শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত/আদি খণ্ড/সপ্তম তরঙ্গ/২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



প্রভুর আনারস ভক্ষণ

পয়ার

রাউৎখামার গ্রামে বংশী মহাভাগ।
ঠাকুরের প্রতি তার দৃঢ় অনুরাগ।।
একদিন হাটে গিয়া সে বংশীবদন।
আনারস দেখে হৈল প্রভুর স্মরণ।।
সুমধুর আনারস গোটা দশ কিনে।
সুপক্কটি সেরে রাখে যতনে গোপনে।।
ধান্যের ডোলের মধ্যে কেহ নাহি জানে।
অন্তর্য্যামী প্রভু তাহা জানিলেন মনে।।
বংশীর বাটীতে প্রভু উপস্থিত হ’ল।
একে একে ভক্তগণ আসিয়া মিলিল।।
আনন্দে বলেছে বংশী প্রভু এল ঘরে।
প্রভুর সঙ্গেতে গিয়ে নামপদ করে।।
প্রভু বলে ওরে বংশী আমারে আনিলি।
এতক্ষণ মধ্যে মোরে খেতে নাহি দিলি।।
ব্যস্ত হ’য়ে বংশী তার রমণীরে কয়।
কি দিবা কি দিব বল প্রভুর সেবায়।।
বংশীর স্বভাব ছিল দেখিলে গোঁসাই।
বাহ্য স্মৃতি হারাইত আজ হ’ল তাই।।
বংশীর রমণী যায় পাকশালা ঘরে।
আয়োজন করিল রন্ধন করিবারে।।
প্রভু বলে ওরে বংশী আসা যে আশাতে।
বড় ইচ্ছা হৈল মম আনারস খেতে।।
আনারস গৃহেতে বংশীর মনে নাই।
প্রভু বলে আনারস আন, রস খাই।।
শুনি বংশী রমণীকে ডেকে আনে ঘরে।
বলে আনারস খেতে দাও শ্রীপ্রভুরে।।
আনারস বানাইল মনে করি সাধ।
প্রভুর বাসনা যেটা সেটা র’ল বাদ।।
প্রভু বলে এইগুলি পরিপক্ক কম।
এই আনারসে সেবা না হবে উত্তম।।
বংশীর রমণী কহে হ’য়ে করপুট।
এই আনারসে তবে হোক হরিলুঠ।।
যেইমাত্র বংশীর রমণী করে ব্যক্ত।
কাড়াকাড়ি করিয়া খাইল সব ভক্ত।।
প্রভু বলে এই লুঠে আমি তৃপ্ত নই।
আমার লুঠের যেটা সেটা দিলে কই।।
ইহা বলি মহাপ্রভু বলে আন আন।
আনা আছে দিস নাই না দেয়াটা আন।।
এতবলি অন্তর্যামী উঠিল সত্বর।
লম্ফ দিয়া উঠিলেন ডোলের উপর।।
আনারস হাতে করি দিল আর লম্ফ।
ভূমিতে পড়িল যেন যায় ভূমিকম্প।।
বংশীরে বলেন প্রভু শোন তোরে বলি।
নিজে খাইবার জন্য ভালটা রাখিলি।।
এতবলি প্রভু সেই আনারস ধরে।
কামড়া’য়ে সে ফলের রসপান করে।।
চুষিয়া চুষিয়া খায় মুখ ঊর্ধ্ব করি।
প্রেমানন্দে ভক্তগণে বলে হরি হরি।।
বংশীর নয়ন জল অবিরত ঝরে।
দাঁড়াইয়া দৃষ্টি করে বাক্য নাহি সরে।।
রামচাঁদ বলে প্রভু নিবেদি চরণে।
কল্য ভোগ নিতে হবে আমার ভবনে।।
হরিষে বলেন প্রভু হৈল নিমন্ত্রণ।
প্রাতেঃ উঠি চলিলেন ল’য়ে ভক্তগণ।।
দুই তিন বাটী প্রভু ভোজন করিল।
এমন সময় বেলা প্রহরেক হ’ল।।
পরে লইলেন ভক্ত শ্রীরামলোচন।
কবি কহে হরি হরি বল সর্বজন।।









শাস্ত্রপ্রচার প্রেস,

৫নং ছিদামমুদির লেন , দর্জ্জিপাড়া হইতে

শ্রীকুলচন্দ্র দে দ্বারা মুদ্রিত।