শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনা
শ্যামাপ্রসাদের
কয়েকটি রচনা
প্রাপ্তিস্থান:
এম, সি, সরকার এণ্ড সনস্, (প্রাইভেট) লিঃ
১৪, বঙ্কিম চাটুজ্যে স্ট্রীট, কলিকাতা-১২
প্রথম প্রকাশ: আষাঢ়, ১৩৬৩
প্রকাশক:
যতীন্দ্রমোহন মজুমদার
সম্পাদক, শ্যামাপ্রসাদ ফাউণ্ডেশন
৯২, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড্
কলিকাতা-২৬
মুদ্রাকর:
শ্রীশৈলেন্দ্রনাথ গুহরায়
শ্রীসরস্বতী প্রেস লিঃ
৩২, আপার সারকুলার রোড্
কলিকাতা-৯
দাম—২৲
গ্রন্থ-পরিচয়
নিবেদন |
৫ |
ভূমিকা—শ্রীঅতুলচন্দ্র গুপ্ত |
৭ |
| ১১ |
[১৩৪৫ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে বঙ্কিমচন্দ্রের শতবার্ষিকী উৎসব উপলক্ষে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে প্রকাশিত ‘বঙ্কিম-পরিচয়’ গ্রন্থের ভূমিকা।] |
| ১৪ |
[১৩৪৫ বঙ্গাব্দের ১লা মাঘ দেবানন্দপুর গ্রামে শরৎচন্দ্র-স্মৃতি-বার্ষিকী উপলক্ষে সভাপতির অভিভাষণ।] |
| ১৯ |
[১৩৫০ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে প্রকাশিত ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ গ্রন্থের অন্তর্গত।] |
| ৩১ |
[১৩৫১ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন সংখ্যা ‘প্রবাসী’তে প্রকাশিত।] |
| ৪৫ |
[১৩৫৫ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে প্রবাসী বঙ্গ-সাহিত্য সম্মেলনের দিল্লীর অধিবেশনে অভ্যর্থনা-সমিতির সভাপতিরূপে প্রদত্ত।] |
| ৫৪ |
[১৩৫৯ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে নিখিল ভারত বঙ্গ-সাহিত্য সম্মেলনের কটক-অধিবেশনের সভাপতিরূপে প্রদত্ত।] |
| ৬৭ |
[১৩৫৯ বঙ্গাব্দের মাঘী পূর্ণিমার দিন স্বামী প্রণবানন্দজীর প্রতি শ্রদ্ধা-নিবেদন।] |
| ৬৯ |
[১৩৬০ বঙ্গাব্দে (ইংরেজী ১৯৫৩) জ্যৈষ্ঠ মাসে শ্রীনগর জেল হইতে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শ্রীযুক্ত রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে লিখিত।] |
| ৭২ |
[১৩৩০ বঙ্গাব্দের (ইং ১৯২৪) জানুয়ারি মাসে ‘দি ক্যালকাটা রিভিউ’-তে প্রকাশিত ইংরেজী প্রবন্ধের বঙ্গানুবাদ।] |
নিবেদন
শ্রদ্ধেয় ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের পঞ্চপঞ্চাশত্তম জন্মোৎসব উপলক্ষে তাঁহার ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত বাঙলা রচনাবলীর কিয়দংশ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হইল। এই লেখাগুলির মধ্যে বর্তমানে পীড়িত, লাঞ্ছিত ও অভাবগ্রস্ত বাঙালী জাতিকে উপলক্ষ করিয়া অনেক আশার কথা আছে। তাঁহার মতে, ভারতের কষ্টলব্ধ স্বাধীনতাকে রক্ষা করিতে হইলে ভারতের নিজস্ব ধর্ম, নীতি, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও সাহিত্যকে বলশালী করিতে হইবে। দুঃখে এবং অভাবে অবসন্ন হইয়া পড়িলে চলিবে না। কারণ “দুঃখই শক্তির উৎস, দুঃখই মান,ষের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।” নৈরাশ্যের মধ্যে তাঁহার এই বাণী সমগ্র জাতিকে উদ্বুদ্ধ করিবে মনে করিয়া আমরা এই গ্রন্থখানি প্রকাশ করিলাম।
