হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন
(? ১৮৩১—১৯০৬)
ভূমিকা


পণ্ডিত হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন মূল বাল্মীকি রামায়ণের সর্বপ্রথম অনুবাদক 1 বলিয়া প্রখ্যাত। তিনি সে যুগের একজন প্রসিদ্ধ সংস্কৃতবিদ এবং বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন। পণ্ডিত আনন্দচত্র বদান্তবাগীশ এবং অযােধ্যানাথ পাকড়াশীর মত হেমচন্দ্রের সাহিত্যসাধনা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ তথা আদি ব্রাহ্মসমাজকে কেন্দ্র করিয়া পরিপুষ্ট ও ফলপ্রদ হইয়া উঠিয়াছিল। উক্ত উভয় ব্যক্তির ন্যায় হেমচন্দ্র তাঁহার সংস্কৃতে পাণ্ডিত্য এবং বাংলা সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি আদি ব্রাহ্মসমাজের সেবায় পরিপূর্ণরূপে নিয়ােজিত করিয়াছিলেন। দেবেন্দ্রমণ্ডলীর মধ্যে তাঁহার স্থান সুনির্দিষ্ট; কিন্তু বিরাট মহীরুহের আশ্রয়ে থাকায় তিনি সাধারণের দৃষ্টি হইতে কতকটা অন্তরালে পড়িয়াছিলেন। আজিও যেন তিনি অন্তরালেই রহিয়া গিয়াছেন। বস্তুতঃ মাত্র অর্ধশতাব্দী পূর্বে পরলােৰুগত হইলেও, হেমচন্দ্রের জীবন-কথা উপযুক্ত মালমশলার অভাবে যেন কতকটা ধোঁয়াটে হইয়া উঠিয়াছে। তথাপি সমসময়ের তত্ববােধিনী পত্রিকা তচিত গ্রন্থসমূহ, ভঁহার আশ্রিত পুজোম ডাঃ শ্ৰীযুত বনবিহারী মুখােপাধ্যায়ের [১]পত্রে প্রদত্ত তথ্যাদি এবং অন্যান্য পুত্র হইতে মেচত্র সম্বন্ধে যতটুকু জানিতে পারিয়াছি, আহার নিরিখে এলে হায় এক শত কিছু বলা যাইতেছে।

বংশপরিচয়ঃ জন্ম

হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ব ভট্টাচাৰ্য্যবংশীয়। দাক্ষিণাত্য বৈদিক কুরে হায় জয়। ১৫৮৫ খ্রীষ্টাব্দে আকবর কর্তৃক উকল প্রদেশ আক্রান্ত হইলে হেতের পূর্বপুরুষ শ্ৰীকৃষ্ণ উদগাতা আদিনিবাস যাজপুর হইতে দেশে চলিয়া আসেন এবং যশােহরাধিপতি প্রতাপাদিত্যের নিকট হতে হয় গ্রাম ব্রহ্মােত্তর প্রাপ্ত হইয়া সেখানে বাস করিতে থাকেন। কিন্তু সম্রাট আকবৱের সেনাপতি মানসিংহের হতে রা, এপাহিত্যের পরাজয়ের পর রাজ্যে যেরূপ লুঠতরাজ ও বিশৃঙ্খলা হয়, তাহাতে তাহারা উক্ত গ্রাম পরিত্যাগ কৰিষা বর্তমান মজিলপুর গ্রামে আগমবেন। মা গঙ্গার গর্জেখিত গ্রাম বলিয়া মজিলপুর এই । টোল চতুম্পাঠী তথা সংস্কৃত চর্চার জন্য এই গ্রামের এক এবিবি ছিল। হেমচন্ত্রের পূর্বপুরুষগণ এখানে আগমনান ন অাপনায় নিরত হন। এই বংশে কয়েকজন পণ্ডিত ব্যক্তি জন্মিছিলেন। শতাব্দীতে মজিলপুরনিবাসী হন বিদ্যাসাগরের পাখি, বুলি এ জলিকতাপ্রিয়তা সুবিদিত ছিল। তিনি মূল মহাভারত ইতে বিষয়ৰ লইয়া নলােপাখ্যান’ গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়াছিলেন। তাহারই পুত্র এম এ জি ও ফর্মপশি খায় এসি আনে এবং কবি ও সাহিত্যিক। পতি হে বিগত শিখে তিন। শিনা শীতে হেকে একাধিক বার তিশা বলিয়া উল্লেখ কৰিছেন। হেমচন্দ্রের পিতা রামধন ভট্টাচাৰ্য সংস্কৃতশান্তে সুপণ্ডিত ছিলেন। তার তিন পু-হেমচন্দ্র, নর ও নাখ।

প্রথম জীবন শিক্ষা ও কর্ম


হেমচন্দ্র ফলিকা গণমেন্ট সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করেন। ম্যন শেষ হইলে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পাশে শারী বিনয়-পৰিক বিভাগে সহকারী পরিদর্শক এ সাৰ ইনস্পেক্টরের পদে নিযুক্ত হইলেন। দূৰদেশে যাইতে হইবে বলিয়া ািল পরে তিনি ঐকর্ম ত্যাগ করেন।

নামখ্যাত কালীপ্রসন্ন সিংহ বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ভাবখানে সতবিদ পণ্ডিতগণের সহায়তায় ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মহাভারতের দুকাৰ্য্য আর কবেন। ব্রাহ্মসমাজের আচাৰ্য বাণেশ্বর বিকাশ মহাভারতের অন্যতম অনুবাদক ছিলেন; হেমচন্দ্রও একজন অনুবাদক নিযুক্ত হন। মহাভারতের ১শ বা শেষ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৭৮৮ কে (১৮৬৬)। ১৭শ খণ্ডের শেষে কালীগস অষ্টাদশ পর্ব অনুষদের উপসংহার কৰে এই অনুবাদ-চনায় যে বিবরণ দেন, তাহার মধ্যে হেলের উল্লেখ আছে। মৃত পতি-অনুবাদকগণের কথা বলিয়া কাণী লেখেন।

“এখনকার বর্তমান মূৰু অভয়াল কালার, মুক্ত কৰ ভাৱ, মুক্ত রাখবেক বিচার হলে ভট্টাচার্য প্রভৃতি বিগকে মনের সহিত গতজ্ঞচিত্তে আর যায় নার করিতেছি। এই সমস্ত সুবিচক্ষণ কর্ণধারদিগের পাশেই আমি নায়াসে মহাভারত-পরূপ সমুদ্রের পয়গায় প্রাপ্ত হইয়া কৃতার্থ হইলাম।”

অতঃপর তিনি “থাকারে অধুবংশ ও ভাবি অনুবাদে এত হয়েন ও পরে আদি ব্রাহ্মসমাজে মহর্ষিদেবের নিকট পরিচিত হয়ে তিখনও দায়ীভাবে ব্রাহ্মসমাজের সেবাতে প্রবৃত্ত হয়েন নাই।

হেমচন্দ্র স্বাধীনভাৰে বাল্মীকির রামায়ণ বাংলা ভাষায় অনুবাদে এবৃত্ত হইলেন। “বহুকাল ধরিয়া মহাভারতের অনুবাদ-কাৰ্য্য সম্পাদন হইলে বিদ্যারত্ব স্বাধীনভাবে বাল্মীকি রামায়ণের সমূল সটীক ও সাধুবাদ অতি সুন্দর সংরণ প্রকাশে প্রবৃত্ত হইলেন। ইহাই রামায়ণের প্রথম অনুবাদ, যাহা বঙ্গদেশে প্রথম প্রকাশিত হয়। রামায়ণ প্রকাশের সময় বিদ্যারত্বের যশসৌরভ চারিদিকে পরিব্যাপ্ত হয়। এবং তিনি যনিবাৰু, চন্দ্রনাথ বসু, দ্বিজেন্দ্রবাবু [ দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ] প্রভৃতি অনেৰানেক মনীষিগণের সহিত ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হয়েন। রামায়ণ প্রকাশের সময়ে আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ মহাশয় পরলােক গমন করিলে বিদ্যারত্ন মহাশয় ব্রাহ্মসমাজে তাঁহার কাৰ্য গ্রহণ করেন। মহাভারত ও রামায়ণ অনুবাদ-কাব্যে বিস্তারদের জীবনের প্রায় ৩০ বৎসর অতিবাহিত হইয়া গেল।**

