সমূহ/ইংরাজের আতঙ্ক

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


১৮৫৫ খৃস্টাব্দে হিন্দু মহাজনদের দ্বারা একান্ত উৎপীড়িত হইয়া গবর্মেন্টের নিকট নালিশ করিবার জন্য সাঁত্ততালগণ তাহাদের অরণ্য-আবাস ছাড়িয়া কলিকাতা-অভিমুখে যাত্রা করিয়াছিল। তখন ইংরাজ সাঁত্ততালকে ভালো করিয়া চিনিত না। তাহারা কী চায়, কেন বাহির হইয়াছে, কিছুই বুঝিতে পারিল না। এ দিকে পথের মধ্যে পুলিস তাহাদের সহিত লাগিল, আহারও ফুরাইয়া গেল— পেটের জ্বালায় লুটপাট আরম্ভ হইল। অবশেষে গবর্মেন্টের ফৌজ আসিয়া তাহাদিগকে দলকে-দল গুলি করিয়া ভূমিসাৎ করিতে লাগিল।

এই ঘটনার উপলক্ষে হান্টার-সাহেব বলেন, ভারতবর্ষে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান-সম্প্রদায়ের সংখ্যা অল্প এবং তাহারা বহুসংখ্যক ভিন্নজাতীয় অধিবাসীর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এরূপ অবস্থায় সামান্য সূত্রপাতেই বিপদের আশঙ্কাটা অত্যন্ত প্রবল হইয়া উঠে। তখন পরিণামের প্রতি লক্ষ করিয়া ধীরভাবে বিবেচনা করিবার সময় থাকে না— অতিসত্বর সবলে একটা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করিয়া ফেলিবার প্রবৃত্তি জন্মে। যখন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানগণ এইরূপ কোনো কারণে অকস্মাৎ সন্ত্রস্ত হইয়া উঠে তখনই গবর্মেন্টের মাথা ঠান্ডা রাখা বিশেষরূপে আবশ্যক হয়। হান্টার বলেন, এরূপ উত্তেজনার সময় ভারত-গবর্মেণ্ট্‌‌কে প্রায়ই ঠাণ্ডা থাকিতে দেখা গিয়াছে।

উপরি-উক্ত সাঁত্ততাল-উপপ্লবে কাটাকুটির কার্যটা বেশ রীতিমত সমাধা করিয়া এবং বীরভূমের রাঙা মাটি সাঁত্ততালের রক্তে লোহিততর করিয়া দিয়া তাহার পরে ইংরাজ-রাজ হতভাগ্য বন্যদিগের দুঃখনিবেদনে কর্ণপাত করিলেন। যখন বন্দুকের আওয়াজটা বন্ধ করিয়া তাহাদের সকল কথা ভালো করিয়া শুনিলেন তখন বুঝিলেন তাহাদের প্রার্থনা অন্যায় নহে। তখন তাহাদের আবশ্যকমত আইনের সংশোধন, পুলিসের পরিবর্তন এবং যথোপযুক্ত বিচারশালার প্রতিষ্ঠা করা হইল।

কিন্তু অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান-সম্প্রদায়ের উষ্মা তখনো নিবারণ হইল না। বিদ্রোহীদের প্রতি নিরতিশয় নির্দয় শাস্তিবিধান না করিয়া তাহারা ক্ষান্ত হইতে চাহে না। তাহারা বলিল, বিদ্রোহীরা যাহা চাহিয়াছিল সকলই যদি পাইল তবে তো তাহাদের বিদ্রোহের সার্থকতাসাধন করিয়া একপ্রকার পোষকতা করাই হইল। ক্যাল্‌কাটা রিভিয়ু পত্রের কোনো ইংরাজ লেখক এই শান্তিপ্রিয় নিরীহ সাঁত্ততালদিগকে বনের ব্যাঘ্র, রক্তপিপাসু বর্বর প্রভৃতি বিশেষণে অভিহিত করিয়া এক প্রবন্ধ লিখিলেন। তাহাতে কেবল দোষীদিগকে নহে, বিদ্রোহী জেলার অধিবাসীবর্গকে একেবারে সর্ব-সমেত সমুদ্রপারে দ্বীপান্তরিত করিয়া দিবার জন্য গবর্মেন্ট্‌‌কে অনুরোধ করিলেন।

