শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/দ্বিতীয় তরঙ্গ/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


বাসুদেব ও রামকান্ত বৈরাগীর চরিত্র
কথন ও নৌকা গঠন ও রথ যাত্রা

পয়ার

বাসুদেবে নিতে আ’সে বহু শিষ্যগণ ।
কান্ত বলে না শুনিয়া বলি কি বচন ।।
ইচ্ছাময় বাসু যদি যান ইচ্ছা করি ।
বাসুর হইয়া বাসো[১] যাইবারে পারি ।।
এত বলি বাসুর নিকতে কান্ত গিয়া ।
শিষ্যগণ নিকটেতে বলিত আসিয়া ।।
কাহারে বলিত বাপু যাওয়া হ’বে না ।
আমার পরাণ বাসু কিছু কহিল না ।।
কেহ কেহ আসামাত্র অমনি যাইত ।
কেহ কেহ এলে তারে যাইব কহিত ।।
বাসুদেবে কোলে করি শিষ্য বাড়ী যেত ।
গুণ-গুণ বাসু গুণ সদায় গাইত ।।
বাসুদেব ইচ্ছা করে তরণীতে যেতে ।
কান্তের হইল মন তরণী গঠিতে ।।
চারিজন শিষ্য দিল নিযুক্ত করিয়া ।
বাওয়ালীরা যেতে ছিল বাওয়াল লইয়া ।।
চকে গিয়া দিত বাসুদেবের দোহাই ।
নির্ব্বিঘ্নে বাওয়াল করি এসেছে সবাই ।।
বাসুদেব নৌকা গঠিবেন জানাইল ।
বাওয়ালীরা বড় এক গাছ দিয়া গেল ।।
সেই গ্রামে ভক্ত এক কর্ম্মকার ছিল ।
লাগিল পাতাম প্রেক যত তাহা দিল ।।
তরণী গঠিত হইল জয় জয় ধ্বনি ।
নাম হ’ল বাসুদেবের পান্সী তরণী ।।
নৌকায় চড়িয়া মাত্র যায় দু’ গোঁসাই ।
বাসুদেব রামকান্ত আর কেহ নাই ।।
ছাপ্পর বাঁধিয়া মধ্যে থাকেন বসিয়া ।
রামকান্ত বাসুদেব একত্র হইয়া ।।
পাল তুলে দিত মাত্র দাড়ি মাঝি নাই ।
তরণী চলিত বেগে দেখিত সবাই ।।
বাতাস উজান হ’লে বাঁক ঘুরে গেলে ।
রামকান্ত দাড় বাহে বাসুদেব হা’লে ।।
কতক্ষণ দাড় বেয়ে বলে ওরে বাসো ।
এ সময় আগা নায় একবার এস ।।
এত বলি রামকান্ত পাছা নায় গিয়া ।
হাল ধরে মনো সুখে থাকিত বসিয়া ।।
আগা নায় বাসুদেব দাড়াইয়া আছে ।
দাড় পড়িতেছে নৌকা বেগে চলিতেছে ।।
মাধুর্য্য প্রাচুর্য্য লীলা দেখিত সবায় ।
কেহ কেহ দেখে বাসুদেব দাড় বায় ।।

