ইয়ুরোপে তিন বৎসর/চতুর্থ অধ্যায়

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

চতুর্থ অধ্যায়। লণ্ডন নগর , ১৮৬৯ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর হইতে ১৮৭০ সালের ১৫ই জুন পর্য্যন্ত । সে দিন এমন ঘন কুজ ঝটিকাজালে লণ্ডন নগর আচ্ছন্ন হইয়াছিল যে, চারি হস্ত দূরস্থ কোন পদার্থই দেখিতে পাওয়া যায় নাই, এমন কি পথের এক ধার হইতে অন্য ধারে যাওয়৷ কঠিন হইয়াছিল। গৃহে প্রত্যাগমন কালে আমরা পথভ্রান্ত হইয়াছিলাম। কিয়ং হস্ত দূরস্থ আলোকও নয়ন গোচর হয় না এবং কুহা ও তিমিরজাল জড়িত গ্যাসদীপের নিস্তেজ জ্যোতিঃ অতি নিকটবৰ্ত্তী হইলেই ক্রমশঃ নয়নগোচর হয় । 彙 導 喇 齋 বিগত ৫৬ দিবস পর্যন্ত অতি প্রচণ্ড শীতের প্রাদুর্ভার হইয়াছে, প্রায় প্রতিদিন বরফ পড়িতেছে, এবং পথ ঘাট গৃহ বৃক্ষাদি সমস্তই শ্বেতবর্ণ ধারণ করিয়াছে। সরলীর জল জমিয়া গিয়াছে ও তদুপরে কত লোকে যাতায়াত ও খেলা করিতেছে। মনে মনে ভাবিয়া দেখুন একটা অতি বৃহৎ জলাশয় বরফে জমিয়া দৃঢ় হইয়াছে ও শত শত লোক লোহার জুতা পরিয়া কখন সমান ভাবে কখন গোলাকারে কখন বা বক্র ভাবে বরফ কাটিয়া বেগে পরিভ্রমণ করিতেছে। তাহাদিগের গমনের বেগ ও কৌশল দেখিলে চমৎকৃত হইতে হয়। শুনিলাম কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বে একটা সরোবরের জল এইরূপে জমিয়া গিয়াছিল ও তাহার উপর অনেক লোকে এই প্রকার খেলা করিতেছিল, অকস্মাৎ সেই বরফক্ষেত্র ভাঙ্গিয়া যাওয়াতে প্রায় তিন শত মনুষ্য জলমগ্ন হইয়া কালকবলে পতিত হইয়াছিল। তথাপি সকলে এই খেলায় এত আসক্ত যে, যে ব্যক্তি সেই দিবস ডবিয়া মরিতে মরিতে অতি কষ্ট্রে জীবন রক্ষা করিয়াছিল, সেই কহিয়াছিল যে, যদি দুর্ঘটনার পর দিন আবার জল জমিয়া যাইত, সে অবশ্যই আবার খেলা করিতে গমন করিত। তুষারপাত দেখিতে অতি সুন্দর ; সমস্ত নভোমণ্ডলে যেন রৌপ্যখণ্ড ভাসিয়া বেড়ায় ও ধীরে ধীরে ধরাভিমুখে পতিত হইতে থাকে । 彎 準 豪 彎 পূৰ্ব্বকালে ইংলণ্ডের লড সম্প্রদায়ের (aristocracy) লোকের শান্তির সময় ব্যবস্থাপক ও যুদ্ধবিগ্রহের সময় সেনাধ্যক্ষ হইতেন। সে কালে কাযে কাযেই তাহারণ সম্মান-ভাজন হইতেন ; কিন্তু সে কাল তার নাই। তাহাদিগের ক্ষমতা ক্রমে হ্রাস প্রাপ্ত হইতেছে, তথাপি সাধারণ লোকে তাছাদিগকে পূর্ববৎ সম্মান করিতে ত্রুটি করে না এবং মধ্যম শ্রেণীর লোকাপেক্ষ সামাজিক প্রভতায় ও চিত্তেীংকর্ম বিষয়ে তাহার। অপকৃষ্ট হইয়াও ইংলণ্ডের মধ্যে শ্রেষ্ঠবংশীয় বলিয়। আদৃত হইয়া আসিতেছেন। এই অপকৃষ্টতার কারণ দুষ্প্রাপ্য নছে । মধ্যবৰ্ত্তী লোকেরা এমত অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করে যে, তাহাদের পরিশ্রমী ও যত্নশীল ন হইলে চলে না। আপন আপন অবস্থা উন্নত করিতে ও যশংখ্যাতি লাভ করিতে তাছাদিগকে পরিশ্রম করিতে হয়। তাহাদিগের