শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/দ্বিতীয় তরঙ্গ/৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


{{center|

রামকান্তের বাসুদেব দর্শন

দীর্ঘ ত্রিপদী

ভিক্ষা করে রামকান্ত,   মনেতে চিন্তা একান্ত ,
মম বাসুদেব আছে সুখে।
পূজা করে দ্বিজগণে,  অনেক দিন দেখিনে ,
আমার বাসুরে আসি দেখে॥
ইহা ভাবি মনে মনে,  দ্বিজগণ অদর্শনে ,
মণ্ডপের পিছে গিয়া রয়।
আমি নাহি দিব দেখা,  গোপনে রহিব একা ,
দেখি বাসু কিভাবে কি খায়॥
দক্ষিণাভিমুখ হ’য়ে,   বাসুদেব দণ্ডাইয়ে ,
সর্ব্বদাই মন্ডপেতে রয়।
পূজক ব্রাহ্মণ গিয়া,  মন্ডপ-দ্বার খুলিয়া ,
উত্তরাভিমুখ দেখতে পায়॥
পূজক ব্রাহ্মণ কয়,  কে এসে ঠাকুরালয় ,
ঠাকুর ফিরায়ে রেখে গেল।
কপাট নাহি খুলিল,  মন্ডপেতে কে আসিল ,
বাসুদেব কেন হেন হ’ল॥
কেহ বলে দ্বার রুদ্ধ,   কার হেন আছে সাধ্য ,
ঘরে এসে ফিরায় দেবলা।
তবে যে ফিরিল কেনে,  দেবমায়া কেবা জানে ,
কি জানি কি ঠাকুরের লীলা॥
ঠাকুরের ভোগ দিতে,  ভোগ রাগ সমাধিতে ,
দিবা দুই প্রহর সময়।
}}

রন্ধন করি শাল্যন্ন,  ঘৃত মিশ্রিত ব্যাঞ্জন ,
ডাল্‌না শাক শুক্ত লাবেড়ায়॥
দক্ষিণ মুখ করিয়ে,  ঠাকুরে ফিরায়ে ল,য়ে ,
পুরোহিত বসিল পূজায়।
তাম্র রজতের পাতে,  কতই মিষ্টান্ন তাতে ,
লিখিতে পুস্তক বেড়ে যায়॥
নয়ন মুদ্রিত ক,রে,  ভোগ নিবেদিল পরে ,
ভোগ রহে বাসুদেব পিছে।
যবে নয়ন মেলিল,  পূজক দেখিতে পেল ,
বাসুদেব ফিরিয়া রয়েছে॥
বক্ষ দেশে হস্ত দিয়া,  বাসুদেবকে ধরিয়া ,
দক্ষিণ মুখ করিতে চায়।
বাসুদেব নাহি ঘুরে,  বিপ্র ডাকে উচ্চৈঃস্বরে ,
কে তোরা দেখিবি আয় আয়॥
বাসুদেব ফিরে গেল,  উত্তর মুখ রহিল ,
ফিরাইলে আর নাহি ফিরে।
হইনু আশ্চর্য্যান্বিত,  অকস্মাৎ বিপরীত ,
না জানি কি অমঙ্গল করে॥
সে বানী শুনি তরাসে,  চারি পাঁচ বিপ্র এসে ,
কেহ যায় মন্ডপের পিছে।
এক বিপ্র তরাসেতে,  দেখে গিয়া স্বচক্ষেতে ,
রামকান্ত গোপনেতে আছে॥
বিপ্র বলে দফা সারা,  কার বাসুদেব তোরা ,
জোর করে এনেছিস সবে।
যার ভক্তি তার হরি,  মোরা যে গৌরব করি ,
সে কেবল ব্রাহ্মণ গৌরবে॥
যার বাসুদেব এই,  উদয় হইল সেই ,
সাধু পানে কেন নাহি চাও।
মূল মর্ম্ম নাহি জান,  দেবলা ধরিয়া টান ,
জোর করে দেবতা ঘুরাও॥
এক বিপ্র ক্রোধ ভরে,  রামকান্তে নিল ধরে ,
মন্ডপের সম্মুখেতে রাখি।
বিপ্র বলে যদি আ’লি,  সম্মুখে কেন না ছিলি ,
পিছে থেকে করেছ বুজরুকি॥
যদি নিজ ভালো চাও,  শীঘ্র করে উঠে যাও ,
শুনি রামকান্ত চলে গেল।
ভোগ রাগ লাগিবে কি,  বৈরাগীর ভোজ ভেল্কি ,
বাসুদেব সদ্ভাব হইল॥
কান্ত লীলা চমৎকার,  যেন অমৃতের ধার ,
কর্ণ ভরি পিও সাধুজন।
ওঢ়াকাঁদি অবতীর্ণ,  নমঃশূদ্র কূল ধন্য ,
রসনা, রসনা কি কারণ॥