এখানে উল্লেখযােগ্য যে, হেমচন্দ্র রমেশচন্দ্র দত্ত মহাশয়ের সঙ্গেও খনিষ্ঠভাবে পরিচিত হইয়াছিলেন। “মহানিৰ্বাণতন্ত্র। পূর্বকাম সম্পাদনে হেমচন্দ্র আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশের সহযােগ ছিলেন।

• শুনবােধিনী পত্রিকা-পীৰ ১৮শক। * শিশী পত্রিকা—গী, ১৮।

আদি ব্রাহ্মসমাজ

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে পূর্বে পরিচিত হইলেও, মহাভারত অনুৰাদ সমাপ্তির (১৮৬৬) পর হইতেই হেমচন্দ্র আদি ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে ঐকান্তিক ভাবে মিলিত হইলেন। এই দুই সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত ও রামায়ণ ] অনুবাদে বিশ্বায়ত্বের সংস্কৃত রচনা ও বাংলা ভাষায় যেরুপ দক্ষতা জন্মিয়াছিল, তাহা বাস্তবিকই অনুকরণীয়। হেমচন্দ্র ১৮৬৭ খ্রীষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে (বৈশাখ ১৭৮৯ শক) ‘তত্ববােধিনী পত্রিকার সম্পাদক-পদে বৃত হন। এই পদে তিনি পূর্ণ দুই বৎসর কাল অধিষ্ঠিত ছিলেন। ইহার পরেও ‘তবােধিনী পত্রিকা সম্পাদক এবং সহকারী সম্পাদক-পদে তিনি কিছুদিন কাৰ্য্য করেন। হেমচন্দ্র কয়েক বৎসর আদি ব্রাহ্মসমাজের সহকারী সম্পাদক, যন্ত্রাধ্যক্ষ প্রভৃতি পদেও নিযুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন বর্ষের তত্ববােধিনী পত্রিকায় তাহার ঐ সব পদে নিয়ােগের সংবাদ যথারীতি বাহির হয়। ইহার প্রধান প্রধান কয়েকটি বিষয় নিম্নে প্রদত্ত হইল।

তত্ববােধিনী পত্রিকার সম্পাদক: বৈশাখ ১৭৮৯ শক—চৈত্র ১৭৯০;
বৈশাখ ১৭৯৯ শক-ভাদ্র ১৮০৬ শৰু
আশ্বিন ১৮০৬শক-বৈশাখ ১৪০৭ শক
ভবােধিনী পত্রিকার সহকারী।
| সম্পাদক: জ্যৈষ্ঠ ১৮০৭ শক-অগ্রহায়ণ (?)১৮৯৪;
বৈশাখ ১৮২১ হইতে মৃত্যুকাল
( অগ্রহায়ণ ১৮২৮ শক) পর্যন্ত।

শত পণ্ডিত হেমচৰ বিকার প্রযােধিনী পত্রিকা সম্পাদন কাব্যে নি। লন—বাধিনী পত্রিকা বৈশাখ ১৮২, শক। বৈশাখ ১৮২৬ গৰুতে সায় সকল অয় না পায় খুন্ত্রিত হয়। হেমচন্দ্র বিশ্ব আমি মায়ের শহী সম্পাদক : মাঘ ১৮৪* ১৮ শক; | পৌষ(?) ১৮৯৪-চৈত্র ১৮২• পক

হেমচন্দ্ৰ আদি ব্রাহ্মসমাজের উপাচাৰ্যরূপে দীর্ঘকাল সমাজের উপাসনাকার্য নির্বাহ করেন। মাছােসবকালে প্রথম দশ দিনের যাদের মধ্যে তিনি অনুতম বক্তা থাকিতেন। তাঁহার ভিত্তিক তাগুলি বিশেষ পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী হইত। হেমচন্ত্রের বচনাও ছিল ধর্মভিত্তিক। “আদি ব্রাহ্মসমাজের প্রকৃত ভাৰ যাহাতে সমুচিত না হয়, বিস্তারথের লেখনীর তাহার দিকে বিশেষ লক্ষ্য ছিল। হেচত্র মহর্ষি দেৰেনাথকৃত “ব্রাহ্মধর্ম গ্রন্থের সংস্কৃত অনুবাদ করিয়াছিলেন।

এশিয়াটিক সোসাইটি

হেমচন্দ্রের পাণ্ডিত্য ছিল বুবিদিত। এই কারণেই এশিয়াটিক নােসাইটি তাহাকে ‘বিবলিওখিকা ইণ্ডিকা’র অর্গত দর্শনের পুৰি শানে নিযুক্ত করেন। এশিয়াটিক সােসাইটি হইতে অপু নাম যোস্তের স্থায় তাঁহার সুনিপুণ সম্পাদনায় বাহির হয়।


• গুয়ান্ন বিষয় ল। * শিবিৰ ১।

বঙেনাৰ ঠাকুর ও ‘ভড়জি মহর্ষি

দেবেন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে হেমচত্রের বিশেষ বন্ধুত্বও ছিল। উভয়ে উভয়ের গুণে একান্ত মুখ ছিলেন। সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি সম্বন্ধে সরস ও হাস্যপূর্ণ আলােচনায় শুধু হেমচন্দ্রের নিজগৃহ নহে, পয়ীও সরগরম হইয়া উঠিত। এ সম্বন্ধে আমরা নিম্নরূপ বিবরণ পাইতেছি; দ্বিজেন্দ্রনাথ হেমচন্দ্রকে ‘ভড়তি বলিয়া সমােধন করিতেন।

দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভড়জির (বিদ্যারত্ব) সহিত আলােচনা করিয়া নিজের লেখা প্রায় প্রকাশ করিতেন না। এই সব আলােচনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়া যাইত এবং তর্জন-গর্জন ও কড়ি-ফাটান হাতে পাড়া সরগরম হইয়া যাইত। ইংরাজীতে পণ্ডিত হইয়াও বিদ্যারত্ন পুরাদমে আলােচনা চালাইতেন। দ্বিজেন্দ্রনাথের ভাষায় এ আলােচনা ছিল গজকচ্ছপের যুদ্ধের মত। দ্বিজেন্দ্রনাথ একবার নিয়ে আসিতে না পারিয়া হেমেন্দ্রনাথ সিংহের হাতে এক পত্ৰ দিয়া পাঠান। তাহার এক স্থানে ছিলএবার ডিজে গজে নয়, এবার সিংহে গজে বােঝাপাড়া। ভড়তি সম্বন্ধে দ্বিজেন্দ্রনাথের আরও দুই ছাত্র:-‘ভড়জি’র অট্টহাসি বড় অকালাে, বুভ ঢার সদনে তাঁর আজ্ঞা জমে ভাল।

আর পাই “বিনােখ ঠাকুর তাহার সম্বন্ধে লিখিয়াছিলেন

‘পাষাণ মুরতি-মন্দ, সর্দারের প্রায়,
লাঠি হাতে ভাবে তাের বাল্মীকির জয়।

“তাহার ‘ভাবে ভাের অবস্থায় একটি সুন্দর photoঙ তুলিয়াছিলেন গগনেনাথ। এ photo কোন কপি সংগ্রহ করিতে পারি নাই।

সাহিত্য-চর্চা

হেমচন্দ্র কর্তৃক বাত্মীকি রামায়ণের অনুবাদ প্রকাশ্যে বা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে। এ বিষয়ে কতকটা বিস্তারিত বিকাশ নিয়ে উদ্ধতিতে পাওয়া যাইতেছে। মুদ্রণ-পারিপাট্যের প্রতি হেমচরে আগ্রহ লক্ষণীয়।

“তত্ত্ববােধিনী পত্রিকার সংস্রবে তিনি আদি সমাজে প্রবেশ করেন, এবং পরে ঐ সমাজের উপাচার্য হন। ব্রাক্ষস লাইব্রেরীর আশ্রয়ে আসিয়া তিনি রামায়ণের সমাধুর্যে আকৃষ্ট হন। নানা স্থান হইতে পুথি সংগ্রহ করিয়া তিনি রামায়ণের পাঠোকা করেন এবং নানা পাঠান্তর ও টীকা সমেত সানুবাদ রামায়ণ প্রকাশ করিতে সংকল্প করেন। কিছু মাত্র মূলধন না লইয়া এই বিরাট ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করিলেন, অথচ কাগজে ছাপাই-এ কোথায় কার্পণ্য করেন নাই। তাহার মতে সস্তায় ছাপাইয়া বিষয়ৰ অপমান করা হইত। অগ্রিম বার্ষিক মূল্য লইয়া মাসে মাসে কয়েক কৰা করিয়া বাহির করিতে লাগিলেন মাসিক পলের আকারে। ইহার অর্ধেকটায় থাকিত সংস্কৃত মূল ও টাকা, এবং বাকীটায় বাতি অনুবাদ॥

