শিশুর শিক্ষা/নার্সারী স্কুল
নার্সারী স্কুল
“O child of Paradise!
Boy who made dear his Father’s Home
In whose deep eyes
Men read the welfare of the time to come.”
আজকাল এদেশে সকল সমাজেই এমন কি মেয়েদের মধ্যেও শিক্ষার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। তার ঠিক সঙ্গে সঙ্গে খুব তীব্র ভাবে আমরা অনুভব করছি শিক্ষা-পদ্ধতির অনুপযোগিতা। এখন যে শিক্ষাপদ্ধতি এদেশে চলছে তা ছেলেদের পক্ষেও উপযোগী নয়—মেয়েদের পক্ষে তো নয়ই। আজ শিক্ষা-পদ্ধতির একটা ত্রুটীর কথা আমি উল্লেখ করব, যা এখনো দেশের শিক্ষা-বিশেষজ্ঞদের ততটা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে নি। বর্ত্তমান পদ্ধতিতে আমরা শিশুশিক্ষার কোন ব্যবস্থা দেখতে পাই না।
আধুনিক শিশুবিজ্ঞানে যাঁর সামান্য দখলও আছে, তিনিও জানেন দু’বছর থেকে ছ’বছর বয়স পর্য্যন্ত সময়টা শিশুর জীবনে কত মূল্যবান। কি স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে, কি চরিত্র গঠনের দিক দিয়ে এই সময়কার শিক্ষা হচ্ছে জীবনের অন্য যে কোন সময়ের শিক্ষার চেয়ে কার্য্যকরী এবং মূল্যবান। অথচ এই বয়সে শিক্ষার কোন ব্যবস্থাই আমাদের নাই। জন্মের মুহূর্ত্ত থেকেই যে শিশুর শিক্ষার জন্য সতর্ক হতে হবে এদেশের পিতামাতার তা অনুভব করতেই অনেক দেরী। ইউরোপীয়ান স্কুল ছাড়া শিশুদের জন্যে ভাল দেশীয় স্কুল আমাদের মোটেই নেই বল্লে চলে। অত কম বয়সে স্কুলে পাঠাবার কথা শুনলে শিক্ষিত শ্রেণীতেও হয়তো বেশীর ভাগ লোকই চমকে উঠবেন। ছেলের বয়স হবে, বুদ্ধি হবে, তারপর যাবে স্কুলে, তারপর আরম্ভ হবে শিক্ষা—এই হল আমাদের ধারণা। কিন্তু উপযুক্ত স্কুল হলে যে দু’বছর থেকেই ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব—শুধু সম্ভব নয়, প্রয়োজনও, তা আধুনিক বিজ্ঞানের একটা পরীক্ষিত সত্য। যতদিন আমরা এই সহজ সত্যকে বুঝতে আর গ্রহণ করতে না পারব, ততদিন শিক্ষা-পদ্ধতির একটা মস্তবড় ত্রুটী সংশোধনের উপায় হবে না।
নার্সারী স্কুল কথাটা আমাদের দেশে এখনো একেবারেই অপরিচিত। নার্সারী স্কুল বল্লে কি বোঝায় তা’ নিয়ে অনেকে একটু গোলমালে পড়েন। এ কোন্ শ্রেণীর শিশুমঙ্গল প্রতিষ্ঠান—এতে কি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা আছে অথবা লালন-পালনের ব্যবস্থাও আছে, তা সাধারণ লোকের পক্ষে হঠাৎ বোঝা মুশকিল। বাস্তবিক পক্ষে এই শ্রেণীর স্কুলে অল্পবয়স্ক শিশুদের শারীরিক মানসিক সর্ব্বপ্রকার উন্নতি ও চরিত্রগঠনের দিকে দৃষ্টি রেখে যথেষ্ট আনন্দ ও খেলাধূলার মধ্য দিয়ে লেখাপড়া শেখবার ব্যবস্থা থাকবে। মোটের ওপর এই বয়সে শারীরিক মানসিক সমস্ত শক্তির বিকাশের জন্যে যা যা প্রয়োজন সে সবেরই ব্যবস্থা এতে থাকবে।
অনেকে আবার জানতে চান কোন্ শ্রেণীর শিশুদের জন্যে নার্সারী স্কুল দরকার। ধনীর দুলালদের জন্যে, না, দরিদ্রের অনাদৃত শিশুদের জন্যে। নার্সারী স্কুলের বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে দেখেছি—দেশের শিক্ষা-বিশেষজ্ঞদের পর্য্যন্ত ধারণা এসব বিষয়ে স্পষ্ট নয়। তাঁরাও অনেক সময় ভেবে পান না যে নার্সারী স্কুলের দরকার বিশেষ করে সমাজের কোন্ স্তরের ছেলেমেয়েদের জন্যে? ছোট শিশুদের উপযোগী যে সব ইউরোপীয় স্কুল এদেশে আছে তা অবশ্য দরিদ্রদের জন্যে নয়, এমন কি মধ্যবিত্তেরাও তার খরচপত্র অনেক সময় পুষিয়ে উঠতে পারেন না। শুধু কয়েকটী মাত্র ধনী পরিবারের সন্তানেরা এর সুবিধা ভোগ করতে পারে। কিন্তু বিলেতে ধনী এবং দরিদ্র উভয় শ্রেণীর শিশুদের জন্যেই নার্সারী স্কুলের ব্যবস্থা আছে। আর আমাদের দেশেও তাই দরকার।
