সমূহ/সভাপতির অভিভাষণ: পাবনা প্রাদেশিক সম্মিলনী

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


এই মহাযাত্ৰা দীৰ্ঘকাল কেবল ছুটাছুটি-দোঁড়াদোঁড়ি, ডাকাডাকি-হাকাহাকিতেই নষ্ট হইতে থাকিবে। ১৩১৩

সভাপতির অভিভাষণ

পাবনা প্ৰাদেশিক সন্মিলনী

অদ্যকার এই মহাসভায় সভাপতির আসনে আঙ্গবান করিয়া আপনারা আমাকে য-সন্মান দান করিয়াছেন, আমি তাহার অযোগ্য এ-কথার উল্লেখমাত্ৰও বাহুল্য। বস্তুত এরপ সন্মান গ্ৰহণ করা সহজ, বহন করাই কঠিন। অযোগ্য লোককে উচ্চপদে বসানো তাহাকে অপদস্থ করিবারই উপায়।

অন্য সময় হইলে এতবড়ো দুঃসাধ্য দায়িত্ব হইতে নিস্কৃতি লাভের চেষ্টা করিতাম॥ কিন্তু বৰ্তমানে আমাদের আত্মবিচ্ছেদের সংকটকালে যপন ডাঙায় বাঘ ও জলে কুমির, যখন রাজপুরুষ কালপুরুষের মূৰ্তি ধরিয়াছেন এবং আত্মীয়সমাজেও পরম্পরের প্রতি কেই ধৈৰ্য অবলম্বন করিতে পারিতেছেন না—যখন নিশ্চয় জানি অদ্যকার দিনে সভাপতির আসন সুখের আসন নহে এবং হয়তো ইহা সম্মানের আসনও না হইতে পারে অপমানের আশঙ্কা চতুৰ্দিকেই পুঞ্জীভূত— তখন আপনাদের এই আমন্ত্ৰণে বিনয়ের উপলক্ষ্য করিয়া আজ আর কাপুরুষের মতো ফিরিয়া যাইতে পারিলাম না এবং বিশ্ব জগতের সমস্ত বৈচিত্ৰ্য ও বিরোধের মাঝখানে “য একঃ” যিনি এক, “অবৰ্ণঃ” মানব সমাজের বিবিধ জাতির মাঝখানে জাতিহীন যিনি বিরাজমান, যিনি “বহুধা শক্তিযোগাং বৰ্ণান্‌ অনেকান নিহিতাৰ্থে দধতি” বহুধা শক্তির দ্বারা নানা জাতির নানা প্ৰয়োজন বিচিত্ৰক্লপে সম্পাদন করিতেছেন, “বিচৈতিচান্তে বিশ্বমাদেী” বিশ্বের সমস্ত আরম্ভেও যিনি, সমস্ত পরিণামেও যিনি, “স দেব, স নো বুদ্ধ্যা শুভয়া সংযুনাক্ত” সেই দেবতা, তিনি আমাদের এই মহাসভায় শুভবুদ্ধিস্বরপ বিদ্যমান থাকিয়া আমাদের হৃদয় হইতে সমস্ত ক্ষুদ্ৰতা অপসারিত করিয়া দিন, আমাদের চিত্তকে পরিপূৰ্ণ প্ৰেমে সম্মিলিত এবং আমাদের চেষ্টাকে সুমহং লক্ষ্যে নিবিষ্ট করুন, একান্তমনে এই প্ৰাৰ্থনা করিয়া, অযোগ্যতার বাধা সত্তেও এই মহাসভায় সভাপতির আসন গ্ৰহণ করিতেছি। বিশেষত জানি এমন সময় আসে যখন অযোগ্যতাই বিশেষ যোগ্যতার স্বয়প হইয়া উঠে। সমূহ 8Šዓ এতদিন আমি দেশের রাষ্ট্ৰসভায় স্থান পাইবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি নাই । ইহাতে আমার ক্ষমতার অভাব এবং স্বভাবেরও ক্রটি প্রকাশ পাইয়াছে। সেই কটবশতই আমি সকল দলের বাহিরে পড়িয়া থাকাতে আমাকেই সকলের চেয়ে নিরীহ জ্ঞান করিয়া সভাপতির উচ্চ আসনটিকে নিরাপদ করিবার জন্তই আমাকে আপনার এইখানে বসাইয়া দিয়াছেন। আপনাদের সেই ইচ্ছ। যদি সফল হয় তবেই আমি ধন্ত হইব । কিন্তু রামচন্দ্র সত্যপালনের জন্য নির্বাসনে গেলে পর, ভরত যে-ভাবে রাজ্যরক্ষার ভার লইয়াছিলেন আমিও তেমনি আমার নমস্ত জ্যেষ্ঠগণের খড়মজোড়াকেই মনের সম্মুখে রাশিয়া নিজেকে উপলক্ষ্যস্বরূপ এখানে স্থাপিত করিলাম । রাষ্ট্রসভার কোনো দলের সহিত আমার যোগ ঘনিষ্ঠ নহে বলিয়াই সম্প্রতি কনগ্রেসে যে আত্মবিপ্লব ঘটিয়াছে তাহাকে আমি দূর হইতে দেখিবার সুযোগ পাইয়াছি। র্যাহার ইহার ভিতরে ছিলেন তাহার স্বভাবতই এই ব্যাপারটাকে এতই উংকট করিয়া দেখিয়াছেন ও ইহা হইতে এতই গুরুতর অহিতের আশঙ্কা করিতেছেন যে, এখনও তাঁহাদের মনের ক্ষোভ দূর হইতে পারিতেছে না । কিন্তু ঘটনায় যাহা নিঃশেষ হইয়াছে বেদনায় তাহাকে বাধিয়া রাখিবার চেষ্টা করা বলিষ্ঠ প্রকৃতির লক্ষণ নহে । কবি বলিয়াছেন, যথার্থ প্রেমের স্রোত অব্যাহতভাবে চলে না । যথার্থ জীবনের শ্রোতও সেইরূপ, যথার্থ কর্মের ম্রোতেরও সেই দশা। দেশের নাড়ির মধ্যে প্রাণের বেগ চঞ্চল হইয়া উঠাতেই কর্মে যদি মাঝে মাঝে এরূপ ব্যাঘাত ঘটিয় পড়ে তবে ইহাতে হতাশ না হইয়া এই কথাই মনে রাখিতে হইবে যে, যে-জীবনধর্মের অতিচাঞ্চল্যে কনগ্রেসকে একবার আঘাত করিয়াছে সেই জীবনধর্ম ই এই আঘাতকে অনায়াসে অতিক্রম করিয়া কনগ্রেসের মধ্যে নূতন স্বাস্থ্যের সঞ্চার করিবে । মৃত পদার্থই আপনার কোনো ক্ষতিকে ভুলিতে পারে না । শুষ্ক কাষ্ঠ যেমন ভাঙে তেমনি ভাঙাই থাকে কিন্তু সজীব গাছ নূতন পাতায় নূতন শাখায় সর্বদাই আপনার ক্ষতি পূরণ করিয়া বাড়ির উঠতে থাকে। অতএব সুস্থ দেহ যেমন নিজের ক্ষতকে শীঘ্রই শোধন করিতে পারে তেমনি আমরা অতিসত্বর কনগ্রেসের আঘাতক্ষতকে আরোগ্যে লইয়া যাইব এবং সেই সঙ্গে এই ঘটনার শিক্ষণটুকুও নম্ৰভাবে গ্রহণ কৰিব । সে-শিক্ষাটুকু এই যে, যখন কোনো প্রবল আঘাতে মাহুষের মন হইতে ঔদাসীন্ত ঘুচিয়া যায় এবং সে উত্তেজিত অবস্থায় জাগিয়া উঠে তখন তাহাকে লইয়া ষে-কাজ করিতে হুইবে লে-কাজে মতের বৈচিত্র্য এবং মতের বিরোধ সহিষ্ণুভাৰে স্বীকার করিতেই تا سد سه لا ક્ષેત્રના রবীন্দ্র-রচনাবলী হুইবে । যখন দেশের চিত্ত নিজাব ও উদাসীন থাকে তখনকার কাজের প্রণালী যেরূপ, বিপরীত অবস্থায় সেরূপ হইতেই পারে না। এই সময়ে, যাহা অপ্রিয় তাহাকে বলপূর্বক বিধ্বস্ত এবং যাহা বিরুদ্ধ তাহাকে আষাতের দ্বারা নিরন্ত করিবার চেষ্টা করা কোনোমতেই চলে না। এমন কি, এইরূপ সময়ে হার মানিয়াও জয়লাভ করিতে হইবে, জিতিবই পণ করিয়া বসিলে সে-জিতের দ্বারা ষাহাকে পাইতে ইচ্ছা করি তাহাকেই খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলিব। সমস্ত বৈচিত্র্য ও বিরোধকে একটা বৃহৎ ব্যবস্থার মধ্যে বাধিয়া তোলাই আমাদের পক্ষে সকলের চেয়ে বড়ো শিক্ষা । এই শিক্ষা যদি আমাদের অসম্পূর্ণ থাকে তবে স্বায়ত্তশাসন আমাদের পক্ষে অসম্ভব হইবে । যথার্থ স্বায়ত্তশাসনের অধীনে মতবৈচিত্র্য দলিত হয় না, সকল মতই আপনার যথাযোগ্য স্থান অধিকার করিয়া লয় এবং বিরোধের বেগেই পরস্পরের শক্তিকে পরিপূর্ণরূপে সচেতন করিয়া রাখে। যুরোপের রাষ্ট্রকার্ষে সর্বত্রই বহুতর বিরোধী দলের একত্র সমাবেশ দেখা যায় । প্রত্যেক দলই প্রধান্তলাভের জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিতেছে। লেবার পার্টি, সোশালিস্ট প্রভৃতি এমন সকল দলও রাষ্ট্রসভায় স্থান পাইয়াছে যাহারা বর্তমান সমাজব্যবস্থাকে নানাদিকে বিপর্যস্ত করিয়া দিতে চায় । এত অনৈক্য কিসের বলে এক হইয়া আছে এবং এত বিরোধ মিলনকে চূর্ণ করিয়া কেলিতেছে না কেন ? ইহার কারণ আর কিছুই নহে, এই সকল জাতির চরিত্রে এমন একটি শিক্ষা সুদৃঢ় হইয়াছে যাহাতে সকল পক্ষই নিয়মের শাসনকে মান্ত করিয়া চলিতে পারে। নিয়মকে লঙ্ঘন করিয়া তাহার প্রার্থিত ফলকে ছিন্ন করিয়া লইতে চায় না, নিয়মকে পালন করিয়াই জয়লাভ করিবার জন্ত ধৈর্য অবলম্বন করিতে জানে। এই সংঘম তাহদের বলেরই পরিচয় । এই কারণেই এত বিচিত্র ও বিরুদ্ধ মতিগতির লোককে একত্রে লইয়া, শুধু তর্ক ও আলোচনা নহে, বড়ে বড়ে রাজা রাজ্য ও সাম্রাজ্য চালনার কার্য সম্ভবপর হইয়াছে। আমাদের কনগ্রেসের পশ্চাতে রাজ্য-সাম্রাজ্যের কোনো দায়িত্বই নাই--কেবলমাত্র একত্র হইয়া দেশের শিক্ষিতসম্প্রদায় দেশের ইচ্ছাকে প্রকাশ করিবার জন্যই এই সভাকে বহন করিতেছেন। এই উপায়ে দেশের ইচ্ছা ক্রমশ পরিস্ফুট আকার ধারণ করিয়া বল লাভ করিবে এবং সেই ইচ্ছাশক্তি ক্রমে কর্মশক্তিতে পরিণত হইয়া দেশের আঙ্কোপলব্ধিকে সত্য করিয়া তুলিবে, এই আমাদের লক্ষ্য। সমস্ত দেশের শিক্ষিতসম্প্রদায়ের সম্মিলিত চেষ্টা যে-মহাসভায় আমাদের ইচ্ছাশক্তির বোধন করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছে তাহার মধ্যে এমন ঔদার্ধ যদি না থাকে যাহাতে শিক্ষিতসম্প্রদায়ের সকল শ্রেণী ও সকল সমূহ 8విని মতের লোকই সেখানে স্থান পাইতে পারেন তবে তাহাতে আমাদের ক্ষমতার অসম্পূর্ণতা প্রকাশ পায়। এই মিলনকে সম্ভবপর করিবার জন্ত মতের বিরোধকে বিলুপ্ত করিতে হুইবে এরূপ ইচ্ছা করিলেও তাহ সফল হইবে না এবং সফল হইলেও তাহাতে কল্যাণ নাই। বিশ্বস্তৃষ্টি ব্যাপারে আকর্ষণ ও বিকর্ষণ, কেক্সানুগ ও কেন্দ্রাতিগ শক্তি পরস্পর প্রতিঘাতী অথচ এক নিয়মের শাসনাধীন বলিয়াই বিচিত্র স্মৃষ্টি বিকশিত হইয়া উঠিতে পারিয়াছে । রাষ্ট্ৰসভাতেও, নিয়মের দ্বারা সংযত হইয়াও প্রত্যেক মতকেই প্রাধান্তলাভের চেষ্টা করিতে না দিলে এরূপ সভার স্বাস্থ্য নষ্ট, শিক্ষা অসম্পূর্ণ ও ভবিষ্যং পরিণতি সংকীর্ণ হইতে থাকিবে । অতএব মতবিরোধ যখন কেবলমাত্র অবগুজ্ঞাৰী নহে, তাহা মঙ্গলকর, তখন , মিলিতে গেলে নিয়মের শাসন অমোঘ হওয়া চাই। নতুবা বরযাত্রী ও কন্যাপক্ষে উচ্চ স্থলভাবে বিবাদ করির শেষকালে বিবাহুটাই পণ্ড হইতে থাকে। যেমন বাষ্পসংঘাতকে লোহার বয়লারের মধ্যে বাধিতে পারিলে তবেই কল চলিতে পারে তেমনি আমাদের মতসংঘাতের আশঙ্কা যতই প্রবল হইবে আমাদের নিয়ম-বয়লারও ততই বন্ধের স্তায় কঠিন হইলে তবেই কর্ম অগ্রসর হইবে নতুবা অনৰ্থপাত ঘটতে दिलच इहेत्व प्रा। আমরা এ-পর্যস্ত কনগ্রেসের ও কনফারেন্সের জন্য প্রতিনিধিনির্বাচনের যথারীতি নিয়ম স্থির করি নাই। যতদিন পর্যন্ত, দেশের লোক উদাসীন থাকাতে, রাষ্ট্রীয় কর্তব্য সম্বন্ধে আমাদের মধ্যে কোনো মতের বৈধ ছিল না ততদিন এরূপ নিয়মের শৈথিল্যে কোনো ক্ষতি হয় নাই। কিন্তু যখন দেশের মনটা জাগিয়া উঠিয়াছে তখন দেশের কর্মে সেই মনটা পাইতে হইবে, তখন প্রতিনিধিনির্বাচনকালে সত্যভাবে দেশের সম্মতি লইতে হইবে । এইরূপ শুধু নির্বাচনের নহে, কনগ্রেসের ও কনফারেন্সের কার্যপ্রণালীরও বিধি সুনির্দিষ্ট হওয়ার সময় আসিয়াছে । இ. এমন না করিয়া কেবল বিবাদ বঁাচাইয়া চলিবার জন্ত দেশের এক-এক দল যদি এক-একটি সাম্প্রদায়িক কনগ্রেসের স্কটি করেন তবে কনগ্রেসের কোনো অর্থই থাকিবে না । কনগ্রেস সমগ্র দেশের অখণ্ড সভা-বিঘ্ন ঘটিবামাত্রই সেই সমগ্রতাকেই যদি বিসর্জন দিতে উষ্ঠত হই তবে কেবলমাত্র সভার সংখ্যা বৃদ্ধি করিয়া আমাদের ७मब्रिहे कैौ जांछ हहे८व । • . এ-পর্যন্ত আমরা কোনো কাজ বা ব্যবসায়, এমন কি আমোদের জন্ত দল বাধিয়া पवनरे चटेबका पब्रिाई उषबहे ख्द्रि श्रण विख्ख्। श्हेब्र गिब्राष्ट्रि । वित्त्वाथ घबिाबाल्न আমরা মূল জিনিসটাকে, হয় নষ্ট নয় পরিত্যাগ করিবার চেষ্টা করিয়াছি। বৈচিত্রকে ( е е রবীন্দ্র-রচনাবলী ዝሑ ঐক্যের মধ্যে বাধিয়া তাহাকে নানা-অজবিশিষ্ট কলেবরে পরিণত করিবার জীবনীশক্তি আমরা দেখাইতে পারিতেছি না। আমাদের সমস্ত দুৰ্গতির কারণই তাই। কনগ্রেসের মধ্যেও যদি সেই রোগটা ফুটয় পড়ে, সেখানেও যদি উপরিতলে বিরোধের আঘাতমাত্রেই ঐক্যের মূল ভিত্তিটা পর্যন্ত বিদীর্ণ হইতে থাকে তবে আমরা কোনো পক্ষই দাড়াইব কিসের উপরে ? যে-সরষের দ্বারা ভূত ঝাড়াইব সেই সরষেকেই ভূতে পাইয়া বসিলে কী উপায় । বঙ্গবিভাগকে রহিত করিবার জন্ত আমরা যেরূপ প্রাণপণে চেষ্টা করিয়াছি এই আসন্ন আত্মবিভাগকে নিরস্ত করিবার জন্ত আমাদিগকে তাহা অপেক্ষাও আরও বেশি চেষ্টা করিতে হইবে। পরের নিকটে যে দুর্বল, আল্পীয়ের নিকট সে প্রচণ্ড হইয়। যেন নিজেকে প্রবল বলিয়া সাত্বনা না পায় পরে যে-বিচ্ছেদ সাধন করে তাহাতে