মনে একবার ভয় ঢুকিলে বিচারও থাকে না, দয়াও থাকে না। আমাদের সংস্কৃতশাস্ত্রে আছে— শক্তস্য ভূষণং ক্ষমা। কেবল ভূষণ কেন, তাহা স্বাভাবিক বলিলেও নিতান্ত অত্যুক্তি হয় না। যেখানে মনে মনে আত্মশক্তির অভাব -আশঙ্কা হয় সেখানে মানুষ হয় অগত্যা ক্ষমা করে, নয় লেশমাত্র ক্ষমা করে না— নিষ্ঠুরভাবে অন্যকে ভয় দেখাইতে চেষ্টা করে। অনেক সময় হিংস্র পশু যে অগ্রসর হইয়া আক্রমণ করে, সকলেই জানেন, ভয়ই তাহার মূল কারণ, হিংস্রতা নহে।

ইংরাজ যখন কোনো কারণে আমাদিগকে ভয় করে তখনই সেটা আমাদের পক্ষে বড়ো ভয়ের বিষয় হইয়া দাঁড়ায়— তখনই ভয়ের কম্পনে দয়ামায়া সুবিচার আপাদমস্তক টলমল করিতে থাকে। ইংরাজ হঠাৎ কন্‍‍গ্রেসের মূর্তি দেখিয়া প্রথমটা আচমকা ডরাইয়া উঠিয়াছিল। তাহার কারণ, মানুষ চিরসংস্কার-বশত স্বদেশী জুজুকে যতটা ভয় করে, বিদেশী বিভীষিকাকে ততটা নহে। এইজন্য ভারতবর্ষের সুখশয়নাগারে হঠাৎ সেই পোলিটিকাল জুজুর আবির্ভাব দেখিয়া ইংরাজের সুস্থ প্লীহাও চমকিয়া উঠিয়াছিল।

কিন্তু কন্‌‍গ্রেসটার উপরে প্রত্যক্ষভাবে কোনোরূপে আঘাত করা হয় নাই। তাহার কারণ, ঢাকের উপরে ঘা মারিলে ঢাক আরো বেশি করিয়া বাজিয়া উঠে। কন্‌‍গ্রেসের আর-কোনো ক্ষমতা থাক্‌ বা না থাক্‌, গলার জোর আছে— তাহার শব্দ সমুদ্রপার পর্যন্ত গিয়া পৌঁছে।

সুতরাং এই নবনির্মিত জাতীয় জয়ঢাকটার উপরে কাঠি না মারিয়া তাহাকে তলে তলে ছিদ্র করিবার আয়োজন করা হইল। মুসলমানেরা প্রথমে কন্‌‍গ্রেসে যোগ দিবার উপক্রম করিয়া সহসা যে বিমুখ হইয়া দাঁড়াইল তাহার কারন বোঝা নিতান্ত কঠিন নহে— এবং পাঠকদের নিকট সে কারণ স্পষ্ট করিয়া নির্দেশ করা অনাবশ্যক বোধ করি।

কিন্তু এতদিনে ইংরাজ এ কথা কতকটা বুঝিয়া থাকিবে যে, হিন্দুর হস্তে পলিটিক্‌স্ তেমন মারাত্মক নহে। আবহমান কালের ইতিহাস অনুসন্ধান করিয়া দেখিলেও ভারতবর্ষে পোলিটিকাল ঐক্যের কোনো লক্ষণ কোনোকালে দৃষ্টিগোচর হয় না। ঐক্য কাহাকে বলে মুসলমান তাহা জানে এবং পলিটিক্‌স্‌ও তাহার প্রকৃতিবিরুদ্ধ নহে; মুসলমান যদি দূরে থাকে তবে কন্‌‍গ্রেস হইতে আশু আশঙ্কার কোনো কারণ নাই।

