সমূহ/প্রসঙ্গ-কথা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


প্রসঙ্গ-কথা > কলিকাতায় প্লেগ-রেগুলেশন যে উগ্ৰমূৰ্তিধারণ করিয়া উঠে নাই, সেজন্য আমাদের নব বঙ্গাধিপের প্রতি বঙ্গদেশের কৃতজ্ঞতা উচ্ছসিত হইয়া উঠিয়াছে। যমদূতের উৎপীড়নের সহিত রাজদূতের বিভীষিকার যোগ হইলে প্রজাগণ একেবারে হতাশ হইয়া পড়িত। কিন্তু সেইটে নিবারণ হইয়াছে বলিয়াই যে একমাত্র আনন্দ তাহা নহে ; ইহা অপেক্ষ গুরুতর সুখের কথা আছে । ইতিপূর্বে আমরা লক্ষ্য করিয়া দেগিয়াছি, প্রজার যপন কোনো একটা বিষয়ে একটু বেশি জিদ করিয়া বসে তখন গবর্মেন্ট তাহাদের অনুরোধ পালন করিতে বিশেষ কুষ্ঠিত হইয়া থাকেন, পাছে প্রজা প্রশ্রয় পায় । সেইজন্ত আমাদের শিক্ষিত লোকের যে-সমস্ত কোলাহলকে পোলিটিকাল অ্যাজিটেশন নাম দিয়া থাকেন তাহাকে উদ্দেশুসিদ্ধির পক্ষে আমরা সদুপায় বলিয়: মনে করি না । কারণ, গবমেণ্ট এবং ভারতবর্ষীয় ইংরেজগণ যখন এই সকল অ্যাজিটেশনওআলাকে আপনাদের বিরুদ্ধদল বলিয়া গণ্য করিয়া লইয়াছেন, তখন র্তাহাদের সংগত প্রস্তাবেও কর্ণপাত করিতে কর্তৃপক্ষের দ্বিধা হয়, মনে হয়, এ-কথা পাছে সাধারণে মনে করে যে, আমরা দায়ে পড়িয়া হার মানিয়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে কয়েকজন উদ্ধত লোকের বাকশক্তিদ্বারা চালিত হইলাম, পাছে কেহ ভুলিয়া যায় যে, ভারতবর্ষে আমাদের ইচ্ছাই শেষ ইচ্ছা । অ্যাজিটেশনকারিগণও ভিতরে ভিতরে তাহার আভাস পাইয়াছেন তাহাদের ব্যবহারে এরূপ অনুমান করা যায়। কারণ, এবারে যে নিদারুণ আইনের দ্বারা নাটু-হরণ ব্যাপার ঘটিল সে-সম্বন্ধে আমাদের দেশের বাগ্মী-সভাসমূহ অভূতপূর্ব বিজ্ঞতাসহকারে সুদীর্ঘকাল নিস্তব্ধ ছিলেন । আমরা গোল করিতে বসিলেই পাছে গবর্মেন্টের মন আরও বিগড়িয়া যায় হয়তো এ-আশঙ্কা তাহাদের ছিল । যাহাই হউক বর্তমান ব্যাপারে আমাদের বিশেষ আনন্দের বিষয় এই যে, গবর্মেন্ট প্রজাদের মন রক্ষা করিতে লজ্জা বা সংকোচ বোধ করেন নাই। গবর্মেন্ট এবং এ-দেশী ইংরেজসম্প্রদায় বলিতেছেন যে, প্রজারা যখন পুব-দেশী, এবং পরিবারমণ্ডলীর প্রতি হস্তক্ষেপ করার বিরুদ্ধে উহাদের যখন এতই দৃঢসংস্কার তখন সেটা বিবেচনা করিয়া এবং যথাসম্ভব বাচাইয়া কাজ করাই রাজার কর্তব্য। ○○ ● রবীন্দ্র-রচনাবলী আমাদের বিস্ময় এবং কৃতজ্ঞতার কারণ এই যে, প্লেগদমন একমাত্র ভারতবর্ষের হিতের জন্য নহে। তাহাতে ইংরেজের ভয় আছে, বাণিজ্যের ক্ষতি আছে। এরূপ স্থলে প্রজাদের পুব-দেশী সংস্কার বিবেচ্য বিষয়ের মধ্যে গণ্য হওয়ায় প্রাচীলক্ষ্মীর সকরুণ নেত্রযুগল আনন্দাশ্রজলে অভিষিক্ত হইয়। উঠিয়াছে। এমন অকস্মাং সৌভাগ্য আমরা আশাও করি নাই। কারণ, যে দুর্ভিক্ষ-ভূকম্পমহামারীর প্রলয়পীড়নে অন্য কোনো দেশ আসন্ন মৃত্যুর ভীষণ নৈরাস্তে উদাম হইয় উঠিত, ভারতবর্ষ তাহ অবিচলিত ধৈর্যসহকারে সহ করিয়াও কর্তৃপক্ষের করুণা আকর্ষণ করিতে পারে নাই ; দেশের এই পরম দুঃসময়ে গবর্মেন্ট উপযুপরি র্তাহার কঠোরতম বিধি ও শাসনের দ্বারা ভারতবর্ষীয় সহিষ্ণুতার অগ্নিপরীক্ষা স্বজন করিয়া তুলিয়াছিলেন । এইরূপ দুর্যোগই বিদেশী রাজার পক্ষে প্রজাদের হৃদয়জয়ের দুর্লভ অবকাশ । এই সময়েই রাজা প্রমাণ করিতে পারেন যে, আমরা পর হইয়াও পর নহি । এই সময়েই র্তাহাদের পক্ষে ক্ষম ধৈর্য ও সমবেদনা ফৌজ কেল্লা ও গুলিগোলার অপেক্ষা রাজশক্তির যথার্থ পরিচয়স্থল । পরস্তু এই সময়ে পতিতের উপর পদপ্রহার, ব্যথিতের উপর জবরদস্তি ভয়ের নিষ্ঠুরতামাত্র। ইহাতে রাজার রাজশক্তি নহে বিদেশীর দুর্বলতা প্রকাশ পায় । এবার পুনিটিভ পুলিস, নাট-নিগ্রহ, সিডিশন বিলের দ্বারা গবর্মেন্ট উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করিয়াছেন যে, আমরা স্বল্পসংখ্যক বিদেশী, আমরা ক্ষমা করিতে সাহস করি না । মারীগ্রস্ত পুনা যখন গোরাসৈন্তের আতঙ্কে মুহুমুহু কাতরোক্তি প্রকাশ করিতে লাগিল তখন কর্তৃপক্ষ সেই আর্তনাদকে প্রজার স্পর্ধ বলিয়া গণ্য করিলেন । তখন তাহারা প্রবলজনোচিত ঔদার্য অবলম্বন করিলেন না, সকরুণচিত্তে এটুকু বিবেচনা করিলেন না যে, দুর্ভাগীগণের অস্তিমশয্যা হইতে অন্তত একটা অসংগত বিভীষিকা দূর করিলেও বিশেষ ক্ষতি নাই। স্বীকার করিলাম গোৱাসৈন্যগণ শিষ্ট শাস্ত সংযত, এবং দেশীয় লোকদের প্রতি স্নেহশীল। কিন্তু দেশের মৃঢ় লোকের যদি এমন একটা সুদৃঢ় অন্ধ সংস্কার