শিশুর শিক্ষা
শিশুর শিক্ষা
শামসুন নাহার
এম. এ. এম. বি. ই.
বুলবুল হাউস
২৩ ক্রিমেটোরিয়াম ষ্ট্রীট
কলিকাতা।
প্রকাশকঃ
আনোয়ারা চৌধুরী বি-এ, বি-টি
বুলবুল হাউস
২৩, ক্রিমেটোরিয়াম ষ্ট্রীট
কলিকাতা।
শ্রাবণ ১৩৫৩
দাম দেড় টাকা
পূর্ব্বাশা লিমিটেড পি, ১৩ গণেশচন্দ্র এভিনিউ
কলিকাতা হইতে সত্যপ্রসন্ন দত্ত কর্তৃক মুদ্রিত।
কল্যাণীয়াসু
তোমার সকল রচনাকেই আমি অন্তরের সঙ্গে প্রশংসা করে থাকি। কী ভাষায় কী মননশক্তিতে কী সরসতায় তোমার লেখা, যে বিশিষ্টতা লাভ করেছে আমি তার প্রশস্তিবাদ তোমাকে পাঠাই তোমার গ্রন্থে তার ব্যবহার করতে পার। শিশুশিক্ষা সম্বন্ধে রচনাটি সুচিন্তিত ও সুলিখিত। যাঁরা শিশুদের কল্যাণ কামনা করেন তাঁদের কাজে লাগবে সন্দেহ নেই। ইতি ৭।৪।৩৯
শুভার্থী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভূমিকা
[মাননীয় স্যার এম. আজিজুল হক কে-সি-এস-আই লিখিত]
শিশুর শিক্ষা সম্বন্ধে, উপযুক্ত আলোচনা আমাদের দেশে এখনো হয় নি। এই ব্যাপারে শিক্ষিত সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন সুলেখিকা প্রফেসার শামসুন নাহার সাহেবা। এই জন্যে বাঙ্গালী মাত্রেরই তিনি ধন্যবাদের পাত্রী।
শিশুর শিক্ষা এবং উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা এ যে একেবারেই আলাদা ব্যাপার এসম্পর্কে এদেশের জনমত এখনো যথেষ্ট সজাগ নয়। আমরা বাস করছি যন্ত্রের যুগে;—চারিদিকে, এমন কি শিক্ষার ব্যাপারেও, দেখতে পাচ্ছি যন্ত্রসভ্যতার প্রভাব। এই যন্ত্রের প্রভাব থেকে অন্ততঃ ছেলেদের মুক্তি দিতে হবে। শিশু দেশলাইয়ের কাঠি নয় যে এদের সম্বন্ধে পাইকারি ব্যবস্থা করলেই চলবে। প্রত্যেকটি শিশুকে দেখতে হবে আলাদা করে—তার শিক্ষা ও চরিত্রগঠন সম্বন্ধে বিবেচনা করতে হবে আলাদা ভাবে।
যে জগতে শিশু বাস করছে তার সঙ্গে তার পরিচয় এখনো নিবিড় হয়ে ওঠে নি। পরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা তার অসীম—চারপাশের সব কিছুকেই সে জানবে বুঝবে অনুভব ক’রবে। চায় না সে স্বাধীনতাকে নষ্ট করতে—তার স্বচ্ছন্দ গতিকে বিসর্জ্জন দিতে। প্রাণহীন শিক্ষাপদ্ধতি—যার সঙ্গে আনন্দের যোগ নেই, যা শিশুর অনুসন্ধিৎসা জাগায় না, শিশুর মনকে রুটিন, পাঠ্যপুস্তক ও স্কুলঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখাই যার কাজ—তা থেকে শিশু বিশেষ লাভবান হবে—এ আশা দুরাশা মাত্র। বরং এতে করে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের পথ বন্ধই হয়ে যায়।
শিক্ষাপদ্ধতির ত্রুটির জন্য দেশের প্রাণশক্তির এই যে অপচয় হচ্ছে এর গোড়ায় রয়েছে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব। শিক্ষক আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা দিতে পারেন না—ফলে শিক্ষক, শিক্ষাগার কারুর জন্যেই শিশুর আকর্ষণ থাকে না। উভয়কেই সে ভয়ের চোখে দেখে থাকে।
আমাদের শিক্ষাপদ্ধতির সব চেয়ে বড় বিড়ম্বনা এই যে, যোগ্যতার অভাব যার সব চেয়ে বেশী তারই হাতে দেওয়া হয় শিশু-শিক্ষার দায়িত্ব আর যে কয়টি অপেক্ষাকৃত যোগ্য শিক্ষক স্কুলে থাকেন তাঁদের চিহ্নিত করে রাখা হয় উপরের শ্রেণীর ছাত্রদের জন্যে, যারা পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত হবে। স্কুলের শিক্ষকদের মাইনে আমাদের দেশে সাধারণতঃ কমই হয়ে থাকে। তার মধ্যে আবার সব চেয়ে কম মাইনে শিশুশ্রেণীর শিক্ষকদের। উপরের শ্রেণীর শিক্ষকদের মাইনে যেখানে একশ বা তার চেয়েও বেশী, সেখানে শিশুশ্রেণীর শিক্ষকদের দেওয়া হয় মাসে মাত্র কয়েকটি করে টাকা।
এই শিক্ষাপদ্ধতির ভেতর দিয়ে যারা বেরিয়ে আসবে, লিখতে পড়তে এমন কি অঙ্ক কষতেও হয়ত তারা পারবে; কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে, জানবে না বুঝবে না দেখবে না তারা কিছুই। ‘সার্টিফিকেটওয়ালা’ কত লোকই তো বেরিয়ে আসছে বছর বছর—কিন্তু দেশের সত্যিকারের কি লাভ হচ্ছে তাতে?
আমাদের শিশুশিক্ষার এই দুর্দ্দিনে উন্নততর আবহাওয়া সৃষ্টির চেষ্টা যিনি করছেন—তিনি বিরাট কাজ করছেন, বলা যেতে পারে। ‘শিশুর শিক্ষা’ পুস্তকখানিতে বেগম শামসুন নাহার শিশুশিক্ষার যে উচ্চ আদর্শ দেশবাসীর সম্মুখে তুলে ধরেছেন তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, আশা করি। শিশুর সঙ্গে বৃহত্তর জগতের যোগসাধনের যে চেষ্টা তিনি করছেন তার জন্যে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানাই।
শিশুশিক্ষার কোন কল্পনাই সুফলপ্রসূ হবে না যদি না ‘চাইলড্ সাইকলজি’ অর্থাৎ শিশুমনস্তত্ত্বের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এই ব্যাপারে কিছুদিন আগে এক রেডিও বক্তৃতায় লেডী রীডও বিশেষ ভাবে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে পথনির্দ্দেশ হয়ে গেছে, বলা যেতে পারে। এখন শিশুদের শিক্ষার ভার যাঁদের ওপর তাঁরা যদি অবহিত হন দেশের সত্যিকারের কল্যাণ সাধিত হবে।
|
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
|
|
—এম. আজিজুল হক
|
“সম্পূর্ণ নূতন ঢঙে লেখা। বইখানি সত্যিকার বই হয়েছে। পড়ে আনন্দ পাওয়া যায়। আপনাকে আমি সকৃতজ্ঞ অভিবাদন জানাচ্ছি।”
শিশুর শিক্ষা
| ১। | ৩ |
| ২। | ১৪ |
| ৩। | ২৬ |
| ৪। | ৪০ |
| ৫। | ৪৭ |
| ৬। | ৫৭ |
| ৭। | ৬৬ |
| ৮। | ৭১ |
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।