বিভাস রায়চৌধুরী
সম্পাদক
ভূমিকা
শ্যামাপ্রসাদের কয়েকটি রচনার সংগ্রহ এই গ্রন্থ। এর মধ্যে বেশীর ভাগ নানা সময়ে ও সভায় তাঁর অভিভাষণ। ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নিবন্ধটি তাঁর ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ গ্রন্থের অন্তর্গত, যা ঐ মন্বন্তরের কালেই প্রকাশিত হয়েছিল। ‘বাঙলার রঙ্গালয়’ প্রবন্ধটি শ্যামাপ্রসাদের এম্-এ পরীক্ষার থিসিসের অনুবাদ। ১৯২৪ সালের জানুয়ারী মাসের ‘দি ক্যালকাটা রিভিউ’তে লেখাটি ছাপা হয়।
শ্যামাপ্রসাদের ব্যক্তিত্বের পৌরুষ ও তাঁর একাগ্র নিরলস কর্মজীবন দেশের গৌরবের বস্তু। শক্তি ও কমোদ্যমের মধ্যাহ্নে স্বাধীন ভারতবর্ষে এই দেশকমীর রাজবন্দীদশায় মৃত্যুর শোক দেশের মনে অনির্বাণ রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের জীবনের স্পর্শ যাতে আছে দেশের লোকের তা প্রিয়। এই রচনাগুলি তাঁর জীবনের গতির বেগে স্পন্দমান।
শ্যামাপ্রসাদ সাহিত্যিক ছিলেন না, ছিলেন বিচিত্র কমের নিষ্ঠাবান প্রবল কর্মী। এবং সে সকল রকম কমের উৎস ছিল তাঁর দেশপ্রীতি ও দেশকে বড় করার সংকলপ। সেই কারণে ‘বিষবৃক্ষ’ ও ‘কপালকুণ্ডলা’র বঙ্কিমের চেয়ে ‘বন্দে মাতরম্’-এর বঙ্কিম তাঁর মনে উজ্জ্বলতর ছিল। “সত্য সত্যই দেশমাতাকে তিনি সকল দেবতার উপর আসন দিয়াছিলেন। তাঁহার নিকট হইতে আমরা যে আদর্শ ভাষা, অমূল্য ভাব ও অপূর্ব সাহিত্য-সম্পদ্ লাভ করিয়াছি, তাহা তাঁহার অনন্যসাধারণ প্রতিভাপ্রসূত হইলেও, মনে রাখিতে হইবে, সে প্রতিভা তাঁহার প্রগাঢ় দেশপ্রীতির প্রভাবেই পরিচালিত হইয়াছিল।” শরৎচন্দ্রের সাহিত্যসৃষ্টিতে মানুষের জন্য বেদনাবোধই তাঁকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করেছিল। “ব্যথিতের জন্য এত অধিক বেদনাবোধ ছিল বলিয়াই তাঁহার সৃষ্ট সাহিত্যে তিনি মমতার ধারা ঢালিয়া দিতে পারিয়াছিলেন। এই অমৃতধারার আস্বাদন-সুখ যাহারা উপভোগ করিয়াছে, তাহারা শরৎচন্দ্রকে কখনও ভুলিতে পারে না।”
শ্যামাপ্রসাদের প্রবল ব্যক্তিত্ব সাহিত্যিকতার ছদ্মবেশ কখনও পরে নাই। তাঁর নিজের অনুভূতিকে তিনি অকপটে ব্যক্ত করেছেন।
ইংরেজীতে যাকে বলে statesman তার শ্রেষ্ঠ রূপটি শ্যামাপ্রসাদের এই লেখাগুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে। যাঁরা statesman তাঁরা কাজ করেন রাষ্ট্র ও সমাজের বাঞ্ছিত পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিবর্তনের আদর্শ তাঁদের নিজের আবিষ্কার নয়। যে চিন্তা ও ভাবের উপর তার প্রতিষ্ঠা তার জন্ম দেয় অন্য শ্রেণীর লোক, চিন্তা ও ভাবের যাঁরা স্রষ্টা। যাঁরা বড় statesman এই চিন্তা ও ভাব তাঁদের কাজের প্রেরণা দেয়। এই চিন্তা ও ভাবের আদর্শকে