সমূহ/দেশনায়ক

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন



সমূহ দেশনায়ক সৈন্যদল যখন রণক্ষেত্ৰে যাত্ৰা করে, তখন যদি পাশের গলি হইতে তাহাদিগকে কেহ গালি দেয় বা গায়ে ছিল ছুড়িয়া মারে তবে তখনই ছত্ৰভঙ্গ হইয়া অপমানের প্রতিশোধ লইবার জন্য তাহারা পাশের গলিতে ছুটিয়া যায় না । এ অপমান তাহাদিগকে স্পৰ্শও করিতে পারে না— কারণ, তাহাদের সম্মুখে বৃহৎ সংগ্ৰাম, তাহাদের সম্মুখে মহৎ মৃত্যু । তেমনি যদি আমরা যথাৰ্থভাবে আমাদের এই বৃহৎ দেশের কাজ করিবার দিকে যাত্ৰা করি, তবে তাহারই মাহাত্ম্যে ছোটো বড়ো বহুতর বিক্ষোভ আমাদিগকে স্পৰ্শই করিতে পারে না—তবে ক্ষণে ক্ষণে এক-একটা বাগােরাগির ছুতা লইয়া ছুটাছুটি করিয়া বৃথা যাত্ৰাভঙ্গ করিতে প্ৰবৃত্তি হয় না ।

অামাদের দেশে সম্প্ৰতি যে-সকল আন্দোলন-অালোচনার ঢেউ উঠিয়াছে, তাহার মধ্যে অনেকটা আছে যাহ। কলহমাত্ৰ । নিঃসন্দেহই দেশবৎসল লোকেরা এই কলহের জন্য অন্তরে-অন্তরে লজ্জা অনুভব করিতেছেন । কারণ, কলহ অক্ষমর উত্তেজনাপ্ৰকাশ, তাহা অকৰ্মণোর একপ্ৰকার আত্মবিনোদন ।

একবার দেশের চারিদিকে চাহিয়া দেখিবেন, এত দুঃখ এমন নিঃশব্দে বহন করিয়া চলিয়াছে, এরপ করুণ দশ্য জগতের আর কোথাও নাই । নৈরাশ্য ও নিরানন্দ, অনশন ও মহামারী এই প্ৰাচীন ভারতবর্ষের মন্দিরভিত্তির প্রত্যেক গ্ৰন্থি বিদীৰ্ণ করিয়া শিকড় বিস্তার করিয়াছে। দুঃখের মতো এমন কঠোর সত্য, এমন নিদারুণ পরীক্ষা আর কী আছে ? তাহার সঙ্গে খেলা চলে না—তাহাকে ফঁাকি দিবার জো কী, তাহার মধ্যে কৃত্ৰিম কাল্পনিকতার অবকাশমাত্ৰ নাই—সে শত্ৰুমিত্ৰ সকলকেই শক্ত করিয়া বাজাইয়া লয়। এই দেশব্যাপী ভীষণ দুঃখের সম্বন্ধে আমরা কিঙ্কপ ব্যবহার করিলাম, তাহাতেই আমাদের মনুষ্ঠত্বের যথাৰ্থ পরিচয় । এই দুঃখের কৃষ্ণকঠিন নিকষপাথরের উপরে আমাদের দেশানুরাগ যদি উজ্জল রেখাপাত করিয়া না থাকে, তবে আপনারা নিশ্চয় জানিবেন, তাহা খাটি সোনা নহে । যাহা খাটি নহে, তাহার মূল্য আপনারা কাহার কাছে প্ৰত্যাশা করেন ? ইংরেজজাত যে এ-সম্বন্ধে জহরি, তাহাকে ফঁাকি দিবেন কী 8৮৮ করিয়া? আমাদের দেশহিতৈষণার উদযোগ তাহাদের কাছে শ্ৰদ্ধালাভ করিবে কী উপায়ে? আমরা নিজে দান করিলে তবেই দাবি করিতে পারি। কিন্তু সত্য করিয়া বলুন, েক আমরা কী করিয়াছি? দেশের দারুণ দুৰ্যোগের দিনে আমাদের মধ্যে যাহাদের সুখের সম্বল আছে, তাহারা সুখেই আছি; যাহাদের অবকাশ আছে, তাহাদের আরামের লেশমাত্ৰ ব্যাঘাত হয় নাই; ত্যাগ যেটুকু করিয়াছি, তাহা উল্লেখযোগ্যই নহে; কষ্ট যেটুকু সহিয়াছি, আৰ্তনাদ তাহা অপেক্ষা অনেক বেশিমাত্ৰায় করা হইয়াছে।