অনিষ্টমাত্র ঘটে, নিজে যে-বিচ্ছেদ ঘটাই তাহাতে পাপ হয়, এই পাপের অনিষ্ট অস্তরের গভীরতম স্থানে নিদারুণ প্রায়শ্চিত্তের অপেক্ষায় সঞ্চিত হইতে থাকে । আমাদের যে-সময় উপস্থিত হইয়াছে এখন আত্মবিশ্বত হুইলে কোনোমতেই চলিবে না, কারণ এখন আমরা মুক্তির তপস্ত করিতেছি ; ইন্দ্রদেব আমাদের পরীক্ষার জন্য এই ষে তপোভঙ্গের উপলক্ষ্যকে পাঠাইয়াছেন ইহার কাছে হার মানিলে আমাদের সমস্ত সাধন নষ্ট হইয়া যাইবে । অতএব ভ্রাতৃগণ, যে-ক্রোধে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই হাত তুলিতে চায় সে-ক্রোধ দমন করিতেই হইবে-আত্মীয়কৃত সমস্ত বিরোধকে বারংবার ক্ষমা করিতে হুইবে—পরস্পরের অবিবেচনার দ্বার যে-সংঘাত ঘটিয়াছে তাছার সংশোধন করিতে ও তাহাকে ভুলিতে কিছুমাত্র বিলম্ব করিলে চলিবে না । আগুন যখন আমাদের নিজের ঘরেই লাগিয়াছে তখন দুই পক্ষ দুই দিক হইতে এই অগ্নিকে উকবাক্যের বায়ুবৗজন করিয়া ইহাকে প্রতিকারের অতীত করিয়া তুলিলে তাহার চেয়ে মূঢ়ত আমাদের পক্ষে আর-কিছুই হইতে পারিবে না। পরের কুত বিভাগ লইয়। দেশে যে-উত্তেজনার স্বষ্টি হইয়াছে শেষে আত্মকৃত বিভাগই যদি তাহার পরিণাম হয়, ভারতের শনিগ্রহ যদি এবার লর্ড কার্জনমূতি পরিহার করিয়া আত্মীয়মৃতি ধরিয়াই দেগা দেয়, তবে বাহিরের তাড়নায় অস্থির হইয়া ঘরের মধ্যেও আশ্রয় লইবার স্থান পাইব না । এদিকে একটা প্রকাও বিচ্ছেদের খড়গ দেশের মাথার উপর ঝুলিতেছে। কত শত বৎসর হইয়া গেল আমরা হিন্দু ও মুসলমান একই দেশমাতার দুই জাদুর উপরে বসিয়া একই স্নেহ উপভোগ করিয়াছি, তথাপি আজও আমাদের মিলনে বিয় ঘটতেছে। | এই দুর্বলতার কারণ যতদিন আছে ততদিন আমাদের দেশের কোনো মহৎ আশাকে সমূহ (to S সম্পূর্ণ সফল করা সম্ভবপর ইইবে না ; আমাদের সমস্ত রাষ্ট্ৰীয় কর্তব্যপালনই পদে পদে দুরূহ হইতে থাকিবে। বাহির হইতে এই হিন্দুমুসলমানের প্রভেদকে যদি বিরোধে পরিণত করিবার চেষ্টা করা হয় তবে তাছাতে আমরা উীত হইব না—আমাদের নিজের ভিতরে যে-ভেদবুদ্ধির পাপ আছে তাহাকে নিরস্ত করিতে পারিলেই আমরা পরের কৃত উত্তেজনাকে অতিক্রম করিতে নিশ্চয়ই পারিব। এই উত্তেজনা কালক্রমে আপনিই মরিতে বাধ্য। কারণ, এই আগুনে নিয়ত কয়লা জোগাইবার সাধ্য গবর্মেন্টের নাই। এ আগুনকে প্রশ্রয় দিতে গেলে শীঘ্রই ইহা এমন সীমায় গিয়া পৌছিবে যখন দমকলের জন্য ডাক পাড়িতেই হইবে । প্রজার ঘরে আগুন ধরিলে কোনোদিন কোনোদিক হইতে তাহ রাজবাড়িরও অত্যন্ত কাছে গিয়া পৌছিবে । ধদি এ-কথা সত্য হয় যে, হিন্দুদিগকে অসংগত প্রশ্রয় দিবার চেষ্ট হইতেছে, অন্তত ভাবগতিক দেপিয়া মুসলমানদের মনে যদি সেইরূপ ধারণা দৃঢ় হইতে থাকে, তবে এই শনি, এই কলি, এই ভেদনীতি রাজাকেও ক্ষমা করিবে না । কারণ, প্রশ্রয়ের দ্বারা আশাকে বাড়াইয়া তুলিলে তাহাকে পূরণ করা কঠিন হয় । যে ক্ষুধা স্বাভাবিক তাহাকে একদিন মেটানো যায়, যোগ্যতার স্বাভাবিক দাবিরও সীমা আছে, কিন্তু প্রশ্রয়ের দাবির তো অস্ত নাই। তাহ ফুট কলসীতে জল ভরার মতো। আমাদের পুরাণে কলম্বভয়নের যে-ইতিহাস আছে তাহারই দৃষ্টান্তে গবর্মেন্ট, প্রেয়সীর প্রতি প্রেমবশতই হউক অথবা তাহার বিপরীত পক্ষের প্রতি রাগ করিয়াই হউক, অযোগ্যতার ছিদ্ৰঘট ভরিয়া তুলিতে পরিবেন না। অসন্তোষকে চিরকুম্ভস্থ করিয়া রাখিবার উপায় প্রশ্ৰয়। এ সমস্ত শাখের করাতের নীতি, ইহাতে শুধু এক প্রজা কাটে না, ইহা কিরিবার পথে রাজাকেও আঘাত দেয়। এই ব্যাপারের মধ্যে যেটুকু ভালো তাহাও আমাদিগকে বিবেচনা করিয়া দেখিতে হইবে । আমরা গোড়া হইতে ইংরেজের ইস্কুলে বেশি মনোযোগের সঙ্গে পড়া মুখস্থ করিয়াছি বলিয়া গবর্মেন্টের চাকরি ও সম্মানের ভাগ মুসলমান ভ্রাতাদের চেয়ে আমাদের অংশে বেশি পড়িয়াছে সন্দেহ নাই। এইরূপে আমাদের মধ্যে একটা পার্থক্য ঘটয়াছে। এইটুকু কোনোমতে না মিটির গেলে আমাদের ঠিক মনের মিলন হইবে না, আমাদের মাঝখানে একটা অস্থয়ার অন্তরাল থাকিয়া যাইবে । মুসলমানেরা যদি যথেষ্টপরিমাণে পদমান লাভ করিতে থাকেন তবে অবস্থার অসাম্যবশত জ্ঞাতিদের মধ্যে ষে মনোমালিন্ত ঘটে তাহ ঘুচিয়া গিয়া আমাদের মধ্যে সমকক্ষত স্থাপিত হইবে। ষে রাজপ্রসাদ এতদিন আমরা ভোগ করিয়া আসিয়াছি আজ প্রচুরপরিমাণে তাহ মুসলমানদের ভাগে পত্নক ইহা আমরা যেন সম্পূর্ণ প্রসামনে প্রার্থনা করি। কিন্তু এই প্রসাদেৱ যেখানে ৫ ৪২ রবীন্দ্র-রচনাবলী সীমা সেখানে পৌছিয়া তাহারা যেদিন দেখিবেন বাহিরের ক্ষুদ্র দানে অস্তরের গভীর দৈন্ত কিছুতেই ভরিয়া উঠে না, যখন বুঝিবেন শক্তিলাভ ব্যতীত লাভ নাই এবং ঐক্য ব্যতীত সে-লাভ অসম্ভব, যখন জানিবেন, যে-একদেশে আমরা জন্মিয়াছি সেই দেশের ঐক্যকে খণ্ডিত করিতে থাকিলে ধর্মহানি হয় এবং ধর্মহানি হইলে কখনোই স্বার্থরক্ষা হইতে পারে না তখনই আমরা উভয় ভ্ৰাতায় একই সমচেষ্টার মিলনক্ষেত্রে আসিয়া হাত ধরিয়া দাড়াইব । ষাই হউক, হিন্দু ও মুসলমান, ভারতবর্ষের এই দুই প্রধান ভাগকে এক রাষ্ট্ৰসম্মিলনের মধ্যে বাধিবার জন্য যে ত্যাগ, ষে সহিষ্ণুতা, যে সতর্কতা ও আত্মদমন আবশুক তাহ আমাদিগকে অবলম্বন করিতে হইবে। এই প্রকাও কর্মখণই যখন আমাদের পক্ষে যথেষ্ট তখন দোহাই সুবুদ্ধির, দোহাই ধর্মের, প্রাণধর্মের নিয়মে দেশে যে নূতন নূতন দল উঠিবে তাহারা প্রত্যেকেই এক-একটি বিরোধক্কপে উঠিয় যেন দেশকে বহুভাগে বিদীর্ণ করিতে না থাকে ; তাহারা যেন একই তরুকাণ্ডের