শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/তৃতীয় তরঙ্গ/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



মহাপ্রভুর গোপাল বেশ ধারণ

ত্রিপদী

যখন পৌগণ্ডলীলা, রাখালের সঙ্গে খেলা,
করিতেন গোষ্ঠ গোচারণ।
গোপাল পাল হইতে, বাহুড়ী গেলে দূরেতে,
আবাধ্বনি করিত তখন।।
আবাধ্বনি শ্রুত হ’য়ে, গাভী বৃষভ আসিয়ে,
তৃণ বারি খাইত একত্রে।
প্রভু কহে গাভী এড়ে, যাইতে না পারে এঁড়ে,
বাঁধা আছে অলক্ষিত সূত্রে।।
কখন রাখালগণে, কহিত আনন্দ মনে,
হরিচাঁদ বাঞ্ছাকল্পতরু।
রাখালের প্রাণধন, হে নটবর! রঞ্জন,
নাটুয়া নাচাও দেখি গরু।।
হরিচাঁদ বলে ভাই, তোমাদের জ্ঞান নাই,
গরু নাচে মানুষের বোলে।
রাখালেরা কহে বাণী, আমরা তোমারে মানি,
ওরা মানিবে না কিবা বলে।।
হরিচাঁদ বলে কথা, সকলে আসিয়া হেথা,
ধেনু রাখি, যতেক রাখালে।
মানুষে মানুষ মানে, পশু না’চাব কেমনে,
আমি নহে বাজীকরের ছেলে।।
রাখালেরা বলে বুঝি, নিত্য যে দেখাও বাজী,
বাজীকর তুমি মন্দ নয়।
আবাধ্বনি দিয়া কেন, পালের গোধন আন,
তারা কি ডোরেতে বন্ধ রয়।।
তুমি রাখালের রাজা, আমরা তোমার প্রজা,
মোরা প্রজা ওরা কি প্রজা না।
আমরা বাক্য মেনেছি, নাচা’লে আমরা নাচি,
মোরা নাচি ওরা কি নাচে না।।
আমরা বাথানে থাকি, তব বাক্যে ধেনু রাখি,
পাল হ’তে অন্য ঠাই যায়।
দে, ব’লে দর্প করিলে, অমনি ফিরিয়া চলে,
ফেরে দেখি মোদের কথায়।।
হলধর হাল চাষে, দাপটে ফিরিয়া আসে,
চাষে বৃষে মাঠে ঘাটে রাখা।
রাখালেরা মনঃক্ষুন্ন, ইচ্ছামত পূর্ণব্রহ্ম,
দেখা-দেখা না দেখা না দেখা।।
রাখালের কথা শুনি, রাখালের শিরোমণি,
আবাধ্বনি দিয়া দাঁড়াইল।
পিছে পাঁচনী ঠেকায়ে, পদ পরে পদ দিয়ে,
ফিরাইয়া কবরী বাঁধিল।।
রাখালে বলে ডাকিয়া, নাচ আমারে ঘেরিয়া,
হুকাড়িয়া গোপালে দে হাঁক।
আবাধ্বনি ক’রে ক’রে, সবে ফুকারে ফুকারে,
উচ্চৈঃস্বরে কৃষ্ণ বলে ডাক।।
শুনিয়া রাখাল সবে, কৃষ্ণ বলে উচ্চরবে,
নৃত্য করে ঠাকুরে ঘেরিয়া।
গো-গণের মুখ উচ্চ, উচ্চ কর্ণ উচ্চ পুচ্ছ,
নৃত্য করে নাচিয়া ধাইয়া।।
কখন বা নিজালয়, কখন মাতুলালয়,
করিতেন গোষ্ঠ গোচারণ।
গোষ্ঠেতে দেখিলে সর্প, করিতেন ঘোর দর্প,
ধেয়ে গিয়া করিতেন ধারণ।।
দেখি ঠাকুরের দর্প, পালাইত কাল সর্প,
কোন সর্পে ধরিতেন ফণী।
ঠাকুর পানে চাহিয়ে, সভয় প্রণাম হ’য়ে,
ফিরে দূরে যাইত অমনি।।
কোন ফণী বৃক্ষ পরে, ঠাকুর দেখিলে পরে,
বলিতেন রাখালগণেরে।
এনে দেরে বেত্র শিষ, তোরা অন্তরে থাকিস,
আমি আনি অই ফণী ধরে।।
শিষ অগ্র ফিরাইয়া, তাতে এক গ্রন্থি দিয়া,
ফাঁসি বানাইয়া ধরে ফণী।
ফণী টানিয়া আনিয়া, গোষ্ঠের মাঝেতে গিয়া,
ছেড়ে দিয়া খেলিত অমনি।।
গাইত পদ্ম-পুরাণ, মনসা ভাসাণ গান,
বেহুলার করুণ কাহিনী।
রাখালে দিতেন বলি, আমি সাপ ল’য়ে খেলি,
তোরা নাচ দিয়া হরিধ্বনি।।
হরিচাঁদের শ্রীঅঙ্গ, হেরিয়া কাল ভুজঙ্গ,
আর শুনি মনসার গান।
সর্পের চক্ষের জল, বহি যায় ছল ছল,
রাখালেরা হেরে হতজ্ঞান।।
দেখে রাখালেরা বলে, সাপুড়ে মন্ত্র শিখিলে,
কহ হরি কাহার নিকটে।
ঠাকুর কহিল সর্বে, ওরা যথা ছিল পূর্বে,
ভ্রমণ করেছি তার তটে।।
ওরা বড় ছিল খল, আমি দিনু প্রতিফল,
কাত্যায়নী নাম মন্ত্র গুণে।
দমন করেছি কালী, সেই হ’তে চিরকালি,
দেখে চিনে নাম শুনে মানে।।
নাটু আর বিশ্বনাথ, থাকিত ঠাকুর সাথ,
হরিচাঁদ প্রেমে বড় আর্তি।
যেখানে সেখানে যেত, সঙ্গে সঙ্গে বেড়াইত,
কার্য করে আজ্ঞা অনুবর্তী।।
লইয়া রাখালগণ, করে গোষ্ঠ গোচারণ,
কভু বসে বৃক্ষের ছায়ায়।
আপনি হইয়া রাজা, খেলিতেন রাজা প্রজা,
এদিকে গোধন তৃণ খায়।।
যেই ভাব বৃন্দাবনে, খেলিতেন গোবর্ধনে,
সেই ভাবে এবে গোপালক।
হরিচাঁদ কৃপালেশে, পাগলচাঁদ আদেশে,
হরি লীলা রচিল তারক।।









শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।