শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/প্রথম তরঙ্গ/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টেমপ্লেট ত্রুটি: দয়া করে খালি প্যারামিটার অপসারণ করবেন না (শৈলীর নির্দেশিকা টেমপ্লেটের নথি দেখুন)।

যম কলি প্রভাব গ্৷৷্থালোচনা

পুন প্রেম প্রচারিতে হইল মনন।
সে কারণ হ’ল যশোমন্তের নন্দন।।
যদি বল গৌরাঙ্গের প্রেম তুচ্ছ নয়।
সে প্রেম শোষিবে কেন৷৷লির মায়ায়।
তার সাক্ষী ভাগবতে আছয় প্রমাণ।
রাজা পরীক্ষিত স্নান করিবারে যান।।
বৃষরূপে ছিল ধর্ম্ম দাড়িয়া তখন।
মুদগর লইয়া কলি ভেঙ্৷৷ছে চরণ।।
হেনকালে বসুমতী সুরভীরূপেতে।
কেঁদে কেঁদে কহে ডেকে রাজা৷৷রীক্ষিতে।।
অই কলি অই ধর্ম্ম এই আমি ক্ষিতি।
রক্ষা কর বিপদে ধার্ম্৷৷ক নরপতি।।
কলিকে ধরিয়া রাজা চাহিল কাটিতে।
স্মরণ হইল কলির প্রাণে৷৷ভয়েতে।।
রাজা বলে না রহিবি মম অধিকারে।
চারিস্থান চাহি নিল কলি ৷৷িহারে।।
স্বর্ণকার দোকান অপর বেশ্যালয়।
সুরাপান জীবহত্যা যে যে৷৷নে হয়।।
চারিঠাই পেয়ে কলি পাইল আহ্লাদ।
ভাবে সর্ব্ব ঠাই হ’ল আম৷৷ প্রসাদ।।
বেশ্যালয় যায় কেহ করে সুরা পান।
যদি কোন মহাজন সে পথে৷৷া যান।।
ব্যাসের কলম সাক্ষী বেশ্যা বলি কারে।
পঞ্চ সঙ্গ করে নার৷৷বেশ্যা বলি তারে।।
অনেকেই জীব হত্যা করেছে সদায়।
মৎস্যমৃগ পক্ষী সেকি জীব৷৷ধ্যে নয়।।
ধনবান হ’লে যাবে স্বর্ণকার ঠাই।
দোকন স্পর্শিলে কলি তাহ৷৷কি এড়াই।।
ইহাতেও যদি কেহ না ভুলে মায়ায়।
রসিকের ধর্ম্ম দিয়া অ৷৷কে মজায়।।
তার সাক্ষী শ্রীগৌরাঙ্গ ধর্ম্ম যবে দিল।
চিত্রগুপ্ত ত্র৷৷তচিত্ত খাতা ফেলাইল।।
মৌন হ’য়ে বসিলেন যম মহাশয়।
কাম ক্রোধ ষড়ঋপু হইল উদয়৷৷
যার যার প্রাদুর্ভাব জানাইল তাই।
সবে কহে যম অধিকার যায৷৷নাই।।
সে সব লিখিতে গেলে পুথি বেড়ে যায়।
সংক্ষেপে লিখিব কিছ৷৷শাস্ত্রে যাহা কয়।।
কাম বলে মহারাজ চিন্তা কি তোমার।
আমি ভরি দিব তব দক্ষিণ৷৷ দ্বার।।

শ্লোক
কা চিন্তা ভো মৃত্যুপতে অহং প্রকৃতি ভবান্‌।
শোষ৷৷ং শোষিতং প্রেম চৈতন্যং কিং করিষ্যতি।

পয়ার
শোষিব শোষিব প্রেম প্রকৃতি হইয়া।
কি করিতে পারে একা চৈতন্য আসিয়া।।
বলে কলি শুন বলি ধর্ম্ম নরমণি।
আমি দিব গৌরাঙ্গের সব ভক৷৷ আনি।।
ধরিব বৈরাগ্য বেশ মুখে রেখে দাড়ি।
ভেকধারী সাধু হ’য়ে ৷৷রিব বাড়ী বাড়ী।।
চৈতন্যের তত্ত্ব যাতে সুযুক্তি বিধানে।।
যম কলি প্রভাব ৷৷গ্রন্থ বিরচিত।
জীব গৌঁসাই সেই গ্রন্থ ৷৷স্বামী লিখিত।।

