লাল সিংহ/দ্বাদশ পরিচ্ছেদ
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ।
বরাহভূমে ভ্রাতৃবিরোধ।
লালসিংহ বরাহভূম রাজপরিবারের গৃহবিবাদে বিশেষভাবে লিপ্ত হইয়াছিলেন। সেইজন্য লালসিংহের কার্য্যাবলী বুঝিবার জন্য বরাহভূমের তৎকালীন অবস্থা বিবৃত করিবার প্রয়োজন। আমরা এই পরিচ্ছেদে সেই সম্বন্ধে কথঞ্চিৎ আলোচনা করিব।
খ্রীষ্টিয় ১৭৫৭ সালে পলাশীযুদ্ধে জয়লাভের পর হইতে ইংরাজ-শক্তি ক্রমশঃ বঙ্গদেশে প্রাধান্য লাভ করিতে থাকে। ১৭৬৩ খৃষ্টাব্দে ইংরাজ সরকার দিল্লীর বাদসাহের নিকট হইতে বঙ্গ, বেহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী সনন্দ লাভ করিয়াছিলেন। যদিও তৎপরে কিছুকাল পর্য্যন্ত মুর্শিদাবাদের নবাবগণ নামতঃ বঙ্গদেশের প্রভু ছিলেন, কিন্তু প্রকৃত রাজ-শক্তি ইংরাজজাতির করতলগত হইয়াছিল। তৎকালাবধি ইংরাজ-শক্তি ক্রমশঃ দেশের অশান্তি বিদূরিত করিয়া বঙ্গদেশে প্রতিষ্ঠিত হইল। ইংরাজশাসনের প্রতিভায় মুসলমান ও ইংরাজশাসনের সন্ধিস্থলে বঙ্গদেশে যে দেশব্যাপী অরাজকতা প্রাদুর্ভূত হইয়াছিল, ক্রমশঃ তাহা অন্তরিত হইল। ইংরাজজাতির স্নিগ্ধোজ্জ্বল শাসনগুণে এদেশে প্রজাসাধারণের ধন, মান, জীবন নিরাপদ হইল। কিন্তু ইংরাজশক্তি জঙ্গলমহলের বন্য ও পার্ব্বত্য প্রদেশে অপেক্ষাকৃত বিলম্বে প্রতিষ্ঠিত ও বদ্ধমূল হইয়াছিল। বাঙ্গালার অনান্য স্থানের ন্যায় সহজে এই স্থানে শান্তি সংস্থাপিত হয় নাই।
ইষ্টইণ্ডিয়া কোম্পানীর দেওয়ানীসনন্দ লাভের সমকালে রাজা বিবেকনারায়ণ বরাহভূমের রাজা ছিলেন। রাজা বিবেক নারায়ণ বিশেষ শক্তিশালী ও যুদ্ধবিশারদ বীর ছিলেন। তিনি ত্রিভসিংহের সহিত যুদ্ধে অন্যান্য রাজাগণের নেতৃত্ব করিয়াছিলেন, · তাহা পূর্ব্বে বিবৃত হইয়াছে। জঙ্গলমহলের রাজাগণ ইতিপূর্ব্বে রীতিমতরূপে কখন মুসলমান শাসনের অধীন হয় নাই। সুতরাং রাজা বিবেকনারায়ণ সহজে ইংরাজশক্তির নিকট মস্তক অবনত করিতে সম্মত হইলেন না। তিনি আপনার সৈন্যদল লইরা ইংরাজসরকারের সহিত যুদ্ধঘোষণা করিলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরিয়া বিবাদ ও শত্রুতা চলিতে লাগিল। শেষে বিবেকনারারণ পরাস্ত হইলেন। বাঙ্গালা ১১৮২ সালে বিবেকনারায়ণ ইংরাজ সরকার কর্তৃক রাজ্যচ্যুত হইলেন। তাঁহার দুই পূত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ রঘুনাথনারায়ণকে রাজ্য অর্পণ করিয়া ইংরাজসরকার তাঁহার সহিত বরাহভুম পরগণার বন্দোবস্ত সম্পন্ন করিলেন। পরবর্ত্তী দশশালা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রাজা রঘুনাথনারায়ণের সহিত সমাহিত