অভ্যুদয়াকাজাও আছে এবং তাহারা যে অবস্থায় লালিত পালিত হয়, তাহা আলস্য ও ঔদান্তের অবস্থা নহে। এদিকে উচ্চবংশীয় লোকেরা ধন মান লইয়া জন্ম গ্রহণ করেন, এবং তন্নিমিত্তেই নিবেধি লোকের পূজনীয় হয়েন। যেরূপ কৰ্ম্ম কার্য ও ভাবনা চিন্তা থাকিলে চিত্তের উৎকর্ষতা সম্পন্ন হইতে পারে, তাছা তঁাহাদের নাই ; কেবল অর্থ ও অভিযান আছে। অতএব ইছা আশ্চর্য্যের বিষয় নহে যে, তাহারা ধনাধিকা ও বিলাস-পারিপাট্য ব্যতীত আর সকল বিষয়েই মধ্যমশ্রেণীয় জনাপেক্ষ। অনেক निकृठे । উচ্চবংশীয়েরা বুঝিয়াছেন যে, তাহাদিগের প্রভ দিন দিন খৰ্ব্ব হইয়া আসিতেছে ও আর্য সভার আর পূর্ববৎ ক্ষমতা নাই; কিন্তু তাছা জানিয়া কি করিবেন এবং যে সাধারণ উন্নতি ও স্বাধীনতা ইউরোপে দিন দিন বৃদ্ধি পাইয়া লোকের হিতসাধন করিতেছে, তাহার বিরুদ্ধাচরণ করিয়াই বা কি করিবেন ? তাহারা অগত্যা বাহ সম্মানে সন্তুষ্ট হইতেছেন। ইংলণ্ডের সৰ্ব্বোচ্চশ্রেণীর কথা এই পর্যন্ত বলিয়৷ সৰ্ব্বনিম্নশ্রেণীস্থ অর্থাৎ শূ মোপজীবী লোকদিগের কথা কিছু বলিতেছি। আমি আপনাকে বারম্বার বলিয়াছি যে, এক জন বিদেশীয় লোক ইংলণ্ডে আসিলে সৰ্ব্বত্রেই স্বাধীনতার ও সৃাবলম্বনের ভাব জাজ্জ্বল্যমান দেখিয় চমৎকৃত হয়। ইংলণ্ডীয় ভূত্য ও শমীদিগেরও সাতিশয় আত্মমর্যাদা ও সৃাধীনতা আছে, তন্নিমিত্তে প্ৰভু ভৃত্যের প্রতি এত সদ্ব্যবহার করিয়া থাকে যে, পূৰ্ব্বদেশে কেহ সেরূপ দেখে নাই ও শুনে নাই। এখানকার ভৃত্যগণ ভক্তি সহকারে উত্তমরূপে কাৰ্য্য করবে, কিন্তু তোষামোদ বা মৃনতা স্বীকার ক্ষরিবে না ; কারণ ভোযামোদ তাহার চুক্তির মধ্যে নাই । এই স্বাধীনতা তাহাদিগের অনেক সদগুণের প্রসূতি সরূপ হইয়াছে। কারণ অতি কঠিন দুপালনীয় নিয়মাস্বলীর কিঞ্চিম্মাত্র অন্যথাচার হইলেই যদি দণ্ড প্রাপ্ত হইতে হয়, তবে লোকে শাস্তির ভয়ে অগত্য মিথা বলিতে ও ওজর করিতে শিখে । মিথ্যা, চাতুরী ও ভীরুতা, পরাধীনতার সহচর , সত্য, সারল্য ও সাহস স্বাধীনতার সঙ্গী। কিন্তু এই সমস্ত সদ্‌গুণ থাকাতেও ইংলণ্ডীয় নিম্ন-শ্রেণীস্থ লোকদিগের চরিত্র কতিপয় বিষম দোষে দূষিত। তাহাদিগের মধ্যে স্বরাপান ও কলকপীড়ন অত্যন্ত প্রবল, তাহাদিগের স্বাধীনতা অনেক সময়ে উগ্রতায় পরিণত হয়, এবং অমিতবায়িত জন্য তাহারা দরিদ্রতা-নিবন্ধন মহা ক্লেশ ভোগ করিয়া থাকে । ইংলণ্ডের মধ্যে ইহারাই কেবল অশিক্ষিত এবং স্ব স্ব অবস্থার শ্ৰীবৃদ্ধি সাধন করিতে অসমর্থ, তন্নিমিত্তে ইংলণ্ডীয় সকল শ্রে৭ীস্থ লোকদিগকে শিক্ষাদান করণোদেশে নানা উপায় অবলম্বিত হইতেছে । বিদ্যা ও বিষয়-বোধাভাবে এই সকল লোকদিগের মধ্যে যে যে দোষ জন্মিয়াছে, তন্মধ্যে অগ্র পশ্চাৎ না ভাবিয়া দারপরিগ্রহ করা এক অতি প্রধান দোষ । ইংলণ্ডে উচ্চ ও মধ্য শ্রেণীর লোকের আত্মাভিমান থাকাতে তাহার স্ত্রী পরিবারের সমুচিত ভরণ-পোষণের উপায় অগ্রে না