বিষয়বস্তুতে চলুন

স্বদেশিনী/আবাহন গীত

উইকিসংকলন থেকে

আহ্বান গীত।

(১)

যদি দেখিতে পেয়েছ পথ এস তবে এস চলে
আর চেওনা পশ্চাতে ফিরে এস চলে দুর্গা বলে।
ওরে বসন ভূষণ ধন মান নিয়ে সুকৌশলে
ঐ শত শত ভিক্ষা ঝুলি ঝুলায়ে দিয়েছে গলে।

সজ্জা দেখে ফাটে বুক মরি রে গুমরি ফুলে
এত যে জননী প্রাণে সহে সে পাষাণী বলে।
বাছা,  ভিখারীর কিসে লজ্জা, পর-সজ্জা ফেল্ খুলে;
ফেলে দে ভিক্ষার ঝুলি দলিয়া চরণ মূলে।
ছুটিয়া মায়ের কোলে ধেয়ে যবে আসে ছেলে
কে পারে রোধিতে তারে বলে ছলে কি কৌশলে!
আছি বাহু বাড়াইয়া কোলে সবে নিতে তুলে
কি ভয় কি ভয় করে আসিতে মায়ের কোলে।

(২)

আয় আয় সবে ছিঁড়িয়া বাঁধন
সবেগে আপন ছুটিয়া
নিয়মিত পথে কতই ভ্রমিবি
চির নিশি দিন লুটিয়া!
আমি চেয়ে আছি দেখিতে তোদের
বিপুল শৌর্য্য-গরবে
রচি শত গান দিবস নিশীথে
পাঠাই আবেগ নীরবে!
অন্ধের মতন দ্বারে বসে বসে
কতই কাঁদিস্ কাঁচুনী!
কে দিবে তোদের ইপ্সীত রতন
করে তুলে বল্ তা শুনি।
ঝটিকার মত আয়—উচ্ছৃঙ্খল—

—উদ্দাম বেগে ছুটিয়া—
ঘরভরা মোর সাধের ভাণ্ডার
চোরে ঐ নিল লুটিয়া।
শুধু মৃদু গীতি মধুর ছন্দে
জাগে রে অলস কামনা;
প্রলয়ের তালে আয় বাজাইয়া
গুরু গম্ভীর বাজনা।
স্থির সৌদামিনী যেঘের মাঝারে
থাকে সে গোপন-নিভৃতে
হাঁকিলে অশনি ক্কড় ক্কড় ক্কড়—
আসে সে আহবে মাতিতে।