সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা/বর্ণমালা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

সংস্কৃত ব্যাকরণের

উপক্রমণিকা।


বর্ণমালা।

 ১। অ ই উ, ক খ গ ইত্যাদি এক একটীকে বর্ণ ও অক্ষর বলে। বর্ণ সমুদায়ে পঞ্চাশটী। তন্মধ্যে ষোলটী স্বর, চৌত্রিশটী হল্‌। এই পঞ্চাশটী অক্ষরকে বর্ণমালা বলে।

স্বরবর্ণ।

 ২। অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ ৠ ঌ ৡ এ ঐ ও ঔ অং অঃ। এই ষোলটী স্বর। ইহার মধ্যে অ ই উ ঋ ঌ এই পাঁচটী হ্রস্ব। আ ঈ ঊ ৠ ৡ এ ঐ ও ঔ এই নয়টী দীর্ঘ। অবশিষ্ট দুইটীর মধ্যে প্রথমকারটী অনুস্বার শেষেরটী বিসর্গ। এক বিন্দু অর্থাৎ ইহার নাম অনুস্বার; দুই বিন্দু অর্থাৎ ঃ ইহার নাম বিসর্গ। অন্য স্বরবর্ণের সহিত যোগ না করিলে অনুস্বার ও বিসর্গ এই দুয়ের উচ্চারণ হয় না; এই নিমিত্ত অকারের সহিত যোগ করিয়া লিখিত হইয়াছে।

হল্‌ বর্ণ।

 ৩। ক খ গ ঘ ঙ, চ ছ জ ঝ ঞ, ট ঠ ড ঢ ণ, ত থ দ ধ ন, প ফ ব ভ ম, য র ল ব, শ ষ স হ, ক্ষ। এই চৌত্রিশটী হল্‌। তন্মধ্যে ক খ গ ঘ ঙ, কবর্গ; চ ছ জ ঝ ঞ চবর্গ; ট ঠ ড ঢ ণ, টবর্গ; ত থ দ ধ ন, তবর্গ; প ফ ব ভ ম, পবর্গ। য র ল ব, শ ষ স হ, ক্ষ এই নয় বর্ণের বর্গ বিভাগ নাই। তন্মধ্যে য র ল ব ইহাদিগকে অন্তস্থ বর্ণ বলে। শ ষ স হ ইহাদের নাম উষ্মবর্ণ। ক আর মুর্দ্ধন্য ষ এই দুই বর্ণে মিলিত হইয়া ক্ষ হয়; এই নিমিত্ত অনেকে ইহাকে স্বতন্ত্র বর্ণ বলিয়া গণনা করে না।

 ৪। অগ্রে কিম্বা পরে এক স্বর না থাকিলে হল্‌ বর্ণের উচ্চারণ হয় না। যথা ইক্‌। পূর্ব্বে ই আছে বলিয়া ক্‌ উচ্চারণ করা গেল। অথবা পরে ই থাকিলেও ক্‌ উচ্চারণ করা যায়; যথা কি। এইৰূপ ঋক্, কৃ। যখন হল্‌ বর্ণ স্বরের সহিত মিলিত না থাকে তখন উহার নীচে ্‌ এই চিহ্ন থাকে। যদি এই চিহ্ন অথবা ই উ ইত্যাদি স্বর মিলিত না থাকে, তাহা হইলে বুঝিতে হইবেক তাহাতে অ যুক্ত আছে। যেমন ক খ ইত্যাদি।

 ৫। হল্‌ বর্ণের মধ্যে স্বর না থাকিলে দুই তিন হল্‌ বর্ণ একত্র মিলিত হয়। এইৰূপে দুই অথবা তিন হল্‌ বর্ণ মিলিত হইলে তাহাকে সংযুক্ত বর্ণ কহে। যথা ক ন্ম স্ব ক্ষ্য ইত্যাদি। ক্ র মিলিত হইয়া ক্র হইয়াছে; কিন্তু যদি ক এই বর্ণের পর অ থাকিত তাহা হইলে ক্র না হইয়া কর হইত।