ইহার কারণ কী? ইহার কারণ এই যে, এতকাল পরের দ্বারে আমরা মাথা কুটিয়া মরিবার চর্চা করিয়া আসিয়াছি, স্বদেশসেবার চৰ্চা করি নাই। দেশের দুঃখ দূর, হয় বিধাতা নয়। গবমেণ্ট করিবেন, এই ধারণাকেই আমরা সব-উপায়ে প্রশ্ৰয় দিয়াছি। আমরা যে দলবদ্ধ প্ৰতিজ্ঞাবদ্ধ হইয়া নিজে এই কাধে ব্ৰতী হইতে পারি, এ-কথা আমরা অকপটভাবে নিজের কাছেও স্বীকার করি নাই। ইহাতে দেশের লোকের সঙ্গে আমাদের হৃদয়ের সম্বন্ধ থাকে না, দেশের দুঃখের সঙ্গে অামাদের চেষ্টার যোগ থাকে না, দেশানুরাগ বাস্তবতার ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত হয় না। সেইজন্যই চাদার খাতা মিথ্যা ঘূরিয়া মরে এবং কাজের দিনে কাহারও সাড়া পাওয়া রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী মিছে যায় না॥

আজিঠক কুড়িবৎসর হইল, প্রেসিডেন্দি-কলেজের তদানীন্তন অধ্যাপক ডাক্তার শ্ৰীযুক্ত প্ৰসন্নকুমার রায় মহাশয়ের বাড়িতে ছাত্ৰসন্মিলন উপলক্ষ্যে যে-গান রচিত হইয়াছিল, তাহার এক অংশ উদ্ধত করি ওগো কথার বাধুনি বাদুনির পালা, চোগে নাই কারো নীর আবেদন অার নিবেদনের থাল। ব’হ ব’হে নতশিল্প। কঁাদিয়ে সোহাগ ছিছি এ কী লাজ, জগতের মাঝে ভিখারির সাজ আপনি করি নে আপনার কাজ, পরের পরে অভিমান। আপনি নামাও কলঙ্কপসরা, যেয়ো না পরের দ্বার। সমূহ - 8bᏱ

  • ८ब्रव्र *ां८ग्न थ'cद्र यांनख्छिक कब्रां जकल डिकद्र झांब्र ! দাও দাও ব’লে পরের পিছু-পিছু কাদিয়া বেড়ালে মেলে না তো কিছু যদি মান চাও যদি প্রাণ চাও

প্রাণে আগে করে দশন । সেদিন হইতে কুড়িবৎসরের পরবর্তী ছাত্রগণ আজ নিঃসন্দেহে বলিবেন যে, এখন আমরা আবেদনের থালা নামাইয়া তো হাত খোলসা করিয়াছি, আজ তো আমরা নিজের কাজ নিজে করিবার জন্ত প্রস্তুত হইয়াছি । যদি সত্যই হইয়া থাকি তো ভালোই, কিন্তু পরের পরে অভিমানটুকু কেন রাপিয়াছি—যেখানে অভিমান আছে, সেইপানেই যে প্রচ্ছন্নভাবে দাবি রহিয়া গেছে । আমরা পুরুষের মতো বলিষ্ঠভাবে স্বীকার করিয়া ন লই কেন যে, আমরা বাধা পাইবই, আমাদিগকে প্রতিকূলতা অতিক্রম করিতে হইবেই ; কথায়-কথায় আমাদের দুই চক্ষু এমন ছলছল করিয়া আসে কেন । আমরা কেন মনে করি, শক্রমিত্ৰ সকলে মিলিয়া আমাদের পথ সুগম করিয়া দিবে। উন্নতির পথ যে শুদুস্তর, এ-কথা জগতের ইতিহাসে সর্বত্র প্রসিদ্ধ— कूबज १ाबा निनिड1इबङाग्री इर्श* श्रेषंख९ बाबरह्मt बड्डि । কেবল কি আমরাই—এই দুরত্যয় পথ যদি আপরে সহজ করিয়া সমান করিয়া না দেয় —তবে নালিশ করিয়া দিন কাটাইব, এবং মুখ অন্ধকার করিয়া বলিব, তবে আমরা নিজের তাতের কাপড় নিজে পরিব, নিজের বিদ্যালয়ে নিজে অধ্যয়ন করিব । এ-সমস্ত कि अडिभां८मन्न कथां । আমি জিজ্ঞাসা করি, সর্বনাশের সম্মুখে দাড়াইয়া কাহারও কি