উপর নব নব সতেজ শাখার মতো উঠিয়া দেশের রাষ্ট্ৰীয় চিত্তকে পরিণতিদান করিতে থাকে। পুরাতন দলের ভিতর দিয়া যখন একটা নূতন দলের উদ্ভব হয় তখন তাহাকে প্রথমটা অনাহূত বলিয়া ভ্রম হয়। কার্যকারণপরম্পরার মধ্যে তাহার যে একটা অনিবার্ষ স্থান আছে অপরিচয়ের বিরক্তিতে তাহা আমরা হঠাং বুঝিতে পারি না । এই কারণে নিজের স্বত্ব প্রমাণের চেষ্টায় নূতন দলের প্রথম অবস্থায় স্বাভাবিকতার শান্তি থাকে না, সেই অবস্থায় আত্মীয় হইলেও তাহাকে বিরুদ্ধ মনে হয় । কিন্তু এ-একথা নিশ্চিত সত্য যে, দেশে নৃতন দল, বীজ বিদীর্ণ করিয়া অঙ্কুরের মতে, বাধা ভেদ করিয়া স্বভাবের নিয়মেই দেখা দেয়। পুরাতনের সঙ্গেই এবং চতুর্দিকের সঙ্গে তাহার অস্তরের সম্বন্ধ আছে । এই তো আমাদের নূতন দল ; এ তো আমাদের আপনার লোক। ইহাদিগকে লইয়া কখনো ঝগড়াও করিব আবার পরক্ষণেই সুখে দুঃখে, ক্রিয়াকমে ইহাদিগকেই কাছে টানিয়া একসঙ্গে র্কাধ মিলাইয়া কাজের ক্ষেত্রে পাশাপাশি দাড়াইতে হইবে । কিন্তু ভ্রাতৃগণ, একট্ৰিমিস্ট, বা চরমপন্থী, বা বাড়াবাড়ির দল বলিয়া দেশে একটি দল উঠিয়াছে, এইরূপ ষে একটা রটন গুনা যায়, সে-দলট কোথায় ? জিজ্ঞাসা করি, এ-দেশে সকলের চেয়ে বড়ো এবং মূল একট্ৰিমিস্ট কে ? চরমপন্ধিত্বের ধর্মই এই যে, একদিক চরমে উঠিলে অন্যদিক সেই টানেই আপনি চরমে চড়িয়া যায় । বঙ্গবিভাগের জন্ত সমস্ত বাংলাদেশ যেমন বেদন অঙ্গভব করিয়াছে এবং যেমন দারুশ দুঃখভোগের দ্বারা তাহা প্রকাশ করিয়াছে ভারতবর্বে এমন বোধ হয় আর কখনো হয় সমূহ ද් භු ව নাই। কিন্তু প্রজাদের সেই সত্য বেদনায় রাজপুরুষ যে কেবল উদাসীন তাহী নহে, তিনি ক্রুদ্ধ, খড়্গহস্ত। তাছার পরে ভারতশাসনের বর্তমান ভাগ্যবিধাতা, যাহার অৰ্ভু্যদয়ের সংবাদমাত্রেই ভারতবর্ষের চিত্তচকোর তাহার সমস্ত তৃষিতচষ্ণু ব্যাদান করিয়া একেবারে আকাশে উড়িয়াছিল, তিনি র্তাহার সুদূর স্বৰ্গলোক হইতে সংবাদ পাঠাইলেন—ঘাহা হইয়া গিয়াছে তাহা একেবারেই চূড়ান্ত, তাহার আর অন্যথা হইতে १ii८ब्र न1 ।। এতই বধিরভাবে সমস্ত বাংলাদেশের চিত্তবেদনাকে একেবারে চূড়ান্ত করিয়া দেওয়৷ ইহাই কি রাজ্যশাসনের চরমপন্থী নহে? ইহার কি একটা প্রতিঘাত নাই ? এবং সে প্রতিঘাত কি নিতান্ত নিজীবভাবে হইতে পারে ? এই স্বাভাবিক প্রতিঘাত শাস্ত করিবার জন্ত কর্তৃপক্ষ তে কোনো শাস্তনীতি অবলম্বন করিলেন না--তিনি চরমের দিকেই চড়িতে লাগিলেন। আঘাত করিয়া যে-ঢেউ তুলিয়াছিলেন সেই ঢেউকে নিরস্ত করিবার জন্ত উর্ধ্বশ্বাসে কেবলই দণ্ডের উপর দণ্ড চালনা করিতে লাগিলেন। তাহাতে তাহারা যে বলিষ্ঠ এ প্রমাণ হইতে পারে কিন্তু স্বভাব তো এই প্রবল রাজাদের প্রজা নহে । আমরা দুর্বল হই আর অক্ষম হই বিধাতা আমাদের যে একটা হৃৎপিণ্ড গড়িয়াছিলেন সেটা তো নিতান্তই একটা মৃৎপিণ্ড নহে, আমরাও সহসা আৰাত পাইলে চকিত হইয়া উঠি । সেটা একটা স্বাভাবিক প্রতিবৃত্তিক্রিয়,-যাহাকে ইংরেজিতে বলে রিফ্লেক্স অ্যাকশন । এটাকে রাজসভায় যদি অবিনয় বলিয়া জ্ঞান করেন তবে আঘাতটা সম্বন্ধেও বিবেচনা করিতে হয়। যাহার শক্তি আছে সে অনায়াসেই দুইয়ের পশ্চাতে আরও একটা দুই যোগ করিতে পারে কিন্তু তাছার পরে ফলের ঘরে চা দেখিলেই উন্মত্ত হইয়া উঠা বিধাতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহু । স্বভাবের নিয়ম যখন কাজ করে তখন কিছু অসুবিধা ঘটলেও, সেটাকে দেখিয়া বিমর্ষ হইতে পারি না। বিছাতের বেগ লাগাইলে যদি দেখি দুর্বল স্নায়ুতেও প্রবলভাবে সড়ি পাওয়া যাইতেছে তবে বড়ো কষ্টের মধ্যে সেটা আশার কথা । অতএব এদিকে যখন লর্ড কার্জন, মল্লি, ইবেটসন ; গুর্থ, পুনিটিভ পুলিস ও পুলিসরাজকতা $ নির্বাসন, জেল ও বেজদগু : দলন, দমন ও আইনের আত্মবিশ্বতি ; তখন অপর পক্ষে প্রজাদের মধ্যেও ৰে ক্রমশই উত্তেজনাবৃদ্ধি হইতেছে, কেউৰাপীয় BBBB BB BBBBB BBBB BBB BBBB BB BBB BB BiS ব্যাপ্ত ও গভীর হইয় তাহামের অস্থিমজ্জার অভ্যস্তরে প্রবেশ করিতেছে ; তাহারা যে বিভীবিকার লক্ষ্মখে অভিভূত না হইয়া অসহিষ্ণু হইয় উঠতেছে ইহাতে আমাদের ষথেষ্ট & e 9 t রবীন্দ্র-রচনাবলী t Wor অসুবিধা ও আশঙ্ক আছে তাহ মানিতেই হইবে, কিন্তু সেই সঙ্গে এইটুকু আশার কথা না মনে করিয়া থাকিতে পারি না যে, বহুকালের অবসাদের পরেও স্বভাব বলিয়া একটা পদার্থ এখনও আমাদের মধ্যে রহিয়া গেছে ; প্রবলভাবে কষ্ট পাইবার ক্ষমতা এখনও আমাদের যায় নাই—এবং জীবনধর্মে ষে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার নিয়ম বর্তমান এখনওঁ আমাদের মধ্যে তাহা কাজ করিতেছে । চরমনীতি বলিতেই বুঝায় হালছাড়া নীতি, সুতরাং ইহার গতিটা ষে কপন কাহাকে কোথায় লইয়া গিয়া উত্তীর্ণ করিয়া দিবে তাহা পূর্ব হইতে কেহ নিষ্কৃিতরূপে বলিতে পারে না । ইহার বেগকে সর্বত্র নিয়মিত করিয়া চলা এই পন্থার পথিকদের পক্ষে একেবারেই অসাধ্য। তাহাকে প্রবর্তন করা সহজ, সংবরণ করাই কঠিন। এই কারণেই আমাদের কতৃপক্ষ যখন চরমনীতিতে দম লাগাইলেন তখন তাঙ্কার ষে এতদূর পর্যন্ত পৌছিবেন তাই মনেও করেন নাই। আজ ভারতশাসনকার্যে পুলিসের সামান্ত পাহারাওআল হইতে ন্তায়দণ্ডধারী বিচারক পর্যন্ত সকলেরই মধ্যে স্থানে স্থানে ষে অসংযম ফুটিয়া বাহির হইতেছে, নিশ্চয়ই তাহা ভারতশাসনের কর্ণধারগণের অভিপ্রেত নহে। কিন্তু গবর্মেন্ট তো একটা অলৌকিক ব্যাপার নহে, শাসনকাৰ্য যাহাদিগকে দিয়া চলে তাহার