নানা মত করি কলি জীব ভুলাইল।
শাস্ত্র ছাড়া মত কত কলি দেখাইল।।
মাতা পিতা না মানে না মানে গুরুজন।
নারী বাধ্য পিতা করে পুত্রে বিসর্জ্জন।।
আর দেখ গৌরাঙ্গের মত যত ছিল।
তাহার মধ্যেতে কলি কত মত দিল।।
গৌরাঙ্গের মত প্রায় লোপ হ’য়ে যায়।
নরোত্তম শ্রীনিবাস এসে এ সময়।।
দুই প্রভু শেষ লীলা করিল উজ্জ্বল।
মধুর মাধুর্য্য প্রেম প্রকাশি সকল।।
আবার হইল লোপ কলির মায়ায়।
গোস্বামীর ধর্ম্ম বলি বিপথ লওয়ায়।।
প্রকৃতি হইয়া প্রেম করিল শোষণ।
চমকিত হইল যত সাধকের গণ।।
বীরভদ্র প্রিয়শিষ্য চারিজন ছিল।
প্রতিজ্ঞা করিয়া তারা কহিতে লাগিল।।
যথাকার বিন্দু মোরা তথায় পাঠাব।
প্রকৃতির স্থানে বিন্দু কিছু না রাখিব।।
বনচারী, অখিলচাঁদ সেবা কমলিনী।
হরিগুরু এই চারি সম্প্রদায় জানি।।
পূর্ব্ব পূর্ব্ব মহাজন যে ধর্ম্ম যাজিল।
বিরভদ্র সেই ধর্ম্ম শিষ্যে জানাইল।।
প্রকৃতি আশ্রয় করি সিদ্ধি প্রাপ্ত হ’ল।
সে কারণ চারিজন প্রতিজ্ঞা করিল।।
আধুনিক সেই ধর্ম্ম শুনিয়া শ্রাবণে।
প্রকৃতি আশ্রয় লোভে শিক্ষাগুরু জানে।।
গৃহধর্ম্ম ত্যাগ করি পচা গৃহী হয়।
করয় প্রকৃতিসঙ্গ ধর্ম্ম নাহি রয়।।
বুঝিতে না পারে ধর্ম্ম করে নারীসঙ্গ।
হাতে তালি দেয় কলি দেখিয়া সে রঙ্গ।।
বিধবা হইলে কোন যুবতী রমণী।
গর্ভবতী হ’লে তারে ভেক দেয় আনি।।
পচাগৃহী শিষ্য করি রাখে যে তাহারে।
সেই গর্ভে পুত্র হ’লে সেবাইত করে।।
জাতিতে বৈরাগী তার হয় পরিচয়।
করতালি দেয় কলি দেখিয়া তাহায়।।
শ্রীগৌরাঙ্গ প্রভু যবে প্রেম প্রচারিল।
সভক্তি দুর্ল্লভ প্রেম জীবে শিক্ষা দিল।।
চারিং চিরাৎ যেই প্রেম ছিল অনর্পিত।
বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত প্রেম নামের সহিত।।