অভিমান মনে আসে —মৃত্যুশয্যার শিয়রে বসিয়া কাহারও কি কলহ করিবার প্রবৃত্তি হইতে পারে। আমরা কি দেখিতেছি না, আমরা মরিতে শুরু করিয়াছি । আমি রূপকের ভাষায় কথা কহিতেছি না,—আমরা সতাই মরিতেছি। যাহাকে বলে বিনাশ, যাহাকে বলে বিলোপ, তাহ নানা বেশ ধারণ করিয়া এই পুরাতন জাতির আবাসস্থলে আসিয়া দেখা দিয়াছে। ম্যালেরিয়ায় শতসহস্ৰ লোক মরিতেছে এবং যাহারা মরিতেছে না তাহারা জীবন্থত হইবা পৃথিবীর ভারবুদ্ধি করিতেছে। এই ম্যালেরিয়া পূর্ব হইতে পশ্চিমে, প্রদেশ হইতে প্রদেশান্তরে ব্যাপ্ত হইয়া পড়িতেছে। প্লেগ একরাত্রির অতিথির মত আসিল, তার পরে বংগরের পর বংসয় যায়, আজও তাহার নররক্তপিপাসার دوسسه ه لا 8ఏe রবীন্দ্র-রচনাবলা নিবৃত্তি হইল না। যে-বাষ একবার মহন্তমাংসের স্বাদ পাইয়াছে, সে যেমন কোনোমতে সে-প্রলোভন ছাড়িতে পারে না, দুর্ভিক্ষ তেমনি করিয়া বারংবার ফিরিয়া ফিরিয়া আমাদের লোকালয়কে জনশূন্ত করিয়া দিতেছে। ইহাকে কি আমরা দৈবদুর্ঘটনা বলিয়া চক্ষু মুদ্রিত করিয়া থাকিব ? সমস্ত দেশের উপরে মৃত্যুর এই যে অবিচ্ছিন্ন জালনিক্ষেপ দেখিতেছি, ইহাকে কি আমরা আকস্মিক বলিতে পারি ? ইহা আকস্মিক নহে। ইহা বদ্ধমূল ব্যাধির আকার ধারণ করিতেছে। এমনি করিয়া অনেক জাতি মারা পড়িয়াছে—আমরাও যে দেশব্যাপী মৃত্যুর আক্রমণ হইতে বিনা-চেষ্টায় নিস্কৃতি পাইব, এমন তো কোনো কারণ দেখি না । আমরা চক্ষের সমক্ষে দেখিতেছি যে, যে-সব জাতি সুস্থ-সবল, তাহারাও প্রাণরক্ষার জন্য প্রতিক্ষণে লড়াই করিতেছে—আর আমরা আমাদের জীর্ণতার উপরে মৃত্যুর পুনঃপুন নখরাঘাতসত্ত্বেও বিনাপ্রয়াসে বঁাচিয়া থাকিব ? এ-কথা আমাদিগকে মনে রাখিতে হইবে, ম্যালেরিয়া-প্লেগ-দুভিক্ষ কেবল উপলক্ষ্যমাত্র, তাহারা বাহলক্ষণমাত্র—মূল ব্যাধি দেশের মজ্জার মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে । আমরা এতদিন একভাবে চলিয়া আসিতেছিলাম—আমাদের হাটে বাটে গ্রামে পল্লীতে আমরা একভাবে বাচিবার ব্যবস্থা করিয়াছিলাম, আমাদের সে-ব্যবস্থা বহুকালের পুরাতন । তাহার পরে আজ বাহিরের সংঘাতে আমাদের অবস্থাস্থর ঘটিয়াছে । এই নৃতন অবস্থার সহিত এপনও আমরা সম্পূর্ণ আপস করিয়া লইতে পারি নাই— এক জায়গায় মিলাইয়া লইতে গিয়া আর-এক জায়গায় অঘটন ঘটিতেছে । যদি এই নূতনের সহিত আমরা কোনোদিন সামঞ্জস্ত করিয়া লইতে না পারি, তবে আমাদিগকে মরিতেই হইবে । পৃথিবীতে যে-সকল জাতি মরিয়াছে, তাহার এমনি করিয়াই মরিয়াছে । ম্যালেরিয়ার কারণ দেশে নৃতন হইয়াছে, এমন নহে। চিরদিনই আমাদের দেশ জল-দেশ–বনজঙ্গল এখনকার চেয়ে বরং পূর্বে বেশিই ছিল, এবং কোনোদিন এখানে মশার অভাব ছিল না। কিন্তু দেশ তখন সচ্ছল