বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অথৈ জল
৩৮

গাঙ শালিকের গর্ত্ত, খড়ের বনের পাশে রাঙা টুকটুকে মাকাল ফল লতা থেকে দুলছে, লোকে পটলের ক্ষেত নিরুচ্চে।

 ভেবে দেখি, ভগবান আমায় কোনো কিছুর অভাব দেন নি। বাবা যা জায়গা জমি রেখে গিয়েছেন, তার আয় ভালোই, অন্তত ষাট-সত্তর ঘর প্রজা আছে আশে পাশের গাঁয়ে। আম কাঁটালের বড় বড় দুটো বাগান, তিনটে ছোট বড় পুকুর, পঁয়ত্রিশ বিঘে ধানের জমিতে যা ধান হয় তাতে বছরে চাল কিনতে হয় না। সুরবালার মত স্ত্রী। পাড়াগাঁয়ে অত বড় বাড়ী হঠাৎ দেখা যায় না—অন্তত আমাদের এ অঞ্চলের পাড়াগাঁয়ে বেশি নেই। নিজে ভালো ডাক্তার, মেডিকেল কলেজের ভালো ছেলেই ছিলাম। কেষ্টনগরে কিংবা রানাঘাটে ডাক্তারখানা খুলতাম কিন্তু বাবা নিষেধ করেছিলেন। তখন তিনি বেঁচে, আমি সবে পাশ করেছি মাস দুই হোল। খুলনা জেলার জয়দিয়া গ্রামে আমার এক মাসীমা ছিলেন, তিনি আমাকে ছেলের মত স্নেহ করতেন, পরীক্ষা দিয়ে তাঁদের ওখানে মাস দুই গিয়ে ছিলাম। সেখানেই খবর গেল পাশের। বাড়ী ফিরতেই বাবা জিগ্যেস করলেন—কোথায় বসবে, ভাবলে কিছু?

 —তুমি কি বল?

 —আমি যা বলি পরে বলব, তোমার ইচ্ছেটা শুনি।

 —আমি তো ভাবছি রানাঘাট কিংবা কেষ্টনগরে—

 —অমন কাজও করো না।

 —তবে কোথায়?

 —এই গ্রামে বসবে। সেই জন্যে তোমাকে চাকরি করতে