• বর্তমান লেখকের বিকট লিখিত পৰিমী মুখোয়। পর , লিখিত হবে। সালে। ও রামায়ণ প্রকাশে হেমচন্দ্রের উদ্যম দেখিয়া আরকানাথ। তাঁহাকে পটাক ও সাবাদ রামায়ণ প্রকাশে অর্থ সাহায্য কৰিছিলেন। এই অর্থ সাহায্যের ফল শুভ হয় নাই। শেষ পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে মঙ্গমা হয়। আইনত হেমচন্দ্র অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য ছিলেন না বটে, কিন্তু তিনি পাাই-পয়সাটি পৰ্যন্ত তাঁহাকে অর্পণ করেন। সমস্ত টাকা শােধ করিতে তিনি নিজেকে নিঃস্ব করিয়াছিলেন।

এখানে উল্লেখযােগ্য যে, মূল বাল্মীকি রামায়ণের হেমচন্দ্র-কৃত সংক্ষিপ্ত অনুষদ রমেশচন্দ্র দত্ত-সম্পাদিত হিন্দুশাস্ত্র-ষষ্ঠভাগের অন্তর্ভূক্ত হইয়াছে।

হেমচন্দ্রের সাহিত্যচর্চা শুধু সংস্কৃত বা বাংলা সাহিত্যের মধ্যেই নিবন্ধ ছিল না। তিনি অধিক বয়সে পাশ্চাত্য দর্শনাদি আয়ত্ত করিবার জন্য ইংরেজী ভাষা শিক্ষা করেন। এ সম্বন্ধে জানিতে পারি:

“তিনি ইংরাজী নিভুল লিখিতে বা বলিতে পারিতেন না। কিন্তু পড়িয়া কষ্টে অর্থগ্রহ করিতে পারিতেন। এবং এইরূপ কষ্টে অর্থগ্রহ করিয়া শেষ বয়সে Abbotta Life ofNelson আদ্যোপান্ত পড়িয়াছিলেন।

বিস্তারকাের ইংরেজী ভাষায় দর্শনশাস্ত্র অধ্যয়ন এবং সংস্কৃত কবিতা রচনা সম্বন্ধেও জানা যায়।

তাঁহার প্রকাশিত অনেকগুলি সংস্কৃত কবিতা আছে। সেগুলি বাস্তৰিকই অতি সুন্দর ও মৰ্ম্মস্পর্শী, ইহাতে আধুনিকতার গন্ধ লেশমাত্র নাই। বিভাৱক্ষের হৃদয় কবিত্বপূর্ণ ছিল, তিনি ইংরাজীও জানিতেন হেমচ বিকা ৰং পাশ্চাত্য দর্শনাদিয় যথাযথ ভাবার্থ নিজ এতিতালে এম করিয়া ফেলিয়াছিলেন। ভারত-গীত-সমাজ কর্তৃক জ্যোতিরিনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় সঙ্গীত-প্রকাশিকা' ১৩০৮, আশ্বিন মাস হইতে প্রকাশিত হয়। গৰিকাখানির প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে তেইশ সংখ্যায় হেমচন্দ্র বিদ্যাৰ “আগ-ৰিবােধ নামক প্রসিদ্ধ সঙ্গীত গ্রন্থের তেত্রিশটি গােকের অনুবাদসহ বিস্তৃত আলােচনা করেন। এই গ্রন্থখানিতে মােট দুই শত লচিশটি শােক রহিয়াছে। ভরতের নাট্যশান্তের বিষয়বস্তু তিনি পৌষ ১৩৮ সাল হইতে মধ্যে মধ্যে পনর সংখ্যায় উক্ত সঙ্গীত-প্রাশিকায় প্রকাশিত করেন। হেমচন্দ্র বিশিষ্ট সংস্কৃতবিদ হইলেও বাংলা-সাহিত্য-সাধকদের সবিশেষ প্রকার চক্ষে দেখিতেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাহার উচ্চ ধারণা নিয়ে সয়স উক্তিটিতে সুপ্ৰকট: “একবার আমরা সরস্বতী পূজা করি। প্রতিমা কিনিয়া আনা হয়। আনিবার পর দেখা গেল দেবীর হাতে বীণা নাই। দেখিয়া বিদ্যারত্ন মহাশয় বলিয়াছিলেন-জােড়াসাঁকো থেকে আসবার পথে রবিবাবু বীণাটা কেড়ে নিয়েছে। সেটা যে হয় ১৯০১ সাল, যখন রবীন্দ্র-লাঞ্ছনায় বঙ্গভাষা শতমুগ্ধ। তখনকার দিনে টুল পণ্ডিতের মুখে ওরূপ উক্তি অপ্রত্যাশিত। এই এসকে আর একটি কথার উল্লেখ প্রয়ােজন। ১৮৯৬ সন নাগাদ হেমচ বীন্দ্রনাথকে ছেলেমেয়েদের পাঠোপথােগ “লং পিল দুই খণ্ড শচনায় সাহায্য করিয়াছিলেন। রবীজীবনীকায় এ বিষয় লেখেন। • বণিী পত্রিকা-পৌষ ১শক।

  • . চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

“কাব্য সম্পাদন ছাড়া অন্যান্য কাজের মধ্যে চোখে পড়ে লেগেয়েছেন অন্য গ্রন্থ সম্পাদন। পণ্ডিত হেমচন্দ্র ভট্টাচার্যের সহায়তায় সংস্কৃত শিক্ষা নামে দুই খণ্ড গ্ৰন্থ এই সময় প্রকাশিত হয় [ ৮ আগষ্ট ১৮৯৬ ]।


চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

হেমচন চরিত্র অংশে বিশেষ উন্নত ছিলেন। তাঁহার পুত্ৰতি ডাঃ নবিহারী মুখােপাধ্যায়ের পত্র হইতে আমি নানা প্রসঙ্গে বহু অংশ উদ্ধৃত করিয়াছি। তিনি হেমচন্দ্রের চরিত্র সম্বন্ধে লিখিয়াছেন। “তাহার দীর্ঘ-গৌর সুসমঞ্জস দেহ, প্রশস্ত ললাট, একাণ্ড মাথা, বিশাল চন্তু কী ও নাসিক এবং অ্যুয়তানুষ্ঠ•••সুগঠিত দুই চরণ সব কিছুই অনন্যসাধারণ মনে হইত। চিত্তের সারল্যে, দক্ষিণ্যে, ঔদার্যে ও অলােভিতায় তিনি ছিলেন আমার কাছে আদর্শ মহাপুরুষ। তাঁহার নির্লোভ ও সারল্যের নিদর্শনস্বরূপ ডাঃ মুখখাপাধ্যায়ের পত্র হইতে নিয়ে কয়েক পংক্তি উদারযােগ্য:

| “তিনি ধনী হইবার আশায় বই ছাপান নাই। হাপান বইগুলির অধিকাংশ দপ্তরীর কাছে যাইবার পুর্বেই একে একে অদৃত