ছিল। যুদ্ধ করিতে গেলে রসদের দরকার হয়—সর্বপ্রকার গুপ্ত মারীশত্রুর সহিত লড়াইয়ে সেদিন আমাদের রসদের অভাব ছিল না। আমাদের পল্পীর অন্নপূর্ণ সেদিন নিজের সন্তানদিগকে অর্ধভুক্ত রাখিয়া টাকার লোভে পরের ছেলেকে স্তন্য দিতে যাইতেন না। শুধু তাই নয়, তখনকার সমাজব্যবস্থায় পল্লীর জলাশয় খনন ও সংস্কারের জন্ত কাহারও অপেক্ষ করিতে হইত না—পল্লীর ধর্মবুদ্ধি পল্লীর অভাবমোচনে নিয়ত জাগ্রত ছিল । আজ বাংলার গ্রামে গ্রামে কেবল ষে জলকষ্ট হইয়াছে, তাহা নহে, প্রাচীন জলাশয়গুলি দূষিত সমূহ 8వ) হইয়াছে। এইরূপে শরীর যখন অন্নাভাবে হীনবল এবং পানীয় জল যখন শোধনাভাবে রোগের নিকেতন, তখন বঁচিবার উপায় কী ? এইরূপে প্লেগও সহজেই আমাদের দেশ অধিকার করিয়াছে—কোথাও গে বাধা পাইতেছে না, কারণ পুষ্টি-অভাবে *ञांभांदमब्र श्रृंद्रौब्र चब्रक्रिउ । পুষ্টির অভাব ঘটিবার প্রধান কারণ, নানা নূতন নূতন প্রণালীষোগে অন্ন বাহিরের দিকে প্রবাহিত হইয়া চলিয়াছে—-আমরা যাহা খাইয়া এতদিন মানুষ হইয়াছিলাম, তাহ ষথেষ্টপরিমাণে পাইতেছি না । আজ পাড়াগায়ে যান, সেখানে দুধ দুর্লভ, যি দুমূল্য, তেল কলিকাতা হইতে আসে, তাহাকে পূর্ব-অভ্যাসবশত সরিষার তেল বলিয়া নিজেকে সান্ধনা দিই—তা ছাড়া, যেখানে জলকষ্ট সেখানে মাছের প্রাচুর্য নাই, সে-কথা বলা বাহুল্য। সস্তার মধ্যে সিংকোন সস্ত হইয়াছে। এইরূপে একদিনে নহে, দিনে দিনে সমস্ত দেশের জীবনীশক্তির মূলসঞ্চয় ক্রমে ক্রমে ক্ষয় হইয়া যাইতেছে। যেমন মহাজনের কাছে যখন প্রথম দেনা করিতে আরম্ভ করা যায়, তপনও শোধ করিবার সম্বল ও সম্ভাবনা থাকে ; কিন্তু সম্পত্তি যপন ক্ষীণ হইতে থাকে, তপন ষে-মহাজন একদা কেবল নৈমিত্তিক ছিল, সে নিত্য হইয়া উঠে—আমাদের দেশেও ম্যালেরিয়া প্লেগ ওলাউঠা দুর্ভিক্ষ একদিন আকস্মিক ছিল, কিন্তু এখন ক্রমে আর কোনোকালে তাহাদের দেন। শোধ করিবার উপায় দেখা যায় না, আমাদের মূলধন ক্ষয় হইয়া আসিয়াছে, এখন তাহারা আর কেবল ক্ষণে ক্ষণে তাগিদ করিতে আসে না, তাহারা আমাদের জমিজমাতে আমাদের ঘরবাড়িতে নিত্য হইয়া বসিয়াছে। বিনাশ ষে এমনি করিয়াই ঘটে, বংসরে বংসরে তাহার কি হিসাব পাওয়া যাইতেছে না ? - এমন অবস্থায় রাজার মন্ত্রণাসভায় দুটো প্রশ্ন উত্থাপন করিতে ইচ্ছা কর যদি তো করে, তাহাতে আমি আপত্তি করিব না। কিন্তু সেইখানেই কি শেষ ? আমাদের গরজ কি তাহার চেয়ে অনেক বেশি নহে ? ঘরে আগুন লাগিলে কি পুলিসের থানাতে খবর পাঠাইয়া নিশ্চিন্তু থাকিবে ? ইতিমধ্যে চোখের সামনে যখন স্ত্রীপুত্র পুড়িয়া মরিবে, তখন দারোগার শৈথিল্যসম্বন্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ করিবার জন্ত বিরাট বেশি । আমরা