বিলাইল সেই প্রেম নামরসে মাখা।
তাহা দেখি চিত্রগুপ্ত ছেড়ে দিল লেখা।।
যমরাজা ছাড়ে ধর্ম্মাধর্ম্মের বিচার।
অবসর হ’য়ে কহে গেছে অধিকার।।
তাহা শুনি কলিরাজ ছয় রিপু লয়ে।
যমচিত্রগুপ্ত স্থানে উত্তরিল গিয়ে।।
কলিরাজা ডাকে মহামায়াকে স্মরিয়া।
মহামায়া এল কলি সাপক্ষ হইয়া।।
কলি কহে ধর্ম্মরাজ কেন অবসর।
চিত্রগুপ্ত লেখা ছাড়ে কেমন বর্ব্বর।।
চিত্রগুপ্ত বলে খাতা রাখিব কি জন্য।
লেখা পড়া দুটা মোর পাপ আর পূণ্য।।
পাপ গেল পূণ্য গেল লেখা গেল মোর।
এবে কি লিখিব যা বিধির অগোচর।।
যম কহে অধিকার গিয়াছে আমার।
পাপ পূণ্য শূন্য কার করিব বিচার।।
কলি কহে মম অধিকার যদি রয়।
তোমার এ অধিকার থাকিবে নিশ্চয়।।
লোভ কহে আমি লোভাইব সব সাধু।
প্রেমমধ্যে দেখাইব নারী মুখবিধু।।
এককালে লোভাইব বৈরাগী সকল।
পঞ্চ রসিকের ক্রিয়া দিয়া নারী কোল।।
গৌরাঙ্গের সঙ্গে হরি কীর্ত্তন ভিতরে।
নারী আর পুরুষ মাতাব একেবারে।।
দুইরূপ বৈরাগীরা গৌড়িয়া বাতুল।
জাতি লয়ে দলাদলী ভুলাইব মূল।।
মদ কহে মাৎসর্য্য জন্মাব দম্ভ সহ।
নামে প্রেমে মন মজা’তে নারিবে কেহ।।
কাম কহে বৈস গিয়া তব রাজপাটে।
তব অধিকার দিব প্রেম নিব লুটে।।
মহাজনী পথবলি দেখাইব পথ।
চৈতন্যের মত ছাড়ি ডুবিবেক সৎ।।
শিবের চৌষাট্টি নিশা দ্বাদশ পাগল।
ইহাদিকে লইয়া বলা’ব হরিবোল।।
পরাৎপর ব্রজরস প্রভু নিজ ধর্ম্ম।
বেদাতীত গূঢ়ত্ব যা বিধির অগম্য।।
তাহা দেখাইয়া ভুলাইব কতগুলি।
নারী লুব্ধ করাইব মজা’ব সকলি।।
শ্রীনিবাস চৈতন্যের মত গোড়াইব।
তার মধ্যে অন্য অন্য মত চালাইব।।