• খ লীল-প্রগতকুমার মুখােপাধ্যায়। স॥ (১৬৫৩), পৃ. ৩৫। সাতৰিা বিতীয় বীরচনাবলী অচলিত সংহ বিতীয় মুহিয়াছে। ই এপঃ | মত লিগ॥ বিজয়। এগৰীনাথ ঠাকুর এরীত॥ বাকি মামা । যা সতি।rei8gp: হইত। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের জন্য এনি ফালিও রাখিতে পারেন নাই। এত কিন্তু তাঁহার মনে কোন ক্ষেত ছিল না। পাঁচ টাকা মূল্যের অন্যের বিনিময়ে যে পাঁচটি টাকা পাইতে হইবে, এ তত্ব তিনি বুঝিতেন না। আরও একটি আশ্চর্য ব্যাপায়দ্বারকানাথ ভঙ্গের সহিত তাঁহার যে মননামালিন্য হইয়াছিল, তাহারও কোন লক্ষণ ভবিষ্যতে দৃষ্টিগোচর হয় নাই। ভঞ্জপরিবারের সহিত তাঁহার হৃদ্যতাই বরাবর লক্ষ্য করিয়াছি।” ‘তত্ত্ববােধিনী পত্রিকা’ (পৌষ ১৮২৮ শক) বিদ্যারত্ন-চরিত্রের এই দিক্‌টির সপ্রশংস উল্লেখ করিয়াছেন। উপরন্তু, বিদ্যাকে যে ব্রাক্ষ সমাজের সহিত যুক্ত থাকায় নানা লানা ভােগ করিতে হয়, ইহাতে তাহাও উল্লেখ আছে। পত্রিকা লেখেন: “বিস্কারত্বের হৃদয় সারল্যে পূর্ণ ছিল। যাহারা তাহার সংস্পর্শে আসিতেন, তাঁহারাই তাহার বিরাট হৃদয়ের উদারতায় মুগ্ধ হইতেন। আদি ব্রাহ্মসমাজের বেদী হইতে সময়ে সময়ে যে উপদেশ দিতেন, তাহাতে তাহার আন ও হৃদয় উভয়েরই আশ্চৰ্য্য পরিচয় পাওয়া যাইত। ব্রাহ্মসমাজের জন্য বিদ্যারত্বকে প্রথম বয়সে অনেক ত্যাগ ও নির্যাতন সহ করিতে হইয়াছিল, কিন্তু চরিত্র ও সাধুতাৰণে তিনি 'শক্ররও এ-ভক্তি আকর্ষণে সক্ষম হইয়াছিলেন।” হেমচন্দ্র বিদ্যায় শেষ জীবনে কিছুকাল পক্ষাঘাতে শায়ী ছিলেন। এই সময়ে জোড়াসাঁকো ঠাহু-গােষ্ঠী তাঁহার পরিবারের শেলনের ব্যবস্থা করেন। বমি হা কমে এহালী সংস্কৃতি-বাংলা শাহ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে জ্যোতিরিনাথ ঠাকুর এবং টনা যায় নাম বিশেষ মরণীয়। হেমচন্দ্র ১৯০৬ সনের ১ই ডিসেম্বর (২৪ গ্রহায়ণ ১৩১৩) প্রায় চায় বৎসর বয়সে ইহধাম ত্যাগ নে। তাহার মৃত্যুতে তত্ববােধিনী পত্রিকা (পৌষ ১৮২৮ শক) এ প্রস্তাব লেখেন। ইহার অনেকাংশও আমি বিভিয় প্রসঙ্গে এই মধ্যে সন্নিবেশিত করিয়াছি। অন্যান্ত কথার মধ্যে পত্রিকা’ লেখেন“হেচত্রের মৃত্যুতে আদি ব্রাহ্মসমাজের যে সমূহ ক্ষতি হইল, তাহা সহজে পূর্ণ হইবার নহে। গ্রন্থাবলী ঃ সংস্কৃত-বাংলা রঘুবংশ॥ সংস্কৃত মূল। মীনাথ কৃত সঞ্জীবনী টীকা। এবং যুক্ত হেমচন্দ্র ভট্টাচাৰ্যত অনুৰা। সহিত ৮ সংখ্যায়। বৈকুণ দত্ত কর্তৃক প্রকাশিত। পৃ. ৬+২৮৪+৪। সন ১২৭৫ [ইং ১৮%। পুস্তকখানি “বিবিধ গুন্তক প্রকাশিকা এ র অর্গত। সম্পাদক বৈঠনাথ দত্ত উপসংহারে' (পৃ. • •) রঘুবংশ অনুবাদ ও প্রকাশ সম্বন্ধে নিম্নেরুপ লিখিয়াছেন। “যে সকল পণ্ডিতগণের পরিশ্রমে খুশখানি অনুষাঙি হইয়া উঠিয়াছে এলে তাঁহাদের নামােত করিতেছি। দেশানুরাগ শ্রীযুক্ত কালীপ্রসন্ন সিংহ মহােয়ে পুরাণ সহ ময়ত অনুবাদ কৰে যাহারা সহায়তা করিয়াছিলেন, তাঁহাদের মধ্যে যুক্ত শােধ্যানাং পাড়া ও যুক্ত চেল