হিন্দুজাতির প্রতি পলিটিক্‌সের প্রভাব যে তেমন প্রবল নহে কন‍্‌গ্রেসই তাহার প্রমানস্থল হইবার উপক্রম করিতেছে। যতই দিন যাইতেছে ততই কন‍্‌গ্রেসঅর্থাভাবে দরিদ্র এবং উৎসাহাভাবে দুর্বলের মতো প্রতিভাত হইতেছে। ইংরাজও সম্প্রতি কিছু যেন নিশ্চিন্ত বোধ করিতেছে।

কিন্তু ইতিমধ্যে ইংরাজের ভারতশাসনক্ষেত্রে আর-একটা নূতন ভয় আসিয়া দেখা দিয়াছে। সেটা আর কিছু নয়, গোরক্ষণী সভা। যাহাদিগকে রক্ষা করিবার জন্য এই সভাটা স্থাপন করা হইয়াছে তাহারা যতটা নিরীহ, সভাটাকে ততটা নিরীহ বলিয়া ইংরাজের ধারণা হইল না।

কারণ, ইংরাজ ইহা বুঝিয়াছে যে স্বদেশ ও স্বজাতি -রক্ষার জন্য যে হিন্দু এক হইতে পারে না, গোষ্ঠ এবং গোজাতি -রক্ষার জন্য চাইকি তাহারা এক হইতেও পারে। স্বাধীনতা স্বদেশ আত্মসন্মান মনুষ্যত্ব প্রভৃতি অনেক শ্রেষ্ঠতর পদার্থের অপেক্ষা গোরুকে রক্ষা করা যে আমাদের পরমতর কর্তব্য, এ কথা হিন্দু ভূপতি হইতে কৃষক পর্যন্ত সকলেই সহজে বুঝিবে। গোহত্যা-নিবারণ সম্বন্ধে নেপালের গুর্খা হইতে পঞ্জাবের শিখ পর্যন্ত একমত।

এই কারনে গোরক্ষণী সভটা ইংরাজের পক্ষে কিছু বিশেষ আতঙ্কজনক হইতে পারে। ফলেও তাহার প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে।

প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে, কিন্তু প্রমাণ দেওয়া কিছু কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। সম্প্রতি ভ্রমণোপলক্ষে পশ্চিম-ভারতে গিয়া দেখিয়াছি, গোরক্ষার জন্য লোকে আর ততটা ব্যস্ত নহে— এখন গোরক্ষকগণ রক্ষা পাইলে হয়। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সকলে ত্রাহি ত্রাহি করিতেছে বটে, তবু মুখ ফুটিয়া কিছু বলিতেছে না। যে-সকল কথা ঘরে ঘরে আলোচিত হইতেছে সে-সকল কথা যদি প্রকাশ হইত তবে কী হইত। যে প্রকাশ করিত তাহাকে সম্ভবত নির্দিষ্ট রাজ-অট্টালিকায় রাজপ্রহরীগণ-কর্তৃক বেষ্টিত হইয়া বাস করিতে হইত। গোরুও সময়ে সময়ে সকরুণ হাম্বারব করে, বাঙালিও সময়ে সময়ে বেশী-বিদেশী ভাষায় আর্তনাদ করিয়া থাকে। কিন্তু পশ্চিম-ভারত একেবারে মূক।

তবে বাহির হইতে একটা উদাহরণ দেওয়া যাইতে পারে। গাজিপুরের জজ ফক্‌স্‌-সাহেব ন্যায়পরায়ণ বলিয়া সাধারণের নিকট সুবিদিত। গোহত্যাসম্বন্ধীয় মকদ্দমার আপীল হাইকোর্ট তাঁহার নিকট হইতে তুলিয়া লইয়াছে।

