সমূহ/আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


মুখ গোপন করিয়া কেবল পুচ্ছটুকু বাহির করিলে পরিচয়ের সুবিধা হয় না। যে বাঙালি পায়োনিয়রে পত্র লিখিয়া কেবল ‘আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ’ বলিয়া স্বাক্ষর করিয়াছেন কেমন করিয়া জানিব তিনি কে। জানিতে কৌতূহল হইতে পারে; কারণ, তিনি যে-সে লোক নহেন সবিনয়ে এমনতরো আভাস দিয়াছেন। তিনি না উকিল, না মোক্তার, না ইস্কুলমাস্টার![১] অহো, তিনি এত মস্ত লোক! তাঁহাকে নিজের চেষ্টায় বড়ো হইতে হয় নাই; নিজের চেষ্টায় উন্নতিলাভ করা তাঁহার পক্ষে অনাবশ্যক এবং হয়তো অসম্ভব; যে ইংরাজি চিঠিখানা কাগজে ছাপা হইয়াছে সেও হয়তো-বা তাঁহার নিজের রচনা নহে, হয়তো তাঁহার সেক্রেটারি লিখিয়া দিয়াছে। সেইজন্য গবর্মেন্ট্-কালেজের ভূতপূর্ব ছাত্রদের প্রতি তাঁহার এত অবজ্ঞা এবং বর্তমান সুলভ শিক্ষাপ্রনালীর প্রতি তাঁহার এত বিদ্বেষ।[২]

উকিল স্কুলমাস্টার এবং গবর্মেন্ট্‌-কালেজের ভূতপূর্ব ছাত্রগণ শিক্ষিত সন্দেহ নাই, শিক্ষাই তাঁহাদের প্রধান সম্মান এ কথা কবুল করিতে হয়; অতএব আল্‌ট্রা বলিতেছেন, ধিক্‌ তাঁহাদিগকে! অতএব আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভগণই দেশের স্বাভাবিক অধিনেতা। কারণ, শিক্ষা বলো, বুদ্ধি বলো, অভিজ্ঞতা বলো, আত্মনির্ভরই বলো, কিছুতেই তাঁহাদের লেশমাত্র প্রয়োজন নাই– দেশেতে তাঁহাদের ‘স্টেক’ গাড়া আছে।

তবে আমাদের এই আল্‌ট্রার এত সংকোচ কিসের। যদি ইনি উকিল না হন, যদি ইনি স্কুলমাস্টার অথবা স্কুলমাস্টারের দ্বারা উপকারপ্রাপ্ত কেহও না হন, তবে কোন্‌ লজ্জার অনুরোধে আপনার এতবড়ো নিষ্কলঙ্ক নামটা গোপন করিলেন। যদি তিনি জাত-সিংহই হন তবে শিকারের পূর্বে একবার গর্জনসহকারে নিজের নামটা ঘোষণা করিয়া দিলেন না কেন– দেশের শিক্ষিতসম্প্রদায় কলেজের কক্ষ হইতে আদালতের প্রাঙ্গণে, ম্যুনিসিপ্যাল সভা হইতে কন্‌গ্রেসের পান্ডালে পর্যন্ত কম্পান্বিত হইতে থাকিত।

যদি অবাধে নামটা প্রকাশ করিতে পারিতেন তবে দেশের সমস্ত গণিতশাস্ত্রবিৎ উকিল স্কুলমাস্টার ও গবর্মেন্ট্‌-কালেজের ভূতপূর্ব ছাত্রগণ খড়ি পাতিয়া আঁক পাড়িয়া একবার গণনা করিতে বসিত তাঁহার ‘নোবিলিটি’ কতদিনকার, একবার মাপিয়া দেখিত হতভাগ্য দেশের বক্ষঃস্থলে তাঁহার ‘স্টেক’ কতদূর পর্যন্ত প্রবেশ করিয়াছে।

