স্বদেশ/ধর্মবোধের দৃষ্টান্ত

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ধর্মবোধের দৃষ্টান্ত অন্যত্র বলিয়াছি কোনো ইংরাজ অধ্যাপক এ দেশে জুরির বিচার সম্বন্ধে আলোচনাকালে বলিয়াছিলেন যে, যে দেশের অর্ধসভ্য লোক প্রাণের মাহাত্ম্য ( Sanctity of Life ) বোঝে না, তাহীদের হাতে জুরিবিচারের অধিকার দেওয়া অন্যায়। প্রাণের মাহাত্ম্য ইংরাজ আমাদের চেয়ে বেশি বোঝে সে কথা নাহয় স্বীকার করিয়াই লওয়া গেল। অতএব সেই ইংরাজ যখন প্রাণ হনন করে তখন তাহার অপরাধের গুরুত্ব আমাদের চেয়ে বেশি। অথচ দেখিতে পাই, দেশীয়কে হত্যা করিয়া কোনো ইংরাজ-খুনী ইংরাজ-জজ ও ইংরাজ-জুরির বিচারে ফাসি যায় নাই। প্রাণের মাহাত্ম্য সম্বন্ধে তাহাদের বোধশক্তি যে অত্যন্ত সূক্ষ্ম, ইংরাজ-অপরাধী হয়তো তাহার প্রমাণ পায়, কিন্তু সে প্রমাণ দেশীয় লোকদের কাছে কিছু অসম্পূর্ণ বলিয়াই ঠেকে। এইরূপ বিচার অামাদিগকে দুই দিক হইতে আঘাত করে। প্রাণ যা যাবার সে তো যায়ই, ও দিকে মানও নষ্ট হয় । ইহাতে আমাদের জাতির প্রতি যে অবজ্ঞা প্রকাশ পায় তাহা আমাদের সকলেরই গায়ে বাজে । ইংলণ্ডে ‘গ্লোব’ বলিয়া একটি সংবাদপত্র আছে, সেটা সেখানকার ভদ্রলোকেরই কাগজ, তাহাতে লিখিয়াছে : টমি অ্যাটকিন ( অর্থাৎ পণ্টনের গোরা ) দেশী লোককে মারিয়া ফেলিবে বলিয়া মারে না, কিন্তু মার খাইলেই দেশী লোকগুলা মরিয়া যায়– এইজন্য টমি বেচারার লঘুদণ্ড হইলেই দেশী খবরের কাগজগুলা চীৎকার করিয়া মরে । টমি অ্যাট্‌কিনের প্রতি দরদ খুব দেখিতেছি, কিন্তু স্যাঙ্কটিটি অফ লাইফ কোনখানে ! যে পাশব আঘাতে আমাদের পিলা ফাটে, এই వె శి স্বদেশ ভদ্র কাগজের কয় ছত্রের মধ্যেও কি সেই আঘাতেরই বেগ নাই ? স্বজাতিকুত খুনকে কোমল স্নেহের সহিত দেখিয়া হত ব্যক্তির আত্মীয়সম্প্রদায়ের বিলাপকে যাহারা বিরক্তির সহিত ধিক্কার দেয় তাহারাও কি খুন পোষণ করিতেছে না ? কিছু কাল হইতে আমরা দেখিতেছি, যুরোপীয় সভ্যতায় ধর্মনীতির আদর্শ সাধারণত অভ্যাসের উপরেই প্রতিষ্ঠিত, ধর্মবোধশক্তি এই সভ্যতার অন্ত:করণের মধ্যে উদ্ভাসিত হয় নাই । এইজন্য অভ্যাসের গণ্ডীর বাহিরে এই আদর্শ পথ খুজিয়া পায় না, অনেক সময় বিপথে মারা যায় । যুরোপীয় সমাজে ঘরে ঘরে কাটাকাটি খুনখুনি হইতে পারে না, এরূপ ব্যবহার সেখানকার সাধারণ স্বার্থের বিরোধী। বিষ প্রয়োগ বা অস্ত্রাঘাতের দ্বারা খুন করাটা যুরোপের পক্ষে কয়েক শতাব্দী হইতে ক্রমশ: অনভ্যস্ত হইয়া আসিয়াছে । কিন্তু খুন বিনা অস্ত্রাঘাতে, বিনা রক্তপাতে হইতে পারে। ধর্মবোধ যদি অকৃত্রিম আভ্যন্তরিক হয় তবে সেরূপ খুনও নিন্দনীয় এবং অসম্ভব হইয়া পড়ে । একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত অবলম্বন করিয়া এ কথাটা স্পষ্ট করিয়া তোলা যাক । হেনরি স্যাভেজ ল্যাগুর একজন বিখ্যাত ভ্রমণকারী। তিব্বতের তীর্থস্থান লাসায় যাইবার জন্য র্তাহার দুৰ্নিবার ঔংস্থক্য জন্মে। সকলেই জানেন, তিববতীরা যুরোপীয় ভ্রমণকারী ও মিশনারি প্রভৃতিকে সন্দেহ করিয়া থাকে। তাহদের দুর্গম পথঘাট বিদেশীর কাছে পরিচিত নহে, ইহাই তাহদের আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র, সেই অস্ত্রটি যদি তাহারা জিওগ্রাফিকাল সোসাইটির হস্তে সমর্পণ করিয়া নিশ্চিস্ত হইয়া বসিতে অনিচ্ছুক হয় তবে তাহাদিগকে দোষ দেওয়া যায় না । ধর্মবোধের দৃষ্টাস্ত S S) কিন্তু অন্তে তাহার নিষেধ মানিবে, সে কাহারো নিষেধ মানিবে না, যুরোপের এই ধর্ম। কোনো প্রয়োজন থাক্ বা না থাক, শুদ্ধমাত্র বিপদ লঙ্ঘন করিয়া বাহাদুরি করিলে যুরোপে এত বাহবা মিলে যে, অনেকের পক্ষে সে একটা প্রলোভন । যুরোপের বাহাদুর লোকেরা দেশে বিদেশে বিপদ সন্ধান করিয়া ফেরে। যে-কোনো উপায়ে হোক, লাসায় যে যুরোপীয় পদার্পণ করিবে সমাজে তাহার খ্যাতি-প্রতিপত্তির সীমা থাকিবে না । অতএব তুষারগিরি ও তিব্বতীয় নিষেধকে ফাকি দিয়া লাসায় যাইতে হইবে । ল্যাগুর-সাহেব কুমায়ুনে আলমোড়া হইতে যাত্রা আরম্ভ করিলেন। সঙ্গে এক হিন্দু চাকর অসিয়া জুটিল, তাহার নাম চন্দন সিং। কুমায়ুনের প্রান্তে তিব্বতের সীমানায় ব্রিটিশ রাজ্যে শোকা বলিয়া এক পাহাড়ি জাত অাছে । তিববতীদের ভয়ে ও উপদ্রবে তাহারণ কম্পমান । ব্রিটিশ রাজ তিববতীদের পীড়ন হইতে তাহাদিগকে রক্ষণ করিতে পারেন না বলিয়া ল্যাগুর-সাহেব বারংবার অণক্ষেপ প্রকাশ করিয়াছেন । সেই শোকাদের মধ্য হইতে সাহেবকে কুলিমজুর সংগ্ৰহ করিয়া লইতে হইবে । বহু কষ্টে ত্রিশজন কুলি জুটিল । ইহার পর হইতে যাত্রাকালে সাহেবের এক প্রধান চিন্তা ও চেষ্টা কিসে কুলির না পালায়। তাহদের পালাইবার যথেষ্ট কারণ ছিল । ল্যাগুর তাহার ভ্রমণবৃত্তান্তের পচিশ পরিচ্ছেদে লিথিয়াছেন, ‘এই বাহকদল যখন নিঃশবদ গম্ভীর ভাবে বোঝা পিঠে লইয়া করুণাজনক শ্বাসকষ্টের সহিত হাপাইতে হাপাইতে উচ্চ হইতে উচ্চে আরোহণ করিতেছিল তখন এই ভয় মনে হইতেছিল, ইহাদের মধ্যে কয়জনইবা