সাচাৰ্য আমাদের বন্ধুবংশে আবাদ কাৰে ব্ৰতী হন। মুক্ত

_ােনা পাকড়াশী মহাশয় এখন সর্গের কয়েকটি গাে, হেমচ বিকা করিয়াই ফলিকা সমাজের কাৰে পাৰ হন; ভলিবল যুক্ত হেম ভট্টাচাৰ্য মহাশয় আমাদের এই কাব্যের ভয় গ্রহণ করেন। প্রথম সর্গের কয়েকটি গােৰু ব্যতীত আপা, সমুর মধুবংশধানি উক্ত ভট্টাচাৰ্য অনুবাদ করিয়াছেন। ইনি এক্ষণে ভৰােধিনী পত্রিকার সম্পাদক। আমরা ইহার রচনাশক্তি পরিচয় কি দিব; উল্লিখিত মহাভারত ও এই রঘুবংশ এবং বর্তমান তৰােধিনী পত্রিকাই তাহার সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। আমরা ইহার সহৃদয়তা ও অমায়িকতা গুণে যারপর নাই আপ্যায়িত আছি। পরিশেষে বক্তব্য হুগলী নরম্যাল স্কুলের দ্বিতীয় শিক্ষক প্রযুক্ত কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ব এই রঘুবংশের কয়েক সৰ্গ অনুগ্রহপূর্বক দেখিয়া দিয়াছেন। ইনিও একজন ঐ মহাভাৰতৰাবে লিপ্ত ছিলেন।” ।এখানীয়। তারবি। সংস্কৃত সহ বাংলা অনুবাদ। পৃষ্ঠা সংখ্যা যথাক্রমে ১৪৪, ১৭৬। ইণ্ডিয়া অফিস লাইব্রেরীর পুস্তক-তালিকায় (Vol. If, Part Iv, p. 166) ৱািতানীয়ে’এৰাশকাল ১৮৬৭’ দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু ইহার অনুবাদ ও প্রকাশ যে রঘুবংশ একাণের পরে আর হয়, যিৰিখ পুস্তক প্রকাশিকা'র সম্পাদকের নিয় উক্তি হইতে তা পরিষ্কার বুঝা যায়। ইহাও ৰংশ’ গ্রহের উপসংহায়’ হইতে উপরি-উক্ষত অংশের অবহিত পরে আছে: | “আমরা এই সফল উদাচরিত পণ্ডিতগণের সহায়তা, বিয়া । রাগ, দেশহিতৈষী ধনবান মহাশয়দিগের বিশেষ আনুকূল এবং সাহী পাঠক ও সকল বর্গের সাহায্য এবানপূর্বক মহাকবি কালিদ এণত খুবংশ খানি বা সমাখা কাকে প্রাণী বাংলা ' । অপেক্ষাকৃত কিনুসাহস পাইয়াছি; এলে কবিৰ তাৰি বিটি শায় কাব্য প্রকাশে প্রবৃত্ত হইলাম। উক্ত যুক্ত হে ভট্টাচাৰ্য মহাশয় এই গ্রন্থখানিও অনুবাদ করিতেছেন।” রামায়ণ। আমাজের কাসহ সংশােধিত সংস্কৃত ও বাংলা। সটীক সংস্কৃত ও বাংলা অনুবাদ ৬৪ পৃষ্ঠা পৰিমিত প্রতি খণ্ডে ১৮৯১৮৮৪ সনের মধ্যে প্রকাশিত। বালকাও। ১৮৬৯-৭০ অবােধ্যাকাণ্ড। ১৮৭০ অরণ্যকাও। ১৮৭৪ কিচিকাণ্ড। ১৮৭৫ সুলাও। ১৮৭৮ লাকাও। ১৮৭৮-৮০ উত্তয়াকাও। ১৮৮৪ প্রতিটি কাণ্ডের আখ্যাপত্র, দ্বারকানাথ ভঙ্গের অনুগত্যনুসারে’ এইপ উল্লেখ আছে। সংস্কৃতে লিখিত বাকাণ্ডের ভূমিটি এখানে উদ্যত হইল। বিজ্ঞাপন দুর্গাদৃপ্ত-দানব-গল-দলনাের্দীপিত-কীৰ্ত্তেৰিকৰ্ত্তনকুলকুমার রায় চারু-চরিত চিত্রিতং বিচিত্ৰমিদং রামায়ণং মহৎপ্রমােদনিং তত- বিধৱৰান্তৰ নাং বি- বিন-পরিষদা। অপূৰ্বৰ-ব-ভাব বিশেষােন্তরীয়েইশি দৃশ্যতে বিষয়াসিনামণ্যনৱীয়ান আদ। এ তু কবি-লােপজীব্য মহাকাব্য বহুদিনারত সৌনত্য- মুগদাদমিতু মনসি মে মহান এষঃ সমনি। কিন্তু ৰয়াসৰ 'হে বিষয় হয়সাপেকমিনিতি নিয়পেক্ষায় এস। অতীতে খতিথে ধেমেন প্রীম বারানখভজেলা মীয় ভাবগম্য বিভাব্য চ চৰিবৈশুৰং প্রতিপাদ্যকে আঙ্গিটোইমি সাধুবাদ শটা আমায় চায়মিতু। প্ৰাৱৰে ৮ কাৰ্যবিত্তরে গতি তা আদতে দেশ-চলিতেষু আদর্শে বিভিপ্রায় পাঠ- পরিপাটীমালােক সংশয়িতচিত্তবৃত্তিরভবং মতিময়ৰষ্ণ দাক্ষিণাত্যানাং পাশ্চাত্যানাং চ পুস্তকানামায়ে। তত্ৰত্যা হি সর্বে লিপিকঃ সংস্কার- বিৱহাৎ সন্দৰ্ভত বৈষমবৈদ্যং বা কিমপ্যমান সুদর্শ কৃবৈবাদশ লিখতি। বঙ্গদেশে তু তদ্বৈপরীত্যমেব দৃশ্যতে। অত্র হি হবু শাস্ত্রে তমা প্রায়শঃ পণ্ডিতা এব লিপিকরা। অততে সংশােধনাঈমধেন বেহাত কপােলকল্পিতং পাঠমাকলষ্য বােজয়তি তেনৈৰ এদেশ এচলিতে তেষু গ্রন্থে পরম্পরবৈষম্যং শ্লোকাধিকমখ্যাধিক্য সমুপজাত। ন জানে কিমিমনুষ্ঠিতং সন্দেহলোলায়িয়িা। তোহমিদামীমভ্যর্থ প্রেক্ষাগভি-মুখ্যমিতি। কলিকাতা। ব্রাহ্মসমাজ হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য সংবং ১২৫। । বায়ায়ণ-এশীত-বেদান্ত যাচাৰ্য্যকৃত-মৈতা | বৈপরং ব্যাখ্যান। ১৮৮৮-১৮৯৭। | এশিয়াটিক গােসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বিলিওফিকা ইণ্ডি লায় এগুগত। ইহার ভূমিকা ইজীতে লিখিত। যে এশী। সংলা ভিখানি খুবির পাঠ মিলাইয়া এই গ্রন্থ সমন কয়িা। ভূমিকাটি এইরূপ: "vallabhasan, Anubay i an examoy To work in ho cons A to work hower in which allnaos st to Dawnlodile to adori of the fan philosophool principles, supported by Veds to ad far toge, which were used in the ane woy by arch to oblin a pronuts a adal cone, l decor to be audied by all. In ading to anu r have onlned to are macorp oople of t On of in a secoved to Dr. Bhorso oners Pl, ৪ ooo and o tard tro Danodo ba vs. 04 the laseni by Dr. Bhundork in the no Moon the really considered the aiosain sading an in the ass Meaud 1 all sondo my labour mply toud | ০ anubhasy a edited by me, meet with the Approval of a po | Hemchandra Vidyar " জা। সুগৃহীতনামধেয়। মহুর্যেদেবেন্দ্রনাখস্যাভ্যয়া। তদীয় সভাধ্যক্ষ হেমচন্দ্র বিদ্যারতেন। সংস্কৃতে সংকলিয়া বিবৃত্যা সহিতঃশক ১৮১৭ (বৈল লাইব্রেরী ক্যাটালগে প্রদত্ত একা কাল-১ সেপ্টে ১৮৯৫)। দেবেনাথ ঠাকুয়ঙ্কত ৰাহ্মধর্মের সংস্কৃত অনুবাদ। দেশ-বিদেশে ।), ইহা সবিশেষ প্রশংসিত হইয়াছে। হিন্দুশায়। যষ্ঠ ভাগ। যায়। ১৮৯৬ ইং। ত্র ত এখ্যাত পণ্ডিতগণের গয়া বাংলা ভাষায় গগেণে আযে কাইয়া একাৰ কৰে (১৮ )। রমেশ ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। রামায়ণে দূচনায় তিনি নিজ আগয়ে নিয়ে ভূমিকাটি লেখেন। পণ্ডিভ হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ব ইতিপূর্বে মূল সংস্কৃত রামায়ণ এবং তাহার একখানি বিস্তীর্ণ ও: বঙ্গানুবাদ একাণ করিয়া বক্ষদেশে কীর্তিলাভ করিয়াছেন। তাহার অনুৰে ৷ রামায়ণের উৎকৃষ্ট মঙ্গানুবাদ আর একখানিও নাই। হায় রামায়ণের এই সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত বঙ্গীয় পাঠক মাত্রের নিকটই আদরণীয় হইবে, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। তিনি বহু পরিশ্রম স্বীকার করিয়া এই কাৰ্য্য সশান করিয়া বাঙ্গালী পাঠকদিগের জন্য একখানি অতি আবশ্যকীয় ও উপাদেয় গ্রন্থ প্রকা করিয়াছেন, এবং আমাকে যারপরনাই অনুগৃহীত করিয়াছেন। এমেচত্র ও রচনার নিদর্শন

  • গােদাবরীর সারসশ্রেণী বিমানবিলম্বিত কাফন কিঙ্কিণীয় শৰ

বল নােমণ্ডলে উখিত হইয়া যেন তােমার এত্যুদগমন কৰিতেছে। হে জানকি। বহুদিনের পর এই পৰী দেখিয়া আমার মনে যান উপস্থিত হইতেছে। ভােমার কটিদেশ অতিশয় সুকুমার হইলেও তুমি ল যায় সলিল সেচন করিয়া এই পঞ্চবটীর রসাল শিশু সকলকে পৰিৰতি করিয়াছিলে। তুমি এই স্থানে যে সমস্ত কার স্বগকে লালন পালন করিতে, ঐ দেখ, তাহাৱা এক্ষণে উমুখে আমাদিগে এতি বৃষ্টিপাত করিয়া হিয়াছে। আমি মৃগয়া বইতে এই পার য, নিন বিমুক্ত হয়ে শিখা আ গােদায়ী শরিধানে প্রতিনিবৃত্ত ও উহার শীতল সমীরণ গতম হইয়া নির্জনে বেতাগৃহে তােমার উৎসজে মস্তক শৱিৰে কত নিন্ত্রিত হই, এণে তাহা বিলক্ষণ অরণ হইতেছে। যিনি কভজা মাত্রেই রাজা নহবকে ই পদ হইতে পরিভ্রষ্ট করিয়াছিলেন এই সেই আবিল সলিলের স্বচ্ছতা সম্পাদক মহর্ষি অগস্ত্যের আলম পদ। সেই অনিন্দিত কীর্তি মহর্ষি হবির গল্প পরিপূর্ণ গগনস্পশী গার্হপত্য প্রভৃতি খিজয়ের শিখা আম্রাণ করাতে আমার অন্তঃকরণ বলো। বিমুক্ত হইয়া বিশুদ্ধভাব অবলম্বন করিতেছে। হে মানিনি। ঐ মহর্ষি শতকণির পঞ্চাঙ্গর নাম ক্রীড়া সােবর নিরীক্ষিত হইতেছে। ঐ সমােবরের চতুর্দিক কানন সমাচ্ছন্ন হওয়াতে অতিদুর প্রভাবে উহা মেঘ মধ্য হইতে ঈষৎ পরিমান শশায় বিয়ের যায় দৃষ্টিগােচর হইতেছে। পূর্বে ঐ মহর্ষি মৃগগণের সহিত সরণ পূর্বক কুশায়মাত্র আহার করিয়া অতি কঠোর তপােঠান করিয়াছিলেন। তদর্শনে মুয়াজ ইন্দ্র সাতিশয় ভীত হইয়া পাঁচটি অপ্সরার যৌবনরূপ কপট যন্ত্রে উহাকে নিয়ন্ত্রিত করেন। এক্ষণে সলিলাগত প্রাসাদবাসী সেই মহর্ষি শতকণির নভােমাগত অতিবিস্তীর্ণ মৃদধ্বনি ও সঙ্গীত শব্দের প্রতিধ্বনি যারা পুলকের চত্রশালা সকল ক্ষণকালের নিমিত্ত মুখরিত হইতেছে। এই সুতীনামা শান্ত চরিত্র আর এক তপন্থী ইজন গুলিত হতাশন চতুষ্টয়ের মধ্যবর্তী ও সূৰ্য্যাভিমুখ হইয়া তপােনুষ্ঠান করিতেছেন। ইহার তপস্যা দর্শনে ইন্দ্রেরও অন্তঃকরণে ভয় সঞ্চার হইয়াছে। হােনা সহাস্যমুখে কটাক্ষ নিক্ষেপ ও ছলক্রমে ঈষৎ মেখলা এর্শন প্রভৃতি বিলাসচো দ্বারা ইহার চিত্ত বিকৃত করিতে সমর্থ হয় নাই। ঐ উবাই সূতী তপােধন যে হতে গলিগের ক্ষতি বিনোধন ও এ হেন করিয়া থাকে, মা বাবা নেই মণি হত আমার সম্মানাথ যথােচিত প্রসারিত করিতেছেন। উনি মৌলভী বলিয়া ঈষৎ শিল্পকম্প দ্বারা আমার প্রণাম ভি করিয়া বিয়ান ব্যবধান মুক্ত বীয় দৃষ্টি পুনরায় সূর্যমগুলে সংসক্ত করিতেছেন। (খুশ, পৃ. ২৩-০৬)

