মুর্শিদাবাদ-কাহিনী/কিরীটেশ্বরী

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


কিরীটেশ্বরী

 বর্তমান মুর্শিদাবাদ নগরের প্রান্তদেশ বিধৌত করিয়া যে-স্থলে প্রসন্নসলিলা ভাগীরথী প্রবাহিতা হইতেছেন, যথায় নগরস্থ সহস্রদ্বার সৌধাদির প্রতিবিম্ব নদীবক্ষে পতিত হইয়া রমণীয় শোভা সংবর্ধন করিতেছে, তাহারই অপর পারে ডাহাপাড়ানামক একটি পল্লীগ্রাম অবস্থিত। ডাহাপাড়া ভাগীরথীর পশ্চিমতীরস্থ। এককালে এই ডাহাপাড়া মুর্শিদাবাদ-রাজধানীর অন্তর্গত হইয়া, বহুসংখ্যক অট্টালিকায় বিভূষিত ছিল। তৎকালে মুর্শিদাবাদ ভাগীরথীর উভয় তীরে অবস্থিতি করিয়া, আপনার গৌরব ও সমৃদ্ধি সমগ্র জগতে ঘোষণা করিত। উক্ত ডাহাপাড়া হইতে প্রায় সার্ধ ক্রোশ পশ্চিমে একটি ক্ষুদ্র পল্লী দৃষ্ট হয়; তাহার নাম কিরীটকণা।[১] কিরীটকণা এক্ষণে জঙ্গল-পরিপূর্ণ। কিন্তু ইহার এমন একটি মোহিনী শক্তি আছে যে, তথায় উপস্থিত হইবামাত্র মনঃপ্রাণ শান্তভাবে পরিপূর্ণ হইয়া যায়,—কি এক অনির্বচনীয় রসে অন্তরাত্মা আপ্লুত হইয়া উঠে! স্থানটি জঙ্গলময় হইয়াও যেন শান্তিনিকেতন; শান্তিদেবী যেন ইহাতে চির আবাস-স্থান স্থাপন করিয়াছেন। মুর্শিদাবাদের মধ্যে এরূপ বৈরাগ্যোদ্দীপক স্থান অতি বিরল। এই স্থানে কতিপয় প্রাচীন মন্দির জীর্ণবস্থায় থাকিয়া, মুর্শিদাবাদের পূর্বগৌরবের কথা স্মৃতিপথে জাগাইয়া দেয়। কিরীটকণা মুর্শিদাবাদের মধ্যে একটি প্রাচীন স্থান। এইরূপ প্রবাদ আছে যে, দক্ষযজ্ঞে বিশ্বজননী পতিপ্রাণা সতী প্রাণত্যাগ করিলে, ভগবান বিষ্ণু তাহার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করিয়া সমস্ত ব্ৰহ্মাণ্ডে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন, সেই সময়ে দেবীর কিরীটের একটি কণা এই স্থলে পতিত হয়; তজ্জন্য ইহা উপপীঠ মধ্যে গণ্য এবং ইহার অধিষ্ঠাত্রী কিরীটেশ্বরী বলিয়া এতদঞ্চলে কীর্তিতা।[২] কিরীটেশ্বরী যেন সমস্ত মুর্শিদাবাদেরই অধিষ্ঠাত্রীস্বরূপা ছিলেন। যত দিন তাঁহার গৌরব ছিল, তত দিনই মুর্শিদাবাদের শ্ৰীবৃদ্ধি, অথবা মুর্শিদাবাদের শ্ৰীবৃদ্ধি-লয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তিনিও এতদঞ্চল হইতে অন্তহিত হইতে বসিয়াছেন। কিরীটকণা প্রথমাবস্থায় ঘোর জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল; কেবল একটিমাত্র সামান্য মন্দির ইহাতে ভগ্নাবস্থায় দৃষ্ট হইত; উহা কতদিনের নির্মিত, তাহা কাহারও জ্ঞানগোচর ছিল না।