বিষয়বস্তুতে চলুন

শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (দশম সম্ভার)/বিভিন্ন রচনাবলী/প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের অভিনন্দনের উত্তর

উইকিসংকলন থেকে

প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের অভিনন্দনের উত্তর

 আমার অনেকদিন থেকে প্রবর্ত্তক সঙ্ঘে আসবার কল্পনা ছিল; কিন্তু শরীর অসুস্থ থাকায় ও নানা কাজের ভিড়ে কখনও আসতে পারিনি। তখন তবু কাছে ছিলাম, এখন ত অনেক দূরে চলে গেছি। এঁদের কাছ থেকে প্রতিবারই আহ্বান পেয়েছি—কোনবারই আসতে পারিনি। এইবার এসেছি। আজ প্রবর্ত্তক সঙ্ঘ যে অভিনন্দন দিলেন, বিনয় করে যদি বলি—এর কোনও দাবী আমার নেই, সেটা সত্য কথা হবে না। সাহিত্য-সেবা করে বঙ্গবাসীকে কিছু দান করেছি, তার জন্য দাবী একটা আছে। শক্তির চেয়ে বড় পুরস্কারই পেলাম। সেইটা দু’হাত পেতে নিলাম। আমার এই ক্ষেত্রে কিছু বলা দরকার—কিন্তু বলবার শক্তি ভগবান আমাকে একেবারে দেননি। সকলে বোধ হয় আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না। এ-সম্বন্ধে আপনারা কিছু আশাও করবেন না।

 আমার একমাত্র বলবার বিষয় এই যে, অল্প সময়ের মধ্যে এখানে এসে যা দেখলাম তা আমাকে বড় আনন্দ দিয়েছে। এঁদের মূল কথা এই—মানুষকে মানুষ করে তোলা। ভারতবর্ষ—ভারতবর্ষের লোকেরা অত্যন্ত হীন হয়ে পড়েছে। এঁদের উদ্দেশ্য—ভারতকে সেই হীনতা থেকে রক্ষা করা। ধর্ম্মের দিক দিয়ে, নীতির দিক দিয়ে, শিল্পের দিক দিয়ে যে-ভারতবর্ষ একদিন বড় ছিল, তাকে পুনর্ব্বার প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য মতিবাবু এই আশ্রমকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যাঁরা এই আশ্রমের কাজে নিযুক্ত আছেন—বিশেষ করে মতিবাবু—তাঁরা আমার চেয়ে বেশি জানেন, কি করে এই উদ্দেশ্য সফল করা যেতে পারে। তিনি যৌবন থেকে এই কর্ম্মে ব্রতী। বহুদিন নানা কর্ম্মের মধ্যে থেকে, অনেক ভেবে ভেবে যে যে উপায় তিনি নিজের বুদ্ধিমত আবিষ্কার করেছেন, সেইটা কাজে লাগিয়ে তাঁর স্বপ্ন সফল হউক। আমার প্রার্থনা—আমি বেঁচে থাকতেই যেন তা দেখে যেতে পাই।

 আর একটী কথা। দেখছি—আশ্রমের প্রতি এখানকার লোকের সহানুভূতি আছে। তাঁরা ভালও বাসেন। আমি এই প্রার্থনা করি—সকলে মিলে যেন এই প্রতিষ্ঠানকে সার্থক ও জয়যুক্ত করতে পারেন।

 ৭টা বাজে, আমার যাবার সময় হ’লো। সাহিত্য-সভা হলে কিছু হয়ত বলতে পারতাম। মতিবাবুকে আশীর্ব্বাদ করছি। আজ পরমানন্দ নিয়ে বাড়ি চললাম। আমি বলতে কিছু পারি না; মামুলী কিছু একটা বলবার কথা—তাই কিছু বললাম। বলবার শক্তি ভগবান আমাকে দেননি। একটা কথা বলে গেলাম—এখানে বা আর কোথাও যদি একটা সভা হয়, তা হলে এবার কিছু লিখে নিয়ে আসব। তাই পড়ে আপনাদের শোনাব। আজ এই পর্য্যন্ত।[]

  1. ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে ৮ম বর্ষ প্রবর্ত্তক সঙ্ঘ অক্ষয় তৃতীয়া উৎসবে অভিনন্দনের উত্তরে প্রদত্ত ভাষণ। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যা ‘প্রবর্ত্তক’ মাসিক-পত্রে প্রকাশিত।