হোত। পান্না বললে—চা একটু খাবে না? সকাল বেলা চা খাওনি তো।
কথাটা আমার ভাল লাগলো, ও যদি বলতো, চা একটু খাবো তা হোলে ভাল লাগতো না। ও যে আমার সুখ সুবিধে দেখচে, গৃহিণী হয়ে পড়েচে এর মধ্যেই, এটা ওর নারীত্বের সপক্ষে অনেক কিছু বললে। সত্যিকার নারী।
আমি বললাম—দোকান থেকে আনি—
—তাও তো পাত্র নেই, পেয়ালা নেই, চা খাবে কিসে?
—নারকোলের খোলায়।
দু’জনেই হেসে উঠলুম একসঙ্গে। উচ্চরবে মন খুলে, এমন হাসিনি অনেকদিন। পান্না বেশ মেয়ে, সঙ্গিণী হিসাবে আনন্দ দান করতে পারবে প্রতি মুহূর্ত্তে। সুরবালার মত দেবী সেজে থাকবে না।
সকাল ন’টা। রান্নার কি ব্যাপার হবে ওকে জিজ্ঞ্যেস করলাম। দু’জনে আবার পরামর্শ করতে বসি। অমুন সাজানো ঘর-সংসার ছেড়ে এসে রিক্ততার আনন্দ নতুন লাগচে। এখানে আমাকে নতুন করে সব করতে হবে। কিছু নেই আমার এখানে।
পান্না বললে—কাছে হোটেল নেই?
—তা বোধ হয় আছে।
— দু’থালা ভাত নিয়ে এসো আমাদের জন্যে, এবেলা কিছুরই যোগাড় নেই, ওবেলা যা হয় হবে।
—থালা দেবে?