বিষয়বস্তুতে চলুন

শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (পঞ্চম সম্ভার)/পরেশ/৬

উইকিসংকলন থেকে

◄  
  ►

 রাত্রি বোধ হয় তখন আটটা হইবে, হরিচরণের বৈঠকখানা গম্ গম্ করিতেছে, গ্রামের মুরুব্বিরা আজকাল এইখানে আসিতে আরম্ভ করিয়াছেন, অকস্মাৎ একজন আসিয়া বড় একটা মজার খবর দিল। কামারদের বাড়ির ছেলেরা বিশ্বকর্ম্মা পূজা-উপলক্ষে কলিকাতা হইতে জন-দুই খ্যামটা আনাইয়াছে, তাহারই নাচের মজলিসে বসিয়া গুরুচরণ।

 হরিচরণ হাসিয়া লুটাইয়া পড়িয়া কহিল, পাগল! পাগল! শোন কথা একবার! দাদা গেছে খ্যামটার নাচ দেখতে! কোন্ গুলির আড্ডা থেকে আসা হচ্ছে অবিনাশ?

 অবিনাশ মাইরি দিব্বি করিয়া বলিল, সে স্বচক্ষে দেখিয়া আসিয়াছে। একজন ছুটিয়া চলিয়া গেল, সঠিক সংবাদ আনিতে। মিনিট দশেক পরে ফিরিয়া আসিয়া জানাইল, সে খবর সর্ব্বাংশেই সত্য। আর শুধু নাচ দেখাই নয়, রুমালে বাঁধিয়া প্যালা দিতেও সে এইমাত্র নিজের চোখে দেখিয়া আসিল। একটা হৈ চৈ উঠিল। কেহ বলিল, এমন যে একদিন ঘটিবে তাহা জানা ছিল। কেহ কহিল, যেদিন বিনা দোষে স্ত্রীলোকের গায়ে হাত দিয়েচে সেইদিনই সব বুঝা গেছে। একজন ছেলের ডাকাতির উল্লেখ করিয়া কহিল, ঐ থেকে বাপের চরিত্রও আন্দাজ করা যায়। এমন কত কি!

 আজ কথা কহিল না শুধু হরিচরণ। সে অন্যমনস্কের মত চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। তাহার কেমন যেন আজ ছেলে-বেলার কথা মনে হইতে লাগিল, একি তাহার বড়দা? একি গুরুচরণ মজুমদার?