জন্মিয়াই থাকে যে, গোরাসৈন্য দুর্দান্ত উচ্চুম্বল এবং শ্রদ্ধা অভাবে দেশীয় লোকের প্রতি অবিবেকী তবে সেই চরম সংকটের সময় বিপন্ন ব্যক্তিদের একটা অনুনয় রক্ষা করিলে দুর্বলতা নহে মহত্ত্ব প্রকাশ পাইত । † দেখিলাম গবর্মেন্টের উত্তরোত্তর রাগ ও জেদ বাড়িয়া যাইতে লাগিল । যেখানে যত বেদন শাসনকর্তা সেখানে তত আঘাত করিতে কৃতসংকল্প হইলেন । ভারতবর্ষের আদ্যন্তমধ্যে অশাস্তির আক্ষেপ কোথাও প্রকাস্তে ফুটবার উপক্রম করিল কোথাও পরিশিষ্ট (*@ S গোপনে গুমরিয়া উঠিল । এ-দেশের সর্বসাধারণের মধ্যে এরূপ ক্ষুব্ধ অবস্থা আর কখনো रिश्र! षांश्च नाङे । ইতিমধ্যে কলিকাতায় প্লেগ দেপা দিল । ভাবিলাম শংকরের অপেক্ষ তাহার ভূতপ্রেতগুলার ভয় বেশি–এবং ভারতগবর্মেন্টের যেরূপ মেজাজ তাহাতে প্লেগ অপেক্ষা প্লেগ-রেগুলেশন বেশি রুদ্রমূর্তি ধারণ করিয়া উঠিবে । সতর্ক থাকিলে প্লেগের হস্ত অনেকে এড়াইবে কিন্তু রেগুলেশনের হস্তে কাহারও রক্ষা নাই । এমন সময় বুডবর্ন সাহেব মাভৈ;ধনি ঘোষণা করিলেন । বুঝিলাম বাংলাদেশে রাজার অভু্যদয় হইয়াছে, এপানে রেগুলেশন নামক এঞ্জিনের শাসন নহে, রাজার রাজ্য । ইহাতেই রাজভক্তি জাগিয় উঠে । রাজার ইচ্ছা আমার ইচ্ছার সহিত একভাবে মিলিতে পারে ইহা জানিতে পারিলে রাজাকেও মকুন্তু বলিয়া প্রীতি করি এবং আপনার প্রতিও মনুষ্য বলিয়া শ্রদ্ধা জন্মে । এ-কথা কেহই অস্বীকার করিতে পারিবেন না যে, আজকাল কিপলিং প্রভৃতি বিপ্যাত লেখকগণের উপন্যাসে ভারতবর্ষ ও তাহার অধিবাসিবর্গ যেরূপ বর্ণে চিত্রিত হইতেছে এরং ভারতবর্ষীয় ইংরেজদের মধ্যে এদেশীয়দের বিরুদ্ধে ক্রমশই যে একটা সাম্প্রদায়িক সংস্কার বদ্ধমূল হইয়া যাইতেছে এবং যাহার অবশুম্ভাবী প্রতিঘাতস্বরূপে উত্তরোত্তর ভারতবাসীর মনে ইংরেজ ও সর্বপ্রকার ইংরেজি প্রভাবের প্রতিকূলে যে একটা পরাস্মুখভাব বৃদ্ধি পাইতেছে অল্পে অল্পে তাহার প্রতিকার সাধন করিতে পারেন পশ্চিমের ম্যাকডোনেল এবং আশা করি আমাদের বুন্ডবর্ন সাহেবের ন্যায় ক্ষমাধৈযপরায়ণ সহৃদয় শাসনকর্তৃগণ । কঠিন আইন ও জবরদস্তিতে সম্পূর্ণ উলটা ফল ফলিবে । ইহা আমরা জোর করিয়া বলিতে পারি। এখন এমন একটা অবস্থা দাড়াইয়াছে যে, ইংরেজ এবং দেশী উভয়েই পরম্পর পরম্পরকে ভূল বুঝিবার, অন্যায় বিচার করিবার জন্য প্রস্তুত হইয়া আছে। কিন্তু ক্ষমতা যাহার হস্তে, বিচারের শেষ ফল সেই দিতে পারে। আমাদের মন বিগড়াইয়া গেলে আমরা কাগজে দু-চার কথা বলিতে পারি, কিন্তু কর্তৃপক্ষের মন বিগড়াইয়া গেলে তাহারা আমাদের কাগজের গলা চাপিয়া ধরিতে পারেন। আমরা ক্ষুব্ধ হইলে তাহ রাজবিদ্রোহ কিন্তু রাজার রুধিয়া থাকিলে তাহ! কি প্রজাবিদ্রোহ নহে ? উভয়েরই ফল কি রাজ্যের পক্ষে সমান অমঙ্গলজনক নহে ? কিন্তু চুইদিক বিচার করা কাজটা কঠিন, বিশেষত দুইদিকের মধ্যে একদিক যখন নিজের দিক । তথাপি নীতিতত্ত্ববিংমাত্রেই বলিয়া থাকেন পরের অপেক্ষা নিজেকে কঠিন বিচারাধীনে আনিলে নিজের পক্ষেই মঙ্গল। ঈসপের কথামালায় আছে কানা ○○ミ রবীন্দ্র-রচনাবলী হরিণ পরপারের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া ঘাস খাইত—তাহার নিজপারের দিক হইতেই ব্যাধের শর তাহাকে বিদ্ধ করিয়াছিল। নিজের দিকে সকলে কানা এই জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুতর অকল্যাণ সেইদিকেই প্রবল হইয়া উঠে। আমাদেরও সেই দশা, ইংরেজেরও তাই। যাহা সর্বাগ্রে আমাদের নিজের কর্তব্য তাহার প্রতি আমরা উদাসীন এবং গবর্মেন্টের কর্তব্যের প্রতি আমাদের শত চক্ষু এবং সহস্ৰ জিহবা । ইংরেজেরও প্রজার সামান্যমাত্র চাঞ্চল্যের প্রতি রুদ্ররূপ, কিন্তু নিজে যে প্রতিদিন ঔদ্ধত্য ও অবমাননার দ্বারা প্রজাসাধারণকে নানা আকারে ক্ষুব্ধ করিয়া তুলিতেছেন তাহার বিষময়তার প্রতি কর্তৃপক্ষের শৈথিল থাকাতে তাহ প্রশ্রয় পাইয়া বিরাটমূর্তি ধারণ করিতেছে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা একটা উদাহরণ দিতেছি । অনিচ্ছার কারণ এই, বারংবার নিজেদের এই সকল হীনতার দৃষ্টান্ত আলোচনা করিতে সংকোচ বোধ হয়। মাঝে মাঝে প্রায়ই শুনা যায় গোর সৈন্য শিকার উপলক্ষ্যে এ-দেশী গ্রামবাসীর হত্যার কারণ হইয়া পড়ে। মন্দ্রিাজে ঘণ্টাকুলের হত্যাব্যাপারে দেশীয় দ্বাররক্ষীর মহত্ববিবরণ এমন জড়িত রহিয়াছে যে, তাহ বিস্মৃত হওয়া ভারতবাসীর পক্ষে সুকঠিন । দেশীয় লোককে হত্যা করিয়া