বিষয়বস্তুতে চলুন

সদ্ভাব কুসুম

উইকিসংকলন থেকে

সদ্ভাব কুসুম

সদ্ভাব কুসুম।

৺রজনীকান্ত সেন

প্রণীত।

এস্, কে, লাহিড়ী এণ্ড কোং

৫৬ নং কলেজ ষ্ট্রীট, কলিকাতা।

১৯১৩

PRINTED AT THE COTTON PRESS BY JYOTISH CHANDRA GHOSH

57, HARRISON ROAD, CALCUTTA.

ভূমিকা।

 “কান্ত” কবি বঙ্গের সাহিত্য সমাজে সুপরিচিত, রজনীকান্তের নামই এখন তাঁহার পরিচয়। তাঁহার অপ্রকাশিত রচনাবলী তাঁহার পত্নী এবং পুত্রগণ, তাঁহার এবং ইহাঁদিগের পরম সুহৃদ, পরম হিতৈষী, অতএব ইহাঁদিগের এবং রজনীকান্তের বন্ধুবর্গের পরমপ্রীতি ও ভক্তির পাত্র, শ্রীযুক্ত শরৎকুমার লাহিড়ী মহাশয়ের উদ্যোগে, প্রযত্নে ও সহায়তায় মুদ্রিত করিয়া বাঙ্গালার পাঠক সাধারণের হস্তে অর্পণ করিতেছেন। কবির মৃত্যুর পর এই “সদ্ভাব কুসুম”ই প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এ গ্রন্থের কোনও ভূমিকার প্রয়োজন করে না। তবে রজনীকান্ত জীবিত থাকিলে গ্রন্থের ভূমিকা সম্ভবতঃ তিনি লিখিতেন তাঁহার অকাল মৃত্যু এবং মৃত্যুকালীন অভিপ্রায়ে সেই ভার আমার উপরে ন্যস্ত হইয়াছে এ কথা ভাবিয়া আমি বিষাদ বোধ করিতেছি। কিন্তু তাঁহার ইচ্ছা পূর্ণ করিয়া তাঁহার স্মৃতির সমাদর প্রদর্শন করিবার সুযোগও তিনি আমার জন্য রাখিয়া গিয়াছেন আমি সে সুযোগ গ্রহণ করিতে পশ্চাৎপদ হইব কেন? বিশেষতঃ যখন যোগ্যতর লোকের দ্বারা এ ভূমিকা লিখিত হইল না, ইহা একটা আলোচনার বিষয় হইবে না।

 আমি রজনীকান্তের শিক্ষক ছিলাম। জীবনে শিক্ষকের ব্যবসায় অবলম্বন করিয়াছিলাম, আমার ছাত্র অগণিত। সকল শিক্ষকেরই অগণিত ছাত্র হইয়া থাকে। কিন্তু কয়জনের ভাগ্যে রজনীকান্তের মত ছাত্র মিলে? আমার ভাগ্যেই বা রজনীকান্তের ন্যায় কয়জন ছাত্র মিলিয়াছে? আমি রজনীকান্তের শিক্ষক, ইহা আমার গৌরবের কথা, তাঁহার রচনাবলীর সহিত আমার নাম সংযুক্ত করিয়া আমি সে গৌরব বৃদ্ধি করিবনা কেন?

 রজনীকান্তের “অমৃত” যাঁহারা পাঠ করিয়াছেন তাঁহারা এই “সদ্ভাবকুসুম” নামক কবিতাগুলিতে সেই উপদেশ-পূর্ণ লিপিনৈপুন্য দেখিতে পাইবেন। তবে “অমৃত” অষ্টপদী কবিতাগুচ্ছ, “সদ্ভাবকুসুম” রচনায় কবি তাঁহার লেখনীকে সেই সংকীর্ণ গণ্ডিমধ্যে আবদ্ধ রাখেন নাই, বিষয় এবং লিখনপ্রণালী বিবেচনা করিলে, আবদ্ধ রাখা সম্ভব ছিলনা। “অমৃত” এবং “সদ্ভাবকুসুম” উভয়ই বালক বালিকার পক্ষে সদ‍্গ্রন্থ, সদুপদেশপূর্ণ, বিছালয়ের পাঠ্যরূপে নির্ব্বাচিত হইবার যোগ্য। মৃত কবির সঙ্গতিহীন পরিবারবর্গের উপকারার্থে যাঁহারা এই পুস্তক দুইখানি পাঠ্য নিয়োজিত করাইতে সমর্থ, কার্য্যতঃ তাঁহারা তদ্বিষয়ে যত্নবান হইলে, কবির স্মৃতির প্রতি প্রকৃত সন্মান প্রদর্শন করা হয় না কি? রজনীকান্তের স্ত্রীপুত্রগণের দুঃখশান্তির জন্য আমরা চেষ্টিত হইলে, তাঁহার আত্মা স্বর্গ হইতে আমাদিগকে আশীবর্বাদ করিবে।

কলিকাতা,
২৫ চৈত্র, ১৩১৯।

শ্রীলোকনাথ চক্রবর্ত্তী।

সূচীপত্র

 বিষয়
পৃষ্ঠা।
১১
১৭
২১
২৬
৩০
৩৮
৪০
   
৪৮

এই লেখাটি ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালের পূর্বে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উক্ত লেখকের মৃত্যুর পর কমপক্ষে ১০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথবা লেখাটি ১০০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে ।