সুকুমার রায় রচনাবলী/নাটক/ভাবুক সভা

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

काजद्र बैंथन प्लेट्टै मग निशि tर्कन ७tठ দশদিকে ওড়ে শব্দ ধূলি উড়ে যায় উড়ে যায় মোক্ষপথ ভূমি— ভেবেছ কি উদ্ধতের হবে না শাসন ? জাগে নি সুপ্ত হতাশন ? বিদ্রোহের বাজে নি সানাই ? শব্দ আছে প্রতিশব্দনাই ? শব্দ মুখে প্রতিলোম শক্তি এস ঘিরে কুণ্ডলীর মুখ ঘাও ফিরে শব্দঘন অন্ধকার নিত্য অর্থম্ভারে নামে বৃষ্টি ধারে শব্দ যজ্ঞ হবিকুণ্ড অফুরন্ত ধূম এই মারি শব্দকল্পদ্রুম। প্রম’ শব্দে সশিষ্য গুরুজির স্বৰ্গ হইতে পতন মৃবনিকা মামাগো ঘরের এক পাশে মাদুরে বসিয়া একটি ছেলে কাগজ হাতে লইয়া কি যেন ভাবিতেছে ; অন্য পাশে তাহার. দিকে পিছন করিয়া আরাম-কেদারার উপর হাত-পা ছড়াইয়া তাহার মামা আধা-ঘুমন্ত অবস্থায় বিশ্রাম করিতেছেন। বালক । (হঠাৎ ব্যাকুলম্বরে) মামা ! মামা । ( চমকিয়া ) কি রে! বালক । ও মামা ! মামা। (একটুখানি মাথা তুলিয়া) আরে, হল কি ? বালক। (প্রায় কঁাদ কঁাদ সুরে) মামা গো ! মামা। (বিরক্তভাবে) আরে, কি হল তাই বল না ? খালি ‘মামা’ ‘মামা' করতে লেগেছে । বালক । ও মামা গো, তা হলে কি হবে গো ? মামা । ( উঠিয়া বসিয়া ভ্যাংচানো সুরে ) এই তোমার পিঠে ঘা দু-চার পড়বে গো—আর হবে কি ? বালক । (ঘ্যাঙনি সুরে ) না মামা, দেখ না—এই কাগজে কি লিখেছে ! মামা। কি আবার লিখবে ? ওদের যা খুশী তাই লিখেছে— তোর তা নিয়ে চ্যাচাবার দরকার কি ? বালক । শোনো-না একবার কি বলছে ওরা—(মামার কাছে গিয়ে পাঠ )“আমেরিকার কোনো বিখ্যাত মানমন্দির হইতে সংবাদ আসিয়াছে যে, তত্রস্থ দূরবীক্ষণ যন্ত্রে একটি ধূমকেতু দেখা গিয়াছে। জ্যোতিবিদ পণ্ডিতেরা গণনা করিয়া বলিয়াছেন যে, আগামী জুন মাসে এই ধূমকেতু পৃথিবীর নিকটবর্তী হইবে এবং তখন পৃথিবীর সহিত তাহার সংঘর্ষ হইবে।” মামা। হবে তো হবে—তাতে চেচাবার কি হয়েছে ? বালক । ( আবার কাদ কাদ) যদি ধূমকেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে, আর পৃথিবী চুরমার হয়ে ভেঙে যায় ? —তাহলে তো— মামা। যাঃ যাঃ–কাচের পুতুল কিনা, অমনি চুরমার হয়ে ভেঙে স্বাবে l বালক। যদি ধূমকেতুটা ধুম করে আমাদের বাড়ির উপর এসে পড়ে ?—কিংবা ভূমিকম্প হয় ? মামা । (ড্যাঙচানো সুরে ) কিংবা বাড়িতে আগুন লেগে যায় কিংবা পরেশনাথের পাহাড় তোর মাথায় এসে পড়ে, কিংবা তোর মগজের গোবরগুলো শুকিয়ে ঘুটে হয়ে যায় । বালক। (অত্যন্ত গম্ভীরভাবে) তা কখন কি হয় কিছু তো বলা যায় না । (কাদ কাদ ভাবে ) এই তো গোবিন্দরও তো মামা ছিল, সে মামা তো গত বহুর সদগমি হয়ে মরে গেল । মামা। মরেছে ত আপদ গেছে, তাতে হয়েছে কি ? বালক । না, তাই বলছিলুম—এই সেদিনও তো আমাদের জিমনাস্টিক মাস্টার পিলে হয়ে মরে গেল। তা হলে কে কতদিন বাঁচবে, কখন মরবে, কখন কি হবে, কিছু তো বলা যায় না--- মামা । (কতক রাগে, কতক ব্যঙ্গসুরে ) ওরে বাবা রে । এ যে একেবারে বৈরাগীর দাদাঠাকুর হয়ে উঠল দেখি-দৰ! কান ধরে এমন থাপড় লাগাব ! বালক । ( আবার কাদ বাদ ) বা । ব্রজলালের বাবা মদি এক মাস আগে মরে যেত, তা হলে সে কি ব্রজলালকে সেদিন এমন চমৎকার সুন্দর প্রাইজ দিতে পারত ? মামা । (কটুমটু করিয়া তাকাইয়া ) তুই কি বলতে চাস বলু দেখি । বালক । (হঠাৎ কাদিয়া ) তুমি যে বলেছিলে আমাকে প্রাইজ দেবে—কই দিচ্ছে না তো—শেষটায় যদি—ভ্যা-আঁ্যা-অ্যা— মামা। (ধমক দিয়া ) সেই কথাটা সোজাসুজি একসময়ে বললেই হত—তার জন্য ঘ্যাঙনি ঘোঙনি করে আমার ঘুমটি নস্ট করবার কি দরকার ছিল ? (চড় মারিয়া ) যা । আজ বিকেলে প্রাইজ পাবি এখন । { হাসিতে হাসিতে ও গালে হাত ঘষিতে ঘষিতে বালকের अशन ] সুকুমার রায়ের তুলিতে o, বর্ণ-পরিচয় દૂર সুকুমার সময় রচনাবলী ২ క్ష هو مع ه 6 ، w * ५ ________________