হায় বঙ্গদেশ, তোমার উচ্চতাবিহীন সমতল ভূমিতে ‘নোবিলিটি’, প্রাচীন আভিজাত্য, টিকিতে পারে না। তোমার নানাস্রোতঃসংকুল পলিমাটিতে আজ যেখানে স্থল কাল সেখানে জল, আজ যেখানে গ্রাম কাল সেখানে নদী, আজ যিনি উকিল কাল তিনি জমিদার, বাপ যাহার জমিদার পুত্র তাহার স্কুলমাস্টার মাত্র, অদ্য যে present system of practically free education'কে অবজ্ঞা করে তাহারই পৌত্র বি. এ. পাস -পূর্বক বিবাহের হাটে উচ্চ দরে বিকাইয়া যায়।

বৌদ্ধ সাধু মশাটিকে মারিতেও কুন্ঠিত হন, পাছে সেই মশা তাঁহার কোনো পূজনীয় পূর্বপুরুষের নূতন সংস্করণ হয়, পাছে হয়তো সেই বংশে অদূর ভবিষ্যতে তিনিও জন্মলাভ করেন। আমাদের দেশেও যাঁহারা প্রভাতে জাগিয়া অকস্মাৎ আপনাদিগকে অ্যারিস্টক্রাট্‌ বলিয়া জ্ঞান করেন তাঁহারা উকিল-মোক্তার ইস্কুলমাস্টারের প্রতি চপেটাঘাত উদ্যত করিবার পূর্বে যদি একবার চিন্তা করিয়া দেখেন যে, হয়তো তাঁহাদের অনতিদূরবর্তী পূজনীয় পূর্বপুরুষ উকিল মোক্তার অথবা তদনুরূপ কেহ ছিলেন, অথবা অনতিদূরবর্তী ভবিষ্যতে তাঁহাদেরই 'আত্মা-বৈ' উকিল-মোক্তার হইয়া জন্মগ্রহণ করিবে, তাহা হইলে তাঁহারা এই-সকল শিক্ষিত ও সুযোগ্য সম্প্রদায়ের প্রতি যথোচিত ভদ্রোচিত বিনয়ের সহিত ব্যবহার করিতে পারেন। কিন্তু আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ-মহাশয়েরা অত্যন্ত সুখী। তাঁহাদের গায়ে কথা সহে না। সম্প্রতি আমাদের শিক্ষিতমণ্ডলী তাঁহাদের সম্প্রদায়কে নিন্দা করিয়াছিল। অন্যায় করিয়াছিল কি ন্যায় করিয়াছিল তাহা তর্কের বিষয়। কিন্তু আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ-মহাশয় যুদ্ধক্ষেত্র হইতে সরিয়া দুই চক্ষু মুছিতে মুছিতে সাহেবের নিকট সোহাগ লইতে গিয়াছেন। দুই বাহু মেলিয়া পায়োনিয়রের কোলের উপরে ঝাঁপাইয়া পড়িয়া বলিতেছেন, 'দেশের আর-সকলে উকিল অ্যাটর্নি ইস্কুলমাস্টার এবং কলেজের ছাত্র, তাহারা শিক্ষিত, দেশের উপরে তাহাদের কোন অধিকার নাই– বিশাল ভারতবর্ষে কেবলমাত্র আমাদেরই কয়েকজনের খোঁটা গাড়া আছে, We the ultra-conservatives, আমরা জমিদার, আমরা নোবিলিটি— কিন্তু সাহেব, উহারা কেন আমাদিগকে খারাপ কথা বলে।' আহা, কী আদর! পায়োনিয়রের কোল হইতে ইংলিশম্যানের কোলে কত সান্ত্বনা! একদিকে সোনার-গোট-পরা হৃষ্ট-পুষ্ট তৈলচিক্কণ আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ প্রৌঢ় শিশুটি, অন্যদিকে কালো-কোর্তা-পরা গুপ্তহাস্যকুটিলমুখ রক্তবর্ণ ইংরাজ সম্পাদক— অশ্রুপরিষিক্ত বাৎসল্যের কী অপরূপ দৃশ্য! কী সুপবিত্র স্নেহসম্মিলন!

আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ কলিকাতা ম্যুনিসিপ্যালিটিতে তাঁহাদের স্বদেশীয়ের কর্তৃত্ব দেখিয়া পায়োনিয়রের বক্ষোদেশে মুখ গোপন করিয়া কাতরতা প্রকাশ করিয়াছেন। বলিয়াছেন, 'সাহেব, এও কি হয়! তোমরা কি কেহ নও! কলিকাতা ম্যুনিসিপ্যালিটি কেবল দিশি লোকের আড্ডা হইয়া উঠিল। আমরা যে সম্প্রদায়ের লোক, আমরা কি ইহা সহ্য করিতে পারি!'[৩] তাঁহাকে এ কথা কেহ জিজ্ঞাসা করে নাই, তোমরা যে দশশালা বন্দোবস্তে দেশের কর্তা হইয়া উঠিয়াছ তাহাই বা চিরদিন থাকে কেন। ইংরাজ যে রক্তপাত-দ্বারা দেশ জয় করিয়াছে এবং দেশ রক্ষা করিতেছে তাহা কি কেবল তোমাদের মতো অলস বিলাসীদের মুখে নিরাপদে অন্ন তুলিয়া দিবার জন্য। ইংরাজ সিভিলিয়ানদিগকে পেন্‌শন না দিয়া কেন এক-এক টুকরা জমিদারি দেওয়া হয় না। জীবনের অধিকাংশ কাল যাঁহারা ভারতবর্ষে রাজত্ব করিয়া গেলেন তাঁহারা কি বৃদ্ধবয়সে ইংলণ্ডের কোনো-এক অখ্যাত বাসাবাড়িতে মরিতে যাইবেন। তাঁহারই মুখ হইতে ভাষা লইয়া এ কথা কি কেহ বলিতে পারে না যে : I do not think that any one will venture to seriously deny that the Permanent Settlement has proved a failure in this country। আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ যেরূপভাবে দেশের মধ্যে খোঁটা গাড়িয়া তাঁহাদের জমিদারি শাসন করেন, একজন ইংরাজ প্রভু কি তাহা অপেক্ষা ভালো শাসন করিতে পারে না। তাহার দ্বারা কি স্থানীয় স্বাস্থ্য, শস্য শিক্ষা ও শিল্প বর্তমান বন্দোবস্তের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি লাভ করিতে পারে না।

এ প্রশ্নের উত্তরে আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ পায়োনিয়রের বক্ষঃস্থলে হেলিয়া দুলিয়া বাঁকিয়া-চুরিয়া বলিবেন, 'পারে, অবশ্য পারে। তোমরা সাহেব, তোমাদের সঙ্গে আমাদের তুলনা কিসের। কিন্তু যে অধিকার দিয়াছ সে কি ফিরাইয়া লইবে।'

হায় আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ, তুমি মস্তলোক এবং আমাদের উকিল ইস্কুলমাস্টারগণ তোমার সহিত তুলনীয় নহেন, কিন্তু আমাদের সকলেরই অধিকার অতি সামান্য, এবং ইংরাজের কথার উপরেই তাহার একমাত্র নির্ভর। তোমারও কোনো জ়োর নাই, উকিল-মোক্তারদেরও কোনো জ়োর নাই। যদি একটা অধিকার, একটা উন্নত আশ্বাসের কারণ আমাদিগকে দান করিয়া আবার তাহা ইংরাজ় কাড়িয়া লন তবে তোমরা 'নোবিলিটি-বর্গই বা কী করিবে আর যাঁহারা সবুদ্ধিজীবী তাঁহারাই বা কী করিবেন।

হে আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ, কন্‌গ্রেসের শূন্য বাগ্মিতার প্রতি তুমি অবজ্ঞা প্রকাশ করিয়াছ এবং একটা পাকা কথা বলিয়াছ যে, কঠিন কার্যের দ্বারাই দেশের উন্নতি। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, আগামী শাসনকর্তা কার্জন-সাহেব আসিয়া যদি তোমাদের দশশালা বন্দোবস্তটি কাড়িয়া অন্য দশজনের মধ্যে বাঁটোয়ারা করিয়া দেন তবে তোমরাই বা কী কঠিন কার্যটায় প্রবৃত্ত হও? তোমরা কী তোমাদের লাঠিয়ালগুলিকে দাঁড় করাইয়া লড়াই কর, না, কন্‌গ্রেসেরই মত বাগ্মিতা অবলম্বন কর?