শ্রমজীবী শ্রেণীর অথবা দরিদ্রের ঘরের পিতামাতার পক্ষে সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্যে, চরিত্র গঠনের জন্যে, অথবা শিক্ষার জন্যে বাড়ীতে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়—ততখানি অবসর, ততখানি জ্ঞান বা আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। বিনা খরচে বা অল্প খরচে যদি এরা ছোট ছোট শিশুদের এই শ্রেণীর স্কুলে পাঠাবার সুযোগ পেত, তা’হলে সেটা শুধু তাদের পক্ষে নয়, সমগ্র দেশের পক্ষে হ’ত একটা পরম লাভের বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশের মতো দরিদ্র দেশে এর কল্পনা আকাশ কুসুম ছাড়া আর কিছুই নয়।
শিশুশিক্ষার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি, বিং শতাব্দীর এক অদ্ভূত আবিষ্কার। অপর্য্যাপ্ত স্বাধীনতার মধ্যেও শিশুকে Discipline (নিয়মানুবর্ত্তিতার) এর শৃঙ্খলে বেঁধে রাখা এ যেমন অভিনব তেমনই দুরূহ।
নূতন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে শিশুকে গড়ে তুলবার মত উপযুক্ত শিক্ষা এদেশের মেয়েদের নেই। যে অল্পসংখ্যক শিক্ষিতা জননী আছেন—অথবা অদূর ভবিষ্যতে আমরা যেসব শক্ষতা জননীর সাক্ষাৎ পাব বলে আশা করি—তাঁদের মধ্যেও সবাই যে সন্তানের শিক্ষার জন্যে যথেষ্ট সময় এবং শক্তি ব্যয় করতে পারবেন এমন আশা করা যায় না। কারণ স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে একটা সমস্যা আমাদের সামনে প্রবল আকার ধারণ করছে। উচ্চ শিক্ষিতা মেয়েরা শুধু ঘর-সংসার এবং সন্তানপালন নিয়ে থাকতে পারেন না। তবে তাঁরা কি শুধু পুরুষের মত অর্থোপার্জ্জন, সমাজ-সংস্কার ইত্যাদি কাজে বাইরেই বেশীর ভাগ সময় ব্যস্ত থাকবেন; না তাঁদেরকে ঘরের এবং বাইরের দু’রকম কর্ত্তব্যই সমান ভাবে পালন করতে হবে? বাইরের এবং ঘরের দু’রকম কর্ত্তব্যের সমন্বয় সাধন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ সন্দেহ নেই; কিন্তু আমাদের শিক্ষিতা মেয়েদের তাই-ই করতে হবে। তবে তা করতে গেলে আধুনিক পদ্ধতিতে সন্তান গঠন করবার মত যথেষ্ট শক্তি এবং সময় তাঁদের হাতে থাকবে কিনা সন্দেহ, একথা আগেই বলেছি।
শিশুবিজ্ঞানের একটা কথা হচ্ছে—Do not yield; but do not punish. ছেলের কাছে হারও মানবে না, তাকে শাস্তিও দেবে না। কিন্তু সংসার-জীবনের নিত্যকার শত কাজের মধ্যে হাজার শিক্ষিতা হলেও ক’টি জননী এই নীতি মেনে চলতে পারবেন? শিশুর অন্যায় জেদের কাছে পরাজয় স্বীকার করব না অথচ তার সঙ্গে রূঢ় ব্যবহারও করতে পাব না—পদে পদে এতখানি ধৈর্য্য, এতখানি অবসর দৈনন্দিন জীবনে কি বাস্তবিকই দুর্লভ নয়? বিশেষতঃ বাড়ীতে ৫।৬টী ছেলেমেয়ে থাকলে প্রত্যেকটীর শিক্ষার ভার উপযুক্ত স্কুলে নির্ভরযোগ্য শিক্ষয়িত্রীর হাতে খানিকটা না দিয়ে উপায় কি?