এ-পর্যন্ত বাংলাদেশে কেবল বহুকাল পূর্বে একজন ইংরেজের ফঁাসি হইয়াছিল । অভিযুক্তগণ পালাস পাইয়াছে, অবশু, সেটা প্রমাণ এবং ইংরেজ জজ ও জুরির বিচার ও বিশ্বাসের কথা । কিন্তু এরূপ দুৰ্ঘটনা বারংবার মা ঘটিতে পারে গবর্মেন্ট তজ্জন্য কোনো বিশেষ বিধান করিয়াছেন বলিয়া বোধ হয় না । অথচ ইহাতে করিয়া কোনো পোলিটিকাল কুফল সঞ্চিত হইতেছে না এমন কে বলিতে পারে ? সম্প্রতি ব্যারাকপুরে একজন সম্বাস্ত বাঙালি ভদ্রলোক তিনজন গোরা সৈন্তের দ্বারা যেরূপ নিষ্ঠুরভাবে হত হইয়াছেন তাহ পাঠকগণ জানেন । অবশ্ব ইহার বিচার হইবে, এবং দোষিগণ দণ্ড পাইবে এমনও আশা করা যাক । কিন্তু ইতিমধ্যে ইংরেজচালিত কোনো খবরের কাগজে এই নিদারুণ ঘটনা উপলক্ষ্যে কিছুমাত্র বিরক্তি খেদ অথবা রোষ প্রকাশ হইয়াছে ? প্রমাণের ক্রটি অবলম্বন করিয়া আদালতের হস্ত হইতে দোষী নিষ্কৃতি পাইতে পারে কিন্তু ইংরেজসাধারণের ক্ষুব্ধ ন্যায়ানুরাগ যদি এই পাপকার্যকে লেশমাত্র লাঞ্ছিত না করে তবে তাহা হইতে কী প্রমাণ হয় ? অথচ, হাওড়ায় কোনো একটি যুরোপীয় হত্যা লইয়া সেই সকল ইংরেজি কাগজের ইংরেজ পত্রপ্রেরকগণ কিরূপ উত্তেজনা ও আক্রোশ প্রকাশ করিতেছেন ? হাওড়ার এই হত্যাকাগু অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও শোচনীয় সন্দেহ নাই এবং তাহার বিচার 鞅 পরিশিষ্ট @の○ কঠিন ও দণ্ড স্বকঠোর হইবে না এমন আশঙ্কাও কেহ মনে স্থান দিতে পারে না। কিন্তু উভয় হত্যার মধ্যে অনেক প্রভেদ আছে। জনসাধারণ যখন অমূলক অথবা সমূলক আশঙ্কার ত্রস্ত হইয় উঠে তখন তাহারা যেরূপ ভীষণমূর্তি ধারণ করে তাহ অন্ত দেশের তুলনায় এ-দেশে কিছুই নহে। সেইরূপ: উত্তেজিত অবস্থায় যে দুই-একটা অস্তায় হত্য সংঘটিত হইবে তাহাতে বিচিত্র কী আছে ? কিন্তু ব্যারাকপুরে বিনাকারণে যে হত্য ঘটয়াছে তাহার মূলে বহুকালের স্পর্ধা ও প্রশ্ৰয় আছে,—প্লেগঘটিত উত্তেজনা কচিং-সম্ভাব্য কিন্তু শেষোক্ত কারণজনিত দুর্ঘটনা ধারাবাহিক । তাহার বিষবীজ সংক্রামক এবং স্থায়ী । একটি গোরা পুনা-রাজপথে বায়ু-বন্দুক ছুড়িয়া আমোদ করিতেছিল তাহার বিবরণ কাগজে প্রকাশিত হইয়াছে । তিনজনের গায়ে গুলি লাগে । আঘাত অতি সামান্ত, এবং সে-হিসাবে অপরাধ গুরুতর নহে। কিন্তু এই খেলার মধ্যে যে একটা নিষ্ঠুর অবজ্ঞা অবহেলা আছে তাহ ভারতবাসীর পক্ষে বিপজ্জনক এবং কর্তৃপুরুষের পক্ষেও চিন্তার কারণ হওয়া উচিত ছিল। অপরাধী স্বীকার করিয়াছে যে, "He fired at a coffee shop sweeper for a lark" sets a cqqafxta qui sfîrși așwa কফি-দোকানের ঝাড়ুদারকে গুলি করিয়াছিল। এই গুলি ঝাড়ুদারের গাত্রে অধিকদূর প্রবেশ করে নাই কিন্তু এইরূপ মজা ভারতবর্ষের মর্মের মধ্যে গভীররূপে নিহিত হইয়া থাকে। 影 এ-কথা অস্বীকার করিতে পারি না যে, ষে-জাতি অতিমাত্রায় নিরীহ তাহাকে পদে পদে আঘাত ও অপমান হইতে রক্ষা করিতে কোনো গবর্মেন্টই কৃতকার্য হইতে পারে না । এই সকল ক্ষুদ্র বিপদ হইতে নিজের পৌরুষই নিজেকে উদ্ধার করে। ইহার জন্য কাহারও কাছে কাদিয়া গিয়া পড়ার মতে লজ্জা আর নাই । সেইজন্ত ছোটোখাটো উপদ্রব এবং অপমানের কথায় নিজেদেরই প্রতি ধিক্কার জন্মে। সেতারার স্কুলমাস্টারের কুষ্ঠিত সেলাম সাহেবের পক্ষে যথোপযুক্ত না হওয়ায় যে একটা লাঞ্ছনা ও নালিশের স্বষ্টি করিয়াছে তাহা আমরা লজ্জাজনক জ্ঞান করি। প্রত্যক্ষ অপমান ষে-দেশে মুমন্দ গতিতে সুদূর নালিশে গিয়া গড়ায় সে-দেশের অপমানেরও শেষ নাই। $. কিন্তু যাহার। সুদীর্ঘকাল শাস্তভাবে সহ করে, তাহারাই যে অকস্মাৎ একদিন তাহাদের চিরসঞ্চিত নীরব নালিশ অস্তজালার সহিত উদগীৰ্ণ করিতে পারে এ-কথা সকলেই জুলিয়া যায়—এমন কি, তাহারা নিজেরাও পূর্বে হইতে বলিতে পারে না । এইজন্য যখন তাহার হঠাৎ সামান্ত উপলক্ষ্যে ক্ষিপ্ত হইয় উঠে তখন তাহাদের নিরর্থক • ۹ سس- ه د: ©©8 \ রবীন্দ্র-রচনাবলী ( আচরণ অত্যন্ত অসংগত বলিয়া বোধ হয়। লোকে ভুলিয়া যায় বহুকালের ক্ষুদ্র ক্ষুত্র বেদনা, অবিচার, অবিশ্বাস, অপমান হঠাৎ একটা তুচ্ছ মন্ত্রবলে বিরাট আকার ধারণ করিয়া উঠে। মনে হয় সে যেন একটা আকস্মিক অতিপ্রাকৃত দৈৰস্থষ্টি, কেহ যেন পূর্বে হইতে তাহার জন্ত অপেক্ষা করিতে পারে না । কিন্তু তাহ আকস্মিক নৰে অতি দীর্ঘকাল ধরিয়া অতিশয় মন্দগতিতেই প্রাক্কত নিয়মের রাজপথ দিয়া সে চলিয়া আসে, তাহার মৌন দীনভাব দেখিয়া কেহ তাহাকে