শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দশম সম্ভার)/পত্র-সঙ্কলন/অমল হোমকে লেখা
········তোমার “অতি-আধুনিক বাংলা কথা-সাহিত্য” আমি সেইদিনই আগাগোড়া পড়ে ফেলেছিলাম। তোমার বক্তব্য বিষয়ের মূল বস্তুটি আমি সর্ব্বান্তঃকরণে সমর্থন করি। দু-একটা কথা হয়ত না বললেই হ’ত; তবে কেউ না বললেই বা বলা হয় কিরূপে? একটু দীর্ঘ হয়ে গেছে। আর একটু ছোট হলে একটা সুবিধে এই হ’ত যে, কোনো ব্যক্তির সম্বন্ধেই একবারের বেশী বার বলবার স্থান থাকত না। তীক্ষ্ণতা একটু কম হ’ত।
কিন্তু আমি বুড়ো মানুষ, আমাকে এর মধ্যে টেনে না আনলে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশী হতাম। যদি বল, “আপনাকে আনলাম কি করে?” তার উত্তরে আমি বিষ্ণুশর্ম্মার কৃষক ও শৃগালের গল্প উল্লেখ করতে পারি। শৃগাল বলেছিল—“ভাই, তুমি মুখে যেমন চুপ করেছিলে, তেমনি আঙুলটিও যদি না আমার দিকে নির্দ্দেশ করে রাখতে! ভাগ্যি, শিকারীরা তোমার আঙুলের দিকে নজর করেনি।”
তাই না অমল? “গোর্কি, শেখব, শরৎচন্দ্র কি,—” তার পরে আর সমস্ত প্রবন্ধের ভেতর শরৎচন্দ্রের নামগন্ধ নেই! রবিবাবুর নানাবিধ উদাহরণ তোলবার পরে যদি অন্ততঃ আমার ওই রকম দু’একটা গল্প, যেমন ‘রামের সুমতি’, ‘বিন্দুর ছেলে’ প্রভৃতি,—অর্থাৎ দুর্নীতি বা অশ্লীলতা দোষ যাতে নেই,—ইঙ্গিতেও তুমি তা উল্লেখ করতে ত এটা বোঝা যেত, তুমি ঠিক এঁদের মধ্যে আমাকে ঠাঁই দিতে চাওনি।
তোমার মুখ থেকে যদি না আমি নিজে আমার সাহিত্যের সম্বন্ধে তোমার মতামত বহুবার শুনে আস তাম, তবে অনেকের মতো আমারও মনে হ’ত, তুমি ইঙ্গিতে এঁদের সকলের আগে আমাকেই দাঁড় করিয়েছ। অথচ, তুমি তা করোনি এবং করবার সঙ্কল্পও ছিল না তোমার।
যাই হোক, তোমার রচনা প্রভৃতি অতি চমৎকার হয়েছে। আমার আশীর্ব্বাদ জেনো।[১] তোমাদের—শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ↑ শ্রীঅমল হোমকে লিখিত।