অনন্তর শরৎকাল অতীত ও হেমন্ত সমুপস্থিত হইল। তখন আৰু এক রাত্রি প্রভাতে স্বার্থ রমণীয় গােদাবরীতে যাইতেছেন, বিনীত লণও কলশ লইয়া জানকীর সহিত তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিয়াছেন। তিনি গমনকালে কহিলেন, প্রিয়। যে ঋতু আপনার প্রিয়, এক্ষণে তাহাই উপস্থিত। ইহার প্রভাবে সংবৎসর যেন অশত হইয়া শােভিত হইতেছে। নীহারে সর্বশরীর কর্কশ হইয়াছে, পৃথিবী শস্যপূর্ণ এল স্পর্শ করা দুষ্কর এবং অগ্নি সুখসেব্য হইতেছে। এই সময় সকলে নবান্ন ভক্ষণার্থ আগ্ৰয়ণ নামক যাগের অনুষ্ঠান দ্বারা পিতৃগণ ও দেবগণের তৃপ্তিসাধন করিয়া নিস্পাপ হইয়াছে। জনপদে ভােগ্য প্রচু, গব্যর অভাব নাই; জয়লাভার্থী ভূপালগণও দর্শনার্থ তম্মধ্যে সতত পরিভ্রমণ করিতেছেন। এক্ষণে সূর্যের দক্ষিণায়ন, সুতরাং উত্তরদিক তিলকহীন স্ত্রীলােকের ন্যায় হত হইয়া গিয়াছে। অভাৰত হিমালয় হিমে পূর্ণ, তাহাতে আবার সূৰ্য্য অতিদূরে, সুতরাং স্পষ্টতই উহার হিমালয় এই নাম সার্থক হইতেছে। দিবসের মধ্যাহ্নে নৌ 'অত্যন্ত সুখসেখ্য, গমনাগমনে কিছুমাত্র ক্লান্তি নাই, কেবল জল ও ছায়া সৎ হয় না। সুৰ্যের তেজ মৃদু হইয়াছে, হিম যথেষ্ট, অৰণ্য প্রায়, এবং গল্প নীহারে নষ্ট হইয়া গিয়াছে। এণে রানী তুয়ে শক্ত ধূসর হইয়া থাকে, কেহ অনাবৃত স্থানে শয়ন করিতে পারে না, গুন নয়ে রাজিন আমান করিতে হয়, গত বুৎপৰেবি, এই এ সব মীর্ঘ। চন্দ্রের সৌভাগ্ধ্য সূৰ্যে সংক্রমিত ইয়াছে, একা, এলও হিমাণে আয় থাকে, ফাভ এক্ষণে উ নিশ্বাস আৰিল গর্পণতলে, স্যায় পরিদৃশ্যমান হয়। পুর্ণিমার জ্যোৎলা হিমানে মান হইয়াছে, সুতরাং উহা উপমলিনা সীতাৰ ন্যায় লক্ষিত হইতেছে কিন্তু বলিতে কি তাদৃশ শশাভিত হইতেছে না। পশ্চিমের বায়ু স্বভাতই অনুষ্ণ, এক্ষণে আৰাৰ হিমপ্রভাবে প্রাতে দ্বিগুণ শীতল হইয়া বহিতে থাকে। অরণ্য বাপে আচ্ছ, যব ও গােম উৎপন্ন হইয়াছে, এবং সূর্যোদয়ে ক্রৌঞ্চ ও সারস কলব করাতে বিশেষ শােভিত্ত হইতেছে। কনকান্তি ধান্য খর্জুরপুপের ন্যায় পীতবর্ণ ততুল, মথকে কিঞ্চিৎ সল্পত হইয়া শােভা পাইতেছে। কিৰণ নীহারে অডিজ হইয়া ইতন্ততঃ বিকীর্ণ হওয়াতে দ্বিপ্রহরেও সূৰ্য্য শশাঙ্কের স্নায় অনুভূত হইয়া থাকে। প্রাতের রৌদ্র নিস্তেজ ও পাণ্ডুবর্ণ, উহা নীহারমণ্ডিত তৃণশ্যামল ভূতলে পতিত হইয়া অতি সুন্দর হয়। ঐ দেখুন, বয় মাতজেরা তৃষ্ণার্ত হইয়া সুশীতল জল স্পর্শ পূর্ব ৩ সংকোচ করিয়া লইতেছে। যেমন ভীরু ব্যক্তি সময়ে অবতীর্ণ হয় না, সেইরূপ হংস সারস প্রভৃতি জলচর বিহঙ্গে তীরে সমুপস্থিত হইয়াও জলে অবগাহন করিতেছে না। কুসুমহীন বনশ্রেণী রাত্রিকালে হিন্ধকারে এবং দিবাভাগে নীহারে আবৃত হইয়া যেন নিন্যায় লীন হইয়া আছে। নদীর জল ৰাষ্পে আচ্ছ, বালুকারাশি হিৰে আৰ্ত্ত হইয়াছে, এবং সারসগণ কলরবে অনুমিত হইতেছে। তুষারপাত: সুৰ্যের মৃদুতা ও শৈত্য এই সমস্ত কারণে জল শৈবাগ্রে থাকিলেও সুস্বাদু বােধ হয়। হিমে নষ্ট হইয়া মৃণালমাত্রে অবশিষ্ট আছে, উহার কেশর ও কণিকা শণ, এবং এভাবে পত্র সফল জীর্ণ হইয়া, হে বিজ গিয়াছে, এলে ইয় র পূর্ববৎ শােভ নাই। অব। এ সময় নন্দীগ্রামে ধর্ষপরায়ণ ভরত দুঃখে সমধিক কাতর হইয়া ঠেক্তি নিবন্ধন অনুষ্ঠান করিতেছেন। তিনি রাজ্য মান ও বিৰিখ তােগে উপেক্ষা করিয়া, আহার সংযম পূর্বক ভূতলে শয়ন করেন। বােধ হয়, এখন তিনিও আনাৰ্থ প্ৰকৃতিবর্গে পরিবৃত হইয়া সৱযুতে গমন করিতেছেন। ভরত অত্যন্ত সুখ ও সুকুমার, জানি না, এই রাত্রিশেষে বিয়ে নিপীড়িত হইয়া কি প্রকারে সযুতে অবগাহন করিতেছেন। তিনি ধর্মজ সত্যনিষ্ঠ জিতেন্দ্রিয় মধুরভাষী ও সুন্দর; তাহার বা আজানুলম্বিত, বর্ণ শ্যামল ও উদর পূ; তিনি লাক্রমে কখন নিষিদ্ধ আচরণ করেন না। সেই পদ্মপলশলােচন ভােগসুখ তুচ্ছ করিয়া সর্বাংশে আপনাকে আশ্রয় করিয়াছেন। আপনি বনবাসী হইলেও তিনি তাপসের আচার অবলম্বন পূর্বক আপনার অনুকরণ করিতেছেন। আৰ্য! এইরূপ কাৰ্য্যে স্বর্গ যে তাহার হস্তগত হইবে, ইহাতে আর কোন সন্দেহ নাই। প্রবাদ আছে যে, মনুষ্য মাতৃঙবের অনুসরণ করিয়া থাকে, ফলত তিনি ইহার অন্যথা করিলেন। হায়। দশরথ বাহার স্বামী, সুশীল ভরত যাহার পুত্র, সেই কৈকেয়ী কিরুপে তাদৃশ ভূরদর্শিনী হইলেন।