যে মরিতেছি। আমাদের অভিমান করিবার, কলহ করিবার, অপেক্ষ করিবার আর অবসর নাই। যাহা পারি, তাহাই করিবার জন্য এখনই আমাদিগকে কোমর বাধিতে হইবে। চেষ্টা করিলেই যে সকল সময়েই সিদ্ধিলাভ হয়, তাহা না হইতেও পারে, কিন্তু কাপুরুষের নিফলতা যেন না ঘটতে দিই—চেষ্ট না করিয়া যে-ব্যর্থত, তাহ পাপ, তাহা কলঙ্ক। * ৪৯২ রবীন্দ্র-রচনাবলী আমি বলিতেছি, আমাদের দেশে যে-দুৰ্গতি ঘটিয়াছে, তাহার কারণ আমাদের প্রত্যেকের অস্তরে, এবং তাহার প্রতিকার আমাদের নিজের ছাড়া আর কাহারও স্বারা কোনোদিন সাধ্য হইতে পারে না। আমরা পরের পাপের ফলভোগ করিতেছি, ইহা কখনোই সত্য নহে এবং নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত সুকৌশলে পরকে দিয়া করাইয়া লইব, ইহাও কোনোমতে আশা করিতে পারি না । 轉 সৌভাগ্যক্রমে আজ দেশের নানাস্থান হইতে এই প্রশ্ন উঠিতেছে—“কী করিব, কেমন করিয়া করিব ?” আজ আমরা কর্ম করিবার ইচ্ছা অনুভব করিতেছি, চেষ্টায়ও প্রবৃত্ত হইতেছি—এই ইচ্ছা যাহাতে নিরাশ্রয় না হয়, এই চেষ্ট যাহাতে বিক্ষিপ্ত হইয়া না পড়ে, প্রত্যেকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি যাহাতে বিচ্ছিন্ন-কণা-আকারে বিলীন হইয়া না যায়, আজ আমাদিগকে সেইদিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হইবে । রেলগাড়ির ইস্টম উচ্চস্বরে বঁশি বাজাইবার জন্ত হয় নাই, তাহা গাড়ি চালাইবার জন্যই হুইয়াছে। বঁশি বাজাইয়। তাহা সমস্তটা ফুকিয়া দিলে ঘোষণার কাজটা জমে বটে, কিন্তু অগ্রসর হুইবার কাজটা বন্ধ হইয়া যায়। আজ দেশের মধ্যে যে-উদ্যম উত্তপ্ত হইয়। উঠিয়াছে, তাহাকে একটা বেষ্টনের মধ্যে না আনিতে পারিলে তাহা নিজের মধ্যে কেবল বিরোধ করিতে থাকিবে, নূতন নূতন দলের স্বষ্টি করিবে এবং নানা সাময়িক উদ্বেগের আকর্ষণে তুচ্ছ কাজকে বড়ো করিয়া তুলিয়া নিজের অপব্যয় সাধন করিবে । দেশের সমস্ত উদ্যমকে বিক্ষেপের ব্যর্থত হইতে একের দিকে ফিরাইয়া আনিবার একমাত্র উপায় আছে—কোনো একজনকে আমাদের অধিনায়ক বলিয়া স্বীকার করা । দশে মিলিয়া যেমন করিয়া বাদবিবুাদ করা যায়, দশে মিলিয়া ঠিক তেমন করিয়া কাজ করা চলে না। ঝগড়া করিতে গেলে হট্টগোল করা সাজে, কিন্তু যুদ্ধ করিতে গেলে সেনাপতি চাই। কথা চালাইতে গেলে নান লোকে মিলিয়। স্বস্ব কণ্ঠস্বরকে উচ্চ হইতে উচ্চতর সপ্তকে উংক্ষিপ্ত করিবার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু জাহাজ চালাইতে গেলে একজন কাপ্তেনের প্রয়োজন । আজ অনুনয়সহকারে আমার দেশবাসিগণকে সম্বোধন করিয়া বলিতেছি, আপনার ক্রোধের দ্বারা আত্মবিশ্বত হইবেন না--কেবল বিরোধ করিয়া ক্ষোভ মিটাইবার চেষ্টা করিবেন না। ভিক্ষা