হইয়াছিল। রাজা বিবেকনারায়ণ এই প্রকার বন্দোবস্তে সম্মতি প্রদান করিয়াছিলেন। কিন্তু তিনি আজীবন কখন কোন রাজ শক্তির অধীনতা স্বীকার করেন নাই; সুতরাং নিজে ইংরাজ সরকারকে কর দিতে স্বীকৃত হইলেন না। অতঃপর বিবেকনারায়ণ রাজ্যের সহিত যাবতীয় সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন করিয়া, ঘনের দুঃখে বান গ্রন্থ অবলম্বন করিয়া নির্জ্জনে ঈশ্বরসেবায় জীবনের অবশিষ্ট ভাগ অতিবাহিত করিয়াছিলেন। বিবেকনারারণের সম্বন্ধে খৃষ্টীয় ১৮০০ সালে মিঃ ইরাষ্ট লিখিয়াছেন-
“Bibek Narain, who had long been in arms against Government, having been obliged to give up his Zemindary in the year “1182", Raghonath Narain, the late Zemindar * * was with his concurrence acknowledged as his successor,”
অর্থাৎ “বিবেকনারায়ণ সুদীর্ঘকাল ধরিয়া ইংরাজ সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করায় ইংরাজ সরকার বাঙ্গালা ১১৮২ সালে তাঁহাকে জমীদারী ত্যাগ করিতে বাধ্য করিয়াছিলেন। তাঁহার সম্মতিক্রমে মৃত জমীদার রঘুনাথনারায়ণ তাঁহার হলে রাজ্যাভিষিক্ত হইয়াছিলেন।”
রঘুনাথনারায়ণ রাজা বিবেকনারায়ণের দ্বিতীয়া পত্নীর গর্ভজাত সন্তান ছিলেন। তাঁহার প্রথমা পত্নীর লছমন্ নামে আর এক পুত্র ছিলেন। লছমন রঘুনাথ অপেক্ষা বয়োকনিষ্ঠ ছিলেন। বরাহবাজার রাজবংশের কেহ কেহ অ্যাপি বিশ্বাস করেন যে, প্রধানারাণীর গর্ভজাত সন্তান বয়োকনিষ্ঠ হইলেও রাজ্যের অধিকারী। লেখক বরাহভূম ও নিকটবর্ত্তী স্থানের কোন কোন লোককে বলিতে শুনিয়াছেন যে রঘুনাথ রাজ্যের প্রকৃত অধিকারী ছিলেন না। রাজা বিবেকনারায়ণ যখন যুদ্ধে পরাস্ত হইয়া ইংরাজের নিকট আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন, তখন তিনি আপনার ন্যায্য উত্তরাধিকারী লছমনসিংহকে ইংরাজের দরবারে আসিতে দেন নাই। পাছে ইংরাজ সরকার তাঁহার প্রতি বিরাগ বশতঃ রাজ্যের ন্যায্য অধিকারীর কোন অনিষ্ট সাধন করেন. এই ভয়ে বিবেকনারায়ণ লছমন সিংহকে অন্যত্র লুক্কায়িত রাখিয়া অন্যপুত্র রঘুনাথকে ইংরাজদরবারে উপস্থিত করিয়াছিলেন। রাজাগণ আত্মচরিত্রের আদর্শে ইংরাজজাতির সত্যনিষ্ঠার প্রতি সন্দিহান হওয়া বিচিত্র নহে। স্বয়ং বিবেকনারায়ণ ত্রিভনসিংহের নিধনান্তে শিশু লালসিংহকে হত্যা করিবার জন্য বদ্ধপরিকর হইয়াছিলেন। সুতরাং তাঁহার মনে এ প্রকার সন্দেহ উপস্থিত হওয়া সম্ভব। কেহ কেহ আরও বলেন যে, যে কারণে বিবেকনারায়ণ স্বয়ং ইংরাজ সরকারকে কর দিতে স্বীকার করা অপেক্ষা রাজ্যত্যাগ করা শ্রেয়ঃ মনে করিয়াছিলেন, সেই অভিমান ও আত্মগৌরবের বশবর্ত্তী হইয়া রাজ্যের নায্য অধিকারী লছমনসিংহকে ইংরাজের বশ্যতা স্বীকার করিতে দেন নাই।
