৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ/প্রথম খণ্ড/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
ভীষণ চুরি
লিয়াস্ ফগ বেলা ঠিক সাড়ে এগারটার সময় গৃহ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইলেন, তাহার পর ঠিক ৫৭৫ বার দক্ষিণ পদ এবং তৎপশ্চাৎ ৫৭৫ বার বামপদ ক্ষেপণ করিয়া সংস্কার-সমিতির মন্দিরে যাইয়া উপনীত হইলেন। ভোজন কক্ষে তাঁহার প্রাতরাশ্ সজ্জিত ছিল। মিঃ ফগ বিনা বাক্যব্যয়ে সেই চিরপরিচিত খানার টেবিলে বসিয়া আহার করিতে লাগিলেন।
১২টা ৪৭ মিনিটের সময় আহার শেষ করিয়া তিনি সমিতির বৈঠকখানায় আসিবামাত্রই ভৃত্য তাঁহার হস্তে এক খণ্ড “টাইমস্” পত্রিকা প্রদান করিল। ফিলিয়াস্ চিরাভ্যস্ত ক্ষিপ্রহস্তে উহা খুলিয়া ভাঁজ করিয়া লইলেন এবং পাতা কাটিয়া পাঠ করিতে লাগিলেন। “টাইমস” এবং তৎপরে “ষ্টাণ্ডার্ড” পত্রিকা পড়িতে পড়িতেই নৈশভোজনের পূর্ব্ব পর্য্যন্ত কাটিয়া গেল। ভোজন সমাপ্ত করিয়া ফিলিয়াস্ ফগ এক খণ্ড “মর্নিং ক্রেনিকেল” হস্তে সমিতির সেলুনকক্ষে প্রবেশ করিলেন।
অর্দ্ধ ঘণ্টা অতীত হইতে না হইতেই তাঁহার বন্ধু-বান্ধবে কক্ষটা পূর্ণ হইয়া উঠিল। ইঁহারা সকলেই অতিমাত্রায় তাসক্রীড়ারত ছিলেন। আন্দ্রু ষ্টুয়ার্ট, মহাজন জন সলিভান ও স্যামুয়েল ফলেণ্টিন্ মদ্য প্রস্তুতকারী টমাস্ ফ্ল্যানাগেন, ইংলণ্ডের প্রধান ব্যাঙ্কের অন্যতম অধ্যক্ষ গথিয়ার রাল্ফ, ইঁহারা সকলেই ধনকুবের ছিলেন। ইঁহাদের সহিতই ফিলিয়াস্ ফগের হুইষ্ট যুদ্ধ চলিত।
চিমনির মধ্যে অবস্থিত প্রজ্বলিত অগ্নির চতুর্দ্দিকে বসিয়া ইঁহারা নানারূপ গল্প করিতে লাগিলেন। টমাস্ ফ্ল্যানাগেন কহিলেন, “মিঃ রাল্ফ, এই যে ডাকাতিটা হয়েছে, এর কিছু খবর হ’ল কি?”
ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “আর খবর হবে! ব্যাঙ্কের টাকাগুলো গেল আর কি!”
রাল্ফ কহিলেন, “আমার ত ভরসা হয় যে, চোর ধরা পড়বে। আমেরিকা, ইউরোপ, এসিয়া সকল দেশেই আমাদের গোয়েন্দা দারোগা আছে। প্রত্যেক বড় বড় বন্দরেই তারা সন্ধান নিচ্ছে। এদের ফাঁকি দিয়ে পালানো বড় সহজ নয়।”
ষ্টুয়াট কহিলেন, “তা হ’লে দেখছি, চোরের চেহারা কেমন, তা আপনারা জানেন।”
কথাটা শুনিরা রাল্ফ দৃঢ়স্বরে বলিলেন, “টাকাটা যে নিয়েছে, সে ত চোর নয়।”
“সে কি! সাড়ে আট লক্ষ টাকার নোট নিয়ে যে সরে পড়্তে পারে, সেও চোর নয়!”
“না, চোর নয়।”
সলিভান বিদ্রূপ করিয়া কহিলেন, “না না, সে কেন চোর হ’তে যাবে? সে একজন খাঁটি কলির চেলা—বিশেষ কার্য্যপটু লোক!”