লক্ষ্য করে না । ş? Abs = 1 পূৰ্বদেশীয়দের এই নীরব সহিষ্ণুতা যাহাতে পশ্চিমদেশীয়দিগকে অলক্ষ্যে অসতর্ক ও ঔদ্ধত্যে লইয়া যায়, ইহাই প্রাচ্য প্রজা ও পাশ্চাত্য রাজা উভয়েরই পক্ষে বিপদের মূল। ইহা হইতেই গোরা সৈন্যদের মজার খেলা ও কাল আদমিদের অকস্মাং উন্মত্ততার স্বষ্টি হয় । যাহা হউক, এইরূপ সংঘটন এবং সংঘর্ষে প্রজাদের আন্তরিক সন্তাপ যে কিরূপ বাড়িয়া উঠিতেছে তাহা পরিমাণ করিবার উপায় নাই । যে-সকল ইংরেজ কথায় কথায় ঘুষা লাথি চড় এবং গুয়র নিগর সম্ভাষণ প্রয়োগ করিতে সর্বদা প্রস্বত র্তাহার প্রত্যহই ভারতবর্ষে কী প্রকার বিপংপাতের ভিত্তি রচনা করিতেছেন তাহ। তাহারা জানেন না, এবং ষে ইংরেজসমাজ এইরূপ রূঢ়তা ও অবজ্ঞাপরতার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার নৈতিক বাধা প্রদান করেন না তাহার ষে-শাখায় বসিয়া আছেন সেই শাপ ছেদনে প্রবৃত্ত । আমাদের প্রতি সাধারণ ইংরেজের এই প্রকার ভাবই প্রজাবিদ্রোহের ভগব । র্তাহারা আচারে ব্যবহারে ভাষায় ভঙ্গিতে সর্বদাই আমাদের মর্মস্থানকে ক্ষুব্ধ করিতেছেন । এমন কি, তাহাদের মধ্যে এমন মূঢ়চেতারও অভাব নাই যাহারা অসহ্য অবজ্ঞার আঘাতে । প্রজা-হৃদয়ে অপমানক্ষত সর্বদা জাগাইয়া রাখাই রাজনৈতিক হিসাবে কর্তব্য জ্ঞান করেন। তাহারা পথে চলিতে চাবুক তুলিয়া সেলাম শিখাইতে শিখাইতে অগ্রসর হন । ইহাকেই বলে প্রজাবিদ্রোহ । এবং নিয়ত এই বিদ্রোহেই প্রজাৰ হইবা প্রজাপতির কালাগ্নি উত্তরোত্তর প্রজলিত হইতে থাকে । ইংরেজ কি সেই চিরজাগ্রত প্রজাপালকের বিশ্বনিয়মের প্রতিও প্রভূত্বমদোদ্ধত ভ্ৰকুট নিক্ষেপ করিবেন ? প্রজাদের সংবাদপত্র, সভাসমিতি, এবং বাগ্নিবর্গ আছে, রুদ্রমূর্তি রাজা মুহুর্তের মধ্যে তাহাজের বাগরোধ করিয়া দিতে পারেন কিন্তু প্রজাপতির সভা নিঃশব্দ নীরব এবং তাহার বিচার সুচির কিন্তু সুনিশ্চিত । Nలిe & পরিশিষ্ট ©©☾ २ পরজাতীয়ের প্রতি বিদ্বেষ যে স্বাভাবিক এবং কিয়ৎপরিমাণে তাহার সার্থকতা আছে এ-সম্বন্ধে সম্প্রতি ইংরেজি স্পেক্টেটর পত্রে একটি প্রবন্ধ বাহির হইয়াছে। একটা জাতি বাধিয়া তুলিতে অনেক সময় যায়। আজ যাহারা ইংরেজজাতি বলিয়া খ্যাত তাহারা জুলিয়স সাজারের আক্রমণকাল হইতে এডওঅর্ড দি কনফেসরের রাজত্বকাল পর্যন্ত হাজার বংসর ধরিয়া পরিপাক পাইয়া তবে প্রস্তুত হইয়াছে। এই সময়ের মধ্যে কেন্ট রোমান অ্যাঙ্গল জুট ডেন তাকসন নর্মান প্রভৃতি বিচিত্র ভিন্ন জাতি এক ঐতিহাসিক চুল্লির উপরে চড়ানো ছিল। তাহদের মধ্যে প্রভেদ ও বিরোধ খুঁচির যখন তাহার ঘনভাবে এক হইয়া উঠিল তখন তাহারা ব্রিটিশ জাতিরূপে अंमा झंझेल ! এত দীর্ঘকালনির্মিত জাতীয়তা পরের সংঘাত হইতে আপনাকে সর্বতোভাবে রক্ষা করিবার জন্ত স্বভাবতই উষ্ঠত হইয়া থাকে ধর্মনীতি সমাজনীতি অর্থনীতি সম্বন্ধে তাহার সংস্কারসকল এমন একান্ত বিশেষত্ব ও দৃঢ়তা লাভ করে যে, তাহার মধ্যে বহির্জাতির প্রবেশপথ থাকে না । ভারতবর্বের হিন্দুগণ বিশেষ একটি জাতি বলিয়া গণ্য হইতে পারে কিনা তাহা লইয়া কেহ কেহু তর্ক উত্থাপন করেন । সে তর্ক অসংগত নহে । জগতে হিন্দুজাতি এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত । ইহাকে বিশেষ জাতিরূপে গণ্য করা যায় এবং বায়ও না । জাতীয়ত্বের সংকীর্ণতা ইহার মধ্যে আছে অথচ জাতীয়ত্বের বল ইহার মধ্যে নাই। ইহা এক অথচ অনেক, ইহা বিপুল অথচ দুর্বল। ইহার বন্ধন যেমন কঠিন তেমনি শিথিল, ইহার সীমা যেমন দৃঢ় তেমনি অনির্দিষ্ট। যুরোপে জাতিগত উপাদানে রাজনৈতিক ঐক্যই সর্বপ্রধান । হিন্দুদের মধ্যে সেটা কোনোকালেই ছিল না বলিয়া ষে হিন্দুরা জাতিবদ্ধ নহে সে-কথা ঠিক নহে। বৈদিক সময় হইতে পৌরাণিক যুগ পর্যন্ত সুদীর্ঘকাল ধরিয়া শাস্ত্র এবং সংস্কার, আচার এবং অনুশাসন হিন্দুদিগের জন্য এক বিরাট বিস্তৃত আবাসভবন নির্মাণ করিয়াছে। তাহার সকল কক্ষগুলি সমান নহে ;-- মাঝে মাঝে দেয়াল উঠিয় তাহার ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের মধ্যে যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হইয়াছে কিন্তু তথাপি এই বিপুলতার भएषा ७कछे दूइ९ ॐक7 चां८छ्। এই অট্টালিকার মধ্যে যাহারা আশ্রয়ু গ্রহণ করিয়াছে তাহার আদৌ একবংশীয় নছে। দক্ষিণের দ্রাবিড় হইতে হিমালয়ের নেপালি পর্যন্ত নানা বিচিত্র জাতি বহুকালে ক্রমে ক্রমে ইহার মধ্যে সন্মিলিত হইয়াছে । o ©©& রবীন্দ্র-রচনাবলী বরঞ্চ যে-সকল জাতি মিশ্রিত হইয়া ইংরেজ মহাজাতি রচিত হইয়াছে তাহারা মূলত ভিন্নগোত্রীয় নহে। কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে বিসদৃশ জাতিপরম্পরা যেমন একত্র মিশ্রিত হইয়াছে জগতে এমন আর কুত্রাপি ঘটে নাই। স্পেক্টেটর যে স্বাভাবিক পরজাতিবিদ্বেষের কথা বলিয়াছেন আদিম আর্বদের মধ্যে তাহা প্রচুর পরিমাণেই ছিল। আদানপ্রদান আচারবিচার, এমন কি, জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় তাহারা আপনাদিগকে অনার্ষদের সংস্রব হইতে দূরে রক্ষা করিবার জন্ত একান্ত চেষ্টা করিয়াছিলেন । - এ এক বহুদিনব্যাপী প্রকাগু যুদ্ধ। রামায়ণ-মহাভারতের সুবিশাল ছন্দঃস্রোতের মধ্যে এই প্রাণপণ যুদ্ধের প্রলয়কল্লোল এখনও ধ্বনিত হইতেছে। wo কিন্তু চারিদিকের সহিত চিরকাল লড়াই করা চলে না । ক্রমে বিরোধচেষ্টা শিথিল হইয়া আসে এবং অল্পে অল্পে সন্ধি স্থাপিত হয় । এবং এইরূপে ধীরে ধীরে আর্য-অনার্যের মাঝখানের ব্যবধান ক্ষীয়মাণ হইয়া আসিল এবং ক্রমে অনার্যদের সংস্কার তাহদের পূজাবিধি তাহাদের দেবতা অভিমানী আর্বাবর্তের মধ্যে প্রবেশ করিয়া তাহাকে আবর্তিত করিয়৷ তুলিল । সেইজন্যই আজ হিন্দুজাতি জ্ঞানে অজ্ঞানে আচারে অনাচারে বিবেকে এবং অন্ধ কুসংস্কারে এমন একটা অদ্ভূত মিশ্রণ হইয়া দাড়াইয়াছে। যদিচ সকল বিষয়েই আর্য-অনার্যের মধ্যবর্তী সীমা বিলুপ্তপ্রায় হইয়া আসিয়াছে, এমন কি, আমাদের বর্ণ, আকার, আয়তনে রক্তমিশ্রণেরও সাক্ষ্য দিতেছে তথাপি স্বাতন্ত্র্যরক্ষাজন্ত বহুকালব্যাপী সেই যুদ্ধচেষ্টা আজিও হিন্দুসমাজের আস্তম্ভমধ্যে সজাগ হইয়া আছে। তবে, পূর্বেকার সেই আৰ্ধ-অনার্ধের সংগ্রাম অস্ত হিংস্র উগ্রতা পরিত্যাগ করিয়াছে বটে কিন্তু তাহা পরিব্যাপ্ত হইয়া সমাজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে বিচ্ছেদ আনয়ন করিয়াছে। তাহার এক কারণ আমাদের পরস্পরের মধ্যে বৈসাদৃশু এত অধিক ষে, প্রকৃতির অনিবাৰ্ধ নিয়মে যখন আমরা মিলিতেছিলাম তখনও শেষ পর্যন্ত আমাদের স্বাআচেষ্টার বিরাম ছিল না। আকর্ষণ এবং বিপ্রকর্ষণ কেহই সম্পূর্ণ হার মানিতে চাহে নাই। । এই কারণে যদিচ আমরা বহুসংখ্যক আৰ্য অনার্ধ এবং সংকর জাতি ছিদ্ৰ নামক এক অপরূপ ঐক্যলাভ করিয়াছি, তথাপি আমরা বল পাই নাই। আমরা যেমন এক c७श्वनि विझिल्ल ! © এই দুর্বলতার প্রধান কারণ আমরা অভিভূতভাবে এক, আমরা সচেষ্টভাবে এক নছি। যাহারা আমাদের সহিত সংলগ্ন হইয়াছে, বাহাদিগকে আমরা কিছুতেই খেদাইবা পরিশিষ্ট C(약 রাখিতে পারি নাই, আমাদের বেড়া-দেওয়া উষ্ঠানের মধ্যে যে-সকল আগাছ আপনি আসিয়া প্রবেশ করিয়াছে তাহারা ক্রমে অনবধান অথবা অভ্যাসের জড়ত্ববশত আমাদের সহিত এক হইয়া গেছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তাহার, কি শারীরসংস্থানে, কি বুদ্ধিবৃত্তিতে আর্যদের সশ্রেণীয় বা সমকক্ষ নহে । তাহারা সর্ববিষয়েই নিকৃষ্ট । এই কারণে তাহারা আর্ধসভ্যতায় বিকার উৎপাদন না করিয়া থাকিতে পারে না । তাহারা যেমন আৰ্ষরক্তের বিশুদ্ধতা নষ্ট করিয়াছে তেমনি আর্যধর্ম-আৰ্যসমাজকেও বিকৃত করিয়া দিয়াছে। 曾 এই বহুদেবদেবী, বিচিত্র পুরাণ এবং অন্ধলোকাচারসংকুল আধুনিক বৃহৎ বিকারের মাম হিন্দুত্ব। কিন্তু আমাদের এই বিকারের জন্ত তত ক্ষোভ নাই বিচ্ছেদের জন্ত যত। এক্ষণে ধর্মে আচারে বিশ্বাসে ও শিক্ষায় ব্রাহ্মণ-আব্রাহ্মণের মধ্যে ভেদ ক্ষীণপ্রায় হইয়া আসিয়াছে, বহুকালের সংঘর্ষে পরস্পরের মধ্যে অনেক অদলবদল হইয়া আর্ষ অনার্বতর এবং অনার্য আর্ঘতরভাবে এক হইয়া আসিয়াছে —যাহা হইবার তাহা হইয়া গেছে। কিন্তু তবু বিচ্ছেদ ভাঙে না । অর্থাং ঐক্যের যা ক্ষতি তাহাও ঘটিয়াছে এবং অনৈক্যের যা দোষ তাহাও বর্তমান । এক্ষণে এই দুটাই সংশোধন করা আমাদের কাজ। নতুবা আমাদের উন্নতির ভিত্তি দৃঢ় হইবে না। নতুবা আমাদের শিক্ষা মিথ্যা, আমাদের আন্দোলন নিষ্ফল, আমাদের কনগ্রেস কনফারেন্স প্রভৃতি সমস্তই ক্ষণকালের ক্ষীণ উদ্যম । এক্ষণে যিনি জড়ীভূত হিন্দুজাতির মধ্যে আচারে ব্যবহারে সমাজে ধর্মে আর্যভাবের একটি বিশুদ্ধ আদর্শ স্থাপন এবং কৃত্রিম ক্ষুদ্র নিরর্থক বিচ্ছেদগুলি দূর করিয়া সমগ্র লোকভূপের মধ্যে একটি সজীব ঐক্য সঞ্চার করিয়া দিবেন তিনিই ভারতবর্ষের বর্তমান কালের মহাপুরুষ । পূর্বেই বলিয়াছি রাষ্ট্ৰতীয় একতা আমাদের ছিল