তো রক্তমাংসের মাতুষ, এবং ক্ষমতা-মত্ততাও সেই মানুষগুলির প্রকৃতিতে অল্পাধিক পরিমাণে প্রবেশ করিয়াছে। যে-সময়ে প্রবীণ সারথির প্রবল রাশ ইহাদের সকলকে শক্ত করিয়া টানিয়া রাখে তখনও যদিচ ইহাদের উচ্চগ্ৰীব যথেষ্ট বক্র হইয়া থাকে তথাপি সেটা রাজবাহনের পক্ষে অশোভন হয় না ; কিন্তু তখন ইহার মোটের উপরে সকলেই এক সমান চালে পা ফেলে ; তখন পদাতিকের দল একটু যদি পাশ কাটাইয়া চলিতে পারে তবে তাহাদের আর অপঘাতের আশঙ্কা থাকে না । কিন্তু চরমনীতি যখনই রাশ ছাড়িয়া দেয় তখনই এই বিরাট শাসনতন্ত্রের মধ্যে অবারিত জীবপ্রকৃতি দেখিতে দেখিতে বিচিত্র হইয়া উঠে। তখন কোন পাহারাওআলায় যটি যে কোন ভালোমানুষের কপাল ভাঙিবে এবং কোন বিচারকের হাতে আইন যে কিরূপ ভয়ংকর বক্রগতি অবলম্বন করিবে তাহা কিছুই বুঝিবার উপায় থাকে না। তখন প্রজাদের মধ্যে যে বিশেষ অংশ প্রশ্রয় পায় তাহারাও বুঝিতে পারে না তাহাজের প্রশ্রয়ের সীমা কোথায় । চতুর্দিকে শাসননীতির এইরূপ অদ্ভূত দুর্বলতা প্রকাশ হইতে থাকিলে গবর্মেন্ট নিজের চালে নিজেই কিছু কিছু লজ্জাবোধ করিতে থাকেন –তখন লজানিবারণের কমিশন রিপোর্টের তালি দিয়া শাসনের ছিন্নতা ঢাকিতে চায়, বাছার আর্ত তাহাদিগকে মিথুক বলির অপমানিত করে এবং যাহার উচ্ছম্বল তাহাদিগকেই উৎপীড়িত বলিয়া মার্জন করে। কিন্তু এমন করিয়া লঙ্গ কি ঢাকা পড়ে ? অথচ সমূহ © e 6: এই সমস্ত উদ্ধাম উৎপাত সংবরণ করাকেও ক্রটিশ্বীকার বলিয়া মনে হয় এবং দুর্বলতাকে প্রবলভাবে সমর্থন করাকেই রাজপুরুষ শক্তির পরিচয় বলিয়া ভ্রম করেন। . অন্তপক্ষে আমাদের মধ্যেও চরমনীতিকে সর্বদা ঠিকমতে সংবরণ করিয়া চল দুঃসাধ্য। আমাদের মধ্যেও নিজের দলের দুর্বরতা দলপতিকেও টলাইতে থাকে। এরূপ অবস্থায় কাছার আচরণের জন্ত যে কাহাকে দায়ী করা যাইবে এবং কোন মতটা যে কতটা পরিমাণে কাহার, তাহ নিশ্চয় করিয়া নির্ণয় করে এমন কে আছে । এইখানে একটি কথা মনে রাখিতে হইবে । একট্ৰিমিস্ট নাম দিয়া আমাদের মাঝখানে যে একটা সীমানার চিহ্ন টানিয়া দেওয়া হইয়াছে সেটা আমাদের নিজের দত্ত নহে । সেটা ইংরেজের কালে কালির দাগ । সুতরাং এই জরিপের চিহ্নটা কখন কতদূর পর্যন্ত ব্যাপ্ত হইবে বলা যায় না । দলের গঠন অনুসারে নহে, সময়ের গতি ও কতৃর্জাতির মঞ্জি অনুসারে এই রেখার পরিবর্তন হইতে থাকিবে। অতএব ইংরেজ তাহার নিজের প্রতি আমাদের মনের ভাব বিচার করিয়া যাহাকে একস্ট্রিমিস্ট দল বলিয়া নির্দেশ করিবার চেষ্টা করিতেছে সেটা কি একটা দল, না দলের চেয়ে বেশি—তাহ দেশের একটা লক্ষণ ? কোনো একটা দলকে চাপিয়া মারিলে এই লক্ষণ আর-কোনো আকারে দেখা দিবে অথবা ইহা বাহির হইতে ভিতরে প্রবেশ করিবে । কোনো স্বাভাবিক প্রকাশকে যখন আমরা পছন্দ না করি তখন আমরা বলিতে চেষ্টা করি যে, ইহা কেবল সম্প্রদায়বিশেষের চক্রান্ত মাত্র। অষ্টাদশ শতাব্দীতে যুরোপে একটা ধুয়া উঠিয়াছিল যে, ধর্মজিনিসটা কেবল স্বার্থপর ধর্মযাজকদের কৃত্রিম স্থষ্টি ; পাদ্রিদিগকে উচ্ছিন্ন করিলেই ধর্মের আপদটাকেই একেবারে দূর করিয়া দেওয়া যায়। হিন্দুধর্মের প্রতি যাহারা অসহিষ্ণু তাহারা অনেকে বলিয়া থাকে এটা যেন ব্রাহ্মণের দল পরামর্শ করিয়া নিজেদের জীবিকার উপায় স্বরূপে তৈরি করিয়া তুলিয়াছে— অতএব ভারতবর্ষের বাহিরে কোনো গতিকে ব্রাক্ষণের ডিপোর্টেশন ঘটাইতে পারিলেই হিন্দুধর্মের উপত্রব সম্বন্ধে একপ্রকার নিশ্চিন্তু থাক যাইবে । আমাদের ক্রুজারাও সেইরূপ মনে করিতেছেন একঞ্জিমিজম বলিয়া একটা উৎক্ষেপক পদার্থ দ্বষ্টের দল তাহাঙ্গের ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করিয়া তুলিতেছে অতএব কয়েকটা দলপতি ধরিয়া পুলিস ম্যাজিষ্ট্রেটের হাতে সমর্পণ করিয়া দিলেই উৎপাত শান্তি হইতে পারিবে । o কিন্তু আসল কথাটা ভিতরের কথা। সেটা চোখে দেখার জিনিস নহে, সেটা তলাইয়া বুৰিতে হইবে। o 8وه سدهه < রবীন্দ্র-রচনাবলী دهه যে সত্য অব্যক্ত ছিল সেটা হঠাৎ প্রথম ব্যক্ত হইবার সময় নিতান্ত মৃদুমন্দ মধুরভাবে হয় না। তাহা একটা ঝড়ের মতো আসিয়া পড়ে, কারণ অসামগ্রস্তের সংঘাতই তাহাকে জাগাইয়া তোলে। Q আমাদের দেশে কিছুকাল হইতেই ইতিহাসের শিক্ষায়, যাতায়াত ও আদানপ্রদানের সুযোগে, এক রাজশাসনের ঐক্যে, সাহিত্যের অভু্যদয়ে এবং কনগ্রেসের চেষ্টায় আমরা ভিতরে ভিতরে বুঝিতেছিলাম যে, আমাদের দেশটা এক, আমরা একই জাতি, মধে দুঃখে আমাদের এক দশা, এবং পরম্পরকে পরমাত্ৰীয় বলিয়া না জানিলে ও অত্যন্ত কাছে না টানিলে আমাদের কিছুতে মঙ্গল নাই। বুঝিতেছিলাম বটে কিন্তু এই অখও ঐক্যের মূর্তিটি প্রত্যক্ষ সত্যের মতো দেখিতে পাইতেছিলাম না—তাহ ষেন কেবলই আমাদের চিন্তার বিষয় হইয়াই ছিল। সেইজন্ত সমস্ত দেশকে এক বলিয়া নিশ্চয় জানিলে, মানুষ দেশের জন্ত যতটা দিতে পারে, যতটা সহিতে পারে, যতটা করিতে পারে আমরা তাহার কিছুই পারি নাই । এই ভাবেই আরও অনেকদিন চলিত। এমন সময় লর্ড কার্জন যবনিকার উপর এমন একটা প্রবল টান মারিলেন যে, যাহা নেপথ্যে ছিল তাহার আর কোনো আচ্ছাদন রহিল না । বাংলাকে যেমনি দুইখানা করিবার হুকুম হুইল অমনি পূর্ব হইতে পশ্চিমে একটিমাত্র ধ্বনি জাগিয়া উঠিল—আমরা যে বাঙালি, আমরা যে এক ! বাঙালি কথন যে বাঙালির এতই কাছে আসিয়া পড়িয়াছে, রক্তের নাড়ি কখন বাংলার সকল অঙ্গকেই এমন করিয়া এক চেতনার বন্ধনে বাধিয়া তুলিয়াছে তাহা তো