রাজনৈতিক প্রবন্ধ (চিত্তরঞ্জন দাশ)/স্বরাজ-সাধনা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



স্বরাজ-সাধনা


স্বরাজ মানে কি ? আর অসহযোগ মানেই বা কি ? স্বরাজ মানে আর কিছু নয়,- স্বরাজের এমন অর্থ হয় না হে পালামেন্ট থেকে একথানা এই তৈয়ারী করে আমাদের উপহার দেবে। । স্বরাঙ্গ সে জিনিস নয় । কেন নয় ? স্বরাজ মানে কি ? স্বরাজ মানে তোমার অন্তরে অস্তরে যে প্রকৃতি অাছে সে প্রকৃতিকে উপলব্ধি করা। সবার উন্নতি এক রকমে হয় না, সব জাতির উতি এক রকমে হয় না । । যেমন প্রত্যেক মাহুষের একটি স্বতন্ত্র প্রকৃতি, এক মহ৷ প্রকৃতির অধীন হলেও প্রত্যেক মামুষের একটা স্বতন্ত্র প্রকৃতি আছেতেমনি প্রত্যেক জাতির একটা স্বতন্ত্র প্রকৃতি আছে, সে প্রকৃতির অঙুসরণ করে সে। জাতির মধ্যে সন্ধান করতে হবে সেই প্রকৃতি যে প্রকৃতি জামরা হারিয়ে। ফেলেছি, না—সে প্রকৃতি ঢাকা পড়েছে, কারণ প্রকৃতি কেহ হারাতে পারে না । আমাদের অনেক দিনের পরাধীনতার চাপে বিলাস মোহে আমাদের যা স্বরূপ অামাদের প্রত্যেকের অস্তরে অপ্তরে লুকিয়ে আছে, তার সাধনা, তার সন্ধানই স্বরাজ। সে জিনিসটা কেউ দিতে পারে না। ইংরেজ একট। শাসন প্রণালী দিতে পারে, ইংরেজ বলতে পারে গোলমালে কাজ কি ? তোমরা স্বায়ত্তশাসন নাও। সেটা ত স্বরাজ নয়। সেট তোমার উপাৰ্জন নয়, সাধনার ফল নয়। কেউ কি স্বরাজ দিতে পারে ? তোমাকে অর্জন করতে হবে, তোমাকে নিজের সাধনায় য বাস্তবিক সত্য প্রকৃতি সে সত্য প্রকৃতির সন্ধান করে তাকে বাহিরে উপস্থিত ক’রে জগতের সমক্ষে দাড় করাতে হবে, এই স্বরাজের অর্থ । আমি সেদিন একটা কাগজে লিখেছিলাম কে এই ঘরাজ-সাধনা আমাদের অধিকারে। তিন্সক মহারাজ বলেছেন স্বরাজ ৭ দেশবন্ধ রচনাসমগ্র ভাষাদের জন্ম-জৰিকার। আমাদের জবিকার কেন? অামাদের অধিকাৰ কাৰণ আমাদের যেটা প্ৰকতি তা অধিকার করা। যেমন অামার যদি কোন ঐশ্বৰ্য্য থাকে, অামি বলব এ ঐশ্বর্য্যে আমার অধিকার। স্বরাজ জামাদেৱ অন্তরে, প্ৰৱাল জামাদের । প্রবৃতি, আমাদের সত্য প্রবৃতি, সেইজ, স্বরাজে আমাদের জন্ম-অধিকার। বিধাতা সে অধিকার আমাদের দিয়েছেন। আমাদের যা গ্রকৃতি তা বিধাতার দান, বিধাতার লীল । দানের চেয়ে বড় বিধাতার সীশা । সমস্ত জগতের ইতিহাস বিধাতার যে অন্তরঙ্গ লীল, তারই বহিঃ প্রকাশ। সমস্ত ইতিহাস তাই, ভারতের ইতিহাস তাই । লীলাময়ের গুণ কি ? লীলাময়ের স্বরূপ কি ? তিনি চান বৈশিষ্ট্য । আমাদের বৈষ্ণব শায়ে বলে তিনি নিজেকে বহু ক’রে নিজে সে বহুত্ব উপভোগ করেন । মহাপ্রভু । এই কথা বলে গিয়েছেন। নিজেকে বহু করে সেই বহুকে তিনি আশ্বাধন করেন, সে আস্বাদন করার যে ফল সে ফল অন্তরঙ্গ লীলা নয়, সে ফল জগতের ইতিষ্ঠাস। তিনি যুগে যুগে নিজেকে বহু করেন, সুতরাং এই যে মহন্ত্য জাতি একে ভিন্ন ভিন্ন জাতি ক’রে—এর বৈশিষ্ট্য রক্ষা করেন স্বয়ং ভগবান। এই বিশিষ্ট প্রকৃতি দিয়েছেন স্বয়ং ভগবান্ রল করেন তিনি। সেইজষ্ঠ্য স্বরাজে জামাদের উন্ন-সিদ্ধ অধিকার। এর কর্তব্য কি একথা হিন্দু-মুসলমানকে বুঝাতে হবে না। ইংরেজের । রাজনীতি মানি না, তার ভিতর খুব কোন সত্য কথা থাকতে পারে না, অামার এই ধারণা। আামি অনেক পডেছি, এখনও মনে হয়—তার অধিকাংশ কথা ভূল। এই স্বৰাজে আমাদের অধিকার কেন বলছি। মাহুষের ধর্ম । বলতে কি বুৰি । যুগ-শদ বেজে উঠেছে, আর যুগ- ধৰ্ম্ম এগে ত৷ পালন করতে হয়। । এখন আমাদের কর্তব্য