[৩] উপপীঠ ও জঙ্গলময় বলিয়া মধ্যে মধ্যে দুই-একজন সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী তথায় আগমন করিতেন; পরে ক্ৰমে ক্ৰমে মায়ের পূজার বন্দোবস্ত হয়। মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের সমসাময়িক মঙ্গলবৈষ্ণব এবং তাঁহার পূর্বপুরুষগণ কিরীটেশ্বরীর সেবক ছিলেন বলিয়া শ্রুত হওয়া যায়।[৪] কিন্তু যৎকালে বঙ্গাধিকারিগণ বাঙ্গলা, বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশত্রয়ের প্রধান কাননগো পদে প্রতিষ্ঠিত হন, সেই সময় হইতে কিরীটেশ্বরীর মহিমা চতুর্দিকে বিস্তৃত হইয় পড়ে এবং কিরীটকণার প্রাচীন মন্দির সংস্কৃত হইয়া বর্তমান প্রধান মন্দিরগুলিও নির্মিত হয়।

 বঙ্গাধিকারিগণের মতে তাঁহাদের আদিপুরুষ ভগবান রায়, মোগলকেশরী দিল্লীশ্বর আকবর শাহকে স্বীয় কার্যদক্ষতায় পরিতুষ্ট করিয়া বাঙ্গলা, বিহার ও উড়িষ্যার কাননগো পদ ও ‘বঙ্গাধিকারী মহাশয়’ উপাধি লাভ করেন। কিন্তু ভগবান রায় শাহ সুজার সময়ে উক্ত পদে নিযুক্ত হইয়াছিলেন বলিয়া অনুমান হয়। ভগবানের মৃত্যুর পরে তাঁহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বঙ্গবিনোদ রায় কাননগো পদ ও সম্রাটের নিকট হইতে অনেক লাখেরাজ ও দেবোত্তর সম্পত্তি পারিতোষিক-স্বরূপ প্রাপ্ত হন, তাহার মধ্যে কিরীটেশ্বরী ‘ভবানীনাথ’ নামে লিখিত থাকে। বঙ্গবিনোদের পর ভগবানের পুত্র হরিনারায়ণ স্বীয় পিতার পদ ও সম্পত্তি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। হরিনারায়ণের পর তাহার পুত্র দর্পনারায়ণ উক্ত কাননগো পদ প্রাপ্ত হইয়া ঢাকায় অবস্থিতি করেন; সেই সময়ে ঢাকা বাঙ্গলার রাজধানী ছিল। দর্পনারায়ণের কার্যের শেষভাগে যৎকালে সম্রাট আরঙ্গজেবের পৌত্র আজিম ওশ্বান বাঙ্গলার মসনদে অধিষ্ঠিত থাকেন, সেই সময়ে মুর্শিদকুলী খাঁ আরঙ্গজেবের আদেশক্ৰমে বাঙ্গলার দেওয়ানী পদে নিযুক্ত হইয়া ঢাকায় আগমন করেন। নবাব আজিম ওশ্বানের সহিত দেওয়ান মুর্শিদকুলীর মনোমালিন্য উপস্থিত হওয়ায়, তিনি ঢাকা পরিত্যাগ করিয়া মুখসুসাবাদ বা মুখসুদাবাদে (পরে মুর্শিদাবাদ) আগমন করিলে, সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ানী-সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মচারী মুর্শিদাবাদে আসিতে বাধ্য হন; অগত্যা দর্পনারায়ণকেও আসিতে হয়। এই সময়ে জগৎশেঠদিগের আদিপুরুষ শেঠ মাণিকচাঁদও মুর্শিদাবাদে আসিয়াছিলেন। মুর্শিদাবাদের নবাব, জগৎশেঠ ও বঙ্গাধিকারিগণ মুর্শিদাবাদের প্রাচীন ও সম্মাননীয় বংশ এবং উক্ত তিন বংশেরই বাঙ্গলার শাসন ও রাজস্ব-সম্বন্ধে একাধিপত্য