করিয়া উদ্ধাহ-শৃঙ্খলে বদ্ধ হয় না। নীচ লোকের মধ্যে এ বুদ্ধি নাই, সুতরাং তাহারা তন্নিমিত্তে বিষময় ফল ভোগ করে। লণ্ডন নগরের যে শ্রমী বহুপরিবার-বেষ্টিত, সে উচ্ছ স্থলস্বভাবাপন্ন হইলে তাহার পৈশাচিক নিষ্ঠ রত কোন পাষাণহৃদয়কে বিদীর্ণনা করে? তাহা দিগের বাসস্থলে প্রবেশ করিলে দেখা যায়, একটা ধূম-কলুমিল্ক অপ্রশস্ত পথের পার্থে একটি ক্ষুদ্র ঘরে এক পরিবারস্থ অনেক গুলি লোক একত্রিত হইয়৷ রহিয়াছে ;–বৃদ্ধ মাত পঞ্চদশবৰ্ষীয়া যুবতী কন্যা হইতে ক্ৰৌড়স্থ শিশু-সন্তান পৰ্য্যন্ত লইয় সেই অতি ক্ষুদ্র জঘন্য ঘরটিতে ঘেষাঘেষি করিয়া বসতি করি তেছে ; কাচের ভগ্ন কবাট প্রচণ্ড শীতানিল নিবারণে অসমর্থ অতি প্রয়োজনীয় আহার, অত্যাবশ্যক বস্ত্র, ও সুখসেবা বঙ্কি অভাবে তাহারা যে বিসদৃশ দুঃখভোগ করে, তাহ অস্মদেশঃ নিতান্ত নিঃস্ব লোকের দ্বারের নিকটেও যাইতে পারে না । কিরূপে সেই বৃহৎ পরিবার প্রতিপালন করিবে, তাহা ভাবিয় গৃহগামী দশ দিক শূন্যময় দেখে। এবং ক্রমাগত এইরূপ দরিদ্রতা নিবন্ধন কষ্ট্ৰভোগ করিয়া তাহার হৃদয় পাষাণ সমান হইয় উঠে ও সে আপন গৃহে মুখ না পাইয়া অন্যস্থানে মুখ ন্বেষণে গমন করে । সে স্থান কোথায়? কেন, লণ্ডন নগরেতে সুরাপানের স্থানের অভাব নাই ; সে স্থান গ্যাসের আলোকে সমুজ্জ্বল, তথায় উত্তম আসন আছে ও সুখসেব্য বহি আছে। সেই খানে দীনদুঃখী মজুরগণ মদ্যপান করিতে আকৃষ্ট হয়, ও দৈনিক অল্প উপার্জন হইতে চিন্তানিবারিণী সুরাপানে কিছু কিছু ব্যয় করে, এবং ক্রমে গৃহত্যাগী হইয়া প্রকৃত মাতাল হইয়া উঠে। তাহার পর কি করে ? আহা ! যে ভয়ঙ্কর কাণ্ড করে, তাহা বর্ণনা করাই দুঃসাধ্য ; সুরাপান করিলে মনুষের হৃদয়স্থ সমস্ত পৈশাচিক প্রবৃত্তি উত্তেজিত হয়। নিরমী স্ত্রী ও ক্ষুধান্ত সন্তানগণের হৃদয়-বিদীর্ণকারী হাহাকার শব্দে বিরক্ত ও জ্বালাতন হইয়া স্বরাপানোন্মত্ত গৃহসুমী বিষম নিৰ্দ্দয়ত৷ প্রকাশ করিতে আরম্ভ করে; এই সকল গৃহে মৃত্যু সতত অতিথি । কুপরিচ্ছদ ছোট ছোট বালকবৃন্দ ভাবি সাংসারিক সুখে জলাঞ্জলি দিয়া পথের ভিখারী হইয়া পথিকগণের নিকট দুই এক পয়সা, ভিক্ষা পাইয়া প্রদীপ্ত জঠরানল কথঞ্চিৎ নিৰ্ব্বাণ করে । মাছ। বর্ণনা করিলাম, তাহ অত্যুক্তি জ্ঞান করিবেন না, তবে এই মাত্র বলা উচিত যে, লণ্ডনের সকল মজুরের এরূপ নছে। তাহাদিগের মধ্যে যাহারা অতি মন্দ, উল্লিখিত বিবরণে 'তাছদিগকেই লক্ষ্য করা গিয়াছে। পল্লীগ্রামস্থ শৃ মীগণের অবস্থা কিছু ভাল, তাহাদিগের মধ্যে স্বরাপান যে নাই, এমন কথা বলা যায় না। তবে তাছা তত অধিক নহে, এবং নগরের লোক তাহাতে আসক্ত হইয়৷ যে পরিমাণে সুপরিবারের মুখ দুঃখ নিরপেক্ষ হয়, পল্লীগ্রামস্থ লোকেরা কোন ক্রমেই তদ্রুপ হইতে পারে না। তথাকার কোন ভবনে যদৃচ্ছাক্রমে প্রবেশ করিলে, যাহা দৃষ্টিগোচর হয়, তাহা লোচনানন্দদায়ক সন্দেহ নাই । দেখা যায়, মাত সন্তানগণ লইয়া অবিসম্বাদে বাস করিতেছে, এবং দীনভাবাপন্ন হইলেও বালক বালিকাগণের আস্যদেশ সৃাস্থ্যজনিত স্বরঙ্গে রঞ্জিত রহিয়াছে। তাহার। সচরাচর রুটি ও পনির এবং সপ্তাহ মধ্যে দুই কি তিন দিন মাত্র মাংস খাইতে পায়। ইংলণ্ডের কোন বোন স্থানে পল্লীগ্রামস্থ কৃষকপত্নীগণ একটা শূকর শবিক ক্রয় করিয়া তাহাকে যত্নে প্রতিপালন করে, এবং যখন সে বিলক্ষণ হৃষ্টপুষ্ট হয়, তখন তাহাকে বধ করিয়া তাহার মাংস সযত্নে রাখিয়া দেয়, এবং সময়ে সময়ে তাহা হইতে এক এক ক্ষুদ্র টুকরা কাটিয়া লয়; এই মতে একটা শূকরশাবক সমস্ত পরিবারকে বর্ষাবধি মাস যোগাইয় থাকে, এতদ্ভিন্ন তাহার প্রায় অন্য মাস ক্রয় করিতে পারে না। ইংলণ্ডের ভূস্বামীর অম্মদেশীয় ভূম্যধিকারীগণ অপেক্ষ স্বশিক্ষিত ও ভাল লোক বলিয়া বিপংকালে প্রজাগণ তাহাদিগের সাহায্য ও আনুকূল্য প্রার্থনা করে, এবং তাহাদিগের প্রার্থন প্রায়ই | নিষ্ফলা হয় না। প্রতি রবিবারে সুবেশ গ্রাম্য লোক ও তাহদিগের বিকসিতকুসুম-সদৃশ কন্যাগণকে ভূস্বামী সহ গিজ। ঘরে সমবেত হইতে দেখা যায়। তাহ দেখিলে অন্তঃকরণে " বিশুদ্ধ সুখের সঞ্চার হইয়া থাকে। 離 豪 豪 嫌 সে দিন অক্সফোর্ড ও কেম্বি জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণের বাইচ খেলা দেখিতে গিয়াছিলাম। যাহারা এরূপ বাইচ খেলা সূচক্ষে দর্শন না করিয়াছেন,তাহারা অনুভব করিতেপারিবেন না যে, ইংলণ্ডের লোকেরা এই বাৎসরিক পর্বে কি পরিমাণে আমোদ ও উৎসাহ প্রকাশ করে । এই কাযে পিলক্ষে টেমস নদীর উভয় কুলে দৃষ্টিপথ পর্যস্তি কেবল মনুষারণ্য ভিন্ন আর কিছুই দেখিতে পাওয়া যায় না। নৌকা সকল সঙ্কীর্ণ ও যুদীর্ঘ করিয়া নিৰ্মাণ করে—এবং তীরসদৃশ বেগে জলের উপর দিয়া তরতর শব্দে যেন উড়িয়া যায়। কেন্থি জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণ উপরি উপরি নয় বৎসর পরাজিত হইয়৷ এবার জয়লাভ করিয়াছে। 灘 濤 擊 籌 এদেশে সাধারণের হিতকার্য যে, কত প্রকারে সম্পাদিত হয়, তাহ। কিরূপে জানাইব? এক লণ্ডন নগর মধ্যে দরিদ্র-শালায় প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার লোক প্রতিপালিত হইতেছে। তদতিরিক্ত অগণ্য অনাথ-নিবাস ও চিকিৎসালয় আছে । ইংলগু দেশ সৰ্ব্ব দেশ অপেক্ষা ধনশালী এবং তাহার বদান্যতাশক্তি ঈদৃশী যে, তুলনায় কেবল আমেরিকা তাহার সমতুল্য বলিলে বলা যায় । 臺 藝 船 寧 柬 船 ইংলণ্ডের বদান্যতা ও বঙ্গদেশের বদান্যতা ভিন্ন প্রকার। ইংলণ্ডীয় সমাজে যে স্বাধীনতা আছে, বঙ্গসমাজে তাছা নাই । ইংলণ্ডে দানশক্তি পরিমিত ও নির্দিষ্ট পথেই পরিচালিত হইয়া থাকে। বঙ্গদেশে পরোপকার গুণ অজস্র, ও তদেশীয় বেগবতী নদীজলের ন্যায় সৰ্ব্বত্র প্লাবিত করে ও কোন প্রকার নিয়ম মানে না। ইংলণ্ডীয়েরা পর-দুঃখ দূর করিয়াই সন্তুষ্ট হয়। বাঙ্গালীরা দীন জনকে স্বজননিবিশেষে