কথামালা (১৯৪৪)/ব্যাঘ্র ও মেষশাবক
ব্যাঘ্র ও মেষশাবক।
এক ব্যাঘ্র, পৰ্বতের ঝরণায় জলপান করিতে করিতে দেখিতে পাইল, কিছু দূরে নীচের দিকে, এক মেষশাবক জলপান করিতেছে। সে দেখিয়া, মনে মনে বলিতে লাগিল, এই মেষশাবকের প্রাণসংহার করিয়া, আজিকার আহার সম্পন্ন করি। কিন্তু, বিনা দোষে, এক জনের প্রাণবধ করা ভাল দেখায় না; অতএব, একটা দোষ দেখাইয়া, অপরাধী করিয়া, উহার প্রাণবধ করিব।
এই স্থির করিয়া, ব্যাঘ্র, সত্বরগমনে, মেষশাবকের নিকটে উপস্থিত হইয়া বলিল, অরে দুরাত্মন্, তোর এত বড় আস্পর্দ্ধা যে, আমি জলপান করিতেছি দেখিয়াও তুই জল ঘোলা করিতেছিস্। মেষশাবক শুনিয়া, ভয়ে কাঁপিতে কাঁপিতে বলিল, সে কি মহাশয়, আমি কেমন করিয়া, আপনকার পান করিবার জল ঘোলা করিলাম? আমি নীচে জলপান করিতেছি, আপনি উপরে জলপান করিতেছেন। নীচের জল ঘোলা করিলেও, উপরের জল ঘোলা হইতে পারে না।
বাঘ বলিল, সে যাহা হউক, তুই এক বৎসর পূর্ব্বে আমার অনেক নিন্দা করিয়াছিলি; আজ তোরে তাহার সমুচিত প্রতিফল দিব। মেষশাবক কাঁপিতে কাঁপিতে বলিল, আপনি অন্যায় কথা বলিতেছেন, এক বৎসর পূর্ব্বে আমার জন্মই হয় নাই; সুতরাং তৎকালে আমি আপনকার নিন্দা করিয়াছি, ইহা কিরূপে সম্ভবিতে পারে? বাঘ বলিল, হাঁ, সত্য বটে; সে তুই নহিস্, তোর বাপ আমার নিন্দা করিয়াছিল। তুই কর, আর তোর বাপ করুক্, একই কথা, আর তোর কোনও ওজর শুনিতে চাহি না। এই বলিয়া বাঘ, ঐ অসহায় দুর্ব্বল মেষশাবকের প্রাণসংহার করিল।
দুরাত্মার ছলের অসদ্ভাব নাই।
আমি অপরাধী নহি বা এরূপ করা অন্যায়, ইহা বলিয়া প্রবল ব্যক্তির অত্যাচার হইতে পরিত্রাণ পাওয়া যায় না।
|
প্রাণসংহার করিয়া—মারিয়া ফেলিয়া। |
আহার—ভোজন, খাওয়া। |
|