ছিল। দর্পনারায়ণ মুর্শিদাবাদে আসিয়া ডাহাপাড়ায় স্বীয় আবাস-ভবন নির্মাণ করেন। এই সময়ে বঙ্গাধিকারিগণ কিরীটেশ্বরীর নিকট অবস্থিতি করায়, তাহার গৌরব-বৃদ্ধির অনেক চেষ্টা করিতে থাকেন এবং মুর্শিদাবাদ বাঙ্গলার রাজধানী ছিল বলিয়া, কিরীটেশ্বরীর প্রতি বাঙ্গলার সম্ভ্রান্তবংশীয়দিগের দৃষ্টি নিপতিত হয়। দর্পনারায়ণ কিরীটেশ্বরীর জঙ্গল পরিষ্কার করিয়া গুপ্তমঠ নামে তাহার প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার এবং কিরীটেশ্বরীর বৃহৎ মন্দির, শিব ও ভৈরব মন্দির প্রভৃতি নির্মাণ করিয়াছিলেন। কিরীটেশ্বরীর মন্দিরাভ্যন্তরে কালীঘাটাদির ন্যায় কোন স্পষ্ট প্রতিমূর্তি নাই; কেবল একটি উচ্চবেদী ও তাহার পশ্চাতে একখণ্ড বিশাল প্রস্তর ভিত্তির ন্যায় নানাবিধ শিল্পকার্যে অলঙ্কৃত হইয়া, উচ্চভাবে অবস্থিতি করিতেছে; দেবীর কেবল মুখমাত্র বেদীর উপরে অঙ্কিত। বেদীর নিম্নে বসিবার স্থান ও চতুষ্পার্শ্বস্থ গৃহভিত্তির কতক দূর পর্যন্ত কৃষ্ণমর্মর প্রস্তরমণ্ডিত; মন্দিরের সম্মুখে একটি বিস্তৃত বারাণ্ডা আছে। শিবমন্দিরমধ্যে কৃষ্ণপ্রস্তরখোদিত শিবলিঙ্গ ও ভৈরবমন্দিরে কষ্টিপ্রস্তরনির্মিত ভৈরবমূ্র্তি অবস্থান করিতেছেন।[৫] এতদ্ভিন্ন আরও দুই-একটি মন্দির ইহার নিকট জীর্ণাবস্থায় বিদ্যমান আছে। এই সমস্ত মন্দিরের নিকট দর্পনারায়ণ রায় কালীসাগর নামে একটি বৃহৎ পুষ্করিণী খনন করিয়া দেন। পুষ্করিণীটি যেমন বৃহৎ, সেইরূপ গভীরও ছিল; মন্দিরের নিকট উহা কষ্টিপাথরনির্মিত সোপানাবলীর দ্বারা অলঙ্কৃত হয়; এক্ষণে তাহদেরও ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হইয়া থাকে। পুষ্করিণী শৈবাল ও পংকে পরিপূর্ণ, জলও অপেয়। দর্পনারায়ণ কিরীটেশ্বরী মেলার সৃষ্টি করেন। এই মেলা উপলক্ষে নানাস্থান হইতে যাত্রীর সমাগম হইত। দোকানপসারিতে পরিপূর্ণ হইয়া, কিরীটকণা অত্যন্ত গৌরবময়ী মূর্তি ধারণ করিত। অদ্যপি পৌষ মাসের প্রতি মঙ্গলবারে উক্ত মেলা বসিয়া থাকে, কিন্তু এক্ষণে তাহা প্রাণহীন। বর্ষাকালে কিরীটেশ্বরী গমনের পথ কৰ্দমে পরিপূর্ণ হওয়ায়, লোকের গমনাগমনের বিলক্ষণ অসুবিধা ঘটিত। সেই অসুবিধা নিবারণের জন্য দর্পনারায়ণের পুত্র শিবনারায়ণ পথের সংস্কার ও একটি সেতু নির্মাণ করিয়া দেন; তাহার চিহ্ন অদ্যাপি দৃষ্ট হইয়া থাকে; এক্ষণে তাহ জঙ্গলপূর্ণ ও বৃক্ষাদির দ্বারা আচ্ছাদিত। শিবনারায়ণ মন্দিরাদিরও সংস্কার করিয়াছিলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজত্বকাল হইতে কোম্পানীর সময় পর্যন্ত শিবনারায়ণের