পূর্বে আমরা এমন স্পষ্ট করিয়া বুঝিতে পারি নাই । আমাদের এই আত্মীয়তার সজীব শরীরে বিভাগের বেদন যখন এত অসঙ্ক হইয়া বাজিল তখন ভাবিয়াছিলাম সকলে মিলিয়া রাজার দ্বারে নালিশ জানাইলেই দয়া পাওয়া যাইবে। কেবলমাত্র নালিশের দ্বারা দয়া আকর্ষণ ছাড়া আর যে আমাদের কোনো গতিই আছে তgাও আমরা জানিতাম না । কিন্তু নিরুপায়ের ভরসাস্থল এই পরের অনুগ্রহ যখন চূড়ান্তভাবেই বিমুখ হুইল তখন যে-ব্যক্তি নিজেকে পঙ্গু জানিয়া বহুকাল অচল হইয়া ছিল ঘরে আগুন লাগিতেই নিতান্ত অগত্যা দেখিতে পাইল তাহারও চলংশক্তি আছে। আমরাও একদিন অন্তঃকরণের অত্যন্ত একটা তাড়নায় দেখিতে পাইলাম, এই কথাটা আমাদের জোর করিয়া বলিবার শক্তি আছে যে, আমরা বিলাতি পণ্যদ্রব্য ব্যবহার করিব না। আমাদের এই আবিষ্কারটি অন্তান্ত সমস্ত সত্য আবিষ্কারেরই তার প্রথমে একটা সমূহ @ eዓ সংকীর্ণ উপলক্ষ্যকে অবলম্বন করিয়া আমাদের কাছে উপস্থিত হইয়াছিল। অবশেষে দেখিতে দেখিতে আমরা বুঝিতে পারিলাম উপলক্ষ্যটুকুর অপেক্ষ ইহা অনেক বৃহৎ। এ ষে শক্তি। এ ষে সম্পদ। ইহা অন্তকে জন্ম করিবার নহে ইহা নিজেকে শক্ত করিবার। ইহার আর কোনো প্রয়োজন থাক বা না থাক ইহাকে বক্ষের মধ্যে সত্য বলিয়া অনুভব করাই সকলের চেয়ে বড়ে প্রয়োজন হইয়া উঠিয়াছে। শক্তির এই অকস্মাং অমুস্তৃতিতে আমরা যে একটা মস্ত ভরসার আনন্দ পাইয়াছি সেই আনন্দটুকু না থাকিলে এই বিদেশী-বর্জনব্যাপারে আমরা এত অবিরাম দুঃখ কখনোই সহিতে পারিতাম না। কেবলমাত্র ক্রোধের এত সহিষ্ণুতা নাই। বিশেষত প্রবলের বিরুদ্ধে দুর্বলের ক্রোধ কখনোই এত জোরের সঙ্গে দাড়াইতে পারে না । এদিকে দুঃখ যতই পাইতেছি সত্যের পরিচয়ও ততই নিবিড়তর সত্য হইয়া উঠতেছে । যতই দুঃখ পাইতেছি আমাদের শক্তি গভীরতায় ও ব্যাপ্তিতে ততই বাড়িয়া চলিয়াছে। আমাদের এই বড় দুঃখের ধন ক্রমেই আমাদের হৃদয়ের চিরন্তন সামগ্ৰী হইয়া উঠিতেছে। অগ্নিতে দেশের চিত্তকে বার বার গলাইয়া এই ষে ছাপ দেওয়া হইতেছে ইহা তো কোনোদিন আর মুছিবে না। এই রাজমোহরের ছাপ আমাদের দুঃখ সহায় দলিল হুইয়া থাকিবে –দুঃখের জোরে ইহা প্রস্তুত হইয়াছে এবং ইহার জোরেই দুঃখ সহিতে পারিব। * এইরূপে সত্য জিনিস পাইলে তাহার আনন্দ যে কত জোরে কাজ করে এবার তাহা স্পষ্ট দেখিয়া আশ্চর্ষ হইয়া গিয়াছি। কতদিন হইতে জ্ঞানী লোকের উপদেশ দিয়া আসিয়াছেন যে, হাতের কাজ করিতে ঘৃণা করিয়া, চাকরি করাকেই জীবনের সার বলিয়া জানিলে কখনোই আমরা মানুষ হইতে পারিব না। যে শুনিয়াছে সেই বলিয়াছে, ই, কথাটা সত্য বটে। আমনি সেই সঙ্গেই চাকরির দরখাস্ত লিখিতে হাত পাকাইতে বসিয়াছে। এতবড়ে চাকরিপিপাসু বাংলাদেশেও এমন একটা দিন আসিল মেদিন কিছু না বলিতেই ধনীর ছেলে নিজের হাতে তাত চালাইবার জন্ত তাতির কাছে শিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করিল, ভদ্রম্বরের ছেলে নিজের মাথায় কাপড়ের মোট তুলিয়া দ্বারে দ্বারে বিক্রয় করিতে লাগিল এবং ব্রাহ্মণের ছেলে নিজের হাতে লাঙল বহা গৌরবের কাজ বলিয়া স্পর্ধ প্রকাশ করিল। আমাদের সমাজে ইহা ষে সম্ভবপর হইতে পারে আমরা স্বপ্নেও মনে করি নাই। তর্কের দ্বারা তর্ক মেটে না ; উপদেশের দ্বার সংস্কার খোচে না ; সত্য ৰখন ঘরের একটি কোণে একটু শিখার মতো দেখা দেন তখনই बब्रङब्रां पञककांबू यां★नि काठिंब्रां यांच्च । পূর্বে দেশের বড়ো প্রয়োজনের সময়েও আরে দ্বারে ভিক্ষ চাহিয়া অর্থের অপেক্ষা রবীন্দ্র-রচনাবলী o مeb &6 ব্যর্থতাই বেশি করিয়া পাইতাম কিন্তু সম্প্রতি একদিন যেমনি একটা ডাক পড়িল আমনি দেশের লোক কোনো অত্যাবগুক প্রয়োজনের কথা চিন্তা না করিয়া কেবলমাত্র নির্বিচারে ত্যাগ করিবার জন্যই নিজে ছুটিয়া গিয়া দান করিয়া নিজেকে কৃতাৰ্থ জ্ঞান করিয়াছে। তাহার পরে জাতীয় বিদ্যালয় যে কোনোদিন দেশের মধ্যে স্থাপন করিতে পারিব,” সে কেবল দুটি-একটি অত্যুৎসাহিকের ধ্যানের মধ্যেই ছিল। কিন্তু দেশে শক্তির অমৃদ্ধৃতি একটুও সত্য হইবামাত্রই সেই দুর্লভ ধ্যানের সামগ্ৰী দেখিতে দেখিতে আকার পরিগ্রহ করিয়া দেশকে বরদান করিবার জন্ত উদ্যত দক্ষিণ হস্তে আজ আমাদের সম্মুখে আসিয়া দাড়াইয়াছেন । একত্রে মিলিয়া বড়ো কারখানা স্থাপন করিব বাঙালির এমন না ছিল শিক্ষা, না ছিল অভিজ্ঞতা, না ছিল অভিরুচি,—তাহা সত্বেও বাঙালি একটা বড়ো মিল খুলিয়াছে, তাহা ভালো করিয়াই চালাইতেছে এবং আরও এইরূপ অনেকগুলি ছোটোবড়ো উদযোগে প্রবৃত্ত হইয়াছে। দেশের ইচ্ছা একটিমাত্র উপলক্ষ্যে যেই আপনাকে সফল করিয়াছে, যেই আপনার শক্তিকে দুঃখ ও ক্ষতির উপরেও জয়ী করিয়া দেখাইয়াছে আমনি তাহ নানা ধারায় জাতীয় জীবনযাত্রার সমস্ত বিচিত্র ব্যাপারেই যে নিজেকে উপলব্ধি করিবার জন্য সহজে ধাবিত হইবে ইহা অনিবাৰ্য । কিন্তু যেমন একদিকে সহসা দেশের এই শক্তির উপলব্ধি আমাদের কাছে সত্য হইল তেমনি সেই কারণেই আমরা নিজেদের মধ্যে একটা প্রকাও অভাব অনুভব করিলাম । দেখিলাম এতবড়ো শক্তিকে বাধিয়া তুলিবার কোনো ব্যবস্থা আমাদের মধ্যে নাই । স্টীম নানাদিকে নষ্ট হইয়া যাইতেছে, তাহাকে এইবেল আবদ্ধ করিয়া যথার্থপৰে খাটাইবার উপায় করিতে পারিলে তাহ আমাদের চিরকালের সম্বল হইয়া উঠিত—এই ব্যাকুলতায় আমরা কষ্ট পাইতেছি । ভিতরে একটা গভীর অভাব বা পীড়া থাকিলে যখন তাহাকে ভালো করিয়া ধরিতে বা তাহার ভালোরূপ প্রতিকার করিতে না পারি তখন তাহ নানা