শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/চতুর্থ তরঙ্গ/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



প্রভুদের জমিদার সঙ্গে বিবাদ বিবরণ

ত্রিপদী

কৃষ্ণদাস হরিদাস, আর শ্রীবৈষ্ণবদাস,
তিন প্রভু যুবত্ব সময়।
কৈশোরেতে গৌরিদাস, আর শ্রীস্বরূপদাস,
পঞ্চদেহে এক প্রাণ প্রায়।।
প্রভুদের জমিদার, সূর্যমণি মজুম্দার,
অষ্টমের লাটের সময়।
দুর্ভিক্ষে কষ্ট প্রজার, আদায় না হয় কর,
গোমস্তা ভাবিয়া নিরুপায়।।
সফলাডাঙ্গা কাছারি, চিন্তাকুল হ’য়ে ভারি,
কিসে রক্ষা হবে রাজ্যপাট।
কাছারিতে টাকা নাস্তি, না দিলে অষ্টম কিস্তি,
জমিদারি হ’য়ে যায় লাট।।
গোমস্তা যাইয়া শেষে, বড়কর্তা কৃষ্ণদাসে,
বলিলেন অতি সকাতরে।
আপনার জমিদার, সূর্যমণি মজুম্দার,
এ বিপদে কেবা রক্ষা করে।।
শ্রেষ্ঠ প্রজা আপনারা, দায়ে ঠেকেছি আমরা,
বিপদে দিলাম এই ভার।
এই তালুক সমস্ত, যখনেতে বন্দোবস্ত,
আপনি জামিন ছিলে’ তার।।
বড়কর্তা দিল সায়, কহে কত মুদ্রা দায়,
করিব তাহার উপকার।
মুদ্রা ল’ব সাতশত, গোমস্তা করে শপথ,
পৌষমাস, শুধিব এ ধার।।
গোমস্তার শুনি বাণী, গৃহ হ’তে মুদ্রা আনি,
অমনি দিলেন গোমস্তায়।
গত হ’ল পৌষমাস, দুর্ভিক্ষ হ’ল বিনাশ,
ধার শোধিবারে নাহি যায়।।
উৎপাদন হ’ল ধান্য, ধান্যে ধরা পরিপূর্ণ,
প্রজাগণ হৈল বড় সুখী।
শেষ চৈত্র মাস শুদ্ধ, আদায় বকেয়া শুদ্ধ,
প্রজাদের কর নাহি বাকী।।
কৃষ্ণদাস বড়কর্তা, গোমস্তারে কহে বার্তা,
কড়ার হইল কেন ভ্রষ্ট।
আদায় হইল কর, বাকী না রহিল আর,
ভূস্বামীর নাহি কোন কষ্ট।।
গোমস্তা করে উত্তর, আদায় হ’য়েছে কর,
তোমাদের ধার শোধ দিতে।
রাজার হুকুম নাই, কারণ হ’য়েছে তাই,
বিশেষতঃ ভ্রম মম চিতে।।
এতেক শুনিয়া বার্তা, ক্রোধে কহে বড়কর্তা,
এ নহে সত্যের ব্যবহার।
বিশ্বাসী লোকের স্থলে, হেনরূপ নাহি চলে,
বৃথা হ’ল সত্য অঙ্গীকার।।
শুন বলি মহাশয়, নিবেদি’ তোমার পায়,
কহ গিয়া জমিদার ঠাই।
বৈশাখে কি জ্যৈষ্ঠ মাসে, কিস্তি আদায়ের শেষে,
তখন আমার টাকা চাই।।
ফিরে আসিল গোঁসাই, গোমস্তা শুনিয়া তাই,
কহে গিয়া জমিদার পাশে।
অষ্টমের কিস্তি শেষে, আগামীতে জ্যৈষ্ঠ মাসে,
টাকা দিতে হ’বে কৃষ্ণদাসে।।
জ্যৈষ্ঠ মাস গত হ’ল, আষাঢ় শ্রাবণ গেল,
অষ্টম আদায় হৈল সায়।
ধার নাহি দিল শোধ, বড়কর্তা হ’য়ে ক্রোধ,
গোমস্তার পার্শ্বে গিয়া কয়।।
দায় ঠেকে জমিদার, বিপদ হ’তে উদ্ধার,
ধার করে তোমার দ্বারায়।
হেন দায়ের কারণে, আপনার কথা শুনে,
টাকা দেই মুখের কথায়।।
এখন এরূপ কার্য, আর নাহি হয় সহ্য,
গ্রাহ্য নাহি ধার শোধিবারে।
ত্রেতাযুগে বিভীষণ, বলেছিল যে বচন,
তাই বুঝি ঘটিল আমারে।।
বলিল রামের ঠাই, রামায়ণে শুনি তাই,
রাজত্ব ব্রহ্মত্ব কলি কালে।
রাজা হবে হিংসুক, ব্রাহ্মণ হবে মিথ্যুক,
সেই দুই আমার কপালে।।
যাতায়াতে হ’য়ে ত্যক্ত, সহজে কহিয়া শক্ত,
বিরক্ত হইয়া অতিশয়।
নিজ গৃহে এল ফিরে, কহিলেন সবাকারে,
টাকা নাহি দিল গোমস্তায়।।
প্রবঞ্চনা মহাকষ্ট, ক্ষণে কাঁপে অধরোষ্ট,
টাকা বলে নহে কিছু ক্ষুণ্ণ।
মন্দের হ’ল সূচনা, কহে তারক রসনা,
বিশ্বরূপ ক্রোধে পরিপূর্ণ।।









শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।