পুত্র লক্ষীনারায়ণ কাননগো ছিলেন, তিনি সাধ্যানুসারে কিরীটেশ্বরীর সেবার যত্ন করিতেন। তাহার পর মুর্শিদাবাদ রাজধানীর গৌরব অন্তহিত হইয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপিত হয়, যে-সময় পলাশীর সমরক্ষেত্রে মুসলমান রাজলক্ষীর কিরীট স্খলিত হইয়া ভূতলে পতিত হয়, সেই সময় কিরীটেশ্বরীরও কিরীট শিথিল হইতে আরম্ভ হয়। পরিশেষে বঙ্গাধিকারিগণের দুর্দশা উপস্থিত হওয়ায়, তাঁহারও গৌরবের হ্রাস হইতে আরম্ভ হইয়াছে ।

 এইরূপে ক্ৰমে ক্ৰমে কিরীটেশ্বরীর গৌরব লোপ পাইতে পাইতে অধুনা তাঁহার নামটিকে বহুকালশ্রুত প্রবাদবাক্যের ন্যায় করিয়া তুলিয়াছে। যত দিন মুর্শিদাবাদ বাঙ্গলার রাজধানী ছিল, ততদিন কিরীটেশ্বরীর গৌরবের সীমা ছিল না; বাঙ্গলার রাজা-মহারাজগণ, বণিক-মহাজনবৃন্দ রাজধানীতে সমাগত হইলেই কিরীটেশ্বরী-দর্শনে গমন করিতেন। তৎকালে কিরীটেশ্বরী এতদঞ্চলে মহাতীর্থভূমি ছিল। এক্ষণে কলিকাতা ভারত সাম্রাজের রাজধানী বলিয়া, কালীঘাটে যেরূপ অবিরত উৎসব হইয়া থাকে, মুর্শিদাবাদের গৌরবের সময় কিরীটেশ্বরীও তদ্রুপ নিত্যোৎসবময়ী ছিলেন। তখন রাজধানীর নহবতাদি বাদ্যধ্বনি কিরীটেশ্বরীর শঙ্খঘণ্টারোলের সহিত বিমিশ্রিত হইয়া প্রসন্নসলিলা ভাগীরথীকে তালে তালে নৃত্য করাইত। যেমন মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হইলে, লোকে আনন্দ-উৎসাহে পূর্ণ হইয়া উঠিত, সেইরূপ কিরীটেশ্বরীর দর্শনমাত্র তাহাদিগের হৃদয় শান্ত ভাবে ভরিয়া যাইত। এক দিকে যেমন রাজকর্মচারিগণ কার্যব্যপদেশে প্রতিনিয়ত নগরমধ্যে যাতায়াত করিতেন, সেইরূপ অপর দিকে দেবীর পাণ্ডাগণ যাত্রীর অন্বেষণ ও মায়ের সেবার আয়োজনে বহির্গত হইতেন। এইরূপ ঘোরকোলাহলময়, উদ্যমময়, উৎসাহময়, নগরের নিকটে কিরীটেশ্বরী অবস্থিতি করায়, তাহার মধ্যে ধর্মভাব ও শান্তভাব অনুপ্রাণিত করিয়া মুর্শিদাবাদকে মধুর করিয়া তুলিতেন। মুর্শিদাবাদের নবাবগণের নিকটও কিরীটেশ্বরীর মহিমা অবিদিত ছিল না। নবাব মীরজাফর খাঁ তাহার প্রিয় ও বিশ্বাসী মন্ত্রী মহারাজ নন্দকুমারের অনুরোধে অন্তিম সময়ে কিরীটেশ্বরীর চরণামৃত পান করিয়া, চিরদিনের জন্য নয়ন মুদ্রিত করিয়াছিলেন।