তারপরে আরও একটা কথা। শিশুকে যথাযোগ্য ভাবে গড়ে তুলতে হলে চাই যে আবেষ্টন, যে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, তা একমাত্র স্কুলেই সম্ভব। প্রথম বৎসর অতীত হবার পর শিশু যেন নূতন জীবনে প্রবেশ করে। সে হাঁটতে শেখে, কথা বলতে শেখে এবং আরও নানাভাবে নিজের ক্ষমতার বিকাশ উপলব্ধি করতে পায়। জীবনটা যেন তার কাছে একটা অভিনব অ্যাডভেঞ্চার বলে মনে হয়। তার শারীরিক ও মানসিক শক্তির স্বচ্ছন্দ বিকাশের জন্যে এই সময়ে চাই উন্মুক্ত স্থানে, বিশুদ্ধ বায়ুতে দৌড় ঝাঁপ ও খেলাধুলার যথেষ্ট আয়োজন। বাড়ীতে এই আয়োজন বা সুযোগ প্রায়ই অসম্ভব হয়। খেলার মাঠেই শিশুর সত্যিকার জীবনের ভিত্তিপত্তন হয়। প্রত্যেকটি নার্সারী স্কুলের সঙ্গে থাকবে প্রশস্ত খেলার মাঠ, বাগান এবং খেলাধূলার নানা আধুনিক সরঞ্জাম।
ইংরিজীতে একটা কথা আছে The battle of Waterloo was won on the play field of Eton ইটনের খেলার মাঠেই ওয়াটারলু যুদ্ধ জয়ের সূচনা হয়। এই সেদিন এদেশের একজন শিক্ষা-বিশেষজ্ঞ তাঁর বিলাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে গল্প করছিলেন। তাতেও ঠিক এই কথাটারই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। হ্যারোর বিখ্যাত পাবলিক স্কুলের হেড মাষ্টার ডাঃ নরউডের সঙ্গে একদিন দেখা করতে এলেন, জাপানের ডিরেক্টর অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশান—শিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টর। নানা কথার পর তিনি নরউড সাহেবকে বল্লেন, আমি এদেশে এসেছি তোমাদের শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে গভীর ভাবে পরিচিত হবার আশায়। প্রত্যেকটী পাবলিক স্কুলে দু’এক মাস করে কাটিয়ে আমি দেখব, তোমাদের ভবিষ্যতের নাগরিকেরা কি ভাবে শিক্ষা পেয়ে থাকে, কি তোমাদের শিক্ষার গোড়ার কথা, আর কি-ই বা তোমাদের সাফল্যের মূল মন্ত্র।
নরউড মন দিয়ে শুনলেন, তারপরে একটু হেসে বল্লেন—তাহলে দেখবে এস। এই বলে তিনি ঘরের জানলা একটু ফাঁক করে বাহিরের দিকে অঙ্গুলি নির্দ্দেশ করলেন। বাহিরে বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ, ছেলেরা মনের আনন্দে খেলা-ধূলায় মত্ত। সঙ্গে আছেন একজন শিক্ষক—তাদের খেলাকে নিয়ন্ত্রিত করা তাঁর কাজ।
নরউড বল্লেন—চেয়ে দেখ, এইখানেই আমাদের সাফল্যের বীজ লুকানো আছে। এই মাঠেই গড়ে ওঠে আমাদের দেশের আশা জাতির ভবিষ্যৎ।
স্কুলের আর একটা মস্ত বড় সুবিধা হল নানা বয়সের ছেলেদের সংমিশ্রণ। পিতামাতা আদরে সোহাগে আচ্ছন্ন করে রাখুন, কিন্তু তাহতে ছেলের পরিপূর্ণ তৃপ্তি কিছুতেই হতে পারে না। জীবনের প্রথম বৎসর কেটে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই সে চায় অন্য বালক বালিকার সাহচর্য্য; ক্রমেই খেলাধূলার মধ্যে ঢোকে প্রতিযোগিতার ভাব এবং সেই প্রতিযোগিতাই দেয় বেশী আনন্দ। আগেই বলেছি সঙ্গী হিসাবে শিশুদের জীবনে সামান্য বয়োজ্যেষ্ঠ, বয়োকনিষ্ঠ এবং একেবারে সমবয়স্ক সব রকম বালক-বালিকারই বিশিষ্ট স্থান আছে।
ভাই-বোনের সংখ্যা বেশী থাকলে অপেক্ষাকৃত বড় বা ছোট সঙ্গী দু’চারটি অবশ্য বাড়ীতেই পাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু তাহলেও বিভিন্ন বয়সের অতগুলি ছেলেমেয়ে বিশেষতঃ সমবয়স্ক সঙ্গী একমাত্র স্কুলে ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে না। এই দিক দিয়ে বিচার করলে নার্সারী স্কুলের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার না করে উপায় নেই।
