সন্ধ্যা সঙ্গীত/অসহ্য ভালবাসা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

অসহ্য ভালবাসা।


বুঝেছি গাে বুঝেছি স্বজনি,
কি ভাব তোমার মনে জাগে,
বুক-ফাটা প্রাণ-ফাটা মাের ভালবাসা
এত বুঝি ভাল নাহি লাগে!
এত ভালবাসা বুঝি পার না সহিতে,
এত বুঝি পার না বহিতে।

যখনি গো নেহারি তােমায়—
মুখ দিয়া, আঁখি দিয়া,  বাহিরিতে চায় হিয়া,
শিরার শৃঙ্খল গুলি ছিঁড়িয়া ফেলিতে চায়,
ওই মুখ বুকে ঢাকে,  ওই হাতে হাত রাখে,
কি করিবে ভাবিয়া না পায়,
যেন তুমি কোথা আছ খুঁজিয়া না পায়।
যেন তুমি কাছে আছ তবু যেন কাছে নাই,
যেন আমি কাছে আছি, তবু যেন কাছে নাই,
মন মাের পাগলের হেন
প্রাণপণে শুধায় সে যেন
“প্রাণের প্রাণের মাঝে কি করিলে তােমারে গাে পাই,


যে ঠাই র'য়েছে শূন্য, কি করিলে সে শূন্য পূরাই।”
এই রূপে দেহের দুয়ারে
মন যবে থাকে যুঝিবারে,
তুমি চেয়ে দেখ মুখ বাগে।
এত বুঝি ভাল নাহি লাগে।
বুঝি গাে ভাবিয়া নাহি পাও,
হেন ভাব দেখিতে না চাও।
তুমি চাও যবে মাঝে মাঝে
অবসর পাবে তুমি কাজে
আমারে ডাকিবে একবার।
কাছে গিয়া বসিব তােমার।
মৃদু মৃদু সুমধুর বাণী
কব তব কানে কানে রাণী।
তুমিও কহিবে মৃদু ভাষ,
তুমিও হাসিবে মৃদু হাস,
হৃদয়ের মৃদু খেলাখেলি,
ফুলেতে ফুলেতে হেলাহেলি।

বুঝিতে পারি না তুমি অনন্ত এ আদর-পিপাসা,
ভাল নাহি লাগে তব জগত-তেয়াগী ভালবাসা।


চাও তুমি দুখহীন প্রেম,
ছুটে যেথা ফুলের সুবাস,
উঠে যেথা জোছনা-লহরী,
বহে যেথা বসন্ত-বাতাস।
নাহি চাও আত্মহারা প্রেম,
আছে যেথা অনন্ত পিয়াস,
বহে যেথা চোখের সলিল,
উঠে যেথা দুখের নিশ্বাস।
প্রাণ যেথা কথা ভুলে যায়,
আপনারে ভুলে যায় হিয়া,
অচেতন চেতনা যেথায়
চরাচর ফেলে হারাইয়া!
এমন কি কেহ নাই বিশাল- বিশাল ভবে,
এ তুচ্ছ হৃদয় খানা ধূলি হ’তে তুলি লবে!
এমন কি কেহ নাই, বল মােরে, বল আশা,
মার্জ্জনা করিবে মাের অতি-অতি ভালবাসা,
যদি থাকে কোথায় সে একবার দেখে আসি,
জনমের মত তারে একবার ভালবাসি।
দেখি আর ভালবাসি, তার কোলে মাথা রাখি,
একটি কথা না কয়ে অমনি মুদি এ আঁখি।