমলার জ্ঞান হইলে, সকলে তাহার পরিচয় পাইলেন। হারাধনের পিতা তৎক্ষণাৎ তাহারা পিতাকে পত্ৰ লিখিলেন। বিমলার পিতা কন্যার অনুসন্ধান করিতে আর বাকি রাখেন নাই। আহারনিদ্ৰা পরিত্যাগ করিয়া রাত্ৰি-দিন তাহাকে খুঁজিতেছিলেন। মাতা ও ভগিনী কমলা, দিবারাত্র তাহার নিমিত্ত কাদিতেছিলেন । বিমলার সংবাদ পাইয়া তৎক্ষণাৎ তিন জনেই হারাধনের বাড়ী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। বিমলার পিতার সহিত হারাধনের পিতার ও বিমলার মাতার সহিত হারাধনের মাতার সাতিশয় সদ্ভাব ও প্ৰণয় হইল । বিমলা ও হারাধন ক্রমে সুস্থ ও সবল হইলেন। বিমলা ও হারাধনের গল্প আদ্যোপান্ত ক্ৰমে সকলেই শুনিলেন। আংটি বীরের কথা লইয়া অনেক স্থানে অনেক রূপ বাদানুবাদ উপস্থিত হইল। কেহ বলিলেন, সে দেবতা, কেহ বলিলেন সে ভূত; কিন্তু হাঁদাই মোল্লা বলিলেন যে, সে ೪-೩Ï Boy sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro দেবতাও নয়, সে ভুতও নয়, সে একজাতীয় ইফ্রিট । মাথনতোষ, অর্থাৎ ম্যাকিন্টিস নামে একজন ইংরেজের কানে একথা উঠিলে, তিনি সিদ্ধান্ত করিলেন যে, আংটিাবীর একপ্রকার জীব, পিরিনি-পৰ্ব্বতে একবার এইরূপ জীবের কঙ্কাল বাহির হইয়াছিল। যাহা হউক, বিমলার রূপ, গুণ ও নম্র প্রকৃতি দেখিয়া সকলেই মুগ্ধ হইলেন। হারাধনের তো কথাই নাই! যে রত্ন লাভ করিবার নিমিত্ত তিনি এত যন্ত্রণা সহ্য করিয়াছেন, যাহার জন্য তাঁহার প্ৰাণ পৰ্যন্ত যাইতে বসিয়াছিল, আজ তাঁহাকে পাইয়া তিনি যে অপাের সুখসাগরে নিমগ্ন হইবেন, সে আর বিচিত্র কি? বিমলার মনের ভাবও সেইরূপ। স্বপ্নে সে স্বইচ্ছায় হারাধনকে বরণ করিয়াছিল। এক্ষণে প্রকৃত অবস্থায় তাঁহাকে দর্শন করিয়া সে আপনার জীবন সার্থক জ্ঞান করিল। এই সময় হারাধনের এক ধনবান বন্ধু কমলার রূপে মুগ্ধ হইলেন। দুই ভগিনীর একদিনে বিবাহ হইবে, তাহার আয়োজন হইতে লাগিল। মনের সুখে, স্নেহের ভরে, যখন দুই ভগিনী-গলা-জড়ােজড়ি করিয়া কথাবাৰ্ত্ত কহিত, তখন এই পাপময় সংসারে এক অপূৰ্ব্ব শোভার আবির্ভাব হইত। শুভদিনে, শুভক্ষণে, শুভকাৰ্য সুসম্পন্ন হইল। বিমলার পিতার অধিক খরচ হইল না, অথচ একদিনে তিনি দুইটি কন্যার দায় হইতে মুক্ত হইলেন। মনের মত দুইটি জামাতা পাইয়া বিমলা ও কমলার মাতা পরমসুখে তাহাদিগকে বরণ করিলেন। বিমলা ও কমলার শরীরে যেখানে যাহা ধরিল, বহুমূল্য অলঙ্কারে সমুদয় শরীর বিভূষিত হইল। তাঁহাদের ঐশ্বৰ্যের সীমা রহিল না। পরমসুখে তাহারা দিনযাপন করিতে লাগিল। মুণ্ড মহাশয়! আমি শুনিয়াছি যে, এই গল্পটির আছে। কারণ, ইহা সন্ন্যাসিপ্রদত্ত ভীেতিক গল্প। ইহা পাঠ করিলে কি শ্ৰব্ৰুণ৯াির্করিলে, কন্যাদায়গ্ৰস্ত ব্যক্তিগণ কন্যাদায় §§§နှီဇို့စ္သိန္နီဖါးနှီးနှီး অবিবাহিতা কন্যাগণ মনের মত পতি প্রােষ্ট্ৰী, নানা ভূষণে ভূষিত হইয়া কাজ করা সাটিনের জ্যাকেট পরিয়া, গরবে গরীবণী হাইড্ৰ'গ্লুটাের মত বসিয়া নাটক-নবেল পড়িয়া কালযাপন করিতে থাকেন। মুণ্ড মহাশয়। ইহা হইতে আর একটি উপদেশ লাভ করিতে পারা যায়। লোকের মৃত্যু হইলে তৎক্ষণাৎ দাহ করা উচিত নহে। শ্বাসরোধ ও হৃৎপিণ্ডের কাৰ্য বন্ধ হইলেই যে, লোকের মৃত্যু হইয়াছে, একথা নিশ্চয় করিয়া বলিতে পারা যায় না। হারাধনের মত কখন কখন লোক মৃত্যুবৎ হইয়া পড়িয়া থাকে। পরে তাহাদিগের পুনরায় চেতন হয়। দেহের কঠিনতা ও পচনচিহ্নের আরম্ভ, এই দুইটি মৃত্যুর নিশ্চিত লক্ষণ। আমাদের দেশে দেহ ভক্ষ্মীভূত হইয়া যায়। হারাধনের মত ঘটনা ঘটিলে তাহা আর ধরিবার উপায় থাকে না। ভ্ৰমক্ৰমে কখন কখন মৃত্যুবৎ জীবন্ত মানুষকে যে ভূমিসাৎ করা হয়, বিলাতের লোক তাহার ভূরি ভুরি প্রমাণ পাইয়াছেন। সে স্থানে তবু একদিন দুই দিন পরে কবর দিবার রীতি প্ৰচলিত আছে। আমাদের এ উষ্ণপ্ৰধান দেশ। এ স্থানে তত বিলম্ব করিতে পারা যায় না। কিন্তু দ্বাদশ দণ্ড অপেক্ষা করিয়া সৎকার করিলে বােধ হয় কোন ক্ষতি হয় না । 8So দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon Sier কেন এত নিদয় হইলে প্ৰথম অধ্যায় নটাবর দাস নটাবর দাস জাতিতে কায়স্থ, নিবাস কলিকাতা, সৌখিন যুবক, বয়স বাইশ বৎসর। প্রায় এক বৎসর হইল নটবরের পত্নীবিয়োগ হইয়াছে। পুনরায় বিবাহ করিবেন, দুই-তিন স্থানে কন্যা দেখিতে গিয়াছিলেন, এখনও মনের মত স্ত্রীরত্ন লাভ হয় নাই। নটবর ভাবিলেন যে, পুনরায় সংসার-শৃঙ্খলে আবদ্ধ হইবার পূৰ্ব্বে একটু আমােদ করিয়া বেড়াই। ফিটুফাটু পোষাক পরিয়া তাই তিনি খড়দহে ফুলদোল দেখিতে গেলেন। রাত্রি দুইটার সময় নিদ্রার ঘোরে তাঁহার চক্ষু দুইটি আচ্ছন্ন হইয়া আসিল। সেই সঙ্গে ফুলদোলে তাঁহার অরুচি জনিল। কলিকাতা প্ৰত্যাগমনের মানসে ষ্টেশনে আসিলেন। গাড়ীতে তিল রাখিবার স্থান নাই, নটবর উঠিতে পারিলেন না। দু নটবর মনে করিলেন,—“পাঁচ ক্রোশ পথ বই তো নয়! এমন পূর্ণিমার রাত্রি, এমন দক্ষিণ বায়ু! হাঁটিয়া যাই।” ஜூ এইরূপ স্থির করিয়া তিনি বড় রাস্তা । কিন্তু পথ-চলা তাহার অভাস ছিল না। শীঘ্রই ক্লান্ত হইয়া পড়িলেন। রাত্রি প্রায় চারিন্ট্রির সময় বামদিকে একটি প্রশস্ত পথ দেখিয়া তিনি মনে করিলেন যে, এই রাস্তা দমদমা গিয়াছে। বাকি পথটুকু রেলগাড়ীতে যাইবেন, এইরূপ মানস করিয়া সেই বামদিকের পথ ধরিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ চলিয়াও নাটাবর দমদমার ষ্টেশন পাইলেন না। পথ ক্রমে সঙ্কীর্ণ হইয়া আসিল । কেবল বন ও বাগান। জনমানবের সহিত সাক্ষাৎ নাই। নটাবর বড় বিপদে পড়িলেন। আর পা উঠে না। নিতান্ত শ্ৰান্ত হইয়া এক গাছতলায় তিনি বসিয়া পড়িলেন। গাছতলায় বসিয়া আছেন, এমন সময় দূর হইতে আগত সুমধুর নারীকণ্ঠস্বর তাঁহার কর্ণকুহরে প্রবেশ করিল। কে যেন অতি মধুরস্বরে গান গাহিতেছে। গীতের কথাগুলি এইরূপ কেন এত নিদয় হইলে? অবসান নিশি, অস্ত গেল শশী, দাসীরে ভুলিয়া নাথ কোথায় রহিলে। এই পৰ্যন্ত নটাবর শুনিতে পাইলেন। পরীক্ষণেই ভয়ানক এক হৃদয়ভেদী চীৎকার হইল। অমানুষিক চীৎকার। সেই নিৰ্জ্জন স্থানে নটাবর একাকী। প্ৰাণে তাঁহার ঘোর আতঙ্ক উপস্থিত হইল। দ্রুতবেগে সে স্থান হইতে তিনি পলায়ন করিলেন। পুনরায় অনেক ঘুরিয়া-ফিরিয়া ষ্টেশন পাইলেন। প্ৰাতঃকালে কলিকাতা আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

  • ISi-*i 8.Σ.Σ.

sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro কলিকাতা আসিলেন বটে; কিন্তু নটাবরের মনে মনে সেই গীত, সেই অমানুষিক শব্দ সৰ্ব্বদাই জাগিতে লাগিল। “কেন এত নিদয় হইলে,” এই কথাগুলি যেন তাহার জপমন্ত্র হইল। কত চেষ্টা করিলেন, কিন্তু মন হইতে সে কথাগুলি কিছুতেই তিনি দূর করিতে পারিলেন না। নটবরকে যেন পাগল করিয়া তুলিল। নটাবর ভাবিলেন যে,- “কাহার সে গীত, কাহার চীৎকার, তদন্ত করিয়া মীমাংসা করিতে হইবে। তা না করিলে আমি পাগল হইয়া যাইব ।” এইরূপ মনে করিয়া, নটাবর তাহার পরদিন শিয়ালদহে গাড়ীতে উঠিয়া দমদমা গমন করিলেন। দমদমা ষ্টেশনে নামিয়া সেই স্থানটার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন; কিছুতেই খুজিয়া পাইলেন না, কিন্তু হতাশ হইলেন না। মাঝে মাঝে সৰ্ব্বদাই তিনি এই স্থানে আসিতে লাগিলেন। সেই নারীকণ্ঠস্বর পুনরায় শুনিবার প্রতীক্ষায় দিবাকালে ও রাত্রিকালে সৰ্ব্বদাই তিনি এই অঞ্চলে পথে পথে ঘুরিতে লাগিলেন। পুনরায় পূর্ণিমা আসিল। সেদিন অনেক রাত্ৰি পৰ্যন্ত নটাবর এই স্থানে ঘুরিতে লাগিলেন। রাত্রি দুই প্রহর হইল। নটাবর ক্লান্ত হইয়া পড়িলেন। নিকটে দুইটি বাগানবাড়ী দেখিতে পাইলেন। একটিতে বড় একখানি দোতলা বাড়ী, অপরটিতে ছোট একখানি একতলা অট্টালিকা আছে। দুই বাগানের মাঝখানে একটি মতিঝিল আছে, ঝিলের উপর এক স্থানে একটি পুল বা সঁকো আছে। এ-বাড়ী হইতে ও-বাড়ী যাইবার পথ ঐ পুলের উপর দিয়া গিয়াছে। দুইটি বাড়ীই খালি পড়িয়া আছে বলিয়া বোধ হইল। এ করিবার নিমিত্ত নটাবর ছোট বাগানটিতে প্ৰবেশ করিলেন । চাদরেখানি মাথায় ལུ་ཧ য়া কে একজন উকি-কুঁকি মারিতেছে। ঠু শব্দ হইল। গাড়ীখানি বাগান হইতে কিছু দূরে থামিল। অল্পক্ষিণ পরেই নটবর ক্টেী'যে, বাগানের ফটক পার হইয়া ত্রয়ােদশ কি চতুর্দশ বৎসরের এক বালিকা দ্রুতবেগে চলিয়া আসিতেছে। ঘোরতর বিস্ময়াপন্ন হইয়া নটাবর বরেণ্ডায় চুপ করিয়া পড়িয়া রহিলেন। বালিকা হনু-হন শব্দে আসিয়া একটি অশোক বৃক্ষের নিকট দাঁড়াইল। তাহার পর বাতাসাপূর্ণ একখানি সরা সেই বৃক্ষতলে রাখিয়া হাতযোড় করিয়া মনে মনে কি বলিতে লাগিল। যে লোকটা বাহির হইতে উকি মারিতেছিল, সেই সময় সে এক লফে প্রাচীর পার হইয়া বালিকার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইল। উজ্জ্বল শাণিত একখানি ছোরা বাহির করিয়া বালিকাকে সে বলিল,— “যদি চীৎকার করা কি একটি কথা কও, তাহা হইলে এখনি তোমাকে কাটিয়া ফেলিব। শীঘ্ৰ হাতের বালা দুইগাছি খুলিয়া দাও।” বালিকা ভয়ে কঁাপিতে লাগিল। শাণিত ছােরা দেখাইয়া লোকটা আরও ভয় দেখাইতে লাগিল। নটবর আর থাকিতে পারিলেন না। দৌড়িয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইলেন ও আপনার ছড়ির দ্বারা লোকটার হাতে নিদারুণ প্ৰহার-করিলেন। তাহার হাত হইতে ছােরা দূরে গিয়া পড়িল। সহসা সেই স্থানে অন্য একজন পুরুষ দেখিয়া লোকটা নিমিষের নিমিত্ত চমকিত ও স্তম্ভিত হইয়া রহিল। তাহার পর ছোরাখনি কুড়াইয়া এক লফে প্রাচীর পার হইয়া পলায়ন করিল। ভয়ে বালিকা কাপিতেছিল। হাত ধরিয়া নটাবর তাহাকে বারেণ্ডার ধারে আনিয়া বসাইলেন। আশ্বাস প্রদানপূৰ্ব্বক নটাবর তাঁহাকে বলিলেন,- “তোমার আর কোন ভয় 8YSq দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon 23 নাই। আমি চোর নই, আমি ভদ্রলোক। কি জন্য তুমি এই গভীর রাত্রিতে এই নিৰ্জ্জন স্থানে একাকী আসিয়াছিলে?” বালিকা ভয়ে কাঁপিতে লাগিল, কোন কথা কহিল না। কতক সাধ্যসাধনা করিয়া, কতক ভয় প্রদর্শন করিয়া, আস্তে আস্তে পশ্চাৎ লিখিত বিবরণটি নটবর সেই বালিকার মুখ হইতে বাহির করিলেন। — “বালিকার বাড়ী কলিকাতা, পিতার নাম পীতাম্বর বসু। পিতা ব্ৰহ্মদেশে কৰ্ম্ম করেন। কৰ্ম্ম ছাড়িয়া পিতা দেশে আসিতে পারেন নাই, সেজন্যও বটে, টাকার অভাবের জন্যও বটে, বালিকার আজ পৰ্যন্ত তিনি বিবাহ দিতে পারেন নাই। সম্প্রতি তিনি দেশে আসিয়াছেন। বালিকার মাতা জীবিত নাই। এক ভগিনী ছিলেন। বালিকা ভগিনীপতির বাটীতে সেই ভগিনীর নিকট থাকিতেন। আজ দেড়বৎসর সেই ভগিনী মারা পড়িয়াছেন। বালিকা বলিল যে, সে ভগিনীপতি অতি মন্দ লোক। কিন্তু পিতা তাহার সহিত বিবাহ স্থির করিয়াছেন। বালিকা এখন পিসীর নিকট থাকে। যাহাতে এই ভগিনীপতির সহিত বিবাহ না হয়, পিসী চেষ্টা করিতেছেন; কিন্তু পিতা সে কথা শুনিতেছেন না। মাঝের-গী নামক কোন এক স্থান হইতে সম্প্রতি তাঁহাদের বাটীতে একটি স্ত্রীলোক আসিয়াছিল। তাহার মাথায় একটি ভূত অধিষ্ঠান হয়। পিসীর চেষ্টায় সেই স্ত্রীলোক তাহার ভূতকে আহবান করে। ভূত আসিয়া বলিল যে, রাত্রি দুই প্ৰহরের সময় একাকী আসিয়া বালিকা যদি এই স্থানে সিন্নি প্ৰদান করে, তাহা হইলে ভগিনীপতির হাত হইতে অব্যাহতি পাইবে, ভাল বর তুলাপনি আসিয়া যাইবে। সেইজন্য সে আজ সিন্নি দিতে আসিয়াছিল। চাকর ও পিসী সঙ্গে । কিছুদূরে গাড়ী থামাইয়া তাহারা সেই গাড়ীতে বসিয়া আছেন। বালিকার রূপ দেখিয়া ও সুমিষ্ট কথা শুদ্ভিক্টোবরের মন মজিয়া গেল। নটাবর মনে মনে প্ৰতিজ্ঞা করিলেন যে, যদি ইহাকে হইলে এ প্রাণ রাখিব, না পাইলে এ প্রাণ বিসৰ্জ্জন দিব । আরও সবিশেষ পরিচয় জিজ্ঞাসা করি এমন সময় ফটকের ধারে একটি স্ত্রীলোক আসিয়া বলিল,— “স্বর্ণ, স্বর্ণ! এখনও হয় নাই?” “পিসীমা ডাকিতেছেন,” এই কথা বলিয়া বালিকা দ্রুতবেগে পলায়ন করিল। কি করিবেন। স্থির করিতে না পারিয়া, নটাবর কিছুক্ষণের নিমিত্ত স্তব্ধভাবে দাড়াইয়া রহিলেন। অবশেষে বলিয়া উঠিলেন,- “ঐ যা! বালিকার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করিতে ভুলিয়া গিয়াছি।” নটবর দৌড়িয়া বাগান হইতে বাহির হইলেন। গাড়ী তখন ছাড়িয়া দিয়াছে। দ্রুতবেগে গাড়ীর পশ্চাৎ পশ্চাৎ দৌড়িলেন। কিন্তু অবিলম্বেই শ্ৰান্ত হইয়া বসিয়া পড়িলেন। গাড়ী চলিয়া গেল । বালিকার পিতার নাম নটবরের মনে ছিল— পীতাম্বর বসু। কিছুদিন ধরিয়া কলিকাতায় অনেক সন্ধান করিলেন; কিন্তু তাঁহার সকল অনুসন্ধান বিফল হইল। পীতাম্বর বসুকে তিনি খুঁজিয়া পাইলেন না। ଝୁଞ୍ଜ-୩ଣୀ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro By দ্বিতীয় অধ্যায় নরমুণ্ড বিশেষরূপে তদন্ত করিবার নিমিত্ত একদিন নটাবর সেই বাগান আগমন করিলেন। একজন উড়িয়া মালীর সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ হইল। মালী বাগান খুঁড়িতেছিল। নটাবর তাহার পশ্চাতে আসিয়া দাঁড়াইলেন। সহসা কোদালি হাতে করিয়া মালী চুপ করিয়া দাড়াইল। একান্ত মনে কান পাতিয়া কি যেন সে শুনিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে আপনার মনে সে বিড়-বিড় করিয়া दलिब्न 3 অবসান নিশি, অস্ত গেল। শশী, দাসীরে ভুলিয়া নাথ কোথায় রহিলে।” ঘোরতর বিস্মিত হইয়া নটাবর তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তুমি ও কি বলিতেছ?” চমকিত ও রাগত হইয়া মালী উত্তর করিল,— “আমি যা বলি না কেন, তোমার সে কথায় কাজ কি?” মালীর নিকট হইতে নটাবর সে বালিকারও কোন সন্ধান পাইলেন না। নটাবর ভাবিলেন“এই মালীর মুখে সেই গীত আজ আমি পুনরায় শুনিলাম। ইহার নিগুঢ় তত্ত্ব আমাকে বাহির করিতে হইবে। কিছুদিনের নিমিত্ত এই বাটী ভাড়া ཉི་རྒྱུ་ ম। এ স্থানে বাস করিব। দেখি কি श!” এইরূপ স্থির করিয়া নটাবর মালীকে র নাম ও ঠিকানা জিজ্ঞাসা করিলেন। অবগত হইলেন যে, এই দুইখানি বাগানৰ্থ র। গোকুলবাবুর বাটীতে গিয়া নটবর ছােট বাড়ীখানি ভাড়া লইতে চাহিলোম্ব১ে বলিলেন যে, ও বাড়ীর অখ্যাতি আছে, সকলে বলে যে, ও বাড়ীতে ভূত আছিল আমার পুত্রবধূ সম্প্রতি ঐ বাটিতে মারা পড়িয়াছেন। নটাবর সে কথায় ভয় পাইলেন না। পুনরায় অতিশয় আগ্রহসহকারে বাড়ীটি প্রার্থনা করিলেন। অবশেষে বিনা ভাড়ায় সে বাটীতে বাস করিতে গোকুলবাবু তাঁহাকে অনুমতি প্ৰদান করিলেন । সন্ধ্যার সময় নটাবর বিছানাপত্ৰ লইয়া ও একজন চাকর সঙ্গে করিয়া সেই বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। বাড়ীখানিতে চারিটি ঘর ছিল। একটি ঘরে তালা বন্ধ ছিল। তাহাতে গৃহস্বামীর টেবিল, চৌকি, খাট প্রভৃতি দ্রব্যাদি ছিল। আর একটি প্রশস্ত ঘরের মেজেতে নটাবর আপনার বিছানা করিলেন। চাকরকেও এক পাশে তাহার বিছানা করিতে বলিলেন। নিদ্রা হইল না। রাত্রি দুই প্রহর হইল। অতিশয় গ্ৰীষ্ম বোধ করিয়া নটাবর বাহিরে বারাণ্ডায় আসিয়া শয়ন করিলেন। পদতলে বসিয়া চাকর তাঁহার পা টিপিতে লাগিল । সহসা চাকর বলিয়া উঠিল,- “ও কাহারা? মহাশয়! দেখুন, দেখুন, ও কি?” তাড়াতাড়ি নটাবর উঠিয়া বসিলেন। অশোকবৃক্ষের উত্তর দিকে আস্তাবল অথবা মালীর ঘরের মত একটু স্থান ছিল। নটাবর দেখিলেন যে, তাহার নিকট কৃষ্ণবর্ণ কাপড়ে আবৃত দুইটি মানুষ একসঙ্গে বেড়াইতেছে, আর আস্তাবলের ভিতর হইতে একটি স্ত্রীলোক উকি মারিতেছে। বৃক্ষের ছায়ায় সে স্থানটি অন্ধকারে আবৃত ছিল, নটবর ভাল করিয়া দেখিতে পাইলেন না। 8S8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarbojicom"3"o"oo"**** কিন্তু কৃষ্ণকায় সেই দুইটি মনুষ্যের চক্ষু হইতে গন্ধকের অগ্নির ন্যায় নীলবর্ণের অল্প অল্প অগ্নিশিখা বাহির হইতেছিল। সেই আলোকে নটাবর মানুষ তিনটিকে দেখিতে পাইলেন। আস্তাবল হইতে যে স্ত্রীলোকটি উকি মারিতেছিল, সে ঠিক যেন সেই বালিকার মত, যে বালিকার সহিত সেদিন তাহার সাক্ষাৎ হইয়াছিল। অন্ততঃ নটবরের মনে প্ৰথম তাহাঁই বোধ হইয়াছিল। কিন্তু পরীক্ষণেই তাঁহার সে বিশ্বাস দূর হইল। কৃষ্ণকায় দুই ব্যক্তির মুখ নিরীক্ষণ করিয়া দেখিলেন যে, জীবিত মানুষের মত তাঁহাদের মুখ নয়। মুখে মাংস কি চৰ্ম্ম কিছুমাত্র নাই, কেবল অস্থি, শ্মশানঘাটে যেরূপ নরমুণ্ড পড়িয়া থাকে, অনেকটা সেইরূপ, কিন্তু অতি ভয়ানক। তাহার পর তাহাদিগের চক্ষুকোিটর হইতে যে নীলবর্ণের অগ্নিশিখা নিৰ্গত হইতেছিল, তাহাও অতি ভয়ানক । চাকরি ভয়ে থর থর কঁাপিতে লাগিল। ভয়ে বাকশক্তিহীন হইয়াছিল, চীৎকার করিতে পারিল না। নটাবর নিজেও ঘোরতর ভীত হইলেন বটে, কিন্তু অনেকটা ধৈৰ্য ধরিয়া রহিলেন । হাত ধরিয়া চাকরকে ঘরের ভিতর আনিয়া তাহাকে বুঝাইতে লাগিলেন। নটাবর বলিলেন,- “নিকটে লোকের বাড়ী নাই যে, সে স্থানে পলাইব । মালী রাত্রিকালে এ বাটীতে শয়ন করে না। যে, তাহার কাছে যাইব । বাতি জ্বলিয়া দুই জনে আয়, সমস্ত রাত্রি জাগিয়া বসিয়া থাকি; তাহার পর সকালবেলা পলাইব। ভূতে মানুষ খায় না, ভয় কি? রাম রাম বল।” চাকর কাঁদিতে লাগিল! মাঝে মাঝে পলাইবার চেষ্টা করিতে লাগিল। কিন্তু নটাবর তাহার হাত ধরিয়া রহিলেন । রাত্র যতই অধিক হইতে লাগিল, উপদ্রব ততই বু আপনা-আপনি খুলিয়া যাইতে লাগিল, আবার ভূপৃষ্ঠা যে ঘরে দুই জনে বসিয়া আছেন, সেই ঘরেরূর্সেজেতে নরমুণ্ড সব গড়াইয়া বেড়াইতে লাগিল। তাহা দেখিয়াও নাটবার ধৈৰ্য্য ধরিয়া ব্ল রেঁস্ তাহার পর যে ঘরে তালা বন্ধু ছিল, সেই ঘর 《: সুগ্ৰীষ্ঠ অতি ধীরে ধীরে বাহির হইতে লাগিল,— দাসীরে ভুলিয়া নাথ কোথায় রহিলে।” মধুর বটে, কিন্তু অতি অমানুষিক স্বর। গীতের শেষ কথাটি নটাবর যেই শুনিতে পাইলেন, চীৎকার হইল। নটাবর আর ধৈৰ্য ধরিয়া থাকিতে পারিলেন না। চাকরের হাত ধরিয়া কাপিতে কাপিতে ঘরের ভিতর হইতে বাহির হইলেন, তাহার পর প্রাণপণে দৌড়িতে আরম্ভ করিলেন। কলিকাতায় নিজ বাটীতে আসিয়া তবে তাঁহাদের প্রাণ সুস্থ হইল। সে রাত্ৰি নটবরের নিদ্রা হইল না। সমস্ত রাত্রি এই অদ্ভুত ঘটনার কথা ভাবিতে লাগিলেন। আস্তাবলের ভিতর ঠিক যেন সেদিনের বালিকাকে আমি আজ রাত্ৰিতে দেখিয়াছি। তবে সেদিনের সে বালিকা কি ভূত? সে চােরও কি ভূত? সে পিসীও কি ভূত? সে গাড়ীও কি ভূত? তবে কি একটা ভূতিনীর উপর আমি আমার প্রাণ সঁপিয়াছি? না, তা কখন হইতে পারে না। সে মানুষী, তাহাকে নিশ্চয় আমি একদিন পাইব । পরদিন প্ৰভাতে সূৰ্য্যালোকে নটবরের পুনরায় সাহস বৃদ্ধি হইল। নটাবর ভাবিলেন যে, এ বিষয়ে বিশেষরূপে তদন্ত না করিয়া আমি ক্ষান্ত হইতে পারি না । পুনরায় তিনি সেই বাগানে মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8 SG আসিয়া উপস্থিত হইলেন। গত রাত্রিতে যে সমুদায় ঘটনা ঘটিয়াছিল, মালীর নিকট তাহা বৰ্ণন করিলেন। মালী ঈষৎ হাসিয়া বলিল,— “আমি যখন শুনিলাম যে, আপনি এই বাটী ভাড়া লইয়াছিলেন, তখন আপনাকে পাগল মনে করিােয়ছিলাম। পূৰ্ব্বে এই স্থানে আমি শয়ন করিতাম। যাহা দেখিয়াছি, যাহা শুনিয়াছি, সে সব কথা আপনাকে আর কি বলিব! সেই কারণে আমি একরূপ পাগল হইয়া গিয়াছি। ‘কেন এত নিদয় হইলে,” সৰ্ব্বদাই আমার মনে এই কথাগুলি জাগিতেছে। আর কেহ শুনিতে পায় না, অনেক সময়ে দিনের বেলাও কাজ করিতে করিতে আমি তাঁহার কণ্ঠস্বর শুনিতে পাই, কখন কখন সম্মুখে তাঁহাকে দেখিতে পাই, দুই-একটি কথাও তিনি আমাকে বলেন। এখন সেই বেটার গলায় আমি ছুরি দিতে পারি, তবে আমার মনের খেদ যায় ।” নটবর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কাহার কণ্ঠস্বর? কে ঐ গীতের আধখানি গান করিয়া নিস্তব্ধ रुश? cवाँॉक्षे दी ८दक?” মালী বলিল,— “আপনি জানেন না? এ বাড়ীতে যে সমুদয় ঘটনা ঘটিয়াছিল, সে কথা আপনি শুনেন নাই?” নটবর উত্তর করিলেন,- “সকল কথা দূরে থাকুক, কিছুই আমি শুনি নাই।” মালী বলিল,— “তবে শুনুন। আমি এ স্থানে আজ প্রায় দশ বৎসর কৰ্ম্ম করিতেছি। যখন প্রথম আমি কাজে নিযুক্ত হই, তখন এই বাড়ীতে বাবু সপরিবারে বাস করিতেন। তাহার নিকট একজন হিন্দুস্থানী চাকর ছিল ও ত চাকরাণী ছিল। বাবুর পাঁচ বৎসর বয়স্ক ছেলের গায়ে অনেকগুলি গহনা ছিল। ঔ চাকরাণীতে পরামর্শ করিয়া ছেলেটিকে প্ৰাণ বাঁচিয়া গিয়াছিল। তাহার পর রক হয়। ভয়ে চাকর ও চাকরাণী, স্ত্রী-পুরুষে, একসঙ্গে আস্তাবলে গলায় দড়ি দিয়া মন্ত্রর। সেই পৰ্যন্ত তাহারা ভূত হইয়া আছে। গত রাত্রে আপনি যে কৃষ্ণকায় দুইটি মূৰ্ত্তি দেখিয়াছিলেন, সে সেই দুই জনের ভূত। আমিও ঐ দুই ভূতকে কতবার দেখিয়াছি। এই দুই ভূতের উপদ্রবে। সেই বাবুকেও বাড়ী ছাড়িয়া পলাইতে হইল। তাহার পর এ বাড়ীতে আর কেহ বাস করিতে পারে না। অবশেষে আমার মনিব, গোকুলবাবু, বাড়ীটি ভাঙ্গিয়া ফেলিবার উদ্যোগ করেন। কিন্তু তাঁহার পুত্র নবীনবাবু ভাঙ্গিতে দিলেন না। তিনি যেমন সাহসী ও ডানপিটে, তেমনি মন্দ লোক। কিরূপ মন্দ লোক, সে কথা আর আপনাকে কি বলিব। তিনি বলিলেন,- “দেখি কেমন ভূত! আমি নিজে এই বাড়ীতে বাস করিব।” বাপ অনেক নিষেধ করিলেন, কিন্তু তিনি শুনিলেন না। সপরিবারে তিনি এই বাড়ীতে আসিলেন। তাঁহার স্ত্রী, একটি ছোট শালী,একজন চাকর ও একজন ঝি । স্ত্রী সাক্ষাৎ লক্ষ্মী, যেমন রূপ, তেমনি গুণ। আমি তাঁহাকে মা-লক্ষ্মী বলিয়া ডাকিতাম। আমাকে কত যে তিনি স্নেহ করিতেন, সে কথা মহাশয়কে আর কি বলিব। স্বামী মন্দ, তথাপি তাঁহার প্রতি মালক্ষ্মীর প্রগাঢ় ভক্তি ছিল। উপদেবতার নানারূপ উপদ্রব দেখিয়া দুই-চারি দিন পরেই চাকরচাকরাণী পলাইয়া গেল। এই বাড়ী পরিত্যাগ করিয়া পুনরায় কলিকাতা যাইতে মা-লক্ষ্মী নবীনবাবুর নিকট কত মিনতি করিলেন, কিন্তু তিনি কিছুতেই শুনিলেন না। বাবুর আর ভয় কি? কলিকাতায় কোনও স্থানে তিনি রাত্রিযাপন করিতেন, কোনদিন এই বাড়ীতে আসিতেন, কোনদিন আসিতেন না। যেদিন আসিতেন, সেদিন রাত্রি প্রায় অবসান করিয়া আসিতেন। বাড়ী

        • "***"*"*"%fitRig sniž3. g3 ze - www.amarboi.com و 8 আসিয়া মদের নেশায় অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া থাকিতেন। সে অবস্থায় ভূতে আর তাঁহার কি করিতে পারে? চাকর-চাকরাণী পলাইয়া গেল। মা-লক্ষ্মী ও তাহার ভগিনী ভয়ে কাঁপিতে লাগিলেন। এ বাড়ীতে কি করিয়া রাত্রিকালে একেলা থাকিবেন? আমি বলিলাম,- “মা! তোমাদের কোন ভয় নাই। আমি তোমাদিগকে কিছুতেই ছাড়িব না। রাত্ৰিতে তোমাদিগকে চৌকি দিয়া থাকিব। প্রতিদিন আমি বারেণ্ডায় শুইতে লাগিলাম। ভূতের উপদ্রবের বিরাম নাই। কিন্তু মা-লক্ষ্মী, তাহার ভগিনী ও আমি তিন জনে একসঙ্গে বসিয়া কোনরূপে রাত্রি কাটাইতাম। যেদিন বাবু আসিতেন, সেদিন অনেকটা ভরসা হইত। দুই-চারি দিন পরে পূর্ণিমার রাত্রি আসিল । আমি বরেণ্ডায় শুইয়া আছি। স্বামীর প্রতীক্ষায় মা-লক্ষ্মী বসিয়া রহিলেন। সেই ঘরের একপার্শ্বে তাহার ভগিনী শয়ন করিল। ঘরে ছোট একটি ইংরেজী বাজনা ছিল, আস্তে আস্তে সেই বাজনা টিপিয়া মা-লক্ষ্মী গুন-গুন শব্দে এই গীতটি গাহিতে লাগিলেন—

“কেন এত নিদয় হইলে? অবসান নিশি, অস্ত গেল শশী, দাসীরে ভুলিয়া নাথ কোথায় রহিলে!” এইটুকু গাহিয়াই মা-লক্ষ্মী ভয়ানক চীৎকার করিয়া উঠিলেন। যেরূপ চীৎকার কাল রাত্ৰিতে আপনি শুনিয়াছিলেন। সেই মুহূৰ্ত্তে ঘরের ভিতর হইতে একটি পুরুষমানুষ তাড়াতাড়ি বাহির হইয়া গেল। সে লোক কখন ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়াছিল, তাহা আমি দেখি নাই। কিন্তু যখন সে বাহির হইয়া যায়, জ্যোৎস্থার আলোকে তাহাকে আমি তখন চিনিতে পারিলাম। চীৎকার শুনিয়া তাড়াতাড়ি রর ভিতর প্রবেশ করিলাম। গিয়া দেখিলাম যে, মা বিছানায় পড়িয়া আছেন, তাহাৰুর্গার্লার আধখানি কে কাটিয়া দিয়াছে, ঘর রক্তগঙ্গা হইয়াছে। মা তখনও জীবিত অর্জনা ভগিনীকে ও আমাকে লক্ষ্য করিয়া মা বলিলেন,- “আমার কপালে যাহা জুলুঙ্গুষ্ঠা ঘটিল। তোমরা দুইজনে আমার নিকট সত্য করা যে, আমাকে কে মারিয়াছে, $থা তোমুরা প্ৰকাশ করবে না? এত কাকূতি-মিনতি ফরিয়া মা আমাদিগকে বলিলেন যে ”আমরা থাকিতে পারিলাম না। তাঁহার পায়ে হাত দিয়া দুই জনেই আমরা সত্য করিলাম। এখনও মা মাঝে মাঝে আমার সম্মুখে আসিয়া সেই সত্য পালন করিতে আদেশ করেন। তাই! তাহা না হইলে, কোন কালে বেটাকে মারিয়া আমি ফাঁসি যাইতাম।” নটবর জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তাহার পর?” মালী বলিল,— “তাহার পর আর বড় কিছু নয়। গোকুলবাবুর অনেক টাকা খরচ হইয়া গেল। মা-লক্ষ্মী আপনার গলায় আপনি ছুরি দিয়াছেন, এইরূপ প্ৰমাণ হইল। কিন্তু তিনি আত্মহত্যা করেন নাই। আপনার যদি সাহস হয়, তাহা হইলে পূর্ণিমার রাত্রিতে পুনরায় আসিবেন। সেদিন আরও কিছু দেখিতে পাইবেন। কোন ভয় নাই, মা-লক্ষ্মীকে আবার ভয় কি? ঐ দুইটা পাষণ্ড ভূতকেই যা ভয় ।” মুক্তা-মালা BSC sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro তৃতীয় অধ্যায় মতিঝিল পূর্ণিমার রাত্রিতে পুনরায় আসিতে নটাবর প্রতিশ্রুত হইলেন। পূর্ণিমা আসিল। সন্ধ্যাবেলা নটবর সেই বাগানে আসিয়া দেখিলেন যে, মালী তখন সে স্থানে নাই। অন্য একটি বাগানে আর কয়েকজন উৎকলাবাসীর সহিত তাহার বাসা। তাহার অনুসন্ধানে নটাবর সেই স্থানে গমন করিলেন। মালীকে দেখিয়া নটাবর বলিলেন, — “ভূতের বাড়ীর নিকট যে বড় বাড়ীটি আছে, তাহাতে দেখিলাম আলো জুলিতেছে। সে বাড়ীতে কেহ আসিয়াছে?” মালী বলিল,- “হী! গোকুলবাবুর বেহাই, সেই মা-লক্ষ্মীর পিতা, দুই-চারি দিনের নিমিত্ত সপরিবারে ঐ বাটীতে আসিয়াছেন। তাহার স্ত্রী নাই, কেবল এক কন্যা; আমার মা-লক্ষ্মীর সেই ভগিনী। আর কে কে আসিয়াছে, তাহা জানি না। গোকুলবাবুর পুত্র, সেই হতভাগা নবীনকেও আজ ঐ বাড়ীতে দেখিয়াছি।” রাত্রি যখন দুই প্রহর হইল, তখন নটাবর ও মালী আস্তে আস্তে সেই ভূতের বাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। যে ঘরে তালা বন্ধ ছিল, নিঃশব্দে দুই জনে তাহার পাশ্বে বারেণ্ডায় দাড়াইলেন। ঘরের একটি জানালা খোলা ছিল। কিন্তু ঘরটি তখন অন্ধকারে পূর্ণ ছিল। দুইজনে কিছুই দেখিতে পাইলেন না। প্রায় আধা ঘণ্টা পরে সহসা সেই ঘরের ভিতর নীলবর্ণের আলোক জুলিয়া উঠিল। মালী ইঙ্গিত কুক্মিা দেখাইল। নটাবর দেখিলেন যে, ঘরের ভিতর টেবিলের পার্থে পরমাসুন্দরী এক য়ুৰ্ৱতী একখানি চৌকিতে বসিয়া আছেন। তাহার পশ্চাতে সেই চাকর-চাকরাণীর কৃষ্ণ দুইটি দাড়াইয়া আছে। তাহদের চক্ষু— কোটির হইতে নীলবর্ণের অগ্নিশিখা as । টেবিলের উপর বাক্সর মত ছোট একটি ইংরেজী বাদ্যযন্ত্র রহিয়াছে বঙ্কি ণ পরে যুবতী সেই বাদ্যযন্ত্রটির স্থানে স্থানে টিপিতে লাগিলেন। তাহা হইতে শব্দ নিৰ্গত হইল। সেই সুরে যুবতী সেই গীতটি আরম্ভ করিলেন । “কেন এত নিদয় হইলে? অবসান নিশি, অস্ত গেল শশী, দাসীরে ভুলিয়া নাথ কোথায় রহিলে।” এই কয়টি কথা ধীরে ধীরে সুমধুর স্বরে গাহিয়াই যুবতী ভয়ানক চীৎকার করিয়া উঠিলেন। ঘরের ভিতর সেই নীলবর্ণের আলোক নিৰ্ব্বাণ হইয়া গেল। সেই হৃদয়বিদারক কাতর শব্দ শুনিয়া নটাবর ভয়ে বিহবল হইয়া পড়িলেন। পদদ্বয় তাহার থারথার কাপিতে লাগিল। সেই সময় আর একটি যুবাপুরুষের উপর তাঁহার দৃষ্টি পতিত হইল। বারেণ্ডার নিম্নে বৃক্ষে ঠেস দিয়া লোকটি দাড়াইয়া আছে। সেও ভয়ে কঁাপিতেছে। সেই মুহূৰ্ত্তে মালীর দৃষ্টিও তাহার উপর পড়িল। “নরাধৱ পাপিষ্ট পশু! স্বামী হইয়া এরূপ পতিব্ৰতা স্ত্রীর গলায় তুই ছুরি মারিয়াছিস! মায়ের কাছে সত্য করিয়াছিলাম বলিয়া, তুই সে সময় ফাঁসি হইতে বঁচিয়া গিয়াছিস। কিন্তু আজ তোরে যমে টানিয়া এ স্থানে আনিয়াছে। আজ তােরে মারিয়া আমি ফাঁসী যাইব ।” এইরূপ বলিয়া উন্মত্তপ্রায় হইয়া মালী সেই লোকটির প্রতি ধাবিত হইল। বড় বাড়ীর দিকে লোকটি দ্রুতবেগে পলাইতে লাগিল। মালীও তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ দৌড়িতে লাগিল। দুই 8Sty দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comস্থিািকস্ত"******** বাড়ীর মধ্যস্থিত সেই মতিঝিলের উপর যে পুল ছিল, লোকটি তাহার উপর উপস্থিত হইয়া সবলে পড়িয়া গেল। পুলের মধ্যস্থলে পড়িল না, পার্শ্বে কাষ্টনিৰ্ম্মিত রেলের গায়ে পড়িল । তাহার ভারে রেল ভাঙ্গিয়া গেল। রেল ভাঙ্গিয়া লোকটি ঝিলের জলে পড়িল । ঝিলটি অপ্ৰশস্ত বটে, কিন্তু ইহাতে জল বিলক্ষণ গভীর ছিল। লোকটি ডুবিয়া গেল। মুহূৰ্ত্তের মধ্যে তাহার মাথাটি একবার ভাসিয়া উঠিল। মাথা তুলিয়া হাঁপাইতে হাঁপাইতে লোকটি মালীকে বলিল,— “জগু! আমি সাঁতার জানি না । আমার প্রাণ রক্ষা কর । তোরে অনেক টাকা দিব ।” এই কথা বলিতে না বলিতে লোকটি পুনরায় ডুবিয়া গেল। তাহার প্রাণরক্ষা করিতে জগু জলে ঝাঁপ দিল না। দুই হাত আপনার বুকে রাখিয়া জলের দিকে চাহিয়া চুপ করিয়া পুলের উপর দাঁড়াইয়া রহিল। নটবরও দৌড়িয়া সঙ্গে সঙ্গে আসিয়াছিলেন। তিনি সীতার জানেন না। তিনি জলে ঝাঁপ দিতে পারিলেন না। জগুকে তিনি অনেক সাধ্যসাধনা করিলেন, জগু কিছুতেই জলে পড়িল না। হাবুডুবু খাইয়া লোকটির মাথা আর একবার উপরে উঠিল। আর একবার অতি কাতরস্বরে জগুর নিকট সে প্রাণভিক্ষা চাহিল। জগু পূৰ্ব্বব্যুৎ চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। লোকটি পুনরায় ডুবিয়া গেল। এমন সময় জগুরা ঠিক সম্মুখে জ্যোৎস্না কিঞ্চিৎ গাঢ় হইয়া যেন জ্যোৎস্না-নিৰ্ম্মিত কিরূপ একটি মূৰ্ত্তির আবির্ভাব হইল। জও একদৃষ্টিতে সেইদিকে চাহিয়া রহিল, আর একান্তমনে যেন সে কি শুনিতে লাগিল। নটাবর জ্যোৎস্না-নিৰ্ম্মিত সেই মূৰ্ত্তিটি দেখিতে পাইলেন বটে, কিন্তু কোন কথা শুনিতে পাইলেন না একান্তমনে মালী কি শুনিয়া উত্তর করিল,- “আচ্ছা, মা! তুমি যখন বলিতেছ, আজ্ঞা আমার শিরোধাৰ্য্য । তােমার পতি হইবার উপযুক্ত। ও পাপিষ্ঠ নহে! যার্থী হউক, তােমার আজ্ঞায় নরাধমের আমি প্রাণরক্ষা করিতেছি।” ஜூ এই বলিয়া মালী তৎক্ষণাৎ জলে ঝাপ সঁ। সেই সময় তৃতীয়বার লোকটির মাথা জলের উপর উঠিয়ছিল। জুগু ভুহার চুলঞ্জেী ফেলিল। কিন্তু লোকটি দুই হাত দিয়া মালীকে জড়াইয়া ধরিল। মালী বলিল,— “পাপিষ্ঠী! যদি আমাকে এরূপ জড়াইয়া ধরিবি, তবে কি করিয়া আমি তোর প্রাণরক্ষা করি?” নটবরের কানে মালীর কেবল এ কয়টি কথা প্ৰবেশ করিল। তাহার পর তিনি দেখিলেন যে, মালী ও সেই লোকটি জড়ােজড়ি করিয়া দুই জনেই ডুবিয়া গেল। চীৎকার করিতে করিতে নটাবর পুল হইতে নামিয়া ঝিলের কিনারায় গিয়া দাড়াইলেন। সাঁতার জানেন না, সে নিমিত্ত নটাবর জলে ঝাপ দিতে সাহস করিলেন না। মনে করিলেন যে, যদি কোন প্রকারে কিনারার গোড়ায় আসিয়া পড়ে, তাহা হইলে তিনি তাহাদিগকে ধরিয়া তুলিবেন। কিন্তু নিকটে কেহই আসিল না। দুই জনেই জলমগ্ন হইয়া গেল। একবারও তাহারা আর উপরে উঠিল না। ANSA s 2 Փ|-Հյթ]] sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro BS চতুৰ্থ অধ্যায়। शिळ्लक्ष নটবর ক্রমাগত চীৎকার করিতে লাগিলেন। তাঁহার চীৎকার শুনিয়া বড় বাড়ীর মেয়ে-পুরুষ চাকর-বাকির সকলেই দৌড়িয়া আসিল । কিন্তু তাঁহাদের মধ্যে কেহই জলে নামিতে সাহস করিল না। ক্রমে দূর হইতে অপর লোকও আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহারা জলে নামিয়া দুই জনকেই সেই রাত্রিতে তুলিল। কিন্তু দুইটিই মৃতদেহ; অনেকক্ষণ পূৰ্ব্বে দুই জনেরই প্ৰাণবিয়োগ হইয়াছে। বলা বাহুল্য যে, যাহাকে মালী তাড়া করিয়াছিল ও যাহাকে বঁাচাইতে সে জলে ঝাঁপ দিয়াছিল, সে লোকটি আর কেহ নয়, উদ্যানস্বামী গোকুলবাবুর পুত্র নবীন,- মা-লক্ষ্মীর স্বামী। কলিকাতায় থাকিতে কি হইয়াছিল, সেইজন্য সে গলায় ছুরি মারিয়া স্ত্রীকে বধ করিয়াছিল, আর সেই কু-অভিপ্ৰায়সাধনের নিমিত্তই সে স্ত্রীকে এই নিৰ্জ্জন বাগানবাড়ীতে আনিয়াছিল। এই বিপত্তির সময় নটাবর ভিড়ের মাঝে এক ব তাহার চীৎকার শুনিয়া বড় বাড়ী হইতে স্ত্রী-পুরুষ মুকুট দৌড়িয়া আসিয়ছিল। তাহাদিগের মধ্যে তাঁহার হৃদয়ধন সেই বালিকাকে তিনি দেখিতে পাইলেন,- সেই স্বর্ণ- চোরের হাত হইতে যাহাকে তিনি রক্ষা করিয়াছিলেন। স্কুণ্ঠআঁর কেহ নহেন, মা-লক্ষ্মীর ভগিনী। পূৰ্ব্বকথা স্মরণ করিয়া, মদের নেশায় উন্মত্ত যখন তাহার ভগিনীর গলায় ছুরি মারে, স্বর্ণ তখন সেই ঘরে ছিল, স্বর্ণ তাহা দেখিয়াছিল। ব্ৰহ্মদেশ হইতে পিতা আসিয়া নবীনের সহিত তাহার বিবাহ স্থির করিলেন । সে নরাধমকে কি করিয়া স্বর্ণ বিবাহ করে? মৃত্যুকালে ভগিনীর পায়ে হাত দিয়া স্বর্ণ দিব্য করিয়াছিল; সে নিমিত্ত পিতার নিকট সকল কথা সে খুলিয়া বলিতে পারে নাই। মাঝের-গার সেই মেয়েমানুষ ভিতরের সকল সন্ধান লইয়া তাহদের বাটীতে আসিয়াছিল। “তোমার ভগিনী উপদেবতা হইয়া বাগানবাড়ীতে আছেন। সিন্নি দিয়া হাতযোড় করিয়া তাঁহার নিকট প্রার্থনা কর, তাহা হইলে তুমি নবীনের হাত হইতে অব্যাহতি পাইবে।” মাঝের-গার মেয়েমানুষ এই কথা বলিয়াছিল। তাহার পর সে চোর পঠাইয়া দিয়াছিল। প্ৰাণের দায়ে অসীম সাহসে ভর করিয়া স্বর্ণ সেই রাত্রি ভূতের বাটীতে পূজা দিতে আসিয়াছিল। আর অধিক বলিবার কিছু নাই। কিছুদিন পরে পীতাম্বর বসু পরম আনন্দে নটবরের হস্তে স্বৰ্ণকে সমর্পণ করিলেন। পরম আনন্দে নটবরের মাতা নববধূকে বরণ করিয়া ঘরে তুলিলেন। স্বৰ্ণ হেন স্ত্রীরত্ন লাভ করিয়া নটবর সুখে কালব্যাপন করিতে লাগিলেন। নটাবর বলেন“ভূতের কৃপায় আমি মনের মত পত্নী লাভ করিয়াছি। ইংরেজী খাবাবুদিগের সুমতি হউক, ভূতের প্রতি তাঁহাদিগের ভক্তি হউক, এই আমার প্রার্থনা।” sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বেতাল ষড়বিংশতি ea was স্কুলের মাষ্টার নূতন-পাড়া নামক একখানি গ্রাম আছে। সেই গ্রামে একটি স্কুল আছে। গৌরীশঙ্কর নামক এক ব্ৰাহ্মণ যুবক সেই স্কুলে মাষ্টারি করেন। তাঁহার বেতন কুড়ি টাকা। কুড়ি টাকা বেতনে কেহ বড়মানুষ হইতে পারে না; কিন্তু বড়মানুষ হইতে গৌরীশঙ্করের বড় সাধ । কাহার বা সাধ নয়?-- কি করিয়া রাতারাতি অর্থবান হইতে পারা যায়, গৌরীশঙ্কর সর্বদাই সেই চিন্তা করিতে লাগিলেন। রাতারাতি বড়মানুষ হইবার উপায় পৃথিবীতে বড় অধিক নাই,—একেবারে নাই বলিলেও চলে। কিন্তু গৌরীশঙ্কর সুবুদ্ধি লোক, সহজেই সে উপায় তিনি বাহির করিলেন। গৌরীশঙ্কর শুনিলেন যে, শ্মশানে গিয়া শব-সাধন পারিলে দেবীর বরে যাহা ইচ্ছা! তাহাই লাভ করিতে পারা যায়। “একটা মড়ার উপর বেসিয়া, কিছুক্ষণ জপ করা বই তো নয়! কেনই বা তা না পারিব?” গৌরীশঙ্কর সাহসী পুরুষ ছিলেন, এ কার্য্যটন ব্ৰতী হইলেন। কি কািরয়া এ কাজ করতে হয়, সেই দিন হইতে তিনি সে তত্ত্ব করিতে লাগিলেন। গুরুগিরিতে তাহার বড় বিশ্বাস ছিল না। তিনি দীক্ষিত হন। মাথায় একটি টিকি রাখিয়াছিলেন। যাহা হউক, গৌরীশঙ্কর শব-সাধনের চেষ্টায় রহিলেন। অনুসন্ধান করিতে করিতে শবসাধনের নিমিত্ত তিনি একটি মন্ত্র পাইলেন। আর একজনের নিকট তিনি ইহার প্রকরণও কিছু কিছু জানিয়া লইলেন। গুরু। তাঁহার ছিল না, এ কাৰ্য্যে উত্তর-সাধক হয়, এমন একজন লোকও তিনি পাইলেন না। উত্তর-সাধকের জন্য তিনি বিশেষ চেষ্টাও করেন নাই। কারণ, রাতারাতি বড় মানুষ হইতে হইলে, সে কাজটা গোপনে হইলেই ভাল হয়; ভাগিদার করা উচিত নয় । মন্ত্রের যোগাড় হইল, প্রকরণ ঠিক হইল। এখন চাই মড়া। মড়া না হইলে শিব-সাধন হয় না। যেমন-তেমন মড়ায় এ কাজ হয় না। গৌরীশঙ্কর অনেকদিন ধরিয়া, উপযুক্ত শবের অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন। দৈবক্রমে কিছুদিন পরে তাঁহাদের গ্রামে সর্পাঘাতে একজন চণ্ডালের মৃত্যু হইল। গৌরীশঙ্কর সেই চণ্ডালের আত্মীয়গণকে বলিলেন,- “সৰ্পদংশনে লোকের প্রকৃত মৃত্যু হয় না। একপ্রকার অজ্ঞান হইয়া থাকে। ভাল রোজার হাতে পড়িলে পুনরায় জীবিত হইতে পারে। গঙ্গার ধারে হইলে, মৃতদেহ গঙ্গাজলে নিক্ষেপ করাই উচিত। এ স্থানে গঙ্গা নাই। শ্মশানে লইয়া বীশের একটি উচ্চ মাচা নিৰ্ম্মাণ করিয়া, তাহার উপর ইহাকে সাত দিন রাখিয়া দাও। ইহার যদি আয়ু থাকে, তাহা হইলে এই সাত দিনের মধ্যে কোন না কোন স্থান হইতে রোজা ଝୁଣ୍ଟft-୩ଣୀ 8SS sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro আসিয়া ইহার প্রাণদান করিবে। কত স্থানে এরূপ কত ঘটনা হইয়া গিয়াছে।” বিন্দুমাত্র আশা থাকিতে কে আর প্রিয়জনকে পরিত্যাগ করে? চণ্ডালেরা তাঁহার কথায় সম্মত হইল। নূতনপাড়ার বাহিরে মাঠের মাঝখানে যে একটি পুরাতন পুষ্করিণী আছে, সেই পুষ্করিণীর ধারে এ স্থানের লোকে শবদাহ করে। বাঁশের মাচা না করিয়া, চণ্ডালেরা সেই পুষ্করিণীর ধারে একটি বটগাছের উপর আত্মীয়ের মৃতদেহ বিঁধিয়া রাখিল। গৌরীশঙ্করবাবুর আনন্দের আর সীমা রহিল না। কারণ, একে চণ্ডালের মড়া, তাহার উপর আবার সর্পাঘাতে মৃত্যু-শব-সাধনের পক্ষে দুর্লভ সামগ্ৰী। শাস্ত্রের বচনটা বােধহয় তিনি শুনিয়াছিলেন, যথা:- যষ্টি বিদ্ধং শূলবিদ্ধং খড়গবিদ্ধং পয়ােমৃতং।। রজ্জ্ববিদ্ধং সৰ্পদষ্টং চাণ্ডালং বাতিভূতিকং৷ তরুণং সুন্দরং শূদ্ৰংরণে নষ্টং সমুজ্জ্বলং। পলায়নবিশূন্যঞ্চ সংমুখে রণবৰ্ত্তিনং৷ গৌরীশঙ্করবাবুর কপালে আর একটি সুবিধা হইল। চণ্ডালের মৃত্যুর তিন দিন পরেই শনিবার অমাবস্যা পড়িল। নানারূপ শুভ লক্ষণ দেখিয়া তিনি মনে মনে ভাবিতে লাগিলেন, — “বিপুল ধনসম্পত্তির অধিস্বামী এইবার নিশ্চয় হইব।” ধন্যবান হইয়া কোথায় কাহার কন্যাকে বিবাহ করবেন, কোন স্থানে রাজভবনসদৃশ অট্টালিকা নিৰ্ম্মাণ করবেন, কিরূপ জমিদারী ক্রয় করিবেন, কি উপায় অবলম্বনে মহারাজ উপাধি লাভ এখন এই সমুদয় কথা তিনি চিন্তা করিতে লাগিলেন। তাহার বয়ঃক্রম প্ৰায় ত্রিশ ; কিন্তু নিম্নশ্রেণীস্থ ব্ৰাহ্মণ বলিয়া, ধ্ৰুংঙ্কারে বৃদ্ধ মাতা ব্যতীত আর কেহ ছিল না। কৃষ্ঠের জন্য গৌরীশঙ্কর বিশেষ লালায়িত ছিলেন। ঝুণ্ডম একান্ত বাসনা ছিল, সে কথা সুর বলা বাহুল্য। এক্ষণে সেই সমুদয় বাসনা পূর্ণ ষ্ট্র চণ্ডালের মড়া পাইয়া, সম্মুখে শনিবার অমাবস্যা পাইয়া, গৌরীশঙ্করবাবু আনন্দসাগরে ভাসিতে লাগিলেন। শুভদিন আসিয়া উপস্থিত হইল। মদ্য, মৎস্য, মাংস, গুড়, পিষ্টক, পরমান্ন, তিল, কুশ, সর্ষপ, দীপ, এলাচি, কপূর, খয়ের, পান, আদা, পাটের দড়ি, প্রভৃতি নানারূপ কুলাচার-দ্রব্য তিনি আহরণ করিলেন। রাত্রি এক প্রহরের সময় পূজার উপকরণ লইয়া, গৌরীশঙ্কর একাকী শ্মশান অভিমুখে যাত্ৰা করিলেন। গ্রাম হইতে প্ৰায় আধ ক্রোশ, মাঠের মাঝখানে, জনশূন্য সেই শ্মশানক্ষেত্র। সেকালে এই পুষ্করিণীর ধারে দুষ্ট দৗসু্যাগণ পথিকগণকে মারিয়া ফেলিত। এখনও দিনের বেলা এ স্থানে যাইতে ভয় হয়। ঘোর তিমিরাবৃত অমাবস্যা নিশার তো কথাই নাই! কিন্তু গৌরীশঙ্করের মনে বিন্দুমাত্র ভয়ের উদয় হইল না। নিৰ্ভয় চিত্তে একাকী তিনি গমন করিতে লাগিলেন। যদি লোভাবশতঃ অজ্ঞানতাসহকারে এ কাৰ্য তিনি না করিতেন, তাহা হইলে বলিতাম,- “ধন্য গৌরীশঙ্কর! তোমার সাহসকে ধন্য! তুমি বীরপুরুষ বটে। বীর সাধনে মন্ত্রসিদ্ধ হইবার নিমিত্ত তুমি উপযুক্ত পাত্র বটে। কিন্তু তোমার অজ্ঞানতার জন্য দুঃখ হয় । তুমি মনুষ্যের নিকট উপদেশ না গ্ৰহণ কর, সমুদয় চরাচর জগতের শিক্ষাদাতা সদাশিবকে একান্ত মনে গুরুপদে বরণ করা নাই কেন?” একাকী নিৰ্ভয় হৃদয়ে গৌরীশঙ্কর যাইতে লাগিলেন । ঘোর অন্ধকার!! ভয়াবহ নিৰ্জ্জন শ্মশানভূমি। রাত্রি এক প্রহরের সময় তিনি সেই স্থানে গিয়া উপস্থিত হইলেন। শ্মশানে উপস্থিত 8 SSR fitRig sniž3. g3 ze - www.amarboi.com%"*"***"**** হইয়া, প্রথম তিনি অঘোর-অস্ত্ৰ মন্ত্র দ্বারা চারিদিক রক্ষা করিলেন। তাহার পর পুষ্করিণীর জলে স্নান করিয়া, নূতন অধৌত এক চিতার উপর পূজার স্থান চিহ্নিত করিলেন। তাহার পার্শ্বে দীপ রাখিবার নিমিত্ত সামান্য এক গৰ্ত্ত খুঁড়িলেন। অবশেষে তিনি ধীরে ধীরে সেই বটবৃক্ষে উঠিলেন। পকেট হইতে দীপ-শলাকা জ্বালাইয়া মাদুরাবৃত মৃতদেহ দেখিতে পাইলেন। শবের সমীপে উপস্থিত হইয়া তিনি একটি মন্ত্র উচ্চারণ করিলেন। মড়ার প্রতি লক্ষ্য করিয়া আর একটি মন্ত্র বলিয়া শবকে নমস্কার করিলেন। তাহার পর শবকে তিনবার পুষ্পাঞ্জলি দিয়া, তিনি কয়েকটি মন্ত্র পাঠ করিলেন। অবশেষে যে রজ্জ্ব দ্বারা শব গাছে আবদ্ধ ছিল, আস্তে আস্তে তাহা কাটিয়া ফেলিলেন। এইরূপে যথাসাধ্য ধীরে ধীরে মড়াকে গাছ হইতে নামাইলেন। তাহার পর মড়ার কোমর ধরিয়া পূজার স্থানে তাহাকে টানিয়া লইয়া গেলেন। পুষ্করিণী হইতে কলসী কলসী জল আনিয়া তাহাকে উত্তমরূপে স্নান করাইলেন ও চন্দনাদি সুগন্ধ তাহার শরীরে লেপন করিলেন। গৌরীশঙ্কর যখন এইরূপ করিতেছেন, তখন মড়া একবার হুহুঙ্কার শব্দ করিয়া দাঁত কিড়ামিড় করিল। তাহার মুখদেশ তখন ভয়ানক মূৰ্ত্তি ধারণ করিল। কিন্তু গৌরীশঙ্কর তাহাতে কিছুমাত্র ভীত হইলেন না। মড়ার শরীরে তিনি বারবার খু-থু দিতে লাগিলেন। মড়া পুনরায় স্থির হইল। তখন তাহাকে পুনরায় প্রক্ষালন করিয়া, পুনরায় তাহার শরীরে চন্দনাদি লেপন করিলেন। তাহার পর সেই অধৌত চিতার উপর তিনি কুশ ছড়াইলেন। মড়ার কোমর ধরিয়া, সেই কুশের উপর লইয়া পূৰ্ব্বশির করিয়া তাহাকে শয়ন করাইলেন। তাহার পর এলাচি কপূর প্রভৃতি মসলা সংযুক্ত পান তাহার মুখে দিয়া মড়কে অধােমুখ অর্থাৎ উপুড় করলেন। এইরূপ করিয়া তাহার পৃষ্ঠদেশে চন্দন দ্বারা এক চারি-কে গুঠীর অঙ্কিত করিলেন। সেই চারিকোণা ঘরের ভিতর একটি অষ্টদল পদ্ম অঙ্কিত করিলেন খড়া যাহাতে উঠিতে না পারে, সেই জন্য অশ্বারোহণের ন্যায় তাহার পৃষ্ঠে চড়িয়া । মড়ার দুই হাত দুই পার্শ্বে বিস্তৃত করিয়া কুশ রাখিয়া, গৌরীশঙ্কর নিজের দুই পা মজুর দুই হাতের উপর রাখিলেন। মড়ার দীর্ঘ কেশ ছিল, সেই চুলগুলি খুলিয়া গৌরীশঙ্কর কুটি”বাধিয়া দিলেন। অন্ত্র মন্ত্র পাঠ করিয়া, চারিদিকে সরিষা। ছড়াইয়া দিলেন। তাহার পর আর কয়েকটি মন্ত্র পাঠ করিলেন। দ্বিতীয় অধ্যায়। নানা বিভীষিকা৷ এইরূপ নানা প্রকার আয়োজন ও মন্ত্র পাঠ করিয়া গৌরীশঙ্কর পূজা আরম্ভ করিলেন। গুরু নাই যে গুরুর পূজা করিবেন, কাজেই প্রথম তিনি দশদিকপালের পূজা করিলেন। তাহার পর ইন্দ্রকে বলি প্ৰদান করিলেন। নানা মন্ত্রে ও নানা উপকরণে দেবতাদিগের পূজা করিয়া, গৌরীশঙ্কর জপ আরম্ভ করিলেন। অমাবস্যা রাত্রি তো ছিলই, তাহার উপর ক্ৰমে ক্ৰমে আকাশ ঘোর মেঘাচ্ছন্ন হইল। এরূপ নিবিড় অন্ধকার দ্বারা পৃথিবী আচ্ছন্ন হইল যে, প্ৰলয়কালে সেরূপ হয় কি না সন্দেহ। তাহার পর তুমুল ঝঞাবাতে দশদিক পূর্ণ হইল। প্রবল বায়ুবেগে মুক্তা-মালা 8SV) sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro গৌরীশঙ্করকে শবের পৃষ্ঠ হইতে উত্তোলন করিতে চেষ্টা করিল, কিন্তু তাঁহাকে উঠাইতে পারিল না। দৃঢ় বীরাসনে তিনি শবের পৃষ্ঠে বসিয়া রহিলেন। দন্ত কিডুমিড় করিয়া, হুহুঙ্কার শব্দ করিয়া মড়া উঠিতে চেষ্টা করিল। কিন্তু তাহার পদদ্বয় পাটের দড়ি দ্বারা বাধা ছিল। নিজের দুই পা দিয়া গৌরীশঙ্কর তাহার হাত দুইটা মাটিতে চাপিয়া রাখিলেন। শিব উঠিতে পারিল না। এই সময় আকাশে মাঝে মাঝে উল্কাপাত হইতে লাগিল। মাঝে মাঝে বিদুৎ খেলিতে লাগিল; ঘোর বজ্ৰ-শব্দে কৰ্ণে তালি লাগিতে লাগিল। এই সমস্ত উপদ্রবে। গৌরীশঙ্কর কিছুমাত্র ভীত হইলেন। না। শবের উপর বসিয়া একান্ত মনে তিনি জপ করিতে লাগিলেন। বায়ুবেগে মেঘ ক্ৰমে দূরীভূত হইল, আকাশ পরিষ্কার হইল; পৃথিবী ক্ষণকালের নিমিত্ত স্থির হইল। এমন সময় সহসা একদিক হইতে বন্য শূকরের পাল আসিয়া দন্ত দ্বারা গৌরীশঙ্করকে বিদ্ধ করিবার নিমিত্ত ধাবিত হইল। সহসা এই বিপদ দেখিয়া, ক্ষণকালের নিমিত্ত তিনি চমকিত হইলেন। কিন্তু পরীক্ষণেই চক্ষু মুদিত করিয়া, তিনি জপে প্ৰবৃত্ত হইলেন। বন্য শূকর অদৃশ্য হইয়া পড়িল। পৃথিবী আর একবার নিস্তব্ধ হইল। তাহার পর, সহসা অতি নিকটে ব্যাঘের ভীষণ গৰ্জ্জন শ্ৰবণ করিয়া গৌরীশঙ্কর একবার চাহিয়া দেখিলেন। দেখিলেন যে, এক প্ৰকাণ্ড ব্যাঘ তাহার কারাল বদন ব্যাদান করিয়া, তাঁহাকে গ্ৰাস করিতে আসিতেছে। গ্ৰাস করে আর কি! সহসা ভীত হইয়া, গৌরীশঙ্কর পলায়নের উপক্ৰম করিলেন। কিন্তু সে চিন্তা নিমেষের নিমিত্ত তাহার মনে উদয় হইয়াছিল। মনকে দৃঢ় করিয়া চক্ষু মুদিত করিয়া, পুনরায় তিনি জপে প্ৰবৃত্ত হইলেন। ব্যাঘ চলিয়া গেল। তাহার পর গৌরীশঙ্করের চারিদিকে অসুংখ্য কাল-সৰ্প আসিয়া ফৌশ ফোশ করিতে লাগিল। কিন্তু এবারও তিনি চক্ষু চাহিয়া না, সে নিমিত্ত ভয়ও পাইলেন না। হাসির শব্দ হইল। সেরূপ বিকট হাসি প্ৰাণ কাঁপিয়া উঠিল। কিন্তু তৎক্ষণাৎ স্থির করিলেন। তাহার পরীক্ষণেই পালে আসিয়া তাঁহার চারিদিকে নৃত্য করিতে লাগিল। নৃত্য করিতে করিতে মাঝে মাঝে এরূপ বিকট শব্দ করিতে লাগিল যে, সে শব্দ শুনিলে কোন মনুষ্যই চেতন অবস্থায় থাকিতে পারে না। পুনরায় আর একবার পলায়ন করিবার নিমিত্ত গৌরীশঙ্করের মন হইল। কিন্তু পরীক্ষণেই তিনি মনকে দৃঢ় করিতে সমর্থ হইলেন। চক্ষু মুদিত করিয়া তিনি একান্ত মনে জপ করিতে লাগিলেন। গৌরীশঙ্কর ভাবিলেন যে,- “ভূত-প্রেত কখন দেখি নাই, একবার চাহিয়া দেখি, ভূত-প্ৰেত কিরূপ হয়।” এই বলিয়া তিনি নিমিষের নিমিত্ত একবার চাহিয়া দেখিলেন। কিন্তু সেই ভীষণ দৃশ্য দর্শনে পরীক্ষণেই পুনরায় তাঁহাকে চক্ষু বুজিতে হইল। সে বিকট মূৰ্ত্তি দেখিয়া, কেহ স্থির থাকিতে পারে না। সে অন্ধকারে তিনি তাহাদিগকে দেখিতে পাইতেন না; কিন্তু মাঝে মাঝে তাহাদের মুখবিবর হইতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বাহির হইতেছিল। সেই আলোকে তাহাদের রূপ তাঁহার নয়নগোচর হইল। ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, সৰ্ব্বাঙ্গে সহস্ৰ সহস্ৰ কৃমি দুলিতেছে। পাতালের ন্যায় মুখবিবর। মুখের ভিতর হইতে অনবরত রক্ত নিৰ্গত হইতেছে। গজদন্তের ন্যায় বড়, কিন্তু বক্রাকার, ভীষণ দন্ত। ললাট দেশে কেবল একটি গোলাকার চক্ষু। সেই চক্ষু হইতেও অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও সর্প বাহির হইতেছিল। চকিতের নিমিত্ত তিনি চাহিয়া দেখিতে সমৰ্থ হইয়াছিলেন। সেই সময়ে কেবল একটি ভূতের উপর তাঁহার চক্ষু পড়িয়াছিল। সেই একজনের যৎসামান্য রূপের পরিচয় তিনি পাইয়াছিলেন। অন্যান্য ভূতের কিরূপ আকার ছিল, তাহা তিনি 88 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ wwamarboicomo দর্শন করেন নাই। ঐ ভূত ব্যতীত ক্ষণকালের নিমিত্ত আর একজন উপদেবতা তাহার নয়নগোচর হইয়াছিল। উপরিউক্ত ভূতকে দেখিয়া তিনি চক্ষু বুজিলেন। কিছুক্ষণ পরে উষ্ণ বায়ুস্রোত তাহার মুখের উপর পাড়িতে লাগিল। তিনি আর একবার চাহিয়া দেখিলেন। দেখিলেন যে, ঠিক তাঁহার সম্মুখে এক বৃদ্ধা ডাকিনী হাঁ করিয়া, দীর্ঘ ও ঘোর রক্তবর্ণ জিহবা, বারবার লেহন করিতেছে। বৃদ্ধা ডাকিনীর একটিও দন্ত নাই। সৰ্ব্বশরীর তাহার শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। অতি ভয়ানক আকৃতি। ডাকিনীর জিহ্বা তাঁহার নাসিকা স্পর্শ করে আর কি! ডাকিনীকে দেখিয়া তিনি তৎক্ষণাৎ চক্ষু মুদিত করিলেন। গৌরীশঙ্কর পুনরায় জপ করিতে লাগিলেন। চারিদিকে ভূত-প্ৰেতগণ নৃত্য করিতে লাগিল। এই সময় বারবার ভূমিকম্প আরম্ভ হইল। গৌরীশঙ্কর মনে করিলেন যে,—ভূমিকম্পে পৃথিবী বিদীর্ণ হইয়া গিয়াছে। মড়ার সহিত যেন তিনি পাতাল-পুরীতে নামিয়া যাইতেছেন। কিন্তু পরীক্ষণেই হুশ করিয়া উঠিয়া পড়িলেন। আর একবার মনে হইল যে, মড়ার সহিত তিনি যেন শূন্যে উড়িতেছেন; কিন্তু পরীক্ষণেই হুশা করিয়া নামিয়া পড়িলেন। সেই সময় তাহার বুক টিপু টিপু করিতে লাগিল। হৃৎপিণ্ড ফাটিয়া যাইবার উপক্রম হইল। যাহা হউক, অনেক কষ্টে মনকে স্থির করিয়া পুনরায় তিনি জপে প্ৰবৃত্ত হইলেন। ক্রমে ভূত-প্রেতের উপদ্রব নিবৃত্ত হইল। পৃথিবী আর একবার স্থির হইল। এই সময় অতি সুমধুর বামা স্বরে নিকটে কে আসিয়া গৌরীশঙ্করকে বলিল,— “নাথ! অনেক কষ্ট করিয়াছ। এক্ষণে উঠা! আমি আসিয়াছি। বিবাহের নিমিত্ত তুমি লালায়িত হইয়াছিলে, এখন চাহিয়া দেখ, দেবী তোমার নিমিত্ত কিরূপ পত্নী প্রেরণা করিয়াছেন। নাথ! চিরকাল তোমাকে আমি প্রেমে আবদ্ধ রাখিব। যে স্বগীয় সুখ শচী করিতে পারে না, সেইরূপ নানা সুখে তোমাকে পরিতোষ করিব। হে, প্ৰাণনাথ কর। ঐ বীভৎস আসনের উপর আর বসিয়া থাকিবার আবশ্যক নাই।” কামিনীর স্বরে গৌরীশঙ্করের হৃদয়ে যেন সুধাসিঞ্চন করিল। তিনি চাহিয়া দেখিলেন,- “ যৌবনপ্রাপ্তপ্রায় চতুৰ্দশ বর্ষ বয়স্ক এক কামিনী। তাহার রূপে সেই অমাবস্যা রাত্রিও হইয়াছিল। কামিনীর মধুরবচনে গৌরীশঙ্করের হৃদয় শীতল হইল, তাহার স্থির-বিদ্যুৎসম রূপ মাধুরী দর্শনে তাঁহার মন মােহিত হইল। তিনি মনে করিলেন—“কাজ কি আর ধনে? দেবী যখন কৃপা করিয়া এরূপ জগন্মোহিনী যুবতীকে আমার নিকট প্রেরণ করিয়াছেন, তখন ইহাকেই লইয়া পরমসুখে আমি জীবন অতিবাহিত করি। আমার যতই ধন ঐশ্বৰ্য হউক না কেন, সমস্ত পৃথিবী খুঁজিয়া আমি এরূপ নারী পাইব না। আর জপে প্রয়োজন নাই, উঠিয়া ইহাকে হৃদয়ে ধারণ করি।” এইরূপ চিন্তা করিয়া গৌরীশঙ্কর শবের উপর হইতে উঠিবার নিমিত্ত উপক্রম করিলেন; কিন্তু সেই সময় কে যেন তাঁহার পিঠে চাপড় মারিয়া বলিল,— “কর কি? এ যে সব মায়া! জপ৷ পরিত্যাগ করিলে মুহূৰ্ত্তমধ্যে হয় তুমি মৃত্যুমুখে পতিত হইবে, আর না হয় পাগল হইয়া যাইবে।” গৌরীশঙ্করের তখন যেন চমক হইল। তিনি মনে করিলেন,- “সত্য বটে, এ সমুদয় মায়া। কিন্তু এ কামিনীর রূপ দেখিয়া কেহই স্থির থাকিতে পারেন না। প্ৰাণ যায় সেও স্বীকার, তথাপি তাহার নিকট ধাবিত হইতে ইচ্ছা হয়। দূর হউক, আর ইহার দিকে চাহিয়া দেখিব না।” এই বলিয়া গৌরীশঙ্কর চক্ষু মুদিত করিলেন। কামিনী অতি সুমধুর স্বরে নানারূপ সাধ্য-সাধনা করিল; কিন্তু গৌরীশঙ্কর কিছুতেই আর চক্ষু উন্মীলন করিলেন না। নিরাশ হইয়া মায়াময়ী অন্তৰ্হিত হইল। পৃথিবী পুনরায় নীরব হইল। গৌরীশঙ্কর চাহিয়া দেখিলেন যে, এখন আর সে স্থানে বন্য পশু অথবা ভূত-প্ৰেত প্রভৃতি কিছুই নাই। এখন চারিদিকে কেবল নিবিড় অন্ধকার। ମୁ ଓମ-୩୩ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8Հ6: তৃতীয় অধ্যায় বীরের বাক্যবাণ গৌরীশঙ্কর পুনরায় একান্ত মনে জপে প্ৰবৃত্ত হইলেন। কিছুক্ষণ পরে সহসা মাতার কণ্ঠস্বর তাহার কর্ণকুহরে প্রবেশ করিল। সেই অমাবস্যা রাত্রি,-— সেই ভয়াবহ শ্মশান-ভূমি— সে স্থানে মাতা কেন আসিয়া উপস্থিত হইলেন, এই চিন্তা করিয়া তাঁহার মন বড়ই কাতর হইল। তিনি চক্ষু চাহিয়া দেখিলেন, —সত্য সত্যই তাঁহার বৃদ্ধ মাতা বটে। যষ্টিহন্তে তাঁহার সম্মুখে দাঁড়াইয়া মা বলিলেন, — “উত্তিষ্ঠ বৎস তে কাৰ্য্যং সৰ্ব্বং যাতুন সংশয়ঃ। প্রভাতসময়ােজাতত্ত্বৎপিতা ক্রোশতে গৃহম্৷৷ প্ৰায়ো বিমৎসরা লোকা রাজানো দণ্ডধারিনঃ । কদাচিৎ কেন বা দৃষ্টিস্তদা কিঞ্চিদৃ ভবিষ্যতি৷” মাতার মুখে এরূপ সংস্কৃত বচন শুনিয়া গৌরীশঙ্কর বিস্মিত হইলেন। “আমার পিতা নাই, দেশে রাজপুরুষ আছে বটে; কিন্তু রাজা নাই। ইনি কি আমার মাতা নহেন, ইনি কি মায়া?” গৌরীশঙ্কর ভালরূপে পুনরায় নিরীক্ষণ করিয়া দেখিলেন। হু-বহু তাঁহার মাতা, কিছুমাত্র প্রভেদ নাই। মস্তকে করাঘাত করিয়া কাঁদিতে কাঁদিতে মাতা বলিলেন, — “বাছা, তুই আমার একমাত্র সন্তান। কেন তুই এমন অসীম সাহসিক কাৰ্য্যে প্ৰবৃত্ত মৃ? যদি তোর কোনরূপ বিপদ ঘটে, তাহা হইলে কাহাকে লইয়া আমি আর ৱ থাকিব? কাজ কি বাছা ধনে? ব্ৰাহ্মণের ছেলে,—তুই ভিক্ষা করিয়া খাইবি, ঘরে চল, আর জপে প্রয়োজন নাই।” মাতা এইরূপে খেদ করিতে লাগিলেন গৌরীশঙ্কর তাহার কথায় কৰ্ণপাত করিলেন না। তিনি মনে করিলেন যে, যদি মাতা হন, তাহা হইলে ইনি আমার হাত ধরিয়া তুলিতে চেষ্টা করিবেন। কিন্তু মাতা স্পর্শ করিলেন না। অনেক খেদ করিয়া, অবশেষে তিনি প্ৰস্থান করিলেন। ইহার পর আরও অনেক আত্মীয়-বন্ধুবান্ধব আসিয়া গৌরীশঙ্করকে তুলিতে চেষ্টা করিল। বহুকাল পূৰ্ব্বে মৃত পিতা ও জ্ঞাতিগণও আসিয়া, তাঁহাকে শবের উপর হইতে উঠিতে অনুরোধ করিলেন। কিন্তু গৌরীশঙ্কর উঠিলেন না। নানারপ বিভীষিকা দর্শনে তাহার হৃদয় কিছুমাত্র বিচলিত হইল না। রাত্রি প্রায় তিনটা হইল। এমন সময় একজন থিয়েটারী বীর সেই শশানক্ষেত্রে আসিয়া উপস্থিত হইল। গৌরীশঙ্কর একবার থিয়েটার দেখিতে গিয়াছিলেন। সে স্থানে একজন অভিমনু সাজিয়া আসিয়াছিল। থিয়েটারে যাহারা বীর সাজেন, তাহারা মনে করেন যে, খুব চীৎকার করিতে পারিলেই বীরত্ব প্ৰদৰ্শন করা হয়। থিয়েটারের রীতি অনুসারে সেই অভিমনু্যও ভয়ানক চীৎকার করিয়াছিল। তাহার চীৎকারে অনেক লোকের কান হইতে পোকা বাহির হইয়া গিয়াছিল; অনেক লোকের কৰ্ণে তালি লাগিয়াছিল; তাহা ভিন্ন চারি-পাঁচ জনের কৰ্ণতন্তু ছিন্ন হইয়া গিয়াছিল; চারি-পাঁচ জনের কৰ্ণপাটহে ছিদ্র হইয়া গিয়াছিল। সেই হতভাগারা জন্মের মত বধির হইয়া গিয়াছে। গৌরীশঙ্কর চীৎকারে অস্থির হইয়া তৎক্ষণাৎ থিয়েটার হইতে প্ৰস্থান করেন। সেই অবধি থিয়েটারী বীরকে তিনি বড় ভয় করেন। এখন সেই থিয়েটারী বীর শ্মশানক্ষেত্রে আসিয়া উপস্থিত হইল। থিয়েটারী বীর অতিকাের্কশ স্বরে ঘোর চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল,- “রে রে রে, কে রে তুই? যুদ্ধং দেহি, যুদ্ধং দেহি! 8SS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ জানিস আমি থিয়েটারী বীর। এ জগতে এমন কে আছে যে, আমার চীৎকার সহ্য করিতে পারে? আমার কর্কশবচনে কাহার না কান ঝালা-পালা হয়? আমি যখন থিয়েটারের তক্তার উপর দাড়াইয়া ঘোর রবে চীৎকার করিতে থাকি, তখন কোন দর্শক, কোন শ্রোতা না কর্ণে অঙ্গুলি প্ৰদান করে? কে না। আমাকে শত শত গালি দিয়া থাকে? কে না বলে যে, যবনিকাপতন হইলে বঁচি? যুদ্ধং দেহি। যুদ্ধং দেহি।” গৌরীশঙ্কর অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত থিয়েটারী বীরের বক্তৃতা প্ৰাণপণে সহ্য করিলেন, কিন্তু শেষকালে তিনি আর পরিলেন না! হায়! হায়। এত কষ্ট করিয়া শেষকালে সব বিফল হইল! তিনি মনে করিলেন, —বরাহ-ব্যাঘের উপদ্রব সহ্য করিলাম, ভূত-প্রেতের দীেরাত্ম্যেও মনকে স্থির রাখিলাম, অন্সরার মোহনী শক্তি আমাকে মোহিত করিতে পারে নাই, মাতার সকরুণ ক্ৰন্দনেও আমি বিচলিত হই নাই, কিন্তু এই থিয়েটারী বীরের বাক্যবাণে আমার কর্ণ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হইয়া গেল, আমার হৃদয় বিদ্ধ হইয়া জৰ্জ্জৱীভূত হইল। ইহার জ্যেঠামি আমি আর সহ্য করিতে পারি না ।” এইরূপ মনে করিয়া, গৌরীশঙ্কর আসন ত্যাগ করিবার উপক্রম করিলেন । কিন্তু এবারও কে যেন তাঁহার পিঠে চাপড় মারিয়া বলিল,- “কর কি? এ প্রকৃত থিয়েটারী বীর নহে, এ মায়াপ্রসূত ভূত। একটু ধৈৰ্য ধরিয়া থাক। এখনি এ চলিয়া যাইবে!” গৌরীশঙ্কর মন দৃঢ় করিয়া জপে প্ৰবৃত্ত হইলেন। কিন্তু থিয়েটারী বীর দ্বিগুণভাবে চীৎকার আরম্ভ করিল, তাহার চীৎকারে গগন ফাটিয়া যাইতে ।। গৌরীশঙ্কর আর ধৈৰ্য ধরিয়া থাকিতে পারিলেন না । থিয়েটারী বীরের জ্ঞানশূন্য হইয়া পড়িলেন। কানে দ্রুতবেগে পলায়ন করিবার উপক্ৰম করিত্যুেচ্ছৰ্দষ্ট এমন সময় চারিদিকে ঘোর কলরব উপস্থিত হইল। সিংহ ব্যাঘ্র বরাহ ভল্লুক প্রভৃতুি জন্তু, ভূত প্ৰেত পিশাচ দানা দৈত্য ডাকিনী শাকিনী বেতাল বটুক চেটক প্রভৃতি , ও শত শত থিয়েটারী বীর একসঙ্গে তর্জনগৰ্জ্জন করিতে লাগিল। কেহ লম্ফ প্ৰদান করিতে লাগিল। কেহ নৃত্য করতে লাগিল। অবশেষে ভয়ঙ্কর এক বেতাল আসিয়া গৌরীশঙ্করের টিকি ধরিল। তাঁহার টিকিট ধরিয়া তাঁহাকে দূরে পুষ্করিণীতে নিক্ষেপ করিল। ভাগ্যে পুষ্করিণীর মাঝখানে গিয়া তিনি পড়েন নাই, তাই রক্ষা । পুষ্করিণীর যেস্থানে কেবল কর্দম ছিল, সেই স্থানে গিয়া তিনি পড়িয়াছিলেন। পরদিন প্ৰাতঃকালে সকলে দেখিল যে, সেই স্থানে তিনি পড়িয়া রহিয়াছেন। সে সময় তাহার কিছুমাত্র সংজ্ঞা ছিল না। অজ্ঞান অভিভূত হইয়া তিনি পড়িয়াছিলেন। কেবল অল্প অল্প নিশ্বাস-প্ৰশ্বাস চলিতেছিল, কেবল অল্প অল্প গো-গো শব্দ করিতেছিলেন, কেবল অল্প অল্প রক্তমিশ্ৰিত ফেন তাহার মুখ হইতে নিৰ্গত হইতেছিল। জীবনের এই সামান্য মাত্র চিহ্ন কেবল जदभिछे छिल । মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8S9. চতুৰ্থ অধ্যায় থি-বী, যু-দে প্ৰাতঃকালে একজন রাখাল-বালক গৌরীশঙ্করবাবুকে এই অবস্থায় প্রথম দেখিতে পাইল । তাহার চীৎকারে চারিদিক হইতে লোক আসিয়া পড়িল। নিকটে সেই চণ্ডালের শিব ও পূজার আয়োজন দেখিয়া সকলে বুঝিতে পারিল যে, কি কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে। গৌরীশঙ্করবাবুকে ধরাধরি করিয়া সকলে গৃহে লইয়া গেল। প্রথম ডাক্তার— বৈদ্য আসিয়া তাহার চেতনা-সম্পাদনের নিমিত্ত চেষ্টা করিতে লাগিলেন। কিন্তু কিছুতেই কেহ তাঁহাকে চেতন করিতে পারিল না । যদি বা যৎসামান্যভাবে তাঁহার দেহে একটু জ্ঞানের উদয় হয়, কিন্তু প্রতিদিন রাত্রি তিনটার সময় গৌরীশঙ্করের পৃষ্ঠদেশে গুপৃগাপূ শব্দ হয়। কিরূপে তাঁহার পৃষ্ঠে এরূপ শব্দ হয়, তাহা কেহ দেখিতে পায় না; কিন্তু কে যেন সবলে তাঁহার পৃষ্ঠে কিল মারিতেছে, এইরূপ বােধ হয়। সেই সময় প্ৰহারের চোটে যন্ত্রণায় গৌরীশঙ্করের মুখ বিবর্ণ হইয়া পড়ে। দিনের বেলা শরীরে যাহা একটু বলের সঞ্চার ও মনে যাহা একটু জ্ঞানের উদয় হয়, সেই প্ৰহারের চোটে তাহা লোপ পাইয়া যায়। তাহার পর গৌরীশঙ্কর পুনরায় জড়ের মত পড়িয়া থাকেন। ফলকথা, ডাক্তার ও বৈদ্য দ্বারা কোনরূপ উপকার হইল না । একমাত্র পুত্রের এইরূপ অবস্থা দেখিয়া, র দুঃখের আর সীমা রহিল না। তিনি রাত্ৰি-দিন কাঁদিতে লাগিলেন। আহারনিদ্রা করিয়া, পুত্রের সেবা-শুশ্রুষা করিতে লাগিলেন। রোজার কথা শুনিলেই, দৌড়িয়া তিনি তীহার নিকট গমন করেন; নানারূপ মিনতি করিয়া তাহাকে ডাকিয়া আনেন। প্রতি রাত্ৰিত্যুেরোজাগণ নানারূপ ঝাড়ান করিতে লাগিল। দিনের বেলা একটু উপশম হয়। এক আধবৃন্দ্ৰচক্ষু উমীলিত করিয়া, গৌরীশঙ্কর বিস্ময়াপন্ন মুখে চারিদিকে দৃষ্টিপাত করেন। কিন্তু দিনের বেলা যাহা একটু উপকার হয়, রাত্রি তিনটার সময় ভূতের কিলের চােটে সে উপকার লোপ প্রাপ্ত হয়। রাত্রি তিনটার সময় প্রায় আধঘণ্টা ধরিয়া ভূতে তাঁহার পিঠে গুপ্ত-গাপ্ত গুপূ-গাপ্ত কিল মারে। আধঘণ্টা পরে কিলের শব্দ থামিয়া যায়। গৌরীশঙ্কর তাহার পর অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত গো-গো শব্দ করিতে থাকেন ও সেই সময় তাহার মুখ হইতে রক্তমিশ্ৰিত ফেনা নিৰ্গত হইতে থাকে। তাঁহার পিঠে কোন স্থানে কৃষ্ণবর্ণ— কোন স্থানে রক্তবর্ণ-কিলের দাগও সকলে দেখিতে পায়; কিন্তু কে যে আসিয়া কিল মারিয়া যায়, কেহ তাহা দেখিতে পায় না। এইরূপে এগার দিন কাটিয়া গেল। এখনও গৌরীশঙ্করের চেতনা হইল না; এখনও প্রতি রাত্ৰিতে ভূতের প্রহার নিবারিত হইল না। শব-সাধনের একাদশ দিন পরে গৌরীশঙ্করের মাতা শুনিলেন যে, যে চণ্ডালের শিব লইয়া গৌরীশঙ্কর সাধনা করিতেছিলেন, তাহার পিতৃব্য ভূতের মন্ত্র অবগত আছে। গৌরীশঙ্করের মাতা তাহার নিকট গমন করিলেন। প্রথমে সে কিছুতেই আসিতে স্বীকার পাইল না। কারণ, তাহার ভ্রাতুষ্পপুত্রের দেহ লইয়া গৌরীশঙ্কর সেই বিড়ম্বনা করিয়াছিলেন। কিন্তু অনেক মিনতির পর, সে আসিয়া ঝাড়ান-কাঁড়ান করিতে লাগিল। তাহার মন্ত্রের বলে সামান্য একটু উপকার হইল। গৌরীশঙ্কর এবার চাহিয়া দেখিলেন। “থি-বী, যু-দে” এই শব্দ দুইটি কয়বার তিনি উচ্চারণ করিলেন। চণ্ডালের মন্ত্রে আর অধিক উপকার হইল না । গৌরীশঙ্করের জ্ঞান হইল না, রাত্রিকালে ভূতের প্রহার নিবারিত হইল না। আরও অনেক রোজা আসিয়া চিকিৎসা করিল; কিন্তু তাঁহাদের 8Str দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon: "* মন্ত্রেও বিশেষ কোনরূপ উপকার হইল না । এইরূপে প্ৰায় একমাস কাটিয়া গেল। ইতিমধ্যে গৌরীশঙ্করের মাতা এক ব্ৰাহ্মণের কথা শুনিলেন। তাঁহার নিবাস প্রায় দশ ক্রোশ দূরে। তিনি ভূত-প্ৰেত সম্বন্ধে জ্ঞানী ব্যক্তি বলিয়া প্রসিদ্ধ। গৌরীশঙ্করের মাতা বৃদ্ধ ছিলেন, তথাপি লাঠি হাতে করিয়া আস্তে আস্তে সেই ব্ৰাহ্মণের গ্রামে গিয়া উপস্থিত হইলেন। ব্ৰাহ্মণের পদতলে তিনি শয়ন করিয়া পড়িলেন। বৃদ্ধার কাতরোক্তি শ্রবণ করিয়া ব্ৰাহ্মণের দয়া হইল। তিনি গৌরীশঙ্করের নিকট আগমন করিয়া নানারূপ ঔষধ প্ৰদান করিলেন ও নানারূপ মন্ত্র পাঠ করিলেন। দুই দিন কোনরূপ ফল হইল না। তৃতীয় রাত্রিতে, “অ ক্ষঃ ক্ষাং-ক্ষেী কাজসি নীে,” ব্ৰাহ্মণ যেই এই কয়টি শব্দ উচ্চারণ করিয়াছেন, আর গৌরীশঙ্কর বিপরীতভাবে হাসিয়া উঠিলেন। হাসিতে হাসিতে তিনি উঠিয়া বসিলেন। এতদিন পরে এই প্রথম তিনি উঠিয়া বসিতে সমর্থ হইলেন। গৌরীশঙ্করের এইরূপ ভাব দেখিয়া, ব্ৰাহ্মণ পুনরায় এই শব্দগুলি উচ্চারণ করিলেন, “রা রাঁ সঁ সঁ লা লী হু হঃ সংসঃ খং খঃ তং তঃ ধং সং ক্ষুংঐং হুং হুং হুং ক্ষীং ক্ষীং সংসঃ ছং ছঃ ধং সঃ তুং ভুঃ হ্রীং হুং হুং হু ক্ষীং ক্ষীং ক্ষেীং সং ফং ফঃ ফটু স্বাহ; কাহার আজ্ঞা—না, শ্ৰীশ্ৰীউডুডামৱেশ্বরের আজ্ঞা।” এ শব্দগুলির অর্থ কি, যাঁহাদের এ সম্বন্ধে বোধ আছে, তাহারা অনায়াসেই অবগত হইতে পরিবেন। নানারূপ মন্ত্রবলে ব্ৰাহ্মণ গৌরীশঙ্করকে জড়ভাব হইতে মুক্ত করিলেন; কিন্তু তিনি ঘোর উন্মাদ অবস্থায় রহিলেন। তাহার জ্ঞান কিছুমাত্ৰ হইল না। রাত্রিতে প্ৰহারও বন্ধ হইল না। গৌরীশঙ্কর যথারীতি আহারাদি করিতে লাগিলেননে হাটিয়া বেড়াইতে লাগিলেন। ব্ৰাহ্মণের চিকিৎসায় এই পৰ্যন্ত হইল। কিন্তু তিনি কথা কহিতেন না। কখন কখন আপনাআপনি, অথবা লোকের কথার প্রত্যুত্তরে ক্ৰেৱৰ্ত্তস্থ-বী, যু-দে” এই শব্দ উচ্চারণ করতেন। এই দুইটি শব্দ ভিন্ন অন্য কথা তিনি আনিতেন না। আর এই দুইটি শব্দ উচ্চারণ করিবামাত্র তাহার। সৰ্ব্বশরীর w ও সেই সময় আতঙ্কে তাহার মুখমণ্ডল বিবৰ্ণ হইয়া উঠিত। প্রতি রাত্ৰিতে ভূতের গৌরীশঙ্করের দেহ দিন দিন শীর্ণ হইতে লাগিল । অবশেষে গৌরীশঙ্করের মাতাকে ব্ৰাহ্মণ বলিলেন,- “আপনার পুত্রকে সামান্য ভুতে পায় নাই। সামান্য ভূত হইলে আমি তাহার প্রতিকার করিতে পারিতাম। ইহার শরীরে বেতাল আশ্রয় করিয়াছে। বেতালকে দূর করি, আমার সেরূপ ক্ষমতা নাই।” এই বলিয়া ব্ৰাহ্মণ প্ৰস্থান করিলেন। মাতা যথাসাধ্য চেষ্টা করিলেন। কিন্তু কিছুতেই তাঁহার চেষ্টা সফল হইল না। সেই একমাত্র পুত্র। তাঁহার যখন এ দশা হইল, তখন সংসার ধৰ্ম্ম আর কাহাকে লইয়া? গৃহে থাকিয়া আর লাভ কি? মাতা ভাবিলেন,- পুত্রকে লইয়া যেদিকে দুই চক্ষু যায়, সেইদিকে আমি চলিয়া যাইব । নানা তীৰ্থস্থানে আমি ঘুরিয়া বেড়াইব। যদি কোন স্থানে কোন মহাত্মার সহিত সাক্ষাৎ হয়, তাহা হইলে তাঁহার কৃপায় আমার পুত্র আরোগ্যলাভ করিবে। আর তা না হয়, তাহা হইলে পথে পথে বেড়াইয়া, আমি অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করিব। আমার অবৰ্ত্তমানে এই উন্মাদের কপালে যাহা আছে, তাহাই হইবে।” এইরূপ ভাবিয়া, তিনি পুত্রকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “গৌরীশঙ্কর বাবা! আমরা যদি কাশী 2 Փ7-Հյթ]] sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8Sry গৌরীশঙ্কর উত্তর করিলেন,- “থি-বী, যু-দে।” মাতা জানিতেন যে, ঐ দুইটি শব্দ ভিন্ন গৌরীশঙ্কর অন্য কোন কথা মুখে আনিবেন না। তথাপি মায়ের প্রাণী। তিনি কেবল ঐ দুইটি শব্দই শুনিবার নিমিত্ত গৌরীশঙ্করকে সম্বোধন করিয়া নানা কথা কহিতেন, নানা পরিচয় সহিত নানা গল্প করিতেন। পুত্র কেবল বলিত,- 'থি-বী, যু-দে।” পঞ্চম অধ্যায় a. দেখিতে সামান্য লোক পুত্ৰকে লইয়া গৌরীশঙ্করের মাতা বাটী হইতে বাহির হইলেন। প্রথম অর্থাভাব, দ্বিতীয় পাঁচ জনের সহিত সাক্ষাৎ হইবার সম্ভাবনা,- এই দুই কারণে তাহারা পদব্ৰজে পথ চলিতে লাগিলেন। মাতা বৃদ্ধ ছিলেন, অধিক পথ চলিবার তাঁহার শক্তি ছিল না; একদিনের পথ তিনচারি দিনে অতিক্রম করিতে লাগিলেন। তাঁহার হাতে অতি সামান্য টাকা ছিল। পাছে সেগুলি শীঘ শেষ হইয়া যায়, সেই ভয়ে যথাসাধ্য ভিক্ষা দ্বারা_ৰ্ত্তিন পথে দিনপাত করিতে লাগিলেন। ক্ষিপ্ত পুত্র সহিত বৃদ্ধ ব্ৰাহ্মণীকে দেখিয়া, সকলের(লূয়া হইত। সে নিমিত্ত পথে আহারাভাবে তাহাদিগকে ক্লেশ পাইতে হয় নাই। পুত্র কিরূপ্লেক্ষিপ্ত হইয়াছে, তাহা শুনিয়া অনেকে বৃদ্ধার দুঃখে দুঃখী হইত। তাঁহার দুঃখে কাতর হইয়ুষ্ট কোন কোন স্থানে ধনবান লোকের গৃহিণীগণ আঁহাকে নগদ অর্থও প্ৰদান করিতেন! স্ট্রেত্রের চিকিৎসার নিমিত্ত কোন দিন কি আবশ্যক হয়, এই ভাবিয়া ব্ৰাহ্মণী যথাসাধ্য কিছু কিছু সঞ্চয় করিতেন। এইরূপে দুইজনে গয়া, কাশী, প্ৰয়াগ, বৃন্দাবন, হরিদ্বার, কুরুক্ষেত্র প্রভৃতি নানা তীৰ্থস্থানে ভ্ৰমণ করিলেন। সাধু-সন্ন্যাসী দেখিলে সকলকেই মাতা অতি বিনীতভাবে পুত্রের বিবরণ প্ৰদান করিতেন। কিন্তু কোনও স্থানে কাহারও দ্বারা তাঁহার বাসনা পূর্ণ হইল না; গৌরীশঙ্করকে কেহই সে বিপদ হইতে মুক্ত করিতে পারিল না। তবে বায়ু-পরিবর্তনে, নানা দেশ পৰ্যটনে ও নানা দৃশ্যদর্শনে এইমাত্র উপকার হইল যে, গৌরীশঙ্করের বিমৰ্ষভােব অনেকটা দূর হইল; পূৰ্ব্বাপেক্ষা তাঁহার চিত্ত যেন কিছু প্ৰফুল্লভাব ধারণ করিল। কিন্তু যে স্থানেই গমন করেন, যে স্থানেই দুই জনে রাত্রি যাপনের নিমিত্ত শয়ন করেন, সেই স্থানেই রাত্রি তিন প্রহরের সময় গৌরীশঙ্করের পৃষ্ঠ ভূতের প্রহারে প্রপীড়িত হয়। তবে প্ৰহারে প্রহারে পিঠে কড়া পড়িয়া গেল। পিঠ কঠিন হইয়া পূৰ্ব্বাপেক্ষা যাতনার কিছু লাঘব হইল। যাহা হউক, গৌরীশঙ্করের উন্মত্ততা ঘুচিল না, ভূতও তাঁহাকে ছাড়িল না। এইরূপে তিন বৎসর পথে পথে কাটিয়া গেল। মাতার বাৰ্দ্ধক্য দিন দিন বাড়িতে লাগিল। বয়সের গুণে, পথক্লেশে, ভাবনা চিন্তায়, দিন দিন তিনি দুৰ্ব্বল হইতে লাগিলেন। চক্ষুদ্বয়ের দৃষ্টিশক্তি ক্রমে হীন হইতে লাগিল। রোগগ্ৰস্ত হইয়া, যদি কিছুদিন তাঁহাকে পড়িয়া থাকিতে হয়, তাহা দুই জনের কি দশা হইবে, আর সহসা যদি তাঁহার মৃত্যু হয়, তাহা হইলে श्रृंयल केि হইবে, এইসব ভাবিয়া প্ৰাণ তাঁহার বড়ই আকুল হইল। যাহা হউক, তিন বৎসর পরে শীতকালের প্রারম্ভে তাহারা উত্তরাখণ্ড হইতে নামিয়া, পুনরায় হরিদ্বারে আসিয়া 8vo দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comশ্মির্ত্যািক্যনাথ রচনাসংগ্ৰহ উপস্থিত হইলেন। হরিদ্বারের নিকট জ্বালাপুর নামক একখানি গ্ৰাম আছে। সেই গ্রামের প্রান্তদেশে বৃহৎ একটি আমবাগান আছে। একদিন অপরাহে গৌরীশঙ্কর ও তাঁহার মাতা সেই বাগানের নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন। পথশ্রমে কাতর হইয়া দুই জনে এক বৃক্ষতলে বসিয়া পড়িলেন। সেই বৃক্ষতলে আর একটি পুরুষ বসিয়াছিলেন। লোকটি দেখিতে বাঙ্গালীর মত, পরিধান বাঙ্গালীর মত, তবে চাদরখানি তিনি মাথায় বাধিয়াছিলেন। সাধু-সন্ন্যাসীর মত তাহার বেশভূষা ছিল না। ভদ্র বাঙ্গালী সন্তানের যেরূপ হয়, তাহার পরিধেয় বস্ত্র ও ভাব-ভঙ্গী সেইরূপ ছিল। তাহার বয়স ত্ৰিশ বৎসরের কিছু অধিক হইবে। সাধু-সন্ন্যাসী দেখিলেই, গৌরীশঙ্করের মাতা পুত্রের কথা জিজ্ঞাসা করেন। ইনি সাধু নহেন; সুতরাং বৃদ্ধ তাঁহাকে কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিলেন না । সেই লোকটি এক বৃক্ষমূলে ঠেস দিয়া, অৰ্দ্ধশায়িতভাবে বসিয়া বিশ্রাম করিতেছিলেন। মাতা ও পুত্র সেই স্থানে আসিয়া তাঁহার নিকট হইতে কিছুদূরে উপবেশন করিলেন। বাঙ্গালী তাহাদের প্রতি একবার কটাক্ষপাত করিবামাত্র তিনি চমকিত হইলেন। তাহার পর, কিয়ৎক্ষণের নিমিত্ত তিনি স্থিরদৃষ্টিতে গৌরীশঙ্করকে নিরীক্ষণ করিলেন। গৌরীশঙ্করকে ভাল সম্বোধন করিয়া বলিলেন, — “মা! আমি বাঙ্গালী, তোমরা আমার দেশস্থ লোক। কতদিন ধরিয়া তোমার পুত্রের এ দশা হইয়াছে?” সামান্য এই কয়টি কথা শুনিবা মাত্র বৃদ্ধার মনে ক্রূিপ এক অনিৰ্ব্বচনীয় আশার সঞ্চার হইল। সকল লােকেই প্রথম জিজ্ঞাসা করে,- “তুমীর পুত্রের কি হইয়াছে?” ইনি সে কথা জিজ্ঞাসা করিলেন না । গৌরীশঙ্করের যাহা হইয় সঁহাঁ যেন তিনি সম্পূর্ণভাবে অবগত আছেন, কথার ভাবে সেইরূপ প্ৰকাশ হইল। তাঁহারুদুয়ািদক্ষিণ্য ভাবে, তাঁহার সুমধুর কথায়, বৃদ্ধার তাপিত-হৃদয় যেন শীতল হইল । কে যেন বলিয়া দিল যে, ইনি সামান্য পুরুষ নহেন। ভাগ্যবলে আজ তুমি পাইলে; এইবার তোমার দুঃখের অবসান হইল। তাহার প্রশ্নের কোনওরূপ উত্তর না দিয়া, বৃদ্ধ তাড়াতাড়ি তাহার পা দুইটি ধরিতে যাইলেন। বৃদ্ধাকে নিবারণ করিয়া তিনি বলিলেন,— “ছি! মা! আমন কাজ করবেন না। আপনি বৃদ্ধা, আমার মাতৃস্থানীয়া।” গৌরীশঙ্করের মাতা বলিলেন, — “বাছা! ভগবান আমাকে যেন বলিয়া দিতেছেন যে, তোমা হইতে আমার পুত্র আরোগ্যলাভ করিবে। বাছা! এই দুঃখিনীকে, তুমি এ দায় হইতে উদ্ধার কর। অধিক আর তোমাকে কি বলিব, এই পুত্রটি ভিন্ন জগতে আমার আর কেহ নাই। ইহার এই দশায় আমি মৃতপ্রায় হইয়া আছি, পাগলের ন্যায় আমি দেশে দেশে ঘুরিতেছি। তুমি আমার প্রতি কৃপা কর।” বাঙ্গালী উত্তর করিলেন,- “আমি কিছু করিতে পারিব কি না, তাহা নিশ্চয় করিয়া বলিতে পারি না। তবে মা, আপনার পুত্রকে সুস্থ করিতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করিব। নিকটে এই গ্রামখানির নাম জ্বালাপুর, এ স্থানে পাণ্ডাদের বাস। আমি আজ দুই দিন এ স্থানে আসিয়াছি। একজন পাণ্ডার বাটীতে বাসা লইয়া আমি অবস্থিতি করিতেছি। আমার সঙ্গে বাসায় চলুন। আজ রাত্ৰিতে আপনার পুত্রের নিমিত্ত আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করিব।” বলা বাহুল্য