বর্ণের উচ্চারণ স্থান নিয়ম।

 ৬। অ আ ক খ গ ঘ ঙ হ ইহাদের উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে কণ্ঠ্য বর্ণ বলে।

 ৭। ই ঈ চ ছ জ ঝ ঞ য শ ইহাদের উচ্চারণ স্থান তালু; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে তালব্য বর্ণ কহে।

 ৮। ঋ ৠ ট ঠ ড ঢ ণ র ষ, ইহাদের উচ্চারণ স্থান মুৰ্দ্ধা অর্থাৎ মস্তক; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে মুৰ্দ্ধন্য বর্ণ কহে।

 ৯। ঌ ৡ ত থ দ ধ ন ল স, ইহাদের উচ্চারণ স্থান দন্ত; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে দন্ত্য বর্ণ কহে।

 ১০। উ ঊ প ফ ব ভ ম, ইহাদের উচ্চারণ স্থান ওষ্ঠ; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে ওষ্ঠ্য বর্ণ কহে।

 ১১। এ ঐ, ইহাদিগের উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ ও তালু এই নিমিত্ত ইহাদিগকে কণ্ঠতালব্য বর্ণ কহে।

 ১২। ও ঔ, ইহাদিগের উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে কণ্ঠৌষ্ঠ্য বর্ণ বলে।

 ১৩। অন্তস্থ ব, ইহার উচ্চারণ স্থান দন্ত ও ওষ্ঠ; এই নিমিত্ত ইহাদিগকে দন্তৌষ্ঠ্য বর্ণ বলে।

 ১৪। আমাদিগের দেশে দুই ন ণ, দুই ব ব, ও তিন শ ষ স, এক প্রকার উচ্চারণ করিয়া থাকে। কিন্তু তাহা অশুদ্ধ; সেৰূপ উচ্চারণ করা কদাপি উচিত নহে। বর্গ্য ব দুই ওষ্ঠ সংযোগ করিয়া উচ্চারণ করা যায়। কিন্তু অন্তস্থ ব উপরের দন্ত ও নীচের ওষ্ঠ সংযোগ করিয়া উচ্চারণ করিতে হয়। এইৰূপ যাহার যে উচ্চারণ স্থান, তাহা বিবেচনা করিয়া উচ্চারণ করা উচিত। য, এই বর্ণকে বর্গ্য জ ন্যায় উচ্চারণ করিয়া থাকে; তাহাও অশুদ্ধ। ইঅ এই দুই বর্ণ শীঘ্র উচ্চারণ করিলে যেৰূপ হয়, অন্তস্থ য কে সেই ৰূপ উচ্চারণ করা কর্ত্তব্য। খ্‌ এই অক্ষরে য যোগ করিলে যেৰূপ উচ্চারণ হয়, ক্ষ এই বর্ণেরও সেইৰূপ উচ্চারণ করিয়া থাকে; তাহাও অশুদ্ধ। ক্‌ ও মুৰ্দ্ধন্য ষ্‌, এই দুই বর্ণ শীঘ্র উচ্চারণ করিলে যেৰূপ হয়, সেই প্রকার উচ্চারণ করা কর্ত্তব্য।

 ১৫। ড, এই অক্ষরের উচ্চারণ দুই প্রকার। যেমন ডমরু, ও বড়িশ। শব্দের আরম্ভে থাকিলে অথবা অন্য হল্‌ বর্ণের সহিত সংযুক্ত হইলে ডমরুর মত উচ্চারণ হয়। যথা ডামর, ডিম্ব, দণ্ড। আর মধ্যে কিম্বা অন্তে থাকিলে নিবিড়ের মত উচ্চারণ হয়। যেমন দাড়িম, নিবিড়, দেবরাড়্‌, তুরাষাড়্‌। ডর ন্যায় ঢরও দুই প্রকার উচ্চারণ। যথা ঢক্কা, দৃঢ়।