শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/চতুর্থ তরঙ্গ/২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



গ্রন্থকারের প্রতি গ্রন্থ লিখিবার আদেশ



পয়ার

মৃত্যুঞ্জয় দশরথ এই দুইজনা ।
বলিলেন লীলামৃত করিতে রচনা ।।
প্রভূর এ শেষ লীলা প্রেমভক্তি দান ।
রচনা করহ শীঘ্র লীলার প্রধান ।।
চরণ ধরিয়া তবে বলিল তারক ।
স্বীকার করিনু আমি তোমার সেবক ।।
অতিদীন অভাজন আমি মূঢ়মতি ।
এ লীলা বর্ণিতে মম না হবে শকতি ।।
একে আমি দীনহীন অক্ষম জঘন্য ।
আমার এ লেখা ভবে কে করিবে মান্য ।।
দুই প্রভ বলে হরিচাঁদে রেখে ভক্তি ।
লিখিতে আরম্ভ কর হবে তোর শক্তি ।।
বিশ্বাস না করিস মোদের কথা ধর ।
লিখিতে পারিবি গ্রন্থ তোরে দিনু বর ।।
মৃত্যুঞ্জয় বলে তুমি শুন মোর সোনা ।
উপাধি দিয়াছি তোরে তারক রসনা ।।
দশরথ বলে বাক্য লঙ্ঘিও না আর ।
মৃত্যুঞ্জয় দিল বর আমার সে বর ।।
আমার রচিত গান আছে তোর শুনা ।
তাতে পদ গাঁথা আছে তারক-রসনা ।।
নিচ জন বলে ভেবে হইলি ব্যাকুল ।
কাঁদা জল বিনে কোথা ফুটে পদ্ম ফুল ।।
মুনি হৈল বিশ্বামিত্র গাধির নন্দন ।
মেনকার সঙ্গে তার হইল মিলন ।।
তাতে জন্মে কন্যা শকুন্তলা নাম ধরে ।
কুরুপান্ডবের আদি ব্যক্ত এ সংসারে ।।
হরিনীর গর্ভে জন্মে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি ।
যার যজ্ঞে চরু জন্মে রামায়ণে শুনি ।।
লোমপাদ রাজার রাজ্যে অনাবৃষ্টি ছিল ।
মুনি আগমনে শেষে ইন্দ্র বরষিল ।।
অযোধ্যায় এসে সেই মুনি যজ্ঞ করে ।
চরু খেয়ে তিন রাজরাণী গর্ভ ধরে ।।
সেই গর্ভে হইলেন রাম অবতার ।
যথা তথা জন্ম কিন্তু কর্ম্ম ধর সার ।।
ব্রহ্মার ঔরষে তিলোত্তমার উদরে ।
বেশ্যাপুত্র বশিষ্ঠ সে ব্যক্ত চরাচরে ।।
যোগ-বশিষ্ঠ রামায়ণ যোগে বসি করে ।
ব্যাস মুনি জন্মে মৎস্যগন্ধার উদরে ।।
চারি বেদ চৌদ্দ শাস্ত্র আঠার পুরাণ ।
বেদব্যাসকৃত জীব বাসনা পুরাণ ।।
কৃষ্ণদাস কবিরাজ লিখেছে আপনি ।
শক্ত্যাবেশ অবতার পৃথু ব্যাস মুনি ।।
তোর কেন ভয় হ’ল করিতে রচনা ।
তোর জন্য তপস্যা করিব দুই জনা ।।
যার কর্ম্ম সেই করাইবে তোরে দিয়া ।
রচনা করহ গ্রন্থ তাহারে ভাবিয়া ।।
এই ভাবে কত দিন গত হ’য়ে গেল ।
পারিব না ভেবে গ্রন্থ লেখা নাহি হ’ল ।।
একদিন দৈব যোগে নিশি অবসানে ।
গোঁসাই গোলক এসে দেখায় স্বপনে ।।
নর হরি রূপ ধরি বুকে হাটু দিয়া ।
বক্ষঃস্থলে দিল হস্ত নখ বাঁধাইয়া ।।
বলে তোরে নখে চিরি করিব খানখান ।
নৈলে “শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত” পুঁথি আন ।।
মৃত্যুঞ্জয় দশরথ বর দিয়াছিল ।
চতুর্ব্বিংশ বর্ষ এই গত হয়ে গেল ।।
পুঁথি যদি না লিখিবি তোর রক্ষা নাই ।
পুস্তক লিখিস যদি ছেড়ে দিয়ে যাই ।।
স্বীকার করিনু আমি লিখিব পুস্তক ।
কেমনে লিখিব আমি মূর্খ অপারক ।।
শুনিয়া গোস্বামী অতি ক্রোধভরে কয় ।
তুই মূর্খ প্রভুর লীলা ত মূর্খ নয় ।।
গোস্বামী বলেন বেটা বুঝে দেখ সুক্ষ্ম ।
তুই মূর্খ মহতের বর নহে মূর্খ ।।
উপাধি দিয়াছে তোরে রসনা বলিয়া ।
এত দিন পরে তাহা গিয়াছে ফলিয়া ।।
কবি গাও কালিয়ার পন্ডিত সমাজ ।
উপাধি দিয়াছে তোরে কবি রসরাজ ।।
হরিবংশে হরিপুত্র গুরুচাঁদ যিনি ।
তিনি দেন উপাধি প্রেমিক শিরোমণি ।।
ডাক্তার উপেন্দ্রনাথ বহুগুনে গুণী ।
তিনি দেন উপাধি সরকার চূড়ামণি ।।
ইতিনার ভট্টাচার্য্য পাড়া হয় গান ।
সুকবি বলিয়া তোরে দিয়াছে আখ্যান ।।
রজত ম্যাডেলে সেই উপাধি লিখিয়া ।
তোমার গলায় সবে দিল ঝুলাইয়া ।।
কেন বল আমি নাহি জানি ব্যাকরণ ।
এখন সাহস ভরে লিখিতে দে মন ।।
যে লেখা যে পড়া জান তাহা উঘাড়িয়া ।
দেশ ভাষা মতে দাও পুস্তক রচিয়া ।।
যুবা বুড়া সবে যাতে বুঝিবারে পারে ।
সেই মত লিখে দাও আমাদের বরে ।।
স্বপনেতে কেহ যদি পুথি করে দান ।
সে জন পন্ডিত হয় পুরাণে প্রমাণ ।।
বিরাজা নামেতে মধু কাণের ভগিনী ।
স্বপনেতে পুথি তোরে দিল আমি জানি ।।
এক দিন স্বপনে সাপের পা দেখিলি ।
সে সব বৃত্তান্ত বাছা কেন ভুলে গেলি ।।
স্বপনেতে এক নারী ঢাকার সহরে ।
হরিচাঁদ স্তবাষ্টক দিয়াছিল তোরে ।।
তোর লেখা স্তব তোরে সেই নারী দিল ।
সেই স্বপ্ন কেন বাছা তোর ভুল হ’ল ।।
আনুকূল্যে গোলোক পাগল চূড়ামণি ।
রচিল তারক সরকার চূড়ামণি ।।









শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।