যে, গৌরীশঙ্করের মাতা অতি আগ্রহে একথায় সম্মত হইলেন। তিন জনে ধীরে ধীরে জ্বালাপুর অভিমুখে চলিলেন। অল্পীক্ষণ পরে তিন জনে সেই পাণ্ডার বাটীতে গিয়া উপস্থিত ନ୍ଯୂ ୪ft_visit 8DS sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro হইলেন । বাঙ্গালী আহারাদির আয়োজন করিয়া দিলেন। সন্ধ্যার পর সকলে আহারাদি করিয়া নিশ্চিত হইলে, বাঙ্গালী গৌরীশঙ্করকে এক স্বতন্ত্র ঘরে একাকী শয়ন করিতে দিলেন। তাঁহার মাতাকে অন্য এক ঘরে বিশ্রাম করিতে বলিলেন । গৌরীশঙ্কর শয়ন করিলে সেই ঘরে বাঙ্গালী গিয়া নানারূপ ক্রিয়া করিলেন। কি কি কাজ করিলেন, তাহার বিবরণ প্ৰদান করিবার আবশ্যক নাই। বাঙ্গালী নানারূপ ক্রিয়া করিয়া, ঘরের বাহিরে আসিয়া বসিলেন। দ্বারের নিকট বসিয়া বাতির আলোকে একখানি পুস্তক পাঠ করিতে লাগিলেন। ঘরের ভিতর গৌরীশঙ্কর নিদ্রা যাইতে লাগিলেন। রাত্রির প্রথম ভাগে কোনওরূপ ঘটনা হইল না। তিনটার সময় যথারীতি গুপৃ-গাপূ শব্দ আরম্ভ হইল। সেই শব্দ শুনিয়া বাঙ্গালী আলোক লইয়া ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলেন । দেখিলেন যে, গৌরীশঙ্করের পিঠের উপর সেই শব্দ হইতেছে, তিনি গো-গো করিতেছেন, মুখ দিয়া তাহার ফেনা বাহির হইতেছে, মাঝে মাঝে তিনি চিৎ হইতে চেষ্টা করিতেছেন। কিন্তু যতবার তিনি চিৎ হইতে চেষ্টা করিতেছেন, ততবার কে যেন তাঁহাকে বলপূৰ্ব্বক উপুড় করিয়া ফেলিতেছে। উপুড় করিয়া কে যেন তাহার পিঠে কিল মারিতেছে। আলোটি ঘরের মাঝখানে রাখিয়া, বাঙ্গালী গৌরীশঙ্করের শিয়ারদেশে গিয়া উপবেশন করিলেন। সে স্থানে বসিয়া তিনি তাহার মাথায় জপ করিতে লাগিলেন । জপ আরম্ভ করিবামাত্র কিলের শব্দ থামিয়া গেল। গৌরীশঙ্কর সুস্থির হইলেন। কিন্তু তাঁহার নিশ্বাস ঘন ঘন বহিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে গৌরীশঙ্কর একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া — “থি-বী যু-দে।” বাঙ্গালী বলিলেন,- “পরিষ্কার করিয়া সকল কি গৌরীশঙ্কর কোন উত্তর করিলেন না। কোন কথা জিজ্ঞাসা না করিয়া, ক্রমাগত জপ করিতে লাগিলেন। প্ৰায় আধঘণ্টা এ কাটিয়া গেল। জপ ব্যতীত তিনি আরও নানারূপ ক্রিয়া করিলেন । অবশেষে র। আর একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন,- “থি-বী, যু-দে।” NAS বাঙ্গালী বলিলেন,- “ভাল করিয়া বল!” গৌরীশঙ্কর বলিলেন,- “থিয়েটারী বীর যুদ্ধং দেহি ।” বাঙ্গালী বলিলেন, — “হে থিয়েটারী বীর! আজি হইতে আর তুমি ইহাকে বিরক্ত করিতে পরিবে না। কেমন আমার আজ্ঞা তুমি পালন করিবে তো?” গৌরীশঙ্কর এইবার প্রকৃতপক্ষে বক্তার হইলেন। আজ তিন বৎসর ধরিয়া “থি-বী, যু-দে” ভিন্ন অন্য কথা মুখে আনেন নাই, আজ তিনি নানারূপ কথা বলিতে লাগিলেন। কিন্তু এখন তিনি যে সমুদয় কথা বলিতে লাগিলেন, তাহা তাহার নিজের নহে। যে ভূত তাহাকে আশ্রয় করিয়াছিল, এ সমুদয় তাহার কথা । গৌরীশঙ্করের মুখ দিয়া সেই ভূত বলিল,— “মহাশয়! আপনি আমাকে যেরূপ আজ্ঞা করিবেন, আমি সেইরূপ করিব। এ ব্যক্তি অতি অন্যায় কাজ করিয়াছে। ধনলোভে বিনা শিক্ষায় এ অসীম সাহসিক কাৰ্য্যে প্ৰবৃত্ত হইয়াছিল। “দেখি, মন্ত্র সফল হয় কি না? দেখি, আরাধনা করিলে ঈশ্বর সত্য সত্য মনুষ্যের প্রতি কৃপা করেন কি না, – এইরূপ মনে করিয়া মন্ত্র ও মহাশক্তির পরীক্ষা করিতে এই ব্যক্তি গিয়াছিল। সেরূপ কাৰ্য্যের পরিণাম এইরূপ হয়।” বাঙ্গালী বলিলেন, – “যাই হউক, ইহার যথেষ্ট দণ্ড হইয়াছে। আর কেন? ইহাকে এক্ষণে নিকৃতি প্ৰদান কর।” 8voS fitRig oriż3. g3 ze! A www.amarboi.com%37*"***"***** ভূত বলিল,- “আমি পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, আপনি যাহা বলিবেন, আমি তাঁহাই করিব। আপনি মহাত্মা লোক। মানুষে আপনাকে জানে না, কিন্তু আমি আপনাকে জানি। বিষ্ণুপ্রিয়াগ অঞ্চলে তুষারাবৃত হিমালয়শিখরে যেরূপে তাঁহার সহিত আপনার সাক্ষাৎ হয়। যেরূপে আপনি প্রভুর নিকট শিক্ষালাভ করিয়া, নানা শাস্ত্রে অভিজ্ঞতা লাভ করেন, তাহা আমি জানি। যোগিগণ কেবল সমাধিযোগে যাহার দর্শন লাভ করেন, তিনি সৰ্ব্বদাই আপনা হৃদয়-মন্দিরে বিরাজ করিতেছেন! অতি সূক্ষ্ম পরমাণু হইতে জড়াজগতের অপর পারে সেই মহান জ্যোতিৰ্ম্মণ্ডল পৰ্য্যন্ত সকল বিষয় আপনি অবগত আছেন । কেবল লোক-শিক্ষার নিমিত্ত অজ্ঞের ন্যায় অজ্ঞ সাজিয়া আপনি সংসারে বিচরণ করেন। মোহ মুগ্ধ, ক্ষুধায় ক্ষীণ, রোগে রুগ্ন, শোকে আকুল, ভারতের কোটি কোটি লোকের দুঃখ-নিবারণের নিমিত্ত কত ক্লেশ, কত অপমান, আপনি না ভোগ করেন! জগতের হিতের নিমিত্ত দীনবেশে সামান্য লোকের ন্যায় আপনি অর্থ উপাৰ্জ্জন করিয়া অকাতরে তাহা বিতরণ করেন। হে মহাত্মন! আমি৷”— বাঙ্গালী বলিলেন, —“চুপ!” এই বলিয়া তিনি গৌরীশঙ্করের মুখের দিকে একদৃষ্টি চাহিয়া রহিলেন। অগ্নি-শিখার ন্যায় সেই দৃষ্টি যেন রোগীর উপর পড়তে লাগিল। তাঁহার সমুদয় মনের ভাব যেন রোগীর মনকে বিদ্ধ করিয়া, তাহার ভিতর ওতপ্ৰোতভাবে প্রবেশ করিতে লাগিল । সে দৃষ্টি সহ্য করিতে না পারিয়া, গৌরীশঙ্কর অর্থাৎ ভূত, মস্তক অবনত করিয়া বলিল,— “বেশ! আপনার যাহা ইচ্ছা তাঁহাই হউক! অজ্ঞ সাজিয়া সংসারে আপনি থাকিতে ইচ্ছা করেন, এক্ষণে আপনার কি আজ্ঞা বলুন।” C বাঙ্গালী বলিলেন,- “এ ব্ৰাহ্মণকে আর “যে আজ্ঞা” বলিয়া ভূত ৫ে OX ○ निष्ठ १ांतिहद ना |” হইতে প্ৰস্থান করিল। গৌরীশঙ্কর সম্পূর্ণরূপে আরোগ্যলাভ করিলেন। মাতার সহি দেশে প্রত্যাগমন করিলেন। বাঙ্গালীর কৃপায় তাহার ভাল কৰ্ম্ম হইল। যথাসময়ে তিনি বিবাহ করিলেন। গৌরীশঙ্করের মাতা, পুত্র ও পুত্রবধু লইয়া পরমসুখে ঘর-কান্না করিতে লাগিলেন। গড়াগড়ি মহাশয় বলিলেন,- “এই গল্পটি শেষ করিয়া আমি দেখিলাম যে, এখন কেবল একটি মুণ্ড বাকী আছে। মুণ্ড-মালার আর সমুদয় মুণ্ডগুলি রক্ত মুক্তার আকার ধারণ করিয়াছে।” এই শেষ মুণ্ড আমাকে বলিল,— “তুমি এইমাত্র যে গল্পটি বলিলে, সেটি অতি চমৎকার গল্প। সে গল্পটি আমাদের সম্বন্ধে। গৌরীশঙ্করকে যে বেতাল পাইয়াছিল, সে আমার ভগিনীপতির আঁবুই খুড়ো। এখন আমার নিকট সেইরূপ আর একটি ভাল গল্প কর।” ভগিনীপতির আঁবুই খুড়ো কাহাকে বলে, তাহা আমি বুঝিতে পারিলাম না। যাহা হউক, আমি শেষ মুণ্ডকে বলিলাম,- “আপনাদিগের নিকট আমি অনেক গল্প করিলাম। কিন্তু ডাকিনীর হাত হইতে কেহই আমাকে পরিত্রাণ করিলেন না। আমাকে ফাঁকি দিয়া সকলেই লাল-মুক্ত হইয়া বসিলেন। আপনিও কি তাঁহাই করিবেন?” মুণ্ড উত্তর করিল,— “ডাকিনীর জন্য তোমার কোন চিন্তা নাই। তুমি ভাল একটি গল্প ब्न * আমি ভাবিলাম যে,- “পূৰ্ব্বেই আমি স্থির করিয়াছি যে, ইহার শেষ পৰ্যন্ত দেখিব। একান্তই যদি ডাকিনীর হাত হইতে নিস্কৃতি না পাই, তাহা হইলে মায়ের এই খড়গদ্বারা আমার মুক্তা-মালা 8 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro মুণ্ড কাটিয়া মায়ের চরণে অৰ্পণ করিব।” এইরূপ ভাবিয়া মুণ্ডকে আমি বলিলাম,- “আপনার নিকট এবার আমি চমৎকার একটি গল্প বলিব। ইহা মদন ঘোষের গল্প। মদন ঘোষ নিজে এই গল্পটি বলিতেছেন।” মুণ্ড বলিল,- “তবে শীঘ আরম্ভ করিয়া দাও।” আমি মদন ঘোষের গল্প বলিতে আরম্ভ করিলাম । sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro মদন ঘোষের বদনে হাসি৷ প্ৰথম অধ্যায় ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমি মদন ঘোষ। আমার বদনে আপনারা হাসি দেখিতেছেন। নূতন আমার বিবাহ হইয়াছে। সেইজন্য আমার মুখে এত হাসি। কিন্তু তা’ বলিয়া আমি বে-পাগলা নই। তবে মনের মত পত্নীলাভ হইলে চিত্ত একটু প্ৰফুল্ল হয়। আমারও তাই হইয়াছে। তাই হাসি-মুখে সকলকে আমি সম্ভাষণ করিয়া বলিতেছি— “গুড় মৰ্ণিং!” সরস্বতী দেবীকে পূজা করিয়া লোকে বিদ্যালাভ করে। সে বস্তু আমি কতটুকু লাভ করিয়াছি, তাহা এই গল্পটি পাঠ করিলেই সকলে বুঝিতে পরিবেন। তাহা ব্যতীত আমি আর একটি বহুমূল্য রত্ন লাভ করিয়াছি। দেবীর কৃপায় রাধারাণীকে পাইয়াছি। রাধারাণী আমার গৃহের একাধারে লক্ষ্মী-সরস্বতী। O কলিকাতায় যখন আমি স্কুলে পড়তাম, তখুনু যাইতাম। বাড়ী আমাদের বদ্ধমান জেলাভে সামান্য একখানি ক্ষুদ্র গ্রামে। বাড়ী গিয়া ভক্তিভাবে দেবীকে অঞ্জলি প্ৰদান কুরিত্যুম্বকালবেলা মাঠে গিয়া দাঁড়াগুলি খেলতাম। যে বৎসর আমার প্রথম চাকরী হ্রস্ট, সে বৎসর শ্ৰীপঞ্চমীর সময় আমি দেশে যাইতে পারিলাম না । কলিকাতাতেই সে বৎসর মায়ের শ্ৰীপাদ-পদ্মে অঞ্জলি প্ৰদান করিলাম। সেই সূত্রে আমি রাধারণীকে লাভ করিলাম। সে বৎসর প্রাতঃকালে উঠিয়া, আমি আমার দোয়াতটিকে ভাল করিয়া ধুইলাম। পুরাতন নিবগুলি ফেলিয়া, কলমে নূতন নিব পরাইলাম। চারি পয়সা দিয়া একটি সরস্বতী ঠাকুর কিনিয়া আনিলাম। ছোট একখানি চৌকির মাঝখানে ঠাকুরটিকে বসাইয়া, তাহার সম্মুখে ও দুই পার্শ্বে দোয়াত-কলম ও পুস্তক সাজাইলাম। শুভ্ৰবর্ণের ফুল ও পূজার অন্যান্য উপকরণও আহরণ করিলাম। এসব আয়োজন করিলাম বটে, কিন্তু পুরোহিতের কি হইবে? কলিকাতায় আমি কখন ক্রিয়াকৰ্ম্ম করি নাই। সে নিমিত্ত পুরোহিতের প্রয়োজন হয় নাই। কিন্তু আজ—উপায়? ভাবিতে ভাবিতে আমার বাসার দ্বারে গলিতে গিয়া দাড়াইলাম। আমাদের বাসায় আর যত লোক আছেন, পূজা-পাঠের তাঁহারা ধার ধারেন না। নদী-ভৃঙ্গীর সন্ধান বরং তাঁহারা জানেন; কিন্তু পুরোহিতের সন্ধান তাহারা কিছুই জানেন না। তাই মনে করিলাম যে, পথে যদি সাত্ত্বিক গোচের মানুষ দেখিতে পাই, তাহা হইলে তাঁহাকে পুরোহিতের কথা জিজ্ঞাসা করিব। মুক্তা-মালা 8v30? বৎসর শ্ৰী পঞ্চমীর সময় আমি বাড়ী sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ভাগ্যে আমার বাসার নিকট দুই-তিনখানি খোলার বাড়ী ছিল, তাই আমাকে অধিকক্ষণ আর পথে প্রতীক্ষা করিয়া থাকিতে হইল না। খোলাঘরের লক্ষ্মীগণের সরস্বতীর প্রতি বিদ্বেষ নাই । কাৰ্ত্তিক ঠাকুরের প্রতি তাঁহাদের যেরূপ ভক্তি, সরস্বতী ঠাকুরাণীর প্রতিও তাঁহাদেৱ সেইরূপ ভক্তি। মহাসমারোহের সহিত আজ তাহারা দেবীর পূজা করিতেছেন। ঘরের মাঝখানে তাঁহাৱা একখানি প্রতিমা খাড়া করিয়াছেন। প্রতিমার সম্মুখে বড় একখানি থালা রাখিয়াছেন, সেই থালে ঝমা-ঝম প্ৰণামী পড়িতেছে। কলিকাতায় পূজা-করা ব্যবসাটি নিতান্ত মন্দ নহে। বড় পূজার সময় নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণের নিকট হইতে অনেকে প্ৰণামীস্বরূপ এত টাকা আদায় করেন যে, বারো মাস সুখে-স্বচ্ছন্দে তাহাদের সংসার চলিয়া যায়। আমি গলির পথে দাড়াইয়া আছি, এমন সময়ে নিকটের একখানি খোলার বাড়ী হইতে একজন ব্ৰাহ্মণ বাহির হইলেন। বর্ণ তাহার কালো নহে; শ্যামবর্ণ বলিলে যাহা বুঝায়, তাহার বর্ণ সেইরূপ ছিল। তাঁহার মুখে বসন্তের দাগ ছিল। কপালে তাঁহার সুদীর্ঘ একটি ফোঁটা ছিল; গায়ে একখানি নামাবলি ছিল। তিনি যে পুরোহিত, তাঁহাকে আর জিজ্ঞাসা করিতে হয় না। ভক্তিভাবে আমি তাঁহাকে প্ৰণাম করিলাম। হাত তুলিয়া জয়-অস্তু বলিয়া তিনি আমাকে আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। আমার ঘরে গিয়া মায়ের পূজা করিতে তাঁহাকে আমি অনুরোধ করিলাম। আমার কথায় তিনি সম্মত হইলেন। তাঁহার পূজা ও আমার অঞ্জলি প্রদানের পর, আমি তাঁহাকে দক্ষিণা প্ৰদান করিলাম। আজ আমার মুখে হাসি দেখিয়া আপনারা কত কি মনে করিতেছেন, কিন্তু সেদিন তাঁহার প্রফুল্ল ডায়মনকাটা মুখখানি যদি দেখিতেন, তাহা হইলে বলিতেন যে, হাঁ! হাসি বটে! তাহার কারণ এই যে, দক্ষিণাটি কিছু ভূটুর্ণ সেই প্ৰফুল্লবদনে ভট্টাচাৰ্য মহাশয় মৃত্যুখে বলিলেন,- “দেখ, বাপু! আজিকালের ছোকরাদের মতি-গতি নিতান্ত মন্দ মুম্বাই সব সাহেব ধরণ—সুহেবি মূত। কিন্তু তুমি ছোকরা দেখিতেছি ভাল। ধৰ্ম্মকৰ্ম্মে ভুঞ্জির মতি আছে। তােমার নাম কি বাপু !" আমি উত্তর করিলাম,- “আমার নাম মদনমোহন ঘোষ। আমরা সন্দূগোপ।” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন, — “বা চমৎকার নামটি। মদনমোহনা! অতি সুন্দর নাম।” আমার নামটি যে ভাল, জ্ঞান হইয়া পৰ্যন্ত তাহা আমি জানিতাম। মনে মনে কত আমি নামের গৌরব করিতাম। ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ও আজ সেই নামের প্রশংসা করিলেন। তাহার প্রতি আমার প্রগাঢ় ভক্তি হইল। আমার নিবাস কোথায়, আমার পিতা-মাতা বৰ্ত্তমান আছেন কি না, এইরূপ নানাপ্রকার পরিচয় গ্রহণ করিয়া ভট্টাচাৰ্য মহাশয় সেদিন বিদায় গ্ৰহণ করিলেন। তাহার পর মাঝে মাঝে তিনি আমার বাসায় পদধূলি প্ৰদান করিতেন। প্ৰণামীস্বরূপ টাকাটা-সিকিটা দিয়া আমি তাহার সম্মান করিতাম। ক্ৰমে আমি জানিতে পারিলাম যে, পুরোহিতাগিরি ব্যতীত তিনি ঘটকালী ব্যবসায়ও করিয়া থাকেন। সে নিমিত্ত আমার যে তখনও বিবাহ হয় নাই, কথায়-বাৰ্ত্তায় তাহাকে আমি জানাইলাম। ভট্টাচাৰ্য মহাশয় কিছু আশ্চৰ্য হইয়া বলিলেন,- এমন সুপােত্র! বিদ্বানু! চাকরে! এখনও বিবাহ হয় নাই!” আমি চুপ করিয়া রহিলাম। উত্তর আর কি করিব! প্রতিদিন আমি সাবান মাখিয়া স্নান করি। এখন আর আমার পাড়া গেয়ে চেহারা নাই। নানারূপ সুগন্ধযুক্ত তৈলে সিক্ত করিয়া, চুলগুলি 8vo. afraig -iibg gis so! - www.amarboi.com?437****** ফিরাইতে প্রতিদিন আমি আধা ঘণ্টাকাল অতিবাহিত করি। আৱাসীতে যখন আমি আমার মুখ দেখি, তখন ভট্টাচাৰ্য মহাশয় যাহা বলিলেন, আমিও তাঁহাই মনে ভাবি। নিজের সুখ্যাতি নিজে করিতে নাই। কিন্তু আপনারা বরং আমার বন্ধু-বান্ধবকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখিবেন, সকলেই বলিবে যে, মদন একজন সুন্দর পুরুষ বটে। ফলকথা, আমার নাম মদন, আমি কাজেও মদন। কিছুদিন পরে ভট্টাচাৰ্য মহাশয় পুনরায় আমার বাসায় আগমন করিলেন। সেদিন আসিয়া বলিলেন,- “দেখ, আমি ব্ৰাহ্মণ-কায়স্থের ঘটকালী করি; তোমাদের জাতির ঘটকালী কখন করি নাই। কিন্তু যে স্থানে আমার বাসা, তাহার ভিতর-বাটী—এক প্রবীণ ভদ্রলোক ভাড়া লইয়াছেন। তিনি তোমাদের জাতি; উপাধি পােল। পাল মহাশয়কে সঙ্গতিপন্ন লোক বলিয়া বোধ হয়। তাঁহার নিবাস শুনিয়াছি, হুগলী জেলায় কোন স্থানে। তাঁহার এক বয়স্থা কন্যা আছে। কন্যাটির বয়ঃক্রম বারো কি তেরো হইবে। তোমাদের জাতিতে এতবড় কন্যা থাকে না। কিন্তু তাহার কারণ আমি কতকটা পাইয়াছি। আমি যে বাড়ীতে থাকি, সেই বাড়ীর নীচের তলায় একটি ঘরে তোমাদের জাতীয় আর এক ব্যক্তি বাস করেন। তাহারও নিবাস হুগলী জেলায়। সকলে তাঁহাকে নিয়োগী মহাশয় বলিয়া ডাকে। তাঁহার পুত্ৰ পীড়িত হইয়াছে। চিকিৎসার নিমিত্ত তাঁহাকে তিনি কলিকাতায় আনিয়াছেন। আমি শুনিয়াছি যে, এই পুত্রের সহিত পাল মহাশয়ের কন্যার বিবাহ-সম্বন্ধ স্থির হইয়াছিল। তাহার পীড়াবশতঃ এখনও বিবাহ হয় নাই। আমার বোধ হয় এ বিবাহ কখন হইবেও না; কারণ, নিয়োগী মহাশয়ের পুত্ৰ কাসরোগ দ্বারা আক্রান্ত হইয়াছে। কিন্তু এখনও তাহার আরোগ্যলাভের আশা করিতেছে। সেজন্য পাল মহাশয়ের নিকট এখন কথা উত্থাপন করিতে পারি না । কিন্তু তুমি এক কাজ কর। তুমি গিয়া পাল য়র সহিত আলাপ-পরিচয় কর । তাহা করিতে পারিলে, যথা সময়ে এ কাজের সুবিধা হইবে।” দ্বিতীয় অধ্যায় গোফ-ছাঁটা বিভীষণ বিবাহের কথা শুনিয়া প্ৰাণ আমার উল্লাসে পরিপূর্ণ হইল। কারণ, আমার নাম মদন। প্রাণের কথা আমি খুলিয়া বলিতেছি, সেজন্য আমাকে আপনারা পাগল মনে করিবেন না। বিবাহের সময় আপনাদের বোধ হয়, এইরূপ আনন্দ হইয়া থাকিবে। তবে আপনারা প্ৰকাশ করেন না, এই যা । আমি ভট্টাচাৰ্য মহাশয়কে বলিলাম,- “পাল মহাশয় প্রবীণ, সঙ্গতিপন্ন, আমার সম্পূর্ণ অপরিচিত। তাহার সহিত আমি কিরূপে আলাপ-পরিচয় করিব?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় উত্তর করিলেন,- “তুমি এক কাজ কর। আমাদের বাড়ীতে তুমি একটি ঘর ভাড়া করিয়া সেই স্থানে বাস করা। দোতলার অন্দর মহলের দিকে, ঠিক পাল মহাশয়ের ঘরের পার্শ্বে, একটি ঘর খালি আছে। তুমি সেই ঘরটি ভাড়া লও। এক বাড়ীতে বাস করিতে করিতে ক্রমে পাল মহাশয়ের সহিত আলাপ-পরিচয় হইবে।” মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8vo. প্ৰাতঃকালে ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের সহিত আমার এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইল। আফিস হইতে আসিয়া সেই দিন সন্ধ্যাবেলা আমি তাঁহার বাসায় গমন করিলাম। যে বাড়ীতে তিনি থাকেন, সেই বাড়ীটি আমি দেখিলাম। ইহা দক্ষিণ-দ্বারী চক্‌-মিলান দোতলা বাড়ী। সম্মুখেই পূজার দালান, তাহাতে একজন স্বর্ণকার কাজ করে। বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিয়া, একতলার দক্ষিণদিকে যে ঘরটি, তাহাতে ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বাস করেন। বামদিকের ঘরটিতে একজন উৎকলবাসীর মুড়ি-মুড়কির ও তেলেভাজা-কচুরির দোকান। পূৰ্ব্বদিকে একখানি ঘরে পীড়িত পুত্ৰ লইয়া নিয়োগী মহাশয় আছেন। একতলার পশ্চিমদিকে একখানি ঘরে একজন বৃদ্ধ ব্ৰাহ্মণ থাকেন। তাহার কি মোকদ্দমা আছে। সেই মোকদ্দমার কথা একবার জিজ্ঞাসা করিলে আর রক্ষা নাই। দুই ঘণ্টা ধরিয়া তোমাকে তিনি সেই পরিচয় প্ৰদান করিবেন। তুমি তখন মনে করিবে যে, একথা জিজ্ঞাসা করিয়া কি কুকৰ্ম্ম করিয়াছি। বাহির-বাটীর উপরের ঘরগুলিতে আফিসের বাবুদের বাসা। কোনও ঘরে একজন, কোনও ঘরে দুই জন, কোনও ঘরে বা তিনচারি জন বাবু বাস করেন। নীচের তলার অবশিষ্ট ঘরগুলিতে তাঁহাদের রন্ধন হয়। উপরের একটি ঘরে একজন সামান্য গোচের দালাল থাকেন। কেশব সেন জীবিত থাকিতে তিনি ঘোরতর ব্ৰাহ্ম ছিলেন। মাঘোৎসবের সময় তিনি পথে নিশান ধরিয়া যাইতেন। এখন পুনরায় তিনি হিন্দু হইয়াছেন। এখন আর তিনি মুরগী ভক্ষণ করেন না। ভিতর-বাড়ীতে দোতলার পশ্চিমদিকে সারি সারি যে তিনটি ঘর আছে, তাহা ব্যতীত অন্দর মহলে এখন আর অন্য বাসোপযোগী ঘর নাই। বাড়ীটি পুরাতন ও ভগ্নী। ভিত্যুির-বাটীর বাকি সমুদয় ঘর ভাঙ্গিয়া গিয়াছে। পশ্চিমদিকে বাসোপযোগী সেই তিনটি মহাশয় একেলা সপরিবারে বাস করেন। তাঁহার পরিবার অধিক নহে, কেবল }৬ সেই কন্যা। ভিতর-বাড়ীর দােতলায় যে ঘরে পাল মহাশয় নিজে থাকেন, ঠিক তাহরণ্ঠ দিয়া বাহির-বাটী হইতে ভিতর-বাটীতে যাইতে পারা যায়। কিন্তু এখন ইহা সৰ্ব্বদা ভিতরে খিল ও বাহিরে শৃঙ্খল দ্বারা বন্ধ থাকে। বাড়ীর দক্ষিণে প্রশস্ত রাজপথ, পশ্চিমে একটি গলি। গৃহস্বামীর অবস্থা এক্ষণে মন্দ। সেজন্য বাড়ী ভাড়া দিয়া তিনি কাশীতে গিয়া বাস করিয়াছিলেন। বাড়ীটি ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের জিন্মায় আছে। ভাড়া আদায় করিয়া প্ৰতি মাসে তিনি গৃহস্বামীর নিকট প্রেরণ করেন। সেজন্য ভট্টাচাৰ্য মহাশয় যে ঘরে থাকেন, তাহার ভাড়া আঁহাকে দিতে হয় না। বাড়ীটির অবস্থা ভালরূপ অবগত হওয়া আবশ্যক। সে নিমিত্ত আমি এই বিস্তারিত বিবরণ প্ৰদান করিলাম । ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের পরামর্শ অনুসারে আমি উপরের সেই ঘরটি ভাড়া লইয়া, তাহাতে বাস করিতে লাগিলাম। কিন্তু দিনের পর দিন কাটিয়া যাইতে লাগিল, পাল মহাশয়ের সহিত আমার আলাপ-পরিচয় হইল না; তাহার কন্যাকেও আমি দেখিতে পাইলাম না। আমার ঘরটি ভিতরবাটীর ঠিক নিকটেই ছিল; সেজন্য কখন কখন তাহার কণ্ঠস্বর ও মলের শব্দ শুনিতে পাইতাম । পাল মহাশয় বাড়ীর ভিতর হইতে বড় বাহির হইতেন না; অন্ততঃ প্ৰাতঃকালে ও সন্ধ্যার সময় আমি যখন বাড়ীতে থাকি,তাম, তখন তাঁহাকে বড় বাহিরে আসিতে দেখিতাম না। দুই দিন কেবল ক্ষণকালের নিমিত্ত আমি তাঁহাকে দেখিয়াছিলাম। একখানি পুস্তক হাতে লইয়া ঘাড় হেঁট করিয়া Bob 's. N1s við F (ST Te! - www.amarboi.coms%"*"**"&* তিনি কোথায় গমন করিতেছিলেন। তাঁহার বয়স পঞ্চাশের অধিক হইবে। তাঁহার মুখ দেখিলে তাহার প্রতি ভক্তি হয়; কিন্তু মুখখানি অতিশয় বিষগ্ন। তিনি যেন ঘোর দুঃখে সৰ্ব্বদাই নিমগ্ন আছেন। হাতে পুস্তক দেখিয়া বুঝিলাম যে, তিনি লেখাপড়া জানেন। সেই বিষণুবদনে লক্ষ্মীশ্ৰী দেখিয়া আমি ভাবিলাম যে, যদি কপালে থাকে, তাহা হইলে এ লোকের আমি জামাতা হইব। কিন্তু আর একজনের সহিত তাহার কন্যার বিবাহ-সম্বন্ধ হইয়া আছে। সে কিরূপ, তাহা আমাকে দেখিতে হইবে। কিন্তু তাহার পিতা অর্থাৎ নিয়োগী মহাশয়ের ভাব দেখিয়া আমার ভয় হইতে লাগিল। নিয়োগী মহাশয়ের মুখখানি অনেকটা বিভীষণের মত। মুখের দুই পাশে দুই গাল যেন দম্ভ করিয়া আগে বাড়িতেছে। তাহার মাঝখানে আধা-পাকা আধ-কঁচা ছাঁটা গোপগুলি সব খোচা খোচা হইয়া আছে। তাঁহাকে দেখিয়া আমি মনে করিলাম যে, লোকে যে গোপ-ছাঁটা বদমায়েশের কথা বলে, ইনি একজন তাই। সে যাহা হউক, আমি অনেক কৌশল করিয়া তাঁহার পুত্রের সহিত আলাপ করিলাম। তাহার পুত্রের মুখমণ্ডলে সুলক্ষণ আমি কিছু দেখিলাম না। পিতার বদমায়েশি ভােব যেন পুত্রের মুখেও প্রতিফলিত হইয়াছে। কিন্তু রোগে এখন তাহার শরীর জীর্ণ হইয়াছে, মুখ তাহার শুষ্ক ও মলিন হইয়াছে। এরূপ অবস্থায় তাহার জন্য আমার মনে দুঃখ হওয়া উচিত; কিন্তু সত্যকথা বলিতে কি, তাহা আমার হয় নাই। তাহার প্রতি বরং আমার হিংসা হইল। আমি এমন সুন্দর পুরুষ, যাহাকে মনে মনে পত্নীরূপে বরণ করিয়াছি, সে এই মার্কটের হাতে পড়িলেও পড়িতে পারে, সে চিন্তা আমার অসহ্য হইয়া উঠিল। সত্য বটে, সেই সুন্দরীকে আমি এখনও চক্ষেও দেখি নাই। কিন্তু তাহা হইলে কি হয় তাহার পায়ের চারি গাছি মলের রুণুরুণু শব্দ সৰ্ব্বদাই যে আমার কানে লাগিয়া আছে! চাবি খোলার শব্দ হয়, আর আমার প্ৰাণটা ধড়াশ করিয়া উঠে; আমি ভাবি, এ আমার হৃদয়-আসীনা আমার প্রাণদেবীর পদনিঃসৃত সেই কিঙ্কিণী শব্দ। তাহাকে নাই সত্য; কিন্তু ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের বিবরণ অবলম্বন করিয়া আমার মানসক্ষেত্রে তাহারািচত্রে আঁকিয়া লইয়াছিলাম। নিয়োগী-পুত্রের পীড়া সঙ্কট, সৰ্ব্বধৰ্মই সে ঘরের ভিতর শুইয়া থাকে; উঠিয়া বেড়াইবার শক্তি বড় নাই; তথাপি সে মাঝে বাটীর ভিতর গিয়া পাল মহাশয়ের পরিবারবর্গের সহিত সাক্ষাৎ করে। পাল মহাশয়ের সহিত নিয়োগী মহাশয়ের বহুদিন ধরিয়া আলাপ-পরিচয় আছে। শুনিলাম যে, দেশে ভূমিসম্পত্তি লইয়া একবার পাল মহাশয়ের কি মকৰ্দমা হইয়াছিল। তাহাতে জাল করিয়া ও মিথ্যা সাক্ষীর যোগাড় করিয়া নিয়োগী মহাশয় তাহার অনেক উপকার করিয়াছিলেন। সেই অবধি দুই পরিবারে বিলক্ষণ সদ্ভাব জিনিয়াছিল। এইসব কথা শুনিয়া মাঝে মাঝে আমি নিরাশ হইয়া ভাবিতাম যে, কে হে তুমি মদন ঘোষ। যে পাল মহাশয়ের কন্যার প্রতি কটাক্ষ করা? তবে আশা এই যে, নিয়োগী মহাশয়ের পুত্ৰ বোধ হয়, এ যাত্রা রক্ষা পাইবে না। সে যাহা হউক, আমি সেই পীড়িত যুবকের নিকট মাঝে মাঝে বসিয়া তাহার সহিত গল্প করিতাম। গল্পচ্ছলে পাল মহাশয়ের কথা, তাহার পরিবারের কথা, তাহার কন্যার কথা জিজ্ঞাসা করিতাম। নিয়োগী-পুত্র ভাল করিয়া আমাকে পরিচয় প্ৰদান করিত না। কথার ছলে আমার সন্দেহ হইল যে, পাল মহাশয়ের সংসারে কোনরূপ একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে। সে কথা সাধারণের নিকট প্রকাশ করিবার নহে। ইতিপূৰ্ব্বে বন্ধু-বান্ধব ও কুটুম্বদিগের দ্বারা আমি পাল মহাশয়ের বংশ-পরিচয় গ্ৰহণ করিয়াছিলাম । সেই সক মেয় একজন আমাকে বলিয়াছিল। যে, পাল মহাশয়ের এক পুত্ৰ আছে। সে পুত্ৰ এখন কোথায়? সে কথার কোন সন্ধান আমি পাইলাম না। নিয়োগী-পুত্রকে জিজ্ঞাসা করিলে, সে আমার উপর রাগিয়া উঠে। N মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8s তৃতীয় অধ্যায় রাক্ষস না ভূত এইরূপে কিছুদিন গত হইল। পাল মহাশয়ের সহিত আমার পরিচয় হইল না। ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের সহিত সৰ্ব্বদা আমি সাক্ষাৎ করিতাম। তিনি বলিতেন,- “ব্যস্ত হইও না । নিয়োগীপুত্রের জীবনের আশা থাকিতে তোমার কোন আশা নাই। অপেক্ষা কর, দেখা যাউক কি হয়।” আমাদের বাটীর সম্মুখে রাস্তার অপর পারে একখানি মুদির দোকান আছে। একদিন রবিবার বৈকালবেলা দেখিলাম যে, পাল মহাশয় সেই দোকানে বসিয়া আছেন। তাঁহার মুখ সেইরূপ বিষন্ন ও চিন্তায় আচ্ছন্ন। একখানি পুস্তক তিনি পাঠ করিতেছিলেন ও কদাচ কখন কখন এক একবার মুখ তুলিয়া কাহারও সহিত দুই-একটি কথা কহিতেছিলেন। তাঁহাকে দেখিয়া আমি দোকানে প্ৰবেশ করিয়া যে তক্তপোষের উপর তিনি বসিয়াছিলেন, তাহার এক পার্শ্বে উপবেশন করিলাম। কোন দ্রব্য আমার প্রয়োজন আছে কি না, মুদি আমাকে জিজ্ঞাসা করিল। আমি বলিলাম,- “না।” তক্তপোষের উপর আরও তিন ব্যক্তি বসিয়া তামাক খাইতেছিলেন। পাল মহাশয়ের ন্যায় তাহারাও প্রবীণ। তাঁহাদের মধ্যে কেহ আমাকে কোন কথা বলিলেন না। পাল মহাশয় পুস্তক হইতে মুখ তুলিয়া আমার দিকে একবার চাহিয়াও দেখিলেন না। আমি যুবক; সামান্য একটা ছােড়া বললেও হয়; আর তাঁহারা সকুঞ্জ প্রবীণু। তাঁহাদের সহিতু প্ৰথম কথা কহিতে আমি সাহস করিলাম না। তাঁহারা, প্রথমুণ্ঠীর্মার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিবেন, সেই ; কিন্তু...আমার সহিত কেহ একটিও কথা কহিলেন না। নিরাশ হইয়া সে স্থান হইতে আমি প্ৰস্থাই করিলাম। কিন্তু পাল মহাশয় একমনে কি পুস্তক সেই দিনই আমি সেই পুস্তক ক্ৰয় করিলাম; আর সেই রাত্রি হইতে তাহা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করিতে লাগিলাম। ভিতর-বাটীতে পাল মহাশয়ের ঘর, আর বাহির-বাটীতে আমার ঘর, দুইয়ের মাঝখানে কেবল একটি প্রাচীর ব্যবধান ছিল। আমি মনে করিলাম যে, আমার মহাভারত পাঠের শব্দ প্রাচীর পার হইয়া, পাল মহাশয়ের কর্ণকুহরে প্রবেশ করিবে। তাহা হইলে আমার প্রতি তাঁহার শ্রদ্ধা হইবে। কিন্তু ঠিক বিপরীত ফল হইল। আমার ঘরের সম্মুখে বারেণ্ডা আছে; আর সেই বারেণ্ডার উত্তর-সীমায় বাটীর ভিতর যাইবার জন্য দ্বার আছে। সেই দ্বারা সৰ্ব্বদা বন্ধ থাকে। একদিন রাত্রিকালে আমি যথারীতি উচ্চৈঃস্বরে মহাভারত পাঠ করিতেছি, এমন সময় বাটীর ভিতর দিক হইতে সেই দ্বারে কে ধাক্কা মারিতে লাগিল । মহাভারত পাঠে আমার মন তখন নিমগ্ন ছিল, সুতরাং সে শব্দ প্রথম আমি শুনিতে পাই নাই। ক্ৰমে ধাক্কার শব্দ বৃদ্ধি হইয়া যখন আমার কণ্ঠ-শব্দকে পরাজয় করিল, তখন সে শব্দ আমি শুনিতে পাইলাম । তাড়াতাড়ি ঘর হইতে বাহির হইয়া সেই দ্বারের নিকট গিয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “কে গা! কে শব্দ করিতেছে!” ভিতর হইতে পােল মহাশয় উত্তর করিলেন, — “একটু ধীরে ধীরে যদি বাপু তুমি পুস্তক পাঠ কর, তাহা হইলে এ বাড়ীতে আমি তিষ্ঠিতে পারি, তা না হইলে আমাকে অন্যত্র পলায়ন করিতে হইবে।” 88d află cios (gs se - www.amarboi conf** ঘোরতর অপ্রতিভ হইয়া আস্তে আস্তে পড়িবার নিমিত্ত আমি তাহার নিকট অঙ্গীকার করিলাম। অঙ্গীকার করিয়া সে রাত্রিতে যখন লজ্জায় ও ঘূণায় অভিভূত হইয়া পুনরায় আমি আমার ঘরে প্রবেশ করিলাম, তখন যদি আপনারা আমাকে দেখিতেন, তাহা হইলে এই মদনের বদনে আপনারা বিন্দুমাত্ৰও হাসি পাইতেন না। রাগ করিয়া আমি মহাভারত দূরে নিক্ষেপ করিলাম। সেইদিন হইতে আর সে পুস্তক আসি স্পর্শ করিলাম না। পাল মহাশয়ের সহিত আমার আলাপ-পরিচয় হইল না। বরং মহাভারত পাঠের নিমিত্ত তাহার নিকট আমি লাঞ্ছিত হইলাম। গোফ ছাঁটা নিয়োগী মহাশয় বক্ষঃস্থল স্বীত করিয়া দম্ভের সহিত বিচরণ করেন। তাঁহাকে দেখিলে আমার সাৰ্ব্বশরীর জুলিয়া যায়। ডাক্তারগণ আসিয়া তাহার পুত্রকে পনের দিনের মধ্যে ভাল করিয়া দিবেন বলিয়া আস্ফালন করে। কিন্তু তাহার কাসি যায় না, জুরিও কমে না, শরীরে সে বলও পায় না। ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমাকে ক্রমাগত আশ্বাস প্ৰদান করেন। তাঁহার কৃপা আমি কখনও তুলিতে পারিব না। এইভাবে আরও কিছুদিন কাটিয়া গেল । ক্ৰমে চৈত্র মাস পড়িল। তখন নূতন গ্ৰীষ্ম পড়িয়াছে। রাত্রিতে সহসা আমার নিদ্ৰা ভঙ্গ হইল। তাহার পর পুনরায় নিদ্রা যাইবার নিমিত্ত অনেকক্ষণ চেষ্টা করিলাম; কিছুতেই আর নিদ্রার আবেশ হইল না। শয্যা হইতে উঠিয়া আমি আলো জ্বালাইয়া ঘড়িতে দেখিলাম যে, একটা বাজিয়া গিয়াছে। আমার ঘরের পশ্চিমদিকে দুইটি জানােলা ছিল। তাহার একটি জানােলা খুলিয়া দীড়াইলাম। আমার ঘরের নিয়েই গলি পথ। গলির ভিতুৱা পাল মহাশয়ের দিকে দূরে একটি গ্যাসের আলো । গলির ওপারে অন্যান্য লোকের বাড়ী যে বাটীতে থাকি, তাহার উত্তরে ঠাকুরের অনেকগুলি নোড়া-নুড়ি ছিল। সেই ধ্ৰুংমধ্যে দুইটি ঘরের ঠিক গায়ে লাগিয়াছিল। ৰই গাছের দিকে একবার দৃষ্টি পড়িল। সৰ্ব্বনাশ! অশ্বথগাছের ডাল, পাল মহাশয়ের তিনটি সেই গাছের উপর, নিবিড় শাখা-প্ৰশাখ$) মত সেই স্কুল ডালটির উপর আসিয়া বসিল। তাহার পর ধীরে ধীরে সেই বৃক্ষ-শাখার উপর দিয়া সে পাল মহাশয়ের দ্বিতীয় ঘরের দিকে অগ্রসর হইতে লাগিল। একটু দূরে গ্যাসের আলোক ছিল, তাই আমি তাহাকে দেখিতে পাইলাম; নতুবা সে অন্ধকার রাত্রিতে আমি তাহাকে দেখিতে পাইতাম না। যখন সে আরও অগ্রসর হইল, তখন আমি দেখিলাম যে, সে কোনরূপ জন্তু নহে। তাহার আকৃতি কতকটা মানুষের মত। মানুষের মত বটে; অথচ তাহাকে মানুষ বলিয়া আমার বোধ হইল না। ঘোড়ার মত তাহার মুখ লম্বা ছিল। মুখের বর্ণ সবুজ। বন্য-শূকরের ন্যায় বড় বড় দাঁত। যে স্থানে চক্ষু থাকে, তাহার সেই স্থানে গোল গোল দুইটি গৰ্ত্ত ছিল। শরীরের নিম্নভাগ মানুষের মত ছিল। কিন্তু সে মানুষ নহে, ভুতও নহে। আমি ভাবিলাম যে, যখন ইহার সবুজ কপালের উপর রক্তচন্দনের দীর্ঘ ফোঁটা রহিয়াছে, তখন এ নিশ্চয়ই রাক্ষস। আর, তাহার কি দাড়ি! ঘোর কৃষ্ণবর্ণের এমন চাঁপদাড়ি তো কখনও দেখি নাই! গোফে ও দাড়িতে তাহার সেই সবুজ লম্বা মুখমণ্ডলের আধোদেশটি আবৃত হইয়াছিল। ভয়ে আমি বিহ্বল হইয়া পড়িলাম, আতঙ্কে স্তম্ভিত হইয়া আমি আর জানালা বন্ধ করিয়া দিতে পারিলাম না, সে স্থান হইতে পলাইতেও পারিলাম না, কি চীৎকার করিতেও পারিলাম না! আরও অদ্ভুত কথা । সেই রাক্ষসটা ক্ৰমে অগ্রসর হইয়া পাল মহাশয়ের দ্বিতীয় অর্থাৎ মাঝের ঘরের জানালার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইল। তাহার পর সেই জানালাতে সে অঙ্গুলি মুক্তা-মালা 88S sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro দ্বারা টােকা মারিয়া ইঙ্গিত করিতে লাগিল। এইরূপ কিছুক্ষণ অতি ধীরে ধীরে জানালায় শব্দ করিবার পর ভিতর হইতে কে জানালা উদঘাটন করিল, গ্যাসের আলোকে নিমিষের নিমিত্ত আমি তাহার হস্তটি দেখিতে পাইলাম। সেই হাতে সােনার বালা ছিল। মৃণাল-সদৃশ সেই কোমল বাহু—পাল মহাশয়ের বয়স্ক গৃহিণীর নহে, সে হস্ত তাঁহার কন্যার। সবুজ রাক্ষসের সহিত পাল মহাশয়ের কন্যার সম্বন্ধ । চতুর্থ অধ্যায় সবুস রাক্ষস জানালার ধারে অশ্বথ ডালের উপর রাক্ষস বসিয়া রহিল। তাহার আকৃতি দেখিয়া আমার কণ্ঠ শুষ্ক হইয়া গেল। ভয়ে আমি কাপিতে লাগিলাম। চিন্তা-শক্তি একেবারে আমার লোপ পাইয়া গেল। একদৃষ্টি আমি তাহার দিকে চাহিয়া রহিলাম। পাল মহাশয়ের কন্যা প্রথম জানালাটি উদঘাটন করিল। তাহার পর আমি শব্দে বুঝিলাম যে, জানালার দুইটি রেল খুলিয়া সে ভিতর দিকে । রেল তুলিয়া ৱাক্ষসের জন্য সে পথ করিয়া দিল। রাক্ষস জানালা দিয়া, ঘরের প্ৰবেশ করিল। দুৰ্ব্বন্ধ করিয়া দিলাম । জানালা বন্ধ করিয়া আরও আমার একটু সাহস হইল। কিন্তু তৃগুণ হইল। আমার ঘরের পর পাল মহাশয়ের ঘর; তাহার পর যে ঘর, সেই ঘরে রাক্ষস প্রবেশ করিয়াছে। দূর অধিক নহে, ভিতর ও বাহির-বাটীর মাঝখানে বারেণ্ডায় সেই একমাত্র দ্বার। সেই পথে আসিয়া রাক্ষস যদি আমাকে খাইয়া যায়? পাল মহাশয়ের কন্যার সহিত তাহার প্ৰণয়, কারণ, তাহার ইঙ্গিত-শব্দ শ্রবণমাত্র জানােলা খুলিয়া রেল তুলিয়া, কত কষ্ট করিয়া, তাহাকে সে ঘরে আসিতে দিয়াছে। নিজের প্রণয়িনীকে সে ভক্ষণ করিবে না। প্ৰণয়িনীর পিতামাতাকেও সে ভক্ষণ করিবে না। থাকিবার মধ্যে নিকটে আছি। আমি । যদি সে বলিয়া বসে যে, আমার ক্ষুধা পাইয়াছে, কিছু জলযোগ করিতে আমার ইচ্ছা হইয়াছে, আর তাহাকে আমি কি করিব? বিবাহের লোভে কেন যে মরিতে এ স্থানে আসিয়াছিলাম! একবার মনে করিলাম যে, সে বাটী হইতে পলায়ন করি। আধ একবার মনে করিলাম যে, চীৎকার করিয়া পাঁচ জনকে আহবান করি। কিন্তু পরীক্ষণেই ভাবিলাম যে, কাজ নাই বাপু! আর দ্বার খুলিবার শব্দ পাইয়া রাক্ষস চাই কি কৃপিত হইতে পারে। রাক্ষসের কোপে পড়িয়া শেষে কি প্ৰাণটা হাৱাইব । আজ হয়, দুই দিন পরে হয়, সুবিধা পাইলেই সে আমাকে খাইয়া ফেলিবে। এইরূপ চিন্তা করিয়া বিছানায় আমি শুইয়া পড়িলাম। শয়ন করিয়া পাল মহাশয়ের কন্যার কথা ভাবিতে লাগিলাম। এই বালিকা বয়সে রাক্ষসের সহিত প্ৰণয়! ছি! ভাল কন্যাকে বিবাহ BBS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comৰ্ম্মিািক্যনাথ রচনাসােথই করিতে আমার মন-প্ৰাণ আকুল হইয়াছিল। এইরূপ ভাবিতে ভাবিতে নিদ্রায় আমি অভিভূত হইয়া পড়িলাম! ইহার পর কি হইল, আর আমি কিছুই জানি না। পরদিন প্ৰাতঃকালে, দিনের আলোকে আমার অনেকটা সাহসী হইল। গত রাত্রির ঘটনা বারবার চিন্তা করিতে লাগিলাম। একবার মনে করিলাম, সে সমুদয় মিথ্যা, স্বপ্নমাত্র। কিন্তু ভালরূপে অনুধাবন করিয়া অবশেষে স্থির করিলাম যে, না, সে স্বপ্ন নহে, সত্য সত্যই আমি এক অপূৰ্ব্ব জীবন দর্শন করিয়াছিলাম; সে জীব রাক্ষস হউক, আর ভুতই হউক, আর যাহাই হউক। গত রাত্ৰিতে মনে করিয়াছিলাম যে, এ বাটীতে আর থাকিব না, অন্য স্থানে গিয়া বাসা করিব। কিন্তু প্ৰাতঃকালে সে কল্পনা পরিত্যাগ করিলাম। মনে করিলাম যে, ইহার সবিশেষ তত্ত্ব আমাকে লইতে হইবে। পাল মহাশয়ের বালিকা কন্যা যে সেই কিম্বুতকিমাকার সবুজ রাক্ষসের প্রেমে আবদ্ধ হইয়াছে, একথা বিশ্বাস করিতে আমার প্রবৃত্তি হইল না। তাহা ব্যতীত সহসা বাটী পরিত্যাগ করিয়া অন্য বাটীতে বাসা করিলে পাছে রাক্ষসের কোপে আমি পতিত হই, সে আশঙ্কাও আমার মন হইতে দূর হয় নাই। আমি ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের ঘরে গমন করিলাম। তাঁহাকে একেলা পাইয়া গত রাত্রির সমস্ত বিবরণ তাঁহার নিকট বর্ণনা করিলাম। তাঁহার ঘরের ভিতর দাঁড়াইয়া, তাহাকে আমি এই বিবরণ প্ৰদান করিতেছিলাম। আমার কথা প্ৰায় শেষ হইয়াছে, এমন সময় ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমাকে চক্ষু টিপিলেন। তৎক্ষণাৎ ফিরিয়া আমি ঘরের দ্বারের দিকে চাহিয়া দেখিলাম যে, দ্বারের নিকট সমুদয়Nকথা শুনিতেছে। আমি যেই ফিরিয়া চাহিলাম, আর তৎক্ষণাৎ সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিল। ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন, — “নিয়ােগী ভােলমানুষ নহে। পাল মহাশয়ের গুইস্কু, কুটুম্ব ও হবু বৈবাহিক। তােমার কথা এ শুনিয়া ফেলিল। কাজটা বড় ভাল হইল స్ట్రీ তাহার পর ভট্টাচাৰ্য মহাশয় পুনরুক্সিষ্টলিলেন,- “বড়ই আশ্চৰ্য্য কথা তুমি বলিলে। যাহা বলিলে, তাহা সত্য কি স্বপ্ন, আমি খুঁঝিতে পারিতেছি না। কিন্তু যখন তাহার বড় বড় দাঁত, চক্ষু স্থানে কেবল কোটর, রং সবুজ, আর কপালে। লাল ফোঁটা, তখন সে নিশ্চয় রাক্ষস, সামান্য ভূত নহে। আমাদের গ্রামের নিকট একবার এইরূপ একটা রাক্ষস আসিয়াছিল।” পঞ্চম অধ্যায়। হারাণ সুরের গল্প আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কি হইয়াছিল?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় উত্তর করিলেন, — “সে তোমাদের জাতি। তাহার নাম ছিল হারাণ সুর। লোকালয় হইতে কিছু দূরে গ্রামের প্রান্তভাগে মাঠের ধারে হারাণ সুর আপনার স্ত্রী ও দুইটি শিশুপুত্ৰ লইয়া বাস করিত। হারাণ সুরের পীড়া হইল। কিছুদিন পীড়া ভোগ করিয়া একদিন রাত্রিতে তাহার মৃত্যু হইল। শিশু দুইটিকে ছাড়িয়া লোক ডাকিবার নিমিত্ত, তাহার স্ত্রী সে রাত্রি বাহির হইতে সাহস করিল না। শিশু দুইটিকে মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 880 লইয়া স্বতন্ত্র একটি শয্যাতে শয়ন করিয়া, সে কাঁদিতে লাগিল। যখন ঘোর রাত্রি হইল, তখন কে একজন বাহিরে আসিয়া ঘরের আগড় ঠেলিতে লাগিল,— ‘মাসি! আগাড় খুলিয়া দাও।” হারাণের স্ত্রী মনে করিল যে, আমার বোনপো তো কেহ নাই; এ ঘোর রাত্রিতে বিপদের সময় কে আসিয়া ডাকাডাকি করে। সেজন্য প্রথম উত্তর দিল না। কিন্তু বাহিরের সে ব্যক্তি পুনরায় সবলে আগড় ঠেলিয়া বলিল,— “শীঘ দ্বার খুলিয়া দাও, মাসি! মেসো মহাশয়ের পীড়ার কথা শুনিয়া আমি আসিয়াছি। শীঘ্ৰ আগড় খুলিয়া দাও।”—হারাধণের স্ত্রী ভাবিল যে,— দূরসম্পৰ্কীয় তাহার কোন ভগিনী থাকিতে পারে। কৰ্ত্ত হয়তো তাহার পুত্রের নিকট সংবাদ প্রেরণ করিয়াছিলেন। সেজন্য সে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। এইরূপ মনে করিয়া চক্ষের জল ফেলিতে ফেলিতে সে শয্যা হইতে উঠিয়া আগড় খুলিয়া দিল। সেই মুহুৰ্ত্তে ভয়ঙ্কর এক মূৰ্ত্তি ঘরের ভিতর প্রবেশ করিল। ঘরে মিটু-মিটু করিয়া একটি প্ৰদীপ জ্বলিতেছিল। সেই আলোকে হারাণের পত্নী সেই ভয়ঙ্কর মূৰ্ত্তি দেখিতে পাইল। তাহার বর্ণ সবুজ, তাহার মুখ ও পেট যেন এক একটি জালা। তাহারও কপালে ফোঁটা ছিল! সেই জন্য আমার বোধ হয় যে তুমি কাল রাত্রিতে যাহাকে দেখিয়াছিলে, সেও রাক্ষস—ভূত নহে। কারণ, ভূতে ফোঁটা কাটে না, আর তাহাদের রং সবুজ হয় না।” এতদূর বলিয়া ভট্টাচাৰ্য মহাশয় চুপ করিলেন। অতি আগ্রহের সহিত আমি তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “হারাণ সুরের ঘরে তাহার পর রাক্ষস কি করিল?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন,- “সেই ভয়ঙ্কর মূৰ্ত্তি দেখিয়া, হারাণ সুরের পত্নীর প্রাণ উড়িয়া গেল!! তাড়াতাড়ি সে ছেলে দুইটির নিকটে গিয়া র মাঝখানে শয়ন করিল। ভাগ্যে শীতকাল, সেজন্য বিছানায় বড় একখানি কাঁথা সেই কথা দিয়া ছেলে দুইটিকে সে ঢাকা দিলা নিজেও কঁথা মুড়ি দিয়া কঁদিতে ও কঁপ্তি চলাগিল।” “রাক্ষস কিন্তু তাহাদিগকে কিছু । ঘরের অপর পার্শ্বে যে স্থানে একটি মাদুরের উপর হারাণ সুরের মৃতদেহ পড়িয়ঞ্জল, রাক্ষস বরাবর সেই স্থানে গিয়া মাদুরের উপর উপবেশন করিল। তাহার পর, মড়াৎ করিয়া হারাণের একটি হাত ভাঙ্গিয়া কড়-মড় শব্দে চিবাইতে লাগিল। সে হাতটি সমাপ্ত হইলে পুনরায় আর একটি হাত ভাঙ্গিয়া সেইরূপ ভক্ষণ করিল। হাত দুইটি শেষ হইলে একটি পা ভাঙ্গিয়া খাইতে লাগিল। ঘরের ভিতর ক্রমাগত চপ্‌চপৃ চপ্‌-চপৃ, কড়-মড় কডু-মন্ডু শব্দ হইতে লাগিল। সেই শব্দে শিশু দুইটি নিদ্ৰাভঙ্গ হইল। গা টিপিয়া মাতা তাহাদিগকে কাঁদিতে নিষেধ করিল। কাঁদিবে কি, চীৎকার করিবে কি, তোমার মত তাহারাও ভয়ে হতবুদ্ধি হইয়া গিয়াছিল। ভয়ে জড়সড় হইয়া কাঁথার ফাঁক দিয়া তিন জনে এই ভীষণ ও বীভৎস ব্যাপার দর্শন করিতে লাগিল। হারাণের স্ত্রী ভাবিতে লাগিল যে— স্বামীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাক্ষস যেরূপ শীঘ শীর্ঘ ভক্ষণ করিতেছে, তাহাতে আর অল্পক্ষণের মধ্যেই সে সমুদায় শরীরটা খাইয়া শেষ করিবে। ইহার পেটটি যেরূপ জালার মত দেখিতেছি, তাহাতে একটি দেহ খাইয়া ইহার পেট ভরিবে না। তখন আমাদের তিন জনকেই হয়তো খাইয়া ফেলিবে। নিজের যাহা হাউব, শিশু দুইটিকে যে সে ভক্ষণ করিবে, প্ৰাণ থাকিতে তাহা তো আমি দেখিতে পারিব না। এইরূপ চিন্তা করিয়া হারাণের স্ত্রী গা টিপিয়া শিশু দুইটিকে উঠিয়া বসিতে ইঙ্গিত করিল। তাহারা উঠিয়া বসিল। তখন সে ছেলে দুইটির হাত ধরিয়া ঘর হইতে পলায়ন করিতে চেষ্টা করিল। আগড়ের নিকট গিয়া উপস্থিত হইয়াছে, এমন সময় রাক্ষসের দৃষ্টি তাঁহাদের উপর পড়ল। চক্ষুদ্বয় রক্তবর্ণ করিয়া, দন্ত কড়মড় করিয়া অতি কৰ্কশ 888 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicom 25° স্বরে জিজ্ঞাসা করিল,— “কোথা যাস?”— হারাণের পত্নী সভয়ে অতি বিনীতভাবে উত্তর করিল,- “কোথাও যাই নি, বাবা! ছেলে দুইটি এখনি বিছানা ভিজাইয়া দিবে, সেজন্য তাহাদিগকে একবার বাহিরে লইয়া যাইতেছি।’ --রাক্ষস বলিল,- “শীঘ্ৰ আসিস!”- হারাণের পত্নী বলিল,— “হা, বাবা, শীঘ আসিব ।”—এই কথা বলিয়া আগড় খুলিয়া ছেলে দুইটিকে লইয়া, সে ঘর হইতে বাহির হইল। উৰ্দ্ধশ্বাসে তিন জনে গ্রামের ভিতর প্রবেশ করিয়া, এ প্রতিবেশীর গৃহে গিয়া আশ্রয় লইল। প্রতিবাসীদিগের নিকট সকল বিবরণ প্ৰকাশ করিল। কিন্তু সে রাত্রিতে রাক্ষসের সম্মুখে যাইতে কেহই সাহস করিল না। পরদিন প্ৰাতঃকালে অনেক লোক একত্র হইয়া লাঠি-সীেঠ লইয়া হারাণের গৃহে গিয়া দেখিল যে, সে রাক্ষস নাই, হারাণের দেহও নাই, কেবল দুই-চারিখানি অতি ক্ষুদ্র হাড়ের কুচি ঘরের ভিতর মাদুরের উপর পড়িয়া আছে। সমুদয় দেহটি ভক্ষণ করিয়া, রাক্ষস প্রস্থান করিয়াছে।” ষষ্ঠ অধ্যায় পত্রের অর্থ

  • डिशिअन बार अश्न पार्लि डोजर्थ स्नाया था ०ि বাটীতে থাকিব না। গত রাত্রিতে রাক্ষসের বুেপ্ত হয় ক্ষুধা ছিল না, তাই আমার প্রাণ বাঁচিয়া গিয়াছে। কিন্তু এবার যেদিন সে আসিবে যদি তাহার ক্ষুধা থাকে, তাহা হইলে কি হইবে? নিকটে পাইয়া নিশ্চয় সে। খাইবে । অতএব অদ্যই আমি এ বাসা হইতে উঠিয়া যাইব। প্রাণটা থাকিলে অর্নেক্ল কন্যা জুটিবে, অনেক বিবাহ হইবে। পাল মহাশয়ের কন্যায়। আর আমার প্রয়োজন নাই।”

ভট্টাচাৰ্য মহাশয় হাসিয়া উত্তর করিলেন,- “তুমি ইংরেজী পড়িয়াছ। ইংরেজী পড়িয়া ভূত প্রেত রাক্ষসে এত তোমার ভয় কেন? এ কলিকাতা সহর। আমি অনেকদিন কলিকাতায় আছি। এ স্থানে কখনও রাক্ষসের উপদ্রব হইতে শুনি নাই। কলিকাতা সহরে একটি মানুষকেও কখন রাক্ষসে খায় নাই। তোমার কোন ভয় নাই। ব্যস্ত হইও না। দেখ না কি হয়! রাত্রিতে একটু সতর্ক থাকিবো। রাক্ষস যদি পুনরায় আগমন করে, তাহা হইলে আমাকে বলিবে। আজ আমি তোমাকে রাম-কবচ লিখিয়া দিব। তাহা ধারণ করিলে, আর তোমার কোন ভয় থাকিবে না।” রাম-কবচ ধারণ করিয়া আমার ভয় দূর হইল। সে বাসা পরিত্যাগ করিয়া, অন্য স্থানে আমি আর গমন করিলাম না। তাহার পর দুই রাত্রি আমি একটা পৰ্যন্ত জাগিয়া রহিলাম। মাঝে মাঝে জানােলা খুলিয়া, অশ্বথগাছের দিকে দেখিতে লাগিলাম। কিন্তু আর রাক্ষস দেখিতে পাইলাম না। সময় বাড়ীর ভিতর যাইবার যে দ্বারা সৰ্ব্বদা বন্ধ থাকে, পাল মহাশয়ের দিক হইতে সে দ্বারে কে ধাক্কা মারিল, আর তৎক্ষণাৎ কপাটের ফাঁক দিয়া আমার দিকে কে একখণ্ড কাগজ ফেলিয়া দিল। তাড়াতাড়ি আমি কাগজখানি কুড়াইয়া লইলাম। তাহার পর ঘরের ভিতর গিয়া, তক্তপোষের উপর বসিয়া, তাহা আমি পাঠ করিলাম। কাগজখানিতে এইরূপ লেখা ছিল,— মুক্তা-মালা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 88s “মহাশয়! আমাদের বিষয়ে আপনি লোককে কোন কথা বলিয়াছেন। লোকের কাছে এরূপ গল্প করিলে আমাদের মন্দ হইবে। এরূপ গল্প আর করিবেন না। আমাদের এই উপকার করবেন।” কাগজখানিতে কাহারও নাম স্বাক্ষর ছিল না। কিন্তু হাতের লেখা নিতান্ত কাচা । তাহা দেখিয়া আমি বুঝিলাম যে, এ লেখা পাল মহাশয়ের কন্যার। তাহার পত্ৰ পাইয়া আমি রাক্ষসের কথা সব ভুলিয়া যাইলাম। কাগজে লেখা আছে,— “আমাদের এই উপকার করিবেন।” ইহার অর্থ কি? পাল মহাশয়ের কন্যা দ্বারের ফাঁক দিয়া আমাকে দেখিয়া থাকিবে। আমার রূপ দেখিয়া সে মোহিত হইয়াছে, আমার উপর সে মন-প্ৰাণ সমৰ্পণ করিয়াছে। এ চারিটি কথার ইহা ভিন্ন অন্য অর্থ হইতে পারে না। উপকার! আমাকে ভালবাসে, আমাকে বিবাহ করিবার নিমিত্ত সে লালায়িত হইয়াছে। সামান্য ঐ “উপকার” কথাটির ভিতর যে এত অর্থ নিহিত আছে, অন্যে তাহা বুঝিতে পরিবে না। কিন্তু আমাদের দুই জনের মন-প্ৰাণ এক হইয়া গিয়াছে, সেজন্য তাহার মনের ভাব আমি অনায়াসেই বুঝিতে পারিলাম। পুলকে পুলকিত হইয়া কাগজখানি আমি একবার মাথায় রাখিলাম। তাহার অর্থ এই যে, “হে সুন্দরি! তোমার আজ্ঞা আমি শিরোধাৰ্য্য করিলাম।” তারপর তক্তপোষের উপর শয়ন করিয়া কাগজখানি আমি বুকের উপর রাখিলাম। তাহার অর্থ যে, “হে বরাননে! তোমার পত্ৰস্পর্শে আমার উত্তাপিত হৃৎপিণ্ড সুশীতল হইল।” সাধে কি পিতা-মাতা আমার নাম মদন রাখিয়াছিলেন!। মদন না হইলে এত ভাবুক আর কেহ হইতে পারে না। কিন্তু এমন সুখের সময় পোড়া ব্ৰাক্ষসের কথা পুনরায় আমার মনে পড়িল। যাহার পায়ে আমি প্ৰাণ সঁপিয়াছি, রাক্ষসের সহিত তাহার যে ভাব, সেই চিন্তায় আমার হৃদয় জর-জর হইল। তুহুঙ্কুর পর যক্ষ-রক্ষ প্রভৃতি দেব-যোনি-ভু জীবগণ অন্তৰ্য্যামী হইয়া থাকে। আমার থা যদি সেই রাক্ষস জানিতে পারে? কুপিত হইয়া রাত্রিকালে আমার ঘরের ভিতর করিয়া যদি হারাণ সুরের ন্যায় কড়মড় করিয়া আমাকে ভক্ষণ করে? প্ৰাতঃকালে সকলে যদি দেখে যে, মদনের আর চিহ্নমাত্র নাই, বিছানার উপর কেবল দুইতিন কুচি হাড় পড়িয়া আছে? ভয়ের কথা বটে। কিন্তু চিরকাল হইতে আমি সাহসী পুরুষ, তাহাতে রাম-কবচ ধারণ করিয়াছি। নানারূপ প্ৰবোধ দিয়া মন হইতে আমি রাক্ষসকে দূর করিলাম। আমি ভাবিলাম যে, পাল মহাশয়ের কন্যার ন্যায় শান্ত সুশীলা রূপবতী গুণবতী কামিনী রাক্ষসের সহিত প্ৰণয় করিতে পারে না। তাহা যদি করিত, তাহা হইলে আমাকে ঘোরতর ভালবাসিয়া আমার নিকট উপকারের প্রার্থনা করিত না। প্রকৃত আমি রাক্ষস দেখি নাই, আমি স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম। আর যদিও প্রকৃত সে রাক্ষস হয়, তাহা হইলে পাল মহাশয়ের নিকট অন্য কোন কাজে সে আসিয়া থাকিবে । কলিকাতা সহরে জনাকীর্ণ পথে দিনের বেলা গাড়ী করিয়া অথবা পদব্রজে রাক্ষস আসিতে পারে না। সেজন্য রাত্রিকালে গোপনভাবে আসিয়াছিল। শুনিয়াছি যে, সহরের ভিতর উট কি হাতী আসিবার হুকুম নাই। রাক্ষস আসিবারও বোধ হয়, হুকুম নাই। এইরূপ নানাপ্রকার প্রবােধ দিয়া মন হইতে কুচিন্তা আমি দূর করিলাম। পালকন্যার কল্পিত মুখচন্দ্রের বিমল জ্যোতি দ্বারা আমার তাপিত হৃদয় আলোকিত ও স্নিগ্ধ করিতে লাগিলাম। 