আকারণ বিরক্তির আকার ধারণ করিতে থাকে। শিশু অনেক সময় বিনা হেতুতেই রাগ করিয়া তাহার মাকে মারে ; তখন বুঝিতে হুইবে সে-রাগ বাহত তাহার মাতার প্রতি কিন্তু বৰত তাহা শিগুর একটা কোনো অনির্দেগু অস্বাস্থ্য। মুস্থ শিশু যখন আনন্দে থাকে তখন বিরক্তির কারণ ঘটলেও সেটাকে সে অনায়াসে জুলিয়া যায়। সেইরূপ দেশের জাস্তৱিক cब-आरक्म आधारिश्रष्क आकक्णप्इ गरेब बाहेख्यरू उाश चाब किइरे ऋर अंश ব্যবস্থাবন্ধনের অভাবজনিত ব্যর্থ উত্তমের অসন্তোষ। শক্তিকে অনুভব করিতেছি সমূহ (t eఫి. অথচ তাহাকে সম্পূর্ণ খাটাইতে পারিতেছি না বলিয়াই সেই অস্বাস্থ্যে ও আত্মপ্লানিতে আমরা আত্মীয়দিগকেও সঙ্ক করিতে পারিতেছি না। যখন একদিনের চেষ্টাতেই আমরা দেখিয়াছি যে, জাতীয় ভাণ্ডারে টাকা আসিয়া পড়া “এই বন্ধপরিবারভারগ্রস্ত দরিদ্র দেশেও দুঃসাধ্য নহে তখন এই আক্ষেপ কেমন করিয়া জুলিব যে, কেবলমাত্র ব্যবস্থা করিতে ন পারাতেই এই একদিনের উযোগকে আমরা চিরদিনের ব্যাপার করিয়া তুলিতে পারিলাম না । এমন কি, ষে-টাক আমাদের शष्ठ जांजिब्रा अधिब्रां८छ् उांश लहेब्र कैौ cष कब्रिय उांशहे श्रांछ *ईछ ठिक कब्र আমাদের পক্ষে অসাধ্য হইয়া উঠিয়াছে। সুতরাং এই জমা টাকা মাতৃস্তনের নিরুদ্ধ স্কুপ্তের মতো আমাদের পক্ষে একটা বিষম বেদনার বিষয় হুইয়া রহিল। দেশের লোক যখন ব্যাকুল হইয়া বলিতেছে, আমরা দিতে চাই আমরা কাজ করিতে চাই, কোথায় দিব কী করিব তাহার একটা কিনারা হইয়া উঠিলে বাচিয়া যাই ; তখনও যদি দেশের এই উদ্যত ইচ্ছাকে সার্থক করিবার জন্ত কোনো একটা যজ্ঞক্ষেত্র নির্মিত না হয়, তখনও যদি সমস্ত কাজ বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবেই হইতে থাকে তবে এমন অবস্থায় এমন খেদে মানুষ আর কিছু না পারিলে ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া করিয়া আপনার কর্মভ্ৰষ্ট উদ্যম ক্ষয় করে । 距 তখন ঝগড়ার উপলক্ষ্যও তেমনি অসংগত হয়। আমাদের মধ্যে কেহ বা বলি আমি ব্রিটিশ-সাম্রাজ্যভূক্ত স্বায়ত্তশাসন চাহি, কেহ বা বলি আমি সাম্রাজ্যনিরপেক্ষ স্বাতন্ত্ৰ্যই চাহি । অথচ এ-সমস্ত কেবল মুখের কথা এবং এতই দূরের কথা যে, ইহার সঙ্গে আমাদের উপস্থিত দায়িত্বের কোনো যোগ নাই । দেবত ধন কলোনিয়াল সেলফ-গবর্ষেস্ট এবং অটনমি এই দুই বর দুই হাতে লইয়। আমাদের সম্মুখে আসিয়া দাড়াইবেন এবং যখন তাহার মুহূর্তমাত্র বিলম্ব সহিবে না তখন কোন বরটা তুলিয়া লইতে হইবে হাতে হাতে তাহার নিম্পত্তি করিতে পরস্পর হাতাহাতি করাই যদি অত্যাবগুক হইয় উঠে তবে অগত্য তাহা করিতে হইবে। কিন্তু যখন মাঠে চাষ দেওয়াও হয় নাই তখন কি ফসলভাগের মামলা তুলিবাব বিশেষ প্রয়োজন আছে ? 略 ব্যক্তিই বল, জাতিই বল, মুক্তিই সকলের চরম সিদ্ধি। কিন্তু শাস্ত্রে বলে, নিজের মধ্যেই যুক্তির নিগূঢ় বাধা আছে, সেইগুলা আগে কর্মের দ্বারা ক্ষয় না করিলে কোনোমতেই যুক্তি নাই। আমাদের জাতীয় মুক্তিরও প্রধান বিষ্কসকল আমাদের অভ্যন্তরেই নানা আকারে ৰিজান-কর্মের দ্বারা সেগুলার যদি ধ্বংস না হয় তবে তর্কের আর হইবে না এবং বিবাদের দ্বারা তাহ বাড়িতেই থাকিবে। অতএব, ক্তি কয় প্রকারের ○ > ● রবীন্দ্র-রচনাবলী 標 আছে, সাযুজ্য-মুক্তিই ভালো না স্বাতন্ত্রা-মুক্তিই শ্রেয়, শান্তিরক্ষা করিয়া তাহার আলোচনা অনায়াসেই চলিতে পারে, কিন্তু সাযুজ্যই বল, আর স্বাতন্ত্রাই বল, গোড়াকার কথা একই অর্থাৎ তাহ কর্ম। সেখানে উভয় দলকে একই পথ দিয়া যাত্রা করিতে হইবে। যে-সকল প্রকৃতিগত কারণে আমরা দরিত্র ও দুর্বল, আমরা বিভক্ত বিরুদ্ধ ও পরতন্ত্র, সেই কারণ ঘোচাইবার জন্য আমরা যদি সত্যসত্যই মন দিই তবে আমাদের সকল মতের লোককে একত্রে মিলিতেই হুইবে । এই কর্মক্ষেত্রেই যখন আমাদের সকলের একত্রে মিলন নিতান্তই চাই তখন সেই মিলনের জন্য একটি বিশেষ গুণের প্রয়োজন—তাহা অমত্ততা । আমরা যদি যথার্থ বলিষ্ঠমনা ব্যক্তির স্তায় কথায় ও ব্যবহারে, চিন্তায় ও প্রকাশে পরিমাণরক্ষা করিয়া না চলিতে পারি তবে মিলনই আমাদের পক্ষে বিরোধের হেতু হইবে—এবং কর্মের চেষ্টায় লাভ না হইয়া বারংবার ক্ষতি ঘটাইতে থাকিবে । এই বিষয়ে আজকালকার ভারতীয় রাজপুরুষদের সমান চালে চলিবার চেষ্টা করিলে আমাদের অনিষ্টই হইবে। বর্তমান ভারতশাসনব্যাপারে একটা উংকট হিস্টরিয়ার আক্ষেপ হঠাৎ থাকিয়া থাকিয়া কখনো পাঞ্জাবে, কখনো মাদ্রাজে, কপনো বাংলায় যেরূপ অসংযমের সহিত প্রকাশ পাইয়া উঠিতেছে সেটা কি আমাদের পক্ষে একটা দৃষ্টান্ত ? যাহার হাতে বিরাট শক্তি আছে, সে যদি অসহিষ্ণু হইয়া চাঞ্চল্য প্রকাশ করাকেই পৌরুষের পরিচয় বলিয়া কল্পনা করে এবং নিজের রচনাকে নিজে বিপর্যন্ত করিয়া সাৰন পায় তবে তাহার সেই চিত্তবিকার আমাদের মতে দুর্বলতর পক্ষকে যেন অল্পকরণে উত্তেজিত না করে। বস্তুত প্রবলই হউক আর দুর্বলই হউক যে-ব্যক্তি বাক্যে ও আচরণে অস্তরের ভাবাবেগকে যথেষ্ট পরিমাণে সংযত করিতে না পারিয়াছে সেই ব্যক্তি সকল কর্মের অন্তরায় এ-কথাটা ক্ষোভবণত আমরা যখনই ভুলি ইহার সত্যতাও তখনই সবেগে সপ্রমাণ হইয়া উঠে । সম্প্রতি দেশের কর্ম বলিতে কী বুঝায় এবং তাহার যথার্থ গতিটা কোন দিকে সে-সম্বন্ধে আমাদের মধ্যে যে সত্যকার কোনো মতভেদ আছে একথা আমি মনে করিতেই পারি না। কর্মের উদ্দেশু কেবলমাত্র উপস্থিত একটা কোনো ফললাভ নহে। শক্তিকে খাটাইবার জন্যও কর্মের প্রয়োজন। কর্মের উপযুক্ত সুযোগ পাইলেই এই শক্তি নানা আশ্চর্য ও অভাবনীয় রূপে অভিব্যক্ত হইতে থাকে। এমন যদি উপায় থাকিত বাহাতে ফলট পাওয়া যায় অথচ শক্তিটার কোনো প্রয়োজনই হয় না তবে তাহাকে আমরা সৌভাগ্য বলিয়া গণ্য করিতে পারিতাম না। সমূহ (?)