লাবণ্য দাশ অ্যাণ্ড কোং/জর্জ ফ্লয়েডের জন্য কান্না
জর্জ ফ্লয়েডের জন্য কান্না
তুমি আমেরিকা কোভিড নাইনটিনের চেয়েও ভয়ানক,
তোমার যথার্থ প্রতিচ্ছবি ট্রাম্প একটি ভাইরাসের মুখোশ,
অথচ তুমি করোনার চেয়ে শক্তিশালী হতে পারোনি।
কালো মানুষদের রক্ত আর মাংসের উপর গড়ে উঠা তোমার
সভ্যতা
মানুষকে বাঁচাতে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হলেও
তুমি পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করতে পারো।
তুমি আসলেই ব্যর্থ হয়েছো হে আমেরিকা,
তোমার পারমাণবিক সাম্রাজ্য একটি ভাইরাসের সামনে অসহায়
হয়ে
মনের গহীনে ধারণ করা বর্ণবাদ উগড়ে হত্যা করছে মানুষ।
পৃথিবীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষ হত্যা নতুন নয়,
কোভিড নাইনটিন বিশ্বে তুমি ফ্লয়েড হত্যাকে সামলাতে গিয়ে
তুমি কি আরও আরও মানুষ হত্যা করবে হেই আমেরিকা?
কার্ফিউ ভেঙ্গে সামাজিক দূরত্ব এড়িয়ে তোমার শহরে শহরে
চলছে বিক্ষোভ,
করোনায় মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জনতার ঢলে কাঁপছে তোমার
রাজপথ,
আর সারা বিশ্বের মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে তোমার উলঙ্গ শরীর।
মানুষ জেনে গেছে তুমি কোভিড নাইনটিনের চেয়েও ভয়ানক,
মানুষ জেনে গেছে কোভিড নাইনটিনের চেয়েও বর্ণবাদ
ভয়ানক,
মানুষ জেনে গেছে তোমাদের বিশ্বের কোনো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
নেই।
তোমাদের বিশ্ব জর্জ ফ্লয়েডকে নিরাপত্তা হেফাজতে হত্যা
করতে পারে,
তোমাদের বিশ্ব একটি রোগীর জন্য অক্সিজেন দিতে পারে না,
তোমাদের বিশ্ব একটি ভ্রান্ত পারমাণবিক শক্তির বড়াই নিয়ে
বেঁচে আছে।
তোমরা অক্সিজেন দিতে পারো না, কারো জীবন বাঁচাতে পারো না,
পারমাণবিক শক্তি বাড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতার নামে যুদ্ধ করো,
অথচ মানুষকে টিকিয়ে রাখার জন্য হাসপাতাল বানাতে পারো না।
হেই আমেরিকা, তুমি আদর্শহীন চূড়ান্ত সন্ত্রাসী,
তুমি আমার কৃষ্ণাঙ্গ ভাই ফ্লয়েডকে নিরাপত্তা হেফাজতে হত্যা
করেছো,
হত্যা করে করে ক্ষমা না চাইতে চাইতে তুমি আমেরিকা
হয়েছো।
এই নাও তোমার সাম্রাজ্যের জন্য পাঠালাম একদলা থুতু,
এই নাও জর্জ ফ্লয়েডের জন্য বর্ষণ করলাম কান্না,
থুতু আর কান্নার স্রোতে তুমি ভেসে যাবে আমেরিকা।