যুগপৎ করুণা ও স্নেহ দিয়া সন্তুষ্ট করে। এক জন ইংরাজ স্ট্রীয় দাতব্য দানাগারে প্রেরণ করিয়া নিশ্চিন্ত থাকে, বাঙ্গালীরা তদ্রুপ নয়। তাহাদিগের মধ্যে সূধৰ্ম্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ অতি দরিদ্র হইলেও ভিক্ষককে মুষ্টিভিক্ষা দিতে কাতরতা অনুভব করে না, এবং অতি দূর জ্ঞাতি-কুটুম্বকেও নিজ ব্যয়ে ভরণপোষণ করিয়া থাকে। সমৃদ্ধিশালী ইংলণ্ডদেশে দারিদ্র্য নিবন্ধন যত দুঃখ ও ক্লেশ আছে, দরিদ্র বঙ্গদেশের অতি নীচ শ্রেণীর মধ্যেও তত দেখা যায় না; তাহার এক মাত্র কারণ বাঙ্গালী জাতির স্বাভাবিক দয়া ও বদান্যতা। বাঙ্গালীদিগের এরূপ স্বাবলম্বন শক্তি জন্মে নাই, যদ্বারা তাহারা প্রতিবাসীগণের সাহায্যনির পেক্ষ হইয়। জীবনযাত্ৰ নিৰ্ব্বাহ করিতে সমর্থ ; স্বতবাং তাহার সততই পরস্পর পরস্পরের উপকারার্থে কার্য্য করিতে বাধা হয়, এবং তগ্নিমিত্তে সমাজবন্ধনী সুকুমার মনোবৃত্তি সমুদায় সমধিক উৎকর্মিত হইয়া থাকে। ইংরাজের স্বাবলম্বী লোক, অনোর কি হইবে তাহা দেখে না, এবং অন্যকৃত সাহায্যও চাহে না। অগত্য সে স্বতন্ত্র হইয় থাকে, এবং যদি তাহাদিগকে কেহ কিছু উপকার করে, তবে তাছার সেই উপকার নিতান্ত অসস্তাবিত জ্ঞানে কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করে । 嫩 條 擎 兼 弊 蓬 সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ভূয়সী দয়া ও পরোপকারিত গুণ কি সম্মিলিত হইতে পারে না ? অামার বোধ হয় যে, কোন জাতির সৃাধীনতাকে যথাবিহিতরূপে বিকশিত করিতে চাহিলে সামাজিক বৃত্তি সমুদায়কে কিয়ৎপরিমাণে জলাঞ্জলি দেওয়া প্রয়োজনীয় ; কিন্তু এরূপ প্রয়োজন অতি শোচনীয় | এখানে জারজ ও অনাথ-সন্তানগণের পালনার্থে একটি গৃহ আছে। আমি তথায় সৰ্ব্বদাই গিয়া থাকি। এই দুঃখী সন্তানগণ মাতাকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়াতে তাহারা এখানে ভরণ পোষণ ও শিক্ষা প্রাপ্ত হয় ; তাহার উদ্দেশ্য এই যে, ইহার বয়ঃপ্রাপ্ত ও শিক্ষিত হইয়া সৎপরিশ্রমের দ্বারা যথাকথঞ্চিংরূপে স্ট্রীয় জীবনযাত্রা নিৰ্বাহ করিবেক । এই গৃহের সংলগ্ন একট। গির্জা ঘর আছে, তথায় অনাথ বালকবালিকার প্রতি রবিবারে আসিয়া উপাসনা করে। তাছাদিগের তদিবসীয় পরিষ্কার পরিচ্ছদ দেখিলে ও চিকণ সূরে ধৰ্ম্মবিষয়ক গান শুনিলে সাতিশয় আনন্দ অনুভূত হয় ; এবং উপাসনান্তে তাহাদিগকে একত্রে সামান্যরূপ অনুাহার করিতে দেখিলে অধিকতর আনন্দ জন্মে। এই বিষয়ে আমি একটা কবিতা লিখিয়াছি, তাহা আপনাকে পাঠাইতেছি । অনাথ শিশুদিগের ধৰ্ম্ম-সঙ্গীত । সুন্দর পুতলী সম তোমরা সকলি । কে দিল ত্বদীয় কণ্ঠে কোকিল কাকলী ৷ ধন্মের সঙ্গীত গা ও অাধ আtধ স্বরে । স্বর্গের বালক যেন মৰ্ত্ত্যের উপরে ॥ পাপে নহে কলুষিত শুদ্ধমতি ঘেই । কিশোরের অস্তরের স্বতঃ ভfব এই ॥ আপনি উদয় হয় বাধা নাহি মানি । পবিত্র অন্তর হতে যেন প্রতি ধ্বনি ॥ সেইরূপে পাধিগণ সুমধুর স্বরে । নিজ थू मध्नाडाद প্রকাশিত করে ॥ সেইরূপে রজনীতে কানন রসিয়া । মনোমুখ দুঃখ গায় নিকুঞ্জ মোহিয়া । সুন্দর বালকগণ ত্বদীয় বদন । বাসস্তী ফুলের কাস্তি প্রিয়-দরশন ॥ যতবার ,দখি অারে। দেখিবারে চাই । হেন মনোলোভা শোভা আর কোথ। পাই ॥ কিশোরের অস্তুরের ভাব যে সকল । উজ্বল কfরছে মৃদু বদন কমল ৷ ক খন সে মুখ-ছবি মলিন ছায়ায় । ৰহু হাস্তে সমুজ্জ্বল তরুণার্কপ্রায় । श5ि कलश उद सौ६tन छश्८िद । সরমের জন্ম কথা ‘হাদয়ে জাগিবে ৷ যদিচ শৈশবে দুখ সমীরণ ক্রয়। শুষ্কপ্রায় কোরেছিল জীবন-অঙ্কুর । তথাপি কুপান্ত, জেনো হবে কিছু দিনে । কৃপণের স্বপ্নাধিক পাইবে দ্রবিণে । অস্বেয ধৰ্ম্মের কোষ সে ধনের তরে । যাহা সে সমান ভাবে সবারে বিতরে । সম্প্রতি মীর একটি কবিতা লিখিয়াছি, তাহাও আপনাকে পাঠাইতেছি। পিতার সমাধি স্থান । তিমির বসন পরি রজনী মাসিল । দলে দলে বিহঙ্গম নীড়ে প্রবেশিল ॥ মেষ পালে শোভা পায় পৰ্ব্বত-শিখর । পড়িছে সন্ধ্যায়, তথা, শিশির শীকর ॥ শব্দমাত্র নাহি আসে শ্রবণ-কুহুরে । নিদ্রাযোগে প্রাণিগণ শ্রম দূর করে । অনস্তর দেখি এক সমাধির স্থল । সন্ধ্যার তারক উদি করিল উজ্জল ॥ নিকটস্থ তরু-তলে হেরি তার পর । আলিঙ্গিত স্নেহভাবে ভগ্নী-সহোদর } তরুণ অরুণ আভ মুনীর যেমতি । মৃদু ভাবে তার দুটি মুনার তেমতি ॥ मदभगरौँछ। कन]] श्८रु कि मा श्८त । সম্যক জ্ঞানের দীপ্তি কভু ন সম্ভবে । কনিষ্ঠ তাহার ভ্রাতা; উজ্জ্বলবদন । শিশু শশি সম অতি মুরতি মোহন ৷ সুধাংশু উদয় হলে নিকুঞ্জ কাননে । কাদে যথা পরীকন্যা সকরুণ স্বনে ॥ সেই রূপ জ্ঞান হয় এই বালিকায় । কি স্বা হবে দেবকনা উদিত ধরায় ॥ প্রহরীর সম রয় এ সমাধিস্থলে । দীন-ভাব প্রকাশিছে নয়ন-কমলে ॥ তাহার অ্যানন চার করুণ।-নিধান । এ স্থানের যোগ্য৷ সেই, তার যোগ্য স্থান ৷ তরু আস্তরালে বাল দাড়াইয়া থাকি । আকাশের দিকে চায় ফিরাইয়া অ খি ৷ বাষ্পসমাকুল তার চারু নেত্রদ্বয় । ভক্তিরসে প্রেমরসে বিগলিত হয় ॥ হোতেছে রজনী ক্রমে তিমির-আবৃত । স্বনস্বনে শীত বায়ু হয় সঞ্চালিত ॥ চিত্র-পুত্তলিকা-প্রায় আছে দাড়া ইয়া । তমোময় আকাশের পানে নিরথিয় ॥ দাড়ায়ে নিকটে আছে শিশু সুকুমার । স্নেহ মালিঙ্গনে বদ্ধ স্বীয় সোদরার ॥ শিশু ভ্রাতা চাহে সদা ভগ্নী মুখ-পানে । সে তোষে ভ্রাতার মন ভালবাস। দানে } আহা এ জগতে আর এমন কি অাছে, তুলনায় তুল্য হয় এ ভাবের কাছে ? অনাথারে করিবারে প্রীতি-মধ্য দাম । প্রিয় ভগ্নী সম কে বা দেহের নিধান ৷ নিশির শিশির-সিক্স প্রভাত কমল । তঃপন সে শিশুর বদন উজ্জ্বল । হেরে ভগিনীর মুখ সতৃষ্ণ নয়নে । আরো ধীরে ধীরে যায় তার অঙ্ক পানে ॥ সোদর সোদর দেহে ক রয়ে ক্র নাম । উভে মিলি করে ঈশ্বরের মারাধন ॥ কেন কঁদে নাহি জানে অজ্ঞান সেদিব । না জানে যে পিতা এবে ত্যক্ত কলেবর। প্ৰেম ভরে করে বালা পুষ্প বরিষণ । সমাধির স্থানোপরি করিয়া যতন ॥ প্রতি রাত্রি বন-পুষ্প করিয়। চয়ন । সাজায় সমাপি-স্থল করিয়া যতন ॥ মোছাইল সোদরের সজল নয়ন । দোহে করে পরস্পর স্নেহ-মালিঙ্গন ॥ পরে ঘরে যায় ফিরে স্নেহাৰ্দ্ৰ অন্তর । অন্ধকারে ঢাকে নিশা নিজ কলেবর ॥ 簽 章 来 একদ। আমি অবৈতনিক সৈন্যদিগের যুদ্ধ-কৌশল দেখিবার মানসে ব্রাইটন নগরে গিয়াছিলাম। সেনাগণ দুই দলে বিভক্ত হইল। একদল সদাগত আক্রমণকারী, অপর দল রক্ষকের ভাবাবলম্বন করিল। তিন ঘণ্টা পর্যন্ত তুমুল সংগ্রাম হইল, পরে আক্রকণকারীরা তাড়িত হইয়া ক্রমে সমুদ্র-তীর পর্যান্ত পশ্চাদ্ধাবিত হইল ও পরিশেষে পরাজয় স্বীকার করিল। এই কৃত্রিম যুদ্ধ-ব্যাপার প্রত্যক্ষ করিলে প্রকৃত যুদ্ধ কি প্রকারে হইয়া থাকে,তাহ বিলক্ষণ হৃদয়ঙ্গম হয়। এবং আমি এই সমস্ত দিগ্রন্থ ব্যাপার অত্যন্ত আহলাদের সহিত সন্দর্শন করিয়াছিলাম । রাইটন সমুদ্রকুললন্ত একটি অতি সুন্দর নগর, এবং তথাকার সমূদ্র চুলের নিকটস্থ অট্টালিকা সকল প্রাসাদের ন্যায় স্থনিৰ্ম্মিত। ইংলণ্ডীয় উপকূলস্থ সমস্ত নগরের মধ্যে ব্রাইটন নগর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ও স্বরম্য স্থান এবং নির্দিষ্ট সময়ে তথায় । মহা লোকারণা হইয়া থাকে। এই সময়ে তথাকার জাকজমক শোভাসৌন্দর্য্য, আমোদপ্রমোদ, মধুর বাদোদাম, সুশোভন শকটের ঘর্ঘর শবদ ও অগণ্য বিলাসাবাস দেখিলে ও শুনিলে নবাগত ব্যক্তিমাত্রেরই এই প্রতীতি জন্মে যে, ইহাই সৰ্ব্বোভম রমণীয় স্থান ও ভোগ-বিলাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নিকেতন। এমন কি নন্দনকানন বলিলেও বলা যায় | 嶺 肇 燦 繳 棗 ব্রাইটন হইতে সমুদ্রতীরস্থ অতি সুন্দর ওয়ারদিং নগরে এবং তথা হইতে আরণ্ডেল নগরে গেলাম, এবং তথাকার অত্যন্ত প্রাচীন দুর্গ সন্দর্শন করিলাম। প্রহরীস্তম্ভ হইতে চতুর্দিকস্থ নানা স্থান নয়নগোচর হইল। তথা হইতে ওয়াইট নামক দ্বীপে উপস্থিত হইলাম । ইহা ইংলণ্ডের উপবন বলিয়। বর্ণিত হয়, কারণ তথায় উদ্ভিদগণ সতেজে জন্মে এবং পল্লীগ্রামস্থ সমস্ত শোভাই দেখিতে পাওয়া যায়। তথাকার ; অন্যান্য কতিপয় গ্রাম দেখিয়া লণ্ডন নগরে প্রত্যাবর্তন করিলাম । 繳 拳 জুন মাসের প্রথম দিবসে আমরা ডর বি নগরস্থ ঘোড়া দৌড় দেখিতে গিয়াছিলাম ) সামান্যতঃ যেরূপ ঘোড়াদৌড় হইয় থাকে, ইহা তদপেক্ষ কিছুই ভাল নছে ; কিন্তু লোকে তাহাতে যে কি পরিমাণে আমোদ ও ঔৎসুক্য প্রকাশ করিয়ু থাকে, তাহ বর্ণনা করিলে বোধ হয় কেহই বিশ্বাস করিবে না। ইংলণ্ডের সকল লোকে ইহাকে এক মহোৎসব জ্ঞান করে এবং এমন কেহই নাই যে, তাহাতে যৎপরোনাস্তি উল্লাস প্রকাশ ন করে। এই আমোদ দেখিতে যে কত লোক সমবেত হয়, তাহা গণনা করিতে শুভঙ্করের সাধা নাই ; কিন্তু সকল লোকেই যে ঘোড়াদৌড় দর্শনাভিলাষে আসে, এমত নহে ; · একদিন