না। শক্রকে আক্রমণ, শক্রর আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষা, এবং এক শাসনতন্ত্রের অধীনে পরম্পরের স্বার্থ ও শুভাশুভের একত্ব অনুভব আমরা কখনো দীর্ঘকাল করি নাই। আমরা চিরদিন খণ্ড খণ্ড দেশে খও ধও সমাজে সংকীর্ণগ্রাদেশিকতা দ্বারা বিভক্ত। আমাদের স্থানীয় আচার স্থানীয় বিধি স্থানীয় দেবদেবীগণ বাহিরের আক্রমণ ও সংশোধন হইতে নিরাপদভাবে সুরক্ষিত হইয়া একদিকে ক্ষুত্র অসংগত, অন্যদিকে প্রবল পরাক্রমশালী হইয়া উঠিয়াছে। আমাদের ভিতরকার অনার্বত, অদ্ভূত লোকাচার ও অন্ধসংস্কারে শাখাপন্নবিত হইয়া, আমাদিগকে ক্ষুত্র ক্ষুদ্র জঙ্গলে পরিবৃত করিয়া রাশিয়াছে, সর্বসাধারণ মানবজাতির ○○b" রবীন্দ্র-রচনাবলী রাজপথকে আমাদের নিকট হইতে অবরুদ্ধ করিয়াছে। আমরা প্রাদেশিক, আমরা পল্লীবাসী ; বৃহৎ দেশ ও বৃহৎ সমাজের উপযোগী মতের উদারত, প্রথার যুক্তিসংগতি এবং সাধারণ স্বার্থরক্ষার উযোগপরতা আমাদের মধ্যে নাই। এক কথায়, বৃহৎক্ষেত্রে জীবনযাত্র নির্বাহ করিবার ষে সফলতা তাহ আমরা লাভ করিতে পারি নাই। এক্ষণে ইংরেজ-রাজত্বে আমরা পরস্পর নিকটবর্তী হইয়াছি। এক্ষণে আমাদের প্রাদেশিক বিচ্ছেদগুলি ভাঙিয়া ফেলিবার সময় হইয়াছে। বহুদিনের বিরোধ-দ্বম্বের মধ্যে যে একটি প্রাচীন ঐক্যগ্রন্থি আমাদের নাড়ীতে নাড়ীতে বাধিয়া গিয়াছে সেইটেকেই প্রবল করিয়া আমাদের স্থানীয় এবং সাময়িক অনৈক্যগুলিকে ক্ষুদ্র কোণজাত ধুলার মতো ঝাড়িয়া ফেলিতে হইবে । বর্তমান কালে হিন্দুয়ানির পুনরুত্থানের যে একটা হাওয়া উঠিয়াছে তাহাতে সর্বপ্রথমে ওই অনৈক্যের ধুলা সেই প্রাদেশিক ও ক্ষণিক তুচ্ছতাগুলিই উড়িয়া আসিয়া আমাদিগকে আচ্ছন্ন করিয়াছে। কারণ সেইটেই সর্বাপেক্ষা লঘু, এবং সেইটেই অল্প ফুৎকারে আকাশ পরিপূর্ণ করিয়া তুলিতে পারে। কিন্তু এ ধুলা কাটিয়া যাইবে, আমাদের নিশ্বাসবায়ু বিশুদ্ধ হইবে, আমাদের চারিদিকের দৃপ্ত উদঘাটিত হইবে সন্দেহমাত্র নাই। আমাদের দেশের যাহা স্থায়ী, যাহা সারবান, যাহা গভীর, যাহা আমাদের সকলের ঐক্যবন্ধনের উপায় তাহাই ক্রমে প্রকাশিত হইয়া পড়িবে। যখন কোনো প্রবল সংঘর্ষে কোনো নূতন শিক্ষায় একটা জাতি জাগ্রত হইয় উঠে তখন সে নিজেরই মধ্যে শক্তি সন্ধান করে। সে জানে যে ধার করিয়া চলে না। যদি পৈতৃক ভাণ্ডারে মূলধন থাকে তবেই বৃহৎ বাণিজ্য এবং লক্ষ্মীলাভ নতুবা চিরদিন উদ্ধৃবৃত্তি। আমাদের সংস্কার ও শিক্ষা এত দীর্ঘকালের, তাহ আমাদিগকে এমন জটিল, বিচিত্র ও সুদৃঢ়ভাবে জড়িত করিয়া রাখিয়াছে যে, বৃহৎ জাতিকে চিরকালের মতো তাহার বাহিরে লইয়া যাওয়া কাহারও সাধ্যায়ত্ত নহে। সেই চিরোভিন্ন ভারতবর্ষীয় প্রকৃতির মধ্য হইতেই আমাদের অভু্যখানের উপাদান সংগ্ৰহ করিতে হইবে। আমরা ধূমকেতুর মতে দুই-চারিজন মাত্র গর্ববিষ্ফরিতপুচ্ছে লঘুবেগে সাহেবিয়ানার দিকে ছিটকি যাইতে পারি, কিন্তু সমস্ত দেশের পক্ষে তেমন লঘুত্ব সম্ভবপর নহে। * h অতএব একদিকে আমাদের দেশীয়ত, অপরদিকে আমাদের বন্ধনমুক্তি উভয়ই আমাদের পরিত্রাণের পক্ষে অত্যাবস্ত্যক । সাহেবি অনুকরণ আমাদের পক্ষে নিষ্ফল এবং হি দুয়ানির গোড়ামি আমাদের পক্ষে মৃত্যু। * মহাত্মা দয়ানন্দ স্বামীর প্রতিষ্ঠিত আর্ধসমাজ স্থত্র হিদুয়ানিকে আর্ব উদারতার দিকে পরিশিষ্ট ©© প্রসারিত করিবার যে প্রয়াস পাইতেছেন এবং উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে তাহা যেরূপ পরিব্যাপ্ত হইতেছে তাহাতে আমরা মহং আশার কারণ দেখিতেছি । উক্ত সমাজের, অন্তত সমাজস্থাপয়িত দয়ানন্দ স্বামীর প্রচারিত মতের প্রধান গুণ এই যে, তাহ দেশীয়তাকেও লঙ্ঘন করে নাই অথচ মচুন্যত্বকেও খর্ব করে নাই। তাহ ভাবে ভারতবর্ষীয় অথচ মতে সার্বভৌমিক। তাহা হৃদয়ের বন্ধনে আপনাকে প্রাচীন স্বজাতির সহিত বাধিয়াছে অথচ উন্মুক্ত যুক্তি এবং সত্যের দ্বারা সর্বকালের সহিত সম্পর্ক স্থাপন করিয়াছে । এই সমাজের সমস্ত লক্ষণগুলি পর্যালোচনা করিয়া আমরা আশা করিতেছি যে, ইহা ভারতে আর-একটি অভিনব সম্প্রদায়রূপে নূতন বিচ্ছেদ আনয়ন না করিয়া সমস্ত সম্প্রদায়কে ক্রমশ এক করিতে পারিবে । বারাস্তরে আধসমাজ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করিবার ইচ্ছা রহিল। ভিন্ন জাতির সহিত সংস্রব ইংরেজের যেমন ঘটিয়াছে এমন আর কোনো যুরোপীয় জাতির ঘটে নাই। কিন্তু ইংরেজের পরজাতিবিদ্বেষ সমান মুতীব্র