শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/দ্বিতীয় তরঙ্গ/২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


মহাপ্রভুর পূর্ব্ব‌ পুরুষদের বিবরণ


দীর্ঘ–ত্রিপদী

নাম ছিল রামদাস,  রাঢ় দেশে ছিল বাস,
তীর্থযাত্রা করি বহুদিন।
স্ত্রী পুরুষ দুই জনে,  শেষে যান বৃন্দাবনে,
কৃষ্ণ প্রেমে হ’য়ে উদাসীন।।
কৃষ্ণ নাম উচ্চারণে,  ধারা বহিত নয়নে,
হেরিলে পবিত্র হয় জীব।
কাশী কাঞ্চী মধুপুরী,  সরস্বতী গোদাবরী,
শান্তিপুর আদি নবদ্বীপ।।
বিষয় সম্পত্তি ত্যজে,  তীর্থ-যাত্রী পদব্রজে,
পরে যান শ্রীচন্দ্রশেখর।
নব গঙ্গা নাম শুনি,  দেখিবারে সুরধনী,
লক্ষ্মীপাশা এল তার পর।।
কৃষ্ণভক্ত শিরোমণি,   সবলোকে ধন্য মানি,
যত্ন করি রাখিল তথায়।
কৃষ্ণ ভকতের সঙ্গে,  প্রেমকথা রসরঙ্গে,
থাকিলেন শ্রীলক্ষ্মী পাশায়।।
চন্দ্রমোহন তার পুত্র,  ক্রমে শুন তার সূত্র,
তার পুত্র সুকদেব নাম।
লক্ষীপাশার উত্তর,  নবগঙ্গা নদী পার,
বাস করে জয়পুর গ্রাম।।
তস্য পুত্র কালীদাস,  বহুদিন কৈল বাস,
তিনি যান পাথরঘাটায়।
রবিদাস নিধিরাম,  কনিষ্ঠ শ্রীজীব নাম,
তিন পুত্র সহিত তথায়।।
সর্ব্বদায় সাধু সেবা,  সংকীর্ত্তন রাত্রি দিবা,
মাঝে মাঝে বাণিজ্য করিত।
যাহা করে উপার্জ্জন,  তাহাতে সাধু সেবন,
ক্ষেত্র কার্য অল্প পরিমিত।।
একদিন কৃষ্ণধ্যানে,  তুলসী বেদীর স্থানে,
বসিয়াছে কালীদাস যিনি।
করে করে মালা জপ,  অপরে কৃষ্ণ আরোপ,
হেন কালে হ’ল দৈব বাণী।।
সাধু সেবা যে দিনেতে,  হ’বে তব ভবনেতে,
এই বিলে আছয় প্রস্তর।
আসিয়া বিলের কূলে,  দাড়াইল হরি বলে,
ভুরি ভুরি উঠিবে পাথর ।।
সে সব পাথর ল’য়ে,  নিজ ভবনেতে গিয়ে,
সাধু সেবা করিও যতনে ।
সাধু সেবা হ’লে পরে,  লইয়ে বিলের তীরে,
সে পাত্র রাখিও পূর্ব্ব স্থানে ।।
এরূপ করেন তিনি,  গ্রাম্য লোক তাই শুনি,
মহৎসব হ’লে কোন ঠাই।
প্রস্তর লইব বলে,   দাঁড়া’ত বিলের কুলে,
দিয়া কালীদাসের দোহাই।।
সেসব পাথর ল’য়ে,  আনিয়া নিজ আলয়ে,
ভোজন করায় লোক সবে।
লোকের ভোজন পরে,  আনিয়া বিলের তীরে,
পাথর রাখিলে যায় ডুবে।।
পুরাতন লোকে জানে,  সেই বিলের দক্ষিণে,
পাবুনে গ্রামের ছিল নাম।
পাথর আসিত ঘাটে,  যে ঘাটে পাথর উঠে,
হইল পাথরঘাটা গ্রাম।।
এক বাটী এক দিনে,  সেসব পাথর এনে,
বহুলোকে ভোজন করায়।


প্রস্তর ঘাটেতে এনে,  রেখে গেল সেই স্থানে,
একখানি পাথর না দেয়।।
সন্ধ্যা হইল উর্ত্তীর্ণ,  সেই পাথরের জন্য,
হুহু শব্দ উঠিতেছে জলে।
বিলের যত পাথর,  সব হয়ে একত্তর,
সেই জল বৃদ্ধি হ’য়ে চলে।।
যে ঘরে পাথর ছিল,  জলেতে ভাঙ্গিয়া নিল,
মধুমতী নদীর মাঝেতে।
দেবশীলা স্বপ্না দেশে,  বলে গেল কালিদাসে,
কলুষ পশিল এ গ্রামেতে।।
সে কালীদাসের সূত,  নিধিরাম জেষ্ঠ্য পুত্র,
তিনি হন পরম নৈষ্ঠিক।
শ্রীনিধিরামের ঘরে,  দুই পুত্র জন্ম ধরে,
মোচন রাম, কনিষ্ঠ কার্ত্তিক।।
জেষ্ঠ্য শ্রীমোচন রাম,  অশেষ গুনের ধাম,
ঠাকুর মোচাই নামে খ্যাত।
সফলা নগরী এসে,  বাস করিলেন শেষে,
পঞ্চ পুত্র ল’য়ে আনন্দিত।।
যশোমন্ত সনাতন,  প্রাণকৃষ্ণ রাম মোচন,
রনকৃষ্ণ এ পাঁচ সন্তান।
সর্ব্ব জেষ্ঠ্য যশোমন্ত,   তার হ’ল পঞ্চ পুত্র,
এ পঞ্চের ঠাকুর আখ্যান।।
এ বংশে জন্মিল যত,  শুদ্ধ শান্ত কৃষ্ণ ভক্ত,
সবে মত্ত হরি গুন গানে।
কৃষ্ণ ভকতির গুনে,  তার এক এক জনে,
সাধু কি বৈষ্ণব সবে মানে।।
এ কয় পুরুষ মাঝে,  মত্ত সাধু সেবা কাজে,
কৃষ্ণ প্রেম ভক্তি নিরবধি।
কেহ বা হ’ল সন্নাসী,  কেহ বৃন্দাবনবাসী,
তাতে বংশে ঠাকুর উপাধি।।
ঠাকুরের এ বংশেতে,  হরি চাঁদ অবনীতে,
করিলেন জনমগ্রহণ।
কহিছে তাঁরকচন্দ্র,  অবতীর্ণ হরিচন্দ্র,
হরি হরি বল সর্ব্বজন।।








শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।