কোনো কালে ফিরিয়া যাইতে পারিবে ।” আমাদের জিজ্ঞাস্ত এই যে, “এ শঙ্কা যখন তোমার মনে আছে তখন এই অনিচ্ছুক হতভাগ্যদিগকে মৃত্যুমুখে তাড়না করিয়া লইয়া যাওয়াকে సె 8 স্বদেশ কী নাম দেওয়া যাইতে পারে! তুমি পাইবে গৌরব এবং তাহার সঙ্গে অর্থলাভের সম্ভাবনাও যথেষ্ট আছে, তুমি তাহার প্রত্যাশায় প্রাণপণ করিতে পার, কিন্তু ইহাদের সম্মুখে কোন প্রলোভন আছে ? বিজ্ঞানের উন্নতিকল্পে জীবচ্ছেদ (vivisection ) লইয়া যুরোপে অনেক তর্কবিতর্ক হইয়া থাকে। সজীব জন্তুদিগকে লইয়া পরীক্ষা করিবার সময়ে যন্ত্রণানাশক ঔষধ প্রয়োগ করিবার ঔচিত্যও অালোচিত হয়। কিন্তু বাহাদুরি করিয়া বাহবা লইবার উদ্দেশে দীর্ঘকাল ধরিয়া অনিচ্ছুক মানুষদের উপরে যে অসহ পীড়ন চলে, ভ্রমণবৃত্তাস্তের গ্রন্থে তাহার বিবরণ প্রকাশ হয়, সমালোচকেরা করতালি দেন, সংস্করণের পর সংস্করণ নিঃশেষিত হইয়া যায়, হাজার হাজার পাঠক ও পাঠিকা এই-সকল বর্ণনা বিস্ময়ের সহিত পাঠ ও আনন্দের সহিত আলোচনা করেন। দুর্গম তুষারপথে নিরীহ শোকা-বাহকদল দিবারাত্র যে অসহ কষ্টভোগ করিয়াছে তাহার পরিণাম কী ? ল্যাগুর-সাহেব নাহয় লাসায় পৌছিলেন, তাহাতে জগতের এমন কী উপকার হওয়া সম্ভব যাহাতে এই-সকল ভীত পীড়িত পলায়নেচ্ছ মানুষদিগকে অহরহ এত কষ্ট দিয়া মৃত্যুর পথে তাড়ন করা লেশমাত্র বিহিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে ? কিন্তু কই, এজন্য তো লেখকের সংকোচ নাই, পাঠকের অনুকম্পা নাই ! তিববতীরা কিরূপ নিষ্ঠুরভাবে পীড়ন ও হত্যা করিতে পারে, শোকারা সেই কারণে তিব্বতীদিগকে কিরূপ ভয় করে, এবং তাহাদিগকে তিববতীদের হস্ত হইতে রক্ষা করিতে ব্রিটিশরাজ কিরূপ অক্ষম, তাহা ল্যাগুর জানিতেন ; ইহাও তিনি জানিতেন, তাহার মধ্যে যে উৎসাহ উত্তেজনা ও প্রলোভন কাজ করিতেছে শোকাদের মধ্যে তাহার লেশমাত্র নাই। তৎসত্ত্বেও ল্যাগুর তাহার গ্রন্থের ১৬৫ পৃষ্ঠায় যে ভাষায় যে ভাবে তাহার বাহকদের ভয়দুঃখের বর্ণনা ধর্মবোধের দৃষ্টাস্ত వె& করিয়াছেন, তাহা তর্জমা করিয়া দিলাম— ‘তাহারা প্রত্যেকে হাতে মুখ ঢাকিয়া ব্যাকুল হইয়া কাদিতেছিল। কাচির দুই গাল বাহিয়া চোখের জল ঝরিয়া পড়িতেছিল, দোলা ফোপাইয়া কাদিতেছিল, এবং ডাকু ও অন্য যে একটি তিববতী আমার কাজ লইয়াছিল— যাহারা ভয়ে ছদ্মবেশ গ্রহণ করিয়াছিল–– তাহারা তাহাদের বোঝার পশ্চাতে লুকাইয়া বসিয়াছিল । আমাদের অবস্থা যদিও সংকটাপন্ন ছিল তবু আমাদের লোকজনদের এই আতুর দশ। দেখিয়া আমি না হাসিয়া থাকিতে পারিলাম না।’ ইহার পরে এই দুর্ভাগারা পলায়নের চেষ্টা করিলে ল্যাগুর তাহাদিগকে এই বলিয়া শাস্ত করেন যে, "যে কেহ পলায়নের বা বিদ্রোহের চেষ্টা করিবে, তাহাকে গুলি করিয়া মারিব ? কিরূপ তুচ্ছ কারণেই ল্যাগুর-সাহেবের গুলি করিবার উত্তেজনা জন্মে, অন্যত্র তাহার পরিচয় পাওয়া গেছে । তিববতী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে ল্যাণ্ডর যখন প্রথম নিষেধ প্রাপ্ত হইলেন তখন তিনি ভান করিলেন, যেন ফিরিয়া যাইতেছেন। একটা উপত্যকায় নামিয়া আসিয়া দুরবীন কষিয়া দেখিলেন, পাহাড়ের শৃঙ্গের উপর হইতে প্রায় ত্ৰিশটা মাথা পাথরের আড়ালে উকি মারিতেছে। সাহেব লিখিতেছেন, ‘আমার বড়ো বিরক্তিবোধ হইল। যদি ইচ্ছা হয় তো ইহার প্রকাশুভাবেই আমাদের অনুসরণ করে না কেন ? দূর হইতে পাহার দিবার দরকার কী ! অতএব আমি আমার আটশো-গজী রাইফেল লইয়া মাটিতে চ্যাপ্টা হইয়া শুইলাম এবং যে মাথাটাকে অন্যদের চেয়ে স্পষ্ট দেখা যাইতেছিল তাহার প্রতি লক্ষ স্থির করিলাম ।’ এই 'অতএব’এর বাহার আছে! লুকাচুরিকে ল্যাগুর-সাহেব কী ঘৃণাই করেন । তিনি এবং তাহার সঙ্গের আর-একটা মিশনারি-সাহেব নিজেদের হিন্দু তীর্থযাত্রী বলিয়া পরিচয় দিয়াছেন, প্রকাশ্বে ভারতবর্ষে d SV) স্বদেশ ফিরিবার ভান করিয়া গোপনে লাসায় যাইবার উদযোগ করিতেছেন, কিন্তু পরের লুকাচুরি ইহার এতই অসহ যে ভূমিতে চ্যাপ্টা হইয়া আত্মগোপনপূর্বক তৎক্ষণাৎ আটশো-গজা রাইফেল বাগাইয়া কহিলেন, ‘I only wish to teach these cowards a lesson : wif at কাপুরুষদিগকে শিক্ষা দিতে ইচ্ছা করি।” দূর হইতে লুকাইয়া রাইফেল-চালনায় সাহেব যে পৌরুষের পরিচয় দিতেছিলেন তাহার বিচার করিবার কেহ ছিল না । আমাদের ওরিয়েণ্টগলদের অনেক দুর্বলতার কথা আমরা শুনিয়াছি, কিন্তু চালুনি হইয়া ছচকে বিচার করিবার প্রবৃত্তি পাশ্চাত্যদের মতো আমাদের নাই। আসল কথা, গায়ের জোর থাকিলে বিচারাসনের দখল একচেটে করিয়া লওয়া যায় ; তখন অন্যকে ঘৃণা করিবার অভ্যাসটাই বদ্ধমূল হইয়া যায়, নিজেকে বিচার করিবার অবসর পাওয়া যায় না । আশিয়ায় আফ্রিকায় ভ্রমণকারীরা অনিচ্ছুক তৃত্যবাহকদের প্রতি যেরূপ অত্যাচার করিয়া থাকেন, দেশ-আবিষ্কারের উত্তেজনায় ছলে বলে কৌশলে তাহাদিগকে যে করিয়া বিপদ ও মৃত্যুর মুখে ঠেলিয়া লইয়া যান, তাহা কাহারো অগোচর নাই। অথচ স্যাঙ্ক টিটি অফ লাইফ সম্বন্ধে