[৬] এখন আর সেদিন নাই,—মুর্শিদাবাদের সঙ্গে সঙ্গে তাঁহারও মহিমা যেন বিলীন হইতে চলিয়াছে। ভবানীর প্রিয়পুত্র নাটোররাজ রামকৃষ্ণ যেসময়ে রাজকার্যোপলক্ষে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হইতেন, সেই সময়ে তিনি সাধনার জন্য কিরীটেশ্বরীতে গমন করিতেন। এই সময়ে বঙ্গাধিকারিগণের অবস্থা হীন হইতে আরম্ভ হওয়ায়, তিনি মন্দিরাদির সংস্কার করিয়া দেন। বৈদ্যরাজ রাজবল্লভের স্থাপিত দুইটি শিবমন্দির এখনও বিদ্যমান আছে। কিন্তু কিরীটেশ্বরীর মন্দিরগুলি যেরূপ জীৰ্ণ হইয়াছে, তাহাতে যে, সে-সমস্ত অচিরাৎ ভগ্নস্তুপে পরিণত হইবে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। বর্তমান সময়ে বঙ্গাধিকারিগণের অবস্থা শোচনীয় হইয়া উঠিয়াছে; বিশেষত, কিরীটেশ্বরী এক্ষণে তাঁহাদের হস্তে নাই। ইহার আর সংস্কার হইবে কিনা জানি না।[৭] যদি কখনও মুর্শিদাবাদ পূর্বগৌরবের ছায়ামাত্র প্রাপ্ত হয়, আবার যদি শিল্প-বাণিজ্যে তাহার গৌরবজ্যোতিঃ দেশবিদেশে বিকীর্ণ হইতে থাকে, তাহা হইলে কিরীটেশ্বরীর কিরীটভ্রষ্ট রত্ন পুনঃস্থাপিত হইলেও হইতে পারে, কিন্তু সে আশা সুদূরপরাহত।

  1. এই কিরীটকণাকে রিয়াজুস্‌-সালাতীন-নামক গ্রন্থে ‘তীরতকোণা’ নামে অভিহিত করা হইয়াছে। (Riyaz-us-salatin Asiatic Society's Edition. p. 343.) মেজর রেনেলের কাশীমবাজার দ্বীপের মানচিত্রেও Teretcoona লেখা আছে। কিন্তু ইহার প্রকৃত নাম কিরীটকণা; অদ্যাপি সে গ্রাম বর্তমান রহিয়াছে।
  2. তন্ত্রচূড়ামণির পীঠনির্ণয়ে কিরীটে কিরীটপতনের কথা লিখিত আছে। উক্ত গ্রন্থের মতে কিরীটের দেবতার নাম বিমলা ও ভৈরবের নাম সম্বর্ত। কিরীট ৫১ পীঠের অন্যতম ; কিন্তু তথায় কোন অঙ্গ পতিত না হইয়া অলঙ্কার পড়ায় কাহারও কাহারও মতে তাহা উপপীঠরূপে গণ্য। মহানীলতন্ত্রে কিরীটের দেবীর নাম কিরীটেশ্বরীই লিখিত আছে। মুর্শিদাবাদের ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় দুষ্টব্য।
  3. সম্ভবতঃ যে সময়ে গুপ্ত সম্রাটগণ বাঢ় দেশে রাজত্ব করিতেন, সেই সময় হইতে কিরীটেশ্বরীর মাহাত্ম্য বিস্তৃত হয়। মুর্শিদাবাদের ইতিহাস দেখ।
  4. মঙ্গলবৈষ্ণব নবদ্বীপে মহাপ্রভুর সহিত সাক্ষাতের পর গদাধর প্রভুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করিয়া বর্ধমান জেলার কাঁদরা নামক গ্রামের নিকট বাস করেন। তাহার পৌত্র বদনচাঁদঠাকুর প্রসিদ্ধ মনোহরসাহী সংকীর্তনের প্রবর্তক।
  5. এই ভৈরব ধ্যানী বুদ্ধমূতি, বুদ্ধ ভৈরবরূপে পূজিত হইতেছেন। মুর্শিদাবাদের ইতিহাস দেখ।
  6. Seir Mutaqherin (English Translation) Vol. II, p. 342.
  7. কাশীমবাজারের দেশহিতৈষী মহারাজ মনীন্দ্রচন্দ্র কিরীটেশ্বরীর মন্দির-সংস্কারের চেষ্টা করিতেছিলেন।
    মহারাজ মনীন্দ্রচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁহার উত্তরাধিকারিগণ মন্দিরের কিছু সংস্কার করিয়াছেন।