উৎসর্গ/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


না জানি কারে দেখিয়াছি ,
                 দেখেছি কার মুখ ।
      প্রভাতে আজ পেয়েছি তার চিঠি ।
পেয়েছি তাই সুখে আছি ,
                 পেয়েছি এই সুখ —
      কারেও আমি দেখাব নাকো সেটি ।
লিখন আমি নাহিকো জানি —
বুঝি না কী যে রয়েছে বাণী —
      যা আছে থাক্‌ আমার থাক্‌ তাহা ।
পেয়েছি এই সুখে আজি
পবনে উঠে বাঁশরি বাজি ,
       পেয়েছি সুখে পরান গাহে ‘আহা ' ।

পণ্ডিত সে কোথা আছে ,
                 শুনেছি নাকি তিনি
     পড়িয়া দেন লিখন নানামতো ।
যাব না আমি তাঁর কাছে ,
                তাঁহারে নাহি চিনি ,
     থাকুন লয়ে পুরানো পুঁথি যত ।
শুনিয়া কথা পাব না দিশে ,
বুঝেন কিনা বুঝিব কিসে ,
       ধন্দ লয়ে পড়িব মহা গোলে ।
তাহার চেয়ে এ লিপিখানি
মাথায় কভু রাখিব আনি
       যতনে কভু তুলিব ধরি কোলে ।

রজনী যবে আঁধারিয়া
                আসিবে চারি ধারে ,
      গগনে যবে উঠিবে গ্রহতারা ;
ধরিব লিপি প্রসারিয়া
               বসিয়া গৃহদ্বারে —
পুলকে রব হয়ে পলকহারা
তখন নদী চলিবে বাহি
যা আছে লেখা তাহাই গাহি ,
      লিপির গান গাবে বনের পাতা —
আকাশ হতে সপ্তঋষি
গাহিবে ভেদি গহন নিশি
      গভীর তানে গোপন এই গাথা ।
  
বুঝি না - বুঝি ক্ষতি কিবা ,
              রব অবোধসম ।
      পেয়েছি যাহা কে লবে তাহা কাড়ি ।
রয়েছে যাহা নিশিদিবা
              রহিবে তাহা মম ,
      বুকের ধন যাবে না বুক ছাড়ি ।
খুঁজিতে গিয়া বৃথাই খুঁজি ,
বুঝিতে গিয়া ভুল যে বুঝি ,
      ঘুরিতে গিয়া কাছেরে করি দূর ।
না - বোঝা মোর লিখনখানি
প্রাণের বোঝা ফেলিল টানি ,
      সকল গানে লাগায়ে দিল সুর ।