যাহা হউক ইংরাজ সরকার রঘুনাথের সহিত বরাহভূম জমীদারী বন্দোবস্ত করিলেন; এবং বিবেকনারায়ণের বীরত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ত্যাগস্বীকারের পুরস্কার স্বরূপ বরাহভূম পরগণার রাজস্বকর কেবলমাত্র ৮২৯৲ টাকা স্থির করিয়া দিলেন। এই প্রকারে নির্দিষ্ট কর সাধারণ রাজস্ব কর অপেক্ষা নিতান্ত অল্প। ষ্ট্রীচি সাহেব ১৮০০ খৃষ্টাব্দে লিখিয়াছেন,—
“Tue Sadar jama of Barabhum is so very light that inspite of the deplorable state of the lands, and the anarchy and confusion which have long prevailed throughout the estate, the public assessment amounting to 829 Rupees has been paid with tolerable regularity.”
অর্থাৎ “বরাহভূমের সদর জমা এত অল্প যে জমীদারীতে দীর্ঘকাল ধরিয়া অরাজকতা এবং গোলমাল চলিতে থাকা স্বত্বেও ঐ কর যথানিয়মে আদায় হইতেছে।” কিন্তু করের কমবেশীতে কিছু আসে যায় না। এই প্রথম বরাহভূম রাজ্য প্রকৃতপক্ষে অন্য শক্তির অধীন হইল। এই সময় হইতে বরাহভূম রাজ্য জমিদারীতে পরিণত হইল।
এইভাবে কিছুদিন গত হইলে, লছমন্সিংহ প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত সন্তান ও রাজ্যের ন্যায্য অধিকারী এই বলিয়া রঘুনাথের বিরুদ্ধে সমরঘোষণা করিলেন। তৎকালে এই সকল স্থানে রাজপরিবারের মধ্যে বিবাদ উপস্থিত হইলে, রণক্ষেত্রে তাহার বিচার হইত। তদনুসারে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হইয়া বিস্তর লোক হতাহত হইলে যুদ্ধের নিবৃত্তি হয়। লছমনসিংহ ইংরাজসহায় রঘুনাথকে রাজ্যচ্যুত করিতে সমর্থ হইলেন না। পরন্তু স্বয়ং পরাজিত ও ধৃত হইরা কারাবদ্ধ হইলেন। ইংরাজের কারাগৃহে তাঁহার দেহান্ত ঘটিয়াছিল।[১] লছমন সিংহের পুত্র ইতিহাস বিশ্রুত গঙ্গানারায়ণ অতঃপর ১৮৩২ খৃষ্টাব্দে রাজা ও ইংরাজ সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিয়া বিষম গোলযোগ উপস্থিত করিয়াছিলেন।
বরাহভূমের ও জঙ্গলমহলের চির প্রচলিত প্রথা অনুসারে জমীদারী বা রাজ্য অবিভাজ্য। ইংরাজ শাসনের পূর্ব্বে এই সকল স্থান রাজ্য-পদবীতে অধিকৃত হইত। সুতরাং এক রাজার মরণান্তে তাঁহার একজন মাত্র উত্তরাধিকারী রাজ্যাধিকার লাভ করিতেন। এবং সময়ানুসারে মৃত রাজার পুত্রগণের মধ্যে রাজ্যাধিকার লইয়া যুদ্ধবিগ্রহ উপস্থিত হইত। ইংরাজশাসনের প্রথম অবস্থায় জঙ্গলমহলের অন্য স্থানেও রাজ্যাধিকার লইয়া বিবাদের সৃষ্টি