কি ? এই ভারতে নূতন জাতি গড়ে উঠেছে ভগবানের লীলায়। আমাদের অধিকার তার লীলায় যোগ দেওয়া। কারণ প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য প্রত্যেক জাতির কৰ্ত্তব্য ভগবানের লীলাঁর সহচর হওয়া । আমাদের সহচর হতে হবে, অন্য উপায়। নেই। আজ কি কাল কি দু’দিন পরে সহজ পথে কি কুটীল পথে ভগবানের লীলার সহচর হতে হবে। এই যে বলেছি সহজপথে কি কুটীল পথে এই লীলার মধ্যে তিনি ডাকেন, কেমন করে তিনিই জানেন, কোন্ পথে তিনিই জানেন। এই যুগধনিই পথের সহচর। স্বরাজ-মাখনা আমাদের কর্তব্য, তার কারণ ভগবানের লীলায় তার সহচর আমাদের হতেই হবে । বাস্তবিক, জ্ঞা নে কি অজ্ঞানে জানি না কেহ একথা জানেন, কেহ জানেন না । যিনি ভাল করে জানেন, তিনি অনেক উপরে যাজনৈতিক প্রবন্ধ ৭৯ ‘উঠে গেছেন, কিন্তু জানে কি জানে আমরা ভগবানের লীলাৱ সহচর, সেই জন্য খরাজ জামাদের কৰ্ত্তব্য । স্বরাজ তোমাকে চাইতে হবেই ; তোমার গ্রকৃতির সন্ধান ভূমি করবে না, তোমার প্রকৃতির সাধনা করবে কি ইংরেজ } কি লজ্জার কথা ! এমন শিক্ষার হয়েছে আমাদের দেশের যে স;ধনা, বাঙ্গলা দেশের বা চরম সাধনা, মহাপ্রভু যে ধৰ্মরক্ষা করে গিয়েছেন আজ সে কথা শিক্ষিত লোকের কাছে বলতে হয়, তারা বুঝতে পারেন না এমন ভাষাদে পতন হয়েছে। তুমি কেন স্বরাজ চাও, আামি কেন স্বরাজ চাই সে কথা কেমন করে বোঝাব । দাসত্বের কি জালা কেমন করে বোঝাব ? যে ফুধিত সে কি বোঝাতে পারে, কেন সে অন্ন চাষ, অ্যাহার চায় । সে কি যুক্তির দ্বারা বোঝাতে পারে, সে কি তক দিয়ে প্রমাণ করতে পারে কেন স্বরাজ চায় । আমার বুকে প্ৰাণ ধরে না বলে আমি স্বরাজ চাই। এই যে দাসত্বের মালায় জলে মরছি তাই স্বরাজ চাই, আমি এই দাসত্ব দূর করতে চাই। নিজের প্রকৃতির অজসন্ধান করতে গেলে যা । মিথ্যাযা মিথ্যাকে আশ্রয় করে আছে সে সব মিথ্যাগুলি একেবারে তাড়াতে না পারলে নিজের প্রবৃতির সাধনা ২য় না । তার জ্য স্বরাজ চাই। আজ আমাদের কি আশ্ৰয় অাছে আমাদের জীবনের প্রত্যেক কক্ষ আমাদের ধর্মের আচরণ আমাদের শিক্ষাদীক্ষণ অামাদের বাদ বিসম্বাদের ভার তা’ মিটানর ভার আমাদের ধর্মকথা আমাদের কৰ্ত্তব্য আঙ্গ যা কিছু সব পরের হাতে তুলে দিয়ে বসে আছি । যে পর যার সঙ্গে আমাদের প্রকৃতির কোন সাম্য নেই, সে পরকে ছ’হাতে আলিঙ্গন করে আঁকড়ে ধরে। আছি, মনে করছি বড় আপ্রয় পেয়েছি । ওরে ঘুর্থ সে আভয় কি ? সে বে। মিথ্যা আশ্ৰয়, সে যে প্রলোভন, সে যে মোহ, সে যে ছঃস্বপ্ন । সেই হ’ল সত্য আাশ্রয় যা নিজের প্রতি নিজের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে, য৷ তোমার অস্তরে ফোটে । যেটা তোমার কৰ্ত্তব্য তাকে বাইরে প্রকাশ কর, তাকে তুমি ভোল কেন ? একবারে ভুলে গিয়ে দাড়িয়েছ কিসের উপর—ম্বা তোমাৰ মিথ্যা অাশ্রয় । একথা বাঙ্গালীকে আাজ শিখাতে হবে, শিক্ষিত সমাজকে জাজ বোঝাতে হবে। আমাদের জাতী য় জীবনের সকল কক শিক্ষা-দীক্ষা পৰ্য্যন্ত পরের হাতে দিয়ে বসেছি, তা পরের হাত থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আদায় করে নিতে হবে, সেই হল আমাদের স্বরাজের প্রতিষ্ঠা । যে শিক্ষাদীক্ষা এতকাল একটা মায়ার বশে বিদেশীর মতে যা দিয়েছি, যেটা ধর্মের উপায় তাকে অর্থের উপায় কারেছি, নিজেকে ছলনা করেছি, নিজেকে প্রতারিত কারেছি, ভগবানের অপমান করেছি, সে মোন থেকে নিজেকে উদ্ধার করসাধনায় নিয়ে এস, টেনে নিয়ে এস।