সেইমত মাতাইব সকল জগৎ।
চৈতন্যের মত ছাড়ি ডুবিবেক সৎ।।
সংঘট ঘটাব মঙ্গল আর শনিবারে।
বার বার বার বানাইব বারে বারে।।
বিল্ববৃক্ষ তুলসী মাহাত্ম্য লোপাইব।
হিজলিকা শড়া জিকা বার সাজাইব।।
চৈতন্যের মত বারে করিব আশক্ত।
মজাইব চৈতন্যের আত্মসুখী ভক্ত।।
মাধু্র্য্যের ভক্তে মোর নাই অধিকার।
ঐশ্বর্য্য ভক্তির ভক্তে দিব ছার খার।।
রোগাভক্তি করাইয়া মাতাইব সব।
এদিকেতে করিব রোগের প্রাদুর্ভাব।।
মত প্রচারিয়া মোর মতে আকর্ষিয়া।
তোমার দক্ষিণ দ্বার দিব পোষাইয়া।।
হ্রদে দহে তড়াগে প্রয়াগ প্রচারিব।
কূপে গঙ্গা প্রচারিয়া তীর্থ বানাইব।।
কূলজার কূলাচার ধর্ম্ম নষ্টাইব।
বিধিভক্ত নৈষ্ঠিকের ধর্ম্ম ভ্রষ্টাইব।।
প্রচারি পৈশাচী সিদ্ধি সাধুত্ব জানাইব।
ভূতভাবী বর্ত্তমান তাহারে বলা’ব।।
কন্দর্পের দর্পে মোহাইব কতজন।
কিয়ৎক্ষণ মোহাইব মোহান্তের মন।।
কৃষ্ণভক্তি ছাড়ি পৈশাচিক মত ল’বে।
এতে তব অধিকার ক্রমেই বাড়িবে।।
তাহা শুনি যম বলে ধন্য ধন্য কলি।
যম দূত সবে নাচে দুই বাহু তুলি।।
কলি বলে ভক্ত মধ্যে বহুত পাষণ্ড।
বহিরঙ্গ ভক্ত যত সব হ’বে ভণ্ড।।
কূপজলে দেখা’ব আশ্চর্য্য বিভীষিকা।
লোক সংঘটন হবে নাহি লেখাজোখা।।
নদী পার নিব নাবিকের নায় নিয়া।
নাবিক ছাড়িবে কর্ণ অসাধ্য হইয়া।।
গোছাল রুধির ক্লেদ টিপ্পনি তরণী।
মুচির নৌকায় পার হইবে ব্রাহ্মণী।।
হাড়ি মুচি যবন ব্রাহ্মণ আদি করি।
যাতায়াতে ফেলাইব পথ রুদ্ধ করি।।
শ্রাদ্ধোৎসর্গ তণ্ডুল পরশে প্রেম শূন্য।
অজালোম পরশনে ভক্তি হয় চূর্ণ।।
অজারক্ত খাওয়াইব কূপ জলে ধুয়ে।
যাজনিক ব্রাহ্মণের দোকানী বানায়ে।।
তাহার মিষ্টান্ন খাওয়াইব বাজারেতে।
যাতে ভক্তি লোপ হয় তব কল্যাণেতে।।
ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরানে রয়েছে নিশানা।
পাপপূণ্য বসুন্ধরা শস্য জন্মিবেনা।।
গাভি হ’বে দুগ্ধহীন ফলহীন বৃক্ষ।
নদনদী খাল বিল ক্রমে হ’বে শুষ্ক।।
মারুতির ক্রোধ ছিল তাহা কোথা যা’বে।
সেই শাপ মনস্তাপ অবশ্য ভুঞ্জিবে।।
মাতৃ পিতৃ ভাতৃ ভাত খাইবে যাচিয়া।
নরকে মজিবে ধর্ম্ম পালিতে নারিয়া।।
রাবনের চেড়ি করে সীতাকে পীড়ন।
তাহা দেখি কূপিলেন পবননন্দন।।
সেইকালে আছাড়িয়া লইত জীবন।
তাহা না করিল শুনি সীতার বারণ।।
জন্মান্তরে তাহারা হইবে রোগযুক্ত।
তাহারা হইবে সব কূপতীর্থ ভক্ত।।
সধবা বিধবা সব ডুবা’ব সে কূপে।
এইদশা হ’বে হনুমান বীর কোপে।।
নৈষ্ঠিক প্রেমিক ভক্ত পদ শিরে ধরি।
গৌরাঙ্গের হাটে গিয়া বলা’ব হরি হরি।।
না মানিব শিব দুর্গা কৃষ্ণপ্রেমে বাম।
হরিনাম না লইবে বলি মরা নাম।।
এরূপ দুষ্কৃতি কর্ম্মে ধর্ম্ম কর্ম্ম ক্ষয়।
বিস্তারি লিখিতে গেলে পুথি বেড়ে যায়।।
এরূপে বৈষ্ণব ধর্ম্মে পড়ে গেল ত্রুটি।
সেহেতু ঘুচাতে বৈষ্ণবের খুঁটিনাটি।।
যুগে যুগে করে প্রভু ভূ-ভার হরণ।
দুষ্কৃতি বিনাশ আর ধর্ম্ম সংস্থাপন।।
ব্যাসের কলম আছে ভাগবতে শ্লোক।
স্বয়ং এর মুখবাক্য প্রতিজ্ঞাপূর্ব্বক।।

শ্লোক
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্‌।
ধর্ম্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।

পয়ার
বৈষ্ণবের কুটিনাটি খণ্ডন কারণ।
সে কারনে অবতার পুন প্রয়োজন।।
দ্বাপরেতে যদুবংশে অনেক হইল।
নিজ বংশধ্বংসবাঞ্ছা কেন বা করিল।।

