শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/তৃতীয় তরঙ্গ/৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



প্রভুদের বাল্য খেলা



পয়ার

ফরিদপুর জিলা গ্রাম সফলা ডাঙ্গায় ।
পঞ্চভ্রাতা জন্মিলেন এসে এ ধরায় ।।
প্রভু আগমনে ধন্য হ’ল মত্ত্যপুরী ।
বঙ্গদেশে ধন্য গ্রাম সফলা নগরী ।।
অগ্রগন্য কৃষ্ণ দাস ভজনেতে ।
শুদ্ধ্বাচারী কৃষ্ণ ভক্তে আর্তি বৈষ্ণবেতে ।।
একাদশী উপবাসী তুলসী ভজন ।
শ্রীহরি বাসর হরিব্রত পরায়ন ।।
নাম সংকীর্ত্তন আদি সদা সাধু সঙ্গ ।
অন্তরে মাধুর্য শুধু প্রেমের তরঙ্গ ।।
বৈষ্ণব দাসের মন শুধু বৈষ্ণব সেবায় ।
বৈষ্ণবের সঙ্গে রঙ্গে কৃষ্ণ গুন গায় ।।
প্রভুর অংশেতে জন্ম ভক্তি যুক্ত কায় ।
ভক্তের হইয়া ভক্ত ভক্তি শিখায় ।।
স্বয়ং এর প্রতিজ্ঞা এ চিরদিন রয় ।
ভক্তের হইতে ভৃত্য মোর বাঞ্ছা হয় ।।
জানেনা বৈষ্ণব দাস সাধু সেবা বিনে ।
গৃহেতে বৈষ্ণব দাস সাধু সেবা দিনে ।।
জিজ্ঞাসা করিত মাতা অন্নপূর্ণা ঠাই ।
বলে মাগো আজ তো বৈষ্ণব আসে নাই ।।
বৈষ্ণবের পাক করা লাবড়া ব্যঞ্জন ।
বৈষ্ণব প্রসাদ নিতে বড়ই মনন ।।
বৈষ্ণবে নিঃশ্বাস ছাড়ে হরে কৃষ্ণ বলে ।
তখন আমার মনে আনন্দ উথলে ।।
যার গলে মালা ভালে তিলক ধারন ।
তারে গিয়া করিত বৈষ্ণব সম্বোধন । ।
বালক নিকট যেত বাল্য খেলা লাগি ।
বলে ভাই এস খেলি বৈরাগী বৈরাগী ।।
একত্র হইয়া সব বালকের সনে ।
বলে ভাই ভালো মাটি পাবো কোন খানে ।।
যে স্থানে বিশুদ্ধ মাটি আনিত তুলিয়া ।
অষ্টাঙ্গে লইত ফোঁটা সে মাটি গুলিয়া ।।
বৈষ্ণবেরা যেমন পরিত বহির্বাস ।
তেমতি পরিত নিজ পরিধান বাস ।।
তুলসির চারা আনি করিত রোপণ ।
বলে ভাই হেথা কর নাম সংকীর্ত্তন ।।
হরি বলি বাহুতূলি নাচিয়া নাচিয়া ।
ভুমে দিত গড়াগড়ি মাতিয়া মাতিয়া ।।
নামরসে খেলা বশে মত্ত সুধা পানে ।
গৌরীদাস গুনভাষ কহন না যায় ।
অহরহ বদনেতে হরি গুন গায় ।।
থাকিতেন বৈষ্ণবদাসের হয়ে অনুগত।
বৈষ্ণব দেখিলে হইতেন পদানত ।।
মাতৃ পিতৃ আজ্ঞা মানি করিতেন কায্য ।
ভাতৃগন আজ্ঞা করিতেন শিরধায্য ।।
পৌগণ্ডেতে বালকের সঙ্গেতে মিশিয়া ।
হরি হরি বলিতেন নাচিয়া নাচিয়া ।।
স্বরূপ দাসের বাল্য লীলা চমৎকার ।
পিতৃ সেবা মাতৃ সেবা বিশুদ্ধ আচার ।।
ভাতৃগন আজ্ঞাধীন সদা করে কায্য ।
ভৃত্যবৎ ভ্রাতৃ পরিচরজাদি গাম্ভীর্য ।।
অতিথি বৈষ্ণব পেলে করিত সেবন ।
বালক বৈষ্ণব সঙ্গে নাম সংকীর্ত্তন ।।
অষ্টাবিংশ মন্বন্তরে পুষ্পবন্ত কলি ।
কাঁচা মধু পূর্ণ অফুটন্ত পুষ্প কলি ।।
শ্রীহরি ভাস্কর জ্যোতি তাতে ভাতি দিল ।
পুষ্পবন্ত কলি ‘ফুল্ল’ জগৎ মাতিল ।।
পুষ্পবন্ত কলি ধন্য বৈষ্ণবোপসনা ।
সে রসে রসনা কেন তারক রসনা ।।









শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।