তখন পত্র-পত্রিকার পর্ব্বত প্রমাণ প্রাচীরের অন্তরাল হইতে মস্তক উত্তোলন করিয়া ফিলিয়াস্ ফগ কহিলেন, “মর্নিং ক্রণিকেলে প’ড়ছিলেম যিনি নোটগুলো নিয়েছেন, তিনি না কি একজন ভদ্রলোক।”
আলোচনা চলিতে লাগিল।
তিন দিন পূর্ব্বেই ইংলণ্ডের ব্যাঙ্ক হইতে সার্দ্ধ অষ্টলক্ষ মুদ্রার নোট অপহৃত হইয়াছিল। এত অনায়াসে বুঝি আর কখনো টাকা চুরি হয় নাই। ব্যাঙ্কের অন্যতম অধ্যক্ষ মিঃ রাল্ফ সকলকে বুঝাইতে লাগিলেন, “এ চুরিতে খাজাঞ্চী বেচারার কোন দোষ নাই। সে কি ক’রবে? সে তখন মনোযোগ দিয়ে ব্যাঙ্কের একটা পাওনা ২৷৷৵৹ আনা খাতার জন্য ক’রছিল। একটা লোক চারিদিকেই ত আর চোখ রাখতে পারে না।”
ইংলণ্ডের ব্যাঙ্কে যে সকল লোক কাজ-কর্ম্ম করিতে আসিতেন, ব্যাঙ্কের কর্ত্তৃপক্ষগণ তাঁহাদের সাধুতা সম্বন্ধে কখনো সন্দেহ করেন নাই। কেহ নোট দেখিতেছেন, কেহ সোনা পরীক্ষা করিতেছেন, কেহ বা জহরত হস্তে লইরাছেন। পরীক্ষান্তে সকলেই আবার সেই নোট বা স্বর্ণ বা মূল্যবান্ প্রস্তরাদি প্রত্যর্পণ করিতেছেন। এই রূপেই কার্য্য চলিত। কিন্তু সে দিন যিনি নোট লইয়াছিলেন, তিনি আর উহা প্রত্যর্পণ করিলেন না। বেলা পাঁচটার সময় যখন ব্যাঙ্ক বন্ধ হইল, তখন হিসাব নিকাশ করিয়া জানা গেল, ব্যাঙ্কের সার্দ্ধ অষ্টলক্ষ মুদ্রা অপহৃত হইয়াছে!
অমনি চারিদিকে সুনিপুণ গোয়েন্দা পুলিশ ছুটিল। কেহ লিভারপুল, কেহ গ্ল্যাস্গো, কেহ বা অন্যান্য বন্দরে দস্যুর সন্ধানে গমন করিল। সুদূর সুয়েজ, ব্রিন্দিসি, নিউইয়র্ক প্রভৃতি পর্য্যন্ত বাদ গেল না। ব্যাঙ্কের কর্ত্তা প্রকাশ করিলেন, চোর ধরিতে পারিলে ৩০ সহস্র মুদ্রা পুরস্কার ত মিলিবেই, তদ্ভিন্ন অপহৃত অর্থের যে পরিমাণ উদ্ধার হইবে, তাহার উপর শতকরা ৩০ মুদ্রা হিসাবে কমিশন পর্য্যন্ত প্রদত্ত হইবে।
“মর্নিং ক্রণিকেল” পাঠে জানা গেল যে, ঘটনার দিন ভদ্রবেশধারী, আচারে ব্যবহারে সুমার্জ্জিত একটি লোককে ব্যাঙ্কের নোট পরীক্ষা করিতে দেখা গিয়াছিল। তাহার পরিচ্ছদ ও আকৃতির বর্ণনা গোয়েন্দাদিগকে দেওয়া হইয়াছিল বলিয়াই, ব্যাঙ্কের কর্ত্তাগণ বিশ্বাস করিয়াছিলেন, চোর অবশ্যই ধরা পড়িবে। সংবাদপত্রসমূহে এই বিষয় লইয়া তখন নানারূপ আন্দোলন চলিতেছিল।
মিঃ রাল্ফ ভাবিয়াছিলেন, পুরস্কারের লোভে গোয়েন্দাগণ নিশ্চয়ই প্রাণপণে চেষ্টা করিবেন। তাহা হইলেই দস্যু ধৃত হইবে। আল ষ্টুয়ার্টের যুক্তি-তর্ক অন্যরূপ ছিল। হুইষ্ট খেলিতে খেলিতে তাই তাঁহাদিগের মধ্যে এই বিষয়ের আলোচনা চলিতেই লাগিল। ষ্টুয়ার্ট কহিলেন—“চোর যে একজন চতুরচূড়ামণি, তা’ বেশ বোঝাই যাচ্ছে। আমার ত বিশ্বাস, সে নিশ্চয়ই পালাবে।”
রাল্ফ কহিলেন, “পালাবে ত—কিন্তু কোথায় যাবে বলুন দেখি?”