(আরে) অর্থের শেষ কোথা কোথা তার জন্ম অভিধান ঘাটা, সে কি ভাবুকের কম্ম ? অভিধান, ব্যাকরণ, আর ঐ পঞ্জিকা ষােলাে আনা বুজরুকী আগাগোড়া গঞ্জিকা। মাখন-তােলা দুগ্ধ, আর লবণহীন খাদা, (অরি) ভাবশূন্য গবেষণা-একি ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ। (ওরে মানিক মানিক ৰে নামতা পড় | খানিক রে) ভাব এৰুে ভাব, ভাব দুগুণে ধোঁয়া, তিন ভাবে ডিসপেপসিয়া—ঢকুর উঠবে চোয়া (ওরে মানিক মানিক রে চুপটি কর খানিক রে) চার ভাবে চতুর্ভুজ ভাবের গাছে চড় পাঁচ ভাবে পঞ্চত্ব পওি গাছের থেকে পড়। (ওরে মানিক মানিক রে এবার গাছে চড় খানিক রে) যবনিকা পতন ভাবের নামতা ভাবের পিঠে রস তার উপরে শুন্যিভাবের নামতা পড় মাণিক বাড়বে কত পুণ্যি— শ্ৰীশ্ৰীশব্দকল্পদ্রুম পাত্রগণ : হরেকানদ। বৃহস্পতি। জগাই। ইচ্ছ। বেহারী। অশ্বিনী। পটলা। নারদ। বিশ্বম্ভর। কার্তিক। গুরুজি। বিশ্বকর্মা। প্রথম দৃশ্য এই কিরে তােদের ভদ্রতা ঘ্যানঘ্যান কঁচি-কাচ সর্বদা ডুবে-ডুবে জল খাও সব জানি (রাম কহ ) গুরুজির আশ্রম। হরেকানন্দ, জগাই, বেহারী, পটলা, হরেকানন্দ। প্রশ্ন যখন এয়েছে, জবাব তার একটা আসবেই বিশ্বম্ভর ও অন্যান্য শিষ্যরা উপবিট আসবে- তা তােমাদের ধমকানি আর চোখরাঙানি, হাসি-ঠাট্টা হরেকান্দি। দেখ জগাই, তুই বললে বিশ্বেস করবি নে- আর এয়াকি, এ-সব বেশিদিন টিকছে না। সকলে। কেউ বিশ্বেস করবে না-- বিশ্বম্ভর। হা হে, তর্কটা কিসের একবার শুনতে পাই ৱেকানন্দ। কাল থেকে মনটা আমার এমনি ওলটপালট কি? কিই বা প্রশ্ন হল আর তা নিয়ে মামলাটাই বা কিসের? করছে, সারারাত আর ঘুম হয় নি। দুপুরে একটু তন্দ্রার ভাব আচ্ছা, হরিচরণ কি বল ? এয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ প্রশ্নটা তেড়ে উঠে মনের মধ্যে এমনি। হরেকানন্দ। হরিচরণ। দেখলি আমায় হরিচরণ বলছে, গুতো মারলে— ‘হরিচরণ কি মশাই ? জগাই। ওর একটা কবিরেজী ওষুধ আছে খুব ভালাে - বিশ্বম্ভর। তবে, ওরা যে ‘হরে’-“হরে’ বলছিল। আয়াপানের শেকড় না বেটে-- হরেকানন্দ। হরে বললেই হরিচরণ। ‘ক’ বললেই হরেকানন্দ। দেখু বড় যে বেশি ওপর চালাকি কচ্ছিস, এক কাতিকচন্দ্র। কথায় সব কটার মুখ বন্ধ করে দিতে পারি—জানিস। পরশু জগাই। ওর নাম শ্রীহরেকনিন্দরাত্তিরে গুরুজি নিজে আমায় ডেকে নিয়ে যে-সব ভেতরকার বিশ্বম্ভর। হরে কানন -- কথা বলেছেন, জানিস। হরেকানন্দ। আরে খেলে যা! তুমি কোথাকার মুখ হে। বেহারী। হারে পটলা, সত্যি নাকি।। বিশ্বম্ভর। আজ্ঞে, ফরেশডাঙরি-আপনি ? পটলা। কিসের ? সব মিছে কথা। হরেকানন্দ। দেখ, এই-যে ছ্যাবলামি জরি ডােন্ট কেয়ার বেহারী। এমন মিথ্যে কথা বলতে পারে এই হরেটা—-ছিঃ এ-সব ভালো নয়। কাউকে যদি নাই মানবে, তবে বাপু ইদিকে ছিঃ রাম-রাম এসাে-টেসসা না। বেহারীর সংগীত • রেকানন্দের মৌনাবলম্বন—সাড়ম্বর রাম কহইয়ে রাম কহ। বেহারী। ( জনান্তিকে) দে পটলা—সেদিন রাত্তিরে বলবেন না আর মশাই গাে, মানুষ নয় সব কষাই গাে একটা স্বপ্ন দেখেছিলুম-কদিন থেকে গুরুজিকে বাব-বলব তুলে তুলে যত শয়তানী রাম ক)। ডাবছি কিন্তু ঐ হরেটার জন্যে বলা হচ্ছে না। দেখলি না, ৪০৪ সুকুমার সমগ্র রচনাবলী :