হইয়াছিল। ইংরাজী ১৭৫২ খৃষ্টাব্দে জঙ্গলমহলের প্রধানতম রাজ্য পঞ্চকোটের রাজা গরুড়নারায়ণ পারিবারিক বিপ্লবে নিহত হইয়াছিলেন। গরুড়নারায়ণের জ্যেষ্ঠ পুত্র ভিখনলাল পিতার জীবদ্দশায় লোকান্তরিত হইয়াছিলেন। মুনিলাল নামে ভিখনলালের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্র ছিল। রাজা গরুড়নারায়ণের জীবনান্তে রাজ্যের চিরন্তন জ্যেষ্ঠাধিকার প্রথামূলে মুনিলাল রাজ্যের দাবি করিলেন। এদিকে আবার গরুড়নারায়ণের অপর পুত্র মোহনলাল রাজ্যের দাবি করিয়া বসিলেন। এই রাজ্যাধিকার লইয়া মুনিলাল ও মোহনলালের মধ্যে যুদ্ধের আয়োজন চিলতে লাগিল। রাজ্যের প্রবল লোকসমূহ এক এক পক্ষ আশ্রয় করিলেন। এই উপলক্ষে পঞ্চকোট রাজ্যে বিষম অশান্তির অগ্নি জ্বলিয়া উঠিল। শেষে দেশে ইংরাজশক্তি প্রতিষ্ঠিত হইবার পরে ইংরাজ সরকারের প্রতিনিধি হিগিনসন্ সাহেব বিশেষ অনুসন্ধান করিয়া মুনিলালের দাবি গ্রাহ্য করিয়াছিলেন। এবং তদনুসারে খ্রীষ্টীয় ১৭৭১ সালে মুনিলাল রাজা রঘুনারায়ণ নামে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিলেন। জঙ্গলমহলে রাজ্যাধিকার লইয়া রাজপরিবারের মধ্যে বিবাদ ও যুদ্ধ তৎকালে প্রতিনিয়ত সংঘটিত হইত।
খৃষ্টীয় ১৭৯৮ সালে বরাহভূমের রাজা রঘুনাথনারায়ণের মৃত্যু হয়। তাঁহার দুই পুত্র ছিলেন। তন্মধ্যে জ্যেষ্ঠের নাম গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ ও কনিষ্ঠের নাম মাধো সিংহ। কনিষ্ঠ মাধো সিংহ মৃত রাজার প্রধানা মহিবীর গর্ভজাত ও জ্যেষ্ঠ গঙ্গাগোবিন্দ কনিষ্ঠা মহিষীর গর্ভজাত ছিলেন। ইতিপূর্ব্বে যে কারণে রঘুনাথ ও লছমন সিংহের মধ্যে বিবাদ হইয়াছিল, সেই কারণে গঙ্গাগোবিন্দ ও মাধো সিংহের মধ্যে রাজ্যাধিকার লইয়া বিবাদ উপস্থিত হইল। গঙ্গাগোবিন্দ বয়োজ্যেষ্ঠ বলিয়া এবং মাধো সিংহ প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত বলিয়া রাজ্যে দাবি করিলেন। তৎকালে গঙ্গাগোবিন্দের বয়স ষোড়শ বৎসর ও মাধো সিংহের বয়স পঞ্চদশ বৎসর ছিল। উভয়েই বিলক্ষণ বুদ্ধিমান ও অস্ত্রচালনায় সুপটু ছিলেন। এবম্প্রকার অবস্থায় তাঁহাদের পূর্ব্বপুরুষগণ যে নীতির আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাঁহারাও সেই নীতির অনুসরণ করিলেন। আইন আদালতের বিচার অপেক্ষা অসির বিচার তাঁহারা ভালরূপ হৃদয়ঙ্গম করিতেন। সুতরাং সমরক্ষেত্রে স্ব স্ব দাবি প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য উভয় পক্ষ আয়োজন করিতে আরম্ভ করিলেন।