“হুঁ! কোথায় আবার যাবে, স্থানের কি অভাব আছে!”
“আচ্ছা, বলুনই না, কোথায় যাবে।”
“তা আমি জানি না। তবে পৃথিবীটা ত আর এতটুকু নয়! পালাবার স্থানের আবার ভাবনা।”
ফিলিয়াস্ ফগ ফ্ল্যানাগানের হস্তে তাস দিয়া কহিলেন, “কাটুন,” তাহার পর মিঃ ষ্টুয়ার্টের কথার উত্তরে অনুচ্চস্বরে কহিলেন, “এককালে পৃথিবীটা বড়ই ছিল―এখন আর সে দিন নাই।”
কেহ সে কথা তখন ততটা গ্রাহ্য করিলেন না। এক বাজী শেষ হইলে পর ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “এক কালে বড় ছিল মানে কি? পৃথিবী কি এখন ছোট হ’য়ে গেছে না কি?”
রাল্ফ কহিলেন, “নিশ্চয়ই তাই। একবার পৃথিবীটা ঘুরে আসতে এখন যে সময় লাগে, আগে তার দশগুণ বেশী লা’গত। তবেই ত পৃথিবী ছোট হয়েই গেল। এই জন্যই এখন চোরের সন্ধান সকালে সকালে হবে। সে পালাবে কেমন ক’রে?”
ফগ কহিলেন, “মিঃ ষ্টুয়ার্ট! খেলুন, এবার আপনার পালা।”
ষ্টুয়ার্টের তখন খেলার দিকে মন ছিল না। তিনি কহিলেন, “মিঃ রাল্ফ, এখন তিন মাসে পৃথ্বী ভ্রমণ সম্ভব ব’লেই কি পৃথিবীটা এতই ছোট হয়েছে যে, আপনি নিশ্চিন্ত হ’য়ে বসে আছেন?”
বাধা দিয়া ফগ বলিলেন, “তিন মাসে নয়—৮০ দিনে!” জন্ সলিভান কহিলেন “এ কথা ঠিক। রোটাস্ থেকে এলাহাবাদ পর্য্যন্ত গ্রেট ইণ্ডিয়ান পেনিন্সুলার রেলপথ খুলেছে। এখন ৮০ দিনেই পৃথিবী পর্য্যটন করা যায়। এই দেখুন না, “মর্নিং ক্রণিকেলে” লিখেছে—
মন্ট সেনিস্ এবং ব্রিন্দিসি দিয়া রেল ও ষ্টীমারে
| লণ্ডন হইতে সুয়েজ বন্দর | ... | ... | ৭ দিন |
| ষ্টীমারে সুয়েজ হইতে বোম্বাই | ... | ... | ১৩ দিন |
| রেলে বোম্বাই হইতে কলিকাতা | ... | ... | ৩ দিন |
| ষ্টীমারে কলিকাতা হইতে হংকং | ... | ... | ১৩ দিন |
| ষ্টীমারে হংকং হইতে ইয়োকোহামা | ... | ... | ৬ দিন |
| ষ্টীমারে ইয়োকোহামা হইতে সান্ফ্রান্সিস্স্কো | ... | ... | ২২ দিন |
| রেলে সান্ফ্রান্সিস্কো হইতে নিউইয়র্ক | ... | ... | ৭ দিন |
| রেল ও ষ্টিমারে নিউইয়র্ক হইতে লণ্ডন | ... | ... | ৯ দিন |