কন্‌‍গ্রেস ইংরাজ-কর্তৃপক্ষের নিকটে যাহা চায় তাহা কেবলমাএ বাগ্মিতার দ্বারা চায়, কঠিন কার্যের দ্বারা চায় না— আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ-মহাশয়েরা কি তাহার বিপরীত কোনো দৃষ্টান্ত দেখাইতে ইচ্ছুক আছেন। আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ যদিচ মহোচ্চ জমিদার-সম্প্রদায়ভুক্ত তথাপি তাঁহার সংসারজ্ঞান যে একেবারেই নাই তাহা বলিতে পারি না। তাঁহার একটা কথায় অত্যন্ত চতুরতা প্রকাশ পাইয়াছে। তিনি বলিয়াছেন, কন্‌গ্রেস যে প্রচুর রাজভক্তি প্রকাশ করে, গোড়াতেই মাহারাণীর জয়কীর্তন করিয়া কার্য আরম্ভ করে— ইহার আপেক্ষা চালাকি তাহার পক্ষে আর কিছুই হইতে পারে না।

বাস্তবিক, চোরের কাছে চোর ধরা পড়ে। আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে, অতিভক্তি চোরের লক্ষণ। সেই অতিভক্তি কন্‌গ্রেসই প্রকাশ করুন আর আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ-সম্প্রদায়েরাই করুন, ইহার প্রধান উদ্দেশ্য চুরি। যাঁহারা ডফারিনফন্ডে টাকা দেন, ভূতপূর্ব সাহেব-কর্মচারীদের অভূতপূর্ব পাষাণপ্রতিমা প্রতিষ্ঠা-দ্বারা দেশকে ভারাতুর করিয়া তোলেন, পায়োনিয়রকে গোপনে জিজ্ঞাসা করো দেখি তাঁহাদের অতিভক্তির মূল্য কি সাহেবেরা বোঝে না। ইহার মধ্যে ফাঁকি দিয়া কিছু কি আদায়ের চেষ্টা নাই। আল্‌ট্রাগণ নাহয় নিজের জন্য উপাধি সন্ধান করেন, কন্‌গ্রেস নাহয় দেশের জন্য একটা-কিছু সুযোগের চেষ্টায় থাকেন, পরন্তু ভক্তি-জিনিসটাকে ব্যবহারে লাগানো হইয়া থাকে। এ ভক্তিকে ঠিক বলা যায় না—

The desire of the moth for the star
Of the night for the morrow,
The devotion to something afar
From the sphere of our sorrow!

তবু অতিভক্তিতে তোমাদের কাছে কন্‌গ্রেসকে হার মানিতে হইবে। একবার ভাবিয়া দেখো, তুমি যে রাজভক্তির প্রচুর তৈল-লেপনে পায়োনিয়র পএটাকে সিক্ত করিয়া তুলিয়াছ তাহার মধ্যে কত অভিসন্ধিই আছে। ঐ-যে মুগ্ধ চক্ষু সাহেবের মুখের উপর স্থাপন করিয়া অশ্রুগদ্‌গদ কন্ঠে বলিতেছ সাহেব, তোমারই জন্য দেশের লোকের কাছে গাল খাইলাম (অতএব কিছু আশা রাখি!)— ঘর কৈনু বাহির বাহির কৈনু ঘর, পর কৈনু আপন আপন কৈনু পর (অতএব কিঞ্চিৎ সুবিধা চাই)— নাথ, তুমি বল কন্‌গ্রেস মন্দ, আমিও বলি তাই (অতএব দেশের লোকের মাথার উপরে আমাকে চড়াইয়া দাও!)— বঁধু, তুমি ম্যুনিসিপ্যালিটি হইতে দিশি জঞ্জাল বিদায় করিয়া বিলাতির আমদানি করিতে চাও, সেই হছে 'জেনারেল সেন্টিমেন্ট্‌ অফ দি ক্লাস টু হ্বিচ আই হ্যাভ দি অনার টু বিলঙ্গ্‌' (অতএব তোমার পাদপীঠপার্শ্বে আমাদিগকে স্থান দিয়ো!)- ভারতবর্ষের মন্ত্রসভাই বলো আর পৌরসভাই বলো, সমস্ত আগাগোড়া নূ্তন নিয়মে পরিবর্তন করা আবশ্যক (অর্থাৎ, সকল সভাতেই তুমি বস সিংহাসন জুড়িয়া, আর আমি বসি তোমার কোলে!) ইতি তোমার আদরের অতিভক্ত আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভ।