রহিয়াছে। ইহা তাহাদের জাতীয়তার অত্যুগ্র বিকাশের পরিচয়স্থল । বিদেশ হইতে আগত বিজাতি, ইংলণ্ডে অথবা ইংরেজ-উপনিবেশে বাসগ্রহণে উদ্যত হইলে ইংরেজের মনে যে বিরোধভাবের উদ্রেক করে স্পেক্টেটর সেই সম্বন্ধে আলোচনা উত্থাপিত করিয়াছেন । কিন্তু পরদেশে গিয়া তদেশীয়দের প্রতি ইংরেজের উদ্ধত বিমুখ ভাবও সুবিখ্যাত। এমন কি, য়ুরোপের মহাদেশবাসীয়গণ সম্বন্ধেও ইহার অন্যথা হয় না। ’ আহারবিহারে আচারে ও ভাবে দ্বীপবাসী ইংরেজের সহিত মহাদেশবাসী যুরোপীয়ের স্বল্পই প্রভেদ কিন্তু সেই প্রভেদগুলিও সাধারণ ইংরেজের মনে অবজ্ঞা এবং প্রতিকুল ভাব আনয়ন করে । তাহদের জাতিসংস্কার এত দৃঢ় এবং মুকঠিন । ইহার উপরে যখন পরজাতির সহিত স্বার্থের সংঘর্ষ জন্মিবার লেশমাত্র সম্ভাবনা ঘটে তখন ইংরেজের অসহিষ্ণুতা যে অত্যন্ত বর্ধিত হইবে ইহা স্বাভাবিক। ইংলণ্ডপ্রবাসী জর্মান, ইতালীয় ও পোলীয় ইহুদিগণের প্রতি ইংরেজ অধিবাসীদের মনে যে শক্রতার উত্ৰেক করে তাহ যে কেবলমাত্র স্থমহং জাতীয়ভাবের প্ররোচনায় তাহা বলিতে পারি না—উহার মধ্যে স্বাধহানির আশঙ্কাই প্রবলতর। একে ৰিজাতীয় তাহার উপরে স্বার্থের সংঘর্ষ—এইরূপ স্থলে খ্ৰীষ্টীয় ধর্মনীতি এবং छाङ्ग-अछाप्द्रब उक्रउब आक्र्न dsकारे कीन श्ब्र। रेशएउ ८ष अरुङ चाबब्रन करिब, উনবিংশ শতাব্দীর সভ্যতারশ্মি তাহ ভেদ করির উঠতে পারে না। l @ぐう● রবীন্দ্র-রচনাবলী জানি হইল ভূতপূর্ব ভারত-স্টেট সেক্রেটারি যার নেকি ফাউলার পালামেন্টে বলিয়াছিলেন “ওজারেন হেস্টিংস এবং লর্ড ক্লাইভের কার্যবিধি যদি পালামেন্টের বিচারাধীন হইত তবে সম্ভবত ভারতসাম্রাজ্য আমরা পাইতাম না ।" র্তাহার এই বাক্যে পালামেন্টে খুব একটা উৎসাহস্বচক করতালি পড়িয়াছিল। এ-কথাটার কি এই অর্থ যে, যেখানে স্বার্থ স্বজাতির এবং দুঃখ পরজাতির সেখানে অত বিচার-আচার করিলে চলে না ? পালামেন্টের মতো প্রকাগু বৃহৎ সভায় এ-কথার উচ্ছ্বসিত অনুমোদন কি ধর্মনীতির মূলস্থত্রের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা প্রদর্শন নহে। ধর্মনীতির প্রতি এই অবজ্ঞা পরজাতির প্রতি সুগভীর অবজ্ঞা হইতেই প্রস্থত । ক্লাইভ ও হেস্টিংস যাহাদের প্রতি প্রতারণা মিথ্যাচার ও নিদারুণ উপদ্রব করিয়াছিলেন তাহারা অনাত্মীয়, তাহার কেহই নহে, এ-কথা পালামেন্টের সদস্তবর্গের মনের মধ্যে অন্তত অস্পষ্টভাবেও ছিল। সাধারণত ধর্মনীতিবোধ তাহদের যে অল্প তাহ৷ বলিতে সাহস হয় না। কারণ বলগেরীয় ও আর্মানিদের প্রতি তুরস্কের অত্যাচার, কুবানদের প্রতি স্পেনের কঠোরতা সম্বন্ধে পালামেণ্টের সভ্যগণ প্রবলপক্ষের প্রতি উৎসাহ-করতালি বর্ষণ করে না । কিন্তু ভারতবর্ষীয়ের প্রতি হেস্টিংসের ব্যবহার সম্বন্ধে তাহাদের নীতিবোধ যে এমন সহসা সবেগে বিপর্যস্ত হইয়া যায় তাহার কারণ স্বার্থজনিত অন্ধত এবং পরজাতি, বিশেষত প্রাচ্য পরজাতির প্রতি র্তাহাদের স্বাভাবিক সুগভীর অবজ্ঞাপরতা ! যে-অবজ্ঞা ফাউলার সাহেবকে প্রকাশু স্পর্ধার সহিত নির্লজ্জ নীতিবিরুদ্ধ বাক্য বলাইয়াছে, সেই স্পর্ধ এবং সেই অবজ্ঞাই ভারতবর্ষীয় পাপাকুলিদের সম্বন্ধে কালস্বরূপ, সেই অবজ্ঞাই সমন্তিপুরে দরিদ্রের বিবাহ-উংসবে হত্যাকাণ্ডের হাছাকার তুলিয়াছিল, সেই অবজ্ঞাই গোরাবিভীষিকাগ্রস্ত মারাপীড়িত দুর্ভাগাগণের অস্তিম অনুনয় হইতেও কর্তৃপুরুষদিগকে বধির করিয়া রাখিয়াছিল। ইংরেজের নীতিবোধ এইরূপে দ্বিখণ্ডিত হইয়া গিয়াছে । সেইজন্য স্বজাতি-বিজাতির মধ্যে অভিযোগ উপস্থিত হইলে বিচার করা তাহাদের পক্ষে সুকঠিন । কারণ, ইহা অসম্ভব নহে যে, যে ইংরেজ ফস করিয়া ঘুষা লাথি অথবা গুলি চালাইয়া ভারতবর্ষীয় জনসংখ্যা হ্রাস করিতে কুষ্ঠিত হয় নাই স্বজাতিসমাজে সে শুভ্ৰ মেষশাবক বিশেষ,— অতএব একজন দেশী হত্যাকারীকে ইংরেজের যেরূপ খুনি বলিয়া মনে হয় তাহাকে সেরূপ খুনি বলিয়া মনেই হয় না,—সুতরাং এমন লোকটাকে ফালি দেওয়া একটা আইনসংগত হত্যাকাণ্ড বলিয়া জ্ঞান হইতে পারে । আমাদের প্রতি চাদের কলঙ্কের দিকটা ফেরানো আছে, কিন্তু তাহার বিপরীত পরিশিষ্ট 4ఆ$ পৃষ্ঠট হয়তো সম্পূর্ণ নিষ্কলঙ্কভাবে নিজের নিকট দেদীপ্যমান—অতএব ঠিক কলঙ্কের বিচার করিতে হইলে একবারে আমাদের তরকে আসিয়া দাড়াইতে হয়, কিন্তু তাহার মতো দুঃসাধ্য কাজ আর নাই। । ওআরেন হেস্টিংস লর্ড ক্লাইভ পরজাতির সম্বন্ধে যেমনই হ’ন স্বজাতির সম্বন্ধে র্তাহারা মহৎ । ইংরেজ কবি