এই গৃহবিবাদ উপলক্ষে রাজ্যের যাবতীয় শক্তিশালী পদস্থ ব্যক্তি এক এক পক্ষ অবলম্বন করিলেন। মৃতরাজা রঘুনাথের ভ্রাতা লছমন সিংহের পুত্র গঙ্গানারায়ণ কনিষ্ঠ মাধো সিংহের পক্ষাবলম্বন করিলেন। গঙ্গানারায়ণের পিতা প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত বলিয়া রাজ্যে দাবি করিয়াছিলেন; এবং বাহুবলে রঘুনাথকে রাজ্যচ্যুত করিবার চেষ্টা করিয়া বিফলমনোরথ হইয়াছিলেন, তাহা ইতিপূর্ব্বে বিবৃত হইয়াছে। বরাহভূমের জনসাধারণের ন্যায় গঙ্গানারায়ণ তাঁহার পিতার দাবি যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে করিতেন। সুতরাং মাধো সিংহের দাবি যুক্তিযুক্ত বলিয়া তিনি সহজে বিশ্বাস করিলেন। রঘুনাথের বংশের প্রতি তাঁহার হৃদয়ের বিদ্বেষ-বহ্ণি নিয়ত ধূমায়িত হইতেছিল। বর্ত্তমান ঘটনার বহুপরে ১৮৩২ সালে সেই বহ্নি প্রজ্জ্বলিত হইয়া বরাহ-রাজ্য ছারখার করিয়াছিল। ইতিহাসবিশ্রুত গঙ্গানারায়ণী হাঙ্গামা সেই বিদ্বেষের চরম পরিণতি। পরবর্ত্তী বিপ্লবে গঙ্গানারায়ণ যে অদ্ভুত সামরিক প্রতিভা ও বিচ্ছিন্ন প্রজাশক্তি সমবেত করিবার অসাধারণ ক্ষমতা প্রদর্শন করিয়াছিলেন, বরাহভূমের বর্ত্তমান গৃহবিবাদ তাঁহাকে সেই প্রতিভা পরিপুষ্ট করিবার অবসর প্রদান করিল। পরবর্ত্তী বিপ্লবে গঙ্গারানায়ণের যে অসি পরিণত বয়স্ক মাধো সিংহের রক্তে রঞ্জিত ও স্নাত হইয়াছিল, সেই অসি বালক মাধো সিংহের সাহায্যের জন্য কোষমুক্ত হইল।
আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি, বরাহভূমের জনসাধারণ রাজ্যে প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত সন্তানের দাবি ন্যায্য বলিয়া মনে করিত। সেই জন্য অধিকাংশ সর্দ্দার মাধো সিংহের পক্ষাবলম্বন করিলেন। পঞ্চসর্দ্দারির সমরকুশল সর্দ্দার কিশন্ পাথর ও ধাদকা তরফের সর্দ্দার গুমানগঞ্জন সিংহ ভুঞা মাধো সিংহের পক্ষাবলম্বন করিলেন। সমস্ত বিষয় বিবেচনা করিয়া কেবলমাত্র প্রতাপশালী সর্দ্দার লালসিংহ ভুঞা জ্যেষ্ঠ গঙ্গাগোবিন্দকে আশ্রয় দিলেন। লালসিংহ তৎকালীন যাবতীয় সর্দ্দারগণ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী ছিলেন। স্বয়ং ষ্ট্ৰাচি সাহেব একহলে লিখিয়াছেন,−
“Lalsing appears to be the most powerful of the Sarders.”
অর্থাৎ ‘লালসিংহ সর্দ্দারগণের মধ্যে সর্ব্বাপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।’ তাঁহার আশ্রয়লাভে গঙ্গাগোবিন্দ অন্যান্য সর্দ্দারগণকে উপেক্ষা করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন।
- ↑ Lakhman, the son of the Patrani alluded to above died in Jail leaving a son Ganganarayan. Dalton, p 174.