88 frig -ibas gri se - www.amarboicomf3?" সপ্তম অধ্যায় দুই দিন পরে অপরাহুে আফিস হইতে প্রত্যাগমন করিয়া, আমি বাটীর ভিতর প্রবেশ করিতেছি, এমন সময় দ্বারের নিকট পাল মহাশয়ের সহিত আমার সাক্ষাৎ হইল। তিনি বাহিরে যাইতেছিলেন । আমি ভিতরে প্রবেশ করিতেছিলাম। আমাকে দেখিয়া পাল মহাশয় দাঁড়াইলেন। তাহার পর, আমাকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, — “আমার ঘরের পার্শ্বে তুমিই বাসা লইয়াছ?” স্বয়ং পাল মহাশয় আমার সহিত কথা কহিলেন। হাদয়-মন্দিরে যে দেবীকে স্থাপিত করিয়া অহরহঃ পূজা করি, সেই দেবীর পিতা আমাকে এই কথা জিজ্ঞাসা করিলেন! শরীর আমার শিহরিয়া উঠিল, মন আমার পুলকিত হইল, বুক আমার চিপ্‌-চিপ্‌ করিতে লাগিল। আমি ভাবিলাম,- “মদন! প্ৰাতঃকালে আজ কাহার মুখ দেখিয়াছিলে?” অতি বিনীতভাবে আমি উত্তর করিলাম,- “আজ্ঞা, হাঁ মহাশয় । আমিই আপনার ঘরের পার্শ্বে বাস করি।” পাল মহাশয় পুনরায় বলিলেন,- “তুমি অতি উত্তম মহাভারত পাঠ করিতে পাের। তবে কি জান, দূর হইতে আমি বুঝিতে পারি না, কেবল শব্দ পাই, এইমাত্র। বৃথা শব্দ শুনিয়া কি হইবে, সেইজন্য ধীরে ধীরে পড়িতে বলিয়াছিলাম। পর যদি তোমার অবকাশ থাকে, আর আমার ঘরে আসিয়া যদি তুমি পাঠ কর, তাহা আমি শ্রবণ করি।” আগ্রহের সহিত আমি উত্তর করিলাম,- ? পর আমার কোন কাজ নাই। আপনি ডাকিলেই আমি আপনার ঘরে গিয়া করিতে পারি।” পাল মহাশয় বলিলেন যে,— “তুঞ্জ সন্ধ্যাবেলা আমি তোমাকে ডাকিব । এক ঘন্টাকাল তোমার নিকট আমি মহাভস্ট্রিষ্ঠ শ্ৰবণ করিব।” সন্ধ্যার পর পাল মহাশয় সেই বারেণ্ডার দ্বারে ধাক্কা মারিয়া আমাকে ডাকিলেন । আমি তাহার ঘরে গিয়া, অনেকক্ষণ পৰ্যন্ত মহাভারত পাঠ করিলাম। আমার কণ্ঠস্বর অতি মধুর, তাহার উপর আমি সুর করিয়া পড়িতে পারি। নিজে পাঠ করিয়া আমি নিজেই মোহিত হই। কিন্তু পাল মহাশয়ের বোধ হয়, সঙ্গীত-বিদ্যায় অধিকার নাই। তিনি বলিলেন,- “এ কাশীদাসী মহাভারত অথবা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নহে। সুর করিয়া পড়িতে হইবে না, সহজ ভাষায় পাঠ কর।” যে আজ্ঞা, বলিয়া আমি তাঁহাই করিতে লাগিলাম। এইরূপ প্ৰতিদিন সন্ধ্যাবেলা আমি তাহার নিকট মহাভারত পাঠ করিতে লাগিলাম। তাহার সহিত আমার সদ্ভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। রবিবারে নিমন্ত্ৰণ করিয়া, অতি আদরে डिनि ठाभाव 0ख्ॉडीन कद्धांशgलन्म । প্রথম দুই-চারি দিন আমি তাঁহার কন্যাকে দেখিতে পাই নাই। পাল মহাশয়ের গৃহে প্ৰবেশ শব্দ অথবা কণ্ঠস্বর শুনিবার নিমিত্ত সতৃষ্ণ কৰ্ণে সৰ্ব্বদাই আমি সতর্ক থাকিতাম। যেদিন আমার নিমন্ত্রণ হইয়াছিল, সেই রবিবারে আমার বাসনা পূর্ণ হইল। একজন ঠিকা ঝি ব্যতীত পাল মহাশয়ের অন্য দাসদাসী ছিল না। প্ৰাতঃকালে দুই-একঘণ্টা,-অপরাহে দুই এক ঘণ্টা, কাজ করিয়া সে ঝি আপনার গৃহে চলিয়া যাইত। আমি ও পাল মহাশয় যখন ভোজন করিতে Wieli 88Գ छों sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro বসিলাম, ঝি, তখন উপস্থিত ছিল না। আহার করিতে বসিয়া আমাদের যাহা কিছু প্ৰয়োজন হইল, সে সমুদয় পাল মহাশয়ের কন্যা আনিয়া দিল। সেই দিন তাহাকে দর্শন করিয়া আমার নয়ন সার্থক হইল। নিশ্চয় নয়ন সার্থক হইল। তাহাকে দেখিলে কাহার না নয়ন সার্থক হয়? কেমন মাজা-মাজা উজ্জ্বল রং কেমন নরম-নরম গোল-গোল গায়ের গড়ন! চাঁদের মত মুখখানি বটে, কিন্তু চাঁদ যেরূপ চাকার ন্যায় গোল, সেরূপ গোল নহে। চাঁদের মুখে অলকা-তিলকা আছে, ইহার তাহা নাই। নাকটি শুষ্ক-চষ্ণুর ন্যায় বটে, কিন্তু সেইরূপ বঁড়শীর ন্যায় বক্র নহে। চক্ষু দুইটি মৃগনয়নের মত বটে, কিন্তু সেরূপ ড্যাবৃডেবে নহে। বাহু দুইটি মৃণালের মত বটে, কিন্তু ততটা। সরু নহে। উরুদ্বয় রাম-রস্তাকে পরাজয় করে বটে, কিন্তু তত মোটা নহে। ফলকথা, কালিদাস, ভারতচন্দ্র প্রভৃতি কবিদিগের রূপ-বৰ্ণনা পাঠ করিয়া যেরূপ মুখশ্ৰী আমি মনে মনে কল্পনা করিয়াছিলাম, তাহার কিছুই নহে। তাহার মুখ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক মানুষের মত; কবি-কল্পিত কোনরূপ অলৌকিক অদ্ভুত জীবের ন্যায় নহে। তাহাকে দেখিয়া আপনাদের দাসানুদাস মদনের মুণ্ড ঘুরিয়া গেল। প্ৰথমে শাকের ঘন্ট না খাইয়া, প্ৰথমে অম্বলের বড়ি মদন বদনে দিয়া বসিলেন! পাল মহাশয়ের সহিত এইরূপে আমার আলাপ-পরিচয় হইল। দিন দিন তাঁহার সহিত আমার সদ্ভাব বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। তাঁহার রূপেগুণে আমার মন মোহিত হইয়া গেল। কি করিয়া তাহাকে পাইব, কেবল সেই চিন্তায় আমি দিনপাত করিতে লাগিলাম। রাক্ষসকে আর আমি দেখিতে পাই নাই। সে রাত্রির ঘটনা স্বপনের ন্যায় মিথ্যা বলিয়া ক্রমে আমার প্রতীতি হইল । কিছুদিন গত হইলে, পাল মহাশয়ের কন্যার সহিত আমার বিবাহের কথা উত্থাপন করিবার নিমিত্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়কে আমি অনুরোধ করিলাম। তখন বৈশাখ মাস। ফল দিবার নিমিত্ত পাল মহাশয়ের গৃহিণী একদিন ভট্টাচাৰ্য মহাশয়কে বাটীর ভিতর ডাকিলেন। ফল গ্ৰহণ করিয়া, কিছুক্ষণের নিমিত্ত তিনি পাল মহাশয়ের নিকট বসিলেন। সেই অবসরে তিনি আমার বিবাহের কথা উত্থাপন করিলেন। পাল মহাশয়ের সহিত এ সম্বন্ধে যেরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইয়াছিল, সেই দিন সন্ধ্যাবেলা ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমাকে তাঁহার ঘরে ডাকিয়া, সে সমুদয় বিবরণ প্ৰদান করিলেন। পাল মহাশয়ের সহিত তাঁহার এইরূপ কথাবাৰ্ত্ত হইয়াছিলাম। 鴨 কঠিন হইয়া উঠিতেছে। এ যাত্রা সে আর রক্ষা পাইবে না।” পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “হাঁ! পীড়া বড়ই কঠিন হইয়াছে।” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন,- “আমি শুনিয়াছি যে, আপনার কন্যার সহিত তাহার বিবাহ 88ty ifting -iba gas sel, www.amarboiconf:5"""" a'V' সম্বন্ধ স্থির হইয়াছে। এ যাত্রা সে রক্ষা পাইলেও, কাস রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে কন্যা-সম্প্রদান শাস্ত্ৰ-নিষিদ্ধ।” পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “আমি তাহা জানি। কিন্তু কি করিব! আমার কন্যা যখন ছয় মাসের, তখন হইতে নিয়োগীর সহিত আমার কথা হইয়াছে। তাহার এই ঘোর বিপদের সময় কোন কথা আমি বলিতে পারি না। নিয়োগীর সহিত বিবাদ করিতেও আমি ইচ্ছা করি না। নিয়োগী-পুত্রের শরীর দিন দিন যেরূপ শীর্ণ হইয়া পড়িতেছে, তাহাতে অল্পদিনের মধ্যেই বোধ হয়, আমি আমার প্রতিজ্ঞা হইতে মুক্ত হইব। তবে সে কথা এখন আর বৃথা তুলিয়া প্রয়োজন কি?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন, — “অন্য কোন স্থানে পাত্ৰ স্থির করিয়াছেন?” পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “না, এখনও কোন স্থানে স্থির করিতে পারি নাই; তবে গোপনে অনুসন্ধান করিতেছি।” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন, — “আপনার ঘরের নিকট মদনমোহন বলিয়া ঐ যে ছোকরা থাকে, তাহার সহিত দিলে হয় না? ছোকরা শান্ত, সচ্চরিত্র, লেখাপড়া জানে, দু’-পয়সা উপাৰ্জনও করিতেছে।” পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “কিছুতেই নয়! সে আমাদের স্বজাতি শুনিয়া, আমিও প্রথম সেইরূপ ইচ্ছা করিয়াছিলাম। কিন্তু গোপনে তাহার সমুদয় সন্ধান লইয়া এখন সে ইচ্ছা আমাকে পরিত্যাগ করিতে হইয়াছে। আমরা লেখাপড়াজানা চাকরে ভদ্র সদৃগোপ। মদনের বাপ স্বহস্তে লাঙ্গল ধরিয়া চাষ করিত। অতিকষ্টে সে ছেলেটিকে লেখাপড়া শিক্ষা দিয়াছে। চাষ করা যে নিতান্ত গৰ্হিত কাজ, লেখাপড়া শিখিয়া মদন । সেজন্য ব্যাপকে এখন সে একখানি মুদিখানার দােকান করিয়া দিয়াছে। কিন্তু সঁহাঁ হইলে কি হয়। পূৰ্ব্বের কলঙ্ক ঘুচিবার নহে। আমি চাকরে সদৃগোপ হইয়া, চাষী র সহিত কন্যার বিবাহ কি করিয়া দিব?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন, তেঁস্বহস্তে চাষ করা কি নিতান্ত অন্যায় কাজ?” উপনি নিজেই কেন বুঝিয়া দেখুন না? চাষ করিলে মানুষ 9. য়। তাহার যত টাকা থাকুক না কেন, আপনার নিকট একজন চাষা আসিলে নাক সিটুকাইয়া। আপনি তাহার সহিত কথা কহিবেন না। কিন্তু সেই জাতীয় কোন লোক যদি চাকরে হয়, তাহা হইলে, “আসুন, আসুন, বাবু আসুন’ বলিয়া আপনি তাহাকে মাথায় তুলিয়া লইবেন। কেবল আপনি নহেন, দেশের সকল লোকেই এইরূপ করিয়া থাকে। আমাদের গ্রামে দুই জন চাঁড়াল আছে- একজনের নাম মাধব, আর একজনের নাম পঞ্চ। দুই জনে একসঙ্গে পাঠশালায় লিখিয়াছিল। আলু, আম ও পাটের চাষ করিয়া মাধব বিলক্ষণ দু-পয়সা সঙ্গতি করিয়াছে। কিন্তু সে নিজের হাতে কোদালি কুঠারি ধরিয়া পরিশ্রম করে। সেজন্য সকলে তাঁহাকে মাধব না বলিয়া মেদে। চাঁড়াল বলে। পঞ্চ একটু ইংরেজী শিখিয়া পনের টাকা বেতনে রেলে টিকিট কাটা কাজ পাইয়াছে; সেজন্য সকলে তাঁহাকে পঞ্চবাবু বলে। চাকরি না করিয়া সে যদি চাষের কাজ করিত, তাহা হইলে কেহ তাহাকে পঞ্চবাবু বলিত না, সকলেই তাঁহাকে পেচো চাঁড়াল বলিত। এইজন্য হাড়ি বাগদী সকলেই আপন পুত্ৰদিগকে ইংরেজী শিক্ষা দিয়া, চাকরে করিতে চেষ্টা করিতেছে। কাহার না ইচ্ছা যে, তাহার ছেলে জেন্টলম্যান उरुगा?" ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন,- “সত্য বটে। ব্ৰাহ্মণদিগের মধ্যে যাহারা চিরকাল পুরুষপুরুষানুক্ৰমে অধ্যাপক পণ্ডিতের ব্যবসায় অবলম্বন করিয়া আসিতেছিলেন, তাহারাও এক্ষণে মুক্তা-মালা 88ჯა sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পুত্রদিগকে ইংরেজী শিক্ষা দিয়া জেটুমান করিতেছেন।” পাল মহাশয় বলিলেন,- “আমাদের মধ্যে যেরূপ ভদ্র সদৃগোপ ও চাষী সদৃগোপ আছে, আপনাদের মধ্যেও সেইরূপ ভদ্র ও চাষী ব্ৰাহ্মণ আছে। হলধারী ব্ৰাহ্মণদিগকে বাভন বলে; বেহার অঞ্চলে তাহারা বাস করে। ভাল ব্ৰাহ্মণগণ যেরূপ তাহদের সহিত আদান-প্ৰদান করিতে পারে না, আমরাও সেইরূপ চাষী সদগোপকে কন্যা-সম্প্রদান করিতে পারি না।” ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের ঘরে বসিয়া, তাহার মুখ হইতে আমি এই সমুদয় বিবরণ শ্রবণ করিতেছিলাম। পাল মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি একেবারে বসিয়া পড়িলাম। সত্য বটে, আমার পিতা স্বহস্তে চাষ করিতেন। আর একথাও সত্য যে, চাষ ছাড়াইয়া আমি তাঁহাকে মুদিখানার দোকান করিয়া দিয়াছি। আমি মনে করিয়াছিলাম যে, চাষের কলঙ্ক দূর হইয়াছে; আমরা এক্ষণে বাবু হইয়াছি। কিন্তু পাল মহাশয় গোপনে গোপনে এত সন্ধান লইবেন, তাহা আমি কি করিয়া জানিবা! যাহা হউক, তাহার কন্যাকে লাভ করা সম্বন্ধে আমি এক্ষণে হতাশ হইয়া পড়িলাম। কিন্তু ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমাকে আশ্বাস প্ৰদান করিয়া বলিলেন,- “তুমি হতাশ হইওনা। শাস্ত্ৰ হইতে বচন বাহির করিয়া পাল মহাশয়কে আমি বুঝাইয়া দিব যে, সকল সদৃগোপী একজাতি।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “শাস্ত্ৰ হইতে এরূপ বচন বাহির করিতে পরিবেন?” ঈষৎ হাসিয়া ভট্টাচাৰ্য মহাশয় উত্তর করিলেন,- “আমাদের শাস্ত্ৰ মহাসাগরস্বরূপ । এমন জিনিষ নাই, যা ইহার ভিতর হইতে বাহির হয় না।” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা নাড়িয়া ইঙ্গিত । তাহার অর্থ এই যে, সব টাকার খেলা! টাকা দিলে শাস্ত্রের ভিতর হইতে যাহা ইচ্ছা! করিয়া দিতে পারা যায়। এই সময় বাহিরে একটু কাসির শব্দ মহাশয় কিছু চমকিত হইয়া বলিলেন,- “এঃ! গোপছােটা নিয়োগী আড় চূড়াইয়া, আমাদের কথা শুনিতেছে।” এই কথা বলিতে বলিতে নিয়োগী য় আসিয়া দ্বারের নিকট দাঁড়াইলেন । ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়কে লক্ষ্য করিয়া তিনি “কি ঠাকুর! সকল সদৃগোপ একজাতি? তাহদের মধ্যে ইতার-ভদ্ৰ নাই?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় উত্তর করিলেন,- “হাঁ! আমার মত তাই। সকল সদৃগোপ একজাতি । চাষ ছাড়িয়া দিলেও সে সদৃগোপ থাকে, অন্য জাতি হয় না। তাহা ব্যতীত তোমরা সকলেই ব্ৰহ্মার পা হইতে বাহির হইয়ােছ।” নিয়োগী বলিলেন,- “আমরা ব্ৰহ্মার পা হইতে বাহির হইয়াছি? আর তোমরা?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় উত্তর করিলেন,- “আমরা ব্ৰহ্মার মুখ হইতে বাহির হইয়াছি।” এই কথা শুনিয়া নিয়োগী মহাশয় রাগে জুলিয়া উঠিলেন। আমাকে লক্ষ্য করিয়া অন্যান্য জাতি বিষয়ে তিনি নানারূপ প্রশ্ন করিলেন। যথাসাধ্য আমি সেই সমুদয় তর্কের উত্তর দিলাম। অবশেষে যখন দেখিলাম যে, তাহার ক্ৰোধ ক্ৰমেই বৃদ্ধি হইতেছে ও তিনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করিতেছেন, তখন সে স্থান হইতে আমি চলিয়া যাইতে উদ্যত হইলাম। যাইবার সময় নিয়োগী আমাকে বলিলেন,- “পালের কন্যাকে তুমি বিবাহ করিবে! বামন হইয়া চাঁদে হাত! পাল অন্য স্থানে বর খুঁজিতেছে! বটে! তোমার পালকেও আমি দেখিয়া লইব । রাত্ৰিতে জামালা দিয়া ঘরে রাক্ষস আসে! বটে। পালকেও বলিও যে, রাক্ষসের উপর খোঙ্কস আছে।” 8to দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্থ","থ ******** নবম অধ্যায় আবার সেই সবুজ রাক্ষস এই কথা বলিয়া নিয়োগী সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিল। আমিও আমার ঘরে গিয়া শুইয়া পড়িলাম। মনোদুঃখে সে রাত্ৰিতে আমি আর আহার করিলাম না। সে রাত্রি পাল মহাশয়ের নিকট মহাভারত পাঠ করিতেও যাইলাম না। ফলকথা, সেইদিন হইতে মহাভারত পাঠে আমার অরুচি জনিয়া গেল। পাল মহাশয়ের সহিত কথাবাৰ্ত্ত—তীহার গৃহে যাতায়াতও সেইদিন হইতে আমার অনেক কমিয়া গেল । এইরূপে কিছুদিন গত হইল। একদিন রাত্রিকালে আমি শয়ন করিয়া আছি। অঘোর নিদ্রায় আমি অভিভূত আছি। বাহির-বাটীতে আমার ঘর, আর ভিতর-বাটীতে পাল মহাশয়ের ঘর,— এই দুই ঘরের মাঝখানে যে দেয়াল, সেই দেয়ালের ঠিক গায়ে আমার বিছানা ছিল। সহসা পাল মহাশয়ের দিক হইতে সেই দেয়ালের গায়ে গুপ-গুপ করিয়া শব্দ হইতে লাগিল। সেই শব্দে আমার নিদ্রাভঙ্গ হইয়া গেল। শুইয়া শুইয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কে শব্দ করে?” তাহার ঘর হইতে পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “শীঘ উঠিয়া বাহিরে এস। বিশেষ প্ৰয়োজন আছে। গোল করিও না ।” আমি উঠিয়া প্ৰথমে ঘড়িতে দেখিলাম যে, রাত্রি তখন দুই প্রহর অতীত হইয়া গিয়াছে। তাহার পর, দ্বার খুলিয়া আমি বারেণ্ডায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। স্থান্ত মহাশয়ও সেই সময় আপনার ঘরের ভিতর হইতে বাহির হইয়া, বারেণ্ডার দ্বারের খিল । আমার দিকে সেই দ্বার শৃঙ্খল দ্বারা আবৃদ্ধ ছিল। পাল মহাশয় আমাকে সেই শৃঙ্খল ফুল্লিতে বলিলুেন। আমি শৃঙ্খল খুলিলুম! ভিতরবাটী এবং বাহির-বাটী এক হইয়া গেল। য় আমি দেখিতে পাইলাম যে, লাঠি ধরিয়া কে একজন অতি ধীরে ধীরে পাল বু শ্ৰীষ্টিদিয়া নীচে নামিবার উপক্ৰম করিতেছে, আর প্রদীপ হাতে লইয়া পাল মহাশয়ের গৃহিণী উইীির পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতেছেন। ভালরূপে দেখিয়া আমি য়াগীর পীড়িত পুত্র। শয্যাশায়ী মরণাপন্ন রোগী এত রাত্রিতে কেন সে স্থানে আসিয়াছে, তাহা ভাবিয়া আমি ঘোরতর বিস্মিত হইলাম। পাল মহাশয় চুপি-চুপি আমাকে বলিলেন, — “আস্তে আস্তে কথা কহিও । বিশেষ প্রয়োজন আছে । আমার ঘরের ভিতর এস । তাহার পর সকল কথা তোমাকে বলিব ।” পাল মহাশয়ের আজ্ঞায় বারেণ্ডার দ্বারে খিল দিয়া, নিঃশব্দে আমি তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলাম। পাঁচ-ছয় পা গিয়াই পাল মহাশয়ের ঘরের দ্বারের নিকট উপস্থিত হইলাম। পাল মহাশয় ঘরের ভিতর প্রবেশ করিলেন। আমিও প্ৰবেশ করিবার উপক্ৰম করিতেছি, এমন সময়,-সৰ্ব্বনাশ! চাহিয়া দেখি না তাহার ঘরের ভিতর সেই রাক্ষস ! ঘরের মাঝখানে মাদুরের উপর আসন-পিঁড়ি হইয়া রাক্ষস মহাশয় গাঁটু হইয়া বসিয়া আছেন!! আরও আশ্চৰ্য্য কথা! লজ্জাসরমের মাথা খাইয়া, পাল মহাশয়ের কন্যা সেই মাদুরের একপার্শ্বে বসিয়া আছে! ভয়ে আমার পা থর-থর কঁাপিতে লাগিল। আমি ভাবিলাম যে, আর কিছু নয়, পাল মহাশয় এই রাক্ষসকে আপনার জামাতা করিয়াছেন ৷ জলখাবার স্বরূপ আমার দেহটি তাহাকে প্ৰদান করিবার নিমিত্ত এই ঘোর রাত্ৰিতে তিনি আমাকে ডাকিয়া আনিয়াছেন। মহাভারত পাঠ করাইয়া, নিমন্ত্রণ করিয়া, অনেক দিন হইতে তিনি ইহার যোগাড় করিতেছেন। আমার প্রতি কেন যে তিনি এত কৃপা করিয়াছিলেন, তাহার অর্থ এখন আমি বুঝিতে পারিলাম। আমি আরও মুক্তা-মালা By sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro ভাবিলাম যে, নিয়োগীদিগেরও ইহাতে যোগ আছে। তা না হইলে, যে লোক বিছানা হইতে উঠিতে পারে না, সে কেন এই রাত্রি দুই প্ৰহরের সময় এ স্থানে আসিবে! যাহা হউক, আমি তাহার ঘরের ভিতর আর প্রবেশ করিলাম না। প্ৰাণ লইয়া তৎক্ষণাৎ সে স্থান হইতে পলায়ন করিবার উপক্ৰম করিলাম। কিন্তু পাল মহাশয় খপ করিয়া আমার হাত ধরিয়া ফেলিলেন। আমার হাত ধরিয়া তিনি বলিলেন, — “কোথায় যাও!” আমি তাঁহার পায়ে পড়িলাম! তাহার পা দুইটি জড়াইয়া আমি বলিলাম,- “আমি একলা মায়ের একেলা ছেলে! দোহাই আপনার!” পাল মহাশয় বলিলেন,- “সে আবার কি!” আমি বলিলাম,- “দোহাই আপনার। আপনার উনি জামাতা, উনি বোধ হয় বিভীষণের প্রপৌত্র। উনি দেবতা। আমাকে খাইয়া উনি সুখ পাইবেন না। উনি বরং আসিয়া টিপিয়া দেখুন, আমার গায়ে মাংস নাই, আমার গায়ে সব হাড় ।” পাল মহাশয় বলিলেন,- “এ বলে কি!” এই সময় গঙ্গাদত্তর কথা আমার মনে পড়িল। আমি বলিলাম,- “আমাকে ছাড়িয়া দিন। রাক্ষস মহাশয়ের নিমিত্ত আমি ভাল মোটা তাজা মানুষ ডাকিয়া আনিতেছি। তাহার কোমল মাংস ভক্ষণ করিয়া, রাক্ষস মহাশয় পরম তৃপ্তিলাভ করিবেন। জামাতার আদর করিয়া, আপনিও সন্তোষলাভ করিবেন; আমাকে খাইয়া তাহার সুখ হইবে না। এ চাষার মাংস। স্বহস্তে আমরা চাষ করি। আমাদের মাংস শুষ্ক ও কঠিন, ঠিক দড়ির মত। দোহাই আপনার!” এত বিনয়বাচনে আমি প্ৰাণ-ভিক্ষা চাহিলাম, মহাশয়ের দয়া হইল না। তিনি আমাকে ছাড়িয়া দিলেন না। তখন নিরুপায় হইয় একদিকে তাহার হাত ছাড়াইতে চেষ্টা করিতে লাগিলাম, তেমনি অন্যদিকে লোকুঞ্জিড় করিবার নিমিত্ত চীৎকার করিতে উদ্যত হইলাম। “কর কি!” এই কথা বলিয়া পৃষ্ঠা য়। আমার মুখ চাপিয়া ধরিলেন। আর সেই সময় রাক্ষস উঠিয়া আমাকে আসিয়া ধরল। নিমিষের মধ্যে সে আমাকে ঘরের ভিতর টানিয়া লাইল; তাহার পর, সে ঘরের দ্বার বন্ধ করিয়া দিল। একবার, আমাদের গ্রামে, কাজি বুড়ীর ধামা-ঢাকা বীজ মোরগ রাত্রিকালে আমি চুরি করিয়া খাইয়াছিলাম। জবাই করিবার সময়, আমার হাতে সেই মোরগ যেরূপ ঝটুপটু করিয়াছিল, আজ রাক্ষসের হাতেও আমি সেইরূপ ঝটুপটু করিতে লাগিলাম। কিন্তু সে হইল রাক্ষস, আর আমি হইলাম মানুষ। তাহার হাত হইতে আমি আপনাকে ছাড়াইতে পারিলাম না। তাহার স্পর্শে আমার হাত-পা অবশ হইয়া গেল। ক্রমে আমার সর্বাঙ্গ হিম হইয়া গেল, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিল, কম্পজুরের ন্যায় শরীর আমার কাঁপিতে লাগিল, দাঁতে দাঁত লাগিয়া ঠকঠক করিয়া শব্দ হইতে লাগিল । আমি অচেতন্যপ্ৰায় হইলাম, আমার কণ্ঠ হইতে কেবল গো-গো ধ্বনি বাহির হইতে লাগিল । কিন্তু তখন সম্পূর্ণভাবে আমি অজ্ঞান হই নাই, কারণ, তখনও আমি ভাবিতেছিলাম যে,- “হায় রে! শেষে রাক্ষসের আহার হইব বলিয়া কি বাপ-মা আমাকে এতবড় করিয়াছিলেন!” 86ጽS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comর্জিািকনীৰ্থ রচনাসাউথই দশম অধ্যায় আমার সাহস ও বিক্রম পড়িল। অবশেষে আমি একেবারে অজ্ঞান হইয়া পড়িলাম। অজ্ঞান অবস্থায় কতক্ষণ ছিলাম, তাহা ঠিক বলিতে পারি না। বােধ হয়, অধিকক্ষণ নহে। পুনরায় আমার জ্ঞান হইলে, চক্ষু চাহিয়া আমি দেখিলাম যে, মাদুরের উপর আমি শয়ন করিয়া আছি। পাল মহাশয়ের গৃহিণী আচল দিয়া আমার কপাল মুছাইতেছেন। তাঁহার কন্যা আমাকে বাতাস করিতেছে। নিকটে উনিশ-কুড়ি বৎসর বয়স্ক এক সুশ্ৰী যুবক বসিয়া আছে। আর কিছু দূরে পাল মহাশয় নিজে বাক্সর ভিতর একটি শিশি তুলিয়া রাখিতেছেন। আমি তখন কোথায় আছি, প্রথম তাহা আমার স্মরণ হইল না। ক্রমে সকল কথা স্মরণ হইল। সভয়নয়নে চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম। কিন্তু রাক্ষসকে সে ঘরে আর দেখিতে পাইলাম না । আমাকে চেতন করিবার নিমিত্ত পাল মহাশয় শিশি হইতে কি ঔষধ দিয়াছিলেন। সেই শিশি পুনরায় তিনি বাক্সর ভিতর তুলিয়া রাখিতেছিলেন। আমার জ্ঞান হইয়াছে দেখিয়া, তিনি আমার নিকট আসিলেন । তাহার কন্যা ও স্ত্রী সেই সময় সে স্থান হইতে সরিয়া বসিলেন। আমি পাল মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিলাম—“রা- য়া-রা?” সমুদয় প্রশ্নটি স্পষ্টরূপে আমার মুখ দিয়া হইল না। সে রাক্ষস মহাশয় এখন কোথায়, ইহাই আমার জিজ্ঞাস্য ছিল। আমার মােনর ভাব বুঝিতে পারিয়া পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “তোমাকে আর কি বলিব! তুমিঃমানুষ কি, কি, তাহাই আমি বুঝিতে পারি না। রাক্ষস আবার কোথায়? আমার এত য়াছে; কিন্তু রাক্ষস আমি কখনও দেখি নাই। ইনি আমার পুত্র। বিপদে পড়িয়া আমার ছদ্মবেশ ধারণ করিতে হইয়াছে। এই সে পরচুলের দাড়ি-গোপ, আর এই সে মুখস,—যাহা দেখিয়া তুমি এত ভয় পাইয়াছিলো।” এই কথা বলিয়া, পাল মহাশয় প্রথম আমায় সেই সুশ্ৰী যুবককে দেখাইলেন, আর তাহার পর সেই পরচুল ও মুখস দেখাইলেন। নিজের বড়াই করিতে নাই; কিন্তু স্বভাবতঃ আমি যে একজন সাহসী পুরুষ, সে পরিচয় বােধ হয়, আর আপনাদিগকে দিতে হইবে না। প্রকৃত রাক্ষস না হউক, রাক্ষসের মত তো বটে! সেই ভয়ঙ্কর রাক্ষসের হাতে পড়িয়াও আমি ধৈৰ্য ধরিতে সমর্থ হইয়াছিলাম, তাহাই আমার সাহসের যথেষ্ট পরিচয় । আপনারা হইলে ভয়ে হয়তো কত কি করিয়া ফেলিতেন। তাহার পর বলিলে হয়তো আপনারা বিশ্বাস করিবেন না; কিন্তু সত্য বলিতেছি যে, কিছুমাত্র ভয় না করিয়া, রাক্ষসের মুখস আমি টিপিয়া দেখিলাম— স্বচ্ছন্দে হাতে করিয়া টিপিয়া দেখিলাম। তাহাতে আমার কিছুমাত্র ভয় হইল না। এখন আপনারা বুঝিয়া দেখুন, আমার কত সাহস! যখন আমি নিশ্চয় বুঝিলাম যে, সে বস্তুটা মুখস বটে; রাক্ষসের মুণ্ড বা অন্য কোন ভয়াবহ পদার্থ নহে, তখন আমি উঠিয়া বসিলাম। বসিয়া আমি পাল মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কি জন্য আপনার পুত্ৰকে এরূপ ছদ্মবেশ ধারণ করিতে হইয়াছে? আর কেনই বা ইহাকে অশ্বখ গাছ-পথে যাতায়াত করিতে হয়?” ՀԾ|-3յթil 86ኰx© sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “সে অনেক কথা। বিস্তারিত বিবরণ প্ৰদান করিবার সময় নাই। আপাততঃ আমরা ঘোর বিপদে পড়িয়াছি। শীঘ্ৰ তাহার প্রতিকার না করিতে পারিলে, আমাদের সকর্ধনাশ হইবে।