ফক্‌স্‌-সাহেব হিন্দু নহেন; গোজাতির এবং গোবৎসল জাতির প্রতি তাঁহার বিশেষ পক্ষপাত থাকিবার কোনো কারণ দেখা যায় না। গোসম্প্রদায়ের প্রতি যদি তাঁহার কোনো পক্ষপাত থাকে সেও কেবল খাদকভাবে।

দ্বিতীয়ত, এই গোহত্যাসম্বন্ধীয় দাঙ্গাহাঙ্গামার প্রতি গবর্মেন্টের তীব্র দৃষ্টি রহিয়াছে, এবং অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ানগণও বিশেষ ত্রস্ত হইয়া উঠিয়াছেন— এমন-কি, বিলাতের স্পেক্টেটর পত্রও এইরূপ উপদ্রবগুলিকে সতেজে দমন, সবলে দলন করিয়া ফেলিতে পরামর্শ দিয়াছেন। এরূপ স্থলে অন্যান্য সাধারণ মকদ্দমার অপেক্ষা এরূপ মকদ্দমা ইংরাজ বিচারক বিশেষ সতর্কভাবেই বিচার করিয়া থাকেন।

এমন অবস্থাতেও যদি গবর্মেন্ট্ ফক্‌স্‌-সাহেবের বিচারে সন্তুষ্ট না হন তবে তো তাঁহার হাতে সামান্য শসা-চুরির মকদ্দমাও রাখা উচিত হয় না।

এই-সকল লক্ষণ দেখিয়াই মনে হইতেছে, গবর্মেন্ট্ কিছু বেশি ভীত হইয়া পড়িয়াছেন। তাঁহারা ভয় পাইলেই আমাদের সর্বনাশ।

কিন্তু ভয় করিতে আরম্ভ করিলে কোথাও নিশ্চিন্ত হইবার জো নাই। ভারতবর্ষকে শিক্ষা দিয়াও ভয় হয়, আবার মূর্খ করিয়া রাখিলেও ভয় আছে।

ইংরাজি শিখিয়া আমরা আত্মদুঃখ নিবেদন করিতে শিখি, এবং সাধারণ অভাব-মোচনের উপলক্ষে সাধারণের মধ্যে ঐক্যবন্ধনের সূত্রপাত হয়। আবার যেখানে ইংরাজি শিক্ষা নাই সেখানে যে কোন্ অন্ধসংস্কারের কৃষ্ণবর্ণ বারুদে কোন্‌খান হইতে কণামাত্র অগ্নিস্ফুলিঙ্গ লাগিয়া অকস্মাৎ একটা প্রলয় দিগ্‌দাহ উপস্থিত করে তাহা বলা যায় না।

কিন্তু গবর্মেন্টের ভয়টা দেখিতে ভালো নহে। কড়া শাসন অর্থাৎ যখন বিচার-প্রণালীর মধ্যে ন্যায় অপেক্ষা বলের প্রয়োগ বেশি দেখা যায়, এবং যখন চতুর্দিক হইতে খোঁচাখুঁচি লাগাইয়া তাড়াতাড়ি দেশের লোককে ভয় পাওয়াইয়া দিবার চেষ্টা দেখিতে পাই, তখনই বুঝিতে পারি গবর্মেন্টের হৃৎস্পন্দন কিছু অযথা বাড়িয়া উঠিয়াছে। সেরূপ উগ্রতায় গবর্মেন্টের বলিষ্ঠতা প্রকাশ পায় না, কেবল ভয় প্রকাশ হয় মাত্র।

মণিপুরেই গবর্মেন্টের নিজবুদ্ধিদোষে বিভ্রাট ঘটুক আর ভারতের অন্যত্রই হিন্দুমুসলমানের অন্ধ-আক্রোশ-বশত ভ্রাতৃবিরোধের সূ্ত্রপাত হউক, গবর্মেন্টের সর্বদা মনে রাখা উচিত, শক্তস্য ভূষণং ক্ষমা এবং অবিচলিত অপক্ষপাত এবং প্রশান্ত ন্যায়পরতা।