| মোট | ৮০ দিন |
দিনের হিসাব করিতে করিতে খেলার কথা বিস্মৃত হইয়া মিঃ ষ্টুয়ার্ট একখানি ভুল তাস খেলিয়া বলিলেন, “হাঁ ৮০ দিনই বটে! কিন্তু ঝড়-তুফান, জাহাজডুবি, রেল-সংঘর্ষ, মুখোড় বাতাস এ সব ত আর ও হিসাবে, ধরা নাই।”
থেলিতে খেলিতে মিঃ ফগ কহিলেন, “সে সব ধ’রে বৈ কি।”
“সে সব ধ’রেই! মনে করুন, যদি আমেরিকাবাসী ইণ্ডিয়ানেরা পথ থেকে রেল উঠিয়ে রাখে, কি ট্রেণ থামিয়ে লুট-পাট করে, কি চলন্ত ট্রেণে লাফিয়ে উঠে যাত্রীদের আক্রমণ করে, তা’ হলেও—
ধীরভাবে মিঃ ফগ উত্তর করিলেন, “হাঁ, তা হ’লেও বৈ কি! এই দেখুন, দুখানা রং আমার হাতে! এ বাজী আমার।”
মিঃ ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “কি জানেন মিঃ ফগ, কাগজপত্রের হিসাবে হয় ত আপনার কথাই ঠিক হতে পারে। কিন্তু হাতে কলমে করতে গেলে—”
“মিঃ ষ্টুয়ার্ট হাতে কলমেও ঐ হিসাব ঠিক।”
“আমার ইচ্ছা হয় যে, আপনি একবার করে দেখান।”
“সে ত আপনার উপরেই নির্ভর করে। চলুন না, দু’জনে এক সঙ্গেই যাই।”
“ধর্ম্ম রক্ষা করুন! এমন একটা অদ্ভুত পর্য্যটন বর্ত্তমান অবস্থায় অসম্ভব। আপনি যদি ক’রতে পারেন, আমি ৬০ হাজার টাকা দিব।”
“আপনার বড় ভুল হচ্ছে মিঃ ষ্টুয়ার্ট, এ পর্য্যটন খুবই সম্ভব!”
“বেশ ত। আপনিই তবে করুন না কেন?”
“৮০ দিনে পৃথিবীটা ঘুরে আসা—কেমন এই ত?”
“হাঁ।”
“বেশ, আমিই যাব।”
“কবে?”
“এই দণ্ডেই—তবে আগে বলে রাখি সমস্ত খরচ আপনার।”
ফগের দৃঢ়তা দেখিয়া ষ্টুয়ার্ট একটু বিরক্ত হইতেছিলেন। বলিলেন,—“এ সব বাজে কথা! আসুন, খেলা যাক।”
আপনিই তবে আরম্ভ করুন—সেবারে আপনি ভুল তাস দিয়েছিলেন।”
আন্দ্রু ষ্টুয়ার্ট খেলিবার জন্য তাস কুড়াইয়া লইয়াই পুনরায় উহা টেবিলের উপর রাখিয়া কহিলেন, “দেখুন মিঃ ফগ, আপনি যদি প্রস্তুত থাকেন, আমি সত্যই ৬০ হাজার টাকা বাজী ধ’রবো।”
কথা শুনিয়া ফলেণ্টিন্ কহিলেন, “ষ্টুয়ার্ট ভায়া, আর হাসিয়ো না। এ যে ঠাট্টা তা কি বুঝ্তে পারছো না?”
