শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/দ্বিতীয় তরঙ্গ/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


শ্রীশ্রীবাসুদেবজীর স্নান যাত্রা

দীর্ঘ ত্রিপদী

জগন্নাথ স্নানযাত্রা,  ব্রাহ্মণেরা একত্রতা ,
হ’ল সবে স্নানের কারণ ।
গিয়া পুকুরের ঘাটে,  বাসুদেবে রেখে তটে ,
করে জলকেলী সংকীর্ত্তন ।।
ঝাঁজ শঙ্খ ঘন্টা ধ্বনী,  কুলবতীর হুলুধ্বনী ,
সুগন্ধি কুসুম ফেলাফেলি ।
বাসুদেবে ল’য়ে কোলে,  নামি পুষ্করিনী জলে ,
সব মেলি করে জলকেলি ।।
বাসুদেব ছিল কোলে,  কোল হ’তে নামি জলে ,
ছল করি লুকাইয়া রয় ।
সে বিপ্র জলে নামিয়া,  বাসুদেবে হারাইয়া ,
আর নাহি অন্বেষিয়া পায় ।।
বিপ্র বলে কিবা হ’ল,  বাসুদেব কোথা গেল ,
ডুব দিল না পাই খুজিয়া ।
সব দ্বিজ তাহা শুনি,  জলে ডুবয়ে অমনি ,
খুজিতেছে ডুবিয়া ডুবিয়া ।।
যত ছিল প্রেমানন্দ,  সব হ’ল নিরানন্দ,
জলে হারাইয়া বাসুদেব ।
কেহ বলে হায় হায়,  কোথা বাসুদেব রায় ,
কেহ কাঁদে হাহাকার রবে ।।
কূলে তার বক্ষঃদেশ,  মধ্যে তার গলদেশ ,
পুকুরের বারি পরিমাণ ।
পুকুরের অল্প জলে,  বাসুদেব লুকাইলে ,
কি হ’ল কোথায় অন্তর্ধান ।।
গ্রামের ব্রাহ্মণ মাত্র,  সকলে হয়ে একত্র ,
বাসুদেবে অন্বেষণ করে ।
হয়ে এল সন্ধ্যাকাল,  ডুবাইয়া চক্ষু লাল ,
হাহাকার করে উচ্চৈঃস্বরে ।।
কেহ বলে অমঙ্গল,  কেহ বলে হরিবোল ,
কেহ বলে রামকান্তে কও ।
তার বাসুদেব এনে,  জোর করে রাখ কেনে ,
সে কারণ অপরাধী হও ।।
যে দিনে ফিরিয়া ছিল,  হইত না অমঙ্গল ,
তার বাসুদেব তারে দিলে ।

মোদের থাকিলে ভক্তি,  কেন বাসুদেব মূর্ত্তি ,
ছল করি ডুব মারে জলে ।।
দ্বিজগণ সকাতর,  জাগরণে নিশি ভোর ,
রামকান্তে সংবাদ জানায় ।
স্নান করাবার তরে,  বাসুদেবে লয়ে নীরে ,
হারা’লেম বাসুদেব রায় ।।
রামকান্ত ধীরে ধীরে,  গিয়া পুকুরের তীরে ,
অতঃপর জলে নামিলেন ।
জলমধ্যে দণ্ডাইয়া,  বাসুদেবের লাগিয়া ,
পদ দিয়া তল্লাস করেণ ।।
ব্রাহ্মণেরা বলে রাগী,  দুরাচার রে বৈরাগী ,
পা দিয়া তালাসে বাসুদেবে ।
মুনি ঋষি করে ধ্যান,,   ব্রহ্মা করে ব্রহ্ম জ্ঞান ,
কমলা যাহার পদ সেবে ।।
বাসুদেব কক্ষমধ্যে,   রামকান্ত বামপদে ,
ঠেলে ফেলে পুকুরের পার ।
হাতে ধরি লয়ে কোলে,  বাসুদেবে ডেকে বলে ,
হারে বাসু কি মন তোমার ।।
ব্রাহ্মণের বাড়ী রহিবা,  কিম্বা মম সঙ্গে যা’বা ,
হাস্য মুখে কহত আমায় ।
বাসুদেব হাস্য করে,  দ্বিজগণ সবে হেরে ,
হাসি লুকায় বিদ্যুতের ন্যায় ।।
রামকান্ত কুতুহলে,  দ্বিজগণে ডেকে বলে ,
বাসুদেব আমার দেবলা ।
না রহিবে দ্বিজালয়,  মোর সঙ্গে যেতে চায়,
আমার যে হ’তে চায় চেলা ।।
ব্রাহ্মণেরা ছিল রুষী,  দেবলা মুখেতে হাসি ,
দেখে আর নাহি সরে বাক ।
বলে ওরে রামকান্ত,  তোর ভকতি একান্ত ,
তোর বাসু তুই নিয়া রাখ ।।
বাসুদেব রামকান্ত,  মহিমার নাহি অন্ত ,
লীলামৃত মাধুর্য্যের সার ।
পাগলচন্দ্র আদেশে,  হরিচাঁদ কৃপালেশে ,
কহে কবি রায় সরকার ।।








শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।