শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/দ্বিতীয় তরঙ্গ/৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


অথ যশোমন্ত চরিত্র কথা


প্রণাম শ্রীযশোমন্ত ঠাকুরের পায় ।
জনমে জনমে যেন পদে মতি রয় ।।
ঠাকুর বৈষ্ণব বলে উপাধি যাহার ।
আমি মূঢ় কিবা গুন বর্নিব তাহার ।।
বৈষ্ণব সঙ্গেতে সাধু কীর্ত্তন করিত ।
ভাবেতে বিভোর হ’য়ে কত ভাব হত ।।
অশ্রু কম্প স্বেদ বীর বীভৎস পুলক ।
লোমকূপ কন্ডু লোম ঈষৎ কন্টক ।।
অষ্ট সাত্ত্বিক দশাতে বাহ্য হারা হ’য়ে ।
প্রেম স্বরে কহিতেন কাঁদিয়ে কাঁদিয়ে ।।
মম দেহগৃহে কৃষ্ণ এইমাত্র ছিল ।
দেখিতে দেখিতে যেন কাহা লুকাইল ।।
কাহারে বাপরে কৃষ্ণ কাহা বলরাম ।
কাহারে আমার সেই শ্রীদাম সুদাম ।।
করুণা করিত সাধু বাৎসল্য প্রকাশি ।
কোন দিন কৃষ্ণ গোষ্ঠে পোহাইত নিশি ।।
শুদ্ধরাগ ভক্তি শুদ্ধ কৃষ্ণ অনুরাগী ।
বৈষ্ণবেরা যশোমন্তে বলিত বৈরাগী ।।
বৈষ্ণব উপাধি বৈষ্ণবের পদ সেবি।
অন্নপূর্ণা মাকে সবে বলিত বৈষ্ণবী ।।
বৈরাগী ঠাকুর আর ঠাকুর বৈষ্ণব ।
এ হেন উপাধিতে হইল জনরব ।।
যত কিছু সংসারেতে করিতেন আয় ।
যত্র আয় তত্র ব্যয় বৈষ্ণব সেবায় ।।
গো-সেবা করিত বহু করিয়া যতন ।
দুই তিন গাভী সদা থাকিত দোহন ।।
ঘৃত বানাইত দধি করিয়া মন্থন ।
বৈষ্ণবেরা দধি দুগ্ধ করিত ভোজন ।।
মন্থন সময় হ’লে বৈষ্ণবাগমন ।
বৈষ্ণবের মুখে তুলে দিতেন মাখন ।।
নির্মল দয়ার্দ্র চিত্ত না মেলে এমন ।
একদিন শুন এক আশ্চর্য্য ঘটন ।।
ভাণ্ডপুরে ঘৃত লয়ে সাধু গেল হাটে ।
ঘৃত বেচিলেন এক দ্বিজের নিকটে ।।
ব্রাহ্মণ বলেন সাধু বৈশ হেথাকারে ।
মূল্যসহ ভাণ্ড দিয়া যাব কিছু পরে ।।
ব্রাহ্মণ এল না ফিরে মূল্য নাহি দিল ।
ঘৃতভাণ্ড লয়ে দ্বিজ পালাইয়া গেল ।।
উত্তীর্ণ হইল সন্ধ্যা হাট ভেঙ্গে যায় ।
নির্জ্জনে বসিয়া সাধু কৃষ্ণগুণ গায় ।।
গৃহেতে পশিয়া সাধু মৌন হ’য়ে রয় ।
ঠাকুরাণী বলে হাট বেসাতি কোথায় ।।
কোথায় ঘৃতের ভাণ্ড কিছুই না দেখি ।
কি হয়েছে ওহে নাথ বসিয়া ভাব কি ।।

লবণ তামাক পান কিছু না আনিলে ।
কি উপায় হ’বে সাধু বৈষ্ণব আসিলে ।।
সাধু কহে কি বলিব শুন গো বৈষ্ণবী ।
যে দায় ঠেকেছি আমি বসে তাই ভাবি ।।
ঘৃত গেল ভাণ্ড গেল তাতে দুঃখ নাই ।
না হইল হাট করা যদিও না খাই ।।
যা হোক বৈষ্ণব সেবা বৈষ্ণব কৃপায় ।
কর্ম্মবসে যদি দু’দিন উপবাস হয় ।।
যে দায় ঠেকেছি তাহা জানা’ব কাহায় ।
অপরাধে অব্যাহতি পাইব কোথায় ।।
ব্রাহ্মণেতে আমার যে হ’ল অবিশ্বাস ।
এ দায় কোথায় যাই হ’ল সর্ব্বনাশ ।।
আদি অন্ত সে বৃত্তান্ত দেবীকে জানা’ল ।
যে ভাবে ব্রাহ্মণ ঘৃত ভাণ্ড ল’য়ে গেল ।।
ঠাকুরাণী বলে নাথ না ভেব বিস্ময় ।
যবে যে ঘটনা ঘটে ঈশ্বর ইচ্ছায় ।।
ইশ্বর তোমায় যদি বুঝিবারে মন ।
ব্রাহ্মণে দ্বারায় হেন করে নারায়ণ ।।
কেন তাতে দুঃখ ভাব, ভাব বিপরীত ।
ঘটন কারণ ঈশ্বরের নিয়োজিত ।।
এ কথা শুনিয়া সাধু শান্তি পেল মনে ।
তারক স্বভাব যাচে যশোমন্ত স্থানে ।।








শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।