রামকান্ত ধেয়ে গিয়ে বলে ওরে বসে ।

আদি খণ্ড । - $$. পরিশ্রম হ’য়েছে ছায়ায় এসে রস ॥ বামুকে করিয়া কোলে বলে মনো দুঃখে । ঘামিয়াছে চাদমুখ হাসি নাই মুখে ॥ ওরে বাসো ! তুমি দাড় বহিওনা আর । আমার বক্ষের নিধি বক্ষে রও অামার ॥ . এত বলি বাসুদেবে বসাইয়। বুকে । ঘুম পড় বলিয়। চুম্বিত চাদ মুখে ॥ শিষ্যদের ঘাটে গিয়া ঘোনাইত নাও । বলিত উঠরে বাসে শিষ্যবাড়ী যাও ৷ কান্ত লীলা মধুর, শুনিতে চমৎকার। ভনে শ্রীতারক খেলে জন্ম নাহি আর ॥ e রামকান্তের বাসুদের রথ যাত্ৰা । পয়ার রামকান্ত বাসুদেবে গলাগলী ধরে । শয়ন করিতে-সুখে শয্যার উপরে ॥ এই ভাবে প্রবীণ হইল রামকান্ত । বর্ণনে অতীত লীলা নাহি তার অন্ত ॥ " এদিকে ব্ৰাহ্মণগণ রথযাত্রা করে । , কান্তের হইল মন রথ করিবারে ॥ বঁাশ দিয়া রামকান্ত রথ বানাইল । বশে রথে বাসুদেব উঠিতে ইচ্ছিল ॥ অধিবাস দিনে সব লোক আসে যায় । লোকের সংঘট হ’ল লোকীরণ্য ময় ॥. ব্রাহ্মণের সবে মিলে করে পরামিশে । রথযাত্রা ন হইতে এত লোক অাসে ॥ আমাদের রথে কলা মানুষ হবে না। বৈরাগীর রথে কল্য লোক ধরিবে না ৷ ভাল বলি বাসুদেবে:দিলাম ফিরায়ে । এতেক আম্পৰ্দ্ধা তার বাদ হাট মিলা’য়ে ॥ কল্য প্রতে সবে সিলে গিয়া তার বাড়ী। আর বার বাসুদেবে ল'য়ে এস কাড়ী ॥ প্রভাতে সকল দ্বিজ ক্রোধভরে যায়। জোর করে বাস্বদেবে আনিল আলয় ॥ রামকান্ত বলে মম কি দোষ পাইলে । পরাণ পুতলি বামু কেড়ে নিয়া গেলে ॥ রথে উঠাইয়া দেখিতাম বাসুরাঙ্গে । দেখিতাম বাসুদেব কি রকম সাঙ্গে ॥ বাসুরে লইয়া গেলে আর লক্ষ্য নাই । লয়ে গেলে বাসুরে জগার কাছে যাই ॥ অবশ্ব যাইব আমি জগার নিকটে । দেখি সে বাসুর মত উঠে কিনা উঠে ॥ যাত্রা করে রামকান্ত ক্ষেত্র বাইবারে । " পথে যেতে দৈববাণী হইল তাহারে । ফিরে বাও রামকস্তি যাও নিজালয় । অবশু যাইব রথে মোরা দু’জনায় ॥ অামি বাব আর তব বাসুদেব যাবে । দুজনার রথযাত্রা দেখিবারে পা'বে ৷ শুনে শান্ত রামকান্ত এল আখড়ায় । প্রেমে পুলকিত চিত নাচিয়। বেড়ায় ॥ হাসে কাদে নাচে গায় হাতে দিয়া তালি। ক্ষণে ক্ষণে লম্ফ দেয় দুই বাহু তুলি । ডেকে বলে ভক্তগণে আমি ত দুর্ভাগ। তোমাদের ভক্তি-জোরে’আসিবে সে জগা ॥ উৎকলেতে থাকে জগা বড়ই দয়াল । চলে না জগার রথ না গেলে কাঙ্গাল ॥ কাঙ্গালের বন্ধু জগা কাঙ্গালেব বন্ধু । জগা বাসে। এবার তরা’বে ভবসিন্ধু৷ যাইতে ছিলাম ক্ষেত্রে জগারে আনিতে ॥ পথ মাঝে দৈববাণী হইল দেবেতে ॥ জগা বাদো দুইজন উঠিবে সে বুথে। দেখিব যুগলৰূপ বাসনা মনেতে ॥ ব্রাহ্মণের শালগ্রাম উঠাইয়। রথে । রাথযাত্রা নিৰ্বাহ করিত বিধিমতে ॥ অদ্য তারা বাসুদেবে রথে উঠাইয়া ! নিৰ্বাহ করিল সুখে রথযাত্রা ক্রিয়া ॥ দ্বিজদের রথযাত্র। সকালে হইল । বৈকালে কান্তের রথে বাজার মিলিল । বহু লোক সংঘটন হৈল সেই রথে । এত লোক হইল ধরে না বাজারেতে ॥ খাদ্য বস্তু বাদ্য বস্তু শিল্প পুত্তলিকা। ক্রয় করে যুবা বৃদ্ধ বালক বালিকা ৷ কুস্তকার মৃন্মগ্ন পাত্র মৃন্ময় ছবি । চিত্ৰ ঘট চিত্র পট চিত্র দেব দেবী ॥ কেন৷ বেচা হয় কত কে করে গণন । স্থানে স্থানে হয় হরিনাম সংকীৰ্ত্তন ॥ " অপরাহ্ল হ’ল দিব৷ যমেক থাকিতে । ব্ৰহ্মণের দেখে বাসুদেব নাই রথে ॥








শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।



  1. বাসো অর্থাৎ নৌকা বাহক