> তেমন উপায় পৃথিবীতে নাইও। আমরা কোনো শ্রেয় পদার্থকেই পরের কৃপার দ্বারা পাই না, নিজের শক্তির দ্বারাই লই। ইহার অন্যথা হইতেই পারে না। কারণ, বিধাত। বরঞ্চ আমাদিগকে হনন করিতে পারেন কিন্তু মচুন্যত্বকে অপমানিত হইবার পথে "কোনো প্রশ্রয় দেন না । সেইজন্তই দেখিতে পাই গবর্মেন্টের দানের সঙ্গে যেখানেই আমাদের শক্তির কোনো সহযোগিতা নাই সেখানে সেই দানই বক্র হইয়া উঠিয়া আমাদের কত না বিপদ ঘটাইতে পারে। প্রশ্রয়প্রাপ্ত পুলিস যখন দক্ষ্যবৃত্তি করে তখন প্রতিকার অসম্ভব হইয়া উঠে ; গবর্মেন্টের প্রসাদভোগী পঞ্চায়েত যখন গুপ্তচরের কাজ আরম্ভ করে তখন গ্রামের পক্ষে তাহা ষে কতবড়ো উপদ্রবের কারণ হইতে পারে তাহ কিছুই বলা যায় না ; গবর্মেন্টের চাকরি যখন শ্রেণীবিশেষকেই অনুগ্রহভাজন করিয়া তোলে তখন ঘরের লোকের মধ্যেই বিদ্বেষ জলিয় উঠে এবং রাজমন্ত্রিসভায় যখন সম্প্রদায়বিশেষের জন্যই আসন প্রশস্ত হইতে থাকে তখন বলিতে হয় আমার উপকারে কাজ নাই তোমার অনুগ্রহ ফিরাইয়৷ লও । আমাদের নিজের মধ্যে সতেজ শক্তি থাকিলে এই সমস্ত বিকৃতি কিছুতেই ঘটিতে পারিত না—আমরা দান গ্রহণ করিবার ও তাহাকে রক্ষা করিবার অধিকারী হইতাম—দান আমাদের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই বলিদান হইয়া উঠিত না । অতএব আমি যাহা বলিতেছি তাহাতে এ বোঝায় না যে, আমাদের কর্মের কোনো উপকরণ আমরা গবর্মেন্টের নিকট হইতে লইব না, কিন্তু ইহাই বুঝায় যে, নিজের সম্পূর্ণ সাধামত যদি কর্মে প্রবৃত্ত হই তবেই তাহার উপকরণ আমরা সকল স্থান হইতেই অসংকোচে সংগ্ৰহ করিবার অধিকারী হুইব । নতুবা আমাদের সেই গল্পের দশ ঘটিবে। আমরা মা কালীর কাছে মহিষ মানত করিবার বেল চিস্তা করিব না বটে কিন্তু পরে তিনি যপন অনেক ক্ষমা করিয়াও একটিমাত্র পতঙ্গ দাবি করিবেন তখন বলিব, মা, ওটা তুমি নিজে ক্ষেত্রে গিয়া ধরিয়া লও গে। আমরাও কথার বেলায় বড়ো বড়ে করিয়াই বলিব কিন্তু অবশেষে দেশের একটি সামান্ত হিতসাধনের বেলাতেও অন্যের উপরে বরাত দিয়া দায় সারিবার ইচ্ছা করিব। কাজে প্রবৃত্ত হইতে গেলে, রাগ করিয়া, গর্ব করিয়া, বা অন্ত কারণে, ষে-জিনিসটা নিশ্চিত আছে তাহাকে নাই বলিয়া হিসাব হইতে বাদ দিয়া বসিলে চলিবে না । ভারতে ইংরেজ-গবর্ষেন্ট যেন একেবারেই নাই এমনভাবে চক্ষু মুত্রিত করিয়া থাকা শয়নাগারেই চলে কিন্তু কৰ্মক্ষেত্রে সেরূপভাবে চলিলেই নিশ্চয় ঠকিতে হইবে। অবষ্ট এ-কথাও সত্য, ইংরেজও যতদূর সম্ভব, এমনভাবে চলিতেছে যেন আমরা কোথাও নাই। আমাদের ত্ৰিশ কোটি লোকের মাঝখানে থাকিয়াও তাহারা বহুদূরে। ৫১২ রবীন্দ্র-রচনাবলী সেইজন্যই আমাদের সম্বন্ধে তাহাদের পরিমাণবোধ একেবারেই চলিয়া গেছে। সেইজন্তই পনেরো বৎসরের একটি ইস্কুলের ছেলেরও একটু তেজ দেখিলে তাহারা জেলের মধ্যে তাহাকে বেত মারিতে পারে ; মানুষ সামান্ত একটু নড়িলে-চড়িলেই পুনিটিভ পুলিসের চাপে তাহাকে সম্পূর্ণ নিশ্চল করিয়া ফেলিতে মনে তাহাজের ধিক্কার বোধ’ হয় না ; এবং দুর্ভিক্ষে মরিবার মুখে লোকে যখন বিলাপ করিতে থাকে সেটাকে অত্যুক্তি বলিয়া অগ্রাহ করা তাহাদের পক্ষে সম্ভব হয় ; সেইজন্যই বাংলার বিভাগব্যাপারে সমস্ত বাঙালিকেই বাদ দিয়া মলে সেটাকে “সেট্ল্ড ফ্যাক্ট” বলিয়া গণ্য করিতে পারিয়াছেন । এইরূপে আচারে বিচারে এবং রাষ্ট্রবিধানে যখন দেখিতে পাই ইংরেজের খাতায় হিসাবের অঙ্কে আমরা কতবড়ে একটা শূন্য তখন ইহার পালটাই দিবার জন্য আমরাও উহাদিগকে যতদূর পারি অস্বীকার করিবার ভঙ্গি করিতে ইচ্ছা করি। কিন্তু ধাতায় আমাদিগকে একেবারে শূন্তের ঘরে বসাইয়া গেলেও আমরা তো সত্যই একেবারে শূন্ত নহি । ইংরেজের শুমায়নবিস ভুল হিসাবে যে অস্কট ক্রমাগতই হরণ করিয়া চলিতেছে তাহাতে তাহার সমস্ত পাতা দূষিত হইয়া উঠিতেছে। গায়ের জোরে হা-কে না করিলে গণিতশাস্ত্র ক্ষমা করিবার লোক নয় । একপক্ষে এই ভুল করিতেছে বলিয় রাগ করিয়া আমারও কি সেই ভুলটাই করিব ? পরের উপর বিরক্ত হইয়া নিজের উপরেই তাহার প্রতিশোধ তুলিব ? ইহা তে কাজের প্রণালী নহে । বিরোধমাত্রই একটা শক্তির ব্যয়—অনাবশ্বক বিরোধ অপব্যয় । দেশের হিতব্লতে যাহার কর্মযোগী, অত্যাবস্তক কণ্টকক্ষত র্তাহাদিগকে পদে পদে সহ করিতেই হুইবে ; কিন্তু শক্তির ঔদ্ধত্যপ্রকাশ করিবার জন্ত স্বদেশের যাত্রাপথে নিজের চেষ্টায় কাটার চাষ । করা কি দেশহিতৈষিত ! আমরা এই যে বিদেশী-বর্জনত্রত গ্রহণ করিয়াছি ইহারই দুঃখ তো আমাদের পক্ষে সামান্ত নহে। স্বয়ং রোপেই ধনী আপন ধনবৃদ্ধির পথ অব্যাহত রাখিবার জন্ত শ্রীকে কিরূপ নাগপাশে বেষ্টন করিয়া ফেলিতেছে এবং তাহ লইয়। সেখানে কতই কঠিন আঘাতপ্রতিঘাত চলিতেছে। আমাদের দেশে সেই ধনী শুধু ধনী নন জেলের দারোগা, লিভারপুলের নিমক ধাইয়া থাকে। অতএব এ-দেশের যে-ধন লইয়া পৃথিবীতে র্তাহারা ঐশ্বর্ধের চূড়ায় উঠিয়াছেন সেই ধনের রাস্তায় আমরা একটা সামান্ত বাধা দিলেও তাহারা তো জামাদিগকে সহজে ছাড়িবেন না। এমন অবস্থায় ষে-সংঘাত আমাদের সম্মুখে রহিয়াছে তাহ খেলা নহে,— তাহাতে আরাম-বিশ্রামের অবকাশ নাই, তাহাতে আমাদের সমস্ত শক্তি ও সহিষ্ণুতার