এই-সকল পাশ্চাত্য সভ্যজাতির বোধশক্তি অত্যন্ত সুতীব্র হইলেও কোথাও কোনো আপত্তি শুনিতে পাই না । তাহার কারণ ধর্মবোধ পাশ্চাত্য সভ্যতার অভ্যস্তরিক নহে, স্বার্থরক্ষার প্রাকৃতিক নিয়মে তাহ বাহির হইতে অভিব্যক্ত হইয়া উঠিয়াছে। এইজন্য য়ুরোপীয় গণ্ডীর বাহিরে তাহা বিকৃত হইতে থাকে। এমন-কি, সে গণ্ডীর মধ্যেও যেখানে স্বার্থবোধ প্রবল সেখানে দয়াধর্ম রক্ষণ করার চেষ্টাকে যুরোপ দুর্বলতা বলিয়া ঘৃণা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। যুদ্ধের সময় বিরুদ্ধ পক্ষের সর্বস্ব জালাইয়া দেওয়া, তাহীদের অনাথ শিশু ও স্ত্রীলোকদিগকে বন্দী করার বিরুদ্ধে কথা কহা ‘সেণ্টিমেণ্টালিটি। যুরোপে ধর্মবোধের দৃষ্টাস্ত ף כל সাধারণত অসত্যপরতা দূষণীয়, কিন্তু পলিটিক্সে এক পক্ষ অপর পক্ষকে অসত্যের অপবাদ সর্বদাই দিতেছে। গ্ল্যাড স্টোনও এই অপবাদ হইতে নিষ্কৃতি পান নাই। এই কারণেই চীনযুদ্ধে যুরোপীয় সৈন্যের উপদ্রব বর্বরতারও সীমা লঙ্ঘন করিয়াছিল এবং কংগো-প্রদেশে স্বার্থোত্মত্ত বেলজিয়ামের ব্যবহার পৈশাচিকতায় গিয়া পৌছিয়াছে। দক্ষিণ আমেরিকায় নিগ্রোদের প্রতি কিরূপ আচরণ চলিতেছে, তাহা নিউইয়র্কে প্রকাশিত ‘পোস্ট সংবাদপত্র হইতে গত ২রা জুলাই তারিখের বিলাতি ডেলি নিউজে সংকলিত হইয়াছে। তুচ্ছ অপরাধের অছিলায় নিগ্রো স্ত্রীপুরুষকে পুলিসকোর্টে হাজির করা হয়, সেখানে ম্যাজিষ্ট্রেট তাহাদিগকে জরিমানা করে, সেই জরিমানা আদালতে উপস্থিত শ্বেতাঙ্গেরা শুধিয়া দেয় এবং এই সামান্ত টাকার পরিবর্তে তাহারণ সেই নিগ্রোদিগকে দাসত্বে ব্রতী করে । তাহার পর হইতে চাবুক লৌহশূঙ্খল এবং অন্যান্য সকল প্রকার উপায়েই তাহাদিগকে অবাধ্যতা ও পলায়ন হইতে রক্ষা করা হয় । একটি নিগ্রো স্ত্রীলোককে তে৷ চাবুক মারিতে মারিতে মারিয়া ফেলা হইয়াছে। একটি নিগ্রে। স্ত্রীলোককে দ্বৈধব্য ( bigamy )-অপরাধে গ্রেফতার করা হইয়াছিল। হাজতে থাকার সময় একজন ব্যারিস্টার তাহার পক্ষ অবলম্বন করিতে স্বীকার করে । কিন্তু কোনো বিচার না হইয়াই নির্দোষী বলিয়া এই স্ত্রীলোকটি খালাস পায় । ব্যারিস্টার ফী-এর দাবি করিয়া তাহার প্রাপ্য টাকার পরিবর্তে এই নিগ্রো স্ত্রীলোকটিকে ম্যাক্রি-ক্যাম্পে চোঁদ মাস কাজ করিবার জন্য পাঠায় । সেখানে তাহাকে নয় মাস চাবিতালা দিয়া বন্ধ করিয়া খাটানো হইয়াছে, জোর করিয়া অার এক ব্যক্তির সহিত তাহার বিবাহ দিয়া বলা হইয়াছে যে “তোমার