হুন্ড জিরাফ জন্তুকে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেন “So very lofty in thy front—but then So dwindling at the tail 1" অর্থাৎ সম্মুখের দিকে তুমি এত সমুচ্চ কিন্তু তবু লাঙ্গুলের দিকে এতই খর্ব। ইংরেজ-জিরাফের লাস্কুলের দিকট পরজাতির দিকে পড়িয়াছে বলিয়া যে, তাহার স্বজাতি তাহাকে সেইদিকেই পরিমাপ করিবে ইহা কখনো সম্ভবপর হইতে পারে না । কিন্তু পররাজ্য অধিকার করিয়া স্বজাতি ও বিজাতিকে এক স্বায়দণ্ডে তুলিত করিবার কঠিন অধিকার ইংরেজ স্বহস্তে গ্রহণ করিয়াছেন। সুতরাং স্বার্থের অনুরোধে । সেই স্তায় হইতে ভ্ৰষ্ট হইলে তাহাতে উৎসাহ-করতালি বর্ষণের কোনো কারণ দেখি না । তাহা স্বাভাবিক হইতে পারে কিন্তু তাহাতে স্পর্ধ প্রকাশের বিষয় লেশমাত্র নাই । ইংরেজের এই পরবিদ্বেষ, বিশেষত প্রাচ্যবিদ্বেষ, নেটাল অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি উপনিবেশে কিরূপ নধদন্ত বিকাশ করিয়া উঠিয়াছে তাহ কাহারও অগোচর নাই । অথচ ইহাও দেখা যাইতেছে, ইংরেজ ভারতবর্ষীয় সৈন্যকে আফ্রিকার দুর্গম অরণ্যের মধ্যে রক্তপাত করাইতে কুষ্ঠিত নহেন। তখন, এক রাষ্ট্রীর প্রজা এক সাম্রাজ্যের অধিবাসী এমন সকল সৌভ্রাত্র্যমধুমাধা কথা শুনা যায়। ইংরেজ মহারানীর অধিকারবিস্তারে প্রাণপাত করিতে ভারতবাসীর কোনো বাধা নাই কিন্তু সেই অধিকারে স্থানলাভ করা তাহার পক্ষে নির্বাধ নহে। এই প্রকার ব্যবস্থার মধ্যে যে একটা ক্ষুদ্রতা হীনতা আছে তাহা ইংলও উপলব্ধি করেন না—তাহার সম্মুখভাগের মহত্ত্ব "লাজুলবিভাগের খর্বতার কোনো খবরই রাখে না। অথচ ওই খর্ব দিকটার লাঙ্গুল, আস্ফালন-ব্যাপারে নূ্যন নহে। দমন-শাসন-তাড়ন-তর্জনে সর্বদাই সে চঞ্চলিত। তাহার চক্ষু নাই বলিয়া চক্ষুলজ্জাও নাই। চক্ষুলজা ষে নাই ভারতবর্ষীয় ইংরেজি খবরের কাগজে সর্বদাই তাহার পরিচয় পাওয়া যায়। সমস্তিপুর ব্যারাকপুরের হত্যাব্যাপার ইংরেজি কাগজে কোনোপ্রকার আখ্যা পাইল না, কিন্তু শালিমারের দুর্ঘটনা “শালিমার ট্র্যাজেডি" নামে সমুচ্চস্বরে বারংবার ধোবিত হইতে লাগিল। তাহাতেও খেদ নাই কিন্তু দুবিনীত নেটভের হস্তে প্রবাসী ইংরেজের প্রাণমান উত্তরোত্তর বিপদগ্ৰস্ত হইতেছে বলিয়া ষে-সমস্ত প্রেরিতপত্র বাহির i h در ۹ سه ه لا ۰ ৫৬২ রবীন্দ্র-রচনাবলী হুইতেছিল তাহ পাঠ করিয়া যদি আমাদের শঙ্কার উদয় না হইত তবে বড়ো দুঃখেও হাসিতে পারিতাম। আমরা হাসিতে সাহস করিলাম না, কিন্তু অদৃষ্ট একটা ভীষণ কৌতুকের স্বষ্টি করিল। দেখিতে দেখিতে ইংরেজকর্তৃক কতকগুলি দেশীয় লোকের বীভৎস হত্যা পরে পরে সংঘটিত হইল—ইংরেজ সম্পাদকগণ একবারেই মৌন অবলম্বন করিলেন। ইংরেজ সম্পাদকগণকে যিনি কাল্পনিক নেটিভভীতিদ্বারা মুখর করিয়া তোলেন তিনিও আমাদের দূরদৃষ্ট, এবং যিনি সাংঘাতিক প্রতিবাদের দ্বারা তাহাদিগকে নিক্ষত্তর করিয়া দেন তিনিও আমাদের দুরষ্ট। )\రిం ( vළී) আমাদের ভূতপূর্ব শাসনকর্তা ম্যাকেঞ্জি সাহেব তাহাদের স্বদেশের শীতল বায়ুতে ফিরিয়া গিয়াছেন। কিন্তু ভারতবর্ষের গরম এখনও তাহাকে ছাড়ে নাই । ইতিমধ্যে এক ভোজ উপলক্ষ্যে বক্তৃতা করিয়াছেন তাহাতে কলিকাতা মুনিসিপ্যালিটির বাঙালি কমিশনারদের প্রতি অত্যন্ত অবজ্ঞা প্রকাশ করিয়াছেন, তাহাদিগকে গণ্য ব্যক্তির মধ্যে আমল দেন নাই । র্তাহার সেই বক্তৃতার রিপোর্টে দৈবাং রিপোর্টার একটা ভুল করিয়াছিল । তিনি বলিয়াছিলেন “কলিকাতা মুনিসিপ্যালিটিতে ইংরেজমণ্ডলীর প্রতিনিধিগণ স্থান পান নাই”—রিপোর্টার “প্রতিনিধি ইংরেজ” না লিখিয়া “ভদ্র ইংরেজ” লিখিয়াছিল। কলিকাতা মূনিসিপ্যালিটিতে ভদ্র ইংরেজ নাই এ-কথা শুনিলে কলিকাতার ইংরেজহৃদয়ে পাছে আঘাত লাগে সেইজন্য তাড়াতাড়ি সমুদ্রপার হইতে তিনি তাহ সংশোধন করিয়া পাঠাইয়াছেন। বাঙালি কমিশনারদের যে গালি দিয়াছেন সেজন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন নাই। অবশু, বাঙালি কমিশনারগণ দেশের আমির-ওমরাও দলের ন হইতে পারেন, কিন্তু সিভিল সার্ভিস ও মিলিটারি বিভাগে যে রাজপুরুষেরা ভারতশাসন করিতেছেন তাহারাই ষে সকলে লাটের পুত্র বা রাজবংশীয় তাহাও নয়। র্তাহারা ষে একদা স্বদেশী সমাজের উন্নত উজ্জল জ্যোতিষ্কমণ্ডলী হইতে খসিয়া ভারতবর্ষে আসিয়া পড়িয়াছেন তথ্যতালিকা লইলে এমনটা প্রকাশ হইবে না। কিন্তু তাই বলিয় তাহার। অবজ্ঞেয় নহেন ; তাহারা শিক্ষিত র্তাহারা যোগ্য লোক ;