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “এই রাত্রি দুই প্ৰহরের সময় বিপদ কোথা হইতে আসিবো?” পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “আমার পুত্রের নাম মিহির! মিহির এক খুনী মোকদ্দমায় পড়িয়াছে। দুই বৎসর পূৰ্ব্বে সে ঘটনা ঘটিয়াছে। মিহির সে লোককে খুন করে নাই; কিন্তু সমুদয় দোষটি তাহার ঘাড়ে পড়িয়াছে। সেজন্য এই দুই বৎসর নানারূপ ছদ্মবেশ ধারণ করিয়া, সে পথে পথে ফিরিতেছে। দুঃখের কথা বলিতে আমার বুক ফাটিয়া যায়, বাবা আমার কতই না কষ্টভোগ করিতেছে। ছদ্মবেশ ধারণ করিয়া রাত্রিকালে অতি গোপনে সে আমাদের সহিত সাক্ষাৎ করে। আমাদের নিকট আসিতে তাহাকে আমি বারবার মানা করিয়াছি। কিন্তু আমাকে, তাহার গর্ভধারিণীকে ও তাহার ভগিনীকে না দেখিয়া সে থাকিতে পারে না। কিছুদিন পূৰ্ব্বে রাত্রিকালে যখন সে অশ্বখগাছ দিয়া বাটীর ভিতর প্রবেশ করিতেছিল, সেই সময় তুমি তাহাকে দেখিয়াছিলে। পাছে কেহ সন্দেহ করে, সেজন্য আমার আজ্ঞায় আমার কন্যা তোমাকে সেই চিঠি লিখিয়াছিল। মিহির যদি আজ ধরা পড়ে, তাহা হইলে নিশ্চয় তাহার ফাঁসি হইবে। কারণ, সে যে খুন করে নাই, সে যে সম্পূর্ণরূপে নিরপরাধ, তাহা প্রমাণ করিবার উপায় নাই। এ বিষয়ে যদি তুমি কোনওরূপ সহায়তা করিতে পাের, সেইজন্য তোমাকে ডাকিয়াছি। আমি তোমাকে ডাকিতে ইচ্ছা করি নাই। আমার গৃহিণী, আমার পুত্র ও আমার কন্যা, সকলের অনুরোধে আমি তোমাকে সামান্য একটি মুখস ও পরচুলের দাড়ি দেখিয়া তোমার যখন এত ভয়, তখন দ্বারা যে কোন উপকার হইবে, তাহা আমার বোধ হয় না। বরং আর একটু হইত্ত্বে ভয়ে চীৎকার ফরিয়া সৰ্ব্বনাশ করিতে! তােমার চীৎকারে পাড়ার লােক আমার বুড়ীড়ৈ তখন আর কোন উপায় থাকিত స్టో চাপিয়া ধরিতে আমরা বাধ্য হইয়াছিলাম।” পাল মহাশয়ের ভৎসনায় আমি অতিশয় লজ্জিত হইলাম। কিন্তু তাঁহার কন্যা যে আমাকে ডাকিবার নিমিত্ত অনুরোধ করিয়াছিল, সেজন্য আমার মন আনন্দে পরিপূর্ণ হইল। আপনাদিগকে পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি যে, আমি একজন বুদ্ধিমান লোক। এই প্রথম বুদ্ধিবলে ইঙ্গিতামাত্রে আমি সকল কথা বুঝিতে পারি। ইতিপূৰ্ব্বে আমি বলিয়াছিলাম যে, পাল মহাশয়ের কন্যা আমার রূপেগুণে মোহিত হইয়া, আমাকে বিবাহ করিতে লালায়িত হইয়াছে। কেমন! আমার কথা সত্য নয়? আমার বুদ্ধির প্রশংসা করিতে হয়। আর আমার সাহসেরও প্রশংসা করিতে হয়। পূৰ্ব্বে সাহসের অনেক পরিচয় দিয়াছি। এখন আমি ভাবিলাম যে, আরও বীরত্ব প্ৰদৰ্শন করিয়া এই কন্যার মন-প্ৰাণ আমি একেবারে কড়িয়া লাইব । এইরূপ ভাবিয়া তাহার কন্যার মুখপানে চাহিয়া আমি পাল মহাশয়কে বলিলাম,- “ঘরে তলোয়ার আছে? থাকে তো দিন, আমি লড়াই করিব।” পাল মহাশয় বিরক্ত হইয়া উত্তর করিলেন, — “তুমি পাগল না কি? কাহার সহিত তুমি লড়াই করিবে? পুলিশের সহিত লড়াই করিবে?” আমার ভয় হইল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “পুলিশ এ স্থানে কি করিয়া আসিবে? পুলিশ কি করিয়া জানিবে যে, আপনার পুত্র মিহির এ বাটীতে আসিয়াছে?” 86ጽ8 দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.comাির্ড”******** পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “তাহাঁই তো ভয়! সেই বিপদেই তো এখন আমি পড়িয়াছি; আর সেইজন্যই তো তোমাকে আমি ডাকিয়াছি। কি করিব, কিছুই আমি স্থির করিতে পারিতেছি না। পুলিশের লোক এখনি হয়তো আসিয়া উপস্থিত হইবে। নিয়োগী থানায় খবর দিতে গিয়াছে।” বিস্মিত হইয়া আমি বলিলাম,- “নিয়োগী। পাল মহাশয় উত্তর করিলেন, — “হাঁ, নিয়োগী। তাহার পুত্ৰ বেচুর সহিত আমার কন্যার বিবাহ সম্বন্ধ হইয়াছিল। কিন্তু বেচুর এখন যেরূপ অবস্থা, তাহাকে সে বিবাহ আমি কিছুতেই দিতে পারি না। সেই কথা শুনিয়া, আমার উপর নিয়োগীর অতিশয় রাগ হইয়াছে। যখন বাসার কোন কোন লোকের নিকট তুমি রাক্ষসের গল্প করিয়াছিলে, নিয়োগী। তাহা শুনিয়া তৎক্ষণাৎ বুঝিতে পারিয়াছিল যে, সে ভুতও নয়, রাক্ষসও নয়,- সে আমার পুত্র মিহির ব্যতীত অন্য কেহ নয়। ছদ্মবেশ ধারণ করিয়া, সে আমার বাটীত গমনাগমন করিতেছে। কারণ নিয়োগী সেই খুনের কথা সমুদয় অবগত আছে। তাহার পুত্র ও আমার পুত্র,- হুগলীতে এক বাসায় থাকিয়া লেখাপড়া করিত। সেই বাসাতেই এই খুন হয়। নিয়োগীপুত্রের পরামর্শে ও সহায়তায় আমার পুত্র পলায়ন করে। তোমার মুখে রাক্ষসের কথা শুনিয়া পৰ্যন্ত নিয়োগী বোধ হয়, চৌকি দিতেছিল। তাহার পর আজ রাত্রিতে মিহিরকে আসিতে দেখিয়া সে থানায় সংবাদ দিতে গিয়াছে। ཨ་མས་ལ། ཨ་རིས་འོག་ ནས་ལམ་ ༢ ཨ་མ་ཚུལ་ལ་ যে, সে থানায় খবর দিতে ঠিন্তে পারে এইমাত্র আসিয়াছিল। তাহার পিতা যে (ফেঁর অন্যায় কাজ করিতেছে, তাহা বোধ হয়, সে বুঝিতে পারিয়াছে। সেজন্য আমাকে কথা বলিয়া গেল।” একাদশ অধ্যায়। রাধারাণীর বুদ্ধি আমি বলিলাম,- “মিহির এই বোলা অশ্বথগাছ দিয়া পলায়ন করুক না কেন?” পাল মহাশয় উত্তর করিলেন,- “তাহার যো নাই। বেচু বলিয়া গেল যে, সদর দরজায় একজন কনষ্টেবল দাড়াইয়া আছে। সেদিক দিয়া পলায়ন করিবার উপায় নাই। পশ্চিমে গলির রাস্তায় এই জানালার পার্শ্বে যেদিকে অশ্বখগাছ রহিয়াছে, সে স্থানে নিয়োগীর বন্ধু সেই দালাল দাড়াইয়া পাহারা দিতেছে। দুই পথে দুই জনকে পাহারা রাখিয়া নিয়োগী থানায় গিয়াছে।” আমি জানালার নিকট গিয়া ঈষৎ উকি মারিয়া দেখিলাম। দেখিলাম যে, সত্য বটে,- সে মুক্তা-মালা 8 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro যিনি এক্ষণে গোড়া হিন্দু হইয়াছেন, ও যিনি এক্ষণে মুরগী ভক্ষণ করেন না। দেখিলাম। সেই দুই দিক একেবারে ভগ্ন, সে দুই দিক দিয়া পলায়ন করিবার কোন উপায় নাই। তাহার পর, আমি ছাদে উঠিবার সিঁড়ির কথা জিজ্ঞাসা করিলাম। সিঁড়িও একেবারে ভগ্ন: ছাদে উঠিবার উপায় নাই। পলায়ন করিবার কোন উপায় আমি দেখিতে পাইলাম না। মিহির এতক্ষণ মাতার নিকট বসিয়াছিল। খাইবার নিমিত্ত মাতা তাহাকে কিছুমিষ্টান্ন দিয়াছিলেন। মিহির খাইতে অস্বীকার করিতেছিল। কাঁদিতে কঁদিতে, আঁচলে চক্ষু মুছিতে মুছিতে, খাইবার নিমিত্ত মাতা তাঁহাকে জেদ করিতেছিলেন। মাতার অনুরোধে মিহির সন্দেশ ভাঙ্গিয়া, একটু মুখে দিয়া জল পান করিল। তাহার পর সে মাতাকে বুঝাইতে লাগিল। মিহির বলিল,- “মা! তুমি জননী! আমার দেবতা। তোমার সাক্ষাতে আমি সত্য বলিতেছি। যে, আমি সে ছোকরাকে খুন করি নাই। দুই জনে আমরা একঘরে থাকিতাম। চিরকাল তাহাতে আমাতে বড় ভাব ছিল । বাবার সহিত তাহার বাপের মোকদ্দমা আরম্ভ হইলেও তাহাতে আমাতে ভাব যায় নাই। তবে যে রাত্ৰিতে সে খুন হয়, সেইদিন সন্ধ্যাবেলা তাহাতে আমাতে একটু বচসা হইয়াছিল। কিন্তু সে অন্য কথা লইয়া, মােকদ্দমার কথায় নয়। যাহা হউক, সে ঝগড়া কোন কাজের নয়, কথার তর্ক-বিতর্ক মাত্র। তাহার পর আমরা একসঙ্গে কত কথা কহিলাম, একসঙ্গে আহার করিলাম, একঘরে শয়ন করিলাম। রাত্রি দুইটা কি তিনটার প্ৰবেশ করিয়াছি, আর সেই সময় বেণীর বিছানার হইতে কিরূপ একটা ঘড়-ঘড় শব্দ আমি শুনিতে পাইলাম। যে ছোকরা খুন হইয়াছে৯ নাম বেণী ছিল। আমি ভাবিলাম, বেণী বুঝি কিরূপ কুভাবে শয়ন করিয়াছে, তুষ্ট সে এইরূপ শব্দ করিতেছে। তাহাকে ঠেলিয়া পাশ ফিরিয়া শুইতে বলিব, এই মুঠি৯১সেই অন্ধকার ঘরে তাহার বিছানার দিকে যাইতে লাগিলাম। সহসা আমার গায়ে মানুষের ১ঙ্গাঁ ঠেকিয়া গেল। তখনও আমি কোন বিপদের আশঙ্কা করি নাই। তখন আমি ভাবিলাম যে, বেণী ঘুমের ঘোরে তক্তপোষ হইতে পড়িয়া গিয়াছে। “বেণী” “বেণী বলিয়া ডাকিতে ডাকিতে আমি তাহাকে তুলিতে চেষ্টা করিলাম। কিন্তু আমি দেখিলাম যে, তাহার। সৰ্ব্বশরীর অবশ হইয়া গিয়াছে, আর তাহার গলা দিয়া ঘড়-ঘড় শব্দ হইতেছে; আর সেই সময় আমার পায়ে জল অপেক্ষা ঘন কি সব লাগিয়া গেল। আমি চীৎকার করিয়া উঠিলাম। পাশের ঘরে নিয়োগী মহাশয়ের পুত্ৰ বেচু ও আর আর ছােকরা ছিল। কিন্তু আমার চীৎকার শুনিয়া, কেবল বেচু একেলা দৌড়িয়া আসিল। সঙ্গে সে দিয়াশলাই আনিয়াছিল। সে দিয়াশলাই জ্বলিল। সেই আলোতে বেণীকে আমি তাহার তক্তপোষে শয়ন করাইলাম। আর সেই সময় দেখিলাম যে, তাহার বুকে কে ছুরি মারিয়াছে; বুক হইতে ভলকে ভলকে রক্ত বাহির হইতেছে, তাহাতে আমার গা ও কাপড় রক্তে রক্ত হইয়া গিয়াছে। ঘরের মেজেতে যে স্থানে বেণী পড়িয়াছিল, সে স্থানেও অনেক রক্ত জমা হইয়াছিল। সেই রক্ত আমার গায়ে লাগিয়া গিয়াছিল। নিয়োগী মহাশয়ের পুত্ৰ বেচু ঘরের ভিতর আসিয়া দিয়াশলাই জুলিয়া সমুদয় ব্যাপার দেখিল। বেচু মনে করিল যে, আমি বেণীকে খুন করিয়াছি। সেইজন্য বেচু। আমাকে বলিল,- “চুপ্‌ চুপ্‌! গোল করিও না। কিন্তু মিহির, এ কি তুমি করিয়াছ? বেণীকে তুমি খুন করিয়াছ? সন্ধ্যাবেলা তাহার সহিত তোমার ঝগড়া হইয়াছিল, সেইজন্য ইহাকে খুন করিয়াছ? না, ইহার বাপের কােছ হইতে যে একশত টাকার নোট আসিয়াছে, তাহার জন্য 86xኳን দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"ির্ডস”” “ তুমি ইহাকে খুন করিয়াছ?” আমি বলিলাম,- “ও কি কথা, বেচু! আমি ইহাকে খুন করিয়াছি! আমি যদি খুন করিব, তবে চীৎকার করিয়া লোক ডাকিতে যাইব কেন?”— বেচু। বলিল,- “দেখ, মিহির! তোমার সে কথা কেহ বিশ্বাস করিবে না! তোমরা দুই জনে একঘরে থাক। তোমার সহিত কাল তাহার ঝগড়া হইয়াছিল, তোমার গায়ে রক্ত,--আর এ কি! এই বলিয়া ঘরের মেজে হইতে বড় একখানি ছুরি সে তুলিয়া লইল। ছুরিখানি রক্তমাখা ছিল। সে ছুরি আমার। ঘরের এক পার্শ্বে ছোট টেবিল ছিল । তাহার উপর কাগজ, কলম, পুস্তক প্রভৃতির সহিত আমার সেই ছুরিখানিও থাকিত। ছুরিখানি হাতে লইয়া বেচু বলিল,—“আর ক্ষণমাত্ৰ বিলম্ব করিও না। শীঘ তুমি পলায়ন কর।” আমি হতবুদ্ধি হইয়া পড়িলাম। পলায়ন করিতে আমি উদ্যত হইলাম, তখন বেচু বলিল,— ‘ও কি কর! ওরূপ রক্তমাখা কাপড়ে বাহিরে যাইও না। এখনি তোমাকে চৌকিদারে ধরিবে।” এই কথা বলিয়া সে দৌড়িয়া আপনার ঘরে গেল। আপনার একখানি কাপড় আনিয়া আমাকে দিল। সেই কাপড় পরিয়া আমি পলায়ন করিলাম। সে রাত্ৰিতে বেচু আমার অনেক উপকার করিয়াছে। আজও দেখ, সে আমাকে বীচাইতে চেষ্টা করিয়াছে। কিন্তু মা! এখন বোধ হইতেছে যে, পলায়ন করিয়া আমি ভাল কাজ করি নাই । যখন আমি অপরাধ করি নাই, তখন কি জন্য যে আমি পলায়ন করিলাম, তাহা বুঝিতে পারি না । এরূপ অবস্থায় আর কতদিন কাল কাটাইবি। ইহা অপেক্ষা ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়া মরাই আমার পক্ষে ভাল। তোমাদিগকে না দেখিয়া আর পথে পথে ফিরিতে পারি না! আর কষ্টভোগ করিতে পারি না, মা!” মাতা কাদিতে লাগিলেন। পাল মহাশয়ের কন্যা কি লাগিল। পাল মহাশয়ের চক্ষে জল আসিল, আমারও চক্ষু দিয়া জল পড়তে লাগিল ॥২৮ মিহির পুনরায় বলিল,- “আজ আর গ্ন কোন উপায় নাই। কিন্তু তাহার জন্য আমি কিছুমাত্র দুঃখিত নই। পথে পথে আর পারি না ।” এইরূপ বলিতে বলিতে মিহির কাঁদিতেছেন। সেজন্য র্তাহাদিগকে প্ৰবোধ দিয়া সে পুনরায় বলিল,— “মা, কঁদিও না! তুমি ভয় করিও না! ভগবান মাথার উপর আছেন। বিনাদোষে তিনি আমাকে ফাঁসি যাইতে দিবেন। की ।” আমার নিজের সম্বন্ধে এই সময় একটি আশ্চৰ্য ঘটনা ঘটিল। মিহিরের দুঃখের কাহিনী শুনিয়া আমার বুকের ভিতর গুরু-গুরু করিয়া উঠিল। কেন বলিতে পারি না, কিন্তু এই সময় হইতে আমার স্বভাব পরিবৰ্ত্তিত হইতে আরম্ভ হইল। পাল মহাশয় বলিলেন,- “প্ৰাণ থাকিতে তোমাকে আমি ধরা দিতে দিব না। পলাইবার কোন উপায় কি নাই?” এই সময় বাটীর নিম্নে অন্দর মহলের দরজায় সবলে কে আঘাত করিতে লাগিল। দরজা যেন ভাঙ্গিয়া ফেলিতে লাগিল । ፳ শশব্যস্ত হইয়া সকলে আমরা উঠিয়া দাড়াইলাম। পাল মহাশয় বলিলেন,- “ঐ আসিয়াছে।” পাল মহাশয়ের কন্যা ও গৃহিণী কঁদিয়া উঠিলেন। মিহির পুনরায় তাহাদিগকে বুঝাইতে লাগিল। মিহির বলিল,— “ভয় নাই মা! কাদিও না । অন্তৰ্য্যামী ভগবান জানেন যে, আমি কোন দোষে দোষী নই! তিনি আমাকে রক্ষা করিবেন।” Wisit 8 মুক্তা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro Œ “ስ দরজায় অতি সবলে আঘাত হইতে লাগিল । দরজা যেন ভাঙ্গিয়া ফেলিতে লাগিল । পাল মহাশয় বারেণ্ডায় গিয়া উচ্চৈঃস্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কে ও? দরজা ভাঙ্গে কে?” বাহির দিকে নীচে হইতে কে উত্তর দিল,— “আমরা পুলিশের লোক। দরজা খুলিয়া দাও।” পাল মহাশয় বলিলেন, — “রাত্রি প্রায় একটা বাজে। এ ঘোর রাত্ৰিতে আমি দরজা খুলিয়া দিতে পারি না। যদি তোমাদের কোন প্রয়োজন থাকে, তাহা হইলে প্ৰাতঃকালে আসিও, তখন দ্বার খুলিয়া দিব। রাত্রিকালে ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবার আইন নাই।” পুলিশের লোক উত্তর করিল,- “দ্বার খুলিয়া দাও। যদি না খুলিয়া দাও, তাহা হইলে দ্বার আমরা ভাঙ্গিয়া ফেলিব। তোমার ঘরে খুনী আসামী আছে।” পাল মহাশয় বলিলেন,- “আমার ঘরে খুনী আসামী কোথা হইতে আসিবো? এ ঘোর রাত্ৰিতে আমি দ্বার খুলিয়া দিব না;— তোমরা পুলিশের লোক হও আর যেই হও।” তাহারা দ্বারা যেন ভাঙ্গিয়া ফেলিবার উদ্যোগ করিল। পাল মহাশয় ঘরের ভিতর আসিয়া বলিলেন,- “সৰ্ব্বনাশ হইল! আর কোন উপায় নাই। মিহির এইবার ধরা পড়িল। সৰ্ব্বনাশ ' মিহিরের এক হাত মা ধরিয়াছিলেন ও অপর হাত ভগিনী ধরিয়াছিল। মিহিরকে মাঝখানে রাখিয়া, দুই জনে পাৰ্থে বসিয়া ক্রমাগত কাঁদিতেছিলেন। পাল মহাশয়ের এই নিদারুণ বাক্য শুনিয়া, ভগিনী সহসা মিহিরের হাত ছাড়িয়া দিল। তাহার পর সে উঠিয়া দাঁড়াইল। আচলে চক্ষু মুছিতে মুছিতে পিতাকে সে বলিল,— “বাবা। নীচে গিয়া পুলিশের লোককে তুমি দরজা খুলিয়া দাও। আমি মনে মনে এক উপায় স্থির করিয়াছিাঁ। ভগবানের কৃপায় আমাদের বাসনা পূর্ণ হইবে।” ○ কন্যার কথা শুনিয়া আমরা সকলেই অব্যাঙ্গুইয়াতাহার মুখপানে চাহিয়া রহিলুম। কন্যা ধীর-গম্ভীর স্বরে ভ্রাতাকে “দাদা, উঠা। মদনাবাবুর ঘরে গিয়া তাহার বিছানায় তুমি শয়ন কর। বারেণ্ডার ওদিক হইতে তুমি শিকল দিয়া দাও, এদিক হইতে সেই দ্বারে আমি খিল দিতেছি!” পাল মহাশয়ের কন্যা তাহার পর মাদুরের উপর হইতে সেই ৱাক্ষসের মুখস ও পরচুল তুলিয়া লইল । স্বহস্তে সেই মুখস ও সেই পরচুলের দাড়ি-গোপ সে আমার মুখে পরাইয়া দিল। সকলে তাহার অভিসন্ধি তখন বুঝিতে পারিল। পাল মহাশয় বলিলেন, “রাধারাণী মা ! ধন্য তুমি। ধন্য তোমার বুদ্ধি! তোমার বুদ্ধিবলে ও ভগবানের কৃপায় মিহির বােধ হয়, এবার নিকৃতি পাইবে। মিহির! উঠ বাবা! শীঘ্ৰ মদনাবাবুর ঘরে তুমি গমন কর!” পাল মহাশয়ের কন্যার নাম রাধারাণী । 86ሱr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com%িস”******* দ্বাদশ অধ্যায় মদনের প্রতিজ্ঞা বারেণ্ডায় দাড়াইয়া রাধারাণী মিহিরকে আমার ঘর দেখাইয়া দিল। ভিতর-বাটী হইতে বাহিরবাটীতে গমন করিয়া, মিহির প্রথম বারেণ্ডার দ্বারে শিকল দিল। তাহার পর, আমার ঘরে প্রবেশ করিয়া সে ঘরেরও দ্বার বন্ধ করিয়া দিল । অবশেষে সে আমার বিছানায় শয়ন করিল। দ্বার খুলিয়া দিবার নিমিত্ত পাল মহাশয় এখনও নীচে গমন করেন নাই। রাধারাণী সেজন্য পুনরায় তাহাকে বলিল, “বাবা! তুমি নীচে গিয়া পুলিশের লোককে দ্বার খুলিয়া দাও। দ্বার খুলিতে কিন্তু একটু নলপিত করিও। উপরে কেবল তোমার ঘরের দ্বার খোলা থাকুক। প্ৰদীপ নিবাইয়া মা ও আমি অন্য ঘরে দ্বার বন্ধ করিয়া শয়ন করি।” পাল মহাশয় প্রথম বারেণ্ডায় দাড়াইয়া উচ্চৈঃস্বরে পুলিশের লোককে বলিলেন,- “আপনাদের আর কষ্ট করিতে হইবে না। এখনি নীচে গিয়া আমি দ্বার খুলিয়া দিতেছি।” এই বলিয়া সিঁড়ি দিয়া আস্তে আস্তে তিনি নীচে নামিতে লাগিলেন। পরচুল ও মুখস পরিয়া অবাক হইয়া এতক্ষণ আমি চুপ করিয়া বসিয়াছিলাম। রাধারাণী স্বহস্তে আমার এই সাজ করিয়া দিয়াছিল। তাহার কোমল হস্তস্পর্শে শরীর আমার রোমাঞ্চ হইয়াছিল। সেই সুখে মুগ্ধ হইয়া, চিন্তা করিতে এতক্ষণ আমি সময় পাই নাই। কিন্তু এখন আমার বড় ভয় হইল। আমি ভাবিলাম,- “এ মন্দৰ্যন্ধগু নয়! রাক্ষসের হাত হইতে কত কষ্টে পরিত্ৰাণ পাইলাম। এখন দেখিতেছি, র যোগাড় হইতেছে। নিয়োগী মহাশয় পুলিশকে নিশ্চয় বলিয়াছেন যে, কৃষ্ঠাির্সর সাজ সাজিয়া খুনী আসামী বাটীতে আগমন করে। সুতরাং পুলিশ আসিয়াইড্‌ষ্ট ক ধরিয়া ফেলিবে। তাহার পর, আমাকে ভূর্ক্সর নামে মােকদ্দমা করবে। তাহার পর, আমাকে আপনাকে ধিক্কার দিয়া আমি মনে মনে বলিতে লাগিলাম,- “ছি, মদন৷ তুমি না। এইমাত্র প্ৰতিজ্ঞা করিয়াছ যে, আজ হইতে আর পাগলামি করিবে না? আর কখন কাপুরুষের ন্যায় ব্যবহার করিবে না? আজ হইতে তুমি তোমার স্বভাব পরিবর্তন করিবে? ছি, মদন! তোমার কি লজ্জা নাই?” একদিনে সামান্য কথায় মানুষের চক্ষু ফুটিয়া যে চৈতন্য হয়, তাহা আপনারা অসম্ভব বিবেচনা করিবেন না। লালাবাবু তাহার দৃষ্টান্ত। কথিত আছে যে, একদিন লালাবাবু বিষয়কৰ্ম্মে সাতিশয় ব্যস্ত ছিলেন। বেলা দুই প্রহর অতীত হইয়া গেল, তথাপি স্নান-আহার করিতে তিনি যাইলেন না। বাটীর ভিতর হইতে কয়বার লোক তাঁহাকে ডাকিতে আসিল, তবুও তিনি উঠিলেন না। অবশেষে তাহার কন্যা আসিয়া বলিল,— “বাবা! বেলা গেল যে!” “বেলা গেল,” এই দুইটি কথায় লালাবাবুর হৃদয়-তন্ত্রী বাজিয়া উঠিল। সেই মুহূৰ্ত্ত হইতে সংসারের প্রতি তাহার বৈরাগ্য জনিল । মিহিরের কাহিনী শুনিয়া আমারও আজ সেইরূপ হইল। আমার স্বভাবে যে সমুদয় দোষ আছে, এতদিন তাহা আমি দেখি নাই। সে সমুদয় দোষ এখন আমার প্রত্যক্ষ হইল। তাহার _Հյթ]] 86አእs মুক্তা sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro পর আমি ভাবিতে লাগিলাম,- ‘সংসার কি ভয়ানক স্থান। মিহির সম্পূর্ণ নিরপরাধ; নিশ্চয় খুন করে নাই। তথাপি তাহাকে কত না কষ্টভোগ করিতে হইতেছে! ধরা পড়িলে হয়তো তাহার ফাঁসিও হইবে। অন্তৰ্য্যামী ভগবান কেন এমন করিতেছেন? এ রহস্য আমি বুঝিতে পারি না। হে ঈশ্বর! তুমি জান; আমি কিছুই জানি না।” এইরূপ ভাবিয়া আমি প্ৰতিজ্ঞা করিলাম,- “আজ হইতে যথাসাধ্য সকল বিষয়ে আমি চুপ করিয়া থাকিব । তাহার যাহা ইচ্ছ, তাহাই হউক ৷” ভ্ৰাতাকে আমার ঘর দেখাইয়া দিয়া, বারেণ্ডার দ্বারে ভিতর হইতে খিল দিয়া রাধারাণী পুনরায় আমার নিকট আসিয়া বলিল,— “আপনি ভয় করিবেন না! আপনি যে দাদা নহেন, তাহা জানিতে পারিলেই পুলিশ আপনাকে ছাড়িয়া দিবে। কিন্তু অনুগ্রহ করিয়া আপনি শীঘ্য পরিচয় দিবেন না। যত বিলম্ব করিতে পারেন, ততই ভাল। কারণ, বিলম্ব হইলে দাদাকে সরাইতে আমরা সময় পাইব ।” রাধারাণীর মধুর বচনে আমার মন আশ্বাসিত হইল। আমিও তখন মনে মনে বুঝিয়া দেখিলাম যে, সত্য বটে; আমাকে কেন তাহারা ফাঁসি দিবে? আমি যে মিহির নই, জানিতে পারিলেই, তাহারা আমাকে ছাড়িয়া দিবে। আমার নাম-ধাম প্রকাশ করিতে আমি যত পারি, ऊष्ठ विलय दलिन्द । রাধারাণী পুনরায় বলিল,— “আপনার এ ঘরে থাকা উচিত নহে। আপনাকে অন্য স্থানে যাইতে হইবে। আসুন!” রাধারাণীর সহিত সে ঘর হইতে আমি বাহির হইলুম)”চক্ষুর উপরে মুখসে দুইটি গোল ছিদ্র সামান্য একটু নিভৃত অন্ধকারময় স্থান ছিলুঙ্গিস্থনে যে ভগ্নপ্রাচীর আছে, তাহার কোণে রাধারাণী আনিয়াছিল। সেই মাদুর সে আড়াল করা: দিল। মাদুরের অন্তরালে চুপ করিয়া আমি বসিয়া রহিলাম। নানারূপ আশ্বাসবাক্যে আমাকে প্ৰবোধ দিয়া রাধারাণী সে স্থান হইতে প্ৰস্থান করিল। প্রাচীরের কোণে মাদুরের আড়ালে বসিয়া, শব্দ শুনিয়া, সমুদয় ঘটনা আমি বুঝিতে পারিলাম। পাল মহাশয় দ্বার খুলিয়া দিলেন; সে শব্দ আমি পাইলাম। অনেকগুলি লোক বাটীর ভিতর প্রবেশ করিল; সে শব্দ আমি পাইলাম। সাত-আট জন লোক, তড়-তড় করিয়া সিঁড়ি দিয়া উপরে উঠিল; সে শব্দ আমি পাইলাম। পাল মহাশয়ের তিনটি ঘর আতি-পাতি করিয়া তাহারা খুঁজিতে লাগিল; সে শব্দও আমি পাইলাম। তাঁহাদের অনুসন্ধান যে বৃথা হইল, তাহাদের কথাবাৰ্ত্তায় তাহাও বুঝিতে পারিলাম। অবশেষে দুই জন লোক আমার দিকে আসিতেছে, পদশব্দে তাহাও আমি বুঝিলাম। যে স্থানে আমি লুক্কায়িত ছিলাম, সেই দুই জন লোক সেই স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইল। গোল। লণ্ঠনের প্রখর আলোক তাহারা মাদুরের উপর ধরিল। তাহার পর, একজন অগ্রসর হইয়া মাদুরটি সরাইয়া ফেলিল। তৎক্ষণাৎ সেই দুই জন লোক একসঙ্গে চীৎকার করিয়া উঠিল,— “আসামী পাইয়াছি! আসামী পাইয়াছি।” সেই কথা শুনিয়া পুলিশের অন্যান্য লোক সেই স্থানে দৌড়িয়া আসিল । তাহদের মধ্যে একজন তৎক্ষণাৎ আমার হাতে হাতকড়ি লাগাইয়া দিল। ঘরের ভিতর পাল মহাশয়ের কন্যা ও Bo fi:Ilă zi, o ga se - www.amarboi conf** গৃহিণী কঁদিয়া উঠিলেন। আমি চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিলাম। একজন পুলিশের লোক আমার মুখ হইতে সেই ৱাক্ষসের মুখস খুলিতে উদ্যত হইল। কিন্তু তাহদের মধ্যে যিনি কৰ্ত্তা, তিনি তাহাকে নিষেধ করিয়া বলিলেন, “উ হু! মুখস খুলিও না। এই অবস্থাতেই ইহাকে সাহেবের मिकाँ, व्लक्ष्ट्र शांक्षेत्र ॥" আমার ভয় হইয়াছিল যে, মুখস খুলিলে পাছে কেহ আমাকে চিনিতে পারে! রাধারণীর সমুদয় আয়ােজন তাহা হইলে বৃথা হইত। নিয়ােগী তখন সে স্থানে উপস্থিত ছিলেন না বটে; কিন্তু পুলিশের লোক যখন আমাকে থানায় লইয়া যায়, সেই সময় বাহির-বাটীর যত বাসাড়ে তামাসা দেখিবার নিমিত্ত আপন আপনি ঘর হইতে বাহির হইয়াছিল। নীচের বাসাড়েগণ নীচে ও দোতলার বাসাড়েগণ উপরের বারেণ্ডার রেল ধরিয়া দাঁড়াইয়াছিল। সকলের সম্মুখ দিয়া পুলিশের লোক আমাকে লইয়া গেল। মুখস খুলিলে তাহারা আমাকে চিনিতে পারিত। মুখসের চক্ষু-কোেটর দিয়া আমি সকলকে দেখিলাম। নিয়োগীকে কোন স্থানে দেখিতে পাইলাম না। নিয়োগী জানিতেন না যে, তাহার পুত্ৰ পাল মহাশয়কে গোপনে সংবাদ দিয়া, তাহার পরিশ্রম বিফল করিয়াছে। যেন এ ব্যাপারে কিছু জানেন না, পরদিন পাল মহাশয়কে তাহাই বলিবার নিমিত্ত তিনি বোধ হয়, আপনার দ্বার বন্ধ করিয়া ঘরের ভিতর বসিয়াছিলেন। দালালকেও কোন স্থানে দেখিতে পাইলাম না। আমি থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। সাহেবের সম্মুখে আমার মুখস খোলা হইল। কিন্তু পরচুলের দাড়ি-গোফ যেমন তেমনি রহিল। থানার সাহেব আমাকে দুই-এক কথা জিজ্ঞাসা করিলেন, কিন্তু আমি কােন উত্তর করলামৃত্যু আমাকে গারদে কয়েদ করিয়া রাখা হইল । ○ গারদে আমি বসিয়া আছি, এমন সময় বুইয়ের নিয়োগীর গলার শব্দ পাইলাম। নিয়োগীর সহিত পুলিশের যে কথাবাৰ্ত্ত হইল, ত বুঝিলাম যে, মিহিরকে ধরিয়া দিবার নিমিত্ত পাঁচশত টাকা পুরস্কার দিবার ঘোয়ুগ্ৰীষ্টছিল। নিয়োগী সেই পুরস্কারের প্রার্থনা করিলেন। পুলিশের লোক বলিল যে,- “রও! আগে ইহার মোকদ্দমা হউক, তাহার পর তুমি সে পুরস্কার পাইবে।” সেই কথা শুনিয়া নিয়োগী মহাশয় প্ৰস্থান করিলেন। পুলিশের লোক পরদিন আমাকে আর একজন সাহেবের নিকট লইয়া গেল। সে সাহেবও আমাকে দুই-চারি কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি কিন্তু একটি কথাও মুখ দিয়া বাহির করিলাম না । হুগলীতে সেই খুন হইয়াছিল। আমাকে হুগলীতে লইয়া গিয়া সে স্থানের পুলিশের হাতে সমৰ্পণ করিবার নিমিত্ত সাহেব আজ্ঞা করিলেন। দুই জন পুলিশের লোক আমাকে হুগলীতে লইয়া চলিল। আমরা তিন জনে রেলগাড়ীতে গিয়া বসিলাম। আমার হাতে হাতকড়ি ছিল। কিন্তু পথে যাইতে যাইতে কৌশল করিয়া, আমি সেই পারচুলের দাড়ি-গোফ খুলিয়া চুপি-চুপি হইল। সে যে পরচুল, তা বোধ হয়, তাহারা জানিত না। তাহারা বলিল,— “তুই একজন পাকা বদমায়েস!” যথাসময়ে