ধর্মপরায়ণ লক্ষণ নেহভরে এইরূপ কহিতেছিলেন, এই অবসরে রাম কৈকেয়ীর অপবাদ সহিতে না পারিয়া কহিলেন, বৎস! তুমি ইফুনাথ ভরতের ঐ কথা কও। মাতা কৈকেয়ীর নিন্দা কখনই কবিও না। দেখ, আমার বুদ্ধি বনবাসে দৃঢ় ও স্থির থাকিলেও পুনরায় গেহে চঞ্চল হইতেছে। উঁহার সেই প্রিয় মধু হৃদয়হায়ী মৃততুল্য - আাদকৰ কথা সততই আমার মনে পড়িতেছে। লক্ষণ। জানি , আমি আবার কবে ভয়ত প্রভৃতি সকলেরই সহিত সমবেত হই। রাম এই বিলাপ ও পরিপুর্বক গােদাবীতে গিয়া জানকী ও লক্ষ্মণের সহিত স্নান করিলেন। পরে সকলে দেব ও পিতৃগণের তপণ করিয়া উদিত সূৰ্য্য ও দেবগণের স্তব করিতে লাগিলেন। ভগবান ক্ষত্র যেমন নন্দী ও পার্বতীর সহিত নান্তে শােভা পান, ঐ সময় রামেও সেইরূপ শােভা হইল।”-অরণ্যকাণ্ড, পৃ. ৫৪-৮। “হনুমান শিংশপা বৃক্ষে প্রচ্ছন্ন হইয়া জানকীরে দেখিবার অঙ্ক ইতস্ততঃ দৃষ্টি প্রসারণ করিতে লাগিলেন। অশােকবন করতে সুশােভিত, তথায় দিব্য গন্ধ ও রস সততই নির্গত হইতেছে। ঐ যন নানারূপ উপকরণে সুসজ্জিত, দেখিবামাত্র নন্দনকানন বলিয়া বােধ হয়। উহার ইতস্ততঃ হর্ঘ্য ও প্রাসাদ, কোকিলের মধুকষ্ঠে নিরন্তর কুহর করিতেছে। সবােবর স্বর্ণপদ্মে শােভমান, অশােক সকল কুমিত হইয়া সর্বত্র অরুণ বিস্তার করিতেছে। ঐ স্থানে সকলরূপ ফল পুশই সুলভ, নানারূপ উৎকৃষ্ট আসন ও চিত্রকম্বল ইতস্তত আন্তীর্ণ রহিয়াছে। কাননভূমি সুবিস্তীর্ণ, বৃক্ষের শাখা প্রশাখা সকল বিহগণের পক্ষপুটে সমাচ্ছন্ন, সহসা যেন পশু বলিয়া লক্ষিত হইতেছে। পক্ষিগণ নিরন্তর বৃক্ষ হইতে বৃক্ষান্তরে উপবেশন করিতেছে, এবং অসংলগ্ন পুষ্পে অপূর্ব শ্রী ধারণ করিতেছে। অশােকের শাখা প্রশাখা সমস্তই পুস্পিত; কণিকার পুষ্পভরে ভূতল স্পর্শ করিতেছে। কিংশুক সকল পুষ্পস্তবকে শশাভিত; কাননভূমি ঐ সমস্ত বৃক্ষের প্রভায় যেন প্রদীপ্ত হইতেছে। পুন্নাগ, সপ্তপর্ণ, চম্পক ও উদ্দালক বৃক্ষ সকল কুমিত। কাননমধ্যে বহুসংখ্য অশােক নিরীক্ষিত হইতেছে। তন্মধ্যে কোনটি স্বর্ণ, কোনটি অগ্নির ন্যায় প্রদীপ্ত, এবং কোনটি নীলা নতুন সুন্দর। ঐ অশােন দেবকানন নন্দনের ন্যায় এবং ধনাধিপতি কুৰেৰে৷ ইন চিরে চায়; বলিতে কি, তা তাকেও অধিকতর অনােহর; উহার শােসমৃদ্ধি মনে ধারণা করা যায়না। উহা যেন দ্বিতীয় আকাশ, পুষ্প সকল গ্রহ নক্ষত্রের গায় লক্ষিত হইতেছে। উ যেন পা সমুন, নানারূপ গুপই যেন এ এন করিতেছে। ঐ অশােকনে নানারূপ পবিত্র গল্প, উহ গপূর্ণ হিমাচল এবং গন্ধমাদনের স্থায় বিরাজিত আছে। অদূরে অত্যুচ্চ তৈলা, উহা গিৰিৰ কৈলাসের স্যায় ধবল, উহার চতুর্দিকে সহ শহর ও শােতিত হইতেছে; সােপান সফল প্রবালরচিত, এবং বেদিল ময়; উহা সৌন্দর্যে নিরন্তর প্রদীপ্ত হইতেছে, এবং লােকের দৃষ্টি যেন অপহয়ণ করিতেছে। উহা গগনস্পর্শী ও মহাবীর হনুমান ঐ অশােকনের মধ্যে সহসা একটি কামিনীকে দেখিতে পাইলেন। তিনি স্বাক্ষসগণে পরিবৃত; উপবাসে যারপর নাই গন। ঐ রমণী পুনঃ পুনঃ সুদীর্ঘ দুঃখনিশ্বাস ত্যাগ করিতেছেন। নানারূপ সংশয় ও অনুমানে তাহাকে চিনিতে পারা যায়। তিনি কীয় নববদিত শশিকলার ব্যয় নির্মল; তাহার কান্তি ধূমজালঅতি অগ্নিশিখায় উজ্জ্বল; সৰ্বাদ অলঙ্কারশত ও মললিপ্ত, পরিধান এমন পীতৰণ মলিন। তিনি সরােন্ত দেবী কমলার স্যায় নিয়তি হইতেছেন। তাঁহার দুঃৰ সৰাপ অতিশয় প্রবল, নয়নযুগল হইতে অনর্গল বারিধারা বহিতেছে; তিনি কেতুগ্রহনিপীড়িত রোহিণীর তার একান্ত সীন; শােকৰে যেন নিয়ন্তয় হৃদয়মধ্যে কাকে চিন্তা খছি। তাঁহার সম্মুখে প্রীতি ও লেহের পাত্র কেহ নাই, কেবলই আলী; কালে তিনি বুখশ্রষ্ট বুকুর-গরিবৃত খুনীর গায় সৃষ্ট । আর পঠে কালনীয় গায় এমাৰ কে গতি, ৰি ৰাৰ নাক মুনীল বনমে এতি অবনীয় স্থায় শােভিত হন। | হন ঐ বিশালদােচনাকে নিরীশ করিয়া, পূৰ্ব্বনির্মি কায়ণে সীতা ৰলিয়া অনুমান করিলেন। ভাবিলন, কামরূপী রাক্ষস কে অৰলৰুে ফলপূর্বক লইয়া আইসে, তাহাৰুে যেরূপ দেখিয়াছিলাম, ইনি অবিকল সেইরূপই লক্ষিত হইতেছেন। জানকীর মুখ পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় প্রিয়দর্শন; স্তনযুগল বল ও সুন্দর। তিনি স্বীয় প্রঙ্গপুজে সমস্ত দিক্‌ তিমিরমুক্ত করিতেছেন। হায় কয়ে মৰতৰ্বাগ, ওঠ বিষৰ আৰক্ত, কটিদেশ ক্ষীণ এবং গঠন অতি সুদৃষ্ণ। তিনি অসৌধে স্মৱকামিনী রতির ন্যায় জগতের প্রতিক। তিনি তপরায়ণ তাপসীর ন্যায় ধরাসনে উপবেশন করিয়া আছেন, এবং এক একবার কালজীর ন্যায় নিশ্বাস পরিত্যাগ করিতেছেন। তিনি সন্দেহাত্মক স্মৃতির ন্যায়, পতিত সমৃদ্ধির ন্যায়, অলিত শ্রদ্ধার ন্যায়, নিষ্কাম আশার স্যায়, বিঘ্নবহুল সিল্কির ন্যায়, কলুষিত বুদ্ধির ন্যায়, এবং অমুলক অপবাদে কলঙ্কিত কীর্তির ন্যায়, যার পর নাই শশাচনীয় হইয়াছেন। তিনি রামের অদর্শনে ব্যথিত, এবং নিশাচরগণের উপদ্রবে নিপীড়িত। তিনি চপললােচনে ইতস্ততঃ দৃষ্টিপাত করিতেছেন। তাঁহার মুখ অপ্রস ও নেত্ৰজলে ধৌত, এবং পদ্মরাজি কৃষ্ণবর্ণ ও কুটিল। তিনি নীল নীয়দে আবৃত চন্দ্ৰপ্ৰভার ন্যায় নিরীক্ষিত হইতেছেন।”-সুরকাণ্ড, নয় একা আমি হল দ্বারা যক্ষেত্র পােবন জিতেছিল। ঐ সময় লাগলপতি হইতে এক কন্যা উখি হয়। ঐ কন্যা রে শেখাতে হলমুখ হইতে উখি হইল বলিয়া আমি উহার না রাখিলাম সীতা। এই অঘােনিসম্ভবা তনয়া অামার গৃহেই পরিবর্তিতা হয়। অন্য আমি এই পণ করিলাম যে, যে ব্যক্তি এই হকাবেলা যােজনা করিতে পারিবেন, আমি তাহাকেই এই কন্যা দিব। ক্রমশ সী বিবাহবােগ্য বয়ঃপ্রাপ্তা হইল। অনেকানেক রাজা আসিয়া আঁহাকে প্রার্থনা করিতে লাগিলেন, কিন্তু আমি উহাকে কাহারই হতে সম্প্রদান করি নাই।