করিতে গেলেও যেমন পরের মুখাপেক্ষা করিতে হয়, বিরোধ করিতে গেলেও সেইরূপ পরের দিকে সমস্ত মন বিক্ষিপ্ত হুইয়া পড়ে। জয়ের পন্থা ইহা নহে। এ-সমস্ত সবলে উপেক্ষা করিয়া মঙ্গলসাধনের মহৎ গোঁৱৰ লইয় अभिब्र छौ झ्हेद । * আপনার ভাবিয়া দেখুন, বাংলার পার্টিশনটা আজ খুব একটা বড়ো ব্যাপার নহে । সমূহ 8>Ꮼ আমরা তাহাকে ছোটো করিয়া ফেলিয়াছি। কেমন করিয়া ছোটো করিয়াছি ? এই পার্টিশনের আঘাত-উপলক্ষ্যে আমরা সমস্ত বাঙালি মিলিয়া পরম বেদনার সহিত স্বদেশের দিকে যেমনি ফিরিয়া চাছিলাম, অমনি এই পার্টিশনের কৃত্রিম রেখা ক্ষুদ্র হইতে ক্ষত্র হইয় গেল আমরা যে আজ সমস্ত মোহ কাটাইয়া স্বহন্তে স্বদেশের সেবা করিবার জন্ত প্ৰস্তত হইয়া দাড়াইয়াছি, ইহার কাছে পার্টিশনের আঁচড়টা কতই তুচ্ছ হইয়া গেছে। কিন্তু আমরা যদি কেবল পিটিশন ও প্রোটেস্ট, বয়কট ও বাচালতা লইয়াই থাকিতাম, তবে এই পার্টিশনই বুহুং হুইয়া উঠিত,—আমরা ক্ষুদ্র হইতাম, পরাভূত হইতাম । কার্লাইলের শিক্ষা-সকুলি । আজ কোথায় মিলাইয়া গেছে। আমরা তাহাকে নগণ্য করিয়া দিয়াছি । গালাগালি করিয়া নয়, হাতাহাতি করিয়াও নয় । গালাগালি-হাতাহাতি করিতে থাকিলে তো তাহাকে বড়ে করাই হইত। আজ আমরা নিজেদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করিতে উদ্যত হইয়াছি—ইহাতে আমাদের অপমানের দাহু আমাদের আঘাতের ক্ষতযন্ত্রণ একেবারে জুড়াইয়া গেছে। আমরা সকল ক্ষতি সকল লাঞ্ছনার উপরে উঠিয়া গেছি। কিন্তু ওই লইয়া যদি আজ পর্যন্ত কেবলই বিরাট সভার বিরাট ব্যর্থতায় দেশের এক প্রাস্ত হইতে আর-এক প্রান্ত পর্যন্ত ছুটির বেড়াইতাম, আমাদের সামনাসিক নালিশকে সমুদ্রের এপার হইতে সমুদ্রের ওপার পর্যন্ত তরঙ্গিত করিয়া তুলিতাম, তবে ছোটোকে ক্রমাগতই বড়ো করিয়া তুলিয়া নিজের তাহার কাছে নিতান্ত ছোটো হইয়া যাইতাম । সম্প্রতি বরিশালের রাস্তায় আমাদের গোটাকতক মাথাও ভাঙিয়াছে এবং আমাদিগকে কিঞ্চিৎ দ গুও দিতে হইয়াছে কিন্তু এই ব্যাপারটার উপরে বুক দিয়া পড়িয়া বেত্ৰাহত বালকের গায় আর্তনাদ করিতে থাকিলে আমাদের গৌরব নষ্ট হইবে । ইহার অনেক উপরে না উঠিতে পারিলে আশ্রসেচনে কেবল লঙ্গাই বাড়িয়া উঠিতে থাকিবে । উপরে উঠিবার একটা উপায়—আমরা ধাহাকে নায়কপদে বরণ করিব তাহাকে রাজ-অট্টালিকার তোরণদ্বার হইতে ফিরাইয়া আনিয়া আমাদের কুটির-প্রাঙ্গণের পুণ্যবেদিকায় স্বদেশের ব্ৰতপতিরূপে अखिबिख्। कब्र । ऋजब्र गएक हाउाहाडि कब्रि। बि-शणनरकहे जब्रजारख्द्र छेत्राब्र বলে মা—তাহার চেয়ে উপরে ওঠাই জয় । আমরা আজ আমাদের স্বদেশের কোনো মনদ্বীর কর্তৃত্ব যদি আনন্দের সহিত গৌরবের সহিত স্বীকার করিতে পারি, তবে এমাপন কৰে আমাদের কার সহিত কী ব্যবহার করিয়াছে, কেম্পের আচরণ বেআইনি हरेवाप्इ कि बा, उाश फूह श्रेरउ फूहउद्र श्हेब्र गाथकि हेडिशष्णज्ञ क्णक श्हेउ একেবারে মুছির বাইবে । বৰত এই ঘটনাকে অকিঞ্চিৎকর করিয়া না কেলিলে আমাদের অপমান দূর হইবে না। 