আমোদ করাই বিস্তর লোকের উদ্দেশ্য । লণ্ডন ও ডর বি নগরের মধ্যে রেলের গাড়ি প্রতি ঘণ্টায় যে কত বার গমনাগমন করে,তাহার ইয়ত্ত হওয়া কঠিন এবং ডরবি নগরে যাইবার পথ নানাবিধ শকটে একরূপ রুদ্ধ হইয়া যায়। এ সময় ইংরাজের সৃাভাবিক মৌনভাব পরিহার করিয়া যার পর নাই আমোদ করিয়া থাকে, এবং তাহাদিগের সে সময়ের পরিষ্কার পরিচ্ছদ ও পুলক-প্রফুল্ল সহান্ত বদন সন্দর্শন করিলে দর্শকের হৃদয় আহলাদে পরিপূর্ণ হয় ৷ ইতর আমোদেরও অভাব নাই । পুরুষের মুখস মুখে দেয়, কৃত্রিম নাসিক প্রস্তুত করে, পথিকগণের প্রতি মটর ছটায়, এবং বালকের নানা যুক্তির সং সাজিয়া বেড়ায় । সে দিবস এবম্বিধ তামোদেই অতিবাহিত হইয়া যায়। 攀 彙 臺 衛 ইংলণ্ডের পল্লীগ্রাম না দেখিয়া বিদেশীয়গণ যেন তদেশ পরিত্যাগ না করেন। আয়র লণ্ড যাইতে যাত্রা করিয়া পথমধ্যে আমি একজন জমিদারের সহিত তদীয় গ্রাম্য আবাসে কয়েক দিবস যাপন করিয়াছিলাম। এবম্বিধ স্থান নিতান্তই দর্শনোপযুক্ত। পরিষ্কার ও মুগঠন গৃহ, পরিসর বারাও ও নিকটস্থ সুন্দর উপবন ও ক্ষেত্র, সুন্দর সরোবর ও সুশীতল ছায়াতম নিবিড় বিপিন, দুরশৈলমালাবেষ্টিত অবিচ্ছিন্ন দর্শন, পাদপাচ্ছাদিত পথ, ও হরিণ- খালঙ্কত বিস্তত ক্ষেত্র, মুরভি-বনকুসুম-শোভিত তরুরাজী, সুন্দর কুটার, সুগঠন গির্জা ঘর, এ সকল দেখিতে কেন অভিলাষী হয় ? কিন্তু কেবল ইহাও নহে ; পল্লীগ্রামস্থ ইংরাজের ভিন্ন ও অভিনব প্রকৃতি অবলম্বন করে। লণ্ডন নগরের সমাজিক কঠিন নিয়মের নিগড় না থাকাতে তাহারা পল্লীগ্রামে স্বাধীন ও স্বেচ্ছানুরূপ ব্যবহার করে, ও পরের সঙ্গে উদার চিত্তে আমোদ প্রমোদ করে। জমীদারদিগকে দীনভাবাপন্ন গ্রামবাসিদিগের সহিত স্বাধীন, এমন কি সপ্রেমভাবে, মিলিত হইতে ও তাহাদিগের গৃহ, ভূমি ও বৎসরের ফলাফল প্রভৃতি নানাবিষয়িণী কথা স্নেহগর্ভ বচনে জিজ্ঞাসা করিতে এবং আপৎকালে ত্ৰাণার্থে করপ্রসারণ করিতে দেখিলে চিন্তু যথার্থই পুলকিত হয়। গ্রামা বালিকা, ভূস্বামীর কলড্র ও কন্যাগণকে ভক্তিভাবে ভালবাসে এবং তাছারাও সদয়ভাবে তাহাদিগের সহিত কথাবার্তা কছেন। অকপট ও সসম্ভ ম ভক্তি দ্বারা সে আলাপ মধুর করে, এবং সময়ে সময়ে সেই আলাপ সোদর-স্নেহে পরিণত হইয় উঠে । এখানকার রবিবার নিতান্তই শান্তিপ্রদ। যে ব্যক্তির কণামাত্র বাৎসল্য গুণ আছে। প্রফুল্লানন ও স্বপেশ গ্রাম্য স্ত্রীপুরুদিগকে স্ব স্ব ক্ষুদ্র ভবন হইতেও বহির্গত হইতে গ্রাম গির্জাভিমুখে যাইতে দেখিলেও তাহার হৃদয়কেন্দ্র লোকপ্রিয়তা রসে প্লাবিত হয়। ভূস্বামীকে সপরিবার যাইতে দেখিলে গ্রামবাসিগণ সসন্ত্রমে নমস্কার করে ও তাহাদিগের আর্যগণেরাও সম্মিতমুখে তাহা স্বীকার করিতে কৃপণত। করেন না। উপাসনার কার্য সম্পূর্ণ হইলে ভূস্বামীর ভবনে গ্রাম্য বালক-বালিকাদিগকে সমবেত হইতে এবং সেই দিবস এক উংসব-দিনের ন্যায় অতিবাহিত হইতে দেখা যায়।