আমরা হুগলীর থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। কলিকাতা পুলিশের লোক হুগলী পুলিশের হাতে আমাকে সমৰ্পণ করিয়া চলিয়া গেল। হুগলী থানার একজন কৰ্ম্মচারী মিহিরকে জানিত। সে তখন থানায় উপস্থিত ছিল না। কিছুক্ষণ পরে সে আসিয়া আমাকে দেখিয়া ऊ-कारांना sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro 8way বলিল,- “মিহির পাল! এ কেন মিহির পাল হবে?” এই কথা শুনিয়া থানার দারোগা আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তবে তুমি কে?” এইবার আমার মুখ দিয়া কথা ফুটিল। আমি বলিলাম,- “আমি মদন ঘোষ।” দারোগা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “মদন ঘোষ আবার কে?” নাম-ধাম প্রভৃতি বলিয়া, আমি আমার সমুদয় পরিচয় প্রদান করিলাম। তাহা শুনিয়া, উপস্থিত সকল লোকেই ঘোরতর বিস্মিত হইল । দারোগা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “তবে কলিকাতা পুলিশ তোমাকে ধরিয়া আনিল কেন? আর মিহির বলিয়া তোমাকে এ স্থানে দিয়া গেল কেন?” আমি উত্তর করিলাম,- “পাল মহাশয় ও আমি এক বাটীতে বাস করি। তাঁহার সহিত আমার সদ্ভাব আছে। তামাসাচ্ছলে রাক্ষসের মত মুখস পরিয়া, পাল মহাশয়ের পরিবারবর্গকে আমি ভয় দেখাইতে গিয়াছিলাম। সেই অবস্থায় কলিকাতা পুলিশের লোক আমাকে মিহির মনে করিয়া ধৃত করিল।” দারোগা জিজ্ঞাসা করিলেন,- “কলিকাতার থানায় তুমি আপনার পরিচয় প্ৰদান করা নাই কন?” আমি বলিলাম,- “ভয়ে আমি হতবুদ্ধি হইয়া গিয়াছিলাম।” যাহা হউক, হুগলীর পুলিশের লোক আমাকে তৎক্ষণাৎ ছাড়িয়া দিল না। সে স্থানের সাহেবের নিকট আমাকে লইয়া গেল। আরও দুই দিন ধরিয়া ভালরূপে তদন্ত করিল। হুগলীর যে সমুদয় লােক মিহিরকে জানিত, তাহাদিগকে আনিয়ু আমাকে দেখাইল। পাল মুহাশয়ের গ্রামের কয়েক জন লোককে আনিয়া আমাকে যখন সকলেই বলিল যে, আমি মিহির (3 wig নিয়োগী মহাশয়ের গান তিন দিন পরে অপরাহে আমি আমার কলিকাতার বাসায় প্রত্যাগমন করিলাম। বাটীর ভিতর প্ৰবেশ করিয়া দেখিলাম যে, নিয়োগী আপনার ঘরের দ্বারের নিকট একটি কেরোসিন তেলের পুরাতন ও ভাঙ্গা বাক্সর উপর বসিয়া খবরের কাগজ পাঠ করিতেছেন! সকলে যেভাবে সংবাদপত্র পাঠ করে, নিয়োগী সেভাবে পাঠ করিতেছিলেন না; গীত গাহিবার ন্যায় সুর করিয়া গদ্য লেখা তিনি পাঠ করিতেছিলেন। যথা— N-VA-VON-VON-CR-4-4-*-o-VANT-VANT-VANT-GE-4-4-NK RASJfî সংবাদপত্রের যে কথাগুলি লইয়া তিনি মনের আনন্দে গান করিতেছিলেন, তাহা এইরূপ ছিল,- “মহেশ পালের পুত্র মিহির দুই বৎসর পূৰ্ব্বে হুগলীতে খুনী মোকদ্দমায় অভিযুক্ত হইয়া ফেরার হইয়াছিল। মুখস পরিয়া ছদ্মবেশে মাঝে মাঝে সে পিতা-মাতার সহিত সাক্ষাৎ করিত। এই অবস্থায় সেদিন সে ধরা পড়িয়াছে।” ইত্যাদি। মিহির পাল ধরা পড়িয়াছে। আনন্দে নিয়োগী মহাশয়ের মন একেবারে পরিপূর্ণ হইয়া 8vaS দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboicon: "*** গিয়াছে। আনন্দের বেগ সহ্য করিতে না পারিয়া, তিনি সেই গদ্য ভাষায় লিখিত সংবাদটি গীতের ন্যায় গাহিতেছিলেন। নিয়ােগী। তখনও জানিতে পারেন নাই যে, প্রকৃত মিহির সে রাত্রি ধরা পড়ে নাই, জাল মিহির ধরা পড়িয়াছিল। “কি হে মদন! এতদিন কোথায় ছিলে?” আমি উত্তর করিলাম,- “সেসব কথা আপনাকে পরে বলিব। পাল মহাশয় কেমন আছেন?” ভট্টাচাৰ্য মহাশয় বলিলেন,- “পাল মহাশয় এখানে নাই। যে রাত্রিতে তাঁহার পুত্র ধরা পড়িল, সেই রাত্ৰিতেই সপরিবারে তিনি এ স্থান হইতে চলিয়া গিয়াছেন। পুত্রের মোকদ্দমার তদ্বির করিবার নিমিত্ত তিনি বোধ হয়, হুগলী গিয়াছেন। ভাল কথা! তোমার ঘরের চাবি আমার কাছে আছে। তিনি আমাকে সেই চাবি দিয়া গিয়াছেন।” ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের নিকট হইতে চাবি লইয়া, আমি আমার ঘরে গমন করিলাম। পাল মহাশয় কোথায় গিয়াছেন, বিছানায় শুইয়া সেই কথা ভাবিতে লাগিলাম। কয়দিন অনুপস্থিতির পর, আমি আফিস যাইলাম। আফিস হইতে আসিয়া বাসার সকলকে আমি পাল মহাশয়ের সন্ধান জিজ্ঞাসা করিলাম; কিন্তু কেহই আমাকে বলিতে পারিল না। রবিবার দিন আমি পুনরায় হুগলীতে গিয়া, তাহার অনুসন্ধান করিলাম। সে অনুসন্ধান নিস্ফল হইল। তাহার পর, আর একদিন রবিবার তাঁহার গ্রামে গিয়া তাঁহার অনুসন্ধান লইলাম। কিন্তু সে স্থানেও কেহ কিছু বলিতে পারিল না। এইরূপে বহুদিন ধরিয়া ত আমি তাহার অন্বেষণ করিলাম । কিন্তু আমার সকল চেষ্টা বিফল হইল। অবশেষে য়া আমি চুপ করিয়া রহিলাম। নিয়োগী মহাশয় ক্রমে জানিতে পারিলেন যে মিহির ধরা পড়ে নাই; আমি যে মিহির সাজিয়া ধরা দিয়াছিলাম, সকল লোকেই ক্ৰমে ক্ৰমে জানিতে পারিল। একদিকে প্ৰতিহিংসা ও পুরষ্কার নিয়ােগী বিফলমনােরথ উক্লী; অপরদিকে উহার পুত্ৰ বেচুৰ ক্ৰমে আসন্নকাল উপস্থিত হইল। w একদিন বেলা নয়টার সময় আমি আফিস যাইতেছি, এমন সময় বেচু আমাকে তাহার নিকট ডাকিল। তাহার অবস্থা দেখিয়া আমি বুঝিতে পারিলাম যে, সে আর অধিক দিন दीप्ति का । বেচু আমাকে বলিল,— “মদনবাবু! আপনাকে আমি একটি বড় গোপন কথা বলিব। সেই কথা বলিবার নিমিত্ত আজ কয়দিন ধরিয়া আমি সুযোগ খুঁজিতেছি; কিন্তু পিতার ভয়ে আমি বলিতে পারি নাই । আজ পিতা আমাদের গ্রামে গিয়াছেন । সেইজন্য আপনাকে ডাকিলাম।” আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “কি কথা?” নিয়োগী-পুত্ৰ উত্তর করিল,— “আমি নিশ্চয় বুঝিতেছি যে, তিন-চারি দিনের মধ্যেই আমার মৃত্যু হইবে। আমার বড় ভয় হইতেছে যে, মৃত্যুর পর আমি ঈশ্বরের নিকট কি করিয়া দাঁড়াইব । ঘোর নরক। ঘোর নরক! ভাবিলে শরীর আমার শিহরিয়া উঠে।” ጳ এই কথা বলিয়া, বেচু কাঁদিতে লাগিল। আমি তাহাকে সান্তুনা করিতে লাগিলাম। আমি বলিলাম,- “বেচুবাবু! ঈশ্বর দয়াময়। মানুষের শরীরে যে সামান্য দয়া আছে, সে কেবল সেই দয়া-সাগরের এক বিন্দুমাত্র। যদি আপনি কোন পাপ করিয়া থাকেন, তাহার নিমিত্ত আন্তরিক অনুতাপ করুন। তাঁহাই পাপের প্রায়শ্চিত্ত। দয়াময় আপনাকে ক্ষমা করিবেন।” নিয়োগী-পুত্র পুনরায় বলিল,- “দেখুন, মদনাবাবু! এই আসন্নকালে সকল বিষয় আমি প্ৰত্যক্ষ ՀIՓ7-ՀԱՃii 89 sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro দেখিতেছি। জ্ঞান হইয়া পৰ্যন্ত আমি যাহা কিছু করিয়াছি, ব্যোমজগতে সে সমুদয় ছাপ পড়িয়া গিয়াছে। আমার সমুদয় চিন্তা, কথা ও কাজের ফল আমার জন্য সঞ্চিত রহিয়াছে। সে সমুদয় আমাকে ভোগ করিতে হইবে। কাজ করিলেই যে তাহার ফল আছে, মানুষ অনুক্ষণ তাহা দেখিতেছে। হায় হায়! তবু মানুষ কেন কুকৰ্ম্ম করে! মদনাবাবু! মানুষ আর যাহা কারুক, মানুষ সত্য হইতে যেন বিচলিত না হয়। অন্য পাপ মানুষের বিরুদ্ধে, কিন্তু অসত্য ঈশ্বরের বিরুদ্ধে। মনুষ্যজীবন ছেলেখেলা নহে,-ধৰ্ম্মও খেলা করিবার বস্তু নহে যে, তাহা লইয়া যে যা মনে করিবে, সে তাহাই করবে। আমি সাত বলিতেছি যে, পরকাল আছে, নরক আছে। এই মৃত্যুকালে আমি একান্ত মনে মানুষকে এই উপদেশ প্ৰদান করি যে, মানুষ যেন সত্য হইতে বিচলিত না হয়।” তাহার কথা শুনিয়া, আমার শরীর রোমাঞ্চ হইয়া উঠিল। আমিও যেন নরক প্রত্যক্ষ দেখিতে লাগিলাম। পাপীদিগের পরিত্ৰাহি ডাক আমারও যেন কৰ্ণকুহরে প্রবেশ করিতে লাগিল। শিহরিয়া আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম,- “সত্য-মিথ্যা কি, মোটামুটি তাহা আমি বুঝি। কিন্তু ধৰ্ম্ম-বিষয়ে সত্য কি?” বেচু উত্তর করিল,— “আপনি আমাকে বড় কঠিন কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। ধৰ্ম্ম বিষয়ে প্রকৃত সত্য কি, সকলে তাহা অনুভব করিতে পারে না; অনুভব করিবার তাহাদের ক্ষমতা নাই।” এইরূপ বলিয়া সে আমাকে তাহার নিজের বিশ্বাসের কথা বলিল । অনেকক্ষণ পৰ্য্যন্ত আমি মনোযোগের সহিত তাহা শ্ৰবণ করিলাম। আমার বোধ হইল যে, পীড়িত হইয়া পৰ্যন্ত নিয়োগী-পুত্র একান্ত মনে সৰ্ব্বদা ঈশ্বরকে ডাকিয়াছে। কুপা করিয়া তিনি তাহার চক্ষু উন্মুক্ত না। প্রথম প্রথম তাহার মুখ দেখিয়া ও তাহার ধ্ৰুবির্ত শুনিয়া, তাহার প্রতি আমার বিদ্বেষ জনিয়াছিল। কিন্তু এখন আমি বুঝিলাম গত ভগবানকে ডাকিয়া পিতৃদত্ত কলুষিত মনকে সে পবিত্ৰ করিতে সমর্থ হইয় ಶೃಙ್ಗಣಿ র নিকট বসিয়া, তাহার কথা শুনিয়া, আমারও পবার্তা ম গুণবান, আমি বুদ্ধিমান, আমি সাহসী পুরুষ,- আমার মনে এই প্রকার যে অভিমান ছিল, মুহূৰ্ত্তমধ্যে সে সমুদয় ভােব আমার চিত্ত হইতে তিরোহিত হইল। কীটস্য কীট-সামান্য একটা অধম জীব বিলিয়া, আমি আমাকে মনে করিতে লাগিলাম। বেচু ধৰ্ম্ম-বিষয়ে যাহা আমাকে বলিল, সেসব কথা এ স্থানে বলিবার আবশ্যক নাই। কিন্তু শেষকালে সে আমাকে এই কয়টি কথা বলিল,- “মদনবাবু! প্রকৃত সত্য কি, তাহা আমি আপনাকে বলিলাম। কিন্তু এ সত্য হৃদয়ঙ্গম করিবার ক্ষমতা সকলের নাই। সে নিমিত্ত সাধারণ মনুষ্যকে আমার উপদেশ এই যে, যাহার যেরূপ বিশ্বাস, সে যেন তদনুযায়ী কাজ করে। মনে একরূপ বিশ্বাস, বাহিরে অন্যরূপ কাজ, এ যেন কেহ করে না। সেরূপ অসত্য কপট জীবনের ক্ষমা নাই; সেরূপ লোককে নিশ্চয় নরকে ডুবিতে হইবে।” আমি চুপ করিয়া ভাবিতে লাগিলাম। বেচু পুনরায় আমাকে বলিল,— “যে কথা বলিবার নিমিত্ত আমি আপনাকে ডাকিয়াছি, তাহা এখনও আপনাকে বলি নাই। বড় বিষম কথা! কি করিয়া আপনাকে বলিব, তাই ভাবিতেছি। আপনি অনুতাপের কথা বলিতেছিলেন। আজ একবৎসর ধরিয়া ক্রমাগত ঘোর অনুতাপিত হৃদয়ে ঈশ্বরকে ডাকিতেছি। যখন সেদিন মিহিরের আগমন-সংবাদ পিতা পুলিশকে দিতে গেলেন, সেইজন্যই সেদিন মরিতে মরিতে অতিকষ্টে আমি পাল মহাশয়কে গিয়া সাবধান করিলাম। মিহিরের আমি সৰ্ব্বনাশ করিয়াছি। আমি ভাবিলাম যে, নিরপরাধ মিহিরকে যে আমার সাক্ষাতে বাধিয়া লইয়া যাইবে, তাহা 8 Α28 tfirls six 93, 3el - www.amarboicomf67777° আমি দেখিতে পারিব না।” বিস্ময়ান্বিত হইয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম,- “মিহিরের আপনি সৰ্ব্বনাশ করিয়াছেন? মিহিরের আপনি কি করিয়াছেন?” নিয়োগী-পুত্র বলিল,- “যে খুনের জন্য মিহির পথে পথে ফিরিতেছে, যে খুনের জন্য তাহার ফাঁসি হইবার সম্ভাবনা, সে খুন করে নাই, সে খুন। আমি করিয়াছি।” আমি বলিলাম,- “কি !!! সত্য?” নিয়োগী-পুত্ৰ উত্তর করিল,-সম্পূর্ণ সত্য। মিহির, আমি আর সেই ছােকরা,--তাহার নাম বেণী—আরও তিন-চারি জন, হুগলীতে এক বাসায় থাকিয়া স্কুলে পড়িতাম। সকলেই আমরা এক জাতি। আমরা সকলে পরস্পরের কুটুম্ব ও পরিচিত। মিহির ও বেশী একঘরে থাকিত। পাল মহাশয়ের সহিত বেণীর পিতার ভূমি-সম্পত্তি লইয়া বিবাদ হয়। কিন্তু তাঁহাতে মিহির ও বেণীতে যে সদ্ভাব ছিল, তাহার ব্যতিক্রম হয় নাই। পরীক্ষায় টাকা ও অন্যান্য খরচের নিমিত্ত বেণীর পিতা একশত টাকা প্রেরণ করিয়াছিলেন। আমার সাক্ষাতে বেণী সেই টাকাগুলি বিছানায় আপনার শিয়ারদেশে বালিশের নিম্নে রাখিয়া দিল । আমার পিতা ধনবান ব্যক্তি নহেন। খরচের টানাটানি আমার সকর্বদাই থাকিত। সেই টাকাগুলি দেখিয়া আমার লোভ হইল । দৈবের লিখন কেহ খণ্ডাইতে পারে না। সেইদিন রাত্রি দুইটা কি তিনটার সময় সহসা আমার নিদ্রাভঙ্গ হইল। জাগ্রত হইয়া আমি বিছানায় শুইয়া আছি, এমন সময় মিহির ও বেণী যে-ঘরে থাকে, সেই ঘরের দ্বার খুলিবার শব্দ হইল। বিছানা উঠিয়া, আমিও আস্তে আস্তে আমার ঘরের দ্বার খুলিলাম। দ্বারের নিকট দাড়াইয়া গেল। আমি ভাবিলাম, উত্তম সুবিধা হইয়াছে। দেখ্রিস্তু লাইতে পারি কি না। এই মনে করিয়া আমিতে এতদূর বলিয়া বেচু আর বলিতে পারিল না। তাহার শ্বাস-প্ৰশ্বাস ক্রিয়া অতি দ্রুতভাবে সম্পন্ন হইতে লাগিল। “জল!” এই কথা বলিয়া সে আমাকে গেলাস দেখাইয়া দিল। তাড়াতাড়ি জলের গেলাস লইয়া আমি তাহার মুখে ধরিলাম। চতুৰ্দশ অধ্যায় বেচুর শেষ কথা জলপান করিয়া বেচু কিছু সুস্থ হইল। অল্পক্ষিণ বিশ্রাম করিয়া পুনরায় সে বলিতে আরম্ভ করিল— “আমাকে ধরিয়া চোর চোর বলিয়া বেণী পুনরায় চীৎকার করিতে উদ্যত হইল। আমি তাহার মুখ চাপিয়া ধরিলাম ও সেখান হইতে পলায়ন করিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করিতে লাগিলাম। কিন্তু বেণী আমাকে সহজে ছাড়িল না। সেই ঘরের দেয়ালের নিকট সামান্য একটি মেজে ছিল। ՀI3.j-ՀՈՊ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro তাহার উপর বেণী ও মিহিরের পুস্তক, কাগজ-কলম ইত্যাদি থাকিত। মিহিরের বড় একখানি ছুরি ছিল। ছুরিখানি সৰ্ব্বদাই এই মেজের উপর পড়িয়া থাকিত। অন্ধকারে বেণীর সহিত জড়ােজড়ি করিতে করিতে ক্রমে আমি সেই মেজের উপর গিয়া পড়িলাম। দৈবের ঘটনা! আমার দক্ষিণ হাতটি মেজেস্থিত ঠিক সেই ছুরির উপর পড়িল। তখনও বেণী আমাকে সবলে ধরিয়াছিল। তাহাকে যে খুন করিব, সে ইচ্ছা আমার আন্দীে ছিল না। কিন্তু কোনরূপে তাহার হাত হইতে নিভৃতি না পাইয়া, আমি সেই ছুরি তাহার বুকে মারিয়া বসিলাম। “বাপ’! বলিয়া বেণী তৎক্ষণাৎ ভূতলে পতিত হইল। আমি পলায়ন করিয়া আপনার ঘরে প্রবেশ করিলাম। হায় হায়! এক মিনিট পূৰ্ব্বে আমি একজন সাধু সচ্চরিত্রবান যুবক ছিলাম। এক মিনিটের মধ্যে আমি চাের, খুনে, নরপিশাচ হইয়া পড়িলাম। কিছুক্ষণ পরে মিহির ঘরে প্রবেশ করিল। ঘরে প্রবেশ করিয়া সে চীৎকার করিয়া উঠিল। আমি তৎক্ষণাৎ তাহার ঘরে গিয়া আলো জুলিয়া দেখিলাম যে, বেণী মৃতপ্রায় হইয়াছে, তাহাকে তুলিতে গিয়া মিহিরের শরীর ও কাপড় রক্তে আরক্ত হইয়া গিয়াছে ও সেই স্থানে মিহিরের ছুরি পড়িয়া আছে। ইহা ব্যতীত সেইদিন বৈকালবেলা বেণী ও মিহিরের কিছু বাচসা হইয়াছিল। আমি মনে করিলাম,-ভাল হইয়াছে। এ দোষ সম্পূর্ণরূপে মিহিরের উপর আরোপিত হইতে পরিবে, আর তাহা হইলে আমাকে কেহ সন্দেহ করিবে না। এইরূপ ভাবিয়া, তৎক্ষণাৎ পলায়ন করিবার নিমিত্ত মিহিরকে আমি পরামর্শ দিলাম। মিহির সে সময় স্তম্ভিত হইয়া গিয়াছিল। সে আমার কথামত কাৰ্য্য করিল। আমার একখানা কাপড় পরিধান করিয়া সে পলায়ন করিল। তাহার পলায়ন, তাহার পরিত্যক্ত রক্তাক্ত কাপড়, তাহার সকল দেখিয়া ও শুনিয়া পুলিশ তাহাকেই দােষী বলিয়া স্থির করিল, অন্য কাহাকেও করিল না। সে খুনের প্রকৃত বিবরণ এই আমি আপনাকে বলিলাম।” ஜூ আমার আফিস-গমন ঘুরিয়া গেল। আমি বলিলাম,- “এ রোগে আপনার মৃত্যু নিশ্চয়, তাহার অধিক বিলম্বও নাই। শুঞ্জ হউক, কাল হউক, পরশ্ব হউক, শীঘ্রই আপনাকে ঈশ্বরের নিকট দাড়াইতে হইবে। নিজের এরূপ গুরুতর অপরাধ অন্যের ঘাড়ে দিয়া কোন মুখে আপনি ঈশ্বরের নিকট দাড়াইবেন? অতএব যদি সময় থাকিতে যথার্থই আপনি পাপের প্ৰায়শ্চিত্ত করিতে ইচ্ছা করেন, তাহা হইলে এ সকল কথা কেবল আমাকে বলিলে হইবে না।” বেচু জিজ্ঞাসা করিল,— “আমাকে আর কি করিতে বলেন?” আমি উত্তর করিলাম— “এ সকল কথা আপনাকে পুলিশের নিকট বলিতে হইবে।” বেচু বলিল,— “তবে শীঘ্ৰ পুলিশের লোককে আপনি ডাকিয়া আনুন। আমার পিতা প্রত্যাগমন করিতে না করিতে আপনি এ কাজ করুন। আমি যে বেণীকে খুন করিয়াছি, তাহা তিনি জানেন না; একথা শুনিলে তিনি আমাকে কিছুতেই বলিতে দিবেন না।” আমি তৎক্ষণাৎ থানায় দৌড়িয়া যাইলাম। থানার লোক আসিয়া নিয়োগী-পুত্রের সমুদয় বিবরণ লিখিয়া লইল । তাহার পর, পুলিশের কৰ্ম্মচারী তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল,— “বেণীর নিকট হইতে যে নোট তুমি লইয়াছিলে, তাহা কি তুমি খরচ করিয়া ফেলিয়াছ? "নিয়োগী-পুত্র উত্তর করিল- “একখানি পঞ্চাশ টাকার ও পাঁচখানি দশ টাকার নোট ছিল। দশ টাকার পাঁচখানি নোটা ভাঙ্গাইয়া আমি খরচ করিয়াছি; কিন্তু পঞ্চাশ টাকার নােটখানি নম্বরী বলিয়া তাহা ভাঙ্গাইতে আমি সাহস করি নাই। সে নোট এখনও আমার নিকট আছে।” এই বলিয়া বেচু তাহার তেরঙ্গের চাবি আমাকে দিল ও যে কোণে নোটখানি ছিল, তাহা 8 issils -i-, g3, set - www.amarboicomf:5'" আমাকে বলিয়া দিল। নোটখনি বাহির করিয়া আমি পুলিশের হাতে দিলাম। ইহার কিছুদিন পরে নম্বর দেখিয়া প্ৰমাণ হইল যে, ইহা বেণীর পিতার প্রেরিত সেই নোট বটে। পুলিশ বেচুকে থানায় লইয়া যাইতে ইচ্ছা করিল। আমি ও বেচু দুই জনেই আপত্তি করিলাম। কিন্তু পুলিশ সেকথা শুনিল না। পালকি করিয়া বেচুকে তাহারা লইয়া চলিল। দুধ, জল, ঔষধ প্রভৃতি লইয়া, আমিও সঙ্গে চলিলাম। থানা হইতে পুলিশ তাহাকে আদালতে লইয়া গেল। সাহেবের নিকট পুনরায় তাহাকে সমুদয় বৃত্তান্ত প্ৰদান করিতে হইল। সাহেব তাহাকে জেলখানার হাসপাতালে পাঠাইতে আদেশ করিলেন । নিজের খরচে আমি উকীল দিয়া জামিনের প্রার্থনা করিলাম; কিন্তু সে খুনী আসামী; জামিন হইল না। এক স্থান হইতে অন্য স্থানে নাড়া-চাড়া, তাহার উপর ঘোরতর মনের আবেগ, এই সমুদয় কারণে আমি দেখিলাম যে, বেচুর অবস্থা ক্রমশই মন্দ হইয়া আসিতেছে। অপরাহে নিশ্বাসপ্ৰশ্বাসের বৈলক্ষণ্য ঘটিল। এ অবস্থায় জেলখানায় তাহাকে গাড়ী করিয়া লইয়া যাইতে পুলিশ সাহস করিল না। পান্ধিতে আস্তে আস্তে তাহাকে লইয়া চলিল। দুইজন পুলিশ-কৰ্ম্মচারী সঙ্গে চলিল। পাল্কির উপর হাত রাখিয়া, পার্শ্বে দাঁড়াইয়া রোগীর মুখের দিকে সতত দৃষ্টি রাখিয়া, আমিও সঙ্গে সঙ্গে চলিলাম। গড়ের মাঠে গিয়া রোগীর চক্ষুর ভাব দেখিয়া আমার বড় ভয় হইল। এক নিভৃত বৃক্ষতলে আমি পান্ধি নামাইতে বলিলাম। তাহার পর ভাল করিয়া দেখিয়া বুঝিতে পারিলাম যে, বেচুর আসন্নকাল উপস্থিত হইয়াছে। আমি তােহর মুখে বিন্দু বিন্দু জল দিয়া ধীরে ধীরে ভগবানের নাম করিতে লাগিলাম । এবার আমার পানে চাহিয়া অতি মৃদুস্বরে বেচু। য়টি কথা বলিল,— “মদনবাবু! আমি চলিলাম। রাধারাণীকে আপনি বিবাহ করিবেন। অঁপিন সংসারী হইবেন। সেদিন ধৰ্ম্মবিষয়ে ਜ মহানিৰ্ব্বাণতন্ত্র ক্রয় করিবেন! বৰ্ত্তমান মানবজাতির অবস্থা বুঝিয়া চরাচরের গুরু শ্ৰীশ্ৰীসদাশিব মনুষ্যজাতিকে এই প্ৰদান করিয়াছেন। ব্ৰহ্মপরায়ণ ব্ৰাহ্মণের নিকট এই তন্ত্র অনুসারে উপদেশ গ্ৰহণ করিবেন। তাহার পর, এই তন্ত্র অবলম্বন করিয়া সংসারযাত্রা নিৰ্ব্বাহ করিবেন। তাহা করিলে আপনার ইহকালে সুখ ও পরকালে সদগতি হইবে। আর বিশেষ কথা এই যে, এই তন্ত্রের প্রভাবে অকালমৃত্যুজনিত মহা শোকে আপনার হৃদয় সন্তাপ্ত হইবে না। সেই সদাশিব এক্ষণে আমার কণ্ঠে আসীন হইয়াছেন। তাহার আদেশে আপনাকে আমি এই কথাগুলি বলিলাম।” আহা! এই কথাগুলি বলিবার নিমিত্ত বেচু যেন এতক্ষণ জীবিত ছিল। যাই এই কথাগুলি শেষ হইল, আর দেহ হইতে তাহার প্রাণবায়ু অন্তৰ্হিত হইল। আমি কাঁদিতে লাগিলাম। বেহারগণ তাহার মৃতদেহ জেলখানায় লইয়া গেল। আমিও সঙ্গে সঙ্গে যাইলাম। আমি মনে করিলাম যে, মৃতদেহ দিবার অনুমতি হইলে, আমি লোক ডাকিয়া আনিব। এইরূপ মনে করিয়া বাহিরে আমি অপেক্ষা করিতে লাগিলাম । কিছুক্ষণ পর নিয়োগী মহাশয় সেই স্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। বাসায় পৌঁছিয়া তিনি সমুদয় ঘটনা শুনিয়াছিলেন। তাহার পর তিনি থানায়, ও থানা হইতে আদালতে গিয়াছিলেন। আদালত হইতে এইস্থানে উপস্থিত হইলেন। ভাব পরিবৰ্ত্তিত হইতে আরম্ভ হইয়াছিল। তাহার পর মুমূৰ্য বেচুর নিকট বসিয়া, তাহার ব্যথাবার্তা ՀIՓ)–ՀՈՊ sNAls viði (SS BS! ro www.amarboi.com ro BWA শুনিয়া আমার চক্ষু উন্মুক্ত হইয়াছিল। মনুষ্য-জীবন কিরূপ অনিত্য, তাহা আমি বুঝিয়েছিলাম। আমি ভাবিলাম যে, নিয়োগী মহাশয় যেরূপ লোক হউন না কেন, আমি তাঁহার বিচার করিবার কে? মানুষ দোষে গুণে থাকিতে পারে,- যে গুণের পরিচয় আমি প্রাপ্ত হই নাই। দোষের ভাগ ত্যাগ করিয়া, মানুষের গুণের ভাগ গ্ৰহণ করাই যে ভাল, সকলকে আমি এই উপদেশ প্রদান করি। কাহারও প্রতি বিদ্বেষ ভােব মনে স্থান দিও না। কাহাকেও ঘূণা করিও না। কাহারও প্রতি ংসা করিও না। অনেক সময়ে কু-চিন্তা উদয় হইতে পারে। অন্যের ভাল হইয়াছে শুনিয়া, মনে হিংসার উদয় হইলে, তৎক্ষণাৎ তাহা দূর করিতে চেষ্টা করিবে। মনে কু-চিন্তা উদয় হইলে, ক্ৰমাগত ঈশ্বরকে ডাকিতে থাকিবে যে,- “হে ঈশ্বর। আমার মন হইতে এরূপ চিন্তা দূর কর।” এইরূপ ভাবিয়া আমি কঁদিতে কঁদিতে নিয়োগী মহাশয়কে তীহার পুত্রের মৃত্যু-সংবাদ প্ৰদান করিলাম। এরূপ ঘোর দুঃখ-সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াও তাঁহার অন্তঃকরণ আর্দ্র হইল না; আমার প্রতি তাহার রাগ দূর হইল না। অন্ততঃ তাঁহার কোপ-দৃষ্টি দেখিয়া আমি তাহাই বুঝিলাম। যাহা হউক, তাহার পুত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নিমিত্ত লোক ডাকিয়া আনিবার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করিলাম। সে অনুমতি তিনি আমাকে প্ৰদান করিলেন। গাড়ী করিয়া শীঘ্ৰ আমি লোক ডাকিয়া আনিলাম। তাঁহার পুত্রের সৎকার আমরাই করিলাম। দুই দিন পরে নিয়োগী মহাশয় কলিকাতা হইতে প্ৰস্থান করিলেন। এ পৰ্যন্ত তাঁহার আর কোন সংবাদ আমি পাই নাই। পাইতে ইচ্ছাও বড় করি না। পাল মহাশয়ের ও তাঁহার পুত্রের অনুসন্ধানে পুনরায় আমি প্ৰবৃত্ত হইলাম। তাঁহার সহিত যাহাদুর আলাপ-পরিচয় ছিল, একে একে সকলকে ভৃত্যুর তত্ত্ব জিজ্ঞাসা করিলাম। তাঁহার গ্রামে গিয়া একে একে গ্রামবাসীদিগকে জিজ্ঞাসা করিলাম। আরও কত স্থানে গিয়া অনুসন্ধান করিলাম। কিন্তু কেহই তাঁহারু সন্ধান আমাকৃেত্ত্বিলি দিতে পারিল না। মিহির নিরপরাধ প্রমাণিত হইয়াছে, আর লুক্কায়িত থাকিবীরত্নোবশ্যক নাই, এই মৰ্ম্মে দুইখানি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্ৰকাশ করিলাম। তাঁহাতেও কোষ্ট্ৰটফল হইল না। কিন্তু তাঁহাদের সহিত পুনরায় যে আমার দেখা হইবে, সে বিষয়ে আমি ইর্তিাশ হইলাম না। কারণ, পাল মহাশয় সম্পত্তিশালী লোক। একদিন না একদিন তাঁহাকে 'দেশে আসিতেই হইবে। তাহা ব্যতীত, কলিকাতার বাসা তিনি একেবারে পরিত্যাগ করিয়া যান নাই। কলিকাতার সেই তিনটি ঘরে তাহার জিনিসপত্র আছে। তাহাতে চাবি দিয়া গিয়াছেন। একদিন না একদিন কেহ না কেহ সে দ্রব্যাদি লইতে আসিবে। এই প্ৰত্যাশায় আমি দিনাতিপাত করিতে লাগিলাম । পঞ্চদশ অধ্যায় আশু কষ্ট পরে ইষ্ট এইরূপে আরও তিন মাস কাটিয়া গেল। ভাদ্র মাস পড়িল। সে বৎসর দারুণ বর্ষ হইয়াছিল। পথঘাট জলে জলমগ্ন ও কাদায় কর্দমময় হইয়াছিল। একদিন অপরাহ চারিটার সময় আফিসে বসিয়া কাজ করিতেছি, এমন সময় একজন উৎকলাবাসী আমাকে একখানি চিঠি আনিয়া দিল। সে পত্রে কেবল এই কয়টি কথা লেখা ছিল,— “অনুগহ করিয়া অতি গোপনে এই লোকের BMbr দুনিয়ার পাঠক এক হও! ~ www.amarboi.com"র্জ্যািক্যনাথ চক্ষসিংহই সহিত শীঘ আসিবেন। আসিলে সকল কথা জানিতে পরিবেন।” পাল মহাশয় ও মিহিরের জন্য সৰ্ব্বদাই আমার মন উদ্বিগ্ন ছিল। চিঠিখানি পাইবামাত্র আমার মনে হইল যে, এইবার বোধহয়, তাঁহাদের সন্ধান পাইলাম। কালবিলম্ব না করিয়া, আমি সেই লোকের সহিত চলিলাম। কলিকাতার যে অংশে অতি ঘন বসতি, উড়িয়া আমাকে সেই স্থানে লইয়া গেল সঙ্কীর্ণ গলির ভিতর সঙ্কীর্ণতর গলি, তাহার ভিতর একখানি খোলার বাড়ীতে আমি প্রবেশ করিলাম। অতি কুৎসিত স্থান, দুর্গন্ধে নাড়ি উঠিয়া যায়। চারিদিক কাদায় ও ময়লায় পরিপূর্ণ। সেই বাটীতে অতি সামান্য ও ক্ষুদ্র