আপনি এলেন ভার হরণ করিতে।
ভাবিলেন আরো ভার হ’ল আমা হ’তে।।
যদি বল তারা সতী গান্ধারীর শাপ।
শ্রীকৃষ্ণ ভাবিল কেন মম বংশ পাপ।।
আপনি রাখিতে হরি ব্রাহ্মণের মান্য।
হৃদয় ধরিল ভৃগুমুনি পদচিহ্ন।।
যুধিষ্ঠির রাজসূয় যজ্ঞের সময়।
স্বহস্তে ব্রাহ্মণপদ শ্রীকৃষ্ণ ধোয়ায়।।
দুর্ব্বৃত্ত যদু বালক কারে নাহি মানে।
অহঙ্কারে মত্ত হ’য়ে না মানে ব্রাহ্মণে।।
শাম্বের পেটেতে কেন মূসল বাঁধিল।
কপালে সিন্দুর দিয়া শাড়ী পরাইল।।
পথমধ্যে বসাইল নারী সাজাইয়া।
দুর্ব্বাসাকে কহে সবে কপট করিয়া।।
কহ মুনি এই গর্ভে হ’বে কি সন্তান।
দ্বিজে উপহাস করে এমন অজ্ঞান।।
কৃষ্ণ যারে মানে এরা করে অপমান।
প্রকারেতে অপমান হন ভগবান।।
ইচ্ছা করে ইচ্ছাময় নাশিবারে বংশ।
দুর্ব্বাসা মুনির শাপে যদুকুল ধ্বংস।।
নিম্ববৃক্ষে কৃষ্ণ মরে মারিল অঙ্গদ।
সে তারা সতীর শাপ এই স্থলে শোধ।।
গান্ধারীর শাপে যদি যদুবংশ ক্ষয়।
তবে কেন যদুবংশে বজ্রবীর রয়।।
যদি বল দুর্ব্বাসার শাপে হয় ক্ষয়।
ইচ্ছাময়ের ধ্বংস ইচ্ছা এর অগ্রে হয়।।
দেখিতে দেখার আছে অনেক দ্রষ্টব্য।
মূলে ভূভার হরণ মারণ সুসভ্য।।
তিন যুগে পাষণ্ডীর মস্তক ছেদন।
কলিতে পাষণ্ডী সব নামাস্ত্রে দলন।।
ধন্য ধন্য অবতীর্ণ চৈতন্য নিতাই।
নাম দিয়া উদ্ধারিল জগাই মাধাই।।
সেই নাম প্রেমমধ্যে কলি প্রবেশিল।
প্রকৃতির স্থানে বিন্দু প্লাবিত হইল।।
এই সব কুটিনাটি খণ্ডন কারণ।
জীব উদ্ধারের জন্য হইল মনন।।
সে কারণ অবতার হৈল প্রয়োজন।
সফলা নগরী যশোমন্তের নন্দন।।
সুযুক্তি বিধানে প্রভু অবতীর্ণ হ’ল।
হরিদাস নামে যত ভক্তে শিক্ষা দিল।।
করিবে গৃহস্থধর্ম্ম লয়ে নিজ নারী।
গৃহে থেকে ন্যাসী বাণপ্রস্থী ব্রহ্মচারী।।
ঋতুরক্ষা করিবেক জীব হত্যা ভয়।
কেহ বা পূর্ণ সন্ন্যাসী নিষ্কাম আশ্রয়।।
গৃহধর্ম্ম গৃহকর্ম্ম করিবে সফল।
হাতে কাম মুখে নাম ভক্তিই প্রবল।।
পরনারী মাতৃতুল্য মিথ্যা নাহি কবে।
পর দুঃখে দুঃখ সচ্চরিত্র সদা র’বে।।
অদীক্ষিত না করিবে তীর্থ পর্য্যটন।
মুক্তি স্পৃহা শূণ্য নাই সাধন ভজন।।
এই ভাবে করিবেন জীবের উদ্ধার।
একারণ হৈল যশোমন্তের কুমার।।
কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা ভাগবতের বচন।
যুগে যুগে করিবেন ভূভার হরণ।।
সেকারণ-অবতার হৈল প্রয়োজন।
অবনীতে অবতীর্ণ পূর্ণব্রহ্ম হন।।
অগ্রে পাতকীর শিরোচ্ছেদ ধনু অস্ত্রে।
এ যুগেতে প্রেম দান হরিনাম মন্ত্রে।।
সব যুগে ভূভার হরিল নারায়ণ।
এবে কৃষ্ণভক্ত আদি করিতে শোধন।।
কৃষ্ণ ভক্ত শৌচ আচরণ কুটিনাটি।
শুদ্ধ প্রেম ভক্তি বৈষ্ণবেতে পড়ে ত্রুটি।।
অনেক কারণে হ’ল এই অবতার।
জীবের উপায় শুন্য গতি নাহি আর।।
জীবোদ্ধার প্রেমদান প্রতিজ্ঞা পালন।
অন্নপূর্ণা শচী বাঞ্ছা করিতে পূরণ।।
নারদ পূরাণে- আছে নারদ সংবাদে।
নারদের কাছে হরি কহিলা আহ্লাদে।।

শ্লোক
কলৌ প্রমথসন্ধ্যায়াং লক্ষ্মীকান্তো ভবিষ্যসি।
সন্ন্যাসগৌরবিগ্রহে সান্ত্বয়ে পুরুষোত্তমে।।
শাস্ত্রগ্রন্থ ভাগবত করি সারোদ্ধার।
রচিল তারকচন্দ্র কবি সরকার।।