স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে বিচার করে দেখা গেছে, শৈশব থেকে যে ছেলে-মেয়ে নার্সরী স্কুলে যাবার সুবিধা পেয়েছে, তাদের স্বাস্থ্য সাধারণ ছেলেমেয়ের তুলনায় অনেক ভালো। বাস্তবিকই যে উন্মুক্ত স্থানে যথেষ্ট আলো বাতাসের মধ্যে অনেকগুলি বালক-বালিকার সাহচর্য্য এবং প্রচুর আমোদ-প্রমোদের সুযোগ ও সরঞ্জাম পেয়েছে, তার স্বাস্থ্য যে তুলনায় সাধারণ ছেলের চেয়ে অনেক ভালো হবে, তা কিছুই বিচিত্র নয়।
আদবকায়দা, সামাজিকতা ও নিয়মানুবর্ত্তিতার দিক দিয়েও যে সে হবে সাধারণ শিশুর চেয়ে অনেক অগ্রসর, তাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নেই।
ইংল্যাণ্ডে ধনী সন্তানদের জন্যে ফ্রোবেল ও মণ্টেসরী পদ্ধতির স্কুল এবং দরিদ্রদের জন্য নার্সারী স্কুল আছে। এদেশে নার্সারী স্কুল কথাটাই ধরতে গেলে অপরিচিত। তবে সুখের বিষয় যে সম্প্রতি এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অল ইণ্ডিয়া উইমেনস কনফারেন্স বা নিখিল ভারত নারী-সম্মিলন কিছুদিন থেকে এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। এদেশের শিশুদের জন্যে নার্সারী স্কুল যে অত্যন্ত প্রয়োজন তা তাঁরা মর্ম্মে মর্ম্মে অনুভব করছেন, ইউরোপের নার্সারী স্কুলের যে সিলেবাস তা হয়ত কোন কোন বিষয়ে এদেশের শিশুদের জন্যে অনুপযোগী হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন মত সামান্য পরিবর্ত্তন করে এদেশের শিশুদের জন্যে বিশেষভাবে উপযোগী এক সিলেবাস তাঁরা প্রস্তুত করেছেন এবং এই সিলেবাস কোন কোন স্থানে পরীক্ষাও করে দেখা গেছে।
স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের ফল এই হচ্ছে যে শিক্ষিত নারী-সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের শিক্ষার ব্যাপারে মতামত দিতে পারছেন। শুধু মতামত দেওয়া নয়। তাদের শিক্ষার ভার অনেক জায়গায় তাঁরা নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। জননীরা হস্তক্ষেপ করবেন সন্তানের শিক্ষার ব্যাপারে এ অত্যন্ত স্বাভাবিক ও শোভন। কলকাতায় সম্প্রতি কয়েক বছর থেকে একটী নার্সারী স্কুল স্থাপিত হয়েছে—যার প্রতিষ্ঠাত্রী হচ্ছেন একজন বাঙালী মহিলা। এই স্কুল স্থাপনের ইতিহাস বড় করুণ। বার তের বৎসর বয়সে এক ভদ্র মহিলার একমাত্র সন্তান মারা যায়। এই নিদারুণ শোকে সান্ত্বনার একটী মাত্র উপায় তিনি দেখতে পেলেন। পুত্র শোক বুকে নিয়ে তিনি ছুটে গেলেন ইউরোপে, আর সেখানে শিশুশিক্ষার আধুনিক পদ্ধতি সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করলেন। দেশে ফিরে তিনি কলকাতায় একটী নার্সরী স্কুল স্থাপন করেছেন। এই স্কুল কালে দেশের একটী আদর্শস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, আশা করা যায়। শুধু তাই নয়। তিনি যে আদর্শ দেখিয়েছেন, তা থেকে যদি অন্যরাও শিক্ষা গ্রহণ করেন তাহলে দেশের একটী মস্ত বড় অভাব দূর হবে এবং শিক্ষা-সমস্যার জটিলতা অন্ততঃ খানিকটা দূর হবে আশা করা যায়। নার্সারী স্কুলের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিলেও অর্থসমস্যা এবং আরো নানারকম সমস্যা প্রথম দৃষ্টিতে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হবে। এর জন্যে প্রথমতঃ দরকার স্কুল গৃহের সংলগ্ন খেলার মাঠ এবং বাগান। আর কিছু পরিমাণ নার্সারী স্কুলের উপযোগী সাজ-সরঞ্জাম (apparatus)। শিক্ষয়িত্রীদের বিশেষ ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করতে হবে।
মোটের ওপর এ বিষয়ে দেশের শিক্ষাবিশেষজ্ঞদের এবং গভর্ণমেণ্টের মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
—শেষ—