বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৭
অথৈজল

 হয় পান্না খুব চালাক মেয়ে, নয় আমার অদৃষ্ট লিপি—আবার পান্না বললে—যা তুমি বলবে—

 সে বললে না, ‘খাবো কি’ ‘চলবে কিসে’ প্রভৃতি নিতান্ত রোমান্স বর্দ্ধিত বস্তুতান্ত্রিক কথা। কেন বললে না কতবার ভেবেছি। বললেই আমার নেশা তখুনি সেই মুহুর্ত্তেই ছুটে যেতো। কিন্তু পান্না তা বললে না। প্রতিমার মাটির তৈরী পা ও আমাকে দেখতে দিলে না।

 দু-দুবার এরকম হোল। অদৃষ্টলিপি ছাড়া আর কি।

 আমি বললাম—চলো আমরা—

 কিন্তু মাথা তখন ঘুরছে। কোনো সাংসারিক প্ল্যান আঁটবার মত মনের অবস্থা তখন আমার নয়। ওই পর্য্যন্ত বলে চুপ করলাম। পান্না হেসে বললে—খুব হয়েছে, এখন নাইবে চলো।

 —চলো। কোথায়?

 —কলতলায়।

 —ওখানে বড্ড নোংরা। তা ছাড়া, এ বাড়িতে চারিদিকে দেখচি শুধু মেয়েছেলের ভিড়। ওদের মধ্যে বসে নাইবো কি করে?

 —ঘরে জল তুলে দিই—

 —তার চেয়ে চলো কালীঘাটের গঙ্গায় দুজনে নেয়ে আসি

 পান্নাও রাজী হোল। দুজনে নাইতে বেরুবো, এমন সময়ে সেই বুড়ী মাসী এসে হাজির হোল। কড়াসুরে