কুহু ও কেকা/পাল্কীর গান

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পাল্কীর গান

পাক্কী চলে!
পাল্কী চলে!
গগন-তলে
আগুণ জ্বলে।
স্তব্ধ গাঁয়ে
আদুল্ গায়ে
যাচ্ছে কার
রৌদ্রে সারা!
মরা মুদি
চক্ষু মুদি
পাটায় বসে
দুলছে ক’সৈ।
দুধের চাছি
শুষছে মাছি,

উড়ছে কতক
ভন্ ভনিয়ে।
আছে কারা
হ, হনিয়ে ?
হাটের শেষে
কক্ষ বেশে
ঠিক দুপুরে
ধায় হাটুরে!
কুকুর গুলাে
শুকছে ধূলো,
ধুকছে কেহ
ক্লান্ত দেহ।
চুছে গরু
দোকান-ঘরে,
আমের গন্ধে
আমােদ করে !
পাল্কী চলে,
পাল্কী চলে—
দুকি চালে
মৃত তালে।

ছয় বেহারা,
জোয়া তারা,
গ্রাম ছড়িয়ে
আগ বাড়িয়ে
মাঠে
ভামার টাটে।
হুপ্ত তামা,
যায় না থামা,
উঠছে আলে
নামূছে গাঢ়ায়,
পাৰ্কী দোলে
ঢেউয়ের নাড়ায়।
ঢেউয়ের দোলে
অঙ্গ দোলে ।
মেঠো জাহাজ
সনে বাড়ে—
ছয় বেহারার
চরণ-দাড়ে।
কাজল সবুজ
কাজল পরে
পাটের জমী
ঝিমায় দূরে!

কুহু ও কেকা
ধানের জমী
প্রায় সে নেড়া,
মাঠের ধাটে,
কার্টার বেড়া !
‘সামাল হেঁকে
চলল বেঁকে
ছয় বেহারা,
মর্দ তারা।
জোর হাঁটুনি
খাটুনি ভারি ;
মাঠের শেষে
তালের সারি।
তাকাই দূরে,
শূন্যে ঘুরে
চিল্ ফুকারে
মাঠের পারে।
গরুক বাথান,
গােয়ায়-থানা,
ওই গাে ! গাঁয়ের
ওই সীমানা ?

বৈরাগী সে,
কন্ঠী বঁধা,
ধমের ফাথে
লেপছে কাদা ;
মক্কা থেকে
চাষার ছেলে
দেখছে,--ডাগর
চক্ষু মেলে!
দিচ্ছে চালে
পেয়াল গুছি ;
বৈরাগীটির
মূৰ্ত্তি শুচি।
পরজাপতি
হলুদ বরণ,
শশার ফুলে
রাখছে চরণ।
কার বহুড়ি
বাসন মাজে ?--
পুকুর ঘাটে
ব্যস্ত কাজে

এসে হাতেই
হাতের পেছার
গায়ের মাথার
কাখুড় গােছায়।
পাল্কী দেখে
আসছে ছুটে
ন্যাংটা থােক,
মাথায় পুটে
পােভাের আওয়াজ
যাচ্ছে শােনা ;"-
খােড়া ঘরে
চাদের কোণা।
পাঠশালাটি
দোকান-ঘরে,
গুরু মশাই
দোকান করে।
পােড় ভিটের
পােগরপরে

শলিক নাচে,
ছাগল চরে।
গ্রামের শেষে
অশথ-জুলে
বুনাের ডেরায়
চুল্লী জ্বলে
টাকা কাঁচা
শাল-পাতে
উড়ছে ধােয়া
ফ্যাসা তে।
গ্রামের সীমা
ছাড়িয়ে, ফিরে
পাল্কী মাঠ
নাল ধীরে ;
আবার মাঠে,
তামার টাটে,
কেউ ছােটে, কেউ
কষ্টেহঁটে;
মাঠের মাটি
রৌদ্রে শটে,

পাঁকী মাতে
আপন আটে।
শঙ্খচিলের,
সঙ্গে, যেচে--
পাল্লা দিয়ে
মেঘ চলেছে।
তাতারসির
তপ্ত রসে
বাতাস সাঁতার
দেয় হরষে।
গঙ্গা ফড়িং
লাফিয়ে চলে ;
বাঁধের দিকে
সূর্য ঢলে।
পাল্কী চলে রে।
অঙ্গ তুলে রে!
আর দেরী কত ?
আরাে কত দূর?
“আর দুর কি গাে?
বুজে শিবপুর

ওই আমাদের ;
ওই টঙল,
ওরি পেছুখান
ঘােষদের গো।
পাল্কী চলে রে,
অঙ্গ টলে রে ;
সূর্য ঢলে,
পাল্কী চলে!