কিন্তু গবর্মেন্ট বলিতে যে কাহাকে বুঝায় আমরা কিছুই বুঝিতে পারি না। এই হিন্দুমুসলমান বিপ্লবে বড়োকর্তা ল্যান্স্‌ডাউন, মেজোকর্তা ক্রস্‌থোয়েট, এবং জেলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছোটোকর্তাগুলি সকলেই এক পলিসি অবলম্বন করিয়া একভাবে কাজ করিতেছেন কি না জানি না। সার ওয়েডার্‌বর্ন্‌ লিখিয়াছেন, এই-সমস্ত উপদ্রবে গবর্মেন্টের কিছু হাত আছে; ল্যান্স্‌ডাউন বলেন, এমন কথা যে বলে সে অত্যন্ত দুষ্ট। আমরা ইহার একটা সামঞ্জস্য করিয়া লই।

আমরা বলি, গবর্মেন্টের পলিসি যেমনই থাক্, ইংরাজ কর্মচারীগণ গবর্মেণ্টের যন্ত্র নহে, তাহারা মানুষ। আপন অধিকারের মধ্যে তাহাদের বিরাগ অনুরাগ মতামত খাটাইবার যথেষ্ট অবসর আছে। কন্‌গ্রেস এবং শিক্ষিত বাবুদের আচরণে তাহাদের যদি এমন ধারণা হয় যে, হিন্দুমুসলমানদিগকে পৃথক করিয়া রাখা আবশ্যক, তবে তাহারা ছোটোবড়ো এত উপায় অবলম্বন করিয়া বিদ্বেষবীজ বপন করিতে পারে যে, গবর্মেন্টের পরম উদার সদভিসন্ধি তাহার নিকট হার মানে।

গবর্মেন্টের আইন কাহাকেও ঘৃণা করে না, ভয় করে না; পক্ষপাত করে না। কিন্তু ইংরাজ করে। পায়োনিয়র ইংলিশ্‌ম্যান প্রভৃতি ইংরাজি কাগজগুলা যখন কন্‌গ্রেসের প্রতি চক্ষু রক্তবর্ণ করে এবং বাবুদের প্রতি সরোষ অবজ্ঞা-বর্ষণের চেষ্টা করে তখন ইংরাজ জজ-ম্যাজিস্ট্রেটগণ যে অবিচলিতচিত্তে থাকে তাহা নহে। এই-সমস্ত বিদ্বেষভাব সর্বসাধারণ ইংরাজের মধ্যে প্রতিদিন ব্যাপ্ত ও বদ্ধমূ্ল হইয়া যাইতেছে, এবং যাহার হাতে কোনো ক্ষমতা আছে সে যে নানা উপায়ে কার্যত সেই ভাবকে প্রকাশ করে এবং একটা গোপন পলিসি অবলম্বন করিয়া কন্‌গ্রেস প্রভৃতিকে ব্যর্থ করিবার চেষ্টা করে তাহাতে সন্দেহ নাই। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে যে বিরোধ সম্প্রতি প্রজ্বলিত হইয়া উঠিয়াছে ইহা গবর্মেন্টের পলিসি-সম্মত না হইতে পারে, কিন্তু গবর্মেন্টের অন্তর্গত বিস্তর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইংরাজ বিস্তর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুৎকারে যে এই অগ্নিকান্ডের সূচনা করিয়া দিয়াছে, আমাদের দেশের লোকের এইরূপ বিশ্বাস। তুলার বস্তার মধ্যে আগুন ফেলিয়া যখন সমস্তটা ধরিয়া উঠিবার উপক্রম হইল তখন প্রবল পদাঘাতের দ্বারা সেটা নির্বাণ করা হইতেছে; তুলা বেচারি একে তো পুড়িল, তাহার পরে লাথিটাও অপর্যাপ্ত পরিমাণে খাইতে হইল।

কেবল ইংরাজের মনে অকস্মাৎ একটা আতঙ্ক উপস্থিত হইয়া এই-সমস্ত ব্যাপারগুলি ঘটিতেছে।