শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/দ্বিতীয় তরঙ্গ/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রামকান্ত বৈরাগীর পূর্ব্বা‌পর
প্রস্তাব-কথন

রামকান্ত মহাসাধু পরম উদার ।
অন্নপূর্ণা মাতাকে দিলেন পুত্র বর ।।
সন্দিপণি দ্বাপরে ত্রেতায় বিশ্বামিত্র ।
কলিকালে গঙ্গাদাস পন্ডিত সুপাত্র ।।
ভারতী গোঁসাই শক্তি হইয়া মিশ্রিত ।
মুক ডোবা রামকান্ত হৈল উদ্ভাবিত ।।
তাহাতে মিশ্রিত হ’ল বাসুদেব শক্তি ।
স্নেহ ভাবে বাসুদেবে করিতেন ভক্তি ।।
বাসুদেবে সমর্পিয়া আত্ম স্বার্থ-আত্মা ।
ব্রজের মাধুর্য্যভাবে করিত মমতা ।।
সাধুর সঙ্গেতে ছিল বাসুদেব মুর্ত্তি ।
কভু সখ্য ভাব কভু ব্রজভাবে আর্ত্তি ।।
ধুপ দীপ নৈবিদ্যাদি আতপ তন্ডুলে ।
পূজিতেন রম্ভা দুর্ব্বা তুলসীর দলে ।।
নিবেদিয়া করিতেন ভোজন আরতি ।
বাসুদেব খাইতেন দেখিত সুমতি ।।
মূলা থোড় মোচা কাচা রম্ভার ব্যঞ্জন ।
আতপের অন্ন দিত না দিত লবণ ।।
ছোলা ডাল মুগ বুট গোধুম চাপড়ী ।
তৈল হরিদ্রা বিনে ঘৃত পক্ক বড়ি ।।
ভোগ লাগাইয়া সাধু আরতি করিত ।
বাসুদেব খেত তাহা চাক্ষুস দেখিত ।।
একদিন গ্রামবাসী বিপ্র একজন ।
বাসুদেব ভোগ রাগ করিল দর্শন ।।
ক্রোধ করি বলে বিপ্র এ কোন বিচার ।
শূদ্রের কি আছে অন্নভোগ অধিকার ।।
শূদ্র হ’য়ে বাসুদেবে অন্ন দিলি রাধি ।
কোথায় শুনিলি বেটা এমত অবিধি ।।

হারে রে বৈরাগী তোর এত অকল্যাণ ।
শূদ্র হ’য়ে হবি নাকি ব্রাহ্মণ সমান ।।
ব্রাহ্মণ কহিল গিয়া ব্রাহ্মণ সকলে ।
শুনিয়া ব্রাহ্মণ সব ক্রোধে উঠে জ্বলে ।।
দশ জন বিপ্র গেল বৈরাগীর বাড়ী ।
ক্রোধভরে বাসুদেবে ল’য়ে এল কাড়ি ।।
বৈরাগী নির্মল চিত্তে দিলেন ছাড়িয়া ।
বলিল রে প্রানবাসু সুখে থাক গিয়া ।।
কাঙ্গালের কাছে তুমি ছিলে অনাদরে ।
আদরে খাইও এবে ষোড়শোপচারে ।।
ভাল হ’ল ব্রাহ্মণেরা লইল তোমারে ।
সুখেতে থাকিবা এবে খট্টার উপরে ।।
দঃখিত দরিদ্র আমি কপর্দ্দক নাই ।
বহু কষ্টে থোড় মোচা তোমারে খাওয়াই ।।
দধি দুগ্ধ ঘৃত মধু পায়স পিষ্টক ।
লুচি পুরি মন্ডা খেও যাহা লয় সখ ।।
চির দিন রাখিয়াছি ব্রাহ্মণের মান ।
যাও যাও বিপ্র ঘরে নাহি অপমান ।।
আমি অজ্ঞ নাহি জানি তোমারে পূজিতে ।
এখন পূজিবে তোমা মন্ত্রের সহিতে ।।
যেখানে সেখানে থাক তাতে ক্ষতি নাই ।
তুমি যেন সুখে থাক আমি তাই চাই ।।
ব্রাহ্মণেরা বাসুদেবে ল’য়ে হরষেতে ।
বাসুদেবে অভিষেক করে তন্ত্রমতে ।।
কেহ বলে রাখ দেবে প্রতিষ্ঠা করিয়ে ।
জাতি নেশে নমঃশূদ্রের পক্ক অন্ন খেয়ে ।।
প্রতিষ্ঠা করিয়ে পঞ্চ গব্য দ্বারে স্নান ।
অভিষিক্ত করিয়া মণ্ডপে দিল স্থান।।
খাট্টার উপরে রজতের পদ্মাসন ।
তাহার উপরে দেবে করিলা স্থাপন ।।
শ্বেতপদ্ম রক্তপদ্ম শতদল পদ্ম ।
নীলপদ্ম স্থলপদ্ম কোকনদ পদ্ম ।।
গোলাপ টগর আর পুষ্প জাতি জুতি ।
গন্ধার অপরাজিতা মল্লিকা মালতী ।।
গন্ধরাজ সেফালিকা ধবল করবী ।
কৃষ্ণকেলী কৃষ্ণচূড়া কামিনী মাধবী ।।
দূর্ব্বা তুলসীর পত্র অগুরু চন্দন ।
শ্রীঅঙ্গে লেপন আর শ্রীপদ সেবন ।।
মন্ত্রপুত করি পরে তন্ত্র অনুসারে ।

ভোগাদি নৈবেদ্য দেন নানা উপহারে ।।

আতপ তন্ডুল ভোগ দেয় যে কখন ।
যেখানে যে মিষ্ট ফল পায় যে ব্রাহ্মণ ।।
আনিয়া লাগায় ভোগ বাসুদেব ঠাই ।
রন্ধনশালান্য ভোগ সুপক্ক মিঠাই ।।
সব দ্বিজ বাসুদেবের ভক্ত হইল ।
পূজারি ব্রাহ্মণ এক নিযুক্ত করিল ।।
সন্ধ্যাকালে ঘৃত দ্বীপ পঞ্চ বাতি জ্বালি ।
আরতি করেন সব ব্রাহ্মণমণ্ডলী ।।
শঙ্খ ঘন্টা কংশ করতাল ঝাঁজ খোল ।
রাম শিঙ্গে ভেরী তুরী মধুর মাদল ।।
এই রূপে বাসুদেব ব্রাহ্মণের পূজ্য ।
আর এক লীলাগুণ বড়ই আশ্চর্য্য ।।
এই বাসুদেব জন্ম সফলা নগরী ।
তারক রসনা ভরি বল হরি হরি ।।








শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।