8ó8 রবীন্দ্র-রচনাবলী স্বদেশের হিতসাধনের অধিকার কেহ আমাদের নিকট হইতে কাড়িয়া লয় নাই— তাহা ঈশ্বরদত্ত—স্বায়ত্তশাসন চিরদিনই আমাদের স্বায়ত্ত । ইংরেজ রাজা সৈন্ত লইয়া পাহারা দিন, কৃষ্ণ বা রক্ত গাউন পরিয়া বিচার করুন, কখনো বা অমুকুল কখনো বা প্রতিকুল হউন, কিন্তু নিজের দেশের কল্যাণ নিজে করিবার যে স্বাভাবিক কর্তৃত্ব: অধিকার, তাহ বিলুপ্ত করিবার শক্তি কাহারও নাই। সে-অধিকার নষ্ট আমরা নিজেরাই করি। সে-অধিকার গ্রহণ যদি না করি, তবেই তাহা হারাই। নিজের সেই স্বাভাবিক অধিকার হারাইয়া যদি কর্তব্যশৈথিল্যের জন্য অপরের প্রতি দোষারোপ করি, তবে তাহ লজ্জার উপরে লজ্জা । মঙ্গল করিবার স্বাভাবিক সম্বন্ধ যাহাদের নাই, যাহারা দয়া করিতে পারে মাত্র, তাহাদের নিকটই সমস্ত মঙ্গল সমস্ত-স্বার্থসংকোচ প্রত্যাশা করিব, আর নিজেরা ত্যাগ করিব না, কাজ করিব না, এরূপ দীনতার ধিক্কার অনুভব করা কি এতই কঠিন। তাই আমি বলিতেছি, স্বদেশের মঙ্গলসাধনের কর্তৃত্বসিংহাসন আমাদের সম্মুখে শূন্ত পড়িয়া আমাদিগকে প্রতিমুহূর্তে লজ্জা দিতেছে। হে স্বদেশসেবকগণ, এই পবিত্র সিংহাসনকে ব্যর্থ করিয়ো না, ইহাকে পূর্ণ করে । রাজার শাসন অস্বীকার করিবার কোনো প্রয়োজন নাই-—তাহা কপনে শুভ কথনে অশুভ, কখনো সুখের কখনো অসুখের আকারে আমাদের উপর দিয়া প্রবাহিত হইয়া যাইবে, কিন্তু আমাদের নিজের প্রতি নিজের যে-শাসন, তাহাই গভীর, তাহাই সত্য, তাহাই চিরস্থায়ী । সেই শাসনেই জাতি যথার্থ ভাঙে-গড়ে, বাহিরের শাসনে নহে । সেই শাসন অস্ত আমরা শাস্তসমাহিত পবিত্রচিত্তে গ্রহণ করিব । যদি তাহা গ্রহণ করি, তবে প্রত্যেকে স্বস্বপ্রধান হুইয়া অসংযত হইয়া উঠিলে চলিবে না । একজনকে মানিয়া আমরা যথার্থভাবে আপনাকে মানিব । একজনের মধ্যে আমাদের সকলকে স্বীকার করিব । একজনের দক্ষিণ-হস্তকে আমাদের সকলের শক্তিতে বলিষ্ঠ করিয়া তুলিব। আমাদের সকলের চিস্তা তাহার মন্ত্রণাগারে মিলিত হইবে এবং তাহার আদেশ আমাদের সকলের আদেশরূপে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ধ্বনিত হইয়া উঠিবে। যাহারা পিটিশন বা প্রোটেস্ট, প্রণয় বা কলহু করিবার জন্ত রাজবাড়ির বাধারাস্তাটাতেই ঘনঘন দৌড়াদৌড়ি করাকেই দেশের প্রধান কাজ বলিয়া গণ্য করেন, আমি সে-দলের লোক নই, সে-কথা পুনশ্চ বলা বাহুল্য। আজ পর্যন্ত যাহার দেশহিতব্ৰতীদের নায়কতা করিয়া আসিতেছেন তাহার রাজপথের