এমন শুভদিন কখনোই আসিবে না, কিন্তু যদি দৈবাৎ আসে,যদি কোনো কারণে সাহেবের প্রসাদ হইতে বঞ্চিত হইয়া কন্‌গ্রেসের নিকট হইতেই সম্মান সৌভাগ্য ও সহায়তার প্রত্যাশা জন্মে তবে অতিভক্তির প্রবল স্রোত কি কন্‌গ্রেসের দিকেই ফিরিয়া আসে না। তখনো কি রাজা-রায়বাহাদুরগণ সাহেবের ডালি জোগান এবং পায়োনিয়রে পএ লেখেন।

সাংসারিক ভক্তির এই নিয়ম। তাহা নিঃস্বার্থ নহে। যেখানে পাওনার সম্পর্ক নাই সেখানে আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভেরও যদ্রূপ মনের ভাব গবর্মেণ্ট্‌-কালেজের ভূতপূর্ব ছাত্রেরও তদ্রূপ। মনুষ্যচরিত্রের মধ্যে বৈষম্য এতই যৎসামান্য। উভয় পক্ষের মধ্যে কেবল একটা গু্রুতর প্রভেদ আছে। ভূতপূর্ব ছাএ দেশের হিতোদ্দেশে 'হাড্‌ওয়ার্কে' যদি-বা অপটু হন অন্তত তাঁহার ' এম্প্‌টি এলোকোয়েন্স্‌'ও আছে, কিন্তু আমাদের আল্‌ট্রা-কন্‌সার্ভেটিভটি যে সম্প্রদায়ের মুখোজ্জ্বল করেন তাঁহারা বাগ্মিতার জন্যও বিখ্যাত নহেন, 'কঠিন কর্ম’ও তাঁহাদের কর্ম নহে। তাঁহারা শিক্ষাকেও অবহেলা করেন এবং সামর্থ্য হইতেও বঞ্চিত। তাঁহাদের ধন আছে; দেশের হিতোদ্দেশে সে ধন যদি ব্যয় করিতে পারিতেন তবে বাক্যবীর ও কর্মবীর সকলের উপরে উঠিতে পারিতেন; কারণ,কবি বলিয়াছেন

শতেষু জায়তে বক্তা সহস্রেষু চ পণ্ডিতঃ।
শূরো দশসহস্রেষু দাতা ভবতি বা ন বা।।

কিন্তু সম্প্রতি দানে যিনি আমাদের দেশে আদর্শ বলিয়া বিখ্যাত হইয়াছেন তিনি অধ্যাপক ছিলেন, দেশে তাঁহার কোনো 'স্টেক' ছিল না,এবং তাঁহারই উদার বদান্যতায় 'প্রেজেন্ট্‌ সিস্টেম অফ প্র্যাক্‌টিক্যালি ফ্রী এডুকেশন' এই দীনহীন দেশে বদ্ধমূল হইতে পারিয়াছে।

পাদটীকা

  1. ‘Have vakils, attorneys, pleaders, mukhtars, and schoolmasters a greater stake in the country than the Zamindars?’
  2. ‘The self-elected delegates who make up that body (Congress) are lawyers, to whom notoriety means more fees, disappointed office-seekers, and ex-students from Government colleges, whose vanity gratified by the honour–whatever may be its value–of being a Congress delegate. Their number is, I fear, likely to increase under the present system of practically free education’.
  3. Under the present system the municipality exists for the Native Commissioners, their friends and canvassers.