উৎসর্গ/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


      শূন্য ছিল মন ,
নানা - কোলাহলে - ঢাকা
নানা - আনাগোনা - আঁকা
          দিনের মতন ।
নানা - জনতায় - ফাঁকা
          কর্মে - অচেতন
          শূন্য ছিল মন ।
  
জানি না কখন এল নূপুরবিহীন
        নিঃশব্দ গোধূলি ।
    দেখি নাই স্বর্ণরেখা
    কী লিখিল শেষ লেখা
        দিনান্তের তুলি ।
     আমি যে ছিলাম একা
        তাও ছিনু ভুলি ।
        আইল গোধূলি ।
  
হেনকালে আকাশের বিস্ময়ের মতো
        কোন্‌ স্বর্গ হতে
    চাঁদখানি লয়ে হেসে
    শুক্লসন্ধ্যা এল ভেসে
          আঁধারের স্রোতে ।
    বুঝি সে আপনি মেশে
          আপন আলোতে
          এল কোথা হতে ।
  
অকস্মাৎ বিকশিত পুষ্পের পুলকে
          তুলিলাম আঁখি ।
    আর কেহ কোথা নাই ,
    সে শুধু আমারি ঠাঁই
          এসেছে একাকী ।
সম্মুখে দাঁড়ালো তাই
          মোর মুখে রাখি
          অনিমেষ আঁখি ।
  
রাজহংস এসেছিল কোন্‌ যুগান্তরে
          শুনেছি পুরাণে ।
                       দময়ন্তী আলবালে
     স্বর্ণঘটে জল ঢালে
           নিকুঞ্জবিতানে ,
     কার কথা হেনকালে
          কহি গেল কানে —
          শুনেছি পুরাণে ।
  
জ্যোৎস্নাসন্ধ্যা তারি মতো আকাশ বাহিয়া
          এল মোর বুকে ।
  কোন্‌ দূর প্রবাসের
  লিপিখানি আছে এর
        ভাষাহীন মুখে ।
  সে যে কোন্‌ উৎসুকের
        মিলনকৌতুকে
        এল মোর বুকে ।
  
দুইখানি শুভ্র ডানা ঘেরিল আমারে
        সর্বাঙ্গে হৃদয়ে ।
  স্কন্ধে মোর রাখি শির
  নিস্পন্দ রহিল স্থির
        কথাটি না কয়ে ।
  কোন্‌ পদ্মবনানীর
        কোমলতা লয়ে
        পশিল হৃদয়ে ?
  
আর কিছু বুঝি নাই , শুধু বুঝিলাম
আছি আমি একা ।
  এই শুধু জানিলাম
  জানি নাই তার নাম
        লিপি যার লেখা ।
     এই শুধু বুঝিলাম
          না পাইলে দেখা
          রব আমি একা ।
  
ব্যর্থ হয় , ব্যর্থ হয় এ দিনরজনী ,
          এ মোর জীবন !
     হায় হায় , চিরদিন
     হয়ে আছে অর্থহীন
          এ বিশ্বভুবন ।
     অনন্ত প্রেমের ঋণ
          করিছে বহন
          ব্যর্থ এ জীবন ।
  
ওগো দূত দূরবাসী , ওগো বাক্যহীন ,
          হে সৌম্য - সুন্দর ,
     চাহি তব মুখপানে
     ভাবিতেছি মুগ্ধপ্রাণে
          কী দিব উত্তর ।
     অশ্রু আসে দু নয়ানে ,
          নির্বাক্‌ অন্তর ,
          হে সৌম্য - সুন্দর ।