পরে নৃপতিগণ ঐ হরধনুর সার জ্ঞাত হইবার ইচ্ছায় মিথিলায় আগমন করিতে লাগিলেন। আমিও তাহাদিগকে শাসন প্রদর্শন করিয়াছিলাম, কিন্তু তাঁহারা উহা গ্রহণ কি উত্তোলন করিতে পারেন নাই। তপােধন! তৎকালে মহীপালগণের এইরূপ বলবীর্যের পরিচয় পাইয়াই অগত্যা তাহাদিগকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছি। কিন্তু পরিশেষে যেপ ঘটে, তাহাও শ্রবণ কর।

ভূপালগণ এইরূপ বীৰ্যৰুে কৃতকাৰ্য হওয়া সংশয়স্থল বুঝিতে রিয়া একান্ত ক্রোধাবিষ্ট হইলেন, এবং আমিই এই কঠিন পণ করিয়া তাহাদিগকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছি নিশ্চয় করিয়া বলপূর্বক কন্যাগ্রহণের মানসে মিথিলা অবরােধ করিলেন। নগরীতে বিস্তর উপদ্রব হইতে লাগিল। আমি দুর্গমধ্যে অবস্থান করিয়া তাহাদিগের সহিত যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইলাম। কিন্তু সংবৎসর পূর্ণ হইতেই আমার দুর্গের সমুদায় উপকরণ নিঃশেষিত হইয়া গেল। তদ্দর্শনে আমি যার পর নাই দুঃখিত হইলাম এবং তপঃসাধনে প্রবৃত্ত হইয়া দেবগণের প্রসঙ্গতা প্রার্থনা করিলাম। অনৰ সঁহারা প্রীত হইয়া যুদ্ধার্থ আমায় চতুরণিী সেনা প্রদান করিলেন। আমি ভূপালগণের সহিত পুনৰ্ব্বার সংগ্রামে অবতীর্ণ হইলাম। উভয় পক্ষে বিস্তয় লােক্ষর হইতে লাগিল। পরে সেই নিৰীৰ্য সন্দিৰীৰ্য দুরাচার পামরেরাও অমাত্যগণের সহিত যশে ভঙ্গ দিয়া চতুর্মিকে পলায়ন করিল। তপােধন! যাহার নিমিত্ত এত কাণ্ড হইয়াছে, সেই কোদণ্ড এক্ষণে নাম ও লক্ষণকেও দেখাইতেছি। যদি রাম উহাতে জ্যা যােজনা করিতে পারেন, তাহা হইলে আমি ইহাকে কন্যাদান কৰিব। এ ধনু অষ্টচক্রের এক শকটের উপর লৌহনিৰ্মিত মঞ্জুযামধ্যে স্থাপিত ছিল। রাজার আদেশে অতি দীর্ঘকায় পাঁচ সহস্র মনুষ কঞ্চিৎ উহা আকর্ষণপূর্বক আনিতে লাগিল। তখন মিথিলাধিপতি জনক রাম ও লক্ষণকে ধনু দেখাইবার উদ্দেশে কৃতাঞ্জলিপুটে মহর্ষি কৌশিককে কহিলেন, ব্ৰহ্মন্! আমার পূর্বপুরুষগণ এই ধনু অর্চনা করিতেন এবং যে সমস্ত মহাবীৰ্য মহীপাল ইহার সার পরীক্ষায় অসমর্থ হন, তাহারাও ইহার পূজা করেন। এই ধনুর কথা অধিক আর কি বলিব, মনুষ দূরে থাক, সুরাসুর যক্ষ বক্ষ গন্ধর্ব কিয় ও উরগোও ইহা আকর্ষণ, উত্তোলন, আস্ফালন, এবং ইহাতে জ্যা যােজনা ও শর সংঘােজন করিতে পারেন না। তপোধন! আমি সেই ধনুই আনাইলাম, আপনি উহা এই কুমারদ্বয়কে প্রদর্শন করুন। | অনায় কৌশিক রামকে কহিলেন, বৎস! তুমি এক্ষণে এই হরধনু নিরীক্ষণ কর। রাম মহর্ষির আদেশে মঞ্জু উদঘাটন ও ধনু নিরীক্ষণপূর্বক কহিলেন, আমি এই দিব্য ধনু করতলে স্পর্শ করিতেছি। এখন কি ইহা আমাকে উত্তোলন ও আকর্ষণ করিতে হইবে? মহারাজ জনক ও বিশ্বামিত্র তৎক্ষণাৎ তদ্বিষয়ে সম্মতি প্রদান করিলেন। তখন রাম অবলীলাক্রমে ঐ শাসনের মুষ্টিগ্রহণ ও সর্বসমক্ষে তাহাতে জ্যা আগেণপূর্বক আকর্ষণ করিলেন। কোদণ্ড তদণ্ডেই দ্বিখণ্ডিত হইয়া গেল। নির্ঘোষের ন্যায় একটি ঘাের ও গভীর শব্দ হইল। পর্বত কে বিরবিখইল জুগ যেন কশিত, চলিনি সেই কপি উঠিল।

নগর পরিণয়ে রাজা জনকের যে এত কাল শয় হি, তাহ নীত হইল। তিনি কৃতাঞ্জলিপুটে বিনিকে কহিলেন, অব আমি এই দাশরথি নামের শীর্ষ পরীক্ষা করিলাম। নুত ব্যাপা অতি চমৎকার; আমি মনে করি নাই যে, ইহা কখনও 'সব হইবে এখন আমের শহিত সীতার বিবাহ হইয়া আমায় একটি কুকীর্তি পিং হউক। বলিতে কি, এত দিনের পর আমারপ্রতিজ্ঞা পূর্ণ হইল। এ আপনি অনুমতি করুন, আমার দূতগণ মথে আরােহণপূর্বক অবিলয়ে অযােধ্যায় গমন করুক। বিনয়বাক্যে মহারাজ জশখকে এই স্থানে আনয়ন এবং ধনুর্ভঙ্গ পণে রামের সীতালাভ হইল, এ কথা নিবেদন করুন। রাজকুমার রাম ও লক্ষ্মণ যে নিৰ্বিয়ে আসিল, ইহা গিয়া এ যাল দিবে।-হিন্দুশা, ৰামায়ণ, পৃ. ৩১-৩।

  1. *ডাঃ লিখিয়াছেনঃ তিনি [হেমচন্দ্র] ছিলে আমার বন্ধু শেষ্ট গুরু ও