বৈধ স্বামীর সহিত তোমার কোনো কালে মিলন হইবে না’, পলায়নের আশঙ্কা করিয়া তাহার পশ্চাতে কুকুর ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছে, তাহার প্রভু ম্যাক্রির। a ○切* স্বদেশ তাহাকে নিজের হাতে চাবুক মারিয়াছে এবং তাহাকে শপথ করাইয়া লইয়াছে যে, খালাস পাইলে তাহাকে স্বীকার করিতে হইবে যে সে মাসে পাচ ডলার করিয়া বেতন পাইত । ডেলি নিউজ বলিতেছেন, রাশিয়ায় ইহুদি-হত্য, কংগেtয় বেলজিয়ামের অত্যাচার প্রভৃতি লইয়া প্রতিবেশীদের প্রতি দোষারোপ করা দুরূহ হইয়াছে – After all, no great power is entirely innocent of the charge of treating with barbarous harshness the alien races which are subject to its rule. আমাদের দেশে ধর্মের যে আদশ অাছে তাহা অস্তরের সামগ্ৰী, তাহা বাহিরে গণ্ডীর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করিবার নহে । আমরা যদি স্যাঙ্ক টিটি অফ লাইফ একবার স্বীকার করি, তবে পশু পক্ষী কীট পতঙ্গ কোথাও তাহার সীমা স্থাপন করি না । ভারতবর্ষ এক সময়ে মাংসাশী ছিল, মাংস আজ তাহার পক্ষে নিষিদ্ধ। মাংসাশী জাতি নিজেকে বঞ্চিত করিয়া মাংসাহার একেবারে পরিত্যাগ করিয়াছে, জগতে বোধ হয় ইহার আর দ্বিতীয় দৃষ্টাস্ত নাই। ভারতবর্ষে দেখিতে পাই, অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তিও যাহা উপার্জন করে তাহা দূর আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করিয়া দিতে কুষ্ঠিত হয় না। স্বার্থেরও যে একটা ন্যায্য অধিকার অাছে এ কথাটাকে আমরা সর্বপ্রকার অস্থবিধা স্বীকার করিয়া যত দূর সম্ভব খর্ব করিয়াছি। অামাদের দেশে বলে, যুদ্ধেও ধর্মরক্ষা করিতে হইবে— নিরস্ত্র, পলাতক, শরণাগত শক্রর প্রতি আমাদের ক্ষত্রিয়দের যেরূপ ব্যবহার ধর্মবিহিত বলিয়া নির্দিষ্ট হইয়াছে যুরোপে তাহা হাস্যকর বলিয়া গণ্য হইবে । তাহার একমাত্র কারণ, ধর্মকে আমরা অন্তরের ধন করিতে চাহিয়াছিলাম। স্বার্থের প্রাকৃতিক নিয়ম আমাদের ধর্মকে গড়িয়া তোলে নাই, ধর্মের নিয়মই আমাদের স্বার্থকে সংযত করিবার ধর্মবোধের দৃষ্টান্ত S ) চেষ্টা করিয়াছে। সেজন্য আমরা যদি বহিfবষয়ে দুর্বল হইয়া থাকি, সেইজন্যই বহিঃশত্রুর কাছে যদি আমাদের পরাজয় ঘটে, তথাপি আমরা স্বার্থ ও সুবিধার উপরে ধর্মের আদর্শকে জয়ী করিবার চেষ্টায় যে গৌরবলাভ করিয়াছি তাহা কখনোই ব্যর্থ হইবে না— একদিন তাহারও দিন আসিবে । অশ্বিন ১৩১০