রাষ্ট্র ও সমাজে তাঁরা বাস্তবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। বাঙলা দেশে ও ভারতবর্ষে আধুনিক কালের চিন্তানায়কদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক চিন্তায় যা সব শ্রেষ্ঠ দান, শ্যামাপ্রসাদের মনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেগুলি অন,প্রবিষ্ট। এই লেখাগুলি তার বড় প্রমাণ। এবং এই লেখাগুলিই প্রমাণ যে, সে চিন্তাকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন বাস্তবের রূপদক্ষ কর্মীর মন দিয়ে। দেশের দুর্ভাগ্য তাঁর অকালমৃত্যুতে ভারতবর্ষ এই statesmanship-এর পরিণতির ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
স্বাধীনতা লাভের পর ভারতবর্ষের কিছু লোকের মধ্যে উদ্ধত স্বদেশীয়ানার একটা আত্মকৃত কূপমণ্ডূকত্ব দেখা দিয়েছে। এ রকম এক মনোভাবের সমালোচনায় শ্যামাপ্রসাদের লেখা থেকে একটু তুলে দিচ্ছি। ১৩৫৫ সালের দিল্লীতে প্রবাসী বঙ্গ-সাহিত্য সম্মেলনের অভ্যর্থনা-সমিতির সভাপতির অভিভাষণ থেকে।
“……জাতীয় জীবনে বিচ্ছিন্নতা এবং সংকীর্ণতাই মৃত্যু। সমস্ত পৃথিবীতে জীবনের ধারা বহিয়া চলিয়াছে, তাহার সঙ্গে যোগস্থাপনেই জীবন এবং অগ্রগতি। পিছনে থাকিয়া স্বদেশের সংস্কৃতিকে বিধি-নিষেধের সংকীর্ণ প্রাচীরের মধ্যে আবদ্ধ রাখিতে চাহিলে আমরা শধ, অচলায়তনই গড়িয়া তুলিব। তাই বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের গতি অব্যাহত রাখিতে হইলে অন্য ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে যোগ রাখিতে হইবে, বিদেশের ভাবধারায়ও অবগাহন করিতে হইবে। এই জন্যই বাঙালীকে এখন পূর্বাপেক্ষাও অধিকভাবে ইংরেজী, ফরাসী ইত্যাদি বিদেশী ভাষার সঙ্গে পরিচয় রাখিতে হইবে। এতকাল ভারতীয়দের ইংরেজী শিখিতে হইয়াছিল ইংরেজী রাষ্ট্রভাষা ছিল বলিয়া, কিন্তু বাঙালী ইংরেজী ভাষা এবং সাহিত্য আত্মস্থ করিয়াছে তাহার সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যের জন্য। শুধু চাকরির প্রয়োজনে যে শিক্ষার দরকার ছিল বাঙালী তাহা অপেক্ষা অধিক শিখিয়াছে এবং সে শিক্ষাকে আনন্দে পরিণত করিয়াছে। আজ চাকরির প্রয়োজনে ইংরেজীর মূল্য কমিলেও বাঙালী-প্রতিভার নিকট বিদেশী ভাষা ও সাহিত্যের মূল্য এবং প্রয়োজন কমিতে পারে না। পশ্চিমে যে দ্বার একদিন খুলিয়া গিয়াছিল সে দ্বার যদি আরও প্রসারিত করিতে না পারি তবে স্বাধীনতার সার্থকতা কোথায়?”
কথা নূতন নয়। বিশেষ বাঙলা দেশে। কিন্তু ভাবুকের ভাব যখন কর্মবীরের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় তখন মনে আনন্দ ও আশা জাগে। কিন্তু এ দঃখও মনে চেপে রাখা যায় না যে স্বাধীন ভারতবর্ষকে বিদ্যা ও জ্ঞানের এই আদর্শে গড়ে ওঠার সযোগ-সুবিধার কাজে শ্যামাপ্রসাদ হাত দিয়ে যেতে পারলেন না।
অতুলচন্দ্র গুপ্ত
আষাঢ়, ১৩৬৩
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।