तकवाणूकांग्र जवं ७ षभ সেচন করিয়া তাহাকে উর্বর করিবার চেষ্টা করিয়া আসিয়াছেন, তাছাও জানি । সমূহ 8ఫి(t ইহাও দেখিয়াছি, মৎস্যবিরল জলে যাহার ছিপ ফেলিয়া প্রত্যহ বসিয়া থাকে, অবশেষে তাহাদের, মাছ পাওয়া নয়, ওই আশা করিয়া থাকাই একটা নেশা হইয়া যায়, ইহাকে নি:স্বাৰ্থ নিফলতার নেশা বলা যাইতে পারে, মানবন্ধভাবে ইহারও একটা স্থান আছে। কিন্তু এজন্ত নায়কদিগকে দোষ দিতে পারি না, ইহা আমাদের ভাগ্যেরই দোষ । দেশের আকাক্ষ যদি মরীচিকার দিকে না চুটিয়া জলাশয়ের দিকেই চুটিত, তবে র্তাহারা নিশ্চয় তাহাকে সেইদিকে বহন করিয়া লইয়া যাইতেন, তাহার বিরুদ্বপথে চলিতে পারিতেন না । g তবে নায়ক হইবার সার্থকতা কী, এ প্রশ্ন উঠিতে পারে। নায়কের কর্তব্য চালনা করা,--ভ্রমের পথেই হউক, আর ভ্রমসংশোধনের পথেই হউক । অভ্রাস্ত তত্ত্বদর্শীর জন্ত দেশকে অপেক্ষা করিয়া বলিয়া থাকিতে বলা কোনো কাজের কথা নহে। দেশকে চলিতে হইবে ; কারণ, চলা স্বাস্থ্যকর, বলকর । এতদিন আমরা যে পোলিটিকাল অ্যাজিটেশনের পথে চলিয়াছি, তাহাতে অন্ত ফললাভ যতই সামান্য হউক, নিশ্চয়ই বললাভ করিয়াছি,—নিশ্চয়ই ইহাতে আমাদের চিত্ত সজাগ হইয়াছে, আমাদের জড়ত্বমোচন হুইয়াছে । কখনোই উপদেশের দ্বারা ভ্রমের মূল উৎপাটিত হয় না, তাহা বারংবার অঙ্কুরিত হইয়া উঠিতে থাকে । ভোগের দ্বারাই কর্মক্ষয় হয়, তেমনি ভ্রম করিতে দিলেই যথার্থভাবে ভ্রমের সংশোধন হইতে পারে, নহিলে তাহার জড় মরিতে পারে না । ভুল করাকে আমি ভয় করি না, ভুলের আশঙ্কায় নিশ্চেষ্ট হইয়া থাকাকেই আমি ভয় করি । দেশের বিধাতা দেশকে বারংবার অপথে ফেলিয়াই তাহাকে পথ চিনাইয়া দেন— গুরুমহাশয় পাঠশালায় বসিয়া তাহাকে পথ চিনাইতে পারেন না। রাজপথে ছুটাছুটি করিয়া যতটা ফল পাওয়া যায় সেই সময়টা নিজের মাঠ চষিয়া অনেক বেশি লাভের সম্ভাবনা, এই কথাটা সম্পূর্ণ বুঝিবার জন্ত বহুদিনের বিফলতা গুরুর মতে কাজ করে । সেই গুরুর শিক্ষা যখন হৃদয়ংগম হুইবে, তপন যাহারা পথে ছুটিয়াছিল, তাহারাই মাঠে চলিবে—আর যাহার ঘরে পড়িয়া থাকে, তাহারা বাটেরও নয়, মাঠেরও নয়, তাহারা অবিচলিত প্রাজ্ঞতার ভড়ং করিলেও, সকল আশার সকল সদ্‌গতির বাহিরে। অতএব দেশকে চলিতে হইবে । চলিলেই তাহার সকল শক্তি আপনি জাগিবে, আপনি খেলিবে । কিন্তু রীতিমত চলিতে গেলে চালক চাই। পথের সমস্ত বিঘ্ন অতিক্রম করিবার জন্তু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদিগকে দল বাধিতে হইবে, স্বতন্ত্র পাথেয়গুলিকে একত্র করিতে হুইবে, একজনের বাধ্যতা স্বীকার করিয়া দৃঢ় নিয়মের অধীনে নিজেদের মতবিভিন্নতাকে যথাসভব সংঘত করিতে হইবে,—নতুবা আমাদের সার্থকতা-অন্বেষণের