সুদৃঢ়কণ্ঠে ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “আমি যখন বলেছি—বাজী ধরবো, তখন কিছুতেই সে কথা মিথ্যা হবে না।”
ফগ কহিলেন, “বেশ ভাল। আমিও পশ্চাৎপদ নই। বারিংএর গদীতে আমার তিন লক্ষ টাকা জমা আছে। আমিও তবে সেই টাকাই বাজা ধরচি।” সলিভান্ আশ্চর্য্যান্বিত হইয়া কহিলেন, “তিন লক্ষ টাকা বাজী! একটু সামান্য কিছু গোলযোগ ঘটলেই ত আপনার সমস্ত টাকা যাবে। পথে কত বিঘ্ন আছে। এখন বুঝতে পারা যাচ্ছে না, কিন্তু তেমন সামান্য কিছু একটা—”
প্রত্যুত্তরে মিঃ ফগ কেবল কহিলেন, “অদৃষ্টপূর্ব্ব এমন কিছুই ঘটতে পারে না।”
“এই যে ৮০ দিনের হিসাব, এর চেয়ে কমে কিন্তু পৃথিবী ভ্রমণ সম্ভব নয়।”
“বেশ ত। ঠিক মত ধরতে পারলে কমেই কার্য্য সিদ্ধি হয়।”
“আপনাকে বহুবার ট্রেণ থেকে ষ্টীমারে, ষ্টীমার থেকে ট্রেনে উঠানামা ক’রতে কবে। একটু দেরি হলে ত চলবে না।”
“আমার দেরিই হবে না!”
“আপনি নিশ্চয়ই ঠাট্টা কর্ছেন।”
“ঠাট্টা! একজন খাঁটী ইংরাজ বাজী ধরে’ কখনো ঠাট্টা করে না। আপনাদের যাঁর-তাঁর সঙ্গে আমি তিন লাখ টাকা বাজী ধ’র্তে প্রস্তুত আছি যে, আমি ৮০ দিনে কিংবা তার চেয়েও কমে পৃথিবী পরিভ্রমণ কর্বো। ৮০ দিনে অর্থাৎ ১৯২০ ঘণ্টায় কিংবা ১১৫২০০ সেকেণ্ডে! আপনারা স্বীকার আছেন?”
সকলে পরামর্শ করিয়া কহিলেন, “হাঁ স্বীকার।”
“বেশ, ডোভার মেল ৮.৪৫ মিনিটে ছাড়ে। আমি তাতেই যাত্রা করবো।”
ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “কি, আজই সন্ধ্যায়?”
“হাঁ আজই, সন্ধ্যায়। আজ ২রা অক্টোবর, বুধবার। ২১ ডিসেম্বর শনিবার পৌনে ন’টার সময় আমি লণ্ডনের এই কক্ষে এসে উপস্থিত হব। যদি না পারি, তবে বারিংএর গদীতে আমার যে তিন লক্ষ টাকা গচ্ছিত আছে, সে সমস্তই আপনাদের হবে। এই নিন, সে টাকার চেক রাখুন।”
তন্মুহূর্ত্তেই বাজীর সর্ত্তগুলি লিপিবদ্ধ করা হইল। উভয় পক্ষেই সেই পত্রে স্বাক্ষর করিলেন।
ফিলিয়াস্ ফগ তখনো ধীর, স্থির, অচঞ্চল। তিনি জানিতেন, তাঁহার যথাসর্ব্বস্ব ছয় লক্ষ মুদ্রা। এই অদ্ভুত ভ্রমণ-ব্যাপারেই তাহার অন্ততঃ অর্দ্ধেক বার হইয়া যাইবে; তাই তিনি তিন লক্ষ মুদ্রা বাজী ধরিয়াছিলেন। তাঁহার বন্ধুগণ অত্যন্ত চঞ্চল হইয়া উঠিলেন। সে চাঞ্চল্য অর্থের জন্য নহে। এমন অবস্থায়, এমন বিষয়ে বাজী ধরিলে আপনা হইতেই যেন বক্ষ কম্পিত হয়।
মিঃ ফগ তখনও তাসই খেলিতেছিলেন! দেখিতে দেখিতে সাতটা বাজিল। সকলে বলিলেন, “আর না, এখন খেলা বন্ধ হোক্। মিঃ ফগকে পৃথিবী পর্য্যটনের জন্য প্রস্তুত হ’তে হ’বে।”
খেলিতে খেলিতে ফগ কছিলেন, “আমি ত প্রস্তুতই আছি।”